বিশ্বজুড়ে ভাস্কর্য নিয়ে আলোচিত কিছু গল্প

বিশ্বজুড়ে ভাস্কর্য নিয়ে আলোচিত কিছু গল্প

বর্তমানে সর্বত্র চলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক গ্রীক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণ সংক্রান্ত আলোচনা-সমালোচনা। যদিও আজ সেটি আবার সুপ্রিম কোর্টেই পুনরায় তার স্থান ফিরে পেয়েছে। তবুও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইনে চলছে প্রচুর লেখালেখি। পক্ষে বিপক্ষে আসছে অনেক মতামত। এমনকি পক্ষে বিপক্ষের লোকেরা যার যার মতামত জানাতে নেমে পড়েছেন রাজপথেও। সব মিলিয়ে ভাস্কর্য সংক্রান্ত আলাপ আলোচনায় সরগরম দেশ। ভাস্কর্য এবং শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক এবং আলোচনা সমালোচনার ঘটনা আমাদের দেশের মতোই সারা বিশ্বেই হয়ে থাকে। আসুন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ভাস্কর্য আর শিল্পকর্ম নিয়ে আলোচিত কিছু ঘটনার দিকে দৃষ্টি ফেরাই। ভাস্কর্য সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের সামনে দাঁড়ানো ‘নির্ভিক বালিকা’র ভাস্কর্যটি। চলতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে লিঙ্গবৈষম্য এবং কর্পোরেট বিশ্বের বেতন বৈষম্যের বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল ওয়াল স্ট্রিটের ক্ষ্যাপা ষাড়ের ভাস্কর্যের সামনে। ম্যানহাটনের এ অদম্য ষাঁড়ের মূর্তি ‘ওয়ালস্ট্রিট চার্জিং বুল’ নামে পরিচিত। এর আরেকটি পরিচিয় হল ‘ওয়াল স্ট্রিট আইকন’। ১৯৮৯ সালে রাগান্বিত ষাঁড়ের ভঙ্গিমায় পিতলের এ ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। আমেরিকার শেয়ার বাজারের বিপরীতে ‘মার্কিন জনগণের শক্তি ও সামর্থ্যের’ প্রতীক হিসেবে এ মূর্তিকে বিবেচনা করা হয়। মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পায় এটি। নারী দিবসকে সামনে রেখে ওয়াল স্ট্রিট বুলের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় নির্ভিক বালিকার পিতলের ভাস্কর্যটিকে। ৪ ফুট উচ্চতার ছোট্ট মেয়েটির ঝুঁটি বাঁধা চুল, বাতাসে উড়ন্ত ফ্রক। কোমরে হাত রেখে যেন রেগে থাকা ষাঁড়টিকে রুখতে মগ্ন। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে এ ‘নির্ভিক বালিকা’। প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থী এটির সঙ্গে ছবি তুলতে ম্যানহাটনে ছুটে আসছেন। কথা ছিল মার্চ মাস শেষেই সরিয়ে ফেলা হবে ভাস্কর্যটি। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা এবং বিরুদ্ধ শক্তির সামনে সাহসের প্রতিমুর্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যাওয়ার কারNe কর্তৃপক্ষ এটিকে না সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও নিজেই এ ভাস্কর্যটি পরিদর্শন করেন এবং এর সঙ্গে ছবি তুলে টুইটারে পোস্ট করেন। তিনি জানান, আপাতত সরানো হচ্ছে না এটি। মেয়র ব্লাসিওর মতে, “এটা নিউইয়র্কবাসীর কাছে অনেক বেশি কিছু। মূর্তিটি ভয় ও ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ভেতরের সঠিক শক্তি খুঁজে পেতে সহায়তা করে। যে মুহূর্তে আমাদের উদ্দীপনা প্রয়োজন, সেসময় উদ্দীপনা জোগায়।“ নিউইয়র্কের এই ভাস্কর্যটির মতোই দক্ষিণ কোরিয়ায় আলোচিত একটি ভাস্কর্যও নারীর। এটি হচ্ছে যৌনদাসী বা ‘কমফোর্ট উইমেন’ এর ভাস্কর্য। দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুশানে জাপানের উপ-দূতাবাসের সামনে এই ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন করা হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এমনটি জাপান সিউল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার পর্যন্ত করে। আর এ কারণেই বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয় এই কমফোর্ট উইমেন এর ভাস্কর্যটি। মূলত, ১৯১০ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ জাপানি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ওই অঞ্চলের বহু নারী জাপানি সেনাদের কাছে নির্যাতিত ও ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই নারীদেরই বলা হয় কমফোর্ট উইমেন। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ এই ইস্যুটি। ২০১৫ সালে একটি চুক্তিতে এই কমফোর্ট উইমেনদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয় জাপান। কিন্তু ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বুশানে উপ-দূতাবাসের সামনে কমফোর্ট উইমেনের ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে আবারো কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এখনো অমিমাংসিত রয়ে গেছে। আলোচিত নারী ভাস্কর্যের মধ্যে আরো রয়েছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মারিনা সমূদ্র সৈকতের একটি নারী ভাস্কর্য- কান্নাগী। তামিল ভাষার জনপ্রিয় প্রাচীন মহাকাব্য শিলাপাথিকারাম এর প্রধান চরিত্র এই কান্নাগী। সাহসী এই নারী যোদ্ধা তার স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেন। আর তাই তামিল সংস্কৃতিতে নারীর সাহস আর প্রতিবাদের প্রতীক কান্নাগী। মহাকাব্যে বর্ণিত একটি দৃশ্যের অনুকরণে তার একটি ভাস্কর্য রয়েছে চেন্নাইয়ের মারিনা সমুদ্র সৈকতে। ২০০১ সালে এই ভাস্কর্যটি অপসারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। তখন ফুঁসে উঠেছিল তামিলনাড়ুর সাধারণ জনতা। চেন্নাইয়ের রাজপথে প্রচণ্ড বিক্ষোভ হয়েছিল। তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম করুনানিধি তখন এই ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকে তামিল গর্বের ওপর আঘাতরুপে অভিহিত করেন এবং তামিল ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ভাস্কর্য অপসারণের কারণ হিসেবে তৎকালীন তামিলনাড়ুর পুলিশ প্রধান জানান, ভাস্কর্যটির কারণে ট্রাফিক চলাচল ও নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু রাজনীতিবিদ করুনানিধি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে চাপের মুখে সরকার তখন তামিল জনতাকে জানায়, বেদির সংস্কার করার জন্যই সরানো হয়েছে ভাস্কর্যটি। জনগণের চাপের মুখে আবারো ২০০৬ সালে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন করা হয়। ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছে আফ্রিকার দেশ সেনেগালেও। মুসলিমপ্রধান দেশ সেনেগালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল এক বিশাল ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়। স্ট্যাচু অব লিবার্টির চেয়েও বড় এই ভাস্কর্য নিয়ে তখন দেশটিতে তীব্র বিতর্কও সৃষ্টি হয়ে। শিশু কাঁধে এক পেশিবহুল পুরুষ স্বল্পবসনা এক নারীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভঙ্গিমায় এ ভাস্কর্যকে ‘যৌনাত্মক’ বলে সমালোচনা করেন বিরোধীরা। তবে সমর্থকদের দাবি ছিল, এটি আফ্রিকার উত্থানের ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। ‘আফ্রিকান রেনেসাঁ’ নামের ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৬৪ ফুট। এটি উন্মোচনের সময় বিরোধীরা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেন। তাঁরা উন্মোচন অনুষ্ঠান বয়কটের আহ্বান জানান। ভাস্কর্যটি বানানোর বিশাল খরচও সমালোচনার অন্যতম কারণ। এটি তৈরিতে ব্যয় হয় দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রেসিডেন্ট আবদৌলায়ে ওয়াদের ভাবনা থেকে ব্রোঞ্জ দিয়ে এই ভাস্কর্য তৈরি করেছে উত্তর কোরীয় ভাস্করদের একটি দল। ভাস্কর্য তৈরিতে উত্তর কোরিয়ানদের নিয়োগ দেয়ার সমালোচনা করে দেশটির বিশ্বখ্যাত ভাস্কর ওসমান সোউ বলেছিলেন, এটি আর যা-ই হোক, আফ্রিকার রেঁনেসার প্রতীক হতে পারে না এবং এর সঙ্গে শিল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন, সেনেগালের নিজস্বতার চেয়ে সোভিয়েত আমলের ভঙ্গি ফুটে উঠেছে এতে। মুসলিমপ্রধান সেনেগালে মুসলিম ধর্মীয় নেতারাও ভাস্কর্যটির সমালোচনায় যোগ দেন। তাদের মতে, ভাস্কর্যটি ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিরোধীদের ক্ষোভ আরো উসকে দেয়, ভাস্কর্যটির প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ প্রেসিডেন্টের নিজের নেয়ার ঘোষণা। প্রেসিডেন্ট আবদৌলায়ে ভাস্কর্য উদ্বোধনের সময় দাবি করেন, যেহেতু তার পরিকল্পনা ও ভাবনা অনুযায়ী এটি তৈরি করা হয়েছে, তাই রাজস্বের ৩৫ শতাংশ তিনি নিজে নেবেন। তবে ভাস্কর্যের সমর্থকদের মতে, অসহিষ্ণুতা ও বর্ণবৈষম্য থেকে আফ্রিকার উত্থানের প্রতীক এটি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪৫-৪৬ সালে। ১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে গড়া হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ। সেখানেই স্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য। বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য সরানোর দাবি তোলে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন। কিন্তু তাদের দাবি নাকচ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দুই বাংলার প্রেরণা। তার ভাস্কর্য সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবর্তনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় থ্যাংকসগিভিংঃ আমেরিকায় বসবাসকারি বাংলাদেশি আমেরিকানদের আয়োজনে উৎসব

বিবর্তনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় থ্যাংকসগিভিং এখন আমেরিকানদের জাতীয় উৎসবে পরিগণিত হয়েছে। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার টার্কি ভোজন পানাহারের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী উদযাপিত হয় থ্যাংকস গিভিং। [caption id="attachment_19765" align="alignleft" width="626"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] থ্যাংকস গিভিং উৎসবের সূত্রপাত সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ লেইডেন আমেরিকান পিল্গ্রিম মিউজিয়ামের ডিরেক্টর জেরেমি ব্যাঙস এর মতে ১৬২১ সালে ম্যাসাচুসেটস এর প্লাইমাউথ নতুন ফসল ওঠার সময়ের এই উৎসব উদযাপিত হত। তারও আগের ১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়াতেও এমন উৎসব পালিত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই উৎসব ২৬ নভেম্বর ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন সমগ্র আমেরিকাব্যাপী একসাথে থ্যাঙ্কসগিভিং উদযাপনের প্রচারণা চালান। অবশেষে  দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করে ১৯৪১ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট রেজ্যুলেশন সাক্ষর করেন। জেরেমি ব্যাঙস এর মতে থ্যাংস গিভিং নবান্নের উৎসব।  [caption id="attachment_19783" align="alignleft" width="1280"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] ভিন্ন গল্পটার আমেজও ভিন্ন। কলোনিয়াল ইংরেজদের সাথে ন্যাটিভ ইন্ডিয়ানদের বন্ধুত্বের মধ্যদিয়ে উদযাপিত চারদিনব্যাপী উৎসবকেই আজকের দিনে থ্যাংকস গিভিং ডে বলা হয়। মে ফ্লাওয়ার নামের জাহাজে করে ১৬২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ১০৬ সদস্যের ধর্মযাজক আমেরিকার দিকে রওনা হয় নতুন কোনও ভূখণ্ডে একটা চার্চ গঠন করে ধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে। ম্যসাচুসেটস এর প্লাইমাউথ যখন এসে পৌঁছায়  প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়া ক্ষুধা রোগাক্রান্ত হয়ে তাদের অর্ধেক মারা যায় পথে। বাকি অর্ধেক প্লাইমাউথের নেটিভ আমেরিকান বা রেড ইন্ডিয়ানদের কাছে সাহয্য চায় বেঁচে থাকর জন্য। সেই ধর্ম যাজকেরা নেটিভ আমেরিকান বা রেড ইন্ডিয়ানদের সহযোগিতায় চাষাবাদকরে, মৎস্য শিকার করে এবং পরবর্তি বছর ১৬২১ সালের নভেম্বরে ভুট্টার বাম্পার ফলনের দেখা পায়। তারপর তাদের উৎপাদিত ফসল দিয়ে নেটিভদের আমন্ত্রণ করে পাহাড় জঙ্গল থেকে টার্কি শিকার করে চারদিন ব্যাপী এক ভোজ উৎসবের আয়োজনকরে।  ন্যাটিভদের সহযোগিতায় বেঁচে যাওয়ায় এবং  ন্যাটিভেদের টেরিটোরিতে চার্চ গঠনের অনুমতি পাওয়ায় তারা ন্যাটিভদের ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপনের এই উৎসব আয়োজন করে বলেই এর নাম হয় থ্যাংকসগিভিং। এবং প্রথম উৎসবটা চারদিনব্যাপী ছিল বলেইএখনও বৃহস্পতি থেকে রবিবার চারদিনের লঙ হলিডে হিসাবেই প্রচলিত আছে। তখনকার দিনে প্লাইমাউথে টার্কির সহজলভ্যতা ছিল বলেই প্রথম উৎসবে টার্কি ভোজনের কারণেই আজও ট্র্যাডিশন হিসাবে টার্কি পার্টির প্রচলন রয়েছে। [caption id="attachment_19763" align="alignleft" width="706"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] আধুনিক কালে  এর সাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত করা হয়েছে। থ্যাংকস গিভিং এর পরের দিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলা হয়। এইদিন  আমেরিকার সারা  বছরের সর্বোচ্চ ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। এবং পরবর্তি একমাস অর্থাৎ আগামী ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাসের দিন পর্যন্ত আমেরিকানরা হলিডে সিজন বলে। বস্তুত থ্যাংকস গিভিং ডে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে হলিডে সিজন শুরু হয়। মীথ যাই বলুক না কেন বিবর্তনের ধারায় থ্যাংকস গিভিং আজকের আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় জাতীয় উৎসবে পরিগণিত হয়েছে। আমেরিকায় বসবাসকারি বাংলাদেশি আমেরিকানরাও পিছিয়ে নেই মুল ধারার আমেরিকার এই উৎসব উডযাপনের দিকথেকে। সে উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে ছোট বড় দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে উৎসবটি উদযাপন করে। আমেরিকানদের পাশাপাশি  নিউইয়র্কের বাংলাদেশীরাও ঐতিহাসিক “থ্যাঙ্কস গিভিং ডে”- পালন করলো আমেরিকানদের পাশাপাশি বাংলাদেশীরাও ঐতিহাসিক “থ্যাঙ্কস গিভিং ডে”- পালন করলো জ্যাকসন্স হাইটস, এসটোরিয়া, ব্রুকলীন, লংআইল্যান্ড ও ব্রোনক্সসহ নিউজার্সি, পেনসেলভানিয়া, বোষ্টন, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি ও মুসলমান মালিকানাধীন গ্রোসারির দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে হালাল টার্কি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে উক্ত দোকানগুলোতে দেদারছে চলছে হালাল টার্কির বেচাকেনা। থ্যাংকস গিভিং ডে উপলক্ষে ৪ কোটি ৫০ লক্ষ জবাই হয়। থ্যাংকস গিভিং ডে'র মূল উদ্দেশ্য, পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবসহ সবাই একত্রিত হয়ে সবার জীবনের প্রতিটি সাফল্যের জন্য দেশ ও জাতির সাফল্যের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। এমনই ভাবে গত শুক্রবারে ব্রংন্ক্সের বেশ কিছু বাংলাদেশী পরিবার একত্রিত হয়ে উৎসব মূখর পরিবেশে উৎযাপন করলো থ্যাংক্স গিভিং ডে। ব্রংন্কসের ক্যাসেলহীল এভিনিউস্হ কমিউনিটির পরিচিত মুখ খলিলুর রহমান মুন্সী ও নুসরাত জাহনের বাসায় অনুষ্ঠিত হলো এই আয়োজনটি। এই আয়োজনে উপস্হিত ছিলেন সৈয়দা শামসুন নাহার, আব্দুস টমাস, সাইফুল্লাহ সাবের, তৈয়ব, আব্দুর রশিদ বাতেন, মুর্শেদা আখতার কাঁকন, নিগার সুলতানা টমাস, গুলশান চৌধুরী, কাজী রুবিনা বেগম, রেনু, বেবী মজুমদার, ফারহানা শাকের লীমা, শাকের সৈকত, রুবিনা আক্তার রুমা, শৈলী, প্রমি, ফারিহা, জাওয়াদ, রাজিন, মাহী, রিমন, তাহির, রামিম, আইজা প্রমুখ। বিশাল আকারের টার্কি রোষ্ট ছিল খাবারের তালিকার মূল আইটেম। টার্কির পাশাপাশি ছিল দেশী বিদেশী প্রচুর মুখরোচক খাবারের খাবারের আয়োজন। বৃহস্পতিবার ২৪শে নভেম্বর প্রতিবারের মতোই এবারও অনুষ্ঠিত হলো ওয়ার্ল্ড ফ্যামাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘মেসিস’ এর ৯০তম থ্যাংকস গিভিংডে’র বর্ণাঢ্য প্যারেড। এই প্যারেডে অংশ নেয়ার জন্য অনেকেই মধ্যরাত থেকে জড়ো হতে থাকে প্যারেড স্থান ৭৭ স্ট্রিট থেকে ৩৪ স্ট্রিট আর সিক্স অ্যাভিনিউর উপর। সকাল ৯টায় এ প্যারেড শুরু হয় ৭৭নং স্ট্রিট থেকে সিক্স অ্যাভিনিউর উপর থেকে। ম্যানহাটনের সিক্স অ্যাভিনিউর উপর রাস্তায় মার্চ করে এই প্যারেড শেষ হয় হেরাল্ড স্কয়ারে ৩৪নং স্ট্রিট ‘মেসিস’ এর সামনে। এখানে এসে কিছুক্ষণ বিভিন্ন মহড়া দেয়া হয়। শীতকে উপেক্ষা করে এবছর এই প্যারেডে প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়নেরও বেশী লোকের সমাগম ঘটে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটক এ প্যারেড দেখতে এসেছিলেন। টার্কি, কর্নেকোপিয়া, পামকিন, সান্তা ক্লজসহ প্রায় ২৪টি কার্টুন চরিত্র স্পাইডার ম্যান, ডোড়া, স্পঞ্জপাপ, টিনেজ মিউটন নিঞ্জা টারটেল, ডাইরি দ্যা উইম্পি কিডস, হ্যালো কিটি, মিকি মাউস, কুংফু পান্ডা, পল ফ্রেংক, মিনিয়েম, এডভেঞ্চার টাইম, কেডিফিলার, টমাস দ্যা ট্রেন, সুন্পি ইত্যাদি চরিত্রের বেলুন ছিল এবারের প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ। আমেরিকার অনেক বিখ্যাত সেলিব্রেটির উপস্থিতি ছিল মেসিস এর থ্যাংকস গিভিং প্যারেডের মূল আকর্ষণ। 16থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র সারাদিন আনন্দে কাটিয়ে সকলেই প্রস্তুত হয় পরেরদিন ‘থ্যাঙ্কস গিভিং সেল’ এর জন্য। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকস গিভিং ডে- এরপর এবং বড় দিনের আগের শুক্রবারটি প্রথমবারের মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অফিস ও স্কুল থেকে ছুটি নেয় পুরোপুরি উৎসবের আমেজে দোকানে ভীর জমায় শপিং করার জন্য। এরপর থেকেই শপিং পাগল মানুষের কাছে এই দিনটি ব্ল্যাক ফ্রাইডে নামে পরিচিত।তাই প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী শপিং প্রেমিকরা এই দিনটির জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে। প্রতি বছর, আমেরিকায় থ্যাঙ্কস গিভিং সেল এর রমরমা ব্যবসা দেশটির অর্থনীতির সূচককাঁটা ঘুরিয়ে দেয়। ফলে থ্যাংঙ্কস গিভিং ডে’র ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য অপেক্ষা বাণিজ্যিক দিকটাই বেশী প্রকাশিত হয়ে পরে। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে তাঁর মেয়াদের শেষ থ্যাংকস গিভিং ডে পালন করছেন পারিবারিকভাবে। তবে প্রথা অনুযায়ী উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ টার্কি ভোজ থেকে তিনি বিরত থেকেছেন। অপরদিকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিবসটি পালনের জন্য ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের অবকাশকেন্দ্রে জড়ো হয়েছেন পরিবার নিয়ে। তিনি সব বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  [ নিউ ইয়র্ক নিউজঃ তৈয়বুর রহমান টনি } [caption id="attachment_19775" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption]     [caption id="attachment_19784" align="alignleft" width="1280"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19782" align="alignleft" width="1280"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19781" align="alignleft" width="1280"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19780" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19779" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19778" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেসে থ্যাংকসগিভিং উৎসব লস এঞ্জেলেসে থ্যাংকসগিভিং উৎসব[/caption] [caption id="attachment_19777" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19776" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19774" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19773" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19772" align="alignleft" width="720"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19771" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19770" align="alignleft" width="960"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19769" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19768" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19767" align="alignleft" width="2048"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19766" align="alignleft" width="693"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption] [caption id="attachment_19764" align="alignleft" width="678"]লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বাসায় বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নানা আয়োজনে থ্যাংকসগিভিং উৎসবটি উদযাপন করে। -ছবিঃএকুশ[/caption]         [slideshow_deploy id='19762']

