বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ বাস ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কারণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে  স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস মালিকদের অর্ধেক যাত্রী বা ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মোল্লা শনিবার (৩০ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, “সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন মালিকদের দাবি ছিল যাত্রী সংখ্যা যেহেতু কমছে তাই ভাড়া ১০০ ভাগ বাড়ানোর জন্য। আমরা সেটা না করে ৮০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। এই ভাড়া সবধরণের পরিবহনের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকার যদি এটি কার্যকর করে তাহলে পরিবহনগুলোকে তাদের পূর্বে ভাড়ার যে দর ছিল সেই দর থেকে ৮০ ভাগ বাড়াবে।’ দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চালু হওয়া গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির শর্তগুলো যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে বন্ধ থাকা গণপরিবহন খুলতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার ১ জুন থেকে সড়ক পরিবহন শুরু হচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হেল্ডারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। গণ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনে সকলেই সম্মতি দিয়েছে। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। সামান্য উপেক্ষা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আতে পারে। ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। এগুলো হলো- বাস টার্মিনালে ভিড় করা যাবে না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হবে, বাসে উঠার আগে শরীরের তাপমাত্র পরীক্ষা ও হাত ধুতে হবে, বাসে স্যানিটাইজার রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না, ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখতে হবে, চালক শ্রমিক  ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, যাত্রার আগে ও পরে বাস জীবাণুমুক্ত করতে হবে, চালক-শ্রমিককে একটানা ডিউটি দেওয়া যাবে না, মহাসড়কে বিরতি দেওয়া যাবে না এবং মালামাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক আদেশে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। এরপরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ।

মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা: কিভাবে এই কোম্পানীরা লাইসেন্স পেলো??

ঠিকানাহীন ছয় আইজিডব্লিউ : বিটিআরসির পাওনা ৭৫০ কোটি টাকা

|সুমন আফসার|
মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। নেই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা। এ ধরনের ছয় ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি টাকার বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় পাওনা আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও আয় ভাগাভাগির অংশসহ অন্যান্য পাওনা নিয়মিত পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অংকের এ বকেয়া পড়েছে। বকেয়া পরিশোধ না করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বেসটেক টেলিকম, রাতুল টেলিকম, কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস, টেলেক্স, ভিশন টেল ও অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশন। ছয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সই বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। জানা গেছে, ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে ভিশন টেল লিমিটেডের কাছে ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পাওনা আদায়ে ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই বছর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) ও টেলিযোগাযোগ আইনেও আলাদা মামলা করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আইসিএক্স লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউড টেল লিমিটেডের সহযোগী কোম্পানি ভিশন টেল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এক মেয়ে। তবে বিটিআরসির দায়ের করা মামলার বিবাদীরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসএম আসিফ শামস, পরিচালক রাসেল মির্জা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইরিন ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম ও শেয়ারহোল্ডার জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে আইরিন ইসলাম ও পরিচালক শরিফুল ইসলামকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতারও করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তারা। আরেক আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান বেসটেক টেলিকমের বকেয়ার পরিমাণ ১৩০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনের আওতায় সার্টিফিকেট মামলা করে বিটিআরসি। এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। একই বছরের জুনে গুলশান থানায় টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত করিম ও পরিচালক মামুন-উর-রশিদ রয়েছেন মামলার বিবাদী হিসেবে। অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশনসের কাছে পাওনার পরিমাণ ১২০ কোটি ১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়েছে। অস্পষ্টতা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়েও। শুরুর দিকে অ্যাপল গ্লোবাল টেলের মালিকানায় ছিলেন সোহেল আহমেদ, মনির আহমেদ, ইকবাল বাহার জাহিদ ও ইমদাদুল হক মোল্লা। আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান টেলেক্স লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পিডিআর আইনে মামলা দায়ের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মামলা করা হয়েছে এনআই ও টেলিযোগাযোগ আইনেও। তিনটি মামলায়ই বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সঠিক নাম-ঠিকানাও পুনরায় দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স পেতে সুপারিশ করেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা। টেলেক্স লিমিটেডের বর্তমান মালিক আবদুর রহমান ও মুজিবুর রহমান। বিটিআরসির মামলায় এ দুজনকে বিবাদী করা হয়েছে। রাতুল টেলিকমের কাছে পাওনার পরিমাণ ১০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। এর আগেই টেলিযোগাযোগ আইনে বনানী থানায় মামলা করা হয়। আবাসন খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রূপায়ণের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাতুলের নামে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখী প্রতিষ্ঠানটির ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন। এছাড়া রাতুল টেলিকমের আরো ২০ শতাংশের মালিক নানকের স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু। এ দুজনের পাশাপাশি মামলায় বিবাদী করা হয়েছে শেয়ারহোল্ডার মাসুদুর রহমান বিপ্লব, সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, সাবেক পরিচালক আলী আকবর খান রতন, সাবেক পরিচালক মাহির আলী খান রতন, সাবেক শেয়ারহোল্ডার নওরিন জাহান মিতুল ও সাবেক শেয়ারহোল্ডার সাইফ আলী খান অতুলকে। সরকারের পাওনা ১০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস। এজন্য ২০১৪ সালের জুলাইয়ে পিডিআর আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়। একই বছর বনানী থানায় মামলা করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ আইনেও। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান, ছেলে ইমতিয়ান ওসমান, শ্যালক তানভির আহমেদ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা। পরবর্তী সময়ে মো. শাখাওয়াত হোসেন, দেবব্রত চৌধুরী ও মো. রাকিবুল ইসলাম এটির মালিকানায় রয়েছেন বলে দেখানো হয়। যদিও মামলা করার পর তাদের কারো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দাখিল করতে বলেছেন আদালত। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাওনা এ অর্থ আটকে থাকায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। সচিব ও বিটিআরসিকে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উদ্যোগ নেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিআরসির কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পাওনা আদায়সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ বকেয়া অনেকদিনের উল্লেখ করে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সরকারের পাওনা এ অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, আইজিডব্লিউগুলো আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করছে। আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আসা কল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে অপারেটররা। দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি। ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে চার প্রতিষ্ঠানকে এ লাইসেন্স দেয়া হয়। আর ২০১২ সালের এপ্রিলে নতুন ২৫টি প্রতিষ্ঠান আইজিডব্লিউ লাইসেন্স পায়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বর্তমানে কার্যক্রমে রয়েছে ২৩টি। সম্প্রতি আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

