Home অর্থনীতি কৃষি অর্থ বাণিজ্য

কৃষি অর্থ বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে ফারমার্স ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে ফারমার্স ব্যাংক ফখরুল ইসলাম | ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬  image ঋণের তথ্য গোপনের দায়ে বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংককে জরিমানা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত তা আদায় করতে পারছে না। ফারমার্স ব্যাংক জরিমানা না দিতে আদালতে গেছে। আদালত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট আবেদন করার ঘটনা দেশে এটাই প্রথম বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিরও সভাপতি। গত রোববার এই কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন চেয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি নানা অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফারমার্স ব্যাংকের পক্ষে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জানুয়ারি বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেন। একই দিন ফারমার্স ব্যাংকের আইনজীবী অনুপম বিশ্বাসের নোটসহ বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়ে তা জানায় ফারমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট আবেদন করার ঘটনা দেশে এটাই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী গতকাল সোমবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জরিমানা আরোপের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে আসা ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়মের চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইবিএল সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ, কাজী ইক্যুইটিজ, বিডি সিকিউরিটিজ ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল নামক ছয়টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ফারমার্স ব্যাংকের ঋণের স্থিতি ৩৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ব্যাংকের শাখাগুলোতে তা ‘ঋণ ও অগ্রিম’ হিসেবে দেখানোর পরিবর্তে ব্যাংক দেখিয়েছে ‘অন্যান্য বিনিয়োগ’ হিসেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুনভিত্তিক ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাতের নেতিবাচক চিত্র আড়াল করতেই ফারমার্স ব্যাংক এ কাজ করেছে, যা আসলে উইন্ডো ড্রেসিং (হীন স্বার্থে তথ্য বাড়িয়ে-কমিয়ে দেখানো)। গত ২০ অক্টোবর এক চিঠিতে ফারমার্স ব্যাংকের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফারমার্স ব্যাংক ৩ ডিসেম্বর জবাব দেয়, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা সন্তোষজনক মনে হয়নি। জবাবে ফারমার্স ব্যাংক অপেশাদারি আচরণ করেছে এবং তথ্য আড়ালের চেষ্টা করেছে। ৩ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংককে এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে দেয়, ব্যাংক সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে ও পরিকল্পিতভাবে ঋণের তথ্য গোপন করায় ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১০৯ (১১) ধারা অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। ১০ দিনের মধ্যে চেকের মাধ্যমে এ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, দণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল অফিসের সঙ্গে রক্ষিত ফারমার্স ব্যাংকের হিসাব থেকে তা বিকলন করা হবে। অনিয়মটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর কথা বলা হয়। এ নির্দেশ আগেও একবার দেওয়া হয়েছিল বলে চিঠিতে ফারমার্স ব্যাংককে স্মরণ করিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর, এসবের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে যায় ফারমার্স ব্যাংক। ফারমার্স ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী অনুপম বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে গতকাল রাতে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক জরিমানা আরোপ করেছে সমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্বপ্রণোদিতভাবে।’ জরিমানা আরোপের আগের প্রক্রিয়াগুলোও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুসরণ করেনি বলে অনুপম বিশ্বাস মনে করেন। তবে এ নিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়বস্তু উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও জবাব দেননি তিনি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোশতাক আহমেদের বাসায় ফোন করা হলে বলা হয়, তিনি বাসায় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতে যে কেউ যেতেই পারেন, সেটা তাঁর অধিকার। কিন্তু সংক্ষুব্ধ হলে আগে সাধারণত পরিচালকেরা আদালতে যেতেন। জরিমানা না দিতে কোনো ব্যাংক আদালতে গেছে, সে রকম আমার মনে পড়ে না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন উচিত হবে, ভালো আইনজীবী নিয়োগ করে আদালতে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা। আরও কিছু অনিয়ম: ৩ জানুয়ারির চিঠিতে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোশতাক আহমেদকে আরও কিছু অনিয়মের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের নেতিবাচক তথ্য-উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও রুবেল ব্রাদার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, নির্বাহী কমিটি এবং শাখা জেনেশুনে আমানতকারীদের অর্থকে ঝুঁকিগ্রস্ত করেছে। চিঠিতে বলা হয়, অ্যাপোলো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো মাল্টি পারপাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের জনতা ব্যাংকের একটি ঋণ হিসাব ২০১৪ সালের জুলাইয়ে শ্রেণীকৃত হলেও তিন মাস পরে সেপ্টেম্বরেই নিয়মিত হয়েছে। সিআইবি প্রতিবেদন না নিয়েই ফারমার্স ব্যাংক আরসি-এসটিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। এ থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা গেছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণসুবিধা দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করেছে। প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ খালেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রিনল্যান্ড টেকনোলজির অনুকূলে ঋণ মঞ্জুরির সীমা ১০ কোটি টাকার পরিবর্তে স্থিতি ছিল ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান অনামিকা ইন্টারন্যাশনাল ও অনামিকা এন্টারপ্রাইজকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। জামানত রাখা সম্পত্তির অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে স্কাই লিমিট এন্টারপ্রাইজ ও পারুল কনস্ট্রাকশন নামক প্রতিষ্ঠানের। রনক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিমকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ৮ লাখ ২ হাজার ডলার মূল্যের ঋণপত্র (এলসি) খুলতে দেওয়া হয়েছে। এলটিআর সীমা ৫ কোটি টাকার বিপরীতে ১৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রধান কার্যালয় আদুরী হাউজিং লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানকে ঋণের অর্থ ছাড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও শাখা তা ছাড় করেছে। ব্যাংকের শৃঙ্খলার জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। সিয়াম এন্টারপ্রাইজ, আলিফ স্টিল করপোরেশন এবং রুট ইন্টারন্যাশনাল নামক তিনটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের একটি ভবনের ৮, ৯ ও ১০ তলার প্রতি বর্গফুট ফ্লোরের মূল্য দেখিয়েছে ৩১ হাজার টাকা। অথচ ২০১৩ সালেই এ সম্পত্তি কেনা হয় প্রতি বর্গফুট ৪ হাজার ৪৮৭ টাকা হিসেবে। এ ছাড়া এইচ এম এন্টারপ্রাইজ, এলাইট টেকনোলজিস, সেঞ্চুরি ভিউ ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানগুলো এক খাতের কথা বলে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে তহবিল সরিয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকটি পুষ্প এন্টারপ্রাইজ, পাথর বিতান, মেক্সিল ফেব্রিকস, স্পিড টেকনোলজি ও ইঞ্জিনিয়ারিং, লাকি টিম্বার ও লাকি অটোডোর, জিবেক ট্রেডিং, হোটেল লেকভিউ প্লাজা, ইমেক্সিন ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযৌক্তিক মাত্রায় ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণসীমা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয় চিঠিতে। পাঠকের মন্তব্য (৭) মহম্মদ সালাউদ্দিন চার মাস পরেই ফারমার্স ব্যাংক মজা টের পাবে।   ০    ০ Masuk Uddin That's called power.   Mohammad Younus হায়রে! আর কত! রফিক, সরফদিনগর, ঝিটকা, মানিকগঞ্জ।রফিক, সরফদিনগর, ঝিটকা, মানিকগঞ্জ। ফারমার্স ব্যাংক আদালতে গিয়েও সুবিধা করতে পারবে না কারণ তারা অনিয়ম করেছে।   ০    ০ Mohammad Shakhawat Hossain বযংলাদেশে কি কেউ নেই আদালতে পিটিশন দায়ের করবে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি ব্যাংকের একটি চেয়ারম্যান কেন সঙসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন? কেন তাকে ৬০ মিনিটের মধ্যে অপসারন করা হবে না???   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোর যার মুল্লুক তার !!   G M KibriaG M Kibria থোরাই কেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকে।  