কুয়াকাটায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দর্শনের অপূর্ব অনুভূতি

কুয়াকাটায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দর্শনের অপূর্ব অনুভূতি
কামরান চৌধুরী
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূতি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই মৌসুমি পাখির কলরবে মুখোরিত সমুদ্রতট। কুয়াকাটায় কয়েকদিন থেকে প্রাণভরে একসঙ্গে অনেক কিছু উপভোগ করতে পারেন। সৈকতের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ে দিগন্তজোড়া আকাশ আর সমুদ্রের রাশি রাশি নীল জল। নীল জলের ঢেউ সাদা ফেনা তুলে ভেঙে পড়ছে সৈকতে। এমন মনকাড়া অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। দেখা যাবে সমুদ্রের পেট চিরে গনগনে লাল সূর্যোদয় এবং দিন শেষে সমুদ্রের বক্ষে হারিয়ে যাওয়ার অসাধারণ দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতের পাশে সুন্দর ঝাউবন দেখতে পাবেন। ঝাউগাছের অপরূপ দৃশ্য, স্নিগ্ধ হাওয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীর-মনে মেখে নিতে পারেন। নারকেল বাগানও দেখার মতো, সঙ্গে পিকনিক স্পট।
কুয়াকাটা সৈকতের পূর্বে গঙ্গামতির খাল পাড়ে বনাঞ্চল দেখতে পাবেন। বিভিন্ন গাছপালা ছাড়াও রয়েছে বনমোরগ, বানর ও নানারকম পাখি। গাছগুলো বেশ বড় বড়, চরের হাজার হাজার পাখি এলাকাকে মোহনীয় করেছে। সমুদ্রস্নান ভ্রমণকে আনন্দমুখর করে তোলে। বিশাল বিশাল ঢেউ বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ে। চাঁদনি রাতে বেলাভূমিতে বন্ধু বা আপনজন মিলে আড্ডায় অভাবনীয় আনন্দ পাবেন। মুগ্ধতায় কয়েকদিন কাটাতে পারেন কুয়াকাটায়। বেড়িবাঁধ দিয়ে একটু দূরে মোটরসাইকেলে চলে যান সমুদ্র ও নদীর মোহনায়। যার একপাশে নদী অন্যপাশে সমুদ্র ধারা বইছে, হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে অতি ভোরে সূর্য ওঠা অবলোকন করুন, পানি থেকে কীভাবে সূর্য উঠছে এ দৃশ্য একবার দেখলে সারাজীবন মনে থাকবে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্বে গজমতি ও গঙ্গামতির জঙ্গল ছাড়িয়ে সামনে গেলে দেখতে পারেন লাল কাঁকড়ার দ্বীপ। হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখা যায় ছোট্ট এ দ্বীপে। সাধারণত শীতকালে সমুদ্র শান্ত থাকে, সে সময় স্পিডবোটে যেতে পারেন। পাবেন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন কিছু দেখার অফুরান আনন্দ।কুয়াকাটা নামকরণের উৎস প্রাচীন কুয়াটি এখনও রয়েছে। আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা রাজা মংয়ের নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং পরে কুয়াকাটায় বসতি গড়েন। তারা মিঠা পানির জন্য কুয়া খনন এবং নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টি গড়ে তুলেছেন। সৈকতের কাছেই রাখাইন জনগোষ্ঠীর বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে রয়েছে কুয়াটি। প্রাচীন এ মন্দিরে রয়েছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের অষ্টধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি। রাখাইন পল্লীতে দেখতে পাবেন নারীরা কাপড় বুনছে। এদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। রাখাইনদের গৃহ, তাদের আচার-আচরণ দেখতে পাবেন। পাশেই রাখাইন নারীরা দোকানে পসরা সাজিয়েছে, শৌখিন ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদি উপহার হিসেবে কিনে আনতে পারেন প্রিয়জনদের জন্য।সাগর পাড়েই দেখবেন শত বছরের পুরনো নৌকা। সম্প্রতি মাটি খনন করে উত্তোলন করা হয় ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় ৯০ টন ওজনের নৌকাটি। জিরো পয়েন্টের দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইকো পার্ক। কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতায় এর আয়তন ৭০০ একর। নারকেল, ঝাউ, আমলকী, বকুল, অর্জুন, জারুল, হিজল, চালতা, পেয়ারা, জাম, হরীতকী, নিম, করমচা, মহুয়া, কামিনী, শেফালি ইত্যাদি গাছে ভরা পার্কটি। কুয়াকাটার ৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বৃহৎ মাছ ব্যবসা কেন্দ্র আলীপুর। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। আলীপুর বন্দর ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ এবং মাছের বিশাল আয়োজন ও কারবার। সমুদ্রসৈকত থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মিশ্রিপাড়ায় বৌদ্ধ মন্দির দেখতে পারেন। এখানে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। অনতিদূরে আমখোলা পাড়ার রাখাইন বসতি দেখলে ভালো লাগবে। কলাপাড়া-খেপুপাড়া সড়কের পাখিমারা বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর, যেখানে পানি ও নদীর নানা উপকরণ সাজানো রয়েছে। দেশের বিভিন্ন নদীর পানি ও ছবি, নদীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের তথ্য রয়েছে। নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে নির্মিত জাদুঘরে হারিয়ে যাওয়া নদী, বর্তমান নদী ও নদীর ভবিষ্যৎ কী হবে তা জানা যায়।কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমে ইঞ্জিনবোটে নদী পার হলেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যা ফাতরার বন নামেও পরিচিত। জায়গাটা সুন্দরবনের মতো হলেও হিংস্র বন্যপ্রাণী নেই। এতে বনমোরগ, বানর, বন্য শুকর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করে ঘুরে ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। সৈকতের পশ্চিমে গড়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। এখানে গেলে দেখা যাবে জেলেদের মাছ শুকানোর নানা কৌশল। কম দামে উন্নতমানের শুঁটকি কিনে আনতে পারেন নিজের, পরিবারের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য।ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। কমলাপুর থেকে বিআরটিসি, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে দ্রুতি, সুরভী, সাকুরা ও অন্যান্য বাসে সরাসরি কুয়াকাটা যেতে পারেন। সময় লাগে ১২ থেকে ১৩  ঘণ্টা। সদরঘাট থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যাবেন। দ্বীপরাজ, সৈকত, সুন্দরবন, রেডসান ইত্যাদি লঞ্চ রয়েছে। এছাড়া বরিশাল থেকে বাসে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা যেতে পারেন। খুলনা থেকেও কুয়াকাটা যাওয়া যায় বিআরটিসি বাসে। কুয়াকাটায় সরকারি ডাকবাংলো, বিভিন্ন দফতর ও জেলা পরিষদের দুইটি রাখাইন কালচারাল একাডেমির রেস্ট হাউসে থাকতে পারেন। রয়েছে হোটেল বনানী প্যালেস, কুয়াকাটা ইন, নীলাঞ্জনা, স্কাই প্যালেস, বি-ভিউ, সাগরকন্যা রিসোর্ট লিমিটেড, বিচ হ্যাভেন, আল হেরা, সি-গার্ডেন, স্মৃতিসহ আরও কিছু হোটেল ও মোটেল। কামরান চৌধুরী : এনজিও কর্মকর্তা ও পর্যটন লেখক

সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের লীলাভূমি বান্দরবান

সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের লীলাভূমি বান্দরবান
কামরান চৌধুরী
পাহাড়-বন-অরণ্যে ঘেরা বান্দরবান জেলার প্রতিটি স্থানই চিত্তাকর্ষক। প্রকৃতির লীলাভূমি খাড়া পাহাড়ের প্রাচীর ঘেরা এই পার্বত্যভূমিতে জনবসতি কম। সর্বত্রই সৌন্দর্যের পরশ, সবুজ লতাগুল্ম-লজ্জাবতী পথের দুই পাশ দিয়ে স্পর্শ করতে চায়। মাতামুহুরী, সাঙ্গু, বানখিয়াং নদী জেলাটির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। নদীর জল স্বচ্ছ। শঙ্খ বা সাঙ্গু নদীর দুই তীরেই পাহাড় আর অরণ্য, নাম না জানা পাখির ঝাঁক। রয়েছে বন্যহাতি, বানরসহ নানা ধরনের প্রাণী। পাহাড়ের গায়ে গায়ে রয়েছে উপজাতিদের ঘরবাড়ি। একচিলতে কাপড় পরে উপজাতি মহিলারা নদীতে স্নান করছে, নদী বা ছড়া থেকে পানি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়বে।
বান্দরবান শহরের অন্য প্রান্তে কালো পাহাড়ে লবণাক্ত মাটির লবণ ঝরনার পানিতে মিশে থাকত। সুপেয় পানি পান করতে অসংখ্য বানর দল বেঁধে হাতে হাত ধরে শঙ্খ নদী পার হতো। সে দৃশ্য বাঁধের মতো মনে হতো বলে স্থানটির নাম বান্দরবান। এলাকাটি 'ম্যাঅকছি ছড়া' হিসেবে পরিচিত। মারমা ভাষায় 'ম্যাঅক' অর্থ বানর আর 'ছি' অর্থ বাঁধ। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, নির্জন বন আর দেশের সবচেয়ে উঁচু কেওক্রাডং-তাজিনডং পর্বতের কারণেই বান্দরবানে সবার চোখ মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। জেলাটির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর হলো রাস্তা, যা উঁচু-নিচু অসমতল। শহরকে ঘিরে দর্শনীয় স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলাচল, বম রাজার বাড়ি, আদিবাসী কালচারাল সেন্টার, শঙ্খ নদী ইত্যাদি রয়েছে। মন ভরে ক্লান্তিহীন ঘুরে স্পটগুলো দেখতে পারেন। দার্জিলিং পাড়ায় ঘুরতে পারেন। রাতের নীরব-নিস্তব্ধ শহর খুবই মোহময়। যেখানেই থাকুন, আপনার হৃদয়-মন রোমাঞ্চিত হবে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়ায়। যান্ত্রিকতা কোলাহলতা মুছে দেয় অপার শান্তি। প্রাণ খুলে প্রকৃতির সঙ্গে যতটা মিশতে পারবেন ততটাই শান্তি পাবেন। শহরের পাশে দৃষ্টিনন্দন সাঙ্গু নদী পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ঘুরে চলেছে। কখনও দূরের আকাশ ছুঁয়েছে, কখনও পাহাড়ি জঙ্গলে হারিয়েছে। বর্ষা ছাড়া অন্য সময়ে নদীতে পানি কম থাকে। নদীর ওপর সেতুতে দাঁড়িয়ে সকাল-বিকাল অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। শহরের চার কিলোমিটার দূরে ২ হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র। স্থানটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অত্যন্ত পছন্দের। গাড়িতে বা হেঁটেও নীলাচলে যেতে পারেন, সেখানে আকর্ষণীয় কাচের টাওয়ার, দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি, গোলঘর, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগের আঙিনা ও রাতযাপনের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। নীলাচল থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী, দূর শহর খোলা চোখে দেখা যায়। চারদিকে পাহাড় আর পাহাড়, সবুজের সমারোহ। নীলাচলের কাছেই মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে। মেঘলায় বিশাল লেকের ওপর দুইটি ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে ক্যাবল কার, শিশুপার্ক, সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা, স্পিডবোটে ভ্রমণের সুযোগ। চোখে-মনে লেগে থাকবে ছায়াঘেরা বনানী। পাশের চা-বাগানের সৌন্দর্য অতুলনীয়। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যেতে পারেন অনেকদূর, যেখানে কলাগাছের সারি আপনাকে স্বাগত জানাবে, বিশ্রামের ঘরও আছে। মোহমুগ্ধতায় ঘণ্টা দুই এলাকাটি ঘুরে দেখতে পারেন। স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন 'বুদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী' শহর ছেড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ১ হাজার ৬০০ ফুট পাহাড়ের চূড়ায়। উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ মন্দিরটি সব ধর্মাবলম্বী ও পর্যটকের কাছে পবিত্র স্থান। এর স্বর্ণখচিত নির্মাণশৈলী সবারই মন কাড়ে। ১২৩টি সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয় মন্দিরে। রয়েছে ছোট-বড় শতাধিক বুদ্ধমূর্তি। শহরের মধ্যপাড়ায় রয়েছে বোমাং রাজবাড়ি। শত বছরের ঐতিহ্যে ঘেরা রাজবাড়িতে রাজার বংশধররা থাকেন। অনুমতি নিয়ে দেখতে পারেন রাজবাড়িটি, বোমাং রাজার রাজমুকুট, সোনার তরবারি, রাজজৌলুসসমৃদ্ধ বাড়িটি এখনও সবার নজর কাড়ে। এছাড়া দেখবেন বোমাং রাজার সার্কেল অফিস। বাড়ির সামনে মাঠে শীতকালে মেলা বসে। শহরের কাছে প্রাকৃতিক ঝরনা বনপ্রপাত। আমতলীর লালব্রিজ এলাকাটি আকর্ষণীয়। প্রবহমান স্বচ্ছ ঝরনা ঝরঝর করে বয়ে চলেছে। বাসস্ট্যান্ডের কাছে কসাইপাড়ার পাশে প্রবহমান শীলকুম ঝরনা, যা হাজার হাজার মানুষের পানির জোগান, প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের আনন্দ জোগায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল কেন্দ্র রয়েছে শহরে। এখানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পোশাক, জীবনযাপন পদ্ধতি, নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি, গয়না, অস্ত্র, বাদ্যযন্ত্র, বাসন-কোশন, বই, তাদের জীবনযাত্রা ও উৎসবের ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। উপহার হিসেবে আদিবাসীদের তৈরি পোশাক এবং বাঁশের শোপিস আনতে পারেন। চাঁদের গাড়ি, রিকশা, ইজিবাইক অথবা হেঁটে শহরের সব জায়গায় যেতে পারেন। বাজারে দেখবেন আদিবাসী নারীরা সবজি, ফল, শুঁটকিসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছে। এখানে ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়- মারমা, চাকমা, মুরং, ত্রিপুরা, লুসাই, খুমি, বম, খেয়াং, চাক, পাংখো ও তঞ্চঙ্গ্যা বাস করে। যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও উৎসব রয়েছে। ওদের সঙ্গে ছবি তুলতে পারেন, তাদের বাড়িঘর দেখতে পারেন, কত সহজ-সরল তাদের জীবন। শহরের মাঝে বৌদ্ধ খিয়াং রয়েছে, আছে মারমা হোটেল ও আদিবাসী পরিচালিত হোটেল। মাছ, শামুক, ঝিনুক, শূকর, হরিণ, খাসির গোশত, সবজিসহ নানা রুচিকর খাবার পাওয়া যায়। বান্দরবানে যাবেন অথচ এ হোটেলের খাবারের স্বাদ মুখে নেবেন না, ভাবাই যায় না। ঢাকা থেকে প্লেন, ট্রেন বা বাসে চট্টগ্রাম, বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী ও পূর্বাণী বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। বান্দরবানে সরাসরিও আসতে পারেন শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, এস আলম, হানিফ, বিআরটিসি ও ইউনিক পরিবহনে। বাসগুলো ঢাকার গাবতলী, আরামবাগ, কমলাপুর থেকে ছাড়ে, সময় লাগে ৯ ঘণ্টা। থাকার জন্য ফোরস্টার, থ্রিস্টার, প্লাজা বান্দরবান, গ্রিন হিল, হিলবার্ড, পূরবী, হলিডে ইন, বিলকিস হোটেল ছাড়াও সার্কিট হাউসসহ অন্যান্য দফতরের রেস্টহাউস রয়েছে। কামরান চৌধুরী : এনজিও কর্মকর্তা ও পর্যটন লেখক kamran2070@yahoo.com

