আগামী এক মাসের মধ্যে রুপির দাম কমে ৭০ রুপিতে দাঁড়াতে পারে

ডলারের বিপরীতে রুপির দাম সর্বনিম্ন : সব রেকর্ড ভঙ্গ

বর্তমান ডেস্ক : মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম কমায় সব রেকর্ড ভঙ্গ হল। বৃহস্পতিবার দাম কমার ধারাবাহিকতায় সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবং মার্কিন এক ডলার কিনতে ভারতীয় নাগরিকদের খরচ করতে হচ্ছে ৬৫.১২ রুপি। খবর দি টাইমস অব ইন্ডিয়া। এর আগে, বুধবার ভারতের বাজারে রুপির ব্যাপক দরপতন হয় এবং প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৬৪.৫৫। তবে, দিন শেষে রুপি কিছুটা শক্তি ফিরে পায়। ৬৪.১১ মূল্যমান নিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। কিন্তু, ভারতের বাজারে বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর মুহূর্তেই আবার দরপতন হয় এবং আগের সব রেকর্ড ভেঙে রুপির দাম ৬৫.১২-তে পৌঁছায়। ডলারের এ উর্ধ্বমুখী অবস্থা ভারতের শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বুধবার নিফটি’র সূচক ৫৩০০’র নিচে নেমে আসে। তবে দিনের শেষ পর্যায়ে রুপির দাম কিছুটা বাড়লে নিফটিতে সামান্য চাঙ্গাভাব তৈরি হয়। অবশ্য শক্তিশালী অবস্থায় ছিল বিএসই সেনসেক্স’র শেয়ারসূচক। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম আমেরিকার অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য আগামী সেপ্টেম্বরে প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা নেবে -এমন ঘোষণার পর ভারতের বাজারে রুপির দরপতন শুরু হয়। কোনো কোনো সংস্থা থেকে সতর্ক করা হয়েছে-আগামী এক মাসের মধ্যে রুপির দাম কমে ৭০ রুপিতে দাঁড়াতে পারে। সূত্রঃ বর্তমান

গ্রামীণ ব্যাংকে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ৮১ লাখ ১১ হাজার এবং পুরুষের...

গ্রামীণ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত ঋণ বিতরণ ৮৯ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা

বর্তমান প্রতিবেদক : গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম থেকে এ পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৭৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। একই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সার্বিকভাবে ঋণ আদায়ের হার ৯৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দুই পাতার প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান স্বাক্ষরিত তথ্যবিবরণীতে বলা হয়— জুলাই মাসে ঋণ বিতরণ হয়েছে এক হাজার ২১৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং আদায়ের পরিমাণ এক হাজার ১৯৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সার্বিকভাবে আদায়যোগ্য ঋণের মধ্যে সহজ ঋণে সাত হাজার ৩৯৫ কোটি ৫৭ লাখ, চুক্তিকৃত ঋণে ৭০৩ কোটি ৭৬ লাখ, গৃহ ঋণে তিন কোটি ৫৩ লাখ, শিক্ষা ঋণে ২৮১ কোটি ৭৬ লাখ এবং অন্যান্য ঋণে আদায় হয় ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মোট আদায় হয়েছে আট হাজার ৪১৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। মেয়াদোত্তীর্ণের মধ্যে সহজ ঋণে ৯৯ কোটি ৪৩ লাখ, চুক্তিকৃত ঋণে ৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, গৃহ ঋণে ছয় লাখ মিলিয়ে মোট দাঁড়ায় ১৬০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসা সংক্রান্ত ঋণের সংখ্যা ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৭টি। এ খাতে ঋণের পরিমাণ ১৬ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং পরিশোধের পরিমাণ ১৪ হাজার ২৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের মধ্যে আট হাজার ১৬৩ কোটি ২১ লাখ এবং সদস্যবহির্ভূতদের মধ্যে আছে পাঁচ হাজার ৫৫ কোটি ১ লাখ টাকা। মোট দাঁড়ায় ১৩ হাজার ২১৫ কোটি ২৩ লাখ। আদায়যোগ্য ঋণের তুলনায় আমানতের হার ১৫৭ শতাংশ এবং আদায়যোগ্য ঋণের তুলনায় আমানত ও নিজস্ব অর্থের হার ১৭৪ শতাংশ। আদায়যোগ্য ঋণের চেয়ে আমানতের পরিমাণ বেশি এমন শাখার সংখ্যা এক হাজার ৯২৮টি। ওদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের ভিক্ষুক সদস্য সংখ্যা ৮০ হাজার ৩৪২ জন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৬ কোটি ৮৫ লাখ এবং ঋণ পরিশোধ হয়েছে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তাদের মোট সঞ্চয়ের স্থিতি হচ্ছে ৮৪ লাখ টাকা। পল্লী ফোনের সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩৮ জন। গৃহ ঋণে নির্মিত গৃহের সংখ্যা ৬৯ লাখ ৪ হাজার ৪৬৯ জন। উচ্চ শিক্ষা ঋণের আওতায় ছাত্রীর সংখ্যা ১২ হাজার ১৬৩ জন, ছাত্র সংখ্যা ৪০ হাজার ১২৪ জন। মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫২ হাজার ২৮৭ জন। গ্রামীণ ব্যাংকের আওতায় এ পর্যন্ত বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা এক লাখ ৫ হাজার ৮৯৮ জন। ছাত্রের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৬৭ জন। গ্রামীণ ব্যাংকে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ৮১ লাখ ১১ হাজার এবং পুরুষের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৬৮ জন। মোট সদস্য সংখ্যা ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৬৮ জন। এ ছাড়া গ্রুপের সংখ্যা ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৮টি। কেন্দ্রের সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৪টি এবং শাখার সংখ্যা দুই হাজার ৫৬৭টি। সূত্রঃ বর্তমান

