বাংলাদেশের গার্মেন্ট নিয়ে কানাডায় নেতিবাচক প্রচার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা স্থগিত করলেও কানাডা তা করেনি। বরং এই জিপিটি (জেনারেল প্রিফারেন্সিয়াল ট্যারিফ) সুবিধা আরো ১০ বছর অব্যাহত রাখবে। তারপরও বাংলাদেশের গার্মেন্ট নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম কানাডায় নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি কানাডার জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিবিসি টেলিভিশন 'ফিফথ স্টেট' অনুষ্ঠানে এক লোমহর্ষক প্রামাণ্যচিত্র: 'মেড ইন বাংলাদেশ' প্রচার করে। পরে জাতীয় দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইলও তাদের উইকএন্ড প্রচ্ছদ নিবন্ধ 'দ্য ট্রু কস্ট অব এ টি-সার্ট' প্রকাশ করে। তাদের 'রিপোর্ট অন বিজনেস' সেকশনে ফাস্ট ফ্যাশনের পুলিশিং অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। গত সপ্তাহেও আরেক জাতীয় দৈনিক টরন্টো স্টার তাদের আন্তর্জাতিক পাতায় স্টাফ রিপোর্টার রিক ওয়েস্টহেড রচিত 'মিট দ্য কানাডিয়ান হু ইজ মেকিং এ বাক ইন বাংলাদেশ দ্য সেফ ওয়ে' শিরোনামযুক্ত নিবন্ধে এই শ্রমমজুরির চাঞ্চল্যকর তথ্যটি তুলে ধরেছেন। তাতে বেতনভাতা, নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিত্সার চিত্র প্রতিফলিত হয়। এছাড়াও কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহ জান সম্প্রতি ঢাকায় রানা প্লাজা দর্শন করে ফিরে এসে জানান, অতি অল্প মজুুরি আর চরম ঝুঁকির মধ্যে শ্রমিকরা কাজ করেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম অমানবিক জীবন যাপন করে। এই দুরবস্থা তিনি আগামী সিনেট অধিবেশনে তুলে ধরবেন। ইতোপূর্বে টরন্টোর জনপ্রিয় ইয়র্কডেল মলের ট্রিশটান (TRISTAN) ফ্যাশন হাউজের সামনে সাইন বোর্ডে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিরোধী প্রচারণা তুলে ধরা হয়। এসব নেতিবাচক প্রচার ঠেকাতে ওটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। হাইকমিশনার কামরুল আহসান ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে ডিপার্টম্যান্ট অফ ফরেন এ্যাফায়ার্স, লবলো'জ, কসস্কো, সিয়ার্সসহ যে সব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে তাদের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করছেন এবং আগামী ৩১ অক্টোবর পার্লামেন্টে স্পিকার অফ দ্য সিনেটের সাথে বৈঠক করবেন। এদিকে, গ্রোসারী জায়ান্ট হিসেবে খ্যাত কানাডার লবলো'জ রানা প্লাজা ধসে নিউ ওয়েভ স্টাইল ফ্যাক্টরির ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এখানে এক ঘোষণায় লবলো'জ বলেছে যে, তাদের জোফ্রেশ ব্র্যান্ডের গার্মেন্ট পণ্য উত্পাদনে রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ ফ্যাক্টরিতে নিয়োজিত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি ৩ মাসের মজুরি প্রদান করবে। ইতিমধ্যে লবলো'জ বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্ট শ্রমিকদের সহযোগিতায় 'সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ' ও 'সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড' প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১ মিলিয়ন ডলার অর্থাত্ সাড়ে ৭ কোটি টাকা প্রদান করেছে। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কানাডা প্রতিনিধি

নিস্তেজ হয়ে আসছে দেশের পুঁজিবাজার

09 Oct, 2013
আবারও নিস্তেজ হয়ে আসছে শেয়ারবাজার। প্রতিদিনই কমছে সূচক ও বাজার মূলধন। একইভাবে লেনদেন কমে আসছে। অর্থাৎ শেয়ার বিক্রির পর অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই বাজারে ফিরে আসছেন না। আবার একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী আতংকে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে গত ১৩ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সূচক কমেছে ৩০৪ পয়েন্ট। আর এ নিয়ে ডিএসইর সূচক এখন ৫ মাস আগের অবস্থানে চলে এসেছে। এদিকে আজ বুধবার টানা চার কার্যদিবস পতনের পর সূচকের উত্থানে পার করেছে দেশের উভয় শেয়ারবাজার। চার কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচক কমেছে ১৬২ পয়েন্ট। আর এক কার্যদিবসে সূচকে বেড়েছে মাত্র ৩৮ পয়েন্ট। চার কার্যদিবস পর সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। অর্থাৎ ডিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটি টাকার। এর আগের সকাল সাড়ে ১০টায় সূচকের উত্থানে শুরু হয় লেনদেন। যা কিছুক্ষণ পর পতনে রূপ নেয়। পতন থেকে সূচক আবার উত্থানে ফিরে আসে। যা অব্যাহত থেকেই শেষ হয়েছে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসের লেনদেন। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বলছে, তাদের কাছে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল নেই। আর অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সামনে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশংকায় বিনিয়োগকারীরা আতংকিত। এছাড়া অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতিবাচক রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কারণে বাজারে চাহিদা একেবারে কমে গেছে। সামনে ঈদের ছুটি থাকায় নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইছেন না। এদিকে শর্ট সেল বন্ধ করতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। সাম্প্রতিক বাজার চিত্র : গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এরপর দরপতন শুরু হয়। আর ১৩ কার্যদিবসের ব্যবধানে সোমবার তা ২ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসেবে বাজার মূলধন কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে ডিএসইর সূচক ৪ হাজার ৯৭ পয়েন্ট থেকে কমে ৩ হাজার ৭৯২ পয়েন্ট নেমে এসেছে। অর্থাৎ সূচক কমেছে ৩০৪ পয়েন্ট। ডিএসইর এ সূচক ৫ মাস আগের স্থানে অবস্থান করছে। বুধবারের বাজার চিত্র : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্রড ইনডেক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৩৮৩১ পয়েন্টে। ডিএসইতে মোট ২৮০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৩টি, কমেছে ৬১টি আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের। টাকার পরিমাণে মোট লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৭৪৬১ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট ২০৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ৬৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের। টাকার পরিমাণে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার। গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রড ইনডেক্স কমেছিলো ৬৪ পয়েন্ট। এদিন মোট লেনদেন হয় ২৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মিডিয়াকে বলেছেন, বাজারে কয়েকটি কারণে দরপতন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ঈদের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে টাকা তুলে নেয়ার প্রবণতা। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট দিচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি রয়েছে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকগুলোর আয় ভালো না। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে আসছে। ফলে আগামী বছরে তাদের আয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে বাজারে চাহিদা ব্যাপক কমে গেছে। এদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, ঈদের কারণে সামনে লম্বা ছুটি আসছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে চাইছে না। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে বিনিয়োগযোগ্য অতিরিক্ত তহবিল নেই। যার হাতে যতটুকু তহবিল রয়েছে, তারা বিনিয়োগের চেষ্টা করছে। শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি বলছে, বিনিয়োগকারীরা আতংকে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। এছাড়াও সামনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কোরবানির ছুটির কারণে বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছে
উৎসঃ   টাইমনিউজবিডি

ডব্লিউটিও’র প্রটোকলেই থাকছে বাংলাদেশ

ডব্লিউটিও’র প্রটোকলেই থাকছে বাংলাদেশ

আপটা সাময়িক স্থগিত * এফটিএ চুক্তির প্রক্রিয়া চলছেঃ

  -শাহ আলম খান

বড় অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) দিকেই গড়াচ্ছে। বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতদিন এ বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য চলত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পৃথক দুই বাণিজ্য সুবিধার প্রটোকলের আওতায়।

