কাল ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন...

কাল ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

টিবিএস ডেস্ক
13 May, 2020
সারা দেশে কোরোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন নির্দেশ

নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন নির্দেশ

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এমন রোগীদের নন কোভিড রোগী বলা হয়ে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সকল হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদেরও চিকিৎসা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩টি জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে: ১. সকল বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিকসমূহে সন্দেহভাজন কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২. চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জরুরি চিকিৎসার জন্য আগত কোন রোগীকে ফেরত দেওয়া যাবে না। রেফার করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘কোভিড হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের’ সাথে যোগাযোগ করে রোগীর চিকিৎসার বিষয়টি সুনিশ্চিত করে রেফার করতে হবে। ৩. দীর্ঘদিন ধরে যেসকল রোগী কিডনি ডায়ালিসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করছেন তারা কোভিড আক্রান্ত না হয়ে থাকলে-তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে উল্লিখিত নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধান অনুসারে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঁচ লাখ টাকার রেমিট্যান্সে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনা

পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জরি করেছে।

প্রসঙ্গত, আগে ১৫০০ মার্কিন ডলার বা  দেড় লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া, প্রণোদনা পেতে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা ছিল।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠনো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ  পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্রাদি ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও  বলেছে, নগদ সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার অধিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে, কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

টিবিএস ডেস্ক
09 May, 2020,
শনিবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৭৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে জনবহুল এ রাজধানী।

করোনাকালে তথ্য আড়ালের এই প্রাণান্ত চেষ্টা কেন?

মতামত

করোনাকালে তথ্য আড়ালের এই প্রাণান্ত চেষ্টা কেন?

কামাল আহমেদ | প্রথম আলো ০৯ মে ২০২০ মহামারির সঙ্গে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা চলে না। বিশেষ করে, যে মহামারিতে শত্রু অদৃশ্য, রোগটা অতিছোঁয়াচে এবং ‍মৃত্যুঝুঁকি হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আমাদের আইনে মহামারির সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকির তথ্য গোপন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে আইনে সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো পার্থক্যও করা হয়নি। অথচ এখন সেই তথ্য আড়ালের প্রাণান্তকর চেষ্টারই প্রতিফলন ঘটছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যসংবলিত কোনো পোস্ট দেওয়া ও সে ধরনের পোস্টে লাইক বা শেয়ার করা থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরত থাকার এক নোটিশ জারি করা হয়েছে ৭ মে। কেউ তা না মানলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নোটিশ জারি করা হলো এমন দিনে, যে দিনে ফেসবুকে সরকার অথবা কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা তাদের কাজের সমালোচনা এবং ভিন্নমত প্রকাশের দায়ে এক দিনে ঢাকায় ১১ জন এবং অন্যান্য জায়গায় আরও অন্তত ৪ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনে মামলার বিষয়টি শহরে সবার মধ্যে আলোচিত হচ্ছিল। এসব আলোচনা বেশির ভাগই সামাজিক মাধ্যমে, কিছুটা টেলিফোনে আর কিছুটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মামলা দেওয়ার আগে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া লেখক, কার্টুনিস্ট, ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনকে সাদা পোশাকের লোকজন বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে গুমের আতঙ্কও দেখা দেয়। যদিও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। টেলিভিশনের কথিত ব্রেকিং নিউজের স্ক্রলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদভিত্তিক অনলাইন পোর্টালগুলোতেও এই হুঁশিয়ারির কথা প্রচার হতে থাকে। কিন্তু হুঁশিয়ারিটি যে শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটা অনেকেরই নজর এড়িয়ে যায়। হয়তো উদ্দেশ্যটাই এমন ছিল। লকডাউনে থাকা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত যখন করোনার চিকিৎসার অব্যবস্থা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বেহাল এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতায় ভুগছেন, তখন ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা-নিন্দা-প্রতিবাদ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। সুতরাং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের হুঁশিয়ারি মোক্ষম বলে বিবেচিত হয়ে থাকতে পারে। তা না হলে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এ রকম নির্দেশনা জারি করতে হবে কেন? সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধিতে অনেক ধরনের বিধিনিষেধ আছে। তাঁরা সাধারণত সরকারবিরোধী মতামত এড়িয়ে চলেন। তা ছাড়া ফেসবুক ব্যবহারের বিষয়ে ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিল। পরে তা আবার হালনাগাদও করা হয়েছে। তবে যথারীতি সরকারের বাইরেও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে তাঁদের অনেকে নানা সময়ে মন্তব্য করলেও কখনো কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে শুনিনি। সরকারবিরোধী কোনো মতামত তাঁরা কখনো করেছেন, এমনটি চোখে পড়েনি। বিরল এ রকম কিছু হলে, তা এত ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার কথা যে সে ধরনের কিছু গণমাধ্যমের চোখের আড়ালে থাকত না। তাহলে হঠাৎ কেন সরকার আবারও এই হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করানো জরুরি মনে করল? এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি। গণ-সমালেচনা বন্ধের জন্য জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এটি বেশ কার্যকর হতে পারে। অন্য আর যে সম্ভাবনাগুলো থাকে, তা হচ্ছে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করা, যাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিবিধির কড়াকড়ি প্রয়োগ তেমন একটা ছিল না। বিশেষত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অনুসারী চিকিৎসকেরা রাজনৈতিক কর্মীর মতো আচার-আচরণ করলেও অতীতে তা কখনোই শৃঙ্খলাবিধির ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়নি। কিন্তু ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে যে অবিশ্বাস্য কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার খেসারত যেহেতু চিকিৎসকদের জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে, সে কারণে তাঁদের ক্ষোভের বিষয়টি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে যথাযথ সরকারি বিধি মেনে যাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের পরিণতি কী ঘটেছে, তা আমরা সবাই জানি। অথচ দেশের প্রচলিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ সুরক্ষা প্রদান আইন ২০১১ অনুসারে তাঁদের সুরক্ষা পাওয়ার কথা। অতএব এই হুঁশিয়ারি চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বন্ধের চেষ্টায় হয়ে থাকতে পারে। তা ছাড়া রোগের বিস্তৃতি বাড়তে থাকা এবং হাসপাতালগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সরকার তাঁদেরও সাবধান করতে চাইছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। বলে রাখা ভালো, আগেকার নির্দেশনাগুলো থেকে নতুন পরিপত্রের একটা পার্থক্য আছে। তা হলো এবারই আলাদা করে কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্যের কথা বলা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তির আইনগত সংজ্ঞা কী বা কোন আইনে আছে, তার কোনো উল্লেখ পরিপত্রে নেই। দেশে খুব গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তি বা ভিআইপি এবং ভিভিআইপিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কারা ভিআইপি, তা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আর প্রচলিত ভিআইপিমাত্রই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বর্পূণ ব্যক্তি হবেন, বিষয়টি এমন হওয়ার কথা নয়। অন্যান্য নির্দেশনার মধ্যে জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো লেখা, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না বলেও এতে বলা হয়েছে। পরিপত্রের এই নির্দেশনাতেই সরকারের আসল উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হলে, তা নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না। সরকারি চাকরিবিধির বাইরে আলাদা করে এ ধরনের নির্দেশনা স্বাভাবিক সময়ে জারি করা হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এখন মহামারির অস্বাভাবিক সময়ে তাই এমন নির্দেশনা জারিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা যাচ্ছে না। সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮‘য় বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, এমন তথ্য গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই আইনের ২৪-এর ১ উপধারায় বলা হচ্ছে: যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনেই এই অপরাধের তদন্ত ও বিচার হওয়ার কথা বলা আছে আইনে। খুনের অপরাধে যেমন সরকারি কর্মকর্তা আর সাধারণ নাগরিককে আলাদা করা দেখা হয় না, এ ক্ষেত্রেও তেমনই হওয়ার কথা। সুতরাং চিকিৎসক, নার্স, আয়া, শুচিকর্মী কিংবা প্রশাসক—সবারই সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব আছে। জনস্বাস্থ্যের তথ্য শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তাকেই জানানোর বিষয় নয়, ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে জানানোর বিষয়। আর সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিম্নমানের পিপিই, মাস্ক কিংবা অন্য যেকোনো সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে সহকর্মী, পরিবার ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সজাগ করার মতো তথ্য ও মতামত প্রকাশ নিষিদ্ধ হবে কেন? আবার এই আইনেই আরেকটি ধারা, ২৬ (১) বলছে: যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত যে ধরনের লুকোচুরিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন, তাতে প্রশ্ন তোলাই যায়, তাঁরা আইন লঙ্ঘন করছেন কি না? কামাল আহমেদ: সাংবাদিক

