প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থান

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থান: মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। বিপুল সংখ্যক নারী এখনও শ্রমশক্তির বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্পাদন খাতে কর্মসংস্থান কমছে আশঙ্কাজনক হারে। কর্মসংস্থানে পোশাক শিল্প বরাবর বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হলেও নতুন প্রযুক্তির কারণে এ খাতেও কর্মসংস্থান স্থবির। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নে সামষ্টিক কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। রাজধানীর একটি হোটেলে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমের সঞ্চালনায় কর্মশালার প্রথম পর্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পালাকার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি, আইএলওর সিনিয়র এমপ্লয়মেন্ট স্পেশালিস্ট নোমান মজিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট থমাস ফারলো এবং সিনিয়র ইকোনমিস্ট ওনইয়ং চো। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাপক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের গতি কমে এসেছে। ২০০৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান বাড়লেও ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এর হার নেমে এসেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশে। পোশাক খাতে নতুন নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কর্মরত আছেন। শ্রমজীবী তিন নারীর মধ্যে অন্তত একজন কাজ করেন পারিশ্রমিক ছাড়া। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে দ্রুত ব্যাপক হারে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অনুষ্ঠানে রাজশ্রী পালাকার বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে শ্রমবাজারের পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, শ্রমের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দ্রুত সামষ্টিক জাতীয় শ্রমকৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব আরোপ করেন। শ্রীনিবাস রেড্ডি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার বোনাসকাল চললেও এর সুফল মিলছে না। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। সরকারি খাতে কর্মসংস্থার স্থবির থাকায় মূল ভূমিকা নিতে হবে বেসরকারি খাতকে। এজন্য পোশাক খাতের বাইরে রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যায়ন করতে হবে। ড. শামসুল আলম বলেন, প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমাতে সরকার ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। থমাস ফারলো বলেন, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উত্পাদন ও সেবা খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে রফতানি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আহরণে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। দ্বিতীয় পর্বে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালন করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিয়া আবদুল্লাহ মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ফয়সাল আহমেদ, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ। আলোচনায় মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি, কর্মে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, তরুণদের কর্মের বাজারে প্রবেশে প্রতিযোগিতা কমানো ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গন্তব্য বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশের অভাব, পোশাক খাতে নতুন প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ব্যবসা-বাণিজ্যের উচ্চ ব্যয় ও কর্ম উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে উত্পাদনশীলতার মাধ্যমে। উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। যেহেতু এর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা জড়িত। কিন্তু অর্থনীতিতে যে ধরনের বৈচিত্র্যায়ন দরকার, যার মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষকে কর্মসংস্থান দেওয়া যাবে, সেখানে বড় ধরনের বিচ্যুতি রয়েছে। এজন্য রফতানি বৈচিত্র্যায়ন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। দক্ষ শ্রমিক বাড়াতে হবে। রাজস্ব পলিসি, প্রণোদনা পলিসি, রেগুলেটরি পলিসি, ডুয়িং বিজনেস কস্ট কমাতে হবে। সূত্রঃ সকালের খবর 

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর ঢাকা, ২য় কলকাতা

এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে

যানজটে বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা। শনিবার আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’র প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯-এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ এবং ২০১৭ সালে যানজটে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়, ২০১৬ সালে তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে ছিল অষ্টম। 'নামবিও'র প্রকাশিত এই তালিকা অনুসারে, যানজটের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, আর তৃতীয় অবস্থানে নয়াদিল্লী, ৪র্থ স্থানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি, ৫ম ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ৬ষ্ঠ শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ৭ম ভারতের মুম্বাই, ৮ম ফিলিপাইনের ম্যানিলা, ৯ম আরব আমিরাতের সারজা এবং ১০ম অবস্থানে আছে ইরানের তেহরান। এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেস রয়েছে ১৫ নম্বরে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪টি, ভারতের ১১টি, পাকিস্তানের তিনটি, চীনের দুটি আর বাংলাদেশের একটি শহরের নাম উঠে এসেছে। যানজটের জন্য ঢাকার স্কোর হচ্ছে ২৯৭ দশমিক ৭৬। কলকাতার স্কোর ২৮৩ দশমিক ৬৮। ভারতের রাজধানী দিল্লিকে দেওয়া হয়েছে ২৭৭ দশমিক ৮১ স্কোর। নাইরোবির স্কোর ২৭৭ দশমিক ৬৬। আর জাকার্তার স্কোর হচ্ছে ২৭৪ দশমিক ৩৯। এই তালিকা অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের বাসেল। এরপর আছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। গত বছর কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিল ভিয়েনা। বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ ২১২টি শহরকে বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা প্রণয়ন করেছে নামবিও। এই তালিকা প্রণয়নে নামবিও কয়েকটি উপসূচক ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সময় সূচক, সময় অপচয় সূচক, অদক্ষতা সূচক ও কার্বন-নিঃসরণ সূচক। সময়, সময় অপচয় ও অদক্ষতা উপসূচকেও ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। কার্বন নিঃসরণ সূচকে ঢাকার অবস্থান ১০৯তম, আর কোলকাতা রয়েছে ১১০-এ। সময় সূচকের ক্ষেত্রে কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোকে বোঝানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মস্থল বা স্কুলে যাতায়াত সময়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সময় অপচয় সূচকে যানজটে সময় অপচয়ের কারণে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। অদক্ষতার সূচক মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা নির্দেশ করে। আর যানজটে সময় অপচয়ের কারণে নিঃসরিত অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা নির্দেশ করে কার্বন নিঃসরণ সূচক। অনলাইনভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘নামবিও’ প্রকাশিত তথ্য বিবিসি, ফোর্বস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার, টাইম, দ্য ইকোনমিস্ট, চায়না ডেইলি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য টেলিগ্রাফসহ বিশ্বের খ্যাতনামা সংবাদপত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

টিবিএস রিপোর্ট
13 May, 2020

ড. কালি প্রদীপ চৌধুরীর উদ্যোগে পূর্বাচলে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র:

পূর্বাচলে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র

পূর্বাচলে হচ্ছে ১৩০তলা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র দেশে আন্তর্জাতিকমানের আরো একটি সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র (কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টার) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রটি স্থাপিত হবে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে। সম্মেলন কেন্দ্রটি নির্মাণে ৪০ একর জায়গা দেবে পূর্ত মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ‘কেপিসি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ’ এটি নির্মাণ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কনভেশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টার কেরানীগঞ্জের পরিবর্তে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রায় ১০০ তলা ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কেপিসি গ্রুপ। ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। [caption id="attachment_18694" align="alignleft" width="300"]ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী[/caption] রোববার কেপিসি গ্রুপের প্রধান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ড. কালি প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তাবিত কনভেনশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টারের নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ও এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে এর আগে বেশ কয়েক বার বৈঠক হয়েছে। শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চীনকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তারা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক কেপিসি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। সিলেটের এই ধনাঢ্য ব্যক্তি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখান। অর্থমন্ত্রী উদ্যোক্তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ড. কালি পি চৌধুরী  মূলত এই দেশের সন্তান। বাংলাদেশ থেকে ডাক্তারি পাস করে আমেরিকায়  পাড়ি দেন। তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্মাণের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করে বলেন, গত ৪-৫ বছর ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। তবে বর্তমানে কনভেনশন সেন্টার প্রকল্পটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার একটি টেকনিক্যাল দল খুব শিগগির বাংলাদেশে আসছে। সূত্র জানায়, এরই মধ্যে বেশ কটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার অর্থমন্ত্রী ও ড. কালি প্রদীপ চৌধুরী প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত কেরানীগঞ্জে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে তারা অর্থমন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কেপিসি গ্রুপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 1441210637এর আগে ঢাকার কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জায়গা নির্বাচনের জন্য পূর্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রেল মন্ত্রণালয় ও সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বৈঠকে শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে কেরানীগঞ্জে কনভেনশন সেন্টারটি নির্মাণের চিন্তা করা হলেও কিছু কারিগরী সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত পূর্বাচলে কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারণ কেরানীগঞ্জে যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানকার ভূ-প্রকৃতি প্রস্তাবিত প্রকল্পের উপযোগী নয়। সেখানে ১০০ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পূর্তমন্ত্রণালয় পূর্বাচলে ৪০ একর জায়গা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগকারীদের অবশ্য আরো বেশি জমির চাহিদা ছিল। পূর্বাচলে এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। কাজেই পূর্বাচলেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারী সংস্থাও এ বিষয়ে রাজি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বহুতল বিশিষ্ট বেশ কটি বড় ভবন হবে। কনভেনশন সেন্টার ছাড়াও প্রকল্প এলাকায় আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল, হেলিপ্যাড, স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, গলফ মাঠ, বয়স্কদের নিবাস, শপিংমলসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। তিনি বলেন, আগামী ৪০ দিনের মধ্যে এর প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। আশা করছি ২০১৬ সালের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সূত্র জানায়, আগামী ২০১৭ সালের মে-জুনে ঢাকায় ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সম্মেলনকে সামনে রেখে ২০১৬ সাল নাগাদ এর নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় বহুতল বিশিষ্ট বেশ কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণ করা হবে। সম্মেলন কেন্দ্রটিতে ৫ হাজার আসনের ১টি গ্যালারি ও ৫০০ আসনের ২টি গ্যালারি থাকবে। থাকবে ২০০ আসনের ১০টি সেমিনার কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদেরসহ প্রায় ১০০টি বিভিন্ন ধরনের দপ্তর থাকবে। কনভেনশন সেন্টার ছাড়াও প্রকল্প এলাকায় আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল, হেলিপ্যাড, স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, গল্ফ মাঠ, বয়স্কদের নিবাস, শপিংমলসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্যাফেটরিয়া ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠতে পারে। কাছাকাছি এলাকায় দুটি হোটেল, একটি শপিং প্লাজা ও একটি এক্সিবিশন হল রাখা হবে। থাকবে ৫০০ গাড়ি রাখার পার্কিং ব্যবস্থা। এরকম কনভেনশন সেন্টার স্থাপনে ৩০ কোটি ডলারের প্রয়োজন বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।      