ঋণখেলাপি ও ব্যাংকগুলোকেই ছাড়

বিদায়ী ২০১৯ সালে দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ঋণের সুদহার কমিয়ে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ কমানোর ঘোষণা দিয়েও তার লাগাম টানতে না পারা, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ প্রদান, ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ছাড়, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন এবং খেলাপিদের ঋণ পুনঃ তফসিলকরণের সুযোগ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্বাভাবিক তৎপরতা দফায় দফায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে একদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া, অন্যদিকে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে উদ্বেগ বেড়েছে। এই খাতে কেমন গেল পুরো বছর—এমন প্রশ্ন করা হলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বেড়েছে। ঋণ পুনঃ তফসিলও বেশি হয়েছে। বলা যায়, বছরজুড়ে আর্থিক খাত দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল। এই অবস্থায় ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে দেওয়ায় প্রতিটি ব্যাংকের আয় ১৫০ কোটি টাকার মতো কমে যাবে। আশা করি, নতুন বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন আরও বাড়বে।’ খেলাপি ঋণ নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বছরের শুরুর দিকে ১০ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দেন, খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। কিন্তু এই বছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসে দেশে খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মতো এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ওই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। তা পরের তিন মাস অর্থাৎ এপ্রিল-জুনে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ জুলাই-সেপ্টেম্বরে আরও ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। ফলে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। খেলাপিদের যত সুবিধা বিদায়ী বছরে ঋণখেলাপিদের বড় সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপিদের বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে সুদহার ধরা হয় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর ঋণ পরিশোধে এক বছরের বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করা যাবে। আবার তাঁরা নতুন ঋণও নিতে পারবেন। এ সুবিধার আওতায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে। সুদহার নয়–ছয় ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত গ্রহণ এবং ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে দেড় বছর ধরে অনেক সুবিধা নেয়। যেমন সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমানো হয়। অথচ তাঁরা সুদহার কমাননি। অবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরের শেষ দিকে এসে উৎপাদন খাতে ৯ শতাংশ সুদ বেঁধে দেয়, যা নতুন বছরের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বেসরকারি ঋণে মন্দা ২০১৯ সালে প্রতি মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। গত নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে নেমেছে, যা এর আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ০৫ শতাংশে। প্রবৃদ্ধির এই হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিকে বাজেটে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। অথচ ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোয়া পাঁচ মাসেই ঋণ নিয়ে ফেলেছে ৪৭ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। আরও নতুন ব্যাংক দেশের অর্থনীতির তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি, এই আলোচনা দীর্ঘদিনের। এরপরও চলতি বছরে তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এগুলো হলো বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক। তবে কোনোটি এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আর চলতি বছরে কার্যক্রম শুরু করে পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক। পিপলস লিজিং অবসায়ন গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পারায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে চাপে পড়েছে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না তারা। © স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০২০

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন আট কোটি ৪৬ লাখ

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি

বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন আট কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার গ্রাহকসংখ্যা নয় কোটি ছাড়িয়ে। এর মধ্যে মোবাইল ফোন দিয়ে সাড়ে ৮ কোটি গ্রাহকই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন । দেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটির উপরে। বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসি তাদের ওয়েবসাইটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন আট কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার গ্রাহক। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের (পিএসটিএন) ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার। বিটিআরসির তথ্য মতে- আগস্ট পর্যন্ত চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৫  কোটি ৪১ লাখ ৭৯ হাজার। এরমধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সাত কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার। তার পরেই রয়েছে রবি, তাদের গ্রাহক ৪ কোটি ৬১ লাখ ৩২ হাজার। বাংলালিংকের গ্রাহক ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার।

ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকা

|আব্বাস উদ্দিন নয়ন|

চলতি অর্থবছর ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আহরণের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সাময়িক হিসাবে সংস্থাটি আহরণ করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ফলে প্রথম ছয় মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রাজস্ব আহরণে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে আমদানি-রফতানি পর্যায়ে শুল্ক খাত। কয়েক বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাতটি ভালো করলেও এবার নির্বাচনের কারণে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে। মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানি কমে যাওয়ায় ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব পেয়েছে কাস্টম হাউজগুলো। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৪১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুল্ক বাবদ রাজস্ব এসেছে ৩৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নাম প্রকাশ না করে দেশের বৃহৎ একটি কাস্টম হাউজের কমিশনার বণিক বার্তাকে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম থেকেই মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানি কমে যায়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চিনি, গুঁড়ো দুধ, সয়াবিন তেল, সিমেন্টের কাঁচামাল (ক্লিংকার), ওষুধের কাঁচামাল, আপেল, কমলাসহ বেশকিছু পণ্যের আমদানিও কমেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের বছর হওয়ায় চলতি বছরের বাজেটে অনেক পণ্যে শুল্ক ছাড় দেয়ায় আদায় কমে গেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি কমিশনারেটগুলো। কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব আহরণে সবচেয়ে বড় খাত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। তবে প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে খাতটি। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মাত্র ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৪০ হাজার ১৭০ কোটি টাকার রাজস্ব এসেছে ভ্যাট থেকে। আলোচ্য সময়ে ৫০ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ রাজস্ব পেয়েছে এনবিআর। এ হিসাবে ঘাটতি রয়েছে ১০ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। নির্বাচনের কারণে চলতি অর্থবছর মাঠপর্যায়ে রাজস্ব অভিযান বন্ধ থাকায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের একজন সদস্য বণিক বার্তাকে বলেন, ভ্যাট খাতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি ভ্যাট অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভ্যাট ফাঁকি রোধে দোকানে দোকানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) ও ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এক লাখ ইএফডি আমদানি করা হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে ভ্যাট বিভাগ। লক্ষ্য অর্জনে মূসক ও শুল্ক খাত বেশ পিছিয়ে থাকলেও কিছুটা ভালো করেছে আয়কর। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে খাতটিতে রাজস্ব আহরণে প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। যদিও অর্থবছর শেষে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন এ খাতের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজস্ব কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। প্রথমার্ধে আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় শুল্ক আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী করতে পারেনি কাস্টম হাউজগুলো। ভোটের কারণে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আহরণে মাঠপর্যায়ে বড় তদারকি বন্ধ ছিল। ফলে এ বিভাগে রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আসেনি। এখন কর্মকর্তাদের নতুন করে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও বিগত পাঁচ বছরে রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আহরণের গতি বাড়লেও এত বড় ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব বলে মনে করছেন এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভায় রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে মাঠ কর্মকর্তারা বছর শেষে ভালো করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাজস্ব খাতে বড় সংস্কার না আনলেও ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে চলতি অর্থবছর এনবিআরের জন্য ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাটে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া আয়করে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ২ হাজার কোটি ও শুল্কে আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আদায় বাড়িয়ে অর্থবছর শেষে ৩ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব জমা দিতে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ব্যক্তিগত ঋণ আপনাকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে না তো!

ব্যক্তিগত ঋণ আপনাকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে না তো! ঋণ যেমন হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়েছে, তেমনি এর সঠিক ও বুদ্ধিদীপ্ত...

Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া এতে পোস্ট করেছেন শুক্রবার, 15 মে, 2020