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোরতিনি কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ না হওয়া অবধি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকছেন বলে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সালমান খান ইয়াসিন জানিয়েছেন।  আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, উগ্রবাদী কিছু সংগঠন আর ফেসবুক ইউজার কারও কারও নেগেটিভ কমেন্টে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমাদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া কাজের এত চাপও তিনি সামলাতে পারছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে কাজ করবেন। তারপর তিনি হঠাৎ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও আমরা তার রিজাইন লেটার অ্যাকসেপ্ট করি নাই। কভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তিনি চেয়ারম্যানের পদে বহাল থাকছেন। সালমান আরো বলেন, কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলে যোগ্য কাউকে না পেলে পদটি শূন্য থাকবে। সূত্রঃ কালের কন্ঠ [caption id="attachment_23977" align="aligncenter" width="414"] বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশের স্ট্যাটাস[/caption]

“আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন”

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ছাড়লেন কেন? কিশোর কুমারের উত্তর, ‘আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে প্রিয় কি- আমি বলবো বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। কিন্তু কখনো কখনো মানুষের স্বার্থে, ভালোবাসার স্বার্থে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। আমিও তাই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাচ্ছি। তবে আমি বিদ্যানন্দে আছি। থাকবো।’ গতকাল মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন কিশোর কুমার দাস। বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল তার সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরেই কিশোর কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট্ট দেশ পেরুতে বাস করছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে গতকাল দুপরে এই সাক্ষাতকার দেন। সেই আলাপে উঠে আসে এই সংগঠনের শুরু থেকে নানা উদ্যোগের কথা। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার কারণও বলেন। [caption id="attachment_23984" align="alignnone" width="300"] কিশোর কুমার দাস[/caption] চট্টগ্রামের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক শেষ করা কিশোর বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ পদে চাকুরী করতেন। যেটি থার্ড পার্টি হিসেবে গুগলের কাজ করতো। তবে ওই চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে তিনি উদ্যোক্তা। বিদেশে থেকেই সংগঠনটির কাজে যুক্ত আছেন। কিশোরের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা দিতে ২০১৩ সালে গড়ে তুলেছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এখন সারাদেশে বিদ্যানন্দের ১২টি শাখার মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি পথশিশু মৌলিক শিক্ষা ও খাবার পায়। এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক, শিক্ষা উপকরণ, মাসিক বৃত্তি প্রদান করে থাকে এবং সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে। বিদ্যানন্দের এক টাকায় আহার, এক টাকায় চিকিৎসা, এক টাকায় আইন সেবা কার্যক্রমগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। গরীব ও অসহায় কিন্তু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা আছে। আছে বাংলাদেশের রামু ও রাজবাড়ীতে নিজস্ব জমিতে দুইটি আলাদা এতিমখানা। বিদ্যানন্দ অনাথালয়ে এতিমদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শাখায় বিনামূল্যে গ্রন্থাগার সুবিধা রয়েছে। এসব গ্রন্থাগারে আট হাজারের অধিক বইয়ের সংগ্রহ আছে। এই গ্রন্থাগার গুলো সকাল-সন্ধ্যা খোলা থাকে এবং যে কেউ সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে বই পড়তে পারেন। ৭১ টাকায় নারীদের জন্য আবাসিক হোটেলও করেছে বিদ্যানন্দ। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ঢাকার অলিগলিতে ছেয়ে যাওয়া পোস্টারগুলোকে সংগ্রহ করে শিক্ষা উপাদান বানানোর অভিনব কৌশল নেয় বিদ্যানন্দ। এতো কাজ করেও হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন কেন? কিশোর কুমার বললেন, ‘আমি কখনোই সংগঠনে নিজের পদটা আঁকড়ে ধরে রাখেতে চাইনি। আমি চেয়েছি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আমি বলেছিলাম বয়স ৪০ হয়ে গেলে আমি আর সংগঠনের চেয়ারম্যান থাকবো না। যদিও আমার এখনো ৪০ বছর বয়স হয়নি কিন্তু তরুণ নেতৃত্ব আসুক সেটাই চাইছি। তারা নতুন মেধা দিয়ে সংগঠন এগিয়ে নিক।’ শুধুই তরুণ নেতৃত্ব নাকি আর কোনো কারণ আছে? কিশোর কুমার বললেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত মানুষ একটি কারণে নেয় না। অনেকগুলো কারণ থাকে। আমারও আরও বেশ কিছু কারণ আছে।’ অভিযোগ উঠেছে, কিশোর কুমারের ধর্মীয় পরিচয় তুলে প্রায়শই বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজে তাকে গালিগালাজ করা হতো। বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজের ঘোষণায় বলা হয়, প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম। সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।’ এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানুষ পরিচয়ে বড় হয়ে উঠতে চেয়েছি। বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই ভাবে কারো নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামটি এসেছে। এজন্য আমরা নাম পরিবর্তন করতে চাইলেও স্বেচ্ছাসেবকরা রাজি হননি। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে নানাভাবে আমাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে গালিগালাজ করা হয়েছে। এর কোনো শেষ নেই। করোনা সংকট মোকাবিলায় আমরা যখন মার্চে কাজ শুরু করলাম, তখন এর মাত্রা আরও বাড়লো। কোনো কারণ ছাড়া কিছু মানুষ পেজে ধর্ম তুলে গালি দিচ্ছে, এটা আমাকে আহত করতো। এর ফলে মূল কাজটাও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, কিছু মানুষ দান করার সময়ও হিন্দু পরিচয়টাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করতো। এসব দেখে মনে হলো, আচ্ছা তাহলে আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাই। মানুষের গালিগালাজ বন্ধ হোক। সংগঠনটা এগিয়ে যাক। তবে একটা কথা বলতে চাই। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এতদূর আসা। কিছু মন্দ মানুষ অপপ্রচার করে, সেটা খুবই নগণ্য।’ বাবার সরকারি চাকরিসূত্রে কিশোর বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কিশোর তৃতীয়। নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম বলে অবহেলা, বঞ্চনা আর দারিদ্র্যের সংগ্রামে নিজেদের টিকিয়ে রাখাটাই তাদের কাছে দুঃসাধ্য ছিল। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে কিশোর বলেন, ‘২০১৩ সালে ছোট পরিসরে গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আমাদের বিদ্যানন্দের প্রথম কর্মসূচি ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা। নারায়ণগঞ্জের এক রেলস্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে বিদ্যানন্দের সব আর্থিক জোগান পেরু থেকে আমিই দিতাম। আর সব কার্যক্রম স্বেচ্ছাসেবকরা পরিচালনা করত। পরে সবার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজারসহ আরও ১২টি এলাকায় যাই।’ ২০১৬ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও ষাটোর্ধ কর্মহীন মানুষদের জন্য ‘এক টাকায় আহার’ নামে প্রকল্প চালু করে বিদ্যানন্দ। কিশোর জানালেন, এর আওতায় গত চার বছরে ৪২ লাখ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। এক টাকায় খাবার বিক্রি করার কারণ হিসেবে বললেন, ‘যারা এই খাবার গ্রহণ করছেন তারা যেন খাবারটিকে দান ভেবে নিজেদের ছোট মনে না করেন, সেজন্যই এক টাকা।’ একই ভাবে ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ নামে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে এ সংগঠন। কোভিড-১৯ যখন সারাদেশে আতঙ্ক নিয়ে এলো তখন যেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠে বিদ্যানন্দ। গনপ‌রিবহ‌ন জীবাণুমুক্ত করল, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের জন্য আহার, চল‌তি প‌থে প‌থি‌কের ক্ষুধা নিবারণ, শহ‌রের রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটা‌নো কিংবা রাস্তার অসহায় প্রাণীকে খাও‌য়ানো থেকে শুরু করে নানা কাজে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবকরা। করোনা সংকট মোকাবিলায় এত বিপুল কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাথায় কীভাবে এলো? কিশোর কুমার বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকায় করোনায় কি হতে পারে সেটা বুঝতে পারছিলাম। তাই মার্চেই প্রস্তুতি নেই। শুরুতে বিদ্যানন্দের বাসন্তী গার্মেন্টসে বানানো মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে জীবাণুনাশক ছিটানো শুরু করি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় নয় হাজার লিটার জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছি। এটি বাংলাদেশে জীবাণুনাশক ছিটানোর সবচেয়ে বড় কার্যক্রমগুলোর একটি। এরপর দেখলাম দরিদ্র মানুষের খাবার কষ্ট। আমরা এক লাখ ৮৬ হাজার পরিবারকে এখন পর্যন্ত সাত থেকে দশ দিনের খাবার দিয়েছি। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্নস্থানে ২০ হাজার মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। আরও অনেক কাজ আছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেকোনো ভাবে মানুষের পাশে থাকতে। আমরা মনে করেছি করোনা সংকট মোকাবিলা করা শুধু সরকারের একার কাজ নয়। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিকে মিলেই কাজটি করতে হবে।’ স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা কি আপনার এই পদত্যাগ মেনে নেবে? কিশোর বলেন, ‘আমি জানি না স্বেচ্ছাসেবকরা কেনো আমাকে এতো ভালোবাসে। বিদ্যানন্দকে আজ এই জায়গায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব পুরোটাই তাদের। আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকরাই কোনো না কোনো পেশায় নিয়োজিত; কেউ চাকরিজীবী কিংবা কেউ শিক্ষার্থী। সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন। আমাদের কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়েছে। যেটা দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ সম্মিলিতভাবে বহন করছেন। মানুষ আমাদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। আর বারবার বলতে চাই, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই আমাদের শক্তি। তবে আমি কিন্তু মার্চ মাসেই তাদের বলেছি, আমি চেয়ারম্যান থাকবো না। তবে আমি তো আছি। সবার সঙ্গেই আছি।’ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব কীভাবে রাখা হয় জানতে চাইলে কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের সব টাকার স্বচ্ছ হিসাব রাখা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে এমন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়েও আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়।’ সবাই অনুরোধ করলে চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তটা পুনর্বিবেচনা করবেন কি না জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টো পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচয়ে কখনোই গড়ে তুলতে চাইনি। অনেকেই আমার গল্প নানাভাবে তুলে ধরে। বিষয়গুলো আমি এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। আর পদে কি যায় আসে? আগে চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন নিচের দিকের পদে থাকবো। সাংগঠনিক সম্পাদক। কারণ আমি আসলে গোছানোর কাজটা করতে পারি। কাজেই সবাইকে নিয়ে সেই কাজটা করবো। আর পদে কিছু যায় আসে না। চেয়ারম্যান না থাকলেও কিছু যায় আসে না। সমালোচকরা বলবে, বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু আমি আসলেই মন থেকে বিশ্বাস করে কথাগুলো বলছি। বিদ্যানন্দ কারো একার নয়, এটা আমাদের সবার। এটা ধর্ম-বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের। এই সংগঠনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ করতে রাজি আছি। আবারও বলছি আমি বিদ্যানন্দ ছাড়ছি না, পরিচালনা পর্ষদেই থাকছি। শুধু দায়িত্ব পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি।’ সূত্রঃ দি ডেইলি ষ্টার কিশোর কুমার দাশ চুয়েট থেকে ২০০১ ব্যাচে পাস করা কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি বাংলাদেশে প্রথম গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর ব্যবস্থা করেন।  তিনিই প্রথম এক টাকায় আহার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশু ও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে। এক টাকা চিকিৎসা প্রজেক্টের আওতা এই পর্যন্ত ২৫,০০০ এর বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রেস্ক্রিপশনের পাশাপাশি তিন দিনের ওষুধ পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের। এক গ্লাস দুধ প্রজেক্টের আওতায় বস্তির গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনাথালয় গুলোর যাত্রা শুরু। প্রায় তিন শতাধিক এতিম এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে চারটি অনাথালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরো দুটো অনাথালয়ের কাজ চলছে। আনন্দের সাথে শিক্ষালাভের মন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বর্তমানে স্কুল আছে ৬ টি। বাসন্তী নামে একটি গার্মেন্টসে তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। এছাড়া এক বছরে অনাথালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে বানানো হয়েছে নতুন কাপড়। পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড চালু করা হয়েছে বস্তির দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশু কিশোরীদের জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ২৬ হাজার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। এই খাবার স্বেচ্ছাসেবিদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যা মানুষের কাছে পৌছে দেন। সবকিছু সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্ত কিশোর কুমার দাসের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই। সততা ও স্বচ্ছতা রেখে এ সব কাজ করার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’কে। ২০১৩ সালের আগস্টে বিদ্যানন্দ নিয়ে বোন শিপ্রা দাশের সঙ্গে কথা হয়। এরপর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে বোন শিপ্রা দাশ এই ভাবনায় গতি আনেন। আর ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যানন্দের নারায়ণগঞ্জ শাখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিদ্যানন্দের চট্টগ্রাম শাখা কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের মার্চ। সবশেষে ২০১৪ সালের জুলাইতে বিদ্যানন্দের মিরপুর শাখা খোলা হয়। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার আর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক শিপ্রা দুই ভাইবোন ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঢেলে দেন এই স্কুলের জন্য। https://www.bidyanondo.org/

