আদালতের পর্যবেক্ষণ অপারেশন ডালভাত ও বৈষম্য বিদ্রোহের বড় কারণ

ঢাকা: বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে অপারেশন ডালভাত একটি বড় কারণ বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেছেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘অপারেশন ডালভাত’ এর অর্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি । মঙ্গলবার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে আদালতের বিচারক এ পর্যবেক্ষণ দেন। হত্যা মামলার বিচারে গঠিত বিশেষ আদালতের কার্যক্রম মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর আদালতের কার্যক্রম শুরু করায় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান শুরুতেই দুঃখপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি তার পর্যবেক্ষণ দেয়া শুরু করেন। ঘটনার ব্যাপারে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অপারেশন ডালভাত কর্মসূচি একটি বড় কারণ। কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী যেমন: সেনাবাহিনী বা আধা সামরিক বাহিনী বা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে অপারেশন ডাল-ভাতের মতো কাজে যুক্ত রাখা উচিৎ নয়। পিলখানার ভেতরে স্কুলগুলোতে বিডিআর জওয়ানদের সন্তান-সন্ততিদের ভর্তি করতে পারার বিষয়ে আরও ছাড় দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে আরও স্কুল তৈরি করা যায় কি না তা কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিৎ। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো বিডিআর সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো যায় কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ভেবে দেখতে পারেন বলেও মত দেন আদালত। এছাড়া সেনা সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে বিডিআর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত আছেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো ২০ শতাংশ ভাতা তাদের পাওয়া উচিৎ। তাদের ঝুঁকিভাতা দেয়া কি না তাও দেখা উচিৎ। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের কারণ হিসেবে সামরিক নিরাপত্তা-সম্পর্কিত কারণ থাকতে পারে। যাতে আমাদের সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা যায়। কূটনৈতিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীকে উচ্ছৃঙ্খল দেখানো, যাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।’ অর্থনৈতিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশে গণ্ডগোল থাকলে বাহিনীর মধ্যে উচ্ছৃঙ্খলতা থাকবে। এতে বিনিয়োগ হবে না। অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করার জন্য হতে পারে।’ সামাজিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করার জন্য।’ আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘আমাকে রায় দিতে হবে। আমার বিবেচনায় যা মনে হয়েছে তা-ই দিয়েছি। আসামিরা উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।’ সকাল ১০টায় বিচারকার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও বিচারক ড. আকতারুজ্জামান আদালতে ১২টায় আসেন। এরপর সাড়ে ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন। রায়ে তৎকালীন বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন, ২৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ২৭১ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। উল্লেখ, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। পরে বিচারের মুখোমুখি হন ৮৫০ জন। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবজ্যোতি খীসা একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ মামলাটি তদন্ত করেন। তাকে সহযোগিতা করেন ২০০ কর্মকর্তা। ৫০০ দিন তদন্তের পর ২০১০ সালের ১২ জুলাই এ আদালতে হত্যা এবং অস্ত্র-বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। এতে ৮২৪ জনকে আসামি করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে বর্ধিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দিন পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ সব মিলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫০। বিচার চলাকালীন চার জন মারা গেছেন। এই মামলায় নথির সংখ্যা ৮৭ হাজার পৃষ্ঠা। আসামিদের মধ্যে বিডিআর জওয়ান আছেন ৭৮২, বেসামরিক সদস্য ২৩ জন। এর মধ্যে ২০ জন এখনো পলাতক, জামিনে আছেন ১৩ জন। জামিনে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ১০ জন মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন। বাকি তিন জন জোহরা খাতুন, আব্দুস সালাম ও লোনা আক্তার হাজির হতে পারেননি। ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার বিচার শুরু হয়। চার বছর আট মাসে মামলাটি ২৩২ কার্যদিবস অতিক্রম করে। মঙ্গলবার  রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ মামলার সব কার্যক্রম। বিচারক বলেছেন, ‘২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক মোটিভ ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মোটিভও থাকতে পারে।’ এই বিদ্রোহের তথ্য আগে জানতে না পারার ঘটনায় গোয়েন্দা দুর্বলতা ছিল বলেও মনে করছে আদালত। এ মামলার শুনানিতে বিজিবির সিকিউরিটি ইউনিটের মেজর আরএমএম আসাদ-উদ-দৌলা আদালতকে জানান, বিদ্রোহ শুরুর চারদিন আগে (২১ ফেব্রুয়ারী) বিভিন্ন দাবি দাওয়া ও ডালভাত কর্মসূচি নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ সম্বলিত একটি প্রচারপত্র পিলখানায় পাওয়া যায়। আসাদ তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দরবার শুরুর পর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ডালভাত কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময়  সৈনিক মইন মঞ্চে উঠলে হৈচৈ শুরু হয়। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। মঙ্গলবার ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বহু আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদও বিচারকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মারা যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ভেতরে আসতে পারেননি আসামিপক্ষের কোনো স্বজন। বাংলামেইল২৪ডটকম/ এফএইচ/ জেএ

লস এঞ্জেলেসের কয়েকজন অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা

লস এঞ্জেলেসের কয়েকজন অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা: মিথ্যা প্রচারনা ও মানহানিকর অপপ্রচারের সূত্র ধরে লস এঞ্জেলেস প্রবাসী কয়েকজন অপপ্রচারকারী ও তাদের ইন্ধনদাতাদের ইলেক্ট্রনিক ভাবে সনাক্ত করে ঢাকায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার উপর ভিত্তি করে মামলা করার প্রক্রিয়াদি সম্পন্ন হয়েছে। মিথ্যা ও অশ্লীল, নীতিভ্রষ্টতা, মানহানি, ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ  —এই শব্দগুলো ব্যবহার করে প্রবাসীদের তথাকথিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক নেটওয়ার্ক-এর দৌরাত্মের সূত্র ধরে তাদের অপপ্রচার রোধে তথ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যান ডেস্ক ও সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সেলের সহযোগীতায় বাংলাদেশে এই উদ্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসীদের জন্য সম্মান হানিকর যেকোন আক্রমন দেশীয় আইনের আওতাভুক্ত হবার পথ সুগম হলো। এতে মামলাধীন কোন ব্যক্তি দেশে প্রবেশ বা নির্গমনের সময় আইনের আওতায় আসবেন। অন্য দেশের নাগরিকত্ব যদি বাংলাদেশ থেকে উদ্ভূত হয়, তারা যদি দেশে কোন সম্পদের মালিক থাকেন বা তারা যদি বাংলাদেশে ভ্রমনের উদ্দেশ্যেও যান তাহলে স্থানীয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলে আইনজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসে মানহানিকর ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা ও সামাজিক মাধ্যমে সেই অপপ্রচারকে ছড়িয়ে উলঙ্গপনার নিকৃষ্ট উদাহরণ দিয়ে যাচ্ছেন কিছু বাংলা পোর্টালের মালিক ও তাদের অনুসারী কিছু হলুদ সাংবাদিক। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ও বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে উদ্দেশ্যমূলক শেয়ার, প্রচার ও লাইকের সুত্র ধরে তাদের সামাজিক নেটওয়ার্ককে অপপ্রচারের বাহন হিসাবে ব্যবহার করে প্রকারান্তরে সম্মিলিত ভাবে যারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও করাতে সাহায্য করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে তাদের আগমন, নির্গমন ও দেশে তাদের সহায় সম্পত্তির উপর প্রয়োজনে বিধিনিষেধ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনজ্ঞরা আদালতের স্বরনাপন্ন হবার উদ্যোগ গ্রহন করছেন। ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন, এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন ও আপলোড ভিন্নদেশে হলেও বাংলাভাষায় প্রচারিত কনটেন্ট যা দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে সেইসব ইলেকট্রনিক মাধ্যমকে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠভাবে নিয়ন্ত্রিত করার নির্দেশনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। দেশ ও বিদেশের নিয়োগকৃত আইনজীবিরা লস এঞ্জেলেসের সেই কতিপয় ব্যক্তিদের অবিলম্বে তাদের প্রচারিত সংবাদ, সোশ্যাল মাধ্যমে প্রচারিত লিঙ্ক, লাইক ও একটিভিটি এই মূহর্তে সরিয়ে নেবার পরামর্শ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হওয়া যেকোনো অর্থ ও তাদের আয়ের উৎস জানার জন্য দেশের ন্যাশনাল রেভেনিউ বোর্ড ( এনবিআর) ও আই আর এস-এর একসাথে কাজ করার চুক্তি এই আইনের মাধ্যমে ইনভেষ্টিগেশনের আওতায় আসবে।   দেশ থেকে পাচার হওয়া যেকোনো অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্লিমেন্ট লিগ্যাল সার্ভিস চুক্তির আওতায় যেকোন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের  বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে  মামলা করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে।  এখন দেশে কোন বিচারাধীন মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া যাবে। এ বিষয়ে উভয় দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব বা সিটিজেনশীপ নেওয়া জন্মগতভাবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে দেশীয় আইনের প্রয়োগের পরিধি এখন  বিস্তৃ লাভ করছে। বাংলাদেশে ব্যাংক একাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট, ফ্লাট, যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে মালিকানা চাইলে তা বাংলাদেশি হিসাবে দাবী করতে হবে এবং দেশের পাসপোর্ট, ন্যাশনাল আইডি ও স্থানীয় অথরিটির প্রত্যয়ন ছাড়া হস্তান্তর বা ভোগ দখল করা যাইবেনা এবং আমেরিকার সিটিজেন হিসাবে স্থানীয় আইন হইতে অব্যাহতি পাওয়া যাইবেনা যদিনা তাহা মানবাধিকার লংঘনের পর্যায়ে পড়ে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।’ এই ধারার অপরাধগুলো আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। তবে আদালতের বিবেচনায় আসামি জামিন পেতে পারেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করেন যাহা বাংলাদেশে করিলে এই আইনের অধীন দন্ডযোগ্য হইত, তাহা হইলে এই আইন এইরুপে প্রযোজ্য হইবে যেন অপরাধটি তিনি বাংলাদেশেই করিয়াছেন।     ৫৭ ধারার ভয়ংকর সাত শব্দ! মিথ্যা ও অশ্লীল, নীতিভ্রষ্টতা, মানহানি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি—এই শব্দগুলো ব্যবহার করে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ২০টি মামলা হয়েছে। আইন প্রণয়নের শুরু থেকে মানবাধিকারকর্মীরা বলে আসছিলেন, শব্দগুলোর ব্যাখ্যা না থাকায় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, হচ্ছেও তাই। ২০১৫ সালে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের ও তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ধারাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি ওঠে। ধারাবাহিকভাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ধারাটি বাতিল হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত এটি বহাল আছে এবং এর ব্যবহারও হচ্ছে। গত বছর এই আইনের ৫৭ ধারা ব্যবহার করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামি হয়ে কমপক্ষে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জেল খেটেছেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে মামলার আসামি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ভুক্তভোগীদের তালিকায় মৎস্যজীবী এবং সাংবাদিকও রয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক গোলাম মুজতবার বিরুদ্ধে। মামলাটি করেন মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘ওই সাংবাদিক মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন লেখায় বাদীর মানহানি হয়েছে।’ ১১ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা’ শিরোনামে গোলাম মুজতবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মানিকগঞ্জে মামলা দায়েরের এক দিন আগে ১২ জুন বানিয়াচং থানায় মামলা হয় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও হবিগঞ্জ সমাচার সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। হবিগঞ্জ সমাচার-এ ৮ জুন কয়েকটি অনলাইন পত্রিকার বরাত দিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়, ৮০ জন সাংসদ মনোনয়ন থেকে বাদ পড়তে পারেন। ওই তালিকায় হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ আবদুল মজিদের নাম ছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর আবদুল মজিদ খানের ভাইপো ও পুকুড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আফরোজ মিয়া ‘মানহানি’র অভিযোগে বানিয়াচং থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। গত ২৮ জানুয়ারি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সদ্য স্থগিত কমিটির সভাপতি মেহেদি হাসান শিশির ডলার নামের এক ব্যক্তিসহ সাত-আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। রংপুর কোতোয়ালি থানায় করা ওই মামলার এজাহারে মেহেদি ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর ‘মানহানি ও ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনেন। জানা গেছে, ডলার যে ভিডিও চিত্র ছড়ান, সেটিতে মেহেদি ইয়াবা সেবন করছেন এমন একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে (মেহেদি) তো প্রথমে আমাদের বলেছে, তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভিডিও করেছে। পরে আমরা তদন্ত করে দেখলাম সে আসলে নেশা করে। ডলারকে আমরা ধরেছিলাম। সে এখন জামিনে আছে।’ ‘অসত্য বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক চায়না পাটোয়ারী ও ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য শাওন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ কর্মী এহসান উদ্দীন চৌধুরী ঋতু চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।’ এই ধারার অপরাধগুলো আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। তবে আদালতের বিবেচনায় আসামি জামিন পেতে পারেন। দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেরিতে হলেও আসামিরা জামিন পাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, অপরাধ যদি সত্যিই গুরুতর হয়, তাহলে জামিন হচ্ছে কী করে? বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৫৭ ধারায় যে অপরাধগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়নি। যেমন ধরুন “রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন”। এ দিয়ে কী বোঝা যায়? যেহেতু সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়নি, ফলে কেউ মনঃক্ষুণ্ন হলেই মামলা করছেন। আইনটি যে অবস্থায় আছে এবং যেভাবে ব্যবহার হচ্ছে তা বিপজ্জনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি কারও মানহানির অভিযোগে যেন ফৌজদারি মামলা না হয়।’ মামলার বাদী যাঁরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০১৬ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে ৩৫টি মামলা দায়েরের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই মামলার ১৬টি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘মিথ্যা ও অশ্লীল’ মন্তব্য করা ও ছবি বিকৃত করার দায়ে। মামলাগুলো দায়ের করেছেন মূলত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সাংসদদের ‘মানহানি’তেও মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন তাঁদের অনুসারীরা। তাঁরাই মামলা করেছেন। গত বছরের নভেম্বরে হবিগঞ্জের দৈনিক প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক শোয়েব চৌধুরী আনন্দবাজার পত্রিকাকে উদ্ধৃত করে ‘হবিগঞ্জের সাংসদসহ ৬৫ জন সাংসদকে মনোনয়ন দেবেন না শেখ হাসিনা’ নামে একটি প্রতিবেদন ছাপেন। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় আলাদাভাবে চারটি মামলা হয়। তিন মাস জেল খেটে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। ওই মামলার বাদীদের তিনজনই আওয়ামী লীগের কর্মী। শোয়েব চৌধুরী বলেন, ‘আমি হবিগঞ্জ জেলে তিন মাস আটক থাকার পর জামিন পাই। এখন কিছু লিখতে গেলেই ভয় হয়, আবার না ৫৭ ধারায় আটকায়।’ ৫৭ ধারা রহিত হবে কবে? ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ফাঁসিয়ে দিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পটিয়ার একটি সরকারি কলেজের শিক্ষক মাসুদ রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, বরগুনার আমতলী কলেজটি গত বছরের ৭ এপ্রিল জাতীয়করণ করার পর তাঁকে চাখার শের-ই-বাংলা কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়। পুরোনো শিক্ষকদের কেউ কেউ এতে খেপে যান। এর মধ্যে একদিন তিনি অসাবধানতাবশত লগআউট না করে বেরিয়ে যান। তাঁর আইডি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তি করা হয়। পরে ওই কলেজের একজন শিক্ষক আদালতে মামলা করেন। আদালত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে পেরেছেন বলে জানান। গত বছরের ২৯ অক্টোবর ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবী রসরাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনটির যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে জন্য কী করা যায় আমরা ভাবছি। ডিজিটাল সুরক্ষা আইন নামে নতুন একটি আইন হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছি।’ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, আইনের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। সপ্তাহ তিনেক আগে এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। ভেটিংয়ের পর আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে, তা তিনি জানাননি। তবে প্রস্তাবিত ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে সমালোচনা আছে। আইনজীবীরা বলছেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা সংশোধন করলে আর নতুন আইনের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু ডিজিটাল সুরক্ষা আইন হচ্ছে, হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫৭ ধারাকে জিইয়ে রাখা হয়েছে। -প্রথম আলো  

