ঋণখেলাপি ও ব্যাংকগুলোকেই ছাড়

বিদায়ী ২০১৯ সালে দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ঋণের সুদহার কমিয়ে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দিয়েও তার লাগাম টানতে না পারা, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ প্রদান, ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ছাড়, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন এবং খেলাপিদের ঋণ পুনঃ তফসিলকরণের সুযোগ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্বাভাবিক তৎপরতা দফায় দফায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে একদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া, অন্যদিকে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে উদ্বেগ বেড়েছে। এই খাতে কেমন গেল পুরো বছর—এমন প্রশ্ন করা হলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বেড়েছে। ঋণ পুনঃ তফসিলও বেশি হয়েছে। বলা যায়, বছরজুড়ে আর্থিক খাত দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল। এই অবস্থায় ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে দেওয়ায় প্রতিটি ব্যাংকের আয় ১৫০ কোটি টাকার মতো কমে যাবে। আশা করি, নতুন বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন আরও বাড়বে।’ খেলাপি ঋণ নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বছরের শুরুর দিকে ১০ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দেন, খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। কিন্তু এই বছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসে দেশে খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মতো এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ওই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। তা পরের তিন মাস অর্থাৎ এপ্রিল-জুনে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ জুলাই-সেপ্টেম্বরে আরও ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। ফলে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। খেলাপিদের যত সুবিধা বিদায়ী বছরে ঋণখেলাপিদের বড় সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপিদের বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে সুদহার ধরা হয় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর ঋণ পরিশোধে এক বছরের বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করা যাবে। আবার তাঁরা নতুন ঋণও নিতে পারবেন। এ সুবিধার আওতায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে। সুদহার নয়–ছয় ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত গ্রহণ এবং ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে দেড় বছর ধরে অনেক সুবিধা নেয়। যেমন সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমানো হয়। অথচ তাঁরা সুদহার কমাননি। অবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরের শেষ দিকে এসে উৎপাদন খাতে ৯ শতাংশ সুদ বেঁধে দেয়, যা নতুন বছরের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বেসরকারি ঋণে মন্দা ২০১৯ সালে প্রতি মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। গত নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে নেমেছে, যা এর আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ০৫ শতাংশে। প্রবৃদ্ধির এই হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিকে বাজেটে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। অথচ ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোয়া পাঁচ মাসেই ঋণ নিয়ে ফেলেছে ৪৭ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। আরও নতুন ব্যাংক দেশের অর্থনীতির তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি, এই আলোচনা দীর্ঘদিনের। এরপরও চলতি বছরে তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এগুলো হলো বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক। তবে কোনোটি এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আর চলতি বছরে কার্যক্রম শুরু করে পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক। পিপলস লিজিং অবসায়ন গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পারায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে চাপে পড়েছে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না তারা। © স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০২০

জীবন চালাতে হিমশিম পোশাকশ্রমিক

জীবন চালাতে হিমশিম পোশাকশ্রমিক জিন্নাতুন নূর লাগাতার আন্দোলনের মুখে গত বছর পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এই মজুরি বৃদ্ধির পরও শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি হয়নি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানো, দুই বেলা খাবার নিশ্চিত এবং ঘর ভাড়া দিতে গিয়ে একজন শ্রমিক প্রতিদিন দুই থেকে চার ঘণ্টা ওভারটাইম করেও জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারখানাগুলো এখন দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না করে উল্টো কম মজুরি দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। আর খরচ কমাতে সিনিয়র কর্মীদের ছাঁটাই করছে। নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে একজন শ্রমিক কাজে যোগদানের শুরুতে পাবেন ৮ হাজার ৩০০ টাকা (প্রায় ৯৭ ইউএস ডলার)। এর আগে শ্রমিকরা পেতেন ৫ হাজার ৩০০ টাকা। জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি বিশ্বে সবচেয়ে কম। যদিও পোশাকশ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালাগের (সিপিডি) এক গবেষণা বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের জীবন পরিচালনার খরচ শতকরা ৮৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু খাদ্যমূল্যই বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৫৭ ভাগ। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন পোশাকশ্রমিকের মধ্যে নয়জনই নিজের এবং তার পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার কিনে খেতে পারেন না। কিছু সময় তারা উপোস থাকেন এবং ঋণ করে সংসার চালান। শতকরা ৭২ শতাংশ শ্রমিক জানান, তারা নিজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না। প্রতি তিনজন শ্রমিকের একজন অপর্যাপ্ত আয়ের জন্য সন্তান থেকে আলাদা থাকেন। তানিয়া নামের এক পোশাকশ্রমিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, অল্প মজুরি পাওয়ার কারণে তাকে তার একমাত্র সন্তানকে গ্রামে মা-বাবার কাছে রেখে আসতে হয়েছে এবং বছরের মাত্র দুই ঈদে তানিয়া তার সন্তানকে দেখার সুযোগ পান। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ি ভাড়া, খাবার, পোশাক কেনা ও চিকিৎসা বাবদ পাঁচজনের একটি পরিবারের খরচ বর্তমান ন্যূনতম মজুরি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, মালিকরা তাদের মোট আয়ের মাত্র ১২ শতাংশ শ্রমিকদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করেন। ঢাকার রামপুরার পোশাকশ্রমিক নাদিরা বেগম (২৬) বস্তির ছোট একটি কক্ষে ৩ হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন। নাদিরার সঙ্গে থাকে তার চার বছরের সন্তান। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় নাদিরার সঙ্গে সব সময় থাকেন না। বাজারে পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মাসের খরচ চালাতে নাদিরাকে হিমশিম খেতে হয়। এজন্য প্রতি মাসের শেষে তাকে টাকা ধার করে চলতে হয়। সামজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একজন শ্রমিকের সুস্থতা, বিশ্রাম, খাবার, চিকিৎসা ব্যয় ইত্যাদি নির্ভর করে তার মজুরির ওপর। একজন শ্রমিকের কাছ থেকে তার মালিক যে পরিমাণ কাজ আদায় করে নিতে চান, এজন্য সেই শ্রমিকের পর্যাপ্ত খাবারসহ বিশ্রামের প্রয়োজন। আর এজন্য একজন শ্রমিকের মজুরি ১৮ হাজার টাকা প্রয়োজন। আগামী বছর বাড়ি ভাড়া ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। দ্র্ব্যমূল্যের বাজারও অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আর একজন শ্রমিক যদি ভালোভাবে খাবার ও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না পান তবে তিনি অসুস্থ হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুস সালাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা দেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরিকাঠামো চালু করেছি। গত পাঁচ মাসে পোশাক রপ্তানি খাতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরিকাঠামোয় বেতন দেওয়ার সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও আমরা চলতি বছর ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করেছি। ’ এর বাইরেও পোশাকশ্রমিকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। কেউ আবার মধ্যরাত পর্যন্ত (রাত ৩টা) কাজ শেষ করে পরদিন আবার সকাল সাড়ে ৭টায় কাজ শুরু করেন। শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার কথা। কিন্তু মালিকরা উৎপাদনের টার্গেট পূরণ করতে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা জোর করে কাজ করাতে বাধ্য করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শ্রমিকরা সকাল ৮টায় এসে কারখানা থেকে রাত ৮টা বা ১০টার পর বের হন। অর্থাৎ গড়ে শ্রমিকরা ১০ ঘণ্টার মতো সময় ব্যয় করেন। রোজিনা নামের মিরপুরের এক পোশাকশ্রমিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তার বেতন ৮ হাজার টাকা। কিন্তু বাড়তি রোজগারের জন্য তাকে ওভারটাইম করতে হয়। এজন্য তাকে প্রায়ই মাথাব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা ও পিঠব্যথায় ভুগতে হয়। এর বাইরে পোশাকশ্রমিকদের অধিকাংশেরই কোনো সঞ্চয় নেই। এ ছাড়া অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করার কারণে শ্রমিকদের প্রায়ই অগ্নিকান্ডের মতো বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। শ্রমিকরা জানান, পোশাক কারখানার যে ফ্লোরগুলোয় কাজ করেন তারা, সেখানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শ্রমিক কাজ করেন। আর তৈরি পোশাক থেকে সৃষ্ট ধুলাবালির কারণে তাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও তা অপর্যাপ্ত। এই ফ্লোরগুলোয় কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নেই। এতে গ্রীষ্মকালে অপর্যাপ্ত পাখার জন্য শ্রমিকরা অতিরিক্ত গরমে হাঁসফাঁস করেন। গরমে সহকর্মীদের ঘামের দুর্গন্ধে এবং একটি বড় কক্ষে একসঙ্গে কয়েক শ সেলাই মেশিনের উচ্চ শব্দের কারণে শ্রমিকরা প্রায়ই অসুস্থ বোধ করেন। এর বাইরে কক্ষগুলোর স্বল্প আলো, প্রতিদিন সুউচ্চ ভবনে পায়ে হেঁটে ওঠার কারণে শ্রমিকদের বেশ ভোগান্তি হয়।