একনজরে বিদ্যানন্দঃ

পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’

হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী কর্মসূচি। বাজারভিত্তিক অর্থনীতির রূঢ় থাবায় মানবিক বন্ধন যখন শুকিয়ে যায়, এই অন্তর্গত চেতনা তখন মানুষকে ভালোবাসায় আপ্লুত করে। এরই মধ্যে এই কর্মসূচি দেশের সীমানা পেরিয়ে পেরোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই মানবপ্রেমের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কালের কন্ঠ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’
দারিদ্র্যজয়ী কিশোর দরিদ্রদের পাশে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা কিশোর কুমার দাস একটা সময় নিজেই ছিলেন মন্দিরের সামনে ক্ষুধার্তের লাইনে। চুয়েট থেকে পাস করে প্রথমে বিডিকম ও পরে এয়ারটেলে। এর পর ২০১১ সালে পেরুতে। প্রথমে ওএলও এবং পরে গুগলে। সর্বশেষ পেরুস্থ জিগজাগ হোস্টেলের উদ্যোক্তা। বেঁচে থাকার আত্মিক আনন্দের উৎস হিসেবে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ২২ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু করেন বিদ্যানন্দ। সেখানে শিশুদের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও জানা গেল, ক্ষুধার কারণে তারা ঠিকমতো পড়তে আসে না। ফলে ১৫ মে ২০১৬ থেকে শুরু হয় ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এর পর শুধু এগিয়ে যাওয়া। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজবাড়ী, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে বিদ্যানন্দের নানামুখী কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যানন্দের আদলে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতেও গড়ে তুলেছেন ‘এটুজেড’ নামের প্রতিষ্ঠান। খাবার হাতে পথশিশুদের উল্লাস এক টাকায় আহার কর্মসূচিগ্রহীতাদের ভেতর ‘ভিক্ষা’ ও বণ্টনকারীদের মধ্যে ‘দান’ শব্দটি মুছে ফেলার চিন্তা থেকেই ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পেয়ে থাকে ১২ বছরের নিচের সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের হতদরিদ্র বৃদ্ধ। রুটিনমাফিক ঢাকাসহ আটটি জেলায় খাবার বিতরণ করা হয়। খাবারের মেন্যুতে অধিকাংশ সময় ডিম-ভাত বা সবজি-ভাত থাকলেও মাঝেমধ্যে মাংস-পোলাওয়ের মতো ভালো খাবারও জোটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভাগ্যে। গত রমজানে এক লাখ ৩০ হাজার দুঃস্থজনের মধ্যে সাহরি ও ইফতারের আয়োজন করেছিল বিদ্যানন্দ। শুরুর পর কখনোই বন্ধ হয়নি এই কর্মসূচি। অনন্য শিক্ষা কার্যক্রম ‘পড়ব, খেলব, শিখব’ এই স্লোগানে সুবিধাবঞ্চিতদের পড়ানো হয় এখানে। শুধু সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য নয়, সর্বস্তরের পাঠকের জন্য রয়েছে পাঠাগার, যা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় সদস্য না হয়েও। বিনা মূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ। মাসে একদিন বড় পর্দায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হয়। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। এরই মধ্যে এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যানন্দ ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ কার্যক্রম চালু করেছে। এর আওতায় বেদেপল্লী, হরিজনপল্লী, বিহারিপল্লীসহ বেশ কিছু সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনা মূল্যে কিছু ওষুধও দেওয়া হয়। এতিম শিশুর রাজ্য সম্প্রীতি অনাথালয় কক্সবাজার জেলার রামুতে আদিবাসী অনাথদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্প্রীতি অনাথালয়। এক স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের দান করা ১৫০ শতক জমির ওপর এটি গড়ে উঠেছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। নিজের রুটি নিজেকেই বানাতে হয়, নিজেদের সবজি চাষ করতে হয়, এমনকি চুলও কাটতে হয় একে অপরের। এভাবেই এখানকার শিশুদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অনাথালয় না বলে একে আবাসন বললেই বোধ করি অধিকতর যৌক্তিক হবে। শুকনো খাবার হাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনাথ শিশু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন আট হাজার মানুষকে শুকনো খাবার ও তিন হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক শিশুকে দেওয়া হচ্ছে তরল দুধ এবং শতাধিক মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা। স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ এসেছেন কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে, আবার কেউ পড়াশোনার অবসরে। কেউ রাত জেগে সবজি কাটেন, কেউ রাঁধেন, আবার কেউ সহকারী। কিশোরের মুখোমুখি ‘এক টাকায় আহার’ মূলত একটি অনুপ্রেরণার নাম। অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোর এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আবার কিশোরের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো বড় পরিসরে হয়তো শুরু করবেন অন্য কোনো মহত্প্রাণ। কিশোরের ভাষায়, ‘বিদ্যানন্দ’ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি লাইফস্টাইল। সমাজের ভেতর বসবাসকারী সন্ন্যাসীদের জীবনকেই বলে ‘বিদ্যানন্দ’। একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন কিশোর। যেখানে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্য থেকে তুলনামূলক মেধাবীদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অনুদানের উৎস ও স্বেচ্ছাসেবকদের কথা কিশোরের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও বর্তমানে অনুদান আসে বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে। কেউ নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন বাজেটের টাকা দেন। কেউ হয়তো ঈদ বোনাসের টাকা। কেউ টিউশনির জমানো টাকা নিয়ে অভুক্ত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়ান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোলট্রি ফার্মের মালিক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিদ্যানন্দের আহার কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় ডিমের সংস্থান করছেন। শুধু ব্যক্তিগত অর্থায়নেই নয়, স্বনামধন্য বহু প্রতিষ্ঠান অনুদান দিয়েছে, দিচ্ছে। পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন শিপ্রা দাস, নাফিজ চৌধুরী ও ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া রয়েছে ৭৫ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবক। বাজার করা থেকে শুরু করে রান্না, বিতরণ, তদারকি সবই ধৈর্য সহকারে তাঁরা দেখভাল করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ শুধু হৃদয়াবেগ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ডগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ করতে শুরু করেছে। বহুজাতিক কম্পানিতে কর্মরত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে হিসাবায়নের কাজ, যা সুখ্যাত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত হচ্ছে। আইনি সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্বনামধন্য ল ফার্ম। স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং তাঁদের নিজেদের খাবার উপযোগী করেই মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ড বিদ্যানন্দের লড়াইয়ের গল্প অফুরান। রয়েছে বৃত্তি প্রদান, কখনো বা গোবিন্দগঞ্জের অসহায় সাঁওতালদের পাশে, রাঙামাটিতে পাহাড়ধস বিপর্যয়ে, ফ্রেমে বাঁধা শৈশব কর্মসূচিতে, হাওরাঞ্চলে ঈদ উৎসব আয়োজনে, আবার কখনো বা ছিন্নমূল শিশুদের জন্মদিন পালনে। নিয়মিত ভিত্তিতে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এক টাকায় আইনি সহায়তা, এক টাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ছাড়া রয়েছে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর কার্যক্রম, বিনা মূল্যে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন সহায়িকা বিতরণ ও পথশিশুদের গোসল করানো। যেখানেই মনে হয় ভালোবাসা দেওয়া দরকার, সেখানেই বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীরা ছুটে যান আহার, শিক্ষা ও আনন্দ নিয়ে। এই ভালোবাসা শতধারায় প্রবাহিত হোক সেটাই কিশোরের ইচ্ছা।

দেশে করোনার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদনের অনুমতি পেল ৬ কোম্পানি

দেশে করোনার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদনের অনুমতি পেল ৬ কোম্পানীঃ

03 May, 2020

ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো, বীকন, এসকেএফ (এসকে-এফ), ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ারকে করোনাভাইরাসের এই সম্ভাব্য ওষুধটি উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ মাসেই উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছয়টি ওষুধ কোম্পানিকে দেশে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ওষুধ 'রেমডেসিভির' উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো, বীকন, এসকেএফ (এসকে-এফ), ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ার।

দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোম্পানিগুলোকে এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কাঁচামাল আমদানি করে এ মাসের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করবে এসকে-এফ ও বেক্সিমকো।

ওষুধগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বলে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় 'রেমডেসিভির' ব্যবহার করা হচ্ছে। সার্স ও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করার ইতিহাস রয়েছে ওষুধটির। সূত্রঃ টিবিএস রিপোর্ট

৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স

৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স

| গোলাম মওলা | মে ০৩, ২০২০
বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে বিবেচিত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর করোনার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। প্রবাসীরা গত এপ্রিলে যে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তা বিগত ৩৭ মাসের মধ্যে (৩ বছরের বেশি) সবচেয়ে কম। এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ১০৪ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এই হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সদ্য বিদায়ী এপ্রিলে প্রায় ৪০ কোটি ডলার কম এসেছে। আর গত মার্চ মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ২৪ কোটি ডলার। গত মার্চ মাসে প্রবাসীরা ১২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রবাসী আয় কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় না বাড়ার কারণে রবিবার (৩ মে) পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর গবেষক ড. জায়েদ বখত মনে করেন, করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীর মানুষকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রবাসীদের হাতে কাজ নেই। অনেকে চলেও এসেছে। তবে যারা এখনও বিভিন্ন দেশে রয়ে গেছেন তারাও ঘরবন্দি। তবে আমদানি ব্যয় কমে আসার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এই অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত) প্রবাসীরা এক হাজার ৪৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত মার্চ মাস থেকেই প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ। যদিও গত ডিসেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অথচ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত দুই মাস ধরে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যেসব দেশ থেকে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতেন, সেসব দেশে এখনও লকডাউন চলছে। অনেক প্রবাসী মারাও গেছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের হাতে কাজ নেই। সামনের দিনগুলো নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অনেকেই দেশে চলেও এসেছেন। আর যারা ওইসব দেশে আটকা পড়েছে, তাদের আয় কমে গেছে। যে কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এরপর তিন বছরে অর্থাৎ ৩৭ মাসে এতো কম রেমিট্যান্স আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে গত ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে এসেছে ১৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রসঙ্গত, বিদায়ী বছরজুড়ে প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে। ২০১৯ সালের পুরো সময়ে (১২ মাসে) প্রবাসীরা ১ হাজার ৮৩৩ কোটি মার্কিন ডলারের আয় পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালে এসেছিল ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার। প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ প্রণোদনা, ডিজিটাল হুন্ডি বন্ধের উদ্যোগ ও ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমায় বৈধ পথে আয় আসা বাড়লেও করোনার কারণে হঠাৎ ছন্দপতন দেখা দিয়েছে। করোনার বৈশ্বিক মহামারি রূপ নেওয়ার পর অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফিরে এসেছেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩০ জন প্রবাসী। বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস দিয়েছে করোনা মহামারির কারণে এ বছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কমবে ২২ শতাংশ।

করোনার ধরন বদলানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি

করোনার ধরন বদলানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি
জাকিয়া আহমেদ | বাংলা ট্রিবিউন © 

