Home টপ নিউজ

টপ নিউজ

লস এঞ্জেলেসে রিহ্যাব-এর আবাসন মেলা উদ্বোধন

rehab los angeles ekush news media রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব)-এর উদ্যোগে লস এঞ্জেলেসে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলা উদ্বোধন হয়েছে ১৪ নভেম্বর শুক্রবার। ইউনিভার্সাল স্টুডিও-এর পাশে গারল্যান্ড হোটেলের থিয়েটার হলে লস এঞ্জেলেসে প্রথমবারের এই আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। ‘প্রবাসে উপার্জন-স্বদেশে আবাসন’ স্লোগানকে সামনে রেখে লস এঞ্জেলেসে এ আবাসন মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রদুত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, বিশেষ অতিথি ছিলেন লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কন্সাল জেনারেল সুলতানা লায়লা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন রিহ্যাব মেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবিউল হক। আরও বক্তব্য দেন রিহ্যাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ ওয়াহিদ্দুজামান। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বাংলাদেশে রিহ্যাব মেলার কো-চেয়ারম্যান সারোয়ারদী ভুঁইয়া। সমাপনী বক্তব্য দেন রিহ্যাবের যুগ্ম সম্পাদক ও মেলার কো-চেয়ারম্যান শাকিল কামাল চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শামা দেওয়ান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের আবাসন ক্ষেত্রে রিহ্যাবের অবদান অনস্বীকার্য। লস এঞ্জেলেসে ১১তম রিহ্যাব মেলায় এই অঞ্চলের প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের সরাসরি দরজা উন্মুক্ত হয়েছে। রিহ্যাবের প্রায় ১২০০ মেম্বারসহ আবাসন শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে ২৬৯টি উপ-শিল্প খাতের ১২ হাজার শিল্প প্রকল্প নির্ভরশীল। এক কোটি ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ও ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এই আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। দেশের ১৪টি বড় শিল্প খাতের মধ্যে আবাসন শিল্পের অবস্থান তৃতীয়। গৃহায়ণ ও নির্মাণশিল্পে বিনিয়োগ দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১২ শতাংশ এই খাত থেকে আসে। আর প্রবাসীরা দেশের এই বিশাল উন্নয়নে নিজেদের শরীক করে চলেছে। প্রবাসীদের স্বপ্ন পূরনে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে ব্যবসা-সেবা দেবার জন্য তিনি রিহ্যাবের প্রতি আহ্বান জানান। এইক্ষেত্রে তিনি রিহ্যাবকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি-র (সিএসআর) মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প গ্রহনের আহ্বান জানান। [gallery type="slideshow" link="file" ids="14914,14915,14916,14917,14918,14919,14920,14913"] ১৪ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা থাকলেও সময়মতো মেলার বুথ তৈরী না হওয়া ও শুক্রবারের নামাজের জন্য দুপুর দুইটায় মেলার উদ্বোধন পিছিয়ে আনা হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রদুত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। তখনও মেলার বুথের কাজ চলছিলো। উদ্বোধন শেষে রিহ্যাবের কর্মকর্তাসহ মেলার বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদুত। এবার মেলায় ৪৩টি ষ্টলের মধ্যে অনেকেই গতকাল পর্যন্ত তাদের ষ্টলে আসেননি। মেলায় প্লট বা ফ্ল্যাট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিদর্শক হিসাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রলায়ের যুগ্ম- সচিব শাহ মোহাম্মদ আবু রায়হান আল-বেরুনী মেলায় যোগ দিয়েছেন। গত ১০ বছর ধরে নিউইয়র্কে নিয়মিতভাবে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-রিহ্যাবের উদ্যোগে হাউজিং ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে প্রবাসে হাউজিং ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া পড়ে। লস এঞ্জেলেসে প্রথমবারের মতো রিহ্যাবের এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরে রাষ্ট্রদুত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান ও মত-বিনিময় করেন। তিনি লস এঞ্জেলেস এর বুকে লিটল বাংলাদেশ সাইন দেখে অভিভূত হন। মেলা চলবে আজ ১৫ ও আগামী কাল ১৬ নভেম্বর। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। পার্কিং ফ্রী। র‍্যাফেল ড্র-তে আছে আকর্ষনীয় পুরষ্কার। চিত্রে রিহ্যাব মেলার উদ্বোধনঃ http://goo.gl/EDy6Hp

দুর্দান্ত জয়ে নতুন স্বপ্ন – এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

মোস্তাফিজ শেষ বলটি করতেই আবুধাবির গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়লো আনন্দ। ক্রিকেট ভক্তরা লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ততক্ষণে ‘মাশরাফি…বাংলাদেশ’ বলে চিৎকারে মত্ত। আবুধাবি স্টেডিয়ামের ডিজেও চুপ থাকবেন কেন! তিনিও ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ গানটি বাজিয়ে দিয়েছেন। সেই গানের আনন্দে গ্যালারির উচ্ছ্বাস যেন আরও বেড়ে গেল।

