শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ:

শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ: image ০৭ মার্চ, ২০১৫ চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় খেলাপি হয়ে পড়েছেন দেশের অনেক  ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী। গত ডিসেম্বর শেষে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা ২০১৩ সালের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্থিরতা শুরু হলেও নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভালো ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা; যার ফলে ব্যাংকঋণও শোধ করতে পারেননি তারা। চলমান অস্থিরতার কারণে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বিশেষ সুবিধার আশায়ও অনেকে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হচ্ছেন।  জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প খাতে ৮০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছিল। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে সরকারি খাতের সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক বিতরণ করে ২ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আগের বছরের চেয়ে বাড়ে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের শেষ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। তবে বিশেষায়িত ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। একইভাবে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণও ১৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা; আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। গত বছরের শেষ ছয় মাসে শিল্প খাতে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এ সময় খেলাপি ঋণও ৪ হাজার ৭৪ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। বিদেশী ব্যাংকগুলো ২০১৪ সালের শেষ ছয় মাসে বিতরণ করে ১৪ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একইভাবে খেলাপি ঋণও ৪১২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা

১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান
১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে
১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে
এখন থেকে ব্যাংকের মতো ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ১০ লাখ টাকার বেশি নগদ লেনদেন হলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (এফআইইউ) জানাতে হবে। কোন লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে তাও অবহিত করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য তাত্ক্ষণিকভাবে পাঠাতে হলেও নগদ লেনদেন প্রতিবেদন পাঠাতে হবে পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নগদ লেনদেন রিপোর্টিং পদ্ধতি চালু করা হলো। আগামী ১ জুন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোন হিসাবে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে জমা বা উত্তোলনের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) হিসাবে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে পাঠাতে হবে। তবে সরকারি হিসাব, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের হিসাবে নগদ জমার ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেয়া লাগবে না। যদিও এধরনের হিসাব থেকে নগদ উত্তোলন হলে তা জানাতে হবে। আর কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এধরনের কোন লেনদেন না থাকলে তাও অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ লেনদেন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কোন সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হলে তা ‘সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট’ (এসটিআর) হিসাবে পাঠাতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত না হলে সেটিও জানাতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উভয় ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের এ ধরনের রিপোর্ট সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রযোজকরা: টিভি চ্যানেলের কাছে ১০০ কোটি টাকা আটকা

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রযোজকরা

বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে প্রযোজকদের ১০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া জমেছে বলে দাবি করেছে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বকেয়া আদায়ের দাবিতে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রযোজকদের সংগঠন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)। এখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ইরেশ যাকেরসহ পাওনাদার প্রযোজকরা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই চ্যানেলগুলোকে প্রযোজকদের বকেয়া পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এর আগেও চ্যানেলের কাছে বহু টাকা আটকা পড়েছিল। আমরা সেই টাকা অনেক কষ্ট করে আদায় করেছি। এবারও প্রযোজকদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো আটকে আছে। অনেক চেষ্টা করেও সেই টাকা আমরা উদ্ধার করতে পারছি না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চাইছি। তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। তিনি যেনো বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। তাহলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।’ চ্যানেলগুলোতে গেল কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক, খণ্ড নাটক এবং টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছে। কিন্তু সেই সবের জন্য বেশিরভাগ টাকা পাননি সংশ্লিষ্ট প্রযোজকরা। অনেক নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে নানারকম তিক্ত ঘটনারও জন্ম দিয়েছে বেশ কিছু টিভি চ্যানেল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি ও মিটিং করেও কোনো সুরাহা পাননি অনেক প্রযোজক। অনেকেই বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ধারাবাহিক নাটক ও অনুষ্ঠানের প্রচার। আবার কিছু কিছু ধারাবাহিকের পুনঃপ্রচারও চলছে। অথচ সেই নাটকে লগ্নিকৃত টাকাই পরিশোধ করেনি টিভি চ্যানেল।

নয় মাসে বিদেশে চাকরি পেয়েছেন ৫১০৭১ নারী

20131222-085557.jpg

নয় মাসে বিদেশে চাকরি পেয়েছেন ৫১০৭১ নারী ঢাকা: চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৭১ জন নারী বিদেশে নানা কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ পেয়েছেন। যা মহাজোট সরকারের আমলে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে থেকে ২০১৩ সাল অবধি দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশি কর্মক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে নিয়োগ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৮৪ জন নারী। যেখানে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সংখ্যাটি ছিল ২৯ হাজার ৫৭ জন। সরকারি হিসাবে, শুধু ২০১২ সালেই বিদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা ৩৭ হাজার। দেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা দক্ষতা অর্জন করেন। ২০১৩-এর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সরকারিভাবে প্রবাসে নিয়োজিত হয়েছেন মোট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৭ জন দক্ষ কর্মী। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার যোগানের সঙ্গে তারা যুক্ত করেছেন ১ হাজার ১৫৬ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। বর্তমানে বিদেশগামী কর্মীদের দুই মাসের বাধ্যতামূলক পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে হয় যেখানে যে দেশে তারা কাজ করতে যাবেন, তার ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক আচার ব্যবহার শেখানো হয়ে থাকে। এদিকে বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান জানান, নারী কর্মীদের জীবনবীমার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, একই সাথে পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্যে তাদের মোবাইল নেটওয়ার্কর আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকার বৃহৎ পরিসরে বেকারত্ব নিরসনের কথা ভাবছে। বিপুল পরিমাণ বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ কর্মীতে রূপান্তরিত দেশে ও বিদেশে নিয়োজিত করার জন্য কর্মমুখী শিক্ষা প্রকল্প ব্যাপকতর হবে। এরই মাঝে নতুন ৩৫টি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাফর আহমেদ খান যেখানে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ হাজার দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে। সূত্র: বাসস বাংলামেইল২৪

ব্র্যাক জরিপ: বিদেশফেরত ৮৭% ব্যক্তির আয়ের উৎস নেই

‘ফেরত আসা ৮৭% এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২% বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান’
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির সময়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭% এর এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩%। আর ৫২% বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির “বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব” শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে শুক্রবার (২২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ প্রবাসী কর্মীর সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬% ফিরেছেন মার্চে।