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী কম শনাক্ত ও মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভাইরাসটির জেনারেশন বদলে যাওয়া, দেশের মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া নিয়ে। তবে দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে বলার মতো সময় এখনও আসেনি। নতুন এই ভাইরাসের বিষয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে। কিন্তু এই ভাইরাসের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য একই রয়েছে। আর এটা নতুন হওয়াতে মানব শরীর তাকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। অন্যান্য ভাইরাসের জেনারেশন যেমন বদল হয়, তেমন কিছু হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে তারা বলছেন, কোভিড-১৯-এর ভাইরাস সার্স-সিওভি-২ ধরন বদল করেছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

চীনের উহানে গত বছরের ডিসেম্বরে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বাংলাদেশে প্রথম কোভিড আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে করা হলেও এখন দেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। দেশে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৭৯০ জন। ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭৫ জন।

বর্তমান অবস্থায় যেসব দেশ ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার যুক্তি দিয়ে লকডাউন তুলছে তাদের সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আবার হার্ড ইমিউনিটি হয় তখনই যখন একটি দেশের ৭০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। আবার কেবল আক্রান্ত হলেই হবে না, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি গ্রো করতে হবে। আবার কেবল অ্যান্টিবডি গ্রো করলেই হবে না, সেই অ্যান্টিবডিকে প্রটেকশন দিতে হবে, যাতে আবার সে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে কোনও জীবাণু শরীরে ঢুকলে মানুষের শরীরে ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে এমন হওয়ার ভিত্তি এখনও পাওয়া যায়নি। কোনও গবেষণাতে এর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ( আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে এখনও সেভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না, সেজন্য নিশ্চিত করে কিছু বলাও যাচ্ছে না। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি হয়েছে এটাই প্রমাণিত না, হার্ড ইমিউনিটি তো পরের কথা।’

তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠা মানুষ নিজে সংক্রমিত হন না কিন্তু তার মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরাসরি বলেছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাজেই কেউ যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন যে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সুস্থ হওয়া একজন মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি কতদিন কার্যকর থাকবে সেটা বলার সময়ও এখনও আসেনি।’

মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আনস্টেবল অবস্থাতে রয়েছে। কাজেই একবার করোনা হয়ে গেলে তার আবার হবে না এটা একেবারেই মনে করা যাবে না। ভাইরাসটি নতুন করে ‘রিচার্জেজ’ হতে পারে, শরীরে আবার ‘রিইনফেকশন’ও হতে পারে। তাই হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে শতকরা ৭০ শতাংশ মানুষের যদি ইমিউনিটি গড়ে ওঠে তখন বাকিদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ইমিউনিটি হয়ে যায়।’

‘কারও যদি ইমিউন বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায় তাহলে তিনি নিজে আর আক্রান্ত হবেন না, এটা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না। আর ভাইরাসের লক্ষণ না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সময় সে ছড়াতে পারে, কিন্তু ইমিউন হওয়াটা নিশ্চিত হয় না। আবার যদি এর ভ্যাকসিন বের হয় তখন এটা হবে। যেমন– হাম, মাম্মস-সহ অন্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে হয়েছে। আবার অনেক ভাইরাস একই মানুষের শরীরে বারবার অসুস্থতা তৈরি করে’- বলেন মুশতাক হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি ইমিউনিটি সিস্টেম গড়ে না ওঠে তাহলে টিকা আবিষ্কারের কাজটিও কঠিন হয়ে যাবে।’

সার্স-সিওভি-২-এর বিধ্বংসী রূপ বদল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লোকে বলে বদল হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও কোথাও পাওয়া যায়নি।’ তবে এর আগে অনেক ভাইরাসের বেলাতেই এটা হয়েছে।

আবার বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা অন্যান্য দেশের মতো না হওয়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশে পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে রোগী শনাক্ত কম হচ্ছে। এটা যেমন সত্যি, তেমনি ইনফেকশন কম। এটার স্থানভেদে পার্থক্য রয়েছে। যদি এর ভয়াবহতা কমে যেত তাহলে ঢাকা শহরে এত রোগী হতো না’- ব্যাখ্যা দেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের পরীক্ষা করলেই কেবল এটা বোঝা যাবে।’ আবার যাদের লক্ষণ প্রকাশ হচ্ছে না তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা ভাইরাসটি বহন করছেন, তাই তাদের থেকেও অন্যরা সংক্রমিত হবেন। আর এটাই আমাদের জন্য শঙ্কার বিষয়।’

যদি কোনও দেশের জনসংখ্যার ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ইমিউন হয়, তখন সেখানে হার্ড ইমিউনিটি চলে আসে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তখন আর সেটি ছড়াবে না।’

যদি কোনও সমাজে শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষের কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি ডেভেলপ করে, তখন বাকি ১০ ভাগ মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই আর সংক্রমিত হবে না মন্তব্য করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কোনও ভাইরাস যত দ্রুত মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে সে ভাইরাস তত দ্রুত মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। একই সঙ্গে এই অ্যান্টিবডি আদৌ তাকে প্রটেকশন দেবে কিনা সে বিষয়েও এখন নিশ্চিত নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ, সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন এমন উদাহরণও রয়েছে।’

অবশেষে বিপর্যস্ত স্পেন ও ইতালিতে আশার আলোঃ আস্তে আস্তে খুলে...

অবশেষে ৪৯ দিন পর মুক্ত বাতাসে স্প্যানিশরা

মে ০২, ২০২০ |  ৪৫ বছরের মার ভিসার একটি ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের চাকরি হারিয়েছেন। বার্সেলোনার কাছের শহর কাস্তেলডিফেলসের রাস্তায় জগিং করছিলেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তের জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলাম। বাড়ির ভেতরে হাটাহাটি বা ইয়োগা করার চেয়ে অনেক ভালো।
মাদ্রিদে সাইকেলচালক ও স্কেটবোর্ডাররা শহরের রাস্তায় নেমেছেন। যদিও জনপ্রিয় এলাকায় জনসমাগম যাতে বেশি না হয় সেই চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশগুলোর একটি স্পেন। মার্চ মাস থেকেই জারি করা হয় কঠোর লকডাউন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেশিরভাগ জনগণ বন্দি হয়ে পড়েন ঘরের ভেতরেই। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে খেলা ও হেঁটে ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়। ব্রিটিশ সরকারের কনসালটেন্ট ৪১ বছরের শার্লট ফ্রাজার-প্রাইন অনুশীলনের স্বাধীনতার সুযোগ গ্রহণকারীদের একজন। ভোর ৬টায় তিনি শহরের রেটিরো পার্কে দৌড়ানোর জন্য বের হয়েছেন। পার্কটি বন্ধ থাকলেও ফুটপাত দিয়ে কয়েকশ মানুষ দৌড়াচ্ছেন। শার্লট বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে বলেছিলাম মাদ্রিদে প্রথম বাইরে আসা ব্যক্তি হব আমি। ছয় সপ্তাহ ধরে ইয়োগা ভিডিও দেখার পর বাইরে বের হতে পেরে আমি খুব খুশি। আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসায় এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় কমতে শুরু করায় সরকার দেশ পুনরায় সচল করা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিয়েছে। গত সপ্তাহে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ চার ধাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যে পরিকল্পনাকে তিনি নতুন স্বাভাবিকতায় ফেরা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জুনের শেষ দিকে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। বাইরে মানুষের ভিড় কমাতে সরকার শিফট ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিন্ন সময়ে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন। সোমবার থেকে সেলুন খুলবে। তবে বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে আরও এক সপ্তাহের জন্য। স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৪ জনের। লকডাউনের কারণে দেশটি অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমেছে। ২০২০ সালে দেশটির জিডিপি ৯.২ শতাংশ হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

