টিআইবির গবেষণা: ৫০টির মধ্যে আগের রাতে ৩৩টিতে সিল, বিচার বিভাগীয় তদন্ত...

ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি। ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে করা গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। নির্বাচনের দিন ৪৭ আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে টিআইবি। অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট; ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা; ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল; ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা; ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট; ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা; ২০টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা; ২২টিতে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া; ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ

সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলা গেলেও ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ বলা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন—সব দলের সভা-সমাবেশ করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিরোধীদের দমনে সরকারের বিতর্কিত ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান নেওয়া, সব দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে সরকারি দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের উপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণ ইত্যাদি। এর ফলে কার্যত নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ছাড়া নির্বাচনের সময়ে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ যেমন—পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা; মোবাইলের জন্য ফোর-জি ও থ্রি-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ; জরুরি ছাড়া মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। টিআইবির গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের কোনো কোনো কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। যেমন- সংসদ না ভেঙে নির্বাচন করায় সরকারের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক ও অন্যান্য প্রণোদনা এবং নির্বাচনমুখী প্রকল্প অনুমোদনসহ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রচারণা; বিরোধী পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া; সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও নির্বাচনের সময় পর্যন্ত ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখা এবং সরকারবিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়াসহ প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব কটি আসনেই নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে এককভাবে সক্রিয় ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। কোনো কোনো আসনে ক্ষমতাসীন দল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সরাসরি প্রচারের জন্য সুবিধা আদায়সহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রচারণার দৃশ্যও দেখা যায়। অন্যদিকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৩৬টি আসনে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেওয়াসহ ৪৪টি আসনে সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশ বা প্রশাসন কর্তৃক হুমকি ও হয়রানি, প্রার্থী ও নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও কর্মী কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানোর তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৯ আসনে সহিংসতাসহ প্রার্থীদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি, সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা, পুড়িয়ে দেওয়ার চিত্র দেখা যায়।

প্রচারে বেশি ব্যয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের, কম স্বতন্ত্ররা

প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সার্বিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রার্থীদের গড় ব্যয় ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ টাকা, যা নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত ব্যয়সীমার (আসনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা) তিন গুণেরও বেশি। প্রচারে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা (গড়ে পাঁচ গুণের বেশি) এবং সবচেয়ে কম ব্যয় করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের একাংশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে, যেটি আইনের লঙ্ঘন এবং নীতিবিবর্জিত। সর্বোপরি আংশিকভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। কারণ একদিকে সব রাজনৈতিক দল প্রার্থিতার মাপকাঠিতে নির্বাচনে ছিল, কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়তার বিবেচনায় বৈষম্য প্রকট ছিল। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা অবাধে ভোট দিতে পারেননি। আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অবশ্যই ব্যাপকভাবে লজ্জাজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকাও ছিল বিতর্কিত। আর এসব কারণেই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ এবং বলা যায়, অভূতপূর্ব একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; যার ফলাফলও অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের নৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এবং সরকারের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘যেভাবে এবারের নির্বাচনটা পরিচালিত হয়েছে তাতে প্রচুর ত্রুটি ছিল। তাই আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিগুলো দেখে, এই ত্রুটিগুলোর সত্যাসত্য বিচার করে পরবর্তী যে নির্বাচনগুলো হবে সেগুলোতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয় সে চেষ্টাই করবেন। কারণ আমরা দেখতে চাই, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পছন্দের মানুষেরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এই উদাহরণ রেখে যায় যে, যদি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকে তাহলে নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, বিতর্কিত হয়ে যায়। আর তখন একটা সংশয় থেকেই যায় যে, যাঁরা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে গেলেন, তাঁরা আমাদের কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করবেন, জনগণের স্বার্থ কতখানি দেখবেন।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে ৬ দফা সুপারিশ:

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে টিআইবির পক্ষ থেকে ৬ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: নির্বাচনে বহুমুখী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে তাদের ব্যর্থতা নিরূপণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে; নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন করার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য, সাহসী ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে; দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ অন্যান্য অংশীজনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে; নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের জন্য অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল/জোট ও প্রার্থী, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজন নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটুকু আইনানুগভাবে অনুসরণ করেছেন, তা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ প্রাক্কলন করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রধান অংশীজনদের ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার জন্য নভেম্বর ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। তবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে শুরু করে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান প্রাথমিক প্রতিবেদনটি প্রণীত হয়েছে। পরবর্তী সময় নির্বাচন-পরবর্তী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গবেষণার জন্য প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, দলীয় নেতা-কর্মী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও ভোটারদের সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরোক্ষ তথ্যের জন্য নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণ সব রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ ও সংগঠন, ভোটার এবং সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। তবে, এ গবেষণা নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভূমিকা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, তাসলিমা আক্তার, বিশ্বজিৎ কুমার দাস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

সিঙ্গাপুর হয়ে উঠছে বাংলাদেশীদের কালো টাকার গন্তব্যস্থল

বৈশ্বিক আর্থিক গোপনীয়তার সূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান পঞ্চম। দেশটিতে অফশোর আর্থিক সেবার বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। এশিয়ার শীর্ষ অফশোর ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার হতে হংকংয়ের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে দেশটি। মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে অফশোর বিনিয়োগের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্যও হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে মুদ্রা পাচার ও কালো টাকার নিরাপদ গন্তব্যস্থলও। এ সুযোগ নিচ্ছে বাংলাদেশীরাও।

