রেমিটেন্সের ২২% যোগাচ্ছেন সৌদি প্রবাসীরা

image বরাবরের মতোই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেল অর্থবছরে মোট এক হাজার ৫৩১ কোটি (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরে আসা মোট রেমিটেন্সের ২২ শতাংশ। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এ দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা মোট ৩৬৮ কোটি ও ৩৮৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা পরিবর্তনের (পেশা বা কর্মস্থল বদল) কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা ৩১১ কোটি ডলারে নেমে আসে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে সরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছিল সৌদি সরকার। যার ফলে বিদেশি শ্রমিকরা ভিসা রেখে তাদের পছন্দমতো কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করেছিলেন। আর যারা অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা শাস্তি বা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন। আকামা পরিবর্তনে কিছু অর্থ খরচ হওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গিয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জানান। রেমিটেন্সের উৎস হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুত্তরাষ্ট্রে প্রবাসীরাও গতবছর আগের তুলনায় বেশি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন।    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৮২ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৩৮ কোটি ডলার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয় লাখের মতো বাংলাদেশি বর্তমানে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। এর যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি।

আবারও কমছে সোনার দাম

20131219-231654.jpg

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫৮ টাকা পর্যন্ত কমছে। গতকাল বুধবার বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার তা জানানো হয়। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ও ১৫ নভেম্বর সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাত্ ২২ ক্যারেট সোনা ৪৬ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৪ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ৩৮ হাজার ৪৩২ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ২৪৪ টাকা। পাশাপাশি প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম এক হাজার ২২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে আজ পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৪৮ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট সোনা প্রতি ভরির দাম ৪৬ হাজার ২৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির দাম ২৭ হাজার ৪১০ টাকা ছিল। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ছিল এক হাজার ২৮৩ টাকা। এ ব্যাপারে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিয়ের মৌসুমেও বিয়ে-শাদি কম হচ্ছে। তাই সোনার চাহিদাও কম। এসব বিষয় বিবেচনা করে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাল শুক্রবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। উৎসঃ প্রথম আলো

ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে বাণিজ্যিকভাবে

ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে বাণিজ্যিকভাবে

তাওহীদুল ইসলাম

সব কিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িও চলবে বাণিজ্যিকভাবে। এ সেবার আওতায় থাকবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারও। কাক্সিক্ষত গন্তব্যে যাওয়া যাবে বিশেষ অ্যাপসের সহায়তায়। এ ছাড়া সুবিধা মিলবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রেও। এর ফলে পরিবহন সেক্টরে বড় পরিবর্তন আসবে, যাত্রী ও রোগী পরিবহনে দুর্ভোগও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য শিগগিরই চালু হচ্ছে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আউটসোর্সিং পদ্ধতির সেবা মিলবে। এ জন্য সফটওয়্যার ও ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাইছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মূলত উবারের মাধ্যমে চলমান পদ্ধতিকে বৈধতা দিতে একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় বিআরটিএ। একই ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে গঠিত কমিটি।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান আমাদের সময়কে বলেন, পরিবহন সেক্টরকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে একটি বড় সুবিধা হচ্ছেÑ ট্যাক্সিক্যাব ও অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে হয়রানির অভিযোগ থাকবে না। দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারবেন যাত্রীরা। এ জন্য কমিটির কাজ চলছে।

বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কার্যক্রম শুরু হলে ফিটনেস নিয়ে আর অভিযোগ উঠবে না। তা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় অনেকে গাড়ির বাণিজ্যিক সেবা দিতে পারবেন।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, সফটওয়্যার ও ডিভাইস স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে। বর্তমানে ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোর মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু এ দুটো বাহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং গন্তব্যে না যাওয়ার অভিযোগ পুরনো। দীর্ঘ সময় স্টপেজে দাঁড়িয়ে মেলে না অটোরিকশা। পাওয়া যায় না ট্যাক্সিক্যাব। আর বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে যে কেউ এ সুবিধা নিতে পারবেন। আর এ নিয়ে হয়রানির সুযোগ কম। কারণ অনলাইনে সুবিধাদাতা সব যানবাহনের তালিকা থাকবে বিআরটিএর কাছে। তা ছাড়া অনলাইন সেবা দেওয়ার আগে নিতে হবে অনুমোদন। উবারের মাধ্যমে এ সেবা কিঞ্চিত চললেও তা অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছে বিআরটিএ। নীতিমালার আওতায় এসে উবারকেও অনুমোদন নিতে হবে। অবশ্য এ নিয়ে উবার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে সংস্থাটি।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নিতে হলে উবারকেও অনুমতি নিতে হবে। নীতিমালার পর সব ধরনের সফটওয়্যার সেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। একচেটিয়া আধিপত্য ঠেকাতে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই এককভাবে কাজ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘টপ আইআই’ এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান ট্যাক্সিক্যাব নীতিমালায় প্রাইভেটকার বাণিজ্যিকভাবে চলাচলে বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য পরীক্ষাপূর্বক কমিটি করে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া সকল মহানগরী এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল পরিচালনার চিন্তা করেছে বিআরটিএ। এজন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি যাচ্ছে। এ ছাড়া অটোরিকশায় বিশেষ সফটওয়্যার ও ডিভাইস সংযোজনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা ছাড়া রোগী ও লাশ পরিবহনের সুবিধার্থে একই উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিএ।

