‘ভার্চুয়াল রিলেশন বাস্তব জীবনে সংকটের’

‘ভার্চুয়াল রিলেশন বাস্তব জীবনে সংকটের’

বিডিনিউজ২৪
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও টেলিফোনের মাধ্যমে সৃষ্ট বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক বাস্তব জীবনে সংকট তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
 শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ‘দূরত্বের’ সমাধানের ওপরও তাগিদ দেন।
 আনোয়ারা সৈয়দ হকআনোয়ারা সৈয়দ হক আনোয়ারা হক বলেন, “এখন ইন্টারনেটে, ফেইসবুকে ও এসএমএসে ভার্চুয়াল রিলেশনশিপ হচ্ছে।আমরা বড়রা কি ভালো আছি? নিজেদের আত্মসমালোচনাও করতে হবে।”তিনি বলেন, “সাহিত্য থেকে বিচ্যুত হলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়।সেটা অনেকে পূরণ করছে ফেইসবুক আর ড্রাগস দিয়ে।” ঐশী মাদকাসক্ত বলে দাবি করছে পুলিশ। সম্প্রতি রাজধানীতে স্ত্রীসহ এক পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় তাদের কিশোরী মেয়ে ঐশী রহমানকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘সংবাদে ঐশী: পুলিশ ও গণমাধ্যমের আচরণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। আলোচিত কিশোরী রাজধানীর অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। নিজের কয়েকজন রোগীর উদাহরণ টেনে আনোয়ারা হক বলেন, “ইংরজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা দেশীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা না করায় তাদের বাবা-মার সঙ্গে সাংস্কৃতিক দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।” রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, “ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বাড়িতে তাদের সন্তানদের বাংলায় কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেন।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ইংরেজি মাধ্যমের ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে দেশ-জাতি কিছু পেতে পারে না। তারা দেশের সংস্কৃতি মানছে না। তাদের কাছ থেকে জাতি কিছু আশা করতে পারছে না।”  
সেবা তাসমিন হক

সেবা তাসমিন হক

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল এক্সেল একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল সেবা তাসমিন হক এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “ইংরেজি মাধ্যমের সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটা সত্য নয়। এর জন্য দায়ী অভিভাবকরা। তারা কেন সন্তানদের বই কিনে না দিয়ে কম্পিউটার দিয়ে বসিয়ে রাখছেন।“ছুটিতে স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সাহিত্যের বই কিনে দেয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা একটি বইও কিনে দেন না। “ফলে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বাংলা বলতে পারে না, বললেও ভুল বলে। বাংলা পরীক্ষায় খারাপ করে।কারণ তারা বাংলা বই পড়ে না।” ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ব্যবধান রয়েছে মন্তব্য করে সাবেক সহকারী জজ সেবা তাসমিন হক বলেন, “ইতোমধ্যে সমাজে তারা দুটো দলে ভাগ হয়ে গেছে।” ইংরেজি মাধ্যমের অনেক স্কুলে স্থান স্বল্পতার সমালোচনা করেন সাংসদ ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি। সাংবাদিক ও শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ আফসান চৌধুরী, সাংসদ বেবী মওদুদ, আইনজীবী ইউএম হাবিবুন নিসা, মনোরোগ পরামর্শক ফরিদা আক্তার, ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এ এম শাকিল ফয়জুল্লা এবং হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের শিশু সাংবাদিক সামিন ইয়াসার প্রিয়মও এই আলোচনায় অংশ নেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা ॥ বিশ্বে...

[caption id="attachment_1674" align="alignleft" width="280"]হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -একুশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -একুশ[/caption]নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন দাখিল করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রসিকিউশনপক্ষ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ দাখিল করে। পৃথিবীতে এটাই প্রথম এইচআরডব্লিউয়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ।
০ গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে মামলা ০ প্রসিকিউটরদের দাবি নাৎসি পলিসি সাপোর্ট করে এমন ব্যক্তি হিউম্যান রাইটস ওয়াচে আছে
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতির পর আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছিলেন, সকল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার কাজ চালানোর পরও এইচআরডব্লিউ যে বিবৃতি দিয়েছে তা একটি স্বাধীন দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ শামিল। এর মাধ্যমে তারা (এইচআরডব্লিউ) বিচারাধীন বিষয় প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থাটির বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে আদালত চাইলে ‘অবমাননার’ অভিযোগ আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। ওই বিবৃতির চার দিন পর প্রসিকিউশনপক্ষ আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশনপক্ষের অন্যতম প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের মামলার রায় এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট বিতর্কিত বিবৃতি প্রচারের প্রেক্ষিতে এ আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে এই প্রথম এইচআরডব্লিউয়ের বিরুদ্ধে এমন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এমন একটি মানবাধিকার সংগঠন, যারা মানবাধিকার রক্ষার নামে এমন সব কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাদের কোন পর্যবেক্ষক নেই। তাদের তদন্তকারী যারা তাদের মধ্যে নাৎসিদের পলিসি সাপোর্ট করে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। এমনকি তাদের অর্থের উৎস কী সেটিও তারা প্রকাশ করে না। গোলাম আযমের মামলা তো নয়ই, তারা ট্রাইব্যুনালের কোন একটি মামলাও পর্যবেক্ষণ করতে আসেনি। এ সংস্থার কোন জবাবদিহিতা নেই। তাদের অর্থায়ন যারা করে তাদের পরিচয়ও সংস্থাটি গোপন রাখে। তুরিন আফরোজ বলেন, এ সংস্থার পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের পর্যাপ্ত প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তা ছাড়া হিউম্যান রাইটসের প্রত্যেকটি প্রতিবেদনই দাতাভিত্তিক। এ ক্ষেত্রে তারা দাতাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। ১৬ আগস্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে পাঁচটি যুক্তি দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামস ওই বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে আইনে বিচার চলছে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে চাইলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। যে রায় সরকার চেয়েছিল তা তারা পেয়েছে। কিন্তু সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়ায় পাঁচটি বিষয়কে ‘ত্রুটি’ হিসেবে তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতেরও অভিযোগ আনা হয়েছে বিবৃতিতে। ‘বাংলাদেশ : আযম কনভিকশন বেজড অন ফ্রড প্রোসিডিংস’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোলাম আযমের রায় দেয়ার আগে ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত চালানোর যে কথা জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল তা পারে না। স্কাইপেসহ ইন্টারনেটে প্রকাশিত কথোপকথন নিয়ে পক্ষপাতের যে অভিযোগ উঠেছে তার কোন ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনাল দেয়নি। আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষা দিতে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে এবং বিচারক প্যানেলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর গোলাম আযমের রায়ে তাঁকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণের অভাব ছিল বলেও এইচআরডব্লিউ মনে করে। অভিযোগগুলো কী ॥ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গোলাম আযমের রায়ের ক্ষেত্রে বিচারকরা প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত করেছে, যা সমীচীন হয়নি। দ্বিতীয় অভিযোগে এইচআরডব্লিউ বিচারকদের সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগসাজশ ও পক্ষপাতিত্বের কথা বলেছে। তৃতীয় অভিযোগে সংস্থাটি বলেছে, আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে। এইচআরডব্লিউর চতুর্থ অভিযোগ বিচার প্যানেলে পরিবর্তন নিয়ে। পঞ্চম অভিযোগে গোলাম আযমের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের জন্য প্রমাণের অভাবের কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউশনপক্ষ থেকে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ পাল্টা বিবৃতি প্রদান করেন। তুরিন আফরোজ বলেছিলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কে? এটিও কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? আন্তর্জাতিক আইনের সব ধারা লঙ্ঘন করে যখন আইখম্যান বা সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়েছিল, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কী করেছে? তখন কি তারা তাদের কথিত আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষায় কোন কথা বলেছে? মঙ্গলবার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, তাদের পাঁচটি যুক্তির মধ্যে দুটি যুক্তি আদালতের জন্য অবমাননাজনক বলে মনে হওয়ায় প্রসিকিউশনপক্ষ অভিযোগ এনেছে। যুক্তি দুটির মধ্যে রয়েছেÑ গোলাম আযমের রায় ট্রাইব্যুনাল নিজে থেকে তদন্ত করেছে। অপরটি হলো প্রসিকিউশনপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গোলাম আযমের রায় সুপ্রীমকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। কাজেই তাদের ওই বিবৃতি আদালত অবমাননাজনক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) অর্থের উৎস এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রসিকউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, তাপস বলসহ প্রসিকিউশন টিম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ দাখিল করেন। দাখিলের পর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয় এবং গোলাম আযমের মামলার রায়ের সমালোচনা করে পাঁচটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তার একটিতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণের অপর্যাপ্ততার কথা বলা হয়েছে। আর বিষয়টি যেহেতু আপীল বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে, তাই এ বিষয়ে আমরা চ্যালেঞ্জ করিনি। তা ছাড়া আসামিপক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ পরিবর্তন বিষয়ে সংস্থাটির সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রসিকউশনের কিছু বলার আছে বলে মনে করেন না তিনি। তাই আদালত অবমাননার অভিযোগে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. তুরিন আফরোজ। তিনি আরও বলেন, গোলাম আযমের মামলার বিচারিক বিষয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে যে মন্তব্য করা হয়েছে তাতে সংস্থাটি ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তিকেই শুধু আঘাত করেনি, আঘাত করা হয়েছে পুরো বিচার প্রক্রিয়াকেই। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধের বিচার হচ্ছে, সব কটি অপরাধই আন্তর্জাতিক অপরাধ। এ অপরাধ কোন ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়নি, হয়েছে গোটা মানবজাতির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে নিজস্ব আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে। বিশ্বের খুব কম রাষ্ট্রই তা করতে পেরেছে। তাই এ বিচার করে আমরা বিশ্বের বুকে একটি নজির সৃষ্টি করেছি। এর পর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল বলেন, আমরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে সংস্থাটির প্রতিনিধিদের হাজির করে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশনা চেয়েছি। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ের ৯০ বছরের কারাদ- দেয়। বয়স বিবেচনায় ফাঁসির পরিবর্তে তাঁকে কারাদ- দেয়া হয়। আর এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার এক বিবৃতি প্রচার করে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রায়ে কী ছিল ॥ ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের নাটের গুরু জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করে। একটি সাজা শেষ হওয়ার পর আরেকটি সাজা এভাবে পর্যায়ক্রমে দ-াদেশ কার্যকর হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সহযোগিতা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেয়াÑ পাঁচ ধরনের অপরাধের প্রতিটিতেই গোলাম আযম সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁকে কারাদ- দেয়া হয়েছে বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায়। বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ- মিলিয়ে তাঁকে টানা ৯০ বছর সাজা অথবা ‘আমৃত্যু’ জেল খাটতে হবে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জামায়াত ক্রিমিনাল সংগঠন। সরকারী-বেসরকারী পদে যেন স্বাধীনতাবিরোধীদের চাকরি না দেয়া হয়। সর্বক্ষেত্রে তাদের বয়কট করার ওপর মতামত ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের নতুন প্রজন্মদের যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়ারও জন্য মতামত দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৪২ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টার মাইন্ড গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এই দ- প্রদান করা হলো। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন। অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের দায়দায়িত্ব হিসেবে আনা হয়েছে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধতন নেতৃত্বের দায়)। রায়ে ট্রাইব্যুনাল, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচ ধরনের অভিযোগের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর করে, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর করে ও পঞ্চম অভিযোগে ৩০ বছর কারাদ- দিয়েছে। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত ছয়টি, সহযোগিতা-সংক্রান্ত তিনটি, উস্কানির ২৮টি, সম্পৃক্ততার ২৩টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা-নির্যাতনের ১টিসহ মোট ৬১টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, গোলাম আযম যে অপরাধ করেছেন তা মৃত্যুদণ্ড তুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স ৯১। এ বিবেচনায় তাঁকে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হলো।

নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা : আড়ালে ‘বড় ভাইরা’

নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা : আড়ালে ‘বড় ভাইরা’

আনিস রায়হান
Toki Murder Case - Ekush.info নারায়ণগঞ্জে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। জাতীয় রাজনীতির নানা ইস্যু একটাকে কিছুটা চাপিয়ে দিতে না দিতেই কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটছে নতুন কোনো ঘটনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই অংশের দ্বন্দ্ব, বামপন্থি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের সরাসরি আওয়ামী লীগের একাংশের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং ত্বকী হত্যাকাণ্ড ঘিরে সারা দেশের মানুষের উদ্বেগ এখানকার রাজনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মুখোমুখি পক্ষগুলো উত্তেজনার বশে একের পর এক এসব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ক্ষমতার খেলা। ঘটনা যাই ঘটুক জন্ম দিচ্ছে প্রচণ্ড উত্তেজনার। মানুষ উত্তেজিত, আতঙ্কিত। কিন্তু দিন শেষে সবকিছু গিয়ে এক নদীতেই মিলছে। তা হচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে শামীম ওসমানকে। কিছুদিন আগেই ১০ দিনের মধ্যে তিন জনের গুম হওয়ার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কেউ ভেবেছিল মাঠ গরম করে নিজের পক্ষে নিতে শামীম ওসমান এসব করাচ্ছেন। কেউ মনে করেছেন এগুলো আসলেই প্রশাসনের কাজ। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানের দিকেই গেল। ঘটনাবলীর মোড় হঠাৎ ঘুরিয়ে দিয়েছে আসামি লিটনের জবানবন্দী। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ডিবি পুলিশ গত ২৯ এপ্রিল লিটনকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে লিটন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ছিল। গত ১৫ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর লিটনকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। ১৪ দিন পর লিটনকে ত্বকী হত্যা মামলায় আটক না দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হওয়া একটি মাদক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় লিটনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখানো হয়। তবে কোথা থেকে ও কখন তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১১-এর এএসপি রবিউল ইসলাম। Toki-Ekush.info২৯ জুলাই সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে লিটনের দেয়া জবানবন্দীটি নিয়ে এখন সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে। স্থানীয় কিছু সূত্র জানায়, লিটন জবানবন্দীর আগে স্বীকারোক্তিতে অনেকের নাম বলেছে। যা জবানবন্দীতে আর আসেনি। জবানবন্দীতে লিটন বলেছে, সে বন্ধু রাজিবের খোঁজে রিপন সাহেবের বাড়িতে যায়। জাপা নেতা রিপনের বাড়িতে গিয়ে সে অফিসের একটি কক্ষে ত্বকীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পেটাতে দেখে। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হাজি রিপন। তার বাড়িতেই ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। তিনি নিজেকে জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও নগর জাপার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার ছেলে সালেহ রহমান সীমান্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইউসুফের জবানবন্দীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা যে কয়জনের নাম এসেছে তারা হচ্ছেন- রাজিব, অপু, ভ্রমর, কালাম শিকদার, সীমান্ত, সে নিজে ও অজ্ঞাত আরও একজন। এরা সবাই ওসমান পরিবারের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। লিটন জবানবন্দী দিতে গিয়ে বলে, ওই ৫-৭ যুবকের সঙ্গে সে নিজেও ত্বকীকে মারধর করে। এ সময় ত্বকী অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়েছিল। এক পর্যায়ে কালাম শিকদার ত্বকীকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর লাশ ফেলে দেয়ার জন্য একটি বড় ব্যাগ আনা হয়। ওই ব্যাগে ত্বকীর লাশ ভরে একটি প্রাইভেট কারে শহরের কালীরবাজার দেলোয়ার টাওয়ারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় দেলোয়ার টাওয়ারের পূর্ব পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি নৌকা অপেক্ষায় ছিল। ওই নৌকায় লিটন ও সীমান্তসহ ৩ জন ত্বকীর লাশ নিয়ে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তীরে গিয়ে ব্যাগ থেকে লাশ ফেলে দিয়ে চলে আসে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, জবানবন্দীতে অনেক কিছু চেপে গেলেও এর আগে স্বীকারোক্তি দেয়ার সময় লিটন একজন বড় ভাইয়ের কথা বলেছিলেন। সেখানে সে সবার নামই স্বীকার করে। কিন্তু জবানবন্দীতে তা আর স্বীকার না করায় আড়ালে চলে গেছেন বড় ভাইরা। গত ৬ মার্চ শহরের পুরাতন কোর্টের বাসা থেকে বের হয়ে ত্বকী নিখোঁজ হয়। পরে ৮ মার্চ সকালে তার লাশ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তীর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী কারও নাম উল্লেখ না করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। তবে তার অভিযোগ, শামীম ওসমান তার ভাই, ছেলে ও তাদের সংশ্লিষ্ট লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। লিটনের জবানবন্দীর পর একটু চাঙা হয়েছেন শামীম ওসমান। তার দাবি লিটনের দেয়া জবানবন্দীর কোথাও শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজের নাম নেই। শামীম ওসমানের সমর্থকরা এই জবানবন্দীর ওপর ভিত্তি করে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন এ থেকে প্রমাণিত হয় এতদিন লাশের রাজনীতি চলছিল। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ক্যাঙ্গারু পারভেজকেও হয়ত আটক করা হয়ে থাকতে পারে। এর আগে এক মাসে ক্ষমতাসীন দলের তিনজন গুম হয়। প্রথমেই গুম হওয়া যুবলীগ ক্যাডার ক্যাঙ্গারু পারভেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে না হতেই আবার একই গ্রুপের আরও দুই জনের গুমের অভিযোগ করে তাদের পরিবার। এদের মধ্যে একজন জাতীয় পার্টির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির নামধারী নেতা এবং অপরজন হলেন স্থানীয় এমপি নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গুম হওয়া প্রত্যেককেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ধরনও ছিল একইরকম। কিন্তু পরবর্তীতে লিটনের জবানবন্দীর আগ পর্যন্ত কোনো সংস্থাই গুম হওয়াদের আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। গত ৬ জুলাই বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ থেকে ডিবি পরিচয়ে ১০-১২ অস্ত্রধারী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া পারভেজকে (ক্যাঙ্গারু পারভেজ) তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পারভেজের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী সোহানা আক্তার। এ ঘটনায় সেদিন সন্ধ্যায় পারভেজের স্ত্রী গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পারভেজ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় একটি চার্জশিটে অভিযুক্ত। গত ১৫ জুন বিকেলে ত্বকী হত্যার আরেক সন্দেহভাজন আটক ইউসুফ আহমেদ লিটনকে একই পন্থায় র‌্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের রাস্তার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। লিটন ত্বকী হত্যায় উচ্চ আদালতে ৬ মাসের জামিন নিয়ে সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে বের হয়। এ সময় দুটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাসে থাকা সাদা পোশাকধারী ১০-১২ জন অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায় লিটনকে। পরবর্তীতে বিষয়টি থানায় অভিযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১-এর কর্মকর্তারা লিটনকে আটকের কথা অস্বীকার করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত র‌্যাবই লিটনকে আদালতে হাজির করেছে। তবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে অনেক পরে। তবে ১৫ জুন সন্ধ্যায় ফের স্ত্রীর সামনে থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ৭-৮ পোশাকধারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলে আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমরকে তুলে নিয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ভ্রমরের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পরবর্তীতে কোনো সংস্থাই ভ্রমরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। এ থেকে প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসন এদের তুলে নিচ্ছে নাকি সত্যি এরা গুম হচ্ছে। একের পর এক গুমের মতো ঘটনা ঘটলেও নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ এটাকে খুব একটা গায়ে লাগাচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকেই মনে করেন, যারা গুম হচ্ছে সবাই শামীম ওসমান গ্রুপের। সাম্প্রতিক অবস্থায় চাপের মধ্যে থাকা শামীম ওসমান নিজেকে চাপমুক্ত করতে এ কৌশল নিয়েছেন। বিরোধীদের এই ইস্যুতে শায়েস্তা করে নিজের ইমেজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। শহরের আইলপাড়ার বাসিন্দা বঙ্কিম প্রামানিক বলেন, ‘ক্যাঙ্গারু পারভেজ হলো শামীম ওসমানের সর্বশেষ সেনাপতি। তাকে হারিয়ে প্রথমে খুব উত্তেজনা ছড়িয়েছিল শামীম ওসমান। কিন্তু এখন কেমন যেন মিইয়ে গেছে। এমনকি পারভেজকে নিয়ে তার পরিবারেও আহাজারি নেই। তার স্ত্রী সোহানা প্রথমে রাস্তাঘাটে বের হলেও এখন এ নিয়ে একদম চুপ। আমার মনে হয়, পুরো ঘটনা সাজানো ছিল। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর হয়ত ধমক টমক দিয়েছে। তাই এখন সব চুপ।’ উত্তর চাষাঢ়া এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মী হেলাল বলেন, ‘পারভেজ গুম হওয়ার দুদিন পর শামীম ওসমান বিদেশ থেকে ফিরে শহরে হুঙ্কার দেন, আইভী-রাব্বি এ ঘটনায় দায়ী। তিনি ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে পারভেজকে ফিরে পাওয়া না গেলে প্রধানমন্ত্রী দেশে এলে তার পা ছুঁয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে গুডবাই জানাবেন। কিন্তু রাজনীতিকে গুডবাই তিনি এখনো জানাননি। আমার ধারণা তাদের পরিকল্পনা কাজে লাগেনি। তাই এখন তারা চুপ করে নতুন পরিকল্পনা করছে। এখন পারভেজকে কিভাবে উপস্থাপন করবে তা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।’ নারায়ণগঞ্জের অনেকের মতে, ক্যাঙ্গারু পারভেজ বা অন্য যারা গুম হচ্ছে, এদের গুম হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। অপরাধী হিসেবে পুলিশ এদের ধরে নিয়ে যেতে পারে। যদি পুলিশ তাদের না নেয়, তাহলে নিজের লোকদের গুম করে শামীম ওসমান নাটক সাজাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ উদীচীর জেলা সংসদের সভাপতি জাহিদুল হক ভূইয়া দিপু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান কিছুটা চাপের মধ্যে আছেন। তার পরিবারের ওপর মানুষের ঘৃণা বাড়ছেই। ত্বকী হত্যার পর তার কিছু না হলেও তার ওপর চাপটা রয়েছে। সামনে নির্বাচন আসছে। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের পুরো পরিবার বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। তাই পরিস্থিতি নিজের পক্ষে আনার জন্য তার কিছু করা দরকার ছিল। মাদকাসক্ত ক্যাঙ্গারু পারভেজ যখন মাদকাসক্তি পুনর্বাসন থেকে বাড়ি ফিরছিল তখন তাকে গুমের নাটক সাজিয়ে দলের মধ্যে নিজের অবস্থানটা কিছুটা পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি। ভেবেছিলেন মানুষের সহানুভূতি মিলবে। কিছুই মেলেনি। তাই একের পর এক নাটক সাজিয়ে যাচ্ছেন।’ গুম নাটকের পাশাপাশি অনেকের ধারণা যাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তারা কেউ কেউ মারা পড়তে পারেন। ওসমান পরিবার অপরাধের সাক্ষী রাখে না। তাই এদেরকে খুন করা হচ্ছে। নগরীর বন্দর এলাকার একজন শ্রমিক বলেন, ‘তারা খুব ডেঞ্জারাস। দলের লোক হোক আর যেই হোক কাউরে ছাড় দেয় না। কাজ শেষ হইলেই মারি ফালাইব।’ জনগণের এ আশঙ্কা আসলে উস্কে দিয়েছে অতীতের কিছু ঘটনা। ওসমান পরিবারের নির্দেশে শহরে এ পর্যন্ত বেশ কটি হত্যাকাণ্ড ঘটার অভিযোগ আছে। এমনকি পরে হত্যাকারী গুম হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মানুষের ধারণা, সাক্ষী না রাখার জন্য ওসমান পরিবারের লোকজনই খুন করেছে হত্যাকারীদের। স্থানীয় অনেকেই ব্যবসায়ী আশিক ইসলাম হত্যাকাণ্ডের কথা জানিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালের ১১ মে আশিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার শামীম ওসমানের সহযোগী সিজার ও সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। নিখোঁজ হওয়ার দু-একদিন পর আশিকের লাশ পাওয়া যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ সিদ্দিক। ২০১২ সালে মিঠু নামের আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে সিজার ও আমিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। মিঠু হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর কক্সবাজারে একটি হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনের লাশ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের মতে, আগের মতোই এবারও কাজ হচ্ছে। ত্বকী হত্যার ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ক্যাঙ্গারু পারভেজ অন্যতম আসামি। শামীম ওসমান ত্বকী হত্যাকাণ্ড থেকে নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে এই নাটক সাজিয়েছেন। মানুষের মধ্যে তাই গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ খুন হওয়ার বধ্যমূল ধারণা জন্মেছে। প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে লাশ পাওয়ার। মানুষ ছুটে যাচ্ছে নদীর পাড়ে। বন্দরের আশেপাশে হঠাৎই জমছে মানুষের জটলা। এরকম অন্তত ছয়টি ঘটনা ঘটেছে গত কয়েকদিনে। ৮ জুলাই সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, যুবলীগ ক্যাডার পারভেজের লাশ পাওয়া গেছে। কেউ বলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে, কেউবা নরসিংদী; আবার কেউবা ধলেশ্বরী নদীতে পারভেজের লাশ পাওয়ার খবর দেন। কিন্তু কারও দেয়া তথ্যেরই কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ১০ জুলাই রটে যায়, একটি সেপটি ট্যাঙ্কের ভেতর লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে এরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীরা বলছেন, মানুষের বদ্ধ্যমূল ধারণা, এদের মেরে ফেলা হয়েছে। এজন্যই লাশের গুজব রটছে প্রতিদিন। পাল্টাপাল্টি দুই পক্ষ IVE-shamim-Ekush.infoক্যাঙ্গারু পারভেজ গুমের অভিযোগের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি উত্তপ্ত। পারভেজ গুমের পর পরই তার স্ত্রী মেয়র আইভী ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বিকে দায়ী করে বিবৃতি দেন। এরপর থেকে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মহড়া ও উত্তেজনা ছড়ানো। শামীম ওসমান হুঙ্কার দেন বিরোধীদের বাড়িঘরের ইট-সুরকি খুলে নেবেন। এর জবাবে আইভী বলেন, শামীম অপরাজনীতি শুরু করেছে। রফিউর রাব্বী পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো বাড়িতে যদি হামলা হয়, কারো বাড়ি থেকে যদি কাউকে তুলে আনার চেষ্টা হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ নিয়ে সন্ত্রাসীদের জ্যান্ত কবর দেয়া হবে। এর পরপরই শামীম ওসমান জানান দেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামবেন। যদিও তার এ হম্বিতম্বি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অনেকটাই বন্ধ। যদিও তার পক্ষে আওয়ামী লীগের একাংশ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা বক্তব্য দিয়ে চলেছে বামপন্থিরা এবং আইভীর পক্ষ থেকেও জোর গলায় বক্তব্য রাখছেন অনেকে। এসব পরিস্থিতি একটু মিইয়ে আসতেই এলো লিটনের জবানবন্দী। লিটনের জবানবন্দীর ফলে শামীম ওসমান পক্ষ আবার কিছুটা চাঙা হলো। এই পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হলো এই শেষ না। আরও তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বের হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলাফল, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। কিছু একটা ঘটবে! সাধারণ মানুষ, এতসব ঘটনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে খেই হারিয়ে ফেলছেন। প্রতিদিনই বদলাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। কোথা থেকে কি ঘটতে যাচ্ছে কেউই কিছু বুঝতে পারছেন না। তবে সবার মধ্যেই একটা আশঙ্কা। খুব খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। অনেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন। অনেকের আশঙ্কা বড় কোনো আচমকা হামলা ঘটে যেতে পারে যে কারো ইন্ধনে। এক্ষেত্রে শামীম ওসমানকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন সবাই। মানুষের ধারণা, খুব দ্রুত কিছু একটা ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি। যার জন্য এত আয়োজন। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আল আমিন বলেন, ‘শামীম ওসমান সবসময়ই হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। মানুষ এখন আর এসবের পরোয়া করে না। কিন্তু গত কয়েকদিনে একের পর এক এতসব ঘটনা ঘটছে যে, মনে হচ্ছে অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সে। হেফাজতকে তার সমর্থন দেয়ার পর থেকেই এখানকার প্রগতিশীলদের সঙ্গে তার বিশেষ বিরোধ তৈরি হয়েছে। সবাইকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বের করার কথা সে আগেই বলেছিল। এখন হয়ত সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে।’ নারায়ণগঞ্জের ঘোলাটে এই রাজনৈতিক অবস্থা জনগণকে আতঙ্কিত করে রেখেছে। কোনো পক্ষই চুপ নেই। যে যাকে যেভাবে পারছে আক্রমণ করছে। স্থানীয় পত্রিকাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে শামীম ওসমানের পক্ষে বিপক্ষে সংবাদ প্রচার করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের কোনো ভূমিকাও চোখে পড়ছে না। প্রশাসনকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলছে আমরা অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এই পরিস্থিতির অবসান চায় জনগণ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই পারে এই অবস্থার অবসান ঘটাতে। আর সাধারণ মানুষ চায় অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য বের করে আনা হোক। আসামিদের শাস্তি দেয়া হোক। আবার অনেকের দাবি শামীম ওসমানকে বিচারের আওতায় আনলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। এতে নারায়ণগঞ্জে শান্তি আসবে বলে মনে করেন তারা। তাতেও দরকার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। ত্বকীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি নারায়ণগঞ্জের মানুষ আর দেখতে চায় না। Selina Ivy - Ekush.info‘লেজ বেরিয়েছে মাথাও বের হবে’ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সাপ্তাহিক : লিটনের জবানবন্দী কিভাবে দেখছেন? ডা. আইভী : একটি কথাই বলব। লেজ বেরিয়েছে, মাথাও বের হবে। যাদের নাম এসেছে তারা সবাই শামীম ওসমানের লোক। সাপ্তাহিক : পারভেজকে গুমের অভিযোগ এসেছে আপনার বিরুদ্ধে। ডা. আইভী : পারভেজ তারই রাজনীতি করে। এগুলো পারভেজ আর সে করত। আমাদের নামের পাশে কখনো এ ধরনের অভিযোগ লেখা থাকবে না। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এখন নতুন খেলায় মেতেছেন। তিনি যুবলীগের একজন বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীর জন্য সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল করে শহরে যেভাবে বাড়াবাড়ি করছেন তাতে করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তার নির্দেশে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলের অনুগত নেতাকর্মীদের সুনাম ক্ষুণেœর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পারভেজের কাজই প্রমাণ দেয় শামীম ওসমান রাজনীতিতে কেমন ধরনের কর্মী তৈরি করেছেন। তার বেশিরভাগ কর্মীর বিরুদ্ধেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সাপ্তাহিক : এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শেষ পরিণতি কি? ডা. আইভী : আমরা সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান চাই। কোনো সন্ত্রাসীকে রাজনীতিতে দেখতে চাই না। আমি চাই সাধারণ মানুষ জেগে উঠে এদের হটিয়ে দিক। এরা চলে যাওয়ার হুমকি দেয় কিন্তু ঠিকই ঘাপটি মেরে বসে থাকে। এরা দলে থাকে সুবিধার জন্য। দলের জন্য কিছু করে না। তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলে আওয়ামী লীগ বেঁচে যাবে। তিনি ও তার ছেলে ত্বকী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। মূলত এই হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতেই ক্যাঙ্গারু পারভেজকে নিয়ে তিনি গুম নাটক সাজিয়েছেন। ক্যাঙ্গারু পারভেজকে হয়ত পাশের কোনো দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গডফাদাররা কখনো দলের জন্য শুভ কিছু বয়ে আনতে পারেনি। তারা দলকে ডোবাচ্ছে। শামীম ওসমানরা সবসময়ই দলের জন্য বোঝা। Shamim-Osman_Ekush.info‘আস্তে আস্তে প্রমাণ হচ্ছে সব অপপ্রচার’ শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক সাংসদ সাপ্তাহিক : লিটনের জবানবন্দী কিভাবে দেখছেন? শামীম ওসমান : আমি বরাবরই বলে এসেছি এসবের সঙ্গে আমার পরিবার জড়িত না। কে বা কারা জড়িত তাও আমরা জানি না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য বিরাট পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে একটা মহল। তবে লিটনের জবানবন্দী এটা স্পষ্ট করেছে যে, এর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগসূত্র নেই। আস্তে আস্তে প্রমাণ হচ্ছে সব অপপ্রচার। সাপ্তাহিক : যারা খুনে জড়িত ছিল সবাই তো আপনার লোক। শামীম ওসমান : বাজে কথা বলবেন না। আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় থাকলেই কি আপনি যা করবেন তার জন্য আমি দায়ী থাকব নাকি। আমি জননেতা। নারায়ণগঞ্জের সবাই আমার পরিচিত। সবাই কম বেশি আমার কাছে আসে। কেউ কম আসে। কেউ বেশি। এটা হবেই। সাপ্তাহিক : অভিযোগ উঠেছে আপনি নিজেই পারভেজকে গুম করেছেন। অতীতেও এ ধরনের কাজ করেছেন বলে নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি? শামীম ওসমান : এসব কথা আমার বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই বলা হচ্ছে। ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা নিয়েই টিকে আছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াত না। যারা গুম করিয়েছে তারা এখন আমার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছে। তারা ভালো মানুষের মুখোশ পরে একের পর এক কুকর্ম করে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক : আপনার কেন মনে হয়, রফিউর রাব্বি ও আইভী পারভেজকে গুম করেছে? শামীম ওসমান : দীর্ঘদিন থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে। আমাকে হত্যা করতে না পেরে আমার কাছের মানুষগুলোকে টার্গেট করেছে। আমি শতভাগ নিশ্চিত পারভেজকে সিটি মেয়র আইভী ও রফিউর রাব্বি মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চুক্তির মাধ্যমে খুনের উদ্দেশ্যে গুম করেছে। সাপ্তাহিক : খুনি হিসেবে তো তাদের কোনো পরিচয় নেই। বরং আপনার আছে। শামীম ওসমান : তাহলে আমার কাছে এসেছেন কেন? তাদের কাছে যান। তারা টাকা দিয়ে সংবাদ মাধ্যম কিনে ফেলছে। সাপ্তাহিক : পারভেজকে না পেলে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। করলেন না কেন? নাকি পেয়ে গেছেন? শামীম ওসমান : অসহায় নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছি। আর কত সহ্য করবে তারা? কোর্ট থেকে মামলা গেলেও থানা মামলা নিচ্ছে না। যাদের প্রভাবে মামলা নিচ্ছে না তারাই পারভেজকে গুম করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইতে পারছি না দলে থাকার কারণে। বাধ্য হয়ে বলেছিলাম। পারভেজকে এখনো পাইনি। তাকে প্রশাসন থেকেও খোঁজা হচ্ছে। আসল অপরাধীদের ধরা হলে পারভেজকে পাওয়া যাবে। সাপ্তাহিক : এখন কি করতে চাচ্ছেন? শামীম ওসমান : সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি বিবেচনা করেই চুপ করে আছি। জননেত্রীর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছি আমি। Rafiur Rabbi -Ekush.info‘আরও জবানবন্দী বাকি আছে’ রফিউর রাব্বি আহ্বায়ক, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ সাপ্তাহিক : শামীম ওসমান তো বলছেন লিটনের জবানবন্দীতে তার নাম আসেনি। এতদিন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে? রফিউর রাব্বি : একটা জবানবন্দী থেকেই সবকিছু উদ্ধার হয় না। আমরা শুনেছি স্বীকারোক্তিতে সে সবার নামই স্বীকার করেছিল। কিন্তু আদালতে জবানবন্দী দেয়ার সময় সে এটা স্বীকার করেনি। তবে এ থেকেও অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে। যাদের নাম এসেছে এরা কারা? এরা কার পালিত সন্ত্রাসী? এদের কে নির্দেশ দেয়? লিটনকে আবারও জবানবন্দী দিতে বলা হলে আরও তথ্য বের হবে। অন্য আসামিদের জবানবন্দী এলে আরও কিছু জানা যাবে। আরও জবানবন্দী বাকি আছে তো। সব একত্র হলে আসল বড় ভাইদের চেহারা স্পষ্ট হবে। খুনের মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরা যাবে তখন। আরও তদন্ত দরকার। সাপ্তাহিক : অভিযোগ করা হচ্ছে, আপনি নাকি ক্যাঙ্গারু পারভেজের গুমের সঙ্গে জড়িত? রফিউর রাব্বি : ত্বকীর হত্যায় অভিযুক্ত যুবলীগ ক্যাডার পারভেজ অপহরণের পর থেকে এসব কথা শামীম ওসমান বলে আসছেন। নিজের সন্ত্রাসী চেহারা আমাদের ওপর মিথ্যে অপবাদ দিয়েও ঘোচাতে পারেননি। বলছেন, নারায়ণগঞ্জের অনেকের বাড়িঘরের ইট-সুরকি খুলে নেবেন। বাড়িঘর থেকে মা বোনদের তুলে নিয়ে আসবেন। কথার মধ্যদিয়েই তার সন্ত্রাসী চেহারাটা বেরিয়ে আসছে। তার এ ধরনের হুমকি-ধমকি মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। বিরোধীদের ফাঁসাতে এ ধরনের কথা আগেও বলেছেন তিনি। ৩ বছর আগে শামীম ওসমানের ক্যাডার নুরুল আমিন মাকসুদকে একই রকমভাবে রাস্তা থেকে তুলে নেয়া হয়। পরে তার লাশ পাওয়া যায়। অনেকের মুখে শোনা যায়, মাকসুদকে অপহরণ করিয়ে শামীম ওসমানই হত্যা করিয়েছে। মাকসুদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে দিয়ে শামীম ওসমান বলিয়েছিল মেয়র আইভী নাকি মাকসুদকে হত্যা করিয়েছে। পরে মাকসুদের স্ত্রী মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করে এ কথার জন্য মাফ চেয়েছে। একই ভাবে পারভেজের স্ত্রীকে দিয়েও শামীম ওসমান বলিয়েছে যে পারভেজের ঘটনার জন্য আমি ও মেয়র দায়ী। সাপ্তাহিক : পারভেজের ক্ষেত্রে আসলে কি ঘটেছে বলে আপনার মনে হয়? রফিউর রাব্বি : কি আর হবে? শামীম ওসমানের সঙ্গে যারাই যাক তাদের একই পরিণতি হবে। সারোয়ার ও মাকসুদ নারায়ণগঞ্জের সম্ভাবনাময় তরুণ ছিল। কিন্তু শামীম ওসমান হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের জীবনকে শেষ করে দিয়েছে। মাকসুদ অজ্ঞাত আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছে আর সারোয়ার এখন রোগে ভুগে মৃত্যুপথযাত্রী। একই ভাবে আরও অনেক তরুণের জীবন শামীম ওসমান নষ্ট করেছে। এসব তরুণকে বিপথগামী করে শামীম ওসমান তার নিজের উপরে উঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর পর যখনই মনে হয়েছে এরা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তখনই এদের ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। পারভেজ তার মতোই একজন। তার আদলে গড়া। পারভেজকে প্রয়োজন ফুরোলে ছুড়ে ফেলতে তিনি দ্বিধা করবেন না। আর যদি প্রয়োজন এখনো থাকে তাহলে যা হচ্ছে পুরোটাই সাজানো নাটক। অথবা হতে পারে সেও প্রশাসনের হাতে আছে। সাপ্তাহিক : এই অবস্থার শেষ কোথায়? আপনারা কি করতে চাচ্ছেন? রফিউর রাব্বি : প্রশাসন যদি ত্বকীসহ অন্যসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা আন্দোলনে নামব। সরকারকে আহ্বান জানাই দ্রুতই এই সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার।