এর একটি হচ্ছে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তি (আপটা); অপরটি হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। সম্প্রতি এতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বাড়তি সুযোগ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা বিষয়ক বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে আপটার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে লেটার অব ইনডেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে চীনের বাজারে বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গন্তব্য এফটিএ হলেও-সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত ডব্লিউটিও’র প্রটোকলে থাকা চলমান শুল্কমুক্ত সুবিধাই বহাল থাকছে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে ‘আপটা’ স্থগিত করেছে চীন। একইভাবে উন্নয়নশীল দেশে চূড়ান্ত উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চীনের বাজার থেকে ডব্লিউটিও’র প্রটোকলে থাকা শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। চীন বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।

কবেনাগাদ চীনের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, একটা প্রক্রিয়া চলছে। সেটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এফটিএ’র মতো চুক্তি স্বাক্ষরে যাতে বাংলাদেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টিই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হবে।

একইভাবে ক্ষতি হলে বিকল্প উপায়ে কিভাবে তার চেয়ে বেশি সুবিধা আদায় করা যায় তা কম্প্রিহেনসিভ সমীক্ষা চালিয়ে দেখতে এফটিএ সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটির ১৩ সদস্য কাজ করছেন। তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, চুক্তি হবে। তবে সেটা ধীরে-সুস্থে, শতভাগ দেশের স্বার্থ বজায় রেখেই হবে।

তবে কবেনাগাদ হতে পারে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের মতো বড় বাজারের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করা হলে দেশীয় বাজার চীনা পণ্যে সয়লাবের মতো ঝুঁকি রয়েছে। তবে ঝুঁকিমুক্ত থাকার বিকল্প পথও খোলা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেটি নির্ভর করবে বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতার ওপর।

এফটিএ শুধু পণ্যভিত্তিক আমদানি-রফতানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি এতে বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা, জনশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ অর্থনৈতিক বৃহত্তর অংশীদারিত্বমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভক্ত করা যায়।

এসব বিষয়ে চীন সরকারের সম্মতি আদায়ে যদি দায়িত্বশীল দরকষাকষি করা যায় তাহলে এফটিএ থেকে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক লাভ নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দায়িত্বশীলদের এসব বিবেচনায় রেখেই এগোতে হবে।

কেন এফটিএর মতো পদক্ষেপ : ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছলে ২০২৭ সালের পর অন্যান্য দেশের মতো চীনের বাজারেও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শুল্কমুক্ত সুবিধা আর থাকবে না।

ডব্লিউটিওর বাইরে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি আপটা থেকেও খুব একটা লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে প্রাথমিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে এখন বিশাল বিনিয়োগ দরকার। এক্ষেত্রে চীন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি।

দেশটিতে অনেক দূরদর্শী, সাহসী ও সফল উদ্যোক্তা রয়েছেন। এফটিএ চুক্তির আওতায় তারা যদি বাংলাদেশে উচ্চহারের বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসেন- তাহলে একদিকে বিনিয়োগের মন্দা দূর হবে, অন্যদিকে নতুন নতুন শিল্পায়ন হবে। এতে রফতানিমুখী পণ্যের বহুমুখীকরণ ঘটবে; যা রফতানির ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পরিমাণ বিশ্বের মোট অর্থনীতির ১৬ শতাংশের সমান। দেশটি শুধু রফতানিই করে না। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারকও চীন। ভবিষ্যতে বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোর, বিবিআইএন ও ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড- এসব সুবিধা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশটির সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) যাচ্ছে বাংলাদেশ।

যে কারণে আপটা সাময়িক স্থগিত ও ডব্লিউটিওতে থাকার পক্ষে : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তি (আপটা) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) দুই জোটেরই সদস্য বাংলাদেশ।

ডব্লিউটিও’র বিধান অনুযায়ী চীনের কাছ থেকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়ার কথা। এর আওতায় ৭ হাজার ৮০০ রফতানিযোগ্য পণ্য রয়েছে।

এর থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৭০০টি পণ্যের। কিন্তু আঞ্চলিক বাণিজ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ এতদিন চীনের সঙ্গে আপটা চুক্তির প্রটোকলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চালিয়ে আসছে। আপটার তালিকায় শুল্কমুক্ত পণ্যের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৪৮টি, যার থেকেও আবার ৬০ শতাংশের বেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

তাছাড়া সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনের বাজার থেকে আপটা চুক্তির আওতায় যে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, তা সেদেশে রফতানি সম্প্রসারণের জন্য সহায়ক নয়। কারণ এ চুক্তির প্রটোকলে শুল্ক সুবিধার যেসব পণ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে তা রফতানিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা অনেক কম।

শুল্কমুক্ত পণ্যের তালিকাও তুলনামূলক ছোট এবং ছাড়কৃত পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধাভোগেও রয়েছে নানা জটিলতা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই বাংলাদেশ আপাতত ডব্লিউটিওতেই থাকতে চায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ডব্লিউটিও’র শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত হওয়ার আগপর্যন্ত চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ডব্লিউটির প্রটোকলেই থাকাটাই বাংলাদেশের বেশি লাভজনক হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ঠিকই আছে।

ডব্লিউটিওর শুল্কমুক্ত সুবিধা উঠে গেলে এবং চীনের সঙ্গে এফটিএ শেষপর্যন্ত না হলে আপটায় কোনো প্রভাব পড়বে কি-না, জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশ উন্নয়নশীলের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে ডব্লিউটিও’র শুল্কমুক্ত সুবিধা উঠে যাবে এটাই বাস্তবতা।

তখন আমাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএতে যেতে হবে। চীনের সঙ্গে বর্তমানে এফটিএ সংক্রান্ত যে তৎপরতা চলছে, এটা তারই প্রস্তুতির অংশ। তবে শেষপর্যন্ত এফটিএ যদি না-ই হয়, তাহলে আমরা আবার আপটার বাণিজ্য সুবিধায় ফিরে যাব। আপটা তো সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আমরা তো একবারে বের হয়ে যাইনি।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী অ্যাডেলসন

বিশ্বের শীর্ষ ধনী অ্যাডেলসন

ওয়ারেন বাফেটকে পেছনে ফেলে ২০১৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর খাতায় নাম লেখালেন মার্কিন নাগরিক শেলডন অ্যাডেলসন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাসিনো মুঘল এবং লাসভেগাস, ম্যাকাও এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন হোটেলের মালিক। ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক অ্যাডেলসনের এ বছর আয় বেড়েছে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্কিন সাময়িকী ফোবর্সের জরিপে এ তথ্য জানা গেছে।
অ্যাডেলসন চলতি বছর প্রতিদিন আয় করেছেন ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোবর্সের তালিকার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তার সম্পদের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর তার সম্পদ বেড়েছে ১৩ দশমিক ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। তিনি তার মোট সম্পদের সঙ্গে ১৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন যোগ করেছেন। তার আছে ৩৬ দশমিক নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ সম্পদ। আর শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট চলে গেছেন চতুর্থ অবস্থানে। এ বছর ১৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে চতুর্থ অবস্থানে আছেন গত বছরের শীর্ষ ধনী ওয়ারেন ব্যাফেট। - এনডিটিভি ইত্তেফাক ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