সূত্র আরও জানায়, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিটনেস সনদ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএ অফিসে ভিআইসি (ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টার) চালু করে বিআরটিএ। মাত্র দুটি লেনে বাণিজ্যিক গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হয় এখন। তাও দিনে বড়জোর ৫০-৬০টি গাড়ি পরীক্ষা করা যায়। বাকি গাড়ি দেখতে হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এজন্য আউটসোর্সিং পদ্ধতির কথা চিন্তা করছে বিআরটিএ। প্রাথমিকভাবে ঢাকার মিরপুর, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া, উত্তরার দিয়াবাড়ীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ সার্কেল অফিস এ সেবার আওতায় আনতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘টপ আইআই’ নামের প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় প্রথম দিকে এ কার্যক্রম হাতে নিতে চায় বিআরটিএ। তাই ডিজিটাল ফিটনেস, ডিভাইসের মাধ্যমে যাত্রীসেবার সুবিধা নিয়ে গত ১৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টশন করে এ প্রতিষ্ঠানটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে গত বছরের ২৪ মে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ‘টপ আইআই’।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার তারেক শামস হিমু আমাদের সময়কে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এ সেবায় পরিবহন খাতের উন্নতি হবে। সরকারনির্ধারিত বিদ্যমান ভাড়ার চেয়েও কম টাকায় ট্যাক্সিক্যাব-অটোতে চড়তে পারবেন যাত্রীরা। প্রতিযোগিতার কারণে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে প্রথম এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান নতুন করে এ পদ্ধতিতে যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র: আমাদের সময়

২৬ দিনে ১০০ কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

Remitence Ekush.infoFaceBook ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসিদের দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যংক থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১০০ কেটি টাকা রেমিটেন্স এসেছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। ২৯ জুলাই পযর্ন্ত রিজার্ভের পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ১৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে রাষ্ট্রায়াত্ত ৪টি ব্যাংকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রেমিটেন্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ও বৈদেশিক ব্যাংকগুলোর প্রাপ্ত রেমিটেন্স তুলনামূলক অনেক কম। জুলাই মাসে সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সম্মিলিতভাবে প্রাপ্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অপরদিকে এছাড়া চলতি বছরের জুন মাসে বিশেষায়িত ব্যাংক দুটির প্রাপ্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ মোট ১ কোটি ১০ লাখ ডলার। সুত্র মতে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১২-১৩) প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে, যা ২০১১-১২ অর্থবছরে এসেছিল ১ হাজার ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ১২ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছিল ১ হাজার ১৬৫ কোটি ডলার। তবে, বিদায়ী অর্থবছরে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর সর্ব্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে।

জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং

তরুণ ভোক্তাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। ব্যাংকিং খাতের বহুমুখী ও সহজ সেবার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে তরুণদের কাছে এ সেবা আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার চিত্রই বদলে দিয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। এ সেবার বদৌলতে এখন ঘরে বসেই সব ধরনের মোবাইল সেবা ব্যবহার করতে পারছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে তরুণ ভোক্তাদের কাছে এটি বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস শহরের সহকারী শিক্ষক ক্যান সম্প্রতি শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেছেন। এ কারণে তার শিক্ষার্থী হিসেবে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। এখন তাকে অ্যাকাউন্টের ধরন পরিবর্তন করে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু নতুন পেশা গ্রহণ করার কারণে ছুটিও পাচ্ছেন না যে ব্যাংককে গিয়ে অ্যাকাউন্ট বদল করবেন। তখনই তিনি গোব্যাংক নামের একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম শোনেন। পরবর্তীতে তিনি এ সেবার গ্রাহক হয়ে স্মার্টফোনেই সব ধরনের লেনদেন ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন। ক্যানের মতো এ ধরনের ঝামেলার শিকার অহরহই হন অনেকে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে মোবাইল ব্যাংকিং। সব সময় যেকোনো দেশের প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তরুণ সমাজ। গ্রাহকরা সাধারণত তরুণ বয়সেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন। তাদের সময় সাশ্রয়েরই একটি সমাধান মোবাইল ব্যাংকিং। এদিকে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের খরচও অনেক কম। এ কারণে তরুণ গ্রাহকরা ক্রমেই এ ব্যাংকিং সেবার দিকে ঝুঁকছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। যুক্তরাষ্ট্রে গোব্যাংকের মতো এমন আরো অনেক মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোভেন ও সিমপল নামের দুটি মোবাইল ব্যাংকিং। সিম্পল সেবাটি ২০১২ সালের জুলাইয়ে চালু হয়। এরই মধ্যে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশেই বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংক থেকে অনেক দূর ঘরে বসে বা কম্পিটারের সামনে বসে এ সেবা ব্যবহার করা যায় বলে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিও অনেক হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাংকিং সিস্টেমের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে অর্থের স্বল্পতা। অনেক মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতাই এখনো গ্রাহকদের প্রয়োজনমতো অর্থের জোগান দিতে সক্ষম হচ্ছে না। এ কারণে অনেক বড় ব্যবসায়ী সেবাটি প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারছেন না। সূত্রঃ  বাংলা এক্সপ্রেস