৩০০ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ

দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংসদে প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন, এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তালিকা দেন। অর্থমন্ত্রী দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ জনের কাছে পাওনা ১ লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাত্ ২০১৮ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন এবং অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এদের মধ্যে শীর্ষ ৩০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি। খেলাপি রয়েছে ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণ ৫২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। শীর্ষ ১০ ঋণ খেলাপি শীর্ষ ১০ ঋণ খেলাপির মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার অয়েল (১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা), গাজীপুরের গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং (৯৮৪ কোটি), ঢাকা সাভারের রিমেক্স ফুটওয়্যার (৯৭৬ কোটি), ঢাকার কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম (৮২৮ কোটি), চট্টগ্রামের মাহিন এন্টারপ্রাইজ (৮২৫ কোটি), ঢাকার রূপালী কম্পোজিট (৭৯৮ কোটি), ঢাকার ক্রিসেন্ট লেদার ওয়্যার (৭৭৬ কোটি), চট্টগ্রামের এস এ অয়েল রিফাইনারি (৭০৭ কোটি), গাজীপুরের সুপ্রভ কম্পোজিট নিট (৬১০ কোটি), গ্রামীণ শক্তি (৬০১ কোটি)। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া ১৪ হাজার ৬১৭ জনের বড় একটি অংশ ঋণ খেলাপি, যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৮৩ কোটি টাকা। আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৯ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এসময়ে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন। সংসদ সদস্য লুত্ফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও জানতে চেয়েছিলেন। তবে অর্থমন্ত্রীর উত্তরে বলা হয়, ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের আগের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে লুত্ফুন নেসার প্রশ্নের জবাবে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি ও তাদের ঋণের পরিমাণ সংসদকে জানান মুস্তফা কামাল। এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। শীর্ষ অবশিষ্ট ২৯০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেড ৫৮২ কোটি টাকা, কম্পিউটাির সোর্স লিমিটেড ৫৭৫ কোটি টাকা, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড ৫৬৪ কোটি টাকা, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৬ কোটি টাকা, বেনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫২৩ কোটি টাকা, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৫২৩ কোটি টাকা, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৫১১ কোটি টাকা, রুবাইয়া ভেজিটেবল ওয়েলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫০১ কোটি টাকা, রাইজিং স্টিল লি. ৪৯৫ কোটি টাকা। সুপ্রভ রোটোর স্পিনিং লি. ৪৬৫ কোটি, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ৪৬৪ কোটি, চৌধুরী নিটওয়্যার লি. ৪৬২ কোটি, রানকা সোয়েল কম্পোজিট টেক্সটাইল লি. ৪৪৯ কোটি, লেক্সকো লি. ৪৩৯ কোটি, জাকুয়ার্ড নিটেক্স লি. ৪৩০ কোটি, ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস লি. ৩৭৩ কোটি, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৭২ কোটি, বাংলা লায়ন কমিউনিকেশন্স লি. ৩৭১ কোটি, বাংলাদেশ সুগাার এন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৫২ কোটি, হলমার্ক ফ্যাশন লি. ৩৪১ কোটি, পদ্মা পলি কটন নীট ফেব্রিক্স লি. ৩৩১ কোটি, গ্রান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লি. ৩২৪ কোটি, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স লি. ৩২২ কোটি, গ্রামবাংলা এনপিকে ফার্টিলাইজার এন্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৩১৮ কোটি, সাহারীজ কম্পোজিট টাওয়াল লি. ৩১৪ কোটি, ৭বি অ্যাসোসিয়েটস ৩০৯ কোটি, রুরালস সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন ৩০৬ কোটি, সুরুজ মিয়া জুট স্পিনিং লি. ৩০৪ কোটি, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড ২৯৬ কোটি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল ২৮৬ কোটি, রূপায়ন হাউজিং স্টেট লিমিটেড ২৮০ কোটি, এসকে স্টিল ২৭১ কোটি টাকা, মাবিয়া শিপ ব্রেকার্স ২৭১ কোটি, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড ২৬৭ কোটি, হেল্প লাইন রিসোর্স লি. ২৫৮ কোটি টাকা, দি ঢাকা ডাইং এন্ড মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ২৫৮ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ টাওয়াল লি. ২৪৪ কোটি, রানকা ডেনিম টেক্সটাইলস মিলস ২২২ কোটি, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ২১২ কোটি, এইচ স্টিল রি রোলিং মিলস ২০৯ কোটি এবং কে আর স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড রিসার্স সেন্টার ২০৪ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি। অর্থমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড ২০১ কোটি, চিটাগাং সিন্ডিকেট ১৯৮ কোটি, টি এন্ড ব্রাদার্স নীট কম্পোজিট লি. ১৯৭ কোটি, গ্লোব এডিবল ওয়েল লিমিটেড ১৯৭ কোটি, এমএইচ গোল্ডেন জুটস মিলস লি. ১৯৪ কোটি, নর্থস এগ্রো লিমিটেড ১৯৪ কোটি, সিম্যাট সিটি জেনারেল ট্রেডিং লি. ১৯৩ কোটি, ইব্রাহিম কনসোডিয়াম লি. ১৯২ কোটি, লামিসা স্পিনিং লি. ১৯১ কোটি, অ্যাপেল সিরামিকস প্রাইভেট লি. ১৮৯ কোটি, আর আই এন্টারপ্রাইজ ১৮৯ কোটি, এমকে শিপ বিল্ডার্স এন্ড স্টিলস লি. ১৮৫ কোটি, মাহমুদ ফেব্রিক্স এন্ড ফিনিশিং লি. ১৮৪ কোটি, কটন করপোরেশন ১৮৪ কোটি, এম বি এ গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল লি. ১৮৩ কোটি, সিক্স সিজনস অ্যাপার্টমেন্ট লি. ১৮৩ কোটি, ন্যাশনালস স্টিল ১৮৩ কোটি, ক্যাপিটাল বোর্ড লি. ১৮২ কোটি, ইউনাইটেড এয়ারওয়েস বিডি লি. ১৮০ কোটি, করলা কর্পোরেশন বিডি লি. ১৭৮ কোটি, এক্সপার টেক লি. ১৭৬ কোটি, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল ১৭৫ কোটি, সাফারি ট্রেডার্স ১৭৪ কোটি, আমাদের বাড়ি লি. ১৭৩ কোটি, ওয়ালম্যাট ফ্যাশন লিমিটেড ১৭০ কোটি, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লি. ১৬৮ কোটি, শব মেহের স্পিনিং মিলস লি. ১৬৮ কোটি, সুপ্রভ মেলেং স্পিনিং মিলস ১৬৭ কোটি, হিমালয়া পেপার্সি এন্ড বোর্ড মিলস ১৬৬ কোটি, লিবার্টি ফ্যাশনস ওয়্যার ১৬৪ কোটি, ক্রিসেন্ট ট্যানারিস লি. ১৬৩ কোটি, চৌধুরী টাওয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লি. ১৬৩ কোটি, চৌধুরী লেদার এন্ড কোম্পানি ১৬২ কোটি, ইসলাম ট্রেডিং কনসোডিয়াম লি. ১৫৬ কোটি, অ্যাপেক্স নীট কম্পোজিট লি. ১৫৬ কোটি, আব্দুল্লাহ স্পিনিং মিলস ১৫৫ কোটি, আনোয়ারা মান্নান টেক্সটাইল ১৫৩ কোটি, সাগির এন্ড ব্রাদার্স ১৫৩ কোটি, মাস্টার্ড ট্রেডিং ১৫২ কোটি, ইসলাম ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানী ১৫২ কোটি, হিন্দুল ওয়ালি টেক্সটাইল লি. ১৫২ কোটি, এরিয়ান কেমিক্যালস ১৫১ কোটি, ওয়ার্ন ডেনিম মিলস লি. ১৫১ কোটি, মুহিব স্পিনিং এন্ড শিপ রিসাইকেলিং ১৫০ কোটি, গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স লি. ১৫০ কোটি, এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশন ১৪৯ কোটি, জালাল এন্ড সন্স ১৪৯ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টস লি. ১৪৯ কোটি, সাইদ ফুড লি. ১৪৫ কোটি, এইচআরসি শিপিং লি. ১৪৪ কোটি, আলী পেপার্স মিলস লি. ১৪৩ কোটি, রহমান শিপ ব্রেকার্স লিমিটেড ১৪২ কোটি, ড্রেজ বাংলা (প্রা.) লিমিটেড ১৪২ কোটি, ফারইস্ট স্টোক এন্ড ব্রন্ডস লিমিটেড ১৩৯ কোটি, ফিবার সাইন লিমিটেড ১৩৮ কোটি, অর্নেট সার্ভিস লিমিটেড ১৩৭ কোটি, মুজিবুর রহমান খান ১৩৬ কোটি, জাহিদ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ১৩৪ কোটি, তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ ১৩৩ কোটি, এপেক্স ওয়েবিংস এন্ড ফিনিসিং লিমিটেড ১৩০ কোটি, মিশন ডেভেলপার লিমিটেড ১৩০ কোটি, তালুকদার ইউপিবিসি ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৩০ কোটি, এনোন নিট টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি, দি ওয়েল টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি, ডেলটা সিস্টেমস লিমিটেড ১২৮ কোটি, এফ আর জুট ট্রেডিং ১২৮ কোটি, গ্রেট নিট টেক্স লিমিটেড ১২৮ কোটি, জেওয়াইবি ট্রেড লিমিটেড ১২৮ কোটি, জারা নিট টেক্স লিমিটেড ১২৭ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, সামানাজ কন্ডেস মিল্ক ১২৭ কোটি, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ১২৬ কোটি, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১২৬ কোটি, স্ট্রিগার কম্পোজিট লিমিটেড ১২৫ কোটি, শফিকুল স্টীল ১২২ কোটি, স্টাইলো ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড ১২১ কোটি, রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেড ১২১ কোটি, ইমারালড অয়েল লিমিটেড ১২১ কোটি, লাকি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড ১২০ কোটি, মিম এন্টারপ্রাইজ ১২০ কোটি, আল আমীন বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১২০ কোটি, এফ কে নিট টেক্স লিমিটেড ১১৯ কোটি, ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড ১১৯ কোটি, অটোবি লিমিটেড ১১৮ কোটি, হিলফুল ফজল সমাজ কল্যাণ সংস্থা ১১৮ কোটি, এ কে জুট ট্রেডিং কোম্পানি ১১৭ কোটি, মনোয়ারা ট্রেডিং ১১৭ কোটি, চিটাগাং ইস্পাত ১১৭ কোটি, টেকনো ড্রেসিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ১১৬ কোটি, আলভি নিট টেক্স লিমিটেড ১১৬ কোটি, এফ আর জুট মিলস লিমিটেড ১১৪ কোটি, টেক্সটাইল ভীরটুসো ১১৪ কোটি, ম্যাক্স শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড ১১৪ কোটি, ওয়েস্টার্ণ হাউজিং লিমিটেড ১১৩ কোটি, এমবিইসি-পিবিএল-জেভি ১১৩ কোটি, সিমি নিট টেক্স লিমিটেড ১১৩ কোটি, এলাইন এপারেলস লিমিটেড ১১৩ কোটি, সাইনিং নিট টেক্স লিমিটেড ১১২ কোটি, প্রফিউশনস টেক্সটাইল লি. ১১২ কোটি, সাউথ ইস্টার্ণ ১১১ কোটি, মা টেক্স ১১১ কোটি, সিদ্দিক এন্ড কোম্পানি লি. ১১০ কোটি, কনফিডেন্স সুজ লি. ১০৮ কোটি, আহমেদ মুজতবা লি. ১০৮ কোটি, শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস ১০৮ কোটি, আব্দুর রাজ্জাক লি. ১০৭ কোটি, হাবিব স্টীলস লি. ১০৬ কোটি সর্দার অ্যাপারেলস লি. ১০৬ কোটি, ক্রিয়েটিভ ট্রেডস ১০৬ কোটি, ক্রিস্টাল স্টিল এন্ড শিপ ব্রেকিংস ১০৫ কোটি, সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ই্য়ার্ড ১০৫ কোটি, জেড এন্ড জে ইন্টারন্যাশনাল ১০৫ কোটি, কক্স ডেভেলপার্স লি. ১০৫ কোটি, এস শিপিং লাইনস ১০৪ কোটি, জবা টেক্সটাইলস লি. ১০৩ কোটি, সেন্টার ফর অ্যাসিটেড রিপ্রোডাকশন প্রাইভেট লি. ১০৩ কোটি, বৈতরণী ট্রেডার্স লি. ১০৩ কোটি, শীতল এন্টারপ্রাইজ ১০২ কোটি, প্রাইস ক্লাব জেনারেল ট্রেডিং লি. ১০২ কোটি, নিউ অটো ডিফাইন ১০২ কোটি, অনিকা এন্টারপ্রাইজ ১০১ কোটি, এআরএসএস এন্টারপ্রাইজ ১০১ কোটি, গোল্ডেন হরিজন লি. ১০০ কোটি, জয়পুরহাট সুগার মিলস ১০০ কোটি, ডুসাই হোটেল এন্ড রিসোর্টস লি ১০০ কোটি, মোবারক আলী স্পিনিং মিলস লি. ৯৯ কোটি, কেয়া কসমেটিকস লি. ৯৯ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিং ৯৯ কোটি, আর কে ফুডস লি. ৯৮ কোটি, ম্যামকো জুট মিল ৯৮ কোটি, আরডেন্ট সিস্টেমস ৯৮ কোটি, টেক্স নীট ইন্টারন্যাশনাল ৯৬ কোটি, বেঞ্চ ইন্ডাস্ট্রিজ বিডি লি. ৯৬ কোটি, ম্যাস শিপ রিসাইকেলিং ৯৬ কোটি, বাংলাদেশ ড্রেস লি. ৯৬ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লি. ৯৫ কোটি, জয়নব ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেড ৯৫ কোটি, ওয়েসিজ হাইটেক স্পোর্টস ওয়্যার ৯৪ কোটি, ক্রিউ অ্যান্ড কো বিডি. লি. ৯৪ কোটি, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৯৪ কোটি, এখলাস শিপিং মিলস লিমিটেড ৯৩ কোটি, ফাহামী নীট ওয়্যার লি. ৯২ কোটি, জে এন্ড জে ফেব্রিক্স টেক্সটাইল লি. ৯২ কোটি, আর বি এন্টারপ্রাইজ ৯২ কোটি, অনলাইন প্রপার্টিজ লি. ৯২ কোটি, ফাহমি ওয়াশিং প্লান্ট ৯০ কোটি, রামিসা ট্রেডিং ৮৯ কোটি, ল্যান্ডমার্ক ফেব্রিক্স লি. ৮৮ কোটি এবং এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা খেলাপি। এছাড়াও খেলাপির তালিকায় রয়েছে- এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি, সাফিন শিপিং লাইন লিমিটেড ৮৮ কোটি, সুপ্রিম জুট এন্ড নিটেক্স লিমিটেড ৮৮ কোটি, ফরচুন স্টিল ৮৭ কোটি, মোস্তফা ওয়েল প্রেডাক্টস লিমিটেড ৮৬ কোটি, এম এস হাবিবুল ইসলাম ৮৬ কোটি, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড ৮৬ কোটি, পদ্মা এগ্রো ট্রেডার্স ৮৬ কোটি, আমান ট্রেডিং করপোরেশন ৮৫ কোটি, পলিমার নিটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৮৫ কোটি, ইমারাল্ড অটো ব্রিকস লিমিটেড ৮৫ কোটি, মেজেস্টিক হোল্ডিং লিমিটেড ৮৫ কোটি, ওয়াফা এন্টারপ্রাইজ ৮৪ কোটি, দেশবন্ধু সুগার মিল লিমিটেড ৮৪ কোটি, মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ৮৩ কোটি, এস এ ট্রেডার্স ৮৩ কোটি, দ্য এরিস্টোক্রেট এগ্রো লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইউরোপা বেভারেজ এন্ড ফুডস লিমিটেড ৮৩ কোটি, ফ্যাশন ক্রাফট নিটওয়ার লিমিটেড ৮৩ কোটি, এটলাস গ্রিনপেক লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইমারাল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮৩ কোটি, শাহনেওয়াজ জুট মিলস প্রাইভেট লিমিটেড ৮২ কোটি, মার লিমিটেড ৮২ কোটি, ড্রেস মি ফ্যাশনস লিমিটেড ৮২ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স মেনুপেকচারিং প্ল্যান লিমিটেড ৮১ কোটি, শাহিল ফ্যাশনস লিমিটেড ৮১ কোটি, ফস্টার রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৮১ কোটি, ইমাম ট্রেডার্স ৮১ কোটি, স্মাহ লিমিটেড ৮০ কোটি, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার লিমিটেড ৮০ কোটি, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৮০ কোটি, এম নূর সুয়েটার্স লিমিটেড ৭৯ কোটি, খানসন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৯ কোটি, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ৭৯ কোটি, এন এইচ কে ফেব্রিক্স এন্ড টেক্সটাইল ৭৮ কোটি, গ্রান্ডেউর শিপিং লাইন্স লিমিটেড ৭৮ কোটি, এস রিসোর্সেস শিপিং লাইন লিমিটেড ৭৮ কোটি, নর্থপোল বিডি লিমিটেড ৭৮ কোটি, এডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড ৭৮ কোটি, ইউরেকা হোল্ডিংস পিটিই লিমিটেড ৭৮ কোটি, এসএফজি শিপিং লাইন লিমিটেড ৭৭ কোটি, সোলারেন ফাউন্ডেশন ৭৭ কোটি, এটলাস ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড ৭৭ কোটি, এমএএফ নিউজপ্রিন্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৭৭ কোটি, ফাস্ট ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৭৭ কোটি, ইনফরমেশন সলিউশনস লিমিটেড ৭৭ কোটি, বিশ্বাস টেক্সটাইল লিমিটেড ৭৬ কোটি, গ্লোব ইনসেক্টিড ৭৬ কোটি, এশিয়ান ফুড ট্রেডিং এন্ড কোং ৭৬ কোটি, সারিয়াজ ওয়েল রিফাইনার লিমিটেড ৭৬ কোটি, উয়াশান নিট বাংলাদেশ ৭৬ কোটি, ব্রদার্স এন্টারপ্রাইজ ৭৬ কোটি, নাবিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৬ কোটি, ঢাকা ডেনিম লিমিটেড ৭৫ কোটি, এম আর শিপিং লাইন ৭৫ কোটি, এমএমএসবি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৫ কোটি, বাইল্ডট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ৭৫ কোটি, কবির এন্টারপ্রাইজ ৭৫ কোটি, দেশ জুয়েলার্স ৭৪ কোটি, লোহজং ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৭৪ কোটি, বাধন ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৭৪ কোটি, ইনফ্রাস্টাকচার কন্সট্রাকশন কোম্পানি ৭৪ কোটি, প্রিটি সুয়েটার্স লিমিটেড ৭৪ কোটি, ওয়েলপেক পলিমারিস লিমিটেড ৭৪ কোটি, ঐশি ইন্টারন্যাশনাল ৭৪ কোটি, ফস্টার ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৭৪ কোটি, সুরমা স্টিল এন্ড স্টিল ট্রেডিং কোং ৭৪ কোটি, ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ৭৪ কোটি, নর্থ সাউথ শিপিং মিলস লিমিটেড ৭৩ কোটি, ইউসান নিট কম্পোজিট লিমিটেড ৭৩ কোটি, এহসান স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড ৭৩ কোটি, ঢাকা এলমোনিয়াম ওয়ার্কস লিমিটেড ৭৩ কোটি, শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ ৭৩ কোটি এবং এম কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৩ কোটি টাকা খেলাপি। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের দেওয়া তালিকায় ঋণ খেলাপির তালিকায় আরও আছে- হলমার্ক শিপিং মিলস লিমিটেড ৭২ কোটি, এজাক্স জুট মিলস লিমিটেড ৭২ কোটি, শাহেদ শিপ ব্রেকিং ৭২ কোটি, রুম্মান এন্ড ব্রাদার্স ৭২ কোটি, রোসেবুর্গ রাইস মিলস লিমিটেড ৭১ কোটি, এএসটি বেভারেজ লিমিটেড ৭১ কোটি, মিনটেক্স ফ্যাশন লিমিটেড ৭১ কোটি, রংপুর জুট মিলস ৭১ কোটি, রোসেবুর্গ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৭১ কোটি, সিপিএম কম্পোজিট নিট প্রাইভেট লিমিটেড ৭০ কোটি, হানজাল টেক্সটাইলস পার্ক লিমিটেড ৭০ কোটি, ইস্টার্ন কর্পোরেশন ৭০ কোটি, ফিনকোলি অ্যাপারেলস লিমিটেড ৭০ কোটি, জয়েন্ট ট্রেডার্স ৭০ কোটি, ন্যাশনাল আয়রণ অ্যান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৬৯ কোটি, ইকো ব্রিক্স লিমিটেড ৬৯ কোটি, তালুকদার প্লাস্টিক কোম্পানি লিমিটেড ৬৯ কোটি, বিএনএস ইন্টারন্যাশনাল কোং ৬৯ কোটি, এপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড ৬৯ কোটি, টেকো প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৬৯ কোটি, ওশিয়ান শিপিং মিলস লিমিটেড ৬৯ কোটি, ক্লাসিক সাপ্লাইজ লিমিটেড ৬৯ কোটি, সৈয়দ ট্রেডার্স ৬৯ কোটি, ওয়েস্টারিয়া টেক্সটাইলস লিমিটেড ৬৯ কোটি, নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ৬৮ কোটি এবং আলী এন্টারপ্রাইজ ৬৮ কোটি টাকা। ৭টি ব্যাংকের ১ হাজার ১৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা সুদ মওকুফ আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদকে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ সরকারি নির্দেশনার আলোকে তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে ঋণের সুদ মওকুফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ কর্তৃক ২০১৮ সালে অনুমোদিত মোট সুদ মওকুফের পরিমাণ ১ হাজার ১৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, বেসিক ব্যাংক ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ১৩৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, কৃষি ব্যাংক ৪৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ তাদের গ্রাহকের ৬ হাজার ১৬৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে মোট ১ হাজার ১৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করেছে।