১ লাখ ৩৮ হাজার ইউনিট বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত

টিআইএনবিহীন ১ লাখ ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত

ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের ১ লাখ ৩৮ হাজার বহুতল ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই। তার মধ্যে ৭৩ হাজার বাড়ির মালিক। তাদের কর জালের আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই এনবিআর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়কর মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এসময় এনবিআর সদস্য বশীর উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ আমিনুল করিম, কালিপদ হালদার, রাহেলা চৌধুরী, ড. মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইতিমধ্যেই ১ লাখ ৩৮ হাজার ইউনিট বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিআইএন নেই। তার মধ্যে ৭৩ হাজার বাড়ি। বাকিগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নিবন্ধিত হতে চিঠি দেয়া হয়েছে। আর নিবন্ধিত না হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। আয়কর মেলা সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা-২০১৩। মেলায় আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ৭ দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, এবারই প্রথম দেশের সব জেলায় একযোগে করমেলা হতে যাচ্ছে। তবে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে মেলা চলবে সাতদিন। জেলা শহরের মেলা অনুষ্ঠিত হবে দুই দিন। এছাড়া পাবত্য জেলাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ করমেলা অনুষ্ঠিত হবে। আয়কর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই গত কয়েক বছর ধরে আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। গোলাম হোসেন বলেন, ট্যাক্স নেট বাড়িয়ে করের পরিমাণ বাড়ানোই মেলার আসল উদ্দেশ্য। চলতি অর্থ বছরে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এনবিআরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ মেলার মাধ্যমে আয়কর প্রদানে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আদায় কার্যক্রমকে সহজ করাও অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান চেয়ারম্যান। সামনে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা আছে। এই অস্থিরতা কর আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি-না জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কর আদায় অব্যাহত থাকবে। তবে রাজনীতির কারণে আমাদের কর্মকাণ্ড থেমে থাকবে না। ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ই-টিআইএন) সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার নতুন করাদাতা নিবন্ধন করেছেন। এটা কর সংস্কৃতির উন্নয়নের ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনষ্ঠানে জানানো হয়, বরাবরের মতো আগামি ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস উদযাপন করবে এনবিআর। আয়কর দিবসে দেশের ২০জন সর্বোচ্চ করদাতাকে ট্যাক্স কার্ড দেয়া হবে। এদিন এনবিআরের সামনে থেকে র্যালি বের করা হবে। রাজধানীতে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে । অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মেলাটি উদ্বোধন করবেন। এবারের মেলায় থিম নির্ধারণ করা হয়েছে- ইন্টারনেটে টিন রেজিস্ট্রেশন একেবারেই সোজা। সূত্রঃ বর্তমান

চার হাজার ৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করল সরকার

থ্রিজি নিলাম থ্রিজি তরঙ্গ বেঁচে চার হাজার কোটি টাকা পেল সরকারPhone ঢাকা:বহুল প্রত্যাশিত থ্রিজি নিলামের ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মধ্যে ২৫ মেগাহার্টজ নিলাম শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে চার হাজার ৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করল সরকার। রবিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলার বলরুমে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিটিআরসির চূড়ান্ত নিলাম প্রক্রিয়া অুনযায়ী, তিন ধাপে এ নিলাম হয়। প্রথম ধাপে ১০ মেগাহার্টজ নিলাম হয়েছে। যা গ্রামীণফোন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নেয়। দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মেগাহার্টজ করে কিনে নিয়েছে বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেড। তবে শেষ ধাপে অবিক্রিত বাকি তরঙ্গের নিলাম ডাকা হলেও কেউ তা কেনেনি। এই নিলামে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের মূল্য সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় চার হাজার ৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।তবে অবিক্রিত অংশ পরবর্তীতে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে এ নিলামে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য (বেজ প্রাইস) ধরা হয়েছে দুই কোটি মার্কিন ডলার। দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের থ্রিজির জন্য ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হবে। থ্রিজির লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। আর প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়নে পাঁচ কোটি টাকা করে ফি দিতে হবে অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নিলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আব্দুছ ছাত্তার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। নিলাম শেষে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস সংবাদ সম্মেলনে বলেন,থ্রিজি উন্মুক্ত করে দেয়ার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মোবাইল অপারেটরদের ব্যবসা ও আর্থ সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে নিলামে প্রতিযোগিতা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট নিলামে অংশ নিতে আবেদন করে বেসরকারি পাঁচ অপারেটর। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৭ আগস্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে বিটিআরসি। এতে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও সিটিসেলকে যোগ্য বলে ঘোষণা করে কমিশন। নিলামে অংশ নেয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ২৬ আগস্ট বিড আর্নেস্ট মানি জমা দেয় চার অপারেটর। তবে আর্থিক সংকটের কারণে এ অর্থ জমা দিতে পারেনি দেশের সবচেয়ে পুরনো সেলফোন অপারেটর সিটিসেল। ফলে নিলামে অংশ নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। নিরবচ্ছিন্ন ও বহুমুখী সেবা নিশ্চিত করতে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটকের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। প্রতিষ্ঠানটি নিলামে অংশ না নিলেও এ লাইসেন্স পাবে। তবে নিলামের সর্বোচ্চ দর দিয়েই এ লাইসেন্স নিতে হবে টেলিটককে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করে টেলিটক।

মোবাইল হিসাব ব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে

মোবাইল ব্যাংকিং: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লেনদেন হচ্ছে জানিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেখানে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট বা এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ এবং সংখ্যাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা সার্কুলারে এক মোবাইল হিসাব থেকে অপর মোবাইল হিসাবে (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তরের সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউটের অর্থের সীমা বা পরিমাণ কিংবা সংখ্যা নির্ধারিত ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, মোবাইল হিসাব নেই- এরকম ব্যক্তি এজেন্ট অথবা অন্য গ্রাহকের মোবাইল হিসাব ব্যবহার করে ক্যাশ ইন/আউটসহ অর্থ স্থানান্তর করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ‘গাইডলাইন অন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফর দি ব্যাংকস’ এর পরিপন্থি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসৃত না হওয়ায় মোবাইল হিসাব ব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলেও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব বিষয় বিবেচনায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত এবং জালিয়াতি রোধকল্পে নয়টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- মোবাইল হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ২০১১ সালের ২০ ডিসেস্বর জারি করা ‘গাইডলাইন অন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফর দি ব্যাংকস’ এর নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে পরিপালন করা, গ্রাহকের হিসাব খোলার আবেদন ব্যাংক কর্তৃক যাচাই এবং অনুমোদন করার আগে নগদ অর্থ জমা গ্রহণ ছাড়া অন্য কোন ধরনের লেনদেন করা যাবে না। এছাড়া গ্রাহকের মোবাইল হিসাব থাকার বিষয়টি এজেন্ট কর্তৃক নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় লেনদেন করারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেঁধে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, এক এজেন্টের মোবাইল হিসাব থেকে অন্য এজেন্টের মোবাইল হিসাবে অর্থ জমা বা স্থানান্তর করা যাবে না। একজন এজেন্ট প্রতিদিন পাঁচ বারের বেশি নিজের মোবাইল হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিতে পারবেন না। এছাড়া একজন গ্রাহক প্রতিদিন তার মোবাইল হিসাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বার নগদ অর্থ জমা করতে পারবেন। তবে মাসের হিসেবে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ বিশ বার। অন্যদিকে একজন গ্রাহক প্রতিদিন তিন বার এবং মাসে দশ বার নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