আমেরিকায় কলম্বাসের সঙ্গে দেখা হলো না

আমেরিকায় কলম্বাসের সঙ্গে দেখা হলো না

স্ট্যাচু অব লিবার্টি

স্ট্যাচু অব লিবার্টি

শিহাব শাহরিয়ার গল্পটি এ রকম: দুই অধ্যাপক সকালবেলা আমেরিকার রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটছেন। দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। এঁদের একজনের গায়ের রং শাদা, অন্যজনের শ্যামলা। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একজনের গায়ের সাথে আরেকজন গা লেগে গেল। তখন শাদা চামড়ার অধ্যাপক বলল, তুমি আমাকে ধাক্কা দিলে কেন? তুমি একটা অসভ্য। উত্তরে শ্যামলা অধ্যাপক বলল, তুমিই অসভ্য, কারণ তোমার সংস্কৃতির বয়স পাঁচশ বছরের, আর আমার সভ্যতা দুই হাজার বছরের। গল্পটি করেছিলেন প্রয়াত নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র দেখতে এতো সুন্দর কেন? একজনের এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক নন্দিত কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন বলেছেন, আমেরিকাকে এই সুন্দর করে গড়ে তুলতে পাঁচশ বছর সময় লেগেছে। এই আমেরিকাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু তাদের দেশের কীর্তিমান কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ও জর্জ হ্যারিসন একই সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন কবিতা লিখে ও গান শুনিয়ে। ‘যশোর রোড ১৯৭১’ও ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ...’ বাঙালি চিরদিন স্মরণে রাখবে। যে দেশটি আবিষ্কার করেছিলেন কলোম্বাস। আটলান্টিক মহাসাগরের পাড়ের এই দেশটি পাঁচশ বছরে হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ- অর্থনীতি, তথ্য-প্রযুক্তি এবং সমরাস্ত্রেও। সেই দেশটি তৃতীয় বিশ্বের একজন নগন্য লেখক হিসেবে দেখার সাধ আমার ভেতরেও জেগে উঠল একদিন। ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসে ২০০৮ সালে সাক্ষাৎকার দেয়ার প্রায় এক বছর পর ভিসা পেয়ে উড়াল দিয়েছিলাম মার্কিন মুলুকে। বলছি  ২৪ জুন ২০০৯ সালের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ও সংস্কৃতিসেবি বিশ্বজিৎ সাহার মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে সে বছর একসঙ্গে গিয়েছিলাম প্রায় তেরো জন। এঁদের মধ্যে ছিলেন কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ, কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রকাশক মনিরুল হক, সংস্কৃতিসেবী মহিউদ্দিন খোকন এবং আমি। দল বেঁধে যাওয়ার মজাই আলাদা। তবে হুমায়ূন আহমেদ স্ত্রী শাওনকে নিয়েছিলেন বিমানের বিজনেস ক্লাসে। সুতরাং তাঁর সঙ্গে যাবার সময় সেভাবে পরিচয় হয়নি। আমাদের দলনেতা ছিলেন হাসান আজিজুল হক। একটা কথা সবাই মানবেন যে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশের উদ্দেশে বের হলে যাত্রা পথে দেশের শত্রুও বন্ধু হয়ে যায়, বাড়ে আন্তরিকতা। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই-ই হলো। হাসান আজিজুল হক বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা কথাশিল্পী কিন্তু তিনি যে রসিক মানুষ, বুঝলাম তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করে। প্রচুর অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সঙ্গ দারুণ জমে উঠেছিল। নিউজার্সি সেন্ট্রাল পার্কে বিজ্ঞাপনের শুটিং আমাদের ট্রানজিট ছিল কাতার। সেখানে রাতে কাটিয়ে পরদিন ভোরে আবার আকাশে উড়াল দিলাম। দীর্ঘ সময় পর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যখন জে.এফ.কে বিমানবন্দরে আমরা নামলাম, তখন ভেতরে ভেতরে সত্যি পুলকিত হচ্ছিলাম এই ভেবে যে, অবশেষে আমেরিকার মাটিতে পা দিতে যাচ্ছি! ইমিগ্রেশনের ঝুট-ঝামেলা শেষ করে বাইরে এসেই দেখি আমাদের জন্য অপেক্ষায় আছেন কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি। তাদের মধ্যে সাংবাদিক আমান-উদ-দৌলা অন্যতম। আমাকে নিতে এসে অপেক্ষা করছেন আমার দুজন বন্ধু, তারা আমাকে স্বাগত জানালেন। আমি তাদের গাড়িতে উঠে প্রবেশ করলাম শহরের পথে। সূর্যের আলো ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছে। বিশ্বের বাণিজ্য-রাজধানী বলে খ্যাত নিউইয়র্ক শহরের নান্দনিক পথ ধরে যেতে যেতে মাঝে মাঝেই পেছন ফিরে তাকাচ্ছি- মাতৃভূমি বাংলাদেশের দিকে। আহা! আমার নদী-মেঘলা বাংলাদেশ। পরক্ষণেই মনে পড়ল, আমেরিকা কি আসলেই স্বপ্নের দেশ? প্রয়াত বিরলপ্রজ লেখক হুমায়ুন আজাদ যখন আমেরিকা আসেন, তার কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পাশে এক আড্ডায় তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার আপনি কেন আমেরিকা যাচ্ছেন? উত্তরে তিনি বললেন, দেশটা তারা কীভাবে তৈরি করেছে, সেটি স্বচক্ষে দেখা দরকার বলেই যাচ্ছি। আমার মনেও এ রকম একটা বাসনা ছিল। লং আইল্যান্ডের প্রবেশ পথ সদ্য আমেরিকায় আসা আমার সিলেটের কবিবন্ধু জিয়া উদ্দিনের ওজনপার্কের বাসায় উঠলাম আপাতত। দুপুরের খাবার সেরে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে ছুটলাম জ্যাকসন হাইটের দিকে। শুনেছি আমেরিকা প্রবাসী বাঙালিদের সেখানে না গেলে ভাত হজম হয় না। বিশেষ করে যারা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত আছেন এবং আগে বাংলাদেশে থাকতেও ছিলেন। সাবওয়ে ব্যবহার করে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম বাঙালি পাড়ায়। এই অর্থে বাঙালি পাড়া যে, সেখানে গিয়ে বাঙালিপনায় অভিভূত হয়ে গেলাম। কেননা রেস্টুরেন্ট, দোকান, অফিস আর ব্যবসায়িক নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যেও যেখানে এক টুকরো বাংলাদেশ খুঁজে পেলাম। ওইটুকু জায়গাজুড়ে বাঙালিদের আড্ডার আসর সত্যি প্রাণবন্ত! প্রথম দিনই পরিচয় হলো অনেকের সঙ্গে এবং দেখা হলো যারা আগে দেশে লেখালেখি করতেন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুখর ছিলেন। আবার দেখলাম সেখানেও দলাদলি আছে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দ্বন্দ্ব আছে। আমার জন্মজেলা শেরপুরের মিনা ফারাহ`র বাংলাদেশ প্লাজায় কেবলমাত্র বাঙালিদেরই সব দোকান-পাট এবং সেটিকে ঘিরেই আড্ডা চলে। উল্টা দিকে আলাউদ্দিন মিষ্টির দোকানেও আড্ডার একটি ভালো জায়গা। বিগত সতেরো বছর যাবত যার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রতিবার আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার আয়োজন হয়ে থাকে সেই কর্মীষ্ঠ পুরুষ বিশ্বজিৎ সাহার প্রতিষ্ঠান মুক্তধারা ফাউন্ডেশনে গেলাম। দোতলায় চমৎকার একটি বাংলা বইয়ের দোকান। এখানে চা খেতে খেতে দেখা হলো অনেক প্রবাসী বাঙালির সঙ্গে। বিশেষ করে কয়েকজন কবি ও লেখকের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আড্ডা হলো বহুক্ষণ। এই বইমেলাতেই পরিচয় হলো প্রখ্যাত লেখক সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে। তিন দিনের বইমেলায় সেমিনার, কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি, গান এবং আলোচনা অনুষ্ঠানও ছিল। পর্বে পর্বে সাজিয়ে বিশ্বজিৎ সাহা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকাখ্যাত নিউইয়র্ক ও কানাডা থেকে প্রবাসী অনেক লেখক, পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলার একটি প্লাটফরম তৈরি হয়েছে যেন। বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিও এলেন একদিন। দেখা হলো এক সময় ঢাকায় থাকা অনেক পরিচিতজনের সঙ্গে। বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলার মতো নিউইয়র্কের এই বইমেলাটিও হয়ে উঠলো মিলনমেলা। জ্যাকসন হাইটে শাড়ির দোকান পরদিন সিলেটের বন্ধু ফয়সাল আমাকে নিয়ে গেল ম্যানহাটানে নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্রে। হাডসন নদী বয়ে গেছে শহরের মাঝখান দিয়ে। নদী শাসন করে কীভাবে তীরবর্তী অঞ্চলে নান্দনিক শহর গড়ে তোলা যায় টেমসের পর এই নদী দেখে তাই মনে হলো। পৃথিবীর ব্যস্ততম ম্যানহাটান। এখানে একটু বলে রাখি, নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো (Borough) বা অঞ্চল রয়েছে। ম্যানহাটন এরই একটি বরো- একে বিশ্ব বাণিজ্যের রাজধানী বলা হয়। আমরা হাঁটতে হাঁটতে ম্যানহাটানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সেন্ট্রাল পার্কে ঢুকলাম। অনেকক্ষণ ঘুরে ঘুরে দেখলাম পার্কের মনোরম দৃশ্য। এখানে প্রতারিত হবার কোনো ভয় নেই। যে কারণে যার যার মতো করে সময় কাটাচ্ছে। কেউ হাঁটছে, কেউ বসে গল্প করছে, কেউ খেলাধুলা করছে আর সবচেয়ে মজা করছে ছেলেমেয়েরা। সাজানো সবুজ ঘাস আর গাছের নিবিড় সমারোহ থেকে বের হয়ে আমরা আবার হাঁটতে থাকলাম রাস্তা ধরে। তখন সন্ধ্যার আলো-আঁধারি। নিয়নগুলো জ্বলে উঠেছে। নির্জন ফুটপাত। এরপর গেলাম জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে। বন্ধু ফয়সল আমার অনেকগুলো ছবি তুলল। আরো একটু বলে রাখি, আমেরিকায় হাঁটাহাঁটি করলে কোনো ক্লান্তি আসে না। বাড়তি এনার্জির জন্য রাস্তার ধারেই চা-পানের ব্যবস্থা আছে। আমরা মাঝে মাঝেই থেমে দোকানে ঢুকে চা-পান করছি। এরপর আমরা গেলাম কাঠের ঝুলন্ত সেতুতে। সেখানে দাঁড়িয়ে রাতের আলো ঝলমল নিউইয়র্ক দেখে অসাধারণ লাগল। আমার জন্য সবই নতুন, সবই আনন্দের। ঝুলন্ত সেতু থেকে সিএনএন ভবনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম। ভাবলাম, পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় কত কিছুই না করা সম্ভব! ভাবলাম ঢাকা শহর যানজটমুক্ত ও সুন্দর করতে হলে, এই আমেরিকার মতো পরিকল্পনা করতে হবে।আমাদের শহরেও সাবওয়ে ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে অনেক সুবিধা- সময় বাঁচবে, ভ্রমণও আরামদায়ক হবে। যে কারণে যাওয়া সেই বইমেলার উদ্বোধন পরদিন। মুক্তধারার সামনে উদ্বোধনী পর্ব। সকালবেলা গিয়ে হাজির হলাম। ধীরে ধীরে এলো প্রবাসী অনেক বাঙালি। অনেক পরিচিত মুখ। ক’জনের কথা বলব? ফকির ইলিয়াস, লতা নাসিরউদ্দিন, নামজুন নেসা পিয়ারি, পূরবী বসু, হাসান ফেরদৌস, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, অনন্ত আহমেদ প্রমুখ। সকালের নরম রোদের ভেতর জাকজমকভাবে বইমেলার উদ্বোধন হলো মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সামনে। তারপর র্যা লি শেষে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার একেকটি পর্ব। একটি পর্বে আমার কবিতা পাঠ ছিল। কবিতা পড়ে হাততালি পেলাম। বিশেষ করে দুই প্রখ্যাত কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক ও পশ্চিমবঙ্গের সমরেশ মজুমদার মঞ্চ থেকে নামার সময় অভিনন্দন জানালেন। গেলাম মেলার মাঠে। লিংকন টানেলে ঢুকছে গাড়ি বিশ্বজিৎ সাহার প্রশংসাই করতে হয়। বাংলা একাডেমির আদলে সুদূর নিউইয়র্কে বাংলা বইয়ের এই মেলা দেখে সত্যি ভালো লাগল। মেলার মাঠে দেখা হলো এক সময়কার ঢাকার পরিচিত অনেক মুখ- সাগর লোহানী, দর্পণ কবির, তমিজ উদদীন লোদী, সালেম সুলেরী প্রমুখ। সারাদিন কাটালাম বইমেলার অনুষ্ঠান ও বইয়ের স্টলে বসে, আড্ডা দিয়ে। জম্পেশ আড্ডা। সন্ধ্যায় এলেন কবি শামস আল মমীন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন তার জ্যামাইকার বাসায়। পর পর তিন দিন তাঁর বাসায় ছিলাম। প্রতি রাতেই শিল্প, সাহিত্য আর রাজনীতি নিয়ে আড্ডা চলল। একদিন মমীন ভাই আমাকে নিয়ে গেলেন লং আইল্যান্ডে। দেখার মতো সুন্দর জায়গা! পাহাড়, সমুদ্র আর সমতলজুড়ে নান্দনিক এক স্থানের নাম লং আইল্যান্ড। আমার দেখা নিউইয়র্কের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা এটি। দেখে সত্যি মুগ্ধ হয়েছি! তিনদিন পর মমীন ভাই চলে এলেন ঢাকায়। আমি গিয়ে উঠলাম বন্ধু ফয়সলের জ্যাকসন হাইটের বাসায়। পরদিন ফয়সল প্রথমে আমাকে নিয়ে গেল তার ব্যবসায়িক এলাকা লিবার্টি এভিন্যুয়ে। সেখান থেকে প্যানসেলভিনিয়া ও নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। আরেক বন্ধু মামুন তার গাড়ি চালাচ্ছে আর আমি চোখ মেলে দেখছি আমেরিকার সৌন্দর্য। সব সৌন্দর্যের বর্ণনা করা যায় না। পরিকল্পিতভাবে যে শহর, যে দেশ আমেরিকানরা করেছে তা অপূর্ব। গাড়ি থেকে দেখে নয়ন জুড়িয়ে যাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে অনুভব করছি আমার স্ত্রী পুত্রদ্বয়কে।এমন দেখার সঙ্গী ওরা হলে আনন্দটা আরো বেশি হতো। যাই হোক, যেতে যেতে নিউইয়র্ক থেকে নিউ প্যানসেলভিনিয়ায় প্রবেশ করলাম। পথে কয়েকবার মামুন ভাই গাড়ি থামিয়ে হাইওয়ে কফিশপে ঢুকে প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ালেন। ফাঁকে ফাঁকে চলতে লাগল ক্যামেরার ক্লিক। প্যানসেলভিনিয়াও একই সৌন্দর্যের চাদরে ঢাকা- পরিপাটি, ছিমছাম। বাড়িগুলো একই সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। মামুন ভাই তার এক আত্মীয় বাঙালির বাসায় কয়েক মিনিট কথা বললেন। তারপর আমরা রওনা করলাম নিউজার্সির উদ্দেশে। সে আরেক রকম সুন্দর। এখানে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করা, বালুময় সৈকত ও আটলান্টিক সিটি আনন্দ-উৎসব করার চমৎকার এক জায়গা। সেখানে আকর্ষণীয় খেলা হলো জুয়া। শুনেছি বিভিন্ন শহর থেকে এমনকি বিভিন্ন দেশের লোকজন এখানে জুয়া খেলতে আসে। কবি নির্মলেন্দু গুণও এখানে জুয়া খেলে লিখেছেন: ‘আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি’নামে একটি বই। কিন্তু আমাদের জুয়া খেলা হলো না, তাতে কী? কিছু জায়গা তো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেতে পারবো? তাই-ই করলাম। স্বল্প সময়ে অল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ফিরে এলাম নিউজার্সি থেকে। একই পথে ফিরছি, তবে নিউইয়র্কে প্রবেশের আগে মামুন ভাই হাডসন নদীর তলদেশে নির্মিত দেড় মাইলের লিংকন টানেল দিয়ে নিয়ে গেলেন। আর দূর থেকেই দেখলাম বিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টি। জুলাই ৪। আমেরিকার জাতীয় দিবস। সেদিন ঢাকার তরুণ কবি ও আবৃত্তিকার বাচ্চু আমাকে নিয়ে গেলেন ম্যানহাটানে হাডসনের পাড়ে। সে এক অসাধারণ দৃশ্য। বাজি ফুটিয়ে এমন আনন্দ করতে আর কখনো দেখিনি। তবে একটা কথা না বললেই নয়, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা না করে পারা যায় না। একদিন সাবওয়েতে ‘ই’ ট্রেনে যাচ্ছি জ্যামাইকা থেকে জ্যাকসন হাইটসে। বেশ কয়েকটি স্টেশন পার হয়ে যেতে হয়। সেদিন একাই ছিলাম। টিকিট নিয়ে ঠিক ঠিক উঠলাম ট্রেনে। স্টেশন গুনে গুনে যাচ্ছিলাম, কিন্তু ভুলে পার হয়ে গেছি কয়েক স্টেশন। ট্রেন থেকে নেমে কিছুটা নার্ভাস হলাম। ভাবছি ডাউন ট্রেনে তিন স্টেশন পিছনে যাবো। সারা স্টেশন ফাঁকা, কারণ সবাই ছুটছে- ওঠানামা করছে দ্রুত। হাঁটতে হাঁটতে একটু এগোতেই দেখা পেলাম উনিশ-কুড়ি বছরের এক যুবকের। তাকে আমেরিকান মনে হলো না। জিজ্ঞেস করতেই জানাল, সেও নতুন। ইন্দোনেশিয়া থেকে পড়াশোনা করতে এসেছে মাসখানেক আগে। সেও ম্যাপ দেখে দেখে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতো আমিও ম্যাপের দিকে চোখ রাখলাম। ডাউন ‘এ’ না ‘এফ’ ট্রেন হবে বুঝতে পারছি না। মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের মতো হবে। এরই মধ্যে কোথা থেকে হুট করে জায়েন্ট ফিগারের একজন পুলিশ এসে আমার সামনে দাঁড়াল। কিছুটা ভয়ও পেলাম। কারণ নাইন-ইলেভেন তারিখটি মাথায় এলো। আমাকে সিসি ক্যামেরায় দেখে কোনো সন্দেহ করল কি না? আমি জিজ্ঞেস করার আগেই, ভারী গলায় ভদ্র ভাষায় আমাকে ইংরেজিতে যা বলল, তার বাংলা দাঁড়ায়- স্যার, আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি? স্পেস মিউজিয়াম, ডালাস আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমার গন্তব্যের কথা বললাম। সে বিনীতভাবে বলল, আপনি আমাকে অনুসরণ করুন। আমি তার পিছু পিছু যাচ্ছি, সে আমাকে ট্রেন লাইনের ওপরের ব্রিজ দিয়ে নিয়ে অন্য প্লাটফর্মে মিনিটখানেক দাঁড়াতে বলল। এরই মধ্যে একটি ফিরতি ট্রেন এসে গেল। সে ইশারা দিয়ে ট্রেনে উঠতে বলে আমাকে বিদায় জানাল। আমি যথাবিহীত কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ট্রেনে উঠে গেলাম। নিউইয়র্ক থেকে যাচ্ছি ওয়াশিংটন ডিসি হয়ে ভার্জিনিয়া। ম্যানহাটান থেকে চায়নাদের পরিচালিত বাসে। চার ঘণ্টার পথ। তবে বিশাল হাইওয়ে। গাড়ি ছুটে চলেছে, ছুটে চলেছে। মাঝে একবার বিরতি। রাস্তার দু’পাশের শহর  আর প্রকৃতির খেলা দেখে মন ভরে গেল।  দুপুরের দিকে পৌঁছলাম ডিসিতে। আমাদের জন্য ওর প্রাইভেট কার নিয়ে অপেক্ষা করছে নিজাম। নিজাম ঢাকার মিরপুরে আমার পড়শী। কিছুদিন আগে প্রবাসী হয়েছে এবং ভার্জিনিয়াতে বাড়ি কিনে স্ত্রী-কন্যাসহ বাস করছে। ওরই আমন্ত্রণেই সেখানে যাওয়া। ভার্জিনিয়ার বাঙালি কমিউনিটি আমার সৌজন্যে একটি কবিতা পাঠের আয়োজন করেছে। এর মূল উদ্যোক্তা নিজাম। নিজাম আমাদের সোজা নিয়ে গেল ভার্জিনিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে। হাডসন নদীতে পর্যটকদের নৌভ্রমণ সেখানে কবিতা পাঠ ও খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে গেছি অনন্যা প্রকাশনীর মালিক মনিরুল হক, মহিউদ্দিন খোকন, নিউইয়র্ক প্রবাসী টনি ও আমি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, মত বিনিময় হলো,  তারপর খাওয়া দাওয়ার পালা। এরপর নিজাম আমাদের নিয়ে গেল তার বাড়িতে। ওর বউ শিলা নানা রকমের খাবার আয়োজন করে রেখেছে আমাদের জন্য। আমরা সারারাত তাস খেলে পার করলাম আর ফাঁকে ফাঁকে চলল খাবার। স্মরণীয় এক আনন্দময় রাত কাটল ভার্জিনিয়ায়। কবি নির্মলেন্দু গুণের মতো করে বলতে ইচ্ছে করছে- ভার্জিনিয়ায় তাস খেলার রাত। পরদিন সকালে ফিরে যাচ্ছি নিউইয়র্কে। সকালের আলোয় ভার্জিনিয়া দেখে আমরা অভিভূত হলাম। কত দৃশ্যনন্দন হতে পারে শহর। নিজাম আমাদের ওয়াশিংটন ডিসির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পথে গাড়ি থামিয়ে নিয়ে গেল ডালাস এয়াপোর্টের পাশে স্পেস মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামের বাইরের খোলামেলা ও নান্দনিক বিল্ডিং দেখলে সকলেরই ভালো লাগবে। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। এটি একটি বিষয়ভিত্তিক জাদুঘর। এখানে পৃথিবীর প্রথম বিমানের অংশ থেকে সদ্য তৈরি বিমানের মডেল এবং যাবতীয় জিনিস নিদর্শন হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। জাদুঘরের কর্মী বলেই জাদুঘরটি দেখে ভালো লাগল। এরপর ডিসিতে এসে হোয়াইট হাউসের সামনে কিছুক্ষণ ঘুরে গেলাম ভয়েস অব আমেরিকার অফিসে। সেখানে কথাশিল্পী দিলারা হাশেম বহু বছর কাজ করছেন, যিনি নিউইয়র্কে বইমেলায় আমাকে দাওয়াত দিয়ে এসেছিলেন যে, আমি যেন সময় বের করে তার ওখানে যাই। তো সেই কারণেই যাওয়া। দিলারা আপা বিনয়ী মানুষ। আমাদের ঘুরে ঘুরে সমস্ত স্টুডিও দেখালেন এবং পরিচয় করিয়ে দিলেন সকলের সাথে। এদের মধ্যে রোকেয়া হায়দার ও ইকবাল বাহার চৌধুরী এই দু’জনকে আগে থেকেই চিনি। বাকি বাঙালি ও আমেরিকান স্টাফদের সাথেও পরিচয় হলো। সবশেষে আমার একটি পাঁচ-ছয় মিনিটের সাক্ষাৎকার নিলেন দিলারা হাশেম। ভয়েস অব আমেরিকার হেড অফিস সাক্ষাৎকারে আমার লেখালেখি, প্রকাশনা এবং আমেরিকায় যোগ দেওয়া বইমেলা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করলেন তিনি। সত্যি আমি দারুণ অভিভূত। মনে পড়ল ব্রহ্মপুত্র নদ। নদের পাড়ের এক অজপাড়া গাঁয়ের এক নগন্য শিহাব শাহরিয়ার ভয়েস অব আমেরিকার স্টুডিওতে বসে নিজের কর্ম নিয়ে কথা বলছে! এও কী সম্ভব? সার্থক আমার জননী-জন্মদাতা, সার্থক আমার শৈশবের প্রিয় নদী। যাদের কোলে-পিঠে ছোটাছুটি করে বড় হয়েছি। ভেতরে ভেতরে আনন্দানুভূতির পাশাপাশি মনের সাহসও বেড়ে গেল, কারণ সময় অপচয় না করে যে কোনো কাজ করলে, তার স্বীকৃতি পাওয়া যায়-ই। মনে হলো আমার আমেরিকা আসার স্বপ্ন যেন পূরণ হলো। এখানে বলে রাখি, এই সাক্ষাৎকারটি ১২ জুলাই ২০০৯ তারিখে প্রচারিত হয়েছে, যখন আমি বিমানে বাংলাদেশের পথে ছিলাম। যাহোক স্টুডিও থেকে বের হয়ে দিলারা আপার কক্ষে একটু সময় বসে বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে। রাস্তা ধরে আমি আর মহিউদ্দিন খোকন ভাই হাঁটছি। হেঁটে হেঁটে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে গেলাম। ডিসিতে মনে হলো লোকজন কম। বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরাও কিছুক্ষণ ঘুরে উঠে গেলাম চায়না বাসে নিউইয়র্কের উদ্দেশে। বাস থেকে নেমেই সাবওয়ে ধরে জ্যাকসন হাইটের দিকে যাবো, নিচে নেমে ট্রেন সিলেক্ট করতে আমরা একটু ইতস্তত করছি, তখন রাত দশটার মতো হবে, এমন সময় একজন আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছে, মনে হলো সাবওয়েতেই কাজ করেন। আমার বললাম, এক্সকিউজ মি? অপর পাশ থেকে উত্তর এলো- বাংলায় বলেন। আমরা হতবাক এবং একইসঙ্গে পুলকিত। উনি আবার বললেন, আমার কাছে আসার দরকার নেই, আপনাদের সমস্যা দূরে থেকেই বলেন, কারণ এখানে আমার কথা বলা নিষেধ আছে। আমরা বুঝে গিয়ে দূর থেকেই জানতে চাইলাম, আমাদের ট্রেনটি কোন লাইনে দাঁড়াবে? উনি উত্তর দিয়ে দ্রুত চলে গেলেন। আমরা সঠিক লাইন ধরে ‘ই’ ট্রেনে চলে গেলাম জ্যাকসন হাইটে। রাতের ব্যস্ত নিউইয়র্ক শহর দেখা হলো না নায়াগ্রা। কারণ কানাডা যাওয়ার জন্য ভিসা নিতে ম্যানহাটানে গিয়ে আবেদন করলাম কিন্তু ভিসা পেলাম না। অবশ্য তরুণ কবি হাসানআল আবদুল্লাহ আমার সঙ্গে দাঁড়ানো কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও প্রকাশক মনিরুল হককে ভিসা পেতে সহযোগিতা করলেন এবং তারা ভিসা পেলেনও। কী কারণে জানি হাসান আমাকে সহযোগিতা করলেন না। যাহোক এবারের যাত্রায় হলো না, হয়ত ভবিষ্যতে হবে। আর দেখা হলো না কবি শহীদ কাদরীর সঙ্গে। কারণ তিনি সিরিয়াস শারীরিক অসুস্থতায় হাসাপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছেন। বাংলা কবিতার তিন পাণ্ডব রাহমান, মাহমুদ আর কাদরী। আগের দুজনকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু কাদরী ভাইয়ের সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি। বাংলা কবিতার এই বর্ষীয়ান কবির সঙ্গে দেখা হলে ভালই হতো। যদিও আমেরিকা যাবার আগে ঢাকা থেকে আমি ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি, অথচ... অথচই। আর কলম্বাসেরও দেখা পেলাম না। দেখা পেলাম না আব্রাহাম লিংকনের। দেখা পেলাম না অ্যালেন গিন্সবার্গের। দেখা পেলাম না জর্জ হ্যারিসনের। এই অতৃপ্তি নিয়েই আমাকে ফিরে আসতে হলো আমার প্রিয় স্বদেশের মাটিতে। মনে মনে বললাম, আবার গেলে দেখা হবে নিশ্চয়ই। এই যে আশা, সেই আশাই তো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। আমিও সেই আশায় রইলাম।  