উন্নয়নের জোয়ারঃ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩...

ব্যাংকিং খাত : তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে জানুয়ারি-মার্চ এ তিন মাসে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। প্রতি তিন মাস অন্তর দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ও খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। চলতি বছরের মার্চ শেষের খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন গতকাল চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। চলতি বছরের মার্চ শেষে বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন সময় অনিয়মের মাধ্যমে দেয়া ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। এছাড়া পুনর্গঠিত ঋণের একটি অংশও খেলাপি হয়ে পড়েছে। এতে ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকিং খাতে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। বরং তাদের রক্ষায় আরো নীতিসহায়তা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতির কারণে খেলাপি ঋণ না কমে বরং বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের। মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার ঋণ। এ হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও। চলতি বছরের মার্চ শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার ঋণ। এ হিসাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। তবে খেলাপি ঋণের হার কম আছে বিদেশী ব্যাংকগুলোর। দেশে পরিচালিত নয়টি বিদেশী মালিকানার ব্যাংকে চলতি বছরের মার্চ শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। খেলাপি ঋণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে পূর্বঘোষণাকে কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, খেলাপিদের জন্য সুবিধা আসছে চলতি বছরের শুরুর দিকে, এমন ঘোষণায় অনেক নিয়মিত গ্রাহকও ঋণ পরিশোধ থেকে বিরত ছিলেন। আর অনিয়মিতরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা টাকা পরিশোধ না করলে কোনো ক্ষতি নেই। সব মিলিয়ে অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণ। মার্চ ও জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যালান্সশিট ভালো দেখাতে ডিসেম্বর প্রান্তিকে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনে। কিন্তু মার্চ ও জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে যায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে কাজ করছে। এজন্য নানা উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

পোশাক খাত এ মুহূর্তে একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেঃ রুবানা হক

