জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাজার দরের দেড় গুণ থেকে বাড়িয়ে তিন...

জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাজার দরের দেড় গুণ থেকে বাড়িয়ে তিন গুণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদের বৈঠকে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল বিল-২০১৭’ পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিকাল পাঁচটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্যের দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়।১৯৮২ সালের অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড রিকুইজিশন অব ইমুভেবল প্রোপার্টি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে নতুন এই আইনটি করা হয়েছে। সামরিক শাসনের সময় জারি করা ওই অধ্যাদেশ উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাংলা করে নতুনভাবে এই আইনটি পাস হলো।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় ১২ মাসের জমি কেনাবেচার দলিলের গড় বিবেচনায় নিয়ে জমির দাম নির্ধারণ করা হবে। সরকারি প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করলে বাজার দরের ওপর অতিরিক্ত ২০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করলে বাজার দরের ওপর অতিরিক্ত ৩০০ ভাগ দাম দিতে হবে। বিলে বলা আরও হয়, ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশানের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে জনপ্রয়োজনে বা জনস্বার্থে একান্ত অপরিহার্য হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থে স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণ সাপেক্ষে কেবল ওই ধরনের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা যাবে।

বিদ্যমান আইনে অতিরিক্ত জেলা বা দায়রা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আরবিট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হতো। প্রস্তাবিত আইনে যুগ্ম জেলা জজ বা সাব-জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে আপিলে থাকবেন জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে ভূমিমন্ত্রী বলেন,‘বর্তমান অধ্যাদেশে অধিগ্রহণ পদ্ধতি সময়োপযোগী না হওয়ায় এবং অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে ক্ষতিপূরণের বিধান না থাকায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন-২০১৭ সময়োপযোগী বিধিবিধান ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত করে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।’

পোশাক উৎপাদন কি আবার নিজ দেশে ফিরছে?

পোশাক শিল্প

পোশাকের ব্যবসা ফিরে যাবে!

শুভংকর কর্মকার
আগামী ১০ বছরের মধ্যেই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমিয়ে দিতে পারে। এসব দেশে মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো এমন পরিকল্পনা করছে। চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের পরিবর্তে মেক্সিকো ও তুরস্কের মতো কাছাকাছি দেশগুলো থেকে পোশাক উৎপাদন করাতে চায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। সেটি হলে কম সময়ের মধ্যে নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্রে পোশাক তুলতে পারবে বলে মনে করছে তারা। ফ্যাশন দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় কম সময়ে পোশাক পাওয়া ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্য-সংক্রান্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সোর্সিং জার্নালের সঙ্গে যৌথভাবে ১৮০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানি। ‘পোশাক উৎপাদন কি আবার নিজ দেশে ফিরছে?’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকেরা প্রত্যাশা করছেন, তাঁদের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পোশাক আশপাশের দেশ থেকে তৈরি করাতে চান এবং সেটি ২০২৫ সালের মধ্যে। তার মানে হচ্ছে, চীন, বাংলাদেশ থেকে পোশাকের ব্যবসা আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চলে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ফ্যাশন খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সময়মতো বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্য তুলতে না পারলে অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। তাই কম সময়ের মধ্যে সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য বুঝে পাওয়া ক্রেতাদের কাছে ১ নম্বর অগ্রাধিকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলো থেকে উৎপাদনের পর সমুদ্রপথে ৩০ দিনের কম সময়ে পণ্য আনা সম্ভব নয়। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের উচিত পশ্চিমা বিশ্বে কীভাবে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায়, সেই কৌশল বের করা। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি ক্রেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতাদের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। এমন তথ্য উল্লেখ করে ম্যাকেঞ্জির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে এক জোড়া জিনস প্যান্ট উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে ১২ দশমিক শূন্য ৪ মার্কিন ডলার খরচ হয়। সেটি মেক্সিকোতে করলে লাগে ১০ দশমিক ৫৭ ডলার। আবার চীন থেকে এক জোড়া জিনস প্যান্ট উৎপাদন করে ইউরোপে আনতে ১২ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলার খরচ হয়। সেটি তুরস্কে করলে লাগে ১২ দশমিক শূন্য ৮ ডলার। তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীনের থেকে মেক্সিকো এবং ইউরোপের দেশগুলোর জন্য চীনের চেয়ে তুরস্কে পণ্য উৎপাদনের খরচ কম। তা ছাড়া চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা ইউরোপের জার্মানিতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ৩০ দিন লাগে। অন্যদিকে সড়কপথে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২ ও তুরস্ক থেকে জার্মানিতে পণ্য পরিবহনে লাগে ৩-৬ দিন। তবে চীনের থেকে বাংলাদেশ উৎপাদন খরচ এখন পর্যন্ত কম বলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে চীন শীর্ষ স্থানে। তারপরই বাংলাদেশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৩ হাজার ৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক গত রাতে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই অনেক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ফাস্ট ফ্যাশনের পোশাক তৈরি করছি। সব ক্রেতা ফাস্ট ফ্যাশনের পোশাক করেও না। তা ছাড়া সস্তা পোশাক উৎপাদনের যে সক্ষমতা আমাদের আছে, তা অন্য দেশের নেই। ১০ বছর পর আমাদের খরচ যখন বাড়বে তখন মেক্সিকো ও তুরস্কের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে রাতারাতি কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের ক্রয়াদেশ পাওয়া থেকে শুরু করে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছতে ১১০ দিন লাগত। সেটি কমে ৪৫-৬০ দিনে নেমে এসেছে।’ ফজলুল হক আরও বলেন, ‘ক্রেতা প্রায়ই “মাইন্ড গেম” (মনস্তাত্ত্বিক লড়াই) খেলেন। নিত্যনতুন তত্ত্ব হাজির করেন, যাতে পোশাকের দাম নিয়ে দর–কষাকষিতে আমরা দুর্বল অবস্থানে থাকি। ম্যাকেঞ্জির প্রতিবেদনটি আমার কাছে তেমনই মনে হচ্ছে।’ অবশ্য চীনের সম্পর্কে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, তা ঠিক আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বিআরটিএ বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ বাস ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কারণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে  স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস মালিকদের অর্ধেক যাত্রী বা ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মোল্লা শনিবার (৩০ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, “সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন মালিকদের দাবি ছিল যাত্রী সংখ্যা যেহেতু কমছে তাই ভাড়া ১০০ ভাগ বাড়ানোর জন্য। আমরা সেটা না করে ৮০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। এই ভাড়া সবধরণের পরিবহনের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকার যদি এটি কার্যকর করে তাহলে পরিবহনগুলোকে তাদের পূর্বে ভাড়ার যে দর ছিল সেই দর থেকে ৮০ ভাগ বাড়াবে।’ দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চালু হওয়া গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির শর্তগুলো যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে বন্ধ থাকা গণপরিবহন খুলতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার ১ জুন থেকে সড়ক পরিবহন শুরু হচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হেল্ডারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। গণ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনে সকলেই সম্মতি দিয়েছে। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। সামান্য উপেক্ষা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আতে পারে। ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। এগুলো হলো- বাস টার্মিনালে ভিড় করা যাবে না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হবে, বাসে উঠার আগে শরীরের তাপমাত্র পরীক্ষা ও হাত ধুতে হবে, বাসে স্যানিটাইজার রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না, ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখতে হবে, চালক শ্রমিক  ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, যাত্রার আগে ও পরে বাস জীবাণুমুক্ত করতে হবে, চালক-শ্রমিককে একটানা ডিউটি দেওয়া যাবে না, মহাসড়কে বিরতি দেওয়া যাবে না এবং মালামাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক আদেশে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। এরপরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ।