ছয় বছরে দেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৩১%

সংসদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

ছয় বছরে দেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৩১%

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ এক হাজার টন। অর্থাৎ ছয় বছরে দেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বর্তমান মৎস্যবান্ধব সরকারের গৃহীত উন্নয়নমুখী বহুবিধ কার্যক্রম এবং চাহিদামাফিক সম্প্রসারণ সেবা প্রদানের ফলে দেশের মৎস্য উৎপাদন বেড়েছে। মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, মৎস্য উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে চতুর্থ এবং অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম স্থান লাভ করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য সেক্টরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য। মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মোট কৃষিজ আয়ের ২২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং রফতানি আয়ের ২ শতাংশের অধিক আসে মৎস্য উপখাত থেকে। দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয় মাছ। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক কোটি ৭৭ লাখ বা ১১ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। এরই মধ্যে ইনস্টিটিউট থেকে রুইজাতীয় মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা বর্তমান জাতের চেয়ে ১৬ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল। এ ছাড়া দেশীয় মাছের সহনশীল মাত্রায় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট থেকে এসব মাছের চাষ ব্যবস্থাপনা ও প্রজননবিষয়ক ৪৯টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাসস জানায়, রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী মাছের উৎপাদন ৪২ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

তৈরি পোশাক রফতানিতে কর বাড়ছে ৫ গুণ

image তৈরি পোশাক রফতানিতে কর বাড়ছে ৫ গুণ: শাহ্জাহান সাজু : বাড়তি কর আদায়ের চাপ সামলাতে আসছে বাজেটে সব ধরনের পণ্য রফতানির ওপর উেস কর হার বাড়ানো হচ্ছে। তার মধ্যে রফতানির প্রধান খাত গার্মেন্ট রফতানির উেস কর হার পাঁচগুণ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সারচার্জের স্তর। প্রস্তাব থাকছে প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর কর আরোপের। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বোনাস-ভাতাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব থাকছে আসছে বাজেটে। তবে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য করপোরেট করে বড় ধরনের ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের উেস কর হার দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে এ করের হার দশমিক ৩০ শতাংশ। আর অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে তা দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যমান কর হার আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থির রাখার দাবি জানিয়ে আসছে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে গত বাজেটের আগে গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে কর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়। মূলত গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন ইস্যুতে মালিকপক্ষকে আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা রেহাই দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর আগে সব রফতানি খাত পণ্য রফতানিতে দশমিক ৮০ শতাংশ কর দিত। কিন্তু রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর হিসাব করে দেখেছে, এতে সরকারকে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আদায় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায় হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আদায় নেমে এসেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায়। এদিকে আসছে বাজেটে রফতানিতে উেস কর হার বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি বিভিন্ন আলোচনা সভায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রফতানি খাতকে সরকার অনেক কিছু দিয়েছে। এবার সরকারকে তাদের দেওয়ার পালা। সম্প্রতি অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইআরএফের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা। গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, সরকার এ খাতকে যা দিয়েছে-শুল্ক, কর আর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট মিলিয়ে সরাসরি অন্তত ৯ গুণ বেশি দিয়েছে সরকারকে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, পোশাক মালিকরা সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা হিসেবে পায় ৭১২ কোটি টাকা। অন্যদিকে গার্মেন্ট খাত গত অর্থবছরে সরকারকে ভ্যাট আর কর দিয়েছে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করপোরেট কর সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা, ভ্যাট প্রায় এক হাজার কোটি টাকা এবং রফতানিতে উেস কর বাবদ দিয়েছে সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, প্রাক-বাজেট আলোচনা সভাগুলোতে ব্যবসায়ী মহল থেকে জোর আপত্তি তোলায় সারচার্জের স্তর পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সারচার্জের সীমা আড়াই কোটি টাকা করা হতে পারে। এ ছাড়া সারচার্জের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদশালীদের নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ হিসেবে দিতে হয়। ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে, ২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ হারে এবং ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে ২৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এদিকে আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা অনেক আগেই দিয়ে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সেজন্য মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস-ভাতার ওপর কর আরোপ করার প্রস্তাব থাকবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়। এতদিন শুধু বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পুরো বেতনের ওপর কর আদায় করা হতো। অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তারা মূল বেতনের ওপর কর দিতেন। বর্তমানে ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০ হাজার কর্মকর্তা আয়কর বিবরণী জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আসছে বাজেটে কর আরোপ করা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর। এ সিদ্ধান্ত সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে থাকলে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রাতিষ্ঠানিক সব প্রাইভেট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস নবায়নকালে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর নেই। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর হার কমানো হতে পারে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ করমুক্ত। আসন্ন বাজেটে এটিকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আমেরিকান বিখ্যাত পিৎজা চেইন সাবারো’র উদ্বোধন

আমেরিকান বিখ্যাত পিৎজা চেইন সাবারো’র উদ্বোধন image বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো আমেরিকার বিখ্যাত পিৎজা চেইন SBARRO (সাবারো)। শনিবার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সাবারো’র প্রথম আউটলেটের উদ্বোধন করেন সাবারো এলএলসি, ইউএসএ’র অরেলিন অরফানিডস, ফিলিপ জোরে, নরেশ ওরলিকা ও খান বাহাদুর গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাঈন উদ্দিন আহমেদ এবং চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) গোলাম মাসুম। ইতালিয়ান রেসিপিতে নিউ ইয়র্কে চালু হওয়া বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এ পিৎজা চেইন থেকে পিৎজাপ্রেমিরা আমেরিকান বৈচিত্র্যময় পিৎজার স্বাদ নিতে পারবেন। রাজধানীর ১৫৫/এ গুলশান এভিনিউ, গুলশান-২ এ সবারোর প্রথম আউটলেটে ভোজন রসিকদের সাবারোর পিৎজার স্বাদ দিতে বাংলাদেশে কেবি ফুডস লিমিটেড (খান বাহাদুর গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান) এ আউটলেট পরিচালনা করবে। image

শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার

শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার

মহিউদ্দিন নিলয় |
শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার
প্রায় দেড় বছর পর শিল্পগ্রাহকদের নতুন করে গ্যাস সংযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে লোড বৃদ্ধি ও নতুন সংযোগ পেতে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে জমা পড়েছে প্রায় ৮০০ আবেদন। এসব আবেদন থেকে বাছাইকৃতদের সংযোগ দেয়া হবে। আগামী মাস থেকেই নতুন সংযোগ অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তবে নতুন কোনো ক্যাপটিভ পাওয়ার সংযোগ দেয়া হবে না। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মাস থেকে শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ার কথা রয়েছে। এ গ্যাস একাধিক বড় বিদ্যুেকন্দ্রের পাশাপাশি শিল্পে ব্যবহার করা হবে। নতুন বিনিয়োগ উত্সাহিত করতেই শিল্পে সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রফতানি আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে  শর্তসাপেক্ষে গ্যাস সরবরাহের এ সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি বিভাগ। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, আগামী মাসের শেষ দিকে শিল্পে ব্যবহূত বয়লারের জন্য নতুন সংযোগ দেয়া শুরু হবে। পাশাপাশি পুরনো বয়লারের লোড বৃদ্ধি করা হবে। তবে কোনো অবস্থায়ই ক্যাপটিভ সংযোগ দেয়া হবে না। প্রতিটি সংযোগের আগে গ্রাহকের তথ্য ও কারখানা এলাকা ভালোভাবে যাচাই করে দেখা হবে। জানা যায় তীব্র গ্যাস সংকট সামাল দিতে  ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে সিলেট অঞ্চল ছাড়া সারা দেশে নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পে সংযোগ দিতে ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটির আহ্বায়ক ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালে প্রায় ২০০ শিল্প সংযোগ দেয় এ কমিটি। যদিও তার আগের তিন বছরে দেয়া হয়েছে মাত্র ৪৫টি সংযোগ। এদিকে সংযোগ অনুমোদনে বিভিন্ন মহলের সুপারিশ বিবেচনায় নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক গ্রাহক আবেদনের পর কয়েক বছর অপেক্ষা করেও সংযোগ পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপের উদ্যোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষা করছি। নতুন সংযোগ পাওয়া তো দূরের কথা, পুরনো সংযোগে লোড বৃদ্ধির অনুমোদনও পাচ্ছি না। তাদের আবেদন কমিটির বিবেচনায় আসছে না।’ সংযোগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানান তারা। এ প্রসঙ্গে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে বসে আছেন অনেক উদ্যোক্তা। গ্যাস সংযোগের জন্য তাদের আবেদনও কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে। এসব গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। শুধু তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাভুক্ত এলাকায় গ্যাসের ঘাটতি আছে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ কোটি ঘনফুট। নতুন আবেদনের অধিকাংশই তিতাসের আওতাধীন রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায়। এর বাইরে চট্টগ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এদিকে বিবিয়ানা সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। চলতি মাসেই এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিবিয়ানার উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট। গতকাল এ ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ৯৯ কোটি ঘনফুট। ক্ষেত্রটির উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ সংকট কিছুটা কমবে। বর্তমানে ২৮০ থেকে ৩০০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট। বিবিয়ানা সম্পসারণ প্রকল্প চালু হলে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ২৭০ কোটি ঘনফুট।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে

image চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে তবে এর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ যা অতি নগণ্য। বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংসদকে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশর রপ্তানি আয়ের ১৯ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের হিসাব মতে, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবিদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর (ফেনী-২) এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমদে বলেন, ‘বর্তমানের দেশে সোয়াবিন তেলের আনুমানিক বার্ষিক চাহিদা ১০ থেকে ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৪ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত এবং ১০ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধিত/ অপরিশোধিত পাম ওয়েল তেল করা হয়েছে।’ মহিলা সংসদ সদস্য আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১০৭টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে জার্মানী, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইটালী, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য। কামরুল আশরাফ খানের (নরসিংদী-২) প্রশ্নের জবাবে মোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ১৪৭ জন সিআইপি (রপ্তানি) আছেন।’ মহিলা সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে বাংলাদেশের সিমেন্ট রফতানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, মালয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে সিমেন্ট রফতানি করা হয়ে থাকে। সিমেন্ট রফতানি করেই ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলার। তিনি আরও জানান, সিমেন্ট বাংলাদেশের একটি পুঁজিঘন শিল্প খাত। দেশে উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের চাহিদা পূরণ করে এখন রপ্তানি করা হচ্ছে। সরকার সিমেন্ট রপ্তানী বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের যে কোনো একটিতে ৭ দিন ব্যাপী একটি বিশেষায়ীত মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ মেলায় অন্যান্য পণ্যের সাথে সিমেন্টকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রতিবেশী দেশসমূহে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তোফায়েল বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত সিমেন্ট পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেই বেশি রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে সাফটা চুক্তির আওতায় ভারত হতে শুল্কমুক্ত রপ্তানী সুবিধা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া এলডিসি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনও শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এছাড়াও জিএসপি স্কিমের আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে শুল্কমুক্ত সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অবকাঠামোগত সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সিমেন্টের গুণগতমান নির্ণয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ফ্যাসালিটি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টা হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রপতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রফতানি বাণিজ্যে উৎসাহিতকরণে প্রতিবছর সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা হয়। বাংলামেইল২৪ডটকম