‘আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব’

'আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব'
'আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব'
আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ আমিনুল হক ভবনে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালের আগে পুরাতন জিআর, ননজিআর, প্রিয়াংশন প্রসেডিং মামলাগুলো যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, এ জন্য আমি বিচারকদের নির্দেশ দিয়ে যাবো। পাশাপাশি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনজীবীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় জেলাগুলোর আদালতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ডিজিটালাইজেশন চালু করা হবে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমি কোর্টে ডিজিটালাইজেশন চালু করে দিয়েছি। আমার জেলা সিলেটে ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঈদের পর পরই সেখানে ডিজিটালাইজেশন হবে।" তিনি বলেন, আদালতে যে স্বাক্ষী দেবে সেটি আর বিচারকদের রেকর্ড করতে হবে না। জেরা করবেন, মনিটরে ভেসে উঠবে। ঢাকা ও সিলেটে ত্রুটিহীনভাবে ডিজিটালাইজেশন চালু হয়ে গেলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় জেলাগুলোতে চালু করা হবে। প্রধান বিচারপতি প্রত্যেক বিচারককে নিজ হাতে কম্পিউটার দিচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, রায় হবার সঙ্গে সঙ্গে যেন  ডুপ্লিকেট সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়, সেজন্য আমি জুডিশিয়াল কনফারেন্সে নির্দেশনা দিয়ে যাবো। ময়মনসিংহের বিচারালয়ে যেসব সমস্যা আছে তা দেশের অন্যান্য বিচারালয়ের তুলনায় কম এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি নিজে বেশ কিছু আদালতে গিয়ে কিছু পুরাতন মামলা দেখেছি। এ মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিস্পত্তি হয়ে যায়, তার নির্দেশনা দিয়ে যাবো, যাতে করে জনগণের কষ্ট না হয়। প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, বেল পিটিশন, ইনজাংশন পিটিশনগুলো আগে সকালে শুনানি করা হতো। বিকেলে আর এ বেল পিটিশনগুলোর শুনানি করতেন না। আমি নিজে কোর্ট থেকে নামার পর বিভিন্ন স্টেশনে সেশনস জজদের আড়াইটার সময় ফোন করেছি। কেউ বাসায় চলে গেছেন, কেউ কোর্টে ওঠেন না। তাদেরকে বাধ্য করার জন্য বিকেলে বেল পিটিশন করতে বলেছি। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য এ.এফ.এম.নজমুল হুদা, সাবেক সংসদ সদস্য এম. জুবেদ আলী, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, কবির উদ্দিন ভূইয়া, জিপি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। ফোকাস বাংলা।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনে বাংলাদেশের আইনজীবী নিযুক্ত

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনে বাংলাদেশের আইনজীবী নিযুক্ত

জাতিসংঘের ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের কন্যা। এই কমিশন গত মার্চ-এপ্রিলে দখলকৃত ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলের সামরিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্ট বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। সারা হোসেন ছাড়াও এই কমিশনে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড মাইকেল ক্রেন ও কেনিয়ার বেত্তি মুরুঙি। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেভিড মাইকেল ক্রেন। কমিশন ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৪০তম অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করবে।
ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী'র রিপোর্ট।
by ভিওএ [audio mp3=https://av.voanews.com/clips/VBA/2018/07/25/5011016f-770c-4b7e-b77f-b6cdf5203ce6.mp3][/audio]

কে আসলে শিশু?

কে আসলে শিশু?
প্রিয়লাল সাহা, বাংলামেইল২৪ডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে কোনো সমন্বয় না থাকায় শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করতে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। কোনো অপরাধীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তাকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন আদালত। বিভিন্ন আইনে বিভিন্ন বয়সসীমা উল্লেখ থাকায় অভিযুক্তের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া ‍দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ কারণে সবক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য একটি সাধারণ শিশুআইন প্রণয়নে আইন প্রণেতারা বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই মনে করা হয়। এ জন্য একটি পরিপূর্ণ ও সমন্বিত শিশু আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন। যেমন: শিশু আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু। এই আইনের বিধান মোতাবেক ১৫ বছর ৩৬৪ দিন বয়সী ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হবে। শ্রম আইন মোতাবেক ১৪ বছরের কম বয়সীদেরকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনের বিধান মোতাবেক ১৪ বছর বা তদোর্ধ্ব ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত। অর্থ্যাৎ শ্রম আইনে যে প্রাপ্তবয়স্ক শিশু আইনের বিধানে সে শিশু হিসেবেই বিবেচিত হয়। আবার খনি আইনে ১৫ বছরের কম বয়স্ক সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত। এই আইনের বিধান মোতাবেক শ্রম আইনে যে প্রাপ্তবয়স্ক খনি আইনে এবং শিশু আইনে সে শিশু হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া সাবালক আইন এবং চুক্তি আইনের বিধান মোতাবেক ১৮ বছরের কম বয়স্ক মানুষ শিশু হিসেবে গণ্য হবে। শিশু আইন, শ্রম আইন এবং খনি আইনের বিধান মোতাবেক প্রাপ্ত বয়স্করা (যদি ১৮ বছরের কম হয়) সাবালক আইন ও চুক্তি আইনের বিধান মোতাবেক কোনো ধরনের চুক্তি করতে অক্ষম। এ দুই আইনে এর নাবালক। আবার, দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইনে ১২ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার মধ্যে সবাইকে শিশু বলে গণ্য করা হয়। অর্থ্যাৎ ১২ বছর ১ দিন পূর্ণ হলে এ আইনের বিধান মোতাবেক সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। এ আইনে স্বীকৃত প্রাপ্তবয়স্করা শিশু আইন অনুযায়ী ১৬ বছর না হলে, শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছর না হলে, খনি আইন অনুযায়ী ১৫ বছর না হলে এবং সাবালক আইন ও চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর না হলে এসব আইনের আওতাভুক্ত যেকোন কাজে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কারণ এরা শিশু। ফ্যাক্টরি (কারখানা) আইনে শিশুর বয়স ১৬ বছর ধরা হয়েছে। অর্থ্যাৎ ১৬ বছর ১ দিন হলেই যেকোন ব্যক্তি ফ্যাক্টরিতে কাজের যোগ্য। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ফ্যাক্টরি আইনের শিশু এবং শিশু আইনের শিশুর মধ্যে বয়সসীমার পার্থক্য কেবল ২ দিনের। এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর বিধান মোতাবেক ১৬ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু বলেই গণ্য করা হয়েছে। এ আইন ও ফ্যাক্টরি আইনে শিশুর বয়সসীমা একই। জাতীয় শিশু নীতিমালা অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, জাতীয় শিশু নীতিমালার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশু আইন-১৯৭৪ এ শিশু হিসেবে বিবেচ্য। অপরদিকে জাতিসংঘ শিশু সনদে ১৮ বছরের কম বয়স্ক সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘ শিশু সনদকে অস্বীকার করতে পারে না। দেশে প্রণীত ও প্রচলিত এসব আইন অনেক ক্ষেত্রে কার্যত একে অপরকে নাকচ করে দেয়। একটিতে যা স্বীকৃত অন্যটিতে তা অস্বীকৃত। এ অবস্থাকে আইনগত নৈরাজ্য বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞ। উপরোক্ত আইনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সর্বজনীন অনুসরণযোগ্য শিশুর কোনো বয়সসীমা নির্ধারিত হয়নি। একেক আইনে একেক বয়সসীমা শিশুদের বা রাষ্ট্রের কী ধরনের স্বার্থ রক্ষা করে তা জানা না গেলেও নানা ধরনের আইনি জটিলতা যে সৃষ্টি করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া বিভিন্ন আইনে শিশুদের বিভিন্ন বয়সসীমা রাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের অদূরদর্শিতা ও চিন্তার দীনতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। নগর সভ্যতার অব্যাহত অসম বিকাশের ফলে ক্রমবর্ধমান হারে শিশুরা নানামাত্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধে অভিযুক্ত শিশুদেরকে আইনের আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য সমন্বিত শিশু আইন একান্তই আবশ্যক। তাই যথাশীঘ্র বিদ্যমান আইনগুলো ও বাস্তবতার আলোকে জাতিসংঘ শিশু সনদকে বিবেচনায় নিয়ে একটি সর্বজনীন শিশু আইন প্রণয়ন করা দরকার। আইন বিশেজ্ঞরা বলছেন, নতুন আইনটি এমন বিধান রেখে এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যা এই আইনে শিশুর জন্য নির্ধারিত বয়স বাংলাদেশ পূর্বে প্রণীত ও প্রচলিত সব আইনে শিশুর জন্য নির্ধারিত বয়সকে প্রতিস্থাপন করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রণীত যেকোন আইন শিশুদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ আইনকে যাতে অনুসরণ করতে পারে সে দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

চলতি বছর বিশ্বে ১২৮ সাংবাদিক নিহত

image চলতি ২০১৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ১২৮ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন নামের একটি সংগঠন সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গাজার নাম। সম্প্রতি হামাস ও ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর মধ্যে ৫০ দিনের যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতে ১৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিরিয়া। সেখানে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। এরপর পাকিস্তানে নিহত হয়েছেন ১২ জন। image তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইরাকের নাম। দেশটিতে ২০১৪ সালে ১০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের উত্থানের পরই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। এর মধ্যে চারজনই রাশিয়ার। তুরস্কের নামও ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে। দেশটিতে নিহত হয়েছেন দুইজন সাংবাদিক। image অন্যদিকে, অঞ্চলের দিক থেকে সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় প্রথম স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ২০১৪ সালে এ অঞ্চলে ৪৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এরপর এশিয়ায় ৩১ জন, ল্যাটিন আমেরিকায় ২৭ জন, সাব-সাহারান আফ্রিকায় ১৪ জন এবং ইউরোপে নিহত হয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক। image প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বিগত পাঁচ বছরে বিশ্বে ৬১৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যা বছরের হিসাবে গড়ে ১২৩ জন কিংবা সপ্তাহে ২ দশমিক ৪ জন। গত পাঁচ বছরে সাংবাদিকদের জন্য ভয়ংকর পাঁচটি দেশ ছিল সিরিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকো, ইরাক ও সোমালিয়া। image প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইনের মহাসচিব ব্লেইজ ল্যাম্পেন বলেছেন, অনেক মিডিয়া কোম্পানি অধিক ঝুঁকির কারণে সাংঘর্ষিক এলাকাগুলোতে সাংবাদিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। আর ওই সব এলাকার কাভারেজ কম হওয়ায় সেখানকার সমাধান প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে এবং মানবিক সাহায্য কমে যাচ্ছে। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন। (দ্য রিপোর্ট/ডিসেম্বর ১৫, ২০১৪)

কোথায় গেলে ন্যায়বিচার পাবেন লিপি?