পর্যটনে যৌনতা

পর্যটনে যৌনতা
যৌনতার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সেই বহুকাল আগে থেকেই। জৈবিক চাহিদা মেটাতে সমাজের রীতি অনুযায়ী মানুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। কেউবা সমাজের রীতি উপেক্ষা করেই বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। আবার কেউবা শুধুমাত্র যৌনতার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য অন্যদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এটাকে পর্যটকরা সেক্স ট্যুরিজমই বলে থাকেন।
বিশ্বে সেক্স ট্যুরিজমের মানচিত্রে নিত্যনতুন যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। পর্যটকরা যৌনতার ক্ষুধা মেটাতে ছুটে যান এসব দেশে। নারী সান্নিধ্যের আশায় পছন্দ ও সাধ্যের ভিত্তিতে পাড়ি জমান দেশে দেশে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় যৌন ব্যবসার নানা রূপ। স্ট্রিপ ডান্স বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও স্পা-তে সুলভে দৈহিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এমনকি ছুটি কাটাতে এসে টানা কয়েক দিনের জন্যও সঙ্গী মেলে কেনিয়ায়। নিসর্গ, সংস্কৃতি ও চুরুটের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় প্রতি বছর পাড়ি জমান অজস্র পর্যটক। তবে এদের বড় একটি অংশ আসেন যৌনতার আকর্ষণে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, মনপছন্দ নাবালক যৌনসঙ্গী সুলভে মেলে এই দেশে। গত এক দশকে রাশিয়ায় দেহ ব্যবসার রমরমা শুরু হয়েছে। মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের পর্যটকরাই এখানে যৌনতার টানে ছুটে আসেন। তবে রুশ যৌন বাজারে দালালদের দাপট বেশি। ১৮৮৭ সাল থেকে আর্জেন্টিনায় বৈধতা পেয়েছে সমকামিতা। এই কারণে আর্জেন্টিনায় সমকামী দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদা তুঙ্গে। সরকারের পক্ষথেকেও সমকামী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। যৌন পর্যটনের হাত ধরেই অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চাইছে মারাডোনার দেশ।পর্যটনে যৌনতা যৌন পর্যটনের পীঠস্থান সানি বিচ রিসোর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বাস্তব ও কল্পনার অভাবনীয় মিশেল। শোনা যায়, এই সৈকতে প্রতিদিন কয়েক হাজার দেহ ব্যবসায়ী ভিড় জমান। তাঁদের অনেকেই আসেন প্রতিবেশী দেশ থেকেও। দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌনতা নিয়ে শুচিবায়ু নেই। ক্ষণিকের শয্যাসঙ্গী জোগাড় করতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয় না। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে রয়েছে একাধিক এসকর্ট সার্ভিসের ব্যবস্থা। হোটেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়াও মেলে সুলভে। কলম্বিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা বলে যৌন পর্যটনস্থল হিসেবে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই দেশ। দরিদ্র দেশে এসে নামমাত্র খরচে দেদার ফূর্তি লুটতে প্রতি বছর পাড়ি জমান ইউরোপ ও আমেরিকার পর্যটকরা। দুনিয়ার অন্যতম বড় যৌন ব্যবসা চালায় কম্বোডিয়া। কিন্তু তার বেশির ভাগই অবৈধ। তবে আইনের ফাঁক গলে অবাধ যৌনতার হাতছানিতে সাড়া দিতে প্রতি বছর ছুটে আসেন বিশ্বের কামতাড়িত মানুষ। স্লোভাকিয়ার প্রাহা শহর ১৯৮৯ সাল থেকে ইউরোপের যৌনতার রাজধানী তকমা পেয়েছে। অসংখ্য জেন্টলম্যানস ক্লাব অথবা রিল্যাক্সেশন ক্লাবে অল্প খরচে শরীরী বিনোদনের সম্ভার মেলে। হিংসাত্মক ঘটনাও এখানে সংখ্যায় খুব কম। রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পোখরা ও তরাইয়ের শহরাঞ্চলে দেহ ব্যবসা রমরমা। বাণিজ্য জমে উঠে হোটেলের দামি ঘর থেকে শুরু করে নিষিদ্ধপল্লির অন্ধকার আস্তানামায় যৌন ব্যবসায়ীর বসত ভিটেতেও। কাঠমান্ডুর থামেলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ম্যাসাজ পার্লার, যেখানে অবৈধ দেহ ব্যবসার পসার সাজানো। এছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরাঁর কেবিন ও ডান্স বারগুলিতেও মিলবে অফুরন্ত দেহজ বিনোদনের সম্ভার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যৌনতার নয়া ঠিকানা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। ব্যাঙ্ককের বিখ্যাত দপিং পিংদ শো-ই হোক অথবা বিভিন্ন স্পা-এর ছদ্মবেশে যৌনতার আস্তানা। দেশজুড়ে অবাধ ও নিরাপদ দেহ ব্যবসার রমরমা বছরভর। তাই দেশটি বিশ্বের নানা দেশের নারী-পুরুষরকে সহজেই আকৃষ্ট করছে।
 

দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে

দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে
অনেক ভ্রমণ পিপাষু রয়েছেন যারা একটু সুযোগ পেলেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান দেশের বাইরে। ভালোবাসেন বিদেশ-বিভুঁইয়ে ঘুরে বেড়াতে। আর এমন পর্যটকদের সঙ্গত কারণেই অনেক বেশি দূরত্বের পথ ভ্রমণ করতে হয়। দীর্ষ এই ভ্রমণে ব্যবহার করতে হয় বিমানসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন। আর এতো দীর্ষ ভ্রমণের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে গিয়ে শরীরে চলে আসে ক্লান্তির ছায়া। যার ফলে ম্লান হয়ে যেতে পারে আপনার ভ্রমণ আনন্দ। সেই সাথে স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও সতর্কতা জারি করে। জানায়, দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি থেকে দীর্ষস্থায়ী অনিন্দ্রাজতিন সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা বেড়ের যায়। সেই সাথে ক্ষুধামন্দা, ব্লাড পেশারের তারতম্য, খাদ্য পরিপাক ক্রিয়ার নানান জটিলতাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই সৃষ্টি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের মিরর পত্রিকাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ . নেরিনা র্যামলাখান। যা আলোকিত বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। চলুন তাহলে আজ আমরা দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তিহীন থাকার কয়েকটি টিপস জেনে নিই।
পূর্ব পরিকল্পনা: দীর্ষ ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে আপনি একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। ভ্রমণের বের হওয়ার একসপ্তাহ আগে থেকে ভালো করে ঘুমিয়ে নিন। সেই সাথে নিয়মতি শরীর চর্চা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। বিশেষ করে ক্যাফেইন ও চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করুন।
সদা সক্রিয় থাকুন: বিমানবন্দরে পৌঁছার পর আপনার শরীরকে কোথাও এলিয়ে না দিয়ে সব সময় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। শরীরে আলসেমির ভাব হলে বিরক্ত না হয়ে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। বিমান উড়ার আগে শরীরের আড়মোড়া ভেঙে নিন। এতে করে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে। দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে
স্বাস্থ্যকর খাবার:  ভ্রমণের সময় এবং গৌন্তব্যে পৌঁছার পর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। যেমন বিভিন্ন ধররেন ফল ও শাকসবজি। ক্যাফেইন, সুগার জাতীয় খাবর পরিহার করুন। সেই সাথে সম্ভব হলে বিমানে পরিবেশন করা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবারও পরিহার করুন।
স্বাস্থ্যকর পানীয়: বিমানে উঠার পর উত্তেজনা দমিয়ে রাখুন। সেই সাথে এক বোতল ফ্রেশ পানি ও ভেষজ চা নিয়ে নিন। যাতে করে আপনি ক্যাফেইনযুক্ত কঠিন পানীয় পরিহার করতে পারেন।
মেডিটেশন: বিমান উড্ডয়নের ২০ মিনিট আগে চোখ বন্ধ করুন এবং মেডিটেশন করুন। অবতরণের পরেও এই কাজের পুনরাবৃত্তি করুন। সেই সাথে এমন গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন যাতে শ্বাস বের করে দেওয়ার সময় আপনার মনে হবে পেট একেবারেই খালি হয়ে গেছে।
আয়েশ করুন: বিমানে ভ্রমণের সময় মজাদার কোনো সিনেমা দেখুন। অথবা মজাদার কোনো গল্প পড়া বা গান শুনুন। যা আপনার মেজাজে অনেক শিথীলতা এনে দিতে পারে। হঠাৎ যদি আপনার ঘুম পেতে থাকে তাহলে চট করে সিনেমা দেখা বা বই পড়া বন্ধ করে দিয়ে আয়েশ করুন।
বিশ্রাম নিন: আপনি ঘুমের চাইতে বিশ্রামকেই বেশি গুরুত্ব দিন। অতিরিক্ত আরাম পেতে বিমানে ভ্রমণের সময় আপনি এয়ার ফোন বা আই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে
স্বাভাবিকতা: নতুন স্থানে যাওয়ার পর শরীরের চাহিদা মোতাবেক কাজ করুন। অযথা জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করবে না। বিশ্রাম নিয়ে নতুন স্থানের পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
ঘুম থেকে বিরত: নতুন স্থানে পৌঁছেই ঘুমানোর চেষ্টা করবে না। এতে করে আপনার শরীরের ক্লান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে আপনি দুপুর ২ টা থেকে ৪ টার মাঝখানে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ঘুমাতে পারেন।  দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে
ঘড়ির সময় বদল: নতুন জায়গায় যাওয়ার পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী আপনার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করে নিন। সেই সাথে আপনার নিজের দেশের সময়ের সাথে মিলিয়ে চলার চেষ্টা পরিহার করুন। যদি আপনার নিজের দেশের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান তাহলে ভ্রমণে আপনাকে খারাপ সময় পার করতে হবে।
খবরটি পঠিত হয়েছে ১২৮ বার
- See more at: http://www.alokitobangladesh.com/online/tour/2015/08/09/8796#sthash.uAoPic4I.dpuf

একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা চন্দ্রনাথের পাহাড়

একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা চন্দ্রনাথের পাহাড়
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশে। অসংখ্য নদী পাহাড়ে ঘেরা এই দেশ। পাহাড়গুলোর মধ্যে নান্দনিকতায় পূর্ণ সীতাকুণ্ড পাহাড়। শুধু তাই নয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড পাহাড়টি। বর্তমানে এ স্থানটি পর্যটকদের আকর্ষণেও অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। বিশেষত সীতাকুণ্ডের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো ভ্রমণকারীকে আপন করে নেয় খুব তাড়াতাড়ি। আর সে রকম সীতাকুণ্ডের সবচাইতে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটনকেন্দ্র হলো চন্দ্রনাথ পাহাড়। দেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণাও এই চন্দ্রনাথের পাহাড়ে অবস্থিত।
একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা চন্দ্রনাথের পাহাড় সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পূর্ব দিকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই চন্দ্রনাথ পাহাড়। জনশ্রুতি রয়েছে যে,  নেপালের এক রাজা ঘুমের মধ্যে পৃথিবীর পাঁচ স্থানে শিবমন্দির স্থাপনের আদেশ পান। স্বপ্নে আদেশ পেয়ে নেপালের সেই রাজা পৃথিবীর পাঁচ স্থানে পাঁচটি শিবমন্দির স্থাপন করেন। যার মধ্যে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির একটি। হিন্দু ধর্মের ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন আমলে এখানে মহামুনি ভার্গব বাস করতেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এই স্থানে এসেছিলেন। মহামুনি ভার্গব রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র আগমন করবেন জেনে তাদের গোসল করার জন্য এখানে তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন। রামচন্দ্রের সাথে তার স্ত্রী সীতাও এখানে এসেছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে গোসল করেছিলেন এবং সেই থেকে এই স্থানের নাম সীতাকুণ্ড। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেভাবে যাবেন : সীতাকুণ্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় রিক্সা করেই যাওয়া যায়। তবে রিক্সায় যাওয়ার চেয়ে পায়ে হেটে গেলে ভ্রমণের আসল মজাটা উপভোগ করা যায়। সীতাকুণ্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে পথে পড়বে অসংখ্য দর্শনীয় দৃশ্য। রিক্সায় করে গেলে সেই সব সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সীতাকুণ্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার সময় পথে হিন্দুদের বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা পর্যটকদের চোখে পড়বে। চলতি পথে চোখে পড়বে পেয়ারা, সুপারি, আমসহ হরেক রকমের বাগান।একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা চন্দ্রনাথের পাহাড়
 পাহাড়ের ভিতরের দিকে স্থানীয় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জুম ও ফুলের চাষ করে। স্থানীয় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা নামে পরিচিত। সীতাকুণ্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার পথে যে জিনিসটি পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে তাহলো পথিমধ্যে থাকা ছোট ছোট ঝর্ণাগুলো।
পথে প্রথম যে ঝর্ণাটি পড়বে সেখান থেকেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার রাস্তা দু-ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। যারা সহজ উপায়ে সরাসরি পাহাড়ে উঠতে চান তারা ডানদিকের সিঁড়িওয়ালা রাস্তাটি দিয়ে উপরে উঠতে পারেন এবং যারা পাহাড়ি পথ ডিঙিয়ে রোমাঞ্চের সাথে পাহাড়ে উঠতে চান তারা বামদিকের পাহাড়ি পথ দিয়ে উপরে উঠতে পারেন। এই পাহাড়েই রয়েছে দেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা। তবে ডানদিকের পথটিতে সিঁড়ি থাকলেও পাহাড়ে উঠার ক্ষেত্রে বামদিকের পাহাড়ি পথটিই সহজ। আর পাহাড় থেকে নিচে নামার সময় ডানদিকের সিঁড়িওইয়ালা পথটিই সহজ। চন্দ্রনাথ মন্দির ছাড়াও এখানে সীতা মন্দির নামে আরও একটি মন্দির আছে। এই মন্দিরের কাছে মৃতপ্রায় একটি ঝর্ণা রয়েছে। তবে আপনি যদি ঝর্ণার পানিতে গোসল করতে চান তাহলে আপনাকে পাহাড়ের গভীর বনের মধ্যে যেতে হবে। গ্রীষ্মকালে এই পাহাড় রুক্ষ থাকলেও বর্ষাকালে বৃষ্টিস্নাত হয়ে পাহাড়ের গাছ, লতা, পাতা সবকিছু ধুয়ে মুছে সতেজ হয়ে যায়। যা পর্যটকদের মন প্রাণ ভরিয়ে তোলে। বর্ষাকালে পাহাড়ে ওঠার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এ সময় পাহাড়ি পথ ব্যবহার না করে সিড়ি পথটিই ব্যবহার করা সুবিধাজনক। যারা উদ্ভিদবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন তাদের জন্য সীতাকুণ্ডু চন্দ্রনাথ পাহাড় গবেষণার জন্য একটি উপযুক্ত স্থান। এখানে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি গাছ-গাছালি, লতা-পাতা, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। সারাবছর জুড়েই অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় এই স্থানটি মুখরিত থাকে। এখানে পর্যটকদের গাড়ি রাখার জন্য বিশাল একটি মাঠ রয়েছে। তবে এখানে বিশুদ্ধ খাবার পানির বড়ই অভাব। সেজন্য পর্যটকদের সাথে করে খাবার পানি নিয়ে যেতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানসহ সকল পথেই সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুরসহ দেশের যে সকল স্থান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে গাড়ি ছাড়ে সেসব গাড়িতে করে সীতাকুণ্ড যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সকল বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। আর যারা ট্রেনে করে যেতে চান তাদেরকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঢাকা মেইল ট্রেনে ওঠতে হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র এই ট্রেনটিই সীতাকুণ্ড স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করিয়ে থাকে। আর সরাসরি ট্রেনে গেলে আপনাকে চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে সীতাকুণ্ডতে আসতে হবে। থাকার ব্যবস্থা :একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা চন্দ্রনাথের পাহাড় পর্যটকদের থাকার জন্য সীতাকুণ্ডে তেমন কোনো ভালো হোটেল নেই। পর্যটকরা চাইলে এখানে অবস্থিত মন্দিরগুলোতে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারেন। রাতে সীতাকুণ্ড না থেকে চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়াই ভালো।
 