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আরও অবনতি

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা বেড়েছে। বেড়েছে খেলাপি ঋণও। ব্যাংকগুলো আদায় করতে পারছে না অনাদায়ী ও শ্রেণিকৃত ঋণ। অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ ও শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি থেকে আদায় মোটেও সন্তোষজনক নয়। এছাড়া কৃষি ও পল্লি ঋণ, এসএমই ঋণ, অন্যান্য ঋণ বিতরণ ও আদায় পরিস্থিতিও হতাশাজনক। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বেঁধে দেওয়া কোনও লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। গত সেপ্টেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনুষ্ঠিত দ্বিমাসিক বিশেষ সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ৩৫৯ শাখা এখন লোকসান গুনছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যাহতভাবে লোকসানি শাখা বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক দিনদিন খারাপ হচ্ছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘সুশাসন না থাকার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকগুলোতে কেবল লোকসানি শাখাই বাড়ছে, একইসঙ্গে ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতেও পড়ছে।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুশাসন না থাকার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এখন সংকটে পড়ছে। প্রভাবশালীরা যখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেন না, তখন ব্যাংকের আর কিছুই করার থাকে না। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। একই কারণে লোকসানি শাখা বাড়ছে। ব্যাংকগুলোও মূলধন ঘাটতিতে পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, জুন প্রান্তিক শেষে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয়েছে ছয় হাজার ৬০১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ১০৬ কোটি ২২ লাখ, জনতা ব্যাংকের দুই হাজার ১৯৫ কোটি ২৫ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের এক হাজার ৪১৯ কোটি ২৯ লাখ এবং রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ২৯৩ কোটি ১৯ লাখ। এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে মূলত সুশাসন না থাকার কারণে। আবার বাজেট থেকে প্রতি বছর এই ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই টাকা দেওয়ার অর্থই হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে লুটপাটে উৎসাহিত করা।’ জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বেঁধে দেওয়া অনাদায়ী ও শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সোনালী ব্যাংক আদায় করেছে মাত্র ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জনতা ব্যাংক আদায় করেছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ, রূপালী ব্যাংক ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, বিডিবিএল ২৩ শতাংশ ও বেসিক ব্যাংক আদায় করেছে ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বেঁধে দেওয়া অবলোপন করা খেলাপি ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১ দশমিক ২০ শতাংশ আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। জনতা ব্যাংক করেছে লক্ষ্যমাত্রার ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, রূপালী ব্যাংক ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও বেসিক ব্যাংক মাত্র দশমিক ১৬ শতাংশ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিডিবিএল করেছে লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ শতাংশ। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭ দশমিক ১০ শতাংশ কৃষিঋণ আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। জনতা ব্যাংক করেছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ ও বিডিবিএল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ কৃষিঋণ আদায় করতে পেরেছে। বেসিক ব্যাংক করেছে ২০ শতাংশ। বৃহৎ শিল্প, চলতি মূলধনসহ অন্য বেশকিছু খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে থাকে। প্রথম আট মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রূপালী ব্যাংক ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ ঋণ আদায় করেছে, যা সন্তোষজনক। তবে এই সময়ে অগ্রণী ব্যাংক আদায় করেছে মাত্র ২৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ও জনতা ব্যাংক আদায় করেছে ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, যা এসব ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে ছিল ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অগ্রণীতে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, রূপালীতে ২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বেসিক ব্যাংকে ৫৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ছিল ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। ছয় মাসে (গত জুন মাস পর্যন্ত) শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক অর্থ আদায় করেছে লক্ষ্যমাত্রার ৩ দশমিক ২২ শতাংশ, জনতা ব্যাংক ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ, রূপালী ব্যাংক শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বেসিক ব্যাংক আদায় করেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। ২০ শীর্ষ ঋণখেলাপি বাদে অন্যদের কাছ থেকে সোনালী ব্যাংককে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা। কিন্তু ছয় মাসে আদায়ের হার ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, জনতা ব্যাংককে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ১০০ কোটি টাকা, ছয় মাসে আদায়ের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ কোটি টাকা, ছয় মাসে আদায়ের হার ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ কোটি টাকা, ছয় মাসে আদায়ের হার মাত্র ১১ শতাংশ। আর বেসিক ব্যাংকের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১৫ কোটি টাকা, ছয় মাসে আদায়ের হার ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে এই ব্যাংকগুলোতে। জুন শেষে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ২২৩ কোটি, রূপালীতে এক হাজার ৩৭২ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংকে ৮৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি লোকসানি শাখা এখন সোনালী ব্যাংকের। ব্যাংকটির এক হাজার ২১২ শাখার মধ্যে ১৮৩টি লোকসানি শাখা। জনতা ব্যাংকের ৯০৮ শাখার মধ্যে ৫৭টি লোকসানি শাখা। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৩১টির মধ্যে ৪৩টি লোকসানি শাখা। রূপালী ব্যাংকের ৫৬২টির মধ্যে ৩৩টি, বেসিক ব্যাংকের ৬৮টির মধ্যে ২১টি এবং বিডিবিএল-এর ৪০টির মধ্যে ২২টি লোকসানি শাখা।

অর্থবছর ২০১৮-১৯ : ৯ মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি ১২.৫৭ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ সময় দেশের শীর্ষ রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি বেড়েছে, কিন্তু কমেছে চামড়া ও পাটের রফতানি। সব মিলিয়ে এ নয় মাসে মোট রফতানিতে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ইপিবির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য। ২০১৮ সালের মার্চে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রফতানি পণ্যকে প্রাইমারি ও ম্যানুফ্যাকচার্ড—এ দুই ভাগে ভাগ করে রফতানির মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ম্যানুফ্যাকচার্ড বা উৎপাদিত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাইমারি বা প্রাথমিক পণ্যের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। রফতানি হওয়া প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও তাজা মাছ এবং কৃষিজ পণ্য। অর্থবছরের নয় মাসে হিমায়িত ও তাজা মাছ রফতানি হয়েছে ৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। এ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এদিকে গত নয় মাসে কৃষিজ পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। রফতানিমুখী উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের উৎস হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমলেও বেড়েছে পোশাকের। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থবছরের নয় মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কম। আলোচ্য সময়ে তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পণ্যের রফতানি কমেছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। জুলাই-মার্চ সময়ে প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বেড়েছে দশমিক ৪৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানির ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিক রফতানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

শিক্ষক প্রশিক্ষণে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

| সাইফ সুজন | শ্রেণীকক্ষে গুণগত পাঠের বিষয়টি নির্ভর করে শিক্ষকের দক্ষতার ওপর। বেশির ভাগ দেশেই শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের পর পরই তাই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হয় শিক্ষকদের। কোনো কোনো দেশে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের শর্তই থাকে প্রশিক্ষণ। যদিও বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের অর্ধেকেরই প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও বড় অংশ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতি বছর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫০ শতাংশ। যদিও প্রতিবেশী নেপাল, মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও সিঙ্গাপুরে এ হার ৯০ শতাংশের বেশি। এছাড়া শ্রীলংকায় প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদানরত শিক্ষকদের ৮৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ৮২ ও ভারতের ৭০ শতাংশেরই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ রয়েছে। এর বাইরে ভুটান, জর্ডান, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের শতভাগই প্রশিক্ষিত। শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততাকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবের কারণ বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর পরই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তবে ডিপিইডি ও সি-ইন এড প্রশিক্ষণের আওতায় না আনতে পারলেও নিয়োগ দেয়ার পর পরই সপ্তাহব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয়। তবে গুণগত পাঠদানের ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখে না, তা সত্য। গুণগত পাঠদানের লক্ষ্যে শতভাগ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার। লক্ষ্মীপুরের পুরনো বিদ্যালয়গুলোর একটি সদর উপজেলার বিজয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ রয়েছে মাত্র দুজন শিক্ষকের। বাকি দুজন পাঠদান করছেন প্রশিক্ষণ ছাড়াই। প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়ছেন শিক্ষকরা। শাম্মী আখতার নামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছি এক বছর হলো। যোগদানের পরদিন থেকে আমাকে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস নিতে বলা হয়। ক্লাস নিতে গিয়ে আমি বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে শুরু করি। এরপর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (ক্লাস্টার) প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহের বিষয়টি জানাই। তারা আমাকে বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। আপনার সিনিয়ররাই এখনো প্রশিক্ষণ পাননি। তাদের পর প্রশিক্ষণের তালিকায় আপনার নাম আসবে। যদিও শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের আগে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের সনদ নিতে হয়। শুধু প্রাথমিক নয়, শিক্ষার প্রতিটি ধাপেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। নিয়োগের শর্ত হিসেবে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। কেননা আমাদের দেশে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় না। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়েছেন। শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের জন্য এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। এছাড়া প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সরকারি-বেসরকারি মিলে সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯০১টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৫১ হাজার ৩৫০ জন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৮৫ লাখ ৮ হাজার ৩৮ ও ছাত্রী সংখ্যা ৮৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩১২। এ শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ৬ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষক। মোট শিক্ষকের ৬২ শতাংশই নারী। ইউনেস্কোর প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিকেও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের পেছনের সারিতে বাংলাদেশ। দেশের মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৬৬ শতাংশই অপ্রশিক্ষিত। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষকই প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। যদিও পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে এ হার ৯৩ শতাংশ, ব্রুনাইয়ে ৯০ ও নেপালে ৮৯ শতাংশ। আর ভুটান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও জর্ডানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় পাঠদানরত শতভাগ শিক্ষকই প্রশিক্ষিত। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এক দশক আগেও মাধ্যমিক পর্যায়ে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চিত্র আরো ভয়াবহ ছিল। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একসময় শিক্ষক প্রশিক্ষণে সরকারের বরাদ্দও কম ছিল। এখন শিক্ষার গুণগত মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের অবস্থান ভালোর দিকে যাচ্ছে। বেশির ভাগ শিক্ষকই প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন, এমন একটি বিদ্যালয় পিরোজপুর সদরের আটঘর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নয়জন শিক্ষকের মধ্যে পাঁচজনই অপ্রশিক্ষিত। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের সব শিক্ষকই স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন পাঁচ শিক্ষক। পাঠদানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা আর অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এজন্য আমরা প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাসও বেশি নিয়ে থাকি। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে প্রায় ৪৩ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারছেন না। সৃজনশীল পদ্ধতি বুঝে প্রশ্নপত্র তৈরিতে সক্ষম ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪ হাজার ৮০১টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এমন চিত্র পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভিশন দল। সূত্রঃ বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

