যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপেক্ষায় এস কে সিনহাঃ বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে...

[caption id="attachment_22706" align="alignleft" width="620"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা[/caption]

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা

ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে সিনহা বলেন, ‘এদেশে আমার কোনও স্ট্যাটাস নেই। আমি একজন শরনার্থী। আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি কিন্তু এখনও এর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ [caption id="attachment_22705" align="alignleft" width="300"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] সিনহা দাবি করেন, ‘তিনি লন্ডনের হাউজ অব কমনস, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারছেন না।’ অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এত ভীত থাকি যে, আমি ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে তার বাসা সব সময় মনিটর করে এবং যারা তার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়। বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়। শুধু তাই না, ২০১৪-এর নির্বাচনের পরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।’ [caption id="attachment_22704" align="alignleft" width="400"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের লাভের জন্য সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে সিনহা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে কারণ আওয়ামী লীগ সেখানে ভারত বিরোধী সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে।’ তবে এধরনের সমর্থন ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের ‘দুটি পাকিস্তানের’ মুখোমুখি হতে হবে।” এ সময় তিনি দাবি করেন, বই প্রকাশের জন্য কারও কাছ থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা তিনি নেননি। ৮০০ পৃষ্ঠার বইয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে কেবল নিজের শেষ দিনগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

সিনহার বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে বের করুন:

[caption id="attachment_22709" align="alignleft" width="350"] প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি-যুগান্তর[/caption] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রকাশের পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলব না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এই বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহা ওই বইয়ে তার পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেছেন। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন-ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এর প্রকাশনা উৎসবের কথা ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কি পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো বড় আইনজীবী এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা এর মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার ভাইয়ের নামে একটি বাড়ি কেনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ বাড়ি কিনতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, কে এবং কিভাবে এই বাড়ি কিনেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বইঃ  ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’

https://drive.google.com/file/d/1WknV34NNIjb8EdXkBt6DE78PCZNrLIlC
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি

আইনমন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না : দুদক চেয়ারম্যান

[caption id="attachment_22544" align="alignleft" width="496"]সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি[/caption]

আইনমন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না : দুদক চেয়ারম্যান

আইনমন্ত্রীর কথায় বা তাঁর কথার প্রভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান বা মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আজ সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চাওয়া হলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী বলতেই পারেন। দ্যাট ডাস নট অ্যা ফেক্ট আস। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় তো আর মামলা হবে না। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় অনুসন্ধান হবে না। মাননীয় মন্ত্রীর কথার কোনো প্রভাব দুদকে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি। এভিডেন্স ছাড়া, আমরা কনভিন্স না হলে কারো বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধানও হবে না, কোনো তদন্তও হবে না।’ এ সময় বেসিক ব্যাংকের দুই ব্যক্তিকে চার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান। গতকাল রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সমিতির অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দুর্নীতিবাজ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। দুর্নীতির প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলা করলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে না।’

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা image ১৯ বছর বয়সী শ্বেতা কাত্তি। ছোটবেলায় বেড়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রেড-লাইট বা নিষিদ্ধ পল্লী কামাতিপুরায়। কিন্তু এই সামাজিক কলঙ্কের সঙ্গে যুদ্ধ করে সে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এর আগে অর্জন করেছে একটি মার্কিন কলেজের বৃত্তি। এবারে ২০১৪ সালের জাতিসংঘ ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। শিক্ষা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি দল এ বছর তরুণ প্রজন্মের ৬ জনকে পুরস্কৃত করার জন্য মনোনীত করেছে। ব্যক্তিগত পদক্ষেপ দ্বারা সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করে যারা নারী শিক্ষা ও মর্যাদায় পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাদেরকে বেছে নিয়েছে বিশেষ ওই প্রতিনিধি দল। মনোনীতদের একজন শ্বেতা। খবর জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত শ্বেতা তার ফেসবুক পাতায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। নিজ মায়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে কয়েক বছর যারা তাকে সমর্থন দিয়েছে, আস্থা রেখেছে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে। শ্বেতা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বার্ড কলেজে মনোবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছে। মুম্বইয়ের নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী ক্ষমতায়নে সক্রিয় এনজিও ‘ক্রান্তি’র পৃষ্ঠপোষকতায় উত্থান শ্বেতার। নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়েদের জন্য নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়াও মেয়েদের বৈরী পরিবেশের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে থাকে। ‘ক্রান্তি’র প্রতিষ্ঠাতা রবিন চৌরাসিয়া জানান, শ্বেতা যখন ক্রান্তিতে যোগ দেয় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। এত কম বয়সেও উদ্যমী, মেধাবী ও বুদ্ধিমতী শ্বেতা সহজেই বাইরের জগতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিজের জন্য ও আশপাশের মানুষের জন্যও পরিবর্তন আনার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল তার মধ্যে। শ্বেতা ২০১৭ সালে তার মনোবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে কামাতিপুরায় একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।