সেই মাধবকুণ্ড এই মাধবকুণ্ড

সেই মাধবকুণ্ড এই মাধবকুণ্ড

সেই মাধবকুণ্ড এই মাধবকুণ্ড মাধবকুণ্ড আর জাফলং এই দুই পর্যটন এলাকায় জীবনে অন্তত একবার না গেলে নাকি সিলেটের একজন মানুষের ‘সিলেটি-জীবন’ পরিপূর্ণতা লাভ করে না। জাফলং-মাধবকুণ্ডের অভিজ্ঞতা না থাকলে বন্ধুদের আড্ডায় ‘স্মার্টনেস’ যেমন দেখানো যায় না, আধুনিক সমাজে পেতে হয় ‘সেকেলে’ পরিচয়ের লজ্জা। এসব কথা শ্রেফ মজা করেই বলা হোক, কিংবা সিরিয়াস- সিলেট বিভাগ তথা সারাদেশের অন্যতম পরিচিত এই দুটি জায়গা নিয়ে আমার অন্তত ব্যক্তিগত কোন ‘আফসোস’ নেই। কারণ ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে অনেকবারই গায়ে মেখেছি জাফলং এবং মাধকুণ্ডের অপরূপ প্রাকৃতিক রূপলাবণ্য। দু-একজন বাদে আমার বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধবের ক্ষেত্রেও তাই। তবে ওই দু-একজনও বাদ যাবে কেনো? আর তাদের কারণেই বেশ ক’বছর পর এবারের ঈদের ছুটিতে আবারও সাক্ষাত হয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডের সঙ্গে। খুব সম্ভবত পাঁচ বছর পর মাধবকুণ্ড দেখেছি এবং এবার গিয়ে সেখানে বেশ কিছু পরিবর্তনও চোখে পড়েছে। সেসব অদল-বদল পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করতেই লিখতে বসা। ঈদ এবং পূজার ছুটি ছাড়াও অবশ্য মাধবকুণ্ডে যাওয়া হয়েছে। তবে যেহেতু বন্ধু-বান্ধবের কেউই এখন আর ছাত্রজীবনে নেই, তাই বেছে নেয়া হয় ঈদের ছুটি। আমার দুই বন্ধু ফারহানা ও মিলি কেউই এর আগে দেখেনি মাধবকুণ্ডের অদ্ভুত জলধারা। তারা দুজনই আমাদের এবারের সফরের মূল উদ্যোক্তা। মূলত তাদের উৎসাহেই অন্য ব্যস্ত বন্ধুদেরও পাওয়া গেলো সফরসঙ্গী হিসেবে। জীবনে প্রথম মাধবকুণ্ড দশর্নে অবশ্য মুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি মিলি-ফারহানার জন্য। উল্টো হিমশীতল জলধারায় ‘তৃপ্তিস্নান’ না করতে পারার হতাশা সঙ্গী হয়েছে তাদের। প্রকৃতির এত কাছাকাছি গিয়েও তাদের এই অতৃপ্তি কিন্তু কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট। আরও সহজভাবে বললে ‘সিস্টেম-লস’। পাহাড়তলীর আশ্চর্য এই জলপ্রপাত দেখার জন্য দর্শনার্থীরা টিকিট কিনেই ভেতরে ঢুকেন। শিশু-বৃদ্ধ সবারই ভেতরে ঢুকতে টিকিট লাগে। কিন্তু সবাই কি সমানভাবে প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৌন্দর্যটাকে দেখার সুযোগ পান? উত্তর হলো: না। কারণ সেরকম কোনো ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের নেই। বরং টিকিটের অর্ধেক অংশটা দর্শনার্থীদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েই দ্বায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন তারা। ভেতরে গিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থায় যে যেভাবে পারে নেমে পড়ে পানিতে। ছেলে-পুরুষ, শৃঙ্খল-উশৃঙ্খল মানুষের অবাধ দাপাদাপিতেই শেষ হয়ে যায় অনেকের ‘ঝর্ণাস্নানের’ স্বপ্ন। সিলেটের চিরায়ত রক্ষণশীলতা ভেঙ্গে নারী-পুরুষের এমন ‘যৌথস্নানে’ অংশ নেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা ফারহানা-মিলিদের। অথচ চাইলে গোসল করার জন্য বা ঝর্ণার পানিতে যাতে সবাই সমান সুযোগ পায় সেরকম কোন শৃঙ্খল ব্যবস্থা করে দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। বিপদ এখানেই শেষ নয়। প্রায় ২শ ফুট উপড় থেকে ঝর্ণার পানি ঠিক যে জায়টায় পড়ে সেখানটা খুবই বিপদজনক। উপড় থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫শ কিউসেক পানি ঝড়ে পড়ে নিচে। গত ক’বছর পানিতে ডুবে পর পর বেশ ক’টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এখন সেখানে লোহার গ্রিল দিয়ে আলাদা করা হয়েছে। কিন্তু দর্শনার্থীর সংখ্যায় তা পর্যাপ্ত নয়। আর নিরাপত্তা বলতে এটিই। কিন্তু লোহার ফাঁক দিয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে যায় মৃত্যু-কুপের কাছাকাছি। অথচ এই গ্রিলটাই বানানো বা প্রতিস্থাপন করা যেতো আরও পরিকল্পিতভাবে। আকর্ষণীয় এই জলপ্রপাতকে পুঁজি করে স্থানীয় অনেক ব্যবসা গড়ে উঠেছ এর আশপাশে। ‘পার্কিং ব্যবসা’ এর অন্যতম। মূল আকর্ষণ মাধবকুণ্ড প্রপাতের অন্তত ৩শ গজ বাইরেই আপনাকে পার্কিং-এর টিকিট কেটে ফেলতে হবে। অথচ গাড়ি পার্ক করার মূল যে জায়গাটা সেখানে ত্রিশটির বেশি গাড়ি জায়গা হয়না। অর্থাৎ সরকারি রাস্তায় গাড়ি রাখলেও পার্কিং ফি হিসেবে একটা ‘এমাউন্ট’ আপনাকে বুঝিয়ে দিতে হবে স্থানীয় একটা ‘তরুণ-গোষ্ঠির’ হাতে। সে টাকা বন বিভাগের কোষাগারে যাচ্ছে কি না বা কোথায় যাচ্ছে, কারা সেটা তুলছে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। সরকারি বলেই হয়তো অনিয়মই সেখানে নিয়ম হয়ে গেছে। ভেতরেই রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের একটা রেস্টুরেন্ট। খাবার খেতে গিয়ে সেখানে আপনাকে শুধু ঠকতেই হয়। ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির হয়ে আকর্ষনীয় মেন্যু বাছাই করবেন ঠিকই, কিন্তু যখন খাবার আসবে সামনে, সঙ্গে আসবে হতাশাও। একশ নব্বই টাকার চিকেন ঝালফ্রাই অর্ডার দেওয়ার পর যা পরিবেশন করা হলো তা নিতান্তই ‘পুটি’ মাছের সেদ্ধ তরকারি। মুরগীর রানের মাংস খাবেন কিন্তু সাইজে কোনোভাবেই তা পুটি মাছের চেয়ে বড় নয়। আর স্বাদ? সরকারি হাসপাতালে পরিবেশন করা রোগীদের খাবারের স্বাদও হয়তো এর চেয়ে অনেক মজাদার। গেইটের বাইরে লাইনের পর লাইন পানের দাঁড়িয়ে আছে পানের দোকান। বাহারি মিষ্টি পান বিক্রি হয় এসব দোকানে। সবই মসল্লাযুক্ত পান। আগে অবশ্য খাশিয়া পানের আড়ত হিসেবে পরিচিত ছিলো এ জায়গা। এখন আর পানের ‘বান্ডেল’ নয়, বেশি বিক্রি হয় সিঙ্গেল পানের খিল। দশ টাকা থেকে ত্রিশ টাকায় বিক্রি হয় প্রতি পিস পান। অবশ্য এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে ফেরার পথে ৩০টাকা দামের এক খিল ‘স্পেশাল পান’ শুধু আপনার ঠোটই রাঙ্গাবে না মনটাও ভরিয়ে তুলবে অন্য রকম আনন্দে। সময়ের বিবর্তনে প্রতিনিয়তই পাল্টে যাচ্ছে সব কিছু। পাল্টানোর দৃশ্যগুলো সহজেই চোখে ধরা পড়ে। আগের মাধবকুণ্ডের সঙ্গে তুলনায় এখনকারটা অনেক বেশি ব্যবসায়িক। কিন্তু আগের চেয়ে বড় বেশি অপেশাদার। দেশের সবচে বড় এই জলপ্রপাত নিয়ে উন্নত কোনো চিন্তা ভাবনাও নেই সরকারের, যা খুবই দুঃখজনক। অথচ পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রতি বছর কাগজে কলমে কিংবা সেমিনারে কত শত পরিকল্পনার কথাই শুনি। কিন্তু পর্যটন এলাকায় গিয়ে নিজ চোখে যা দেখি তা শুধু হতাশই করে, স্বপ্ন দেখায় না। চ্যানেল আই অনলাইন আরিফ চৌধুরী

শুধুমাত্র যৌনতার টানে যেখানে ভিড় করেন পর্যটকরা

শুধুমাত্র যৌনতার টানে যেখানে ভিড় করেন পর্যটকরা
ভ্রমণ, তবে তা যৌনতা কেন্দ্রিক। বিশ্বে সেক্স ট্যুরিজমের মানচিত্রে নিত্যনতুন যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। জেনে নিন জনপ্রিয়তার নিরিখে তালিকার প্রথম দিকে থাকা কয়েকটি স্থানের ঠিকানা। সেই সঙ্গে জানুন কেন এই স্থনগুলো এত জনপ্রিয়।
কিউবা: নিসর্গ, সংস্কৃতি ও চুরুটের স্বর্গরাজ্য দ্বীপরাষ্ট্রে প্রতি বছর পাড়ি জমান অজস্র পর্যটক। তবে পর্যটকদের বড় একটি অংশ সেখানেযান শুধুমাত্র যৌনতার আকর্ষণে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, চাইলে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনসঙ্গীও সুলভে মেলে এই দেশে। রাশিয়া: গত এক দশকে রাশিয়ায় দেহ ব্যবসার রমরমা শুরু হয়েছে।মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের পর্যটকরাই এখানে যৌনতার টানে ছুটে আসেন। তবে রুশ যৌন বাজারে দালালদের দাপট বেশি। আর্জেন্টিনা: ১৮৮৭ সাল থেকে এদেশে বৈধতা পেয়েছে সমকামিতা। এই কারণে এখানে সমকামী দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদা তুঙ্গে।সরকারের তরফ থেকেও বিশ্বের সমকামী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।যৌন পর্যটনের হাত ধরেই অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চাইছে ফুটবলের এই দেশ। বুলগেরিয়া: যৌন পর্যটনের পীঠস্থান সানি বিচ রিসর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বাস্তব ও কল্পনার অভাবনীয় মিশেল।শোনা যায়, এই সৈকতে প্রতিদিন কয়েক হাজার দেহ ব্যবসায়ী ভিড় জমান। তাদের অনেকেই আসেন প্রতিবেশী দেশ থেকেও। দক্ষিণ কোরিয়া: এদেশে যৌনতা নিয়ে শুচিবায়ু নেই। ক্ষণিকের শয্যাসহ্গী জোগাড় করতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয় না। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে রয়েছে একাধিক এসকর্ট সার্ভিসের ব্যবস্থা। হোটেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়াও মেলে সুলভে। কলাম্বিয়া: অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা বলে যৌন পর্যটনস্থল হিসেবে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই দেশ। দরিদ্র দেশে এসে নামমাত্র খরচে অবাধ যৌনতার লোভে প্রতি বছর এখানে ভিড় করেন  ইউরোপ ও আমেরিকার পর্যটকরা। কম্বোডিয়া: বিশ্বের অন্যতম বড় যৌন ব্যবসা চালায় এই দেশ। কিন্তু তার বেশির ভাগটাই অবৈধ। তবে আইনের ফাঁক গলে অবাধ যৌনতার হাতছানিতে সাড়া দিতে প্রতি বছর ছুটে আসেন বিশ্বের বহু পর্যটক। লস ভেগাস: আমেরিকার এই শহর 'সব পেয়েছি'র ঠিকানা। শহরে যৌনতার রমরমা সম্পর্কে ইঙ্গিত করতে বলা হয়, 'হোয়াট হ্য়াপেনস ইন ভোস, রিমেইনস ইন ভেগাস।' এখানে যৌনতা শুধু ব্যবসা অথবা বিনোদন নয়, শরীরী ভাষা উদযাপনের মাধ্যম। মরুভূমি অধ্যূষিত নিসর্গে অচেনা সঙ্গীর দেহজ সান্নিধ্য বেঁচে থাকার ক্ষণিক রসদ জোগায় বই কি! নেপাল: রাজধানী কাঠমুন্ডু এবং পোখরা ও তরাইয়ের শহরাঞ্চলে দেহ ব্যবসার রমরমা অবস্থা।বাণিজ্য জমে ওটে হোটেলের দামি ঘর থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ পল্লির অন্ধকার আস্তানামায় যৌন ব্যবসায়ীর বসত ভিটেতেও। কাঠমুন্ডুর থামেল এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ম্যাসাজ পার্লার, যেখানে অবৈধ দেহ ব্যবসার পসার সাজানো। এছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরাঁর কেবিন ও ডান্স বারগুলিতেও মিলবে অফুরন্ত দেহজ বিনোদনের সম্ভার। থাইল্যান্ড: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যৌনতার নতুন ঠিকানা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। ব্যাঙ্ককের বিখ্যাত 'পিং পিং' শো-ই হোক অথবা বিভিন্ন স্পা-এর ছদ্মবেশে যৌনতার প্রসার, দেশজুড়ে অবাধ ও নিরাপদ দেহ ব্যবসার রমরমা বছরভর এখানে বিশ্বের নানা দেশের স্ত্রী-পুরুষকে আকৃষ্ট করছে।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড

দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে এই জলপ্রপাত দেখতে।
সমতল থেকে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে জলরাশি এর গা বেয়ে অবিরাম ধারায় সাঁ সাঁ শব্দে নিচে পড়ছে। পানির এই সাঁ সাঁ শব্দ আপনাকে করবে রোমাঞ্চিত। পানির অবিরাম পতনের ফলে নিচে সৃষ্টি হয়েছে কুণ্ডের। আর কুণ্ডের প্রবাহমান স্রোতধারা শান্তির বারিধারার মতো মাধবছড়া দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড মাধবকুণ্ডের নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। তখন তিনি ওই সন্ন্যাসীর পদবন্দনা ও স্তূতি করলে সন্ন্যাসী তাকে নানা উপদেশসহ মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশ তিথিতে তাকে এ কুণ্ডে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেন। সন্ন্যাসী বিসর্জিত হওয়া মাত্র তিনবার মাধব, মাধব মাধব নামে দৈববাণী হয়। সম্ভবত এ থেকেই মাধবকুণ্ড নামের উৎপত্তি। তবে এর বিপরীত মতও রয়েছে। মহাদেব বা শিবের পূর্বনাম মাধব এবং এর নামানুসারে তার আবির্ভাব স্থানের নাম মাধবকুণ্ড। এ কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। যে পাহাড়টির গা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে এ পাহাড়টি সম্পূর্ণ পাথরের। এর বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে ছড়া। ছড়ার উপরের অংশের নাম গঙ্গামারা ছড়া আর নিচের অংশের নাম মাধবছড়া। পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা পানির স্রোত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হঠাৎ খাড়াভাবে উঁচু পাহাড় থেকে একেবারে নিচে পড়ে যায়। এতে দুটি ধারা সৃষ্টি হয়। একটি বড়, একটি ছোট। বর্ষাকালে ধারা দুটি মিশে যায়। জলরাশি যেখানে পড়ছে তার চতুর্দিকে পাহাড়, নিচে কুণ্ড। কুণ্ডের মধ্যভাগে অনবরত পানি পড়ছে। এই স্থান অনেক গভীর। কুণ্ডের ডান পাশে একটি পাথরের গহ্বর বা গুহার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩৪২ সালে বিষ্ণুদাস সন্ন্যাসী মাধবকুণ্ডের পশ্চিমাংশে কমলা বাগান তৈরি করেন, সেই কমলা বাগান আজও রয়েছে।দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড
মূল জলপ্রপাতের বাম পাশে প্রায় ২০০ গজ দূরে আরও একটি পরিকুণ্ড নামের জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকেও অনবরত পানি পড়ছে। কিন্তু সেখানে যাওয়াটা খুবই কষ্টকর। যাতায়াতের সুবিধা হলেও ওখানেও পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। কীভাবে যাবেন: মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী থানা বড়লেখার ৮ নম্বর দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের অধীন গৌরনগর মৌজার অন্তর্গত পাথারিয়া পাহাড়ের গায়ে এই জলপ্রপাতের স্রোতধারা বহমান। মাধবকুন্ড সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়েজংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। দেশের যে কোন জায়গা থেকে সড়ক পথে সরাসরি বাস নিয়ে  মাধবকুন্ডে যাওয়া যায়। এছাড়া রেলপথেও সুবিধা আছে। ট্রেনে গেলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে আর সেখান থেকে মাইক্রোবাস, অটোরিকশাযোগে যেতে হবে কাঠালতলীতে। কাঠালতলী থেকে আপনি রিক্সা, অটো রিক্সায় বা স্কুটারে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন। আর মৌলবীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা শহর থেকে আপনি রিক্সা ভাড়া করেও মাধবকুন্ড যেতে পারেন। এজন্য আপনাকে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে। আর স্কুটার ভাড়া জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অথবা আপনি মাইক্রোবাস বা সিএনজি রিজার্ভ করেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে ভাড়া বেশি গুনতে হবে। কোথায় থাকবেনদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড: পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এখানে থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে একটি রেস্টুরেন্ট, রেস্টহাউস ও বসার জন্য কিছু শেড নির্মাণ করেছে। সেখানে পর্যটন কর্পোরেশনের ডাক বাংলোতে পূর্বানুমতি নিয়ে রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বড়লেখায়ও রয়েছে ভালো মানের হোটেল। সর্তকতা : মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে সৌন্দর্য অবলোকনের সাথে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। জলপ্রপাতের মূল চূড়ায় উঠলে বা কুপের মধ্যখানে নেমে পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাধবকুন্ডে বেড়াতে গেলে জলপ্রপাতের চূড়ায় উঠা বা লেকে সাঁতার কাটার সময় সর্তক থাকা উচিত। সাতার না জানলে কখনোই পানিতে নামা যাবে না।
 

কুয়াকাটার সাগরকন্যায় পর্যটকদের ঢল

কুয়াকাটার সাগরকন্যায় পর্যটকদের ঢল
ঈদের ছুটিতে সব বয়সী পর্যটকের ঢল নেমেছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়। অশান্ত সমুদ্রের জলরাশি দেখতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা রোমাঞ্চিত। সমুদ্র স্নান, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বাড়িয়ে দিয়েছে পর্যটকদের আনন্দ। আর পর্যটন পুলিশ, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ঈদের ছুটিতে দুর দূরান্ত থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন সাগর কন্যা কুয়াকাটায়। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ মুহূর্তেই সব বয়সী পর্যটকদের আকর্ষণ করে সমুদ্র স্নানে। সমুদ্রের উত্তাল ডেউয়ের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাও সবার। আর আনন্দঘন এ মুহূর্তটাকে ছবির ফ্রেমে বন্দি করতে ব্যস্ত অনেকেই। অনেকেই আবার টিউব আঁকড়ে ধরে ভাসছেন সমুদ্রের বুকে। শুধু সমুদ্র নয় ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভিড় ছিল এখানকার অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও। শামুখের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী,শত বছরের পুরানো নৌকা, বৌদ্ধ মন্দির তাদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এদিকে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেন জানান কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর ফসিউর রহমান। শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকদের আকর্ষণে কুয়াকাটায় রয়েছে আরো ১৩টি পর্যটন স্পট ।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ বালি

অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ বালি

ফেরদৌস জামান :রাইজিংবিডি ডট কম
হোটেলে বসেই হবে সূর্যস্নান এবং সমুদ্র দর্শন

হোটেলে বসেই হবে সূর্যস্নান এবং সমুদ্র দর্শন

ফেরদৌস জামান বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অন্যান্য দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মৌসুম ছাড়াও দুই ঈদ হলো প্রধান সময়। এ সময় অনেকেই পরিবার নিয়ে কিছুটা বিশ্রাম বা বেড়ানোর জন্য দেশের বাইরে বিভিন্ন দর্শণীয় স্থানে যান। ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর থাকে অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে সে তালিকা থেকে ইন্দোনেশিয়াও বাদ যায় না। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আকর্ষণ বালি দ্বীপ। এই লেখায় থাকছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটননগরী বালি দ্বীপের বিস্তারিত। বালি ভ্রমণে প্রধান আট থেকে দশটি স্পট ঘুরে দেখতে পারলে আপনি স্বার্থক হয়েছেন বলে ভাবতে পারেন। কারণ সেখানে দেখার জন্য রয়েছে অনেক কিছু। আসলে এক বা দুই বারের ভ্রমণে সেগুলো দেখে শেষ করা সম্ভব না। পর্যটন শহর বালি দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আন্তরিক। পর্যটন শিল্পকে প্রাধান্য দিয়েই শহরটি গড়ে উঠেছে। দ্বীপটিকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাই অত্যন্ত আন্তরিক। পর্যটকদের অগ্রাধিকার এখানে সব কিছুতে। বসবাসের হোটেল এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক দোকান পর্যন্ত নেই। বালি দ্বীপ ভ্রমণের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসেন বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক রূপে নিজেদের সিক্ত করতে।বলিতে কী দেখবেন চলুন জেনে নেই। উলুয়াতু টেম্পল :  ভেবে দেখুন, সমুদ্রের বুকে খাড়া উঁচু অথচ ঝুকে পরা একটি পাহাড়। আর তার উপর স্থাপিত একটি মন্দির। মন্দিরটি বুকিট উপদ্বীপে পাহাড়ের ৭০ মিটার উপরে অবস্থিত। এর পাশে রয়েছে বালির কিছু বিখ্যাত সৈকত ও দরুণ সার্ফিং স্পট। স্থাপত্য নিদর্শনটি সেই এগারো শতক থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বমহিমায়। তার আশপাশে একটুখানি বেশি উচ্চতায় আরোহণ করতে পারলে মন্দির গৃহের উপর অসাধারণ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। এ দৃশ্য ভোলার নয়। পুরা তানাহ্ লোট :  রাজসিক প্রস্তরশৈলী, যা প্রকৃতপক্ষে তীর্থযাত্রীদের জন্য পবিত্রতম একটি জায়গা। এটি এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো মন্দিরের নির্মল ও শান্ত পরিবেশ। অধিকন্তু একে নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকথা। আপনি অবশ্যই ভাটার সময় সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন। তাহলে হেঁটে ভালোভাবে সবকিছু দেখতে পাবেন। দেখা যাবে আদিবাসীদের জীবন-যাপন পুরা উলুন দানু ব্রাতা :  এটিও একটি মন্দির। যাকে স্থানীয়ভাবে ‘লেক টেম্পল’ বলা হয়ে থাকে। লেকের একেবারে কিনারে অবস্থিত। সুনিপুণ গঠনশৈলীর এই মন্দিরের প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে লেকের শান্ত স্বচ্ছ জলের বুকে। যা দেখার জন্য ভ্রমণপিপাসুরা অধির আগ্রহে সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করে। লোভিনা : ডলফিন দেখার জন্য লোভিনা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো স্থানগুলোর একটি। সেখানে ডলফিন দেখার জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকার ব্যবস্থা। আপনার ভ্রমণ তালিকায় লোভিনা যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে থাকলে রওনা করতে হবে একেবারে ভোরে। এর চেয়ে অধিক স্মরণীয় স্মৃতি আর কিছুই হবে না, যখন দেখবেন ঝাকে ঝাকে ডলফিন আপনার সামনে লাফালাফি করছে ও সাঁতার কাটছে। উবুদ : উবুদ বালির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত। এটি এমন একটি জায়গা যা মিস করার নয়। কী নেই সেখানে? নির্মল প্রকৃতি, ভিন মানুষের বর্ণিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বিশ্বখ্যাত ও মনোমুগ্ধকর মন্দির, জাদুঘর ইত্যাদি। অজস্র ফুলের বাগান ও পার্ক তো সেখানকার সৌন্দর্যের বিশেষ অংশ। আশপাশে ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে বাইকের ব্যবস্থা। এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং করা। ইয়োগা ও মেডিটেশনের মাধ্যমে রিল্যাক্সেশনের সুব্যবস্থাও রয়েছে। এ সবের বাইরে  উপভোগের জন্য রয়েছে নানা শিল্পকর্ম ও নাটকের প্রদর্শনী। শপিংয়ের  জন্যও জায়গাটি উপযুক্ত বটে। কুতা সৈকত : কুতা সামুদ্রিক সৈকত হলো বালির সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকত। প্রকৃত তথ্য হলো, কুতা ও তার সমকক্ষ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন সৈকতের কারণেই বালি পৃথিবীখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পার্টি আয়োজনের জন্য কুতার খ্যাতি একটু আলাদাভাবে হলেও রয়েছে। ভাবছেন সবার পক্ষে সেই পার্টিতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব কি না? হ্যাঁ, সম্ভব। কারণ প্রত্যেকের সামর্থের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ব্যবস্থা। রয়েছে হার্ড রক ক্যাফে ও পাব। আপনাকে কেবল বেছে নিতে হবে আপনার চাহিদা উপযোগী পার্টি। নুসা দুয়া সৈকত :  ভ্রমণের বাজেট যদি একটু বেশি হয়ে থাকে তাহলে নুসা দুয়া সৈকতের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারেন। সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে নীরব, নিঝুম একেবারে আদিম এক প্রকৃতি। হোটেলে বসেই আপনি মন ভরে সূর্য ও সমুদ্রস্নান দুটোই সারতে পারবেন। এই সৈকত মধুচন্দ্রীমার জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তামানি মাউন্ট বাতুর :  জায়গাটি বালির পূর্বে অবস্থিত। ১৭০০ মিটার উঁচু এই পর্বতে একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি দেখার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রম। অনেকে এই উচ্চতা থেকে সূর্যোদয়ও দেখেন। এখান থেকে চারদিকের দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে আপনি বিমোহিত হবেন এ কথা বলা যায়। এ ছাড়াও আপনি চাইলে পুলিনা ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে কফি প্লান্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। কীভাবে কফি তৈরি হয় দেখে আসতে পারেন নিজ চোখে। পাঠক, আপনি নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পেরেছেন ভ্রমণের জন্য বালি কেন এত বিখ্যাত? এবার চলুন জেনে নেই এই ঈদে বালি ভ্রমণে কোন ট্রাভেল এজেন্সি কী অফার দিয়ে রেখেছে। এভারেস্ট হলিডেজ সিঙ্গাপুরসহ বালির প্যাকেজ অফার করেছে। খরচ পড়বে জনপ্রতি ৫৭,৮০০ টাকা। পাঁচ দিন চার রাত্রি। ফোন : ০১৯৫৬২৯৯৬৮৯, ০১৯১২৪৬৯৭৮৯। www.everestholidays.net লেজার টুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস্ লিমিটেড বালি ভ্রমণের আয়োজন করেছে। ফোন : ০১৭১৪৫৫৫৫৫৫, ৯৯৩৪৮১৭৯ ক্যাপ্টেন হলিডেজ বালিতে ৩ দিন ২ রাত্রির প্যাকেজ টুরের আয়োজন করেছে। খরচ পড়বে ৫৫,০০০ টাকা। ফোন : ০১৯৭৭০৫৮৪৫২ রাইজিংবিডি//তাপস রায়

দ্বীপ দেশে কাটুক ঈদের ছুটি

দ্বীপ দেশে কাটুক ঈদের ছুটি

ফেরদৌস জামান :রাইজিংবিডি ডট কম
দ্বীপ দেশে কাটুক ঈদের ছুটি
ফেরদৌস জামান ছুটি কাটানোর জন্য যারা একটু নিরিবিলি প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চান তারা মালদ্বীপ ঘুরে আসতে পারেন। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে এই দেশ। বহির্বিশ্বে দেশটি ‘মালদ্বীপ আইল্যান্ড’ বলে পরিচিত। কর্মময় জীবনের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। মালদ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম প্রবাল দ্বীপ দেশ। এখানকার সমুদ্রে ডুব দিয়ে উপভোগ করা যায় জলের নিচে প্রশান্তময় এক রঙিন দুনিয়া। জলের গভীরে পর্যটকদের সাদরে বরণ করে নিতে যেন প্রতীক্ষায় রয়েছে হাজারও প্রজাতির রং-বেরঙের  মাছ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং প্রবাল। ফলে এই ঈদের ছুটিতে দেশের বাইরে ঘুরতে যেতে চাইলে মালদ্বীপ হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। পাঠক চলুন, মালদ্বীপে গিয়ে আপনি কী দেখবেন একটু জেনে নেই। উথিমু গান্দুভারু :  প্রথমে শুরু করা যাক ঐতিহাসিক স্থান দিয়ে। দেশটির বিখ্যাত সুলতান মোহাম্মদ থানকুরুফান-এর নিবাস ছিল এখানে। তিনি তার  প্রিয় স্বদেশ পর্তুগিজদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। ফলে তাকে জাতীয় বীর মনে করা হয়। এই ঐতিহাসিক জায়গাটি ভ্রমণ করলে জানা যাবে এবং আপনি দেখতে পাবেন তার বীরত্বের নিদর্শন। বায়াধু আইল্যান্ড :  দেশটির প্রশান্তময় দ্বীপ এটি। সর্বাপেক্ষা নিরিবিলি রিসোর্ট এই দ্বীপে অবস্থিত। এখানেই মিলবে  মালদ্বীপের সর্বোত্তম প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই দ্বীপের গভীর জলে ডাইভ দেয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের জলক্রীড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ৩৫টিরও অধিক ডাইভিং স্পট রয়েছে। এত ছোট্ট দ্বীপে এতগুলো ডাইভিং স্পট পৃথিবীতে বিরল। সুতরাং সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন হতে আপনিও সেখানে যেতে পারেন। হুকুরু মস্ক :  নামেই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি মসজিদ। কিন্তু শুধু মসজিদ বললে ভুল হবে, এটি বিখ্যাত ‘ওল্ড ফ্রাইডে মসজিদ’ বলে খ্যাত। অর্থাৎ দেশটির সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। ভেতরের কারুকার্য চমৎকার যা আপনার চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। এর দেয়াল প্রবাল পাথর দ্বারা নির্মিত। গায়ে খোদাই করা রয়েছে বিভিন্ন মনোহর নকশা। এর মধ্যে আরবি হস্তাক্ষরও রয়েছে। এগুলো দৃষ্টিনন্দন। একইসঙ্গে এটি একটি সমাধি ক্ষেত্র। এখানে চিরনিদ্রায় রয়েছে সুলতান, বীর ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজন। এই শান্ত, সুনিবিড় স্থানটিতে মালদ্বীপের ইসলামিক সংস্কৃতির সুন্দর ধারণা পাওয়া যাবে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম :  রাজধানী মালেতে অবস্থিত এই জাদুঘরটি পর্যটকদের অবশ্যই পরিদর্শন করা উচিত। এখানে মানবনির্মিত আদিম অনেক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলো থেকে মালদ্বীপের অতীত ইতিহাসের পরিচ্ছন্ন একটি ধারণা পাওয়া যায়। প্রবাল প্রাচীর : মালদ্বীপে গিয়ে আপনি যদি আরও ডাইভিং স্পটের খোঁজে থাকেন তাহলে যেতে হবে সমুদ্রের তলদেশের মন ভুলানো প্রবাল প্রাচীর দেখতে। সমুদ্রের তলদেশের কথা শুনে ভয় পাবেন না, এ জন্য আপনাকে শুধু প্রয়োজনীয় পোশাক এবং সরঞ্জামাদি শরীরে লাগিয়ে সমুদ্রে ডাইভ দিতে হবে। ব্যাস, এবার মন ভরে দেখতে থাকুন অপূর্ব সব দৃশ্য। এই এইচ.পি. রিফ মালদ্বীপের আকর্ষণীয় ডাইভিং স্পটগুলির মধ্যে একটি। এখানে পানির নিচে রঙিন মাছের প্রকাণ্ড একেকটি ঝাক দেখে অবাক না হয়ে উপায় থাকবে না। এর অবস্থান উত্তর মালেতে। বানানা রিফ : সমুদ্র গর্ভে তিনশ মিটার দীর্ঘ প্রবাল প্রাচীর এটি। এর আকৃতি ঠিক কলার মতো তাই এমন নাম। এখানকার প্রধান আকর্ষণ সামুদ্রিক প্রাণী। চোখ ধাঁধানো নানা রং ও আকারের মাছের ঝাক দেখতে হলে সেখানে যেতে হবে। ভালো কথা, তার আগে এই তথ্যটুকু জেনে রাখুন, জায়গাটি বেশ ব্যয়বহুল। আলীমাথা আইল্যান্ড : দ্বীপটি পূর্ব মালদ্বীপে অবস্থিত। এখানে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি আকর্ষণ রয়েছে। বিশ্বমানের ডাইভিং ব্যবস্থা তো আছেই, পাশাপাশি রয়েছে পানির নিচে অ্যাকুয়ারিয়াম। এখানকার সাদা বালির সৈকত নয়নাভিরামও বটে। দ্বীপে সবুজেরও কমতি নেই। যেন সাদা এবং সবুজের দারুণ এক চিত্রকর্ম। সান আইল্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা : মালদ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই দ্বীপের সান আইল্যান্ড রিসোর্ট। এখানকার উপহ্রদ অর্থাৎ সাদা বালিবেষ্টিত ছোট ছোট নীল জলের সরোবরগুলোর সৌন্দর্য চোখ ও মন জুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে এই রিসোর্টটি পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট থাকার জায়গা বলে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লু টাইব মুফুসি :  সামুদ্রিক জীবন উপভোগের শ্রেষ্ঠ জায়গা হলো মালদ্বীপ। ব্লু টাইব মুফুসি ডাইভিং সেন্টারে গেলে এ কথার সত্যতা মিলবে। তারা সেখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে তুলেছে নানা প্রকার জলজ বিনোদনের ব্যবস্থা। যেমন উইন্ড সার্ফিং, স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং ও প্যাডেল নৌকাসহ অনেক কিছু। এ ছাড়াও তিমি, হাঙ্গর, মান্তা রেজসহ বিরল প্রজাতীর সব মাছ দেখার সুব্যবস্থা তো রয়েছেই। অধিকন্তু কেউ যদি স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন যাপনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মালদ্বীপ ভ্রমণের জন্য দেশের বেশ কয়েকটি টুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ অফার করেছে। তাদের মধ্যে যে কোনো একটির সঙ্গে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন। এয়ার টিকিট থেকে শুরু করে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা  ছেড়ে দিতে পারেন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। যোগাযোগ : এভারেস্ট হলিডেজ ফোন : ০১৭৫৩-৮৮৮০৬৮, ০১৯১২-৪৬৯৭৮৯, ০১৯৫৬-২৯৯৬৮৯ www.everestholidays.net মেকমাইট্রিপ বিডি ফোন : ০২-৯১৪৫৯৬৫, ০১৯৭৭১১৫০০৮ www.makemytrip-bd.com লেজার টুরস্ অ্যান্ড ট্রাভেলস্ লিমিটেড ফোন : ০১৭১৪৫৫৫৫৫৫, ৯৯৩৪৮১৭৯ উল্লেখ্য যে, সার্কভূক্ত দেশের নাগরীকদের ক্ষেত্রে মালদ্বীপ ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন পড়ে না। রাইজিংবিডি//তাপস রায়