কোথায় গেলে ন্যায়বিচার পাবেন লিপি?

ঢাকা: র‌্যাব-পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষের হামলা, অফিস ভাঙচুর, লুটপাট, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কয়েকবার হত্যা চেষ্টা ও ক্রমাগত মিথ্যা মামলায় চরমভাবে নির্যাতিত মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শামীমুন নাহার লিপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। এ অবস্থায় লিপির একটাই প্রশ্ন- আর কোথায় গেলে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে? কে এই শামীমুন নাহার লিপি? কী তার পরিচয়? কেন তিনি বাংলাদেশে এলেন? কেন তিনি ৩০টিরও অধিক মামলার ফরিয়াদি/আসামি? কেন তিনি ইয়াবা মামলার আসামি? সত্যিই কি তিনি মাদকাসক্ত? কেন রামপুরা থানার সাবেক ওসি সাইদুর রহমানের সঙ্গে এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে একটি দৈনিক ও একটি ট্যাবলয়েডে নানা মুখরোচক কথার প্রচার? কেন তিনি আদালত এলাকায় ছুরিকাহত হলেন? এসব বিষয়ে বাংলামেইলের পক্ষ থেকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়। বেরিয়ে আসে চমকে উঠার মতো নানা তথ্য। তার সঙ্গে কথা বলে এবং তার মামলা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পাঠকদের সামনে এ সবের রহস্য তুলে ধরছেন বাংলামেইলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রিয়লাল সাহা।
পর্ব এক: কে এই লিপি? কী তার পরিচয়? পুরো নাম শামীমুন নাহার লিপি। বাবা একেএম রশিদ উদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। মা বেগম জিয়াউন নাহার। মা-বাবার ৫ সন্তানের মধ্যে লিপির অবস্থান তৃতীয়। ঢাকার আজিমপুরের অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে বাবার চাকরির সুবাদে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকলিন থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। স্বাভাবিক নিয়মে ১৯৮৪ সালে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পরপর দুটি প্রমোশন পাওয়ায় দুই বছর আগেই গ্রাজুয়েট হন তিনি। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় তিনি ক্লাসে অনার রোল স্টুডেন্ট হিসাবে স্বীকৃত ছিলেন। পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত আমেরিকান ইউনিভারসিটিতে তিনি লেখাপড়ার জন্য স্কলারশিপ পান। কিন্তু এ সময় তার মা লিপিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র ঠিক করে ফেলেন। অনেকটা জোর করেই তাকে ঢাকায় আনেন। বর লিপির বর্তমান স্বামী এবং তার জীবন যন্ত্রণার জন্য দায়ী পর্দার আড়ালের কুশীলব ড. মাহবুব হোসেন। অবশ্য বিয়ের সময় তিনি ডক্টরেট ডিগ্রিধারী ছিলেন না। বিয়ের পর পরই স্বামীর সঙ্গে লিপি আবারও চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। যে করেই হোক পড়াশোনা শেষ করার সংকল্প করেন তিনি। কিন্তু বাধ সাধেন স্বামী। কারণ লিপি যে ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়েছেন সেখানে পড়াশোনার যোগ্যতা ছিল না মাহবুবের। তাছাড়া মাহবুবের কথা ছিল আগে তিনি প্রতিষ্ঠিত হবেন, তারপর স্ত্রীর পড়াশোনা। বাধ্যগত স্ত্রীর মতো লিপি তাই মেনে নিয়েছিলেন। স্বামীর পড়াশোনা শেষ করার জন্য লিপি একইসঙ্গে ২টি চাকরি করতে শুরু করেন। এখানে একটা কথা বলা দরকার, বিয়ের আগে মাহবুব বলেছিলেন, তার ডক্টরেট করা শেষ হয়েছে। তিনি নিজের পরিবার সম্পর্কেও যথেষ্ট মিথ্যা বলেছিলেন বলে লিপি জানান। বিয়ের চার বছর পর ১৯৮৬ সালের আগস্টে লিপির স্বামী মাহবুব পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এই চার বছর লিপির বাবার পাঠানো অর্থ ও লিপির নিজের দুই চাকরির টাকায় মাহবুব ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এবার লিপি তার পড়াশোনার কথা বললেও মাহবুব তাতে ফের বাধা দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে যথেষ্ঠ বাদানুবাদও হয়। কিন্তু পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী লিপি ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি লাভের জন্য টেক্সাসের সল রস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চলে যান। একই ইউনিভার্সিটিতে ড. মাহবুবও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি পান। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০০৩ সালে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এবং লিগ্যাল স্টাডিজের নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন লিপি। এরপর তিনি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিটি এটর্নি, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি এবং বহু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বেশ ক’টি সার্টিফিকেট ও পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত টেক্সাসে ইপিআই এনভায়রনমেন্ট ইনকরপোরেশনে লিড সুপারভাইজর হিসাবে, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সানফ্রানসিসকোতে পিআরসি এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশনে ডকুমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ডালাসে অ্যাবাকাস এনভায়রনমেন্ট ইনকরপোরেশনে (নিজেদের কোম্পানি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন লিপি। নিজেদের কোম্পানির বিশ্বব্যাপী মার্কেটিংয়ের জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ২০টি দেশ ভ্রমণ করেন। একই সময় তিনি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের ওয়ার্ল্ড কন্টাক্ট পারসন হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজের অংশ হিসাবে দীর্ঘ তিন বছরের চেষ্টায় তিনি বাংলাদেশকে নতুন করে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালে অন্তর্ভূক্ত করেন। এ কাজে তাকে তৎকালীন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম, এইচ কবির ডিউটি ফ্রি শপের কর্ণধার রানা শফিউল্লাহসহ আরো অনেকেই বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন লিপি। তিনি বাংলাদেশে ছায়ানটের ছাত্রী ছিলেন। তার গাওয়া বহু গান ভয়েস অব আমেরিকা থেকে সম্প্রচার হয়েছিল। তিনি প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং রোনাল্ড রিগ্যানের সময় মোট তিনবার একমাত্র বাংলাদেশি নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নিমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই ছেলের মা। তার বড় ছেলে সাফায়েত ফারাইজির বয়স ২৮ এবং ছোট ছেলে সানজিয়ান ফারাইজির বয়স ২০। বড় ছেলে সাফায়েত গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন। ছোট ছেলে সান জিয়ান ইউটি অপটিন ইউনিভারসিটিতে তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। এই হলো লিপির সংক্ষিপ্ত পরিচয়। দ্বিতীয় পর্বে থাকছে কেন তিনি বাংলাদেশে এলেন? কীভাবে সমস্যার জালে জড়ালেন? র‌্যাব কেন তার বাসায় অভিযান চালালো? কেন তাকে জেলে থাকতে হলো ৪২ দিন? কেন দেশে আসার পর তাকে পক্ষে-বিপক্ষে ৩০টিরও অধিক মামলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে? প্রতিপক্ষ কেন তার বিরুদ্ধে মামলা করছে? কেন তার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে তাকে মেরে ফেলতে চাইলো? তার স্বামী কি সত্যি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন? তার স্বামী কেন এক স্টেট থেকে আরেক স্টেটে ঘন ঘন স্থান বদল করেন? কেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ড. মাহবুবকে ভায়োলেন্ট ম্যান হিসেবে উল্লেখ করে আদেশ দিয়েছেন? আরও অনেক কিছু ...। কেন লিপি বাংলাদেশে এলেন? পারিবারিক সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাবার পেনশনের টাকা তুলে মাকে সহায়তা করা, নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘হোপস ডোর বাংলাদেশ’- এর অফিস দখলকারীদের উচ্ছেদ করা এবং স্বামী ড. মাহবুব হোসেনের গোপন দ্বিতীয় বিয়ের (প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া) কাবিননামা নিয়ে যাওয়ার জন্য শামীমুন নাহার লিপি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসেন। এসব কাজের মধ্যে পারিবারিক কাজগুলো করার জন্য লিপির মা তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। কারণ পারিবারিক কাজগুলো তার নেশাগ্রস্ত ভাইদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারছিলেন না মা। কিন্তু যখনই বাড়ি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন তখনই উচ্ছেদ হওয়া দখলদারদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তার ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন, ভাই আরিফুর রহমান ও অন্যরা মিলে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। শুরু হয় হামলা, মামলা, নির্যাতন এবং জেল জুলুমের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

কীভাবে মামলার জালে জড়ালেন লিপি?