সাক্ষাৎকার :রুবানা হক

পোশাক খাতের ভালো গল্পগুলো বিশ্ববাসীকে শোনাতে চাই

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর নতুন সভাপতি হিসেবে আজ শনিবার দায়িত্ব নিচ্ছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.রুবানা হক। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের স্ত্রী। বিজিএমইএর ৩৬ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সভাপতি। পোশাক খাত নিয়ে তার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সম্প্রতি গুলশানে তার বাসায় সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন রুবানা হক। তিনি বলেছেন, পোশাক খাতের ভালো গল্পগুলো তিনি বিশ্ববাসীকে শোনাতে চান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আবু হেনা মুহিব। সমকাল :নির্বাচনী ইশতেহারে আপনি বলেছেন, পোশাক খাত এ মুহূর্তে একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভাবমূর্তি, পোশাকের দর, রফতানি বাজারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন- এই ক্রান্তিকাল কী। রুবানা হক :ক্রান্তিকাল এজন্য বলছি যে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো সমস্যায় আছে। শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছে না। তাদের কষ্ট হচ্ছে। বাজারের চেহারা বদলে গেছে। যারা পোশাক কেনেন, অর্থাৎ ভোক্তাদের রুচি বদলে গেছে। তারা এখন অনেক কম কিনছেন। কিন্তু দামি অর্থাৎ মানসম্পন্ন ভালো পোশাক তারা খোঁজেন। বাজারে দুই ধরনের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। একটি হলো, একেবারেই বেসিক অর্থাৎ কম দামের কাপড় এবং মূল্য সংযোজিত বা উচ্চমূল্যের পোশাক। এই মানের পোশাক আমাদের এখানে কম হয়। আমাদের ৩১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫ বিলিয়ন শুধু টি-শার্ট পণ্য। কাজেই মূল্য সংযোজিত পোশাকের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এখানে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আবার কিছু নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোই চ্যালেঞ্জ। আবার চ্যালেঞ্জ আছে যেখানে, সেখানে সুযোগও আছে। আমাদের সুযোগ হয়েছে, আমরা চেষ্টা করব। সমকাল :ভাবমূর্তি সংকটের বিষয়টি? রুবানা হক :ভাবমূর্তির ঘাটতি কাটাতে নিজেদের গল্পগুলো গুছিয়ে বলতে হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আমাদের বিরুদ্ধে যা তা লিখছে। গার্ডিয়ানও সেদিন এরকম একটা রিপোর্ট করেছে। খুবই ভালো একটি কমপ্লায়েন্ট কারখানা, অথচ এটার বিরুদ্ধে যা-তা লিখে দিল। ৪০ লাখ শ্রমিকের শিল্প। সেখানে তো কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকতেই পারে। আমরা যদি ভুল মেনে নিয়ে সেটা ঠিক করতে পারি, তাহলে সম্মিলিত আস্থার জায়গায় আসতে পারি। মিডিয়া, সুশীল সমাজ, মালিক-শ্রমিক এই জায়গাগুলোতে আস্থা অর্জন করা জরুরি। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমার একটাই পরিচয় নয়। আমি কেবল পোশাক কারখানা চালাই তা-ই নয়। আমি লিখি, আমার বিশ্বাসের জায়গা আছে। আমি আনিসের বিধবা স্ত্রী। আমি তার আদর্শ ধারণ করি। আমার পক্ষে কোনো বিচ্যুতিকে প্রশ্রয় দেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়। আমিই খুবই সরল মানুষ, কিন্তু বুঝি কীভাবে এগোতে হবে। আমার মনন আমাকে ধেয়ে বেড়ায়, আমার বিবেক আমাকে ধেয়ে বেড়ায়। আমার পক্ষে কখনও কোনো ফাঁকি হবে না। পোশাক খাতে কোনো সংকট হলে আমাদের ত্রুটি থাকলে আমি ভুল স্বীকার করে মিডিয়ার সহযোগিতা নিতে পারি। আমাদের পোশাক খাতে অনেক ভালো গল্প আছে। আমরা গল্পগুলো বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, শোনাতে চাই। দ্বিতীয়ত, আমাদের ২০ ভাগ মাত্র সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে কাজ করি, বাকি ৮০ শতাংশ বায়িং হাউসের মাধ্যমে হচ্ছে। এর কারণ, আমাদের দর কষাকষিতে দুর্বলতা আছে। দর কষাকষির জায়গায় আমরা দুর্বল থাকি। এজন্য ক্রেতারা আমাদের চেপে ধরে। সমকাল :বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষিতে এই দুর্বলতা কেন? রুবানা হক :আমাদের উদ্যোক্তাদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পাশের কারখানা হয়তো কেউ ১ ডলারে একটা কাজ করে। তার থেকে কমে আমি হয়তো হুট করে ৭৫ সেন্টে কাজ করলাম। এরকম যারা করে তারা মনে করে কারখানার চাকা চললেই হলো। এ শিল্পে ওভার ক্যাপাসিটির সমস্যা আছে। একেক জন ১০০-২০০ লাইনের কারখানা করে বসে আছি। সেরকম কাজ হয়তো সব সময় থাকে না। এখন চাকা সচল রাখতে গিয়ে অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এতে গোটা শিল্পকে মাশুল দিতে হচ্ছে। এ কারণে শ্রীলংকায় বেইজ সিলিং করে দেওয়া হয়েছে। আমরাও সেরকম চিন্তা করছি। কোনো কারখানা দর কষাকষির সহযোগিতা নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা দেব। সমকাল :দর কষাকষিতে দুর্বলতার ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় হচ্ছে ভাবমূর্তির দুর্বলতা। রুবানা হক :হ্যাঁ, এই সুযোগটাও নিয়ে থাকে ক্রেতারা। এ জন্য আমরা ভাবমূর্তিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ, ভাবমূর্তি ঠিক করা গেলে আমরা বলতে পারব, এত বেশি গ্রিন কারখানা কোনো দেশে নেই। আমাদের অনেক ভালো গল্প আছে। মিরপুরের একজন নারী শ্রমিকের আয়ের ওপর পরিবারের ৫ সদস্য নির্ভরশীল। আবার ধরেন, শেয়ারড বিল্ডিংয়ের কারখানাগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অথচ এসব কারখানাকে উদ্যোগ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে দিলে দর কষাকষিতে শক্তি বাড়বে। সমকাল :আমাদের মনোযোগ ছিল অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সকে তাড়ানোর দিকে। রুবানা হক :অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সকে তাড়ানোর পক্ষে আমিও। তারা আমাদের অনেক উপকার করেছে। তবে অ্যাকর্ড নানা ছুতা খুঁজছে। অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব অয়েজের ভিসা নেই হয়তো। কাজের অনুমতি হয়তো নেই। তাদের অনেক দুর্বলতা আছে। তারপরও তারা থাকছে ৮টি শর্তের ভিত্তিতে। এই শর্তগুলোর চারটা আমার লেখা। বাকি চারটা মহিউদ্দিন ভাইয়ের (বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি) লেখা। এই শর্ত থেকে আমরা সরব না। এই শর্ত খাড়া থাকলে অ্যাকর্ড কাজ চালিয়ে গেলেও কোনো সমস্যা তৈরি করার সুযোগ থাকবে না। অ্যাকর্ডের অফিসে বিজিএমইএর সেল থাকবে। এই সেল প্রতিদিনের কাজ তদারক করবে এবং আদায় করবে। দুই পক্ষের প্রকৌশলীরা যেকোনো বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। সমকাল :পোশাক খাত এগিয়ে নিতে আপনার পরিকল্পনা কী? রুবানা হক :আমাদের গল্পগুলো কখনই গুছিয়ে বলতে পারিনি। আমার পরিকল্পনা আছে, প্রতিটি কারখানার সাধারণ শ্রমিকের গল্পটা সুতায় বেঁধে দিতে পারি কি-না। ছোট একটা বারকোডে ৭ সেকেন্ডের একটা গল্প বলা। ক্রেতারা তা জানুক। এথিক্যাল বায়িং (ক্রয় বাণিজ্যে নৈতিকতা) নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, তারা জানুক যদি তারা বাংলাদেশের পোশাক না কেনে তাহলে এই শ্রমিকরা যাবে কোথায়। ক্রেতাদের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আমার স্বপ্ন আছে। আমার আরও কিছু পাগলা স্বপ্ন আছে। আমাকে এমনিতে সবাই শ্রমিকপাগল বলে। ২০ মিলিয়ন ডলারের ওপরে যাদের রফতানি তাদের কারখানায় স্কুল থাকতে হবে। আমি শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমি ৫৫ বছরে পিএইচডি করেছি। শ্রমিকরা কেন আরও বড় কাজ করার জন্য এগোতে পারবে না। আমাদের ১৫০ শ্রমিক এখন এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। তারা ইংরেজিতে কথা বলতে খুব সাবলীল। আমাকে ইংরেজিতে মেইল করে, কেন ল্যাপটপ দিচ্ছি না। অর্থাৎ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ আছে সামনে। এজন্য শ্রমিকদের তৈরি করতে তাদের পুনঃদক্ষতার সুযোগ দিতে হবে। যদি শ্রমিকদের দিয়ে না পারি, তাহলে তাদের সন্তানদের দিয়ে চেষ্টা করব। এ বিষয়ে সরকারের এটুআই প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা আছে আমার। সমকাল :তৈরি পোশাকের দুর্বলতার কারণে গোটা রফতানি খাতের মার্কিন জিএসপি স্থগিত করা হয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে কতটা পীড়া দেয়? রুবানা হক :ভীষণ পীড়া দেয়। তবে, এই স্থগিতাদেশ মূলত রাজনৈতিক কারণে। কলম্বিয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের দেশের সঙ্গে চুক্তি করে আমেরিকা। অথচ আমাদের জিএসপি স্থগিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরও শ্রম-সংক্রান্ত অনেক দুর্বলতা আছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই সেখানে। শ্রমিক ইউনিয়ন কয়টা আছে তাদের। সমকাল :শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে আপনার ভাবনা কী? রুবানা হক :হ্যাঁ, এটা সত্য। মিডলেভেল ম্যানেজমেন্টে আমাদের দুর্বলতা আছে। বিজিএমইএতে এ-সংক্রান্ত কী প্রকল্প আছে সেটা দেখতে হবে। শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য দাবি আদায়ে যা করতে হয় আমি তা করব। আমার কাছে দাবি করতে হবে না। আগেই বলেছি আমার কাছের লোকজন আমাকে শ্রমিকপাগল বলে। সুতরাং তাদের বিষয়ে আমার একটা মমত্ববোধ আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সুদে গৃহায়ন ঋণ থেকে শুধু আমি এবং মহিউদ্দিন ভাই ঋণ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ৫ বছর পরও কাজ না হলে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। আর একটা কথা বলি, শ্রমিকদের জন্য কোনটা কল্যাণ সেটা বুঝতে হবে। কোনো কিছু গড়তে অনেক সময় লাগে। ধ্বংস করতে লাগে আধা মিনিট। এটা বোঝা দরকার। সমকাল :স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালে পোশাক রফতানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি? রুবানা হক :রফতানিতো বাড়াতেই হবে। আগামী বছর ৪০ বিলিয়ন এবং পরের বছর ৫০ বিলিয়ন। এটা বাড়ানোর জন্য এক্সিট প্ল্যান করা হবে। যারা টিকতে পারছে না তাদের আইনসম্মতভাবে বিদায় নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যারা সহযোগিতা দিলে সক্ষমতা বাড়বে তাদের সহযোগিতা দেওয়া হবে। বড় কারখানাগুলোকে উচ্চ মূল্যের পোশাক উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে হবে। নতুন বাজার বিশেষ করে রাশিয়ায় যেখানে ৪৫ শতাংশ হ্রাস করা কিংবা এরকম অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করা, ইউরোপের যে সব দেশে বাজার বাড়েনি সেখানে বাড়ানো। এসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করতে হবে। সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আমি কাজ করতে চাই।

আগের মতো এখন আর বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ নিয়ে তেমন বাড়াবাড়ি...

বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশে বাজার সয়লাব

|শফিকুল ইসলাম| পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরফজাত ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানীর বাজারগুলো। তিন-চার বছর আগেও বৈশাখ এলে যে নাগরিক উন্মাদনা লক্ষ করা যেত, এখন আর তা দেখা যায় না। এ কারণে বৈশাখকে লক্ষ্য করে বাজারে প্রচুর ইলিশ এলেও অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় কম দামেই তা বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে রাজধানীর সুপারশপগুলোর কথা অবশ্য আলাদা। সুপারশপে বিত্তবান ক্রেতাদের জন্য বড় সাইজের ইলিশ বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে সব ইলিশই বরফজাত, যা জেলেরা ধরার পর এতদিন মজুত করে রেখেছিল।

নিম্ন আয়ের মানুষ ছোট ইলিশের ক্রেতা

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে ছোট সাইজের ইলিশ। বরফ দেওয়া এই ইলিশ (কেজিতে ৪-৫টি) বাজারভেদে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বরফে থাকা এই ইলিশের লেজ ভাঙা এবং চোখ লাল হয়ে দেবে গেছে। সাধারণত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এই ছোট সাইজের ইলিশের ক্রেতা। ডেমরা এলাকার কোনাপাড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগের মতো এখন আর বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ নিয়ে তেমন বাড়াবাড়ি নেই। আমরাও আর এ সময় বিক্রির জন্য ইলিশ আনি না। কারণ, এখন জাটকা সংরক্ষণে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। সে কারণে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝামেলা এড়াতে ইলিশ বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। তারপরও মাঝেমধ্যে মজুত করা বরফজাত ইলিশ বিক্রি করি। সাধারণত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষই এসব মাছের ক্রেতা। এই বাজারে কথা হয় ক্রেতা মমিনুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ এলেই ইলিশের কথা মনে পড়ে। বৈশাখের প্রথম দিন ছেলেমেয়েরা ইলিশ খেতে চায়। ওরা তো আর নিষেধাজ্ঞা বোঝে না, মানতেও চায় না। সেজন্য ইলিশ কিনতে এসেছি।’ তিনি বলেন, ‘বড় সাইজের তাজা মাছ তো আর খেতে পারবো না। তাই বরফ দেওয়া ছোট ইলিশ কিনে নিয়ে সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ইলিশের আড়ত এখন তরমুজের গুদাম

আগে পহেলা বৈশাখ এলে দেশজুড়ে ইলিশ নিয়ে যে মাতামাতি হতো— তা মূলত কখনও ইলিশের সাইজ, কখনও দাম নিয়ে। গণমাধ্যমও এসব খবরকে এমনভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতো, যার কারণে ইলিশ নিয়ে সৃষ্টি হতো এক ধরনের প্যানিক। ফলে বৈশাখের আগে বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়তো ক্রেতারা। তবে এ বছর দেশের কোথাও ইলিশ নিয়ে তেমন মাতামাতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। বরং ইলিশের বেশিরভাগ আড়ত এখন তরমুজের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ইলিশের সঙ্গে জড়িত জেলেরা এখন অন্য কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বেড়েছে সচেতনতা

জাটকা সংরক্ষণে বর্তমানে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। অন্যদিকে পহেলা বৈশাখে ইলিশ বয়কটের প্রচারণাও চলছে। ‘বৈশাখের সঙ্গে ইলিশের কোনও সম্পর্ক নেই’, গত দুই-তিন বছর ধরে বিভিন্ন মহল থেকে এ কথা বলা হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখে ইলিশের বদলে বেগুন ভাজা, শুঁটকি ভর্তাসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরায় অনেকের সচেতনতা বেড়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি পান্তাভাত আর শুঁটকি ভর্তা খাবেন। দেশবাসীকেও বৈশাখে এ ধরনের খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনেকেই এখন আর বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ কিনছেন না। আগে অনেক প্রতিষ্ঠানই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ইলিশের আয়োজন করলেও বছর দুয়েক ধরে তারা এ ধরনের অনুষ্ঠানে ইলিশ বর্জন করেছে। এসব কারণে দেখা যায় বৈশাখ উপলক্ষে এখন আর বাজারে ইলিশের তীব্র চাহিদা নেই। জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, বাজার বিশ্লেষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জনা গেছে। রাজধানীর একাধিক বাজারে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, হঠাৎ করেই কমেছে ইলিশের চাহিদা। কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টাউন হল মার্কেটসহ বিভিন্ন সুপারশপে ইলিশের চাহিদা ব্যাপকহারে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে দামও।

মিয়ানমারের বরফ দেওয়া সামুদ্রিক ইলিশ

এদিকে, ব্যবসার লোভে কেউ কেউ আগে থেকে ইলিশ মজুত করলেও বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে এগুলো দেশীয় নয়— মিয়ানমারের সামুদ্রিক ইলিশ। বরফ দেওয়া এই ইলিশকে এতদিন পদ্মার ইলিশ বা দেশের বিভিন্ন নদীর ইলিশ বলে বিক্রি করা হতো। কিন্তু গণমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্রেতারাও সতর্ক হয়েছেন। ফলে বিক্রেতারা প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। যেসব মজুতদার এবারের বৈশাখে ইলিশের রমরমা ব্যবসার আশা করেছিলেন, তারা এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

তাজা ইলিশের দাম সব সময়েই বেশি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ ব্যবসায়ী কাওসার আহমেদ জানান, পহেলা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এ সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। তবে সরকারের আদেশ অমান্য করে কেউ কেউ লুকিয়ে ইলিশ ধরে এবং সেগুলো বাজারে এলে বেশি দামে বিক্রি হয়। কারণ, তাজা ইলিশের দাম সব সময়েই বেশি। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে অনেকে হিমাগারে ইলিশ মজুত রাখেন। দীর্ঘদিন তাদেরকে হিমাগারের ভাড়া গুনতে হয়। আগে এ কারণেও বৈশাখ এলে মাছের দাম বেড়ে যেতো। কিন্তু এ বছর ইলিশের দাম তূলনামূলক কম।

অভিযান জোরদারের নির্দেশ

এদিকে জাটকা নিধনরোধে মৎস্য অধিদফতরের এক আদেশে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নদীতে জাটকার প্রাচুর্যতা দেখা যায়। জেলেদের জালে এ সময় বেশি পরিমাণে জাটকা ধরা পড়ে। তাই জাটকা রক্ষার্থে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদেরকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিযান জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযানের তথ্য মৎস্য অধিদফতরে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জাটকাকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা না-হলে দেশীয় সম্পদ নষ্ট হবে। তাই দেশব্যাপী যেসব নদীতে ইলিশের আনাগোনো— সেসব নদীতে ইলিশ বিশেষ করে জাটকা ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময় সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় জেলেদের সরকারি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’

অর্থবছর ২০১৮-১৯ : ৯ মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি ১২.৫৭ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ সময় দেশের শীর্ষ রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি বেড়েছে, কিন্তু কমেছে চামড়া ও পাটের রফতানি। সব মিলিয়ে এ নয় মাসে মোট রফতানিতে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ইপিবির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য। ২০১৮ সালের মার্চে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রফতানি পণ্যকে প্রাইমারি ও ম্যানুফ্যাকচার্ড—এ দুই ভাগে ভাগ করে রফতানির মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ম্যানুফ্যাকচার্ড বা উৎপাদিত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাইমারি বা প্রাথমিক পণ্যের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। রফতানি হওয়া প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও তাজা মাছ এবং কৃষিজ পণ্য। অর্থবছরের নয় মাসে হিমায়িত ও তাজা মাছ রফতানি হয়েছে ৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। এ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এদিকে গত নয় মাসে কৃষিজ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। রফতানিমুখী উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের উৎস হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমলেও বেড়েছে পোশাকের। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থবছরের নয় মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কম। আলোচ্য সময়ে তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পণ্যের রফতানি কমেছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। জুলাই-মার্চ সময়ে প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বেড়েছে দশমিক ৪৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানির ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিক রফতানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

ঋণগ্রহীতার ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী)ঋণ পরিশোধে অনীহা

