বৈশ্বিক উষ্ণতার মূলে মানুষ

বৈশ্বিক উষ্ণতার মূলে মানুষ
বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মানুষই দায়ী বলে মতপ্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে ১৯৫০ দশক থেকে মানুষের কার্যকলাপের ফলেই সবুজ এ গ্রহটি ক্রমশ প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ৯৫ শতাংশ বিশ্ব উষ্ণায়ন মানুষের কারণে হয়ে থাকে। আর এ বিষয়টি নিয়েই অর্থাত্ বিশ্ব জলবায়ুর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। বিবিসি।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৫টি দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের পর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনটিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়টি বিস্তারিত ভৌত প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হবে।
এ প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি একমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে মানুষের দায় যে সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৯৫০ দশক থেকে মানুষের কার্যকলাপই যে এর জন্য দায়ী সে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তারা।
সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলে সঞ্চিত বরফের পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে উন্নতির ফলে প্রাপ্ত ফল এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও পরিষ্কার করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে দীর্ঘকালীন বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধি ২ সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা এর বেশি বেড়ে গেলে পৃথিবীর পরিবেশে বিপজ্জনক পরিবর্তন দেখা দেবে। তবে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইপিসিসির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর জ্য প্যাসকেল ভ্যান পার্সেলি।
সূত্রঃ সকালের খবর

ইটের বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ইটের বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ image প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে অাসা অতিথিদের একাংশ। ছবি: প্রথম অালো কৃষিজমি নষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতি করে ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব নতুন উপকরণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে। সরকারের যেসব বিভাগ অবকাঠামো নির্মাণ ও তা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর সংশোধন করতে হবে। আজ শনিবার প্রথম আলো ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সহযোগিতা দেয় বিশ্ব পরিবেশ তহবিল (জিইএফ) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। গোলটেবিলের শুরুতেই ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, সরকারিভাবে দেশে বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা ৬ হাজার ৯৩০টি আর বছরে দেশে ইটের চাহিদা দেড় হাজার কোটি পিস। এই ইট প্রস্তুত করতে ১২৭ কোটি সিএফটি মাটির দরকার হয়, যার বেশির ভাগই কৃষিজমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) থেকে সংগ্রহ করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে ইটের চাহিদা বাড়ছে। রিজওয়ানা বলেন, ইট প্রস্তুত খাত দেশের গ্রিনহাউস গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস; এ খাতে বছরে ২২ লাখ টন কয়লা ও ১৯ লাখ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়, যা বছরে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টন গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। তিনি বলেন, ভারতে ইটভাটা একটি মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী বা লাল ক্যাটাগরির শিল্প এবং ইটভাটার জন্য মাটি তুলতে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করতে হয়। বাংলাদেশে এখনো তা কম দূষণকারী বা কমলা-খ হিসেবে চিহ্নিত এবং মাটি কাটতে কোনো ইআইএ করতে হয় না। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মন্ডল বলেন, বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। ফলে কৃষি জমি থেকে মাটি নিয়ে, পরিবেশ ধ্বংস করে ও স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি করে যেভাবে ইটভাটাগুলো চলছে তা চলতে পারে কি না, তা আমাদের ভাবতে হবে। সরকারি বিভিন্ন কাজে ইটের বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত হওয়া উপকরণ ব্যবহারের ব্যাপারে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক তাঁর উপস্থাপনায় ইটের বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু নির্মাণ উপকরণের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী ইট তৈরিতে মাটির ব্যবহার ২০২০ সালের মধ্যে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নদী খনন থেকে উঠে আসা বালু দিয়ে ইটের বিকল্প উপকরণ প্রস্তুত করার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উপকরণ দিয়ে অনেক উঁচু ভবনও নির্মাণ করা যাবে। যেখানে দেয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন অংশে কোনো লাল ইটের ব্যবহার লাগবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসিত কুমার বাউল বলেন, সরকারের কোনো একটি মধ্যম মানের প্রকল্প ইটের বিকল্প উপাদান দিয়ে নির্মাণ শুরু করলে তা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে। যারা ইটের বিকল্প উপাদান প্রস্তুত করছে তাদের পণ্য বিক্রি বাড়বে। ফলে বিকল্প উপকরণ খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশ অটো ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নওশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা লাল পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসেবে বালু দিয়ে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ইট প্রস্তুত করেছি। ওই কারখানা স্থাপনে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু পরিবেশবান্ধব ওই সাদা ইট কেউ কিনছে না। সরকারের কথা মানতে গিয়ে আমি যেন অপরাধী হয়ে গেলাম।’ বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ইট তৈরিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারকে আগে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, পরে এসে তারা আবার যাতে না বলে এই পদ্ধতি বাতিল, এভাবে ইট প্রস্তুত করা যাবে না। ভবিষ্যতে মাটি দিয়ে আমরা ইট বানাতে পারব কি পারব না? যদি না পারি তাহলে এখনকার আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েই অন্য উপকরণের কাঁচামাল ব্যবহার করে ইট প্রস্তুত করা যাবে কি না, এসব ব্যাপারে আইনে দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।’ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত নানা ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিবছর সাড়ে তিন হাজার মানুষ বায়ুদূষণজনিত অসুখে মারা যায়। এই বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোলায়মান হায়দার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ইটভাটা-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ইটভাটাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোহেল আহমেদ বলেন, ইটভাটা আইনে বলা হয়েছে এ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো পরিবেশ আদালতে মীমাংসা হবে। কিন্তু শুধু চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পরিবেশ আদালত এবং ঢাকায় আপিল আদালত আছে। তাই সব জেলায় পরিবশে আদালত স্থাপনের বিষয়টিকে আইনে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ আইনে ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি যুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইটভাটাগুলোর শ্রমিকদের অবস্থা নিয়মিত তদারকি করা উচিত। ইউএনডিপির কর্মসূচি এনালিস্ট আলমগীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইটভাটা আইন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইটের বিকল্প তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে একত্রে কাজ করার সুপারিশ করেন তিনি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাছুমুর রহমান ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ইটভাটাগুলোতে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক সময় ইটের ঢিল খেতে হয়েছে। ফলে আইন এমনভাবে করতে হবে যাতে তা প্রয়োগের সুযোগ ও জনবল কাঠামো থাকে। ইটভাটা এলাকার ভুক্তভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিবাসী আলতাফ হোসেন বলেন, ইটভাটার কারণে তাদের এলাকায় রোগ-বালাই বেড়ে গেছে। আমের ওজন ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সঞ্চালনার সময় বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ—প্রথমত, ইটভাটায় বায়ুদূষণমুক্ত ইট তৈরির প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, মাটির ইটের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে বালিসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ইট তৈরি; তৃতীয়ত, এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকে গুণ, মান ও দাম সবদিক থেকে যে ভালো, তা ব্যাপক প্রচার করা। এগুলো করতে পারলে ইটভাটার মালিক থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ইউএনডিপির গ্রিন ব্রিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ বিন মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এনার্জি স্টাডিজের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান খান, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মহাসচিব আবু বকর। সূত্র: প্রথম আলো

আগামী প্রজন্ম হবে পরিবেশ সচেতন

আগামী প্রজন্ম হবে পরিবেশ সচেতন

আগামী প্রজন্ম হবে পরিবেশ সচেতন
‘আগামী প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন নেতারাই গড়ে তুলতে পারে একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ। ‘ইয়ুথ ইন অ্যাকশন : গ্রীণ ইয়ুথ সিটিজেন’ কর্মশালার বক্তারা উপরোক্ত বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)  ২৩ নভেম্বর, ২০১৩ তার প্রধান কার্যালয়ে কর্মশালাটির আয়োজন করে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, এবং এসডোর চেয়ারপারসন, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষিত দক্ষ এবং নিবেদিত পরিবেশ সচেতন নেতা গড়ে তোলার জন্য পরিবেশ আন্দোলনে আগামী প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” এসডোর সেক্রেটারী জেনারেল, ড. শাহরিয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রীণক্লাব উদ্বোধনের ঘোষণা দেন। তিনি গ্রীণক্লাব কার্যক্রম সর্ম্পকে বলেন, “এই ক্লাবটি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবসমাজকে নিয়ে পরিবেশ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতন নেতা তৈরীর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” তিনি আরো বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বে মডেল রাষ্ট্র।” প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই ঢাকা, নাটোর, রংপুর, মুন্সীগঞ্জ এবং রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলে গ্রীণ ক্লাব প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। এসডোর নির্বাহী পরিচালক এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, সিদ্দীকা সুলতানা, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জুসি ডায়না বিশ্বাসসহ ষ্ট্যামফোর্ড ইউনিভাসিটি এবং সুরভী স্কুল থেকে গ্রীণ ক্লাবের ২২ জন সদস্য উপস্থিত ছিল।

ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মধ্যে শেষ হলো জলবায়ু সম্মেলন

ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মধ্যে শেষ হলো জলবায়ু সম্মেলন

ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনের শেষ দিনে এমন এক চুক্তি হলো, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক৷ বনভূমি রক্ষায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ দিতে রাজি হলেন বিশ্ব প্রতিনিধিরা৷
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্ব নেতারা নতুন একটা চুক্তিতে পৌঁছাবেন – এমনই লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেয়া প্রতিনিধিদের৷ কিন্তু এতটা না হলেও বন উজাড় রোধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছেন প্রতিনিধিরা৷ এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার ও সংস্থাগুলোকে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে৷ কেননা বনভূমিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে কমবে কার্বন নিঃসরণ, কমবে বৈশ্বিক উষ্ণতাও৷ এই চুক্তিকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রী এড ডেভি৷ এই নতুন চুক্তি অনুযায়ী,ত গ্রিন ক্লাইমেট তহবিল বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করবে৷ কার্বন নিঃসরণ রোধে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হিসেবে এরই মধ্যে নরওয়ে সরকার ব্রাজিল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো এবং ইন্দোনেশিয়াকে ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে৷ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার সম্মেলনে আলোচনা হয় রাতভর৷ কিন্তু কোনো চুক্তি না হওয়ায় ১৩টি বেসরকারি পরিবেশ সংগঠনের ৮০০ প্রতিনিধি সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যান৷ অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক উইনি বাইআনইমা আইপিএস-কে বলেছেন, তাঁরা আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেছেন কারণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে সেখানে কোন আলোচনাই হয়নি৷ তাঁদের মতে, ১১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই সম্মেলনে গত কয়েকদিনে আলোচনায় কোনো অগ্রগতিই হয়নি৷ সম্মেলনে ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন৷ কয়লা, তেল ও গ্যাস পুড়িয়ে কার্বন নির্গমন ২০১৫ সালের মধ্যে কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর লক্ষ্যেই জাতিসংঘের এই সম্মেলনে আলোচনা হয়৷ বর্তমানে যে হারে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে তাতে খুব শিগগিরই বৈশ্বিক তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা৷ বলছেন, এর ফলে ঝড়, খরা, বন্যা-র মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বেড়ে যাবে, তেমনি অনেক বেড়ে যাবে সাগরের পানির উচ্চতা৷ সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ব্যাপারে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি৷ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি, উন্নত দেশগুলোকে বেশি পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে৷ চীন বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করে৷ এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো রয়েছে, আর ভারতের অবস্থান চতুর্থ৷ অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার জন্য উন্নত দেশগুলো তাদের শিল্প-কারখানার উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী, যে কারণে বাড়ছে কার্বন নির্গমন৷ আলোচনায় ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার কথা ছিল৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ ব্যাপারে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে তাদের পরিকল্পনা জানাবে৷ সম্মেলনের শেষ দিন একটি খসড়া প্রস্তাব ইস্যু করা হয়, যেখানে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পেরুর রাজধানী লিমায় জলবায়ু সম্মেলনে কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা ঠিক করা হয়েছে৷ এপিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, আইপিএস)