আমেরিকায় করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক কিভাবে পাবেন?

করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক বা Economic impact payments কিভাবে পাবেন এবং এটি কি গড় আমেরিকানদের জন্য যথেষ্ট হবে?

করোনাভাইরাস $ 1200 স্টিমুলাস চেক পেমেন্ট সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার ... [caption id="attachment_24091" align="aligncenter" width="1024"] Photo credit: frankieleon on VisualHunt / CC BY[/caption] আপনি সম্ভবত করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক সম্পর্কে অবগত আছেন, তবে অনেকেই এই চেক কিভাবে পাবেন তা নিয়ে অনিশ্চতায় আছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 2 ট্রিলিয়ন ডলার জরুরি অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসাবে করোনভাইরাস নগদ প্রদানের জন্য আমেরিকানদের কী করতে হবে তা নিয়ে আইআরএস (Internal Revenue Service) এক নতুন নির্দেশনায় এই সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারনা পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পরিবারের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চাকরি পুরোপুরি হ্রাস করার বাস্তবতায় অনেকেই ব্যক্তিগত লোন সার্ভিসের আউটলেটগুলি থেকে নিজেদের পে-চেকের বিপরীতে উচ্চ-সুদে ধার নিচ্ছেন। এই সময়ে, করোনাভাইরাস স্টিমুলাস চেক - যা ভুক্তভোগীদের জন্য মাসিক প্রায় $ 1,200 নির্ধারণ করার প্রস্তুতি চলছে যা সময়োচিত আর্থিক উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে একটি ভালো উদ্যোগ বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা। তবে পেমেন্টের যোগ্যতা কে পাবে ?; কতটা পাওয়ার আশা করতে পারে ?; এবং এটি কখন দেওয়া হবে? চূড়ান্ত শেষের তারিখ নেই এমন মহামারীর প্রভাবের বিরুদ্ধে পারিবারিক অর্থ সরবরাহের পক্ষে এই অর্থ প্রদান যথেষ্ট হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে যা ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের অর্থনীতি-শ্রমবাজার- শিল্পকারখানা-ব্যবসা বাণিজ্যে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে।

কে $1,200 এর ষ্টিমুলাস বা উদ্দীপনা পেমেন্টের জন্য যোগ্য?

আইআরএস নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন করদাতা ব্যক্তিদের জন্য $ 75,000 অবধি মোট আয় এবং যৌথ রিটার্ন দাখিলকারী বিবাহিত দম্পতির জন্য $150,000 অবধি মোট আয়ের ক্ষেত্রে $1,200 বা যুক্তভাবে $2,400 পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবে। পিতামাতারা 16 বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের সন্তানদের জন্য প্রত্যেকে $500 পাবেন। তবে, এই পরিমাণগুলির উর্ধ্বে যাদের আয় রয়েছে অর্থাৎ যাদের আয় 75,000 / $150,000 থ্রেশহোল্ডের উপরে তাদের এই সাহায্যের পরিমান প্রতি 100 ডলারে 5 ডলার হ্রাস পাবে।

আমার কি $ 1,200 এর উদ্দীপক পেমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে?

আইআরএস অনুসারে, বিশাল সংখ্যক লোকের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার নেই। যে সকল যোগ্য করদাতারা 2019 বা 2018 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ষ্টিমুলাস পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতিমধ্যে 2019 এর ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে, আইআরএস সেই তথ্য প্রাপ্য হিসাবে গণনা করতে ব্যবহার করবে। যারা 2019 সালে এখনও রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের 2018 এর ট্যাক্স ফাইলিংয়ের তথ্য ব্যবহার করা হবে। 2018 এবং 2019 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনও যারা করেননি, তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফাইল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ট্যাক্স রিটার্নের সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েছিলেন তাদের টাকা ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি চলে যাবে। না হলে বাসায় চিঠির মাধ্যমে চেক যাবে। আইআরএস ফরম এসএসএ -1099 এবং ফর্ম আরআরবি -1099 এ থাকা তথ্য ব্যবহার করবে।

আমি যদি সাধারণত ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল না করি তবে আমি কী এখনও উদ্দীপক অর্থ প্রদান পেতে পারি?

সহজ উত্তর - হ্যাঁ। স্বল্প আয়ের করদাতা, প্রবীণ নাগরিক, কিছু প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহ - যারা সাধারণত সাধারণত কোনও ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করেন না তাদের পেমেন্ট সুরক্ষার জন্য একটি সাধারণ ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিটস পাচ্ছেন তারাও $১২০০ ডলারের চেক পাবেন। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা ঘোষণা করেছে যে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাভোগীরা যারা ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সংক্ষিপ্তভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে অর্থ প্রদানগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কীভাবে 2019 ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করবেন তা আইআরএসের করোনা ভাইরাস ওয়েব পৃষ্ঠায় শীঘ্রই আরও নির্দেশাবলী থাকবে। https://www.irs.gov/newsroom/economic-impact-payments-what-you-need-to-know

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কিভাবে করা হবে?

জমা দেওয়া সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্নে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া হবে।

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কবে পাচ্ছেন?

আইআরএস বলছে যে পেমেন্টগুলি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হবে।

Check IRS.gov for the latest information: No action needed by most people at this time

IR-2020-61, March 30, 2020 WASHINGTON — The Treasury Department and the Internal Revenue Service today announced that distribution of economic impact payments will begin in the next three weeks and will be distributed automatically, with no action required for most people. However, some taxpayers who typically do not file returns will need to submit a simple tax return to receive the economic impact payment.

Who is eligible for the economic impact payment?