১৩ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে

image দেশে কার্যরত ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। চাহিদার অভাবে এসব টাকা তারা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে পড়ে থাকা অলস টাকা ইসলামী ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। বিশেষ করে পল্লী এলাকায় এসব টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর- এই সময়ে বেড়েছে ২ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অলস অর্থ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। এরপরের অবস্থানে আছে ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলোর। এরপরই রয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান। ব্যাংকাররা মনে করেন, দেশের অনেক মানুষ সুদভিত্তিক লেনদেন করেন না। এ কারণে তারা সঞ্চয়ী টাকা শরীয়াভিত্তিতে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রাখতে উৎসাহিত হন। যে কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। এদিকে বিনিয়োগ কম হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে অলস টাকার পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ও ইসলামী অর্থনীতি শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলজার নবী এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিনিয়োগে মন্দা থাকলেও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনও মন্দা ওইভাবে ঝেঁকে বসেনি। বরং ইসলামী ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের আমানত ও বিনিয়োগের অনুপাত ছিল ৮৬ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে তা ১ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের সাড়ে ১৯ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। বাকি সাড়ে ৮০ শতাংশ তারা বিনিয়োগ করতে পারে। ইসলামী ব্যাংকগুলো এই বিধি থেকে কিছুটা ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বেশিরভাগ ইসলামী ব্যাংকই এখন ওই সীমার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে। কয়েকটি ব্যাংক শতভাগের বেশি বিনিয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তাদের আমানত বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ, বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ এবং অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ বেড়ে সোয়া ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামী ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে এককভাবে ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে সাড়ে ৩৯ শতাংশ। এর পরই রয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান। তারা নিয়ন্ত্রণ করছে সাড়ে ১২ শতাংশের বেশি ব্যবসা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। তারা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। এর পরে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সোয়া ১২ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি এবং ইসলামী ব্যাংকিং জানালার (উইন্ডো) নিয়ন্ত্রণে দেড় শতাংশের বেশি ব্যবসা। দেশে ২৫টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম করছে। এর মধ্যে ৮টি পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংক, প্রচলিত ধারার নয়টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং শাখা খুলেছে এবং ৮টি প্রচলিত ধারার ব্যাংক আলাদা ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগ খুলেছে। এদের মোট শাখার সংখ্যা ৯০০। এর মধ্যে পল্লী শাখা ২৭৬টি এবং শহুরে শাখা ৫৮৪টি। সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। বর্তমানে ৩টি বিদেশী, ৩টি সরকারি এবং ১৯টি বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করছে। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলো হচ্ছে- ইসলামী, আইসিবি, সোস্যাল, আল আরাফাহ, এক্সিম, শাহজালাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। শুধু বিশেষ শাখা খুলে যারা ইসলামী ব্যাংকিং করছে সেগুলো হচ্ছে- সিটি, এবি, ঢাকা, প্রিমিয়ার, প্রাইম, সাউথইস্ট, যমুনা, আল ফালাহ এবং এইচএসবিসি। ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খুলেছে সোনালী, অগ্রণী, পূবালী, ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, এশিয়া এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। জনতা ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিলেও এখনও তারা কাজ শুরু করেনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। এখন তাদের আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগের বিষয়ে আরও বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও ইসলামী ব্যাংকগুলোর শাখা এখনও সারাদেশে সম্প্রসারিত হয়নি। উৎসঃ   যুগান্তর প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বাংলাদেশের পরচুলার বড় বাজার এখন আমেরিকায়

image বাংলাদেশের পরচুলার বড় বাজার এখন আমেরিকায় সুজয় মহাজন | ২৮ আগস্ট, ২০১৪ অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে নিশ্চয় সবাই চেনেন। হলিউডের এই তারকা তাঁর অভিনয়গুণে বিশ্বজুড়ে এখন বহুল পরিচিত। বাংলাদেশেও তাঁর ভক্তকুলের অভাব নেই। তবে এই তারকা যে পরচুলা ব্যবহার করেন, এটা জানেন কি? র্যাংকার নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পরচুলা ব্যবহারে বিশ্বতারকাদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জোলির নামটি। শুধু অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নন, বিশ্বতারকাদের অনেকেই এখন ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে পরচুলা ব্যবহার করেন। অবশ্য শুধু পরচুলা নয়, ফ্যাশনের জন্য এখন কৃত্রিম ভ্রু ও চোখের পাতার লোমের ব্যবহারও ক্রমেই বাড়ছে পশ্চিমা দেশগুলোতে। আর কৃত্রিম এসব উপকরণ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশেও। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে এসব উপকরণের রপ্তানিও বাড়ছে। ফ্যাশনের প্রয়োজনে মানুষ ছাড়াও পরচুলার বহুল ব্যবহার রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুতুলে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মার্কিন ডলারের পরচুলা, কৃত্রিম ভ্রু ও চোখের পাতার লোম রপ্তানি হয়েছে। ডলারের বিনিময় মূল্য ৭৭ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় রপ্তানির এই পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় নয় কোটি টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বাংলাদেশে এসব পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে চারটি। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানই গড়ে উঠেছে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা বা ইপিজেডে। তিনটি প্রতিষ্ঠানই চীনের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উত্তরা ইপিজেডে রয়েছে এভারগ্রিন প্রোডাক্টস, ঈশ্বরদীতে এমজেএল কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ও মংলায় রয়েছে ওয়াইসিএল ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রি। এর বাইরে গাজীপুরেও একটি পরচুলা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের চুল প্রস্তুত ও রপ্তানি করে। পিচ হিসেবে চুল রপ্তানি হয়। ইপিজেডের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা জানিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠান এ দেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে। বেপজার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিন্তে আলমগীর প্রথম আলোকে জানান, ২০১০ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত এভারগ্রিন প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরি গত জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২০৮ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে রপ্তানি শুরু করা এমজেএল কোম্পানিটি গত জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ তিন হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮৫ লাখ ২১ হাজার ডলারের পরচুলা, কৃত্রিম ভ্রু ও চোখের পাতার লোম রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি টাকার রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনেবল পরচুলার বিশাল এক বাজার গড়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আফ্রিকায় এই বাজারের বিস্তৃতি ক্রমেই বাড়ছে। আফ্রিকায় পরচুলার বাজারের বিস্তৃতির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ওই সব দেশের ছেলেমেয়েদের চুলের গড়ন থাকে বেশ ছোট ছোট। তাই সেখানকার মেয়েরা এখন ওইসব চুলের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের পরচুলা ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছেন। ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, পরচুলা, ভ্রু ও চোখের পাতার কৃত্রিম লোমের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও আফ্রিকার একাধিক দেশ। প্রাইস মেশিন নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, আমেরিকার বাজারে মানভেদে পরচুলার খুচরা মূল্য ১০ থেকে ৪৫৭ ডলার পর্যন্ত। তবে দেশ ও মানভেদে দামের আরও রকমফের রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরের এ খাতের ৮৫ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলারের রপ্তানির মধ্যে ৪৮ লাখ ডলারের রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর যুক্তরাজ্যে হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ডলারের পণ্য। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এক কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৭৩ লাখ ডলারের পণ্য গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ লাখ ডলারের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, নিয়মিত ব্যবহারের বাইরে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় বড় আয়োজন যখন হয়, তখন এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। দর্শকেরা নানা সাজগোজ করে মাঠে উপস্থিত হন। সেসব সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে নানা রঙের পরচুলার ব্যবহারটিই বেশি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, কোরিয়া, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এ ধরনের পণ্য তৈরি হয়, পরে যা আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বাংলাদেশে পরচুলার কাঁচামাল হিসেবে সর্বাধিক ব্যবহার হয় সিনথেটিকের। চীন, জাপান ও কোরিয়া থেকেই সর্বাধিক কাঁচামাল আমদানি করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সূত্র : প্রথম আলো