অপরাধীরা হিংস্র হয়ে উঠেছে বিচারহীনতার কারণে’

অপরাধীরা হিংস্র হয়ে উঠেছে বিচারহীনতার কারণে’

|বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট|

নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে অপরাধীরাও হয়ে উঠছে হিংস্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এসবের অন্যতম কারণ প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা ও বিচারহীনতা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘আগুনে পুড়লো মানবতা’ শীর্ষক বৈঠকিতে এই মন্তব্য করেন আলোচকরা। মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন। বৈঠকিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি নিয়ম হচ্ছে, যতোক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ ধরা হবে। এটা তো আইনের মৌলিক বিধান। এখানে মাদ্রাসার অপরাধটি আমাদের বিশেষভাবে বিস্মিত করে এ কারণে যে, ছাত্রীও আরেকজন মাওলানার মেয়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মাদ্রাসায় ছাত্রীরা পড়তে গেলে আমরা বাইরে থেকে ভাবি “নিরাপদ”। কিন্তু যেখানে নিরাপদ মনে করে রক্ষক যখন ভক্ষক হন তখন আমাদের মধ্যে একটু বেশি ও আলাদা বেদনা হয়। আমাদের এখানে ক্ষমতা যতো বেশি হয় ততো বেশি অন্যায় হয়। সেগুলোর বিচার তো করা যাবে না।’ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের গ্রহণ করা উচিত। আমরা ঘটনাকে লোকাল এনেস্থেটিকের মতো দেখি। এখন নারী আক্রান্ত হচ্ছে বলেই কি আমরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছি? কিন্তু আক্রান্ত তো সব জায়গাতেই হচ্ছে। ৫০ বছর আগেও বিচারটা আমরা করতাম রাষ্ট্র বনাম। রাষ্ট্র হচ্ছে বাদী আর আমি হলাম সাক্ষী মাত্র। যে ক্রিমিনাল মামলাগুলো একই সঙ্গে সিভিল মামলাও বটে। আমার হাত নষ্ট হলো, চোখ চলে গেলো– এতে আমাদের এখানে ক্ষতিপূরণের বিধান নেই। থাকলেও তা হাইকোর্টের দয়ার ওপর নির্ভর করে। আমার মনে হয় বিচারের ক্ষেত্রে খুনির মৃত্যুদণ্ড হয়, কিন্তু আমার খুন তো আর পূরণ হবে না। আমার পরিবার তো আমাকে পাবে না। সেজন্য ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রকে দিতে হবে। নাগরিককে রক্ষার জন্য যে অঙ্গীকার করে রাষ্ট্র হয়েছে, যেহেতু আমরা ট্যাক্স দিই, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার পূরণ করছে না। ‘আমি তো মনে করি আমাদের রাষ্ট্র একটি অদ্ভুত ধরনের যন্ত্র। অতএব এবার যন্ত্র দায়িত্বহীন সেটা ঢাকা শহর ঘুরলেই বোঝা যায়। ঢাকায় ফুটপাথ তৈরি করতে পারছে না কিন্তু পদ্মা সেতু তৈরি করতে পারছে। তার মানে এটা অগ্রাধিকারের প্রশ্ন! প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয় যে, মানুষ যাতে বোঝে এজন্য আপনারা রায় বাংলায় লিখুন। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না। অন্য কোনও ভদ্র দেশে বিচারক যদি বলেন, “আমি বাংলায় লিখতে পারি না,” তার তো চাকরি থাকার কথা না। তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়? কথায় আছে, দান-খয়রাত সবার প্রথমে আত্মীয়স্বজনকে করবেন। তো আপনি যদি নিজের ঘরেই বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, তাহলে আপনি অন্যের কাছে করবেন কী করে। নারী-পুরুষ বাদ দিয়ে এখানে যারা গরিব তারা সব সময় নিপীড়িত হয়।’ সময়ের সঙ্গে অপরাধ ভিন্নরূপে সংঘটিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে অপরাধের সঠিক চিত্র নেই। কয়েক বছর আগে আমরা অ্যাসিড সন্ত্রাসের কথা শুনেছি, কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে সেটা নেই, অন্য রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ কিংবা নানাধরনের হয়রানিমূলক আচরণ রয়েছে। সত্যি বলতে কি, আমরা জানি না কীভাবে এসব দমন করা যায়। আমরা যেটা করি সেটা হলো পুলিশ দিয়ে সরাসরি অপরাধ দমন। কিন্তু অপরাধের সূত্রপাত যেখানে হয়, চিন্তার ধরনের মধ্যে, সেটার জন্য কী দরকার আমি জানি না। অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, এক্ষেত্রে শিক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নিতে হয়। তার মানে অপরাধীকে বই পড়ানো নয়। আমাদের প্রধান সমস্যা, বড় বড় অপরাধের বিচার হয়নি। সেটা কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা শুনেছি। সে ব্যাপারে যেহেতু আমাদের একটি প্রশিক্ষণ হয়েছে চুপ করে থাকার। কারণ অপরাধী হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তারা যদি আমার চেয়ে “বড়লোক” হয়, তাহলে আমাদের সাংবাদিক এমনকি পুলিশ পর্যন্ত নীরবতা পালন করে। আমাদের চুপ করে থাকার প্রশিক্ষণ হয়েছে। আলোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাম্মানিক সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, ‘আমাদের যে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা আছে, জীবনাচরণের যে ধারাবাহিকতা আছে, সেই জায়গা থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা আমরা দূর করতে পারিনি। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রীর ব্যাপারে দেখেছি, সহিংসতার ব্যাপ্তি ঘটছে। হয়রানির সঙ্গে হিংস্রতাও আসছে, সেটা আমার কাছে বিশেষভাবে লক্ষণীয় মনে হচ্ছে।’ সময়ের সঙ্গে সহিংসতার ধরন বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা একটি সিস্টেমিক ভায়োলেন্স। এটি আমাদের সমাজ কাঠামোর মধ্যে জড়িত। আমরা দেখেছি একেক সময় একেক রকমভাবে নারীর প্রতি সহিংসতামূলক আচরণ করা হয়েছে। একসময় আমরা দেখেছি, অ্যাসিড নিক্ষেপ ছিল প্রধান সহিংসতা।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যৌন হয়রানি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, গায়ে হাত না লাগিয়েও হতে পারে। আমাদের হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে, সেটা জানলে আমরা ব্যাপ্তি বুঝতে পারি। ফেনীর এই ঘটনার মতো আরেকটি নরসিংদীর ঘটনা দেখছি। হয়রানির ঘটনাগুলো প্রকট রূপ ধারণ করছে। সেটা আমার কাছে ভয়াবহ লাগছে।’ বেসরকারি সংস্থা আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট উই ক্যানের প্রধান সমন্বয়ক জিনাত আরা হক বলেছেন, ‘যখন কেউ সন্ত্রাস করে তখন তার পরিচয় সন্ত্রাসী। সন্ত্রাস বা ক্ষমতাচর্চার জন্য একটা “টুলস” লাগে। কোনও একটা কিছু ব্যবহার করেই তো সে ক্ষমতা চর্চা করে, সে সন্ত্রাস করে, নিপীড়ন করে। তখন সে ব্যবহার করে ক্ষমতাকাঠামোতে তার পজিশন। সে ব্যবহার করে ধর্ম থেকে পাওয়া তার গ্রহণযোগ্যতা, সমাজ থেকে পাওয়া তার কদর। এগুলো ব্যবহার করেই সে সন্ত্রাসটা করে। সেই সন্ত্রাসটা আরও জায়েজ করা হয় যখন বিচার হয় না।’ বিচার না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কোথাও বিচার পাই না তখন আমরা বলি– “ঠিক আছে! আমরা বিচার পাবো বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে।” কিন্তু সেখানে গিয়েও আমরা বিচার পাই না। বিচার ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কথা হয়। এটি তো একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার নয়। এটি সামগ্রিক ব্যাপার। যেখানে কাজ করবেন পুলিশ থেকে শুরু করে উকিল, বিচারক।’ [caption id="attachment_23733" align="alignleft" width="620"] সম-সাময়িক বিষয়ের উপর আয়োজিত বাংলা ট্রিবিউন-এর গোলটেবিল বৈঠক [/caption] এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান বলেন, ‘আমাদের নির্ধারণ করা দরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ কেমন হবে? মূল্যবোধটা শুধু শিক্ষার্থীরা শিখবে নাকি শিক্ষকদেরও শেখার প্রয়োজন আছে।’ এ সময় ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রীর ওপর সংঘটিত সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে মানবতা ভূলুণ্ঠিত,সেখানে ডিফেন্ড করার প্রশ্নই আসে না। যেখানে কোনও বিবেক, কোনও ধর্ম কিংবা কোনও ধরনের ব্যাখ্যা, কোনও আইন যদি কাজ করে তাহলে ভিকটিমের পক্ষেই কাজ করবে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটি ভয়াবহ সহিংসতা। এখানে মানবতা মেয়েটির পক্ষেই থাকবে, তার পক্ষেই তো আমরা লড়বো। সুতরাং এখানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুল্লাহ কে, তিনি কোথায় পড়েছেন, কোথায় শিক্ষকতা করেছেন, কোথায় কাজ করেছেন সেসব বিষয় মুখ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, যে সন্ত্রাসী তার কোনও ধর্ম নেই। তার কোনও ভালো কর্মক্ষেত্র হতে পারে না। আমরা জানি, জাহেলিয়া যুগের কথা। তখন কি শিক্ষিত লোক ছিল না? অনেক ছিল। তারপরও অন্ধকার যুগ কেন? তখনও মেয়েশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।’ পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ সর্বনিম্ন সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ মামলা রুজু হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা শুরু করেছে।’ সম্প্রতি ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রীর ওপর সহিংসতার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশই কিন্তু সবার আগে তার আগুন নিভিয়েছে। মেয়েটি যখন সিঁড়ি দিয়ে চিৎকার করতে করতে নেমে আসছিল, তখন পুলিশ সদস্যরাই দৌড়ে গিয়ে হাতের কাছ থেকে একটি পাপোশ নিয়ে তার গায়ে জড়িয়ে আগুন নিভিয়েছে। পুলিশই কিন্তু তাকে সর্বনিম্ন সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) নরসিংদীর ঘটনাতেও কিন্তু সর্বনিম্ন সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া ভিকটিমদের পাশে ঢাকায় সার্বক্ষণিকভাবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা ভিকটিমের চিকিৎসা থেকে শুরু করে অন্য বিষয়গুলো সমন্বয় করছেন। এই বিষয়গুলো তদারকি করার জন্য আমাদের একটি টিম কাজ করছে।’ [caption id="attachment_23732" align="alignleft" width="620"] উদিসা ইসলাম[/caption] বিচারহীনতার প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম বলেন, ‘একদিকে যেমন নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার হচ্ছে না, আবার এ কারণে আমরা অপরাধের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারও করতে পারছি না। দৃষ্টান্ত হিসেবে সর্বসাধারণের সামনে বিষয়টি তুলে ধরতে পারছি না যে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এই বিচার হচ্ছে। যার ফলে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে। এটি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াচ্ছে যে, নারীকে দমানোর জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এর মধ্যে এক ধরনের হিংস্র উল্লাসও কাজ করছে। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ জায়গায় যাচ্ছে বিচারহীনতার কারণে। যতোদিন পর্যন্ত আমরা এই বিচারগুলো আমরা না করতে পারবো এবং গণমাধ্যম সেগুলো সঠিকভাবে প্রচার না করবে ততোদিন পর্যন্ত এই সমস্যাগুলো কমে আসার সম্ভাবনা খুব কম।’ [caption id="attachment_23731" align="alignleft" width="620"] মুন্নী সাহা[/caption] রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা গেছে এ আয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) সহযোগিতায় বৈঠকিটি আয়োজিত হয়। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