ঈদের ছুটিতে দার্জিলিংয়ে এক চক্কর

ঈদের ছুটিতে দার্জিলিংয়ে এক চক্কর

ফেরদৌস জামান :রাইজিংবিডি ডট কম
দার্জিলিং শহর

দার্জিলিং শহর

ফেরদৌস জামান : ভেবে দেখুন গ্রীষ্মের উত্তপ্ত শিলিগুড়ি শহর পেছনে ফেলে আপনাকে নিয়ে আপন গতিতে  ছুটে চলেছে বলেরো জীপ। গাড়িটি শহর ছেড়ে ক্রমেই প্রবেশ করছে চা-বাগান ঘেরা পথে। মনে হবে দু’পাশে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যেনো সবুজ গালিচা বিছানো। দূরের আবছা কালো পহাড়ের প্রাচীর নিকটবর্তী হচ্ছে ক্রমশ। জীপটি কিন্তু তারই শরীর বেয়ে ছুটে চলেছে উপরে। আন্দাজ করে উঠতে পারবেন না, এরই মধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে বেশ খানিকটা সময়। সমুদ্র সমতল থেকে ১৫০০ ফুট উচ্চতায় পাংখাবাড়ি গিয়ে মিলবে বিরতি। মূলত এখান থেকেই সমতলের প্রকৃতির সঙ্গে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। থেকে থেকে মেঘের ফাঁক দিয়ে রৌদ্রের উঁকিঝুকি। গাছ-লতাপাতার প্রজাতি অন্যরকম হতে শুরু করবে। বহু পুরনো পাইন জঙ্গলের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ। পথের পাশের দেয়ালে ফুটে থাকে নানা রঙের অজস্র ফুল। ভাবলে সমস্যা নেই, প্রকৃতির এ সবই আপনার জন্য। প্রচণ্ড গড়মে দুই-চার দিনের জন্য প্রকৃতির শীতল পরশ নিতে কাছেপিঠে দার্জিলিংয়ের বিকল্প নেই। ধরুন এবারের ঈদের ছুটিতে আপনি পরিবারসহ শৈল শহর দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সে কথা মাথায় রেখে আপনার ভ্রমণ সহায়ক কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো এই লেখায়। ঘুম স্টেশন : মেঘ রোদ্দুরের খেলা শেষ। এখানে শুধু মেঘের একক রাজত্ব। ঘুম স্টেশনের গায়ে সেটে থাকে কয়েক পড়ত মেঘের আবরণ। মনে রাখবেন, এখানে কিন্তু ঘুমানো ভীষণ অন্যায়! এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম রেল স্টেশন। উচ্চতা ৭,৪০৭ ফুট। অল্প কয়েক বছর আগেও নিয়মিত ট্রেন (টয় ট্রেন) চলতো। বর্তমানে ট্রেনের সিডিউল বেশ অনিয়মিত। তাতে অবশ্য পর্যটকদের ক্ষোভের শেষ নেই। তবে ভাগ্য যদি ভালো হয়ে থাকে, আপনার কপালে মিলেও যেতে পারে। দার্জিলিং নাকি এক সময় সিকিমের অংশ ছিল। ১৮৩৫ সালে স্বাস্থ্য নিবাস স্থাপনের জন্য তৎকালীন ইংরেজ সরকার সিকিম রাজার কাছ থেকে দার্জিলিংসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পাহাড় বার্ষিক তিন হাজার টাকা খাজনায় নিয়ে নেয়। পরে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইংরেজরা এটি অধিকার করে। এ সবই আসলে এত উঁচুতে রেলস্টশন স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য। গোল্ডেন সানরাইজ :  গোল্ডেন সানরাইজ বা সোনালি সূর্যদয় দেখতে চাইলে শেষ রাতে গিয়ে আপনাকে টাইগার হিলে বসে থাকতে হবে। কীভাবে যাবেন, সে ভাবনার কোনো কারণ নেই। যে হোটেলে উঠবেন সেখানে বলে রাখলে আগের রাতেই পেয়ে যাবেন টাইগার হিল যাওয়ার জন্য জীপ। দার্জিলিং ঘুরে দেখার ব্যবস্থাপনা বেশ সুশৃঙ্খল। দর্শনীয় কয়েকটি স্থান মিলিয়ে একটি প্যাকেজ। একের পর এক সব জায়গা ঘুরে দেখতে প্যাকেজ মূল্য দুইশ রুপির বেশি নয়। আর আপনারা যদি পাঁচ-সাতজন হয়ে থাকেন তাহলে তো কোনো কথাই নেই, রিজার্ভ করে নিন একটি জীপ। প্রথম দিন প্যাকেজ ভ্রমণ করে পরের দিন থেকে নিজের মত ঘুরতে থাকুন একটির পর একটি স্পট। টাইগার হিল থেকে সূর্যদয় দেখা দার্জিলিং-এর প্রধান আকর্ষণ। ভ্রাম্যমান কফি বিক্রেতা গোর্খা নারীরা বার বার এসে কফির অফার করে বলবে, ‘লিজিয়ে না সার এক কাপ!’ ঠকঠক শীতের কাঁপুনি থেকে বাঁচতে ধোঁয়া তোলা কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে সূর্যদয় দেখার অনুভূতি সত্যি অন্যরকম। সূর্যালোকের প্রথম স্পর্শে সোনালি রঙে ঝলসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফ ঢাকা শ্বেত শরীর। সে দৃশ্য ভুলবার নয়। ঘুম মনাস্ট্রি : অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপনা, যা আসলে একটি বৌদ্ধ মন্দির বা বিহার। এখানে রয়েছে বুদ্ধের ১৫ ফুট উঁচু এক বিশাল মূর্তি। সংরক্ষিত আছে বহু বৌদ্ধ শাস্ত্র, নেপালি ভাষায় লিখিত তাল পাতা আর কাগজের বহু পুঁথি। দিবা-রাত্রী জ্বলছে প্রদীপ। মহামতি বুদ্ধের মূর্তির সামনে বসে একাগ্র মনে আরাধনা আর মন্ত্র উচ্চারণ করে গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত লামাগণ। মন্দিরের ভেতরে বাইরে মেঘ, প্রদীপ আর বৈদ্যুতিক আলোর সে এক অপরূপ ব্যাঞ্জনা! বাতাসিয়া : গোর্খা ওয়ার মেমোরিয়াল বাতাসিয়ায় প্রবেশ মূল্য দশ রুপি। বাতাসিয়া অর্থ বায়ুময় স্থান। এটি এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। রেল চালু থাকলে যাত্রা পথে চক্রাকারে দেখে নেয়া যায় এই ঐতিহাসিক স্থান। বর্তমানে রেল বন্ধ থাকায় লাইনের উপর দিয়ে বসে বেশ কিছু অস্থায়ী দোকান। বিক্রি হয় স্থানীয়দের হাতে বোনা টুপি, মাফলার, গায়ের চাদরসহ অনেক কিছু। ৪০ রুপি ভাড়ায় মেলে গোর্খা নারী পুরুষের ঐতিহ্যবাহী  পোশাক। ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে গোর্খা পোশাকে নিজের ছবি তুলে রাখতে পারেন। সরবরী নাইটিঙ্গেল পার্ক :  এই পার্কটির রাতের আকর্ষণ চমৎকার। মেঘের ছোঁয়া লেগে নানা রঙের বাতিগুলো থেকে অনবরত বিচ্ছুরিত হয় এক স্বপ্নীল কারুকার্য। মাঝখানে উন্মুক্ত মঞ্চ ঘিরে সাজানো আসন আপনারই জন্য। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গোর্খা নৃত্য। চুনু সামার ফলস :  দার্জিলিংয়ের আর এক আকর্ষণ চুনু সামার ফলস। প্রচলিত নাম রক গার্ডেন। শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮ কি.মি.। সমস্ত পথই ভীষণ উপরের দিকে চলে গেছে। এখানে রয়েছে বিশাল এক ঝরনা। ঝরনার পাশ ধরে পাহাড়ের গা বেয়ে পথ উঠে গেছে অনেক উপরে। সেখানে ফুটে থাকে নানান সব পাহাড়ি ফুল, যা হয়তো কোনো দিনই দেখেননি। পর্যটকের উপচে পরা ভিড় অথচ সমস্ত কোলাহল চাপা পড়ে সেই ঝরনার গর্জনে। পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক : এটি দার্জিলিংয়ের নামকরা দর্শনীয় জায়গা। পার্কে প্রবেশের পর থেকে পথের দুই ধারে বিশাল পাইন গাছ ঘিরে দীর্ঘ জাল। জালের মধ্যে নানান রকম প্রাণি-  সাইবেরিয়ান বাঘ, কমন লেপার্ড, কালো ভালুকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। গাছের ফাঁকে বসে থাকে হিমালয়ান রেড পান্ডা- এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়। হিমালয়ান মাউন্টেনারিং ইন্সটিটিউট : পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কের মধ্যে দিয়ে এগুলেই হিমালয়ান মাউন্টেনারিং ইন্সটিটিউট। এটি পর্বতারোহীদের নিকট তীর্থক্ষেত্র। পর্বতারোহণ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। এ ছাড়াও পর্বতারোহণের জন্য যা কিছু লাগে তা দিয়ে একটি জাদুঘর আছে সেখানে। সংরক্ষিত আছে প্রথম এভারেস্টজয়ী তেনজিং নোর্গের ব্যবহৃত পর্বতারোহণের জিনিসপত্র। দার্জিলিংয়ের পথে পথে দেখার অনেক কিছু রয়েছে। পৃথিবীখ্যাত চা-বাগান, ব্রিটিশ আমলের স্কুল, কলেজ, গীর্জা, মন্দির ইত্যাদি। এখানকার মেঘ এক পরম বিস্ময় এবং রহস্যময়- ঘরের মধ্যে মেঘ, পথে মেঘ। আবার হঠাৎ দেখা যাবে রোদ, পরক্ষণেই আবার দেখা যাবে মেঘে ঢাকা অন্ধকার। গোর্খাদের সুশৃঙ্খল জীবন ও সংস্কৃতি, সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ স্বপ্নের দেশ দার্জিলিং। ভিসা নেবেন যেভাবে : ভিসা আবেদনের জন্য প্রথমে ই-টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা আপনার শহরে খোঁজ করে দেখতে হবে, কোনো প্রতিষ্ঠান সেবাটি দেয় কিনা। স্থান ও মৌসুম ভেদে প্রতি টোকেনের জন্য খরচ হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। টোকেন পেতে সময় লাগবে ৩-৪ দিন। টোকেনে প্রদেয় তারিখ ও সময় মোতাবেক গুলশান এক নম্বর ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টারে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। গুলশান ছাড়াও ধানমন্ডি দুই নম্বরে ভিসা ইস্যু সেন্টার এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মতিঝিল শাখায় কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভিসা ইস্যু সেন্টার রয়েছে। ভিসা ফি ছয়শ টাকা। যেভাবে যাবেন :  ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি শ্যামলী-বিঅরটিসি’র সরাসরি বাস সেবা চালু রয়েছে। ঢাকা-শিলিগুড়ি-ঢাকা ফিরতি টিকিট মূল্য ৩৫০০ টাকা। এ ছড়াও যদি ভেঙে ভেঙে যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে লালমনিরহাট বুড়িমাড়ী স্থলবন্দর হয়ে যেতে হবে। কল্যাণপুর ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এসআর, শ্যামলী ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া- এসি ৮৫০, ননএসি ৬৫০ টাকা। সীমান্তের ওপার চেংরাবান্ধা থেকে প্রতিনিয়ত শিলিগুড়ির বাস পাওয়া যায়। এ ছাড়াও জীপ বা এ্যাম্বাসেডর রিজার্ভ করা যেতে পারে। শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি দার্জিলিংয়ের জীপ পাওয়া যায়। সেখানে এক থেকে দেড় হাজার রুপির মধ্যে হোটেল রুম পাওয়া যাবে। দেশের কিছু ট্যুর অপারেটর কোম্পানি ঈদ উপলক্ষে দার্জিলিং ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে। তাদের মাধ্যমেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে চার থেকে পাঁচ দিনের প্যাকেজে চাহিদা অনুযায়ী জনপ্রতি ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগবে। যোগাযোগ : মেকমাই ট্রিপ বিডি ফোন : ০২-৯১৪৫৯৬৫, ০১৯৭৭১১৫০০৮ www.makemytrip-bd.com সাউথ এশিয়ান টুরিজম ফোন : ০১৭১৬-৪৬৬০৪৭ www.southasiantourism.com সাবরিনা ট্রাভেল এ্যান্ড টুরস ০১৭৭৪-৭৫৫১৩১ sabrinatravels1141@gmail.com রেইনবো হলিডেজ ফোন : ০২-৯৫৭০৬৩৭, ০১৮৪২-৩৮৩৩৯৯ www.rainbowholidays.com   রাইজিংবিডি/ঢাকা/তাপস রায়

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.