বায়ু দূষণে ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু

বায়ু দূষণে ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু

বায়ু দূষণে ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু
বিশ্বে ক্রমেই বায়ু দূষণ মারাত্মক হয়ে উঠছে। বায়ু দূষণ শুধু প্রাণ ও প্রকৃতিরই ক্ষতি করছে না, মানুষ সরাসরি এতে আক্রান্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১২ সালে পৃথিবীতে শুধু বায়ু দূষণে আক্রান্ত হয়ে ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে বায়ু দূষণকেই স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক পরিবেশগত কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডব্লিউএইচও। WHO এর জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মারিয়া নেইরা জানিয়েছেন, “আগে যেমন ধারণ করা হত, তার চেয়েও বর্তমানে বায়ু দূষণ অনেক বেশি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। বিশেষত বিশ্ব জুড়েই হার্টের অসুখ ও স্ট্রোক বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা মারাত্মক।” বিশেষত দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলেতে এর প্রভাব ভয়ঙ্কর। ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী এসব দেশে ঘরবাড়ির ভেতরকার বায়ু দূষণ থেকে সৃষ্টি হওয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে এক বছরের মধ্যে মারা গেছেন ৩৩ লক্ষ মানুষ। আর বাড়ির বাইরের বায়ু দূষণ কেড়ে নিয়েছে অন্তত ২৬ লক্ষ মানুষের প্রাণ। জ্বালানি হিসাবে এখনও কাঠ, কয়লা, গোবরের ব্যাপক ব্যবহার এইসব দেশের বাড়ির মধ্যেকার বায়ু দূষণের মূল কারণ। ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলিতে বায়ু দূষণের ফলে মারা গেছেন ২ লক্ষ ৭৯ জন মানুষ। ডব্লিউএইচও-এর মতে সারা পৃথিবীতেই পরিবহণ এবং জ্বালানি সংক্রান্ত নীতি ও বিভিন্ন শিল্পের অস্থিতিশীল অবস্থা বাতাসে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জি নিউজ। সূত্রঃ পরিবর্তন

মানসিক রোগীর সংখ্যা দেশে ১৬ শতাংশ : পরিণত বয়সের দেড় কোটিরও...

দেশে মানসিক রোগী দেড় কোটি! Sunday, 29 August 2010 সোলায়মান তুষার: [caption id="attachment_518" align="alignleft" width="210" caption="mental health in bangladesh "]বাংলাদেশে মানসিক রোগী[/caption] দেশে পরিণত বয়সের দেড় কোটিরও বেশি লোক মানসিক রোগী। বিপুল সংখ্যক মানুষ সমস্যায় থাকলেও তাদের চিকিৎসার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। পাবনার হেমায়েতপুরে অবস্থিত একমাত্র হাসপাতালটি মানসিক রোগীর ভারে নতজানু। তাতেও নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। কয়েকটি সংস্থার জরিপে দেশে পরিণত বয়সের এক কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬২৭ জন মানুষ মানসিক রোগে ভোগছেন। এরমধ্যে গুরুতর অর্থাৎ একেবারে পাগল ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৮ জন। এছাড়া উদ্বেগজনক জটিলতায় ভোগছেন ৮৩ লাখ ৫ হাজার ৩৭০ জন। বিষণ্নতায় ভোগছেন ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৯ জন। মাদকাসক্ত পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ২৪০ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংস্থাগুলো যৌথভাবে দেশের ১৮ বয়সের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ করে। জরিপ অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ১৬.১ ভাগ মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগে। এরমধ্যে উদ্বেগজনিত ৮.৪ ভাগ, বিষণ্নতায় ৪.৬ ভাগ, গুরুতর মানসিক সমস্যায় ১.১ ভাগ ও মাদকাসক্ত রোগে ভোগছেন ০.৬ ভাগ মানুষ। জাতিসংঘের ২০০৯ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৯০ লাখ। উইকিপিডিয়ায় ‘ডেমোগ্রাফিক অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক লেখা থেকে জানা গেছে, দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের লোকের সংখ্যা মোট নয় কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ চার কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৪ জন। মহিলা চার কোটি ৫৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৪ জন। যা মোট জনসংখ্যার ৬১ ভাগ। আর ৬৫ বয়সের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ১৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৮ জন। আর মহিলা ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৫ জন। যা মোট জনসংখ্যার চার ভাগ। জন্মের পর থেকে ১৪ বছর বয়সের লোকজন মোট জনসংখ্যার ৩৪.৬ ভাগ। জরিপে এ সংখ্যা ধরা হয়নি। জরিপ অনুযায়ী প্রতি এক লাখ লোকের চিকিৎসার জন্য মাত্র ০.৪৯ ভাগ চিকিৎসক নিয়োজিত আছেন। জরিপ অনুযায়ী প্রতি এক লাখ রোগীর জন্য মাত্র ০.৪৯ ভাগ চিকিৎসক কর্মরত। এরমধ্যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত ১১৫ জন। যা প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার জন্য ০.০৭ ভাগ। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট রয়েছে একটি। তাতে ১৫০টি শয্যা রয়েছে। মানসিক হাসপাতাল রয়েছে একটি। তাতে পাঁচশ’ শয্যা রয়েছে। প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার মাত্র ০.৪ ভাগ। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্তবিভাগ রয়েছে ৩১টি। তাতে ৮১৩টি শয্যা রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভাগ রয়েছে একটি। তাতে ২০টি শয্যা রয়েছে। সাইকিয়াট্রিক চাইল্ড গাইডেন্স ক্লিনিক রয়েছে দুটি। মাদকাসক্তি বিষয়ে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে চারটি ও বেসরকারি ১৬৪টি। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারি ব্যয় স্বাস্থ্য বাজেটের ০.৪৪ ভাগ। মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষ বিচিত্র ধরনের সমস্যায় ভোগে। এরমধ্যে ৪৪টি সমস্যা উল্লেখযোগ্য। ১০ থেকে ১২টি সমস্যা গুরুতর। যেসব সমস্যা মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, উদ্বেগ, হতাশা ও বিষণ্নতা, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, এডজাস্টমেন্ট সমস্যা, সম্পর্কগত সমস্যা, অহেতুক ভয়, বিশ্বাসের অভাব, মনোযোগের সমস্যা, মনোগত সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেহজাবিন হক বলেন, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার পর যত্ন নেয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার দিক দিয়ে আমরা খুবই পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, সমপ্রতি যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে তা একপ্রকার মানসিক রোগ থেকেই হয়েছে। মানুষের বিকৃত রুচির দিকে প্রবণতা বাড়ছে। এটা একটা সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি তাতে কারও সুস্থ থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, আমাদের হাজারও রকম সমস্যা রয়েছে। এসবের সঙ্গে মানসিক সমস্যা যোগ দিয়ে আরও প্রবল আকার ধারণ করেছে। সমপ্রতি যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তাতে এটাই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পরামর্শক সালেহ সিদ্দিকী বলেন, অনেক ধরনের রোগী রয়েছে। তিনি বলেন, যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সমস্যা আরও বাড়ছে। মানুষ ক্রমেই শহরমুখী হচ্ছে। এরফলে প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে একপ্রকার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি দেশে সমপ্রতি যে কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তা মানসিক সমস্যার জন্যই। বিশেষ প্রতিবেদন দীর্ঘস্থায়ী রোগ মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক রোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি, হূদরোগ বা ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত হলে অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ একপর্যায়ে মানসিক রোগীতে পরিণত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুরারোগ্য বা প্রাণঘাতী জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের হতাশা দূর করার দায়িত্ব একাধারে চিকিৎসক, পরিবার ও সমাজের। কিন্তু দেশে এ ব্যাপারে সচেতনতা ও ব্যবস্থা কোনোটিই নেই বললেই চলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতিবছর বিশ্বের ৬০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হূদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ। সময়ের পরিবর্তনে জীবনাচরণসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশেও এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। রোগের গতিপ্রকৃতি, বিছানায় পড়ে থাকা, চিকিৎসার ব্যয়ভার, দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণা—এসবের কথা ভেবে মানুষ শঙ্কিত বোধ করে। অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। গভীর হতাশা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল বলেন, দেহ-মন এক সুতোয় বাঁধা বলেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগের সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা। পরিবার ও সমাজের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অমনোযোগের কারণে শারীরিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য-জটিলতা চোখের আড়ালে থেকে যায়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে মোহিত কামাল বলেন, এই অসচেতনতা ও অমনোযোগের কারণে আগামী ১০ বছরে বিশ্বে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে অসহায়ভাবে। এর বেশির ভাগ মৃত্যু ঘটবে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোয়। হূদরোগের আতঙ্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হূদরোগ বিশেষজ্ঞ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাকের (হূদযন্ত্রে হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়া) পর অনেক মানুষ ভয় পায়। অনেকে মনে করেন, “আমি মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছি। যেকোনো সময় মারা যেতে পারি। আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব না।” আসে হতাশা। এগুলো সাধারণ প্রবণতা।’ তিনি বলেন, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের পর ৭০ শতাংশ রোগীই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরামর্শ দিয়ে সজল ব্যানার্জি বলেন, এসব রোগীকে জীবনের আলো দেখানোই চিকিৎসকের দায়িত্ব। হূদরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি হতাশা কমানো চিকিৎসারই অংশ। তিনি বলেন, ‘আমি আমার রোগীদের বলি, “এটা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার যে আপনি বেঁচে আছেন। তবে আপনার ভয়ের কিছু নেই। আমার পরামর্শ মেনে চললে নতুন জীবন ফিরে পাবেন।” সজল ব্যানার্জি জানান, রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকদের সঙ্গে পরামর্শ (কাউন্সেলিং) করা দরকার। সময় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, সমস্যা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। এই কথা বলা চিকিৎসারই অংশ। এ বিশেষজ্ঞ জানান, একটি ক্ষুদ্র অংশের হতাশা এতটাই গভীর হয় যে তাদের মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। শরীর দেখেন হূদরোগ চিকিৎসক আর মনের চিকিৎসা করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। যন্ত্রণা থেকে হতাশা: বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আলী হোসেন বলেন, ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগেন। ওষুধে অনেক সময় সেই যন্ত্রণার উপশম হয় না। ডাক্তার, হাসপাতাল, চিকিৎসা সবকিছুর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন রোগী। আসে হতাশা। আলী হোসেন বলেন, রোগীর সমস্যা যেন পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, সেই উদ্যোগ চিকিৎসককেই নিতে হয়। তিনি দুটি উদাহরণ দেন। অনেকের পরীক্ষার আগে হাঁপানি দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ভয় দূর করার দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকে। অনেক বয়স্ক মানুষের ক্রনিক ব্রংকাইটিস আছে। শীতের সময় তা বাড়ে। অনেক সময় মানসিক কারণেও রোগটি বেড়ে যায়। সুতরাং পরিবারের এখানেও দায়িত্ব নেওয়ার আছে। দীর্ঘদিন থেকে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা করছেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, এমডিআর যক্ষ্মায় (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট—বহু ওষুধ প্রতিরোধী) আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। নিয়মিত ১৮ থেকে ২৪ মাস ওষুধ খেতে হয়। ওষুধের খরচ, হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে যাতায়াত রোগী এবং পরিবারকে হতাশ করে তোলে। আলী হোসেন বলেন, এসব রোগী ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক ও সমাজের দায়িত্ব। শুধু ওষুধ বা অস্ত্রোপচারে মানুষ সুস্থ হয় না। মানসিক সহায়তা বড় দরকার। প্রয়োজনে রোগীকে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে। সমাজের মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলী হোসেন আরও বলেন, সমাজেরও প্রস্তুত হওয়ার দরকার আছে। কেউ মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেকেই তাঁকে মানসিক রোগী বা ‘পাগল’ ভাবতে শুরু করেন। তাঁর মতে, এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থূলতা থেকেও বিষণ্নতা: বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক খাজা নাজিমউদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত মোটা মানুষ কোনো কাজ ঠিকমতো, সময়মতো করতে পারে না। কাজের মান ঠিক থাকে না। মোটা মানুষ এ জন্য অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন। এসব কারণে অনেকে সমাজ ও পরিবারের কাছে নিজেকে অপাঙেক্তয় মনে করে। একসময় তারা হতাশ হয়ে পড়ে। খাজা নাজিমউদ্দিন বলেন, ঘামের কারণে অতিরিক্ত স্থূল মানুষের শরীরের অনেক স্থানে ঘা বা চর্মরোগ হয়। সহজে তা ভালো হয় না। ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার প্রস্রাব করতে হয়। অনেকের রাতে ভালো ঘুম হয় না। এ থেকেও হতাশা জন্মে। এ দেশে স্থূলতা বিষয়ে পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন খাজা নাজিমউদ্দিন। তবে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্থূলতায় আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, স্থূলতার জন্য কাজ করতে না পারা মানুষ শুধু খায় আর ঘুমায়। এতে তাদের খাওয়া বেড়ে যায়। একসময় তারা মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। মোটা মানুষের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাজিমউদ্দিন জানান, বাংলাদেশে প্রায় ছয় শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছে। মোহিত কামাল বলেন, প্রতি চারজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন বিষণ্নতায় ভোগে। বিষণ্নতার কারণে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে ৩০ শতাংশ। আবার ডায়াবেটিসের সঙ্গে বিষণ্নতা যুক্ত হলে চিকিৎসা-খরচ বেড়ে যায় ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ। ------------- পুরানো খবর দেশে ১৬ শতাংশ লোক মানসিক রোগী ঢাবিতে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ০০ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বিশ্বের ৬০ ভাগ লোক বিষণ্নতায় ভুগছে। বাংলাদেশে ১৬ দশমিক ১ ভাগ পূর্ণবয়স্ক লোক এবং ১৮ দশমিক ৩৫ ভাগ শিশু-কিশোর মানসিক রোগ ও সমস্যায় ভুগছে। এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেও তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য দেশে মাত্র ১২৩জন সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন। এছাড়া, ৩২জন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও ১০১জন অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রয়েছেন। গতকাল বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দু'দিনব্যাপী গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দু'দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, দেশে সাইকিয়াট্রিক নার্সিং এবং সাইকিয়াট্রিক সোস্যাল ওয়ার্কের জন্য কোন প্রশিক্ষণ কোর্স নেই। বাংলাদেশে মানসিক রোগ বিষয়ে অজ্ঞতা ও কু-সংস্কার এবং মানসিক রোগীর প্রতি অবহেলা সর্বত্র বিদ্যমান। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সর্বত্র সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো: গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো: জহির উদ্দিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া সুস্থ সমাজ ও জাতি গঠন সম্ভব নয়। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পরিবার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি পারিবারিক নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করে পরিবারের শান্তি বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রত্যেক স্কুলে একজন করে কাউন্সেলর নিয়োগের চিন্তা করছে। ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাই সামাজিক সহিংসতা, দুর্নীতি, ইভটিজিং, প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এসব লোককে সুস্থ করে সুন্দর জাতি গঠন করা সম্ভব। উলেস্নখ্য, দু'দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় গোলটেবিল আলোচনা, কর্মশালা ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন মানসিক অবস্থা পরিমাপের সুযোগ রয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সবাই একবাক্যে বলেছেন, ক্লিনিক ও হাসপাতালে কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন বাড়াতে হবে। এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য শেয়ার বাজার Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market

বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী

সুপার মুন:
বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী
আকাশের চাঁদ তো সবাই দেখে। কিন্তু অন্যান্য দিনের চেয়ে রোববারের আকাশে চাঁদের আকার, সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চাঁদকে জড়িয়ে থাকা লাল আভায় যেন ঢাকা পড়েছিল চাঁদের কলঙ্ক। ৩৩ বছর পর চাঁদের অপার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ বিশ্ববাসী, সৌন্দর্য যেন ঠিকরে পড়েছিল পৃথিবীতে। সে এক বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী। বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথিবীর মানুষ দেখল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু এ গ্রহণ সাধারণ কোন চন্দ্রগ্রহণ নয়। এ গ্রহণ হলো সুপারমুনের গ্রহণ। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম একই সঙ্গে সুপারমুন এবং চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘটল। পৃথিবীর মানুষ আবার বিরল এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে ২০৩৩ সালে।চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে কাছে যখন চলে আসে তখন পৃথিবী থেকে একে দেখতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বড় দেখা যায়। এই পূর্ণিমাকে 'সুপারমুন' বলা হয়। কিন্তু এই সংজ্ঞা নিয়ে জ্যোতির্বিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আর যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। ফলে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে; সেই ছায়ায় চাঁদকে রক্তাভ লাল দেখায়। আর তা দেখার জন্য সাড়া পড়েছে বিশ্বজুড়ে সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের মধ্যে। এবারের বিশেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ নর্থ আমেরিকা, সাউথ আমেরিকা এবং আফ্রিকা ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দেখা গেছে। নর্থ আমেরিকার পশ্চিমাংশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাকি অংশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে দেখা গেছে আংশিক গ্রহণ। যুক্তরাজ্যে সোমবার ভোরবেলায় পৃথিবীর ছায়ার নিচে হালকা ঢাকা পড়েছিল চাঁদ। আর নর্থ ও সাউথ আমেরিকায় গ্রহণ দেখা গেছে রোববার সন্ধ্যায়। বাংলাদেশ থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা না গেলেও সুপারমুন দেখা গেছে রোববার। গতকালও সেই বিশাল চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করছে দেশবাসী। ১৯৮২ সালের পর এক বিরল দৃশ্যের দেখা মিলল রোববার রাতের আকাশে। বাংলাদেশের আকাশে বড় চাঁদ দেখা গেছে। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও এই চাঁদ দেখতে পেয়েছে বিশ্ববাসী। মহাজাগতিক ঘটনার একপূর্ণিমার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় চাঁদ লালচে আভায় ধরা দেয় বিশ্ববাসীর কাছে, যাকে বলা হয় ‘সুপার মুন’। এমন দৃশ্য দেখতে আবার ২০৩৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর গত ১শ’ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র পাঁচবার। যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকট কক্ষপথে চলে আসে ও স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় দেখায় তখন তাকে ‘সুপার মুন’ বলা হয়। সুপার মুন সম্পর্কে আইরিশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এটি খুবই বিরল ঘটনা। কিছুসংখ্যক মানুষ যারা এ দৃশ্য দেখতে পাবেন তারা ভাগ্যবান। রাতে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চাঁদ কমলা থেকে গাঢ় লাল রংয়ে রূপ নেবে। পৃথিবীর সব স্থান থেকে সুপার মুন অবলোকন করা নাও যেতে পারে। এটা নির্ভর করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপর। জানা গেছে, চাঁদ সম্পূর্ণ গোলাকার নয় বলে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৯ হাজার ৯০০ কিলোমিটারের কম-বেশি হয়। আর একমাত্র এ উপগ্রহটি প্রতি ২৭ দিন অন্তর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের যে বিন্দুতে (পেরিজি) চাঁদ আসে, তার দূরত্ব ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১০৪ কিলোমিটার। আর সবচেয়ে দূরে (অ্যাপোজি) যে বিন্দুতে চাঁদ অবস্থান করতে পারে তার দূরত্ব ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৯৬ কিলোমিটার। পেরিজির সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখনই ঘটনাচক্রে পূর্ণিমা হলে চাঁদকে স্বাভাবিকের থেকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এটিই ‘সুপার মুন’ বা ‘পূর্ণচন্দ্র গ্রহণ’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, একই সঙ্গে সুপার মুন ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা এবার ৩০ বছরের বেশি সময় পর ঘটছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে না। আর একই সঙ্গে সুপার মুন-চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০৩৩ সালে।
 

আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!

আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!

অপেক্ষা করছে এক মহাভূমিকম্প, যার কারণে মারা পড়তে পারেন বিশ্বের চার কোটি মানুষ! অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তো? এতবড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে এ অবধি দেখেনি বিশ্ব। বৃটিশ দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা- দু'টো মহাদেশই 'ভেঙে' আলাদা হয়ে যেতে পারে, ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামির কারণে আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভূমিকম্পটি আসন্ন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করা ইরানী বংশোদ্ভূত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মেহরান কেশের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গত মাসে ধারণকৃত এক ইউটিউব ভিডিওতে তিনি বলছেন, ওই ভূমিকম্পে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেই দুই কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মেহরান কেশের এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা আনুষ্ঠানিক সত্যতা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী ৩০ বছরে অঞ্চলটিতে একটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে ৯৯ শতাংশ, যার সম্ভাব্য মাত্রা সাড়ে ছয়। আর ড. কেশের গবেষণা বলছে, আসন্ন মহাভূমিকম্প আগামী এক বছরের মধ্যে ঘটতে পারে। গত মাসে আমেরিকা মহাদেশীয় অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ছয় থেকে ৮.৩-এর মধ্যে যে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেগুলোর আসন্ন মহাভূমিকম্পেরই লক্ষণ- এমনটাও দাবি করেছেন তিনি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উত্তর চীনে বড় ধরনের কয়েকটি ভূমিকম্প হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তার ধারণা, বিশালাকার সুনামির ফলে মহাদুর্যোগে ধ্বংস হয়ে যাবে মেক্সিকো ও মেক্সিকান উপসাগরীয় অঞ্চল। আরেক বৃটিশ দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে আঘাত হানবে ভূমিকম্পটি এবং এর সম্ভাব্য মাত্রা হতে পারে ২০ থেকে ২৪। এছাড়াও ওই ভূমিকম্পে মধ্য আমেরিকার মানুষজন বাঁচার কোনো সুযোগই পাবে না, এমনটাও ধারণা কেশের। সবশেষে ভেবে দেখার মতো আরো একটি কথা যোগ করেছেন কেশে, আর তা হলো এই যে- ভূমিকম্পটি বিশ্বে শান্তি এনে দেবে! তার দাবি- 'ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ভয়াবহ হবে যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে, ভেঙে পড়বে ব্যাংকিং ব্যবস্থা।'
 

ব্যাগ হাতে বাজারে যাবে নিউইয়র্কবাসী

ব্যাগ হাতে বাজারে যাবে নিউইয়র্কবাসী


ব্যাগ হাতে বাজারে যাবে নিউইয়র্কবাসী
নিউইয়র্ক: ব্যাগ বগলদাবা করে বাজারে যাওয়ার অভ্যাস বাংলাদেশিদের আছে। নিউইয়র্কে এসে সেই অভ্যাস হয়তো এখন পুরোটাই গেছে। ঝলমলে আলোকসজ্জ্বার চকচকে ভবনে শপিংমলগুলোতে ব্যাগ হাতে বাজার করতে যাওয়ার কথা হয়তো এখন আর ভাবাই যায় না। দোকানে গেলেই তো কিছু কিনলে তা দেওয়া হবে সুন্দর কোনো প্ল্যাস্টিক ব্যাগে। সে ব্যাগ ঘরে এনে গারবেজ বক্সে চলে যায় কিংবা ব্যবহৃত হয় গারবেজ প্যাকিংয়ে। কিন্তু নিউইয়র্কে তেমন দিনটি ফুরোচ্ছে। এরই মধ্যে সিটি কাউন্সিলে বিল উঠেছে প্ল্যাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমানোর প্রস্তাব নিয়ে। আইনে পরিণত হলে নগরবাসীকে দোকানে নিজেকেই ব্যাগ নিয়ে যেতে হবে। নয়তো তাকে পয়সা দিয়ে কিনতে হবে নতুন একটি ব্যাগ। অন্তত ১০ সেন্ট করে পড়বে প্রতিটি ব্যাগ। আর এই অর্থ যাবে দোকান মালিকেরই পকেটে।

L.A. approves ban on plastic grocery bags

The City Council votes 11 to 1 for the ordinance, which would go into effect in 2014. Shoppers can bring reusable bags or pay stores 10 cents per paper bag.