Documentary on mass media in the making: FREEDOM 404: বিশ্বে সাংবাদিকদের...

Documentary on mass media in the making “Freedom 404” is an investigative narrative documentary exploring the role of mass media in Bangladesh. Young filmmaker Shahriar Azim is making the documentary.

While talking to Dhaka Tribune, Azim said: “Apart from analysing the role of mass media, the film also investigates the authenticity and impartiality of the media.” The film is nearing to its completion and Azim is looking forward to release it by April. “The number of mass media is increasing day by day and it is creating a great impact in the society. But at  the same time people are losing confidence over the mass media," said Azim. He said the question of authenticity and impartiality always comes first in people’s mind. "The project looks into the question and investigates the ‘unbiased’ role of the mass media. A considerable  amount of time in the film has been spent on interviews of people who are very much involved with this  profession,” Azim added. While making the documentary, Shahriar Azim observed that the role of media is shadowed by different opinions. “I am trying to put some light on the topic through my investigation and bring the truth out to general people.” The film has been produced by Imtiaz Ahmed of Bengalensis Production House with a length of 43 minutes. Shariar Azim has worked as a video journalist in Russia and is set to direct films in his future career. https://www.youtube.com/watch?v=x0c4sguSz18
/Tribune Online Report

বিশ্বে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে

বিশ্বে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে
আতাউর রহমান বর্তমানে পৃথিবীর দেশে দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও মুক্ত সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা আজ সোচ্চার। ৩ রা মে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে। লেট জার্নালিজম থ্রাইভ অর্থাৎ ‘সাবাদিকতাকে সমৃদ্ধ হতে দাও’ শ্লোগানকে সামনে রেখে পৃথিবীর  বিভিন্ন দেশে এবার এই দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই দিবসকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। আমাদের দেশের সাংবাদিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদপত্রগুলোর সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিলে সাংবাদিকদের অধিকার এবং মুক্ত সাংবাদিকতার বিকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে বলে অনেকে মনে করেন। একটি দায়িত্বশীল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা সাংবাদিকতা। ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হবেন এটা জেনেও অনেকে সাংবাদিকতা পেশায় আসছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হওয়া সত্তে¦ও অনেকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ সেবায় ভূমিকা রাখতে গিয়ে চরম মূল্য দেন নানাভাবে। নব প্রজম্নের বিপুল সংখ্যক নতুন মুখ সরকারী-বেসরকারী উচ্চ বেতনের চাকরি না করে  সাংবাদিকতা পেশায় এগিয়ে আসছেন। গত দুই দশকে  দেশে অনেক নতুন পত্রিকা  বের হয়েছে। বিকাশ ঘটেছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকতায়। ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে রেডিও-টিভি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও। রেডিও-টিভিতে এখন রিপোর্টিং ও বিশেষ প্রতিবেদন ও টক শো চালু হয়েছে। সাংবাদিকতায় প্রতিযোগিতা ও বেড়েছে অনেক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে নতুন মুখ যারা সাংবাদিকতায় আসছেন তারা সাংবাদিকতাকে একটি দায়িত্বশীল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন বলে ধারণা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় দেশে দেশে সাংবাদিকরা নানাভাবে নির্যাতিত হন। তারই একটি বিশ্ব চিত্র আজ তুলে ধরা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (আইএফজে) -এর রিপোর্ট থেকে ও প্রেস ফ্রিডম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি হতে ৩০ এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪৫ জন  সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মী  নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্যারিসে ১০ জন সাংবাদিক দুর্বৃত্তদেও হাতে নিহত হন। এছাড়া লিবিয়ায় ৫ জন