তারিখ: ১৪-০৮-২০১৩

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

বিগত পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত অনেক কাছাকাছি। হয়তো স্বাধীনতার পর দুই দেশের মধ্যে এমন অনুকূল পরিবেশ আগে আর হয়নি। পণ্য চলাচল ও বিনিয়োগ বেড়েছে, চালু হয়েছে সীমান্ত হাট। উভয় দেশের অবকাঠামো পারস্পরিক উন্নয়নে ব্যবহার করতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পথে রয়েছে। কিন্তু অনুকূল পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের পাল্লাই আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি ভারী হয়েছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ ঘাটতি সামনের দিনে আরো বাড়বে। india-BD-economics এদিকে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে এ বিদ্যুত্প্রবাহ শুরু হওয়ার কথা। ২৫ বছর ধরে এ বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ভারত সরকারের সূত্র মোতাবেক, ২০১১-১২ অর্থবছরের (এপ্রিল-মার্চ) তুলনায় গত অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪০ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ঘাটতি হয় ৪৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার, আগের অর্থ বছর তা ছিল ৩২০ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় রফতানির পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু এর বিপরীতে ভারত থেকে আমদানিও বাড়ছে অনেক বেশি হারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতে বাংলাদেশের বাজার ছোট বলে এ রকম হচ্ছে। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে রফতানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক অন্যতম। এক্ষেত্রে ভারত নিজেই এখন এ পণ্য রফতানির আন্তর্জাতিক বাজার ধরার চেষ্টা করছে। কাজেই শুধু তৈরি পোশাকের রফতানি বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই বাণিজ্য ঘাটতি এখন তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। গত দু-তিন বছরে বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। এতে ঘাটতি আরো বাড়তে পারে, তবে তা ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। ভারত সরকারের সূত্রানুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০১২-১৩) বাংলাদেশে ৫১৩ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত। একই সময়ে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে ৬৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৪৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার ডলার; বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগের অর্থবছরে (২০১১-১২) ঘাটতি ছিল প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছিল ২৮ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে ২০১০-১১-এর তুলনায় ঘাটতি বাড়ে ১৪ শতাংশ। এদিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ যথাক্রমে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার, ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার, ৫৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ও ৬৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার ডলার। একই সময়ে দেশটি থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে যথাক্রমে ২৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার, ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ, ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ ও ৫১৩ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। সূত্রঃ বনিকবার্তাঃ বদরুল আলম

কয়লা চুরিতে চার এমডিই জড়িত! দুর্নীতির সঙ্গে কয়লাখনির সবাই জড়িত: নসরুল...

[caption id="" align="alignleft" width="620"]হাবীব উদ্দিন আহমেদ, আমিনুজ্জামান, আওরঙ্গজেব ও কামরুজ্জামান হাবীব উদ্দিন আহমেদ, আমিনুজ্জামান, আওরঙ্গজেব ও কামরুজ্জামান[/caption] কয়লা চুরিতে চার এমডিই জড়িত! খনি দুর্নীতির তদন্তে বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনির চার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি। তারা হলেন, খনির সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবীব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আওরঙ্গজেব, আমিনুজ্জামান ও কামরুজ্জামান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, দায়ীদের মধ্যে তিনজনই এখন সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এরমধ্যে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন আওরঙ্গজেব আর রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি আরপিজিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামারুজ্জামান। সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে পেট্রোবাংলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে, সেই আমিনুজ্জামান এখন কয়লা উত্তোলনকারী চায়না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। যদিও তিনি খাতা-কলমে ওই প্রতিষ্ঠানের কেউ নন। বেনামে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পেট্রোবাংলার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০০৫ সাল অর্থাৎ কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় থেকে যারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তারা সবাই কম-বেশি এই কয়লা চুরির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে এই চারজন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ছিলেন আমিনুজ্জামান। পেট্রোবাংলা একজন কর্মকর্তা বলেন, চুরি করে ২৩০ কোটি টাকার কয়লা বিক্রি করে দিয়েছেন বড়পুকুরিয়া খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একদিনে এই চুরির ঘটনা ঘটেনি। পর্যায়ক্রমে বছরের পর বছর ধরে খোলা বাজারে বিক্রির সময় এই কয়লা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অবৈধভবে বিক্রির মাধ্যমে ঠিকাদার ও খনি কর্মকর্তারা লাভবান হয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। খনির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই চুরি শুরু হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সূত্র জানায়, দিনাজপুরে কয়লা খনির সঙ্গে জড়িত ১৯ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পেট্রোবাংলার তদন্তে উঠে আসা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এজন্য প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পরও মামলা করতে সময় নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পেট্রোবাংলার তদন্ত দল যেসব তথ্য প্রমাণ পেয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই বুধবার ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, কয়লা চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খনি কর্তৃপক্ষ সিস্টেম লসের কথা বলে আসছে। কিন্তু  এই বিষয়টি পেট্রোবাংলা গ্রহণ করেনি। তারা আগে কেন সিস্টেম লসের কথা বলেনি বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কয়লা খনিটি পরিচালনা করে বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ। খনিটি একটি কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ কর্মকর্তা এখানে চাকরি শুরু করে দীর্ঘ দিন চাকরি করেন। কেবল প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে ওপরের দিকের কিছু পদে পেট্রোবাংলা থেকে লোকবল পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন থাকার কারণে খনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়লার ডিলারদের একটি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক ধরেই চুরি হয়।
দুর্নীতির সঙ্গে কয়লাখনির সবাই জড়িত: নসরুল হামিদ [caption id="" align="alignleft" width="332"]নসরুল হামিদ (ফাইল ছবি) নসরুল হামিদ (ফাইল ছবি)[/caption] বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। বুধবার (২৫ জুলাই) বিকালে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে কয়লা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।’ কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কেউই কয়লার হিসাব রাখেনি, তখন সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।’ বুধবার সচিবালয়ে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির গায়েব কয়লার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে বের হয়ে যান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও প্রতিবেদন পুরোটা পড়তে পারিনি।’ পুরোটা দেখে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এর আগে সকাল থেকেই কয়লার প্রতিবেদন তৈরি নিয়ে কাজ চলছিল। দুপুরে পেট্রোবাংলায় গিয়ে দেখা যায়, কমিটির প্রধান ও সংস্থার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানের কক্ষে প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এ সময় দেখা করতে চাইলে প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের কক্ষের বাইরে থেকে জানানো হয়, তিনি এখন কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। ভেতরে কয়লা দুর্নীতির প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে বলে জানানো হয়। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা তুলে কোল ইয়ার্ডে জমা রাখা হচ্ছিল। কিন্তু বিক্রির পর বছরে কতটুকু কয়লা অবশিষ্ট থাকলো, তা কখনও পরিমাপ করা হয়নি। এখন কাগজে-কলমে অবিক্রীত কয়লার পরিমাণ দেখানো হচ্ছে এক লাখ ৪০ হাজার টন । কিন্তু বাস্তবে কয়লা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টন। অর্থাৎ এক লাখ ৩০ হাজার টন কয়লার কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