২০১০ সালের ২ এপ্রিল লিপি তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামী ড. মাহবুব হোসেনের গোপনে করা দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা সংগ্রহের জন্য শ্বশুরের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে যান। সঙ্গে নিয়ে যান সহোদর আরিফুর রশিদ ও ভাইয়ের স্ত্রী দুরদানা রশিদকে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী লিপিকে বাসার গেটে (লিপির শ্বশুরের মোহাম্মদপুরের বাসা) রেখে সটকে পড়েন। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা খোলা হয়। বাসায় ঢোকার পরপরই বাসার ল্যান্ডফোনে একটি কল আসে। এরপর সবাই কানাঘুষা করতে শুরু করেন। দৃশ্যপটে আসেন তার দেবর মোশাররফ হোসেন শানু (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব.)। তিনি লিপিকে বেডরুমে গিয়ে বসতে বলেন। লিপি তখন তার বেডরুমে (স্বামীসহ লিপি এই রুমেই থাকতেন) গিয়ে বসেন। ওই রুমের দুটি দরজা। রুমে ঢুকেই তার দেবর শানু একটি দরজা বন্ধ করে দেন। অপর দরজার সামনে দাঁড়ান তার ভাশুর মাহমুদ হোসেন। ভাশুরের হাতে একটা হকিস্টিক ছিল তখন। লিপি জানান, এ সময় হঠাৎ করেই লিপির মাথার পেছন দিকে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করেন তার ভাশুর। মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে দেখতে পান। ভাই ও ভাবি তাকে শ্বশুরবাড়ির গেটে রেখে সটকে পড়ার পর তিনি ওই বাসায় ঢোকার আগে পরিচিত দুইজনকে ফোন করে ডেকে নিয়েছিলেন। তারা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরে কান্নাকাটি, মাগো বলে চিৎকার এবং ভাঙচুরের শব্দ শুনে তারা ওই বাসায় ঢোকেন এবং রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় লিপিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু ওসি মো. মাহবুব ভুঁইয়া মামলা নিতে অস্বীকার করেন। পরপর ৬ বার থানায় যাওয়ার পরও মামলা না নেয়ায় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ২৫নং বেইলি রোডের বাড়িতে যান। একদিন রাত ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে মন্ত্রী তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে থানায় ফোন করে মামলা নিতে বলা হয়। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলার পরও মামলা নেয়নি থানা। এরপর তিনি আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সঙ্গে দুইবার (২০১০ সালে) দেখা করেন। নির্যাতনের রক্তাক্ত ছবি দেখে আইনমন্ত্রী দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যখন থানা মামলা নেয় না, আমাদের কথায় হবে কি না কে জানে? আপনি বরং কোর্টে গিয়ে মামলা করেন।’ এর মধ্যে তিন মাস পার হয়ে যায়। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নারী নির্যাতন সেলের প্রধান পরিচালক দিনা হকের সঙ্গে দেখা করেন। দিনা হক লিপির সব ডকুমেন্ট, মেডিকেল রিপোর্ট (ওসিসি ডিপার্টমেন্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ) এবং নির্যাতনের রক্তাক্ত ছবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। প্রধানমন্ত্রী সব দেখে এক ঘণ্টার মধ্যে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়কে এবং মামলা দায়েরের পর প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করার জন্য দিনা হককে নির্দেশ দেন। এই মামলা দায়েরের পর লিপির দেবর মোশারফ হোসেন শানু, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বামী মাহবুব হোসেন, ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন এবং তাদের সঙ্গী অন্যরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে যে কোনো উপায়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানুয়ের কাছে কলঙ্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে- জানান লিপি। ২০১০ সালের ২ অক্টোবর লিপিদের বাড়ির ভাড়াটে রশিদ হেলালি ফোন করে লিপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলাটিতে ৩ অক্টোবর পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে এবং র‌্যাব দিয়ে তাকে মাদক মামলায় জড়িয়ে জেলে ঢোকানো হবে। রশিদ হেলালী লিপিদের বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই বাড়ির কয়েকটি কক্ষ দখল করে ডেসটিনির কাছে অবৈধভাবে ভাড়া দেন। লিপি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসার পর তাকে কক্ষগুলো ছেড়ে দিতে বললে শুরু হয় বিরোধ। বাড়ির ভাড়াটে রশিদ হেলালির হুমকি পাওয়ার (ফোন মারফত) পর ওইদিনই লিপি রামপুরা থানায় গিয়ে হুমকি ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে একটি জিডি করেন, যার নম্বর ১০০, তারিখ-২/১০/২০১০। লিপির বক্তব্য অনুযায়ী, ওইদিন বিকেলে লিপিদের খিলগাঁওয়ের বাসার নিচতলায় তার বড় ভাই আরিফুর রশিদের ফ্ল্যাটে বসে ১৫/২০ জন মিলে র‌্যাব দিয়ে লিপিকে ধরানোর জন্য মিটিং করে। লিপি জানান, ওই মিটিংয়ের আয়োজক ও মধ্যমণি ছিলেন তারই ফুফাতো ভাই ফুয়াদ হোসেন। ওই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুয়াদ হোসেন ও রমজান আলী মিলে লিপির মাকে ব্ল্যাকমেইল করে বাদী সাজিয়ে ২০১০ সালের ৪ অক্টোবর চুরির অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওইদিনই আদালত তড়িঘড়ি করে ওয়ারেন্ট জারি করে লিপির বিরুদ্ধে। লিপি জানান, ওই ওয়ারেন্ট থানায় পৌঁছানোর আগেই ওয়ারেন্টের ফটোকপি নিয়ে ফুয়াদ হোসেন, লিপির বেকার বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও পুরনো ভাড়াটিয়া রশিদ হেলালি ৫০/৬০ জন র‌্যাব সদস্যকে নিয়ে এসে রাতের বেলায় গ্রিল ভেঙে বাড়িতে ঢুকতে শুরু করে। এরপর তারা লিপির দোতলার ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। দরজার পিক হোল দিয়ে বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও তার পেছনে র‌্যাব সদস্যদের দেখে ‘দরজা ভাঙতে হবে না, আমি দরজা খুলে দিচ্ছি বলেই’ তিনি দরজা খুলে দেন। ভেতরে ঢুকেই র‌্যাবের মেজর রাকিব ধাক্কা দিয়ে লিপিকে ফ্ল্যাটের মেঝেতে ফেলে দেন। এর ফলে তার ডান হাতের তর্জনীর গোড়ার দিক ফেটে যায়, সে আঘাতের চিহ্ন তিনি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। মেঝেতে পড়ে থাকা লিপির ওপর দিয়েই লাফিয়ে লাফিয়ে র‌্যাবের অপর সদস্যরা ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকতে থাকে। লিপি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে মেজর রাকিব আবারও তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমি কি ক্রাইম করেছি? আপনারা কেন ঢুকেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই মেজর রাকিব বলেন, ‘ক্রাইমটা বানাতে কতক্ষণ?’ এ সময় লিপি জানতে চান, আপনাদের কাছে কি কোনো ওয়ারেন্ট আছে? আপনারা কী চান? মেজর রাকিব তখন বলেন, ‘না, কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট নেই, তবে চুরির মামলার ওয়ারেন্ট আছে এবং আপনার মা সেই মামলার বাদী।’ চুরির মামলার ওয়ারেন্ট র‌্যাবের কাছে কেন? একটু আগেও তো রামপুরার ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কই তিনি তো কোনো ওয়ারেন্টের কথা আমাকে বলেননি। র‌্যাবের রাকিব বলেন, মামলাতো থানায় হয়নি, মামলা হয়েছে কোর্টে। থানা জানবে পরে। থানার ওসিকে নিয়ে আপনাকে জড়িয়ে অনেক আজেবাজে কথা আমরা আপনার মা ও ভাইয়ের কাছে শুনেছি। থানার ওসির সঙ্গে আপনার কী এত সম্পর্ক? কথায় কথায় এত থানা পুলিশের কথা বলেন কেন? এরই মধ্যে রামপুরা থানার দুই পুলিশ অফিসার যথাক্রমে এসআই রফিক এবং তার আরেকজন সঙ্গী ঘটনাস্থলে আসেন। তারা র‌্যাবের রাকিবের কাছে জানতে চান, স্যার আপনারা এখানে কী করছেন? মেজর রাকিব তখন উল্টো পুলিশ অফিসারদের বলেন, আপনারা এখানে এসেছেন কেন? এসআই রফিক বলেন, স্যার আমি আসামি আরিফুর রশিদকে ধরতে এসেছি। এলাকাবাসী তার নামে একটা চাঁদাবাজির মামলা করেছে। মেজর রাকিব তখন এসআইকে সরকারি কাজ পরে করতে বলে নিচে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর মেজর রাকিব তল্লাশির জন্য আরিফুর রশিদকে লিপির বেডরুম দেখিয়ে দিতে বলেন এবং দুইজন লোকাল সাক্ষী হাজির করতে বলেন। মেজর রাকিব, আরিফুর রশিদ ও অন্যান্যদের সঙ্গে লিপিও তার বেডরুমে ঢোকেন। র‌্যাবের রাকিব তখন লিপিকে বলেন, ‘আপনার নাকি অপারেশন করা হয়েছে এবং আমরা জানি যে আপনি নিয়মিত ওষুধ খান। দেখি আপনার আমেরিকান ওষুধের ব্যাগটা।’ লিপি যখন মেজর রাকিবের দিকে তাকান, তখন আরিফুর রশিদ মেজর রাকিবের হাতে ছোট একটা প্যাকেট দেন এবং মেজর রাকিব লিপির বেডের তোশক উল্টে তার নীচে ওই প্যাকেটটা নিক্ষেপ করেন। এরপর মেজর রাকিব বলেন, আরিফ ভাই কাজ শেষ, আপনি দুইটা সাক্ষী নিয়ে আসেন। কথামতো আরিফ নিচে গিয়ে দর্জি দোকানি সতীনাথ, বাড়ির পাশের ফুলমিয়া এবং অন্য আরেকজন দোকনিকে লাথি মারতে মারতে নিয়ে আসেন। তিনজনের মধ্যে ফুলমিয়া ছাড়া অপর দুইজনের মধ্যে একজনের কাছ থেকে টিপসই ও আরেকজনের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অপরজন ফুলমিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেললেও আমি লিপি আপার বিরুদ্ধে মিথ্যা কোনো কিছুতে সাক্ষী দিতে পারব না। ত্রিশ বছর আমি এ বাড়িতে কাজ করেছি। আমি লিপি আপার বাবার নুন খেয়েছি। আমাকে মারেন ধরেন যা কিছু করেন, আমি কোনো মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারুম না।’ মেজর রাকিবের সঙ্গীয় অপর এক র‌্যাব সদস্য ফুল মিয়াকে কয়েকটা লাথি মেরে সেখান থেকে বের করে দেয়। এরপর মেজর রাকিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা লিপির ওষুধগুলোও সিজার লিস্টে অন্তর্ভূক্ত করেন। তারপর লিপিকে বলেন, ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। সঙ্গের চার নারী র‌্যাবকে বলেন, ওনাকে বের করো। এই মেকিং গেম চালানোর সময় বারবার সিও রফিক নামে র‌্যাব-৩ এর একজন কর্মকর্তা ফোন করতে থাকেন। রাত আটটায় এই সাজানো অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় রাত এগারটায়। সর্বশেষ ফোনের জবাবে মেজর রাকিব বলেন, স্যার অপারেশন শেষ আমরা ওনাকে নিয়ে যাচ্ছি। রাতের স্লিপিং গাউন পরা লিপি মেজর রাকিবের কাছ থেকে একটু সময় চেয়ে নিয়ে পোশাক পাল্টে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধপত্র ও আমেরিকান পাসপোর্ট সঙ্গে নেন। এরপর মেজর রাকিব লিপির ব্যাগ তল্লাশি করেন। লিপির আমেরিকান পাসপোর্ট দেখে তিনি ভড়কে যান এবং বলে উঠেন ... মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শামীমুন নাহার লিপিকে নিয়ে প্রতিবেদনের তিন পর্বে লিপির ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে তাদের অনেকেই ফোনে, ইমেইলে এবং বাংলামেইল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ায় পেছন থেকেও জড়িয়েছেন। এরা হলেন- লিপির বড় ভাই আরিফুর রশিদ ও তার দুই সঙ্গী, লিপির ছোট বোন ডেইজি হাসান আইরিনের মেয়ে নাজিয়া, লিপির দেবর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশারফ হোসেন শানু (লিপি নিজের রক্তাক্ত ছবিসহ শানুর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। লিপিকে হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত ওই অভিযোগের পর শানুকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়)। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিক্রিয়া জানানোর কর্মকাণ্ডে রসদ যুগিয়েছেন লিপির সাবেক স্বামী ড. মাহবুব হোসেন। এছাড়া এমন কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে যারা হয়তো নিজেরা জড়িয়েছেন না হলে যারা প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা তাদের নাম ব্যবহার করেছেন। তারা হলেন- লিপির মা বেগম জিয়াউন নাহার ও লিপির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভাই আসিফুর রশিদ। এদের মধ্যে লিপির বড় ভাই দুই সঙ্গীকে নিয়ে বাংলামেইল কার্যালয়ে এসে এই ধারাবাহিক সংবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি এ সংবাদের প্রতিবেদককে তাদের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল না করলে ভালো থাকতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন। অবশ্য মিউচ্যুয়াল বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অবশ্য বাংলামেইল কার্যালয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা কথা বলার পর তার সুর অনেকটা নরম শোনা গেছে। এরপর তিনি লিখিত প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বিভিন্ন মামলার কাগজপত্রের ফটোকপি দিয়ে গেছেন। একইসঙ্গে বলে গেছেন, লিপি মানসিক ভারসাম্যহীন, দুশ্চরিত্রা এবং মামলাবাজ মহিলা। রাজধানীর ততোধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তিনি লিভটুগেদার করতেন, এখনও করেন। এ তালিকায় মন্ত্রী এমপিও রয়েছে। নিজের বোনের নামে এ ধরনের অভিযোগ তোলা কি ভাইয়ের মুখে শোভা পায়? এমন প্রশ্নের তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। লিপির বড় ভাই বাংলামেইলে অবস্থানের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরেক ভাই মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, একতরফা নিউজ করার জন্য প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করা হবে। এছাড়া বাংলামেইলের সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি মানহানি মামলা করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, লিপি একজন মামলাবাজ মহিলা। সে মামলা দিয়ে আমাদের পুরো পরিবার ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনিও লিপির চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন। এরপর গত ৫ আগস্ট লিপির দেবর ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানু (বাধ্যতামূলক অব.) আমাদের প্রতিদেককে ফোন করেন। প্রতিবেকের সঙ্গে তার কথোপকথন: ৫ আগস্ট ইফতারের ১০/১৫ মিনিট আগে লিপির দেবর ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানু আমাকে ফোন করেন। কলটি আমিই ধরেছি কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে তিনি নিজের পরিচয় দেন। তারপর বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। আপনি আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন। এটি একটি সাবজুডিস ম্যাটার। এ ব্যাপারে আমাদেরও তো কথা আছে। আপনি যাকে নিয়ে নিউজ করেছেন, তার সঙ্গে আমার বড় ভাইয়ের আরও ২০ বছর আগেই ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমরা তো সমাজের সম্মানিত মানুষ। এভাবে কথা না বলে যে রিপোর্ট করলেন, সেটা তো একপাক্ষিক নিউজ হলো।’ তার কথা শেষ হলে আমি তাকে বললাম, আপনি কি পর্বগুলো পড়েছেন? উনি বললেন, পড়েছি, পড়তেছি। বললাম, পড়েন। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিটি লাইন, বাক্য এমনকি শব্দ সম্পর্কেও আপনার তথ্য-প্রমাণভিত্তিক আপত্তি আমরা গ্রহণ করব। প্রকাশিত সংবাদের যে বা যেসব অংশ আপনার দৃষ্টিতে অসত্য, তা কেন অসত্য তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে লিখিত আপত্তি দিতে পারেন। আপনার বক্তব্যও আমরা আগামী পর্বগুলোতে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করবো। এরপর লিপির বড় ভাই আমার সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা তা জানতে চান। বললাম, না। তিনি বললেন, ‘দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল।’ মোশারফ হোসেন শানুর এ কথা প্রমাণ করে, লিপির সঙ্গে ডিভোর্স হলেও তার ভাইদের সঙ্গে তাদের ‘অস্বাভাবিক’ ধরনের গভীর সম্পর্ক এবং যোগাযোগ রয়েছে। তিনি কার কাছ থেকে আমার মোবাইল নম্বর পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি সরাসরি এড়িয়ে গেলেও আমি তাকে অফিসে আসার আহ্বান জানাই এবং বলি, মুখোমুখি বসে এ বিষয়ে আপনার কথা শুনতে চাই। তিনি সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে আমার ইমেইল ঠিকানা চান। আমি তাৎক্ষণিক আমার মেইল ঠিকানা পাঠিয়ে দেই। পরদিন ৬ আগস্ট তিনি আমাকে ৫টি মেইল পাঠান। এগুলোতে তিনি বেশ কিছু কাগজের ফটোকপি স্ক্যান করে যুক্ত করে দেন। এরপর ৮ আগস্ট সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে তিনি (মোশারফ হোসেন শানু) দ্বিতীয়বার আমাকে ফোন করেন। আমি তাৎক্ষণিক রিসিভ করতে না পারায় ১১টা ৪৩ মিনিটে তাকে কল ব্যাক করি। ওইদিন তিনি প্রকাশিত সংবাদকে উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আমি আবারও প্রতিবেদনে অসত্য কিছু থাকলে তার বিপক্ষে বক্তব্য জানানোর অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি বারবার উপন্যাস উপন্যাস বলতে থাকেন। আমি তাকে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সহকারে যে কোনো আপত্তি নিয়ে অফিসে আসার জন্য আহবান জানাই। আমি তাকে এও বলি, আপনার পাঠানো মেইলগুলো লিপির ইমেইলে পাঠিয়েছি, এসব বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য। এরপর ফোন লাইনটি টেকনিক্যাল কোনো কারণে হয়তো কেটে যায় নয়তো অপর প্রান্ত থেকে কেটে দেয়া হয়। মোশারফ হোসেন শানুর পাঠানো মেইল থেকে দেখা গেছে, কিছু কিছু মেইল প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাজিয়া নামে কারো মেইলে পাঠিয়েছেন ড. মাহবুব হোসেন। (অবশ্য লিপি এই নাজিয়াক তার বাংলাদেশে থাকা বোন ডেইজি হাসানের মেয়ে হিসেবে সনাক্ত করেছেন)। তারপর নাজিয়া সেই মেইলগুলো মোশারফ হোসেন শানুর কাছে প্রিন্ট করে পাঠিয়েছেন অথবা ফরোয়ার্ড করেছেন এবং অবশেষে শানু সেই মেইলগুলো বাংলামেইল প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানুর পেছনের লোকগুলোকে বাংলামেইলের অনুসন্ধানী দৃষ্টির আড়াল করতে দেয়নি। ইতোমধ্যে ব্রি. জে. মোশারফ হোসেন শানুর (বাধ্যতামূলক অব.) পাঠানো মেইলে সংযুক্ত ফটোকপি থেকে স্ক্যান করা দলিলাদির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস থেকে লিপির পাঠানো বক্তব্য আসতে শুরু করেছে। বাংলামেইলও সেসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করছে, যা শিগগিরই পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা : আড়ালে ‘বড় ভাইরা’

নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা : আড়ালে ‘বড় ভাইরা’

আনিস রায়হান
Toki Murder Case - Ekush.info নারায়ণগঞ্জে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। জাতীয় রাজনীতির নানা ইস্যু একটাকে কিছুটা চাপিয়ে দিতে না দিতেই কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটছে নতুন কোনো ঘটনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই অংশের দ্বন্দ্ব, বামপন্থি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের সরাসরি আওয়ামী লীগের একাংশের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং ত্বকী হত্যাকাণ্ড ঘিরে সারা দেশের মানুষের উদ্বেগ এখানকার রাজনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মুখোমুখি পক্ষগুলো উত্তেজনার বশে একের পর এক এসব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ক্ষমতার খেলা। ঘটনা যাই ঘটুক জন্ম দিচ্ছে প্রচণ্ড উত্তেজনার। মানুষ উত্তেজিত, আতঙ্কিত। কিন্তু দিন শেষে সবকিছু গিয়ে এক নদীতেই মিলছে। তা হচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে শামীম ওসমানকে। কিছুদিন আগেই ১০ দিনের মধ্যে তিন জনের গুম হওয়ার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কেউ ভেবেছিল মাঠ গরম করে নিজের পক্ষে নিতে শামীম ওসমান এসব করাচ্ছেন। কেউ মনে করেছেন এগুলো আসলেই প্রশাসনের কাজ। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানের দিকেই গেল। ঘটনাবলীর মোড় হঠাৎ ঘুরিয়ে দিয়েছে আসামি লিটনের জবানবন্দী। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ডিবি পুলিশ গত ২৯ এপ্রিল লিটনকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে লিটন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ছিল। গত ১৫ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর লিটনকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। ১৪ দিন পর লিটনকে ত্বকী হত্যা মামলায় আটক না দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হওয়া একটি মাদক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় লিটনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখানো হয়। তবে কোথা থেকে ও কখন তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১১-এর এএসপি রবিউল ইসলাম। Toki-Ekush.info২৯ জুলাই সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে লিটনের দেয়া জবানবন্দীটি নিয়ে এখন সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে। স্থানীয় কিছু সূত্র জানায়, লিটন জবানবন্দীর আগে স্বীকারোক্তিতে অনেকের নাম বলেছে। যা জবানবন্দীতে আর আসেনি। জবানবন্দীতে লিটন বলেছে, সে বন্ধু রাজিবের খোঁজে রিপন সাহেবের বাড়িতে যায়। জাপা নেতা রিপনের বাড়িতে গিয়ে সে অফিসের একটি কক্ষে ত্বকীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পেটাতে দেখে। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হাজি রিপন। তার বাড়িতেই ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। তিনি নিজেকে জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও নগর জাপার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার ছেলে সালেহ রহমান সীমান্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইউসুফের জবানবন্দীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা যে কয়জনের নাম এসেছে তারা হচ্ছেন- রাজিব, অপু, ভ্রমর, কালাম শিকদার, সীমান্ত, সে নিজে ও অজ্ঞাত আরও একজন। এরা সবাই ওসমান পরিবারের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। লিটন জবানবন্দী দিতে গিয়ে বলে, ওই ৫-৭ যুবকের সঙ্গে সে নিজেও ত্বকীকে মারধর করে। এ সময় ত্বকী অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়েছিল। এক পর্যায়ে কালাম শিকদার ত্বকীকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর লাশ ফেলে দেয়ার জন্য একটি বড় ব্যাগ আনা হয়। ওই ব্যাগে ত্বকীর লাশ ভরে একটি প্রাইভেট কারে শহরের কালীরবাজার দেলোয়ার টাওয়ারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় দেলোয়ার টাওয়ারের পূর্ব পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি নৌকা অপেক্ষায় ছিল। ওই নৌকায় লিটন ও সীমান্তসহ ৩ জন ত্বকীর লাশ নিয়ে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তীরে গিয়ে ব্যাগ থেকে লাশ ফেলে দিয়ে চলে আসে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, জবানবন্দীতে অনেক কিছু চেপে গেলেও এর আগে স্বীকারোক্তি দেয়ার সময় লিটন একজন বড় ভাইয়ের কথা বলেছিলেন। সেখানে সে সবার নামই স্বীকার করে। কিন্তু জবানবন্দীতে তা আর স্বীকার না করায় আড়ালে চলে গেছেন বড় ভাইরা। গত ৬ মার্চ শহরের পুরাতন কোর্টের বাসা থেকে বের হয়ে ত্বকী নিখোঁজ হয়। পরে ৮ মার্চ সকালে তার লাশ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তীর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী কারও নাম উল্লেখ না করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। তবে তার অভিযোগ, শামীম ওসমান তার ভাই, ছেলে ও তাদের সংশ্লিষ্ট লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। লিটনের জবানবন্দীর পর একটু চাঙা হয়েছেন শামীম ওসমান। তার দাবি লিটনের দেয়া জবানবন্দীর কোথাও শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজের নাম নেই। শামীম ওসমানের সমর্থকরা এই জবানবন্দীর ওপর ভিত্তি করে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন এ থেকে প্রমাণিত হয় এতদিন লাশের রাজনীতি চলছিল। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ক্যাঙ্গারু পারভেজকেও হয়ত আটক করা হয়ে থাকতে পারে। এর আগে এক মাসে ক্ষমতাসীন দলের তিনজন গুম হয়। প্রথমেই গুম হওয়া যুবলীগ ক্যাডার ক্যাঙ্গারু পারভেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে না হতেই আবার একই গ্রুপের আরও দুই জনের গুমের অভিযোগ করে তাদের পরিবার। এদের মধ্যে একজন জাতীয় পার্টির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির নামধারী নেতা এবং অপরজন হলেন স্থানীয় এমপি নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গুম হওয়া প্রত্যেককেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ধরনও ছিল একইরকম। কিন্তু পরবর্তীতে লিটনের জবানবন্দীর আগ পর্যন্ত কোনো সংস্থাই গুম হওয়াদের আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। গত ৬ জুলাই বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ থেকে ডিবি পরিচয়ে ১০-১২ অস্ত্রধারী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া পারভেজকে (ক্যাঙ্গারু পারভেজ) তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পারভেজের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী সোহানা আক্তার। এ ঘটনায় সেদিন সন্ধ্যায় পারভেজের স্ত্রী গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পারভেজ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় একটি চার্জশিটে অভিযুক্ত। গত ১৫ জুন বিকেলে ত্বকী হত্যার আরেক সন্দেহভাজন আটক ইউসুফ আহমেদ লিটনকে একই পন্থায় র‌্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের রাস্তার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। লিটন ত্বকী হত্যায় উচ্চ আদালতে ৬ মাসের জামিন নিয়ে সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে বের হয়। এ সময় দুটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাসে থাকা সাদা পোশাকধারী ১০-১২ জন অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায় লিটনকে। পরবর্তীতে বিষয়টি থানায় অভিযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১-এর কর্মকর্তারা লিটনকে আটকের কথা অস্বীকার করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত র‌্যাবই লিটনকে আদালতে হাজির করেছে। তবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে অনেক পরে। তবে ১৫ জুন সন্ধ্যায় ফের স্ত্রীর সামনে থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ৭-৮ পোশাকধারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলে আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমরকে তুলে নিয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ভ্রমরের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পরবর্তীতে কোনো সংস্থাই ভ্রমরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। এ থেকে প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসন এদের তুলে নিচ্ছে নাকি সত্যি এরা গুম হচ্ছে। একের পর এক গুমের মতো ঘটনা ঘটলেও নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ এটাকে খুব একটা গায়ে লাগাচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকেই মনে করেন, যারা গুম হচ্ছে সবাই শামীম ওসমান গ্রুপের। সাম্প্রতিক অবস্থায় চাপের মধ্যে থাকা শামীম ওসমান নিজেকে চাপমুক্ত করতে এ কৌশল নিয়েছেন। বিরোধীদের এই ইস্যুতে শায়েস্তা করে নিজের ইমেজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। শহরের আইলপাড়ার বাসিন্দা বঙ্কিম প্রামানিক বলেন, ‘ক্যাঙ্গারু পারভেজ হলো শামীম ওসমানের সর্বশেষ সেনাপতি। তাকে হারিয়ে প্রথমে খুব উত্তেজনা ছড়িয়েছিল শামীম ওসমান। কিন্তু এখন কেমন যেন মিইয়ে গেছে। এমনকি পারভেজকে নিয়ে তার পরিবারেও আহাজারি নেই। তার স্ত্রী সোহানা প্রথমে রাস্তাঘাটে বের হলেও এখন এ নিয়ে একদম চুপ। আমার মনে হয়, পুরো ঘটনা সাজানো ছিল। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর হয়ত ধমক টমক দিয়েছে। তাই এখন সব চুপ।’ উত্তর চাষাঢ়া এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মী হেলাল বলেন, ‘পারভেজ গুম হওয়ার দুদিন পর শামীম ওসমান বিদেশ থেকে ফিরে শহরে হুঙ্কার দেন, আইভী-রাব্বি এ ঘটনায় দায়ী। তিনি ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে পারভেজকে ফিরে পাওয়া না গেলে প্রধানমন্ত্রী দেশে এলে তার পা ছুঁয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে গুডবাই জানাবেন। কিন্তু রাজনীতিকে গুডবাই তিনি এখনো জানাননি। আমার ধারণা তাদের পরিকল্পনা কাজে লাগেনি। তাই এখন তারা চুপ করে নতুন পরিকল্পনা করছে। এখন পারভেজকে কিভাবে উপস্থাপন করবে তা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।’ নারায়ণগঞ্জের অনেকের মতে, ক্যাঙ্গারু পারভেজ বা অন্য যারা গুম হচ্ছে, এদের গুম হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। অপরাধী হিসেবে পুলিশ এদের ধরে নিয়ে যেতে পারে। যদি পুলিশ তাদের না নেয়, তাহলে নিজের লোকদের গুম করে শামীম ওসমান নাটক সাজাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ উদীচীর জেলা সংসদের সভাপতি জাহিদুল হক ভূইয়া দিপু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান কিছুটা চাপের মধ্যে আছেন। তার পরিবারের ওপর মানুষের ঘৃণা বাড়ছেই। ত্বকী হত্যার পর তার কিছু না হলেও তার ওপর চাপটা রয়েছে। সামনে নির্বাচন আসছে। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের পুরো পরিবার বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। তাই পরিস্থিতি নিজের পক্ষে আনার জন্য তার কিছু করা দরকার ছিল। মাদকাসক্ত ক্যাঙ্গারু পারভেজ যখন মাদকাসক্তি পুনর্বাসন থেকে বাড়ি ফিরছিল তখন তাকে গুমের নাটক সাজিয়ে দলের মধ্যে নিজের অবস্থানটা কিছুটা পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি। ভেবেছিলেন মানুষের সহানুভূতি মিলবে। কিছুই মেলেনি। তাই একের পর এক নাটক সাজিয়ে যাচ্ছেন।’ গুম নাটকের পাশাপাশি অনেকের ধারণা যাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তারা কেউ কেউ মারা পড়তে পারেন। ওসমান পরিবার অপরাধের সাক্ষী রাখে না। তাই এদেরকে খুন করা হচ্ছে। নগরীর বন্দর এলাকার একজন শ্রমিক বলেন, ‘তারা খুব ডেঞ্জারাস। দলের লোক হোক আর যেই হোক কাউরে ছাড় দেয় না। কাজ শেষ হইলেই মারি ফালাইব।’ জনগণের এ আশঙ্কা আসলে উস্কে দিয়েছে অতীতের কিছু ঘটনা। ওসমান পরিবারের নির্দেশে শহরে এ পর্যন্ত বেশ কটি হত্যাকাণ্ড ঘটার অভিযোগ আছে। এমনকি পরে হত্যাকারী গুম হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মানুষের ধারণা, সাক্ষী না রাখার জন্য ওসমান পরিবারের লোকজনই খুন করেছে হত্যাকারীদের। স্থানীয় অনেকেই ব্যবসায়ী আশিক ইসলাম হত্যাকাণ্ডের কথা জানিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালের ১১ মে আশিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার শামীম ওসমানের সহযোগী সিজার ও সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। নিখোঁজ হওয়ার দু-একদিন পর আশিকের লাশ পাওয়া যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ সিদ্দিক। ২০১২ সালে মিঠু নামের আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে সিজার ও আমিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। মিঠু হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর কক্সবাজারে একটি হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনের লাশ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের মতে, আগের মতোই এবারও কাজ হচ্ছে। ত্বকী হত্যার ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ক্যাঙ্গারু পারভেজ অন্যতম আসামি। শামীম ওসমান ত্বকী হত্যাকাণ্ড থেকে নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে এই নাটক সাজিয়েছেন। মানুষের মধ্যে তাই গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ খুন হওয়ার বধ্যমূল ধারণা জন্মেছে। প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে লাশ পাওয়ার। মানুষ ছুটে যাচ্ছে নদীর পাড়ে। বন্দরের আশেপাশে হঠাৎই জমছে মানুষের জটলা। এরকম অন্তত ছয়টি ঘটনা ঘটেছে গত কয়েকদিনে। ৮ জুলাই সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, যুবলীগ ক্যাডার পারভেজের লাশ পাওয়া গেছে। কেউ বলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে, কেউবা নরসিংদী; আবার কেউবা ধলেশ্বরী নদীতে পারভেজের লাশ পাওয়ার খবর দেন। কিন্তু কারও দেয়া তথ্যেরই কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ১০ জুলাই রটে যায়, একটি সেপটি ট্যাঙ্কের ভেতর লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে এরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীরা বলছেন, মানুষের বদ্ধ্যমূল ধারণা, এদের মেরে ফেলা হয়েছে। এজন্যই লাশের গুজব রটছে প্রতিদিন। পাল্টাপাল্টি দুই পক্ষ IVE-shamim-Ekush.infoক্যাঙ্গারু পারভেজ গুমের অভিযোগের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি উত্তপ্ত। পারভেজ গুমের পর পরই তার স্ত্রী মেয়র আইভী ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বিকে দায়ী করে বিবৃতি দেন। এরপর থেকে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মহড়া ও উত্তেজনা ছড়ানো। শামীম ওসমান হুঙ্কার দেন বিরোধীদের বাড়িঘরের ইট-সুরকি খুলে নেবেন। এর জবাবে আইভী বলেন, শামীম অপরাজনীতি শুরু করেছে। রফিউর রাব্বী পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো বাড়িতে যদি হামলা হয়, কারো বাড়ি থেকে যদি কাউকে তুলে আনার চেষ্টা হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ নিয়ে সন্ত্রাসীদের জ্যান্ত কবর দেয়া হবে। এর পরপরই শামীম ওসমান জানান দেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামবেন। যদিও তার এ হম্বিতম্বি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অনেকটাই বন্ধ। যদিও তার পক্ষে আওয়ামী লীগের একাংশ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা বক্তব্য দিয়ে চলেছে বামপন্থিরা এবং আইভীর পক্ষ থেকেও জোর গলায় বক্তব্য রাখছেন অনেকে। এসব পরিস্থিতি একটু মিইয়ে আসতেই এলো লিটনের জবানবন্দী। লিটনের জবানবন্দীর ফলে শামীম ওসমান পক্ষ আবার কিছুটা চাঙা হলো। এই পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হলো এই শেষ না। আরও তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বের হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলাফল, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। কিছু একটা ঘটবে! সাধারণ মানুষ, এতসব ঘটনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে খেই হারিয়ে ফেলছেন। প্রতিদিনই বদলাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। কোথা থেকে কি ঘটতে যাচ্ছে কেউই কিছু বুঝতে পারছেন না। তবে সবার মধ্যেই একটা আশঙ্কা। খুব খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। অনেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন। অনেকের আশঙ্কা বড় কোনো আচমকা হামলা ঘটে যেতে পারে যে কারো ইন্ধনে। এক্ষেত্রে শামীম ওসমানকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন সবাই। মানুষের ধারণা, খুব দ্রুত কিছু একটা ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি। যার জন্য এত আয়োজন। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আল আমিন বলেন, ‘শামীম ওসমান সবসময়ই হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। মানুষ এখন আর এসবের পরোয়া করে না। কিন্তু গত কয়েকদিনে একের পর এক এতসব ঘটনা ঘটছে যে, মনে হচ্ছে অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সে। হেফাজতকে তার সমর্থন দেয়ার পর থেকেই এখানকার প্রগতিশীলদের সঙ্গে তার বিশেষ বিরোধ তৈরি হয়েছে। সবাইকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বের করার কথা সে আগেই বলেছিল। এখন হয়ত সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে।’ নারায়ণগঞ্জের ঘোলাটে এই রাজনৈতিক অবস্থা জনগণকে আতঙ্কিত করে রেখেছে। কোনো পক্ষই চুপ নেই। যে যাকে যেভাবে পারছে আক্রমণ করছে। স্থানীয় পত্রিকাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে শামীম ওসমানের পক্ষে বিপক্ষে সংবাদ প্রচার করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের কোনো ভূমিকাও চোখে পড়ছে না। প্রশাসনকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলছে আমরা অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এই পরিস্থিতির অবসান চায় জনগণ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই পারে এই অবস্থার অবসান ঘটাতে। আর সাধারণ মানুষ চায় অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য বের করে আনা হোক। আসামিদের শাস্তি দেয়া হোক। আবার অনেকের দাবি শামীম ওসমানকে বিচারের আওতায় আনলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। এতে নারায়ণগঞ্জে শান্তি আসবে বলে মনে করেন তারা। তাতেও দরকার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। ত্বকীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি নারায়ণগঞ্জের মানুষ আর দেখতে চায় না। Selina Ivy - Ekush.info‘লেজ বেরিয়েছে মাথাও বের হবে’ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সাপ্তাহিক : লিটনের জবানবন্দী কিভাবে দেখছেন? ডা. আইভী : একটি কথাই বলব। লেজ বেরিয়েছে, মাথাও বের হবে। যাদের নাম এসেছে তারা সবাই শামীম ওসমানের লোক। সাপ্তাহিক : পারভেজকে গুমের অভিযোগ এসেছে আপনার বিরুদ্ধে। ডা. আইভী : পারভেজ তারই রাজনীতি করে। এগুলো পারভেজ আর সে করত। আমাদের নামের পাশে কখনো এ ধরনের অভিযোগ লেখা থাকবে না। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এখন নতুন খেলায় মেতেছেন। তিনি যুবলীগের একজন বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীর জন্য সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল করে শহরে যেভাবে বাড়াবাড়ি করছেন তাতে করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তার নির্দেশে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলের অনুগত নেতাকর্মীদের সুনাম ক্ষুণেœর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পারভেজের কাজই প্রমাণ দেয় শামীম ওসমান রাজনীতিতে কেমন ধরনের কর্মী তৈরি করেছেন। তার বেশিরভাগ কর্মীর বিরুদ্ধেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সাপ্তাহিক : এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শেষ পরিণতি কি? ডা. আইভী : আমরা সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান চাই। কোনো সন্ত্রাসীকে রাজনীতিতে দেখতে চাই না। আমি চাই সাধারণ মানুষ জেগে উঠে এদের হটিয়ে দিক। এরা চলে যাওয়ার হুমকি দেয় কিন্তু ঠিকই ঘাপটি মেরে বসে থাকে। এরা দলে থাকে সুবিধার জন্য। দলের জন্য কিছু করে না। তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলে আওয়ামী লীগ বেঁচে যাবে। তিনি ও তার ছেলে ত্বকী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। মূলত এই হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতেই ক্যাঙ্গারু পারভেজকে নিয়ে তিনি গুম নাটক সাজিয়েছেন। ক্যাঙ্গারু পারভেজকে হয়ত পাশের কোনো দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গডফাদাররা কখনো দলের জন্য শুভ কিছু বয়ে আনতে পারেনি। তারা দলকে ডোবাচ্ছে। শামীম ওসমানরা সবসময়ই দলের জন্য বোঝা। Shamim-Osman_Ekush.info‘আস্তে আস্তে প্রমাণ হচ্ছে সব অপপ্রচার’ শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক সাংসদ সাপ্তাহিক : লিটনের জবানবন্দী কিভাবে দেখছেন? শামীম ওসমান : আমি বরাবরই বলে এসেছি এসবের সঙ্গে আমার পরিবার জড়িত না। কে বা কারা জড়িত তাও আমরা জানি না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য বিরাট পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে একটা মহল। তবে লিটনের জবানবন্দী এটা স্পষ্ট করেছে যে, এর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগসূত্র নেই। আস্তে আস্তে প্রমাণ হচ্ছে সব অপপ্রচার। সাপ্তাহিক : যারা খুনে জড়িত ছিল সবাই তো আপনার লোক। শামীম ওসমান : বাজে কথা বলবেন না। আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় থাকলেই কি আপনি যা করবেন তার জন্য আমি দায়ী থাকব নাকি। আমি জননেতা। নারায়ণগঞ্জের সবাই আমার পরিচিত। সবাই কম বেশি আমার কাছে আসে। কেউ কম আসে। কেউ বেশি। এটা হবেই। সাপ্তাহিক : অভিযোগ উঠেছে আপনি নিজেই পারভেজকে গুম করেছেন। অতীতেও এ ধরনের কাজ করেছেন বলে নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি? শামীম ওসমান : এসব কথা আমার বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই বলা হচ্ছে। ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা নিয়েই টিকে আছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াত না। যারা গুম করিয়েছে তারা এখন আমার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছে। তারা ভালো মানুষের মুখোশ পরে একের পর এক কুকর্ম করে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক : আপনার কেন মনে হয়, রফিউর রাব্বি ও আইভী পারভেজকে গুম করেছে? শামীম ওসমান : দীর্ঘদিন থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে। আমাকে হত্যা করতে না পেরে আমার কাছের মানুষগুলোকে টার্গেট করেছে। আমি শতভাগ নিশ্চিত পারভেজকে সিটি মেয়র আইভী ও রফিউর রাব্বি মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চুক্তির মাধ্যমে খুনের উদ্দেশ্যে গুম করেছে। সাপ্তাহিক : খুনি হিসেবে তো তাদের কোনো পরিচয় নেই। বরং আপনার আছে। শামীম ওসমান : তাহলে আমার কাছে এসেছেন কেন? তাদের কাছে যান। তারা টাকা দিয়ে সংবাদ মাধ্যম কিনে ফেলছে। সাপ্তাহিক : পারভেজকে না পেলে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। করলেন না কেন? নাকি পেয়ে গেছেন? শামীম ওসমান : অসহায় নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছি। আর কত সহ্য করবে তারা? কোর্ট থেকে মামলা গেলেও থানা মামলা নিচ্ছে না। যাদের প্রভাবে মামলা নিচ্ছে না তারাই পারভেজকে গুম করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইতে পারছি না দলে থাকার কারণে। বাধ্য হয়ে বলেছিলাম। পারভেজকে এখনো পাইনি। তাকে প্রশাসন থেকেও খোঁজা হচ্ছে। আসল অপরাধীদের ধরা হলে পারভেজকে পাওয়া যাবে। সাপ্তাহিক : এখন কি করতে চাচ্ছেন? শামীম ওসমান : সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি বিবেচনা করেই চুপ করে আছি। জননেত্রীর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছি আমি। Rafiur Rabbi -Ekush.info‘আরও জবানবন্দী বাকি আছে’ রফিউর রাব্বি আহ্বায়ক, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ সাপ্তাহিক : শামীম ওসমান তো বলছেন লিটনের জবানবন্দীতে তার নাম আসেনি। এতদিন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে? রফিউর রাব্বি : একটা জবানবন্দী থেকেই সবকিছু উদ্ধার হয় না। আমরা শুনেছি স্বীকারোক্তিতে সে সবার নামই স্বীকার করেছিল। কিন্তু আদালতে জবানবন্দী দেয়ার সময় সে এটা স্বীকার করেনি। তবে এ থেকেও অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে। যাদের নাম এসেছে এরা কারা? এরা কার পালিত সন্ত্রাসী? এদের কে নির্দেশ দেয়? লিটনকে আবারও জবানবন্দী দিতে বলা হলে আরও তথ্য বের হবে। অন্য আসামিদের জবানবন্দী এলে আরও কিছু জানা যাবে। আরও জবানবন্দী বাকি আছে তো। সব একত্র হলে আসল বড় ভাইদের চেহারা স্পষ্ট হবে। খুনের মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরা যাবে তখন। আরও তদন্ত দরকার। সাপ্তাহিক : অভিযোগ করা হচ্ছে, আপনি নাকি ক্যাঙ্গারু পারভেজের গুমের সঙ্গে জড়িত? রফিউর রাব্বি : ত্বকীর হত্যায় অভিযুক্ত যুবলীগ ক্যাডার পারভেজ অপহরণের পর থেকে এসব কথা শামীম ওসমান বলে আসছেন। নিজের সন্ত্রাসী চেহারা আমাদের ওপর মিথ্যে অপবাদ দিয়েও ঘোচাতে পারেননি। বলছেন, নারায়ণগঞ্জের অনেকের বাড়িঘরের ইট-সুরকি খুলে নেবেন। বাড়িঘর থেকে মা বোনদের তুলে নিয়ে আসবেন। কথার মধ্যদিয়েই তার সন্ত্রাসী চেহারাটা বেরিয়ে আসছে। তার এ ধরনের হুমকি-ধমকি মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। বিরোধীদের ফাঁসাতে এ ধরনের কথা আগেও বলেছেন তিনি। ৩ বছর আগে শামীম ওসমানের ক্যাডার নুরুল আমিন মাকসুদকে একই রকমভাবে রাস্তা থেকে তুলে নেয়া হয়। পরে তার লাশ পাওয়া যায়। অনেকের মুখে শোনা যায়, মাকসুদকে অপহরণ করিয়ে শামীম ওসমানই হত্যা করিয়েছে। মাকসুদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে দিয়ে শামীম ওসমান বলিয়েছিল মেয়র আইভী নাকি মাকসুদকে হত্যা করিয়েছে। পরে মাকসুদের স্ত্রী মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করে এ কথার জন্য মাফ চেয়েছে। একই ভাবে পারভেজের স্ত্রীকে দিয়েও শামীম ওসমান বলিয়েছে যে পারভেজের ঘটনার জন্য আমি ও মেয়র দায়ী। সাপ্তাহিক : পারভেজের ক্ষেত্রে আসলে কি ঘটেছে বলে আপনার মনে হয়? রফিউর রাব্বি : কি আর হবে? শামীম ওসমানের সঙ্গে যারাই যাক তাদের একই পরিণতি হবে। সারোয়ার ও মাকসুদ নারায়ণগঞ্জের সম্ভাবনাময় তরুণ ছিল। কিন্তু শামীম ওসমান হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের জীবনকে শেষ করে দিয়েছে। মাকসুদ অজ্ঞাত আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছে আর সারোয়ার এখন রোগে ভুগে মৃত্যুপথযাত্রী। একই ভাবে আরও অনেক তরুণের জীবন শামীম ওসমান নষ্ট করেছে। এসব তরুণকে বিপথগামী করে শামীম ওসমান তার নিজের উপরে উঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর পর যখনই মনে হয়েছে এরা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তখনই এদের ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। পারভেজ তার মতোই একজন। তার আদলে গড়া। পারভেজকে প্রয়োজন ফুরোলে ছুড়ে ফেলতে তিনি দ্বিধা করবেন না। আর যদি প্রয়োজন এখনো থাকে তাহলে যা হচ্ছে পুরোটাই সাজানো নাটক। অথবা হতে পারে সেও প্রশাসনের হাতে আছে। সাপ্তাহিক : এই অবস্থার শেষ কোথায়? আপনারা কি করতে চাচ্ছেন? রফিউর রাব্বি : প্রশাসন যদি ত্বকীসহ অন্যসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা আন্দোলনে নামব। সরকারকে আহ্বান জানাই দ্রুতই এই সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার।

সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি তারেক সাঈদের দেহরক্ষী শরীফ গ্রেপ্তার

সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি তারেক সাঈদের দেহরক্ষী শরীফ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা সদস্য আল-আমিন শরীফকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল-আমিন বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী এলাকার খালেক শরীফের ছেলে।
সাত খুনের আগে আল-আমিনকে সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে বদলি করা হয়। নারায়ণগঞ্জ র্যাব থেকে চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদের দেহরক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আল-আমিন।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুদুজ্জামান জানান, সাত খুন মামলায় আল-আমিন শরীফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা ও অপরটি অপহরণ মামলা। হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অপহরণ মামলায় ৩৪ বছরের সাজা হয় তার। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাকেরগঞ্জ থানায় আসে। ওই পরোয়ানা বলে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুন মামলার রায় দেয়। এতদিন পলাতক ছিলেন আল-আমিন শরীফ।

জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার বাড়লো

জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার বাড়লো

দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়িয়ে ‘দ্য সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানিতে জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা এবং সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে যুগ্ম জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ারে কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ তিনি যে কোন মূল্যের জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার বিচার করতে পারেন। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে সম্পত্তির মূল্য অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। এজন্য মন্ত্রিসভা সংশোধিত এ আইন অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। কারণ বর্তমানে যে মামলা উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য যায়, তা এখন নিম্ন আদালতে বিচারের জন্য যাবে। এতে মানুষের কষ্ট অনেক লাঘব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেওয়ানি মামলায় সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার হলো দুই লাখ টাকা। মামলা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্য যদি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তবে তা সহকারী জজ আদালতে বিচার হয়। এ সীমা বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ১৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা সহকারী জজ আদালতে বিচার্য হবে। এর ওপরে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী জজ। বর্তমানে তাদের আর্থিক এখতিয়ার হচ্ছে চার লাখ টাকা। সংশোধিত আইনে তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এরপর রয়েছেন যুগ্ম জেলা জজ। তাদের ক্ষেত্রে আর্থিক এখতিয়ার সংশোধনের প্রয়োজন হয়নি। কারণ তাদের ক্ষমতা আনলিমিটেড (অসীম)। এ-সংক্রান্ত আপিল আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অ্যাপিলেট কোর্টের ক্ষেত্রে বর্তমানে জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা। এটা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। অর্থাৎ যে সম্পত্তির মূল্য পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত তার আপিল মামলার শুনানি জেলা জজ আদালতে হবে। এর ওপরে হলে তা হাইকোর্ট বিভাগে যাবে। এখন সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে হাইকোর্টে যেতে হয়। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে পাঁচ কোটি টাকার বেশি হলে হাইকোর্টে যেতে হবে। মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এতে অনেক কম লোককে হাইকোর্টে আসতে হবে। দেশের দূরদূরান্তের অনেক লোককে ঢাকায় আসতে হবে না। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোস্টগার্ড আইন-২০১৫-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। আইনটি বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ আইনের আদলে করা হয়েছে। কোস্টগার্ড আইনেও বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

রাষ্ট্রদ্রোহ বুঝতে নীতিমালা জরুরি

রাষ্ট্রদ্রোহ বুঝতে নীতিমালা জরুরি মিজানুর রহমান খান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬| প্রথম আলো অনলাইন 

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে আবারও বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করা আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ করা এক নয়। সরকার পরিচালনায় কোনো এক বা একাধিক দল থাকে। নানা কারণে তাদের কাজের সমালোচনা করার দরকার পড়ে। কিন্তু সহনশীলতার ঘাটতি দেখা দিলে সরকারগুলো তা সহ্য করতে চায় না। তাই তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার প্রবণতা দেখিয়ে থাকে। তারা সরকার ও রাষ্ট্রের পার্থক্য রাখতে চায় না। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো ভারতেও এই ক্ষতিকর প্রবণতা প্রকট রূপ নিয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, সরকারের সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। এ কথা এবারই প্রথম উচ্চারণ করেননি তাঁরা। ভারতে একটি বিষয় দেখা যায়, সর্বোচ্চ আদালত অত্যন্ত দরকারি কথা বারংবার বলেন। আদর্শ অবস্থান হলো, এক কথা তাঁরা একবারই বলবেন। সর্বোচ্চ আদালত যা বলে দেবেন, সেটাই আইন। কিন্তু বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেখতে পাই, তাঁরা এক কথা বারংবার বলেন। এবং গণমাধ্যমগুলো সেসব খবর এমনভাবে প্রকাশ করে, যা দেখে বা শুনে আনকোরা কারও মনে হবে, এটা বুঝি তাঁরা এই প্রথম বললেন। অনুমান করি, প্রায় একই কথা বারংবার বলা এবং গণমাধ্যমে তা মোটা হরফে শিরোনাম হওয়ার কারণে সমাজে ও সরকারের ভেতরে সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। আর এটাই সব থেকে কার্যকর ও শক্তিশালী রক্ষাকবচ সৃষ্টি করে। উপমহাদেশের যেসব সমাজে এর যত বেশি ঘাটতি, সেখানে এ ধরনের কালাকানুনের নির্দয় ও বেপরোয়া প্রয়োগ কখনো কখনো ভয়াবহ রূপ নিতে দেখা যায়।
সরকারের সমালোচনা যে রাষ্ট্রদ্রোহ নয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহ যে ঔপনিবেশিক প্রভুদের শোষণের হাতিয়ার ছিল, সেই সত্য ১৯৬২ সালে কেদারনাথ সিং বনাম বিহার মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেছিলেন। এটা ভারতের গণতন্ত্র ও রাজনীতিকদের জন্য গৌরবের কথা নয় যে তাঁরা সেই রায়ের আলোকে আজ পর্যন্ত ১২৪ক ধারায় (রাষ্ট্রদ্রোহের শাস্তির বিধান) একটি প্রগতিশীল পরিবর্তন আনতে পারেননি। আবার একই সঙ্গে এটাও সত্য, ভারতের রাজনীতিবিদেরা অন্তত তাঁদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করার অধিকারকে স্বীকার করেছেন; সহনশীলতা দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহের হাতিয়ার দিয়ে যখনই সরকার কারও মুখ বন্ধ করতে এবং নিপীড়ন চালাতে বড় বেশি রকমের মাত্রা অতিক্রম করতে চেয়েছে, তখনই নাগরিক সমাজ শিরদাঁড়া খাঁড়া করেছে। দরখাস্ত হাতে ছুটে গেছে সুপ্রিম কোর্টে। এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে তারা অন্তত একটা প্রতিকার পেয়েছে।
এবারে যে প্রেক্ষাপটে রিট হলো সেটা ভীষণ স্পর্শকাতর। বেঙ্গালুরুর পুলিশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এনেছে। কারণ, তারা একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল, যার শিরোনাম ছিল, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ’। এই বিষয়ের সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন জড়িত, এই যুক্তি দেখিয়ে জনচিত্তে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে খুব বেশি কাঠখড় পোড়ানোর দরকার হওয়ার কথা নয়। তার থেকেও গুরুতর কথা হলো, সুপ্রিম কোর্টে যাঁরা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দরখাস্ত হাতে ছুটে গেছেন, তাঁরা আবার এনজিও করেন। আমার নজরে পড়েনি, ভারতের দেশপ্রেমিক কেন্দ্রীয় বা রাজ্য
সরকার বা তাদের ‘স্বনিয়োজিত’ সমর্থক ও মিত্ররা সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মীদের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন কি না; এনজিওগুলোর ডলারের সুলুক সন্ধান করে কোনো বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন কি না। তবে এমন কিছু ঘটলেও দরখাস্তকারীদের তাতে খুব দুঃখিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ তাঁরা দ্রুত প্রতিকার পেয়েছেন। শুনানির জন্য তাঁদের তীর্থের কাক হতে হয়নি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাক্স্বাধীনতার পক্ষে তাঁদের কণ্ঠ উচ্চকিত করেছেন। যদিও ভারতের সরকারও এনজিওগুলোর বিদেশ থেকে অর্থ আনার ওপর কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং সেই চেষ্টা তারা অব্যাহত রেখেছে। সেই তালিকায় অ্যামনেস্টিও আছে।
তদুপরি এই রায় পাওয়া সম্ভব হয়েছে। কারণ, এটা হচ্ছে ভারতের সেই সুপ্রিম কোর্ট, যাঁরা বিচারক নিয়োগে নিজেদের তৈরি করা আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হন না; বাস্তবে সেটা প্রয়োগ করারও একটা সামর্থ্য অর্জন করেছেন। এবং শুধু করেছেন বললে সবটা বলা হবে না। বিচারক নিয়োগে দলীয়করণ বা অন্য কোনো অনভিপ্রেত বিবেচনা কাজ করে না বলেই সচেতন মহল ও জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এই শক্তি অর্জনকে আমরা সমীহ করি। গোটা বিশ্ব করে।
তবে দ্য হিন্দুর রিপোর্ট পড়ে ধারণা করা যায়, আবেদনকারীরা যে আশায় দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা প্রশ্নে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন, তাতে তাঁরা যথেষ্ট সফল হয়েছেন বলে মনে না। এর প্রধান কারণ, আবেদনকারীরা এই রাষ্ট্রদ্রোহের অপপ্রয়োগের আধিক্যে বিচলিত ছিলেন। ২০১৪ সালেই সরকার ৪৭টি দেশদ্রোহের মামলা দায়ের ও ৫৮ জনকে আটক করেছিল। কুদানকুলামে একটি আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হবে। স্থানীয় লোকেরা পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রতিবাদী হলেন। মনমোহন সিংয়ের আমলে সরকারি তদন্তে বিক্ষোভ উসকে দিতে বিদেশি হাতেরও খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু দেখার বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্ট তা সত্ত্বেও বলেছেন—ওই প্রকল্পের যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা আর যা-ই হোক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেননি! শায়েস্তা করতে চাইলে অন্য ধারায় করুন।
এই মামলায় আবেদনকারীরা বুঝেছেন ঠিকই, তৃণমূলের পুলিশ কনস্টেবলই প্রথম ঝামেলাটা পাকান। তাঁরা দ্রুত ১২৪ক ধারার আওতায় মামলা ঠুকে দেন। আদালত যতক্ষণে প্রতিকার দেন, তত দিনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষতি যা হওয়ার তা অনেকটা হয়ে যায়। তাই আবেদনকারীদের এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ নিবেদন করেছিলেন, পুলিশ ১৯৬২ সালের রায় বোঝে না, তারা বোঝে দণ্ডবিধি। তাই আদালত যাতে পুলিশের জন্য পালনীয় একটি গাইডলাইন করে দেন।
বাংলাদেশেও এই সমস্যা দিনে দিনে প্রকট রূপ নিচ্ছে। সিলেটের এক পান দোকানদার এক যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি লেখায় তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে আটক করা হয়। গত জুলাইয়ে বাঁশখালীর দুই শিক্ষক বিতর্কিত প্রশ্নপত্র তৈরি করলে, পুলিশের স্মরণ পড়ে দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহসংক্রান্ত ১২৪ক ধারাটি দিয়েই তাঁদের ঘায়েল করতে হবে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করার দায়ে কিশোরগঞ্জের ইটনায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার মানহানির বিধান মনে পড়ে না, তাঁর মনে পড়ে এটা রাষ্ট্রদ্রোহ না হয়ে যায় না। আর আমরা সম্প্রতি অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ৫৩ জেলায় দায়ের করা ৮৩টি মামলার মধ্যে ১৭টিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হলো। এর সবটাই নির্দেশ করে যে থানা ও আদালতকে কোনো একটি উপযুক্ত গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হলে আইনের যথা প্রয়োগ না হওয়ার ঝুঁকি কমানো যাবে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ কী তা ‘কনস্টেবলদের বোঝার দরকার নেই।’ আমাদের ক্ষেত্রে ভারতের এই বাস্তবতা যথাযথ নয়। কারণ, তাঁদেরই ভালো করে বুঝতে হবে। ডিসি ও ওসিদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এটা বলেছেন, ‘সরকারের সমালোচনা যে রাষ্ট্রদ্রোহ নয়, সেটা বুঝতে হবে হাকিমদের, তাঁরা ১৯৬২ সালের রায়ে প্রদত্ত গাইডলাইন মানবেন। এবং সেই মতে কোন অভিযোগ সরকারের সমালোচনা, কোনটা রাষ্ট্রদ্রোহ—তা সাব্যস্ত করবেন। যে কথা ও কাজ গণ-নৈরাজ্য বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকল্পে হবে না, তা রাষ্ট্রদ্রোহ হবে না।’
শুধু এটুকুই নিবেদন রাখব—১৯৬২, ২০১৬ সালসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় সুপ্রিম কোর্ট রায়ের আলোকে দেশেও একটি বিস্তারিত গাইডলাইন বা নীতিমালা দরকার। সরকার এটা করবে না। এতে ঝুঁকি ও জটিলতাও আছে। তাই বিচারিক আদালতগুলোর জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি লিখিত গাইডলাইন করে দিলে তা পুলিশও ব্যবহার করতে পারবে। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, রায়ের যে অংশ অপারেটিভ (কার্যকর ও বাধ্যকর) সেটা যদি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারপতিরাই চূড়ান্ত করে দেন, তাহলে বহু ধরনের জটিলতা, দ্ব্যর্থকতা ও বিভ্রান্তির হাত থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। সুতরাং কতিপয় জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নিজের রায়ের আলোকেই গাইডলাইন গ্রন্থনার একটা রেওয়াজ গড়ে তোলা সমীচীন মনে করি।
সেটা চালু করা সম্ভব হলে উপমহাদেশের বাসিন্দা হিসেবে আমরা হয়তো তা থেকে উপকৃত হতে পারি।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল থেকে প্রতি বছর বিক্রি হচ্ছে হাজারো ‘যৌনদাসী’