Attention Los Angeles shoppers: The plastic bag is disappearing from more than just the supermarket.
L.A. on Tuesday became the newest and by far the largest city to back a ban on plastic grocery bags, approving an ordinance that applies not just to food stores and mini marts but also big retail chains with their own line of groceries, such as Target and Wal-Mart.
কাউন্সিল মেম্বার ব্রাড ল্যান্ডার ও মার্গারেট চিন বৃহস্পতিবার এই বিল উত্থাপন করেন। নিউইয়র্কারদের রি-ইউজ্যাবল ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতেই এই বিল। বিলটি মেয়রের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। বলা হচ্ছে ব্যবহৃত ব্যাগগুলো নিচুজমি ভরাট করতে কাজে লাগানো হয়। তবে প্রতিবছর এমন নিচু এলাকায় এক লাখ টন প্ল্যাস্টিক ব্যাগ পরিবহনে ১০ মিলিয়ন ডলার খরচ পড়ে। কাউন্সিল মেম্বারদের সঙ্গে এই বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নিউ ইয়র্কের পরিবেশবাদী আইনজীবী ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা। তাদের মতে নতুন এই আইন প্ল্যাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনবে। একই ধরনের আইন কোনো কোনো শহরে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্ল্যাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা। শুধু প্ল্যাস্টিক ব্যাগই নয়, খাবার ও খুচরা বিক্রেতার স্টোরগুলো থেকে দ্রব্যসামগ্রী কিনে কাগজের ব্যাগে নিতে চাইলেও দিতে হবে দশ সেন্ট। উদ্যোক্তাদের মতে, এতে ব্যাগের ব্যবহারটিই ক্রমাগত হারে কমে আসবে। আর এটি ট্যাক্স হিসেবে নয় ¯্রফে ব্যাগের দাম হিসেবেই দেখানো হবে। যেসব ক্রেতা তাদের নিজেদের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যাবেন তাদের জন্য কোনো ধরনের চার্জ ধরা হবে না। বিল উত্থাপনকারী ব্রাড ল্যান্ডার বলেন, পরিবেশের ওপর এই প্ল্যাস্টিক ব্যাগের প্রভাব যে কতটা তা আমরা সহজেই ভুলে যাই। বিশেষ করে নগরীতে যখন ৮০ লাখ মানুষের বসবাস থাকে তখন তারা ক্রমাগতভাবেই এর ক্ষতি করতে থাকে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে কি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা একটি প্ল্যাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করি যখন এর কোনো প্রয়োজন নেই। তাই সাধারণ জ্ঞানের একটি বিল এখানে উত্থাপন করা হলো। এর মাধ্যমে নিউইয়র্কে প্ল্যাস্টিক ব্যাগজনিত আবর্জনার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এতে অর্থের সাশ্রয় হবে এবং এতে ব্যবসার কোনো ক্ষতি হবে না। আর অপর কাউন্সিল মেম্বার মার্গারেট চিন বলেন, পবিবেশগত সচেতনতার দিক দিয়ে নিউইয়র্ক  আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, প্রায়শই দেখা যায় আমরা একটি, দুটি, তিনটি এমনকি চারটি পর্যন্ত ব্যাগ বহন করছি। আর সপ্তাহান্তে ট্র্যাশক্যান গুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে ওই ব্যাগগুলোই উপচে পড়ছে। এই ব্যাগগুলোর কারণেই নোংরা থাকছে আমাদের রাস্তা, পার্ক, সাবওয়ে। আর ট্যাক্সপেয়ারদের দেওয়া অর্থ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে সেগুলো ভাগাড়ে ফেলতে হয়। এই বিলের ফলে ক্রেতারা তাদের নিজেদের ব্যাগ হাতে বাজারে যেতে উৎসাহিত হবেন। আর নতুন একটি প্ল্যাস্টিক বা কাগজের ব্যাগ হাতে নেওয়ার আগে অন্তত দুইবার ভাববেন। আর এতে সার্বিকভাবে কমবে পরিবেশ দুষণ আর সিটির অর্থব্যয়। বিলটি উত্থাপনের সঙ্গে আরও রয়েছেন কাউন্সিল মেম্বার জিমি ভ্যান ব্রামার, ড্যানিয়েল ড্রম, ইনেজ ই ডিকেনস, গেল এ ব্রিউয়ার, রবার্ট জ্যাকসন, স্টেফেন লেভিন ও আনাবেল পালমা। উল্লেখ্য নিউইয়র্কাররা প্রতিবছর মালামাল বহনে ৫.২ বিলিয়ন ব্যাগ ব্যবহার করে। এর অধিকাংশই রিসাইকেল করা। ২০০৮ সালের একটি হিসেবে দেখানো হয়েছে নিউইয়র্কে প্রতি সপ্তাহে প্ল্যাস্টিক ব্যাগেরই গার্বেজ তৈরি হয় ১৭০০ টন। এছাড়া প্ল্যাস্টিক ব্যাগ ড্রেনে আটকে থাকে ফলে সুয়েজ লাইনে পানি উপচে যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিচগুলোতে যেসব গার্বেজের প্রাধান্য দেখা যায় তার মধ্যে প্ল্যাস্টিক অন্যতম। নিউইয়র্ক লিগ অব কনজারভেশন ভোটার এর প্রেসিডেন্ট মার্সিয়া ব্রিসট্রিন বলেন, এই আইন প্ল্যাস্টিক ব্যাগের দূষণ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেবে। এছাড়া পরিবেশ সঙ্কট কমাবে।  তিনি বলেন, অন্য অনেক নগরীতেই এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে, নিউইয়র্কের ক্ষেত্রেও তা হবে। সিয়াটল, সানফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে আগে থেকেই একই ধরনের আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবং দেখা গেছে এসব নগরীতে প্ল্যাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে এই আইনে কেবল গ্রোসারি ও খুচরা বিক্রেতাদের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টগুলো এর আওতাভূক্ত নয় কারণ তাদের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্পগুলো সীমিত। এছাড়া মাংস বা ভারি জাতিয় কোনো খাবার কিনলে তা বিনামূল্যেই দেওয়া ব্যাগে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ওষুধ সরবরাহেও ব্যাগ দেওয়া হবে। সংক্রমন এড়াতেই আইনে এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাস্তায় যারা গ্রোসারি বা খুচরা বিক্রেতাদের মতো সামগ্রী বিক্রি করেন তাদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগযোগ্য হবে। তবে যারা রাস্তার পাশে রেস্টুরেন্টের মতো খাবার বিক্রি করে তারা এর আওতামুক্ত থাকবে। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সুমন আফসার |  চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিটি করিডোরে রাখা কালো রঙের ডাস্টবিন। হলুদ বা অন্য রঙেরও রাখা আছে কোথাও কোথাও। বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী তা নির্দিষ্ট রঙের ডাস্টবিনে ফেলার কথা। কিন্তু ব্যবহূত সুচ, সিরিঞ্জ কিংবা রক্তমাখা তুলা— সবই ফেলা হচ্ছে একই বিনে। আলাদা করার ব্যবস্থা নেই গজ, ব্যান্ডেজ, ওষুধের শিশি, ব্যবহূত স্যালাইন কিংবা রক্তের ব্যাগও। জীবাণুমুক্ত না করেই কঠিন এসব চিকিৎসা বর্জ্য চলে যাচ্ছে সাধারণ বর্জ্যের ভাগাড়ে। আর পরিশোধন ছাড়াই নালা-নর্দমা হয়ে তরল বর্জ্য মিশছে নদীতে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ করুণ চিত্র শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নয়, হাতেগোনা কয়েকটি বাদে রাজধানীর প্রায় সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একই অবস্থা। তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার তো নেই-ই, নেই কঠিন বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থাও। পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তার বালাই নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে এসব চিকিৎসা বর্জ্য বিষিয়ে তুলছে পরিবেশ। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এগুলো মানবদেহে প্রবেশ করছে; জনস্বাস্থ্যের জন্য যা মারাত্মক ঝুঁকি। কঠিন ও তরল দুই ভাগে ভাগ করা হয় চিকিৎসা বর্জ্যকে। কঠিন বর্জ্যের তালিকায় রয়েছে— ব্যবহূত সুচ, সিরিঞ্জ, রক্ত ও পুঁজযুক্ত তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিউমার, ওষুধের শিশি, ব্যবহূত স্যালাইন ও রক্তের ব্যাগ। তরল বর্জ্যের তালিকায় রয়েছে রোগীর শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা বর্জ্য আলাদা করে ফেলার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সাধারণ বর্জ্যের মতো হাসপাতালের বর্জ্যও ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্পন্ন ৯২ শতাংশ বর্জ্যই এভাবে রাস্তার পাশের খোলা ডাস্টবিন, নর্দমা কিংবা সংলগ্ন নদীতে ফেলা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন কঠিন বর্জ্য উত্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৫০ টন আসছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে। আর এ বর্জ্যের মাত্র ৮ শতাংশ রয়েছে যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েস্ট কনসার্নের গবেষণা থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালে সারা দেশে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্পন্ন বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার টনের বেশি। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ১৯ হাজার টন। ২০১৭ সাল নাগাদ উত্পন্ন বর্জ্যের পরিমাণ সাড়ে ২১ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। এখনই এসব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করলে আগামীতে রোগ প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, চিকিৎসা বর্জ্যের ঝুঁকির বিষয়টি সারা বিশ্বেই রয়েছে। তবে উন্নত দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তরল চিকিৎসা বর্জ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এসব বর্জ্যের মধ্যে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক পানিবাহিত হয়ে মিশছে মাটি ও সংলগ্ন জলাধারে। এ অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের শস্য ও মাছে। এটি দুভাবে ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রথমত, প্রকৃতিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এসব অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি অনেকগুলোকে আবার বেশি সহনশীল করে তুলছে। খাদ্যের মাধ্যমে এগুলো মানবদেহে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে মাছ ও শাক-সবজির মাধ্যমেও সরাসরি বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছে মানুষ। এসব অ্যান্টিবায়োটিক মানবদেহে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সহনশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর উত্পন্ন চিকিৎসা বর্জ্যে ৩০ থেকে এক হাজার গুণ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, অন্যান্য দেশের তুলনায় যা অস্বাভাবিক। চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণ) বিধিমালায় চিকিৎসা বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণের জন্য পাত্র ও তার রঙ নির্দিষ্ট করে দেয়া রয়েছে। সাধারণ বর্জ্যের জন্য কালো, ক্ষতিকারক বর্জ্যের জন্য হলুদ, ধারাল বর্জ্যের জন্য লাল, তরল বর্জ্যের জন্য নীল, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের জন্য সিলভার ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সাধারণ বর্জ্যের জন্য সবুজ রঙের পাত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, দেশের সব হাসপাতালে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক। তবে দেশের মাত্র চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ইটিপি রয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো হলো— বারডেম, অ্যাপোলো, স্কয়ার ও ইউনাইটেড। এছাড়া পাত্রের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্ন ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ প্রচার, নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগের অভাব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে চিকিৎসা বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে না। জীবাণুমুক্ত ও পরিশোধন না করেই যেখানে-সেখানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। পরে তা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। বিস্তার ঘটাচ্ছে হেপাটাইটিস বি, সি, ডিপথেরিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষের পাশাপাশি রোগীদের মধ্যেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পরিবেশ অধিদফতরকে এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে চিকিৎসা বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। এর মধ্যে স্কয়ারের কাছ থেকে ৩ লাখ, সেন্ট্রাল হসপিটালের ২ লাখ, পপুলার হাসপাতালের ৪ লাখ ও ড. সালাহউদ্দিন হাসপাতালের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে অধিদফতর। বাংলাদেশ মেডিকেলকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও পরবর্তী সময়ে আপিলের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা মওকুফ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর গ্রিন লাইফ হাসপাতালকে ২ লাখ ও জেডএইচ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে অধিদফতর। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি এ বিষয়ে আপিল করেছে, যা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২ হাজার ২৩৫টির বেশি। এছাড়া চালু রয়েছে আরো প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। এ ধরনের মোট ১৮ হাজার ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি খাতে নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬টি। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্যাথলজিক্যাল সেন্টার রয়েছে ছয় হাজারের বেশি। শুধু রাজধানীতে ১ হাজার ২০০টি নিবন্ধিত ছোট-বড় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর বাইরে রাজধানীতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিবন্ধনহীন আরো পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
Visualhunt.com

ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর আসছে নিস্বর্গ

বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর আসছে নিস্বর্গ - বাংলাদেশের দেয়া নাম Visualhunt.com

জেনে নিন কিভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়ঃ

১৬ বছর আগে ২০০৪ সালে আমফানের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড৷ নিয়ম হল, যে মহাসাগর বা সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার আশপাশের দেশগুলিই নামকরণ করে ঝড়ের৷ ২০০০ সালে নামকরণের নিয়মটি তৈরি করা হয়৷ আমফান তছনছ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে৷ তিন দিন হতে চলল৷ এখনও রাজ্যের বহু এলাকা বিদ্যুত্‍হীন, জল নেই৷ মানুষের মাথার উপর ছাদ নেই৷ মৃত বাড়ছে লাফিয়ে৷ কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, আমফানের মতোই আরও বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে বঙ্গোপসাগরে৷ বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়গুলি তৈরি হয়, সেগুলি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন৷ ঘূর্ণিঝড়েরও একটি জীবনশৈলী থাকে৷ গড়ে একটি সাইক্লোন সক্রিয় থাকে ৯ থেকে ১০ দিন৷ তিনটি স্টেজ থাকে, ফর্ম্যাটিভ বা ইমম্যাচিওর, ম্যাচিওর ও ডিকে৷ ঘূর্ণিঝড়ের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল তাপ৷ সমুদ্র স্তরের একটা বড় অংশে তাপের সঞ্চার হলে বা গরম হয়ে গেলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় শক্তিশালী হাওয়া৷ ওই হাওয়া সমুদ্রের তেতে যাওয়া অংশটি পূরণ করতে ছোটে৷ ওই অংশটিকে বলা হয় চোখ৷ এই সময়েই ঝড়টি সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়৷ তৃতীয় পর্যায়টি হল প্রাপ্তবয়স্ক বা ম্যাচিওর৷ এই স্টেজেও সাইক্লোনটি সাগরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে৷ এরপরের স্টেজ হল ডিকে৷ এবার সাইক্লোনটি স্থলভাগের দিকে যাত্রা শুরু করে৷ কিংবা সাগরের ঠান্ডা জলের অংশের দিকে দৌড়তে শুরু করে৷ যদি আমফানের মতো স্থালভাগের দিকে দৌড়য়, তা হলে তুমুল ধ্বংসলীলা চালাবেই৷ এবং ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রবল বৃষ্টি৷ ১৬ বছর আগে ২০০৪ সালে আমফানের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড৷ নিয়ম হল, যে মহাসাগর বা সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার আশপাশের দেশগুলিই নামকরণ করে ঝড়ের৷ ২০০০ সালে নামকরণের নিয়মটি তৈরি করা হয়৷ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ ঠিক করার গোষ্ঠী দেশগুলির মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড রয়েছে৷ ২০১৮ সালে এই সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ে৷ যুক্ত হয় আরও ৭টি দেশ৷ আমফানের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম নিস্বর্গ৷ নাম দিয়েছে বাংলাদেশ৷ তারপরের ঝড়টির নাম গতি৷ নাম দিয়েছে ভারত৷ তারপর আসবে নিভার৷ এই নামটি দিয়েছে ইরান৷ সূত্রঃ নিউজ ১৮

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো:

বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার মাঝে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত। সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যা বিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

কিভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হলো?

সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য মুগ্ধ করার মতো। সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা হিসেবে পরিচিত। প্রচুর নারকেল পাওয়া যায় বলে এ নামটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এবং অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। মি: পাশা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। অধ্যাপক বখতিয়ার বলেন, প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে উঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে উঠে। গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা জানালেন, ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা এ দ্বীপটিতে আরব বণিকরা বিশ্রাম নিতো। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল 'জাজিরা'। পরবর্তীতে যেটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগে সে এলাকায় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বিভিন্ন কার্বন ডেটিং-এ এর প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক বখতিয়ার। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। যদিও সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরেও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খ্রিস্টান সাধু মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। তবে অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে-ধীরে এটি বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা হয়ে উঠে। কালক্রমে এ দ্বীপটি হয়ে উঠে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ নারকেল গাছ আছে।

সম্রাট আওরঙ্গজেব, দুবলার চর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ

সম্রাট আওরঙ্গজেব, দুবলার চর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ
১৬৮০-এর দশকে ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল মুঘল শাসক আওরঙ্গজেবের অধীনে। ইংরেজরা বাণিজ্য করতে এসে অন্য ইউরোপীয় দেশগুলির চাইতে বেশি সুবিধা চাইলে আওরঙ্গজেব সেটা মেনে নেননি। এ সময় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জোসাইয়া চাইল্ড, যার ঔদ্ধত্যের কারণে ব্রিটিশরা আওরঙ্গজেবের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধ ইতিহাসে ‘চাইল্ড’স ওয়ার’ বলে পরিচিত। তারা ভারত থেকে হজযাত্রায় যাওয়া এক জাহাজ লুট করে এবং যাত্রীদের খুন-ধর্ষণ করে।
ব্রিটিশরা বাংলাকে তথা পুরো ভারতবর্ষকে নৌ অবরোধে ফেলার চেষ্টা করে। তারা হুগলী নদীর ওপরে একটা দ্বীপ দখল করে সেই নদী নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। কিন্তু ইংরেজদের এই অবরোধ সফল হয়নি, কারণ ভারতের প্রধান প্রদেশ বাংলা বহিঃবাণিজ্যের ওপরে নির্ভরশীল ছিল না। অবরোধ দেবার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কেউই না খেয়ে মরার উপক্রম হয়নি। এই ঘটনার মাধ্যমে সমুদ্রবন্দর অবরোধ দেয়ার একটা কৌশল ব্রিটিশরা জানিয়ে দিয়েছিল। আর সেই অবরোধ তারা দিয়েছিল সমুদ্রবন্দরের বাইরে দ্বীপে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ঘাঁটির দরকার হয়েছিল, কারণ সমুদ্রে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত থাকা সম্ভব নয়। রসদ নেবার জন্য সব চাইতে কাছের গন্তব্যটিও যদি অনেক দূরে হয়ে থাকে, তাহলে অবরোধ ধরে রাখা সম্ভব নয়। সেকারণেই হুগলীর সেই দ্বীপ দখল দরকার হয়েছিল। তিন শতক পরে… তিন শতাধিক বছর আগে ব্রিটিশদের দেখানো কৌশলের একটা অন্য ভার্সন আমরা দেখতে পাই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে, যেখানে মার্কিনরা ভিয়েতনামের মেকং নদীর বদ্বীপ এলাকাসহ ভিয়েতনামের পুরো উপকূল নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের তাঁবেদার সরকারের জাহাজগুলিকে গেরিলাদের হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়াও গেরিলাদের সাপ্লাই লাইনে অবরোধ দিয়েছিল। এই অবরোধ দিতে গিয়ে আমেরিকানরা মেকং নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে কিছু ভাসমান ঘাঁটি তৈরি করা ছাড়াও ভূমিতেও বদ্বীপের কৌশলগত এলাকাগুলিতে ঘাঁটি বানিয়েছিল, যেগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটগুলি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গেরিলারা স্থলপথ এবং নদীপথে নিয়মিত এসব ঘাঁটি আক্রমণ করতো ঠিকই, কিন্তু ঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দেবার মতো শক্তি তারা কখনোই যোগাড় করতে পারেনি। ঘাঁটিগুলির অনেকগুলিই খুব দুর্গম জংলা এলাকায় ছিল, যেখানে ঘাঁটি রক্ষা করাটা অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের ঘাঁটি রক্ষা করার আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুয়াদালক্যানাল-এর যুদ্ধ থেকে। এই দ্বীপখানার নামও কেউ জানতো না এক সময়। কিন্তু যে মুহূর্তে মার্কিন ম্যারিন সেনারা এই দ্বীপে নেমে জাপানিদের নির্মিতব্য ঘাঁটিটি দখল করে নেয়, তখন থেকেই এটা ইতিহাসের অংশ। জংলা এই দ্বীপের ঘাঁটিটি মার্কিনরা ব্যবহার করে বিমান এবং নৌঘাঁটি হিসেবে, যা কিনা প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জাপানিরা বহুবার চেষ্টা করেছিল দ্বীপে অবতরণ করে ঘাঁটিটি দখল করে নিতে; কিন্তু জঙ্গলের বাস্তবতা এবং মার্কিনিদের প্রতিরোধের কারণে জাপানিরা অবশেষে ঘাঁটি দখল করার এই চিন্তাটি বাদ দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমেরিকানরা এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করে সোলোমন দ্বীপপুঞ্জের বেশিরভাগ দ্বীপ দখল করেছিল। গুয়াদালক্যানাল প্রমাণ করে যে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরে যদি এমন একটা সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা যায়, যেটা দুর্গমতার কারণে রক্ষা করা সহজ, তাহলে সেই ঘাঁটিটি কৌশলগত দিক থেকে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে সক্ষম। দ্বীপ পুনর্দখল কি এতটাই কঠিন? একটা দ্বীপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, সেটা দখল করতে হলে নদী বা সমুদ্রপথে আক্রমণ ছাড়া গতি নেই। আর যদি দ্বীপটি জঙ্গল বা পাহাড়-বেষ্টিত হয়, তবে সেটা দখল করাটা আরও বেশি কঠিন। ব্রিটিশরা এই একই কারণে জিব্রালটার দখলে রাখতে পেরেছে এতকাল। স্থলভাগের দিকে পাহাড়-বেষ্টিত থাকায় এর নৌঘাঁটিটি সমুদ্রপথে আক্রমণ করে দখল করা ছাড়া গতি নেই। আমেরিকানরাও কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে একটা ঘাঁটি রেখে দিয়েছে একইভাবে। উঁচু পাহাড়-বেষ্টিত এই ছোট্ট ঘাঁটিটি কিউবানরা দখল করে নিতে চেষ্টাও করেনি তেমন একটা। সপ্তদশ শতকে ব্রিটিশরা যখন হুগলীর দ্বীপে বাণিজ্য জাহাজ দখল করার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো বসে ছিল, তখন সুন্দরবনের রোগ-বালাই আর সুপেয় পানির অভাব তাদের পেয়ে বসে। বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান মৃতপ্রায় ব্রিটিশদের ওই দ্বীপ থেকে উদ্ধার না করলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। পরবর্তীতে যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে ব্রিটিশ অফিশিয়ালরা (কর্মকর্তা) আওরঙ্গজেবের দরবারে গিয়ে নাকে খত দিয়েছিল! কিন্তু মনে রাখতে হবে যে হুগলী নদীর সমুদ্র বাণিজ্য তখন বাংলার জন্য বাঁচা-মরার ব্যাপার ছিল না। তাই ব্রিটিশদের কাছ থেকে ওই দ্বীপ পুনর্দখল করাটাও বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না। যদি উল্টোটা হতো, তাহলে কিন্তু শায়েস্তা খানের জন্য সুন্দরবনের ভিতরে অভিযান চালিয়ে ওই দ্বীপ পুনর্দখল করাটা বেশ কঠিন হতো। এবার এই দ্বীপের ব্যাপারটা আমরা বাংলাদেশের বদ্বীপের ক্ষেত্রে চিন্তা করলে কী দেখি? দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পসুর নদীর ভেতরে বাংলাদেশের মংলা সমুদ্রবন্দর। আর এই নদী যেখানে সমুদ্রে মিশেছে, সেখানে রয়েছে কিছু জংলা দ্বীপ, যা কিনা এই নদীর মুখ, তথা এই সমুদ্রবন্দরের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানে রয়েছে। দুবলার চর এবং হিরণ পয়েন্ট এই চ্যানেলের নিয়ন্ত্রক। কোনো বহিঃশত্রু যদি কখনো মংলা বন্দরকে অবরোধ দেবার চিন্তা করে, তবে তারা এই দ্বীপগুলিকে নিয়ন্ত্রণের চিন্তা করবে। একটা অবরোধের প্রধান দিক হলো Sustainability (টিকে থাকা)। আর সেটা সম্ভব করতেই নদীমুখে একটি দ্বীপ অপরিহার্য। শুধু সমুদ্রের ওপরে নির্ভর করে অবরোধ চালিয়ে নেয়াটা যে কারো জন্যই কঠিন। আর কেউ যদি ঝটিকা আক্রমণের মাধ্যমে এই দীপগুলি বা আশপাশের কোনো একটি জবরদখল করে নেয়, তাহলে সেটা পুনর্দখল করাটাও প্রচণ্ড কঠিন হবে। তবে সঠিকভাবে ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে সেটা আবার বহিঃশত্রুর পক্ষে দখল করে নেয়াটা বেশ কঠিন হবে। একই রকমের উদাহরণ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। এই দ্বীপ চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ রুটগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। আবার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা থাকার কারণে একবার বেদখল হয়ে গেলে পুনর্দখল করাটা ভীষণ কঠিন হবে। কেউ এই দ্বীপ দখলে নিলে একই সাথে টেকনাফের দক্ষিণ প্রান্তে শাহপরীর দ্বীপের কিছু পাহাড়ী এলাকাও দখলে নিয়ে রাখতে চাইবে। কারণ এই উঁচু এলাকা থেকে এখানকার সমুদ্রপথ এবং টেকনাফের রাস্তাগুলি অবলোকন করাটা সহজ। দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিনের মতো দ্বীপগুলিতে স্পেশাল ফোর্স, আর্টিলারি, দ্রুতগামী শক্তিশালী প্যাট্রোল বোট এবং আর্মড হেলিকপ্টার মোতায়েন করে কোনো বহিঃশত্রু বাংলাদেশের প্রধান দুই বন্দরকে অবরোধ দিতে সক্ষম হতে পারে। এ কারণেই এই দ্বীপগুলিকে কালক্ষেপণ না করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করাটা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সপ্তদশ শতকের মতো পরিস্থিতি এখন নেই যে সমুদ্র অবরোধে এদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। সমুদ্রপথে আমদানির ওপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল এই দেশকে অবরোধ দেবার পদ্ধতিটাই কোনো আগ্রাসী শক্তির জন্য ইকোনমিক্যাল হবে। আর বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি কোনো শক্তি এই দেশে কোনোভাবেই তাদের আগ্রাসী তৎপরতা চালাবে না – এ রকম পদলেহনকারী চিন্তা এখন ধোপে টেকে না। দুবলার চর এবং সেন্ট মার্টিনের মতো দ্বীপগুলিকে সুরক্ষা দিতে গেলে অনেক ধরনের বাধা আসবে। কিন্তু যারা বাধা দেবেন, তারা কখনোই এই দ্বীপগুলির কৌশলগত দিক চিন্তা করবেন না, অথবা চিন্তা করার পরও বলবেন যে, বিদেশি শক্তিদের তোষণ করে চলার মাঝেই এই দেশের ‘নিরাপত্তা’ নিহিত। নিজেদেরকে দুর্বল ভেবে অন্যের স্বার্থের কাছে সঁপে দিতেই তারা স্বাছন্দ্য বোধ করেন। এই দ্বীপগুলির সুরক্ষা দিতে চাইলেই এরা বিদেশি Subversion-এর অংশ হয়ে নানা প্রকারে বাধার সৃষ্টি করবেন। ওপরে কৌশলগত যতগুলি দ্বীপের উদাহরণ দিয়েছি, তার কোনোটিতেই শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি জাতীয় নিরাপত্তার বাইরে কোনো কিছুকে প্রাধান্য দেয়নি; আমাদেরও দেওয়া উচিত হবে না। আহমেদ শরীফ লেখক: ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর : জীব-জগতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ঢাল

বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর : জীব-জগতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ঢাল

ড. মো. বাশারত আলী সরকার গ্রহ-নক্ষত্র ঘুরছে অবিরত; সূর্য যদিও শক্তি যোগায়, পৃথিবীই মোদের প্রাণকেন্দ্র। সূর্যের রশ্মি ছাড়া করতে পারি কি আমরা জীবনের কল্পনা? অথচ সেই রশ্মিতেও ‘অতিবেগুনি- রশ্মি’ নামে যে রশ্মি আছে, তা জীবের জন্য ক্ষতিকর। মজার ব্যাপার হলো, সেই ক্ষতিকর রশ্মিকে প্রাকৃতিকভাবেই প্রতিহত করে আমাদের বন্ধু ‘বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর’!

অতি সংক্ষেপে মহাবিশ্ব পরিচিতি

সদা চলমান ও সম্প্রসারণরত বিস্ময়ে ভরা এই মহাবিশ্ব। সমগ্র বিশ্বমাঝে আমরা অতি ক্ষুদ্র, তথাপিও সমগ্র বিশ্ব আমাদেরই জন্য! পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সিসমূহ, তাদের অন্তর্বর্তী স্থানের মধ্যে অন্যান্য পদার্থ এবং শূন্যস্থান (মহাকাশ), দৃশ্য-অদৃশ্য সবকিছু মিলেই মহাবিশ্ব। মহাবিশ্বে রয়েছে আমাদের সৌরজগতের মতো আরো অসংখ্য সৌরজগৎ। আমাদের সৌরজগৎ বলতে সূর্য এবং এর সাথে মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ সকল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুকে বোঝায়। এর মধ্যে আছে: আটটি গ্রহ, তাদের ১৭৩টি জানা প্রাকৃতিক উপগ্রহ, কিছু বামন গ্রহ ও তাদের কিছু প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং কোটি কোটি ক্ষুদ্র বস্তু যেমন— গ্রহাণু, উল্কা, ধূমকেতু, এবং আন্তঃগ্রহীয় ধূলিমেঘ।

সূর্য

আমাদের পরিচিত সৌরজগতের কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থিত তারাটির নাম সূর্য, যাকে আমরা রবি নামেও ডাকি। গোলক আকৃতির এই তারা প্রধানত আয়নিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যার মধ্যে জড়িয়ে আছে চৌম্বক ক্ষেত্র। সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার, যা পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় ১০৯ গুণ। সূর্যের প্রধান গাঠনিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন (সূর্যের মোট ভরের শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ), হাইড্রোজেনের পরই আছে হিলিয়াম (মোট ভরের শতকরা প্রায় ২৩-২৪ ভাগ), এ ছাড়া আছে অক্সিজেন, কার্বণ, নিয়ন, লোহা ইত্যাদি (সূর্যের ভরের প্রায় ১.৬৯%)। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব আনুমানিক ১৪.৯৬ কোটি কিলোমিটার যাকে ১ নভো একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গড় দূরত্বে সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় লাগে। এই সূর্যালোকের শক্তি পৃথিবীর প্রায় সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখে। উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এই আলো থেকে খাদ্য উৎপাদন করে এবং প্রাণীরা খাদ্যের জন্য এসব উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর উপর নির্ভর করে। এছাড়া জলবায়ু এবং আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও সূর্যালোক প্রধান ভূমিকা রাখে।

সূর্যরশ্মি

সূর্যরশ্মি বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ সূর্য থেকে মহাকাশে বিচ্ছুরিত হয় যার কিছু অংশ আমাদের এই পৃথিবীতে এসে পৌঁছে। কম্পাংকের পার্থক্যের ভিত্তিতে চৌম্বকীয় বিকিরণকে নানাভাগে ভাগ করা যায়। যেমন— বেতার তরঙ্গ (যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সীমা ১ মিলিমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয় যা খালি চোখে দেখা যায় না), মাইক্রোওয়েভ (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার হতে ১ মিটার পর্যন্ত), অবলোহিত রশ্মি (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মাইক্রোমিটার হতে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত), দৃশ্যমান আলো (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানো মিটার থেকে ৭০০ ন্যানো মিটার পর্যন্ত), অতিবেগুনী রশ্মি (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০০ ন্যানো মিটার থেকে ৪০০ ন্যানো মিটার পর্যন্ত), রঞ্জন রশ্মি (এক্স-রে) (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০ ন্যানো মিটার থেকে ০.০১ ন্যানো মিটার পর্যন্ত), এবং গামা রশ্মি (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০ পিকোমিটার থেকেও ছোট)। বিভিন্ন রশ্মির বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকা ভিন্ন। এদের মধ্যে অতিবেগুনী রশ্মি জীব জগতের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে।

অতিবেগুনী রশ্মি পরিচিতি ও জীব-জগতের উপর তার প্রভাব

অতিবেগুনী আলোক রশ্মি (Ultra violet rays)(UV rays) হচ্ছে সূর্যের আলোক রশ্মির সেই অংশ যার তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য খুবই খাটো। অতিবেগুনী রশ্মিকে তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন— অতিবেগুনী রশ্মি- ‘সি’ (UV-C) (তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: ১০০-২৮০ ন্যানো মিটার), অতিবেগুনী রশ্মি- ‘বি’ (UV-B) ( তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: ২৮০-৩১৫ ন্যানো মিটার), অতিবেগুনী রশ্মি- ‘এ’ (UV-A) ( তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: ৩১৫-৪০০ ন্যানো মিটার)। উল্লেখ্য যে, ১ ন্যানো মিটার= ১ মিটারের ১০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ। অন্য কথায় ১ ন্যানো মিটার= ১ মিমি-এর ১ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ। সহজেই অনুমেয়, দৈর্ঘ্যে কতো ক্ষুদ্র এই সব আলোক-রশ্মি। বাতাসে অতিবেগুনী রশ্মি- ‘বি’ (UV-B)-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, মৃত পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে বর্দ্ধিত পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডস উৎপন্ন হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী ওজোন গ্যাস এবং কার্বন মনোক্সাইড এসিড রেইন (এসিড বৃষ্টি) সৃষ্টি করে। এসিড রেইন জীব কোষের ক্ষতিসাধন করে। অতিবেগুনী রশ্মি (Ultra violet rays)(UV rays) গুলোর মধ্যে, অতিবেগুনী রশ্মি- ‘সি’(UV-C) ওজোন স্তরে সম্পূর্ণভাবে শোষিত হয়, অতিবেগুনী রশ্মি- ‘বি’ (UV-B) এর মাত্র ৫% ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে এবং অতিবেগুনী রশ্মি- ‘এ’ (UV-A) এর ৯৫% ভাগই বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছতে পারে। অতিবেগুনী আলোকরশ্মি (Ultra violet rays)(UV rays) গুলো গাছপালা, তরুলতা, প্রাণি, অনুপ্রাণি সকলের উপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে, অতিবেগুনী রশ্মি- ‘বি’ (UV-B) ভিটামিন ‘ডি’ সংশ্লেষণ করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পৃথিবী, বায়ুমণ্ডল ও জীবজগৎ