চালু হচ্ছে এশিয়ার সর্ব বৃহৎ গাজীপুরের মসলিন কটন মিল

GAZIPUR-MOSLIN-COTT -ekush.infoচালু হচ্ছে এশিয়ার সর্ব বৃহৎ গাজীপুরের মসলিন কটন মিল দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ বন্ধ থাকার পর এক সময়ের এশিয়ার সর্ব বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গাজীপুরের কালিগঞ্জের মসলিন কটন মিল্স আবার চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রিফাত গার্মেন্টস নামে পুনরায় তা চালু করা হবে। মিলটি চালুর লক্ষ্যে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উদ্যোক্তার নিকট মিলের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যু সংস্থানের শর্তে কারখানাটি চালু হবে। শনিবার দুপুরে মসলিন কটন মিল্স উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মিলের মালিকানা হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ মকবুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম, মসলিন কটন মিল লিঃ এর লিকুইডেটর ও উপ-সচিব সাইফুদ্দিন আহম্মদ মজুমদার, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবিএম তারিকুল ইসলাম প্রমূখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিতিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি মসলিন কটন মিলের প্রতীকি চাবি ও নথিপত্র হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের কাছে তুলে দেন। বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, অনেক সরকার মিলটি চালুর কথা বললেও কেউ পারেনি। কেউ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধ কারখানা খুলে দিতে পারেনি। আওয়ামীলীগ সরকার পেরেছে। জামায়াতের শুধু নিবন্ধন বাতিল নয়, এদেশে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচারের দরকার নাই, তাদের ধর এবং মার। এদেশে কোন স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। রাজনীতি থেকে ধর্মকে দুরে রাখতে হবে। আমরা সেক্যুলারিজম চেয়েছিলাম কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবিরা সেক্যুলারিজম এর মানে করেন ধর্ম নিরপেক্ষতা। আসলে এর অর্থ ইহজাগতিকতা। এ কারখানা চলতে হলে বিনিয়োগকারী, শ্রমিক এবং জামায়াত ছাড়া রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ লাগবে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে, তুমি আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাও। বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একজন হাওয়া ভবনের হাওয়ায় ভাসতেন। সেনাবাহিনীর মার খেয়ে ভাঙ্গা মাজা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি আবার নতুন ধারার কথা বলে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কালীগঞ্জের এমপি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ২৪ বছর আগে যে শ্রমিক এক লাখ টাকা পেত সে সময় ওই টাকা দিয়ে সে অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু একই টাকায় বর্তমানে তার ইচ্ছা সে পূরণ করতে পারবে না। কারখানাটিতে ২ হাজার ৮’শ ৮৫ জন শ্রমিক ছিল। কেউ মারা গেছেন, কারও কারখানার কাগজপত্র নাই। তাদেরকে আইনের ভিত্তিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে পাওনা পরিশোধ করতে হবে। হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুত সংস্থানের শর্তে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কারখানা চালু হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে। কারখানা চালুর পর আগামী তিন বছরের মধ্যে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এজন্য কারখানার আশপাশের কমপক্ষে তিন লাখ লোকের বেকার সমস্যা দূর হবে। কারখানার শ্রমিক সাইফুল আলম বলেন, ১৯৯০ সনে কারখানার মালিক কারখানার ক্ষতি দেখিয়ে শ্রমিকদের বেতন আটকিয়ে দেয়। পরে বেতন পরিশোধের জন্য শ্রমিক-মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিগঞ্জে ১৯৫১ সালে ২৪০ বিঘা জমির উপর মসলিন কটন মিল্স লিঃ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে এশিয়ার বৃহত্তম এ মিলটি ঘিরেই কালিগঞ্জবাসীর জীবন জীবিকা আবর্তিত হতো। প্রাচীর ঘেরা মিলের পাশে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী, রেল স্টেশন, মহাসড়ক প্রভৃতি। ৫২ হাজার স্পেন্ডল, ৪৯৮টি উইভিং, ৪৯৬ টি স্পিনিং তাত, ডাইং সম্বলিত মিলে ২ হাজার ৮৮৫ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী ৩ শিফটে কর্মরত ছিলো। মিলের শ্রমিকেরা কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রমিক-মালিক দ্বন্ধের কারণে ১৯৯১ সালে দুটি শাখা ও ১৯৯৩ সালে অপর শাখাটি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হবার সাথে অসংখ্য মানুষের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারখানাটির পাশে একটি রেলস্টেশন, মহাসড়ক ও একটি নদী রয়েছে। হা-মিম গ্রুপের পক্ষে রিফাত গার্মেন্টস ৮০ একর জায়গাসহ কারখানাটি ১৩৫ কোটি টাকা মুল্যে সরকারের কাছ থেকে ক্রয় করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে চাকরী হারানো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। শনিবার ২০ জন মৃত শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারের কাছে বকেয়া বেতন বাবদ ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

কাছের মানুষের সঙ্গে বিশ্বস্ততার যে সম্পর্ক, তার ওপর ভর করে ডেসটিনির...

ডেসটিনিdestiny মোহ এখনো কাটেনি ক্ষতিগ্রস্তদের মেহেদী আল আমিন | তারিখ: ২৩-০৯-২০১৩ বিত্ত-বৈভব যখন সফলতার অন্যতম মাপকাঠি, তখন সে যোগ্যতা অর্জনের পথে সমাজের মানুষ হাঁটবে, সেটাই স্বাভাবিক। সামাজিক এ মনোবৃত্তিকে আরো উসকে দিয়ে তা কাজে লাগায় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি। দ্রুত অর্থ লাভের মন্ত্রে সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করতে প্রতিষ্ঠানটি দ্বারস্থ হয়নি প্রচলিত প্রচারমাধ্যম— পোস্টার, লিফলেট কিংবা বিলবোর্ডের। কাছের মানুষের সঙ্গে বিশ্বস্ততার যে সম্পর্ক, তার ওপর ভর করে ডেসটিনির জাল বিস্তারলাভ করে দেশব্যাপী। লাখ লাখ মানুষ নেমে পড়ে টাকা বানানোর অদ্ভুত এক খেলায়। এসব মানুষের সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে এখনো মোহ কাটেনি ক্ষতিগ্রস্তদের; বিশ্বাস করতে চায় না— তারা প্রতারিত। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ প্রায় দেড় বছর। অর্থ পাচারের অভিযোগে এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীন আটক আছেন কারাগারে। ব্যাংক হিসাবও প্রায় শূন্য। তার পরও ডেসটিনির বেশির ভাগ সদস্য কোনো ক্ষতি হয়নি— এমন বিশ্বাসে অর্থ ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সরেজমিনে দেখা মেলে ডেসটিনির এক সদস্য ফেনীর শফিউল আলীমের। সবচেয়ে কাছের মানুষটির হাত ধরে তিনি ডেসটিনির সেমিনারে গিয়েছিলেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি প্রতারিত হননি। শিগগিরই ডেসটিনির অবস্থা আবার স্বাভাবিক হবে, ফিরে পাবেন বিনিয়োগকৃত অর্থ। তিনি মনে করেন, ডেসটিনির টার্নওভার ছিল মাসে ১২০ কোটি টাকা, যা অনেক বড় কোম্পানিরই ছিল না। মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম, বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ডেসটিনি আয়োজিত অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মন্ত্রীরাও যোগ দিয়েছিলেন। এত বড় প্রতিষ্ঠান ধুলোয় মিশে যেতে পারে না। ডেসটিনির কর্ণধাররা দুর্নীতি করতে পারেন— এমন কথা বিশ্বাস করতে নারাজ স্কুলের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ডেসটিনির কার্যক্রমে অংশ নেয়া মুন্সীগঞ্জের সুমন শেখ। একই ভাবনার ঘোরে সুদিনের অপেক্ষায় আছেন, এমন শতাধিক মানুষের দেখা মেলে শ্রীনগর উপজেলায়। সুমন শেখের মতোই ডেসটিনির এসব সদস্যের ধারণা, রফিকুল আমীন এক বিরাট ব্যক্তিত্ব; দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তিনি একদিন সমাজটাকেই বদলে দেবেন। ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের এমন মানসিক অবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কায়সার বিপ্লব বণিক বার্তাকে বলেন, নিকটজনের কাছ থেকে তারা শুনছেন, টাকা আছে। কাজেই যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেরা দেখবেন টাকা নেই, ততক্ষণ তাদের এ ভুল ধারণা ভাঙবে না। এমনকি আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও তাদের মধ্যে এ বিশ্বাস থেকে যেতে পারে, কোম্পানি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ডেসটিনির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, ব্যবসায়ী, গ্রামীণ নারী, এমনকি বেকাররাও। বিভিন্ন অফিস-আদালতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে খুশি করতেও সদস্য হয়েছেন অধস্তন অনেকেই। কোম্পানি প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত্ করেছে, এমনটা মানতে নারাজ এদের বেশির ভাগই। ডেসটিনির দুই শতাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই রফিকুল আমীনের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেছেন; অনেকের মধ্যেই যা এখনো অটুট। রফিকুল আমীন কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারেন, বিশ্বাসই করেন না মোহাবিষ্ট এসব সদস্য। এমনই একজন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আত্মীয়, বন্ধু ও অফিসের সহকর্মী মিলে ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। আশা ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। আমার বিশ্বাস, টাকা মার যাবে না।’ মানুষ ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের অনেকেরই সে অবস্থা হয়েছে— এমন মন্তব্য করে সাইকোট্রমা ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ও মনোবিকাশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক একেএম সাখাওয়াত শরীফ ভূঞা জানান, কোনো কিছু খুইয়েছেন, তা তারা ভাবতেই চান না। এ অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা হারিয়ে এক ধরনের বৈকল্যে আক্রান্ত ডেসটিনির কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্তরা। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থের প্রায় পুরোটাই আত্মসাত্ করেছেন ডেসটিনির পরিচালকরা। সংস্থাটির মতে, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে। বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়া গেছে মাত্র ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বাকি অর্থ তারা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাত্ করেছে। কিছু অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমেও আত্মসাত্ করেছেন পরিচালকরা। তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি দুদক। ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড ও ডেসটিনি পাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ লিমিটেডের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩১ জুলাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুটি মামলা করে দুদক। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ লিমিটেডের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্তের দায়িত্বে আছেন দুদকের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল। আর ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের মামলাটি তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ডেসটিনির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নথিপত্র জব্দ করে। এরপর ৮ মে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। ২৩ মে জব্দ হয় ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব। ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত করে। ২ অক্টোবর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ২২ কর্মকর্তার ৫৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এর পরই বন্ধ হয়ে যায় ডেসটিনির সব কার্যক্রম। সূত্রঃ বনিক বার্তা