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ

করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হাজার হাজার মানুষ
মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে করোনাভাইরাস মাথায় নিয়েই ঢাকামুখি হাজার যাত্রীদের নিয়ে বিপাকে প্রশাসন। কোন নির্দেশনাই তাদেরকে থামাতে পারছে ঢাকা যাওয়া। দেশে করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব হতে মুক্ত থাকতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানালেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে তা মানাতে পারছে প্রশাসন। গার্মেন্টস খুলে দেয়া এবং দীর্ঘদিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজন ঢাকা মুখি হচ্ছেন। ফলে মাওয়া ঘাটে এখন ঢাকা মুখি যাত্রীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। যাত্রীদের কোনভাবেই শোনানো যাচ্ছে না করোনা ভাইরাসের উপদেশ। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এভাবে যাত্রীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসনের সকল সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এমন যাওয়ার দৃশ্য সত্যিই দু:খ জনক বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। বিকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিতে করে হাজার লোক পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপই ছিল বেশি। এসব যাত্রী একে অপরের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে ফেরি পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। তারপর বাস না থাকায় বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর মধ্যে নসিমন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ নানা প্রকার ছোট ছোট যানবাহনে যাত্রীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছে। মূলত যাত্রীর চাপেই তা সম্ভব হচ্ছে না। এখনো এ ঘাট দিয়ে হাজার যাত্রী পারাপার হচ্ছে। আর লঞ্চ সিবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হওয়ায় একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা ঘেঁষে থাকায় করোনা সংক্রমিত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলার যোগেও প্রচুর যাত্রী কাঠাদিয়া, শিমুলিয়া থেকে মাওয়া ঘাটে পৌছে ঢাকায় যাচ্ছেন। অপর দিকে সি-বোট ঘাট বন্ধ থাকার সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু সি-বোট মালিক ও চালকরা সি-বোটে যাত্রী পারাপার করছে । ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের লৌহজংয়ের মেদিনী মন্ডলে ডলফিন ট্রেনিং সেন্টারের পাশে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ চেকপোস্টে কোনো গাড়ি আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তা উল্টোদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তাই মহাসড়কে ঢাকায় যেতে না পেরে যানবহনগুলো লৌহজং-টঙ্গবাড়ী-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। তবে ভেতরের এ সড়কগুলোতে পুলিশ বা ট্রাফিকের কোনো প্রকার বাধা ছাড়ায় যানবাহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রীরা ঢাকায় যাচ্ছে। আর এতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত হবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সরকার সচেতনতার কথা বললেও এদের কারণেই হয়তো সরকারের প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়ে করোনা মহামারি আকার ধারণ করে লোকজনের যানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছে। শিমুলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির ও মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখি যাত্রীদের ভীড়। ফেরীতে কোন যান বাহন না থাকলেও যাত্রীদের কোন কমতি নেই। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন উপায় ঢাকায় যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছোট ছোট ট্রলার যোগেও যাত্রীদের আসতে দেখা গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

টানা অবরোধে ভেঙে পড়ছে প্রডাকশনের সাপ্লাই চেইন

20131127-103456.jpg

27 Nov, 2013 চলমান রাজনৈতিক সংকট ও ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের কারণে উদ্বিগ্ন বিজিএমইএর নেতারা। অবরোধের কারণে তারা উৎপাদিত পন্য বন্দর পর্যন্ত নিতে পারছেন না, আবার বন্দর থেকেও কোন কাঁচামাল আনা যাচ্ছে না ফ্যাক্টরী পর্যন্ত। কর্মীরা ঠিকমত কাজে যেতে পারছেন না। ফলে কমে যাচ্ছে উৎপাদন। ভেঙে পড়ছে প্রডাকশনের সাপ্লাই চেইন। অবরোধের প্রভাব নিয়ে বিজিএমই নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে এসব কথা জানান তারা। বিজিএমই-এর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শিদি বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের প্রোডাকশনের যে সাপ্লাই চেইন রয়েছে তা পুরোপুরি ভেঙে যায় এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে। শ্রমিকরা ঠিকমত কর্মস্থলে যেতে পারছে না, ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম বন্ধ, প্রোডাকশন কমে যাচ্ছে’। এমন অচলাবস্থার জন্য দায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে ব্যবসা চালাবো?’ তিনি বলেন, ‘আমরা যত দেরি করি অর্ডার ডেলিভারি দিতে আমাদের খরচ ততই বাড়ে। এ খরচটা বাড়তে থাকে ব্যাংক সুদের মত চক্রবৃদ্ধি হারে’। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা আলোচনা করে একটা সমঝোতায় পৌছান। আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার মত পরিবেশটা দিন। তা না হলে আসলে এ সেক্টরটা ধ্বসে পড়বে’। এ ধরণের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারটা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিজিএমই-এর সাবেক এ সভাপতি। সহিংস রাজনীতিতে সুনাম ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে মন্তব্য করেন বিজিএমই-এর আরেক সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন। তিনদিনের অবরোধের কারণে পোশাক করখানাগুলো কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কারণে আমরা কোন ধরনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের কাজ করতে পারছি না। কমে আসছে উৎপাদন। এতে করে আমাদের ব্যপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আসলে শঙ্কিত এ অবস্থা বজায় থাকলে, পোশাকের বিশ্ববাজারটা বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারে কি না’। এদিকে বিজিএমই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ আজীম বাংলামেইলকে জানান, ‘এই ধরনের রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে পোশাক শিল্পে যে ক্ষতি হচ্ছে তার দায়ভার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু দলকেই নিতে হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো আর রাজনীতি করি না। আমরা ব্যবসা করি। কিন্তু সে পরিবেশটাতো আমাদের দিতে হবে। এইযে আমরা ফ্যাক্টরি থেকে কোন মালামাল পোর্টে নিতে পারছি না, পোর্ট থেকে কোন কাঁচামাল আনতে পারছি না। এতে আমাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এটার প্রভাব অবশ্যই সামগ্রিক অর্থনীতির উপর পড়ছে’। তিনি জানান, ‘অবরোধের কারণে শুধুমাত্র প্রডাকশন কমে যাওয়ায় এক দিনে এ সেক্টরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা’। উৎসঃ বাংলামেইল২৪

পোশাক খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১০০০ কোটি টাকা

পোশাক খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১০০০ কোটি টাকা

এমএম মাসুদ | ১৩ জুলাই ২০১৫, সোমবার, ১:১১
 সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের (২০১৩-১৪) চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশের কাছাকাছি। এদিকে বিদায়ী বছরে মোট রপ্তানি আয়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ৬.০৩ শতাংশ। তবে আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৩৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধি গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। অবশ্য মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরী পোশাক খাত থেকে; যা অর্থের হিসাবে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ’র রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ চিত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, গত অর্থবছরের শুরুর দিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইউরো ও রুশ মুদ্রা রুবলের দরপতন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চাহিদায় কিছুটা মন্দাভাব, গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা প্রভৃতি কারণে রপ্তানি আয় কমেছে। ইপিবি সূত্রে জানা যায়, নিটওয়্যার ও ওভেন মিলে পোশাক শিল্পে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার। নিট ও ওভেন খাত মিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ১৪০ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। টাকার অঙ্কে যা ১০ হাজার ৯৬৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার (১ ডলার=৭৮ টাকা হিসাবে)। এককভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩২১ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নিটওয়্যার খাতে আয় কমেছে ৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ডলার, শতকরা হিসাবে যা ৫.৯৭ শতাংশ। তবে নিটওয়্যারে আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩.১৩ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা শতকরা হিসাবে ৪.৫১ শতাংশ। তবে ওভেনখাতে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ। বিজিএমইএ তথ্যে দেখা যায়, ২০০২-০৩ থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি অর্থবছরের মধ্যে সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরেই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ডলার আয় হয়েছিল। তাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৩৮ শতাংশ। তার আগের ২০০১-০২ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর ১৩ অর্থবছরের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৪১.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। তখন রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৯২ কোটি ডলার। বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, বছরের প্রথমদিকে অর্ডার খুবই কম এসেছে। সংস্কার কার্যক্রম করতে গিয়ে অনেক কারখানা বসে গেছে। তবে বর্তমানে অর্ডার বাড়তে শুরু করায় আগামীতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, প্রধান কারণ হচ্ছে ২০১৫ সালের শুরুর ৪ মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ওই সময় আমরা ঠিকমতো পণ্য রপ্তানি করতে পারিনি। রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনা, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের বাড়াবাড়ি, ইউরো জোনে ইউরোর দরপতন এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন-এসব কারণেও রপ্তানি আয় কমেছে। বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ২০০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৬.০৩ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০১ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৩.২৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। এদিকে তৈরী পোশাক শিল্পে এবং সামগ্রিক রপ্তানিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও বেশির ভাগ পণ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, তেমনি প্রবৃদ্ধিও হয়নি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় থাকা ৬৯টি মূল পণ্যের মধ্যে ৩০টিতে ঋণাত্মক ও ৩৯টিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইপিবি’র তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১১৩ কোটি, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৮৬ কোটি, হোম টেক্সটাইলে ৮০ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ৫৮ কোটি, হিমায়িত খাদ্যে ৫৬ কোটি, প্রকৌশল পণ্যে ৪৪ কোটি, চামড়াবিহীন পাদুকায় ১৮ কোটি, বাইসাইকেলে ১২ ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ১০ কোটি ডলার আয় হয়েছে।
 

রোহিঙ্গা তাড়িয়ে এবার রাখাইনে নির্মাণ হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর

বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্র বন্দর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় দেশদুটির কাছে, বিশেষ করে ভারতের জন্য মিয়ানমারে চীনের এই সমুদ্র বন্দর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দেশটির সেনাবাহিনী মাধ্যমে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নিপীড়ন ও গণহত্যার মাধ্যমে উৎখাত করা হচ্ছে। এবার রাজ্যটিতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে দেশটির সরকার। মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী রাখাইনে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) নির্মাণের চুক্তি করতে যাচ্ছে চীন। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী এবং এসইজেড কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উ থান মিন্টের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার দ্য মিয়ানমার টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। উ থান বলেন, রাখাইনে কায়ুকফায়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে রূপরেখা চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে মিয়ানমার ও চীন। চলতি বছরের শেষ দিকে চুক্তিটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আওতায় চীন এসইজেড অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশের মালিক হবে। বাকি ৩০ শতাংশ থাকবে মিয়ানমার সরকার ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমে যেখানে কায়ুকফায়ু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে সেখান থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নেমেছিল দেশটির সেনাবাহিনী। বাণিজ্য বৃদ্ধি ও শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ অঞ্চলটিতে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে এ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্র বন্দর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় দেশদুটির কাছে, বিশেষ করে ভারতের জন্য মিয়ানমারে চীনের এই সমুদ্র বন্দর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে চীনকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা দেশ থেকে পণ্য পরিবহন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করতে হয়। রাখাইনের বন্দরটি হলে তা এড়িয়ে সময় ও ঝুঁকি কমাতে পারবে চীন। বিগত কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তাদের দেশত্যাগের পরিমাণ বেড়ে যায়। সে সময় থেকে বাংলাদেশে এসেছে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। কয়েক দশক ধরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার শরণার্থী শিবিরগুলোতে বাস করছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ে। এর পরই তাদের একাংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

Bangladesh’s Entry into the Digital Vortex

Bangladesh’s Entry into the Digital Vortex Part 1

By Lightcastle Parnters

With the proliferation of smartphones, internet connectivity and social networking in Bangladesh, the digital marketing industry is gaining momentum. This growth trend has been impressive over the last few years with the number of agencies and sectors investing in digital marketingincreasing at a rapid pace.Even though traditional marketing methods are still predominant with a high focus of companies on TV advertisements, billboards, and newspaper ads, the market scenario is ready to be transformed. This special report aims to analyze the status quo and the potential of the digital marketing industry in Bangladesh.  At the cusp of a Digital Media Revolution With steady GDP per capita growth, which is expected to sustain over the coming decade, the disposable income of Bangladeshi citizens is constantly increasing. The increasing ability to purchase 2G/3G supported mobile phones, smartphones, and computers is causing more and more people to enter the digital realm. With a declining birth rate and expanding economy, the per capita GDP is only going to rise in the future, which means the digital landscape will inevitably observe remarkable growth. gdp A Young Population Attuned to Digital  While traditional media is still strongly prevail among older demographics, Digital Media is more popular among younger segments. The diagram below illustrates that 77% of Facebook users are aged between 18 and 34. Bangladesh has a median age of 25.4, and the 8th largest population in the world (Source: World Bank). In fact, Bangladesh has a lower median age than most Asian countries, as the following diagram demonstrates. Additionally, youth comprise of one third of the country’s entire population, while 70% of the population is under the age of 35, making media consumption increasingly skewed towards digital. median age The digital space of Bangladesh is centered on this increasingly tech-savvy youth as data concerning use of social media sites such as Facebook show dominance of the age group 18 – 34 years. age   Source: Socialbakers Rise of the Telecom Industry The telecom industry has experienced extraordinary growth in recent years, resulting in 99% of the population being under network coverage. This growth has been leveraged to increase internet access for the masses as experts from Mediavest claim that 60% of internet users get access using mobile phones. The telecom industry has a direct role in promoting the culture of internet usage, by introducing lucrative data packages, conducting push marketing and improving the overall mobile network infrastructure of Bangladesh. Bangladesh has the highest 2G coverage rate among emerging economies, along with the steady proliferation of 3G networkand over 15-25 million active mobile internet users. (Source: LightCastle Interviews) Currently, there are six mobile operators in Bangladesh, with Grameen Phone as the market leader with 42% of the market share (Source: BTRC). Banglalink, Robi, Airtel, Citycell and Teletalk make up the rest in a fiercely competitive industry with high price sensitivity and quality parameters.   smartphones Smarter Phones Proliferation of mobile networks over recent years increased people’s awareness and comfort with mobile devices and now, the inflow of low cost Chinese smartphones and economies of scale are making smartphones the next frontier. Suddenly, masses of people are able to access the internet right in their pockets. The increase in smartphone usage isn’t just boosting internet usage, but also opening up the scope for digital marketing in mobile devices. Bangladesh’s Entry into the Digital Vortex LightCastle Partners recently conducted a study regarding the use of smartphones among the urban youth using random sampling of different age groups of cellphone owners. The following results were obtained   types of phones   Expanding Internet Penetration Inevitably, there is an increasing level of internet usage in Bangladesh owing to the increase in GDP per capita, low median age and expansion of the telecom sector (both 2G and 3G). While Bangladesh is lagging behind technologically advanced nations like Hong Kong and Malaysia, the internet penetration rate is higher than that of Nepal, Pakistan and Sri Lanka. Thenumber of Facebook users has been growing at impressive rates with the trend set to continue on the back of strong fundamentals. internet stats key indicator
Digital Media is Cheaper than Conventional Media, Allowing SMEs to Advertise More Effectively One of the greatest features of Digital Media is that it allows companies to reach out to more people at a lower cost. Boosting posts on Facebook costs only about USD 5 for instance. The average cost for reaching 1,000 people using Digital Media is over 8 times cheaper than that of print media, and around 17 times cheaper than that of Television ads. REACHING SMEs generally cannot afford a hefty advertising budget, and are forced to find cost-effective tools to reach out to customers, which makes Digital Media the perfect platform for them. Restaurants, fashion stores, electronics shops, event management services and other SMEs are using Facebook news feeds to conduct their promotional campaigns with companies like Gadget & Gear, Bridal Moments, and Gadget Gang 7 acquiring strong fan bases in the process. FANBASE Digital Media is Extremely Scalable sincethere is very little Physical Barrier to Growth Digital media has the capacity to reach out to 160 million people in Bangladesh; highest among the various forms of media. This is because Digital Media faces little logistical barriers, and can theoretically extend to the entire population. 2G network already covers 99% of the country’s geographical area with the 3G network catching up. Given the technological progress that is to follow, companies are expected to aggressively exploit the scalability of Digital Media. Social Networking Sites are Becoming Increasingly Active, With Growing Fan Bases Everyday With 3,352,680 Facebook users and counting, marketing on Facebook and other social networking sites is increasingly being used to reach audiences. Pages such as Grameenphone, Airtel Buzz and Robi are increasing in popularity every day, as their digital content becomes widespread. Given that people spend a significant portion of their time on social networking sites, the interaction with content is more likely, causing people to “like” and “share” posts whenever a piece of content catches the user’s attention. The role of digital marketing is to convert these ‘interactions’ into ‘product demand’. FACEBOOK BD   YouTube Pages are Gaining Momentum Due To Faster Internet Owing to faster internet connections, Google cache servers, and better streaming, YouTube is gaining height in the Digital Medias cene. While the overall presence of YouTube is minute in comparison to that of Facebook, it is on the verge of expansion with the telecom sector using it to market, and others following. As part of an article series by LightCastle Parnters titled Bangladesh’s Entry into the Digital Vortex Part, here’s Part 3 that focuses on the growth of Digital Media. The Growth of Digital Media is Inevitable With an internet penetration rate of 24.5%, an internet user base of 40 million, and an ever-growing digital infrastructure, companies are bound to invest in digital marketing sooner or later. Expert interviews reveal that the digital marketing industry will undergo exponential growth over the coming years with current agencies to grow larger, and new ones to launch. While the share of the advertising industry in 2014 was 2%, it is expected to grow to 5% in 2015, 10% in 2016, and 17% in 2017. size Digital Media Trend is Towards Replacing Traditional Media over the Coming Years size Currently, people are constantly on the go, and want to grasp as much content amidst their busy schedules. For instance, people in public buses listen to podcasts, read news, and watch YouTube videos on their smartphones on their way to work. So the replacement of traditional media can be attributed to the increasing dominance of Digital Media in people’s lives. size The current size of the advertising market in Bangladesh is approximately BDT 2,000 Crore.Current trends regarding the industry suggest that advertising in radio will remain unchanged, because of the stability in the customer base. However, advertisement in TV and print media is expected to decline because viewership in these forms of media is expected to decrease. TV shows, news and magazine are readily available on the internet, which is leading to a rapid substitution of conventional media with digital with its targeted content, low costs and wide reach. The growth potential of Digital Media is stunning. By 2017, the size of the digital marketing industry is expected to be BDT 452 Crore. This translates to an exponential growth of 1000% from the current size. However, TV advertisements are still expected to gross highest over the next decade, unless services such as Netflix starts to popularize in Bangladesh.

How Digital Marketing Works in Bangladesh

Digital Media marketing in Bangladesh is fast catching up as a favored media outlet among Telco’s, FMCG and other industries. Fund allocation remains modest at 5-10% across companies, but as conversions improve, this statistic is set to change drastically. illustration1 The illustration shown above shows the types of content active in the Digital Media scene. Mobile apps directly engage the user in an activity that communicates the brand. Videos and animations are more effective than static images because users tend to interact more with motion pictures. Text is least interactive, since it requires users to take the trouble of reading the material. The most commonly used form of contents are static graphics and text. Text includes status updates and posts while static graphics include images, infographics, and comic clips. Videos, while considered the most effective form of content, are less prominent because of high bandwidth requirements and high production costs. Furthermore, videos need to captivate the audience within the first 20-30 seconds in order to create a “watch-on” factor. However, with rapidly evolving infrastructure, both videos and mobile applications are likely to become more popular.