জরিপর অংশগ্রহণকারীদের ৪৫% এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। ব্র্যাকের ২০ কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০% বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫% বলছেন, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮% বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭% বলেছেন, তাদের ফেরার সাথে করোনাভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪% বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ১৪% বলেছন, তারা কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানতে পারেননি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪% জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন। ২৯% অভিবাসী বলেছেন, তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭% বলেছেন, এ ক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪% জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯% জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরও এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩%। ১০% জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ১৪% প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের ৮৪% এখনও জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬% জানিয়েছে, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকিরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। বিদেশফেরত এ অভিবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পেয়ছেন কি না জানতে চাইলে ৯১% বলেছেন, তারা এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোনো জায়গা থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বাকি ৯% সরকারি বা বেসরকারি কোনো না কোনো জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন। এ বিষয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সংকট এবং করোনাভাইরাস তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এ জরিপ। ফেরত আসা ৮৭% এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২% বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান।” “আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছেন। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এ প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন,” যোগ করেন তিনি। শরিফুল হাসান আরও বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছেন তারা। কজেই এ সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন এবং যারা ফিরে আসছেন।” সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এগুলো হলো, ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সহজ শর্তে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা, গন্তব্য দেশের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া।

৫০ শতাংশ মানুষের মতে কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল: সিপিডির জরিপ

সিপিডির গবেষণা : আয়কর দেন না ৬৮% সামর্থ্যবান ব্যক্তি

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করে, এনবিআরের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। বৃহস্পতিবার(৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির সংলাপে এই তথ্য জানানো হয়। সংলাপে সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, ‘কর ব্যবস্থা নিয়ে এক হাজার দুইশ’ মানুষের মধ্যে জরিপ চালিয়েছে সিপিডি। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এনবিআরের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। আর ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, এনবিআরের কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে। সিপিডির জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ আয়ের ২৫ শতাংশ মানুষের এক তৃতীয়াংশ গত বছর আয়কর দেয়নি। যারা দিয়েছেন, তারাও পুরোপুরি দেননি। কর ফাঁকি দিয়েছেন। ’ দেশের কর ব্যবস্থায় অনুবর্তী অংশগ্রহণের মূল নির্ণায়কগুলো যাচাইয়ের জন্য সিপিডি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের ২১টি জেলায় কর প্রদানে সমর্থ ১২০০ ব্যক্তির ভেতরে একটি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বমূলক ধারণা জরীপ চালিয়েছে। জরীপে অংশগ্রহণকারী ৮৫% অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি মনে করেন সরকারি সেবার সরবরাহ এবং তার গুণগত মান বৃদ্ধি পেলে জনগন কর প্রদানে উৎসাহী হবেন। ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন কর ব্যবস্থায় ধনী-গরিবের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়। ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এনবিআরের সেবা ও তার গুণগতমান বাড়ালে জনগণ কর দিতে উৎসাহিত হবে। সিপিডির সুপারিশে বলা হয়, কর অফিসকে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ধনী অথচ কর ফাঁকি দেন এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সমতাভিক্তিক কর ব্যবস্থা বিকশিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায্য এবং আধুনিক সম্পত্তি ও সম্পদ কর চালু করতে হবে। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কর আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছে এনবিআর। এর অংশ হিসাবে ঢাকার ফ্ল্যাট বাসায় খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে এখন ই-টিনের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। কিন্তু তার মধ্যে ২০ লাখ রিটার্ন দিচ্ছে না। অন্যতম কারণ কর নিয়ে এক ধরনের ভয় আছে। তাই করদাতাবান্ধব এনবিআর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’ সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে সুশাসন জরুরি। সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন নেই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।’ তিনি বলেন, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে করছাড় দেওয়া হয়। এছাড়া কেউ অপরাধ করেও শাস্তি পায় না। বাংলাদেশে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আবাসিক প্রতিনিধি রাগনার গুডমান্ডসন বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বাংলাদেশে কর আদায় একেবারে কম। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৯ শতাংশ কর আদায় হয়। দক্ষিণ এশিয়াতে এটি সর্বনিম্ন। প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। বাড়ছে মানুষের আয়। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়ছে না আয়কর প্রদানের হার। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপ বলছে, দেশে মাত্র ৩২ শতাংশ সামর্থ্যবান ব্যক্তি আয়কর দেন। সে হিসাবে সামর্থ্যবানদের ৬৮ শতাংশই কর দেন না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ক্যাটালাইজিং ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স ফর বাংলাদেশ: মবিলাইজেশন অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করে সিপিডি। অনুষ্ঠানে দুটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ‘পটেনশিয়াল অব ইনকাম ট্যাক্স ইন বাংলাদেশ: অ্যান এক্সামিনেশন অব সার্ভে ডাটা’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। ২০১৮ সালের ধারণা জরিপের ফল উপস্থাপন করে বলা হয়, জরিপের তথ্য অনুযায়ী কেবল ৩২ শতাংশ সামর্থ্যবান ব্যক্তি আয়কর প্রদান করেছেন, বাকিরা করেননি। এমনকি সবচেয়ে উচ্চ আয়ের ২৫ শতাংশ ব্যক্তির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই আগের বছর আয়কর দেননি, তার মানে এই নয় যে, যারা কর প্রদান করেছেন তারা কোনোরূপ কর ফাঁকি দেননি। সিপিডির এ জরিপে কর ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৫ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, কর ব্যবস্থা ধনীদের পক্ষপাতদুষ্ট। আর ৫০ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। গত বছর কর দিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ৫৪ শতাংশই এ ধারণা পোষণ করেন। এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৫ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, সরকারি সেবার সরবরাহ ও তার গুণগত মান বৃদ্ধি পেলে জনগণ কর প্রদানে উৎসাহী হবে। কর দিচ্ছেন এমন ৬৫ শতাংশের মত হলো, কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি বিদ্যমান। অপেক্ষাকৃত ধনীদের ৬৯ শতাংশের মনে এমন ধারণা কাজ করছে। এ অবস্থায় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বেশকিছু সুপারিশ করেছে সিপিডি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, তুলনামূলক নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা সহজতর করা, কর অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করা ও কর ফাঁকি দেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। এছাড়া স্কুল পর্যায় থেকেই কর ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার সুপারিশও করেছে সিপিডি। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এনবিআর চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন ভূঁইয়া। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, আইএমএফের বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রতিনিধি রেগন্যার গুডমুন্ডসন ও এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, করদাতারা এখনো কর প্রদানের ক্ষেত্রে ভয় পান। তাদের এ ভয় দূরীকরণে কর কর্মকর্তাদের জনকল্যাণমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেটি বাস্তবায়নও করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৫ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন। কিন্তু কর দিচ্ছেন ২০ লাখের কম। এ অবস্থায় করজাল বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। জনবলসহ নানা ক্ষেত্রে আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে সেটি কাটিয়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অগ্রিম আয়করের মাধ্যমে করজাল বাড়ানো হচ্ছে। আমদানি করছেন এমন ব্যবসায়ী কিংবা ব্যাংকে যাদের সঞ্চয়পত্র আছে, তারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না। কিন্তু অগ্রিম করের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে। আবার বাড়ির মালিকরা রিটার্ন দাখিল করছেন কিনা তা তদারকিতে ছয় মাসের মধ্যে তথ্যভাণ্ডার করা হবে। আমাদের কাস্টমস ও আয়কর বিভাগে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সেটি বৃদ্ধি পেলে কার্যক্রমে আরো গতি আসবে। সামনের দিনে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১০ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত হবে। বৈদেশিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্প করলে অনেক বেশি সুশাসন ও গুণগত মান রক্ষা করা যায়। তবে আমরা এখন নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতাকে ব্যবহার করছি। অনুষ্ঠানে ‘ক্যান বাংলাদেশ ডু উইদাউট ফরেন এইড?’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। উপস্থাপনায় তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ আকারে বৃদ্ধি পেলেও তা জিডিপির অনুপাতে কমেছে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক সহায়তার খুব বেশি প্রভাব নেই। মাইক্রো লেভেলে শুধু স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এর প্রভাব রয়েছে। তবে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক সহায়তার খুব বেশি প্রভাব নেই— এ তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে যেতে, এসডিজি বাস্তবায়ন করতে এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক সাহায্য দরকার রয়েছে। তবে এটি সতর্কতার সঙ্গে দক্ষভাবে ব্যবহার জরুরি। সমাজে এখনো নানা ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। আয়-বৈষম্যের তুলনায় সম্পদ-বৈষম্য এখন বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আয়করের পাশাপাশি সম্পদ করের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। দেশের কর ব্যবস্থাপনা ধনীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট কিনা সেটি দেখতে হবে। আর কর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন আনার ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে সুশাসনে ঘাটতি রেখে কর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন আনা সম্ভব নয়। এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জিডিপি অনুপাতে দেশে রাজস্ব সংগ্রহ ও কর আহরণ কোনো ক্ষেত্রেই তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। নেপালের মানুষের জনপ্রতি আয় আমাদের চেয়ে অর্ধেক হলেও তারা আমাদের চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব প্রদান করে। দেশে এখন শ্রম ও মূলধনবিহীন প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। আর বাংলাদেশ এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছে যায়নি যে, এখনই বলতে হবে বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজন নেই। কেননা এখনো আমাদের দেশে রাজস্ব জিডিপি অনুপাত অনেক কম। তবে বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর প্রকল্প আমাদের দেশে কতটুকু প্রভাব ফেলছে সেটি গবেষণার দাবি রাখে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ঢালাওভাবে ট্যাক্স হলিডে দেয়া হচ্ছে। এর প্রভাবও দেখতে হবে। এটিতে পরিবর্তন আনা দরকার। একেবারে মুক্ত না করে প্রথম বছর অব্যাহতি দিয়ে পরবর্তী বছরগুলোয় তা ধারাবাহিকভাবে আরোপ করা যেতে পারে। [সূত্রঃ বণিক বার্তা]

বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সমন্বয় হচ্ছে না দেশে

বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সমন্বয় হচ্ছে না দেশে

মহিউদ্দিন নিলয় | ২০১৪-০৯-২১ ইং
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সমন্বয় হচ্ছে না দেশে
সর্বশেষ গত বছরের জানুয়ারিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় পর্যায়েও দাম সমন্বয় করা হবে। এর পর দেড় বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে চলতি বছর জুনের পর কমতে শুরু করে জ্বালানির দাম। এরই মধ্যে তা জুনের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর কোনো উদ্যোগও নেই সরকারের। জানা যায়, গত জুনে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ১০৫ মার্কিন ডলার। গতকাল পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬ ডলার। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নিয়মিত দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। শুধু তা-ই নয়, এখানে নির্বাহী আদেশে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে দাম ঘোষণা করা হয়। যদিও এ দাম নির্ধারণের কথা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. ইউনূসুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে সামগ্রিক লোকসান কমেছে। বিশ্ববাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলে চলতি বছর এ লোকসান আরো কমবে। তবে ডিজেলের লোকসান কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আপাতত দাম কমানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে ডিজেলের ওপর উচ্চ শুল্কহারের কারণেই জ্বালানি তেলে লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। আবার দেশের আমদানি করা জ্বালানির ৬৫ শতাংশ ডিজেল হওয়ার কারণে বড় দেখাচ্ছে বিপিসির লোকসান। যদিও সরকারি কোষাগারে লোকসানের সমপরিমাণ অর্থ শুল্ক হিসেবে জমা হচ্ছে। সূত্র জানায়, অন্যান্য ব্যয়সহ বর্তমানে বিশ্ববাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে বিপিসির মোট ব্যয় হয় ৬৬ টাকা। দেশের বাজারে এটি বিক্রি হয় ৬৮ টাকায়। কিন্তু প্রতি লিটারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৭-৮ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। আর তাতেই ডিজেলে লোকসানে পড়ে বিপিসি। অন্যদিকে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল কিনতে বিপিসির ব্যয় হয় ৫০ টাকা। তা বিক্রি থেকে আয় হয় ৬০ টাকা। এ হিসাবে আমদানি করা ফার্নেস থেকে গত অর্থবছর ২০০ কোটি টাকা মুনাফা করে বিপিসি। বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস বিক্রি করে ২ টাকা মুনাফা করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েল বিক্রি করে অনেক আগে থেকেই মুনাফা করছে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠান। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল। বছরে আমদানি করা ৫৭ লাখ টন জ্বালানি তেলের মধ্যে ৩৩ লাখ টনই ডিজেল। ডিজেলের পর সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় ফার্নেস অয়েল। এর পরিমাণ ১০-১২ লাখ টন। জানা গেছে, তেলের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন তেল সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে অগ্রিম চুক্তি করলেও তাতে দাম নির্ধারণ করা হয় না, শুধু প্রিমিয়াম (উত্স থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়, ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি) ঠিক করা হয়। আমদানিকরা তেলের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, তেল জাহাজে তোলার সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও প্রিমিয়াম মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে জাহাজীকরণের আগের দুইদিন ও পরের দুইদিনসহ মোট পাঁচদিনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের গড়ের সঙ্গে প্রিমিয়াম যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়। সরকারের ক্রয় কমিটির অনুমোদনসাপেক্ষে বর্তমানে মালয়েশিয়া, মিসর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত দামেই এসব দেশে তেল বিক্রি করা হয়। প্রসঙ্গত, কেরোসিন ৬৮, পেট্রল ৯৬ ও অকটেন ৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও মূলত লোকসানের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে না। যদিও সরকারকে ট্যারিফ দিতে গিয়েই এ লোকসানের শিকার হচ্ছে বিপিসি। গত অর্থবছর বিপিসির ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। একই সময়ে সরকারকে ৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে বিপিসি। এ হিসাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচায় প্রকৃতপক্ষে ২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু রাজস্ব পরিশোধের চাপ থাকায় তেলের দাম কমাতে পারছে না তারা। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বাজেটে জ্বালানি তেল আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য বাড়ানো হয়েছে। যদিও বেসরকারি খাতের একাধিক কোম্পানি বর্তমানে ভ্যাটমুক্ত সুবিধায় তেল আমদানি করছে। ট্যারিফ-ভ্যাট মওকুফ হলে বিপিসিও দাম কমাতে পারবে। কিন্তু ভ্যাট মওকুফ করার পরিবর্তে বিপিসি থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর ফলে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আহরণ ১ হাজার কোটি টাকা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, ফার্নেসের দাম লিটারে ২ টাকা কমালে ফার্নেসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমবে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৫০ পয়সা। তাতে পিডিবি বছরে ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে। সব মিলে বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবির নিজস্ব ক্ষমতা ৭৯১ মেগাওয়াট, আইপিপির ২৯৭ মেগাওয়াট এবং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর এ ক্ষমতা ৯১৭ মেগাওয়াট। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক মাহবুব সারোয়ার-ই-কায়নাত বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ফার্নেস অয়েলের দাম কমাতে পারে সরকার। ফার্নেসের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় ৫০ পয়সা কমালে গড় উৎপাদন ব্যয় কমবে ১৫ পয়সা। এটি পিডিবির জন্য অনেক সাশ্রয়ী হবে। সূত্রঃ বনিক বার্তা