Tax filers with adjusted gross income up to $75,000 for individuals and up to $150,000 for married couples filing joint returns will receive the full payment. For filers with income above those amounts, the payment amount is reduced by $5 for each $100 above the $75,000/$150,000 thresholds. Single filers with income exceeding $99,000 and $198,000 for joint filers with no children are not eligible. Social Security recipients and railroad retirees who are otherwise not required to file a tax return are also eligible and will not be required to file a return. Eligible taxpayers who filed tax returns for either 2019 or 2018 will automatically receive an economic impact payment of up to $1,200 for individuals or $2,400 for married couples and up to $500 for each qualifying child.

How will the IRS know where to send my payment?

The vast majority of people do not need to take any action. The IRS will calculate and automatically send the economic impact payment to those eligible. For people who have already filed their 2019 tax returns, the IRS will use this information to calculate the payment amount. For those who have not yet filed their return for 2019, the IRS will use information from their 2018 tax filing to calculate the payment. The economic impact payment will be deposited directly into the same banking account reflected on the return filed.

The IRS does not have my direct deposit information. What can I do?

In the coming weeks, Treasury plans to develop a web-based portal for individuals to provide their banking information to the IRS online, so that individuals can receive payments immediately as opposed to checks in the mail.

I am not typically required to file a tax return. Can I still receive my payment?

Yes. The IRS will use the information on the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 to generate Economic Impact Payments to recipients of benefits reflected in the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 who are not required to file a tax return and did not file a return for 2018 or 2019. This includes senior citizens, Social Security recipients and railroad retirees who are not otherwise required to file a tax return. Since the IRS would not have information regarding any dependents for these people, each person would receive $1,200 per person, without the additional amount for any dependents at this time.

I have a tax filing obligation but have not filed my tax return for 2018 or 2019. Can I still receive an economic impact payment?

Yes. The IRS urges anyone with a tax filing obligation who has not yet filed a tax return for 2018 or 2019 to file as soon as they can to receive an economic impact payment. Taxpayers should include direct deposit banking information on the return.

I need to file a tax return. How long are the economic impact payments available?

For those concerned about visiting a tax professional or local community organization in person to get help with a tax return, these economic impact payments will be available throughout the rest of 2020.

Where can I get more information?

The IRS will post all key information on IRS.gov/coronavirus as soon as it becomes available. The IRS has a reduced staff in many of its offices but remains committed to helping eligible individuals receive their payments expeditiously. Check for updated information on IRS.gov/coronavirus rather than calling IRS assistors who are helping process 2019 returns. সূত্রঃ লাইভ সায়েন্স / আইআরএস

ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশ পঞ্চম, শীর্ষ চীন

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ।

এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন চীনের নাগরিকেরা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে এ খবর দিয়েছে ডাটালিডস। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০০০ সালে ১৩ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ১ লাখ। অর্থাৎ ১৭ বছরে ৩ কোটি মানুষ বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৮ কোটিরও বেশি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চীনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৭৭ কোটি ২০ লাখ। এর পরেই রয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের অবস্থান। তারপরই আছে বাংলাদেশ। ডাটা লিডসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সময় চীনে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখে। চীনের ইন্টারনেটের সহজপ্রাপ্যতা শতকরা ৫৫ দশমিক ৮ ভাগ।বিশ্ব এখন আছে ডিজিটাল যুগে। সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এ কারণে, বিশ্বের প্রায় সব অংশ সম্পৃক্ত হয়েছে ইন্টারনেটে। আর তাই বেড়ে চলেছে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে গত ১০ বছরে অস্বাভাবিক হারে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে এশিয়ায়। ভারতে গত এক দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫০ লাখ থেকে বেড়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২০ লাখে। এ বছরের শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। গত দশকে ইন্দোনেশিয়াতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ লাখ থেকে বেড়ে ১৪ কোটি ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। আর জাপানে তা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখে। ফিলিপাইনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ভিয়েতনামে ৬ কোটি ৪০ লাখ। থাইল্যান্ডে গত ১০ বছরে ইন্টারনেট সুবিধা পেয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। ২০০০ সালে এ ক্ষেত্রে জাপান ছিল ১ নম্বরে। আর দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ২ নম্বরে। বর্তমানে সেখানে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছেছে ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে। এক দশক আগে পাকিস্তানে ইন্টারনেট সুবিধা পেতেন এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। গত বছর শেষ নাগাদ সেখানে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে ইন্টারনেট।ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই আছে নাইজেরিয়ার অবস্থান। দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৪৯ হাজার ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৩১ হাজার ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের ওয়েবসাইটে জানায় বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৫ লাখ। বিটিআরসি আগস্ট মাস পর্যন্ত হালনাগাদ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ৮ কোটি ৪৭ লাখ মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী এবং বাকি ৮৩ হাজার ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারকারী। জুলাই মাসের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৮৯ লাখ।

পোশাক শ্রমিকদের মূল মজুরি বাড়ল ১০ থেকে ৫২৪ টাকা

পোশাক খাতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ছয়টি গ্রেডের শ্রমিকদের মজুরি সংশোধনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং পোশাক শিল্পের মালিক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশোধিত মজুরি ঘোষণা করা হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল মজুরি বেড়েছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫২৪ টাকা।