সিঙ্গাপুরে রয়েছে নামিদামি অনেক ক্যাসিনো। বেশকিছু ক্যাসিনোর মালিকানায় রয়েছেন বাংলাদেশীরা, যেগুলো কালো টাকার অন্যতম গন্তব্য। এছাড়া সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল। ভিআইপি ক্যাসিনো হিসেবে রয়েছে এটির বিশেষ পরিচিতি। সূত্র বলছে, মেরিনা বে ক্যাসিনোতেই কোটি ডলারের বোর্ডেও খেলেছেন এক বাংলাদেশী। তিনি নিজেকে যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। আলোচিত এ নেতা সিঙ্গাপুরের জুয়ার বোর্ডে খেলতে বসলে লাখ ডলারের বান্ডিল নিয়েই বসেন। জনশ্রুতি রয়েছে, জুয়ার বোর্ডে ওড়ানো বিপুল অংকের টাকা তার নিজের উপার্জিত নয়। এ টাকার সবচেয়ে বড় উৎস ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক। তার ছায়ায় ঢাকায় অন্তত ১৫০ জুয়ার স্পট রয়েছে। সেগুলো চালানো হয় সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোর আদলে, যার মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে দৈনিক প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ টাকার বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে। জানা গেছে, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকও কয়েকটি ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ না করে তা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরাও অর্থ পাচারের জন্য সিঙ্গাপুরকে বেছে নিচ্ছেন। আর্থিক গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে অর্থ পাচার করছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায়ীরাও। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের মাধ্যমেও সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে। উচ্চমূল্যে আমদানি দেখিয়ে দেশটিতে অর্থ পাচার করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আমদানি-রফতানির অন্যতম রুট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের নিত্য গন্তব্য হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। গার্মেন্ট বা টেক্সটাইলের মেশিনারিজ আমদানির জন্যও দেশটিতে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েও অনেকে দেশটিতে অর্থ স্থানান্তর করেন। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশীদের যাতায়াত বাড়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এ রুটের এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যেও। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। পাশাপাশি মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ও এয়ার এশিয়াও ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করছে। চিকিৎসা, ব্যবসা ও পর্যটনের নামে বাংলাদেশীরা সিঙ্গাপুরে গেলেও এদের অনেকেই ক্যাসিনোয় জুয়া খেলেন এবং অর্থ পাচার করেন। এসবই তারা করছেন দেশটির আর্থিক গোপনীয়তা আইনের সুযোগ নিয়ে। সিঙ্গাপুর এ গোপনীয়তা সুরক্ষার কাজটি শুরু করে নব্বইয়ের দশকে আর্থিক বাজার ও ব্যাংকিং খাত উদারীকরণের মধ্য দিয়ে। মূলত ওই সময়ের পর থেকেই দেশটিতে তহবিল ব্যবস্থাপনা, ট্রেজারি অপারেশন, বীমা, ইকুইটি মার্কেট, ডেট ইন্স্যুরেন্স, করপোরেট ফিন্যান্সিংসহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন অংশের বাজার সম্প্রসারণ হতে থাকে। এ উদারীকরণ আরো জোরালো হয় ২০০১ সালের আর্থিক গোপনীয়তার নীতিমালাকে আরো কঠোর করে তোলার মধ্য দিয়ে। এজন্য সংশোধন করা হয় ব্যাংকিং আইন। সিঙ্গাপুরে গোপনীয়তার আইন লঙ্ঘনের শাস্তি হলো তিন বছরের জেল। ২০০৪ সালে ট্রাস্ট আইনে সংশোধন করার মধ্য দিয়ে কালো টাকার নিরাপদ গন্তব্য করে তোলা হয় দেশটিকে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্র্যাকটিশনারদের ভাষ্য হলো, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আর্থিক খাতের তথ্য বিনিময়ে কোনো চুক্তি করা হলেও স্থানীয় আদালতেই বিশেষ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে তাতে ভারসাম্য নিয়ে আসা হয়। আদালতের এ বিশেষ সুবিধার কারণে অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষের জন্য আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বের করে আনাটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে এ-সংক্রান্ত কিছু সংস্কার করা হয়। এর পরও কালো টাকার স্বর্গ হয়ে উঠেছে দেশটি, যার অন্যতম কারণ হলো আর্থিক গোপনীয়তার নীতি। এ গোপনীয়তা রক্ষায় বেশকিছু সেবা প্রচলিত রয়েছে সিঙ্গাপুরে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশটিতে প্রচলিত প্রাইভেট ট্রাস্ট কোম্পানি (পিটিসি) ব্যবস্থার কথা। এটি মূলত আর্থিক লেনদেনে গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা ট্রাস্টগুলোর ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় এক প্র্যাকটিশনারের ভাষ্যমতে, একটি পিটিসির কাজ হলো ধনী ব্যক্তিদের ‘ট্রাস্টের ওপর উচ্চমাত্রার নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা’ বজায় রাখার সুযোগ করে দেয়া। সিঙ্গাপুরের অধিবাসী নয়, এমন কেউ যদি অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের আয় নিয়ে আসে; তাহলে তার কোনো ধরনের কর পরিশোধ করতে হয় না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ থেকে দেশটিতে অর্থ পাচার হচ্ছে এবং তা ফিরিয়ে আনার নজিরও আছে। বিএনপি চেয়াপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ২০১২ সালে ফেরত আনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মূলত সিঙ্গাপুরে পাচার হওয়া কোকোর অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে এ টাকা ফেরত আনে দুদক। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ফেরত আনা হয় আরো ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সিঙ্গাপুরে পাচার হওয়া কোকোর টাকা ফিরিয়ে আনতে দুদকের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আহমেদ খানের প্রতিষ্ঠান অক্টোখান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট ও ২০১৭ সালের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনের সামঞ্জস্য নেই। ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা বিদেশে তাদের ব্যবসা প্রক্রিয়াকে সহজ করতেই বৈধ আয়ের একটি অংশ সিঙ্গাপুরের ব্যাংকিং চ্যানেলে রাখছেন। যদি কেউ তার ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে অবৈধ কিছু না করেন, তাহলে সিঙ্গাপুরে আধুনিকতম ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সে সুযোগই নিচ্ছেন। তাদের গচ্ছিত অর্থই যে কালো টাকা সেটি নয়। বরং দেশের আইনের প্রতিবন্ধকতার কারণেই তারা সে দেশে তাদের আয়ের অর্থ রাখছেন। এজন্য দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে এ খাতের প্রচলিত আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়ীদের অনেকে বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করেছেন। সেখান থেকেই মূল ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। আর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনে প্রথম পছন্দ হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছেন সিঙ্গাপুরকে। যদিও অভিযোগ আছে, অর্থ পাচারের নতুন উপায় হিসেবে বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করছেন ব্যবসায়ীরা। এর মাধ্যমে আমদানি-রফতানিতে মূল্য বেশি ও কমের মাধ্যমে অর্থ পাচার করছেন। সুইজারল্যান্ডের আইন শক্ত হওয়ায় সেখানে টাকা রাখতে গেলে প্রশ্ন করা হয়। এ কারণে দেশটিতে টাকা পাচারে ধীরগতি আসছে। তবে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের ভূমিকায় সিঙ্গাপুরকে দেখা যাচ্ছে। সেখানে টাকা রাখতে গেলে প্রশ্ন করা হয় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে ঢুকছে। এসব দেশে বুথ খুলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের গন্তব্য আগে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপ-আমেরিকার দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দিক পরিবর্তিত হয়েছে। এখন দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থেরও বড় অংশ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরেও রয়েছে বিষয়টি।

শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়েছে : ক্যাব

গত বছরে শহরে জীবনযাত্রার ৬ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবার মূল্য ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। শনিবার রাজধানী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বাদ দিয়ে জীবনযাপনের ব্যয় সংক্রান্ত এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবাখাতের তথ্য পর্যালোচনা করে ক্যাব এই হিসাব করেছে। ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। পণ্যমূল্য ও সেবা সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। পূর্ববর্তী ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পণ্যমূল্য ও সেবাসার্ভিসের মূল্য বেড়েছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে গত বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। ২০১৮ সা‌লে আগের বছরের তুলনায় সব ধরনের চালের গড় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। ত‌বে গতবছর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে প্রসাধনী পণ্য সাবা‌নের। পণ্যটির দাম গ‌ড়ে বে‌ড়ে‌ছে ২০ শতাংশ। অন্যান্য প‌ণ্যের ম‌ধ্যে মা‌ছের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, শাকসবজির দাম গড়ে বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া তরল দুধে দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাংসে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ডিমে বে‌ড়ে‌ছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, চা-পাতায় বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দুইকক্ষ বি‌শিষ্ট বা‌ড়ি ভাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বে‌ড়ে‌ছে। এ ছাড়া শাড়ি কাপড়, না‌রি‌কেল তেল, ওয়াসার পা‌নি প্রভৃতি জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে গত বছর ২০১৭ সালের তুলনায় ডাল, লবণ, মসলা ও চিনির দাম কমেছে।

স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি ‘হাইব্রিড রেজিম’ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে 'গণতান্ত্রিক' কিংবা 'ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক' দেশের তালিকায়ও বাংলাদেশের নাম নেই।

গত বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইআইইউ। খবর বিবিসির। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশক ধরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি 'হাইব্রিড রেজিম' তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর ২০১৮ সালে হয়েছে ৮৮তম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ইআইইউ প্রতিটি দেশকে গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করে। সেগুলো হলো - নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। প্রত্যেকটি মানদণ্ডকে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে হিসেব করে গড় করা হয়। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি ক্যাটেগরিকে ভাগ করা হয় - স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ গণতন্ত্র। এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে "পূর্ণ গণতান্ত্রিক" অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়। ১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে। http://country.eiu.com/bangladesh

ঢাকার বাতাসের মান আরো খারাপ হয়েছে

ঢাকার বাতাসের মান আরো খারাপ হয়েছে

তাওছিয়া তাজমিম

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ছয়টি বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুসের কার্যকারিতা শতভাগ নেই। কারো ফুসফুসের কার্যকারিতা ৬৫, কারো ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এ শহরের শিশুরা তাদের ফুসফুসের পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে। মূলত বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা ফুসফুসের কার্যকারিতা হারাচ্ছে