‘বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো’

‘বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো’ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ চলছে। তাদের পরিকল্পনা থেকে একচুলও সরে আসা হয়নি। image তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলীসহ ৩০ জনের প্রতিনিধি দল মাওয়ায় এসে কাজ শুরু করেছেন।’ ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ চায়নাতে অব্যাহত রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিছু অবকাঠামো সেখান থেকে তৈরি করে এনে এখানে সরাসারি স্থাপন করা হবে। আগস্টের মধ্যেই সেতু নির্মাণের জন্য নদী শাসনের কাজের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হবে। সেতুর কাজ ও নদী শাসনের কাজ পাশাপাশি চলবে বলে জানান মন্ত্রী। পরে মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সাইড পরিদর্শন করেন। এরপর শিমুলিয়ায় মাওয়া ফেরিঘাট স্থানান্তরের কাজ পরিদর্শন করেন যোগাযোগমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জিলানীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চূড়ান্ত হচ্ছে বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আইন

image উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বীমা খাতকে আরো গতিশীল করতে চূড়ান্ত করা হচ্ছে বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একাডেমি আইন ২০১৪। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডার থেকে আইনটির ‘খসড়া’র উপর সংশোধন সুপারিশ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) খসড়া আইনের ২ (ঝ), ৩ (৭) ও (৮) যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে, এছাড়া ৪ (৭), ৬ (খ) (ঙ) (চ) (ছ) (জ) (ঞ), ৭ (৩), ৮ (১) (৪) (৬), ৯ (১), ১১ (১), ১১ (৪) (ঘ), ১৩ (১) (খ) (ঞ) এবং ১৩ (১) (ছ) এর উপর সংশোধনী সুপারিশ দিয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।  বিষয়টি বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য মো. কুদ্দুস খান ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক এফ কামাল উদ্দিন। আইডিআরএ তাদের প্রস্তাবে খসড়া আইনের ২ (ঝ) যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। তাতে বলা আছে, ‘কর্তৃপক্ষ’ বলতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে বুঝাবে। এছাড়া ধারা ৩ (৭) এ অভিজ্ঞ বিদেশি প্রশিক্ষকও একাডেমীর প্রশিক্ষক হতে পারবেন এবং একই ধারার উপধারা (৮) এ প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রত্যেক বীমা করপোরেশন/কোম্পানি একাডেমির সদস্য হতে পারবেন। সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ বীমা একাডেমির পরিচালনায় প্রতি বছর একাডেমির তহবিলে চাঁদা প্রদান করবে। যারা সদস্য হবে না তারা সহযোগী সদস্য হবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রতিবছর একাডেমির তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবে।’ নতুন এ আইন সম্পর্কে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক এফ কামাল উদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একাডেমি আইন ২০১৪ খসড়া তৈরি হয়েছে। আজ এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় সকল স্টেক হোল্ডারদের ডেকেছেন। আমরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এতে শিক্ষা, বাণিজ্য, আইন মন্ত্রণালয়, ইনসিওরেন্স একাডেমি, বীমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, বীমা অ্যাসোসিয়েশনসহ সকল স্টেক হোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। আমাদের মতামত দিয়েছি। সবাই সবার মতামত দিয়েছেন। এ মতামতের যাছাই বাছাই করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। এবং পরবর্তীতে এটি আইন হিসেবে পূর্ণতা লাভ করবে।’ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক বলেন, ‘এ আইনের ফলে বাংলাদেশের ইনসিওরেন্স খাত আরো সমৃদ্ধ হবে। এর ফলে দেশের বীমা শিল্প উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। একাডেমি আরো বেশি মান সম্মত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ দিয়ে উচ্চ ডিগ্রি দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে।’ এ আইনের ফলে বীমা খাত নতুন গতি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা সংশ্লিষ্টরা। আর সে জন্য আইনটি করা হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন আইডিআরএ সদস্য মো. কুদ্দুস খান। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানে দেশের বীমা খাতকে তৈরি করতেই এ আইন হচ্ছে। এর জন্য কয়েকটি দেশের আইনকে নমুনা হিসেবে ধরা হয়েছে। যার ভিত্তিতে খসড়া তৈরি করা হয়েছে এবং আমাদের মতামত চেয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া আরো অনেকে দিয়েছেন। সব যাছাই করে সহসায় আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।’ বাংলামেইল২৪ডটকম/