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ১৬০২ ডলার

মাথাপিছু আয় ১৬০২ ডলার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৭

চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৬০২ ডলার হবে বলে প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সেই সঙ্গে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে আশা করছে সরকার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধির এই হিসাব দিয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই হিসাব তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

এনইসি বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি হাওরে বন্যার কারণে এবার ফসল কম উৎপাদন হতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। এটা শুধুই আশঙ্কা। তবে প্রমাণিত বিষয় হচ্ছে আমরা প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি করেছি।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন দিয়েছে, তাতে প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে কৃষির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

কিছু তথ্য:

মাথাপিছু আয়

মাথাপিছু আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়। মাথাপিছু আয় দুইটি পৃথক মান দ্বারা নির্ধারিত হয়ঃ (১) মোট জাতীয় আয় এবং (২) মোট জনসংখ্যা। 

কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা জানতে হলে সে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন, মোট অভ্যন্তরীণ বা দেশজ উৎপাদন ও জনগণের মাথাপিছু আয় জানা প্রয়োজন। এগুলোকে বলা হয় অর্থনৈতিক নির্দেশক। কারণ, এগুলো অর্থনৈতিক অবস্থা নির্দেশ করে। দেশের অর্থনীতি পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে যাচ্ছে নাকি একই অবস্থায় আছে তা উক্ত নির্দেশকসমূহের মান দ্বারা বোঝা যায়।

মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের জনগণ মোট যে পরিমাণ চুড়ান্ত দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করে তার অর্থমূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন বলে। জাতীয় উৎপাদনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ও কর্মরত বিদেশি ব্যক্তি ও সংস্থার উৎপাদন/আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে বিদেশে বসবাসকারী ও কর্মরত দেশি নাগরিক, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন/আয় অন্তর্ভুক্ত হবে।

মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)

মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product: GDP) হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের অভ্যন্তরে বা ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে বসবাসকারী সকল জনগণ কর্তৃক উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের অর্থমূল্যের সমষ্টি। এতে উক্ত সীমানার মধ্যে বসবাসকারী দেশের সকল নাগরিক ও বিদেশি ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বিদেশে অবস্থানকারী ও কর্মরত দেশের নাগরিক/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দেশি-বিদেশি ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা

09 Oct, 2013
কুড়িগ্রামে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দেশি-বিদেশি ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করে খামার মালিক ও কৃষকরা বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজে খামারিদের সহযোগিতা করছেন একশ্রেণীর পশু চিকিৎসক। অন্যদিকে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে খামারিরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় এসব ওষুধের অপব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। এদিকে কয়েক মাস ধরে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করে যেসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে সেসব গরু এখন কোরবানির ঈদের বাজারে প্রদর্শন করা হচ্ছে। জেলার কাঁঠালবাড়ী, যাত্রাপুর, দুর্গাপুর ও পাশের বড়বাড়ী হাটে এবার মোটাতাজা করা গরুর সংখ্যা বেশি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত ৫০৬টি খামার রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে কৃষকদের উদ্যোগে গড়া কয়েক হাজার ক্ষুদ্র খামার। আর এসব খামারের বেশিরভাগ মালিকই অধিক মুনাফার লোভে দেশে তৈরি নানা নামের ডেক্সামেথাসন জাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। এ ছাড়া ভারতীয় ওষুধও তাঁরা ব্যবহার করেন। খামার মালিক ও কৃষকরা অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় এসব ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করছেন অনেকটা ইচ্ছামাফিক। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, কৃষক ও খামার মালিকদের এই প্রবণতা তৈরির পেছনে গ্রাম্য পশুচিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ও দেশীয় ওষুধ কম্পানির প্রচারণাই দায়ী। তাঁরা আরো বলেন, ক্ষতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ওষুধ বিক্রেতা অধিক লাভের আশায় এসব ওষুধ যখন-তখন খামারিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। শুধু দেশীয় ওষুধই নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় ওষুধও তাঁরা বিক্রি করেন। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী এনামুল হক ও সুকুমার রায় জানান, সীমান্ত এলাকার হাটবাজারে ভারতীয় ওষুধ পাওয়া যায়। দেশের বাজারে দেশীয় কম্পানির তৈরি ডেক্সামেথাসন গ্রুপের স্টেরনভেট, ডেক্সাভেট ও ভেটোডেক্স নামে ইনজেকশন ও ট্যাবলেট পাওয়া যায়। যাঁরা দ্রুত গরু মোটাতাজা করতে চান তাঁরা এসব ওষুধ প্রয়োগ করেন। এই ওষুধ প্রয়োগের দুই মাসের মধ্যে গরু বিক্রি না করলে নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গরুর মৃত্যু হতে পারে। এর পাশাপাশি ক্যাটাফস, স্টেসল ও এসল নামে ভিটামিন জাতীয় ওষুধও প্রয়োগ করেন খামারিরা। তাঁরা আরো জানান, অনেকেই বছরের অন্য সময়ে এসব ওষুধ প্রয়োগ করলেও কোরবানি হাটে বিক্রির জন্য ডেক্সামেথাসন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করছেন। এলাকার পল্লী চিকিৎসক আবদুল লতিফ জানান, এ বছর গরু মোটাতাজা করার জন্য ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। খড়, ভুষি ও চালের কুঁড়াসহ গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় ব্রয়লারের খাবার ও আলু ছাড়াও ক্যাটল ফিড নামের এক ধরনের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। এতে গরু দ্রুত মোটাতাজা হয়। কিন্তু ব্রয়লারের খাবারে যদি ট্যানারির বর্জ্য থাকে তাহলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইনজেকশন পুশের বিষয়ে তিনি বলেন, ইনজেকশন পুশ করার এক মাসের মধ্যে গরু বিক্রি না করলে লিভার ও কিডনি বিকল হয়ে গরুর মৃত্যু হতে পারে। এদিকে খামার মালিক ও কৃষকরা জানান, গোখাদ্যের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে তাঁরা কৃত্রিম পদ্ধতি ও ওষুধ প্রয়োগ করে মোটাতাজাকরণের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার খামার মালিক দুলাল মিয়া ও আবদুল মজিদ জানান, গোখাদ্যের দাম চড়া। তাই সনাতন উপায়ে গরু মোটাতাজা করলে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের অঙ্ক বেড়ে যায়। তাই স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের পরামর্শে মাঝেমধ্যে ডেক্সামেথাসন গ্রুপের ইনজেকশন পুশ করে গরু মোটাতাজা করেন তাঁরা। গরু মোটাতাজাকরণ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিতাভ চক্রবর্তী জানান, গরু ও মানুষের জন্য চরম ক্ষতিকর ডেক্সামেথাসন জাতীয় ওষুধ প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। সাধারণত গরুর ওলানের প্রদাহ বা পায়ের গিরা ফোলায় এ জাতীয় ওষুধ স্বল্লমাত্রায় ব্যবহারের জন্য বলা হয়ে থাকে। কিন্তু অধিক মাত্রায় এসব ওষুধ প্রয়োগ করলে গরুর কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হয়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হতে পারে। ওষুধের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষক ও খামারিদের এসব ওষুধ ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলি। তারপরও কেউ যদি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এসব ওষুধের অপব্যবহার করে থাকে এবং কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে আইনত যা করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. বজলুর রশিদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ বিক্রির বিষয়ে জানান, কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎসঃ   কালের কন্ঠ