‘মধ্য আয়ের দেশের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ’

‘মধ্য আয়ের দেশের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিম্ন আয় পর্যায়ভুক্তি অতিক্রম করে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পর্যায়ভুক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
শনিবার অষ্টম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল ৬৩০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ৯২৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গ্রামে কর্মসংস্থান ও মজুরি বেড়েছে। দেশের ভেতরে চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। “আমাদের অর্থনীতি এখন নিম্ন আয় পর্যায়ভুক্তি অতিক্রম করে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পর্যায়ভুক্তির দোরগোড়ার কাছাকাছি এসে গেছে। এ সত্যটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চোখ এড়ায়নি।” আতিউর রহমান বলেন, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর এবং মুডি’স রেটিংয়ে পরপর চার বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিবাচক ও স্থিতিশীল মূল্যায়িত হয়েছে। দেশে ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমেছে এবং উত্তরাঞ্চল থেকে ‘মঙ্গা’ নির্বাসিত হয়েছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান। গভর্নর বলেন, “বিশ্ব আর্থিক খাত বিপর্যয় ও তারপর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাজমান প্রবৃদ্ধি মন্দায় উন্নত বিশ্বের অনেক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমাদের দেশজ উৎপাদনে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির গড় বার্ষিক হার ছয় শতাংশের বেশি মাত্রায় গতিশীল রয়েছে। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গুণগত মানও যথেষ্ট উন্নত।” দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ অবদান রাখছে তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে তিন ব্যক্তি ও দুই টি প্রতিষ্ঠানকে এবার পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটিগ্রুপের মানবকল্যাণমুখী সংগঠন সিটি ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় সিটি ব্যাংক এনএ এ পুরস্কারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এই পুরস্কারের জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ঠা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। অন্যদর মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিটি এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন বার্ড, সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল ও সিটি ব্যাংকের কান্ট্রি অফিসার রাশেদ মাকসুদ। এবার শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন কিশোরগঞ্জের রাবেয়া বেগম। শ্রেষ্ঠ কৃষি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে টাঙ্গাইলের নাজমা বেগম এবং শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে ঝিনাইদহের সাহিদা বেগমকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রংপুরের আরডিএসএস বাংলাদেশ এবং শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিভাগে টাঙ্গাইলের সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিসকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাত এখন দেশের অর্থনীতিতে বড় একটি খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক উন্নয়নে এ খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। এখানকার ১০ হাজার টাকার একজন ঋণ গ্রহীতা ব্যাংকের বড় গ্রহীতায় পরিণত হচ্ছে। নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

শ্রমিকদের সুনিশ্চিত অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারো জিএসপি ফিরে পেতে পারে

শ্রমিকদের রক্তমাখা পোশাক নেবে না আমেরিকা: মজিনা[social_icon title="ফেইস বুক - লাইক করুন " url="https://www.facebook.com/EkushNewsMedia/" float="left" profile_type="facebook"]
ঢাকা: ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের রক্তমাখা পোশাক আমেরিকা নেবে না। শ্রমিকদের সুনিশ্চিত অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারো জিএসপি ফিরে পেতে পারে।
সোমবার সকালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের হেল্প ডেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মজীনা এসব কথা বলেন।
মোজেনা বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের মতো আর কোনো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না আমেরিকা।
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। আইএলও’র নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চায়নাকে রিপ্লেস করে বিশ্বের ১ নম্বর ব্রান্ড হওয়ার জন্য আরএমজি সেক্টরে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ডিসিসিআইএর প্রেসিডেন্ট সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিজন কুমার বৈষা ও এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।[social_icon title="ফেইস বুক - লাইক করুন " url="https://www.facebook.com/EkushNewsMedia/" float="left" profile_type="facebook"]
সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