সমন্বিত মজুরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেড ৭-এ মূল ও মোট মজুরি অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৩ সালে এ গ্রেডের মূল মজুরি ছিল ৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে পর্যালোচনার পর মূল মজুরি নির্ধারণ হয় ৪ হাজার ১০০ টাকা। নতুন সংশোধনীতেও মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকাই পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে মোট মজুরিও ৮ হাজার টাকা অপরিবর্তিত আছে। গ্রেড ৬-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৩ হাজার ২৭০ টাকা। ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপনে মূল ও মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ৪ হাজার ৩৭০ ও ৮ হাজার ৪০৫ টাকা। নতুন সংশোধনীতে মূল ও মোট মজুরি ৪ হাজার ৩৮০ ও ৮ হাজার ৪২০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পূর্বঘোষিত কাঠামোর তুলনায় মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ১০ ও ১৫ টাকা। গ্রেড ৫-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৩ হাজার ৫৩০ টাকা। ২০১৮ সালে মূল ও মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ৪ হাজার ৬৭০ ও ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা। এবার তা সংশোধনের মাধ্যমে মূল ও মোট মজুরি যথাক্রমে ৪ হাজার ৬৮৩ ও ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা করা হয়েছে। এ হিসাবে ২০১৮ সালের ঘোষিত কাঠামোর তুলনায় এ গ্রেডের শ্রমিকদের মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ১৩ ও ২০ টাকা। গ্রেড ৪-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৩ হাজার ৮০০ টাকা। ২০১৮ সালে পর্যালোচনার পর মূল ও মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ৪ হাজার ৯৩০ ও ৯ হাজার ২৪৫ টাকা। সংশোধনের পর মূল ও মোট মজুরি হয়েছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৯৯৮ ও ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। অর্থাৎ পূর্বঘোষিত কাঠামোর তুলনায় সংশোধনিতে মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ৬৮ ও ১০২ টাকা। গ্রেড ৩-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৪ হাজার ৭৫ টাকা। ২০১৮ সালে মূল ও মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ৫ হাজার ১৬০ ও ৯ হাজার ৫৯০ টাকা। গতকাল ঘোষিত সংশোধনীতে মূল ও মোট মজুরি যথাক্রমে ৫ হাজার ৩৩০ ও ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পূর্বঘোষিত মজুরি কাঠামোর তুলনায় মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ১৭০ ও ২৫৫ টাকা। গ্রেড ২-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৭ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে মূল মজুরি ৮ হাজার ৫২০ ও মোট মজুরি ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন সংশোধনীতে মূল ও মোট মজুরি যথাক্রমে ৯ হাজার ৪৪ ও ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবে সংশোধনীতে মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ৫২৪ ও ৭৮৬ টাকা। গ্রেড ১-এ ২০১৩ সালে মূল মজুরি ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৮ সালে মূল ও মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ১০ হাজার ৪৪০ ও ১৭ হাজার ৫১০ টাকা। নতুন সংশোধনীতে মূল ও মোট মজুরি হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৯৩৮ ও ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা। এ হিসাবে মূল ও মোট মজুরি বেড়েছে যথাক্রমে ৪৯৮ ও ৭৪৭ টাকা। এর আগে গত নভেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়। এতে অসংগতির অভিযোগ এনে ডিসেম্বরেই বিক্ষোভ ও শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয় বিভিন্ন কারখানায়। মাঝে নির্বাচনকালে অসন্তোষ কিছুটা স্তিমিত থাকলেও ৬ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ-কর্মবিরতির ঘটনা বাড়তে থাকে। জানা যায়, নভেম্বরে ঘোষিত মজুরি কাঠামোয় মোট সাতটি গ্রেডের মধ্যে চারটিতে (৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর) কর্মীদের মূল মজুরি বেড়েছে। তবে ৩ নং গ্রেডে মূল মজুরি না বেড়ে ৪০ টাকা কমেছে। একইভাবে ২ নং গ্রেডে ৪১২ ও ১ নং গ্রেডে ৪০৫ টাকা কমেছে। তবে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ মূলত ৩, ৪ ও ৫ নং গ্রেডের শ্রমিকদের। ৩ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকদের অসন্তোষ মূল মজুরি কমে যাওয়ায়। আর ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন মূল মজুরি তুলনামূলক কম বৃদ্ধি পাওয়ায়। শ্রম অসন্তোষের মাত্রা বাড়তে থাকলে ৮ জানুয়ারি পোশাক খাতের ত্রিপক্ষীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট-বিষয়ক কোর কমিটির বিশেষ জরুরি সভায় নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনায় ত্রিপক্ষীয় একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১০ জানুয়ারি এ কমিটির প্রথম সভায় ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের মজুরিবৈষম্য নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আমলে নেয়া হয়। আরো গভীর পর্যালোচনার জন্য গতকাল কমিটির সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে শনিবার অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে কমিটি ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মূল মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছে। ওইদিন রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ পোশাক শিল্পের মালিক প্রতিনিধিরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের সঙ্গে ১ ও ২ নং গ্রেডের মজুরি সমন্বয়ের নির্দেশ দেন। এরপর গতকাল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে পূর্বঘোষিত সভা শেষে সংশোধিত মজুরি ঘোষণা করা হয়। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পোশাক খাতের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা। মালিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সভায় ছিলেন সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ। শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শামছুন্নাহার ভূইয়া, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন ও শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, সিরাজুল ইসলাম রনি, বাবুল আক্তার, নাজমা আক্তার। নতুন সংশোধনী বিশ্লেষণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৩ সালের নিম্নতম মজুরি কাঠামো থেকে ২০১৮ সালের ঘোষিত মজুরি কাঠামো সমন্বয়ের ফলে মোট মজুরি প্রথম গ্রেডে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ২৫৭ টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ৪ হাজার ৫১৬ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ৩ হাজার ৪০ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ২ হাজার ৯২৭ টাকা, পঞ্চম গ্রেডে ২ হাজার ৮৩৩ টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডে ২ হাজার ৭৪২ টাকা ও সপ্তম গ্রেডে ২ হাজার ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন হবে, তবে কোনো অবস্থায়ই গার্মেন্টস কারখানা ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করা যাবে না। আগামীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী মজুরি আন্দোলনে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, শিল্পের স্বার্থে শান্তি বজায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে। মালিক-শ্রমিক ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ পরিহার করে শ্রমিকদের সোমবার (আজ) কাজে যোগদানের আহ্বান জানান তিনি। গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে বেতন-ভাতা বাড়ানো নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করতে পারেন। কিন্তু সেই আন্দোলন কখনো ধ্বংসাত্মক হতে পারে না। এবারের আন্দোলনে যারা গার্মেন্টস সেক্টরে ভাংচুর চালিয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিক প্রতিনিধিদের পক্ষে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমরা নভেম্বরে ঘোষণার সময়ও মেনে নিয়েছিলাম। এখন আবারো তার নির্দেশনা মেনে নিচ্ছি। বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত শ্রমিকদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ শ্রমিকের যেন কোনো হয়রানি ও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আম্পানে আম ও লিচুর সর্বনাশ

আম্পানে রাজশাহীর আম ও পাবনায় লিচুর সর্বনাশ

করোনা ভাইরাসের কারণে আমের পরিবহন ও বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা। তার উপর এই ঘূর্ণিঝড়- রাজশাহীতে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পাবনায় লিচুর শত কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছ থেকে আম ঝরে গেছে।

এদিকে, বয়ে যাওয়া ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পাবনার লিচু বাগান। ঝড়ের আঘাতে আধা পাকা লিচু ফেঁটে গেছে এবং শত শত গাছের লিচু ঝড়ে পরেছে। ভেঙে গেছে লিচু গাছের ডাল-পালা।

রাজশাহীর আম চাষীরা বলছেন, এবছর এমনিতে গাছে আম কম এসেছে। তার উপর বুধবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ে গাছের অর্ধেকের কাছাকাছি আম পড়ে গেছে।

এমনিতেই এবার করোনা ভাইরাসের কারণে আমের পরিবহন ও বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা। তার উপর এই ঘূর্ণিঝড়ে গাছ থেকে আম পড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শিকার হবেন জেলার আম চাষীরা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে জেলায় ঘূর্ণিঝড়ে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

রাজশাহীর কাটাখালীর মেহেরচণ্ডীর আম চাষী আলতাফ হোসেন জানান, তার বাগানে ৩০০টির মতো আমের গাছ রয়েছে। গাছগুলো সব ছোট ছোট। সব মিলিয়ে গাছ থেকে ঝড়ে ১০ মণের মতো আম ঝরে পড়ে গেছে এই চাষীর।

রাজশাহীর আড়ানীর আমচাষী আলতাফ হোসেন বাদশা বলেন, আমার সব ধরনের জাত মিলিয়ে ১২০০টি আম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এক মণ করে আম ঝরে গেছে। সে হিসেবে বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এ ঘূর্ণিঝড়ে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আম ঝরে গেছে।

আমরা এমনিতে করোনা ভাইরাসের কারণে আম পরিবহন ও বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। সেখানে এই ঘূর্ণিঝড় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, জেলার সদরের চেয়ে জেলার বাঘা ও চারঘাটে আমের বেশি ক্ষতি হয়েছে। সে হিসেবে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমের ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাষীদের সাথে কথা বলে যেটুকু জানতে পারছি গাছের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ১০০ কোটি থেকে ১২০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া গ্রাম ও চরাঞ্চলের কাচা বাড়িঘর ভেঙে গেছে। গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার বৈদ্যুতিক সংযোগ পেতে আমাদের বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া জেলায় জানমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বুধবার থেকেই জেলায় আম্পানের প্রভাবে সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তার সঙ্গে ছিলো ঝরো বাতাস। রাতের ঝড়ের গতিবেগ বাড়তে থাকে। একইসাথে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বাড়ে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে মোট ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।  বুধবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৬০ কিলিমিটার।

লিচুবাগানে শত কোটি টাকার ক্ষতি

এদিকে, পাবনার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে লিচুবাগানগুলোর শত কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জেলার লিচু চাষীদের।