সমগ্র বিশ্বে একমাত্র আমাদের গ্রহ অর্থাৎ এই পৃথিবীই হলো মানুষসহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল। পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘণত্বযুক্ত এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। এটি সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহের অন্যতম। পৃথিবীর পৃষ্ঠ অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের প্রায় তিন ভাগ জল এবং এক ভাগ স্থল। সমতল ভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, খাল-বিল, বন-জঙ্গল নিয়ে স্থলভাগ, এবং সাগর-মহাসাগর সমন্বয়ে জলভাগ গঠিত। স্থলভাগের সমতল ভূমি মৃত্তিকা আবৃত। সমগ্র পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে স্তরে স্তরে সাজানো বায়ুমণ্ডল। এসব কিছু নিয়েই পৃথিবীতে বসবাসের উপযোগী পরিবেশে আমাদের এই জীব জগৎ। পৃথিবীকে ঘিরে থাকা আকাশের সবচেয়ে নিকটবর্তী বলয়ে রয়েছে বায়ুমণ্ডল। সেই বায়ু মণ্ডল (Atmosphere)-এ চারটি স্তর রয়েছে যা তাপমাত্রার পরিবর্তন দ্বারা পৃথক। এই স্তরগুলো হচ্ছে— ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার।

ট্রোপোস্ফিয়ার:

এটি ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে শুরু করে ৭ থেকে ২০ কি:মি: (২৩,০০০ – ৬৫,০০০ ফুট) পর্যন্ত বিস্তৃত। আবহাওয়ার পরিবর্তন এই স্তরেই ঘটে থাকে।

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার:

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তর ৩০ কি:মি: পর্যন্ত পুরু হয়। ভূপৃষ্ঠের ১০ কি:মি: উপর থেকে শুরু করে ৫০ কি:মি: পর্যন্ত বিস্তৃত। বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন গ্যাসের স্তর বিরাজমান।

মেসোস্ফিয়ার

অধিকাংশ উল্কা (Meteors) এখানে ভস্ম হয়। ৩৫ কি:মি: পুরু। ভূপৃষ্ঠের ৫০ কি:মি: উপর থেকে ৮৫ কি:মি: পর্যন্ত বিস্তৃত। খুবই ঠাণ্ডা। তাপমাত্রা -৯৩ (মাইনাস ৯৩) ডিগ্রি সেলসিয়াস।

থার্মোস্ফিয়ার:

ভূপৃষ্ঠের ৯০ কি:মি: উপর থেকে শুরু করে কম বেশি ৫০০ থেকে ১০০০ কি:মি: পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত) কিন্তু উষ্ণতা অনুভূত হয় না কারণ বায়ুর চাপ কম।

ওজোন গ্যাসের বৈশিষ্ট্য

ওজোন একটি তীব্র গন্ধযুক্ত হালকা নীল বর্ণের বিষাক্ত গ্যাস। ওজোন গ্যাস তৈরি ও ধ্বংস হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। অম্লজান বা অক্সিজেন গ্যাসের তিনটি পরমাণু (O) একত্রিত হয়ে ওজোন গ্যাস (O3) তৈরি হয়। বায়ুমণ্ডলীয় ওজোন গ্যাসের ঘণত্ব খুবই কম (প্রতি এক কোটি বায়ু অণুতে মাত্র তিনটি ওজোন অণু থাকে)। ওজোন গ্যাস প্রধানত স্ট্রাটোস্ফিয়ারে থাকে। আর ট্রোপোস্ফিয়ারে মাত্র ১০% ওজোন পাওয়া যায়।

ওজোন স্তরের গুরুত্ব

ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে স্ট্রাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত। অতিবেগুনী রশ্মি প্রাণী ও উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি করে। স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে ভূপৃষ্ঠের জীব-জগতকে রক্ষা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে., ওজোন স্তর ক্ষয়ের ফলে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৃথিবীকে মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত করবে। ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে, নিম্নভূমি প্লাবিত হবে, পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে, আকস্মিক বন্যা, নদী ভাঙন, খরা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রকট হবে। মানুষের ত্বকের ক্যান্সার ও অন্ধত্ব বৃদ্ধি পাবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। উদ্ভিদের জীবকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সমুদ্রে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাবে, ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন কমে যাবে। বিশেষজ্ঞগণ লক্ষ্য করেছেন যে, ওজোন নিঃশেষকরণ (Ozone depletion) প্রক্রিয়ার ফলে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওজোন স্তর ধ্বংস প্রক্রিয়া

১৯৭০-এর দশক থেকে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের আকাশে ওজোন নিঃশেষকরণ (Ozone depletion) প্রক্রিয়া দৃষ্টিগোচর হয়। ওজোন নিঃশেষকারী পদার্থ যেমন— প্রোপেলান্ট (নমনীয় ও শক্ত ফেনা তৈরীকরণে ব্যবহৃত হয়), হিমায়ন বা রেফ্রিজারেশন, এয়ার কন্ডিশনার, এবং পরিষ্করণের দ্রাবকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ০.৫% হারে ওজোন নিঃশেষকরণ প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে বায়ুমণ্ডলে মুক্তিপ্রাপ্ত ওজোন নি:শেষকারী হ্যালোকার্বন যেমন- ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs), হাইড্রো ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (HCFCs), হাইড্রো ফ্লুরোকার্বন (HFCs), এবং ব্রোমো ফ্লুরোকার্বন (BFCs) ওজোন স্তর নিঃশেষকরণ (Ozone layer depletion) প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হ্যালোকার্বন থেকে বায়ুমণ্ডলে ক্লোরিন, ব্রোমিন ইত্যাদির ঘনত্ব বাড়ে। মেরু অঞ্চলে ৭৮ ডিগ্রি সে: তাপমাত্রায় একটি ক্লোরিন বা CFC অনু এক লক্ষ ওজোন অনু ধ্বংস করতে পারে। CFC অনু UV রশ্মি দ্বারা ভেঙে ক্লোরিন ফ্রি-র‍্যাডিকেল গঠন করে। উক্ত ফ্রি-র‍্যাডিকেল খুবই সক্রিয় হওয়ায় ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে। এ ছাড়াও বায়বীয় নাইট্রোজেন যৌগ (যেমন- NO, NO2 এবং N2O) বায়ুমণ্ডলে অতি সামান্য পরিমাণ থাকলেও বৃহত্তম ওজোন নিঃশেষকারী পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওজোন স্তর সংরক্ষণে করণীয়

মানবজাতি তথা সমগ্র জীব-জগতের প্রতিরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা বিবেচনা করে, ওজোন স্তরের ক্ষয়রোধকল্পে কানাডার মন্ট্রিলে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তৎপরতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ স্বাক্ষরিত হয়। অতঃপর ১৯৯৪ সালে ১৬ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য ঘোষণা করা হয়। ভবিষ্যতে হাইড্রোক্লোরোফ্লোরো কার্বণ (HCFC) ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমে মন্ট্রিল প্রটোকলের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যায়। সিএফসি বা কার্বণ নিঃসরণকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমানোর জন্য জাতিসংঘের ১৯৮৫ সালে ভিয়েনা কনভেনশনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শিল্পোন্নত দেশগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তবে, সকল দেশকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপসংহার

মহাবিশ্ব মাঝে আমাদের পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে সুন্দর পরিবেশ গড়েছেন মহান আল্লাহ মানুয়ের বসবাসের জন্য। ঝুলন্ত মহাবিশ্ব সদা চলমান! মহাজাগতিক বস্তুসমূহের মাঝে রয়েছে পারস্পরিক আকর্ষণ। স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে নেই তাদের অবহেলা। অসতর্কতা-অবহেলা দেখি শুধু মানুষের বেলা। শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের পক্ষে এটা একদম মানায় না! সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে ঝেড়ে ফেলতে হবে অলসতা। আসুন, আমরা সতর্ক হই: যানবাহনের ধোঁয়া কমাই; রেফ্রিজারেটর, এয়ারকুলারসহ সকল যন্ত্রপাতি স্বাস্থ্যসম্মত যথাযথভাবে ব্যবহার করি। সিএফসি গ্যাস উৎপাদন সহ্য সীমার মাঝে রাখি। সার্বিকভাবে দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখি। সকলেই সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকি। ড. মো. বাশারত আলী সরকার লেখক : সিনিয়র কৃষিবিদ

ঢাকার বাতাসের মান আরো খারাপ হয়েছে

ঢাকার বাতাসের মান আরো খারাপ হয়েছে

তাওছিয়া তাজমিম

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ছয়টি বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুসের কার্যকারিতা শতভাগ নেই। কারো ফুসফুসের কার্যকারিতা ৬৫, কারো ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এ শহরের শিশুরা তাদের ফুসফুসের পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে। মূলত বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা ফুসফুসের কার্যকারিতা হারাচ্ছে

