মহাবিপদের মুখে সুন্দরবন

মহাবিপদের মুখে সুন্দরবন

আনু মুহাম্মদ

Last 1গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ ডুবে গিয়ে জয়মনি, নন্দবালা, আন্ধারমানিক, মৃগমারী এলাকায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেল ছড়িয়ে পড়ে। ঐ জাহাজ ফার্নেস তেল নিয়ে যাচ্ছিলো একটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জোয়ার ভাটার টানে এই তেল ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত কোন উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারকাজে জাহাজ এসেছে ১১ ডিসেম্বর, উদ্ধারও হয়েছে। কিন্তু এই ছড়িয়ে পড়া তেল যে অপূরণীয় ক্ষতি করলো তার নিরসনে কোন প্রস্তুতি বা ব্যবস্থা যে সরকারের নেই তাও পরিষ্কার হয়েছে। নদী থেকে তেল সরানোতে সরকারের ব্যর্থতা ও উদ্যোগহীনতার মুখে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের জানাবোঝা মতো তেল উঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি আওয়াজ ও অকর্মণ্য ভূমিকা একইসঙ্গে অব্যাহত আছে।

এর আগে গত ১২ ও ৩০ সেপ্টেম্বর সিমেন্টের কাঁচামাল বহনকারী দুটো জাহাজ ডুবে গিয়েও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এগুলোর পরিণতি কী হল তা নিয়ে সরকারি কোন রিপোর্ট দেখিনি, সরকার এগুলো ধামাচাপা দিতেই ব্যস্ত থাকেন। সেজন্য ঐসব ঘটনার পরও সরকার এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এবারেও তদন্ত কমিটি হয়েছে, সত্য চাপা দেবার জন্যই বোঝা যাচ্ছে।

তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর তানজিমউদ্দীন খান এবং প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা জাহাজডুবি পরবর্তী শ্যালা নদীসহ সুন্দরবনের অবস্থা সরেজমিনে বোঝা এবং এধরণের মহাবিপর্যয় মোকাবেলায় কী করণীয় তা নির্দিষ্টকরণের জন্য বিপর্যস্ত এলাকায় পৌঁছান।

ফিরে এসে তাঁরা গত ১৫ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনে এর উপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে তাঁরা বলেন, “তেলবাহী জাহাজটিকে দেখে দৃশ্যত সিমেন্ট/বালি বহন করার মত বাহন বলে মনে হয়েছে। এদেশীয় জাহাজটি ছয়টি আলাদা কম্পার্টমেন্টে ফার্নেস তেল পরিবহন করছিল। ছয়টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে চারটিই বিধ্বস্ত ছিল। এই বিধ্বস্ত কম্পার্টমেন্টগুলো দিয়ে দু’দিন ধরে শ্যালা নদীতে মতভেদে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ তেল নিঃসরিত হয়েছে। এই নিঃসরণের বিস্তারটি শুধু নদীতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। শ্যালা নদীর দুই পার দেখে মনে হচ্ছিল কেউ যেন বিটুমিন দিয়ে কালো রং মেখে দিয়েছে।…

“আমরা দুই পারের যত কাছাকাছি গিয়েছি ততই জমাটবদ্ধ ফার্নেস তেলের আস্তরণ চোখে পরেছে। খড়ম নদী ও মৃগমারী খালেও একই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। নদীর পার সংলগ্ন ছোট এবং মাঝারী আকারের গাছ ও ঝোপঝাড়গুলো কালো তেলে ঢেকে আছে। স্থানীয় বনজীবিদের সাথে আলাপ করে আমরা বোঝার চেষ্টা করি এই তেল নিঃসরণের বিরূপ প্রতিক্রিয়াকে। প্রায় পাঁচ-ছয়জন বনজীবিদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়। তাদের আলোচনায় এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে শুধুমাত্র নদী কিংবা সুন্দরবনই আক্রান্ত হয়নি,তাদের জীবিকাও ব্যহত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে নদী ও খালগুলোতে বিভিন্ন মাছ যেমন, পাতারী, পার্শে, ট্যাংরা, চিংড়িপোনা ও কাঁকড়া দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এবং তারা সেগুলো সংগ্রহ করতে পারছে না। তার বদলে তারা তেল সরাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা এও জানান যে ২০১১ সালে নৌপথটি চালু হওয়ার কারণে এমনিতেই শ্যালা নদী সংলগ্ন এলাকায় মাছের আহরণ ভীষণভাবে কমে গিয়েছে।”

তাঁরা আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে পুরো সুন্দরবনের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন। এই প্রক্রিয়াটির সূত্রপাত শুধুমাত্র এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে ঘটেনি। ইতোমধ্যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পভিত্তিক কর্মকান্ড যেমন সাইলো নির্মাণ এব ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সুন্দরবনের জমি কেনার হিড়িক ভীষণ সংবেদনশীল এই শ্বাসমূলীয় বন ও তার প্রতিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের মত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানও পিছিয়ে নেই। আমরা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে যেসব বিপর্যয়ের আশঙ্কা অনেকদিন ধরে করে আসছিলাম, শ্যালা নদীতে তেল নিঃসরণ সেই আশঙ্কাগুলোরই একটি বাস্তব নজির।”

সুন্দরবন নিয়ে সরকারের স্ববিরোধী ভূমিকা প্রকট। প্রধানমন্ত্রী একদিকে আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে সুন্দরবন বাঁচানোর কথা বলছেন, অন্যদিকে তাঁর সরকার দেশি বিদেশি মুনাফাখোরদের স্বার্থে সুন্দরবনধ্বংসী নানা তৎপরতায় সক্রিয় থাকছে। সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গত বছর ঢাকা থেকে সুন্দরবন লংমার্চ ছাড়াও প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত আছে। বিভিন্ন প্রকাশনা, গবেষণার মধ্য দিয়ে বিশেষজ্ঞরা কেনো এই কেন্দ্র বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী, সুন্দরবন ও মানববিধ্বংসী, তা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্য যুক্তিসহ তুলে ধরেছেন। ভারতীয় কোম্পানি (এনটিপিসি) নিজ দেশের আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশা এই প্রকল্পে চালকশক্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি, দল, জাতীয় কমিটি ও বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ ও প্রকৃতিকে যে সুন্দরবন রক্ষা করে, অসাধারণ জীববৈচিত্রের আধার হিসেবে যা প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে সেই সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে এই প্রকল্প।

সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য আমরা সরকারের কাছে বার বার দাবী জানিয়েছি ক্ষতিকর সব পরিবহণ এবং প্রকল্প বন্ধ করতে। কিন্তু সরকার সুন্দরবনের গুরুত্ব সম্পর্কে নির্লিপ্ত থেকে তার সুরক্ষার পরিবর্তে নিকটবর্তী নৌ-পথে বৃহৎ নৌ-পরিবহণের অনুমতি দিয়েছে,বিশাল কয়লা পরিবহণের উপর নির্ভরশীল একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে, নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ভূমি দস্যুদেরকে জমি দখলের সুযোগ করে দিয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলে সরকারি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আরও বনজমি দখলের তৎপরতা এখন জোরদার। বিশ্বব্যাংক ও ইউএসএইডের তহবিলে তৈরি হচ্ছে নানা প্রকল্প। বলাইবাহুল্য সরকারের এসব ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউনেস্কো এবং রামসার সুন্দরবন ঘিরে একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মুনাফামুখি তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সরেজমিন তদন্ত শেষে তাই আমাদের স্পষ্ট দাবি তুলতে হবে: (১) সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজডুবির ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, মৎসজীবী বনজীবীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। (২) শ্যালা ও পশুর নদীতে সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে; এবং (৩) সুন্দরবনধ্বংসী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সবরকম ক্ষতিকর ব্যবসায়িক প্রকল্প বাতিল করে ‘সুন্দরবন নীতিমালা’র ভিত্তিতে এর সম্প্রসারণ ও বিকাশের উদ্যোগ নিতে হবে।

লুটেরা দখলদারদের হাতে আমরা আমাদের অস্তিত্বের স্মারক সুন্দরবন ছেড়ে দিতে পারি না।। প্রকাশক: আমাদের বুধবার, তারিখ:

সূর্যগ্রহণ ২০২০ : ২১ জুনের সূর্যগ্রহণ এই চার রাশির জীবনে সৌভাগ্য...

সূর্যগ্রহণ ২০২০ : ২১ জুনের সূর্যগ্রহণ এই চার রাশির জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনবে

জু

ন মাসের ২১ তারিখ হতে চলেছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। শুধু এটিই নয়, এর ঠিক ১৪ দিন পরে আবার চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। সেই হিসেবে দেখতে গেলে এক মাসের মধ্যে তিনটি গ্রহণ কেবল দেশ-দুনিয়াই নয়, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলবে। আশা করা যায় যে, এই গ্রহণের ফলে মানুষের শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। আবার, এমন কিছু রাশি আছে যাদের ক্ষেত্রে এই সূর্যগ্রহণ ভাল ফলাফল আনবে। তাহলে আসুন এই নিবন্ধের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক যে, ২১ জুনের সূর্যগ্রহণ কোনও রাশির জাতকদের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনতে চলেছে। মেষ এই সূর্যগ্রহণ মেষ রাশির জাতকদের উপর ভালো প্রভাব ফেলবে। আপনার আর্থিক পরিস্থিতি আরও ভাল হবে। যদি আপনার কোনও কাজ স্থগিত ছিল, তবে সম্ভবত এটি পূরণ হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। এই সময়কালে যেকোনও মাঙ্গলিক কার্য সম্পন্ন হবে। আপনাকে এই সময়ে কোনও ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সিংহ এই সূর্যগ্রহণ সিংহ রাশির জাতকদের পক্ষে ভালো হবে। দীর্ঘ সময় ধরে আপনি যেসব কাজের পিছনে পরিশ্রম করছিলেন তাতে সাফল্য লাভ করবেন। এই সময়ের মধ্যে, আপনি বাড়ি বা গাড়ি কিনতে পারেন। তবে, গাড়ি ব্যবহার করার সময় আপনাকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কন্যা এই সূর্যগ্রহণ যেসব রাশির জাতকদের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনবে তাদের মধ্যে কন্যা রাশিও আছে। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সময়টি মঙ্গলজনক হবে। আপনি ইতিবাচকতা অনুভব করবেন এবং আপনার মন সুখী হবে। যদি আপনার কোনও কাজ আটকে থাকে তবে এই সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। অর্থনৈতিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে ২১ জুন, জানুন কোন সময় দেখা যাবে এটি মকর এই রাশির জাতকরা যদি কিছু সময়ের জন্য সমস্যায় পড়ে থাকেন, তবে আগামী সময়টি তাদের জন্য খুব স্বস্তিদায়ক হবে। ঘরে যেকোনও মাঙ্গলিক কার্য আয়োজন করা হতে পারে। আপনি আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারেন। এই সময়ে আপনি কিছু ভালো খবরও পেতে পারেন।