ইকবাল হাবিব | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাপা

কয়েক বছর ধরেই ঢাকার বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার উপরে রয়েছে। ক্ষতিকর বস্তুকণার এ উপস্থিতি না কমে উল্টো বাড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকার বাতাসে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ ও পিএম ১০-এর মাত্রা গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতিও। বায়ুর মান পরীক্ষায় নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (সিএএসই) প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশালের আটটি শহরে ১১টি কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন (সিএএমএস) স্থাপন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিনটি রয়েছে ঢাকায়। স্টেশনগুলো থেকে পাঠানো তথ্য সংরক্ষিত হয় রাজধানীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে। তার ভিত্তিতে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অধিদপ্তর। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের শেষ কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দূষণের মাত্রা বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাতাসে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ২.৫। ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র এসব বস্তুকণার সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। যদিও ঢাকার বাতাসে পাওয়া গেছে এর চেয়ে বেশি মাত্রায়। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে বছরের শেষদিকে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। দূষণের মাত্রা জানতে তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের গত দুই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকার সংসদ ভবন, ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১৭, ১১০ ও ১১৩ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের অক্টোবরে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা রেকর্ড করা হয় প্রতি ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ১৫১ দশমিক ৮১ ও ১১৭ দশমিক ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। গড় হিসাবে যার পরিমাণ যথাক্রমে ৭৫ দশমিক ৩৮ ও ৮৪ দশমিক ২৭ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সংসদ ভবন, ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৮, ২১১ ও ২৬৬ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের একই সময়ে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার বাতাসে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ বস্তুকণার সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া যায় প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২০৪ ও ২২৬ মাইক্রোগ্রাম। তথ্য না থাকায় মাসটিতে সংসদ ভবন এলাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রা জানা যায়নি। তবে এ দুই এলাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণার যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা সহনীয় মাত্রার চেয়ে তো বটেই, ২০১৭ সালের চেয়েও অনেক বেশি। বাতাসে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত অতিসূক্ষ্ম এ বস্তুকণা স্বল্প মেয়াদে মাথাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ব্যাধির জন্য দায়ী বলে জানান চিকিৎসকরা। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্যান্সার, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তারা। প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি শ্বাসতন্ত্রের রোগ হয়। হাঁপানি রোগী হলে তাদের হাঁপানি বেড়ে যায়। আবার অনেকে নতুন করে হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জি, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মার মতো রোগগুলো বায়ুদূষণের কারণে বেড়ে যায়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায় নবজাতক ও শিশুদেরও। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বায়ুদূষণ। বাতাসে ১০ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের বস্তুকণাকে বলা হয় পিএম ১০। পিএম ২.৫-এর মতো ঢাকার বাতাসে পিএম ১০-এর মাত্রাও আগের চেয়ে বেড়েছে। জাতীয়ভাবে বাতাসে পিএম ১০-এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা ধরা হয় প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকার ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় এসব বস্তুকণার সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ১৯০ ও ২১০ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে ২০১৮ সালের অক্টোবরে উভয় এলাকায়ই বাতাসে পিএম ১০-এর উপস্থিতি বেড়েছে। এ সময় ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় পিপিএমের সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২৫৫ দশমিক ৯০ ও ২৩৪ দশমিক ৫২ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৭ সালের অক্টোবরে সংসদ ভবন এলাকায় পিএম ১০-এর উপস্থিতিসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গত বছরের একই সময় এখানে এর সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে প্রতি ঘনমিটারে ১১৮ দশমিক ৮০ মাইক্রোগ্রাম। এ দুই বছরের নভেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় পিএম ১০-এর সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২৮৬ ও ৪৩৯ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৩১৭ ও ৫১৩ মাইক্রোগ্রাম। এক্ষেত্রে সংসদ ভবন এলাকায় ২০১৭ সালের তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৮ সালের নভেম্বরে সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ১০-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে ১৭৬ মাইক্রোগ্রাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের জন্য মূলত দায়ী ইটভাটা ও নির্মাণকাজ। ঢাকা মহানগরীর আশপাশে অনেক এলাকায় ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার কারণে বাতাসে সূক্ষ্ম নানা ধরনের ধূলিকণা মিশে যায়। নির্মাণকাজের সময় নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দু’পাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা সর্বোপরি যানবাহনের কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে তোলে। ফলে বাড়ছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা। এ দূষণে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় পড়ছে শিশুরা। ঢাকা শহরের ছয়টি বিদ্যালয়ের শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা নিয়ে ২০১৬ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব। ফলাফলে দেখা যায়, বিদ্যালয়গুলোর ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুস পূর্ণমাত্রায় কাজ করছে না। তাদের ফুসফুস ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ করছে। গবেষক দলের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাবিব। জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ছয়টি বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ভয়ংকর বিষয় হলো, ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুসের কার্যকারিতা শতভাগ নেই। কারো ফুসফুসের কার্যকারিতা ৬৫, কারো ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এ শহরের শিশুরা তাদের ফুসফুসের পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে। মূলত বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা ফুসফুসের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেস্ক (একিউআই) ৩৬২, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। একিউআই ০-৫০ হলে তাকে ভালো ধরা হয়। ৫১-১০০ সহনীয়, ১০১-১৫০ সতর্কতামূলক, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-৫০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। গত বছর নির্মাণকাজ বেশি হওয়ায় এর আগের বছরের তুলনায় ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়েছে বলে ধারণা করছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ইটভাটা ও নির্মাণকাজের কারণে মূলত ধূলিকণা বেশি বাতাসে ছড়ায়। সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির বিকল্প হিসেবে অপোড়ানো পদ্ধতি ব্লকের দিকে যাওয়া। ইট প্রস্তুত আইন ২০১৩ গত নভেম্বরে সংশোধন করা হয়েছে। ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক পদ্ধতিকে যাতে প্রমোট করা হয়, আইনের বিভিন্ন ধারায় তা সংযোজন করা হয়েছে। বড় চিন্তার জায়গা হলো নির্মাণকাজ। যে যেভাবে পারছে নির্মাণকাজ করছে। এজন্য একটা নীতিমালা তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নির্মাণকাজ কীভাবে চলবে, সেজন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। নীতিমালা যাতে সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কাযনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সেই সঙ্গে আগের ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও আছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলা ডটনেটের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এবং দেশ টেলিভিশনের সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক আছেন কাযনির্বাহী কমিটিতে। সংবাদ প্রকাশনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের মাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতাদের নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেদিন বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশনা শিল্পে যারা সম্পাদকীয় নেতৃত্ব দেন তাদের সংগঠন এটি। কাজেই এ সংগঠনের মূল কাজ হবে একটা কোড অব এথিকস অর্থাৎ নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা, যেটি এখন একেবারেই অনুপস্থিত। সেই ‘কোড অব এথিকস’ ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র তৈরি; নতুন সদস্য নেওয়া এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য শুক্রবারের সভায় তিনটি কমিটি করেছে এডিটরস গিল্ড। স্বদেশ রায়ের নেতৃত্বে মেম্বারশিপ কমিটিতে রয়েছেন সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা। মোজাম্মেল বাবুর নেতত্বে অপারেশন্স কমিটিতে আছেন মঞ্জুরুল ইসলাম, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন এবং দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি। আর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে এথিকস কমিটিতে রয়েছেন আবেদ খান ও স্বদেশ রায়। এই কমিটি গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া তৈরি করবে। তিনটি কমিটি করার পাশাপাশি এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের লোগো এই সভায় অনুমোদন করা হয়। এই লোগোর প্রতীকী উপস্থাপনায় সংবাদের ‘যথার্থতায়’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশক ও পরিবেশক হিসেবে যে তথ্য আমরা পাঠককে দিচ্ছি, তার যথার্থতার ওপরই আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে।’ আর বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট ‘সবসময়ই ছিল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবেদ খান সভায় বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে এথিকসটাকে মূল্য দিতে পারছি না। এখানে সাংবাদিকরা কর্মচারী হয়ে গেছেন, সম্পাদকরা সিইও হয়ে গেছেন। অর্থাৎ এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন বলতে যা বোঝায় সেটা শেষ হয়ে গেছে। এই ইনস্টিটিউশনটা যদি আমরা না বাঁচাতে পারি, তাহলে কিন্তু হবে না। আমরা দেখেছি যে, আস্তে আস্তে এটা করপোরেটদের হাতের মুঠোর মধ্যে চলে যাচ্ছে।’ এই গিল্ড শক্তিশালী হয়ে সম্পাদকদের নৈতিক অবস্থানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ বলছে, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন তারা। প্রতিটি কমিটির সঙ্গে নির্বাহী সচিব হিসেবে কাজ করবেন সাংবাদিক রিয়াজুল বাশার।