শ্রম আইন বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন বার্নিকাট

image তৈরি পোশাকশিল্প মালিক, শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সকলে মিলে শ্রম আইন বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। বিজিএমইএ-এর কার্যালয়ে সংগঠনটির নেতাদের সাথে তৈরি পোশাকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক বৈঠকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বার্নিকাট এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক পরিবর্তনে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। রান প্লাজার পর বাংলাদেশ শিখেছে কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নে বিশ্ববাসীর সাথে কাজ করা শুরু করেছে। এজন্য বাংলাদেশ ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সে উদ্যোগের পাশে থাকবে। এখাতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে বার্নিকাট সাড়ে তিন মিনিটের বক্তব্যে আরো বলেন, বাংলাদেশের পোশাকখাত অপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠছে। এখাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে অগ্রগতি বাড়াতে হবে এবং কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর আগে বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস খাতের অগ্রগতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জই তৈরি পোশাকশিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও বাংলাদেশে পোশাকখাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পোশাকখাতের উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব জরুরি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রানা প্লাজার পরে আমরা অনেক কাজ করেছি। এ্যাকড ও এলায়েন্স ৩ হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৩২৫টি পরিদর্শন করে মাত্র ২৯টি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মতামত দিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এসব কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বৃদ্ধি করেছি। ২০০৬ সালে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা। সেখানে ২০১৩ সালে তা বৃদ্ধি করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া রানা প্লাজার পর এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৬৭৮ জন শ্রমিককে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং ২০ হাজার ১৮৮ জন মধ্যমসারির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আতিকুল ইসলাম বলেন, এসময় অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএ এর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। (দ্য রিপোর্ট/মার্চ ০৫, ২০১৫)

রেমিট্যান্স কমেছে ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার

রেমিট্যান্স কমেছে ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে রেমিট্যান্স কমেছে ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ১০৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া বছরজুড়ে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩শ’ ৭১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। ২০১২ সালে বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৪২০ কোটি ডলার। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ৪৮ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এদিকে, সদ্যসমাপ্ত বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দর বেড়েছে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষে আন্তব্যাংকে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার গড় দর দাঁড়ায় ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। ২০১২ সালের শেষ দিনে এই দর ছিল ৭৯ টাকা ৯৩ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার না কিনলে টাকা আরো শক্তিশালী হতো। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দরপতন ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে।

রিজার্ভ ফের ২৫ বিলিয়ন ডলার

রিজার্ভ ফের ২৫ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় ফের ২৫ বিলিয়ন (দুই হাজার ৫০০ কোটি) ডলার অতিক্রম করেছে। ঈদ সামনে রেখে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভ পুনরায় এ রেকর্ডে পৌঁছায়। এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কমে যায়।
রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের ওপর ভর করে গত ২৫ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার পেরিয়েছিল। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর বিল পরিশোধের পর তা কমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, “ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি টাকা দেশে পাঠানোয় গত কয়েক দিনে রিজার্ভ বেড়ে ফের ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।” মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারে। এই অর্থ দিয়ে সাত মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলেও জানান ছাইদুর রহমান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে প্রতি দুই মাস পরপর আকুর বিল পরিশোধ করতে হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৫৩১ কোটি (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
 

বেশির ভাগ উদ্যোক্তা যে একটা বিরাট কারণে এখন ব্যর্থ হচ্ছেন!

বেশির ভাগ উদ্যোক্তা যে একটা বিরাট কারণে এখন ব্যর্থ হচ্ছেন!