“We know that the young people don’t watch TV as much, they do only when they are following a particular showor event. They get their fixes digitally, both for news and entertainment. Radio, as we have already discussed, has already gone through the evolution. The penetration of mobile phones is single most important catalyst to such patterns.” – Awrup Sanyal, ex- Creative Director, Bitopi

illustration1 Digital Media in Bangladesh can be divided into five broad horizons. Services can be produced either by combining multiple horizons, or by dividing each horizon into multiple segments. Content development and Digital Media marketing are the most popular services that digital agencies offer at the moment. Content has always been the core of any form of communication, making it one of the top services. Since Facebook is almost synonymous with the internet in Bangladesh, companies invest quite heftily in managing and growing their presence on the platform. Digital media buying allows companies to strategize digital content to ensure maximum effectiveness. Online advertising is slowly gaining height as video platforms mature. Magnito Digital coined the term “Digital Media Commercial” for online ad clips that they produce. Experts claim that the requisites of this form of advertisement are quite different from that of conventional media. Fast, Cheap Analytics Facilitating Rapid Growth Digital analytics is still quite young in Bangladesh, and is not actively sought out by corporations. However, as companies move towards data-based decision making, it will start becoming a core component of their digital ventures. For instance, companies can analyze the age composition of the people who “liked” particular posts to identify what sort of content works on different age groups. There are broadly three things to measure: impressions, clicks, and acquisitions. These numbers show the extent of reach of a brand in expanding mindshare and sales revenue. The simplicity of analyzing digital content effectively makes targeting significantly easier. illustration1

Industry Dynamics

Agencies are Getting Equipped to Steer the Nation towards a Digital Revolution The growing use of internet and the transition towards digital marketing has led to the formation of various digital agencies that are dedicated to managing digital resources and online activities of client brands. illustration1 Telecom sector takes the lead in digital marketing expenditure, while classifieds and FMCG follow illustration1 Source: RyansArchive The telecom industry spends the highest amount in online advertisements. Grameenphone leading, followed by Banglalink, and Robi Axiata. There are also numerous small and medium companies that invest in Digital Marketing because of its affordability and effectiveness. illustration1 SMEs have very little scope to advertise on television and radio. Print media is also often too expensive for them. Digital media is the best means for SMEs to strengthen their respective brands in an affordable and targeted way. Restaurants, fashion stores, gadget shops, and lifestyle pages are all aggressively spending on digital marketing, prompting other industries to take notice.

“Digital marketing is bound to be extremely popular among SMEs. Given their limited budget, digital marketing is the perfect advertising platform.”– Riyadh Shahir Ahmed Husain, CEO, Magnito Digital

While a significant portion of operations are automated to the point that human effort is minimized, the generation of content is still brain intensive. Starting from producing status updates to high definition videos, creativity and effort are crucial components. There is still a severe lack of digital marketing professionals in Bangladesh. One of the fundamental reasons behind this is the negligence of universities towards Digital Media. According to SidratTalukder, MD of Strategeek, business schools should offer separate courses on digital marketing, or at least make it a significant part of marketing courses. He also suggests that emancipating more and more interns into digital agencies is an effective way of creating a strong talent pool. illustration1 Bottom Line: Digital marketing is the inevitable future of the advertising industry. Internet users, mobile network users, increasing standard of living, government policy and a myriad of other factors are to combine and thrust the industry into the forefront of media. Businesses are going to be sucked into the vortex of an increasingly digital population in the coming years, producing rich dividends for those who manage to acquire expertise in the field. http://sdasia.co/2015/05/14/bangladeshs-entry-into-the-digital-vortex-part-4/

মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা: কিভাবে এই কোম্পানীরা লাইসেন্স পেলো??

ঠিকানাহীন ছয় আইজিডব্লিউ : বিটিআরসির পাওনা ৭৫০ কোটি টাকা

|সুমন আফসার|
মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। নেই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা। এ ধরনের ছয় ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি টাকার বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় পাওনা আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ও আয় ভাগাভাগির অংশসহ অন্যান্য পাওনা নিয়মিত পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অংকের এ বকেয়া পড়েছে। বকেয়া পরিশোধ না করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বেসটেক টেলিকম, রাতুল টেলিকম, কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস, টেলেক্স, ভিশন টেল ও অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশন। ছয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সই বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। জানা গেছে, ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে ভিশন টেল লিমিটেডের কাছে ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পাওনা আদায়ে ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই বছর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) ও টেলিযোগাযোগ আইনেও আলাদা মামলা করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আইসিএক্স লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউড টেল লিমিটেডের সহযোগী কোম্পানি ভিশন টেল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এক মেয়ে। তবে বিটিআরসির দায়ের করা মামলার বিবাদীরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসএম আসিফ শামস, পরিচালক রাসেল মির্জা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইরিন ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম ও শেয়ারহোল্ডার জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে আইরিন ইসলাম ও পরিচালক শরিফুল ইসলামকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতারও করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তারা। আরেক আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান বেসটেক টেলিকমের বকেয়ার পরিমাণ ১৩০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনের আওতায় সার্টিফিকেট মামলা করে বিটিআরসি। এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। একই বছরের জুনে গুলশান থানায় টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত করিম ও পরিচালক মামুন-উর-রশিদ রয়েছেন মামলার বিবাদী হিসেবে। অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশনসের কাছে পাওনার পরিমাণ ১২০ কোটি ১ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ আইনেও মামলা করা হয়েছে। অস্পষ্টতা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়েও। শুরুর দিকে অ্যাপল গ্লোবাল টেলের মালিকানায় ছিলেন সোহেল আহমেদ, মনির আহমেদ, ইকবাল বাহার জাহিদ ও ইমদাদুল হক মোল্লা। আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান টেলেক্স লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পিডিআর আইনে মামলা দায়ের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মামলা করা হয়েছে এনআই ও টেলিযোগাযোগ আইনেও। তিনটি মামলায়ই বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সঠিক নাম-ঠিকানাও পুনরায় দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স পেতে সুপারিশ করেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা। টেলেক্স লিমিটেডের বর্তমান মালিক আবদুর রহমান ও মুজিবুর রহমান। বিটিআরসির মামলায় এ দুজনকে বিবাদী করা হয়েছে। রাতুল টেলিকমের কাছে পাওনার পরিমাণ ১০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর পিডিআর আইনে মামলা করে বিটিআরসি। এর আগেই টেলিযোগাযোগ আইনে বনানী থানায় মামলা করা হয়। আবাসন খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রূপায়ণের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাতুলের নামে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখী প্রতিষ্ঠানটির ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন। এছাড়া রাতুল টেলিকমের আরো ২০ শতাংশের মালিক নানকের স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু। এ দুজনের পাশাপাশি মামলায় বিবাদী করা হয়েছে শেয়ারহোল্ডার মাসুদুর রহমান বিপ্লব, সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, সাবেক পরিচালক আলী আকবর খান রতন, সাবেক পরিচালক মাহির আলী খান রতন, সাবেক শেয়ারহোল্ডার নওরিন জাহান মিতুল ও সাবেক শেয়ারহোল্ডার সাইফ আলী খান অতুলকে। সরকারের পাওনা ১০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি কেএওয়াই টেলিকমিউনিকেশনস। এজন্য ২০১৪ সালের জুলাইয়ে পিডিআর আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়। একই বছর বনানী থানায় মামলা করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ আইনেও। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান, ছেলে ইমতিয়ান ওসমান, শ্যালক তানভির আহমেদ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা। পরবর্তী সময়ে মো. শাখাওয়াত হোসেন, দেবব্রত চৌধুরী ও মো. রাকিবুল ইসলাম এটির মালিকানায় রয়েছেন বলে দেখানো হয়। যদিও মামলা করার পর তাদের কারো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দাখিল করতে বলেছেন আদালত। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাওনা এ অর্থ আটকে থাকায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। সচিব ও বিটিআরসিকে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উদ্যোগ নেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিআরসির কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পাওনা আদায়সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ বকেয়া অনেকদিনের উল্লেখ করে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সরকারের পাওনা এ অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, আইজিডব্লিউগুলো আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করছে। আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আসা কল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে অপারেটররা। দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি। ২০০৮ সালে নিলামের মাধ্যমে চার প্রতিষ্ঠানকে এ লাইসেন্স দেয়া হয়। আর ২০১২ সালের এপ্রিলে নতুন ২৫টি প্রতিষ্ঠান আইজিডব্লিউ লাইসেন্স পায়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বর্তমানে কার্যক্রমে রয়েছে ২৩টি। সম্প্রতি আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

ছয় বছরে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা

[caption id="attachment_20774" align="alignleft" width="600"] স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা:[/caption] গত ছয় বছরে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় মোট ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৩টি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আর এসব অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গতকাল কুষ্টিয়ার পৌর অডিটরিয়ামে আয়োজিত স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্সে বক্তারা একথা জানান। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ব্যাংকিং ধারণায় উত্সাহিত করতেই গতকাল এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এর আয়োজক হিসেবে ছিল এবি ব্যাংক। অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ জেলায় কার্যরত সব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৩০টি স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান। এবি ব্যাংকের ডিজিএম সাজ্জাদ হুসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা শাখার ডিজিএম রেজাউল করিম সরকার, রাজশাহী শাখার ডিজিএম শেখ হালিম উদ্দিন শাহ্, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান প্রমুখ। এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তাদের উত্সাহ দেন। বক্তারা এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম সরকার বলেন, সরকারি ব্যাংকিং কর্মসূচির আওতায় ২০১০ সালে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক আর্থিক সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৩টি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে। পরিমাণটি তফসিলভুক্ত দুটি ব্যাংকের মোট মূলধনের চেয়েও বেশি। এটি আমাদের জন্য ইতিবাচক অর্জন। আপত্কালীন বা পরবর্তী শিক্ষাব্যয় জোগান দিতে এ অর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান তিথি বলে, আমরা আগে ব্যাংকিং সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না। এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় গত জানুয়ারিতে আমি একটি হিসাব খুলি। হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে সেখানে টাকা জমা দিই। আমার ব্যাংক হিসাবে এখন প্রায় ২ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এভাবে সব শিক্ষার্থীরই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকে যাওয়া দরকার। এতে কিছু টাকাও জমা হবে আবার ব্যাংকিং ধারণাও তৈরি হবে। সূত্র: বনিকবার্তা

দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকেরা নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল করতে পারবেন

২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলাতে চাইলে ব্যয় হবে ২৫৮ টাকা

দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকেরা আগামী সোমবার থেকে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল করতে পারবেন। তাঁদের এই সুযোগ দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবা। এর মাধ্যমে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকেরা একে অন্যের নেটওয়ার্কে গিয়ে তাদের কলরেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু নম্বর থাকবে আগেরটাই। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মঙ্গলবার মোবাইল অপারেটরগুলোকে চিঠি দিয়ে এমএনপি সেবা চালুর দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে। এমএনপি সেবার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক-বিডি জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে এ সেবা চালু হবে। ১ অক্টোবর, অর্থাৎ সোমবার থেকে কোনো গ্রাহক অপারেটর বদল করতে চাইলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের (যেটায় যেতে আগ্রহী) কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে নতুন একটি সিম (নম্বর আগেরটাই) নিতে হবে। এই সিম পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চালু হবে। এদিকে সেবাটি চালুর আগেই গ্রাহকের মাশুল বা ফি বাড়িয়ে দিয়েছে বিটিআরসি। প্রতিবার নম্বর বদলাতে গ্রাহককে ফি হিসেবে ৫০ টাকা দিতে হবে, যা এত দিন ৩০ টাকার কথা বলা হয়েছিল। অবশ্য একবার অপারেটর বদলাতে সব মিলিয়ে গ্রাহকের ব্যয় হবে ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। এর মধ্যে এমএনপি সেবার ফি ৫০ টাকা ও তার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ সাড়ে ৭ টাকা এবং সিম পরিবর্তন বা রিপ্লেসমেন্টের বিপরীতে কর ১০০ টাকা। অপারেটররা বলছে, প্রতিবার অপারেটর বদলাতে নতুন সিম নিতে হবে। এ জন্য কর গ্রাহককেই দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেটর বদলাতে চাইলে ব্যয় হবে ২৫৮ টাকা। কারণ, দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য ইনফোজিলিয়ন ১০০ টাকা বাড়তি নেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে। একবার অপারেটর পরিবর্তন করে অন্য অপারেটরে গেলে ৯০ দিন সেখানে থাকতে হবে। অর্থাৎ, অপারেটর পরিবর্তন করার পর যদি মনে হয় নতুন অপারেটরের সেবা ভালো নয়, তারপরও গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের আগে অপারেটর বদলাতে পারবেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিটিআরসি যে শর্ত ও ফি ধার্য করে এমএনপি সেবা চালু করছে, তাতে এটি গ্রাহকের কাছে খুব আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম। মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান, কলরেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় কোনো পার্থক্য নেই। অবশ্য এমএনপির সফলতা নির্ভর করছে গ্রাহক টানতে অপারেটররা নতুন নতুন প্যাকেজ চালু করে কি না, তার ওপর। জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান প্রথম আলোকে বলেন, কম দাম অথবা ভালো মানের সেবার জন্য মানুষ অপারেটর বদলায়। এ দেশে কার্যকর তিন অপারেটরের মধ্যে তেমন প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। আর ভালো মানের সেবা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটর—দুই পক্ষের মধ্যেই কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘এমএনপির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।’ খুব বেশি আশাবাদী নয় দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবিও। প্রতিষ্ঠানটির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এমএনপি নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। তবে এ সেবা নিতে একজন গ্রাহকের জন্য যে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে এমএনপির আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’ এদিকে ইনফোজিলিয়ন ও অপারেটররা জানিয়েছে, এমএনপি চালুর সব প্রস্তুতি শেষ। জানতে চাইলে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘গ্রাহককে আমাদের নেটওয়ার্কে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।’

মাশুল বাড়ল

বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার জোট বা কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ন গত নভেম্বরে এমএনপি সেবার লাইসেন্স পায়। এর আগে জুলাই মাসে এমএনপি নীতিমালা বা গাইডলাইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন অপারেটর পরিবর্তনে সেবাদানকারীর ফি ৩০ টাকা ধরা হয়েছিল। এখন চালুর আগে তা বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। এ অর্থের ভাগ বিটিআরসিও পাবে। জানতে চাইলে ইনফোজিলিয়নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩০ টাকা ফি ধরা হয়েছিল তিন-চার বছর আগে। এখনকার সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিটিআরসি তা ৫০ টাকা করেছে।’

ঋণগ্রহীতার ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী)ঋণ পরিশোধে অনীহা

সম্পদ ভোগ করলেও ঋণের দায় নিতে চান না উত্তরাধিকারীরা

|ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো| ব্যাংকঋণের টাকায় ব্যবসা শুরু। ব্যবসা সম্প্রসারণও ঋণের টাকায়। ব্যাংকঋণে গড়ে তোলা এ সম্পদ ঋণগ্রহীতার অবর্তমানে ভোগ করছেন তার উত্তরাধিকারীরা। কিন্তু ঋণের দায় নিতে রাজি নন তারা। যদিও ঋণ পরিশোধের সব সামর্থ্যই আছে তাদের। উত্তরাধিকারীদের এ অনীহায় ঋণের টাকা আদায়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংক এশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে গম আমদানি ও ফ্লাওয়ার মিল গড়ে তোলেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম। ২০১১ সালে এ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা মরহুম শাহ আলমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসেননি পরিবারের কেউ। শাহ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ আলম অ্যান্ড সন্সের কাছে ব্যাংক এশিয়া শেখ মুজিব রোড শাখার বর্তমান পাওনা প্রায় ১১৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০৪ সাল থেকে ব্যাংক এশিয়া শেখ মুজিব রোড শাখার সঙ্গে লেনদেন শুরু ব্যবসায়ী মো. শাহ আলমের। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার তিনটি প্রতিষ্ঠান শাহ আরজু ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স শাহ আলম অ্যান্ড সন্স ও মেসার্স হাজি মো. শাহ আলমের নামে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন তিনি। ২০১১ সালে যখন তিনি মারা যান, তখন ব্যাংকটিতে তার ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০১৬ সালে ঋণগ্রহীতার ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী) বিবাদী করে মামলা করে ব্যাংকটি। আদালতের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের আগস্টে শাহ আলমের কাছে ব্যাংক এশিয়ার পাওনা ছিল ৮৯ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৮ টাকা। মামলায় শাহ আলমের স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়েসহ মোট সাতজনকে বিবাদী করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শেখ মুজিব রোড শাখার শাখাপ্রধান আলী তারেক পারভেজ বলেন, ঋণগ্রহীতা মো. শাহ আলম মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিয়েও ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাদের। কিন্তু ঋণ পরিশোধে কোনো আগ্রহ দেখাননি তারা। বরং তাদের পক্ষ থেকে আদালতে বারবার পিটিশনের মাধ্যমে মামলায় সময়ক্ষেপণ হয়েছে। অথচ ঋণগ্রহীতার (শাহ আলম) গড়ে যাওয়া সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীরা দিব্যি ভোগ করছেন। ঋণ পরিশোধ না করলেও নগরীর অক্সিজেন এলাকায় শাহ আরজু ফ্লাওয়ার মিলটি ভালোই চলছে। চট্টগ্রাম শহরের চট্টেশ্বরী মোড়ে এ পরিবারের রয়েছে নিজস্ব বহুতল ভবন। অক্সিজেন মোড়ে নিজেদের কেনা জমিতে বহুতল ভবন তুলে পোশাক কারখানা হিসেবে ভাড়া দিয়েছে পরিবারটি। চট্টগ্রামের আরো বেশকিছু এলাকায়ও জমি রয়েছে তাদের। একই ব্যবসায়ীর মেসার্স আরমান ট্রেডিংয়ের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখারও প্রায় ২০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। শাহ আলমের মৃত্যুর পর সমঝোতার মাধ্যমে এ টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যাংকটি। তাতে ব্যর্থ হয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকও শাহ আলমের উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলমের ছেলে শাহ মো. ইমরান বণিক বার্তাকে বলেন, বাবা ব্যাংকের ঋণ রেখেই মারা যান। বড় অংকের ঋণ হওয়ায় তা পরিশোধে সময় লাগছে। কারণ আমরা এখন সাতজন ওয়ারিশ। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক এরই মধ্যে মামলাও করেছে। আইনি প্রক্রিয়ায়ও বিষয়টি সুরাহার সুযোগ রয়েছে। খাতুনগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেনের মৃত্যুর পরও একই সংকটে পড়েছে পাঁচটি ব্যাংক। ২০১৫ সালে মারা যাওয়ার পর এ ব্যবসায়ীর উত্তরাধিকারীদের কাছে আটকে গেছে ব্যাংকগুলোর প্রায় ২২৭ কোটি টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেন ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ন্যাশনাল ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ঋণ রয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইম ব্যাংক লালদীঘি শাখার ঋণের পরিমাণ ৪৫ কোটি, এবি ব্যাংক আন্দরকিল্লা শাখার ৩০ কোটি, পূবালী ব্যাংক চাক্তাই শাখার ২৪ কোটি ও ব্যাংক এশিয়া স্টেশন রোড শাখার ১৩ কোটি টাকা। সব ঋণই এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শাহাদত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ঋণের টাকা উদ্ধারে আমরা অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছি। মামলাটি এখন রায় ঘোষণার পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ঋণের বিপরীতে প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের বন্ধক রাখা ১১০ শতক জমি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করেছি। কিন্তু উপযুক্ত দরে কিনতে আগ্রহী কোনো ক্রেতা না মেলায় তা বিক্রি সম্ভব হয়নি। মামলার রায় হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঋণের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পূবালী ব্যাংক চাক্তাই শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, শাহ আমানত ফ্লাওয়ার মিলের কাছে তাদের পাওনা প্রায় ২৪ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন মারা যাওয়ার পর থেকে ঋণের ওপর সুদ আরোপ করা হচ্ছে না। তার পরও মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার মনোভাব খুবই কম। অথচ মোহাম্মদ হোসেনের গড়ে যাওয়া প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে, যা তার উত্তরাধিকারীরা ভোগ করছেন। মোহাম্মদ হোসেনের উত্তরাধিকারীদের একজন তার ছেলে মাঈনুদিন হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বাবা বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ব্যবসায়িক অংশীদার প্রতারণা করেন। পাওনাদার ব্যাংকগুলো টাকা উদ্ধারে মামলা করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যাংক পাওনা আদায় করবে। ব্যাংকঋণে গড়ে তোলা সম্পদ ভোগদখল করলেও ঋণের দায় নিতে চাইছেন না চট্টগ্রামের আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধার প্রয়াত আবুল কাশেমের উত্তরাধিকারীরাও। আবুল কাশেমের রেখে যাওয়া হাজার কোটি টাকার সম্পদ ভোগ করছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। অথচ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসছেন না তাদের কেউ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবা হাজি সফির হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় আসেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার আবুল কাশেম। একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দেন ‘আম্বিয়া গ্রুপ’। প্রথম দিকে শিপব্রেকিং খাতে ব্যবসা করলেও পরে ইস্পাত, গার্মেন্টস, কাগজ, আবাসন, শিপিং, কনজিউমার, জ্বালানি, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বিশেষ করে ইস্পাত ও গার্মেন্টস খাতে বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে গ্রুপটি। কিন্তু ২০১১ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর ব্যাংকের পাওনা আটকে যায়। জানা গেছে, আম্বিয়া গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যা খেলাপি হয়ে পড়েছে। গ্রুপটির কাছে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার। গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্টিলের কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। এছাড়া আবরার স্টিলের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার সাড়ে ৬৯ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া আগ্রাবাদ শাখার ১৬ কোটি, কিউএস স্টিলের কাছে এনসিসি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৩২ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৪ কোটি টাকা পাওনা আটকে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮-১০ সালের মধ্যে এসব ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধাররা। গ্রুপটির যে পরিমাণ ব্যবসা ছিল, সে হিসেবে এসব ঋণের অংক বেশি বড় নয়। কিন্তু পারিবারিক অন্যৈকের কারণে ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। এতে সুদ বেড়ে ব্যাংকের দেনা বেড়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক নায়ের আজম বণিক বার্তাকে বলেন, গ্রুপটির ইস্পাত খাতের ব্যবসায় ঋণ দেয়া হয়। শিপব্রেকিং-ইস্পাত খাতের ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণের টাকা আটকে যায়। এর মধ্যে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মারা গেলে ঋণ আদায় আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গ্রুপটির অন্য খাতে ভালো ব্যবসা থাকলেও ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। পাওনা আদায়ে এখন আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় আছি। ঋণ আদায়ে মামলা করেছে ব্যাংক এশিয়াও। ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আগ্রাবাদ শাখার প্রধান একেএম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ভালো ব্যবসা করেন চট্টগ্রামের আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধার আবুল কাশেম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর বাকি কর্ণধারদের অনৈক্যের কারণে গ্রুপের ব্যবসায় ধস নামে। এরপর ব্যাংকের দেনা পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছেন না। অথচ প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার মতো অন্য পাওনাদার ব্যাংকও আম্বিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে জানা গেছে।