বৈশ্বিক উষ্ণতার মূলে মানুষ

বৈশ্বিক উষ্ণতার মূলে মানুষ
বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মানুষই দায়ী বলে মতপ্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে ১৯৫০ দশক থেকে মানুষের কার্যকলাপের ফলেই সবুজ এ গ্রহটি ক্রমশ প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ৯৫ শতাংশ বিশ্ব উষ্ণায়ন মানুষের কারণে হয়ে থাকে। আর এ বিষয়টি নিয়েই অর্থাত্ বিশ্ব জলবায়ুর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। বিবিসি।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৫টি দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের পর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনটিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়টি বিস্তারিত ভৌত প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হবে।
এ প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি একমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে মানুষের দায় যে সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৯৫০ দশক থেকে মানুষের কার্যকলাপই যে এর জন্য দায়ী সে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তারা।
সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলে সঞ্চিত বরফের পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে উন্নতির ফলে প্রাপ্ত ফল এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও পরিষ্কার করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে দীর্ঘকালীন বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধি ২ সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা এর বেশি বেড়ে গেলে পৃথিবীর পরিবেশে বিপজ্জনক পরিবর্তন দেখা দেবে। তবে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ সেন্টিগ্রেডের নিচে ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইপিসিসির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর জ্য প্যাসকেল ভ্যান পার্সেলি।
সূত্রঃ সকালের খবর

বিশ্বের ইতিহাসে তাপমাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর ২০১৪

বিশ্বের ইতিহাসে তাপমাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর ২০১৪
হ্যালোটুডে ডেস্ক : ইতিহাসে তাপমাত্রার দিক থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে চলতি বছরকে চিহ্নিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশ্বের ইতিহাসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা শুরু হবার পর থেকে ২০১৪’র তাপমাত্রা সবচাইতে গরম ছিল বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্প্রতি পেরুতে চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে। মরক্কো, তুরস্ক ও বলকান এলাকাসহ বিশ্বের কয়েকটি এলাকায় আবহাওয়ার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটি বলছে এই পরিবর্তনের নমুনা হলো কিছু এলাকায় বৃষ্টি বাড়ছে আবার কিছু এলাকায় খরা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা সতর্ক করে বলছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমেই তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। তাপমাত্রার এই পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠ আর গোলার্ধে প্রভাব পড়বে। সংস্থাটি বলছে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মরক্কো, তুরস্ক এবং বলকান এলাকায় অধিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবার আরেক প্রান্তে শুষ্কতা বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিকাল অর্গানাইজেশনের প্রধান মিশেল জারাউড বলেন ক্রমবর্ধমান গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন এবং বায়ুমণ্ডলীয় ঘনত্ব পৃথিবীর পরিবেশকে ক্রমেই অনিশ্চিত এবং অসহনীয় পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই বছরের প্রথম দশ মাসে বিশ্বব্যাপী বায়ুর গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ সাত সেলসিয়াস। প্রথম এগারো মাসে যুক্তরাজ্য এক দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা উৎপন্ন হয়েছে। ভুপৃষ্ঠের কার্বন গ্যাস নিঃসরণ এজন্য অনেকটাই দায়ী বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন। এবছরের চলতি ধারা পরবর্তী দুই মাস চলতে থাকবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা। মি জারাউড বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা কী পেতে পারি চলতি বছরের এই তথ্য উপাত্ত তাই জানান দিচ্ছে।” এই তথ্য প্রমাণ করে ১৫টি উষ্ণতম বছরের মধ্যে ১৪টিই একবিংশ শতকে দেখা গেছে। তাপমাত্রা চরম উষ্ণ হলে কি ঘটকে পারে সে সম্পর্কে মিজ জারাউড বলেন, রেকর্ডভাঙা মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা, সাথে মুশলধারে বৃষ্টিপাত ও বন্যায় জীবিকা এবং জীবনের ক্ষতি ঘটে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ট এবং উত্তরাঞ্চলীয় গোলার্ধে এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্রঃ হ্যালো টুডে

বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী

সুপার মুন:
বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী
আকাশের চাঁদ তো সবাই দেখে। কিন্তু অন্যান্য দিনের চেয়ে রোববারের আকাশে চাঁদের আকার, সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চাঁদকে জড়িয়ে থাকা লাল আভায় যেন ঢাকা পড়েছিল চাঁদের কলঙ্ক। ৩৩ বছর পর চাঁদের অপার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ বিশ্ববাসী, সৌন্দর্য যেন ঠিকরে পড়েছিল পৃথিবীতে। সে এক বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী। বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথিবীর মানুষ দেখল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু এ গ্রহণ সাধারণ কোন চন্দ্রগ্রহণ নয়। এ গ্রহণ হলো সুপারমুনের গ্রহণ। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম একই সঙ্গে সুপারমুন এবং চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘটল। পৃথিবীর মানুষ আবার বিরল এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে ২০৩৩ সালে।চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে কাছে যখন চলে আসে তখন পৃথিবী থেকে একে দেখতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বড় দেখা যায়। এই পূর্ণিমাকে 'সুপারমুন' বলা হয়। কিন্তু এই সংজ্ঞা নিয়ে জ্যোতির্বিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আর যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। ফলে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে; সেই ছায়ায় চাঁদকে রক্তাভ লাল দেখায়। আর তা দেখার জন্য সাড়া পড়েছে বিশ্বজুড়ে সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের মধ্যে। এবারের বিশেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ নর্থ আমেরিকা, সাউথ আমেরিকা এবং আফ্রিকা ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দেখা গেছে। নর্থ আমেরিকার পশ্চিমাংশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাকি অংশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে দেখা গেছে আংশিক গ্রহণ। যুক্তরাজ্যে সোমবার ভোরবেলায় পৃথিবীর ছায়ার নিচে হালকা ঢাকা পড়েছিল চাঁদ। আর নর্থ ও সাউথ আমেরিকায় গ্রহণ দেখা গেছে রোববার সন্ধ্যায়। বাংলাদেশ থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা না গেলেও সুপারমুন দেখা গেছে রোববার। গতকালও সেই বিশাল চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করছে দেশবাসী। ১৯৮২ সালের পর এক বিরল দৃশ্যের দেখা মিলল রোববার রাতের আকাশে। বাংলাদেশের আকাশে বড় চাঁদ দেখা গেছে। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও এই চাঁদ দেখতে পেয়েছে বিশ্ববাসী। মহাজাগতিক ঘটনার একপূর্ণিমার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় চাঁদ লালচে আভায় ধরা দেয় বিশ্ববাসীর কাছে, যাকে বলা হয় ‘সুপার মুন’। এমন দৃশ্য দেখতে আবার ২০৩৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর গত ১শ’ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র পাঁচবার। যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকট কক্ষপথে চলে আসে ও স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় দেখায় তখন তাকে ‘সুপার মুন’ বলা হয়। সুপার মুন সম্পর্কে আইরিশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এটি খুবই বিরল ঘটনা। কিছুসংখ্যক মানুষ যারা এ দৃশ্য দেখতে পাবেন তারা ভাগ্যবান। রাতে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চাঁদ কমলা থেকে গাঢ় লাল রংয়ে রূপ নেবে। পৃথিবীর সব স্থান থেকে সুপার মুন অবলোকন করা নাও যেতে পারে। এটা নির্ভর করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপর। জানা গেছে, চাঁদ সম্পূর্ণ গোলাকার নয় বলে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৯ হাজার ৯০০ কিলোমিটারের কম-বেশি হয়। আর একমাত্র এ উপগ্রহটি প্রতি ২৭ দিন অন্তর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের যে বিন্দুতে (পেরিজি) চাঁদ আসে, তার দূরত্ব ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১০৪ কিলোমিটার। আর সবচেয়ে দূরে (অ্যাপোজি) যে বিন্দুতে চাঁদ অবস্থান করতে পারে তার দূরত্ব ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৯৬ কিলোমিটার। পেরিজির সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখনই ঘটনাচক্রে পূর্ণিমা হলে চাঁদকে স্বাভাবিকের থেকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এটিই ‘সুপার মুন’ বা ‘পূর্ণচন্দ্র গ্রহণ’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, একই সঙ্গে সুপার মুন ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা এবার ৩০ বছরের বেশি সময় পর ঘটছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে না। আর একই সঙ্গে সুপার মুন-চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০৩৩ সালে।
 

আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!

আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!

অপেক্ষা করছে এক মহাভূমিকম্প, যার কারণে মারা পড়তে পারেন বিশ্বের চার কোটি মানুষ! অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তো? এতবড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে এ অবধি দেখেনি বিশ্ব। বৃটিশ দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা- দু'টো মহাদেশই 'ভেঙে' আলাদা হয়ে যেতে পারে, ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামির কারণে আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভূমিকম্পটি আসন্ন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করা ইরানী বংশোদ্ভূত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মেহরান কেশের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গত মাসে ধারণকৃত এক ইউটিউব ভিডিওতে তিনি বলছেন, ওই ভূমিকম্পে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেই দুই কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মেহরান কেশের এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা আনুষ্ঠানিক সত্যতা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী ৩০ বছরে অঞ্চলটিতে একটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে ৯৯ শতাংশ, যার সম্ভাব্য মাত্রা সাড়ে ছয়। আর ড. কেশের গবেষণা বলছে, আসন্ন মহাভূমিকম্প আগামী এক বছরের মধ্যে ঘটতে পারে। গত মাসে আমেরিকা মহাদেশীয় অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ছয় থেকে ৮.৩-এর মধ্যে যে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেগুলোর আসন্ন মহাভূমিকম্পেরই লক্ষণ- এমনটাও দাবি করেছেন তিনি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উত্তর চীনে বড় ধরনের কয়েকটি ভূমিকম্প হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তার ধারণা, বিশালাকার সুনামির ফলে মহাদুর্যোগে ধ্বংস হয়ে যাবে মেক্সিকো ও মেক্সিকান উপসাগরীয় অঞ্চল। আরেক বৃটিশ দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে আঘাত হানবে ভূমিকম্পটি এবং এর সম্ভাব্য মাত্রা হতে পারে ২০ থেকে ২৪। এছাড়াও ওই ভূমিকম্পে মধ্য আমেরিকার মানুষজন বাঁচার কোনো সুযোগই পাবে না, এমনটাও ধারণা কেশের। সবশেষে ভেবে দেখার মতো আরো একটি কথা যোগ করেছেন কেশে, আর তা হলো এই যে- ভূমিকম্পটি বিশ্বে শান্তি এনে দেবে! তার দাবি- 'ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ভয়াবহ হবে যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে, ভেঙে পড়বে ব্যাংকিং ব্যবস্থা।'
 

বড় হলে দুরারোগ্য রোগের কারণ হবে ক্ষুধামান্দ্য | রাজধানীর শিশুপার্ক ও...