কোথায় গেলে ন্যায়বিচার পাবেন লিপি?

কোথায় গেলে ন্যায়বিচার পাবেন লিপি?

ঢাকা: র‌্যাব-পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষের হামলা, অফিস ভাঙচুর, লুটপাট, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কয়েকবার হত্যা চেষ্টা ও ক্রমাগত মিথ্যা মামলায় চরমভাবে নির্যাতিত মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শামীমুন নাহার লিপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। এ অবস্থায় লিপির একটাই প্রশ্ন- আর কোথায় গেলে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে? কে এই শামীমুন নাহার লিপি? কী তার পরিচয়? কেন তিনি বাংলাদেশে এলেন? কেন তিনি ৩০টিরও অধিক মামলার ফরিয়াদি/আসামি? কেন তিনি ইয়াবা মামলার আসামি? সত্যিই কি তিনি মাদকাসক্ত? কেন রামপুরা থানার সাবেক ওসি সাইদুর রহমানের সঙ্গে এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে একটি দৈনিক ও একটি ট্যাবলয়েডে নানা মুখরোচক কথার প্রচার? কেন তিনি আদালত এলাকায় ছুরিকাহত হলেন? এসব বিষয়ে বাংলামেইলের পক্ষ থেকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়। বেরিয়ে আসে চমকে উঠার মতো নানা তথ্য। তার সঙ্গে কথা বলে এবং তার মামলা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পাঠকদের সামনে এ সবের রহস্য তুলে ধরছেন বাংলামেইলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রিয়লাল সাহা।
পর্ব এক: কে এই লিপি? কী তার পরিচয়? পুরো নাম শামীমুন নাহার লিপি। বাবা একেএম রশিদ উদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। মা বেগম জিয়াউন নাহার। মা-বাবার ৫ সন্তানের মধ্যে লিপির অবস্থান তৃতীয়। ঢাকার আজিমপুরের অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে বাবার চাকরির সুবাদে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকলিন থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। স্বাভাবিক নিয়মে ১৯৮৪ সালে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পরপর দুটি প্রমোশন পাওয়ায় দুই বছর আগেই গ্রাজুয়েট হন তিনি। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় তিনি ক্লাসে অনার রোল স্টুডেন্ট হিসাবে স্বীকৃত ছিলেন। পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত আমেরিকান ইউনিভারসিটিতে তিনি লেখাপড়ার জন্য স্কলারশিপ পান। কিন্তু এ সময় তার মা লিপিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র ঠিক করে ফেলেন। অনেকটা জোর করেই তাকে ঢাকায় আনেন। বর লিপির বর্তমান স্বামী এবং তার জীবন যন্ত্রণার জন্য দায়ী পর্দার আড়ালের কুশীলব ড. মাহবুব হোসেন। অবশ্য বিয়ের সময় তিনি ডক্টরেট ডিগ্রিধারী ছিলেন না। বিয়ের পর পরই স্বামীর সঙ্গে লিপি আবারও চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। যে করেই হোক পড়াশোনা শেষ করার সংকল্প করেন তিনি। কিন্তু বাধ সাধেন স্বামী। কারণ লিপি যে ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়েছেন সেখানে পড়াশোনার যোগ্যতা ছিল না মাহবুবের। তাছাড়া মাহবুবের কথা ছিল আগে তিনি প্রতিষ্ঠিত হবেন, তারপর স্ত্রীর পড়াশোনা। বাধ্যগত স্ত্রীর মতো লিপি তাই মেনে নিয়েছিলেন। স্বামীর পড়াশোনা শেষ করার জন্য লিপি একইসঙ্গে ২টি চাকরি করতে শুরু করেন। এখানে একটা কথা বলা দরকার, বিয়ের আগে মাহবুব বলেছিলেন, তার ডক্টরেট করা শেষ হয়েছে। তিনি নিজের পরিবার সম্পর্কেও যথেষ্ট মিথ্যা বলেছিলেন বলে লিপি জানান। বিয়ের চার বছর পর ১৯৮৬ সালের আগস্টে লিপির স্বামী মাহবুব পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এই চার বছর লিপির বাবার পাঠানো অর্থ ও লিপির নিজের দুই চাকরির টাকায় মাহবুব ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এবার লিপি তার পড়াশোনার কথা বললেও মাহবুব তাতে ফের বাধা দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে যথেষ্ঠ বাদানুবাদও হয়। কিন্তু পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী লিপি ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি লাভের জন্য টেক্সাসের সল রস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চলে যান। একই ইউনিভার্সিটিতে ড. মাহবুবও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি পান। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০০৩ সালে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এবং লিগ্যাল স্টাডিজের নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন লিপি। এরপর তিনি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিটি এটর্নি, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি এবং বহু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বেশ ক’টি সার্টিফিকেট ও পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত টেক্সাসে ইপিআই এনভায়রনমেন্ট ইনকরপোরেশনে লিড সুপারভাইজর হিসাবে, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সানফ্রানসিসকোতে পিআরসি এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশনে ডকুমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ডালাসে অ্যাবাকাস এনভায়রনমেন্ট ইনকরপোরেশনে (নিজেদের কোম্পানি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন লিপি। নিজেদের কোম্পানির বিশ্বব্যাপী মার্কেটিংয়ের জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ২০টি দেশ ভ্রমণ করেন। একই সময় তিনি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের ওয়ার্ল্ড কন্টাক্ট পারসন হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজের অংশ হিসাবে দীর্ঘ তিন বছরের চেষ্টায় তিনি বাংলাদেশকে নতুন করে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালে অন্তর্ভূক্ত করেন। এ কাজে তাকে তৎকালীন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম, এইচ কবির ডিউটি ফ্রি শপের কর্ণধার রানা শফিউল্লাহসহ আরো অনেকেই বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন লিপি। তিনি বাংলাদেশে ছায়ানটের ছাত্রী ছিলেন। তার গাওয়া বহু গান ভয়েস অব আমেরিকা থেকে সম্প্রচার হয়েছিল। তিনি প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং রোনাল্ড রিগ্যানের সময় মোট তিনবার একমাত্র বাংলাদেশি নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নিমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই ছেলের মা। তার বড় ছেলে সাফায়েত ফারাইজির বয়স ২৮ এবং ছোট ছেলে সানজিয়ান ফারাইজির বয়স ২০। বড় ছেলে সাফায়েত গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন। ছোট ছেলে সান জিয়ান ইউটি অপটিন ইউনিভারসিটিতে তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। এই হলো লিপির সংক্ষিপ্ত পরিচয়। দ্বিতীয় পর্বে থাকছে কেন তিনি বাংলাদেশে এলেন? কীভাবে সমস্যার জালে জড়ালেন? র‌্যাব কেন তার বাসায় অভিযান চালালো? কেন তাকে জেলে থাকতে হলো ৪২ দিন? কেন দেশে আসার পর তাকে পক্ষে-বিপক্ষে ৩০টিরও অধিক মামলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে? প্রতিপক্ষ কেন তার বিরুদ্ধে মামলা করছে? কেন তার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে তাকে মেরে ফেলতে চাইলো? তার স্বামী কি সত্যি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন? তার স্বামী কেন এক স্টেট থেকে আরেক স্টেটে ঘন ঘন স্থান বদল করেন? কেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ড. মাহবুবকে ভায়োলেন্ট ম্যান হিসেবে উল্লেখ করে আদেশ দিয়েছেন? আরও অনেক কিছু ...। কেন লিপি বাংলাদেশে এলেন? পারিবারিক সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাবার পেনশনের টাকা তুলে মাকে সহায়তা করা, নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘হোপস ডোর বাংলাদেশ’- এর অফিস দখলকারীদের উচ্ছেদ করা এবং স্বামী ড. মাহবুব হোসেনের গোপন দ্বিতীয় বিয়ের (প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া) কাবিননামা নিয়ে যাওয়ার জন্য শামীমুন নাহার লিপি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসেন। এসব কাজের মধ্যে পারিবারিক কাজগুলো করার জন্য লিপির মা তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। কারণ পারিবারিক কাজগুলো তার নেশাগ্রস্ত ভাইদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারছিলেন না মা। কিন্তু যখনই বাড়ি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন তখনই উচ্ছেদ হওয়া দখলদারদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তার ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন, ভাই আরিফুর রহমান ও অন্যরা মিলে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। শুরু হয় হামলা, মামলা, নির্যাতন এবং জেল জুলুমের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