সেবা প্রদানে নিয়ম মানছে না মোবাইল ফোন অপারেটররা

সেবা প্রদানে নিয়ম মানছে না মোবাইল ফোন অপারেটররা

(প্রিয়.কম) সেবাদানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেয়া নিয়ম মানছে না সেলফোন অপারেটররা। আর সেবার মান নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনও (বিটিআরসি) এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাগ্রহীতাদের, বাড়ছে বিভ্রান্তিও। বণিক বার্তা এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলছে, ট্যারিফ ও মার্কেটিং প্রমোশনের বিষয়ে ২০০৭ সালে বিটিআরসির জারি করা অন্তর্বর্তী নির্দেশনার ধারা-৪ অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক অপারেটরের নতুন প্রমোশনাল প্যাকেজের আওতায় সেবা নিতে চাইলে প্যাকেজ পরিবর্তনের জন্য তার কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়া যাবে না। নির্দেশনার ধারা-৫ অনুযায়ী, প্রিপেইড গ্রাহকের কাছ থেকে মাসিক নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে প্রমোশনাল কোনো প্যাকেজ চালু করতে পারবে না অপারেটররা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ রিচার্জের মাধ্যমে সহজে প্যাকেজ পরিবর্তনের সুবিধা চালু করেছে বেশ কয়েকটি অপারেটর। এতে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন অনেক গ্রাহক। রিচার্জের মাধ্যমে প্যাকেজ পরিবর্তনের আগে গ্রাহকের সম্মতি নেয়ার সুযোগ না রাখায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করার পর অনিচ্ছাকৃতভাবেই অনেকে ভিন্ন প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। বর্তমানে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ রিচার্জের মাধ্যমে প্যাকেজ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে বেশ কয়েকটি সেলফোন অপারেটর। এসব প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে— এয়ারটেলের বিজয় ১৬, সবাই এক, পাওয়ার রিচার্জ ১১৫ ও রবির মুহূর্ত ৩১, অনন্যা ২৭ ও নবান্ন ৩৭। এছাড়া রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি প্যাকেজ। রিচার্জের মাধ্যমে প্যাকেজ পরিবর্তনের এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানান রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘সাধারণত সেলফোনে ৫০ বা ১০০ টাকা রিচার্জ করি। তবে সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করতেই তার অজান্তে বিদ্যমান প্যাকেজ পরিবর্তন হয়ে যায়।’ এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার মুখপাত্র মহিউদ্দিন বাবর বলেন, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে রবি। সব প্যাকেজই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে চালু করা হয়েছে। গ্রাহকস্বার্থে গত বছর মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি নয়টি নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সেবার নিবন্ধন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তা বন্ধের বিষয়েও গ্রাহককে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এসএমএস ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহককে এ তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়। বণিক বার্তা বলছে, ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে অর্থ পরিশোধ করতে হয়, এমন ইন্টারনেট প্যাকেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার সীমা নির্দিষ্ট করে দিতে গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিল বিটিআরসি। গ্রাহকদের অপ্রত্যাশিত বিলের আশঙ্কামুক্ত রাখতেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহারভিত্তিক প্যাকেজে মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে গ্রামীণফোন। তবে অন্য অপারেটরদের এ ধরনের প্যাকেজে কোনো সীমা নির্ধারিত নেই। অপারেটরভেদে এ প্যাকেজের আওতায় থাকাকালীন গ্রাহককে প্রতি ১০ কিলোবাইটের জন্য এক-দেড় পয়সা করে দিতে হয়, যা অন্য যে কোনো প্যাকেজের তুলনায় উচ্চমূল্যের। ফলে ব্যবহারসীমা নির্ধারিত না থাকায় অনেক সময়ই অপ্রত্যাশিত বিলের মুখোমুখি হতে হয় গ্রাহকদের। একই ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডাটার পরিমাণ নির্ধারিত, এমন প্যাকেজের গ্রাহকদেরও। কারণ এসব প্যাকেজের নির্ধারিত পরিমাণ ডাটা শেষ হওয়ার পর ব্যবহার ভিত্তিতে বিল দিতে হয় তাদের। পত্রিকাটি খোঁজ নিয়ে জানিয়েছে, থ্রিজি ক্লিক প্যাক নামে ৪ মেগাবাইটের ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু রয়েছে গ্রামীণফোনের। প্যাকেজটির আওতায় নির্ধারিত ৪ এমবি ডাটা শেষ হলে পরবর্তী প্রতি ১০ কেবির জন্য ১ পয়সা হারে দিতে হয় গ্রাহকদের। তবে গ্রাহকরা বলছেন, স্মার্টফোনে প্যাকেজটি চালুর পর পরই নির্ধারিত ডাটা শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য প্রদান করতে হয় তাদের। এছাড়া প্যাকেজটি বন্ধ করার পরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবারো তা চালু হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। গ্রামীণফোনের মুখপাত্র জানান, নির্ধারিত ডাটা শেষ হওয়ার পর গ্রাহকদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য অর্থের বিষয়টিও জানানো হয় তাদের। ডাটাভিত্তিক প্যাকেজগুলোয় নির্ধারিত পরিমাণ ডাটা শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমা নির্ধারিত নেই বলে জানান তিনি। বিটিআরসি প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে দেশে ইন্টারনেটের গ্রাহক ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই সেলফোন অপারেটরদের ডাটাভিত্তিক সেবার গ্রাহক। ছয় সেলফোন অপারেটরের ইন্টারনেট সেবার গ্রাহক ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৬ হাজার। এছাড়া আইএসপি ও পিএসটিএনের ইন্টারনেট সেবায় ১২ লাখ ৩১ হাজার এবং ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের ২ লাখ ৭৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত নজরদারির অভাবে অপারেটরদের নানা সেবায় ভোগান্তিতে পড়ছে গ্রাহক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন প্রচারণায় বিভ্রান্তিতেও পড়ছেন গ্রাহক। সেবার বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে বিটিআরসির একক সেবাদান কেন্দ্রও নেই। অপারেটরদের এ ধরনের সেবার বিষয়ে বিটিআরসির সচিব ও পরিচালক (মিডিয়া, আইটি ও ইঅ্যান্ডআই) মো. সরওয়ার আলম বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে অপারেটরদের অনুমোদিত বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণ করে বিটিআরসি। তবে জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সেবা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। সেবা সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি। বণিক বার্তা কমিশন সূত্রে জানিয়েছে, অপারেটরদের সেবার মান নিশ্চিত করতে ২০০৭-১২ সাল পর্যন্ত সাতটি ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে জারি করা এসব নির্দেশনা গ্রাহক পর্যায়ে সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছে গ্রাহক। ইন্টারনেটের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আন্দোলনরত বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক জুলিয়াস চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী একটি সেবামূলক খাত হিসেবে চিহ্নিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা। প্রয়োজনেই এ সেবা গ্রহণ করবে মানুষ। থ্রিজিও মূলত ডাটাভিত্তিক একটি সেবা। তবে দেশে এটিকে ব্যবসায়িক করে ফেলা হয়েছে। দৈনিক বণিক বার্তার সৌজন্যে।

ভারত নয়, চীনই বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় বন্ধু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ভারত নয়, চীনই বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় বন্ধু

গোলাম মওলা | বাংলা ট্রিবিউন

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় বন্ধু চীন বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে চীন সহযোগিতা করতে যাচ্ছে, এর আশপাশেও নেই প্রতিবেশী ভারত। চীন এমন সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, যখন জঙ্গি ইস্যুসহ নানা অজুহাতে অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ ও চীনের সরকার ও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে চীন।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশে করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো চুক্তি করেছে। শুধু বেসরকারি খাতেই তারা বিনিয়োগ করবে ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ। এছাড়া সরকারি পর্যায়ে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার জন্য তারা চুক্তি করেছে।’ তিনি বলেন, ‘চীন প্রমাণ করে দিলো যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান।’