অবশেষে বিপর্যস্ত ইতালিতে আশার আলো

মে ০২, ২০২০ |
করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে রূপ নেওয়া ইতালিতে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে মানুষ। সেখানে দুর্বল হতে শুরু করেছে করোনার প্রভাব। কমছে মৃত আর আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছে রেকর্ড সংখ্যক রোগী। আগামী ৪ই মে থেকে শিথিল হবে লকডাউন। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করবে দেশ।
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি করোনার প্রকোপ বাড়তে শুরু করার পর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২৮,২৩৬ মানুষের।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৩৪৯ জন করোনা রোগী। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেন ৭৮ হাজার ২৪৯ জন। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, মহামারী করোনায় গত একদিনে  মৃতের সংখ্যা ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এই সময়ে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৫ জন। আগামী ৪ মে থেকে ইতালিকে শিথিল হতে যাচ্ছে লকডাউন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সীমিত আকারে উৎপাদন শিল্প, নির্মাণ খাত ও পাইকারি দোকান পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির  বিভিন্ন এলাকায় খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট।  খুলছে বই, স্টেশনারি, বাচ্চাদের জামা কাপড়ের দোকানও। এছাড়া কম্পিউটার ও কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্প: যে প্রশংসনীয় উদাহরণ অনুসরণ করা দরকার

তৈরি পোশাকশিল্প: যে প্রশংসনীয় উদাহরণ অনুসরণ করা দরকার

তিনটি তৈরি পোশাক কারখানা জানিয়েছে, তারা কারখানা না খুললেও শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস যথা সময়ে দেবে। কোনো শ্রমিকই ছাটাই করা হবে না বলেও অঙ্গীকার করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা যেখানে মার্চ মাসের বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেই তিনটি পোশাক ইন্ডাস্ট্রি সেখানে শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

এই তিনটি তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার মধ্যে নারায়ণগঞ্জভিত্তিক এসপি গ্রুপ ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন দিয়েছে। দিয়েছে ঈদ বোনাসের প্রতিশ্রুতিও। অন্যদিকে, অন্য দুটি কারখানা চট্টগ্রামভিত্তিক ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিকদের ঈদ বোনাসসহ পুরো বেতন পরিশোধের কথা দিয়েছে।

ভাইরাসের এই দুর্যোগকালে একজন শ্রমিককেও ছাটাই না করার ঘোষণাও দিয়েছে কারখানা তিনটি।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানা খোলেনি। এক টাকাও উপার্জন না হওয়া সত্ত্বেও তারা সামনের মাসগুলোর পুরো বেতন পরিশোধ করার ব্যাপারে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছে।

শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই অগ্রাধিকার

নারায়ণগঞ্জভিত্তিক এসপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুবল চন্দ্র সাহা বলেছেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে তারা সবার আগে বিবেচনা করেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি মেনে ২৫ মার্চ উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

এর এক মাস পরও বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর বিস্তার ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, এই বিবেচনায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করেননি তিনি।

এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানালেন, পোশাকশ্রমিকরা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ছোট ছোট রুমে জীবনযাপন করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই টয়লেট তাদের অনেককে ব্যবহার করতে হয়।

তিনি বলেন, গার্মেন্ট সংলগ্ন এলাকাগুলোতেই শ্রমিকরা বসবাস করেন, সেখানে ভাইরাসটি ব্যাপক মাত্রায় ছড়ানোর আশংকা থেকেই যায়।

সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, 'করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে আমরা পহেলা জুন থেকে কার্যক্রম আবার শুরু করার পরিকল্পনা করছি। অন্যথায় পহেলা জুলাই শুরু করব।' তার কারখানায় ৩ হাজার ৩০০ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের প্রতি মাসের বেতন প্রায় ৫ কোটি টাকা।

সরকার এ সপ্তাহে পোশাক কারখানার মালিকদের তাদের কারখানা সীমিত পরিসরে খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের এই পরিস্থিতিতে কাজে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো রকম চাপ না দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় সারা মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে পোশাক কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন ৬০ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে সুবল বলেছেন, কারখানা আবারও চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত, তিনি নিজে এক টাকাও উপার্জন করতে না পারলেও, তার শ্রমিকরা পুরো বেতন পাবেন।

তিনি বলেন, 'এসপি গ্রুপ তার সব শ্রমিকের মার্চ মাসের পুরো বেতন ইতোমধ্যেই দিয়েছে। শ্রমিকরা যেন ঈদের উৎসব আনন্দ নিয়ে উপযাপন করতে পারেন, এখন সে লক্ষ্যে তাদের ঈদ বোনাস প্রস্তুতের কাজ করছে মানবসম্পদ বিভাগ।'

এসপি গ্রুপের মতো, চট্টগ্রামের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জভিত্তিক ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডও জানিয়েছে, তারা শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের পুরো বেতন এবং ঈদ বোনাস যথাসময়ে পরিশোধ করবে। উভয় কোম্পানিই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খুব তীক্ষ্ণভাবে নজরদারি করছে। পরিস্থিতি বুঝে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কারখানা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

শুধুই মহত্ব দেখাতে এ কাজ?

অনেক কারখানা যেখানে শ্রমিক ছাটাই করছে, কোনো কোনো কারখানা যেখানে শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন দেয়নি এখনো, সেখানে এই তিনটি কারখানা তাদের কোনো শ্রমিকই ছাটাই করেনি।

এ রকম সৌজন্যতা কী করে দেখাল?

ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, 'শ্রমিকরা আমার পরিবারের সদস্যের মতোই। আমি আমার কর্মীদের বড় কোনো বিপদের মুখে ফেলে দেওয়ার কথা কোনোদিনই ভাবিনি।'

তিনি আরও বলেন, 'এই দুর্যোগে আমরা আমাদের কর্মীদের সত্যিকারের খেয়াল রাখছি।'

বাকি দুটি কারখানার কর্তৃপক্ষের কণ্ঠেও ছিল অভিন্ন সুর। এই তিন উৎপাদনকারীর ব্যবসা মূলত ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সঙ্গে।

বৈশ্বিক এই মহামারির কালে কারখানা মালিকরা প্রোডাকশন কমাতে এবং তাদের অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো আঘাত তাদের ওপর আসেনি।

এসপি গ্রুপের দুটি বড় ক্লায়েন্ট- বেলজিয়ামের বায়ার 'বিএলসি' এবং সুইডিশ বায়ার 'কটন গ্রুপ'।

সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, 'বিএলসির সঙ্গে আমরা ২৬ বছর ধরে ব্যবসা করছি। তারা কোনো অর্ডার কিংবা শিপমেন্ট ক্যানসেল করেনি।' অবশ্য, চট্টগ্রাম ও ইউরোপের বন্দরগুলোতে তার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মূল্যের প্রোডাকশন আটকা পড়ে রয়েছে।

চট্টগ্রামের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের কর্মীসংখ্যা ২ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য পাঠিয়ে বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার উপার্জন করে এটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের অর্ডার বাতিল করে হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতের অর্ডারগুলোও হয়ে গেছে স্থগিত।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, তাদের আনুষঙ্গিক খরচ ও ব্যাংক ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে।

অবশ্য তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশের ক্রেতা 'ইনডেক্স'-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। মোস্তাফিজ জানান, ইনডেক্স কোনো অর্ডার বাতিল করেনি কিংবা কোনো পেমেন্ট স্থগিত রাখেনি।

নারায়ণগঞ্জভিত্তিক ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের কর্মীসংখ্যা ১ হাজার ১০০ জন। ইউরোপে পোশাক রপ্তানি করে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার উপার্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

নিট কম্পোজিটরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে শামীম এহসান জানান, বৈশ্বিক এই মহামারির কারণে উৎপাদন যথেষ্ট বিঘ্নিত হলেও তাদের কোনো বায়ারই কোনো অর্ডার বাতিল করেনি।

নিজেদের দুই বিশ্বস্ত ইউরোপিয়ান বায়ার 'হ্যাপি চিক' ও 'ফোপেম'-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এক দশকেরও বেশিকাল ধরে এ দুটি বায়ারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির।

এহসান বলেন, 'এই বায়ারেরা এখনো আমার কারখানায় ছোট ছোট অর্ডার দিচ্ছে।'

নারায়ণগঞ্জে করোনাঃ সংক্রমণের হার অনেকটা কমে এসেছে

নারায়ণগঞ্জে করোনায় মোট আক্রান্ত ৯৩৭ জন, নতুন মৃত্যু নেই

গত ছয় দিনে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ জন।

করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে গত দুই দিনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় নারায়ণগঞ্জে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৪২ জন।  এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৩৭ জনে।

তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে গত ছয় দিনে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ জন। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই তথ্য জানা যায়।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংক্রমণ বেশি হওয়ার নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিনই ১৫০ থেকে ১৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়েছে। তবে আগের তুলনায় সংক্রমণের হার নারায়ণগঞ্জে অনেকটা কমে এসেছে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩'শ শয্যা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার শামসুদ্দোহা চৌধুরী সঞ্চয়। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সবাই সুস্থ আছেন। খানপুর হাসপাতালে টেস্ট ল্যাব স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে পিসিআর ল্যাবটি আগামী ২-৩দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন শেষ হবে। পরবর্তীতে জনবল নিয়োগ পেলেই আমরা টেস্টিং ল্যাব পরীক্ষা শুরু করতে পারব।

এদিকে লকডাউনের ২৪তম দিনে অনেকটা শিথিল হয়ে পড়েছে লকডাউন কার্যক্রম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আগের মতো চোখে পড়ছে না। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট ও পুলিশের পাহারা থাকলেও পুলিশের কার্যক্রম অনেকটাই গা ছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে।

নগরীতে নানা কারণে লকডাউন ভেঙে বেরিয়ে আসছে মানুষ। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সামান্য বৃষ্টি থাকলেও লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। নগরীর প্রধান দিগু বাবুর বাজারসহ অনেক বাজার ছিল লোকে লোকারণ্য। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব তেমন একটা মানা হচ্ছে না। অনেকটা গাদাগাদি করে ও গায়ে গায়ে লেগে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৫০টি গার্মেন্টস চালু করায় শহরে জনসমাগম বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলার শ্রমিকরা এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই ট্রাকে করে এবং বিভিন্ন যানবাহনে করে শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করছে। এ কারণে নগরীতে লোক সমাগম অনেকটাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। তবে শহরে বিভিন্ন পাড়া মহল্লার সড়কে মানুষ নানা অজুহাত দেখিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আরও নজরদারি বাড়িয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ তৎপর রয়েছেন।

আপনার ষ্টিমুলাস চেক কখন আসবে?

আপনি কবে আপনার করোনাভাইরাস ষ্টিমুলাস চেক পাবেন?

আপনার ষ্টিমুলাস চেক কখন আসবে? আপনার যা জানা দরকার তা এখানে।

ষ্টিমুলাস চেক

আমেরিকানদের জন্য, ষ্টিমুলাস চেক শীঘ্রই আসছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানুচিন বলেছেন, বেশিরভাগ আমেরিকান এপ্রিল ১৭ এর মধ্যে তাদের ষ্টিমুলাস চেক পাবেন। ইউএস ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক ল্যারি কুডলো বলেছেন যে চেক চলতি সপ্তাহে বা তার পরের দিকে পাঠানো শুরু হবে । আইআরএস থেকে সময়সূচী পর্যালোচনা করা ওয়াশিংটন পোস্টের মতে ষ্টিমুলাস চেকগুলি নিম্নোক্ত তারিখে আসার সম্ভাবনা আছে। (অবশ্যই এই তারিখগুলি পরিবর্তন সাপেক্ষে):

এপ্রিল 9, 2020

ষ্টিমুলাস চেক বৃহস্পতিবার, এপ্রিল 9 অবধি কিছু করদাতাকে প্রেরণ করা হবে আপনি যদি 2018 বা 2019 সালে আপনার আয়কর জমা দেন এবং আপনার সরাসরি জমা দেওয়ার তথ্য আইআরএসে সরবরাহ করেন তবে আপনার উদ্দীপনা চেক আজই পাঠানো যেতে পারে। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আনুমানিক 20 এপ্রিল বা তার আগে আসতে পারে।

24 এপ্রিল, 2020

আইআরএস কাগজ ষ্টিমুলাস চেক প্রেরণ শুরু করবে। পরিকল্পনাটি হ'ল প্রথমে সর্বনিম্ন সমন্বিত স্থূল আয় সহ করদাতাদের কাগজ ষ্টিমুলাস চেকগুলি প্রেরণ করা। সুতরাং, যে করদাতারা 10,000 ডলারেরও কম আয় করেছেন তারা প্রথমে একটি কাগজ চেক পাবেন।

মে 12, 2020

এই সপ্তাহে, আইআরএস করদাতাদের যারা কাগজ ষ্টিমুলাস চেক প্রেরণ করবে যারা $ 10,001 থেকে 20,000 ডলারের মধ্যে আয় করেছেন।

মে 8, 2020

এই সপ্তাহে, আইআরএস করদাতাদের যারা কাগজ উদ্দীপনা চেকগুলি প্রেরণ করবে যারা $ 20,0001 থেকে 30,000 ডলারের মধ্যে আয় করেছেন।

মে - সেপ্টেম্বর 2020

মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আইআরএস 2018 বা 2019 ট্যাক্স তথ্যের উপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন আয়ের থেকে সর্বোচ্চ আয়ের দিকে কাগজের চেকগুলি প্রেরণ করতে থাকবে।

সেপ্টেম্বর 4, 2020

আইআরএস বাকী যে কোনও চেক মেইল করবে, যেমন বিবাহিত দম্পতিরা making 198,000 তৈরি করে (সর্বাধিক যৌথ আয় যা একটি ষ্টিমুলাস চেক পাওয়ার যোগ্য)।

11 সেপ্টেম্বর, 2020

যারা আইআরএসকে যোগাযোগের তথ্য দেয়নি তাদের আইআরএস চেক প্রেরণ করবে। প্রত্যক্ষ ডিপোজিট বা আমানতের তথ্য: আপনি যদি আপনার 2018 বা 2019 আয়কর রিটার্নের উপর সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য দিয়ে থাকেন তবে আইআরএস এর কাছে আপনার সরাসরি আমানতের তথ্য রয়েছে। আপনি সরাসরি জমার তথ্য সরবরাহ করেছেন কিনা তা কীভাবে জানবেন? আপনি যদি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে ফেডারাল ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেন বা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি ফেডারেল ট্যাক্স রিফান্ড পেয়ে থাকেন তবে আপনি সম্ভবত সরাসরি আমানতের তথ্য সরবরাহ করেছেন। আপনি যদি 2018 বা 2019 আয়কর ফাইল না করেন তবে আপনি সেগুলি ফাইল করতে পারেন। আপনার ষ্টিমুলাস চেক দ্রুত করার জন্য সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। আপনি যদি ট্যাক্স ফাইল না করেন তবে আপনি সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধাগুলি গ্রহণ করেন, যোগ্যতার জন্য আপনাকে কোনও ট্যাক্স ফাইল করতে হবে না। আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ষ্টিমুলাস চেক পাবেন। নতুন আইআরএস পোর্টাল: এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের প্রথম দিকে, আইআরএস আশা করে একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করবে যা করদাতাদের তাদের সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য আপডেট করতে এবং তাদের ষ্টিমুলাস চেকের স্থিতি পরীক্ষা করতে সক্ষম করবে। যারা ট্যাক্স ফাইল করেন না, তবে যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পান, অনলাইনে পোর্টালটি চালু হওয়ার পরে আপনি আপনার সরাসরি ডিপোজিটের তথ্যও আপডেট করতে পারেন। সূত্রঃ ফোর্বস | Apr 9, 2020

আমেরিকায় করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক কিভাবে পাবেন?

করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক বা Economic impact payments কিভাবে পাবেন এবং এটি কি গড় আমেরিকানদের জন্য যথেষ্ট হবে?