প্রবাসীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভায় অনুমোদন

প্রবাসীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল হচ্ছে

সুজয় মহাজন |
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বা তহবিল গঠিত হতে যাচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ এ তহবিল গঠন করবে। ২৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভায় তহবিলটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তহবিলটির প্রাথমিক আকার ঠিক করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। তবে বে-মেয়াদি তহবিল হওয়ায় এটির আকার বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। তহবিলটির নাম ঠিক করা হয়েছে ‘আইসিবি এএমসিএল প্রবাসী শিল্প বিনিয়োগ মিউচুয়াল ফান্ড’। এটির সম্ভাব্য অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু ঠিক করা হয়েছে ১০০ টাকা। তহবিলটির প্রতিটি বাজারগুচ্ছ বা মার্কেট লটে থাকবে সর্বনিম্ন ১০০ ইউনিট। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি বাজারগুচ্ছের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ হাজার টাকা। শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের লিখিত অনুমোদন প্রাপ্তির পর এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান। তিনি বলেন, পরিষদের সভায় তহবিলটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হলেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পরই এটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও আইসিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখনই প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন। পরে তহবিলটি গঠনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছিল। তহবিলের রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় আইসিবিকে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ গঠিত কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আইসিবি একটি রূপরেখা তৈরি করে, যা ২৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভায় তুলে ধরা হয়। এর ভিত্তিতে সভায় তহবিল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভার কার্যবিবরণীর তথ্য ও তহবিলটির রূপরেখা অনুযায়ী, ৫০০ কোটি টাকার এ তহবিলের উদ্যোক্তা হবে আইসিবি। শুরুতে আইসিবি এ তহবিলে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি ৪৫০ কোটি টাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। প্রবাসীদের কাছে তহবিলটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডের চেয়ে আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবছর এ তহবিলে বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ শতাংশ ন্যূনতম লভ্যাংশের নিশ্চয়তা থাকবে। পাশাপাশি যদি এটির বাজারমূল্য কখনো অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে, সে ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপক অভিহিত মূল্যে ইউনিট কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। অভিহিত মূল্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এটির ইউনিট বিক্রি করা হবে। ওভার দ্য কাউন্টারে এটির লেনদেন হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এটির ইউনিট বিক্রি করা হবে। তহবিলটির রূপরেখায় বলা হয়েছে, এটির বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইসিবির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তহবিলটির অর্থ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপির আওতায় গঠিত বিভিন্ন কোম্পানি, সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হবে। প্রবাসীদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মেয়াদি ও বে-মেয়াদি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ৫২টি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। এর মধ্যে আইসিবি ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ২৪টি মিউচুয়াল ফান্ড।

রেমিটেন্সের ২২% যোগাচ্ছেন সৌদি প্রবাসীরা

image বরাবরের মতোই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেল অর্থবছরে মোট এক হাজার ৫৩১ কোটি (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরে আসা মোট রেমিটেন্সের ২২ শতাংশ। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এ দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা মোট ৩৬৮ কোটি ও ৩৮৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আকামা পরিবর্তনের (পেশা বা কর্মস্থল বদল) কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা ৩১১ কোটি ডলারে নেমে আসে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে সরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছিল সৌদি সরকার। যার ফলে বিদেশি শ্রমিকরা ভিসা রেখে তাদের পছন্দমতো কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করেছিলেন। আর যারা অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা শাস্তি বা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন। আকামা পরিবর্তনে কিছু অর্থ খরচ হওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গিয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জানান। রেমিটেন্সের উৎস হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুত্তরাষ্ট্রে প্রবাসীরাও গতবছর আগের তুলনায় বেশি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন।    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৮২ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৩৮ কোটি ডলার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয় লাখের মতো বাংলাদেশি বর্তমানে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। এর যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো:

বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার মাঝে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত। সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যা বিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

কিভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হলো?

সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য মুগ্ধ করার মতো। সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা হিসেবে পরিচিত। প্রচুর নারকেল পাওয়া যায় বলে এ নামটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এবং অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। মি: পাশা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। অধ্যাপক বখতিয়ার বলেন, প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে উঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে উঠে। গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা জানালেন, ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা এ দ্বীপটিতে আরব বণিকরা বিশ্রাম নিতো। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল 'জাজিরা'। পরবর্তীতে যেটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগে সে এলাকায় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বিভিন্ন কার্বন ডেটিং-এ এর প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক বখতিয়ার। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। যদিও সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরেও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খ্রিস্টান সাধু মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। তবে অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে-ধীরে এটি বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা হয়ে উঠে। কালক্রমে এ দ্বীপটি হয়ে উঠে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ নারকেল গাছ আছে।