পাবনার বাঁশেরবাদা লিচু ব্যবসায়ী মো. শিপন আহমেদ জানান, পাবনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। গতরাতে আম্পানের তান্ডবে অধিকাংশ বাগানের লিচু গাছের ডাল ভেঙে লিচু ঝরে গেছে। এতে লিচু ব্যবসায়ীরা এবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এছাড়া ঝড়ে আমেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাকশী গ্রামের লিচু বাগান মালিক রাসেল হোসেন বলেন, লাভের আশায় ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নিয়ে ১০টি বাগান কিনেছিলাম। কিন্তু আম্পানের তান্ডবে এবার লিচুর বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকার লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমাদের এলাকাসহ আশেপাশের আওতাপাড়া, দাপুনিয়া, আটঘোড়িয়া, একদন্ত গ্রামের সব বাগান মিলিয়ে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, পাবনা জেলার মাঠে ধান আম-লিচু ও সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাবনায় চলতি মৌসুমে ৪৬০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে । ঘূর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ হেক্টর লিচু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এখনও ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

সাতক্ষীরায় ১৬ হাজার টন আমের ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সাতক্ষীরা জেলায় আম চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়া আমের কোনো ক্রেতা পাচ্ছেন না আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সাতক্ষীরা জেলায় আম চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছের আম ঝরে পড়েছে। অনেক গাছ উপড়ে গেছে। ঝরে পড়া এসব আমের কোনো ক্রেতা পাচ্ছেন না আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে একদিকে বিপর্যয়, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে মহাবিপর্যয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের সুজনশাহ গ্রামের মৃত প্রত্যুত কুমার দত্তের ছেলে বুদ্দদেব দত্ত। আম, লিচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করেই চলে তার সংসার। ঘূর্ণিঝড়ে তার ২-৩ লাখ টাকার আম ঝরে পড়েছে। সেই সঙ্গে লিচু ঝরে ক্ষতি হয়েছে লক্ষাধিক টাকা।

কৃষক বুদ্ধদেব দত্ত বলেন, বুধবার রাতের ঝড়ে গাছের আম সব ঝরে গেছে। ২-৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। ঝরে পড়া আমের কোনো ক্রেতা নেই। এসব আম কি করব, বুঝতে পারছি না। আম বিক্রির টাকাতেই আমাদের সারা বছর সংসারের খরচ চলে।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে লিচু গাছের জন্য এক ব্যবসায়ী ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছিলেন; কিন্তু বিক্রি করিনি। ভেবেছিলাম আরও বেশি দামে লিচু গাছটি বিক্রি করব। তবে ঝড়ের আম ও লিচু দুটোরই ক্ষতি হয়ে গেল। একটি ঘরও ধ্বসে পড়েছে।

এমন চিত্র জেলার সকল মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী ও চাষীর। পাটকেলঘাটা থানা এলাকার আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের ৫০-৬০টি আম গাছ রয়েছে। সকল গাছের আম ঝরে পড়ে গেছে। লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি থেকে জানা গেছে, জেলায় আমচাষী রয়েছে ১৩ হাজার ১০০ জন। চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার ২৯৯টি বাগানে চার হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ১৫৫০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৫৬৪ হেক্টর আম্রপালি ৮৯৯ হেক্টর জমিতে। বাকি জমিতে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, লতাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে।

খামারবাড়ির উপ পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জেলার দুই হাজার ২৭ হেক্টর জমির ১৬ হাজার ২৯৬ টন আমের ক্ষতি হয়েছে। আমগুলো সব ঝরে পড়েছে। আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, কয়েকদিন পরই আম বাজারজাতকরণের উপযুক্ত হতো। সেই মুহূর্তে ঝড়টি আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের কপালে হাত তুলে দিল। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাঠাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া জেলায় সবজি আবাদ হয়েছে সাত হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে দুই হাজার ৭২ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে পটল, কলা পেপে, ঝিঙ্গেসহ নানা ধরনের সবজি।

পোশাক উৎপাদন কি আবার নিজ দেশে ফিরছে?

পোশাক শিল্প

পোশাকের ব্যবসা ফিরে যাবে!

শুভংকর কর্মকার
আগামী ১০ বছরের মধ্যেই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমিয়ে দিতে পারে। এসব দেশে মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো এমন পরিকল্পনা করছে। চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের পরিবর্তে মেক্সিকো ও তুরস্কের মতো কাছাকাছি দেশগুলো থেকে পোশাক উৎপাদন করাতে চায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। সেটি হলে কম সময়ের মধ্যে নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্রে পোশাক তুলতে পারবে বলে মনে করছে তারা। ফ্যাশন দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় কম সময়ে পোশাক পাওয়া ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্য-সংক্রান্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সোর্সিং জার্নালের সঙ্গে যৌথভাবে ১৮০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানি। ‘পোশাক উৎপাদন কি আবার নিজ দেশে ফিরছে?’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকেরা প্রত্যাশা করছেন, তাঁদের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পোশাক আশপাশের দেশ থেকে তৈরি করাতে চান এবং সেটি ২০২৫ সালের মধ্যে। তার মানে হচ্ছে, চীন, বাংলাদেশ থেকে পোশাকের ব্যবসা আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চলে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ফ্যাশন খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সময়মতো বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্য তুলতে না পারলে অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। তাই কম সময়ের মধ্যে সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য বুঝে পাওয়া ক্রেতাদের কাছে ১ নম্বর অগ্রাধিকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলো থেকে উৎপাদনের পর সমুদ্রপথে ৩০ দিনের কম সময়ে পণ্য আনা সম্ভব নয়। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের উচিত পশ্চিমা বিশ্বে কীভাবে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায়, সেই কৌশল বের করা। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি ক্রেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতাদের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। এমন তথ্য উল্লেখ করে ম্যাকেঞ্জির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে এক জোড়া জিনস প্যান্ট উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে ১২ দশমিক শূন্য ৪ মার্কিন ডলার খরচ হয়। সেটি মেক্সিকোতে করলে লাগে ১০ দশমিক ৫৭ ডলার। আবার চীন থেকে এক জোড়া জিনস প্যান্ট উৎপাদন করে ইউরোপে আনতে ১২ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলার খরচ হয়। সেটি তুরস্কে করলে লাগে ১২ দশমিক শূন্য ৮ ডলার। তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীনের থেকে মেক্সিকো এবং ইউরোপের দেশগুলোর জন্য চীনের চেয়ে তুরস্কে পণ্য উৎপাদনের খরচ কম। তা ছাড়া চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা ইউরোপের জার্মানিতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ৩০ দিন লাগে। অন্যদিকে সড়কপথে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২ ও তুরস্ক থেকে জার্মানিতে পণ্য পরিবহনে লাগে ৩-৬ দিন। তবে চীনের থেকে বাংলাদেশ উৎপাদন খরচ এখন পর্যন্ত কম বলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে চীন শীর্ষ স্থানে। তারপরই বাংলাদেশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৩ হাজার ৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক গত রাতে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই অনেক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ফাস্ট ফ্যাশনের পোশাক তৈরি করছি। সব ক্রেতা ফাস্ট ফ্যাশনের পোশাক করেও না। তা ছাড়া সস্তা পোশাক উৎপাদনের যে সক্ষমতা আমাদের আছে, তা অন্য দেশের নেই। ১০ বছর পর আমাদের খরচ যখন বাড়বে তখন মেক্সিকো ও তুরস্কের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে রাতারাতি কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের ক্রয়াদেশ পাওয়া থেকে শুরু করে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছতে ১১০ দিন লাগত। সেটি কমে ৪৫-৬০ দিনে নেমে এসেছে।’ ফজলুল হক আরও বলেন, ‘ক্রেতা প্রায়ই “মাইন্ড গেম” (মনস্তাত্ত্বিক লড়াই) খেলেন। নিত্যনতুন তত্ত্ব হাজির করেন, যাতে পোশাকের দাম নিয়ে দর–কষাকষিতে আমরা দুর্বল অবস্থানে থাকি। ম্যাকেঞ্জির প্রতিবেদনটি আমার কাছে তেমনই মনে হচ্ছে।’ অবশ্য চীনের সম্পর্কে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, তা ঠিক আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগের মতো এখন আর বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ নিয়ে তেমন বাড়াবাড়ি...

বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশে বাজার সয়লাব

|শফিকুল ইসলাম| পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরফজাত ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানীর বাজারগুলো। তিন-চার বছর আগেও বৈশাখ এলে যে নাগরিক উন্মাদনা লক্ষ করা যেত, এখন আর তা দেখা যায় না। এ কারণে বৈশাখকে লক্ষ্য করে বাজারে প্রচুর ইলিশ এলেও অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় কম দামেই তা বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে রাজধানীর সুপারশপগুলোর কথা অবশ্য আলাদা। সুপারশপে বিত্তবান ক্রেতাদের জন্য বড় সাইজের ইলিশ বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে সব ইলিশই বরফজাত, যা জেলেরা ধরার পর এতদিন মজুত করে রেখেছিল।

নিম্ন আয়ের মানুষ ছোট ইলিশের ক্রেতা

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে ছোট সাইজের ইলিশ। বরফ দেওয়া এই ইলিশ (কেজিতে ৪-৫টি) বাজারভেদে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বরফে থাকা এই ইলিশের লেজ ভাঙা এবং চোখ লাল হয়ে দেবে গেছে। সাধারণত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এই ছোট সাইজের ইলিশের ক্রেতা। ডেমরা এলাকার কোনাপাড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগের মতো এখন আর বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ নিয়ে তেমন বাড়াবাড়ি নেই। আমরাও আর এ সময় বিক্রির জন্য ইলিশ আনি না। কারণ, এখন জাটকা সংরক্ষণে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। সে কারণে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝামেলা এড়াতে ইলিশ বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। তারপরও মাঝেমধ্যে মজুত করা বরফজাত ইলিশ বিক্রি করি। সাধারণত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষই এসব মাছের ক্রেতা। এই বাজারে কথা হয় ক্রেতা মমিনুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ এলেই ইলিশের কথা মনে পড়ে। বৈশাখের প্রথম দিন ছেলেমেয়েরা ইলিশ খেতে চায়। ওরা তো আর নিষেধাজ্ঞা বোঝে না, মানতেও চায় না। সেজন্য ইলিশ কিনতে এসেছি।’ তিনি বলেন, ‘বড় সাইজের তাজা মাছ তো আর খেতে পারবো না। তাই বরফ দেওয়া ছোট ইলিশ কিনে নিয়ে সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ইলিশের আড়ত এখন তরমুজের গুদাম

আগে পহেলা বৈশাখ এলে দেশজুড়ে ইলিশ নিয়ে যে মাতামাতি হতো— তা মূলত কখনও ইলিশের সাইজ, কখনও দাম নিয়ে। গণমাধ্যমও এসব খবরকে এমনভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতো, যার কারণে ইলিশ নিয়ে সৃষ্টি হতো এক ধরনের প্যানিক। ফলে বৈশাখের আগে বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়তো ক্রেতারা। তবে এ বছর দেশের কোথাও ইলিশ নিয়ে তেমন মাতামাতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। বরং ইলিশের বেশিরভাগ আড়ত এখন তরমুজের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ইলিশের সঙ্গে জড়িত জেলেরা এখন অন্য কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বেড়েছে সচেতনতা

জাটকা সংরক্ষণে বর্তমানে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। অন্যদিকে পহেলা বৈশাখে ইলিশ বয়কটের প্রচারণাও চলছে। ‘বৈশাখের সঙ্গে ইলিশের কোনও সম্পর্ক নেই’, গত দুই-তিন বছর ধরে বিভিন্ন মহল থেকে এ কথা বলা হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখে ইলিশের বদলে বেগুন ভাজা, শুঁটকি ভর্তাসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরায় অনেকের সচেতনতা বেড়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি পান্তাভাত আর শুঁটকি ভর্তা খাবেন। দেশবাসীকেও বৈশাখে এ ধরনের খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনেকেই এখন আর বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ কিনছেন না। আগে অনেক প্রতিষ্ঠানই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ইলিশের আয়োজন করলেও বছর দুয়েক ধরে তারা এ ধরনের অনুষ্ঠানে ইলিশ বর্জন করেছে। এসব কারণে দেখা যায় বৈশাখ উপলক্ষে এখন আর বাজারে ইলিশের তীব্র চাহিদা নেই। জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, বাজার বিশ্লেষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জনা গেছে। রাজধানীর একাধিক বাজারে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, হঠাৎ করেই কমেছে ইলিশের চাহিদা। কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টাউন হল মার্কেটসহ বিভিন্ন সুপারশপে ইলিশের চাহিদা ব্যাপকহারে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে দামও।

মিয়ানমারের বরফ দেওয়া সামুদ্রিক ইলিশ

এদিকে, ব্যবসার লোভে কেউ কেউ আগে থেকে ইলিশ মজুত করলেও বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে এগুলো দেশীয় নয়— মিয়ানমারের সামুদ্রিক ইলিশ। বরফ দেওয়া এই ইলিশকে এতদিন পদ্মার ইলিশ বা দেশের বিভিন্ন নদীর ইলিশ বলে বিক্রি করা হতো। কিন্তু গণমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্রেতারাও সতর্ক হয়েছেন। ফলে বিক্রেতারা প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। যেসব মজুতদার এবারের বৈশাখে ইলিশের রমরমা ব্যবসার আশা করেছিলেন, তারা এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

তাজা ইলিশের দাম সব সময়েই বেশি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ ব্যবসায়ী কাওসার আহমেদ জানান, পহেলা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এ সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। তবে সরকারের আদেশ অমান্য করে কেউ কেউ লুকিয়ে ইলিশ ধরে এবং সেগুলো বাজারে এলে বেশি দামে বিক্রি হয়। কারণ, তাজা ইলিশের দাম সব সময়েই বেশি। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে অনেকে হিমাগারে ইলিশ মজুত রাখেন। দীর্ঘদিন তাদেরকে হিমাগারের ভাড়া গুনতে হয়। আগে এ কারণেও বৈশাখ এলে মাছের দাম বেড়ে যেতো। কিন্তু এ বছর ইলিশের দাম তূলনামূলক কম।

অভিযান জোরদারের নির্দেশ

এদিকে জাটকা নিধনরোধে মৎস্য অধিদফতরের এক আদেশে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নদীতে জাটকার প্রাচুর্যতা দেখা যায়। জেলেদের জালে এ সময় বেশি পরিমাণে জাটকা ধরা পড়ে। তাই জাটকা রক্ষার্থে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদেরকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিযান জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযানের তথ্য মৎস্য অধিদফতরে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জাটকাকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা না-হলে দেশীয় সম্পদ নষ্ট হবে। তাই দেশব্যাপী যেসব নদীতে ইলিশের আনাগোনো— সেসব নদীতে ইলিশ বিশেষ করে জাটকা ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময় সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় জেলেদের সরকারি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.