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কজনই বা ভেবেছিলেন এমনটা। কিন্তু বুধবার পাকিস্তান বাধা পেরিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে মাশরাফিরা। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে শিরেপো বঞ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশ। মিরপুরের বদলা মাশরাফিরা আবুধাবিতের ষোলো আনায় উসুল করে নিল। টানা দুইবার ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। যদিও আগেরবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছিল এই টুর্নামেন্টটি। ৩২ বছর ধরে এশিয়া কাপ খেলা টাইগারদের সেরা সাফল্য ২০১২ সালে পাকিস্তান এবং ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে হেরে রানার্স-আপ হওয়া। এশিয়া কাপেই প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টের ৩৪ বছরের ইতিহাসে ১৩ আসরের মধ্যে ১২ আসরে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ১১বার মুখোমুখি হয়ছে দুই দল। সবকটি ম্যাচেই হারের বেদনা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবার এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের বৃত্তটা ভেঙে জয়ের সূচনা হলো আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেই মাশরাফির নেতৃত্বেই পেল এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারানোর স্বাদ। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানকে পেলেই বাংলাদেশ জ্বলে ওঠে আপন শক্তিতে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সবশেষ চার মুখোমুখির সবকটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। হাসান আলী-সরফরাজদের বিপক্ষে পুরনো সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। তামিমকে হারিয়ে এমনিতেই ধুঁকছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। টসের সময় জানা গেল আঙুলের পুরনো ব্যথা বেড়ে যাওয়াতে এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন সাকিব। তামিমের পর সাকিবকে হারিয়ে ভঙ্গুর বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হলো। দলীয় ১২ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তান। উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ত্রাতার ভূমিকাতে মুশফিক-মিঠুন। মুশফিকের ৯৯ ও মিঠুনের ৬০ মিলে ১৪৪ রানের জুটি বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। ২৪০ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিয়ে পাকিস্তানকে আরও একবার আটকে দেয় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের জয়টা ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছিলেন ইমাম-উল–হক। মাহমুদউল্লাহর জোরের ওপর করা বলটির লাইন মিস করেন ইমাম। আর তাতেই উইকেটের পেছনে থাকা লিটন স্টাম্প ভেঙে দেন। বাংলাদেশ ম্যাচ জেতে ৩৭ রানে। কিন্তু বাংলাদেশকে এই জয়টি পেতে অনেক বাধা পেরেয়ি আসতে হয়েছে। আবুধাবির গরমে প্রত্যেক ক্রিকেটারই পানিশূন্যতায় ভুগছেন। বিশেষ করে দলের সিনিয়ার ক্রিকেটারদের পরিশ্রমটা বেশি হচ্ছে বলে সমস্যাটা তাদেরই বেশি। ২১তম ওভারে মাশরাফি দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফর্মে থাকা শোয়েব মালিককে ফেরান। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে যেতে হয় মাশরাফিকে। রুবেল ওভার শেষ হতেই দুই আঙুলে ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে নামেন। ওই ওভারের আগের ওভারে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন মাঠের বাইরে। ৪৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা মাথায় নিয়ে ৯৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। এরপর কিপিংয়েও দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন। ফিল্ডিংয়ের শুরু থেকেই মুশফিকের পেশি ক্র্যাম্প করছিল। বেশ কিছুক্ষণ কিপিং করে আর মাঠে নামেননি মুশফিক। তামিম-সাকিব আগেই না থাকায় পাকিস্তানের ইনিংসের ২১তম ওভারটিতে বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডব ছাড়াই খেলতে হয়েছে টিম বাংলাদেশকে। পাকিস্তান বধের ইতিহাস শুরু ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে। এরপর আরও ২৫বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। কিন্তু জয় তো দূরে থাক লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরই নতুন বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়। শুরু হয় একের পর এক বড় দলকে হারানো। সেই তালিকায় যোগ হয় পাকিস্তানও। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই নাকানিচুবানি খেতে হয়েছে সৌম্য-মোস্তাফিজ-তামিমদের কাছে। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ, গরম, টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, সাকিব-তামিমের ছিটকে যাওয়া- সবকিছু মিলিয়ে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে এমন প্রতিকূলতার মধ্যে পাওয়া জয়টা নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস জোগাবে বাংলাদেশকে। ২০১২ ও ২০১৬ সালের ব্যর্থতা হয়তো ২০১৮ সালে ভুলিয়ে দিতে পারবে মাশরাফির দল। সেই স্বপ্নতেই এখন বুঁদ বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা।

ব্যাংকিং খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক

ব্যাংকিং খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক

ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকগুলো সিএসআর বাবদ ব্যয় করেছে ৬২৭ কোটি টাকা, যা এর আগের ছয় মাসে ছিল ৪১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ছয় মাসে ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২১০ কোটি টাকা।

৬ মাসে ৬০০ কোটি টাকার অধিক সিএসআরের নামে লুটপাট হয়েছে। নির্বাচনী বছর হওয়ায় যত্রতত্র ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় অস্বাভাবিক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্ধশতাধিক পরিচালক ও চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন। তাই প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কাজে খরচ করছেন তারা। 

হঠাৎ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচের খাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ টাকার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। সাধারণত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, সংস্কৃতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আয়বর্ধক কর্মসূচি ও অন্যান্য খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনী বছর হওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে।

এব্যাপারে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের অনেক চেয়ারম্যান এবং পরিচালক সিএসআরের অর্থ নির্বাচনী প্রচারে ব্যায় করছেন। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্ধশতাধিক পরিচালক ও চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন। তাই প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কাজে খরচ করছেন তারা।

এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সিএসআর খাতে ব্যয় বেশি হলে ক্ষতি নেই। তবে খতিয়ে দেখতে হবে এর কোনো অপব্যবহার হয় কি না। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে দেখতে পারে।

একটি ব্যাংকের সাবেক এক এমডি জানান, সিএসআরের নামে লুটপাট হয়েছে। আমার দীর্ঘ এমডি জীবনে ৬ মাসে ৬০০ কোটি টাকার অধিক সিএসআর ব্যয় দেখিনি। নির্বাচনী বছর হওয়ায় যত্রতত্র ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় অস্বাভাবিক। প্রতিটি ব্যয় নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক অস্বাভাবিকভাবে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করেছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় করেছে ২৭৫ কোটি টাকা। এর আগের ছয় মাসে এ ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল মাত্র ৪৭ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২২৮ কোটি টাকা। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকেও হঠাৎ সিএসআরের ব্যয় বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে ব্যাংকটি ১ কোটি ১১ লাখ টাকা সিএসআর বাবদ ব্যয় করেছে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংক এভাবে ব্যয় করেনি। এমন কি জনতা ব্যাংকেও এর আগের ছয় মাসে সিএসআরে ব্যয় ছিল মাত্র ৫ লাখ টাকা। ব্যাংকটির সিএসআরের টাকা নির্বাচনী প্রচারণায় খরচের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, অস্বাভাবিকভাবে সিএসআর ব্যয়ের তালিকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬ কোটি ২৯ লাখ থেকে বেড়ে ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, নতুন একটি ব্যাংকে ২ কোটি ২৪ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১১ কোটি ৪০ লাখ থেকে বেড়ে ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এবি ব্যাংকে ৯ কোটি ৫ লাখ থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংকে ৮ কোটি ৯১ লাখ থেকে বেড়ে ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ২ কোটি ৬৫ লাখ থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬৭ লাখ থেকে বেড়ে ১০ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং এক্সিম ব্যাংকে সিএসআর ব্যয় ২৫ কোটি ২৭ লাখ থেকে বেড়ে ৩৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হয়েছে। এছাড়া দুটি ইসলামী ব্যাংকে যথাক্রমে ৩ কোটি ৮৯ লাখ থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ১২ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা সিএসআর ব্যয় হয়েছে। এর বাইরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ৪২ কোটি ২৭ লাখ থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং এনসিসি ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ৮ কোটি ৮৭ লাখ থেকে বেড়ে ৯ কোটি ৬ লাখ টাকা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা ও ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এবার অধিকাংশ ব্যাংক তা মানেনি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে নিয়ম মেনে শিক্ষায় ব্যয় করেছে মাত্র ৮ ব্যাংক। আর স্বাস্থ্য খাতে খরচের নিয়মের মধ্যে রয়েছে ৫ ব্যাংক। যদিও ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় এবার সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় করেছে।

কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা কোম্পানীর সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা  হচ্ছে নৈতিক এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের অংশ যা রাষ্ট্রের উন্নয়ন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে সমাজে বৃহত্তর মঙ্গল সাধন করে। 

ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা

চাই সমন্বিত নীতিমালা

জামাল উদ্দীন

যে সমাজে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করে মুনাফা করে—সে সমাজের প্রতি তথা ভোক্তা/ক্রেতার প্রতি ঐ কোম্পানিরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যদিও ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ মুনাফা করা। কিন্তু যে শ্রেণিকে পণ্য কিংবা সেবা দিয়ে মুনাফা করছে—সেই বিশাল জনগোষ্ঠী যদি সামর্থ্যহীন হয়ে পড়ে—তবে ভবিষ্যত্ মুনাফা এমনকি ব্যবসাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। মানে ক্রেতা/ভোক্তাদের কিছু সুবিধা দিতে হবে। সেটা হতে পারে তার স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য, শিক্ষার জন্য, কিংবা কোনো অবকাঠামো উন্নয়নেও কোম্পানি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তাতে কোম্পানির ব্যাপক প্রচারের সুযোগ হয়। ক্রেতা ভোক্তাদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়। একটি সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। আধুনিক সিইওরা এটাকে দেখছেন ব্যবসা প্রসারের হাতিয়ার হিসেবে। যেহেতু তার লক্ষ্যই হচ্ছে মুনাফা করা। অ্যাডাম স্মিথ যেমন বলেছিলেন, ভোক্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যতীত ব্যবসায়ীরা একত্রিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র বলতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে বুঝিয়েছেন তিনি। বর্তমানে কোম্পানিগুলো সিএসআরকে (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) দেখছে তাদের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে। এখাতে বিনিয়োগের চেয়ে বরং রিটার্নই বেশি। আরেকটি ধারণা রয়েছে যে, কোনো কোম্পানি আস্থা অর্জন করতে পারছে না। আস্থা এমন এক বিষয় যা অর্জিত না হলে যত ভাল পণ্য বা সেবা বাজারে ছাড়ুক না কেন, ক্রেতারা নেবে না। ক্রেতাদের এই আস্থা অর্জনের জন্যও উন্নত বিশ্বে কর্পোরেট হাউজগুলো কিছু ভাল কাজে অর্থ ব্যয় করে। এতে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তার ইমেজ বৃদ্ধি করে। নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যাদের জন্য পণ্য/সেবা দেয়া হচ্ছে, সেই জনগোষ্ঠী যদি সুস্থ না থাকে, কিংবা তাদের উত্পাদনশীলতা কমে যায়, তাহলে তাদের আয় কমে যাবে। তখন প্রত্যাশিত হারে পণ্য বা সেবা গ্রহণ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে কোম্পানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং ক্রেতাগোষ্ঠীর জন্য মুনাফার কিয়দংশ ব্যয় করে ভালবাসার যোগ্য হয়ে উঠার সুযোগ তৈরির কৌশল গ্রহণ করা যায়। ক্রেতা তখন সহজে ঐ পণ্যে বিমুখ হয় না। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি মঙ্গলজনক হয়েছে। যেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শৈথিল্য, কিংবা সমাজের অনেক প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অর্থায়ন সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না—সেখানে সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। সামাজিক অংশীদারিত্বের এই মডেল ভারসাম্য পরিবেশ গড়তেও সহায়ক হয়। ‘এটি এমন এক ব্যবসায়িক পন্থা যা সকল স্টেকহোল্ডারের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুবিধাদি প্রদান করে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখে’। সিএসআরের সঙ্গে হাল-আমলে নতুন ধারণার জন্ম হয়েছে। তা হচ্ছে সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ইনভেস্টিং বা সামাজিক দায়বদ্ধতা বিনিয়োগ। সেটা বাংলাদেশ পর্যন্ত আসতে সময় লাগতে পারে। সিএসআরের এই আলোচনা মূলত ব্যবসাকে টেকসই করার জন্যই। এখানেও সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। মূল পার্থক্যটা হচ্ছে- সিএসআর একটি কোম্পানি সামাজিক অগ্রগতিতে কী অবদান রেখেছে তা যাচাই করা। অন্যদিকে, সাসটেইনেবিলিটি, সামনের নতুন নতুন বাজার তৈরি এবং ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যত্ নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই এর মূল বিষয়। যে কারণে উন্নত বিশ্বে আগে থেকেই সিএসআর প্রথা চালু রয়েছে। আমাদের এখানে অনেকেই ফিলানথ্রপি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, সিএসআর বাংলাদেশে কোনো নতুন ধারণা নয়। ব্যবসা ও ব্যবসায়ীরা সবসময়ই সমাজে অনুদান, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার মাধ্যমে তাদের সুনাম সৃষ্টি করতে চায়। যদিও এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে করা হয় না। সে কারণে এই ধারণার বিপক্ষ মতও রয়েছে। এই শ্রেণি আবার ফিলানথ্রপিকে সিএসআরের মধ্যে গণ্য করেন না। তবে বাংলাদেশে সিএসআর কার্যক্রম দেরিতে হলেও হচ্ছে। কোম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুরোপুরি সমাজভিত্তিক না করে তারা কোম্পানির দায়বদ্ধতা মেনে সংশ্লিষ্টদের শুধু সেবা দিতে চায়। অন্যদিকে, আইনি চাপে কোম্পানিগুলো সিএসআরে অর্থ খরচ করে থাকে। দেশে সিএসআরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান দেখা যায় তৈরি পোশাক শিল্পে, যা মূলত ক্রেতাদের চাপে হয়ে থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নিয়ম-নীতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করে। একথা সত্য যে বাংলাদেশে এখন কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে। এই অংশগ্রহণ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। এটারও একটা ব্যয় আছে। আবার না করারও ব্যয় আছে। এখন প্রশ্ন হলো কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা করা। তাহলে সিএসআর করলে কী পরিমাণ ব্যয় করবে, তাদের মুনাফার কত অংশ হতে পারে, সেটা স্পষ্ট নয়। আগেই বলেছি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে মুনাফার জন্য। তারা সিএসআর করবে কেন? আবার অনেকেই বলছেন এটা ব্যবসার অংশ। আবার ইথিকেল বা নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে আসে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনৈতিক কাজ করবে সেটাও বাঞ্ছনীয় নয়। সেজন্য আজকের ম্যানেজাররা এ বিষয়ে সচেতন। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যারা প্রতিযোগিতায় আছেন, তারাই সিএসআর কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এটা যদি পার্ট অব বিজনেস হয় তবে সবার করা উচিত। আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে রেগুলেটরি চাপে সিএসআরে ব্যয় হচ্ছে। তবে এই ব্যয়র স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় গাইডলাইন জারি করেছে। কিন্তু যারা সরাসরি কোনো সংস্থার অধীনস্থ নয়, তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জেনারেলি, অনেক ক্ষেত্রে লিগ্যাল কমপ্লায়েন্স নেই, কমিউনিটির চাপও নেই। ২০১৫ সালে ব্যাংকগুলো ৫২৮ কোটি টাকা সিএসআরের নামে ব্যয় করেছে। ২০১৬ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫১০ কোটি টাকা। আগেই বলেছি, সিএসআরের অর্থ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সবাই জানেন, জনতা ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম নিয়ে অর্থমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে তত্কালীন চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রীর নানা মন্তব্য আমরা পেয়েছি। যদিও জনতা ব্যাংক একটি বই আকারে তার প্রদেয় অর্থের হিসাব প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন ছিল—একজনকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিলাম— সেটা কি সিএসআর হবে? ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৩ জুন ২০১৫ সালে এক সার্কুলারে শুদ্ধাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক প্রচার কার্যক্রমে ব্যয়কে সিএসআরের ব্যয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সিএসআরের ব্যয় নিয়ে প্রতি ছয় মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে রিপোর্ট করতে হয়। একটি বিভাগও এখানে খোলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আপডেট করা সিএসআর গাইডলাইনে যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হলো— স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সবুজায়ন উদ্যোগে অর্থ ব্যয়, জরুরি দুর্যোগকালীন ত্রাণ, পরিবেশগত খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ ও সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য শৈল্পিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, খেলাধূলা ও বিনোদন সুবিধাও সিএসআরের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এখন মনিটরিংয়ে জোর দেওয়া দরকার। এছাড়া, সিএসআরের জন্য কর রেয়াত সুবিধাও রয়েছে। সেখানে সত্যিকারের সিএসআর করে কর রেয়াত নেওয়া হচ্ছে, নাকি সিএসআরের ব্যয় দেখিয়ে কর রেয়াত সুবিধা নেওয়া হচ্ছে— সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। সিএসআরের জন্য সমাজের অন্য পেশার লোকদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। যেমন শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এখানে ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন। নৈতিকতা, মুনাফা ও আইনের সামঞ্জস্য রক্ষার আলোচনা তিনি শ্রেণিকক্ষে করতে পারেন। এখান থেকেই ভবিষ্যতের সিইওরা কর্মক্ষেত্রে তা প্রতিপালন করতে পারবেন। ক্লাসরুম থেকেই একটি জেনারেশন গড়ে তোলা সম্ভব— যারা কর্মজীবনে এর চর্চা করবে। অন্যদিকে, মানুষেরা যখন ভাবে, ব্যবসায়ীরা শুধু মুনাফায় ব্যস্ত, তখন এধরনের নেতিবাচক মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ী নেতাদেরও করণীয় রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে এ সত্যিটা অনুধাবন করতে হবে। ব্যবসায়ীরা মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় গুরুত্ব দিতে পারেন, নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন করতে পারেন, কমপ্লায়েন্স মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করতে পারেন ও কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারেন ইত্যাদি। মিডিয়ার ভূমিকা বরাবরই এখানে উল্লেখযোগ্য। মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে। সিএসআরের অর্থ খরচে অনিয়মের যে বিষয়টি আসছে, মিডিয়া সেখানে অনুসন্ধান করতে পারে। রেগুলেটরি বডির ওপর এক ধরনের চাপ প্রয়োগ কিংবা নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকায় মিডিয়া অবতীর্ণ হতে পারে। আবার যেসব করপোরেশন ভালো করছে, তাদের নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা যেতে পারে। তাতে অন্যরা উত্সাহিত হবে। আর যারা সিএসআর কার্যক্রম এখনো চালু করছে না, তাদের সমস্যাদিও সামনে আনতে পারে মিডিয়া। একদিকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে ব্যবসার মুনাফার কিছু অংশ ব্যয় করে সমাজের উন্নয়ন ঘটানোই যখন সিএসআরের উদ্দেশ্য, তখন এর ব্যয় কাঠামোর স্বচ্ছতার জন্য নীতিমালাও জরুরি। আরো কিছু খাত চিহ্নিত করে ব্যয়ের আওতা বাড়াতে হবে। যা টেকসই উন্নয়নের জন্যও সহায়ক হয়। বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এমডিজি অর্জনে যেমন সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ, তেমনি এসডিজি অর্জনেও সফল হতে পারবে যদি সিএসআর খাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থব্যয় করা হয়। এবং সেটি হতে হবে কার্যকর ব্যয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা থাকলে উন্নয়ন কাঠামোয় সিএসআরের অর্থ ব্যয় সার্থক হবে। পরিশেষে বলতে হয়—যেহেতু ব্যবসা সমাজের জন্য, তাই সমাজকে বাদ দিয়ে কোম্পানি টিকে থাকতে পারবে না। তাই কোম্পানিগুলোকে এই বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। আইনী কাঠামো জোরালো করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবসা পরিচালনায় ম্যানেজারদের নৈতিক হতে হবে। শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের সুবিধা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের টিকে থাকার জন্যও সিএসআর খাতের অর্থায়ন দরকার। সর্বোপরি, শুধু অর্থ খরচ করলেই হবে না, যে খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা হবে তার রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা ধারাবাহিকতা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। আরো গুরুত্ব দিতে হবে সিএসআর রিপোর্টিংকে। যদি আইনী কাঠামো করা যায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে আনা যায়— তবে ঐ সংস্থার কাছে ত্রৈমাসিক কিংবা ষান্মাসিক হারে রিপোর্টিং করার ব্যবস্থা করতে হবে। যা এখন শুধু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কিংবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক আয়োজিত সিএসআর বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে পঠিত মূল প্রবন্ধের সার-সংক্ষেপ)। n লেখক :সাংবাদিক

মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ তুলে ধরছেন, লিঙ্ক এবং পেপার কাটিং শেয়ারের মাধ্যমে।

ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, ডাক, তার ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও নিয়মিত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্কার্স পার্টি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, রাশেদ খান মেনন নামেই ফেসবুক পেজ রয়েছে মেননের। ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবিতে নিজের ছবি এবং কাভার পেজে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে পরাস্ত করুন, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আরও এগিয়ে যেতে এবং ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ১৪ দলের প্রার্থীদের জয়ী করুন—বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি’ শীর্ষক স্লোগান। এই পেজে তিনি মন্ত্রণালয় ও দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও ছবি শেয়ার দেন। বর্তমানে তার পেজের ফলোয়ার রয়েছে আড়াই লাখ। জানা গেছে, মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন তার ছেলে আনীক রাশেদ খান। তবে বাবার অনুমতি ও নির্দেশনায় তিনি পেজটিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এ ক্ষেত্রে ছেলের ওপর শতভাগ কনফিডেন্ট রয়েছে রাশেদ খান মেননের। মেননের ফেসবুক পেজ-জুড়ে রয়েছে— মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও সংবাদ।এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক মন্তব্যের জবাবও দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় পেজটি আমার ছেলে পরিচালনা করছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।’ তার ছেলে আনীকই এই পেজটি খোলার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিক সচেতনতামূলক বিশেষ করে মাদকবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য ও সংবাদ পোস্ট করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে খোলা এই পেজটি মন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। একইভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিজের ফেসবুক পেজে নিজের এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ পোস্ট করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও নিজের সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও সংবাদ পোস্ট করেন। বঙ্গবন্ধু ও নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুক্ত ছবি রয়েছে তার কাভার পেজে। সম্প্রতি তিনি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময়সূচি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তারানা হালিমও ফেসবুক প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুকে এই তিন প্রতিমন্ত্রী খুব বেশি সক্রিয়। শাহরিয়ার আলম ও জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেরাই ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি বলে জানা গেছে।

মিশেল ওবামার দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে আইভিএফ বা টেস্ট টিউব...

Michelle Obama reveals daughters were conceived by IVF

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার আত্মজীবনীমূলক বই ‘বিকামিং’প্রকাশ পেলো। মিশেল ওবামার দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বা টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে। Former First Lady Michelle Obama has released a memoir in which she reveals difficulties about her marriage and pregnancy with her two daughters. https://twitter.com/twitter/statuses/1060875880363307009 এটি মিশেলের দ্বিতীয় বই। এর আগে ২০১২ সালে তাঁর প্রথম বই ‘আমেরিকান গ্রোন’ প্রকাশিত হয়। এতে হোয়াইট হাউসে তাঁর করা সবজির বাগান সম্পর্ক লিখেছেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে উৎসাহ জোগাতে প্রচার চালান। প্রকাশনী সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বইটি বিভিন্ন দেশে প্রচারে অংশ নেবেন। বইটি ২৪টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মাধ্যমে পাঠককে তাঁর ভুবনে স্বাগত জানানো হয়েছে। জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে পূর্ণতা দিয়েছে, এর বিবরণ আছে বইয়ে। শৈশব থেকে শিকাগোর সাউথ সাইডে তাঁর কর্মজীবন, মাতৃত্ব ও পেশার মধ্যে ভারসাম্য রাখা, বিশ্বের বিখ্যাত সব স্থানে তাঁর সময় কাটানোর বিষয়গুলো বইয়ে উঠে এসেছে। বইটি প্রকাশের সময় বারাক ওবামা বইটির ১০ লাখ কপি ওবামার পরিবারের নামে তৈরি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে দান করার পরিকল্পনা করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিশুদের জন্য শিক্ষায় সমসুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন বই, শিক্ষা উপকরণ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সরবরাহ করে থাকে। একই প্রকাশনা থেকে বারাক ওবামাও একটি আত্মজীবনীমূলক বই লিখছেন। এ বছরেই বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা।

স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি ‘হাইব্রিড রেজিম’ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে 'গণতান্ত্রিক' কিংবা 'ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক' দেশের তালিকায়ও বাংলাদেশের নাম নেই।

গত বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইআইইউ। খবর বিবিসির। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশক ধরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি 'হাইব্রিড রেজিম' তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর ২০১৮ সালে হয়েছে ৮৮তম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ইআইইউ প্রতিটি দেশকে গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করে। সেগুলো হলো - নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। প্রত্যেকটি মানদণ্ডকে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে হিসেব করে গড় করা হয়। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি ক্যাটেগরিকে ভাগ করা হয় - স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ গণতন্ত্র। এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে "পূর্ণ গণতান্ত্রিক" অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়। ১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে। http://country.eiu.com/bangladesh

বাংলাদেশে মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে

মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন হবে অনলাইনে, সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবেন প্রার্থী নিজেই। ভিসা আবেদন সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে অস্পষ্টতা বা পরামর্শ নেয়া যাবে কল সেন্টারে ফোন করে। ভিসা প্রাপ্তির পর পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ঢাকাস্থ দূতাবাসে ছুটতে হবে না। প্রার্থীর সুবিধামতো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত ভিসা সেন্টার (সায়মন সেন্টার) থেকে তা সংগ্রহ করা যাবে। মার্কিন ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় এমন বড় ধরনের পরিবর্তন আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর আসছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত যুক্তরষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিশেল বন্ড। নতুন এ প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানাতে গতকাল রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে আয়োজন করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। সেখানে তিনি বলেন, নতুন ওই পদ্ধতি চালুর ফলে আবদনকারীদের ভিসা সংক্রান্ত সুবিধা বাড়বে। এটি আগের চেয়ে সহজও হবে। ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এলেও ফি-র ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন আসছে না বলে জানান তিনি। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সেবা সহজতর করতে এখন থেকে এইচএসবিসির যে কোন শাখায় ভিসা ফি জমা দেয়া যাবে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সহজতর নতুন পদ্ধতিতে আগ্রহীরা মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের জন্য তার তথ্য-উপাত্ত দেবেন। এ ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা থাকলে বা যে কোন বিষয় জানতে কল সেন্টারে ফোন করে সহযোগিতা নিতে পারবেন। রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কল সেন্টার খোলা থাকবে। নতুন ওয়েবসাইট ও নতুন কল সেন্টার-এর সহায়তায় বাংলা ও ইংরেজিতে এক জায়গা থেকে তথ্য দিতে হবে, যা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। আগের নিয়মে আবেদনকারীকে অনলাইনে আবেদন করলেও সশরীরে গিয়ে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাইমন ওভারসিজ থেকে নিতে হতো। যদিও সাইমন এখনও দূতাবাসের অংশীদার এবং কাগজপত্র জমা নেবে এবং পাসপোর্ট ফেরত দেবে। তবে পরিবর্তন এটিই- আবেদনকারীরা এখন সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিতে পারবেন। এককভাবে বা দলগতভাবে সাক্ষাৎকারসূচির জন্য অবেদন করতে পারবেন। ভিসা আবেদনপত্র পূর্ণ করে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পাওয়ার পর এইচএসবিসি ব্যাংক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম শাখায় ফি জমা দিতে পারবেন। আবেদনকারীরা ডলার বা টাকায় ফি জমা দিতে পারবেন এবং এক বছর মেয়াদী  টাকা জমার রশিদ পাবেন। ৩১শে আগস্ট থেকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আর ফি গ্রহণ করছে না জানিয়ে বলা হয়, আবেদনকারী যারা এক বছর কম সময় আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-এ টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়েছেন তারা সেই রশিদ ব্যবহার করতে পারবেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বা এইচএসবিসি যে ব্যাংকই হোক ভিসা ফি-এর রশিদের মেয়াদ এক বছর বহাল থাকবে। ভিসা সেবা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, প্রতি বছরই আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর প্রায় ৩০ হাজার নন ইমিগ্রেন্ট ভিসা দেয়া হয়েছে। যেখানে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৭০ হাজার। স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় কয়েক শ’। কানাডা ও বৃটেন ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম সংকুচিত করে ফেলেছে। বাজেট কমাতে এটি করা হয়েছে বলে দেশ দু’টির তরফে ব্যাখা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা আগাম প্রশ্নটি আসে গতকালের ব্রিফিংয়ে। কনস্যুলার বিষয়ক মার্কিন প্রতিমন্ত্রী তার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আগামীতে সেবা আরও সহজ এবং বাড়ানোর দিকেই মনোযোগ তাদের। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাসহ কনস্যুলার ও প্রেস সেকশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি ভিডিও গেইমস ক্যাফেতে গোলাগুলিঃ নিহত কয়েকজন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি ভিডিও গেম ক্যাফেতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার ফ্লোরিডার জ্যাকসনভ্যাইলের একটি রেস্টুরেন্টে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জ্যাকসনভ্যাইলের পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর দাবি, ‘প্রাথমিকভাবে ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চার জন নিহত হয়েছেন।’ রয়টার্স ও মেট্রোসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে প্রকাশ, আজ (রবিবার) জ্যাকসনভ্যাইলের একটি ক্যাফে থেকে এক ভিডিও গেম টুর্নামেন্ট সরাসরি দেখানো হচ্ছিল একটি ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটে। এসময় এক বন্দুকধারী ঢুকে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। এক বিবৃতিতে জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস জানায়, ‘ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ তবে নিউজ৪জ্যাক্সসহ বেশ কিছু স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, ‘১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে মারা গেছেন চার জন।’ ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস এক টুইটার পোস্টে বলছে, ‘এলাকাটি নিরাপদ নয়। সন্দেহজনক হামলাকারীদের একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় কোনও সন্দেহভাজন আছে কিনা, তা বোঝা যাচ্ছে না।’