সম্পদ ভোগ করলেও ঋণের দায় নিতে চান না উত্তরাধিকারীরা

|ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো| ব্যাংকঋণের টাকায় ব্যবসা শুরু। ব্যবসা সম্প্রসারণও ঋণের টাকায়। ব্যাংকঋণে গড়ে তোলা এ সম্পদ ঋণগ্রহীতার অবর্তমানে ভোগ করছেন তার উত্তরাধিকারীরা। কিন্তু ঋণের দায় নিতে রাজি নন তারা। যদিও ঋণ পরিশোধের সব সামর্থ্যই আছে তাদের। উত্তরাধিকারীদের এ অনীহায় ঋণের টাকা আদায়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংক এশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে গম আমদানি ও ফ্লাওয়ার মিল গড়ে তোলেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম। ২০১১ সালে এ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা মরহুম শাহ আলমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসেননি পরিবারের কেউ। শাহ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ আলম অ্যান্ড সন্সের কাছে ব্যাংক এশিয়া শেখ মুজিব রোড শাখার বর্তমান পাওনা প্রায় ১১৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০৪ সাল থেকে ব্যাংক এশিয়া শেখ মুজিব রোড শাখার সঙ্গে লেনদেন শুরু ব্যবসায়ী মো. শাহ আলমের। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার তিনটি প্রতিষ্ঠান শাহ আরজু ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স শাহ আলম অ্যান্ড সন্স ও মেসার্স হাজি মো. শাহ আলমের নামে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন তিনি। ২০১১ সালে যখন তিনি মারা যান, তখন ব্যাংকটিতে তার ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০১৬ সালে ঋণগ্রহীতার ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী) বিবাদী করে মামলা করে ব্যাংকটি। আদালতের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের আগস্টে শাহ আলমের কাছে ব্যাংক এশিয়ার পাওনা ছিল ৮৯ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৮ টাকা। মামলায় শাহ আলমের স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়েসহ মোট সাতজনকে বিবাদী করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শেখ মুজিব রোড শাখার শাখাপ্রধান আলী তারেক পারভেজ বলেন, ঋণগ্রহীতা মো. শাহ আলম মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিয়েও ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাদের। কিন্তু ঋণ পরিশোধে কোনো আগ্রহ দেখাননি তারা। বরং তাদের পক্ষ থেকে আদালতে বারবার পিটিশনের মাধ্যমে মামলায় সময়ক্ষেপণ হয়েছে। অথচ ঋণগ্রহীতার (শাহ আলম) গড়ে যাওয়া সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীরা দিব্যি ভোগ করছেন। ঋণ পরিশোধ না করলেও নগরীর অক্সিজেন এলাকায় শাহ আরজু ফ্লাওয়ার মিলটি ভালোই চলছে। চট্টগ্রাম শহরের চট্টেশ্বরী মোড়ে এ পরিবারের রয়েছে নিজস্ব বহুতল ভবন। অক্সিজেন মোড়ে নিজেদের কেনা জমিতে বহুতল ভবন তুলে পোশাক কারখানা হিসেবে ভাড়া দিয়েছে পরিবারটি। চট্টগ্রামের আরো বেশকিছু এলাকায়ও জমি রয়েছে তাদের। একই ব্যবসায়ীর মেসার্স আরমান ট্রেডিংয়ের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখারও প্রায় ২০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। শাহ আলমের মৃত্যুর পর সমঝোতার মাধ্যমে এ টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যাংকটি। তাতে ব্যর্থ হয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকও শাহ আলমের উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলমের ছেলে শাহ মো. ইমরান বণিক বার্তাকে বলেন, বাবা ব্যাংকের ঋণ রেখেই মারা যান। বড় অংকের ঋণ হওয়ায় তা পরিশোধে সময় লাগছে। কারণ আমরা এখন সাতজন ওয়ারিশ। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক এরই মধ্যে মামলাও করেছে। আইনি প্রক্রিয়ায়ও বিষয়টি সুরাহার সুযোগ রয়েছে। খাতুনগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেনের মৃত্যুর পরও একই সংকটে পড়েছে পাঁচটি ব্যাংক। ২০১৫ সালে মারা যাওয়ার পর এ ব্যবসায়ীর উত্তরাধিকারীদের কাছে আটকে গেছে ব্যাংকগুলোর প্রায় ২২৭ কোটি টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেন ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ন্যাশনাল ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ঋণ রয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইম ব্যাংক লালদীঘি শাখার ঋণের পরিমাণ ৪৫ কোটি, এবি ব্যাংক আন্দরকিল্লা শাখার ৩০ কোটি, পূবালী ব্যাংক চাক্তাই শাখার ২৪ কোটি ও ব্যাংক এশিয়া স্টেশন রোড শাখার ১৩ কোটি টাকা। সব ঋণই এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শাহাদত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ঋণের টাকা উদ্ধারে আমরা অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছি। মামলাটি এখন রায় ঘোষণার পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ঋণের বিপরীতে প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের বন্ধক রাখা ১১০ শতক জমি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করেছি। কিন্তু উপযুক্ত দরে কিনতে আগ্রহী কোনো ক্রেতা না মেলায় তা বিক্রি সম্ভব হয়নি। মামলার রায় হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঋণের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পূবালী ব্যাংক চাক্তাই শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, শাহ আমানত ফ্লাওয়ার মিলের কাছে তাদের পাওনা প্রায় ২৪ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন মারা যাওয়ার পর থেকে ঋণের ওপর সুদ আরোপ করা হচ্ছে না। তার পরও মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার মনোভাব খুবই কম। অথচ মোহাম্মদ হোসেনের গড়ে যাওয়া প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে, যা তার উত্তরাধিকারীরা ভোগ করছেন। মোহাম্মদ হোসেনের উত্তরাধিকারীদের একজন তার ছেলে মাঈনুদিন হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বাবা বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ব্যবসায়িক অংশীদার প্রতারণা করেন। পাওনাদার ব্যাংকগুলো টাকা উদ্ধারে মামলা করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যাংক পাওনা আদায় করবে। ব্যাংকঋণে গড়ে তোলা সম্পদ ভোগদখল করলেও ঋণের দায় নিতে চাইছেন না চট্টগ্রামের আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধার প্রয়াত আবুল কাশেমের উত্তরাধিকারীরাও। আবুল কাশেমের রেখে যাওয়া হাজার কোটি টাকার সম্পদ ভোগ করছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। অথচ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসছেন না তাদের কেউ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবা হাজি সফির হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় আসেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার আবুল কাশেম। একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দেন ‘আম্বিয়া গ্রুপ’। প্রথম দিকে শিপব্রেকিং খাতে ব্যবসা করলেও পরে ইস্পাত, গার্মেন্টস, কাগজ, আবাসন, শিপিং, কনজিউমার, জ্বালানি, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বিশেষ করে ইস্পাত ও গার্মেন্টস খাতে বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে গ্রুপটি। কিন্তু ২০১১ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর ব্যাংকের পাওনা আটকে যায়। জানা গেছে, আম্বিয়া গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যা খেলাপি হয়ে পড়েছে। গ্রুপটির কাছে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার। গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্টিলের কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। এছাড়া আবরার স্টিলের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার সাড়ে ৬৯ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া আগ্রাবাদ শাখার ১৬ কোটি, কিউএস স্টিলের কাছে এনসিসি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৩২ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৪ কোটি টাকা পাওনা আটকে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮-১০ সালের মধ্যে এসব ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধাররা। গ্রুপটির যে পরিমাণ ব্যবসা ছিল, সে হিসেবে এসব ঋণের অংক বেশি বড় নয়। কিন্তু পারিবারিক অন্যৈকের কারণে ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। এতে সুদ বেড়ে ব্যাংকের দেনা বেড়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক নায়ের আজম বণিক বার্তাকে বলেন, গ্রুপটির ইস্পাত খাতের ব্যবসায় ঋণ দেয়া হয়। শিপব্রেকিং-ইস্পাত খাতের ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণের টাকা আটকে যায়। এর মধ্যে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মারা গেলে ঋণ আদায় আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গ্রুপটির অন্য খাতে ভালো ব্যবসা থাকলেও ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। পাওনা আদায়ে এখন আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় আছি। ঋণ আদায়ে মামলা করেছে ব্যাংক এশিয়াও। ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আগ্রাবাদ শাখার প্রধান একেএম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ভালো ব্যবসা করেন চট্টগ্রামের আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধার আবুল কাশেম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর বাকি কর্ণধারদের অনৈক্যের কারণে গ্রুপের ব্যবসায় ধস নামে। এরপর ব্যাংকের দেনা পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। অথচ প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার মতো অন্য পাওনাদার ব্যাংকও আম্বিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে গড়ে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার

মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মূলত শিল্প খাতের হাত ধরে প্রবৃদ্ধির আকার বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। বিবিএসের তথ্যমতে, কৃষি খাতে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। বেসরকারি খাত প্রবৃদ্ধির ‘ইঞ্জিন’ এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি বিশেষ করে রপ্তানি, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে অবস্থা ভালো থাকায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হয়েছে। আগামী চার বছরে প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বেসরকারি খাতকে প্রবৃদ্ধির ‘ইঞ্জিন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অধিকতর বিনিয়োগে উৎসাহী হন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১ হাজার ৯০৯ ডলার। গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার।

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে

যানজটে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা। শনিবার আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’র প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯-এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ এবং ২০১৭ সালে যানজটে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়, ২০১৬ সালে তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে ছিল অষ্টম। 'নামবিও'র প্রকাশিত এই তালিকা অনুসারে, যানজটের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, আর তৃতীয় অবস্থানে নয়াদিল্লী, ৪র্থ স্থানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি, ৫ম ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ৬ষ্ঠ শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ৭ম ভারতের মুম্বাই, ৮ম ফিলিপাইনের ম্যানিলা, ৯ম আরব আমিরাতের সারজা এবং ১০ম অবস্থানে আছে ইরানের তেহরান। এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪টি, ভারতের ১১টি, পাকিস্তানের তিনটি, চীনের দুটি আর বাংলাদেশের একটি শহরের নাম উঠে এসেছে। যানজটের জন্য ঢাকার স্কোর হচ্ছে ২৯৭ দশমিক ৭৬। কলকাতার স্কোর ২৮৩ দশমিক ৬৮। ভারতের রাজধানী দিল্লিকে দেওয়া হয়েছে ২৭৭ দশমিক ৮১ স্কোর। নাইরোবির স্কোর ২৭৭ দশমিক ৬৬। আর জাকার্তার স্কোর হচ্ছে ২৭৪ দশমিক ৩৯। এই তালিকা অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের বাসেল। এরপর আছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। গত বছর কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিল ভিয়েনা। বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২১২টি শহরকে বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা প্রণয়ন করেছে নামবিও। এই তালিকা প্রণয়নে নামবিও কয়েকটি উপসূচক ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সময় সূচক, সময় অপচয় সূচক, অদক্ষতা সূচক ও কার্বন-নিঃসরণ সূচক। সময়, সময় অপচয় ও অদক্ষতা উপসূচকেও ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। কার্বন নিঃসরণ সূচকে ঢাকার অবস্থান ১০৯তম, আর কোলকাতা রয়েছে ১১০-এ। সময় সূচকের ক্ষেত্রে কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোকে বোঝানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মস্থল বা স্কুলে যাতায়াত সময়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সময় অপচয় সূচকে যানজটে সময় অপচয়ের কারণে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। অদক্ষতার সূচক মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা নির্দেশ করে। আর যানজটে সময় অপচয়ের কারণে নিঃসরিত অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা নির্দেশ করে কার্বন নিঃসরণ সূচক। অনলাইনভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’ প্রকাশিত তথ্য বিবিসি, ফোর্বস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার, টাইম, দ্য ইকোনমিস্ট, চায়না ডেইলি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য টেলিগ্রাফসহ বিশ্বের খ্যাতনামা সংবাদপত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সেলফোনে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের বিবেচনায় ১০টি দেশের মধ্যে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ

বিভিন্ন সেবায় দেশে ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে। আর্থিক লেনদেনের মতো কার্যক্রমেরও বড় অংশ হচ্ছে এই প্লাটফর্মে। ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা ভঙ্গুরতাও। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা যেমন দায়ী, একইভাবে দায়ী ব্যবহারকারীর অসচেতনতাও।

ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা ভঙ্গুরতা বাড়ছে

সুমন আফসার

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় অংশ হচ্ছে স্মার্টফোনে। স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পারিটেকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সেলফোনে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের বিবেচনায় ১০টি দেশের মধ্যে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ। দেশের মোট সেলফোনের ৩৫ দশমিক ৯১ শতাংশ ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত। ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয় ব্যক্তিগত কম্পিউটারও (পিসি)। ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত দেশের ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটার। কম্পারিটেকের তালিকায় থাকা বিশ্বের ৬০টি দেশের মধ্যে দুর্বল সাইবার নিরাপত্তার বিবেচনায়ও বাংলাদেশের অবস্থা বেশ নাজুক। ডিজিটাল নিরাপত্তা দুর্বলতায় ৬০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা যে একটা বড় ইস্যু, তা বুঝতে বেশ সময় নিয়েছি আমরা। আমাদের ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্যও বলছে, আর্থিক খাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানও এ ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মূলত সচেতনতার অভাবের কারণেই। আমি এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আধাসরকারি চিঠি দিয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাতেও। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মধ্য দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আসে। সুইফট সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় অপরাধীরা। আর্থিক খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) বিভিন্ন সময়ের গবেষণায়। ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে বিআইবিএম দেখিয়েছে, এর মধ্যে এটিএম কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা বেশি। প্রায় ৪৩ শতাংশ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। ২৫ শতাংশের মতো জালিয়াতি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটেছে। সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকি থাকলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই অনেক ব্যাংকের। বিআইবিএমের গবেষণা বলছে, বড় ধরনের সাইবার হামলা মোকাবেলায় কোনো প্রস্তুতি নেই ২৮ শতাংশ ব্যাংকের। আংশিক প্রস্তুতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ ব্যাংকের। এছাড়া সিংহভাগ ব্যাংকেই আইটি গভর্ন্যান্স নেই। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবার দিক থেকে দেশে সামনের সারিতে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সর্বাধিক এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি। সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাসেম মো. শিরিন বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বব্যাপীই আর্থিক খাত এখন প্রযুক্তিনির্ভর। এতে আর্থিক সেবাগুলো সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। সারা বিশ্বেই ব্যাংকগুলো এখন সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোকেও একই পথে হাঁটতে হবে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আর্থিক লেনদেনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সেলফোন, বিশেষ করে স্মার্টফোন। দেশে সেলফোন হ্যান্ডসেটের ৪০ শতাংশ স্মার্টফোন, যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে ব্যবহারকারীর অসচেতনতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মাধ্যমটি সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ সহজেই সাইবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারা আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। একইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বণিক বার্তাকে বলেন, ম্যালওয়্যার এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমিত থাকলেও সেলফোনে আর্থিক লেনদেন খাতেও এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণেও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম। সঠিক উপায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার না করার কারণে অপরাধীরা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য অনলাইনে প্রকাশ কিংবা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইলের ব্যবহার রোধে নীতিমালা করেছে সরকার। নীতিমালায় দাপ্তরিক কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে গভডটবিডি ঠিকানাযুক্ত ই-মেইল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। যদিও এ বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করছেন না বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও। আবার কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় সব কর্মকর্তাই সরকারি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যক্তিগত ই-মেইল উল্লেখ করেছেন। সরকারি ডোমেইনে ই-মেইলের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে, এমন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। সচেতনতার অভাব রয়েছে ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। না জেনেই অনেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংকে প্রবেশ করছে। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনিতেই দেশে বিনামূল্যের বা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ প্রবণতা রয়েছে। সিংহভাগই অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

|জাহাঙ্গীর শাহ, ঢাকা|

গরিব মানুষের বসবাসে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ • বেশি হতদরিদ্র আছে—এমন ১০ দেশের তালিকা বিশ্বব্যাংকের • যাঁদের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম, তাঁরা হতদরিদ্র • এটা আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা হিসেবে বিবেচিত • বাংলাদেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লাখ • নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বিবেচনায় এই সংখ্যা ৮ কোটি ৬২ লাখ • বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে

অতিধনী বৃদ্ধির হারের দিকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। ধনী বৃদ্ধির হারে তৃতীয়। দ্রুত মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি বা ধনী হওয়ার যাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অতিগরিব মানুষের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। অতিগরিব মানুষের সংখ্যা বেশি এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ২ কোটি ৪১ লাখ হতদরিদ্র মানুষ আছে।

বিশ্বব্যাংক ‘পভার্টি অ্যান্ড শেয়ার প্রসপারিটি বা দারিদ্র্য ও সমৃদ্ধির অংশীদার-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষ আছে, এমন ১০টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে (পিপিপি) যাঁদের দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম, তাঁদের হতদরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটা আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বব্যাংক ২০১৬ সালের মূল্যমান ধরে পিপিপি ডলার হিসাবে করেছে। বাংলাদেশে প্রতি পিপিপি ডলারের মান ধরা হয়েছে সাড়ে ৩২ টাকা। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ২ কোটি ৪১ লাখ লোক দৈনিক ৬১ টাকা ৬০ পয়সাও আয় করতে পারেন না। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে। যদিও বাংলাদেশ এখনো নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অতিগরিব মানুষের একটি আলাদা হিসাবও দিয়েছে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে হলে দৈনিক কমপক্ষে ৩ দশমিক ২ পিপিপি ডলার আয় করতে হবে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এভাবে হিসাব করলে বাংলাদেশে অতিগরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮ কোটি ৬২ লাখ। আর দারিদ্র্যের হার হবে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মানে হলো, টেকসইভাবে গরিবি হটাতে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২১ লাখ মানুষকে দ্রুত দৈনিক ৩ দশমিক ২ ডলার আয়ের সংস্থান করতে হবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন ঝুঁকিতে আছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি ১৭ কোটি ৫৭ লাখ হতদরিদ্র আছে। ভারত ছাড়া বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হতদরিদ্র মানুষ বসবাস করে নাইজেরিয়া, কঙ্গো ও ইথিওপিয়ায়। তালিকায় থাকা শীর্ষ ১০–এর অন্য ৫টি দেশ হলো তানজানিয়া, মাদাগাস্কার, কেনিয়া, মোজাম্বিক ও ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগে দারিদ্র্য কমানোর পূর্বশর্ত ছিল প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দারিদ্র্য কমাতে হবে। দেশে ৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। এত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর দেখা যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি যেমন বেড়েছে, বৈষম্যও বেড়েছে। অন্যদিকে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিও কমেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দিয়ে দারিদ্র্য নির্মূল করা যাবে, এটা ঠিক নয়। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধিতে গরিব মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। গরিব মানুষের সম্পদ হলো পরিশ্রম। এই শ্রমের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে গরিব মানুষের মজুরি বাড়াতে হবে। আবার কৃষির বাইরের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের জন্য গরিব মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিতে হবে। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে গেছে। তাই ৩ দশমিক ২ ডলারের দৈনিক আয়ের হিসাবও মাথায় রাখতে হবে। যে বিশাল জনগোষ্ঠী দুই হিসাবের মধ্যবর্তী স্থানে আছে, তাদের দ্রুত আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে হবে। আয়ের বৈষম্য পরিমাপের পদ্ধতি হচ্ছে জিনি (বা গিনি) সহগ। বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মান এখন ০.৪৮৩। জিনি সহগ ০.৫ পেরিয়ে গেলে তাকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ বলা হয়। বাংলাদেশ এর খুব কাছে পৌঁছে গেছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্স বলেছে, অতিধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ প্রথম। গত বুধবার একই প্রতিষ্ঠান আরেকটি প্রতিবেদনে বলেছে, ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ তৃতীয়। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের ধনী মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্যের কোঠায় দারিদ্র্য নামিয়ে আনা। এই সময়সীমার দুই-তিন বছর আগেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। অর্থাৎ আগামী ১০ বছরে হতদরিদ্রের হার ৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, এখন বাংলাদেশে অতিদারিদ্র্য হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০৩০ সালে যখন অতিদারিদ্র্য হার ৩ শতাংশে মধ্যে নেমে আসবে, তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটিতে পৌঁছাবে। এর মানে, তখনো বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ লোক অতিগরিব থেকে যাবে। এই বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূলকে প্রাধান্য দিয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া এখন যে অঞ্চলভিত্তিক দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য আছে, তাতেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের হিসেবে দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার জন্য আয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শামসুল আলম বলেন, বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ২০২১ সালের মধ্যে অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়বে। আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনও আসবে।

কোন দেশে কত গরিব

বিশ্বব্যাংকের তালিকা অনুসারে, শীর্ষ স্থানে থাকা ভারতে অতিগরিব মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ায় ৮ কোটি ২৬ লাখ, তৃতীয় স্থানে থাকা কঙ্গোতে ৫ কোটি ৩২ লাখ ও চতুর্থ স্থানে থাকা ইথিওপিয়ায় ২ কোটি ৬৭ লাখ অতিগরিবের বসবাস। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে থাকা তানজানিয়ায় ২ কোটি ৭ লাখ, কেনিয়ায় ১ কোটি ৭৪ লাখ, মাদাগাস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ, মোজাম্বিকে ১ কোটি ৭১ লাখ ও ইন্দোনেশিয়ায় ১ কোটি ৫১ লাখ অতিগরিব মানুষের বসবাস। সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে এখন ৭৩ কোটি ৬০ লাখ হতদরিদ্র মানুষ আছে। ওই ১০টি দেশেই বাস করে ৪৫ কোটি অতিদরিদ্র মানুষ। এই সংস্থাটি আরও বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে এমন গরিব মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৭ কোটি ৯০ লাখে।

অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমঃ ধনী মানুষের সংখ্যা...

ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন

ধনী বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ

রাজীব আহমেদ, ঢাকা

অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে প্রথম। এখন দেখা যাচ্ছে, ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে, বিশ্বে তৃতীয়। দুটি তথ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের। সংস্থাটি বলছে, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশে ধনী মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে।



১০ থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিককে (সাড়ে ৮ থেকে ২৫ কোটি টাকা) এ তালিকায় রেখেছে ওয়েলথ-এক্স। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উচ্চ সম্পদশালী বা হাই নেট ওর্থ (এইচএনডব্লিউ) বলে অভিহিত করেছে। গত বুধবার ‘গ্লোবাল এইচএনডব্লিউ অ্যানালাইসিস: দ্য হাই নেট ওর্থ হ্যান্ডবুক’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আর অতিধনী বৃদ্ধির প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে।

নতুন প্রতিবেদনে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধনী বৃদ্ধির হারে শীর্ষে থাকবে, এমন ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়। এ তালিকায় শীর্ষে নাইজেরিয়া। এর পরের অবস্থানে মিসর, যেখানে ধনী বাড়বে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে। বাংলাদেশের পরে আছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, পোল্যান্ড, চীন, কেনিয়া, ভারত, ফিলিপাইন ও ইউক্রেন। জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ হলেও নাইজেরিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত।

২০১৮ সালে সম্পদশালী বৃদ্ধির হার ও ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ ধরে এ হিসাব করেছে ওয়েলথ-এক্স। সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদনে বলা ছিল, ৩ কোটি ডলার বা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। ওয়েলথ-এক্সের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ হারে। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ মোট ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।

তবে ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদনে দেশে ধনী ও অতিধনীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির চিত্র উঠে এলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে দরিদ্র মানুষের আয়ে বড় ধরনের বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিপরীত চিত্রও রয়েছে। আবার অনেকে মনে করছেন, এই ধনীদের বড় অংশের উত্থান ঘটছে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বা ক্রোনি ক্যাপিটালিজম, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি কাজ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে।

বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬–এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে দেশে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তাদের মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকায়। বিপরীতে একই সময় সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে ৫৯ শতাংশ। তাদের মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৭৩৩ টাকায়, যা ২০১০ সালে ১ হাজার ৭৯১ টাকা ছিল।

জানতে চাইলে বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে একটি টেকসই অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে, এটা সত্য। কিন্তু এটার আলোচনা বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার উদ্বেগকে ঢেকে দিচ্ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, এখন গবেষণা হওয়া দরকার, এই ধনীদের উত্থান কি অর্থনীতিতে অবদান রাখার মাধ্যমে হচ্ছে, নাকি অনৈতিক উপায়ে হচ্ছে। কারণ, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ধনী হওয়ার ধারণাটিই সামনে চলে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমনের দিকে জোর দিচ্ছে। হোসেন জিল্লুর রহমানও মনে করেন, সরকারের এই মেয়াদে উন্নয়ন কৌশল পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

অবশ্য অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশে বৈষম্য বেড়ে যায়। অর্থনীতি একটি টেকসই অবস্থানে যাওয়ার পর এই বৈষম্য কমে যায়। পাশাপাশি স্বজনতোষী পুঁজিবাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ চিত্র। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, উন্নয়নের প্রথম দিকে বৈষম্য বাড়তেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। সে ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশে আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারও খানিকটা উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘এটা ভালো দিক যে সরকার এটি অনুধাবন করেন। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছি, যেখানে বৈষম্য কমাতে ব্যাপক জোর দেওয়া হবে।’

শামসুল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বিশ্বের মধ্যে বেশি। এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কারণ সম্পদ তৈরি হচ্ছে। এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা বাড়বেই।

অতিধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারেও প্রথম হয়েছিল বাংলাদেশ। এর বিপরীতে অবশ্য দেশে ধনী-গরিবের আয়ের বৈষম্যও বাড়ছে।

উন্নয়নের শুরুর দিকে বৈষম্য বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী কি না, তা নিয়ে অবশ্য অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে। যেমন, গত ১৫ ডিসেম্বর বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, উন্নয়ন শুরুর দিকে বৈষম্য বাড়তেই হবে, এটা অবশ্যম্ভাবী নয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া। তাঁর মতে, ‘দুর্নীতি ও অন্যায়–অনিয়মের বিরুদ্ধে যদি আমরা কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ তৈরি করতে না পারি, এটা যদি ক্রমাগত বিস্তৃতি লাভ করে, তাহলে এর আর্থিক বোঝা ভবিষ্যতে অর্থনীতি নিতে পারবে না।’

সংখ্যায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বে ধনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখে, যা আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এশিয়ায় গড় প্রবৃদ্ধি আরও কম, মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও আলোচ্য সময়ে চলতি মূল্যে এশিয়ার জিডিপি ৮ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ায় ১০ থেকে ৩০ লাখ ডলারের মালিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৭৩ হাজার।

ধনীর সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৮৬ লাখ ৭৭ হাজার), চীন (১৮ লাখ ৮০ হাজার), জাপান (১৬ লাখ ১৯ হাজার), জার্মানি (১০ লাখ ২৩ হাজার) ও যুক্তরাজ্য ৮ লাখ ৯৪ হাজার। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালি।

গবেষণা যেভাবে

ওয়েলথ–এক্স মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ইনসাইট ভেঞ্চার পার্টনারসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, সম্পদশালীদের সংখ্যা বের করতে তারা সম্পদ ও বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ বা ওয়েলথ অ্যান্ড ইনভেস্টেবল অ্যাসেটস মডেল নামের একটি কৌশল ব্যবহার করেছে। সংস্থাটি বলছে, তাদের কাছে ৫ লাখ ৪০ হাজার উচ্চধনীর তথ্য রয়েছে। সেটা তারা প্রতিবেদনে ব্যবহার করেছে।

ক্রিসেন্ট গ্রুপের ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার : জনতা ব্যাংক...