ভারতে রুপির অব্যাহত দরপতন

ভারতের অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকট

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রুপির দাম কমছে

সাইদুল ইসলাম
অর্থনীতি নিয়ে বহুমুখী সংকটে ভারত সরকার। একদিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির রুপির মান ক্রমাগত নামছে। সাথে সাথে শিল্প উত্পাদন কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত কমছে। ২০১১ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিলো সাড়ে সাত শতাংশের উপরে। কিন্তু কমতে কমতে সর্বশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে রুপির দাম কমতে থাকায় ভারতের রপ্তানিকারকরা বাড়তি সুবিধা পেলেও আমদানি পণ্যে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভারত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অচিরেই আবার দাম বাড়বে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, ভারত তার তেল আমদানির ব্যয় মার্কিন ডলারে পরিশোধ না করে নিজস্ব মুদ্রা রুপিতে পরিশোধ করছে। অর্থনীতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে ভারতের অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, শিল্প উত্পাদন কমছে। নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি তো দূরের কথা অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (ভারতের কেন্দ ীয় ব্যাংক) বেশকিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছেঃ বাজারে রুপির সরবরাহ কমিয়ে দিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো, দেশের বাইরে ডলার পাঠানোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ, বিদেশি বিনিয়োগের ওপর থেকে শর্ত তুলে দেয়া। এসব সিদ্ধান্তের পরও অর্থনীতিতে সুবাতাস না আসায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও চিন্তিত। তবে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, 'আমাদের অনেক সম্পদ আছে। তা দিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। যারা অর্থনীতি বিচার করছেন তারা ঠিক মূল্যায়ন করছেন না।' ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক 'হিন্দুস্থান টাইম্স' অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা দেশের জনগণের ওপর কি প্রভাব ফেলবে তার একটি বিবরণ ছেপেছে। তাতে যে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে অগ্রভাগে আছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। এ সময়ে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে উল্লেখ করে পত্রিকাটি বলেছে, এটি অধিকাংশ পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ ফেলবে। অনেকে ভোগ্যপণ্য কেনা কমিয়ে দেবেন। জামা-কাপড়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ অন্যান্য দৈনন্দিন কাজও কমে আসবে। এতে অর্থনীতির প্রবাহ কিছুটা হলেও কমে আসবে। রুপি নিয়ে নানামুখী সংকটে পড়ে ভারতের কেন্দ ীয় ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ ীয় ব্যাংক সোয়া শতাংশ সুদে অর্থ ধার দিচ্ছে। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণ প্রদানে সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ঋণ প্রদানের হার কমে আসছে। যার প্রভাব পড়েছে শিল্প উত্পাদনে। ভারতের অর্থনীতিকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সংকটে ফেলেছে তা হলো রুপির অব্যাহত দরপতন। গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি ২৫ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়ে নিজের দেশে ডলার আকারে তা পাঠিয়ে দেয়ার কারণেই রুপির এ দরপতন। রুপির দরপতনের কারণে আমদানি করা বিভিন্ন কাঁচামাল এবং বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ ভারত সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এতে করে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। রুপির অব্যাহত দরপতনে ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। গতকাল রবিবার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটার প্রতি ২ টাকা ৩৫ পয়সা। রান্নার কাজে ব্যবহূত সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে ৯৬৭ টাকা করা হয়েছে। সামনের কয়েকদিনে কেরোসিনের দাম বাড়ানোর ইংগিত দেয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, 'ফের দাম বাড়লো পেট্রোল ডিজেলের। অর্থনীতিতে লাল সংকেত। মানুষ অভুক্ত, ইউপিএ মৃত।' জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেছেন, সংসদ চলাকালীন তাকে এড়িয়ে সপ্তাহান্তে দাম বাড়ানোর এ প্রবণতা নিন্দনীয়। এর ফলে রান্নাঘরে আগুন জ্বলবে। মানুষ সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।' ভারতের রুপির দাম পড়ে যাবার কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের কষ্ট বাড়ছে। অপরদিকে রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগে এক ডলারের বিপরীতে সেখানকার রপ্তানিকারকরা ৫৮ রুপি পেলেও এখন তারা পাচ্ছেন ৬৮ রুপির বেশি। অর্থনীতির মন্দা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ডক্টর মনমোহন সিংও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিতে ১৯৯১ সালের অবস্থা আর এবারকার অবস্থা এক নয়। আমাদের যথেষ্ট সম্পদ আছে। তা দিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে ভারতের অর্থনীতিতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো তা কাটিয়ে উঠার পর এবার আবার সংকটে পড়েছে।

সামাজিক প্রথার পাশাপাশি কাজ করছে সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখার...

ভারতে ঘরে ঘরে সোনার পাহাড়

gold
সোনা কেনার ও বাড়িতে তা জমানোর একটা প্রবণতা বরাবরই রয়েছে ভারতে৻ কিন্তু বর্তমানে তা একটা অবিশ্বাস্য জায়গায় পৌঁছেছে। ব্যাঙ্কিং ও ফাইনান্স বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা, ম্যাকুয়েরি তাদের এক সমীক্ষায় বলছে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদনের অর্ধেকের সমপরিমাণ অর্থ জমে রয়েছে সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে। তাদের হিসেবে ভারতীয়দের ঘরে ১৮ হাজার টন পরিমাণ সোনা জমানো রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক লাখ কোটি ডলার। সোনা কিনে ঘরে জমিয়ে রাখার এই প্রবণতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভারতের সার্বিক অর্থনীতির উপরে। ম্যাকুয়েরি বলছে ভারতের সোনার মজুদ বিশ্বের মোট সোনার মজুদের এগারো শতাংশ। শুধুমাত্র চীন সোনার মজুদের বিষয়ে ভারতের থেকে এগিয়ে। এই অর্থ মানুষের বাড়ি থেকে বের করে বাজারে লগ্নি করানোটা যে বিশেষ জরুরি তা স্বীকার করে ভারতের সরকার। কারণ, দেশি ও বিদেশি নানান কারণে ভারতের অর্থনীতি ক্রমশ তার গতি হারাচ্ছে। কমে আসছে প্রবৃদ্ধির হার, সাথে বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি। একইসাথে রুপির অবমূল্যায়ন ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময়ে সেনা কিনে জমিয়ে রাখা অর্থের কিছুটা পাওয়া গেলেও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সুবিধা হতো। ম্যাকুয়েরি জানাচ্ছে, বাজার থেকে কেনা সোনার বিরানব্বই শতাংশই এসেছে বিদেশ থেকে। ফলে সোনা আমদানিতে নগদ টাকাও বেরিয়ে যাচ্ছে ভারত থেকে।
কিছুটা পারিবারিক চাপে আর কিছুটা ট্র্যাডিশন রক্ষায় তারা হলুদ ধাতু কিনবেনই।-অশোক ওয়ার্দা, দিল্লির মুদ্রাবাজার বিশেষজ্ঞ
কেন এই সোনা প্রীতি? এভাবে লাগাতার সোনা কিনে কেন অর্থনীতিকে বিপদে ফেলছেন ভারতের মানুষ ? পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, সামাজিক প্রথার পাশাপাশি কাজ করছে সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখার প্রবণতা। দিল্লির এক গৃহবধু বিবিসিকে বলেন,“শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে সোনা পরাটা জরুরি। বিশেষ করে বিয়ে বাড়িতে। এতে দুটো কাজই হচ্ছে – গহনাও পরা হচ্ছে, ভবিষ্যতের জন্যে বিনিয়োগও হচ্ছে“ তবে মুদ্রা বাজারের একজন বিশেষজ্ঞ, অশোক ওয়ার্দা‘র বক্তব্য, যারা সোনা কেনেন তারা শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফাণ্ডে বিনিয়োগ করেন না – এই ধারণা ভুল। “কিন্তু কিছুটা পারিবারিক চাপে আর কিছুটা ট্র্যাডিশন রক্ষায় তারা হলুদ ধাতু কিনবেনই, তাদের থামানো যাবে না“। পাশাপাশি কালো টাকাকে সাদা করার মোক্ষম পন্থা সোনা কিনে ঘরে রেখে দেয়া। সেই কারণেও অনেকেই তাঁর কাছ থেকে সোনা কেনেন বলে স্বীকার করলেন দিল্লির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সোনা-ব্যবসায়ী।