কীভাবে মামলার জালে জড়ালেন লিপি?

২০১০ সালের ২ এপ্রিল লিপি তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামী ড. মাহবুব হোসেনের গোপনে করা দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা সংগ্রহের জন্য শ্বশুরের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে যান। সঙ্গে নিয়ে যান সহোদর আরিফুর রশিদ ও ভাইয়ের স্ত্রী দুরদানা রশিদকে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী লিপিকে বাসার গেটে (লিপির শ্বশুরের মোহাম্মদপুরের বাসা) রেখে সটকে পড়েন। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা খোলা হয়। বাসায় ঢোকার পরপরই বাসার ল্যান্ডফোনে একটি কল আসে। এরপর সবাই কানাঘুষা করতে শুরু করেন। দৃশ্যপটে আসেন তার দেবর মোশাররফ হোসেন শানু (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব.)। তিনি লিপিকে বেডরুমে গিয়ে বসতে বলেন। লিপি তখন তার বেডরুমে (স্বামীসহ লিপি এই রুমেই থাকতেন) গিয়ে বসেন। ওই রুমের দুটি দরজা। রুমে ঢুকেই তার দেবর শানু একটি দরজা বন্ধ করে দেন। অপর দরজার সামনে দাঁড়ান তার ভাশুর মাহমুদ হোসেন। ভাশুরের হাতে একটা হকিস্টিক ছিল তখন। লিপি জানান, এ সময় হঠাৎ করেই লিপির মাথার পেছন দিকে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করেন তার ভাশুর। মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে দেখতে পান। ভাই ও ভাবি তাকে শ্বশুরবাড়ির গেটে রেখে সটকে পড়ার পর তিনি ওই বাসায় ঢোকার আগে পরিচিত দুইজনকে ফোন করে ডেকে নিয়েছিলেন। তারা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরে কান্নাকাটি, মাগো বলে চিৎকার এবং ভাঙচুরের শব্দ শুনে তারা ওই বাসায় ঢোকেন এবং রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় লিপিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু ওসি মো. মাহবুব ভুঁইয়া মামলা নিতে অস্বীকার করেন। পরপর ৬ বার থানায় যাওয়ার পরও মামলা না নেয়ায় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ২৫নং বেইলি রোডের বাড়িতে যান। একদিন রাত ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে মন্ত্রী তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে থানায় ফোন করে মামলা নিতে বলা হয়। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলার পরও মামলা নেয়নি থানা। এরপর তিনি আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সঙ্গে দুইবার (২০১০ সালে) দেখা করেন। নির্যাতনের রক্তাক্ত ছবি দেখে আইনমন্ত্রী দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যখন থানা মামলা নেয় না, আমাদের কথায় হবে কি না কে জানে? আপনি বরং কোর্টে গিয়ে মামলা করেন।’ এর মধ্যে তিন মাস পার হয়ে যায়। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নারী নির্যাতন সেলের প্রধান পরিচালক দিনা হকের সঙ্গে দেখা করেন। দিনা হক লিপির সব ডকুমেন্ট, মেডিকেল রিপোর্ট (ওসিসি ডিপার্টমেন্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ) এবং নির্যাতনের রক্তাক্ত ছবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। প্রধানমন্ত্রী সব দেখে এক ঘণ্টার মধ্যে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়কে এবং মামলা দায়েরের পর প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করার জন্য দিনা হককে নির্দেশ দেন। এই মামলা দায়েরের পর লিপির দেবর মোশারফ হোসেন শানু, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বামী মাহবুব হোসেন, ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন এবং তাদের সঙ্গী অন্যরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে যে কোনো উপায়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানুয়ের কাছে কলঙ্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে- জানান লিপি। ২০১০ সালের ২ অক্টোবর লিপিদের বাড়ির ভাড়াটে রশিদ হেলালি ফোন করে লিপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলাটিতে ৩ অক্টোবর পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে এবং র‌্যাব দিয়ে তাকে মাদক মামলায় জড়িয়ে জেলে ঢোকানো হবে। রশিদ হেলালী লিপিদের বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই বাড়ির কয়েকটি কক্ষ দখল করে ডেসটিনির কাছে অবৈধভাবে ভাড়া দেন। লিপি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসার পর তাকে কক্ষগুলো ছেড়ে দিতে বললে শুরু হয় বিরোধ। বাড়ির ভাড়াটে রশিদ হেলালির হুমকি পাওয়ার (ফোন মারফত) পর ওইদিনই লিপি রামপুরা থানায় গিয়ে হুমকি ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে একটি জিডি করেন, যার নম্বর ১০০, তারিখ-২/১০/২০১০। লিপির বক্তব্য অনুযায়ী, ওইদিন বিকেলে লিপিদের খিলগাঁওয়ের বাসার নিচতলায় তার বড় ভাই আরিফুর রশিদের ফ্ল্যাটে বসে ১৫/২০ জন মিলে র‌্যাব দিয়ে লিপিকে ধরানোর জন্য মিটিং করে। লিপি জানান, ওই মিটিংয়ের আয়োজক ও মধ্যমণি ছিলেন তারই ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন। ওই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুয়াদ হোসেন ও রমজান আলী মিলে লিপির মাকে ব্ল্যাকমেইল করে বাদী সাজিয়ে ২০১০ সালের ৪ অক্টোবর চুরির অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওইদিনই আদালত তড়িঘড়ি করে ওয়ারেন্ট জারি করে লিপির বিরুদ্ধে। লিপি জানান, ওই ওয়ারেন্ট থানায় পৌঁছানোর আগেই ওয়ারেন্টের ফটোকপি নিয়ে ফুয়াদ হোসেন, লিপির বেকার বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও পুরনো ভাড়াটিয়া রশিদ হেলালি ৫০/৬০ জন র‌্যাব সদস্যকে নিয়ে এসে রাতের বেলায় গ্রিল ভেঙে বাড়িতে ঢুকতে শুরু করে। এরপর তারা লিপির দোতলার ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। দরজার পিক হোল দিয়ে বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও তার পেছনে র‌্যাব সদস্যদের দেখে ‘দরজা ভাঙতে হবে না, আমি দরজা খুলে দিচ্ছি বলেই’ তিনি দরজা খুলে দেন। ভেতরে ঢুকেই র‌্যাবের মেজর রাকিব ধাক্কা দিয়ে লিপিকে ফ্ল্যাটের মেঝেতে ফেলে দেন। এর ফলে তার ডান হাতের তর্জনীর গোড়ার দিক ফেটে যায়, সে আঘাতের চিহ্ন তিনি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। মেঝেতে পড়ে থাকা লিপির ওপর দিয়েই লাফিয়ে লাফিয়ে র‌্যাবের অপর সদস্যরা ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকতে থাকে। লিপি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে মেজর রাকিব আবারও তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমি কি ক্রাইম করেছি? আপনারা কেন ঢুকেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই মেজর রাকিব বলেন, ‘ক্রাইমটা বানাতে কতক্ষণ?’ এ সময় লিপি জানতে চান, আপনাদের কাছে কি কোনো ওয়ারেন্ট আছে? আপনারা কী চান? মেজর রাকিব তখন বলেন, ‘না, কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট নেই, তবে চুরির মামলার ওয়ারেন্ট আছে এবং আপনার মা সেই মামলার বাদী।’ চুরির মামলার ওয়ারেন্ট র‌্যাবের কাছে কেন? একটু আগেও তো রামপুরার ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কই তিনি তো কোনো ওয়ারেন্টের কথা আমাকে বলেননি। র‌্যাবের রাকিব বলেন, মামলাতো থানায় হয়নি, মামলা হয়েছে কোর্টে। থানা জানবে পরে। থানার ওসিকে নিয়ে আপনাকে জড়িয়ে অনেক আজেবাজে কথা আমরা আপনার মা ও ভাইয়ের কাছে শুনেছি। থানার ওসির সঙ্গে আপনার কী এত সম্পর্ক? কথায় কথায় এত থানা পুলিশের কথা বলেন কেন? এরই মধ্যে রামপুরা থানার দুই পুলিশ অফিসার যথাক্রমে এসআই রফিক এবং তার আরেকজন সঙ্গী ঘটনাস্থলে আসেন। তারা র‌্যাবের রাকিবের কাছে জানতে চান, স্যার আপনারা এখানে কী করছেন? মেজর রাকিব তখন উল্টো পুলিশ অফিসারদের বলেন, আপনারা এখানে এসেছেন কেন? এসআই রফিক বলেন, স্যার আমি আসামি আরিফুর রশিদকে ধরতে এসেছি। এলাকাবাসী তার নামে একটা চাঁদাবাজির মামলা করেছে। মেজর রাকিব তখন এসআইকে সরকারি কাজ পরে করতে বলে নিচে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর মেজর রাকিব তল্লাশির জন্য আরিফুর রশিদকে লিপির বেডরুম দেখিয়ে দিতে বলেন এবং দুইজন লোকাল সাক্ষী হাজির করতে বলেন। মেজর রাকিব, আরিফুর রশিদ ও অন্যান্যদের সঙ্গে লিপিও তার বেডরুমে ঢোকেন। র‌্যাবের রাকিব তখন লিপিকে বলেন, ‘আপনার নাকি অপারেশন করা হয়েছে এবং আমরা জানি যে আপনি নিয়মিত ওষুধ খান। দেখি আপনার আমেরিকান ওষুধের ব্যাগটা।’ লিপি যখন মেজর রাকিবের দিকে তাকান, তখন আরিফুর রশিদ মেজর রাকিবের হাতে ছোট একটা প্যাকেট দেন এবং মেজর রাকিব লিপির বেডের তোশক উল্টে তার নীচে ওই প্যাকেটটা নিক্ষেপ করেন। এরপর মেজর রাকিব বলেন, আরিফ ভাই কাজ শেষ, আপনি দুইটা সাক্ষী নিয়ে আসেন। কথামতো আরিফ নিচে গিয়ে দর্জি দোকানি সতীনাথ, বাড়ির পাশের ফুলমিয়া এবং অন্য আরেকজন দোকনিকে লাথি মারতে মারতে নিয়ে আসেন। তিনজনের মধ্যে ফুলমিয়া ছাড়া অপর দুইজনের মধ্যে একজনের কাছ থেকে টিপসই ও আরেকজনের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অপরজন ফুলমিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেললেও আমি লিপি আপার বিরুদ্ধে মিথ্যা কোনো কিছুতে সাক্ষী দিতে পারব না। ত্রিশ বছর আমি এ বাড়িতে কাজ করেছি। আমি লিপি আপার বাবার নুন খেয়েছি। আমাকে মারেন ধরেন যা কিছু করেন, আমি কোনো মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারুম না।’ মেজর রাকিবের সঙ্গীয় অপর এক র‌্যাব সদস্য ফুল মিয়াকে কয়েকটা লাথি মেরে সেখান থেকে বের করে দেয়। এরপর মেজর রাকিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা লিপির ওষুধগুলোও সিজার লিস্টে অন্তর্ভূক্ত করেন। তারপর লিপিকে বলেন, ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। সঙ্গের চার নারী র‌্যাবকে বলেন, ওনাকে বের করো। এই মেকিং গেম চালানোর সময় বারবার সিও রফিক নামে র‌্যাব-৩ এর একজন কর্মকর্তা ফোন করতে থাকেন। রাত আটটায় এই সাজানো অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় রাত এগারটায়। সর্বশেষ ফোনের জবাবে মেজর রাকিব বলেন, স্যার অপারেশন শেষ আমরা ওনাকে নিয়ে যাচ্ছি। রাতের স্লিপিং গাউন পরা লিপি মেজর রাকিবের কাছ থেকে একটু সময় চেয়ে নিয়ে পোশাক পাল্টে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধপত্র ও আমেরিকান পাসপোর্ট সঙ্গে নেন। এরপর মেজর রাকিব লিপির ব্যাগ তল্লাশি করেন। লিপির আমেরিকান পাসপোর্ট দেখে তিনি ভড়কে যান এবং বলে উঠেন ... মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শামীমুন নাহার লিপিকে নিয়ে প্রতিবেদনের তিন পর্বে লিপির ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে তাদের অনেকেই ফোনে, ইমেইলে এবং বাংলামেইল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ায় পেছন থেকেও জড়িয়েছেন। এরা হলেন- লিপির বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও তার দুই সঙ্গী, লিপির ছোট বোন ডেইজি হাসান আইরিনের মেয়ে নাজিয়া, লিপির দেবর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশারফ হোসেন শানু (লিপি নিজের রক্তাক্ত ছবিসহ শানুর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। লিপিকে হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত ওই অভিযোগের পর শানুকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়)। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিক্রিয়া জানানোর কর্মকাণ্ডে রসদ যুগিয়েছেন লিপির সাবেক স্বামী ড. মাহবুব হোসেন। এছাড়া এমন কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে যারা হয়তো নিজেরা জড়িয়েছেন না হলে যারা প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা তাদের নাম ব্যবহার করেছেন। তারা হলেন- লিপির মা বেগম জিয়াউন নাহার ও লিপির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভাই আসিফুর রশিদ। এদের মধ্যে লিপির বড় ভাই দুই সঙ্গীকে নিয়ে বাংলামেইল কার্যালয়ে এসে এই ধারাবাহিক সংবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি এ সংবাদের প্রতিবেদককে তাদের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল না করলে ভালো থাকতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন। অবশ্য মিউচ্যুয়াল বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অবশ্য বাংলামেইল কার্যালয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা কথা বলার পর তার সুর অনেকটা নরম শোনা গেছে। এরপর তিনি লিখিত প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বিভিন্ন মামলার কাগজপত্রের ফটোকপি দিয়ে গেছেন। একইসঙ্গে বলে গেছেন, লিপি মানসিক ভারসাম্যহীন, দুশ্চরিত্রা এবং মামলাবাজ মহিলা। রাজধানীর ততোধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তিনি লিভটুগেদার করতেন, এখনও করেন। এ তালিকায় মন্ত্রী এমপিও রয়েছে। নিজের বোনের নামে এ ধরনের অভিযোগ তোলা কি ভাইয়ের মুখে শোভা পায়? এমন প্রশ্নের তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। লিপির বড় ভাই বাংলামেইলে অবস্থানের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরেক ভাই মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, একতরফা নিউজ করার জন্য প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করা হবে। এছাড়া বাংলামেইলের সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি মানহানি মামলা করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, লিপি একজন মামলাবাজ মহিলা। সে মামলা দিয়ে আমাদের পুরো পরিবার ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনিও লিপির চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন। এরপর গত ৫ আগস্ট লিপির দেবর ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানু (বাধ্যতামূলক অব.) আমাদের প্রতিদেককে ফোন করেন। প্রতিবেকের সঙ্গে তার কথোপকথন: ৫ আগস্ট ইফতারের ১০/১৫ মিনিট আগে লিপির দেবর ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানু আমাকে ফোন করেন। কলটি আমিই ধরেছি কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে তিনি নিজের পরিচয় দেন। তারপর বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। আপনি আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন। এটি একটি সাবজুডিস ম্যাটার। এ ব্যাপারে আমাদেরও তো কথা আছে। আপনি যাকে নিয়ে নিউজ করেছেন, তার সঙ্গে আমার বড় ভাইয়ের আরও ২০ বছর আগেই ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমরা তো সমাজের সম্মানিত মানুষ। এভাবে কথা না বলে যে রিপোর্ট করলেন, সেটা তো একপাক্ষিক নিউজ হলো।’ তার কথা শেষ হলে আমি তাকে বললাম, আপনি কি পর্বগুলো পড়েছেন? উনি বললেন, পড়েছি, পড়তেছি। বললাম, পড়েন। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিটি লাইন, বাক্য এমনকি শব্দ সম্পর্কেও আপনার তথ্য-প্রমাণভিত্তিক আপত্তি আমরা গ্রহণ করব। প্রকাশিত সংবাদের যে বা যেসব অংশ আপনার দৃষ্টিতে অসত্য, তা কেন অসত্য তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে লিখিত আপত্তি দিতে পারেন। আপনার বক্তব্যও আমরা আগামী পর্বগুলোতে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করবো। এরপর লিপির বড় ভাই আমার সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা তা জানতে চান। বললাম, না। তিনি বললেন, ‘দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল।’ মোশারফ হোসেন শানুর এ কথা প্রমাণ করে, লিপির সঙ্গে ডিভোর্স হলেও তার ভাইদের সঙ্গে তাদের ‘অস্বাভাবিক’ ধরনের গভীর সম্পর্ক এবং যোগাযোগ রয়েছে। তিনি কার কাছ থেকে আমার মোবাইল নম্বর পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি সরাসরি এড়িয়ে গেলেও আমি তাকে অফিসে আসার আহ্বান জানাই এবং বলি, মুখোমুখি বসে এ বিষয়ে আপনার কথা শুনতে চাই। তিনি সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে আমার ইমেইল ঠিকানা চান। আমি তাৎক্ষণিক আমার মেইল ঠিকানা পাঠিয়ে দেই। পরদিন ৬ আগস্ট তিনি আমাকে ৫টি মেইল পাঠান। এগুলোতে তিনি বেশ কিছু কাগজের ফটোকপি স্ক্যান করে যুক্ত করে দেন। এরপর ৮ আগস্ট সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে তিনি (মোশারফ হোসেন শানু) দ্বিতীয়বার আমাকে ফোন করেন। আমি তাৎক্ষণিক রিসিভ করতে না পারায় ১১টা ৪৩ মিনিটে তাকে কল ব্যাক করি। ওইদিন তিনি প্রকাশিত সংবাদকে উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আমি আবারও প্রতিবেদনে অসত্য কিছু থাকলে তার বিপক্ষে বক্তব্য জানানোর অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি বারবার উপন্যাস উপন্যাস বলতে থাকেন। আমি তাকে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সহকারে যে কোনো আপত্তি নিয়ে অফিসে আসার জন্য আহবান জানাই। আমি তাকে এও বলি, আপনার পাঠানো মেইলগুলো লিপির ইমেইলে পাঠিয়েছি, এসব বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য। এরপর ফোন লাইনটি টেকনিক্যাল কোনো কারণে হয়তো কেটে যায় নয়তো অপর প্রান্ত থেকে কেটে দেয়া হয়। মোশারফ হোসেন শানুর পাঠানো মেইল থেকে দেখা গেছে, কিছু কিছু মেইল প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাজিয়া নামে কারো মেইলে পাঠিয়েছেন ড. মাহবুব হোসেন। (অবশ্য লিপি এই নাজিয়াক তার বাংলাদেশে থাকা বোন ডেইজি হাসানের মেয়ে হিসেবে সনাক্ত করেছেন)। তারপর নাজিয়া সেই মেইলগুলো মোশারফ হোসেন শানুর কাছে প্রিন্ট করে পাঠিয়েছেন অথবা ফরোয়ার্ড করেছেন এবং অবশেষে শানু সেই মেইলগুলো বাংলামেইল প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানুর পেছনের লোকগুলোকে বাংলামেইলের অনুসন্ধানী দৃষ্টির আড়াল করতে দেয়নি। ইতোমধ্যে ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানুর (বাধ্যতামূলক অব.) পাঠানো মেইলে সংযুক্ত ফটোকপি থেকে স্ক্যান করা দলিলাদির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস থেকে লিপির পাঠানো বক্তব্য আসতে শুরু করেছে। বাংলামেইলও সেসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করছে, যা শিগগিরই পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

কে আসলে শিশু?