প্রবাসী আয়ে ফের রেকর্ড

প্রবাসী আয়ে ফের রেকর্ড image  চলতি বছরের জুলাইয়ে আসা মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিএম আবুল কালাম আজাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরো জানানো হয়, জুলাইয়ে আসা মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত জুন মাসের তুলনায় প্রায় ১৫.১৯ শতাংশ এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসের (১২৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার) তুলনায় ১৯.৬৭ শতাংশ বেশি। এদিকে ২০১৪ সালের প্রথম সাত মাসে প্রবাসী রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯৩ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার। যা ২০১৩ সালের প্রথম সাত মাসের (৮২৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার) তুলনায় ৭.৭১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত (রিজার্ভ) বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলামেইল২৪ডটকম/

ইইউতে নিষিদ্ধ ভারতীয় আম বাংলাদেশে

ইইউতে নিষিদ্ধ ভারতীয় আম বাংলাদেশে

ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের আম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তা নতুন বাজার করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশে। গত শুক্রবারই ভারতের রাজ্যটি থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে তিন মেট্রিক টনের প্রথম চালান যাত্রা শুরু করেছে বলে সোমবার ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ‘ম্যাঙ্গোজ ফ্রম উড়িষ্যা নাউ বাউন্ড বাংলাদেশ’ (উড়িষ্যার আম এখন বাংলাদেশমুখী) শিরোনামের এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যখন উড়িষ্যার আম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করল, তখন এ আম বাংলাদেশে তার নতুন ঠিকানা খুঁজে নিল।’ ভারতের রপ্তানি করা আমের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছি পাওয়ার কারণে সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভারতের আম আমদানিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ইসিভুক্ত দেশগুলোতে ভারতীয় আমের ২০৭টি শিপমেন্টেই এই মাছির সন্ধান মেলে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতের আম এখন আসছে বাংলাদেশে। ভারতের দুসেরি এবং আম্রপালি জাতের আমের প্রথম চালানটি গত শুক্রবার ট্রেনযোগে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে আছে। চলতি মৌসুমেও রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে ৫০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করবে উড়িষ্যা। দেশটির উদ্যান পালনবিদ্যা অধিদপ্তরের পরিচালক সঞ্জীব চাধা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশে আপাতত তিন মেট্রিক টন আম পাঠাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশে ভারতের আমের চাহিদা ও বাজারের বিস্তার যাচাই করে প্রয়োজনে পরে ভারত আরও আম পাঠাবে বাংলাদেশে। এদিকে দেশটির আলফাঁসো জাতের আমের ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাসহ আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটানোর জন্য আমের বাণিজ্যিকীকরণের ব্যাপারে কৌশলী হচ্ছে ভারত। বিশেষ করে আমের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেটজাতকরণের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। Why the EU Alphonso mango ban's sweet news in India Read more: http://www.ctvnews.ca/business/why-the-eu-alphonso-mango-ban-s-sweet-news-in-india-1.1809895#ixzz316GlsRSt
http://www.ctvnews.ca/business/why-the-eu-alphonso-mango-ban-s-sweet-news-in-india-1.1809895

২৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে ৫ অপারেটর

২৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে ৫ অপারেটর
ঢাকা: দেশের মোট ছয়টি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ব টেলিটক ছাড়া অন্য পাঁচটি মোবাইল অপারেটর এ পর্যন্ত (জুন ২০১২) ২ হাজার ৫৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মোবাইল অপারেটরগুলো হলো- গ্রামীণফোন লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড, রবি অজিয়াটা লিমিটেড, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড এবং প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (সিটিসেল)। মন্ত্রীর দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, গ্রামীণফোন লিমিটেড ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ৩ হাজার ৯০ কোটি ৯০ লাখ ও ট্যাক্স দিয়েছে ১ হাজার ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা (জুন ২০১২ পর্যন্ত) ৪৫০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আর এই সময়ের মধ্যে অপরেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে এক হাজার ১২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ ভ্যাট ও ১২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা (জুন ২০১২ পর্যন্ত) ২৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর এই সময়ের মধ্যে অপরেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে এক হাজার ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। রবি অজিয়াটা লিমিটেড ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ২০২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ভ্যাট ও ২১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছে। অন্যদিকে রবির কাছে সরকারের পাওনা (জুন ২০১২ পর্যন্ত) ২১৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর এই সময়ের মধ্যে অপরেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ২০১৩ সাল পর্যন্ত এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড ৪২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও ৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা (জুন ২০১২ পর্যন্ত) ২১ কোটি টাকা। আর এই সময়ের মধ্যে অপরেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে ৩৭৮ কোটি টাকা। প্যাসিফিক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ভ্যাট ও ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছে। অন্যদিকে সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা (জুন ২০১২ পর্যন্ত) ২৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর এই সময়ের মধ্যে অপরেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে রাষ্ট্রয়াত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক লিমিটেড ওই সময়ের মধ্যে ১১৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ভ্যাট  এবং ৪ কোটি ২ লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছে। অন্যদিকে অপারেটরটির কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৯৬৬ কোটি ৭৮ কোটি টাকা। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন থেকে মোবাইল ফোনের কলরেট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা/মিনিটি থেকে সবোর্চ্চ ২ টাকা/মিনিট নির্ধারণ করা আছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো নির্ধারিত এই কলরেটের মধ্যে তাদের ব্যবস্য পরিকল্পনা করে থাকে যা কমিশন থেকে নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ১০ সেকেন্ড পালস চালুর ফলে গ্রাহকরা কথা বলায় অনেক স্বাধীনতা ভোগ করছে। যেখানে ২০০১ সালে গড় কলরেট ছিল ৯ দশমিক ৬০ টাকা/মিনিট সেখানে বর্তমানে গড় কলরেট ৮৩ পয়সা। এটি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন কলরেট। তাই মোবাইল ফোনের কলচার্জ কমানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।’ বাংলামেইল২৪