করোনাভাইরাস $ 1200 স্টিমুলাস চেক পেমেন্ট সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার ... [caption id="attachment_24091" align="aligncenter" width="1024"] Photo credit: frankieleon on VisualHunt / CC BY[/caption] আপনি সম্ভবত করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক সম্পর্কে অবগত আছেন, তবে অনেকেই এই চেক কিভাবে পাবেন তা নিয়ে অনিশ্চতায় আছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 2 ট্রিলিয়ন ডলার জরুরি অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসাবে করোনভাইরাস নগদ প্রদানের জন্য আমেরিকানদের কী করতে হবে তা নিয়ে আইআরএস (Internal Revenue Service) এক নতুন নির্দেশনায় এই সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারনা পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পরিবারের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চাকরি পুরোপুরি হ্রাস করার বাস্তবতায় অনেকেই ব্যক্তিগত লোন সার্ভিসের আউটলেটগুলি থেকে নিজেদের পে-চেকের বিপরীতে উচ্চ-সুদে ধার নিচ্ছেন। এই সময়ে, করোনাভাইরাস স্টিমুলাস চেক - যা ভুক্তভোগীদের জন্য মাসিক প্রায় $ 1,200 নির্ধারণ করার প্রস্তুতি চলছে যা সময়োচিত আর্থিক উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে একটি ভালো উদ্যোগ বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা। তবে পেমেন্টের যোগ্যতা কে পাবে ?; কতটা পাওয়ার আশা করতে পারে ?; এবং এটি কখন দেওয়া হবে? চূড়ান্ত শেষের তারিখ নেই এমন মহামারীর প্রভাবের বিরুদ্ধে পারিবারিক অর্থ সরবরাহের পক্ষে এই অর্থ প্রদান যথেষ্ট হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে যা ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের অর্থনীতি-শ্রমবাজার- শিল্পকারখানা-ব্যবসা বাণিজ্যে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে।

কে $1,200 এর ষ্টিমুলাস বা উদ্দীপনা পেমেন্টের জন্য যোগ্য?

আইআরএস নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন করদাতা ব্যক্তিদের জন্য $ 75,000 অবধি মোট আয় এবং যৌথ রিটার্ন দাখিলকারী বিবাহিত দম্পতির জন্য $150,000 অবধি মোট আয়ের ক্ষেত্রে $1,200 বা যুক্তভাবে $2,400 পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবে। পিতামাতারা 16 বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের সন্তানদের জন্য প্রত্যেকে $500 পাবেন। তবে, এই পরিমাণগুলির উর্ধ্বে যাদের আয় রয়েছে অর্থাৎ যাদের আয় 75,000 / $150,000 থ্রেশহোল্ডের উপরে তাদের এই সাহায্যের পরিমান প্রতি 100 ডলারে 5 ডলার হ্রাস পাবে।

আমার কি $ 1,200 এর উদ্দীপক পেমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে?

আইআরএস অনুসারে, বিশাল সংখ্যক লোকের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার নেই। যে সকল যোগ্য করদাতারা 2019 বা 2018 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ষ্টিমুলাস পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতিমধ্যে 2019 এর ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে, আইআরএস সেই তথ্য প্রাপ্য হিসাবে গণনা করতে ব্যবহার করবে। যারা 2019 সালে এখনও রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের 2018 এর ট্যাক্স ফাইলিংয়ের তথ্য ব্যবহার করা হবে। 2018 এবং 2019 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনও যারা করেননি, তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফাইল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ট্যাক্স রিটার্নের সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েছিলেন তাদের টাকা ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি চলে যাবে। না হলে বাসায় চিঠির মাধ্যমে চেক যাবে। আইআরএস ফরম এসএসএ -1099 এবং ফর্ম আরআরবি -1099 এ থাকা তথ্য ব্যবহার করবে।

আমি যদি সাধারণত ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল না করি তবে আমি কী এখনও উদ্দীপক অর্থ প্রদান পেতে পারি?

সহজ উত্তর - হ্যাঁ। স্বল্প আয়ের করদাতা, প্রবীণ নাগরিক, কিছু প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহ - যারা সাধারণত সাধারণত কোনও ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করেন না তাদের পেমেন্ট সুরক্ষার জন্য একটি সাধারণ ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিটস পাচ্ছেন তারাও $১২০০ ডলারের চেক পাবেন। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা ঘোষণা করেছে যে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাভোগীরা যারা ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সংক্ষিপ্তভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে অর্থ প্রদানগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কীভাবে 2019 ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করবেন তা আইআরএসের করোনা ভাইরাস ওয়েব পৃষ্ঠায় শীঘ্রই আরও নির্দেশাবলী থাকবে। https://www.irs.gov/newsroom/economic-impact-payments-what-you-need-to-know

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কিভাবে করা হবে?

জমা দেওয়া সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্নে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া হবে।

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কবে পাচ্ছেন?

আইআরএস বলছে যে পেমেন্টগুলি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হবে।

Check IRS.gov for the latest information: No action needed by most people at this time

IR-2020-61, March 30, 2020 WASHINGTON — The Treasury Department and the Internal Revenue Service today announced that distribution of economic impact payments will begin in the next three weeks and will be distributed automatically, with no action required for most people. However, some taxpayers who typically do not file returns will need to submit a simple tax return to receive the economic impact payment.

Who is eligible for the economic impact payment?

Tax filers with adjusted gross income up to $75,000 for individuals and up to $150,000 for married couples filing joint returns will receive the full payment. For filers with income above those amounts, the payment amount is reduced by $5 for each $100 above the $75,000/$150,000 thresholds. Single filers with income exceeding $99,000 and $198,000 for joint filers with no children are not eligible. Social Security recipients and railroad retirees who are otherwise not required to file a tax return are also eligible and will not be required to file a return. Eligible taxpayers who filed tax returns for either 2019 or 2018 will automatically receive an economic impact payment of up to $1,200 for individuals or $2,400 for married couples and up to $500 for each qualifying child.

How will the IRS know where to send my payment?

The vast majority of people do not need to take any action. The IRS will calculate and automatically send the economic impact payment to those eligible. For people who have already filed their 2019 tax returns, the IRS will use this information to calculate the payment amount. For those who have not yet filed their return for 2019, the IRS will use information from their 2018 tax filing to calculate the payment. The economic impact payment will be deposited directly into the same banking account reflected on the return filed.

The IRS does not have my direct deposit information. What can I do?

In the coming weeks, Treasury plans to develop a web-based portal for individuals to provide their banking information to the IRS online, so that individuals can receive payments immediately as opposed to checks in the mail.

I am not typically required to file a tax return. Can I still receive my payment?

Yes. The IRS will use the information on the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 to generate Economic Impact Payments to recipients of benefits reflected in the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 who are not required to file a tax return and did not file a return for 2018 or 2019. This includes senior citizens, Social Security recipients and railroad retirees who are not otherwise required to file a tax return. Since the IRS would not have information regarding any dependents for these people, each person would receive $1,200 per person, without the additional amount for any dependents at this time.

I have a tax filing obligation but have not filed my tax return for 2018 or 2019. Can I still receive an economic impact payment?

Yes. The IRS urges anyone with a tax filing obligation who has not yet filed a tax return for 2018 or 2019 to file as soon as they can to receive an economic impact payment. Taxpayers should include direct deposit banking information on the return.

I need to file a tax return. How long are the economic impact payments available?

For those concerned about visiting a tax professional or local community organization in person to get help with a tax return, these economic impact payments will be available throughout the rest of 2020.

Where can I get more information?

The IRS will post all key information on IRS.gov/coronavirus as soon as it becomes available. The IRS has a reduced staff in many of its offices but remains committed to helping eligible individuals receive their payments expeditiously. Check for updated information on IRS.gov/coronavirus rather than calling IRS assistors who are helping process 2019 returns. সূত্রঃ লাইভ সায়েন্স / আইআরএস

Ethnic media briefing: CALIFORNIA COMPLETE COUNT – CENSUS 2020 BRIEFING on...

Ethnic media briefing: California Complete Count – Census 2020 Office in partnership with Ethnic Media Services  WHEN: Wednesday, April 1, 2020 @ 2 p.m. [caption id="attachment_23888" align="aligncenter" width="600"] Ethnic media briefing: California Complete Count – Census 2020 Office in partnership with Ethnic Media Services [/caption] ABOUT What Does Census Day mean for California? April 1 is Census Day, the day California – and America – gets to take a selfie of itself. The telebriefing gives you direct access to California's leading expert on the census, Ditas Katague, Director of California Complete Count – Census 2020 Office for the 2020 census. Learn:
  • California’s response rate 
  • What California is doing to reach the hardest-to-count 
  • How the state is adapting in the context of COVID-19 
  • Why the Census matters
Director Katague will be joined by California partner organizations. We look forward to your participation. 

HOW TO CONNECT:

Dial 1-877-271-1828 Participant pass code 412020# SPEAKERS:

Ditas Katague

Director, California Complete Count – 2020 Census Office + Partners TBD 

RSVP: Sandy Close

Ethnic Media Services

sclose@ethnicmediaservices.org 415-533-0765

[caption id="attachment_23889" align="aligncenter" width="1080"] Sandy Close
Ethnic Media Services
sclose@ethnicmediaservices.org | 415-533-0765[/caption]  

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.