ফ্ল্যাট প্লটে বিনিয়োগে টাকার উত্স খুঁজবে না এনবিআর

প্রকারান্তরে দেশে দূর্নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে... ফ্ল্যাট প্লটে বিনিয়োগে টাকার উত্স খুঁজবে না এনবিআর বর্তমান প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ দিয়েছে সরকার। যুক্ত করা হয়েছে আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা। এ ধারা মতে আবাসিক প্রয়োজনে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বা নির্মাণে নির্দিষ্ট হারে কর দেয়া হলে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করা টাকার উত্স খোঁজবে না (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) এনবিআর। এনবিআরের আয়কর বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে জমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বা নির্মাণে অপ্রদর্শিত বৈধ অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছিল সরকার। ওই সুযোগে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বা নির্মাণে ১ হাজার ৪৭৫ জন করদাতা অপ্রদর্শিত বৈধ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। তা থেকে সরকার ট্যাক্স পেয়েছিল ৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া ওই সুযোগ নিয়ে ১৭৬ জন করদাতা জমি ক্রয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে সরকার ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১নং আয়কর পরিপত্রে দেখা যায়, অপ্রদর্শিত বৈধ অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে সরকার। একজন করদাতা যদি আবাসিক প্রয়োজনে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে বা নির্মাণে বিনিয়োগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের পরিমাপের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিলে কর বিভাগ ওই বিনিয়োগের উত্স সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করবে না। কর মামলা অনিষ্পত্তি থাকলে পূর্ববর্তী বিনিয়োগ সংশিষ্ট যে কোনো কর বছরের কর নির্ধারণের আগে কর পরিশোধের মাধ্যমে এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদর্শনের সুযোগ গ্রহণ করা যাবে। তবে কোনো কর মামলা যদি একবার নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তীতে কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে কর মামলা পুনঃনিষ্পত্তির আগে নতুন এ ধারায় বিনিয়োগ প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া অনাবাসিক বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট অর্থাত্ বাণিজ্যিক বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ প্রদর্শন করা যাবে না। অন্যদিকে কোনো করদাতা দেশের যে কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় এক বা একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির মালিক হলে এ পদ্ধতিতে নতুন কোনো বিনিয়োগের ঘোষণা প্রদান করলে ওই করদাতাকে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে বা নির্মাণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। আয়কর অধ্যাদেশে এই নতুন ধারাটি যতদিন বলবত্ থাকবে, ততদিন করদাতারা আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত বৈধ অর্থ বিনিয়োগের এই সুযোগ পাবেন। পরিপত্রে এলাকাভেদে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় ও নির্মাণের ওপর কর ধার্যের পরিমাণ ছক আকারে দেয়া আছে। সে হিসাব মতে, রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় বাড়ি/ অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের মধ্যে হলে প্রতি বর্গমিটারে ৫ হাজার টাকা কর প্রদান করতে হবে। তবে ২০০ বর্গমিটারের অধিক আয়তনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ৭ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ঢাকার ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, কাওরানবাজার, বিজয়নগর, সেগুন বাগিচা ও নিকুঞ্জ এবং চট্টগ্রামের পাঁশলাইশ, খুলশি, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের মধ্যে হলে প্রতি বর্গমিটারে ৪ হাজার টাকা, ২০০ বর্গমিটারের অধিক আয়তনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। উল্লিখিত এলাকাগুলো ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অন্যান্য এলাকা এবং অপরাপর সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় ২০০ বর্গমিটার আয়তনের মধ্যে হলে প্রতি বর্গমিটারে ২ হাজার টাকা, তার অধিক আয়তনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৩ হাজার টাকা কর দিতে হবে। জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভায় ২০০ বর্গমিটার আয়তনের মধ্যে হলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য এক হাজার টাকা, তার অধিক আয়তনের হলে দেড় হাজার টাকা কর দিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য এলাকায় ২০০ বর্গমিটার আয়তনের মধ্যে হলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৭০০ টাকা এবং ২০০ বর্গমিটারের অধিক আয়তনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে এক হাজার টাকা কর দিতে হবে।