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল থেকে প্রতি বছর বিক্রি হচ্ছে হাজারো ‘যৌনদাসী’

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল থেকে প্রতি বছর হাজারো নারীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। এসব নারীদের স্থান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের ‘দাস-বাজার’ আর ‘যৌন কারাগারে’ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তারা। পাচারকারী এ চক্রের ট্রানজিট পয়েন্ট হলো নয়াদিল্লি, মুম্বই ও কলকাতা। ভারতের দৈনিক দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে ভয়াবহ এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ভয়ঙ্কর এ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এয়ারলাইন্স ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। কয়েক মাস আগে ২৪ বছরের নেপালী যুবতী রিমাকে (ছদ্মনাম) তার পিতা-মাতা এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। তার গন্তব্য হতে চলেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দাস বাজারে। ২৭শে জুলাই রিমা ও আরও ছয় জনকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় আটক করা হয় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি বিমানবন্দরে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কগুলোকে মানবপাচারের বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়। পাচারকারী চক্রও এতে সতর্ক হয়ে নারীদের প্রথমে শ্রিলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মরোক্কো ও ব্যাংকক পাঠাচ্ছে। পরে সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ভিসা নিয়ে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারির বিরুদ্ধে নেপালি দুই মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে অনেক বড় একটি পাচারকারী চক্রের তথ্য উঠে এসেছে। এতে সম্পৃক্ত রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার দুই কর্মকর্তা মনিশ গুপ্ত ও কপিল কুমার। তারা বোর্ডিং পাস ইস্যু করতো। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই সফররত পাচারের শিকার ৭৬ নেপালী মেয়েকে উদ্ধার করে দিল্লি পুলিশ। এদিকে, ২রা সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থা র দিল্লি পুলিশকে সতর্ক বার্তা জানায় যে নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশী মেয়েদের পাচার করা হচ্ছে। র-এর ওই সতর্কবার্তা বলা হয়, ‘এয়ার ইন্ডিয়া ভিত্তিক কন্ট্যাক্ট ৩১শে আগস্ট তার বাংলাদেশ ভিত্তিক সহযোগীকে জানিয়েছে যে- সে দিল্লিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে পেরেছে যেখান থেকে বাংলাদেশীদের জন্য কুয়েত, সৌদি আরব ও দুবাইয়ের ভিসা নিতে পারবে।’ পাচারকারীদের বড় একটি সক্রিয় চক্র নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো দিল্লি পুলিশ, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, মে মাসে নেপালের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো দেশটির যেসব মেয়ে ও নারীদের সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের কাছে ‘যৌনদাসী’ হিসেবে পাচার করা হয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দিয়েছে। নেপালের পুলিশ সংস্থাগুলোর আরও জানিয়েছে যে এসব নারীদের ভারতের মধ্য দিয়ে পাচার করা হচ্ছে; বিশেষ করে দিল্লি দিয়ে। রিমা ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্তে আরও উঠে আসে যে দিল্লিতে আরও নেপালী মেয়েদের আনা হয়েছে। তাদের মহিপালপুরে রাখা হয়েছে। পুলিশ ২৫শে জুলাই একটি অভিযান চালিয়ে নেপালী দুই এজেন্ট বিষ্ণু তামাং ও দয়া রামকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় ২১ জন নেপালী মেয়ে ও নারীকে। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তাদের গন্তব্য ছিল দুবাই। গ্রেপ্তারকৃত এজেন্টরা জানিয়েছে, আগের দুই মাসে তারা ৭ শতাধিক নারীকে পাচার করেছে। আর জনপ্রতি তারা কমিশন পেয়েছে ৫হাজার রুপি।

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা image ১৯ বছর বয়সী শ্বেতা কাত্তি। ছোটবেলায় বেড়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রেড-লাইট বা নিষিদ্ধ পল্লী কামাতিপুরায়। কিন্তু এই সামাজিক কলঙ্কের সঙ্গে যুদ্ধ করে সে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এর আগে অর্জন করেছে একটি মার্কিন কলেজের বৃত্তি। এবারে ২০১৪ সালের জাতিসংঘ ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। শিক্ষা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি দল এ বছর তরুণ প্রজন্মের ৬ জনকে পুরস্কৃত করার জন্য মনোনীত করেছে। ব্যক্তিগত পদক্ষেপ দ্বারা সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করে যারা নারী শিক্ষা ও মর্যাদায় পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাদেরকে বেছে নিয়েছে বিশেষ ওই প্রতিনিধি দল। মনোনীতদের একজন শ্বেতা। খবর জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত শ্বেতা তার ফেসবুক পাতায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। নিজ মায়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে কয়েক বছর যারা তাকে সমর্থন দিয়েছে, আস্থা রেখেছে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে। শ্বেতা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বার্ড কলেজে মনোবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছে। মুম্বইয়ের নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী ক্ষমতায়নে সক্রিয় এনজিও ‘ক্রান্তি’র পৃষ্ঠপোষকতায় উত্থান শ্বেতার। নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়েদের জন্য নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়াও মেয়েদের বৈরী পরিবেশের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে থাকে। ‘ক্রান্তি’র প্রতিষ্ঠাতা রবিন চৌরাসিয়া জানান, শ্বেতা যখন ক্রান্তিতে যোগ দেয় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। এত কম বয়সেও উদ্যমী, মেধাবী ও বুদ্ধিমতী শ্বেতা সহজেই বাইরের জগতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিজের জন্য ও আশপাশের মানুষের জন্যও পরিবর্তন আনার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল তার মধ্যে। শ্বেতা ২০১৭ সালে তার মনোবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে কামাতিপুরায় একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।

প্রধান বিচারপতির অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি

প্রধান বিচারপতির অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি


প্রধান বিচারপতির অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি
ঢাকা: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। রোববার তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে এ চিঠি দেন। তিনি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন, শপথ ভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার অভিশংসন চান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের পদ থেকে অবসরে যাবেন। তাই পেনশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট অফিসকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে তিনি অনুরোধ করেন। কিন্তু ‘সকল পেন্ডিং রায় না লেখা পর্যন্ত তার পেনশন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না’ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির পক্ষে তাকে চিঠি দেন রেজিস্ট্রার জেনারেল। উত্তরে বিচারপতি চৌধুরী এক চিঠিতে লেখেন, এ ধরণের আদেশ দেওয়ার কর্তৃত্ব প্রধান বিচারপতির নেই। বিচারপতিরা অবসরে গিয়েও রায় লিখে থাকেন। তার প্রতি প্রধান বিচারপতির এ ধরনের আচরণ বৈষম্যমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ। এরপর প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে এক চিঠিতে তাকে পেনশন কার্যক্রমের বিষয়ে জানানো হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, অবসরে যাওয়ার আগে তিনি যেসব মামলার রায় লিখতে পারবেন না, সেগুলোর নথিপত্র যেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেন। এছাড়া ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হিসেবে রায় না লিখে তিনি ব্রিটেনে চলে যেতে পারেন বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়। এ চিঠির উত্তরে তিনি লেখেন, এর আগে কোনো বিচারপতিকেই মামলার নথি ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়নি। প্রধান বিচারক হিসেবে আমার প্রতি তার আচরণ বৈষম্য ও জিঘাংসামূলক। তার এ ধরণের আদেশ আমার স্বাধীন বিচারকাজে হস্তক্ষেপের শামিল ও সংবিধানের লঙ্ঘন। এছাড়া গত ৯ তারিখ থেকে তাকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/

শিশু নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন: দেশে দেশে

শিশু নির্যাতন এবং শিশু–কিশোর কিশোরীদের উপর যৌন নিপীড়নের ইতিহাস কথিত সভ্যতার ইতিহাসের এক অসভ্য অধ্যায় বলা যেতে পারে। এক সময়ে বিশ্বজুড়ে শিশু নির্যাতন যেন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে ছিল। আজকাল ইউরোপে, আমেরিকায় এসব ব্যাপারে কঠোর আইন থাকায়, আইনের প্রয়োগ থাকায় এ ধরণের অপরাধ খানিকটা কমেছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো- ভারতে, বাংলাদেশে, পাকিস্তানে এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশে এই বিষয়টি এখনকার অন্যতম আলোচিত এবং নি:সন্দেহে সমালোচিত বিষয়। সম্প্রতি ভারতের কাশ্মিরে ১২ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ, এক ধর্মগুরুর শাস্তি ধর্ষণের অপরাধে, বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি মসজিদের ভেতরে নিয়ে গিয়ে এক মোয়াজ্জিন ছয় বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা, বাংলাদেশেই ১৫ বছরের এক মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ- এসব যেন প্রাত্যহিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কী যানবাহনের ভেতরেও- কী দিল্লীতে, কী ঢাকায় এসব ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া রাজন হত্যার মতো অসংখ্য এমন সব ঘটনা ঘটছে যাতে মেয়ে শিশু যেমন তেমনি ছেলে শিশুরাও নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কল্যাণে এই করুণ চিত্রগুলো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতস্থানগুলো। আজ আমরা আমাদের শ্রোতাদের জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করবো এই সমস্যার স্বরূপ ও সমাধান। আজ আলোচনার এই প্যানেলে সরাসরি টেলিসম্মিলনী লাইনে ঢাকা থেকে যোগ দিয়েছেন ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারাপারসন সুলতানা কামাল। কলকাতা থেকে রয়েছেন ডায়ামান্ড হার্বার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী অপর্ণা ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেছেন আনিস আহমেদ। [audio mp3=https://av.voanews.com/clips/VBA/2018/04/25/e6345f0a-81a3-463c-95b8-940244fed8f1.mp3][/audio] সূত্রঃ কনটেন্ট - ভিওএ বাংলা

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.