বড় হলে দুরারোগ্য রোগের কারণ হবে ক্ষুধামান্দ্য [caption id="attachment_522" align="alignleft" width="300" caption="Nogor Sishu নগর শিশু"]নগর শিশু[/caption] নগর শিশুর প্রতিদিন- ৪ ০০ আসিফুর রহমান সাগর ব্যস্ত শহর জীবনে মা-বাবার সবচেয়ে বড় সমস্যা কি? সবাই একবাক্যে বলবেন, 'আমার সন্তান কিছুই খেতে চায় না। ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হয় না। কি যে করি?' শিশু খেতে চায় না,- এ অভিযোগ বোধকরি শহরের প্রতিটি মা-বাবার। আলাপকালে এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন বললেন, 'শিশুরা খেতে চায় না পিতা-মাতার এ অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু কেন শিশু খেতে চায় না সেটা কি তারা ভাবেন? খেলাধুলা করলে, ছুটোছুটি করলে শিশুদের খাওয়ার চাহিদা বাড়ে, কিন্তু শহরের শিশুদের খেলাধুলা আর ছুটোছুটি করার সে সুযোগ কই? শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন-যাপনের অভাবে শিশুরাও অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। প্রতিদিন দৌড়াদৌড়ি, হুটোপুটি না করলে শরীরের কোন পরিশ্রম হয় না। ফলে তাদের খিদেও পায় না। খিদে না পাওয়া, কম খাওয়া আর খেলাধুলার অভাবে এই শিশুদের মধ্যে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। ফলে মায়েরা দিনরাত দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এ সমস্যা বড়দের তৈরি করে দেয়া তার জীবন-যাপন পদ্ধতির। বেশিরভাগ বাবা-মাই জানেন না যে, শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণেই শিশুর মধ্যে এ ধরনের ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। শিশু বয়সের এই সমস্যা বড় হওয়ার পর গুরুতর অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং যারা একটি শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অর্থাৎ মা-বাবা, স্কুল কতর্ৃপক্ষ তাদের আরো বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। একটি শিশুকে লেখাপড়ায় 'ফার্স্ট' করানোর পেছনে না ছুটে তাকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিমান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার পেছনে সবার দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মত দেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, ক্ষুধামান্দ্যর পাশাপাশি স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে 'ওবেসিটি' বা ওজন বেড়ে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। শিশুদের মধ্যে স্বাভাবিক খাবার না খেয়ে 'ফাস্ট ফুড' আসক্তির ফলেই 'ওবেসিটি' হচ্ছে। তিনি জানান, এর ফলে শিশুদের মাঝে দেখা দিচ্ছে পুষ্টিহীনতা। তারা দিন দিন নির্জীব হয়ে পড়ছে। যেকোন কাজে বা খেলাধুলায় আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। এর ফলে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, এজমার সমস্যা দেখা দেবে। এই শিশুরা বড় হলে তাদের মাঝে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হবে। যার কারণে উচ্চ রক্তচাপসহ হার্টের নানা রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ভবিষ্যৎকে এই রোগভোগের দিকে ঠেলে না দিয়ে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। একটি শিশু তার স্কুলেই দিনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটায়। ফলে স্কুলে শিশুটির জন্য প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এ ধরনের খেলার ব্যবস্থা রাখতে হবে। খোলা মাঠ না থাকলে ইনডোর খেলা যেমন টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল প্রভৃতি খেলার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। এতে তাদের শারীরিক পরিশ্রম হবে। ডা. মনজুর বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত স্কুলে খেলাধুলার পাশাপাশি ক্যাম্পিং ও আউটিং-এর ব্যবস্থা রাখা। এতে শুধু নির্দিষ্ট সময় নয়, একটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজের অভিজ্ঞতা হবে শিশুদের। এটা তার মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির সহায়ক। এতে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠবে। ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------ [caption id="attachment_523" align="alignleft" width="261" caption="Nogor Sishu নগর শিশু"]Nogor Sishu নগর শিশু[/caption] রাজধানীর শিশুপার্ক ও শিশুদের বিনোদন পবিত্র দুই ঈদ ও জাতীয় উৎসব উদযাপনের সময় রাজধানীর শিশুপার্কগুলিতে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। এই পার্কগুলিই তাহাদের চিত্ত-বিনোদনের প্রধান ভরসা হইয়া ওঠে। এক রিপোর্টে দেখা যায় যে, শাহবাগস্থ শহীদ জিয়া শিশুপার্কে সাধারণ কর্মদিবসে নিম্নে ১০ হাজার এবং ছুটি বা উৎসবের দিনগুলিতে দুই লক্ষ টাকারও বেশি আয় হয়। কিন্তু আয় অনুযায়ী বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা তো বাড়েই না, বরং দিন দিন তাহা আরও সংকুচিত হয়। অভিভাবকদের এ সংক্রান্ত অভিযোগের অন্ত নাই। আলোচ্য শিশুপার্কটি অত্যন্ত সুপরিচিত হইলেও জরাজীর্ণ রাইডগুলির কারণে এখন অনেকের কণ্ঠে ধ্বনিত হইতেছে হতাশার সুর। অধিকাংশ রাইড মেয়াদোত্তীর্ণ, অনাকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক। মেরামত বা জোড়াতালি দিয়া আর কতদিনই বা চালানো যায়! টগবগ টগবগ ঘোড়ার ভাঙ্গা হাতল, লম্ফঝম্পের ছিঁড়িয়া যাওয়া ক্যানভাস, রেলগাড়ির শতচ্ছিন্ন আসন, সন্ধ্যায় অপর্যাপ্ত আলো ইত্যাদি সমস্যা যেন দেখার কেহ নাই। নূতন রাইড সংযোজন দূরের কথা, বেবিসাইকেল চালনা ও চাকা পায়ে চলা খেলা দুইটির কোন অস্তিত্বই এখন নাই। অন্যান্য রাইডেও আছে পর্যাপ্ত খেলনার অভাব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরিয়া শিশুপার্কের প্রকৃত সংস্কার ও উন্নয়ন না থাকায় আসলে অনেক সমস্যারই সমাধান হইতেছে না। শুধু শহীদ জিয়া শিশুপার্কই নহে, অপরাপর শিশুপার্কের অবস্থাও তথৈবচ। অনেক শিশুপার্ক খাতা-কলমে থাকিলেও বাস্তবে তাহার অস্তিত্ব নাই বা থাকিলেও দুর্দশাগ্রস্ত। অযত্ন ও অবহেলায় প্রায় পরিত্যক্ত। রাজধানীর বিলুপ্ত শিশুপার্কগুলির একটা ছোট্ট তালিকা দেওয়া যাইতে পারে। যেমন- লালমাটিয়া নিউ কলোনি শিশুপার্ক, বকশীবাজার শিশুপার্ক, মতিঝিল বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শিশুপার্ক, সায়েদাবাদ শিশুপার্ক, টিকাটুলি শিশুপার্ক, আজিমপুর শিশুপার্ক, উত্তরা ১ নং সেক্টরের শিশুপার্ক এবং মিরপুর ২ ও ৬ নং সেক্টরের শিশুপার্ক। এসব শিশুপার্ক রক্ষায় সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদেরও ব্যর্থতা সীমাহীন। ঈদ আসিলেই শিশুপার্কের প্রয়োজনীয়তা অধিক হারে অনুভূত হয়। ঈদ চলিয়া গেলে সারা বৎসর ইহা লইয়া কেহ তেমন আর উচ্চবাচ্য করেন না। তবে আশার কথা এই যে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকা শহরে অনেক চিত্তাকর্ষক ও মনোরম শিশুপার্ক বা বিনোদন কেন্দ গড়িয়া উঠিয়াছে। কিন্তু সেইসব স্থানে শিশু-কিশোরদের লইয়া আনন্দ-উৎসব করা ব্যয়বহুল বলিয়া বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য তাহা সাধ্যাতীত। এমতাবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা সরকারি পার্কগুলিকে শিশু-কিশোরদের জন্য অধিকতর বিনোদন উপযোগী করিয়া গড়িয়া তোলা একান্ত প্রয়োজন। এই উপলক্ষে সর্বাগ্রে পার্কগুলিকে বেদখলমুক্ত করিতে হইবে। অতঃপর তাহা সুরক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণপূর্বক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তুলিতে হইবে। ঢাকা শহরে ৯০টিরও বেশি পার্ক রহিয়াছে। ইহার তত্ত্বাবধায়ক সিটি করপোরেশন, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ একেক সংস্থা। পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত পার্ক বা মাঠ-ঘাটের অভাবে রাজধানীর শিশু-কিশোররা দিন দিন ইট-পাথরের এই শহরে গৃহবন্দী হইয়া পড়িতেছে। ইহাতে তাহাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হইতেছে মারাত্মকভাবে যাহা দেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দুঃসংবাদবহ। গভীরভাবে ভাবিয়া দেখিলে ইহা জাতীয় উন্নয়নেরও প্রতিবন্ধক। তাই এ ব্যাপারে সরকার ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঠিক উপলব্ধি ও পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত দরকার। সেই সঙ্গে সর্বসাধারণের সচেতনতা ও নাগরিক আন্দোলনও জরুরি। জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market

‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৪’ পেলেন আইনুন নিশাত

‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৪’ পেলেন আইনুন নিশাত
উত্তম সরকার : সবুজের শাড়িতে সেজেছে চারপাশ। সারিবদ্ধ নানা প্রজাতির ছোট ছোট গাছ। মৃদু বাতাসে থর থর কাঁপছে গাছের পাতা। ভালো করে কান পাতলে শোনা যায় কবিতার ছন্দ ও তাল। গাছের ফাঁকে সবুজ আলোর লুকোচুরি খেলা যোগ করেছে ভালো লাগার নতুন মাত্রা। মঞ্চটাও সবুজে মোড়ানো। আঁকা-বাঁকা ডালপালা ছড়িয়ে হঠাত্ করে মঞ্চটাকে দেখলে যে কারো গভীর অরণ্য বলে ভ্রম হতে পারে। পায়ের নিচের সবুজের গালিচা। অতিথিদের বসার স্থানগুলোতেও রয়েছে সবুজের বৈচিত্রতা। এক কথায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৪’-এর মঞ্চ ছিল মানুষের যত্নে গড়া একখণ্ড সবুজ বাগান। সবুজের চোখ জুড়ানো মায়াময় স্নিগ্ধতা পান করে যে কেউ মেটাতে পারে মনের ক্ষুধা। গত ৮ নভেম্বর চ্যানেল আই ছাদ বারান্দায় খোলা আকাশের নিচে সবুজে সাজানো আঙিনায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিশেষ অবদান রাখার জন্য পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতকে প্রদান করা হয় ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক—২০১৪’। নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও পানিসম্পদ গবেষণার অন্যতম পথিকৃত আইনুন নিশাত নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়সহ বিভিন্ন জলাভূমি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। বলতে গেলে বাংলাদেশে পানিসম্পদ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ড. আইনুন নিশাতের হাত ধরে। আইনুন নিশাত শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে। এরপর ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৬৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই গুণী মানুষটি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে ১৯৯৮ সালে অবসরে যান। কিন্তু কাজ পাগল এই মানুষটি একই সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দি কনজারভেশন অব ন্যাচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস (আইইউসিএন) এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে যোগ দেন। ১১ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৯ সালে আইইউসিএন থেকে অবসর নিয়ে যোগদান করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। ২০১৪ সালে উপাচার্য পদ থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের পানিসম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে ড. আইনুন নিশাত সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশের বিভিন্ন বড় বড় স্থাপনা নির্মাণের কারণে পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে প্রথম গবেষণা কাজ শুরু হয়। আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন তিনি বাংলাদেশের জলাভূমি, বনভূমি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন। ড. নিশাত বাংলাদেশের প্রকৃতি সংরক্ষণে প্রণয়নকৃত জাতীয় সংরক্ষণ নীতিমালা ও জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পানিসম্পদ ও জলাভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় এবং উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়েরও পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পানিসম্পদ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা এই কর্মবীরের হাতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৪’ তুলে দেন প্রধান অতিথি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বিশেষ অতিথি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলা জ্যাকব, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু ও ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন, রিয়াজ আহমেদ খান। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষ থেকে পরিচালক হাসনিন মুক্তাদির ড. আইনুন নিশাতকে ১ লাখ টাকার সন্মাননা চেক এবং ডা. সরদার এ নাঈম জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা দেয়ার সনদপত্র প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শুরুতে  শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্য দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সৃষ্টির সূচনা থেকে প্রকৃতির পরিবর্তন হয়ে আসছে। তবে প্রকৃতির সমস্যা সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। এই বিরাট সমস্যাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের আশাবাদী হতে হবে। সব সীমাবদ্ধতার ভিতরও এগিয়ে যেতে হবে। আইনুন নিশাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আইনুন নিশাতকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময় তার সঙ্গে কাজ করেছি। তার জ্ঞানের গভীরতা জানি। বঙ্গবন্ধু সেতুর কাজের সময় তিনি যখন কথা বলতেন তখন বিদেশি পরামর্শকরা তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, আমরা সচেতনভাবে নিজেদের দায়িত্ব যদি পালন করি তবে আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ উপহার দিতে পারব। তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য নিরবে-নিভৃতে যে ক’জন গুণী ব্যক্তি কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে ড. আইনুন নিশাত একজন অনন্য ব্যক্তি। আমি তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি। পদক গ্রহণের পর আইনুন নিশাত তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আগামী প্রজন্মের কল্যাণে এখনো কাজ করে যাচ্ছি। পরিবেশ ও বনমন্ত্রীসহ অনেকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করি তারা অনেক সময় তাত্ত্বিক কথা বলি। এক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। মানুষকে বাদ দিয়ে প্রকৃতি নয়। প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে মানুষ নয়। এর মধ্যে সমন্বয় করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ প্রজন্মকেও বিষয়টি মনে রাখতে হবে। শুভেচ্ছা বক্তব্যে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, যিনি নদী ও পানিসম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি তার মতো করে আচরণ করছে। আর সেই আচরণ আমাদের কাছে বৈরী মনে হচ্ছে। তাই প্রকৃতি সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সবুজ বাংলাকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড এবং ড. আইনুন নিশাতের জীবনী নিয়ে দুটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য, তত্ত্ব ও তথ্য সংবলিত, শিক্ষামূলক ও পরিবেশবিষয়ক ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’-এর ‘ডিভিডি-২০১৪’ এবং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু রচিত ২০১৩-১৪ সালের বিভিন্ন সময় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ নিয়ে ‘আমার অনেক ঋণ আছে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কোনাল ও উদয়। ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানের পথচলা। প্রকৃতি সংরক্ষণের নানা উদ্যোগকে মূল্যায়ন করতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ২০১১ সাল থেকে সিদ্ধান্ত নেয় ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক’। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম পদক তুলে দেয়া হয় নিসর্গপ্রেমী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার হাতে। এরপর ২০১২ সালে পদক প্রদান করা হয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খানকে। পাখি অন্তঃপ্রাণ ইনাম আল হক পদক পান ২০১৩ সালে।
 

বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়

বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়: ইউএনবি, ঢাকা বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক একমাত্র শহর যা ঢাকার নিচে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে উঠে এসেছে। গত বছর এই স্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। বসবাসযোগ্যতার দিক দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরের একটি তালিকা তৈরি করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, অপরাধের মাত্রা, শিক্ষার সুযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার মানের মতো বেশ কিছু সূচক বিবেচনায় নিয়ে সারা বিশ্বের ১৪০টি শহরের ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে এবারই প্রথম ইউরোপের কোনো শহর বাসযোগ্যতার দিক থেকে শীর্ষ স্থান পেলো। বাসযোগ্যতার দিক থেকে ভিয়েনার পরই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন (২), জাপানের ওসাকা (৩), কানাডার ক্যালগেরি (৪), অস্ট্রেলিয়ার সিডনি (৫), কানাডার ভ্যাঙ্কুভার (৬), জাপানের টোকিও (৭), কানাডার টরন্টো (৮), ডেনমার্কের কোপেনহেগেন (৯) ও অস্ট্রেলিয়ার এডিলেড (১০)। তালিকার তলার দিক থেকে বিবেচনা করলে সিরিয়ার দামেস্কের ওপর রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা (২), নাইজেরিয়ার লাগোস (৩), পাকিস্তানের করাচি (৪) ও পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোরেসবাই (৫)।

ঈদে সাড়ে ২৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য জমেছিল ঢাকায়

ঈদে সাড়ে ২৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য জমেছিল ঢাকায়ঃঃ

ফয়সাল আতিক ও তাবারুল হক রাজধানীতে এবার কোরবানির ঈদের দিন দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সাড়ে ২৩ হাজার মোট্রক টনের বেশি বর্জ্য জমেছিল জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বেশিরভাগটাই সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে এই তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং উত্তরের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা। মেয়র খোকন গতবছরের মত এবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার এলাকার কোরবানির পশু বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করে ফেলা হবে। নগর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “এরই মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ অপসারিত হয়েছে।... ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারিত হয়েছে। বাকিটাও অপসারণের কাজ চলছে।” আর উত্তরের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা ঢাকা উত্তরের নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করেছি।” অনেকে বৃহস্পতিবারও পশু কোরবানি দিচ্ছেন জানিয়ে মেয়র খোকন বলেন, “আজকে এবং আগামীকাল আরও কিছু বর্জ্য উৎপন্ন হবে। সেটা অপসারণ করে কম বেশি ২০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করব। এই শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে আমাদের প্রিয় নগরবাসীর কাছে তুলে দেব।” ঢাকা সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র। দক্ষিণের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হারুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫ হাজার টনের মতো বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, আরও তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করার প্রয়োজন হতে পারে।” এ সিটি করপোরেশনে গতবছর ১৯ হাজার দুইশ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল জানিয়ে হারুন বলেন, “গতবছর বৃষ্টি ছিল, এবার পরিবেশ ছিল শুষ্ক। এবার দেড়-দুই হাজার মেট্রিক টন কম হবে বলে আমরা ধারণা করছি “ উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-২ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাসুদুর সরকার বলেন, “বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় কোরবানি হচ্ছে, সেসব এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পলিথিন ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করছেন। কোরবানির পর সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাকে করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” রাজধানীর মহাখালীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও সড়কে কোরবানি পশুর রক্ত আর শুকনো বর্জ্য থাকার অভিযোগের কথা জানালে মহাখালীতে স্থাপিত উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, “কিছু কিছু ওয়ার্ডে আজকেও কোরবানি হয়েছে। রক্ত, বর্জ্য জমে থাকার অভিযোগ আমরাও শুনেছি। সড়কে ময়লা জমে থাকলে সাথে সাথেই কর্মীরা ময়লা সরিয়ে ফেলছেন।” পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি এড়াতে গত কয়েক বছরের মত এবারও রাজধানীতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের নির্দিষ্ট কিছু স্থান ঠিক করে দিয়েছিল সরকার। ঢাকা দক্ষিণে এরকম ৬২৫টি এবং উত্তরে ৫৪৯টি স্থান ঠিক করে সেখানে কোরবানির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।  উত্তরের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, “বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে জনগণের সাড়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।” তবে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তাতে ‘আশাব্যঞ্জক’ সাড়া পাননি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণের মেয়র। ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিনে নগরীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, বাড্ডা, মহাখালী, সেগুনবাগিচা, সায়েন্স ল্যাব ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদুল আজহার রাতে যেসব গলিতে বর্জ্য জমে ছিল, তা সরিয়ে নিয়েছেন কর্মীরা। নগরীর বেশকিছু এলাকায় এদিন যারা পশু কোরবানি দিয়েছেন তারা নিজ উদ্যোগেই পশুর বর্জ্য নিকটবর্তী ডাস্টবিনে নিয়ে ফেলছেন; জীবাণুনাশক দিয়ে কোরবানির স্থানটিও পরিষ্কার করে ফেলছেন দ্রুত। কুড়িলের কাজিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা গোলাম মুস্তফা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আত্মীয় স্বজনরা সবাই এসেছে কাল (বুধবার) রাতে। তাই দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়েছি। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য আমরা নিজেরাই ডাস্টবিনে ফেলে এসেছি। রক্ত, বর্জ্য যা আছে, সব ডেটল দিয়ে ধুয়ে দিয়েছি।” রামপুরা বাজার এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশীদ বলেন, “কোথাও কোনো বর্জ্য জমিয়ে রাখছি না আমরা। কোথাও বর্জ্য দেখলেই আমরা সিটি করপোরেশনের হটলাইনে কল দিচ্ছি। তারা দ্রুত এসে ময়লা নিয়ে যাচ্ছে। অন্যবারের তুলনায় এবার সিটি করপোরেশন ভালো কাজ করছে।” কোথাও বর্জ্য জমে থাকলে সেই তথ্য জানাতে এবার হটলাইন চালু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হটলাইন নম্বর হল ০৯৬১১০০০৯৯৯। আর ঢাকা উত্তরের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০২৯৮৩০৯৩৬। অধিকাংশ নগরবাসী কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানে না গিয়ে বাড়ির আঙ্গিনা, পাড়া-মহল্লায় পশু কোরবানি দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও তারা নিজ উদ্যোগে ময়লা সিটি করপোরেশনের কন্টেইনার, ডাস্টবিনে ফেলায় তাদের ধন্যবাদ জানান মেয়র খোকন। আর বর্জ্য অপসারণে ‘শতভাগ কৃতিত্ব’ ঢাকা উত্তরের নাগরিকদের দিয়ে প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, “এবার জনগণ দারুণভাবে এগিয়ে এসেছেন, যে কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে আমরা বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি।” সিটি করপোরশনের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এবার কাজ করছে বেসরকারি প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীরা। সংগঠনটি সভাপতি নাহিদ আকতার লাকি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সাড়ে চার হাজার কর্মী বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা নিয়ে সিটি করপোরেশনের ছোট ছোট ভ্যানে তুলে দিচ্ছে। এখন আর কোনো বাড়িতে কোনো ধরনের কোরবানির বর্জ্য নেই। নতুন করে যেগুলো জমবে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কর্মীরা সরিয়ে নেবে।”