নির্বাচনে কালো টাকা ধরতে মাঠে দুদক

নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কমিশনটির ইন্টেলিজেন্সি টিম বিশেষ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য দেন। এসময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কোনো মানুষই চায় না বা আপনারা, আমরা কেউই চাই না যে নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহার হোক। এজন্য আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে একটা গাইডলাইন দিয়েছি। তবে এখন এটি আমি প্রকাশ করতে চাই না। সেক্ষেত্রে ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বলছি- কে কতগুলো গরু জবাই করলেন, কীভাবে ইলেকশনের প্রচারণা শুরু হলো, কতগুলো গরু, কতগুলো খাসি জবাই করলেন, কতগুলো লাল পোস্টার বানালেন; যেটা আইনসিদ্ধ নয়। সেগুলো আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কালেক্ট করে একটি তালিকা তৈরি করবে। পরে আমরা ওই রিপোর্ট নিয়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবো। এ বিষয়টি নিশ্চিত করবো। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট এবং প্লটেও কালো টাকা চলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি দুদক অবহিত। দুদক সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে দুদক প্রত্যাশা করে। তবে কালো টাকা যদি বিনিয়োগ হতো, তাহলে দেশের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারতো। নির্বাচনে হলফনামা নিয়ে দুদকের ব্যবস্থা বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সবকিছু সত্যই বলতে হবে। সত্য সত্যই। পৃথিবীর সব দেশেই জনগণের প্রত্যাশা থাকে নেতার চরিত্র পবিত্র হতে হবে। আমাদের দেশেরও নেতার নেতৃত্বে অবশ্যই সততা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এ জন্য নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম যারা হলফনামায় তথ্য দেবেন, তা যেনো সঠিক হয়। হলফনামা পাবলিক ডকুমেন্ট। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট প্রতিটি হলফনামা ডাউনলোড করছে। তবে কি করবো ভবিষ্যৎ বলবে। আমরা বই আকারে সংরক্ষণ করছি। সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধানশাসিত সংস্থায় জমা দেওয়া প্রার্থীদের স্টেটমেন্টও সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিলিয়ে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাথায় পচন ধরলে শরীর বাঁচানো কঠিন বা সে চেষ্টা বৃথা। তাই রাজনৈতিক স্পষ্টতা, জবাবদিহিতা, কমিটমেন্ট, দূরদর্শিতা ও সততা না থাকলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা কঠিন। ঋণ খেলাপির প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়টি আমাদের না, ব্যাংকের। তবে যদি কেউ জাল-জালিয়াতি করে ঋণ নেন, তাহলে বিষয়টি দুদকের। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই একটি অডিট রিপোর্ট দিতে হবে। অনেকেই আছেন, তাদের কোম্পানিও আছে। যারা এনবিআরকে এক রকম ও ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম অডিট রিপোর্ট দেয়। আমরা এইসব জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা দুর্নীতি নয়। এমনকি টিআইবিও যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা-ও দুর্নীতি নয়। আপনার বিবেক যাতে সাড়া দেয় না, বিবেকের বিরুদ্ধে যা করেন, তা-ই দুর্নীতি। এর আগে লিখিত বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান জানান, কমিশন বিগত ১২ বছরে (২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৮৯টি মামলা দায়ের করেছে। একই সময়ে পাঁচ হাজার ৫২০টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে (বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো আমলের মামলাসহ)। বিগত ১০ বছরে (২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক হাজার ৩২১টি মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে (বিলুপ্ত দুর্নীতি দমনব্যুরো আমলের মামলাসহ)। কমিশনের মামলা সাজার হার ২০১৭ সালে ছিল ৬৮ ভাগ। এ সাজার হার ক্রমাগত বাড়ছে। কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি মামলা মনিটরিং করছে। মামলার বাদী, সাক্ষী এবং প্রসিকিউটরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া কমিশনের অনুসন্ধান/তদন্ত এবং প্রসিকিউসন কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের প্রত্যাশা শতভাগ মামলায় সাজা দেওয়া। এক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতার ঘাটতিকে আমরা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণের পাশাপাশি একটি কারণ হিসেবে মনে করি। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করি না। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে মানুষ প্রতিনিয়তই অভিযোগ জানাচ্ছে। শুধু গত বছরই কমিশন প্রায় ১৮ হাজার লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। এ বছরেও নভেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ২২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ জানাতে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ২২০টি ফোন কল এসেছে। এতে আমাদের মনে হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। মানুষ দুর্নীতি পরায়ণদের মন থেকে ঘৃণা করে। দুর্নীতি এমন অপরাধ যা খুব বেশিদিন লুকিয়েও রাখা যায় না। এ অপরাধ তামাদি হয় না। এটি প্রকাশ হবেই। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে অংশ নেন মাহফুজ আনাম, খায়রুল বাশার মুকুল, এমদাদুল হক মিলন, খ ম হারুন, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আবদুল কাউয়ুম, মোজাম্মেল বাবু, জ ই মামুন, মুস্তাফিজ শফি, শামীমুল হক, রাহুল রাহা, আশিষ সৈকত ও মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।

‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ – দোষী সাব্যস্ত...

ম্যানহাটনে বোমা হামলা

ছয় অভিযোগের সবক’টিতেই দোষী সাব্যস্ত আকায়েদ

নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টাকারী বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহ মার্কিন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতের গ্র্যান্ড জুরি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের জন্য আকায়েদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। খবর এএফপি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর টাইম স্কয়ারের নিকটবর্তী পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের নিচের একটি টানেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টা চালান আকায়েদ। কিন্তু তার শরীরে বাঁধা পাইপ বোমাটি ঠিকমতো বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত অবস্থাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আকায়েদ স্বীকার করেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এ হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। তবে মামলার শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আকায়েদ কখনই আইএস সদস্য ছিল না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার জন্যই তিনি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। অন্যদিকে কৌঁসুলিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আদালতে বলেন, আকায়েদ তার শরীরে এমনভাবে বোমা বেঁধেছিলেন, যেন অন্যদেরও ক্ষতি হয়। আর তিনি যে ইন্টারনেটে আইএসের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখতেন, তার কম্পিউটারেই সে বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেন। বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতির চেষ্টাসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার ছয় অভিযোগেই আকায়েদকে দোষী সাব্যস্ত করেন গ্র্যান্ড জুরি। ২৮ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে বাস টার্মিনালের নিচের টানেল ধরে হেঁটে যেতে ও নিজের শরীরে বাঁধা বোমাটি বিস্ফোরণের চেষ্টা চালাতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ঘটনার দিন সকালে আকায়েদ তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্প, আপনি আপনার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ এছাড়া তার বাড়িতে ধাতব পাইপ, তার ও স্ক্রুর পাশাপাশি হাতে লেখা একটি চিরকুটও পাওয়া যায়।

মিশেল ওবামার দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে আইভিএফ বা টেস্ট টিউব...

Michelle Obama reveals daughters were conceived by IVF

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার আত্মজীবনীমূলক বই ‘বিকামিং’প্রকাশ পেলো। মিশেল ওবামার দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বা টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে। Former First Lady Michelle Obama has released a memoir in which she reveals difficulties about her marriage and pregnancy with her two daughters. https://twitter.com/twitter/statuses/1060875880363307009 এটি মিশেলের দ্বিতীয় বই। এর আগে ২০১২ সালে তাঁর প্রথম বই ‘আমেরিকান গ্রোন’ প্রকাশিত হয়। এতে হোয়াইট হাউসে তাঁর করা সবজির বাগান সম্পর্ক লিখেছেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে উৎসাহ জোগাতে প্রচার চালান। প্রকাশনী সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বইটি বিভিন্ন দেশে প্রচারে অংশ নেবেন। বইটি ২৪টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মাধ্যমে পাঠককে তাঁর ভুবনে স্বাগত জানানো হয়েছে। জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, যা তাঁকে পূর্ণতা দিয়েছে, এর বিবরণ আছে বইয়ে। শৈশব থেকে শিকাগোর সাউথ সাইডে তাঁর কর্মজীবন, মাতৃত্ব ও পেশার মধ্যে ভারসাম্য রাখা, বিশ্বের বিখ্যাত সব স্থানে তাঁর সময় কাটানোর বিষয়গুলো বইয়ে উঠে এসেছে। বইটি প্রকাশের সময় বারাক ওবামা বইটির ১০ লাখ কপি ওবামার পরিবারের নামে তৈরি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে দান করার পরিকল্পনা করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিশুদের জন্য শিক্ষায় সমসুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন বই, শিক্ষা উপকরণ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সরবরাহ করে থাকে। একই প্রকাশনা থেকে বারাক ওবামাও একটি আত্মজীবনীমূলক বই লিখছেন। এ বছরেই বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা।

২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ:সিইসি – সরকারের ইচ্ছায় আরেকটি একতরফা নির্বাচনী...

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তফসিল করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সেখানে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেন। আগামী ২৮ জানুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে উল্লেখ করে নূরুল হুদা বলেন, এরই মধ্যে ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। চূড়ান্ত হয়েছে ভোটার তালিকা। ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের যাচাইবাছাই শেষ হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এবারের নির্বাচনে সাত লাখ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোলিং এজেন্টদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছা্ড়া প্রায় শেষের পথে নির্বাচন সামগ্রী কেনাকাটা ও মূদ্রণের কাজ।

ফখরুল : সরকারের ইচ্ছায় আরেকটি একতরফা নির্বাচনী তফসিল

তফসিল ঘোষণা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের আশা ও প্রত্যাশার বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচন তারা গ্রহণ করবেন না। সরকারের ইচ্ছায় আরেকটা একতরফা নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে তা আগেই নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তফসিল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানান। তফসিল ঘোষণা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের আশা ও প্রত্যাশার বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচন তারা গ্রহণ করবেন না। বিএনপি নেতা বলেন, ‘একতরফা নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।’