Rohingya crisis one year after

As many of you know, I’ve been following the Rohingya crisis for a while now for PBS NewsHour. Yesterday, I gave my thoughts from the ground on how things have changed one year after the mass exodus. By Tania Rashid You can see the full segment here: https://www.pbs.org/newshour/show/amid-mounting-evidence-of-atrocities-un-calls-for-investigation-into-rohingya-crackdown Special thanks to my brilliant team Kysar Hamid Salman   https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10108555415400776&id=2511445

১১-৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছেঃ গণস্বাস্থ্যের কিট রোগ শনাক্তে...

করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয়: বিএসএমএমইউ

মহামারি করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত এন্টিবডি কিট কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএসএমএমইউ জানায়, এটি রোগ শনাক্তে কার্যকর নয়, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে।

করোনা শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয়। প্রথম দুই সপ্তাহে কিট ব্যবহার করে শুধু ১১-৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার কনক কান্তি বড়ুয়া।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বিএসএমএমইউ-এর মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া সম্প্রতি বলেন, কমিটির রিপোর্টই শেষ কথা। এটা আর অন্য কোনো কমিটিতে যাবে না।

এর আগে সকালে গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় অধ্যাপক শাহিনা তাবাসসুমের নেতৃত্বে গঠিত পারফরমেন্স কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রসঙ্গত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিয়ে শুরু থেকে অনেক বিতর্কের পরে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বা আইসিডিডিআরবিতে উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর গত ১৩ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে প্রথম দফায় কিট জমা দেয় গণস্বাস্থ্য। একইসঙ্গে পরীক্ষা খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা দেয় তারা। এরপরও বিভিন্ন সময় কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তে র‍্যাপিড টেস্টিং কিট দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে গত ২৫ মে জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত। বিএসএমএমইউর পরীক্ষায়ও ২৮ মে তাঁর করোনা পজিটিভ আসে। ১৩ জুন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত র‍্যাপিড ডট ব্লট কিটের পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা ‘নেগেটিভ’ আসে। পরে পিসিআর পরীক্ষাতেও তাঁর করোনা নেগেটিভ এসেছে। তিনি এখন করোনামুক্ত। তবে এখন তিনি নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী শিরীন হক এবং ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী সুস্থ আছেন। তাঁরা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে দুজনেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্ত্রী পরে করোনামুক্ত হন।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন অসম্ভব

পাঠক প্রতিক্রিয়া নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন অসম্ভব অনামিকা মণ্ডলঃ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০ আগস্টের মধ্যে রাজধানীতে অটো সিগন্যাল ও রিমোট কনট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যালিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিআরটিএ ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে এ নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—সেই বিষয়ে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে পাঠকের মতামত চাওয়া হয়। শতাধিক পাঠক তাঁদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। প্রত্যেকেই নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি এটাও বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে সবাইকে। জাকির হোসেইন লিখেছেন, ‘বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তৎপর হলে আস্তে আস্তে ফল পাওয়া যাবে। আর কেউ যদি গাফিলতি করে, তা হলে সরকার তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করুক। কাজে অবহেলাকারী দু-এক জন চাকরি খোয়ালেই বাকিরা সতর্ক হবে বলে আমি মনে করি।’ আর এ রাসেল লিখেছেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন বাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাস স্টপ নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেক পয়েন্টে ক্যামেরা বসাতে হবে। টোল পরিশোধের জন্য সব যানবাহনে বার কোড ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে চলন্ত অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বারকোড স্ক্যান হয়ে টোল পরিশোধ হয়ে যায়। তবে সবার আগে জনগণকে সভ্য হতে হবে।’ প্রতি সিগন্যালে ক্যামেরা চান মোহাম্মদ হান্নানও। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি সিগন্যালে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখা যেতে পারে। যারা অমান্য করবে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা সিগন্যাল মানবে না, সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য বাতিল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।’ মিজানুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, আলিনাসহ অনেকেই সিসিটিভি ক্যামেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানের জন্য এটি খুব প্রয়োজন। মো. জুবায়ের আহমেদ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন থেকে ১০০ কর্মকর্তা বাছাই করতে হবে। এরপর তাঁদের নিয়ে একটি দল গঠন করতে হবে, যা মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। তিনি লিখেছেন, নিরাপদ সড়ক তখনই নিশ্চিত করা যাবে। এইচ. এম. ইমরানের মতে, যে কোনো ট্রাফিক সিগনাল অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা করতে হবে। ব্যস্ত মোড়গুলোতে পদচারী সেতু রাখতে হবে। থাকতে হবে ইউ টার্নের আলাদা ব্যবস্থা। মুক্তাদির রহমানের অভিযোগ, বর্তমানে রাজধানী ঢাকার সবখানেই বাস থামে। তাই কোনটি বাস দাঁড়ানোর জন্য নির্ধারিত, আর কোনটি নয়—তা বোঝা কঠিন। তাঁর প্রস্তাব, সবখানের জেব্রা ক্রসিংগুলো রং করে দিতে হবে। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া কেউ রাস্তা পারাপার করতে যাতে না পারে, সে জন্য প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি রাখা যাবে না। ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম্য দূর করে বিআরটিএ-কে আরও কঠোর হতে হবে। সবার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে পুলিশকে। সড়ক পর্যবেক্ষণের জন্য মহাসড়কগুলোতে রাডার মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ২০ আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন এটিএম রুবায়েত আলী। তাঁর মতে, কাজগুলো করতে অনেকটা সময় লাগবে। রাফিয়া আক্তারও মনে করেন ২০ আগস্টের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সুত্রঃ প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন নজরুলের স্ত্রী বিউটি জয়ী

image নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাত খুনের ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। সিংহ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৯শ ৫৮ ভোট। নির্বাচনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বি পদ্মফুল প্রতীকে মাসুম রানা পেয়েছেন ৬৮৬ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১৬ হাজার ৭২৯। এর মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ ভোট। বাতিল হয়েছে ৪৪ ভোট। আজ শনিবার সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পর বিকেল সোয়া ৫টায় বেসরকারি ভোটের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।  ফলাফল ঘোষণার পর তাত্ক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিংহ প্রতীক নিয়ে অংশ জয়ী হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। পরে তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ প্রতীক আর চায়নি অন্য দুইজন প্রার্থী। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারিফুজ্জামান জানান, ৮টি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে।  প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ করা হয় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার চর ধলেশ্বরী এলাকা থেকে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশ পঞ্চম, শীর্ষ চীন

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ।

এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন চীনের নাগরিকেরা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে এ খবর দিয়েছে ডাটালিডস। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০০০ সালে ১৩ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ১ লাখ। অর্থাৎ ১৭ বছরে ৩ কোটি মানুষ বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৮ কোটিরও বেশি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চীনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৭৭ কোটি ২০ লাখ। এর পরেই রয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের অবস্থান। তারপরই আছে বাংলাদেশ। ডাটা লিডসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সময় চীনে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখে। চীনের ইন্টারনেটের সহজপ্রাপ্যতা শতকরা ৫৫ দশমিক ৮ ভাগ।বিশ্ব এখন আছে ডিজিটাল যুগে। সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এ কারণে, বিশ্বের প্রায় সব অংশ সম্পৃক্ত হয়েছে ইন্টারনেটে। আর তাই বেড়ে চলেছে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে গত ১০ বছরে অস্বাভাবিক হারে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে এশিয়ায়। ভারতে গত এক দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫০ লাখ থেকে বেড়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২০ লাখে। এ বছরের শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। গত দশকে ইন্দোনেশিয়াতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ লাখ থেকে বেড়ে ১৪ কোটি ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। আর জাপানে তা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখে। ফিলিপাইনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ভিয়েতনামে ৬ কোটি ৪০ লাখ। থাইল্যান্ডে গত ১০ বছরে ইন্টারনেট সুবিধা পেয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। ২০০০ সালে এ ক্ষেত্রে জাপান ছিল ১ নম্বরে। আর দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ২ নম্বরে। বর্তমানে সেখানে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছেছে ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে। এক দশক আগে পাকিস্তানে ইন্টারনেট সুবিধা পেতেন এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। গত বছর শেষ নাগাদ সেখানে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে ইন্টারনেট।ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই আছে নাইজেরিয়ার অবস্থান। দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৪৯ হাজার ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৩১ হাজার ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের ওয়েবসাইটে জানায় বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৫ লাখ। বিটিআরসি আগস্ট মাস পর্যন্ত হালনাগাদ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ৮ কোটি ৪৭ লাখ মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী এবং বাকি ৮৩ হাজার ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারকারী। জুলাই মাসের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৮৯ লাখ।

বহুল ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র একে ৪৭ বা কালাশনিকভের উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ আর...

20131224-160526.jpg

চলে গেলেন কালাশনিকভের জনক ঢাকা: বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র একে ৪৭ বা কালাশনিকভের উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ আর বেঁচে নেই।রাশিয়ার ইউরাল পর্বতমালার কাছে নিজ শহর ইজভেস্কের একটি হাসপাতালে সোমবার ৯৪ বছের বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রুশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। সহজে তৈরি করা এবং সাধাসিধে ব্যবহার বিধির কারণে উদ্ভাবণের পর থেকেই কালাশনিকভ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এর জনক মিখাইল এ থেকে যৎসামান্য অর্থই আয় করতে পেরেছিলেন। এজন্যই একবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এর চাইতে একখানা ঘাস কাটার যন্ত্র বানানোই ভালো ছিলো। তবে এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই মাত্র ২০ বছর বয়সে একে-৪৭ রাইফেলের নকশা তৈরি করেন কালাশনিকভ। অথচ নিজে কখনো স্কুলের চৌকাঠ মারাননি। আবিষ্কারের পরপরই রাইফেলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিকূল পরিবেশেও ঠিকঠাক গুলি বের হওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গেরিলা যোদ্ধাদের কাছে এটি সমাদৃত হয়। আবিষ্কারের পর দশকের পর দশক ধরে গেরিলা যোদ্ধাদের পছন্দের অস্ত্র একে-৪৭-এর ব্যবহার এবং প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে সমরাস্ত্রবিদরা গবেষণা চালিয়ে আসছেন। মিখাইল তিমোফিয়েভিচ কালাশনিকভের জন্ম ১৯১৯ সালের ১০ নভেম্বর পশ্চিম সাইবেরিয়ার এক কৃষকের ঘরে। তিনি ছিলেন তার বাবার ১৮ সন্তানের একজন। তিনি ১৯৩৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মিতে যোগ দেওয়ার পর আগ্নেয়াস্ত্রের নকশায় দক্ষতা অর্জন করেন। সহকর্মী সেনারা জার্মানদের মতো উন্নত মানের অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি নতুন আগ্নেয়াস্ত্র বানানোর কাজে হাত দেন। একে ৪৭ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৪৭ সালে। এর দু বছর পর সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে এটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ এই অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। কালাশনিকভের জনক মিখাইল তার দেশে সোভিয়েত যুগে যেমন ছিলেন বীরের আসনে, কমিউনিস্ট শাসন অবসানের পর এখনো তাকে দেখা হয় সেই চোখেই। সোভিয়েত যুগে ‘অর্ডার অফ লেনিন’ ও ‘হিরো অফ সোসালিস্ট লেবার’ খেতাব পান কালাশনিকভ। আর ৯০তম জন্মদিনে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘হিরো অফ রাশিয়া’ খেতাব দিয়ে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন, ‘তিনি হচ্ছেন জাতীয় ব্র্যান্ড, যাকে নিয়ে প্রত্যেকটি রাশিয়ানই গর্বিত।’ তবে নিজের উদ্ভাবিত অস্ত্রে মানুষের মৃত্যুতে মর্মাহত ছিলেন এই রুশ। ২০০৮ সালে তিনি একবার দুঃখ করে বলেছিলেন,‘ ‘এটা দেখা আমার জন্য খুবই বেদনার যে সকল প্রকার অপরাধেই আমার অস্ত্রটি ব্যবহার করা হচ্ছে।’ কালাশনিকভ বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। এ বছরের জুন মাসে তার শরীরে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার জন্য যন্ত্র বসানো হয়েছিলো। আভ্যন্তরিণ রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি ১৭ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলামেইল২৪