পুরোদমে চলছে ইরানের অর্থনৈতিক কূটনীতি

বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চায় ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা সফররত ইরানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দেশটির ব্যবসায়ীরা অবকাঠামো নির্মাণ খাতেও বিনিয়োগ করতে চান। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদেরকেও ইরানে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। গতকাল ঢাকায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তারা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইরানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য উন্নয়ন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ‘বাংলাদেশ-ইরান যৌথ কমিটি’ গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। গতকাল ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইরানের সফররত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের মধ্যে এফবিসিসিআই ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া দেশটি বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি রফতানি করতে চায় বলেও জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এফবিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় ইরান বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইরানের শিল্প, মাইন ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও ইরান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ রেজা মওদুদী। সভায় এফবিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ এবং ইরান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতভিত্তিক ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুল আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পরিবহন খাত, অবকাঠামো নির্মাণশিল্প, পেট্রো-কেমিক্যাল, চামড়া, কৃষি খাত এবং পর্যটনশিল্পে ইরানের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ইরানের যেহেতু বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে এবং বাংলাদেশের রয়েছে দক্ষ ও সুলভ জনশক্তি, তাই নিয়মিত প্রতিনিধি দলের সফর, তেহরান ও ঢাকায় ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি ট্রেড ফেয়ারের’ আয়োজন এবং কারিগরি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দু’দেশই লাভবান হতে পারে বলে মাহবুবুল আলম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইরান এ ধরনের কোনো জোনে লাভজনক বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। এফবিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইরানের ব্যবসায়ীবৃন্দকে একক অথবা যৌথ বিনিয়োগে আহ্বান জানান। সভার প্রধান অতিথি ইরানের শিল্প, মাইন ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং ইরান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ রেজা মওদুদী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য উন্নয়ন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ‘বাংলাদেশ-ইরান যৌথ কমিটি’ গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ কমিটি বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান। দু’দেশে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানও এ কমিটির কাজ হবে। তিনি বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ খাত এবং সমুদ্রবন্দর নির্মাণ খাতে ইরানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে শুল্কগত সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়াও তিনি ইরান ও বাংলাদেশের হস্তশিল্প এবং শিল্পকলায় যোগসূত্র আরও দৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : ইরানের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইরান বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। ইরান বাংলাদেশে সেমি-ফিনিস এলপিজি রফতানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে উভয় দেশ লাভবান হবে। ইরানে বাংলাদেশের বড় রফতানি বাজার রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে ইরানে। বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য খুবই সামান্য। মন্ত্রী বলেন, এখন উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সময় এসেছে। বাংলাদেশ এবং ইরানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। উভয় দেশে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে পণ্যের সঙ্গে পরিচয় ও গুণগত মান পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। আগামীতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বড় পরিসরে অংগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এ মুহূর্তে দেশের মোট চাহিদার ৫০ ভাগ সরকার আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে এবং ৫০ ভাগ ব্যাবসায়ী টু ব্যবসায়ী (জি টু জি) জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইরান চায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বাণিজ্য কৌশল, পণ্য ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক। এতে করে উভয় দেশ লাভবান হবে। বসুন্ধরার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সমঝোতায় আগ্রহী ইরান
ছবি: বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসভবনে বৈঠক শেষে (বাঁ থেকে) গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি ও সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. রেজা মওদুদী
ছবি: বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসভবনে বৈঠক শেষে (বাঁ থেকে) গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি ও সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. রেজা মওদুদী
ঢাকা: দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরার সঙ্গে জ্বালানি খাতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসভবনে গ্রুপের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করে ওই প্রতিনিধিদল। সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে ইরানের ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি, ইরানের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেজা মওদুদীর নেতৃত্বে ঢাকা সফররত দেশটির শীর্ষ বাণিজ্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, ইরানের ব্যবসায়ীরা এ দেশে তেল শোধনাগার নির্মাণে বসুন্ধরা গ্রুপকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তেল শোধনাগার নির্মাণে ইরানের ভালো সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া ইরান থেকে এলপি গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়। এ বিষয়ে আগামী দিনে বসুন্ধরা গ্রুপ ও ইরানের ব্যবসায়ীরা যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ইরানের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত ওই দলটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। এর আগে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করে। এর ফিরতি সফরেই ইরানের দলটি ঢাকায় এসেছে। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর থেকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ার পর দেশটি সারা বিশ্বের কাছে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইরানের ব্যবসায়ীরাও সারা বিশ্বে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন। বন্ধুপ্রতিম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ইরানের জোরালো আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশ সময় ১১০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৬