নির্বাচনে মাঠে থাকবে ৬ লাখ আইন-শৃঙ্খলারক্ষী সদস্য

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকবে ৬ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলরক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তফসিল করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সেখানে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও সিইসির ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নির্বাচনে এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার বিধানের অধীনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের কথা উল্লেখ করেছেন সিইসি। তিনি জানান, নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৬ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে—পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

বাংলার বিজয় বহর আগামী ১৬ই ডিসেম্বর লস এঞ্জেলেসে

এ বছর নতুন আঙ্গিকে আয়োজিত হবে বাংলার বিজয় বহর।

চ্যারিটেবল কার্যক্রমের সূচনা।

লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোর মত এ বছরও আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলার বিজয় বহর। আগামী ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসকে প্রতিবারের মত এবছরও অত্যন্ত বর্নাঢ্যভাবে উদযাপনের জন্যে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে দুই পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুপুরে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর হবে বর্নাঢ্য মটর শোভাযাত্রা। বর্নীল সাজে সজ্জিত হয়ে দেশাত্মবোধক গানের সাথে শতাধিক গাড়ির বহর প্রদক্ষিণ করবে লিটল বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যায়। ঢাকা থেকে খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পীদের সাথে স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীদের নানারকম পরিবেশনায় সাজানো হয়েছে এই পর্ব। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণেও থাকছে একটা পর্ব। এছাড়া এবছর মেধাবী ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক সহযোগিতার ব্যাবস্থা থাকছে। যা নগদ অর্থমূল্যে প্রদান করা হবে। থাকছে জেসমিন খান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত কিছু পুরস্কারও। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিনটি লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বর্নাঢ্য উদযাপনের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বাংলার বিজয় বহর যাত্রা শুরু করে। এবছর এ আয়োজনের ৯ তম বছর। এবছর বিজয়বহরের কমিটিতেও কিছু রদবদল এসেছে।

কনভেনর করা হয়েছে মিকাইল খানকে।

বিশেষ করে চেয়ারম্যান হিসাবে মুজিব সিদ্দিকী অবসর গ্রহণ করে বোর্ড অব ট্রাষ্টির প্রধান হয়েছে আর চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে মেজর (অবঃ) সাইফ কুতুবিকে। পর পর দুইবার কনভেনর হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর আবু হানিফাকে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডাঃ সিরাজুল্লাহকে চ্যান্সেলর ও সামসুদ্দিন মানিক প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বপদেই বহাল আছে। তারিক বাবু, শফি আহমেদ ও মাসুদ হাসান কো চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ইসমাইল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। এছাড়াও মোহাম্মদ খলিলুর রাহমান রাজুকে যুগ্ম সম্পাদক, শহীদ আলম মিঠুকে সাংস্কৃতিক সম্পাদক, কাজি নাজির হোসেনকে মিউজিক ডিরেক্টর, হাসিনা বানুকে প্রজন্ম সংগঠক, ফারহানা সাঈদ শিল্প ও সাহিত্য সম্পাদক, মেহেদি হাসান, এলেন ইলিয়াস, অলি রাহাত ও মায়মুনা চৌধুরীকেও রাখা হয়েছে ২৯ সদস্যের কমিটিতে। লস এঞ্জেলেসের বিশিষ্ট অনুষ্ঠান সংগঠক, সঞ্চালক ও পরিচালক মিথুন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে থাকছে অনেক নতুনত্ব। গত ৪ নভেম্বর বাংলার বিজয় বহরের প্রথম আনুষ্ঠানিক মিটিং এর মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় এবছর থেকে বিজয় বহরের সমগ্র বাজেটের শতকরা দুইভাগ আলাদা করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কল্যাণমূলক কাজে ব্যায় করা হবে। এই বছরের বাংলার বিজয় বহর কমিটিতে অনেক নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। তবে বিজয় বহরের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন লোকজনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিওটির চেয়ারম্যান মুজিব সিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কমিটির নতুন সদস্যদের অর্ন্তভুক্তির ব্যাপারে বিশেষ নজর দিবেন বলে জানিয়েছেন।

লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিতঃ

সৈয়দ আশরাফের জন্য দোয়া

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার ঘনিষ্ঠ চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণীয়া, ক্যালিফোর্ণীয়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘জেল হত্যা দিবস’-এ লস এঞ্জেলেসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রবিবার ৪ঠা নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লস এঞ্জেলেসের হলিউডে স্থানীয় এক অডিটোরিয়ামে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নীয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা। যুগ্ন সঞ্চালনায় ছিলেন জামিউল ইসলাম বেলাল। বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে জেল হত্যা দিবস পরিচিত। যে কয়টি ঘটনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বরের এই দিনটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতিকে পুরোপুরি নেতৃত্বশূন্য করতে ৪৩ বছর আগে মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরীণ থাকা জাতির চার মহান সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইস এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিন বলেন, ৭১, ৭৫ ও ২১ আগস্টের খুনি চক্ররা সবাই এক। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা। তাদের মূল উদ্দেশ্য বাঙালি জাতিকে পিঁছিয়ে দেয়া, আবারো পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়া, এই খুনি চক্রটি ও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে নিজেদের মাঝে সকল দ্বন্ধকে জলাঞ্জলী দিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। https://youtu.be/Fqq-W3rmLAM অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তব্য দেন ঢাকার আদাবর থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। সভায় বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন আহমেদ পান্না, ঢালী মোফাজ্জল হোসেন মফু, মিয়া আবদুর রব, তাপস কুমার নন্দী, শাহ আলম চৌধুরী, ফয়জু সোবহান, সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, মোঃ আলমগীর হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, আমির হোসেন সরকার, এলিজা হোসেন, হাবিবুর রহমান ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ। মৌলভী রাজ্জাক টি ওয়েসকোরনি দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন। এক মিনিট নীরবতার মাধ্যমে স্মরনসভা শুরু হয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ক্যালিফোর্ণীয়া ষ্টেট যুবলীগের প্রেসিডেন্ট তাপস কুমার নন্দী তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সকলকে প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান। চার নেতার মাঝে অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর তার সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনের পর এক দশক আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফ।
Jail Killing Day observed in Los Angeles 2018 Los Angeles observed Jail Killing Day on Sunday commemorating the... Posted by Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া on Sunday, November 4, 2018