রপ্তানি আয়

তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে

ঈদুল আজহার ছুটির কারণে গত আগস্ট মাসের শেষ ১০ দিন পণ্য রপ্তানি হয়নি। তারপরও ওই মাসে ২৯২ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৪ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ফলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পোশাক খাতের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য; পাট ও পাটপণ্য; হোম টেক্সটাইল এবং হিমায়িত চিংড়ির মতো অন্য বড় খাতগুলোর রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সব মিলিয়ে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট পণ্য রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৪ শতাংশের বেশি। এই সময়ে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলারের নিট ও ২৮২ কোটি ২২ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাকে দেড় শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটির কারণে গত মাসের প্রথম ২০ দিনের পর আর সেভাবে রপ্তানি হয়নি। তারপরও গত দুই মাস মিলিয়ে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা সন্তোষজনক। তিনি আরও বলেন, ক্রয়াদেশ ভালো থাকলেও ক্রেতারা পোশাকের দাম কম দিচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমতে পারে। প্রতি পাঁচ বছর পরপরই এমনটা হয়ে আসছে। ফলে সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরতে হবে। এদিকে পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। চলতি অর্থবছরের দুই মাসে ১৮ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২৪ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি আয়ে পাট ও পাটপণ্য তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও এবার সেটি পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে। আলোচ্য দুই মাসে সেই অবস্থান দখল করেছে কৃষিজাত পণ্য। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১৮ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্য রপ্তানিতে ১৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের কাঁচা পাট, ৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পাটসুতা, ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পাটের বস্তা রপ্তানি হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের চেয়ে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমেছে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের আয় হলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পণ্যটি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে চিংড়ি রপ্তানি করে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া সিরামিকপণ্য রপ্তানিতে ২৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে নতুন ট্যাক্সিক্যাবে ভাড়া দ্বিগুণ হচ্ছে

নতুন ট্যাক্সিক্যাবে ভাড়া দ্বিগুণ হচ্ছে
ইসমাইল আলী | তারিখ: ২৭-০৮-২০১৩
ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরিচালনার জন্য রাজধানীতে নামছে ৫ হাজার ২৫০টি নতুন ট্যাক্সিক্যাব। আর এসব ক্যাবের ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব গত সপ্তাহে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিএ)। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সপ্তাহে তা অনুমোদনের কথা রয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীতে চলাচলের জন্য নতুন ২৫০টি ট্যাক্সিক্যাব আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে তমা গ্রুপকে। অক্টোবরে এসব ট্যাক্সিক্যাব রাজপথে নামার কথা রয়েছে। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরো ৫ হাজার ট্যাক্সিক্যাব নামাচ্ছে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। অক্টোবর বা নভেম্বরে নামবে এসব ট্যাক্সিক্যাব।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ট্যাক্সিক্যাব গাইডলাইন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভাড়া বাড়ানোর বিধান রয়েছে। তবে ২০১০ সালের পর ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম বেড়েছে। অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। তাই ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিআরটিএর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই নতুন ভাড়া অনুমোদন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, উন্নত সেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে ভাড়া, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জন্যও একই হার প্রযোজ্য।
বিআরটিএর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রথম ২ কিলোমিটার বা তার কমপথ ভ্রমণের জন্য ট্যাক্সিক্যাবের ন্যূনতম ভাড়া ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া দিতে হয় ২০ টাকা। আর যাত্রাবিরতিকালে প্রতি মিনিটের জন্য সাড়ে ৩ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাবে, ট্যাক্সিক্যাবের ন্যূনতম ভাড়া হবে ৮০ টাকা। প্রথম ২ কিলোমিটার বা তার কমপথ ভ্রমণের জন্য এ ভাড়া দিতে হবে। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া দাঁড়াবে ৪০ টাকা। আর যাত্রাবিরতিতে প্রতি মিনিটের জন্য সাড়ে ৭ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. সাইফুল হক বলেন, তিন বছর ধরে ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে এ সময়ের মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া তিনবার বাড়ানো হয়েছে। তাই ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন ভাড়া অনুযায়ী, উত্তরা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ৩০০ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা। তবে সিএনজি অটোরিকশায় এ পথের জন্য ভাড়া দাবি করা হয় ৪০০ টাকা। তাই সহজ, নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের স্বার্থে এ ভাড়া দিতে আপত্তি করবে না বলেই আশা করা যায়।
জানা গেছে, ৫ হাজার ট্যাক্সিক্যাবের মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার ঢাকায় ও দেড় হাজার চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরিচালনা করবে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যরা এসব ক্যাব পরিচালনা করবেন। এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ সার্ভিস থেকে জনগণ ২৪ ঘণ্টা সেবা পাবেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) প্রযুক্তি থাকবে প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবে।
আমদানি করা ট্যাক্সিক্যাবের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৫০০ বা তার বেশি সিসির হতে হবে। এগুলো হতে হবে পরিবেশবান্ধব। অর্থাৎ সিএনজি বা পেট্রলচালিত ট্যাক্সিক্যাব আমদানি করতে হবে। এসি ট্যাক্সিক্যাবের রঙ হবে হলুদ ও নন-এসির রঙ হবে সবুজ। সম্পূর্ণ নতুন বা রিকন্ডিশনড গাড়ি ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে আমদানি করা যাবে। তবে তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি করা যাবে না।
সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে পাঁচ বছরের পুরনো গাড়ি ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে আমদানির সুযোগ চেয়েছে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এক্ষেত্রে এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সংগ্রহের জন্য ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছর পরিচালনার পর ট্যাক্সিক্যাবগুলো ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয়ার অনুমোদনও চেয়েছে ট্রাস্ট। ট্যাক্সিক্যাব আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়। তাই হস্তান্তরের অনুমোদন নেয়ার জন্য এনবিআরের মতামত সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। তবে নীতিমালা অনুসারে যতটুকু সুযোগ দেয়া সম্ভব, ততটুকুই দেয়া হবে। অন্য কোনো সুবিধা চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ যেমন— এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। তবে নীতিমালার বাইরে কোনো সুবিধা দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, রাজধানীর ক্ষেত্রে আমদানি করা ট্যাক্সিক্যাব ঢাকা মহানগরী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী, মুন্সীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ, মাওয়া, জয়দেবপুর চৌরাস্তা হয়ে গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের আরিচা এলাকায় ভাড়ায় চালানো যাবে। আর চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে শহরের বাইরে বন্দর এলাকা ও আশপাশ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এলাকায় ভাড়ায় সেবা দেয়া যাবে। প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবে অবশ্যই মিটার থাকবে এবং সে অনুযায়ী ভাড়া আদায় করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবে রেডিও লিংক ও জিপিএস প্রযুক্তি থাকবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান ও পথ কন্ট্রোল রুম থেকে চিহ্নিত করা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে

image চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে তবে এর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ যা অতি নগণ্য। বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংসদকে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশর রপ্তানি আয়ের ১৯ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের হিসাব মতে, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবিদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর (ফেনী-২) এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমদে বলেন, ‘বর্তমানের দেশে সোয়াবিন তেলের আনুমানিক বার্ষিক চাহিদা ১০ থেকে ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৪ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত এবং ১০ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধিত/ অপরিশোধিত পাম ওয়েল তেল করা হয়েছে।’ মহিলা সংসদ সদস্য আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১০৭টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে জার্মানী, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইটালী, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য। কামরুল আশরাফ খানের (নরসিংদী-২) প্রশ্নের জবাবে মোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ১৪৭ জন সিআইপি (রপ্তানি) আছেন।’ মহিলা সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে বাংলাদেশের সিমেন্ট রফতানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, মালয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে সিমেন্ট রফতানি করা হয়ে থাকে। সিমেন্ট রফতানি করেই ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলার। তিনি আরও জানান, সিমেন্ট বাংলাদেশের একটি পুঁজিঘন শিল্প খাত। দেশে উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের চাহিদা পূরণ করে এখন রপ্তানি করা হচ্ছে। সরকার সিমেন্ট রপ্তানী বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের যে কোনো একটিতে ৭ দিন ব্যাপী একটি বিশেষায়ীত মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ মেলায় অন্যান্য পণ্যের সাথে সিমেন্টকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রতিবেশী দেশসমূহে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তোফায়েল বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত সিমেন্ট পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেই বেশি রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে সাফটা চুক্তির আওতায় ভারত হতে শুল্কমুক্ত রপ্তানী সুবিধা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া এলডিসি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনও শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এছাড়াও জিএসপি স্কিমের আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে শুল্কমুক্ত সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অবকাঠামোগত সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সিমেন্টের গুণগতমান নির্ণয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ফ্যাসালিটি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টা হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রপতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রফতানি বাণিজ্যে উৎসাহিতকরণে প্রতিবছর সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা হয়। বাংলামেইল২৪ডটকম

প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমছে বাংলাদেশেই

০২ অক্টোবর ২০১৭

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রাপ্তি কমেছে। তবে দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশ ও ভারতে। সে তুলনায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এতটা প্রকট হয়নি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এখন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। দুই বছর ধরেই এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০১৭ সালেও একই প্রবণতা। যেমন ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স কমেছিল ১ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৪২৯ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ‘হালনাগাদ উন্নয়ন’ নামে সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রতিবেদনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সব দেশে প্রবাসী আয় কমলেও এর গভীরতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে পরিস্থিতি খারাপ বেশি বাংলাদেশ ও ভারতের। অর্থাৎ এই দেশ দুটিতে প্রবাসী আয় বেশি কমেছে এবং তা ধারাবাহিকভাবেই কমছে। বাংলাদেশ ও অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পায় মূলত মধ্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এসব দেশের অর্থনীতির আয়ের মূল উৎস জ্বালানি তেল। আর এই জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণেই প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লেগেছে। তেল থেকে আয় কমে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো নানা ধরনের আর্থিক নীতি গ্রহণ করেছে। যেমন, অনাবাসী নাগরিকদের ওপর কর আরোপ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি হ্রাস। এসব কারণে দেশগুলোতে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। আর এরই প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় প্রবাহে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠান ১ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। আর তারও আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রবাসী আয় আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। এই অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল আড়াই শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। যদিও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) অবশ্য প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। ঈদের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশও প্রবাসী আয়ের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। মোট প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। একমাত্র কাতার ছাড়া বাকি সব উপসাগরীয় দেশ থেকেই প্রবাসী আয় হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে প্রবাসী আয় আসা কমেছে সবচেয়ে বেশি।

আয় কমলেও প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এ সময় ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ জন উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে গেছেন। এই সংখ্যা গত অর্থবছরের মোট জনশক্তি রপ্তানির ৮৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি গেছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এত মানুষ গেলেও বিপরীতে কত মানুষ একই সময়ে ফিরে এসেছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই, উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, নতুন যাঁরা গেছেন, তাঁদের প্রতি চারজনের একজন নারী। তাঁরা অত্যন্ত কম বেতনে যাচ্ছেন। এটিও প্রবাসী আয় কমার আরেকটি কারণ।

কেন কমছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। দেখা গেছে, প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে অর্থ পাঠানোর অনানুষ্ঠানিক পথ ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বলে রাখা ভালো, পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিরই ব্যবহার বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষায়ও দেখা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে বিনিময় হারের পার্থক্য, দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও কম খরচ।

বিশ্বব্যাংক সবশেষে বলছে, কমে গেলেও এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস এই প্রবাসী আয়। এই আয় মোট ঋণ ও বিদেশি বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। তা ছাড়া, বিশেষ করে বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের বিশালসংখ্যক পরিবার এই প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এভাবে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সূত্র: প্রথম আলো

বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য অপচয় হয়: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে বুধবার এ কথা বলা হয়েছে।
বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য অপচয় হয়: জাতিসংঘবিশ্বে মোট উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই অপচয় হয়। এ কারণে প্রতি বছর বৈশ্বিক মোট অর্থনীতির ৭৫ হাজার কোটি ডলার অপব্যয় হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে বুধবার এ কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্যের অপচয় হয়। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয় এশিয়া অঞ্চলে। এফএওর মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয় তা সুইজারল্যান্ডের জিডিপির সমান।" তিনি বলেন, "অনুপযুক্ত বা অসঙ্গত পদ্ধতির কারণে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয়ে যাবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষত যেখানে বিশ্বে প্রতিদিন ৮৭ কোটি লোক অভুক্ত থাকে।" জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) প্রধান আচিম স্টেইনার বলেন, "মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও তারিখ দিয়ে খাদ্য বিক্রির কারণে অনেক খাবারও ফেলে দিতে হয়।" এফএওর মতে, উন্নত দেশগুলোয় খাবার গ্রহণের সময় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয় উৎপাদনের সময় খাদ্যের অপচয় হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ৮০০ কোটি টাকার তহবিল

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ৮০০ কোটি টাকার তহবিল : স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। আর তা বাস্তবায়নে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বিভাগটি। নগদ ও অন্যান্য রিসোর্স মিলিয়ে এই তহবিল বিতরণ হবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (ভিসি) বিনিয়োগ মডেলে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে এই কার্যক্রমে উদ্যোক্তাদের আইডিয়া বাস্তবায়নে আর্থিক, দক্ষতা, যোগাযোগ উন্নয়নসহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। যার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে সিলিকন ভ্যালির আদলে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সংস্কৃতি তৈরি করা। ইতোমধ্যে এই বিনিয়োগে কাকে নির্বাচন করা হবে, কাকে কত টাকা দেওয়া হবে, এরপর তাদের কাজের দেখভাল কীভাবে করা হবে-এসব বিষয়ে একটি ‘বিনিয়োগ কৌশল নীতিমালা’ তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশের উপদেষ্টা টিনা জাবীন জানান, ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিলের অর্ধেকের বেশি নগদ আর বাকিটা অন্যান্য খাত বা রিসোর্স মিলিয়ে। এটা অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার এখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের ভূমিকা পালন করবে। সরকার উদ্যোগগুলোর ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব নেবে। অবশ্য আইডিয়া স্টেজে কোম্পানিকে কিছু অনুদান দেওয়া হবে। তবে বেশিরভাগই যাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মডেল ফলো করে। স্টার্টআপ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে ২শ’র মতো আইডিয়া জমা পড়েছে। এখানে কেউ ৫ লাখ, কেউ ১০ লাখ, কেউবা কোটি টাকা চেয়েছেন। বিনিয়োগ ও অনুদানের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০টির মতো আইডিয়া ও উদ্যোগ নির্বাচন করা হয়েছে। বিনিয়োগ কৌশল নীতিমালা চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত আইডিয়া ও উদ্যোগগুলো তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থ পাবে। সিলিকন ভ্যালির কিছু একাডেমির সঙ্গে এই উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করা গেছে। যেমন-ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসের (এমআইটি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিনটেকের তথ্য বিশ্লেষক ডেভিড এম শায়ারের মতো ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে এসেছেন এবং দেশের উদ্যোক্তাদের আইডিয়া উপস্থাপন দেখেছেন। আর এসবই স্টার্টআপ বাংলাদেশের উদ্যোগে হচ্ছে বলে জানান তিনি। আইডিয়া সাবমিট করতে ও বিস্তারিত জানা যাবে http://startupbangladesh.gov.bd/ ঠিকানায়।

সমঝোতায় আসুন, নইলে ৩য় শক্তি আসতে পারে :এফবিসিসিআই

চলমান রাজনৈতি সংকট দুই প্রধান দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের জন্য আবারো আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। অন্যথায় তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসবে। কোনভাবেই তৃতীয় শক্তি চাই না। এর আগে যখন তৃতীয় শক্তি এসেছিল তখন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা ব্যাপকভাবে নিগৃহীত হয়েছিল। গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এমন আশঙ্কার কথা জানায়। সংগঠনের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমঝোতা না হলে 'ব্যতিক্রম' ঘটতে পারে। এর আগে 'এক-এগারো' এসেছিল। তখন সবাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। সুতরাং সেটা আর কেউ চাইবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা দুই নেত্রীর সঙ্গে সম্ভব হলে আজকেই (গতকাল মঙ্গলবার) দেখা করার চেষ্টা করব। তাদেরকে চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য আহ্বান জানাব। সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের নিয়ে সম্মেলন করব। কর্মসূচি দেব। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেব। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে ফিরে দাঁড়াতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আরো বেশি চাপ সৃষ্টি করা হবে- এমনটি জানিয়ে কাজী আকরাম বলেন, আজ থেকে মঙ্গলবার প্রেসার শুরু করলাম। এই চাপ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যাতে সমঝোতা হয়। আমাদের ছাড়া দেশ চলতে পারে না। ব্যবসায়ীরা হরতালের শিকার- এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বন্ধ হবে বলে আমরা মনে করি। প্রসঙ্গত, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ব্যবসায়ীরা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা এক বৈঠকে উভয় দলের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। উভয় দলকে রাজপথের বাইরে আলোচনার টেবিলে বসে সমঝোতা করার জন্য একজোট হয়ে চাপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বর্তমান সংকট সমাধানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোন ফর্মুলা বা পন্থা দিতে চান না তারা। কাজী আকরাম বলেন, আমরা কোন তত্ত্ব দিতে চাই না। এটার সমাধান তারাই করবেন। আমরা বাধাহীনভাবে ব্যবসা করতে চাই। তারা (রাজনৈতিক দলগুলো) যেমন 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' চান আমরাও ব্যবসা করার জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' চাই। তিনি বলেন, হরতালে ধ্বংসের শিকার ব্যবসায়ীরা। অবশ্য এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায়নি এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটি। এ বিষয়ে কাজী আকরাম বলেন, আমরা সম্প্রতি আবার চিঠি দিয়েছি। আশা করি তার সঙ্গে দেখা করতে পারব। দুই নেত্রীর সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা কতটুকু- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতীয় বিষয় আসার আগে ভাবাবেগের বিষয় আসে। এরপর যে কথা হবে সেটি জাতীয় ইস্যু নিয়েই হবে। আগে তো কথাই হতো না। তবুও আলাপ শুরু হয়েছে। এখন বরফ গলবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভেদ বা অনৈক্য নেই দাবি করে তিনি বলেন, যে যেই মতেই বিশ্বাস করি না কেন ব্যবসায়িক স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, আনিসুল হক, মীর নাসির হোসেন, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, সালমান এফ রহমান, আকরাম হোসেন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সবুর খান, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রোকেয়া এ রহমান, বিজিএমইএ'র সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ'র সভাপতি সেলিম ওসমান, এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কুমিল্লার খাদি

বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কুমিল্লার খাদি


রনবীর ঘোষ কিংকর, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কুমিল্লার খাদি
ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চান্দিনা (কুমিল্লা): কুমিল্লা‘র ইতিহাসে প্রতিটি পাতা জুড়ে রয়েছে খাদি। স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে এর গৌরবময় ঐহিত্য বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশে জুড়ে আজও সমাদৃত। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ সকল দেশে খাদির পোশাক ব্যবহৃত হয়। এক সময় খাদি সকলের পরিধেয় হলেও বর্তমানে উন্নত রাষ্ট্রসহ দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের আভিজাত্যের পোশাক খাদি। বিশ্ব জুড়ে আছে এশিয়া মহাদেশের খাদির খ্যাতি। এই খাদির জন্য পুরস্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের মধ্য কুমিল্লা জেলা হচ্ছে খাদির জন্য বিখ্যাত। তবে খাদির আদি ঠিকানা  কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায়। যা আজও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় করে চলেছে। প্রায় শতবর্ষেরও বেশি সময় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া, কলাগাঁও, কুটুম্বপুর, হারং, বানিয়াচং, ভোমরকান্দি, বেলাশ্বর, মধ্যমতলা, বাড়েরা, গোবিন্দপুর, ছয়ঘড়িয়া, হাড়িখোলা ও দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা, নবীয়াবাদ, জাফরাবাদ, সাইতলা, বাখরাবাদ, ভানী গ্রাম খাদির জন্য খ্যাত। এসবস্থানে চরকায় সুতা কেটে কাঠের তৈরি লোম মেশিনে খট খট শব্দে একের এর এক সুতার সাথে বুনন করে তৈরি হচ্ছে খাদি কাপড়। যার প্রতিটি সুতায় জড়িয়ে আছে বৃহত্তর ভারতবর্ষসহ বাংলার ঐতিহ্য। নিম্নবিত্ত বা সনাতন ধম্বাবলম্বী নিম্নবর্ণের পরিবারের পরিধেয় মোটা সুতায় তৈরি সাদামাটা এই কাপড়। তৎকালিন সময়ে ওই কাপড়ের কোন নাম ছিল না। রাঙ্গামাটির কার্পাস তুলায় সুতা কেটে এ কাপড় তৈরি শুরু করা হয়েছিল। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিম্নবর্ণের যুগী সম্প্রদায়ই এই কাপড় তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিল। ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর আহবানে বৃহত্তর ভারতবর্ষে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশিয় পণ্যে ‘মোটা কাপড়, মোটা ভাত’ ব্যবহারের জন্য ডাক ওঠে। ওই সময় মহাত্মা গান্ধীজির হাতে কাটা সুতা দিয়ে তাঁতে তৈরি খদ্দর কাপড় তুলে দিলে তিনি এই স্বদেশী কাপড় হিসেবে এবং গর্তে (খাদে) বসে তৈরি করা হয় বলে খদ্দর নামসহ এই শিল্পের প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে উন্নত মানের খদ্দর তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হয়। ১৯৩০ সালে ভারতের অভয়াশ্রম পরিচালিত কুমিল্লার বরকামতায় (বর্তমান চান্দিনা) নিখিল ভারত কার্টুর্নি সংঘে হাতে কাটা চরকায় সুতা ও তকলীতে কাপড় তৈরির কাজ চলতো। তাৎকালীন সময়ে সেখানে ডায়িং মাষ্টার হিসেবে কাজ করতেন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা শৈলেন্দ্র নাথ গুহ। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর খাদি শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার করা হলে কুমিল্লার খাদি শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসে। কিন্তু ওই বিপর্যয় বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৫২ সালে সমবায় আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ ড. আখতার হামিদ খানের চেষ্টায় এবং তৎকালীন গভর্নর ফিরোজ খান নুনের সহযোগিতায় কুমিল্লায় ‘দি খাদি অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এদিকে তৎকালীন সময়ে শৈলেন্দ্র নাথ গুহ ধারণা করেছিলেন খাদি একদিন প্রসার লাভ করবে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবেই। ওই ধারণামতে তিনি বরকামতার (বর্তমান চান্দিনার কাঠের পুল সংলগ্ন চান্দারপাড়) খাদির ওই কারখানাটি ধরে রাখেন। তৎকালীন সময়ে কর্মহীন ব্যক্তিদের খুঁজে এনে তার কারখানায় সুতা কাটা, কাপড় বোনার কাজ দিতেন। এভাবে কয়েক যুগ অতিক্রম হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বী যুগী সম্প্রদায়ের তৈরি ওই কাপড়কে খাটো চোখে যুইগ্যা কাপড় হিসেবে বিবেচনা করায় খাদি কাপড়ের চাহিদার পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু তিনি যার সাথেই আলাপ করতেন তাকেই বলতেন ‘আপনারা বছরে অন্তত একটি পাঞ্জাবী, পায়জামা বা ধুতি পড়ুন। তিনি সর্বদাই চিন্তা করতেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাঁচ কোটি জনসংখ্যা ছিল। সকলেই যদি বছরে একগজ খদ্দরের কাপড় কেনেন তাহলে প্রতি বছরে পাঁচ কোটি গজ কাপড় তৈরি করতে হবে। আর সকলের গাঁয়েই থাকবে দেশিয় পণ্য। খাদিকে সারা দেশে প্রসার ঘটাতে তিনি ঢাকা শহরে ‘প্রবর্তন’ নামে একটি খাদি কাপড় বিক্রির দোকান গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা  লাভ করে। এসময়ও  নিম্নবিত্ত পরিবার ছাড়া অনেক বাঙ্গালি তার ঐতিহ্যের কাপড় খদ্দর ব্যবহার করতেন না। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে খাদি কাপড়ের চাহিদা বাড়তে থাকে। সাদামাটা রঙের খাদি কাপড় এখন বিভিন্ন রঙে ছাপা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আছে খাদি কাপড়ের পোশাক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। যখনই খাদি কাপড়ে তৈরি পোশাকে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে ঠিক তখনই দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা কুমিল্লার বিখ্যাত খদ্দর কারখানা শৈলেন্দ্রনাথ গুহের গ্রামীন খদ্দর পরিদর্শনে আসেন। ঢাকাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে খদ্দরের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক উর্ধতন ব্যক্তিরাও আসেন শৈলেন্দ্রনাথ গুহের কারখানায়। কিন্তু জীবদ্দশায় শেষ ইচ্ছায় পূরণ হয়নি তাঁর। ১৯০১ সালে জন্ম নিয়ে সাবালক হওয়ার পর থেকে জীবনের শেষ সময় টুকু পর্যন্ত শৈলেন্দ্রনাথ গুহ খাদি কাপড় নিয়ে কাজ করেছেন। খাদিকে জনপ্রিয় করতে এবং তার প্রসার ঘটাতে অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষাও করেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করেন তখন শৈলেন্দ্রনাথ গুহ অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে অবস্থায় তিনি চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজ হাতে একটি খদ্দরের শাড়ি উপহার দেবেন। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন। খাদি কাপড়ের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যে ভিন্নতর মাত্রা আছে। বিদেশ থেকে আসা কাপড় আর আধুনিক বস্ত্রকলে উৎপাদিত কাপড়ের পাশে খাদি বস্ত্রের আভিজাত্যই আলাদা। কিন্তু দেশে বস্ত্রনীতির অভাবে অন্যান্য তাঁত শিল্পের মতো এতিহ্যবাহী খাদিশিল্প কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। খাদি শিল্পের প্রসারে শৈলেন্দ্র নাথ গুহের শ্যালক উপেন্দ্র নাথ  সর্ব প্রথম কুমিল্লায় ‘শুদ্ধ খদ্দর ভান্ডার’ নামে খদ্দরের জমজমাট ব্যবসা আরম্ভ করেন। সেখানে তিনি রং ও ছাপার কাজও করতেন। পরবর্তীতে তরুণী মোহন রায়ের খাদি ঘর, শংকর ভট্টাচার্যের  খাদি কুটির শিল্প, মনমোহন দত্তের বিশুদ্ধ খদ্দর ভান্ডার, কৃষ্ণ সাহার রাম নারায়ণ খাদি স্টোর, দীনেশ দাসের খাদি ভবন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বর্তমানে শুধুমাত্র কুমিল্লা মহানগরীতেই শতাধিক খদ্দরের দোকান গড়ে উঠেছে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত অনেক হোটেলের পাশেও রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খদ্দরের দোকান। কারণ দেশের যে প্রান্ত থেকেই কোন ব্যক্তি বা পরিবার কুমিল্লায় বেড়াতে আসেন বা কুমিল্লায় অঞ্চলে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন তাদের কেউ কুমিল্লার ঐতিহ্য হিসেবে খদ্দরের যে কোন পোশাক না কিনে যাবেন না এটাই স্বাভাবিক। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল সংলগ্ন চাঁন্দারপাড়ে গড়ে উঠা শৈলেন্দ্রনাথ গুহের গ্রামীণ খাদি’র বর্তমান পরিচালক অরুন গুহ (চান্দু) জানান, ‘খাদির উপর’ বাবার (শৈলেন্দ্র নাথ গুহের) অনেক স্বপ্ন ছিল। তাঁর বড় তিনটি স্বপ্নের মধ্যে একটি হলো- সারা বাংলার প্রতিটি মানুষের গাঁয়ে খাদির কাপড়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খাদির শাড়ি উপহার ও খাদি কাপড়ে বাংলাদেশের পতাকা বাধ্যতা মূলক করা। তিনি শৈলেন্দ্রনাথ গুহের স্বপ্ন পূরণ সম্পর্কে বলেন, সব কিছুর পরিবর্তনের সঙ্গে খাদি কাপড়েও অনেক পরিবর্তন এসেছে। যে সময়ে খাদি শুধু নিম্ন বিত্তদের পরিধেয় ছিল এখন ওই খাদি উচ্চবিত্তসহ বাঙ্গালি জাতির আভিজাত্যের পোশাকে পরিণত হয়েছে। আমরাও খাদির গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে আধুনিকতা আনার চেষ্টা করছি। কারণ পৃথিবীর যেখানে রুচি সম্মত বাঙালি রয়েছেন সেখানেই খাদি কাপড় সমাদৃত। বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালিদের ব্যবহার করা খাদি কাপড়ে বৈচিত্র দেখে বিদেশিরাও খাদি কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বাবা নিজ হাতে খাদি কাপড় উপহার দিতে না পারলেও পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি‘র মাধ্যমে বাংলার বিখ্যাত কারুশিল্পী জয়নুল আবেদীনের বংশধর ইকবাল উদ্দিনসহ তিন ব্যক্তি বাবার ওই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন বাঙ্গালি হিসেবে আমাদের দাবী বাংলার ঐতিহ্য খাদি কাপড়েই হোক আমাদের জাতীয় পতাকা। তিনি আরও বলেন, ফ্যাশন ডিজাইনারদের পাশাপাশি যদি আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী,  রাজনৈতিক উর্ধতন নেতৃবৃন্দ বিদেশি রাষ্ট্রদূত বা বিদেশি রাজনীতিবিদদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য খাদি উপহার দেন তাহলে বিশ্ব জুড়ে এই খাদির প্রসার হবে এবং বাংলার বিখ্যাত খাদির ইতিহাস যুগ যুগ ধরে অক্ষুন্ন থাকবে।

ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০ টাকা মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ

ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০ টাকা মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে তারা এই মজুরি মেনে নেন। মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতারা বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি মজুরি বোর্ডের নূন্যতম এই মজুরির প্রস্তাব মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানান, মালিকদের তরফ থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসছেন লস এঞ্জেলেসে আগামী ২২ নভেম্বর

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসছেন লস এঞ্জেলেসে আগামী ২২ নভেম্বর লিটল বাংলাদেশ ইম্প্রুভমেন্ট ইনক এর আমন্ত্রনে এবার লস এঞ্জেলেসে আসছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। লিটল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ঋণ, সামাজিক বাণিজ্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ে আলোচনা করতে লিটল বাংলাদেশ ইম্প্রুভমেন্ট, ইঙ্ক-এর এক নাগরিক সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে অংশ নিবেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় ইউনিভার্সাল সিটি শেরাটনে এই বহুজাতিক নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। লিটল বাংলাদেশ এলাকায় প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক উন্নয়নকল্পের অংশ হিসাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস লস এঞ্জেলেসে আসছেন। এই উপলক্ষ্যে লিটল বাংলাদেশ ইম্প্রুভমেন্ট, ইঙ্ক-এর প্রধান নির্বাহী, লস এঞ্জেলেস সিটির কমিশনার মুজিব সিদ্দিকীর লিটল বাংলাদেশের অফিসে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। এলবিইই-এর চেয়ারম্যান জেসমিন খানের সভাপতিত্বে ও মুজিব সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শামসুদ্দিন মানিক, মেজর(অবঃ) সাইফ কুতুবী, এম কে জামান, শিবলী আহমেদ, মিঠুন চৌধুরী, ফারহানা সাঈদ, মুসলেম খান, মিখায়েল রাসেল, আতিক রহমান প্রমুখ। সভায় কিভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লস এঞ্জেলেসে সম্মানিত করা যায় এবং তার ইমেজের সাথে লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেসকে সম্পৃক্ত করে এই বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় পূর্নাংগ বাংলাদেশ বিজনেস হাব-এ পরিনত করা যায় তার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। তার এই আগমনকে কেন্দ্রকরে মূলধারায় লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেসকে কিভাবে উপস্থাপনা করা যায় তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। মূলধারার প্রেস, বিজনেস স্কুল, ফোরাম ও প্রচারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্দ্বান্ত গ্রহন করা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, শামসুদ্দিন মানিক, সাইফ কুতুবী, এম কে জামান, শিবলী আহমেদ, মিঠুন চৌধুরী, ফারহানা সাঈদ, মুসলেম খান, মিখায়েল রাসেল, আতিক রহমান,জাহান হাসান, ড. ইউনূস,  গ্রামীণ আমেরিকা, নিউ ইয়র্ক , ক্লিনটন গ্লোবাল মিটিং, মুজিব সিদ্দিকী, লিটল বাংলাদেশ, লিটল বাংলাদেশ ইম্প্রুভমেন্ট, উল্লেখ্য ড. ইউনূস গ্রামীণ আমেরিকাকে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক সফর করেন। তিনি ঘোষনা দেন, নিউ ইয়র্ক সিটির হারলেম বরোতে ৭ হাজারেরও বেশি নারীর মালিকানাধীন বাণিজ্যে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে গ্রামীণ আমেরিকা। এই হারলেম বরোতে ২৫শে সেপ্টেম্বর গ্রামীণ আমেরিকা ইনকরপোরেশনের নতুন শাখা উদ্বোধন করেন ড. ইউনূস। এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এর ৭ম শাখা উদ্বোধন হলো। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১০ম বার্ষিক ক্লিনটন গ্লোবাল মিটিংয়েও যোগ দেন। যোগাযোগের ঠিকানা: 3717 W 3rd Street, #208, Los Angeles, CA 90020।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.