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)৯১টি দেশের ১৬শ শহরের মধ্য পরিবেশ দূষনের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের ৩টি শহর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপের ফল অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দূষিত শহরের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের অবস্থান ১৭তম। গাজীপুর ২১তম ও ঢাকা রয়েছে ২৩তম অবস্থানে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের দিল্লি। বাকি শহরগুলো রয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০টি শহরে ক্ষতিকর পিএম২.৫ এর মাত্রা সর্বোচ্চ। আর ২০টি শহরের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে ভারতেই। ভারতের দিল্লিতে পিএম২.৫ এর মাত্রা পাওয়া গেছে ১৫৩ মাইক্রোগ্রামস। এটি শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পাটনায়ও দূষণের মাত্রা যথেষ্ট বেশি। পাটনাতে পিএম২.৫ এর মাত্রা ১৪৯ মাইক্রোগ্রামস। পিএম২.৫ এর মাত্রা ২৫ মাইক্রোগ্রামস হলেই তা নিরাপদ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পিএম২.৫ অ্যামোনিয়া, কার্বন, নাইট্রেট ও সালফেটের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোনের এক ধরনের সমন্বয়। পরিবেশে এর মাত্রা বেশি থাকলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এর ক্ষতিকর প্রভাবে ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণে বেইজিংয়ের চেয়েও দিল্লিকে বেশি দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় চীনের কোনো শহর নেই। একই সাথে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও সুইডেনের শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা কম।
 

আগ্রাসনের শিকার সুন্দরবন

আগ্রাসনের শিকার সুন্দরবন

ঘষিয়াখালী রুট চালু করতে হবে

ম. ইনামুল হক

last 3প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪-এর ১৫ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য ঘষিয়াখালী নৌরুটের দুপাশে গড়ে ওঠা চিংড়ি ঘেরগুলিকে তুলে দিয়ে ড্রেজিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই আদেশ ৯ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর সবার কাছেই অনেক প্রতীক্ষীত ছিলো। উল্লেখ্য যে, তেলবাহী জাহাজ ‘সাউদার্ণ স্টার ৭’ অন্য একটি খালি জাহাজ ‘টোটাল’ এর ধাক্কায় ফুটো হয়ে শ্যালা নদীতে ডুবে গেলে ৩৫৭,৬৬৪ লিটার ফার্ণেস অয়েল সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ে এক মহা দুর্যোগ সৃষ্টি করে। এই সুন্দরবন উত্তর থেকে আসা গঙ্গা ও তার শাখা প্রশাখার মিঠা পানি ও দক্ষিণ থেকে আসা সমুদ্রের লোনা পানির মিলনস্থল যা’ Pleistoceneযুগ (২০ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ বছর আগে) ও তৎপরবর্তী Holoceneযুগে (১ লক্ষ বছর থেকে অদ্যাবধি)উজান থেকে আসা পলির পতন এবং তার উপর মোহনার গাছপালার পরিবৃদ্ধির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এর ভূমির উচ্চতা গড় সমুদ্র তল থেকে ০.৯ মিটার থেকে ২.১১ মিটার। অজস্র নদী নালায় পরিপূর্ণ এখানকার জলাভূমি, কাদার তাল, ভাটায় জেগে ওঠা সাগরের ভেতরের জমি ইত্যাদি এখানে জলজ ও ভূমিজ প্রাণীর এক বিচিত্র সমাহার সৃষ্টি করেছে।

সুন্দরবন ২৬৯ প্রজাতির বিচিত্র পাখি, ডাঙ্গার প্রাণী, মাছ ও অন্যান্য জীবের আবাসস্থল এবং এর ৩৩৪ প্রজাতির বিশেষ গাছপালার জন্যে একে ১৮৭৫ সালে ‘সংরক্ষিত বন’ ঘোষণা করা হয়। এর স্থলভূমি মোট ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার এবং নদী, খাল ও খাড়ি নিয়ে জলভূমি মোট ১,৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৭৭ সালে সমুদ্র তীরবর্তী মোট ৩২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তিনটি ‘বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯২ সালে একে রামসার সাইটভুক্ত এবং ১৯৯৯ সালে একে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটস-এর তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে ২০০৯ সালে সুন্দরবন ও কক্সবাজারকে বিশ্বের সাতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্র হিসেবে ভোট দেবার যজ্ঞ শুরু হলে একই সাথে এই যজ্ঞের উদ্যোক্তারা সুন্দরবন ও এর আশেপাশের এলাকাকে দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরই এক পর্যায়ে ২০১১ সালে বিআইডাব্লি#উটিএ মংলা ঘষিয়াখালী নৌপথটি বন্ধ করে দিলে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও যশোর জেলার বিভিন্ন নদী বন্দরে যাতায়াতকারী মালবাহী কার্গো জাহাজগুলিও সুন্দরবনের ভেতরে দিয়ে শ্যালা নদীপথে যাতায়াত শুরু করে। পুশুর নদের তীরে মংলা সমুদ্রবন্দর অবস্থিত বিধায় সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজ আসা যাওয়া করে। এইসব জাহাজগুলি তাদের ব্যবহৃত কঠিন বর্জ্য এবং ব্যবহৃত জ্বালানী বর্জ্য ফেলে সুন্দরবনকে দূষিত করতে থাকে।

পরিবেশবাদীরা তাই সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য এর ভেতর দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ বন্ধ করা এবং রামপাল এলাকায় দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবী জানিয়ে আসছে। কেবল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নয়, সুন্দরবন ও তার আশেপাশের অনন্য জলপরিবেশকে রক্ষা করতে বাগেরহাট-খুলনা-সাতক্ষীরা এলাকায় যেসকল শিল্প কল কারখানা আছে ও ক্রমশঃ গড়ে উঠছে, সেগুলির এবং জাহাজ নিক্ষিপ্ত বর্জ্য দূষণ বন্ধের লক্ষ্যেও আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সরকারের তরফ থেকে এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প কলকারখানা বাড়ছে, শহরের জনবসতি বাড়ছে, বিদেশী শিল্প উদ্যোক্তারা আসতে চাইছে, ফলে মংলা সমুদ্র বন্দর ও সুন্দরবনের ভেতরের নদীগুলিতে জাহাজ চলাচল বাড়ছে। এইসব জাহাজ থেকে ফেলা বর্জ্য, বিশেষ করে ব্যবহৃত জ্বালানীর বর্জ্য এর অভ্যন্তরীণ নদীগুলিকে যে কি পরিমাণ দূষিত করছে তা’ কোন ব্যক্তি এলাকায় গেলেই তা’ দেখতে পাবেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৮০ সালের দশক থেকেই সুন্দরবন নগ্ন আগ্রাসনের শিকার হতে থাকে। বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী ভারত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তার সুন্দরবন এলাকায় আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুললে বাংলাদেশের সুন্দরবনেও পর্যটন শিল্প প্রসারের কথা ওঠে। কিন্তু সুন্দরবনের দায়িত্বে থাকা বন অধিদপ্তরের দুর্নীতি এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যর্থতার সুযোগে এই শিল্পটি ক্রমশঃ ব্যক্তি উদ্যোগের বিষয় হয়ে যায়। ২০০০ সাল নাগাদ সুন্দরবনের চারপাশে অনেক এনজিও সুন্দরবনের মানুষ ও প্রাণী রক্ষার নামে ঘাঁটি গাড়তে থাকে। এরপর থেকেই শুরু হয় সুন্দরবন দখলের আগ্রাসী প্রচারণা। আমরা বিশ্বের সেরা প্রাকৃতিক সাইট হিসেবে সুন্দরবন এবং কক্সবাজারকে ভোট দেবার জন্যে দেশব্যাপী প্রচারণা দেখেছি। সারা দেশের মানুষ পাগলের মতো এই যজ্ঞে যোগ দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছিলো। কিন্তু আসলে ঐ যজ্ঞটি ছিলো সুন্দরবন ও কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ভূমিকে দখল করার পাঁয়তারা এবং নামে বেনামে দখলীকৃত ভূমির দাম বৃদ্ধি করা। আমরা তখনই প্রতিবাদ করে বলেছিলাম,ঐ যজ্ঞ ঐ এলাকা দু’টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যভূমিকে ধ্বংস করে মনুষ্য পদচারণা ও বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে পূর্ণ দূষিত ভূমিতে পরিণত করবে।