ইকবাল হাবিব | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাপা

কয়েক বছর ধরেই ঢাকার বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার উপরে রয়েছে। ক্ষতিকর বস্তুকণার এ উপস্থিতি না কমে উল্টো বাড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকার বাতাসে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ ও পিএম ১০-এর মাত্রা গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতিও। বায়ুর মান পরীক্ষায় নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (সিএএসই) প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশালের আটটি শহরে ১১টি কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন (সিএএমএস) স্থাপন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিনটি রয়েছে ঢাকায়। স্টেশনগুলো থেকে পাঠানো তথ্য সংরক্ষিত হয় রাজধানীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে। তার ভিত্তিতে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অধিদপ্তর। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের শেষ কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দূষণের মাত্রা বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাতাসে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ২.৫। ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র এসব বস্তুকণার সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। যদিও ঢাকার বাতাসে পাওয়া গেছে এর চেয়ে বেশি মাত্রায়। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে বছরের শেষদিকে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। দূষণের মাত্রা জানতে তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের গত দুই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকার সংসদ ভবন, ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১৭, ১১০ ও ১১৩ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের অক্টোবরে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা রেকর্ড করা হয় প্রতি ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ১৫১ দশমিক ৮১ ও ১১৭ দশমিক ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। গড় হিসাবে যার পরিমাণ যথাক্রমে ৭৫ দশমিক ৩৮ ও ৮৪ দশমিক ২৭ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সংসদ ভবন, ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৮, ২১১ ও ২৬৬ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের একই সময়ে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকার বাতাসে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ বস্তুকণার সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া যায় প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২০৪ ও ২২৬ মাইক্রোগ্রাম। তথ্য না থাকায় মাসটিতে সংসদ ভবন এলাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রা জানা যায়নি। তবে এ দুই এলাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণার যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা সহনীয় মাত্রার চেয়ে তো বটেই, ২০১৭ সালের চেয়েও অনেক বেশি। বাতাসে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত অতিসূক্ষ্ম এ বস্তুকণা স্বল্প মেয়াদে মাথাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ব্যাধির জন্য দায়ী বলে জানান চিকিৎসকরা। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্যান্সার, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তারা। প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি শ্বাসতন্ত্রের রোগ হয়। হাঁপানি রোগী হলে তাদের হাঁপানি বেড়ে যায়। আবার অনেকে নতুন করে হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জি, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মার মতো রোগগুলো বায়ুদূষণের কারণে বেড়ে যায়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায় নবজাতক ও শিশুদেরও। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বায়ুদূষণ। বাতাসে ১০ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের বস্তুকণাকে বলা হয় পিএম ১০। পিএম ২.৫-এর মতো ঢাকার বাতাসে পিএম ১০-এর মাত্রাও আগের চেয়ে বেড়েছে। জাতীয়ভাবে বাতাসে পিএম ১০-এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা ধরা হয় প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকার ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় এসব বস্তুকণার সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ১৯০ ও ২১০ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে ২০১৮ সালের অক্টোবরে উভয় এলাকায়ই বাতাসে পিএম ১০-এর উপস্থিতি বেড়েছে। এ সময় ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় পিপিএমের সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২৫৫ দশমিক ৯০ ও ২৩৪ দশমিক ৫২ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৭ সালের অক্টোবরে সংসদ ভবন এলাকায় পিএম ১০-এর উপস্থিতিসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গত বছরের একই সময় এখানে এর সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে প্রতি ঘনমিটারে ১১৮ দশমিক ৮০ মাইক্রোগ্রাম। এ দুই বছরের নভেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফার্মগেট ও দারুস সালাম এলাকায় পিএম ১০-এর সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ২৮৬ ও ৪৩৯ মাইক্রোগ্রাম। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৩১৭ ও ৫১৩ মাইক্রোগ্রাম। এক্ষেত্রে সংসদ ভবন এলাকায় ২০১৭ সালের তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৮ সালের নভেম্বরে সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ১০-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে ১৭৬ মাইক্রোগ্রাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের জন্য মূলত দায়ী ইটভাটা ও নির্মাণকাজ। ঢাকা মহানগরীর আশপাশে অনেক এলাকায় ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার কারণে বাতাসে সূক্ষ্ম নানা ধরনের ধূলিকণা মিশে যায়। নির্মাণকাজের সময় নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দু’পাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা সর্বোপরি যানবাহনের কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে তোলে। ফলে বাড়ছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা। এ দূষণে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় পড়ছে শিশুরা। ঢাকা শহরের ছয়টি বিদ্যালয়ের শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা নিয়ে ২০১৬ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব। ফলাফলে দেখা যায়, বিদ্যালয়গুলোর ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুস পূর্ণমাত্রায় কাজ করছে না। তাদের ফুসফুস ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ করছে। গবেষক দলের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাবিব। জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ছয়টি বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ভয়ংকর বিষয় হলো, ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুসের কার্যকারিতা শতভাগ নেই। কারো ফুসফুসের কার্যকারিতা ৬৫, কারো ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এ শহরের শিশুরা তাদের ফুসফুসের পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে। মূলত বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা ফুসফুসের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেস্ক (একিউআই) ৩৬২, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। একিউআই ০-৫০ হলে তাকে ভালো ধরা হয়। ৫১-১০০ সহনীয়, ১০১-১৫০ সতর্কতামূলক, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-৫০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। গত বছর নির্মাণকাজ বেশি হওয়ায় এর আগের বছরের তুলনায় ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়েছে বলে ধারণা করছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ইটভাটা ও নির্মাণকাজের কারণে মূলত ধূলিকণা বেশি বাতাসে ছড়ায়। সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির বিকল্প হিসেবে অপোড়ানো পদ্ধতি ব্লকের দিকে যাওয়া। ইট প্রস্তুত আইন ২০১৩ গত নভেম্বরে সংশোধন করা হয়েছে। ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক পদ্ধতিকে যাতে প্রমোট করা হয়, আইনের বিভিন্ন ধারায় তা সংযোজন করা হয়েছে। বড় চিন্তার জায়গা হলো নির্মাণকাজ। যে যেভাবে পারছে নির্মাণকাজ করছে। এজন্য একটা নীতিমালা তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নির্মাণকাজ কীভাবে চলবে, সেজন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। নীতিমালা যাতে সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

দূষিত নগরে এ কেমন জীবন!

দূষিত নগরে এ কেমন জীবন

আমিরুল আলম খান
০৯ জানুয়ারি ২০২০
ফাইল ছবিমঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি। বেলা ১১টা। শ্যামলীতে একটা ব্যাংকে জরুরি কাজ সেরে এসওএস শিশুপল্লির ওভারব্রিজে উঠি মিরপুর রোড পার হতে। চারদিকে গাড়ির বিকট হর্ন, গাড়ি চলার শব্দ, সঙ্গে আরও নানা ধরনের আওয়াজ। খানিক পরেই শ্বাসকষ্ট অনুভূত হতে লাগল। মনে হচ্ছিল, ব্রিজ পার হতে পারব না। রেলিং ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে নেমে এলাম শিশুমেলার মোড়ে। সেখানে একটু বিশ্রাম নিয়ে উবার ডাকলাম। তিন মিনিট লাগবে। আমি যেন দিশেহারা। কান ঝালাপালা করছে। সহ্য হচ্ছে না গাড়ি চলা আর হর্নের আওয়াজ। মিনিট তিনেকের মধ্যেই উবার হাজির। উঠে বসলাম। গাড়ির ভেতর গাড়ির আওয়াজ কমেছে। বাইরের বাতাসে শ্বাস নিতে হচ্ছে না। মিনিট দুয়েকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট কমে এল। নিজেকে অনেকটাই সুস্থ মনে হলো। ঢাকায় রোজ অন্তত কোটি দেড়েক মানুষ নানা কাজে ঘরের বাইরে চলাচল করে। তাদের ৮০ ভাগই নানা দূষণে আয়ু ক্ষয় করছে। কত শত শারীরিক–মানসিক সমস্যা নিয়ে তারা ভিড় করে ডাক্তারের দরজায় দরজায়। দূষিত বাতাস, শব্দের বাড়াবাড়িতে তাদের এমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। ধুলাবালু তো আছেই; আছে ধোঁয়া, জান কবজ করা ভারী ভারী নানা পদার্থ। বাস, মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কাভার্ড ভ্যান, মোটরবাইক—সবকিছুই পাল্লা দিয়ে দূষণ ছড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে নগরে উন্নয়নের ঘোড়দৌড় তো লেগেই আছে। সরকারি–বেসরকারি হাজারো উন্নয়ন প্রকল্প। সে জন্য যেখানে–সেখানে ইট, সুরকি, পাথর, বালু, রড, সিমেন্টের পাহাড়। রাস্তা, ফুটপাত সব দখল করেই এসব উন্নয়নসামগ্রীর স্তূপ। পাল্লা দিয়ে করপোরেশনও স্তূপ করে রাখে গৃহস্থালি বর্জ্য। তার সঙ্গে হোটেল, দোকান, হাসপাতালের বর্জ্য মিশে একাকার। বর্জ্য পচে দুর্গন্ধে এলাকা নরক না হলে করপোরেশন তা সাফা করার গাড়ি, লোক কিছুই পাঠায় না। আবর্জনা ফেলার জন্য তারা উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেয় স্কুল–কলেজের পাশের কোনো জায়গা। শিশুরা সে আবর্জনার দুর্গন্ধে বমি-বমি-গায়ে ঢোকে ক্লাসরুমের জেলখানায়। সঙ্গী লাখো কোটি জীবাণু। ফিরতি পথে আবার দুর্গন্ধ আর জীবাণুর দঙ্গল নিয়ে বাসায় আসে। কেউ দেখার নেই, প্রতিবাদ করার জো নেই। একুশ শতকের প্রথম দুই দশক পার করেছি আমরা। তৃতীয় দশকে যে অবস্থার উন্নতি হবে, তা দুরাশা মাত্র। কারণ, বিশৃঙ্খলা বাড়ছেই দিনে দিনে। আজই সংবাদমাধ্যমের জবর খবর, ঢাকা দুনিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহরে তালিকার সেরাতে আজও। গত ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মাসের অর্ধেকজুড়েই দূষিততম নগরের তকমা নিয়ে হাজির হচ্ছে। উচ্চ আদালতের হুকুম জারি আছে রোজ পানি ছিটিয়ে শহর ধূলিমুক্ত রাখার। সে হুকুম কোথাও আমল হচ্ছে কি না, ঈশ্বর জানেন; আমরা ঢাকাবাসী তা চোখে দেখিনে, কানেও শুনিনে। একদা ঢাকা ছিল নদীঘেরা এক চমৎকার নগরী। দুনিয়ার কয়টা শহরের চারপাশ চার–চারটা নদী বহমান, তা আমার জানা নেই। কিন্তু ঢাকা ছিল সেই বিরল শহর, যেটি চারপাশ নদীবেষ্টিত। কিন্তু হলে কী হবে? ‘সরকারকা মাল, দরিয়ামে ঢাল’—আমরা এমন রপ্ত করেছি যে গোটা নদীই দখল করে করে ওদের জান কবজ করে ফেলেছি। প্রাণীর জান কবজের কাজ আজরাইল ফেরেশতার। কিন্তু খোদ দুনিয়ার জান কবজের কাজটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে আশরাফুল মখলুকাত—মানুষ। শুধু ঢাকার নদী নয়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে এখন নদী খুঁজে পাওয়াই ভার। যদিওবা নদী কিছু অবশিষ্ট আছে, পানি তার ভয়ংকর দূষিত। বেশির ভাগ নদী এখন খাল বলেও চেনা যায় না। যেটুকু আছে, তা কচুরিপানায় ভরা। নয়তো দখলবাজরা তা দখলে নিয়ে মাছের ঘের, পুকুর বানিয়েছে, বাড়ি, দোকানের ইমারত তুলেছে।
ঢাকায় এককালে খাল ছিল বহু। এখন সেগুলোও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ধানমন্ডি, বনানী, গুলশান, উত্তরা, বারিধারায় ভদ্দরলোকদের জন্য যেসব লেক তৈরি করা হয়েছিল, তারও অবস্থা কাহিল। এমনকি কয়েক শ কোটি টাকায় নান্দনিক শোভার বার্তা দিয়ে হাতিরঝিল তৈরি করা হলো দশক দেড়েক আগে, সেটা এখন পচা পুকুরেরও অধম, চরম দূষিত। ওই এলাকার বাসিন্দারা কী করে বসবাস করে, তা কেবল মাবুদ জানেন। ওদিকে দেশের একসময়ের আইকন হোটেল সোনারগাঁও এলাকা পচা সবজি আর মাছের গন্ধে কাক-শকুনেরও অরুচি। সেদিন দেখি, হাতিরঝিলে ছুটছে বিনোদনের কলের নৌকা। তা নৌবিহারের ব্যবস্থা যদি করেন নগরপিতা, তাহলে দুটি বিষয় মাথায় নিলে ভালো করতেন। এলাকাটা আগে সাফসুতরো করে দুর্গন্ধ তাড়িয়ে নিতেন। আর দ্বিতীয় নিদান, কলের জাহাজ না চালিয়ে দাঁড় আর হালের নৌকা চালালে নতুন প্রজন্ম ‘প্রমোদে ঢালিয়া দিত মন’। বাতাস যখন বইত, ধীরে ধীরে উড়িয়ে দিলে নানা রঙিন পাল, খুশির পালে লাগত জবরদস্ত হাওয়া। তাতে হাতিরঝিলের মান বাড়ত, নাগরিকদের দেহ–মন চনমনিয়ে উঠত। কিন্তু সেসব দিকে নজর দেবেন, তেমন লোকের এখন বেজায় অভাব। বরং দেখি, চারদিকে কোটি কোটি লোক নগরটাকেই খাবলে–খুবলে খেতে হল্লা করে আসছে ধেয়ে ধেয়ে। তাদের সঙ্গে আছেন আবার গদির ওপর বসা অনেক মানুষ। তাঁরা সবাই দল বেঁধেছে আসছে আমাদের মতো পথের মানুষের জান খাবলে খাবলে খেতে। গরিব মানুষের কলজে খাওয়া বেশ মজার। আমিরুল আলম খান: যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.