সম্রাট আওরঙ্গজেব, দুবলার চর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ

সম্রাট আওরঙ্গজেব, দুবলার চর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ
১৬৮০-এর দশকে ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল মুঘল শাসক আওরঙ্গজেবের অধীনে। ইংরেজরা বাণিজ্য করতে এসে অন্য ইউরোপীয় দেশগুলির চাইতে বেশি সুবিধা চাইলে আওরঙ্গজেব সেটা মেনে নেননি। এ সময় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জোসাইয়া চাইল্ড, যার ঔদ্ধত্যের কারণে ব্রিটিশরা আওরঙ্গজেবের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধ ইতিহাসে ‘চাইল্ড’স ওয়ার’ বলে পরিচিত। তারা ভারত থেকে হজযাত্রায় যাওয়া এক জাহাজ লুট করে এবং যাত্রীদের খুন-ধর্ষণ করে।
ব্রিটিশরা বাংলাকে তথা পুরো ভারতবর্ষকে নৌ অবরোধে ফেলার চেষ্টা করে। তারা হুগলী নদীর ওপরে একটা দ্বীপ দখল করে সেই নদী নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। কিন্তু ইংরেজদের এই অবরোধ সফল হয়নি, কারণ ভারতের প্রধান প্রদেশ বাংলা বহিঃবাণিজ্যের ওপরে নির্ভরশীল ছিল না। অবরোধ দেবার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কেউই না খেয়ে মরার উপক্রম হয়নি। এই ঘটনার মাধ্যমে সমুদ্রবন্দর অবরোধ দেয়ার একটা কৌশল ব্রিটিশরা জানিয়ে দিয়েছিল। আর সেই অবরোধ তারা দিয়েছিল সমুদ্রবন্দরের বাইরে দ্বীপে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ঘাঁটির দরকার হয়েছিল, কারণ সমুদ্রে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত থাকা সম্ভব নয়। রসদ নেবার জন্য সব চাইতে কাছের গন্তব্যটিও যদি অনেক দূরে হয়ে থাকে, তাহলে অবরোধ ধরে রাখা সম্ভব নয়। সেকারণেই হুগলীর সেই দ্বীপ দখল দরকার হয়েছিল। তিন শতক পরে… তিন শতাধিক বছর আগে ব্রিটিশদের দেখানো কৌশলের একটা অন্য ভার্সন আমরা দেখতে পাই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে, যেখানে মার্কিনরা ভিয়েতনামের মেকং নদীর বদ্বীপ এলাকাসহ ভিয়েতনামের পুরো উপকূল নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের তাঁবেদার সরকারের জাহাজগুলিকে গেরিলাদের হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়াও গেরিলাদের সাপ্লাই লাইনে অবরোধ দিয়েছিল। এই অবরোধ দিতে গিয়ে আমেরিকানরা মেকং নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে কিছু ভাসমান ঘাঁটি তৈরি করা ছাড়াও ভূমিতেও বদ্বীপের কৌশলগত এলাকাগুলিতে ঘাঁটি বানিয়েছিল, যেগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটগুলি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গেরিলারা স্থলপথ এবং নদীপথে নিয়মিত এসব ঘাঁটি আক্রমণ করতো ঠিকই, কিন্তু ঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দেবার মতো শক্তি তারা কখনোই যোগাড় করতে পারেনি। ঘাঁটিগুলির অনেকগুলিই খুব দুর্গম জংলা এলাকায় ছিল, যেখানে ঘাঁটি রক্ষা করাটা অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের ঘাঁটি রক্ষা করার আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুয়াদালক্যানাল-এর যুদ্ধ থেকে। এই দ্বীপখানার নামও কেউ জানতো না এক সময়। কিন্তু যে মুহূর্তে মার্কিন ম্যারিন সেনারা এই দ্বীপে নেমে জাপানিদের নির্মিতব্য ঘাঁটিটি দখল করে নেয়, তখন থেকেই এটা ইতিহাসের অংশ। জংলা এই দ্বীপের ঘাঁটিটি মার্কিনরা ব্যবহার করে বিমান এবং নৌঘাঁটি হিসেবে, যা কিনা প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জাপানিরা বহুবার চেষ্টা করেছিল দ্বীপে অবতরণ করে ঘাঁটিটি দখল করে নিতে; কিন্তু জঙ্গলের বাস্তবতা এবং মার্কিনিদের প্রতিরোধের কারণে জাপানিরা অবশেষে ঘাঁটি দখল করার এই চিন্তাটি বাদ দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমেরিকানরা এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করে সোলোমন দ্বীপপুঞ্জের বেশিরভাগ দ্বীপ দখল করেছিল। গুয়াদালক্যানাল প্রমাণ করে যে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরে যদি এমন একটা সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা যায়, যেটা দুর্গমতার কারণে রক্ষা করা সহজ, তাহলে সেই ঘাঁটিটি কৌশলগত দিক থেকে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে সক্ষম। দ্বীপ পুনর্দখল কি এতটাই কঠিন? একটা দ্বীপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, সেটা দখল করতে হলে নদী বা সমুদ্রপথে আক্রমণ ছাড়া গতি নেই। আর যদি দ্বীপটি জঙ্গল বা পাহাড়-বেষ্টিত হয়, তবে সেটা দখল করাটা আরও বেশি কঠিন। ব্রিটিশরা এই একই কারণে জিব্রালটার দখলে রাখতে পেরেছে এতকাল। স্থলভাগের দিকে পাহাড়-বেষ্টিত থাকায় এর নৌঘাঁটিটি সমুদ্রপথে আক্রমণ করে দখল করা ছাড়া গতি নেই। আমেরিকানরাও কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে একটা ঘাঁটি রেখে দিয়েছে একইভাবে। উঁচু পাহাড়-বেষ্টিত এই ছোট্ট ঘাঁটিটি কিউবানরা দখল করে নিতে চেষ্টাও করেনি তেমন একটা। সপ্তদশ শতকে ব্রিটিশরা যখন হুগলীর দ্বীপে বাণিজ্য জাহাজ দখল করার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো বসে ছিল, তখন সুন্দরবনের রোগ-বালাই আর সুপেয় পানির অভাব তাদের পেয়ে বসে। বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান মৃতপ্রায় ব্রিটিশদের ওই দ্বীপ থেকে উদ্ধার না করলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। পরবর্তীতে যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে ব্রিটিশ অফিশিয়ালরা (কর্মকর্তা) আওরঙ্গজেবের দরবারে গিয়ে নাকে খত দিয়েছিল! কিন্তু মনে রাখতে হবে যে হুগলী নদীর সমুদ্র বাণিজ্য তখন বাংলার জন্য বাঁচা-মরার ব্যাপার ছিল না। তাই ব্রিটিশদের কাছ থেকে ওই দ্বীপ পুনর্দখল করাটাও বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না। যদি উল্টোটা হতো, তাহলে কিন্তু শায়েস্তা খানের জন্য সুন্দরবনের ভিতরে অভিযান চালিয়ে ওই দ্বীপ পুনর্দখল করাটা বেশ কঠিন হতো। এবার এই দ্বীপের ব্যাপারটা আমরা বাংলাদেশের বদ্বীপের ক্ষেত্রে চিন্তা করলে কী দেখি? দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পসুর নদীর ভেতরে বাংলাদেশের মংলা সমুদ্রবন্দর। আর এই নদী যেখানে সমুদ্রে মিশেছে, সেখানে রয়েছে কিছু জংলা দ্বীপ, যা কিনা এই নদীর মুখ, তথা এই সমুদ্রবন্দরের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানে রয়েছে। দুবলার চর এবং হিরণ পয়েন্ট এই চ্যানেলের নিয়ন্ত্রক। কোনো বহিঃশত্রু যদি কখনো মংলা বন্দরকে অবরোধ দেবার চিন্তা করে, তবে তারা এই দ্বীপগুলিকে নিয়ন্ত্রণের চিন্তা করবে। একটা অবরোধের প্রধান দিক হলো Sustainability (টিকে থাকা)। আর সেটা সম্ভব করতেই নদীমুখে একটি দ্বীপ অপরিহার্য। শুধু সমুদ্রের ওপরে নির্ভর করে অবরোধ চালিয়ে নেয়াটা যে কারো জন্যই কঠিন। আর কেউ যদি ঝটিকা আক্রমণের মাধ্যমে এই দীপগুলি বা আশপাশের কোনো একটি জবরদখল করে নেয়, তাহলে সেটা পুনর্দখল করাটাও প্রচণ্ড কঠিন হবে। তবে সঠিকভাবে ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে সেটা আবার বহিঃশত্রুর পক্ষে দখল করে নেয়াটা বেশ কঠিন হবে। একই রকমের উদাহরণ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। এই দ্বীপ চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ রুটগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। আবার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা থাকার কারণে একবার বেদখল হয়ে গেলে পুনর্দখল করাটা ভীষণ কঠিন হবে। কেউ এই দ্বীপ দখলে নিলে একই সাথে টেকনাফের দক্ষিণ প্রান্তে শাহপরীর দ্বীপের কিছু পাহাড়ী এলাকাও দখলে নিয়ে রাখতে চাইবে। কারণ এই উঁচু এলাকা থেকে এখানকার সমুদ্রপথ এবং টেকনাফের রাস্তাগুলি অবলোকন করাটা সহজ। দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিনের মতো দ্বীপগুলিতে স্পেশাল ফোর্স, আর্টিলারি, দ্রুতগামী শক্তিশালী প্যাট্রোল বোট এবং আর্মড হেলিকপ্টার মোতায়েন করে কোনো বহিঃশত্রু বাংলাদেশের প্রধান দুই বন্দরকে অবরোধ দিতে সক্ষম হতে পারে। এ কারণেই এই দ্বীপগুলিকে কালক্ষেপণ না করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করাটা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সপ্তদশ শতকের মতো পরিস্থিতি এখন নেই যে সমুদ্র অবরোধে এদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। সমুদ্রপথে আমদানির ওপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল এই দেশকে অবরোধ দেবার পদ্ধতিটাই কোনো আগ্রাসী শক্তির জন্য ইকোনমিক্যাল হবে। আর বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি কোনো শক্তি এই দেশে কোনোভাবেই তাদের আগ্রাসী তৎপরতা চালাবে না – এ রকম পদলেহনকারী চিন্তা এখন ধোপে টেকে না। দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিনের মতো দ্বীপগুলিকে সুরক্ষা দিতে গেলে অনেক ধরনের বাধা আসবে। কিন্তু যারা বাধা দেবেন, তারা কখনোই এই দ্বীপগুলির কৌশলগত দিক চিন্তা করবেন না, অথবা চিন্তা করার পরও বলবেন যে, বিদেশি শক্তিদের তোষণ করে চলার মাঝেই এই দেশের ‘নিরাপত্তা’ নিহিত। নিজেদেরকে দুর্বল ভেবে অন্যের স্বার্থের কাছে সঁপে দিতেই তারা স্বাছন্দ্য বোধ করেন। এই দ্বীপগুলির সুরক্ষা দিতে চাইলেই এরা বিদেশি Subversion-এর অংশ হয়ে নানা প্রকারে বাধার সৃষ্টি করবেন। ওপরে কৌশলগত যতগুলি দ্বীপের উদাহরণ দিয়েছি, তার কোনোটিতেই শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি জাতীয় নিরাপত্তার বাইরে কোনো কিছুকে প্রাধান্য দেয়নি; আমাদেরও দেওয়া উচিত হবে না। আহমেদ শরীফ লেখক: ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক

নড়বড়ে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা

image নড়বড়ে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা: -শাহনেওয়াজ ধন নয়, মান নয় এতটুকু বাসা। সবাই চায় মাথা গোঁজার ঠাঁই। আর এই ঠাঁই খুঁজতে নিরন্তর প্রচেষ্টা মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণী পর্যন্ত। কিন্তু সবার জন্য খুব একটা সুখবর নেই। কারণ একই বৃত্তে পড়ে গেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপাকে পড়েছেন ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রেতারা। শুধু তাই নয়, নতুন প্রকল্প নেয়া অনেকটা থমকে গেছে। সব ডেভেলপারই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত শীতকালীন মেলায় ফসল উঠাতে পারেনি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তার কারণে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নিতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সব মিলিয়ে পুরো খাতটি এখন গতিহীন হয়ে পড়েছে। রিহ্যাবের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছর ২১২টি আবাসন প্রতিষ্ঠানে ১২ হাজার ১৮৫টি ফ্ল্যাট অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। এসবের আর্থিক মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে রিহ্যাব অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে। আসছে নতুন ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে এই সুবিধা চেয়ে গত মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আবেদন করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্ল্যাট ও প্লটের নিবন্ধনের কর ও ফি কমানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আয়কর কমানোর, ক্রেতাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি বিনা শুল্কে আমদানির বিষয়টিও সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব সুপারিশ পুনরায় উত্থাপন করা হয়। এ ব্যাপারে রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদউজ্জামান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবাসন খাতে সমস্যাটি একই বৃত্তের মতো। যেমন বিক্রি না থাকায় অনেকে নতুন প্রকল্প নিচ্ছে না। আবার ক্রেতারাও কিস্তি সময় মতো পরিশোধ না করার কারণে কাজের গতিও অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছেন ডেভেলপাররা। আমরা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেছি। এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে আবাসন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছু উন্নীত হয়েছে। তবে পরিবর্তিত অবস্থায় এ খাতে খুব বেশি উন্নীত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ জমি ও নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ফ্ল্যাটের দাম ইতিমধ্যে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাছাড়া স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা নেই। আবাসন ব্যবসা একবার পড়ে গেলে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা সময় লাগে। কারণ আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে অনেক কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। আমরা ইতিমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আবাসন খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জমি ও নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে আবাসন ব্যবসায়ীদের মুনাফা অনেকাংশে কমে গেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান নিবন্ধন সংক্রান্ত ব্যয় অনেক হওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। পাশাপাশি সরকারও এই খাত থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়াও নতুন ভবনে গ্যাস সংযোগ দেয়া ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কারণে অনেক আবাসন ব্যবসায়ী ভবনের সব কিছু সম্পন্ন করেও, শুধুমাত্র গ্যাস সংযোগের কারণে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছেন না। ফলে বিপাকে পড়েছে উভয় পক্ষ। এ ব্যাপারে জ্বালানি সচিব আবু বকর সিদ্দিক জানান, নতুন করে বাসা বাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তটি গত ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে যাদের ভবনের কাছে ৫০ ফিটের মধ্যে গ্যাস লাইন আছে তারা সেই সুযোগ পাবেন। তাই বলে নতুন করে গ্যাসের জন্য আর কোনো লাইন করা হবে না। গ্যাসের পরিবর্তে যেন বাসা বাড়িতে প্রাকৃতিক তরল গ্যাস ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে সরকার সার্বিক পদক্ষেপ নেবে। আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত রড, সিমেন্ট, ইলেকট্রিক, রং, টাইলস, স্যানিটারিসহ ২৬৯টি পশ্চাদমুখী শিল্পের ওপর ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি রিহ্যাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন, সারাদেশের ৪টির মধ্যে মাত্র অর্ধেক রি-রোলিং মিল চালু আছে। সেগুলো আবার ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা চালানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবদুল মতিন খান বলেছেন, বিক্রি না থাকায় সারাদেশের ৪৬২টি কারখানার অনেকই বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর গত বছর মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ২টি মেলায় তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া হরতাল অবরোধে সেটি আবার ভেস্তে যায়। তবে রিহ্যাবের প্রত্যাশা সরকার যদি তাদের সুপারিশগুলো বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন তাহলে পুনরায় সুবাতাস বইবে আবাসন খাতে। ঘুরে দাঁড়াবে তাদের প্রত্যাশিত আবাসন খাত। সুফল পাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে সব শ্রেণীর মানুষ। © all right reserved 2015 manobkantha.com

পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়:

টিআইবির গবেষণা পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়: image ঢাকায় ধানমন্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইফতেখারুজ্জামান (মাঝে) l ছবি: প্রথম আলো] তৈরি পোশাক খাতে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। কার্যাদেশ পাওয়া থেকে শুরু করে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায় পর্যন্ত এ দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকেন কারখানার মালিক, মার্চেন্ডাইজার ও বিদেশি ক্রেতারা। পণ্যের মান, পরিমাণ ও কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি ঘুষের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। টিআইবি মনে করে, সুশাসন ও জবাবদিহিবিহীন এ পরিবেশে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য চাঁদাবাজি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টিআইবি বলছে, তৈরি পোশাক খাতের সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন কারখানা, ক্রেতা, নিরীক্ষকসহ অংশীজনের মাঝে দুর্নীতির চর্চা বিদ্যমান। এসব দুর্নীতি কখনো জোর করে, আবার কখনো বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতামূলক। শ্রম ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ‘উপরি’ দিলেই নিয়মভঙ্গের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে টিআইবি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জার্মানি চ্যাপ্টারের সহায়তার এ গবেষণাটি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির গবেষণায় যে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে কার্যাদেশ পর্যায়ে চার ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। এগুলো হলো ক্রেতার নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স চাহিদা সম্পর্কে সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়ার অভিপ্রায়ে কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষককে ঘুষ দেওয়া; কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য ছোট আকারের কারখানা কর্তৃপক্ষ মার্চেন্ডাইজারকে ঘুষ দেওয়া; কারখানার মালিকদের নকল কাগজপত্র তৈরি করা অথবা বিভিন্ন কাগজপত্র প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা এবং কারখানার মালিক বা সরবরাহকারী কর্তৃক ঘুষের বিনিময়ে ক্রেতা বা এর এজেন্টের ক্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হয়, যাতে ওই কারখানার পছন্দ অনুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়া যায়। টিআইবি বলছে, উৎপাদন পর্যায়ে নয় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। যেমন নির্দিষ্ট অ্যাকসেসরিজ কারখানা থেকে তৈরি পোশাক কারখানাকে উপকরণ কেনার জন্য মার্চেন্ডাইজারের পক্ষ থেকে বাধ্য করা; প্রয়োজনের তুলনায় কারখানার বেশি উপকরণ আমদানি এবং বাড়তি উপকরণ খোলাবাজারে বিক্রি; কারখানার পক্ষ থেকে অবৈধভাবে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ভাঙানো; ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা এবং শ্রমিক অধিকার-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন; ক্রেতাদের পক্ষ থেকে চুক্তিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন চাহিদা পূরণে কারখানাকে বাধ্য করা; আবার কারখানাগুলো চুক্তিবহির্ভূতভাবে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া; নিরীক্ষককে তাঁদের প্রাপ্ত তথ্য গোপন করার জন্য কারখানার মালিকদের ঘুষ দেওয়া; ক্রেতাদের ইচ্ছেমতো কার্যাদেশ বাতিল করা এবং ক্রেতাদের পরিদর্শন কিংবা কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন পরিবর্তন করা। সরবরাহ পর্যায়ে তিন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। এগুলো হলো মানের ঘাটতি ও নিম্নমানের পণ্যের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কারখানার পক্ষ থেকে মান নিয়ন্ত্রককে ঘুষ দেওয়া; কারখানার কাছে মান পরিদর্শকের নিয়মবহির্ভূত অর্থ দাবি এবং গন্তব্য দেশের বন্দর পরিদর্শনের সময় নিম্নস্তর মূল্য প্রদানের উদ্দেশ্যে ক্রেতার মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ প্রতিবেদনটি নিয়ে আমরা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করব।’ তিনি বলেন, ‘সুশাসনের দায় আমাদের। মুনাফা স্বচ্ছ করার জন্য সুশাসন দরকার।’ তাঁর মতে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কারখানার মালিকদের চাপ দিয়ে ত্বরিত মুনাফা করার প্রবণতা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে লক্ষ করা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিনিয়র কর্মসূচি ব্যবস্থাপক শাহজাদা এম আকরাম ও সহকারী কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত গবেষণাটি করা হয়। বিদেশি ক্রেতা, বায়িং হাউস, কারখানার মালিক, শ্রমিক, কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকসহ ৭০টি অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়।

জীবনবিমা কোম্পানিগুলো বেপরোয়া খরচ করছে

জীবনবিমা কোম্পানিগুলো বেপরোয়া খরচ করছে ফখরুল ইসলাম | image জনগণের কাছ থেকে বিমা পলিসির টাকা নিয়ে নিজেরাই তা খরচ করে ফেলছে দেশের জীবনবিমা কোম্পানিগুলো। একই কাজ করছে জীবনবিমা পলিসি করার রাষ্ট্র খাতের একমাত্র সংস্থা জীবন বীমা করপোরেশনও (জেবিসি)। সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে এক কোটি ৪০ লাখ জীবনবিমা পলিসি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সবাইকে এই খরচ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বলেছে। দেশে বর্তমানে রাষ্ট্র খাতের জেবিসি, বিদেশি মেটলাইফ আলিকো এবং ২৯টি বেসরকারি জীবনবিমা কোম্পানি রয়েছে। তবে ব্যবসা করছে মূলত জেবিসি, আলিকো ও বাকি ১৬টি কোম্পানি। অন্য ১৩টি মাত্র ব্যবসা শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় গত বছর এদের লাইসেন্স দেয় সরকার। পলিসি গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা সংগ্রহ করা হয়, তার বিপরীতে প্রতিটি কোম্পানিরই শক্তিশালী জীবন তহবিল বা লাইফ ফান্ড থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে কেউই তা মেনে চলছে না। আইডিআরএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ বছরে (২০০৯-২০১৩) জেবিসিসহ ১৫টি জীবনবিমা কোম্পানি এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০১৩ সালেই অতিরিক্ত খরচ করেছে ৩৫০ কোটি টাকা। অথচ এ টাকার ৯০ শতাংশেরই মালিক হচ্ছেন পলিসি গ্রাহকেরা। পলিসি গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে গত জুনে সব জীবনবিমা কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছিল আইডিআরএ। সে অনুযায়ী কোম্পানিগুলো আর্থিক সূচকসংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করে আইডিআরএর কাছে। ওই প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে জীবনবিমা কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের অর্থ খরচের এই চিত্র পাওয়া গেছে। আইডিআরএ সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সরকার যত টাকা খরচ করার এখতিয়ার দিয়েছে, মেটলাইফ আলিকো খরচ করেছে তার চেয়েও কম। আর গোল্ডেন লাইফ ও বায়রা লাইফ—এই দুটি কোম্পানি তাদের খরচের কোনো তথ্যই আইডিআরএকে জানায়নি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিমা আইন ও বিমা বিধি অনুযায়ী ব্যবসা শুরুর বয়স ১০ বছর হলে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয়ের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করতে পারে জীবনবিমা কোম্পানিগুলো। এই খরচের মধ্যে বেতন, কমিশন, অফিস ভাড়াসহ সব ধরনের বিল অন্তর্ভুক্ত। এর পরের বছরের (নবায়নকৃত বা রিনিউয়াল) প্রিমিয়াম আয় থেকে খরচ করা যায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। মেটলাইফ আলিকো বাদে সবাই এই সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে। আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আইন লঙ্ঘন করে কম-বেশি সব জীবনবিমা কোম্পানিই মাত্রাতিরিক্ত খরচ করছে। এই খরচের ফাঁকে আরও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কি না, যাচাই করে দেখা হচ্ছে। শেফাক আহমেদ আরও বলেন, কোম্পানিগুলো এত বেশি টাকা খরচ করছে বলেই এক কোটিরও বেশি বিমা পলিসি গ্রাহক ভালো বোনাস পাচ্ছেন না। এতে কী ক্ষতি হচ্ছে জানতে চাইলে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি কোম্পানি যদি ১০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে, এর মধ্যে নয় কোটি টাকাই পলিসি গ্রাহকের। বাকি এক কোটি টাকা শেয়ারধারীদের অংশ। ওই কোম্পানি বেশি খরচ করলে মুনাফার অংশ কমবে। এতে পলিসি গ্রাহকদের জন্য কোম্পানির বোনাস দেওয়ার সক্ষমতাও কমবে। শেয়ারধারীরাও কম লভ্যাংশ পাবেন। খরচ কমিয়ে আনতে ২০১২ সালেই কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল আইডিআরএ। কোম্পানিগুলো তখন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল, এ রকম খরচ আর করবে না। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি আর রক্ষা করেনি। উল্টো ২০১৩ সালে কয়েকটি কোম্পানি বেপরোয়া খরচ করেছে। বেশি খরচ ফারইস্ট ও পপুলার লাইফের: পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে ফারইস্ট লাইফ। ২০১৩-এর কোম্পানিটির নিট প্রিমিয়াম আয় ছিল ৭০৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ থেকে ১৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খরচের এখতিয়ার থাকলেও করেছে ২২৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ফারইস্ট লাইফের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এ জন্য গত বছরের রাজনৈতিক সহিংসতাকে দায়ী করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সহিংসতার কারণে ২০১৩ সালে ব্যবসা কম হয়েছে। তাই খরচটা চোখে পড়ছে। যদিও আগের তিন বছরে রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকা সত্ত্বেও তারা ৮২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছিল। ২০১৩ সালে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচের এখতিয়ার থাকলেও করেছে ২৫২ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটি ২৩৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি খরচ করেছে। একইভাবে পাঁচ বছরে পদ্মা লাইফ ১৩৭ কোটি ৫৮ লাখ, প্রগতি লাইফ ১২০ কোটি ৬৮ লাখ, সন্ধানী লাইফ ১১৩ কোটি, সানলাইফ ৭৩ কোটি ৪৬ লাখ, মেঘনা লাইফ ৬৯ কোটি ৩৩ লাখ, প্রাইম লাইফ ৫৬ কোটি, রূপালী লাইফ ৫০ কোটি ২৩ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ৪৮ কোটি ৮২ লাখ, ডেল্টা লাইফ ৪৬ কোটি ৬০ লাখ, হোমল্যান্ড ৩৭ কোটি ২৪ লাখ, ন্যাশনাল লাইফ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন পাঁচ বছরে অতিরিক্ত খরচ করেছে ১৭৪ কোটি টাকা। সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরীক্ষিৎ দত্ত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এযাবৎ খরচ বেশি হয়েছে। আগামীতে আমরা তা কমিয়ে আনার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। আইডিআরএ বলছে, কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেপরোয়া খরচ করেছে পদ্মা ইসলামী লাইফ। ২০১৩ সালে কোম্পানিটির খরচের এখতিয়ার ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, কিন্তু খরচ করেছে ৭৮ কোটি চার লাখ টাকা। অতিরিক্ত খরচের হার ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। প্রগতি লাইফ বেশি খরচ করেছে ৭১ শতাংশ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৫১ শতাংশ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ৪৮ শতাংশ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফের অতিরিক্ত খরচের হার ৪৩ শতাংশ।