wall

মূল: আলি মেসে

অনুবাদ: ফারুক আব্দুল্লাহ আলি মেসে দুইবছর আগে আজকের দিনে, আমার ঘুম ভাঙছিল ভোর পাঁচটায়, আমি তখন এই প্রজন্মের “নিউ স্লিপিং প্রব্লেম” এ ভূগতেছিলাম। অতিরিক্ত নীল আলো চোখে পড়লে, ঘুমের এইরকম সমস্যা হয়। বিশেষ করে, ঘুমায় পড়ার আগে অনেকক্ষণ সেলফোনের দিকে তাকায় থাকলে, অল্প কয় ঘণ্টা পরই আপনি জাইগা যাবেন। আমি ভাবছিলাম আর ঘুমানোর চেষ্টা করাটা বৃথা, তাই উঠে বরং কাজ শুরু করি। আমার ইমেইল চেক করার পর, টুইটারে গেলাম। ওখানের একটা টুইটের সূত্র ধরে রেইলসে রুবির ব্যবহার নিয়া টেকনোক্রাঞ্চের একটা আর্টিকেল পড়লাম। সেই আর্টিকেল আমাকে কোডেকাডেমিতে নিল। যেইখানে আসলেই কোড কেমন করে করতে হয় তা শেখা যায়। এর মাঝে এক বন্ধু ফোন দিয়া আমার মনোযোগের বিঘ্ন ঘটাইল। ফোনে থাকতে থাকতেই আমার মনে হইল আজকে আমার আর এক বন্ধুর জন্মদিন। সেই কারণে তারে শুভেচ্ছা বলতে ফেসবুকে লগইন করলাম। আমার নিউজফিডের টপ পোস্টটা ছিল একটা নতুন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের উপর। আমি দেখতে গেলাম আসলে কী ব্যাপার, সাউন্ডক্লাউডের উপর লেখাটা পইড়া আমি চমকায় গেলাম বেশ, আইডিয়াটা আমারে টানতেছিল, তাই আরো দুইঘণ্টা ওইটার পিছনে দিলাম। আন্দাজ করেন তো এর পরে কী? আমি নতুন একটা আইডিয়া বাইর করলাম, যেইটা সাউন্ডক্লাউডের থেকেও ভাল! একটু পরেই আমি আইডিয়ার অভিনবত্বে ঘুরতে ঘুরতে কাহিল হয়ে গেলাম। এখনো শেষ না, আর একটা টুইট দেখলাম, এইটা আবার কীভাবে কতটা স্টেপে… শিখবেন। সেই টুইট বুঝতে গিয়ে আমি ইঙ্ক ডটকমে গেলাম, সেখানে আর এক ঘণ্টা। ঠিক আছে, বাদ দেন! আমি তখন একজন উদ্যোক্তা ছিলাম। তখন মধ্যরাত, দুইটা বাজে, আমি এইরকম আর একটা সারাদিন নষ্ট করলাম, এই ওয়েবসাইট থেকে সেই ওয়েবসাইটে ছোটাছুটি ছাড়া আর কিছুই করা হয় নাই। আমার মাথা ব্যথা করতেছিল, চাপ লাগতেছিল, কপাল টন টন করতেছিল। আমি বিছানায় শুয়ে ফেসবুকে ঢুকলাম। অ! আমি আসলে আমার বন্ধুর জন্মদিনের উইশটাও করি নাই আর। enterp56দুই বছর আগের ওই দিনে, আমি আমার কাজ করার ধরন পাল্টায় ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়া নিলাম, কারণ আমি দেখছিলাম, এই রকম মনোযোগ হারায় ফেলে আমি কিছু করতে পারতেছিলাম না, যেটা খুবই বিরক্তবোধ করাইতেছিল। ওই সময় আমি কোন স্থির লক্ষ্য না থেকে, এক আইডিয়া থেকে আরেক আইডিয়ায় ছুটছিলাম, কিন্তু কিছুই দাঁড় করাতে পারতেছিলাম না। আর একটা জিনিস, সেটা হইল, আমি তখনও কিন্তু নিজেকে উদ্যোক্তাই ভাবতে চাইছিলাম। ফোকাস হারানোই হইল এই প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের নয়া ব্যাধি। চারপাশে মেলা কোলাহল, প্রচুর তথ্যের ভার। এইসবরে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আপনি ব্যর্থ হইতে বাধ্য। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু অজুহাত থাকে, যেমন আমারগুলা ছিল এমন “যেহেতু আমি একজন উদ্যোক্তা আমার অনুপ্রেরণার দরকার আছে। সফল উদ্যোক্তা হইতে হইলে আমারে অবশ্যই নতুন জিনিসগুলার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। আর আমি জানতে আগ্রহী।” ঠিক আছে! আমরা উদ্যোক্তরা স্বভাববতই কৌতূহলী। কিন্তু বেশি কৌতূহল ভাল না। সব কিছুরে বেশি জটিলভাবে দেখতে গেলে লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য থেকে সইরা যাইতে থাকবেন। যার কারণে আর কিছুই করা হয় না। আমি আমার জীবন বদলায় ফেলতে যেটা করছিলাম: ১) আশেপাশের পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রণ ধইরা রাখা আমার পরিচিত গণ্ডির ভেতরে এন্টারপ্রেনারদেরই সব থেকে স্মার্ট মনে হইছে। মানে তাদের ধরনটাই এমন সেইরকম না ব্যাপারটা, বরং আমার মনে হয় তারা যেই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়া যায় তাতে প্রচুর মাথা খাটাইতে হয়। তাদের আশেপাশের কর্পোরেট অংশের কর্মীদের থেকে তা অনেক বেশিই। সাধারনত কর্পোরেট একজন কর্মীর বেলায় ঘড়ির কাঁটায় দিন শুরু করতে হয় আর যখন তারা ঘরে ফেরে তখনই তাদের দিনটা শেষ হয়। এটা আবার উদ্যোক্তাদের বেলায় না। এই সুবিধাটাকে কীভাবে কাজে লাগায়ে নিয়ন্ত্রণ আনবেন সেটা একটা বিষয়। আমি যা করছিলাম তার বিবরণ দিলাম, দেইখা সোজা লাগলেও, কীভাবে করবেন সেইটা কিন্তু একটা বড় চ্যালেঞ্জ। tea2 copy
  • সকালে কফি খাইতে খাইতে কাগজে ‌ওই দিনের জন্য আপনার কী কী কাজ সেইগুলার এক লিস্ট একটুকরা কাগজে লেখেন, ছোট একটা কাগজেই কিন্তু। বেশি চাপ নিবেন না। যে কয়টা কাজ করতে পারবেন, মানে যেই টার্গেট শেষ করতে পারবেন ততটুক টার্গেট করেন। আর ব্রেকফাস্ট শেষ না কইরা পিসি চালু কইরেন না যেন।
  • সকালের প্রথম দুই ঘণ্টা ইমেইল চেক, টুইটার, ফেসবুকিং ইত্যাদি থিকা দূরে থাকেন। দেইখেন এটা সারা দিনে আপনার কাজের গতিতে কেমন চেনজ আনে। ফেসবুক টুইটার দিয়া নিয়ন্ত্রিত না হইয়া নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখেন।
  • একদম পুরাপুরি অফলাইনে থাকেন। অ্যান্টি-সোশ্যাল কিংবা কোল্ডটার্কি সফটওয়্যারের মত কিছু টুলসের সাহায্য নিতে পারেন চাইলে। বিশেষ কইরা ফেসবুক বা যে সাইটগুলা আপনার মনোসংযোগে বিঘ্ন ঘটায়, সেগুলা থেকে দূরে থাকেন। আমি নিজে ‘কোল্ড টার্কি’ ইউজ করি। এইটা ফ্রি। হয়ত কয়েক ঘণ্টা আমার চূড়ান্ত মনোযোগ দরকার, তখন আমি মনোযোগ নষ্ট করতে পারে তেমন সাইটগুলা থেকে পুরাই অফলাইন হই। আপনি চাইলে আপনার গোটা ব্রাউজারও বন্ধ কইরা রাখতে পারেন (যেমন গুগল ক্রোম ইত্যাদি)।