জিএসপি পেতে শর্ত পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ’

20140212-004145.jpg

জিএসপি পেতে শর্ত পূরণে সক্ষম বাংলাদেশ' মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা একথা জানান। সমকাল প্রতিবেদক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা জানিয়েছেন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই পূরণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সক্ষম হয়েছে। ড্যান ডব্লিউ মজীনা। ফাইল ছবি। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে সাংবাদিক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন-এর পোশাক শিল্পের উপর নির্মিত ‘প্রাইস ট্যাগই সব নয়’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান। মজীনা বলেন, "রানা প্লাজা ও তাজরিন গার্মেন্টের মতো ঘটনার পূনরাবৃত্তি আমরা আর চাই না, কখনোই চাই না। জিএসপি সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেই সক্রিয় ভুমিকা রাখতে হবে।" তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, মজুরি কাঠামো পরিবর্তন ও শ্রম আইনের সংশোধনে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে।" অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই পূরণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সক্ষম হয়েছে। বাকি শর্তগুলোও শিগগিরই পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে যে শর্তগুলো দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে একটি ছিল পরিদর্শক নিয়োগ। আগামী মার্চ এপ্রিলের মধ্যে পিএসসি’র মাধ্যমে ২শ’ পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হবে। সাংবাদিক ফরিদ হোসেন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নারী নেত্রী শিরিন আক্তার এমপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর, বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজ বিন মাহমুদ ও ফারিস্ট নিটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ মঈন।

যে কারণে ব্যর্থ বাণিজ্যিক মিশন

20140207-085052.jpg

06 Feb, 2014 রপ্তানী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলো। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যর্থতার তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৫ বাণিজ্যিক মিশন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও মিশন অফিসের কাছে সহযোগিতা চেয়ে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রপ্তানীকারকদের। আর এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনীতিসহ নানা কারন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সব সরকারের আমলেই মিশনগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়। আর এ নিয়োগ পান ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠজন কিংবা আত্মীয়স্বজনরা। একারণে রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরা উদ্যোগী হন না। এছাড়া তাদের দক্ষতারও অভাব রয়েছে। শীর্ষ ব্যবসায়ীরা নেতারা জনান, মিশনগুলো কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক দক্ষতার বিষয়টি প্রাধান্য দেয় না। এ পদে ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগের সুারিশ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইকোনমিক কাউন্সিলর পদে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। ফলে এসব কর্মকর্তা বিদেশে বাংলাদেশের পণ্য তুলে ধরতে পারছেন না। আবার নতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ মিশনে জনশক্তিরও অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মিশনের কর্মকর্তারা জানেন না তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? রপ্তানীকারকদের দাবি, নতুন সাতটিসহ বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোট ৫১টি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে যে ২৫টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সেগুলোতে বিশেষ তদারকি টিম গঠনের দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। অভিজ্ঞদের নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত মিশনগুলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলেও মনে করেন তারা। এ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, বাংলাদেশী পণ্যের বাজার ও ব্যবসা সম্প্রারণের জন্য নতুন কার্যকর ভূমিকা রাখা মিশনগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু মিশনগুলো আশানুরুপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। দেশের বেসরকারি খাত এসব মিশনের মাধ্যমে তেমন কোন উপকারও পাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, ইপিবি এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সম্বনিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন শাহজাহান খান। ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিষ বসু জানান, সম্প্রতি ব্যর্থ মিশনগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বিশ্বমন্দার কারণে অনেক মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না বলে মনে করছেন তিনি। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এজন্য রপ্তানী বাড়াতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের কর্মপরিধি ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইপিবির প্রতিবেদন অনুয়ায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ মিশনের তালিকায় রয়েছে ক্যানবেরা, হংকং, দুবাই, মস্কো, রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, তেহরান, ইসলামাবাদ, জাকার্তা, ম্যানিলা, কাঠমান্ডু, রাবাত ও ব্রাজিল। এছাড়া ১৪টিতে গত ছয় মাসে রফতানি কমেছে। এগুলো হচ্ছে ভারত, দুবাই, মস্কো, রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ম্যানিলা, কাঠমান্ডু, রাবাত ও ব্রাজিল। প্রতিবেশী নেপালে রফতানি আয় কমেছে ৫২ শতাংশ। এর বাইরে দেশের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১২টি কমার্শিয়াল উইয়িং।উৎসঃ রাইজিংবিডি

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.