কে আসলে শিশু?
প্রিয়লাল সাহা, বাংলামেইল২৪ডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে কোনো সমন্বয় না থাকায় শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করতে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। কোনো অপরাধীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তাকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন আদালত। বিভিন্ন আইনে বিভিন্ন বয়সসীমা উল্লেখ থাকায় অভিযুক্তের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া ‍দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ কারণে সবক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য একটি সাধারণ শিশুআইন প্রণয়নে আইন প্রণেতারা বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই মনে করা হয়। এ জন্য একটি পরিপূর্ণ ও সমন্বিত শিশু আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন। যেমন: শিশু আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু। এই আইনের বিধান মোতাবেক ১৫ বছর ৩৬৪ দিন বয়সী ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হবে। শ্রম আইন মোতাবেক ১৪ বছরের কম বয়সীদেরকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনের বিধান মোতাবেক ১৪ বছর বা তদোর্ধ্ব ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত। অর্থ্যাৎ শ্রম আইনে যে প্রাপ্তবয়স্ক শিশু আইনের বিধানে সে শিশু হিসেবেই বিবেচিত হয়। আবার খনি আইনে ১৫ বছরের কম বয়স্ক সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত। এই আইনের বিধান মোতাবেক শ্রম আইনে যে প্রাপ্তবয়স্ক খনি আইনে এবং শিশু আইনে সে শিশু হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া সাবালক আইন এবং চুক্তি আইনের বিধান মোতাবেক ১৮ বছরের কম বয়স্ক মানুষ শিশু হিসেবে গণ্য হবে। শিশু আইন, শ্রম আইন এবং খনি আইনের বিধান মোতাবেক প্রাপ্ত বয়স্করা (যদি ১৮ বছরের কম হয়) সাবালক আইন ও চুক্তি আইনের বিধান মোতাবেক কোনো ধরনের চুক্তি করতে অক্ষম। এ দুই আইনে এর নাবালক। আবার, দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইনে ১২ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার মধ্যে সবাইকে শিশু বলে গণ্য করা হয়। অর্থ্যাৎ ১২ বছর ১ দিন পূর্ণ হলে এ আইনের বিধান মোতাবেক সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। এ আইনে স্বীকৃত প্রাপ্তবয়স্করা শিশু আইন অনুযায়ী ১৬ বছর না হলে, শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছর না হলে, খনি আইন অনুযায়ী ১৫ বছর না হলে এবং সাবালক আইন ও চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর না হলে এসব আইনের আওতাভুক্ত যেকোন কাজে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কারণ এরা শিশু। ফ্যাক্টরি (কারখানা) আইনে শিশুর বয়স ১৬ বছর ধরা হয়েছে। অর্থ্যাৎ ১৬ বছর ১ দিন হলেই যেকোন ব্যক্তি ফ্যাক্টরিতে কাজের যোগ্য। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ফ্যাক্টরি আইনের শিশু এবং শিশু আইনের শিশুর মধ্যে বয়সসীমার পার্থক্য কেবল ২ দিনের। এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর বিধান মোতাবেক ১৬ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু বলেই গণ্য করা হয়েছে। এ আইন ও ফ্যাক্টরি আইনে শিশুর বয়সসীমা একই। জাতীয় শিশু নীতিমালা অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, জাতীয় শিশু নীতিমালার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশু আইন-১৯৭৪ এ শিশু হিসেবে বিবেচ্য। অপরদিকে জাতিসংঘ শিশু সনদে ১৮ বছরের কম বয়স্ক সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘ শিশু সনদকে অস্বীকার করতে পারে না। দেশে প্রণীত ও প্রচলিত এসব আইন অনেক ক্ষেত্রে কার্যত একে অপরকে নাকচ করে দেয়। একটিতে যা স্বীকৃত অন্যটিতে তা অস্বীকৃত। এ অবস্থাকে আইনগত নৈরাজ্য বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞ। উপরোক্ত আইনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সর্বজনীন অনুসরণযোগ্য শিশুর কোনো বয়সসীমা নির্ধারিত হয়নি। একেক আইনে একেক বয়সসীমা শিশুদের বা রাষ্ট্রের কী ধরনের স্বার্থ রক্ষা করে তা জানা না গেলেও নানা ধরনের আইনি জটিলতা যে সৃষ্টি করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া বিভিন্ন আইনে শিশুদের বিভিন্ন বয়সসীমা রাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের অদূরদর্শিতা ও চিন্তার দীনতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। নগর সভ্যতার অব্যাহত অসম বিকাশের ফলে ক্রমবর্ধমান হারে শিশুরা নানামাত্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধে অভিযুক্ত শিশুদেরকে আইনের আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য সমন্বিত শিশু আইন একান্তই আবশ্যক। তাই যথাশীঘ্র বিদ্যমান আইনগুলো ও বাস্তবতার আলোকে জাতিসংঘ শিশু সনদকে বিবেচনায় নিয়ে একটি সর্বজনীন শিশু আইন প্রণয়ন করা দরকার। আইন বিশেজ্ঞরা বলছেন, নতুন আইনটি এমন বিধান রেখে এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যা এই আইনে শিশুর জন্য নির্ধারিত বয়স বাংলাদেশ পূর্বে প্রণীত ও প্রচলিত সব আইনে শিশুর জন্য নির্ধারিত বয়সকে প্রতিস্থাপন করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রণীত যেকোন আইন শিশুদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ আইনকে যাতে অনুসরণ করতে পারে সে দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মুজিব হত্যা: ইন্দিরার সন্দেহে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ৩৮ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ব্রুস রিডেলের সাম্প্রতিক এক বইয়ে উঠে এসেছে এ তথ্য। ‘অ্যাভয়েডিং আর্মাগেডন: আমেরিকা, ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান টু দি ব্রিংক অ্যান্ড ব্যাক’ নামের বইটিতে তিনি লিখেছেন, “তিনি এক রকম নিশ্চিত ছিলেন, মুজিব হত্যার পেছনে তারাই (যুক্তরাষ্ট্র) ছিল; আর ১৯৭১ এর প্রতিশোধ নিতে এরপর তাকে (ইন্দিরা) হত্যা করতেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল সিআইএ।” ব্রুস রিডেলের এ বইটি প্রকাশ করেছে হার্পর কলিনস। সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দোস্তির ‘কোনো প্রয়োজন’ ইন্দিরার ছিল না। তবে তিনি মনে করতেন, রিচার্ড নিক্সন তার ‘শত্রুই’ ছিলেন। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক’ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে এক ‘রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে’ নিহত হওয়ার পর সিআইয়ের ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে সন্দেহ আরা পোক্ত হয় ইন্দিরার। তিনি মনে করতেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার জন্যই ‘ষড়যন্ত্রের নীল নকশা করেছিল’ সিআইএ। ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভারতে আসেন একাত্তরের ‘ভুল-ত্রুটি’ মেনে নিয়ে ‘সম্পর্ক মেরামতের’ জন্য। রিডেল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখেছেন, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনায় ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। কিন্তু একাত্তরের ঘটনা মনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই পাকিস্তানের সঙ্গ ছাড়তে পারেনি। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই চেষ্টা শুরু হয় প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে। তবে তার উত্তরসূরী আইজেনহাওয়ার থেকে ওবামা- সবাই শেষ পর্যন্ত আবিস্কার করেছেন, কাজটি মোটেও সহজ নয়। আর এর পেছন মূল কারণ হলো ভারত ও পাকিস্তানের বিপরীতমুখী আগ্রহ ও লক্ষ্য। জওহরলাল নেহেরুর ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তখনকার দুই পরাশক্তিশাসিত বিশ্বে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল। একইসঙ্গে স্বাধীন হলেও তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র আয়তন ও সামর্থ্যের পাকিস্তানের সেই আত্মবিশ্বাস ছিল না। এরই মধ্যে পাকিস্তানের তখনকার শাসকরা সেনাবাহিনীর জেনারেলদের মাধ্যমে উৎখাত হলেন এবং নতুন শাসকরা প্রতিবেশী ভারতের ওপর ভরসা রাখার বদলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বৃহত্তর কোনো শক্তির সহায়তা নিতে উদ্যোগী হলেন। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ‘পছন্দনীয়’ দেশ আর কোনটি হতে পারে? দূর কোনো দেশ থেকে কোনো পরাশক্তির এমন ‘দাদাগিরির’ সম্ভাবনা খুব স্বাভাবিকভাবেই ভাল চোখে দেখেনি ভারত। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল সেই সময়ই, ব্রুস রিডেলের ভাষায় যার ধরন ছিল ‘আন্তরিক, তবে ঘনিষ্ঠ নয়’। রিডেল লিখেছেন, নেহেরু ও ইন্দিরার ভারত ‘কূটনৈতিক পথে’ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্বাগত’ জানালেও ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে কখনো এগোয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানি জেনারেলরা অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ব্যক্তিগত অতিথির’ মতোও আপ্যায়িত হয়েছেন। অস্ত্র ও সহায়তার জন্য তাদের আবেদনগুলো সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। এই পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী যখন বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশ্বের সমর্থন আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন, প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওভাল অফিস যেন তার সামনে দেখা দিল ‘ইটের দেয়াল’ হয়ে। আমেরিকানরা যে তখন ইন্দিরা গান্ধীকে ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি, ইতিহাসে তা স্পষ্ট। এরপরই ভারতের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন ইন্দিরা। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে সিআইএ যে বিভিন্ন সময়ে ‘ভুয়া’ প্রতিবেদন তৈরি করতে ‘সিদ্ধহস্ত’ তা আবারো উঠে এসেছে রিডেলের এই বইয়ে। সেই সময়ে সিআইএর পরিচালকের দায়িত্বে থাকা রিচার্ড হেমস একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন, যাতে বলা হয়- ইন্দিরা গান্ধীর পরিকল্পনা কেবল ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নিয়ে নয়, যুদ্ধে পুরো পাকিস্তানকে ধ্বংসের ছক এঁকেছেন তিনি। সেই প্রতিবেদনের প্রশংসায় নিক্সন সে সময় বলেছিলেন, সিআইএর কাছ থেকে হাতে গোণা যে কটি ‘সময়োপযোগী’ গোয়েন্দা প্রতিবেদন তিনি পেয়েছেন, তার মধ্যে সেটি একটি। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে হেমস স্বীকার করতে বাধ্য হন যে ওই প্রতিবেদন ‘সঠিক ছিল না; কাজেই বিষয়টি ভুলে যাওয়াই সঙ্গত’।