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘যে সব দেশ জঙ্গি ইস্যুসহ নানা অজুহাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত রয়েছে, তাদের চোখ খুলে দিলো চীন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য ভারতও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের বিশাল বিশাল কোম্পানি আমাদের দেশে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতের ক্যাপাসিটি চীনের মতো নয়। এ কারণে চীনের মতো ভারত এদেশে বিনিয়োগ করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, শুক্রবার চীনের ১৫টি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। চীনের ১৫টি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের ১৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৯টি চুক্তি হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চীন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও চুক্তি করেছে। এই সব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়বে। চীনের অন্য যেসব বিনিয়োগকারী দেশ এখনও আসেনি, সেসব দেশও এই দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। চীনের বাইরে ভারতসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীও আসবে। এর ফলে দেশে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে যদি চীন বিনিয়োগ করতে পারে, তাহলে অন্যরা কেন পারবে না? চীনের এই উদাহরণ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারী উৎসাহিত করবে। তবে এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো—এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের জন্য যে ধরনের অবকাঠামো দরকার, তা আমাদের নেই। এ কারণে দ্রুত অবকাঠামো প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেটি দ্রুত রেডি করা, অন্যান্য অঞ্চলেও অবকাঠামো প্রস্তুত রাখা।’ তিনি বলেন, ‘দেশের অবকাঠামো পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করা গেলে ভারতও এদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে।’ ভারতের জন্য আমাদের যে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে সে ‍দু’টিতে দ্রুত অবকাঠামো রেডি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ভারত অতি সম্প্রতি যে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে, সে সব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও দেশে বিনিয়োগ করতে শুরু করবেন।’

প্রসঙ্গত, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঢাকা এসেছিল চীনের ৮৬ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও চীন। এর মধ্যে ১২টি ঋণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং উভয় দেশের সরকারের মধ্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক।

এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা চুক্তি, যার আওতায় ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আট কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদানের জন্য অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি, দাশের কান্দি পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের জন্য ২৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি এবং ছয়টি জাহাজ সম্পর্কিত মোট চারটি ঋণচুক্তি। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ ও দাশেরকান্দিতে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণেও দুটি কাঠামো চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এর বাইরে চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগে সহযোগিতা, মেরিটাইম কো-অপারেশন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই, আইসিটিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও তথ্য আদান-প্রদান, জলবায়ু পরিবতর্নের ঝুঁকি মোকাবিলা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। চীন এই এলাকার অর্থনৈতিক বৃহৎ শক্তি। এছাড়া এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও চীন খুবই গুরুত্ব পূর্ণ।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে ভালো।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ণে চীন যে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে, তাতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। চীনের মতো ভারতও বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারে।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামজনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ নিবিড়। সেই সঙ্গে অবকাঠামোসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। চীন যে  বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিধর সেটা মানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‌‘চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত তাদেরকে গঠনমূলক কাজ করেতে দেখেছি। চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা চীন নিজেদের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার দুই দিনের সফর শেষে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন চীনের প্রেসিডেন্ট। তাকে বিদায় জানিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। আমাদের পক্ষে একা কোনও কিছুই করা সম্ভব না।’

চীনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে আশরাফ বলেন, ‘আমরা চীনের সঙ্গে গত পাঁচ-সাত বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। পশ্চিমা বিশ্ব বলে, তবে বাস্তবায়নে খুবই কম। কিন্তু, চীন বাস্তবায়নে খুব তৎপর। কোনও সময়েই ফাঁকি দেয় না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে সফল দাবি করে এই মন্ত্রী বলেন, ‘কত টাকা দিল? কত চাল দিল? কত ডাল দিল? এটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে পারেন। বিষয়টা হলো কানেকটিভিটি। চীন আমাদের সঙ্গে আছে। এটাই একটা পরিপূর্ণ বিষয়।’

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিল্প-সাহিত্য, নিরাপত্তা সব কিছু জড়িত। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা। এটা আমাদের অগ্রাধিকার।’

৩০ বছর পর চীনের কোনও প্রেসিডেন্টের সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা এক সিস্টেমে চলে। আমরা এক সিস্টেমে চলি। আমরাও তাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করি না। তারাও আমাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করে না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার সুফল দক্ষিণ এশিয়াও পাবে
এম হুমায়ুন কবির |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংচীন ভৌগোলিকভাবে আমাদের নিকট প্রতিবেশী। অর্থনৈতিকভাবে আরও নিকটতর এক দেশ। এর পরিপ্রেক্ষিত থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফর নানা কারণেই উল্লেখযোগ্য বলে চিহ্নিত হবে। কূটনীতির ভাষায় আমরা যাকে বলি পারস্পরিকতা, এই সফরের পটভূমিতে সেটি ছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে একবার এবং ২০১৪ সালে আরেকবার চীন সফর করেন। তারপর থেকেই আমরা আশা করে আসছি যাতে চীনের দিক থেকে উচ্চপর্যায়ের ফিরতি সফর হয়। সেই প্রত্যাশাই এই দফায় বাস্তবায়িত হলো। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবেই দেখতে হবে। চমৎকার একটা বিষয়ও আমরা দেখলাম। চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসার আগেই বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাঁর বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন গণমাধ্যম মারফত। এর মাধ্যমে তিনি চীনের জনকূটনীতি চমৎকারভাবে তুলে ধরলেন। এতে তিনি চীনের প্রত্যাশা ও আগ্রহের সারাংশ তুলে ধরেছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যাশার সাযুজ্যও আমরা দেখতে পেয়েছি। সি বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। আমাদের দিক থেকেও আমরা এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। দুই দেশের সম্পর্কের গতি, গভীরতা, ব্যাপ্তি—সবকিছুর ক্ষেত্রে উঁচু রাজনৈতিক পর্যায়ের আলাপ-আলোচনা সহায়ক। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবার দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সরকারি ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বও ছিলেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের সকল পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ মিলল, উঁচু পর্যায়ের আলাপ ও বোঝাপড়ার পরিসর তৈরি হলো। সুতরাং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে এই সফর যেকোনো বিচারেই খুবই সার্থক।

চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিজ সরকার ও দলের মধ্যে খুবই প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। চার বছর ধরে তিনি দুটি কাজ করেছেন, যা চীনের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে। চীনের আগের নেতৃত্বের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ছিল মোটা দাগে অন্তর্মুখী। সি চিন পিং একদিকে নিজেদের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে টেকসই করায় সক্রিয় আছেন। অন্যদিকে বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বলিষ্ঠ করায়ও নিরন্তর কাজ করছেন। গত বছর তিনি ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ নীতির কথা পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করলেন। এর মাধ্যমে চীন তার উন্নয়নের সঙ্গে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নের যোগসূত্র রচনা করতে চাইছে। ৭০টি দেশ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত। এ ছাড়া চীন ৪ হাজার কোটি ডলারের সিল্ক রোড তহবিল গঠন করেছে। এশীয় বিনিয়োগ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এটা সি চিন পিংয়ের বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক দর্শনেরই পরিচায়ক।

অর্থনীতির যে বলিষ্ঠতা তারা প্রদর্শন করেছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে চীন বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে বাণিজ্য শক্তিশালী করতে চায়। দেশের বাইরে বিনিয়োগ করতে চায়। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হয়তো তারা তাদের প্রভাবও বাড়াতে চায়। এ লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বলয় সৃষ্টি করা জরুরি। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণেও চীন আগ্রহী। বাংলাদেশও আগ্রহী। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত ও মিয়ানমারও ইতস্তত ভাব কাটিয়ে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করবে। এতে সবারই লাভ। কেননা, এটি কেবল এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নকেই বেগবান করবে না, নিরাপত্তা প্রশ্নেও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

আমরা ইতিমধ্যে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি, আমরা উন্নত দেশে পরিণত হতে চাইছি। আমাদের বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে আরও সংশ্লিষ্ট হওয়া দরকার। আমরা বাণিজ্য, প্রযুক্তি আমদানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন করতে চাই। আমাদের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো সমুদ্রসীমা। সামুদ্রিক অর্থনীতি তথা ব্লু ইকোনমিকে সজীব করার মধ্য দিয়ে সে লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারি। এর জন্য অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। চীন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। চীনের বিশাল বাজারে আমাদের জন্য সুযোগ রয়েছে। আমাদের বড় আকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, কাঠামো ও পরিকাঠামো, সমুদ্র, আঞ্চলিক সংযোগ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণসহ বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের এসব আকাঙ্ক্ষা যে চীন মনোযোগের সঙ্গে দেখতে আগ্রহী, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মাধ্যমে তা প্রদর্শিত হলো। যে ২৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, আশা করা যায় তার ভিত্তিতে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চীনা বিনিয়োগ আসবে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার করে আসার সম্ভাবনা। একে কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাকে ঢেলে সাজাতে হবে। অভ্যন্তরীণ সামর্থ্যের অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে আমাদের হতাশ হতে হয়। এসব ঘাটতি বিশ্লেষণ করলে আমরা বুঝতে পারব কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। সেটা মানবসম্পদে যেমন তেমনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দক্ষতায় আমাদের গভীরভাবে এগোতে হবে। বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতিতে চীনের সহযোগিতার সম্ভাবনা আছে। এসব লক্ষ্য যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ায় খুবই দক্ষ ও পেশাদারি কূটনীতি এবং জাতীয় ঐকমত্য দরকার হবে। চীনের প্রশ্নে ইতিমধ্যে যে ঐকমত্য আছে, তা আগামী দিনে জোরালো কূটনীতি পরিচালনায় পথ দেখাতে পারে। এই সফর তার জন্য উত্তম সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