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি :: অবনতির দিকে যাচ্ছে অর্থনীতি

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি :: অবনতির দিকে যাচ্ছে অর্থনীতি

economy-cartoons-42রাজনীতিতে সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কমছে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ, বাড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো কমার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অনিয়মের খবর মিলছে। ভেঙে পড়েছে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। দেশের রাজনীতির কারণে অর্থনীতির গতি থমকে যাওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এবারের পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ। নির্বাচনের আগে তৈরি হচ্ছে এমন পরিস্থিতি যেখানে মানুষ মারা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্রের সম্পত্তি। ব্যক্তিগত সম্পদ হানির বিষয়টি নতুন করে বলার কিছু নেই। এমন অবস্থায় বাড়িতেও নিরাপদ নয় মানুষ।

ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ আরো কমবে: ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ এক দশমিক ২ ভাগ কমে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে আর কখনো এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। চার কারণে এ বিনিয়োগ কমেছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এই কারণগুলো হচ্ছে-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, তৈরি পোশাকখাতে শ্রম বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতা ও শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিংখাতে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনুজ্জ্বলতা। উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমার কারণে, যা শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক নয় এবং এই উদ্বৃত্ত মুদ্রার উপচয়ের মাধ্যমে রফতানি প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ২০১১-১২ অর্থবছরের ১ হাজার ১২৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ৬৪০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ৪৩.১৩ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। অন্যদিকে, টাকার মান ২০১৩ সালের আগস্টে গত মাসের তুলনায় ০.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৪.৬ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৮.৪ শতাংশ ছিল।

ব্যাংক ঋণ বাড়ছে: ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতায় ব্যাংকে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের অনেকেই ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছেন না। নতুন করে নাম লেখাচ্ছেন ঋণখেলাপির খাতায়। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের পুঁজি কম। অনেকেরই পুঁজি আটকে যাওয়ায় নতুন করে আর বিনিয়োগ করতে পারছেন না। সবমিলে ব্যাংকিং খাতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ।

আর যেভাবে ধরপাকড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক কঠোর কর্মসূচি চলছে তাতে, এ অবস্থার সমাধান না হলে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলমান থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে রফতানি কমে গেছে। আমদানি-রফতানির বাধার পাশাপাশি পণ্য উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এতে অর্থনীতির কাঠামো ভেঙে যাবে। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ’র তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে নিট বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হয়েছে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ১১৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে নিট বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৪ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ২০ লাখ মার্কিন ডলার ছিল।

আর, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি বলেছে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক এটি চায় বিশ্বব্যাংক। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি। তাই উন্নয়নের স্বার্থে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে বলেও উল্লেখ করেছে এই সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড়জোড় ৫.৭ শতাংশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন চালচিত্র তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের অভিমত হলো, সেবা ও শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে। আর এই প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৭ শতাংশ। তবে সরকার তার মেয়াদের শেষ অর্থবছরের বাজেটে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করা প্রকাশ হয়েছে। রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হলেও প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশের বেশি হবে বলে তিনি মনে করেন না। গত চারটি জাতীয় নির্বাচন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনের বছর অর্থনীতির অনেক খাতই স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে পারে না।

মূল্যষ্ফীতি বাড়বে: সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.১ শতাংশ। তাই এটি নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে আগামীতে শহর এলাকায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবার শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের কারণে রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের সমস্যা হতে পারে। আর সুশাসন ও জনশক্তি রফতানিও ব্যাহত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবের প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।

ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলেছেন, হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে প্রায়ই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। ফলে সময়মতো পণ্য রফতানি নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের ওভারটাইম করিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। ওভারটাইমে বাড়তি টাকা গুনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। হরতালে সড়ক পরিবহন বন্ধ থাকায় লাখ লাখ পরিবহন শ্রমিকসহ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যারা নতুন বিনিয়োগ করেছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। শিল্প-মালিকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে। রফতানি খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে। অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে গোটা অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়তে পারে। এদিকে হরতালের জন্য কৃষিপণ্যের সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তারা যখন পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না, তখন তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে। ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকরা অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। এমতাবস্থায় হরতাল, নৈরাজ্য ও সহিংসতা তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা, বণ্টন ও বিপণন ব্যবস্থাতেও আঘাত হানছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যমূল্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং দামবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে ক্রমেই অসহনীয় চাপে ফেলে দিচ্ছে। সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে রোধ করা যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। বরং মূল্যস্ফীতি রোধ করতে গিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সংকুচিত করে দেয়ায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উপরন্তু জ্বালানি সংকটে নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট এতই সমস্যা সৃষ্টি করেছে যে, কারখানা চালু না করায় কিংবা ঠিকমতো উৎপাদনে যেতে না পারায় উদ্যোক্তারা ঋণের কিস্তি দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতে খেলাপির সংখ্যাও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে না পারলে ব্যাংকেরও টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, হরতাল, সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আমাদের মনে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিলেও বলব, রাজনীতিবিদদের মধ্যে যত দূরত্বই থাকুক না কেন, দেশের স্বার্থে তাদের সংলাপে বসতেই হবে। সংলাপই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ বা সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। অথচ উদ্যোক্তাদের ব্যাংকের কিস্তি গুনতে হচ্ছে। সেখানেও ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদ হার ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় শিল্প টিকে থাকবে কীভাবে? বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অবশ্যই রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা রয়েছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই হরতাল ও সহিংসতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই, সমাধানও রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে।