  • ঘুমানোর সময় “ব্লু লাইট” ডিভাইসগুলি (যেমন মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি) কখনোই সাথে নিয়েন না। ওই সময়টা নিজের কাজের বাইরের কিছু করেন। বই পড়তে পারেন বা বন্ধুবান্ধবের সাথে গল্পগুজব করতে পারেন বা সামাজিকতাও করতে পারেন। নিজের কাজের বাইরের এইসব কাজ দুইটা কারণে জরুরি। প্রথম কারণ এইসব আপনার সৃষ্টিশীলতার জন্য স্বাস্থ্যকর, আপনারে আরো উদ্যমী এবং তরতাজা রাখবে, কাজের চাপে কাহিল হয়ে পড়বেন না। দুই নম্বর, আপনার শরীর মেলাটনিন তৈরি করতে পারবে পর্যাপ্ত পরিমাণ। নীল আলো মেলাটনিন তৈরির স্বাভাবিক সাইকেলরে ব্যাহত করে। যেকোন ফ্রেশ ঘুমের জন্য এই মেলাটনিন হরমোন সব থেকে দরকারি উপাদানগুলার একটা।
যাই ঘটুক, আপনার পরিবেশের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধইরা রাখেন। কারণ আপনিই আপনার সাথে পরিচিত হওয়া সব থেকে স্মার্ট মানুষ! ২) যেকোনো একটা ব্যাপাররেই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেন যেইটার জন্য আপনি স্বতস্ফূর্ত আকর্ষণ অনুভব করেন, সেইটারে খুঁইজা বাইর করেন এইটা রকেট সায়েন্সের মত জটিল কিছু না, যেহেতু আপনি আপনার জীবনের প্রথম প্রেম বিচরাইতেছেন না এখানে। আর আপনারা যখন লেখাটা পড়তেছেন, ধইরা নেয়া যায় আপনারা এর মাঝেই অন্তত আঠার বছরের জীবন কাটায় ফেলছেন। সেহেতু আপনার কোনটা ভাল লাগে, কোনটা ভাল লাগে না সেই বিষয়ে মোটামুটি একটা ধারণা আছে। মনে রাইখেন, চাকা নতুন করে আবিষ্কার করার কোন দরকার নাই। যে কাজটায় আপনার আন্তরিক টান আছে সেইটাই করেন, যেটা আপনার এবং অন্য মানুষজনের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে। যেই কাজটা আপনি অন্যদের থেকে ভাল পারেন বলে মনে করেন, কিংবা যা চলতেছে সেটার মধ্যে নতুন কোন “ভ্যালু অ্যাড” করা সম্ভব সেইটা নিয়া ভাবতে থাকেন। আমি মানি অনুপ্রেরণার দরকার আছে। কিন্তু লাখ লাখ ওয়েবসাইটে ক্রমাগত ঘুরপাক খাইতে গেলে আসলে পথ হারায় ফেলবেন। ন্যূনতম কোন দিকনির্দেশনাও পাবেন না এইসব থেকে। কেমন করে আপনি বুঝবেন যে আপনার পছন্দের পথটাই আপনি খুঁইজা পাইছেন? এক্ষেত্রে মার্ক কিউবানের “টুয়েলভ রুলস অফ স্টার্ট আপ” আপনারে নিশ্চিত করতে পারে। আর অযথা কোন কোম্পানি খুইলেন না। যতক্ষণ না সিউর হচ্ছেন ওইটার প্রতি আসলেই আপনি অবসেসড। যেইটা থেকে আপনার ফেরার সুযোগ থাইকা যায়, সেইটা মোটেই অবসেশন না। ৩) আপনি আপনার জীবনের লক্ষ্যটা খুঁজে পাইছেন? ব্যস, কাজ শুরু করেন এখন mese32এইটা থেকে সেইটা ছোটাছুটির দুষ্টচক্র থেকে বাইর হয়ে যা করতে চান তা শুরু করে ফেলেন। আপনি আপনার কাজ শুরু করে দিলে অবাক হয়ে দেখবেন কত কত লোক আপনার সাথে যোগাযোগ করতেছে, একসাথে কাজ করতে আগ্রহ দেখাইতেছে। আপনার আইডিয়াটা কেবল একটা কাগজে লেখেন (হ, একটা কাগজেই) নিজের ডেরা থিকা বাইর হয়ে আশেপাশের লোকদের কাছে সেইটা নিয়া আলোচনা করতে থাকেন। “আইডিয়া” চুরি যাইতে পারে এমন ভয় পুইষা লোকজনের সাথে আলোচনা বন্ধ কইরেন না। যতজনের সাথে সম্ভব আপনার আইডিয়া নিয়া কথা বলতে থাকেন। যদি কেউ আইডিয়া চুরি করে, তাইলে তারে করতে দেন, আপনিও তারে বাটে পাইবেন নিশ্চিত। আর বইলেন না “আমার এই আইডিয়ার জন্য কারো বিনিয়োগ দরকার।” প্রথমেই বিক্রির চিন্তা করেন। একবার বিক্রি করা শুরু করতে পারলে হয়তো বুঝে যাবেন আপনার আসলে অন্যের বিনিয়োগের কোন দরকার নাই, ফাও আপনার ব্যবসার ভাগ কোন “বিনিয়োগকারী”রে দিতে হবে না। তারপরও যদি আপনার বিনিয়োগকারী কাউরে দরকারও হয়, সেক্ষেত্রেও আপনার এই বিক্রি করার অভিজ্ঞতা আপনারে সুবিধাজনক অবস্থায় রাখবে। ৪) অন্য যেকোনো আইডিয়ায় কান দিবেন না, যা করছেন সেইটাই করতে থাকেন, এবং সেইটা আরো ভালো করে চালাইয়া যান আপনি শুরু করে দিলেই যে অন্য আইডিয়া আপনারে উস্কানো বন্ধ করে দিবে তা না। আপনার মনে অনেক আইডিয়া তারপরও আসবে। কিন্তু সেইটা যেন আপনার এখনকার ব্যবসা সংক্রান্ত হয়, কীভাবে আপনার এখনকার প্রোডাক্টরে আরো নিখুঁত আর গ্রহণযোগ্য করা যায় সেই নিয়তেই আইডিয়াগুলারে চালানোর চেষ্টা করতে থাকেন। theaftফোকাস হারাইয়েন না, যেসব আইডিয়া আপনার বর্তমান ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত না সেগুলা থেকে তফাতে থাকেন। এমন চালায় গেলে দেখবেন মার্কেটিং বইয়ে যে “এন্টারপ্রেনার স্পিরিট” বিষয়ে পড়ছেন সেইটার একজন হয়ে উঠতেছেন আপনি, মুখের কথায়ই। আপনি সত্যি অভিভূত হবেন যখন দেখবেন কত লোক আপনার কাছে ঘুরেফিরে আসতেছে, আরো কাজ চাইতেছে। প্রতিযোগীতার কথা ভুইলা যান, নিজেরে অতিক্রম কইরা যাওয়াটাই আসলে আপনার চূড়ান্ত বিবেচনা হবে, তাই না? ৫) অন্যেরা কী ভাবতেছে সেইটা একদম গায়ে নিয়েন না কারো কাছে কিছু প্রমাণের দায় থিকা যদি আপনি উদ্যোক্তা হইতে চাইছিলেন, তাইলে আবার প্রথম ধাপ থেকে ভাবা শুরু করেন। আগে এটা নিশ্চিত করেন আপনি যে “প্যাশনে” তাড়িত হইতেছেন, সেইটা আসলে আপনার ভিতর থেকে আসতেছে। প্যাশন সম্পর্কে আপনার বোঝাপড়াটা পরিষ্কার, আর আপনার উদ্যোগ দিয়ে আপনি কিছু একটা পরিবর্তন করার ইচ্ছা রাখেন। নাইলে এটা আপনারে ধ্বংস করে দিবে, আপনি ফোকাস হারাইতেই থাকবেন, এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি করবেন। কিছু করার কামড় না থাকলে ভিতরে আসলে কিছুই করা হবে না শেষ পর্যন্ত। এখন কী? এই আর্টিকেল পড়া বাদ দিয়া নিজের কামে যান গা! — আলী মেসে PIQERS এর প্রতিষ্ঠাতা ও চীফ এক্সিকিউটিভ, গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম সফল একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তার  ‘The Single Biggest Reason Most Entrepreneurs Fail in 2014 and 5 Things You Should Do to Overcome It’-এর অনুবাদ সাম্প্রতিক ডেস্ক