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি

জাতীয় নির্বাচন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা

নাশকতাপ্রবণ ২৫ জেলায় বিশেষ নজর

সৈয়দ আতিক

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতাপ্রবণ ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব জেলায় গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন।

সামনের নির্বাচনে এ জেলাগুলোতে আবার নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই বিশেষ এই দৃষ্টি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরে অুনষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে যান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিরা। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিরাপত্তা কৌশলসংক্রান্ত বেশকিছু নির্দেশনা দেন। পুরনো মামলার পলাতক আসামি কিংবা জামিনে বের হওয়ার পর আত্মগোপনে আছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ সদর ৫ দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘœ হয়। অপরাধীদের ভেতরে ভয় প্রবেশ করে। এ ব্যাপারে পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়িয়ে যাতে কোনোপক্ষ সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে। ডিআইজি মর্যাদার এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সব এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হলেও পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব জেলায় নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটেছিল সেসব জেলায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের লোকজন বেশকিছু জেলায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ধরনের অন্তত ২৫টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলোতে আগে দায়ের করা নাশকতার মামলার আসামিদের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। তারা কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলো হল- দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মেহেরপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনী। জানা গেছে, এসব জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং প্রার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করতে পারে সে জন্যই অভিযান চলবে। এছাড়া দলীয় নেতাদের আধিপত্য বিস্তাররোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান জোরদার করা হবে। জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সবকিছু বিবেচনায় রেখে জাতীয় নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন হয় সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যেসব জেলায় বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন সেখানে সেরকমই নজর রয়েছে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুর্লিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এসব জেলায় যারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, আগের নির্বাচনের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ এলাকার পাশাপাশি নাশকতাপ্রবণ এলাকায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ তুলে ধরছেন, লিঙ্ক এবং পেপার কাটিং শেয়ারের মাধ্যমে।

ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, ডাক, তার ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও নিয়মিত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্কার্স পার্টি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, রাশেদ খান মেনন নামেই ফেসবুক পেজ রয়েছে মেননের। ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবিতে নিজের ছবি এবং কাভার পেজে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে পরাস্ত করুন, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আরও এগিয়ে যেতে এবং ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ১৪ দলের প্রার্থীদের জয়ী করুন—বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি’ শীর্ষক স্লোগান। এই পেজে তিনি মন্ত্রণালয় ও দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও ছবি শেয়ার দেন। বর্তমানে তার পেজের ফলোয়ার রয়েছে আড়াই লাখ। জানা গেছে, মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন তার ছেলে আনীক রাশেদ খান। তবে বাবার অনুমতি ও নির্দেশনায় তিনি পেজটিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এ ক্ষেত্রে ছেলের ওপর শতভাগ কনফিডেন্ট রয়েছে রাশেদ খান মেননের। মেননের ফেসবুক পেজ-জুড়ে রয়েছে— মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও সংবাদ।এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক মন্তব্যের জবাবও দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় পেজটি আমার ছেলে পরিচালনা করছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।’ তার ছেলে আনীকই এই পেজটি খোলার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিক সচেতনতামূলক বিশেষ করে মাদকবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য ও সংবাদ পোস্ট করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে খোলা এই পেজটি মন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। একইভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিজের ফেসবুক পেজে নিজের এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ পোস্ট করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও নিজের সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও সংবাদ পোস্ট করেন। বঙ্গবন্ধু ও নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুক্ত ছবি রয়েছে তার কাভার পেজে। সম্প্রতি তিনি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময়সূচি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তারানা হালিমও ফেসবুক প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুকে এই তিন প্রতিমন্ত্রী খুব বেশি সক্রিয়। শাহরিয়ার আলম ও জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেরাই ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি বলে জানা গেছে।

রেজিস্ট্রেশন বাতিল, রাজনৈতিক অধিকার হারাল জামাতে ইসলামি

রেজিস্ট্রেশন বাতিল, রাজনৈতিক অধিকার হারাল জামাতে ইসলামি

জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি জারি করল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি।
খবরটি জানার পরই আনন্দবাজারের তরফ থেকে ফোন করতেই ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠলেন অমর একুশের গান-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারির’ সুরকার মুক্তিযুদ্ধের শহিদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। একই ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা গাজি গোলাম দস্তগীর-বীর প্রতীক বললেন, “আজ প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার জন্য এক প্রশান্তি এনে দিয়েছে আমাদের নির্বাচন কমিশন।” বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এ এম আমিন উদ্দিনের মন্তব্য, “জামাতের এই রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ফলে রাজনৈতিক দল হিসাবে তাদের পরিসমাপ্তি ঘটল।” বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামাতে ইসলামিকে রেজিস্ট্রেশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ১৪। ২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা ৬৩০ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে আদালত জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০এইচ ধারা অনুযায়ী জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হল। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ। হেলালুদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনও কপি না থাকায় তারা এত দিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারছিলেন না, হাইকোর্টের রায়ের ওপর আপিল বিভাগের কোনও স্থগিতাদেশ না থাকায় রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.