আমাদের যা প্রয়োজন তা মেটানোর সামর্থ্য চীনের আছে। এটা উভয় দেশের অর্থনৈতিক সাযুজ্যের কারণেই। তবে বড় অঙ্গীকার পেলাম বলে খুশি হওয়ার কিছু নেই। অঙ্গীকার বাস্তবায়নে যা করণীয় তা করতে বিফল হলে বিনিয়োগ থমকে যেতে পারে। তাই সম্ভাবনাকে নিজেদের পক্ষে টেনে বাস্তবায়নে নিয়ে যাওয়া হলো বড় কাজ। সেখানে খানিকটা চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে। দেশীয় সামর্থ্যের কথা বলেছি। পাশাপাশি কী ধরনের শর্তে এই সহযোগিতা, তা দেখতে হবে। তার জন্য দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগের ধরন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কী শর্তে বিনিয়োগ নেব, তার নীতিগত কাঠামো আমাদের থাকা উচিত। সেই কাঠামোর ভেতরেই সহযোগিতা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই সে পথে এগোনো সম্ভব।

প্রশ্ন হলো ভূরাজনৈতিক সমীকরণের বেলায় চীনের এই উপস্থিতি কী প্রভাব ফেলতে পারে? এটি গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলেও চীনের জন্য এটা বড় ঘটনা নয়। চীন ইতিমধ্যে ভারতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ২০১৪ সালে সি চিন পিং যখন ভারত সফর করেছিলেন, তখন ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছিলেন। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বিনিয়োগের অঙ্গীকার ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের। শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও এমন। কাজেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। এতে অতি উচ্ছ্বসিত হওয়ার ব্যাপার নেই।

কেউ কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক কৌশলগত মৈত্রীর পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্টও অনুরূপ কথা বলেছেন। বাংলাদেশ বিষয়ে আগ্রহী আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর একে নেতিবাচকভাবে দেখা অযৌক্তিক। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নত হলে, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়লে, সেই সুবিধা ভারতও পাবে। ভারতের এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগ সুগম করায়ও ভূমিকা রাখবে এ দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন। এটা সবার জন্যই সমান সুযোগ বয়ে আনবে। চীনের সঙ্গে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত করায় উপযোগী বা অনুকূল হবে। ভারত-বাংলাদেশ-চীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাসবাদসহ ‘নন ট্র্যাডিশনাল থ্রেট’ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির পক্ষের বাতাবরণ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ-চীন জোরদার সম্পর্ক কারও জন্যই উদ্বেগের কারণ হতে পারে না। সি চিন পিং বলেছেন, চীন পরস্পরের সুবিধাজনক ক্ষেত্রগুলোতে একসঙ্গে কাজ করায় আগ্রহী। চীনারা সূক্ষ্ম কূটনীতির পথে চলে। মিয়ানমারের আকিয়াব থেকে গ্যাস পাইপলাইন চীনের ইউনানে নিয়ে যাওয়া নিয়ে জটিলতা হয়েছিল। ভারত যখন এ ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করল তখন চীন কিন্তু তাদের অংশীদার করে নিল। শ্রীলঙ্কায় চীনের বড় বিনিয়োগ নিয়েও ভারতের উদ্বেগ ছিল। সেই সূত্র ধরেই রাজাপক্ষে গত নির্বাচনে হেরে গেলেন। এখন চীন সেই প্রকল্পে ভারতকে জড়িত করে নিয়ে বিরোধিতার প্রশমন ঘটাল। চীনারা যে সূক্ষ্ম কূটনীতি করে, তাতে আমার মনে হয় না ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সংঘাতের দিকে যাবে। চীন বরং ভারতকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশে কাজ করতে চাইবে। এখানে বাংলাদেশের উচিত দক্ষ কূটনীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিবেচনা নিয়ে বহুপক্ষীয় ভারসাম্য বজায় রাখায় কাজ করা।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখছে, চীনের সঙ্গেও রাখছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও অনুরূপ কথা গতকাল বলেছেন। আগামী দিনেও এই বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও বাড়ার ইঙ্গিতই আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশ এভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতার সম্পর্কের যোগসূত্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

এম হুমায়ুন কবির: সাবেক রাষ্ট্রদূত। ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট। সূত্রঃ প্রথম আলো

চীন : পরাশক্তির বিবর্তন-৫০ : বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান

আনু মুহাম্মদ :: বার্ষিক জিডিপির সরল হিসাবে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, এর পরিমাণ প্রায় ১১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় এই হিসাবে প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার। আর যদি অর্থনীতির তুলনামূলক ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে এখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, এর আকার এই হিসেবে প্রায় ১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন ডলার। এগুলো সবই চীনা সরকার ও আইএমএফ-এর  হিসাব। (http://www.tradingeconomics.com/china/gdp) মোট আয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকলেও মাথাপিছু আয়ে চীন প্রায় ৮০টি দেশের পেছনে, পিপিপি-র হিসেবে ৭২টি দেশের পেছনে। সর্বোচ্চ জনসংখ্যা এর একটি কারণ। বিশ্ব বাণিজ্যে চীন এখন বৃহত্তম। এর পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাজার দখলের জন্য দুর্নীতি, নিম্নমানের পণ্য এবং দাম কমিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলার বদনাম চীনের প্রায় সবদেশেই। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে চীন এখন বৃহত্তম, ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশি বিনিয়োগ অন্ত:প্রবাহেও চীন বৃহত্তম, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশেও চীনের বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে, প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন বিদেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিনে ফেলার ঘটনাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে সেদেশের বৃহৎ তেল কোম্পানিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি এতোদিনে চীনের মালিকানায় চলে যেতো। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সিকিউরিটি এখন চীনের মালিকানায়। একইসঙ্গে সমমূল্যের ট্রেজারী বন্ডের মালিকও চীন। সেই হিসেবে চীনই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতা। অবশ্য গত এক দশকে চীনের নিজের ঋণের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। ২০০৭ সাল থেকে চারগুণ বেড়ে এখন তা ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা তার জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৬ সালের ২০ জুলাই ফরচুন পত্রিকা যে বৈশ্বিক বৃহত্তম ৫০০ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছিলো তার মধ্যে সবচাইতে বেশি সংখ্যক কোম্পানি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের, ১৩৪টি। এরপরই ছিলো চীনের অবস্থান ১০৩টি। বার্ষিক আয়ের দিক থেকে একেবারে শীর্ষস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে চীনা কোম্পানি। এগুলো হলো যথাক্রমে বিদ্যুৎ কোম্পানি স্টেট গ্রীড এবং তেল কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম ও সিনোপেক। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম দশটি ব্যাংকের তালিকায় প্রথম তিনটিই চীনের। এগুলো হল যথাক্রমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক এবং এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না। (http://www.forbes.com/sites/antoinegara/2016/05/25/the-worlds-largest-banks-in-2016-china-keeps-top-three-spots-but-jpmorgan-rises/#3e45a0666230) পুঁজিবাদী  বিশ্ব অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ইত্যাদিতে তাই চীনের অবস্থান ও প্রভাব দ্রুত নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যাচ্ছে। ২০০৮ এর বিশ্ব আর্থিক সংকটের পর থেকে চীনা মুদ্রা দ্রুত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিণত হচ্ছে। ২০১০ সালে রাশিয়া চীনের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে চীনা মুদ্রা ব্যবহার শুরু করে। এরপর জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাও একইপথ অনুসরণ করে।  ব্রিকস জোট, জোট থেকে বিশ্বব্যাংকের পর্যায়ের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চীনের বৈশ্বিক ভূমিকার পথ প্রশস্ত করছে। সম্প্রতি চীনের উদ্যোগে ও কর্তৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করবে এবং এশীয় অঞ্চলে বিনিয়োগে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি করবে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি গত কয়েক বছরে কমেছে। সরকারি হিসাবেই দেখা যাচ্ছে ২০১১ সাল পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় শতকরা ১০ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি হার বজায় ছিলো। ২০১২ থেকে এই হারে নিম্নমুখি প্রবণতা দেখা দেয়। ২০১৫ সালে এই হার দাঁড়ায় ৭.৪। এরপর এই হার আরও কমে এখন ৭ এর নীচে নেমে গেছে। এছাড়া বহু খাতে বিনিয়োগ আটকে গেছে, অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে।[i] গত তিন দশকে চীনের সমাজের অভ্যন্তরে পরিবর্তন হয়েছে ব্যাপক। কোটি কোটিপতিদের সংখ্যার দিক থেকে এখন চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। মধ্যবিত্তের আকারও বেড়েছে। তারফলে আভ্যন্তরীণ বাজারও বেড়েছে অনেক। প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ভোগ্যপণ্যের বাজার এখন চীন। বৈষম্যের বিভিন্ন দিক থেকে চীনের পরিস্থতির অবনতি হচ্ছে দ্রুত। চীনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে বিনিয়োগের বড় অংশ যাবার ফলে আঞ্চলিক বৈষম্যও প্রকট হচ্ছে। সরকারি হিসাবেই দেখা যাচ্ছে শহরে মাথাপিছু বার্ষিক আয় যেখানে বেড়েছে শতকরা ৮.৫ হারে, সেখানে গ্রামে তা বেড়েছে শতকরা ৪.২ হারে। আসলে ধনী ও গরীব বৈষম্য এখন ১৯৪৯ সালে বিপ্লবপূর্ব চীনের বৈষম্য থেকেও বেশি। বেকারত্বের হারও বেড়েছে। প্রায় ১২ কোটি মানুষ এখন গ্রাম থেকে উপকূলীয় এলাকায় কাজের সন্ধান করছেন। ১৯৯৮ থেকে ১০ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকেই ছাঁটাই হয়েছেন প্রায় ৪ কোটি মানুষ। শহরাঞ্চলে এখন বেকারত্বের হার শতকরা ১০ পার হয়েছে। বেকারত্ব আর বৈষম্য ছাড়াও চীনের উন্নয়ন ধারায় পরিবেশ দূষণ এখন বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। _________________________________________________________ [i] National Bureau of Statistics of China, February 29, 2016 সূত্রঃ আমাদের বুধবার অনলাইন

   www.ekush.info

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.