ক্রিসেন্ট গ্রুপের ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার : জনতা ব্যাংক ও ক্রিসেন্টের ১৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদক

জেসমিন মলি |

রফতানি বিলের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে ক্রিসেন্ট গ্রুপ কর্তৃক ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির ১১ কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধান সূত্র জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করে শিগগিরই একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে জনতা ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে তারা হলেন নোট প্রস্তুতকারী এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসও) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, পরীক্ষণকারী সিনিয়র অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, সুপারিশকারী সিনিয়র অফিসার মো. সাইদুজ্জামান, প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমীন, সিনিয়র অফিসার মো. মাগরেব আলী, সিনিয়র অফিসার মো. খায়রুল আমিন, এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার, অনুমোদনকারী ডিজিএম (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি) মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম ও শাখাপ্রধান মুহাম্মদ ইকবাল, ডিজিএম ও শাখাপ্রধান একেএম আসুদুজ্জামান এবং ডিজিএম ও এফটিডি কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে গ্রাহকদের মধ্যে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টের চেয়ারম্যান এমএ কাদের, একই প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক সুলতানা বেগম ও রেজিয়া বেগম, লেসকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান মো. আবদুল আজিজ, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুন জাহান মীরা।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ক্রিসেন্ট গ্রুপ কর্তৃক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জনতা ব্যাংকের টাকা পাচার এবং আত্মসাতের ঘটনায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাই এখানে দুদকের আওতাভুক্ত সম্পৃক্ত ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এখানে সম্পৃক্ত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই দুদক ছাড়া অন্য সংস্থার এ বিষয়ে মামলা করার আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে। দুদক দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৭১, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২), (৩) ধারায় শিগগিরই মামলা দায়ের করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা দুদকের যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ব্যাংকের পক্ষ থেকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তও চলমান। ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য এরই মধ্যে দুই দফায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে ব্যাংকের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নতুন ৫৭০টি রফতানি বিল কেনার নামে ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যানের সহায়তায় ৯৯৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন স্মারকে অনুসন্ধান করার জন্য সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ারকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধানে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৬৫৩টি রফতানি বিলের মাধ্যমে পণ্য বিদেশে সরবরাহ করে সে অর্থ বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন না করে ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে দুদকের পরিচালক ও তদারককারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, অভিযোগটির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। তবে দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তা হচ্ছে রফতানি এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক প্রথম শ্রেণী/আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং আর্থিক সংগতি বিশ্লেষণে গ্রহণযোগ্য কিনা তা ব্যাংকার্স অ্যালামনাক বা অন্য কোনোভাবে শাখা কর্তৃক যাচাই করা হয়নি।

বৈদেশিক ক্রেতার সন্তোষজনক ক্রেডিট রিপোর্ট গ্রহণপূর্বক ক্রেতার স্ট্যাটাস বিশ্লেষণ, মূল্য পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে বৈদেশিক ক্রেতার ব্যাংকের মতামত সংগ্রহপূর্বক তা যাচাই না করে ব্যাংকগুলোর রফতানি নেগোসিয়েশন/বিল ক্রয় করা হয়েছে। ফরেন ডকুমেন্টারি বিল পারচেজ (এফডিবিপি) ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের আবেদনপত্রে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর যাচাই করেনি ব্যাংক শাখা। শাখায় রক্ষিত শিপিং ডকুমেন্ট প্রেরণের কুরিয়ার রিসিপ্টে ডকুমেন্ট গ্রহণকারীর স্বাক্ষর নেই। বৈদেশিক ব্যাংকে ডকুমেন্ট প্রেরণের প্রুফ অব ডেলিভারি নথিভুক্ত নেই, ফলে ডকুমেন্টগুলো সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। ক্রয়াদেশ প্রদানকারী/আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন দেশে (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত) অবস্থিত হলেও পণ্য রফতানি হচ্ছে হংকং ও চীনের মতো দেশে। এক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ প্রদানকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা/চুক্তি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে শাখা। চুক্তিপত্রের বিপরীতে প্রধান কার্যালয়ের এফডিবিপি লিমিট মঞ্জুরিপত্রে হংকং ও চীনের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ওয়েল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও ম্যাক্রোভাইল লিমিটেডের গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিল নেগোসিয়েশনের অনুমতি দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ওই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান কিনা এবং চুক্তিপত্রগুলো যথাযথ কিনা তা যাচাই না করেই বিলগুলো ক্রয় করা হয়েছে।

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা

|মোর্শেদ নোমান|

বড় ঋণ কেলেঙ্কারির হোতারা এখনো অধরা অধরাই থেকে যাচ্ছেন দেশের ইতিহাসে বড় কেলেঙ্কারির নেপথ্য নায়কেরা। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনের মারপ্যাঁচে আইনের আওতায় তাঁদের আনা যাচ্ছে না।

ব্যাংক খাতে জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত করলেও অদৃশ্য ইশারায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন অনেকে। বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় জালিয়াতির হোতা হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা এখনো দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে ‘ব্যাংকিং সেক্টর ইন বাংলাদেশ: মুভিং ফ্রম ডায়াগনোসিস টু অ্যাকশন’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে বলা হয়, বড় কয়েকটি জালিয়াতির মাধ্যমে গত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বড় কয়েকটি ব্যাংক থেকে এ অর্থ লোপাট হয়। সরকারি-বেসরকারি এসব ব্যাংকে যা হয়েছে, তাকে চুরি নয়, ‘ডাকাতি’ ও ‘হরিলুট’ বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসায়ী নামের কিছু লুটেরা মিলেমিশে ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অর্থ লুটপাট করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নির্মোহভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে তাঁদের বিচার করতে না পারলে এ ধরনের অপরাধ কমবে না।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় ৪০ মাসেও অভিযোগপত্র নেই

বেসিক ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি এবং পরের বছর আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা করার পর ৪০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি। মামলায় ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের আসামি করা হলেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই আসামি করা হয়নি। বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি। মামলা হওয়ার পর তদন্ত–পর্যায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অভিযোগপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় করা মামলাগুলোয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অনেক দিন ধরে কারাগারে। ঋণগ্রহীতা কেউ কেউ ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা জামিনে বেরিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন। যাঁরা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁদের সবাই এখন বাইরে আছেন। বেসিক ব্যাংকের তদন্ত সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, সব আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবেন তাঁরা।

জনতা ব্যাংকে জালিয়াতির হোতারা বাইরে

জনতা ব্যাংকের বড় কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদক একের পর এক অনুসন্ধান-তদন্ত চালালেও প্রতিবারই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন হোতারা। দুদক সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিকে নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয় গ্রাহকদের মধ্যে। ওই কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক কিছু ব্যক্তিকে ‘অভিযুক্ত’ করতে পেরেছিল, যদিও তাঁরা পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। কিন্তু অধরাই থেকে যায় ব্যাংকটির তৎকালীন ঋণ প্রদানকারী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। যখনই ব্যাংকটি ওই জালিয়াতির ঘটনার পর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই উদ্‌ঘাটিত হয় অ্যাননটেক্স গ্রুপের পাঁচ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। আলোয় আসে ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের চার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। এসব কেলেঙ্কারির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। ২০১২-১৩ সালে উদ্‌ঘাটিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানেও দেখা যায়, ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির সুযোগটি তৈরি করে দেওয়া ২০০৮ সালে। ঘটনা চাউর হওয়ার আগেই লাপাত্তা হয়ে যান বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলায়মান, পরিচালক আনোয়ার চৌধুরী, নওরীন হাসিবসহ ঋণগ্রহীতারা। ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন জনতা, বেসরকারি যমুনা, প্রিমিয়ার ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কোনো কোনো কর্মকর্তা। সম্প্রতি উদ্‌ঘাটিত অ্যাননটেক্স গ্রুপ, ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গেও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার তথ্য মিলেছে। জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপ্রক্রিয়ায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করে জানান, ব্যাংকটিতে অনেক জালিয়াতির ঘটনাই ঘটেছে, যার দালিলিক প্রমাণ কষ্টসাধ্য। বৃহৎ ঋণগুলোর প্রস্তাব প্রেরণ, একেকটি ধাপ অতিক্রম এবং ঋণ মঞ্জুরের সময়কাল খুব সংক্ষিপ্ত। অর্থাৎ দ্রুতগতিতেই ঋণগুলো মঞ্জুর এবং টাকা ছাড় হয়। এ সময়কালে কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করলে দেখা যায়, আত্মসাতের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। অথচ এটি প্রমাণ করা দুঃসাধ্য। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে দুদকের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সূচনা হয় ২০০৮ সালের দিকে। সে বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এস এম আমিনুর রহমান। ওই সময় অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যারের মতো ঋণগুলো অনুমোদন পায়। ওই আমলে দেওয়া ঋণের প্রায় পুরোটাই এখন খেলাপি। এসব আত্মসাতের ঘটনায় দুদক এখন অনুসন্ধান শুরু করতে পারছে না। দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের একাধিক ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধান চলমান থাকলেও ঋণ কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের ধরা যাচ্ছে না। দুদকের একাধিক অনুসন্ধানে ওই সময়ের ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীদের নাম এলেও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতি নিয়ে ধীরে চলছে দুদক ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) কয়েকজন ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়। কোনো মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আসামি করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে ব্যাংকটির সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তির অনিয়ম তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহকদের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও বেরিয়ে আসে। ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তাঁরা। জালিয়াতির হোতারা আইনের বাইরে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় জালিয়াতির ঘটনাগুলোয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করেছে, সরকারের কাছে সব তথ্য আছে। নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট। তিনি এ বিষয়গুলো বোঝেন। আমরা চাই সব কটি বিষয়ে যেসব প্রতিবেদন আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.