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

পাঁচ লাখ টাকার রেমিট্যান্সে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনা

পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জরি করেছে।

প্রসঙ্গত, আগে ১৫০০ মার্কিন ডলার বা  দেড় লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া, প্রণোদনা পেতে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা ছিল।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠনো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ  পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্রাদি ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও  বলেছে, নগদ সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার অধিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে, কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমছে বাংলাদেশেই

০২ অক্টোবর ২০১৭

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রাপ্তি কমেছে। তবে দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশ ও ভারতে। সে তুলনায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এতটা প্রকট হয়নি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এখন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। দুই বছর ধরেই এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০১৭ সালেও একই প্রবণতা। যেমন ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স কমেছিল ১ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৪২৯ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ‘হালনাগাদ উন্নয়ন’ নামে সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রতিবেদনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সব দেশে প্রবাসী আয় কমলেও এর গভীরতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে পরিস্থিতি খারাপ বেশি বাংলাদেশ ও ভারতের। অর্থাৎ এই দেশ দুটিতে প্রবাসী আয় বেশি কমেছে এবং তা ধারাবাহিকভাবেই কমছে। বাংলাদেশ ও অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পায় মূলত মধ্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এসব দেশের অর্থনীতির আয়ের মূল উৎস জ্বালানি তেল। আর এই জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণেই প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লেগেছে। তেল থেকে আয় কমে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো নানা ধরনের আর্থিক নীতি গ্রহণ করেছে। যেমন, অনাবাসী নাগরিকদের ওপর কর আরোপ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি হ্রাস। এসব কারণে দেশগুলোতে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। আর এরই প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় প্রবাহে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠান ১ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। আর তারও আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রবাসী আয় আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। এই অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল আড়াই শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। যদিও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) অবশ্য প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। ঈদের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশও প্রবাসী আয়ের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। মোট প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। একমাত্র কাতার ছাড়া বাকি সব উপসাগরীয় দেশ থেকেই প্রবাসী আয় হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে প্রবাসী আয় আসা কমেছে সবচেয়ে বেশি।

আয় কমলেও প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এ সময় ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ জন উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে গেছেন। এই সংখ্যা গত অর্থবছরের মোট জনশক্তি রপ্তানির ৮৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি গেছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এত মানুষ গেলেও বিপরীতে কত মানুষ একই সময়ে ফিরে এসেছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই, উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, নতুন যাঁরা গেছেন, তাঁদের প্রতি চারজনের একজন নারী। তাঁরা অত্যন্ত কম বেতনে যাচ্ছেন। এটিও প্রবাসী আয় কমার আরেকটি কারণ।

কেন কমছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। দেখা গেছে, প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে অর্থ পাঠানোর অনানুষ্ঠানিক পথ ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বলে রাখা ভালো, পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিরই ব্যবহার বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষায়ও দেখা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে বিনিময় হারের পার্থক্য, দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও কম খরচ।

বিশ্বব্যাংক সবশেষে বলছে, কমে গেলেও এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস এই প্রবাসী আয়। এই আয় মোট ঋণ ও বিদেশি বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। তা ছাড়া, বিশেষ করে বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের বিশালসংখ্যক পরিবার এই প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এভাবে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সূত্র: প্রথম আলো

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মিয়ানমারের অর্থনীতিতে’

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মিয়ানমারের অর্থনীতিতে’

তবে তিনি মনে করেন, এই উদ্বেগ ও সহিংস পরিস্থিতি দীর্ঘ না হলে তা দেশের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
পুঁজিবাজারে গত বছরই প্রথম ইয়াঙ্গুন স্টক এক্সচেঞ্জ (ওয়াইএসএক্স) চালু করে মিয়ানমার। যেটা এখনো তেমন উন্নতি করতে পারেনি। গত এক বছরে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মাত্র ৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। শিগগিরই আরও কোম্পানি তালিকাভুক্ত ও বিদেশি বিনিয়োগ আসার কথা রয়েছে।
বর্তমানের এ সহিংসতায় সেই অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কমিশনের সচিব উ অং নাইং বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে এখন সংকট চলছে। কিন্তু সব বিনিয়োগ তো দক্ষিণাঞ্চলে এবং দেশের বাইরে। সুতরাং এ সহিংসতায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। “তবে এটা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে রাজনৈতিক এই অস্থিরতা এফডিআইতে প্রভাব ফেলবে।” এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর রাখাইনে মোট ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে। যদি এলাকাটির নেতিবাচক প্রভাব পড়তো তবে বিদেশি বিনিয়োগে কোনো আগ্রহ দেখা যেত না। সুতরাং রাখাইনের সহিংসতায় বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। তিনি আরও জানান, সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় কোনো স্থানীয় বিনিয়োগ নেই। কিছুদিন আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ইউ কে আই থিন জানান, উত্তর রাখাইনের মংডু এলাকায় তারা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে চান। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘ মেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উন্নয়ন করা। কিন্ত উ অং নাইং বলেন, মংডু প্রকল্পের জন্য কোনো সরকারি নির্দেশনা বা প্রস্তাবনা নেই, যা পূর্ববর্তী সরকারের অধীনে অনুমোদিত ছিল। উল্লেখ, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। এতে প্রায় দুই ডজন মানুষ নিহত হয়। এর জেরেই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংস অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, সহিংসতা থেকে বাঁচতে গত ৩ সপ্তাহে প্রায় ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সূত্র: অর্থসূচক

ফুরিয়ে আসছে অর্থনীতির প্রাণ শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে চরম স্থবিরতা