৫৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি!

প্রাণহীন ঈদ অর্থনীতি: গত বছরের তুলনায় কেনাকাটা কমেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকার!

গোলাম মওলা

পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পুরো মাস রোজা রাখার পর নিজের সেরা পোশাক পরে, সুগন্ধী ব্যবহার করে, মিষ্টান্ন খেয়ে ঈদের নামাজে অংশ নেওয়ার কথা বলা আছে ধর্মীয় রীতিতে। সংখ্যাগুরু মুসলমান তাই এই ঈদ উপলক্ষে নিজের ও পরিবার সদস্য-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে ভালোবাসে। আর এ কারণেই এই উৎসবে সাধারণত নতুন পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, নারীদের গহনা, প্রসাধনী, অলঙ্কার ও বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, খাদ্যপণ্য সামগ্রী কেনাকাটার ধুম পড়ে। তার সঙ্গে এটা-ওটা দরকারি জিনিস যোগ হতে হতে নাড়াচাড়া পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। তবে এ বছর এর পুরো ব্যতিক্রম। প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার এই ঈদের অর্থনীতি করোনা ভীতিতে এবার প্রায় পুরোটাই স্থবির ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি,  ঈদে কেনাকাটা কমেছে অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকার। অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আরেকটি সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখের সময় বন্ধ থাকার পর এই ঈদ উৎসবেও বন্ধ ছিল দেশের বেশিরভাগ শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট। ফলে যে ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাজার ও দেশের অর্থনীতি চাঙা করতো এবার তার প্রায় কিছুই নেই।  বন্ধ শপিং মল, দোকানপাটগুলোর দিকে চেয়ে এবার শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন সেই ব্যবসায়ীরা- অন্যান্যবার একই জায়গায় বেচাকেনায় যাদের দম ফেলার অবকাশ থাকতো না। যারা দোকানপাট খুলতে পেরেছেন, হতাশ তারাও। করোনা ঝুঁকি নিয়েও সরকারের বিশেষ অনুমতিতে গত ১০ মে থেকে সারা দেশে যেসব শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট খুলেছিল সেগুলোর প্রথম শর্ত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং বিকাল চারটার মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। ফলে বেঁধে দেওয়া সময় থাকায় এসব নিয়মের প্রায় কিছুই পূরণ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ক্রেতাদের ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশ না মানার প্রবণতা। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় খোলার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ জেলার এসব দোকানপাট। সব মিলিয়ে হতাশায় পুড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোতে বেচাকেনা হয়েছিল অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। এবারের ঈদে এই সামান্য সময়ে বেচাকেনা হয়েছে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত রমজানের  ঈদের তুলনায় এবার অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, গত রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল, এবার সে ধরনের ব্যবসা একেবারেই হয়নি। এবার সব ধরনের ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ঈদের আগে সরকার দোকান, মার্কেট খুলে দেওয়ায় সারা দেশের ৫৬ লাখ ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কোনোমতে আত্মসম্মানটা বাঁচাতে পেরেছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের কারণে ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীকে কারও কাছে হাত পাততে হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ১০ মে থেকে সরকার দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার অনুমতি দিলেও তাতে ভোক্তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি মার্কেট চালু করার সুযোগ পেয়েও করোনা সংক্রমণ রোধ করতে বড় বড় শপিং মলগুলো বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় রীতি আর সমাজবদ্ধ জীবনের অভ্যাসগত কারণেই ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা মুসলিম সমাজে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। পরম্পরা ধরে চলে আসা এই রেওয়াজের কারণে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয়-জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে কেনাকাটা করতো সাধারণ মানুষ। ১৫ রোজার পর এই কেনাকাটার মাত্রা বেড়ে যেত বহুগুণ। আগের বছরগুলোয় ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসতো ততই নগরীর মার্কেটগুলোয় ভিড় বাড়তো। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ধারণা, গত বছর পর্যন্ত ঈদের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু, করোনার কারণে এ বছর ঈদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অন্যান্য বছর ঈদ উপলক্ষে অর্থের বড় একটা জোগান আসতো সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস, গতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, জাকাত ও ফিতরা থেকে।  এ ছাড়াও অন্যতম একটি উৎস ছিল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স), যা চাঙা করতো গ্রামীণ অর্থনীতি। তবে এবছর বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বোনাস দিতে পারেনি, অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে অর্ধেক। বেতন বকেয়া রেখেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বোনাস হলেও অনেকে কেনাকাটা করতে পারেননি। আর নিম্ন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় নিত্য দরকারি খাদ্যপণ্য জোগাড়েই ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে তাদের। কেনাকাটার চিন্তাও করতে পারেনি তারা। দরিদ্র ও দুস্থরা তো পুরোপুরি সরকারি বেসরকারি ত্রাণ ও সহায়তার ওপরে এখনও নির্ভরশীল। মার্কেটের সামনে কেনাকাটা নয়, সাহায্য পাওয়ার আশায় ভিড় জমিয়েছিল তারা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে এবার ঈদের অর্থনীতি হতাশার। এ বছর ঈদে শ্রমিক, উদ্যোক্তা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ, এবার কেনাকাটার মানসিকতা ছিল না মানুষের। ফলে এ বছর ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি বহুলাংশে থমকে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিপণিবিতানগুলো। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন | ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.