পুরোদমে চলছে ইরানের অর্থনৈতিক কূটনীতি

২০১৬-০১-২৬ ইং: বিদেশীদের ইরানে বিনিয়োগ অথবা বিদেশে ইরানের বিনিয়োগ— সবই এত দিন আটকে ছিল অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে। সম্প্রতি দেশটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়েছে। এখন ইরান যেমন অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রাণ ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করেছে, তেমনি বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এরই মধ্যে চুক্তি সম্পাদন শুরু করে দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল সোমবার থেকে ইউরোপ সফর শুরু করেছেন। তিনদিনের এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন জোরদারের পাশাপাশি এয়ারবাসের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, প্রেস টিভি। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত রোববার প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ব্যবসায়িক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউরোপ থেকে তারা ১৬০টির বেশি উড়োজাহাজ কিনবে। এজন্য ফ্রান্সের এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি সুপারজাম্বো উড়োজাহাজ থাকবে। এছাড়া নিজেদের বিমান চলাচল খাত আধুনিকায়নে বোয়িংয়ের সঙ্গেও চুক্তি করবে তারা। এ প্রসঙ্গে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী আব্বাস আখোঞ্জি জানান, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর ইরান আবার মূলধারায় ফিরে আসছে। এক্ষেত্রে আমরা বিমান চলাচল ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে আমাদের বিমানবহরে থাকা ২৫০টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১০০টিই অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য আমরা ১০ মাস ধরে আলোচনা করছি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থ পরিশোধের কোনো উপায় ছিল না। তিনি আরো বলেন, বিমান চলাচল খাত আধুনিকায়নের পাশাপাশি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্যে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে চাইছি। সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পাদনে আমাদের ৫০০টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ প্রয়োজন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সুবাদে ইরান এবার বাধাবিপত্তিমুক্ত হয়েছে। এত দিন আটকে থাকা হাজার কোটি ডলারের সম্পদ আবার ইরানের কাছে ফিরে আসবে। অন্যদিকে বিদেশী কোম্পানিগুলোও পুরোদমে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা শুরু করতে পারবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি। গতকাল সোমবার থেকে বুধবার এ তিনদিনের সফরে ইতালি ও ফ্রান্স যাবেন তিনি। সেখানে ফ্রান্সের সঙ্গে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ ক্রয় ও গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি রেনো এবং পুঁজোর সঙ্গেও চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। রুহানির এ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাখ্যা দিয়ে ইরান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের সময়ও এসেছে। প্রেসিডেন্ট রোহানির ফ্রান্স-ইতালি সফরের মধ্য দিয়ে দেশ দুটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হবে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত এ দুই দেশই তেহরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগী ছিল। শুধু ইরানের দিক থেকে নয়, এত দিন অন্তরালে থাকা দেশটিতে বিনিয়োগে অন্যান্য দেশও আগ্রহী হয়ে উঠেছে। চীনা প্রেসিডেন্টের ইরান সফরে আগামী ১০ বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দেশ দুটি। সেসঙ্গে ২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তিও সই করেছে তারা। এছাড়া রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি লুকঅয়েল তেহরানে দুটি প্রকল্পে তেল উত্তোলনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির উত্তোলন-বিষয়ক পরিচালক হরমুজ কোয়ালাভান্দ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরান থেকে রাশিয়ায় তুর্কি পণ্য পুনঃরফতানি নিষিদ্ধ: রাশিয়ায় নিষিদ্ধ তুর্কি পণ্য ইরান থেকে পুনঃরফতানি নিষিদ্ধ করেছে তেহরান। ইরান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশন (টিপিওআই) বলেছে, মস্কোর নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্য রাশিয়ায় প্রেরণ ইরানের রফতানি নীতির পরিপন্থী। খবর আরটি। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা নেমতজাদেহ কর্তৃক জারিকৃত আদেশে বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ায় তুর্কি পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ। টিপিওআইয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ রেজা মোবাদবাদি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্কের সদ্ব্যবহার করে ইরানি ব্যবসায়ীদের দ্বিপক্ষীয় উত্পাদন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা উচিত। তিনি আরো বলেন, তুরস্কে উত্পাদিত পণ্য যদি ইরান থেকে রাশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে থাকে, তাহলে মস্কো ইরানি পণ্য নিষিদ্ধ করতে পারে। বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে পিছিয়ে দেবে। ইরানের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বর্তমানে রাশিয়া সফর করছে। ইরানের অর্গানাইজেশন ফর ট্রেড ডেভেলপমেন্টের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান মিনা মেহেরনুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সফররত দলটি এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক রুশ কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছে। বার্তা সংস্থা স্পুতনিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে মিনা মেহেরনুশ বলেন, প্রথমত. আমাদের দেশের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছে। দ্বিতীয়ত. প্রথাগত বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। বিষয়টি ইরানি কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার বাজারে শক্ত ভিত গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। নির্মাণ, নির্মাণ সামগ্রী, তেল পরিশোধন, বস্ত্র ও খাদ্য শিল্পে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী বলে মিনা মেহেরনুশ জানান। তিনি বলেন, রুশ অর্থনীতির এসব খাতে ইরান নিজের জন্য একটি অংশ নিশ্চিত করতে চায়।

শ্রমিকেরা ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না

শ্রমিকেরা ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না:

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণা করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে তারা পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করেছে ১০ হাজার ২৮ টাকা। তবে শ্রমিকনেতারা বলছেন, সিপিডির প্রস্তাব বাস্তবসম্মত হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে গত বুধবার কথা বলেছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শুভংকর কর্মকার
প্রথম আলো: পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে আপনারা গবেষণা করেছেন। তো বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকেরা কেমন আছেন? তাঁরা কি তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারছেন?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: শ্রমিকেরা বর্তমানে যে আয় করেন, তার বিপরীতে ব্যয় অনেক বেশি। একজন শ্রমিকের পরিবারের গড়পড়তা মাসিক ব্যয় এখন ২২ হাজার ৪৩৫ টাকা। তার বিপরীতে শ্রমিকের আয় অর্ধেকেরও কম। এই আয় দিয়ে এককভাবে পরিবারের ব্যয় মেটানো অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের আয় দিয়ে তিনি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের ব্যয় অসম্ভব দ্রুতগতিতে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চেয়েও পরিবারের ব্যয় বৃদ্ধি অনেক বেশি। তবে আমাদের গবেষণায় এসেছে, শিল্প এলাকায় মূল্যস্ফীতিজনিত ব্যয় বেশি। সে হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি এখানে বিবেচনার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উচিত হবে শিল্প এলাকার জন্য আলাদা মূল্যস্ফীতি হিসাব করা ও প্রকাশ করা, যেটি তারা আগে করত। আমরা যেটি দেখতে পেয়েছি, ১৬ শতাংশ শ্রমিকের ঘরে ফ্যান নেই। ১৭ শতাংশ খাট ছাড়াই ঘুমান। ৪০-৪৪ শতাংশ শ্রমিকের ঘরে টেবিল-চেয়ার নেই। মাত্র ২৪ শতাংশের ঘরে ফ্রিজ আছে। ৬৫ শতাংশের ঘরে টেলিভিশন রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশের ঘরেই এখনো এই সুবিধাগুলো পৌঁছায়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রমিকেরা ওপরের অথবা নিচের যে গ্রেডেই কাজ করুন না কেন, তাঁদের ব্যয়কাঠামো মোটামুটি অভিন্ন। তাতে বোঝা যায়, উচ্চ কিংবা নিম্ন গ্রেডের শ্রমিকেরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারেন না। তা ছাড়া নতুন যে বিষয়টি আমরা আবিষ্কার করলাম সেটি হচ্ছে দৈনন্দিন প্রয়োজনের ব্যয় মেটাতে শ্রমিকের বড় পরিমাণ ঋণ করতে হয়। এটা তাঁদের খাদ্যবহির্ভূত মোট ব্যয়ের ২২ শতাংশ। এখান থেকে বোঝা যায়, তাঁদের আয় পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণেই অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। ২০১০ ও ২০১৩ সালে শ্রমিকের মজুরি সমন্বয়ের পরও নিম্নতম জীবনমান নিশ্চিত হচ্ছে না। এতেই বোঝা যায়, মজুরি ব্যাপক হারে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রথম আলো: এই যদি শ্রমিকদের অবস্থা হয় তাহলে মালিকেরা মজুরি বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটা কতটা বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: আমার কাছে মনে হয়, মালিকদের এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াই উচিত হয়নি। বরং যৌক্তিক বিচারে যেসব মানদণ্ডে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে, সেই মানদণ্ডে প্রস্তাবের চেয়ে বেশি মজুরি আসার কথা। তাই মালিকেরা অনেক কম প্রস্তাব দিয়ে শ্রমিকদের প্রয়োজনগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করছেন।