সুন্দরবনের তেল বিপর্যয়ের পর সম্ভবত

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের আপত্তির কারণেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া পেতে ৬ দিন দেরী হয়। এই বিপর্যয়ের প্রতিক্রিয়ায় নৌমন্ত্রী বলেন, জংলার চেয়ে মংলা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। উলে#খ্য যে, চলতি গুগুল স্যাটেলাইট চিত্রে ঘষিয়াখালী নদীর দুটি রূপ পাশাপাশি পাওয়া যায়, এর একটি পূর্ব অংশের যা’ ২০১০ সালের ও অন্যটি ঘষিয়াখালী নদীর পশ্চিম অংশের। এতে দেখা ২০১০ সালে এই নদীর উপর দিয়ে কার্গোবাহী জাহাজ চলাচল করছে, আর ২০১৩ সালে নদীটি পলি পড়ে বুজে গেছে। স্পষ্টতঃই বোঝা যায়, সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে জয় অর্জনের পরপরই এর উদ্যোক্তারা এলাকাটিকে দখল করার মহোৎসবে লেগে যায়। জানা যায়, রাজনৈতিক দলের অনেক বড় বড় নেতা এই এলাকায় জমিগুলির মালিক হয়েছেন, এবং বলাই বাহুল্য যে,রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও অনুগ্রহপ্রাপ্তরাই ঘষিয়াখালী ও অন্যান্য জলাভূমিগুলি দখল করেছেন। সারা বিশ্বে এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এলাকাগুলিই সবচেয়ে মূল্যবান। দুর্বৃত্তদের দখল প্রক্রিয়ার চরম বেদনাদায়ক ও ধ্বংসাত্মক ফল সুন্দরবেনের ভেতরে এই তেল দূর্ঘটনা। এর ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা তত সহজ নয় তবে পরিবেশ মাপকাঠি এবং এর দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি হিসাব করলে তা’ ১ হাজার কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা হবে।

 last-3-1

উল্লেখ্য যে, সুন্দরবনের উত্তর দিয়ে মংলা বন্দর থেকে ঘাসিয়াখালী হয়ে ২২ কিলোমিটারের ঐতিহ্যবাহী নৌ রুটটি যথাযথ সংরক্ষণের অভাবেই ভরাট হয়ে গেছে। এই কারণে অন্যান্য জাহাজের মতই এই জাহাজটিকেও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। মংলা ঘাসিয়াখালী রুট যাত্রাপথের মাধ্যমে ১৫০ কিলোমিটার পথ কম পাড়ি দিতে হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মংলা ঘষিয়াখালী নৌ রুট পুনরায় চালু করা তত সহজ ব্যাপার নয়। ১৯৭৩ সালের নভেম্বরে চালু করা এই রুটটি ৪০ বছর ড্রেজিং ছাড়াই চলেছে। এটি বন্ধ করায় যে ভরাট হয়েছে তা’ পুনঃখনন করতে ২০০ কোটি টাকার ড্রেজিং লাগবে। জানা যায় যে, বিগত জুন মাসে একটি চীনা কোম্পানীকে ৮৮ কোটি টাকা খরচে এই খাল পুনঃখননের আদেশ দেয়া হয়, এবং জুলাই মাসে তার কাজও শুরু হয়। আমরা বাংলাদেশে চীনা কোম্পানীগুলির প্রতারণা সম্পর্কে জানি, তাই প্রশ্ন আসে তারা কি নিয়ম পালন করে ঠিকমত কাজ করেছে? নাকি তারা কিছু কাজ করে বহু টাকার বিল তুলে নিয়ে সরে পড়েছে? বিআইডাব্লি#উটি-এর কাছে প্রশ্ন, ঘষিয়াখালী নৌ রুট ভরাট হওয়ার মুখে তা’ বন্ধ না করে ২০১১ সালে ড্রেজিং করা শুরু হয়নি কেন? কেন ঐসময় সমীক্ষার নামে সিইজিআইএস-কে কাজ দিয়ে ঘষিয়াখালী নৌ রুটটি বন্ধ হতে দেয়া হলো?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘষিয়াখালী নৌ রুট চালু করার জন্যে চিংড়ি ঘের তুলে দেবার আদেশ দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক পোল্ডারও এর জন্যে বাধা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো পোল্ডারের বাঁধ কেটে দেয়ার প্রয়োজন হবে। তাই জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ মংলা ঘষিয়াখালী রুটটি চালু করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় উদ্যোগ প্রয়োজন।।

minamul@gmail.com প্রকাশক: আমাদের বুধবার, তারিখ:

মানসিক রোগীর সংখ্যা দেশে ১৬ শতাংশ : পরিণত বয়সের দেড় কোটিরও...

দেশে মানসিক রোগী দেড় কোটি! Sunday, 29 August 2010 সোলায়মান তুষার: [caption id="attachment_518" align="alignleft" width="210" caption="mental health in bangladesh "]বাংলাদেশে মানসিক রোগী[/caption] দেশে পরিণত বয়সের দেড় কোটিরও বেশি লোক মানসিক রোগী। বিপুল সংখ্যক মানুষ সমস্যায় থাকলেও তাদের চিকিৎসার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। পাবনার হেমায়েতপুরে অবস্থিত একমাত্র হাসপাতালটি মানসিক রোগীর ভারে নতজানু। তাতেও নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। কয়েকটি সংস্থার জরিপে দেশে পরিণত বয়সের এক কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬২৭ জন মানুষ মানসিক রোগে ভোগছেন। এরমধ্যে গুরুতর অর্থাৎ একেবারে পাগল ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৮ জন। এছাড়া উদ্বেগজনক জটিলতায় ভোগছেন ৮৩ লাখ ৫ হাজার ৩৭০ জন। বিষণ্নতায় ভোগছেন ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৯ জন। মাদকাসক্ত পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ২৪০ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংস্থাগুলো যৌথভাবে দেশের ১৮ বয়সের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ করে। জরিপ অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ১৬.১ ভাগ মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগে। এরমধ্যে উদ্বেগজনিত ৮.৪ ভাগ, বিষণ্নতায় ৪.৬ ভাগ, গুরুতর মানসিক সমস্যায় ১.১ ভাগ ও মাদকাসক্ত রোগে ভোগছেন ০.৬ ভাগ মানুষ। জাতিসংঘের ২০০৯ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৯০ লাখ। উইকিপিডিয়ায় ‘ডেমোগ্রাফিক অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক লেখা থেকে জানা গেছে, দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের লোকের সংখ্যা মোট নয় কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ চার কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৪ জন। মহিলা চার কোটি ৫৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৪ জন। যা মোট জনসংখ্যার ৬১ ভাগ। আর ৬৫ বয়সের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ১৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৮ জন। আর মহিলা ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৫ জন। যা মোট জনসংখ্যার চার ভাগ। জন্মের পর থেকে ১৪ বছর বয়সের লোকজন মোট জনসংখ্যার ৩৪.৬ ভাগ। জরিপে এ সংখ্যা ধরা হয়নি। জরিপ অনুযায়ী প্রতি এক লাখ লোকের চিকিৎসার জন্য মাত্র ০.৪৯ ভাগ চিকিৎসক নিয়োজিত আছেন। জরিপ অনুযায়ী প্রতি এক লাখ রোগীর জন্য মাত্র ০.৪৯ ভাগ চিকিৎসক কর্মরত। এরমধ্যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত ১১৫ জন। যা প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার জন্য ০.০৭ ভাগ। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট রয়েছে একটি। তাতে ১৫০টি শয্যা রয়েছে। মানসিক হাসপাতাল রয়েছে একটি। তাতে পাঁচশ’ শয্যা রয়েছে। প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার মাত্র ০.৪ ভাগ। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্তবিভাগ রয়েছে ৩১টি। তাতে ৮১৩টি শয্যা রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভাগ রয়েছে একটি। তাতে ২০টি শয্যা রয়েছে। সাইকিয়াট্রিক চাইল্ড গাইডেন্স ক্লিনিক রয়েছে দুটি। মাদকাসক্তি বিষয়ে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে চারটি ও বেসরকারি ১৬৪টি। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারি ব্যয় স্বাস্থ্য বাজেটের ০.৪৪ ভাগ। মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষ বিচিত্র ধরনের সমস্যায় ভোগে। এরমধ্যে ৪৪টি সমস্যা উল্লেখযোগ্য। ১০ থেকে ১২টি সমস্যা গুরুতর। যেসব সমস্যা মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, উদ্বেগ, হতাশা ও বিষণ্নতা, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, এডজাস্টমেন্ট সমস্যা, সম্পর্কগত সমস্যা, অহেতুক ভয়, বিশ্বাসের অভাব, মনোযোগের সমস্যা, মনোগত সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেহজাবিন হক বলেন, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার পর যত্ন নেয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার দিক দিয়ে আমরা খুবই পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, সমপ্রতি যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে তা একপ্রকার মানসিক রোগ থেকেই হয়েছে। মানুষের বিকৃত রুচির দিকে প্রবণতা বাড়ছে। এটা একটা সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি তাতে কারও সুস্থ থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, আমাদের হাজারও রকম সমস্যা রয়েছে। এসবের সঙ্গে মানসিক সমস্যা যোগ দিয়ে আরও প্রবল আকার ধারণ করেছে। সমপ্রতি যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তাতে এটাই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পরামর্শক সালেহ সিদ্দিকী বলেন, অনেক ধরনের রোগী রয়েছে। তিনি বলেন, যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সমস্যা আরও বাড়ছে। মানুষ ক্রমেই শহরমুখী হচ্ছে। এরফলে প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে একপ্রকার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি দেশে সমপ্রতি যে কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তা মানসিক সমস্যার জন্যই। বিশেষ প্রতিবেদন দীর্ঘস্থায়ী রোগ মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক রোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি, হূদরোগ বা ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত হলে অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ একপর্যায়ে মানসিক রোগীতে পরিণত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুরারোগ্য বা প্রাণঘাতী জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের হতাশা দূর করার দায়িত্ব একাধারে চিকিৎসক, পরিবার ও সমাজের। কিন্তু দেশে এ ব্যাপারে সচেতনতা ও ব্যবস্থা কোনোটিই নেই বললেই চলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতিবছর বিশ্বের ৬০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হূদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ। সময়ের পরিবর্তনে জীবনাচরণসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশেও এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। রোগের গতিপ্রকৃতি, বিছানায় পড়ে থাকা, চিকিৎসার ব্যয়ভার, দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণা—এসবের কথা ভেবে মানুষ শঙ্কিত বোধ করে। অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। গভীর হতাশা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল বলেন, দেহ-মন এক সুতোয় বাঁধা বলেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগের সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা। পরিবার ও সমাজের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অমনোযোগের কারণে শারীরিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য-জটিলতা চোখের আড়ালে থেকে যায়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে মোহিত কামাল বলেন, এই অসচেতনতা ও অমনোযোগের কারণে আগামী ১০ বছরে বিশ্বে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে অসহায়ভাবে। এর বেশির ভাগ মৃত্যু ঘটবে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোয়। হূদরোগের আতঙ্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হূদরোগ বিশেষজ্ঞ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাকের (হূদযন্ত্রে হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়া) পর অনেক মানুষ ভয় পায়। অনেকে মনে করেন, “আমি মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছি। যেকোনো সময় মারা যেতে পারি। আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব না।” আসে হতাশা। এগুলো সাধারণ প্রবণতা।’ তিনি বলেন, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের পর ৭০ শতাংশ রোগীই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরামর্শ দিয়ে সজল ব্যানার্জি বলেন, এসব রোগীকে জীবনের আলো দেখানোই চিকিৎসকের দায়িত্ব। হূদরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি হতাশা কমানো চিকিৎসারই অংশ। তিনি বলেন, ‘আমি আমার রোগীদের বলি, “এটা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার যে আপনি বেঁচে আছেন। তবে আপনার ভয়ের কিছু নেই। আমার পরামর্শ মেনে চললে নতুন জীবন ফিরে পাবেন।” সজল ব্যানার্জি জানান, রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকদের সঙ্গে পরামর্শ (কাউন্সেলিং) করা দরকার। সময় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, সমস্যা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। এই কথা বলা চিকিৎসারই অংশ। এ বিশেষজ্ঞ জানান, একটি ক্ষুদ্র অংশের হতাশা এতটাই গভীর হয় যে তাদের মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। শরীর দেখেন হূদরোগ চিকিৎসক আর মনের চিকিৎসা করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। যন্ত্রণা থেকে হতাশা: বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আলী হোসেন বলেন, ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগেন। ওষুধে অনেক সময় সেই যন্ত্রণার উপশম হয় না। ডাক্তার, হাসপাতাল, চিকিৎসা সবকিছুর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন রোগী। আসে হতাশা। আলী হোসেন বলেন, রোগীর সমস্যা যেন পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, সেই উদ্যোগ চিকিৎসককেই নিতে হয়। তিনি দুটি উদাহরণ দেন। অনেকের পরীক্ষার আগে হাঁপানি দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ভয় দূর করার দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকে। অনেক বয়স্ক মানুষের ক্রনিক ব্রংকাইটিস আছে। শীতের সময় তা বাড়ে। অনেক সময় মানসিক কারণেও রোগটি বেড়ে যায়। সুতরাং পরিবারের এখানেও দায়িত্ব নেওয়ার আছে। দীর্ঘদিন থেকে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা করছেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, এমডিআর যক্ষ্মায় (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট—বহু ওষুধ প্রতিরোধী) আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। নিয়মিত ১৮ থেকে ২৪ মাস ওষুধ খেতে হয়। ওষুধের খরচ, হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে যাতায়াত রোগী এবং পরিবারকে হতাশ করে তোলে। আলী হোসেন বলেন, এসব রোগী ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক ও সমাজের দায়িত্ব। শুধু ওষুধ বা অস্ত্রোপচারে মানুষ সুস্থ হয় না। মানসিক সহায়তা বড় দরকার। প্রয়োজনে রোগীকে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে। সমাজের মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলী হোসেন আরও বলেন, সমাজেরও প্রস্তুত হওয়ার দরকার আছে। কেউ মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেকেই তাঁকে মানসিক রোগী বা ‘পাগল’ ভাবতে শুরু করেন। তাঁর মতে, এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থূলতা থেকেও বিষণ্নতা: বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক খাজা নাজিমউদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত মোটা মানুষ কোনো কাজ ঠিকমতো, সময়মতো করতে পারে না। কাজের মান ঠিক থাকে না। মোটা মানুষ এ জন্য অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন। এসব কারণে অনেকে সমাজ ও পরিবারের কাছে নিজেকে অপাঙেক্তয় মনে করে। একসময় তারা হতাশ হয়ে পড়ে। খাজা নাজিমউদ্দিন বলেন, ঘামের কারণে অতিরিক্ত স্থূল মানুষের শরীরের অনেক স্থানে ঘা বা চর্মরোগ হয়। সহজে তা ভালো হয় না। ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার প্রস্রাব করতে হয়। অনেকের রাতে ভালো ঘুম হয় না। এ থেকেও হতাশা জন্মে। এ দেশে স্থূলতা বিষয়ে পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন খাজা নাজিমউদ্দিন। তবে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্থূলতায় আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, স্থূলতার জন্য কাজ করতে না পারা মানুষ শুধু খায় আর ঘুমায়। এতে তাদের খাওয়া বেড়ে যায়। একসময় তারা মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। মোটা মানুষের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাজিমউদ্দিন জানান, বাংলাদেশে প্রায় ছয় শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছে। মোহিত কামাল বলেন, প্রতি চারজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন বিষণ্নতায় ভোগে। বিষণ্নতার কারণে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে ৩০ শতাংশ। আবার ডায়াবেটিসের সঙ্গে বিষণ্নতা যুক্ত হলে চিকিৎসা-খরচ বেড়ে যায় ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ। ------------- পুরানো খবর দেশে ১৬ শতাংশ লোক মানসিক রোগী ঢাবিতে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ০০ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বিশ্বের ৬০ ভাগ লোক বিষণ্নতায় ভুগছে। বাংলাদেশে ১৬ দশমিক ১ ভাগ পূর্ণবয়স্ক লোক এবং ১৮ দশমিক ৩৫ ভাগ শিশু-কিশোর মানসিক রোগ ও সমস্যায় ভুগছে। এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেও তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য দেশে মাত্র ১২৩জন সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন। এছাড়া, ৩২জন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও ১০১জন অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রয়েছেন। গতকাল বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দু'দিনব্যাপী গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দু'দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, দেশে সাইকিয়াট্রিক নার্সিং এবং সাইকিয়াট্রিক সোস্যাল ওয়ার্কের জন্য কোন প্রশিক্ষণ কোর্স নেই। বাংলাদেশে মানসিক রোগ বিষয়ে অজ্ঞতা ও কু-সংস্কার এবং মানসিক রোগীর প্রতি অবহেলা সর্বত্র বিদ্যমান। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সর্বত্র সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো: গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো: জহির উদ্দিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া সুস্থ সমাজ ও জাতি গঠন সম্ভব নয়। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পরিবার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি পারিবারিক নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করে পরিবারের শান্তি বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রত্যেক স্কুলে একজন করে কাউন্সেলর নিয়োগের চিন্তা করছে। ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাই সামাজিক সহিংসতা, দুর্নীতি, ইভটিজিং, প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এসব লোককে সুস্থ করে সুন্দর জাতি গঠন করা সম্ভব। উলেস্নখ্য, দু'দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় গোলটেবিল আলোচনা, কর্মশালা ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন মানসিক অবস্থা পরিমাপের সুযোগ রয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সবাই একবাক্যে বলেছেন, ক্লিনিক ও হাসপাতালে কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন বাড়াতে হবে। এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য শেয়ার বাজার Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market