১ লাখ কর্মী নেবে ইরাক

১ লাখ কর্মী নেবে ইরাক যুদ্ধবির্ধ্বস্ত ইরাক গুছিয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন বন্ধের পর এখন তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকেও তারা কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপাচ্যের এ দেশটির সরকার প্রথম দফায়ই বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী (পর্যায়ক্রমে) নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সূত্রের দাবি, এ মুহূর্তে কনস্ট্রাকশনসহ বিভিন্নখাতে ইরাকে অসংখ্য কর্মী প্রয়োজন। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হলে ইরাকের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান গতকাল টেলিফোনে বর্তমানকে বলেন, ‘ইরাক খুবই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন তেমন বেশি সংখ্যক শ্রমিক যেতে পারেনি দেশটিতে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টায় এখন সফলতা উঁকি দিচ্ছে। বাংলাদেশের কর্মী নেয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে ইরাকের ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের আগামী ৩০ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।’ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি পর্যায়ে নানা প্রচেষ্টার পর খুলতে যাচ্ছে ইরাকের শ্রমবাজার। ৩১ আগস্ট ইরাক-বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমইইউ) স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ লক্ষ্যে ইরাক সরকারের ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবেন। ইরাকের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন দেশটির লেবার অ্যান্ড স্যোশাল মিনিস্টার নাসার আল রুবাই। তাদের (ইরাকের) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশেরও ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল (স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রবাসীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের) প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ড. ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, ইরাকে বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার নানামুখী চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ইরাক সফর করে কর্মী পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সে সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে একটি এমইইউ এর খসড়াও দিয়ে আসে ইরাকে। মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির সংশ্লিষ্টদের হিসেবে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মী আছে ইরাকে। প্রসঙ্গত, গত বছর শ্রমবাজার খাত থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। Iraq aims to import manpower from Bangladesh for post-war reconstruction and infra-structural development process. A Memorandum of Understanding (MoU) is scheduled to be signed in the first week of September between Bangladesh and Iraq, which aims to import manpower for post-war reconstruction and infra-structural development process. “We are going to sign a MoU with Iraq as there are opportunities to expand our labour market there,” joint secretary of the expatriates’ welfare ministry, AHM Mostofa Kamal, told the Dhaka Tribune yesterday. He added they have been negotiating with Iraq for the last couple of years and the talks are now in the final stages. Officials of the ministry said the signing is likely to take place on September 1, when the eight-strong delegation of Iraq led by its labour minister Leyla Abdul Latif would be in Dhaka on a visit. The envoy would arrive in Dhaka on August 31 and be in Dhaka for four days. In 2011, a high-level Bangladeshi delegation led by expatriates’ welfare minister, Khandaker Mosharraf Hossain, visited Iraq to ensure security of Bangladeshi workers and employment of jobless expatriates there, one of the members told the Dhaka Tribune. The entourage member said the draft MoU was handed over to the Iraqi labour and foreign ministers at that time. Bureau of Manpower, Employment and Training (BMET) records show a total of 2,441 workers have gone to Iraq in the first half of 2013; 359 in 2012; 234 in 2011; 2,288 in 2010 and 412 in 2009. A senior expatriates’ welfare ministry official said manpower export to Iraq was suspended before that due to the war. সূত্রঃ ইন্টারনেট

আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম
ঢাকা: আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন দাম নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি। এবারের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে এক মাসে তিনবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হবে। গ্রেড ভেদে প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই দিন ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আগের দরের চেয়ে ৯৩৪ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৮৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ৭০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি। যা পরদিন থেকে কার্যকর করা হয়। এর আগে ২ আগস্ট স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। দাম বাড়নোর বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সভাপতি ডা. দিলীপ রায় ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম নির্ধারণী কমিটি বসবে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আমাদের দেশেও স্বর্ণের দাম বড়ানো হবে। তবে কত বাড়ানো হবে সেটি কমিটি নির্ধারণ করবে। কিমিটি সদস্যার কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুয়েলারি সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ এক্সিকিউটিভ কমিটির সদরা থাকবেন। দাম নির্ধারণী মিটিং দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট তথা সর্বোচ্চ মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকা। ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম যথাক্রমে ৪৮ হাজার ৪৬৩ ও ৪১ হাজার ৫২৩ টাকা। সনাতনী স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২৯ হাজার ১৬০ টাকা। সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