প্রথম আলো: আপনারা তো নিম্নতম মজুরি ১০ হাজার ২৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। সেটি কি বাস্তবসম্মত হয়েছে?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিপিডি পুরো বিষয়টিকে যৌক্তিক ও ন্যায্যতার জায়গা থেকে দেখে থাকে। সিপিডির সংলাপে যে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে, তার ভেতরে শ্রমিকের জীবনমান নিয়ে গবেষণাকে সবাই প্রশংসা করেছে। অর্থাৎ জীবনমানের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেটিকে প্রকৃত চিত্র বলে সবাই স্বীকার করেছেন। সিপিডি জীবনমানের ভিত্তিতেই মজুরি কাঠামোয় আলোকপাত করেছে। এ ক্ষেত্রে দুটি অংশ ছিল, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বর্তমান মজুরিকাঠামোর অসামঞ্জস্য ও অন্যটি ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া। অসামঞ্জস্যের ভেতরে সিপিডি দেখিয়েছে, আগের মজুরিকাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডে মজুরি বৃদ্ধির হার কম ছিল, মূল বেতনের অংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে ওভারটাইম ও বোনাসের হার কমে গেছে। পাশাপাশি নতুন কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সিপিডির প্রস্তাবে শ্রমিকদের পরিবারের ব্যয় বিবেচনা শিশু বা শিক্ষা ভাতার প্রবর্তন, যাতায়াত ভাতা, মূল বেতনের ৩ শতাংশ হিসেবে সার্ভিস বেনিফিট ও পদোন্নতির সঙ্গে দক্ষতা অনুসারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নতম মজুরি ১০ হাজার ২৮ টাকা প্রস্তাব করা হলেও আমরা মনে করি, যে পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কম থাকে, তার জন্য এই কাঠামোটি পর্যাপ্ত নয়। আমরা প্রত্যাশা করব, আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির প্রস্তাব মিলিয়ে মজুরি বোর্ড আলোচনা করবে। তা ছাড়া শ্রমিকদের প্রয়োজনের একটা অংশের দায়দায়িত্ব সরকারের নেওয়া দরকার। বিশেষ করে স্বল্প খরচে বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে শ্রমিকেরা তাঁদের বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতে পারবেন।

প্রথম আলো: নিম্নতম মজুরি বোর্ডে কম মজুরি প্রস্তাব করার বিষয়ে মালিকপক্ষের একটি যুক্তি ছিল, প্রতিযোগী অন্য দেশের চেয়ে আমাদের শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম, ৪০ শতাংশ। আপনারা গবেষণায় কী পেয়েছেন?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, পোশাকশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে। এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার বড় ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ওভেন ও নিট কারখানায় তেমন পার্থক্য নেই। বাড়তি উৎপাদনশীলতা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।

প্রথম আলো: শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারই মালিকেরা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় নানা অজুহাত দেন। এটি কীভাবে বন্ধ করা যায়?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: ন্যূনতম মজুরির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকা এবং জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত না থাকার বিষয়টি নানা কৌশলে ব্যবহার করা হয়। শ্রমিকদের প্রস্তাব অনেকটা বাস্তবানুগ হলেও মালিকদের প্রস্তাবে যৌক্তিকীকরণের সুযোগ থাকে। মালিকেরা যদি উৎপাদনশীলতা ও পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেন, তা হলে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। এর সঙ্গে ক্রেতাদেরও যুক্ত করা যায়।

জুলাইয়ে জার্মানিতে বেকারত্ব বেড়েছে ৬.৮%

জুলাইয়ে জার্মানিতে বেকারত্ব বেড়েছে ৬.৮% তারিখ: ০৫-০৮-২০১৩ চলতি বছরের জুলাইয়ে জার্মানির বেকারত্বের হার বেড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মতো মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন কারণে দেশটির বেকারত্ব বেড়েছে বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। তবে বেকারত্ব বাড়লেও ইউরোপের সর্ববৃহত্ অর্থনীতির এ দেশের শ্রম বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়। খবর এপির। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়, জুনে (যা মৌসুমি হিসেবে গণনা করা হয়) বেকারত্ব হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিবন্ধনকৃত বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯১৪ মিলিয়ন, যা এর আগের মাসের তুলনায় ৪৯ হাজার বেশি। আর এক বছর আগের তুলনায় তা ৩৮ হাজার বেশি। টানা তিন মাস ধরে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশে স্থির হয়ে রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন দেশটির অসমন্বিত বেকারত্ব হার বেড়ে যায় সবসময়ই। মূলত সে সময় শিক্ষার্থীরা বেকার হয়ে পড়ায় এ হার বেড়ে যায়। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জার্মানির বেকারত্ব এখনো কম রয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে দেশটির সংসদ নির্বাচনে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল জনসমর্থনে এগিয়ে থাকবেন, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ স্পেন এবং গ্রিসে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রধান ফ্রাঙ্ক জর্জেন উইসে বলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেসব আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এতে জার্মান অর্থনীতি মজবুতভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে, এমনটাই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আর শ্রমবাজারও এ থেকে সুবিধা পাচ্ছে। সম্প্রতি জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বছরের শুরুতে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য হারে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখানে আঙ্কিকভাবে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। আগস্টের ১৪ তারিখে প্রবৃদ্ধির ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। সূত্রঃ বণিক বার্তা

রেমিটেন্সের ২২% যোগাচ্ছেন সৌদি প্রবাসীরা

image বরাবরের মতোই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেল অর্থবছরে মোট এক হাজার ৫৩১ কোটি (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরে আসা মোট রেমিটেন্সের ২২ শতাংশ। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এ দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা মোট ৩৬৮ কোটি ও ৩৮৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা পরিবর্তনের (পেশা বা কর্মস্থল বদল) কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা ৩১১ কোটি ডলারে নেমে আসে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে সরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছিল সৌদি সরকার। যার ফলে বিদেশি শ্রমিকরা ভিসা রেখে তাদের পছন্দমতো কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করেছিলেন। আর যারা অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা শাস্তি বা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন। আকামা পরিবর্তনে কিছু অর্থ খরচ হওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গিয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জানান। রেমিটেন্সের উৎস হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুত্তরাষ্ট্রে প্রবাসীরাও গতবছর আগের তুলনায় বেশি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন।    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৮২ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৩৮ কোটি ডলার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয় লাখের মতো বাংলাদেশি বর্তমানে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। এর যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি।

আবারও কমছে সোনার দাম

20131219-231654.jpg

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫৮ টাকা পর্যন্ত কমছে। গতকাল বুধবার বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার তা জানানো হয়। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ও ১৫ নভেম্বর সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাত্ ২২ ক্যারেট সোনা ৪৬ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৪ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ৩৮ হাজার ৪৩২ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ২৪৪ টাকা। পাশাপাশি প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম এক হাজার ২২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে আজ পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৪৮ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট সোনা প্রতি ভরির দাম ৪৬ হাজার ২৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির দাম ২৭ হাজার ৪১০ টাকা ছিল। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ছিল এক হাজার ২৮৩ টাকা। এ ব্যাপারে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিয়ের মৌসুমেও বিয়ে-শাদি কম হচ্ছে। তাই সোনার চাহিদাও কম। এসব বিষয় বিবেচনা করে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাল শুক্রবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। উৎসঃ প্রথম আলো

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.