ইটের বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ইটের বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ image প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে অাসা অতিথিদের একাংশ। ছবি: প্রথম অালো কৃষিজমি নষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতি করে ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব নতুন উপকরণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে। সরকারের যেসব বিভাগ অবকাঠামো নির্মাণ ও তা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর সংশোধন করতে হবে। আজ শনিবার প্রথম আলো ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সহযোগিতা দেয় বিশ্ব পরিবেশ তহবিল (জিইএফ) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। গোলটেবিলের শুরুতেই ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, সরকারিভাবে দেশে বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা ৬ হাজার ৯৩০টি আর বছরে দেশে ইটের চাহিদা দেড় হাজার কোটি পিস। এই ইট প্রস্তুত করতে ১২৭ কোটি সিএফটি মাটির দরকার হয়, যার বেশির ভাগই কৃষিজমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) থেকে সংগ্রহ করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে ইটের চাহিদা বাড়ছে। রিজওয়ানা বলেন, ইট প্রস্তুত খাত দেশের গ্রিনহাউস গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস; এ খাতে বছরে ২২ লাখ টন কয়লা ও ১৯ লাখ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়, যা বছরে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টন গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। তিনি বলেন, ভারতে ইটভাটা একটি মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী বা লাল ক্যাটাগরির শিল্প এবং ইটভাটার জন্য মাটি তুলতে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করতে হয়। বাংলাদেশে এখনো তা কম দূষণকারী বা কমলা-খ হিসেবে চিহ্নিত এবং মাটি কাটতে কোনো ইআইএ করতে হয় না। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মন্ডল বলেন, বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। ফলে কৃষি জমি থেকে মাটি নিয়ে, পরিবেশ ধ্বংস করে ও স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি করে যেভাবে ইটভাটাগুলো চলছে তা চলতে পারে কি না, তা আমাদের ভাবতে হবে। সরকারি বিভিন্ন কাজে ইটের বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত হওয়া উপকরণ ব্যবহারের ব্যাপারে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক তাঁর উপস্থাপনায় ইটের বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু নির্মাণ উপকরণের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী ইট তৈরিতে মাটির ব্যবহার ২০২০ সালের মধ্যে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নদী খনন থেকে উঠে আসা বালু দিয়ে ইটের বিকল্প উপকরণ প্রস্তুত করার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উপকরণ দিয়ে অনেক উঁচু ভবনও নির্মাণ করা যাবে। যেখানে দেয়াল, ছাদসহ বিভিন্ন অংশে কোনো লাল ইটের ব্যবহার লাগবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসিত কুমার বাউল বলেন, সরকারের কোনো একটি মধ্যম মানের প্রকল্প ইটের বিকল্প উপাদান দিয়ে নির্মাণ শুরু করলে তা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে। যারা ইটের বিকল্প উপাদান প্রস্তুত করছে তাদের পণ্য বিক্রি বাড়বে। ফলে বিকল্প উপকরণ খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশ অটো ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নওশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা লাল পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসেবে বালু দিয়ে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ইট প্রস্তুত করেছি। ওই কারখানা স্থাপনে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু পরিবেশবান্ধব ওই সাদা ইট কেউ কিনছে না। সরকারের কথা মানতে গিয়ে আমি যেন অপরাধী হয়ে গেলাম।’ বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ইট তৈরিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারকে আগে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, পরে এসে তারা আবার যাতে না বলে এই পদ্ধতি বাতিল, এভাবে ইট প্রস্তুত করা যাবে না। ভবিষ্যতে মাটি দিয়ে আমরা ইট বানাতে পারব কি পারব না? যদি না পারি তাহলে এখনকার আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েই অন্য উপকরণের কাঁচামাল ব্যবহার করে ইট প্রস্তুত করা যাবে কি না, এসব ব্যাপারে আইনে দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।’ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত নানা ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিবছর সাড়ে তিন হাজার মানুষ বায়ুদূষণজনিত অসুখে মারা যায়। এই বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোলায়মান হায়দার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ইটভাটা-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ইটভাটাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোহেল আহমেদ বলেন, ইটভাটা আইনে বলা হয়েছে এ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো পরিবেশ আদালতে মীমাংসা হবে। কিন্তু শুধু চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পরিবেশ আদালত এবং ঢাকায় আপিল আদালত আছে। তাই সব জেলায় পরিবশে আদালত স্থাপনের বিষয়টিকে আইনে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ আইনে ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি যুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইটভাটাগুলোর শ্রমিকদের অবস্থা নিয়মিত তদারকি করা উচিত। ইউএনডিপির কর্মসূচি এনালিস্ট আলমগীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইটভাটা আইন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইটের বিকল্প তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে একত্রে কাজ করার সুপারিশ করেন তিনি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাছুমুর রহমান ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ইটভাটাগুলোতে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক সময় ইটের ঢিল খেতে হয়েছে। ফলে আইন এমনভাবে করতে হবে যাতে তা প্রয়োগের সুযোগ ও জনবল কাঠামো থাকে। ইটভাটা এলাকার ভুক্তভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিবাসী আলতাফ হোসেন বলেন, ইটভাটার কারণে তাদের এলাকায় রোগ-বালাই বেড়ে গেছে। আমের ওজন ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সঞ্চালনার সময় বলেন, আমাদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ—প্রথমত, ইটভাটায় বায়ুদূষণমুক্ত ইট তৈরির প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, মাটির ইটের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে বালিসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ইট তৈরি; তৃতীয়ত, এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকে গুণ, মান ও দাম সবদিক থেকে যে ভালো, তা ব্যাপক প্রচার করা। এগুলো করতে পারলে ইটভাটার মালিক থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ইউএনডিপির গ্রিন ব্রিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ বিন মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এনার্জি স্টাডিজের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান খান, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মহাসচিব আবু বকর। সূত্র: প্রথম আলো