নগর রক্ষা বেড়িবাঁধে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের চাঁদাবাজির মহোৎসব !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা শহর রক্ষাবাঁধে শত শত মালবাহী যানবাহন থামিয়ে অবাধে চাদাঁবাজী চলছে। রক্ষকই এখানে ভক্ষক রূপে আর্বিভূত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে পুলিশও চাঁদাবাজির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। তল্লাশির নামে জায়গায় জায়গায় বাঁশ ফেলে তাৎক্ষণিক চেক পোষ্ট বানিয়ে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দৈনিক প্রায় ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা। মাসে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা উঠছে সমগ্র বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে। পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে অন্তত ১৬টি স্পটে ৮ থানার পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে মালামাল বহনকারী পরিবহন থামিয়ে অবাধে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই পেতে এখানে অনেকেই চাঁদাবাজদের হাতে জাল নোট গুঁজে দিয়েও সটকে পড়েন বলে তথ্য মিলেছে। এসব জাল নোট বিভিন্ন হাত ঘুরে জনসাধারনের হাতে গিয়ে পড়ায় তাদের নাজেহাল হবারও তথ্য মিলেছে। এদিকে দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে বেড়িবাঁধের রাস্তায় ল্যাম্পপোষ্টে বাতি না থাকায় ছিনতাইকারীদের অভ্যয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় বাধেঁর রাস্তা দখল করে শত শত দোকান-পাট বসানোর ফলে ভয়াবহ যানজটে নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। পন্যবাহী যানবাহন আর ফুটপাতের দোকান-পাটে চাদাঁবাজিতে পুলিশের মহা ব্যস্ততায় সেখানে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। রীতিমত বেড়িবাধঁ এলাকা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পরিবহন ব্যাবসায়ীদের কাছে রীতিমত এক আতংকজনক স্থানে পরিনত হয়েছে। ওপেন সিক্রেট এই চাঁদাবাজিতে হতবিহবল অসহায় মানুষের পাশে যেন দাঁড়াবার কেউ নেই! গত কয়েক দিন সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঢাকা নগর রক্ষা বেড়িবাঁধের গাবতলী থেকে মিডফোর্ড বাবু বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে শত শত মালবাহী যানবাহনে করে হাজার হাজার কোটি টাকার মাল নামে নগরীর পাইকারী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরনো ঢাকার কামালবাগ, সোয়ারীঘাট, চকবাজার, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, চম্পাতলী, বড় কাটারা, ছোটকাটারা, মিটফোর্ড, বাদামতলী, বাবুবাজার, ও ইসলামপুরসহ প্রায় ২০টি পাইকারী মার্কেটে। প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিনাঞ্চল থেকে এক হাজারের ওপরে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ট্রাক, লরি, পিকআপ, জিপসহ নানা পরিবহনে করে মালবোঝাই হয়ে শহর রক্ষা বাধেঁর ওপর দিয়ে এসব পণ্য পাইকারী কেন্দ্রে পৌঁছে। বেড়িবাধেঁর প্রায় ১৬টি স্পটে পুলিশ চেকপোষ্টের নামে রাস্তার মাঝখানে বাঁশ ফেলে, বেড়িকেট দিয়ে তল্লাশীর নামে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীতে নেমে পড়ে। বিশেষ করে রাত ১০ টার পর থেকে ভোর অবদি চলে তাদের চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজিকালে পুলিশের ভূমিকা হয় কখনো ছিনতাইকারীর মত, কখনো বা হয় ভিক্ষুকের মত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দু’দফা থানার ডিউটি বদলের কারণে ডবল গ্রুপের চাঁদা আদায় চলে। ডিউটিকালীন দারাগো, কনস্টেবল ও সোর্স মিলে বেড়িবাঁধের নিদির্ষ্ট স্থানের রাস্তায় এভাবেই মালবাহী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এমনকি শাসকদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাঁতি নেতারাও এ থেকে পিছিয়ে নেই। এই চাদাঁবাজদের হাত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও রক্ষা পাচ্ছে না। বাধেঁর রাস্তা দিয়ে কেউ মালামাল নিয়ে গেলে পুলিশের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে কেউ এদের হাত থেকে রেহাই পায় না। সন্দেহের কোন কিছু না পেলেও পুলিশের হাতে একটি ছোট লাল নোট না দিলে এদের হয়রানির অন্ত নেই। পুলিশের গাড়িতে তুলে এদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ওই অর্থ চাই চাই। এমনকি এসব ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে পুলিশের গাড়িতে তুলে অথবা তাদের মালবাহী যানবাহন থামিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটককে রাখে। আবার পুলিশের গাড়িতে করে বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে থানার হাজতখানায় আটককে রাখারও অভিযোগ করেছে অনেক ভুক্তভোগী। এভাবেই পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে। চাদাঁর টাকা সিংহভাগ পুলিশের উর্ধতন মহল থেকে শুরু করে শাসকদলীয় ও বিরোধদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে পৌছেঁ যাচ্ছে বলে এ টাকা জায়েজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। এর ফলে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীর পরও এদের টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারছে না। উল্টো এরা বীরদর্পে বেপোরোয়াভাবে চাদাঁ আদায় করছে। কেউ বাধাঁ দিলে এদের ওপর নেমে আসে মধ্যযুর্গীয় কায়দায় নির্যাতন। প্রতিবাদকারীদের লাখ লাখ টাকার মালামাল গায়েব করে দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পাইকারী ব্যবসীয়দের অভিযোগ। সূত্রগুলো জানায়, ৮ থানা পুলিশের চাঁদাবাজীর স্পট গুলো হচ্ছে, দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী, আদাবর থানাধীন ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মাদপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর, রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ, হাজারীবাগ থানাধীন শিকদার মেডিক্যাল, নবাবগঞ্জ সেকশন, কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হাক্কুল এবাদ বেইলী ব্রীজ ও রসুলপুর পাকা ব্রীজের উভয় পাশ, লালবাগ থানাধীন শহিদ নগর বৌ-বাজার, শ্মশান ঘাট, চকবাজার থানাধীন চাঁদনী ঘাট শরিফ হোটেল সংলগ্ন চৌরাস্তা, চক বাজার জাহাজ বিল্ডিংয়ের মোড়, ইসলামবাগের আলীর ঘাট, লবনের কারখানা,সোয়ারী ঘাট, কামাল বাগ, নলগোলা, চক বাজার ও কোতয়ালী থানার সীমান্ত অবস্থিত বাবু বাজার ও মিডফোর্ড সংলগ্ন দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নীচে নদীর তীরের বেড়ীবাঁধ, কোতয়ালী থানার বাদামতলী ফলের আড়তের সামনে বাকল্যান্ড বাঁধ। জানা গেছে, ঢাকা নগর রক্ষা বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে চলাচলকারী চাল, ডাল, ফল, কাঁচামাল (সব্জী) সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, পিকাপ, ভ্যান গাড়ি, রিক্সাসহ শত শত যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করে পুলিশ ও তাদের মনোনীত চাদাঁর কালেকটাররা। চলাচলকারী ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের যানবাহনে গণহারে চাঁদাবাজী করছে ডিএমপির পুলিশ এবং তাদের মনোনীত চাঁদাবাজরা। এমনকি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসীরা একই উপায়ে চাদাঁবাজি করছে। প্রতি পন্যবাহী যানবাহন থেকে নিম্নে ১০০টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাদাঁ আদায় করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে মিডফোর্ড বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে, শিকদার মেডিকেল ও কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর ও লোহার ব্রীজের উভয় পাশে প্রকাশ্যে চলছে পুলিশের চাঁদাবাজী। বৈধ পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, রিক্সা , ভ্যান গাড়ী আটকে রেখে তল্লাশীর নামে হয়রাণী করা হচ্ছে। পুলিশ আটকের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আইনের দোহাই দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা এভাবেই চাদাবাঁজিতে মেতে উঠেছে। এমনকি ৮ থানা পুলিশ ও সন্ত্রাসী মিলে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে শত শত ফুটপাত থেকে লাখ লাখ চাদাঁবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার সূত্রগুলো জানায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিডফোর্ড বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এবং কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর পাকা ব্রীজ ও ছাতা মসজিদ এলাকার লোহার ব্রীজের উভয় পাশে পুলিশ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে কামরাঙ্গীরচর ফাড়ির পুলিশ। মিডফোর্ড, বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এলাকায় পুলিশ ও তাদের মনোনীত ব্যাক্তিরা একই উপায়ে চাঁদা আদায় করছে। পুলিশের চাঁদাবাজীর হাত থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছে না। বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে সন্ধ্যার পর পুলিশের সামনে খদ্দরদের নিয়ে মহোৎসবে মেতে উঠে পতিতারা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কামরাঙ্গীর চর লোহার ব্রীজের ঢালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ ও কাঠের দোকানের সামনে কামরাঙ্গীর চর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যবাহী রিক্সা, ভ্যান, ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশীর নামে বৈধ পণ্যবাহী যান ও ব্যবসায়ীদের কাছ হতে গণ হারে চাঁদাবাজী করছে। পুলিশকে চাঁদা না দিলে মালামাল আটকে পুলিশ নানা মুখী হয়রাণী করছে। মধ্যাহ্নে ২ ঘন্টা বিরতিসহ পালাক্রমে দুই শিফটে ডিউটি পালন করে পুলিশ সদস্যরা। লালবাগ নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন বেড়িবাধেঁ শত শত যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে ফাড়িঁর পুলিশ।এখানে শত শত ফুটপাত দোকানঘর থেকে চাদাঁ তুলে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা বিপ্লব, জাকির, সেন্টু ও পাউবো সুইজ গেটের কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন। এরাই নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাধেঁর রাস্তা দখল করে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদীতে বালু ভরাট করে এই ট্রাকস্ট্যান্ড করার পর প্রতি ট্রাক আনলোড ১শ টাকা, লোড দেড়শত টাকা। প্রতিদিন কমপক্ষে এখানে শতাধিক ট্রাক লোড আনলোড করায় ভয়াবহ যানজটে এলাকাবাসির দূর্ভোগের সীমা নেই। এর ২শত গজ সামনে একই উপায়ে লালবাগ শহীদনগর আধাগলির সংলগ্ন বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে আরেকটি ট্রাক স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চাদাঁবাজি করে থানা পুলিশ। সূত্রঃক্রাইম নিউজ সার্ভিস

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.