২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

সিইবিআর: ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

পোশাক শ্রমিক-নারী শ্রমিক
প্রতীকী ছবি মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাথাপিছু আয় যথেষ্ট বেড়েছে। জিডিপির অংশ হিসেবে সরকারি ঋণ গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশে
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে বিশ্বের ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর)। বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিলের ৪০তম স্থান থেকে ২০২৯ ও ২০৩৪ সালের মধ্যে যথাক্রমে ২৬তম এবং ২৫তম অবস্থানে উঠে আসবে বলে “ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২০” এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্প্রতি ১৯৩টি দেশের ২০৩৪ সালের অর্থনীতির পূর্বাভাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ। সিইবিআর তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৯ সালের পিপিপি সমন্বিত জিডিপি ৫ হাজার ২৮ ডলারের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। সেখানে আরও বলা হয়েছে, গতবছর ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত অগ্রগতি দেখিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। ২০১৪ সাল থেকে দেশের জনসংখ্যা প্রতিবছর এক শতাংশ হারে বাড়ছে। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাথাপিছু আয় যথেষ্ট বেড়েছে। জিডিপি’র অংশ হিসেবে সরকারি ঋণ গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশে। যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৪ শতাংশ। এদিকে, ঋণ বাড়া সত্ত্বেও সরকারি আর্থিক খাত ভালো অবস্থানে রয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম ঋণের বোঝা ২০১৯ সালে সরকারকে ৪.৮ শতাংশ ঘাটতি বাজেট দিতে সহায়ক হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির বার্ষিক হার ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গড়ে ৭.৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সিইবিআর ভবিষ্যদ্বাণী করছে, পরবর্তী ৯ বছরে অর্থনীতি বৃদ্ধির এ হার বজায় থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লীগ তালিকায় বাংলাদেশ ৪০তম স্থান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ২৫তম অবস্থানে উঠে আসবে। প্রযুক্তির বর্ধিত প্রবৃদ্ধির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ২০৩৩ সালে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, ভারত ২০২৬ সালে জার্মানিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে এবং ২০৩৪ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র আমদানির নামে এবি ব্যাংকের অর্থ লুট

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র আমদানির নামে এবি ব্যাংকের অর্থ লুট image মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘চিলড্রেন অফ ওয়ার নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’ (Children of War Nine Months to Freedom) আমদানির নামে তিন কোটি ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক। চলচ্চিত্র আমদানির নামে ব্যয় করা এই অর্থের হিসাব জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিন দফা চিঠি দিলেও সদুত্তর দিতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের পাঁচ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটি আমদানির জন্য খান ব্রাদার্সের অনুকূলে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়ার কথা বলছে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সিনেমাটি আমদানির জন্য প্রযোজককে কাগজে-কলমে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো করা হয়েছে এ বছরের ৯ মে। এর প্রচারণা বিষয়ে তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এবি ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমদানি ব্যয় ২০ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত ব্যয় হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া মেসার্স খান ব্রাদার্সের কর্মকর্তাদের ভারতে যাওয়া আসা খরচ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। অথচ এ সংক্রান্ত দলিলাদি চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এ ছাড়া সিনেমাটির প্রচারণা বাবদ প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, পোস্টার, এফএম রেডিও, বিলবোর্ড, ডিজিটাল ব্যানার, স্টিকার, লিফলেট, প্রিমিয়ার শো খরচ বাবদ ২ কোটি ১০ লাখ ব্যয় ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রচারণা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হয়নি। এমনকি পোস্টার, বিলবোর্ডও বানানো হয়নি। বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রচারণার জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও এ খাতে কোনো ধরনের ব্যয় করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিনেমা হলে প্রদর্শনের জন্য ২০০টি (ডিজিটাল কন্টেন্ট) প্রিন্ট তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে এবি ব্যাংক। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ টাকা। অথচ বাংলাদেশে ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রচার করার উপযোগী সিনেমা হল নেই। ‘চিলড্রেন অফ ওয়ার নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’ সিনেমার প্রিমিয়ার শো করা হয়েছে চলতি বছরের ৯ মে। কোনো ধরনের প্রচারণা না করলেও এই খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এরপর ১৬ মে বিভিন্ন সিনেমা হলে প্রদর্শন করার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রদর্শন করা হয়নি এ সিনেমাটি। এ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সব বিষয়ে জানতে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম এ চৌধুরী মুঠোফোনে কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। এরপর তার অফিসে দেখা করে বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন দ্য রিপোর্টকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান দ্য রিপোর্টকে বলেন, আমাদের তদন্তে এবি ব্যাংকের কিছু অসঙ্গতি বের হয়ে এসেছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। (দ্য রিপোর্ট/)