৪ দশকের তিস্তা-সংকটঃ সমাধান কতদূর

৪ দশকের তিস্তা-সংকট
সমাধান কতদূর
মেসবাহ উল্লাহ শিমুল । দৈনিক আমাদের সময় ডট কম
সমাধান কতদূরভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিবদমান তিস্তা নদীর পানি চুক্তির বিষয়টি এখন ইতিহাসের অংশ। প্রবহমান পথের মতোই দীর্ঘ এ নদীর ভাগ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া। ১৯৫২ সালে সে সময়ের একীভূত পাকিস্তান প্রথম এ নদীর পানির হিস্যা নিয়ে দেনদরবার শুরু করে ভারতের সঙ্গে। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশ উত্তরাধিকার সূত্রে এ দেনদরবারের ভার পায় অ্যাপিল অব ডিসকর্ড হিসেবে। শুরু হয় ভারতের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক এ নদীর পানির হিস্যা আদায়ে বহুমুখী তৎপরতা। কিন্তু চার দশক পেরিয়ে গেলেও সমাধান হয়নি এ সংকটের। এদিকে আগামী ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে ঘিরে তিস্তাজট নিরসনে ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরেও তিস্তা নিয়ে কোনো সুখবর থাকছে না বলে জানিয়েছে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার। পত্রিকাটির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিস্তা চুক্তি আটকে আছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণে। আগামী ৬ জুন তিনি মোদির সঙ্গে ঢাকা আসবেন শুধু একটি শর্তে, তা হলো, তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদী আছে। তিস্তা এগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারতের সিকিমের সোহামো লেক থেকে এ নদীর উৎপত্তি। ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী পশ্চিমবঙ্গ হয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ১৭৬৪ থেকে ১৭৭৭ সালে ব্রিটিশ সার্ভেয়ার রেনলি এ নদীর ম্যাপ তৈরি করেন। নদীটি উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। ১৯৭২ সালে প্রথম বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবহমান নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে গঠিত হয় যৌথ নদী কমিশন। তবে বছরের পর বছর এ কমিশন কেবল ঢাকা-নয়াদিল্লির মাঝে নিষ্ফল লোক দেখানো বৈঠকই করেছে, তাও অনিয়মিত। এরপর ১৯৯০ সালে তিস্তার উজানে গজলডোবায় ভারত বাঁধ দিলে তিস্তার পানিপ্রবাহ আটকে যায়। অকার্যকর হয়ে পড়ে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা সেচ প্রকল্প। শুকিয়ে যেতে থাকে নদীর বিস্তীর্ণ অববাহিকা। এরই মধ্যে মরে গেছে তিস্তার শাখা-প্রশাখাগুলো। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৩০ বছরমেয়াদি একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। যদিও ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ফারাক্কার বাঁধের কারণে পানি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ব্যাপক তৎপরতা চালান। মনমোহনের ঢাকা সফরকে ঘিরে পরিবর্তন আনা হয় অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে গঠিত যৌথ নদী কমিশনের কিছু নীতিমালায়। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁকে বসায় সে চুক্তির সব আয়োজনই ভেস্তে যায়। বহুল আকাক্সিক্ষত এ চুক্তি সই হবেÑ জনগণকে দেওয়া এমন প্রতিশ্রুতি রাখতে না পেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন সরকার। ঢাকার সূত্রগুলো বলছে, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি কেবল দুদেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগির বিষয় নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও জড়িত। নয়াদিল্লির সঙ্গে কলকাতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং ঢাকার পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে এ চুক্তি হওয়া না হওয়া একটি বড় ফ্যাক্টর। যে কারণে ২০১১ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়নি। ওই চুক্তি বাতিল হওয়ার পরও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে মমতার দল তৃণমূল সমর্থন প্রত্যাহার করে। এদিকে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের বেশ কিছু জেলাতেও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। সে কারণে সেখানকার স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১১ সাল নাগাদ এর বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা করে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের ফর্মুলা ভিন্ন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সে সময় নদীর মোট প্রবাহের ২০ শতাংশ প্রবহমান রেখে উভয় দেশে ৮০ শতাংশ পানি সমান হারে ভাগের প্রস্তাব দেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে মাত্র ৫ শতাংশ পানি দিতে রাজি হন। এদিকে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় কোন অঙ্ক নির্ধারণ করেছেন, সে বিষয়টি ঢাকার কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ন্যায্যতার ১৬ আনা পূরণ না হলেও চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে তারা জানান। সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে দুদেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল জমি ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ পানি ভাগাভাগি করে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে ১৯৮৩ সালে উভয় দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের চুক্তিতে তিস্তা নদীর পানির ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৩৯ শতাংশ ভারতের অধিকারে রেখে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ মূল প্রবাহের জন্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে ওই চুক্তিও আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১৯৬৬ সালের হেলসিংকি নিয়মাবলি অনুযায়ী ইচ্ছা করলেই উজানের দেশ এ ধরনের নদীর ওপর ভাটির দেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু নির্মাণ করতে পারে না। ভারতের সংবিধানও আন্তর্জাতিক নদীকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করেনি। সংবিধানে নদী বলতে ‘আন্তঃরাজ্য নদী’কেই (ওহঃবৎ-ঝঃধঃব জরাবৎং) বুঝিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিস্তাসহ বাংলাদেশের ভেতরে আসা নদীগুলো আন্তর্জাতিক, না আন্তঃরাজ্যকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ নদী, সেই ব্যাপারে ভারতের সংবিধান কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি। ভারতের সংবিধানের ক্ষমতা তালিকার ৫৬নং সন্নিবেশকে নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের দায়িত্ব শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তাই রাজ্যের দোহাই দিয়ে দশকের পর দশক তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিমত তাদের। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্য সরকার কেবল পানি সরবরাহ, সেচ, খাল খনন, হ্রদ, নালা ও বাঁধ নির্মাণ, সংরক্ষণ এবং জলশক্তি ব্যবহার-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবে। আইনজ্ঞরা বলেন, ভারতের সংবিধান পর্যালোচনায় এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানি চুক্তি স্বাক্ষরের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তায়। সেই কারণে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তিস্তার পানিবণ্টনের মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯-১৩ মেয়াদের শেষ দিকে এসে তিস্তা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর সরকার সে সময় আইন অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের শরণাপন্ন হওয়ার চিন্তা করে। মিয়ানমারসহ দেশটির সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে সুফল পাওয়ায় সরকার এ নিয়ে যোগাযোগও শুরু করেছিল বলে সূত্রের দাবি। কিন্তু পরে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার ঝামেলা বাড়াতে চায়নি। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিস্তা নিয়ে এতদিন আশ্বাসের রাজনীতি চললেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে এ বিষয়ে আন্তরিক। এ জন্য তিনি এ চুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়কেও রাজি করিয়েছেন। তাই এখনই সুযোগ এ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মরুপ্রবণ উত্তরাঞ্চলকে রক্ষা করা। এছাড়া কৃষি-জীববৈচিত্র্য থেকে শুরু করে অর্থনীতির মোড় ঘোরাতে এবং ভারত-সৃষ্ট বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে রাজনৈতিক ঐক্য হওয়া জরুরি। এদিকে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, মোদির সঙ্গে মমতা বাংলাদেশ সফরে রাজি হয়েছেন ঠিকই, তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা এ সফরে হবে নাÑ এমন শর্তে। এ সফর নিয়ে মোদি-মমতা এরই মধ্যে দুবার একান্ত বৈঠকও হয়েছে। একবার সংসদে আর একবার রাজভবনে। দুবারই বাংলাদেশ নিয়ে মমতার সঙ্গে কথা বলেন মোদি। সর্বশেষ রাজভবনের বৈঠকে মমতাকে বিশেষভাবে তার সফরসঙ্গী হওয়ার অনুরোধ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মমতা জানিয়ে দেন, নীতিগতভাবে তিনি বাংলাদেশ যেতে সম্মত। কিন্তু এর কদিন পরই প্রধানমন্ত্রীকে মমতা জানিয়ে দেন, তিনি যেতে পারবেন না। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সাম্প্রতিক কলকাতা সফর। সেখানে রাজনাথ খুব শিগগির তিস্তা চুক্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এরপরই ক্ষুব্ধ মমতা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এই কথা বলছেন, তার মানে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় তিস্তা চুক্তি সই করে ফেলতে পারেন। সুতরাং তার ঢাকা না যাওয়াই শ্রেয়। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মমতাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, ঢাকা সফরে তিস্তা নিয়ে কোনো কথা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর মতামত ছাড়া শুধু বাংলাদেশের কথায় তিনি চুক্তি করবেন না। এদিকে রাজনাথ গতকাল বলেন, এই সফরেই তিস্তা চুক্তি হয়ে যাবেÑ এমন কথা তিনি বলতে চাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে এই চুক্তি হতে পারে। সার্বিক অবস্থা বিচারে এটাই প্রতীয়মান যে, নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরে অন্যান্য বিষয়ে সুখবর থাকলেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো সুখবর পাওয়ার আশা নেই বাংলাদেশের।
 

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.