20131226-200918.jpg

অর্থনীতিকে যদি হাসপাতালে নেওয়া কোনো মুমূর্ষু রোগীর সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে এর প্রাণবায়ু। অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে এমন সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের অভিমত এটি। তাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন একটি পর্যায়ে অর্থনীতিকে নিয়ে গেছে, এর মূল শক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগের সব শাখাতেই বিরাজ করছে চরম স্থবিরতা। চলমান অচলাবস্থায় ব্যবসায়ীরা এরই মধ্যে সরকারের কাছে চরমপত্র দিয়ে বলেছেন, হয় ব্যবসা করার, নয় দেউলিয়া হওয়ার সুযোগ দিন। ব্যবসা-বাণিজ্য-কারখানা চালু রাখতে না পেরে নিরুপায় হয়ে তারা এখন পথ খুঁজছেন বেরিয়ে যাওয়ার। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএর পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা একাট্টা হয়ে কারখানা চালু রাখতে চাইছেন সরকারের কাছে সাময়িক প্রণোদনা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালকরা গত সপ্তাহে বৈঠক করে তাদের দাবিদাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা। সভায় ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনীতি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েক মাস ধরে চলমান হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি দেশব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা সার্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে করছে চরমভাবে ব্যাহত। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অর্থনীতিতে গভীর সংকটের আশঙ্কা করছে গবেষণা সংস্থাগুলোও। অর্থনীতিবিষয়ক স্বাধীন গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণ সম্প্রতি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী হওয়ায় কমে যেতে পারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি। শুধু যে রাজনৈতিক অস্থিরতাই অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরেছে তা নয়, একই সময়ে সরকারের নীতিগত প্রতিবন্ধকতাও বন্ধ করে দিয়েছে সামনে এগিয়ে চলার পথ। উন্নয়ন অন্বেষণ আরও মনে করে, শিল্প উৎপাদন সূচক, শিল্প ঋণ, ঋণপত্র (লেটার অব ক্রেডিট), বিনিয়োগ চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে সামর্থ্যের নিচে অবস্থান করছে। ফলে উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে পরিলক্ষিত হচ্ছে নিম্ন প্রবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে কমানো হয়েছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি। জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৩ এবং জানুয়ারি-জুন ২০১৪ সময়ের জন্য বেসরকারি খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫ এবং ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ থাকলেও চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছর একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। শিল্প ও কৃষিঋণের প্রবৃদ্ধির হারেও প্রভাব ফেলেছে ঋণপ্রবাহের এই নিম্নগতি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ ২০১২-১৩ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (মার্চ-জুন) ছিল ৯ হাজার ৭২০ দশমিক ৩ কোটি টাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এটি কমে ৮ হাজার ৮৮০ দশমিক ৭৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কমেছে কৃষিঋণের প্রবৃদ্ধি। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে কৃষিঋণের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪৩ দশমিক ২ শতাংশ, এটি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঋণাত্দক ৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিল্প ও কৃষি উভয় খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প-উৎপাদনে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ধস নেমেছে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছর। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে ২৩৩ কোটি ডলারের। ২০১১-১২ অর্থবছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলারে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এটি আরও কমে অবস্থান নেয় ১৮৩ কোটি ডলারে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে তা নেমে আসে ১০০ কোটি ডলারেরও নিচে। রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি অর্থবছর সরকার যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সম্পূরক আবগারি শুল্ক গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৬৬ ও ২৪ দশমিক ০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ের ক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের তুলনায় লক্ষ্য করা গেছে ধীরগতি। ওই খাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৫২ ও ১৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বিগত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৬৯ ও ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এনবিআরের প্রাক্কলন অনুসারে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮১৮ কোটি টাকা কম অর্জিত হবে বলে আশঙ্কা করছে উন্নয়ন অন্বেষণ। এর ফলে বেড়ে যাবে বাজেট-ঘাটতি। প্রত্যাশা অনুযায়ী খরচ করতে পারবে না সরকার। ফলে থেমে যাবে গ্রামগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্প। কর্মসংস্থান ও আয়-উপার্জনে পড়বে নেতিবাচক প্রভাব। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছে যে এখন এটিকে খারাপ বললে বাড়িয়ে বলা হবে। এটি আসলে চলে যাচ্ছে চরম মন্দা আর ঝুঁকির দিকে। ফুরিয়ে আসছে এর প্রাণবায়ু। Source: bd-pratidin.com

ডেভেলপারদের অতিরিক্ত চার্জের কারণে শতভাগ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে না ক্রেতারাঃ সরকার...

ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি অতিরিক্ত হওয়ার কারণে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছে না। শুধুমাত্র বায়না দলিল ও মূল্য পরিশোধের রশিদের ভিত্তিতেই ফ্ল্যাটের মালিক তারা। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব, অন্যদিকে ঝুঁকিতে আছে এর ক্রেতারা। কয়েকটি নামী ডেভেলপার যেমন রূপায়ন গ্রুপের অতিরিক্ত টাকা দাবী করাতে অনেকেই তা এ্যফোর্ড করতে পারছে না। তাদের স্যাটেলাইট টাউন যা ফতুল্যায় অরস্থিত তার ৯৬৫ স্কয়ার ফিটের ফ্লাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ তারা চাচ্ছে ৬ লক্ষ টাকার উপরে। যেখানে ফ্লাটের দাম রাখা হয়েছে নূন্যতম ৩৩ লাখ টাকা (১০ বছর আগে) সেখানে সরকারকে দেখানো হচ্ছে মাত্র ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এইখানে আন্ডার ইনভয়েস করে সরকারের ক্ষতি করছে এই গ্রুপ, আর ফ্লাট ক্রেতাদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকার বেশী অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করছে নিজেদের জন্য। সাধারণত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্র্রেশনে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। যা পরিশোধ করে অনেক ফ্ল্যাট মালিকের পক্ষেই রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রেজিস্ট্র্রেশন না করে ফ্ল্যাট ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফ্ল্যাট ক্রয়ের কারণে পরবর্তীতে বড় ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ক্রেতাদের। আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের মতে, রেজিস্ট্রেশন ফি কিছুটা কমালে সবাই নিয়মিত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করত। [caption id="attachment_22795" align="alignleft" width="3456"] রেজিস্ট্রেশনের সময় রুপায়ন গ্রুপ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দাবী করাতে রূপায়ন টাউন ভুইগড় ফতুল্যার অনেক ফ্লাট এখনো রেজেষ্ট্রি হচ্ছেনা। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যেখানে আড়াই লাখ টাকা খরচ পড়ে সেখানে চাওয়া হচ্ছে ছয় লক্ষ টাকার অধিক।[/caption] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে অনেক ক্রেতাই পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রেশন করছে না। আমার জানা মতে, কমপক্ষে ১০টি ভবনের বাসিন্দারা তাদের ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন করেনি। এরকম প্রায় সবগুলো কোম্পানির ক্ষেত্রেই হয়ে আসছে। তবে যারা সচেতন তারা রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত ফ্ল্যাট হস্তান্তর করে না। তবে বর্তমানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় মন্দা থাকায় রেজিস্ট্র্রেশনবিহীন ফ্ল্যাট হস্তান্তর বেশি হচ্ছে। এ বিষয়ে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফ্ল্যাটের সংখ্যা স্পষ্ট না হলেও এর সংখ্যা অনেক। আমরা এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারকে বলে আসছি। আমাদের দাবি রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ৭ শতাংশ হার নির্ধারণ করা হোক। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, একটি ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রায় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ খরচ পড়ে। এগুলো হলো- গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর ৩ শতাংশ।

ডেভেলপারদের অতিরিক্ত চার্জের কারণে শতভাগ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে না ক্রেতারাঃ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রেই ডেভেলপাররা সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।  

রিহ্যাবের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১ হাজার ৭৪৯টি, অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১২ হাজার ১৮৫টি। ২০১০ সালে বিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৯২টি এবং অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৩ হাজার ১৮টি। সে হিসেবে মন্দা বাজারে এবছরও দেড় হাজারের নিচে ফ্ল্যাট বিক্রি হবে না। যদি ২০ শতাংশ ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন না হয়। তবে তার সংখ্যা হবে ৩০০টি। যার রেজিস্ট্রেশন ফি হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। পরিমাণটি যে এর চেয়ে বাড়বে না তা বলা যায় না। এছাড়াও রেজিস্ট্রেশন এড়াতে আইনের বিভিন্ন গলিপথ ব্যবহার করে ফ্ল্যাট মালিকরা।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.