তোপের মুখে ব্যবসায়ী নেতাকে মুহিতের ধমক, মন্ত্রীরা বিব্রত

তোপের মুখে ব্যবসায়ী নেতাকে মুহিতের ধমক, মন্ত্রীরা বিব্রত image রাজধানীতে এক সেমিনারে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়ে এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদকে ধমকালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রীর এমন আচরণে চরম বিব্রত হন ব্যবসায়ী নেতা কাজী আকরাম। তিনি শুধু অর্থমন্ত্রীর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আর মঞ্চে খাদ্যমন্ত্রী লজ্জায় মাথানত করে বসে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ অন্যরা হয়ে পড়েন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তবে অর্থমন্ত্রী এসব থোড়াই কেয়ার করেছেন। কারও দিকে না তাকিয়ে তিনি বকতেই থাকেন এফবিসিসিআই সভাপতিকে। মন্ত্রীর এমন অনাকাক্সিক্ষত আচরণে ব্যবসায়ী, সরকারি আমলা ও সাংবাদিকরা পর্যন্ত হতবাক হয়ে একে-অন্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। অবশ্য অনুষ্ঠানের শেষ দিকে অর্থমন্ত্রী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজী আকরামকে কাছে ডেকে হাসিমুখে কথা বলার চেষ্টা করেন। ভ্যাট আইন, ২০১২-এর বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউটে এ নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেমিনারে তীব্র ভাষায় নতুন আইনটির বিরোধিতা করেন কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক, আতিকুল ইসলাম, জসিম উদ্দিনসহ অন্য ব্যবসায়ী নেতারা। এমনকি বাণিজ্য এবং খাদ্যমন্ত্রীও এ আইনের বিরোধিতা করেন। এ সময় সেমিনারে ব্যবসায়ীদের প্রচণ্ড তোপের মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি বলেন, আইএমএফের পরামর্শে এ আইন করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, এ আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হবেন। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ জন্য আইনটি বাস্তবায়নের আগে সংস্কারের দাবি জানান তিনি। বক্তব্য শেষে মঞ্চে আসন গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে অর্থমন্ত্রী কাজী আকরামকে রাগান্বিত স্বরে ধমক দিয়ে বলেন, এটা কী করলেন, এসব কী করছেন? দলবল নিয়ে এসে আইনের বিরোধিতা করছেন? এ সময় অর্থমন্ত্রীর চেহারা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে এবং কাজী আকরাম অপ্রস্তুত ও হতভম্ব হয়ে অর্থমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, সেমিনার কক্ষে এ সময় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সরকারি আমলা একে অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অর্থমন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসে থাকা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ সময় অর্থমন্ত্রীকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কাজী আকরামকে বলতে থাকেন, এসব করার জন্য এসেছেন। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের আইন। কিন্তু সব সময় আইন মানতে আপনাদের কষ্ট হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রীর ঠিক বামের চেয়ারে বসা খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিব্রত হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকেন। সেমিনারে বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি অভিযোগ করেন, ভ্যাট আইন করার ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ীদের কোনো পরামর্শই আমলে নেয়নি। নতুন ভ্যাট আইনের ব্যাপারে ২০০৯ সাল থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন কিন্তু চূড়ান্ত করা ভ্যাট আইন, ২০১২-এ ব্যবসয়ীদের কোনো দাবি বা পরামর্শই প্রতিফলিত হয়নি। এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীকে বহুবার চিঠি দিয়ে প্যাকেজ ভ্যাটের নিয়ম অব্যাহত রাখা, ভ্যাটদাতার অপারগতায় তার আÍীয়স্বজনকে ধরার নিয়ম বাতিল করা, এনবিআরকে করদাতার সম্পত্তি ক্রোক বা জব্দ করার ক্ষমতা না দেওয়া বা জব্দকরণের জন্য দরজা ভাঙার ক্ষমতা না দেওয়াসহ কয়েকটি ধারায় সংশোধনী আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদি সেগুলো আমলে নেওয়া হতো তাহলে আজকের এ সেমিনারের প্রয়োজন ছিল না।সেমিনারে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পাহাড় মাথায় নিয়ে বক্তব্য দীর্ঘায়িত করেননি অর্থমন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি সবার পরামর্শ মতে নতুন এ আইনটি বাস্তবায়নের আগে একটি কমিটি করার নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেনকে। তিনি বলেন, এ আইনের খসড়া করার সময় যেহেতু ড. মশিউর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল এ জন্য এখন আর ওনাকে রাখার দরকার নেই। সে ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একজনকে কো-চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে আইনটি আরও যাচাই-বাছাই করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমাদের জাতীয় আয়ের তিন শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় করা সম্ভব হয়েছে। মূসক খুব বেশি পুরনো আইন নয়। হিসাব ঠিকমতো রাখলে মূসকের ওপর আর কোনো আইন নেই। মূসক ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো। মূসক থাকলে ব্যবসায়ীদের দুই হিসাব রাখতে হয় না।’ তবে ভ্যাট আইন, ১৯৯১-কে ব্যবসায়ীরা সহজ বলায় সে আইন প্রণয়নকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, সাইফুর রহমান বেঁচে থাকলে হয়তো বেশি খুশি হতেন। সাইফুর রহমানের প্রশংসা করতে ভোলেননি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন মূসক আইনে উঠতি ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের বিভিন্ন ক্ষোভ থাকতে পারে। তবে আমরা মনে করি আইনটি ভালো।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন ২২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে। আইএমএফের টাকা নেওয়া আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।’ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, কোথাও একটা সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের পুরো সময়ে আমরা সরকারকে নয়টি চিঠি দিয়েছি। অসংখ্য মিটিং হয়েছে কিন্তু তার কোনো প্রতিফলন মূসক আইন, ২০১২-তে হয়নি। আমরা এমন এক দেশে বাস করি, যে দেশে জন কেরি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) আর মিসেস ক্লিনটনের (বিল ক্লিনটনের স্ত্রী) অনুরোধও এ দেশের নেত্রী শক্ত হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস রাখেন। এ দেশে একটি আইনের খসড়ায় এতগুলো রাজনৈতিক নেতার প্রস্তাব প্রতিফলিত হয় না কীভাবে। সেখানে ব্যবসায়ী স্বার্থ কীভাবে প্রতিফলিত হয়? তার মানে এখানে বারাক ওবামার কিছু বংশধর আছেন, যারা ভিতরে বসে কাজ করেন। যারা লুকিয়ে মিটি মিটি হাসেন, তারা না এনবিআর না বিজনেস কমিউনিটিতে।’ তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৩-১৪-তে মূসক আদায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা টার্গেট দিয়েছেন, এর সবই কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা করব। সেখানে আইন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মত যদি প্রতিফলিত না হয় তাহলে একটি কমিটি করুন। দয়া করে আইনটি আবার সংশোধন করুন।’ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন। বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, এখন বলবৎ রয়েছে মূসক আইন, ১৯৯১। এটি বাতিল করে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে মূসক আইন, ২০১২। সুত্র:

আগামী বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় বিমানের সরাসরি ফ্লাইট

আগামী বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় বিমানের সরাসরি ফ্লাইট
 তারিখ: ২২-০৮-২০১৩
আগামী বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এরই মধ্যে দেশ দুটির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।
ফারুক খান বলেন, কানাডার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন করে তিনটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ও তিনটি কার্গো উড়োজাহাজ দুই দেশের মধ্যে চলাচল করবে। দুই দেশের জন্য ফিফথ (পঞ্চম) ফ্রিডম দেয়া হয়েছে, যাতে কানাডায় ট্রানজিট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট চালাতে পারবে বিমান। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে কানাডায় দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তিনি আরো বলেন, প্রথমে গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর আগামী বছর দুটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার তিন-চার মাসের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এর আগে ১৭ আগস্ট ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওপেন এয়ার এগ্রিমেন্ট সই হয়। তবে ২০০৬ সাল থেকে বন্ধ থাকা ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে আবার ফ্লাইট চালু করতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বিমানকে। চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আসবে। তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানালে ফ্লাইট শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.