অবশেষে আইজিডব্লিউ’র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি

সরকারের শত শত কোটি টাকা বকেয়া
অবশেষে আইজিডব্লিউ’র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি
ঢাকা: শত শত কোটি রাজস্ব বাকি থাকায় ও সরকারের নিয়মনীতি না মানায় আইজিডাব্লিউগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্যে  টেলেক্স লিমিটেডের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । এছাড়া লাইসেন্স প্রাপ্ত বাকি অন্তত বিশটি কোম্পানির কল এক মিলিয়নে সীমিত করে দেয়া হয়েছে বলে সূত্র ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে।
বিটআরসির মহাপরিচালক (স্পেকটাম ম্যানেজমেন্ট)বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। কিন্তু এর বেশিকিছু বলতে চাননি তিনি।
বিটিআরসি সূত্র জানায়, গেটওয়ে অপারেটরস আইজিডব্লিউর কাছে বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির পাওনা ৯৪৭ কোটি টাকা। পাওনা টাকা ফেরত দেবের শর্তে আইজিডব্লির ৬টি অপারেটরকে ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করতে ২৬ আগস্ট পর‌্যন্ত সময় বেধে দেয় বিটিআরসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় টেলেক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আর প্রায় ২০টি অপারেটরকে এক মিলিয়নের বেশি কল না নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিটিআরসি সূত্রে আরো জানা গেছে, দেশে বর্তমান ২৯টি আইজিডব্লিউ রয়েছে। এরমধ্যে ভিশন, ওয়ান এশিয়া অ্যালিয়েন্স, ডিবিএল, সেল টেল, বাংলা টেল, বিজি টেল, নোভটেল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে, ডিজিকন, প্লাটিনাম,ফাস্টকম, মস ফাইভ গ্লোবাল ভয়েস, রুটস, সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস, এইচআরসি টেকনোলোজিস ও রাতুলসহ প্রায় ২০ আইজিডাব্লিউ এর কাছে সরকারের বকেয়া পড়ে আছে কয়েকশ কোটি টাকা। ফাস্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে বিটিআরসি’র পাওনা ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবশ্য কিছু টাকা তারা পরিশোধ করেছেন। টেলেক্স লিমিটেডের কাছেও বিটিআরসির পাওনা ৬২ কোটি টাকা। এর মালিক আব্দুর রহমান বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার আত্বীয়-স্বজনের দুই ছেলে এবং ছেলে বউদের নামে নেয়া হয়েছে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স এর গেটওয়ের লাইসেন্স। ভিশন টেল লিমিটেডের সাথে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের মেয়ের সম্পর্ক আছে। রাতুল টেলিকম লিমিটেডের সঙ্গে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মেয়ের মালিকানা রয়েছে। মস ফাইভের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের সম্পর্ক রয়েছে।
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, গত ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের জুন পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানই জুন পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করেনি। অর্ধেক প্রতিষ্ঠান মার্চ পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করেছে। আর ৫/৬টি প্রতিষ্ঠান এ বছর কোন টাকাই দেয়নি। বিটিআরসির হিসেব বলছে, ডিসেম্বরের শেষে তাদের পাওনা পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। মার্চের শেষে এটি বেড়ে যায় ৫৩৩ কোটিতে। আর জুনের শেষে তা দাঁড়ায় ৯৪৭ কোটিতে। আর গেল জুলাই মাসের পাওনা ধরলে ১১শ\\’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কিছু টাকা পরিশোধ করেছে। তারপরও বিটিআরসির পাওনা হাজার কোটি টাকার কম হবে না।
 বিটিআরসি সূত্রে আরো জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে কল করার চার্জ মিনিট প্রতি দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা আড়াই টাকা। আইজিডব্লিউয়ের মাধ্যমেই এ আন্তর্জাতিক কলগুলো করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিটিআরসিকে এর ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ অর্থ প্রদানের শর্ত থাকলেও, তা একেবারেই মানা হচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন গেটওয়ে অপারেটরসের (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বেশির ভাগেরই উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে। আর তার বলি হচ্ছে দেশের টেলিকম খাত।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগে যখন ৪টি লাইসেন্স ছিল তখন যে কল এসেছিল এখন ২৯টি লাইসেন্স দেয়ার পরও কল বাড়েনি। ফলে বাড়েনি সরকারের কোন রাজস্বও। এক হিসেবে দেখা গেছে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে যখন ৪টি লাইসেন্স ছিল তখন কল এসেছে ১৩৫ কোটি মিনিট। ২০১২ সালে এই সময় এর পরিমাণ ছিল ১৪৩ কোটি মিনিট। তখনও লাইসেন্স ছিল ৪টি। আর ২৯টি লাইসেন্স দেয়ার পর এবার জানুয়ারিতে কল এসেছে ১৩২ কোটি মিনিট। একইভাবে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কল এসেছে ১২২ কোটি মিনিট। ২০১২ সালের জুলাই মাসে ১২৪ কোটি মিনিট। আর ২৯টি লাইসেন্স দেয়ার পর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১২৫ কোটি মিনিট। গত মার্চে কল এসেছে ১৩১ কোটি মিনিট। আর ৪টি লাইসেন্সের সময় গত বছরের মার্চে এসেছিল ১২৪ কোটি মিনিট। আর ২০১১ সালের মার্চে এসেছিল ১৩২ কোটি মিনিট।
জানা গেছে, আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে আইজিডব্লিউ প্রথম যাত্রা শুরু করে। সে সময় নিলাম আহ্বানের মাধ্যমে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরও ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে। আর এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগের মালিকানায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিত্বরা।
বিটিআরসি সূত্রে বলা হচ্ছে, বড় এ বকেয়া প্রতি ৩ মাসে দ্বিগুণ হচ্ছে। বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিশোধিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যাংক থেকে জামানতের সাড়ে ৭ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিল। এ বছরের মার্চের অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫শ’ ৩৩ কোটিতে। শেষ অর্থবছরে গত জুন মাসে বকেয়া অর্থের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে ৯শ’ ৪৭ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বার্ষিক লাইসেন্স ফির সাড়ে ৭ কোটি টাকাও দিতে অপারগতা জানায়। কর্মকর্তারা বলছেন, বহু আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে বকেয়া পরিশোধের ন্যূনতম ইচ্ছাও প্রকাশ করছে না। যার অর্থ লাগামহীন এ বকেয়া বাড়বে আরও বহুগুণ। পুরনো আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন মালিক অভিযোগ এনেছেন, নতুন অপারেটররা সরকার নির্ধারিত প্রতি মিনিটে দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা আড়াই টাকা রেটও বজায় রাখছে না। তারা আরও কম কলরেট রাখছে যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে জাতীয় রাজস্বতে। ব্যবসাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকে তাদের কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধও করে দিয়েছেন। সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন কেনাকাটা

জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন কেনাকাটা
হিটলার এ. হালিম পালং শাক থেকে শোল মাছ, হস্তশিল্প থেকে সুগন্ধি, জামা-কাপড় থেকে জুয়েলারি, শাড়ি থেকে ঘর গোছানোর সামগ্রী- অনলাইনে সবই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। হালে রীতিমতো ক্রেজে পরিণত হয়েছে অনলাইনে কেনাকাটা। ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটারে ঢুকে সংশ্লিষ্ট সাইটে গিয়ে পণ্যসামগ্রী কেনার ফরমায়েশ দেয়া এবং সে অনুযায়ী ঘরে বসে পণ্য বুঝে পাওয়াই হলো অনলাইনে কেনাকাটা। শুধু কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাব নয়, হাতের মোবাইলফোনটিও এখন অনলাইনে কেনাকাটা করার একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ।
যারা ব্যস্ততার জন্য শপিংয়ে যেতে পারেন না, যানজট পেরিয়ে কেনাকাটা করতে যাওয়া যাদের কাছে কষ্টকর এবং জটিল কাজ বলে মনে হয় তাদের জন্যই মোক্ষধাম অনলাইনে কেনাকাটার এই আয়োজন। দোকানে বা শপিং মলে গিয়ে যেভাবে পরখ করে পছন্দের পণ্যটি কেনা হয় ঠিক সেভাবে সংশ্লিষ্ট অনলাইন শপে ঢুকে ছবি এবং দাম দেখে অনলাইনেই ক্রয়ের আদেশ দেয়া সম্ভব। ডেলিভারির সময় হাতে অর্ডার দেয়া জিনিস পেয়ে যাচাই করে নেয়ারও সুযোগ রয়েছে। সাইটে উল্লেখ থাকা জিনিস না পেলে অর্ডার বাতিল করা যায় তবে তা কেবল ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্রে জানা গেছে, দেশে অনলাইনে কেনাকাটার সাইট রয়েছে অর্ধ শতাধিক। আর ফেসবুকে এর সংখ্যা কয়েকশ’।
এখনি ডট কম, আজকের ডিল, বাংলাদেশব্র্যান্ডস ডট কম, গিফটমেলা ডট কম, বাংলাদেশ গিফট শপ, ইভলভ, ঢাকা শাড়ি ডট কম, পুনঃ ডট কম, বিপণি ডট কম, প্রিয়শপ ডট কম, বিডিহাট ডট কম, ই-সুফিয়ানা ডট কম, যেমন খুশি ডট কম, উপহারবিডি ডট কম হলো দেশের জনপ্রিয় অনলাইন কেনাকাটার দোকান। এছাড়া বুটিক হাউস কে-ক্র্যাফট ও অঞ্জন’স-এর সাইটে গিয়েও পছন্দের পণ্যটি কেনা যাবে। বই কেনা যাবে রকমারি ডট কমের সাইটে গিয়ে। অন্যদিকে ফেসবুক কেন্দ্রিক কেনাকাটার ফ্যানপেজ হলো বাংলাদেশি গহনা। এই পেজে পাওয়া যাবে নানা ধরনের জুয়েলারির খোঁজ। দেশ-বিদেশ থেকে এই পেজে ঢুকে অর্ডার দেয়া যাবে।
অনলাইন কেনাকাটার সাইটের ঠিকানা জানা না থাকলেও সমস্যা নেই। প্রতিষ্ঠানটির নাম জানা থাকলে গুগলে গিয়ে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। যদি তাও জানা না থাকে তাহলে গুগলে গিয়ে বাংলাদেশি ই-কমার্স সাইট লিখে সার্চ দিলে দেখা যাবে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা। ভিজিট করলে জানা যাবে কোন সাইটে কী পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে অনলাইনে এগিয়ে রয়েছে রেলওয়ে এবং অভ্যন্তরীণ বিমানের টিকিট কেনার হার। এর পরেই আছে হোটেল বুকিং, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, বই, পোশাক-আশাক, খাবার-দাবারসহ আরো কিছু আইটেমের নাম।
বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামীম আহসান জানান, অনলাইনে কেনাকাটার জন্য দেশের দুটি ব্যাংকে পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়েতে মাসে ১০ কোটি এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে মাসে ২ কোটি টাকার বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ঈদের চেয়ে এবারের ঈদে দ্বিগুণ পণ্য বিক্রি হয়েছে অনলাইনে।’ তবে কিছু অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে অনলাইন কেনাকাটায় ক্যাশ অন ডেলিভারিই (হাতে পণ্য বুঝে পেয়ে দাম পরিশোধ) বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, সাইটগুলোতে বিভিন্ন আইটেমের পণ্যে ছাড় থাকে। সাইট কর্তৃপক্ষ মার্চেন্টদের (সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদক, পরিবেশক) অফার করে, সাইটে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিজিটর (৪-৫ হাজার) লগ ইন করে, ফেসবুকের ফ্যানপেজে ফলোয়ার রয়েছে কয়েক লাখ। বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিক্রি বেড়ে বাড়বে। আর প্রতিষ্ঠানটির লোগো সাইটে প্রদর্শিত হলে ব্র্যান্ডিংটাও হয়ে যাবে।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনলে আবার অনেক ব্যাংক ক্যাশব্যাক অফার করে। ফলে একজন ক্রেতা অনলাইন থেকে পণ্য কিনলে বিশেষ ছাড় এবং ক্যাশব্যাক দুই-ই পাচ্ছেন। দেখা যায় এতে ক্রেতারই লাভ বেশি। এর পাশাপাশি বিকাশ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও অনলাইনে কেনাকাটা, লেনদেন হচ্ছে।
সিটিও ফোরাম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এরই মধ্যে অর্ধকোটি পার হয়ে গেছে। অনলাইনে কেনাকাটায় এসবের ভূমিকা রয়েছে। বিদেশে বসেও এখন সহজে দেশে থাকা প্রিয়জনদের জন্য অনলাইন সাইটগুলো থেকে উপহার কিনে পাঠানো যাচ্ছে।

গ্রামীণফোন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করছেন অন্যজন নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৭-০৮-২০১৩ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সটা নিয়েছেন একজন আর ব্যবহার করছেন অন্যজন। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু যেহেতু গ্রামীণফোন বৈদেশিক বিনিয়োগের বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠান, তাই লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়নি। এছাড়া গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ার হচ্ছে টেলিনরের। তারা তো গ্রামীণ ব্যাংককে চেনে না। তারা চেনে গ্রামীণ টেলিকমকে। তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ড. ইউনূসের সঙ্গে। গ্রামীণফোনের আরো গভীরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। আজমালুল হোসেন কিউসির প্রতিবেদনটি ‘আংশিক’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে প্রতিবেদন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আগামী এক মাসের মধ্যেই গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ নির্বাচন করা হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করা এবং এর বৈশিষ্ট্য ও এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালে সরকারি অর্থায়নেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটাকে নিজের প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। যেভাবে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের নাম ব্যবহার করেছেন ও ব্যাংকের পরিচালকদের জন্য নিজে যে বিধান চালু করেছেন তা অবৈধ। গ্রামীণফোনের কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাপ্য টাকা প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘এটি ইউনূস সাহেব জানেন। আর এখানে টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়াটিও গোলমেলে। কমিশন পুরো বিষয়টি এখনো বের করতে পারেনি।’ গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেবই এগুলো করিয়েছেন। চাপ অনুভব করেছি এ কারণে যে, একেক দিন একেক দেশের মন্ত্রী ও কংগ্রেসম্যানরা চিঠি লেখেন। আর সেটা তারা লেখেন প্রকাশ্যে। তাদের এসব চিঠির জবাব দিতে গিয়ে আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।’ গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনূসের প্রচারণা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ড. ইউনূস এটা করছেন। তিনি রাজনীতিবিদ কিন্তু রাজনীতিবিদের পোশাক পরেন না। তিনি আরো বলেন, ড. ইউনূস যখনই বিপদে পড়েছেন সরকারের সাহায্য চেয়েছেন। যখন সুখে ছিলেন তখন সরকারের কাছে আসেননি, যা খুশি তা-ই করেছেন। এদিকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলের হলরুমে ‘মাল্টি এজেন্সি ট্রেনিং প্রোগ্রাম অন অ্যাসেট রিকভারি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি বড় সাফল্য উল্লেখ করে মুহিত বলেন, দুদক সিঙ্গাপুর থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে যেভাবে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে, তেমনি অন্যদের পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দুদক তাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.