সাংবাদিক নিহত হন। এছাড়া ইয়ামেন, ফিলিপাইন, গুয়েতেমালাসহ বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হন বলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট সূত্রে জানা যায়। গত ২১ বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ২৩৮৭ জন এবং গত ১২ বছরে কাজ করতে গিয়ে প্রায় ১হাজার ১০০ জন সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন। গত বছর ২০১৪ সালে ১শত ১৮ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী  নিহত হন বলে  আইএফজে সূত্রে জানা যায়। বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের অতীত চিত্র: বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা  নতুন কোন বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে এদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ১৭৮০ সালে বেঙ্গল গেজেটে জেমস অগা¯টাস হিকি  তৎকালীন ইংরেজ সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে হিকিকে কারাদন্ড ভোগ করতে হয়। ১৭৮১ সালে তাকে দন্ড দেয়া হয়। তৎকালীন সরকার ১৭৮২ সালে বেঙ্গল গেজেট পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেন এবং প্রেস বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে কথা বলার কারণে ১৯০৬ সালে মেীলভী মুজিবুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত দি মুসলমান পত্রিকাকে অনেক ধকল সহ্য করতে হয়। ১৯১৩ সালে ইংরেজ সরকার পত্রিকাটির বেশ কিছু সংখ্যা বাজেয়াপ্ত করেন। ১৯২২ সালের ২২ অক্টোবর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত ধূমকেতু  পত্রিকায় দুটি রচনা এবং মাওলানা আকরাম খাঁর ১৯২০ সালে সেবক নামে একটি বাংলা পত্রিকায় একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করায় তাকে এক বছর দন্ড ভোগ করেতে হয়। তিনি তখন সাপ্তাহিক মোহাম্মদী  পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। পাকিস্তান আমলের কথা আপনাদের অনেকেরই জানা আছে। ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিনের সমালোচনা করায় সরকার অবজারভার পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিলেন। ১৯৬৬ সালের জুন মাসে ডিফেন্স অব পাকিস্তান এ্যাক্ট নামের একটি আইনের বলে ইত্তেফাক বন্ধ ঘোষণা করে  তৎকালীন সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনী এদেশে সাংবাদিক নিধন অভিযান চালায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পুড়িয়ে দেয়া হয় ইত্তেফাক, সংবাদ ও পিপলস অফিস। বর্তমান জাতীয় প্রেসক্লাবে নিক্ষেপ করা হয় মর্টার শেল। সংবাদ অফিসে আক্রমণের ফলে মারা যান সাংবাদিক শহীদ সাবের। মক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ের সাংবাদিকদের হত্যা করা হয় নির্বিচারে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সব সরকারের আমলে সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা রাজধানীর চেয়ে বেশী ঘটছে জেলা -উপজেলা পর্যায়ে। সাংবাদিক নির্যাতন -নিপীড়ন শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা নির্যাতিন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকদের মধ্যে সৃষ্ট অনৈক্য ও বিরোধ: অনৈক্য ও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং আক্রোশ থেকে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের শুধু নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক নির্যাতন বাড়ছে। সাংবাদিকদের আর্থিক, সামাজিক ও দৈহিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিকরা দেশ ও সমাজের কোন কল্যাণমূলক কাজে সফলতা অর্জন করতে পারবে না। সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য সাংবাদিকদের বিরাট দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। এ দায়িত্ব পালন করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। যা এখন সময়ের দাবী। সাংবাদিক সমাজকে রাজনৈতিক বলয় হতে বের হয়ে আসতে হবে। সাংবাদিক সমাজকে তার অতীত ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এজন্য সাংবাদিক সমাজের প্রবীণ-নবীন সমন্বয়ে  যৌথ সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো  যেতে পারে। অন্যথায় মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটবে না। সংবাদপত্র সমাজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে বাধাগ্রস্ত  না হয় সেজন্য মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের একতায় সংঘবদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক ও নেতৃত্বের কারণে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্যেও সাধারণ সাংবাদিকরা আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলার নেতৃত্ব তা বাস্তবায়নে মোটেও তেমন আগ্রহী নন। ঐক্যবদ্ধ না থাকায় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা আজ ভূলুন্ঠিত। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং  সাংবাদিকতা-যে একটি আদর্শ ও মহান পেশা তা পুনরায়  মর্যাদাশীল করতে হবে। প্রচন্ড প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে আজ সাংবাদিক সমাজকে কাজ করতে হয়। রণক্ষেত্রে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। জীবনবাজি রেখে যে সাংবাদিক রণক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহ করেন আজও শত শত সাংবাদিক মাসের পর মাস বেতন-ভাতা না পেয়ে  পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুঃখ-কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করছেন। অথচ সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোন ভূমিকা নিতে পারছেন না। তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, রাজধানী এবং বড় শহরের সাংবাদিকদের তুলনায় মফস্বল শহরের সাংবাদিকরা বেশী নির্যাতিত হয়। এর একমাত্র কারণ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি।অনেক বিভাজনের পরও রাজধানীর সাংবাদিকরা এখনো সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা ঝুঁকি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য। এ পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিয়ে যত ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে  তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ হিসেবে অপর একজন সাংবাদিককে দাঁড় করানো হয়েছে।অতীতের ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিক সমাজের ওয়েজবোর্ডসহ অন্যান্য দাবী আদায়ের জন্য  বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের ঘটনা যেন এক  ইতিহাস। ১৯৮৫ সালে সংবাদপত্রে ২৬ দিনের ধর্মঘট এবং ১৯৯০ সালের জরুরী আইন চলাকালীন সময়ে সারাদেশে সংবাদপত্র বন্ধ রাখার ঘটনা এবং ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সাংবাদিকদের রাজপথের মিছিল সাংবাদিকদের ঐক্যের ফসল। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার জন্যে অতীতে যে গৌরবোজ্জ¦ল ভূমিকা পালন করেছে তা যেন ক্রমেই অতীত ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৩ সালের পর থেকে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তাহীনতার দিকে ধাবিত হয়। ১৯৭১ সালেও যে সাংবাদিক সমাজ জীবনবাজি রেখে শুধু কলমযুদ্ধে নয় সরাসরি রণক্ষেত্রে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে সেই সাংবাদিক সমাজ আজ স্বাধীনদেশে মুক্তভাবে লিখতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রই সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য এবং সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিসে দেয়াল উঠেছে। আমাদের আজ শিক্ষা নিতে হবে নির্যাতিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে। আমরা সাংবাদিকরা যেন নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি না করি। এখানে আরো বলা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সাংবাদিকদের উপর যত নির্যাতন ও হামলার ঘটনা ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করলে একটি সত্য বের হয়ে আসে যে, প্রতিটি ঘটনার সাথে কোন না কোনভাবে প্রতিপক্ষের একজন সাংবাদিক জড়িত। আমরা এই রকম অবস্থার অবসান চাই। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে আমরা গোটা সাংবাদিক সমাজকে কুলষিত করছি। শুধু  নিজেদের মধ্যে অনৈক্য ও অসহিষ্ণুতার কারণে সাংবাদিক সমাজ তাদের পেশাগত মর্যাদা এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনৈক্য ও অসহিষ্ণুতার কারণে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। সংবাদমাধ্যম ও তথ্য অধিকার আইন : তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায় যে ,বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলা হতে পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা প্রায় ২২৭৫ টি। এরমধ্যে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ৩৩৬ টি।  বাংলাদেশে সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থা এবং ২১/২২টি অন লাইন দৈনিক ও ১০ টি সংবাদ সংস্থা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ৩০ টি বেসরকারী  টিভি চ্যানেল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে।  বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও  সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৫/২৬ টি আইন রয়েছে। সরকার তথ্য অধিকার আইন  আইন পাস করেছে। তবে এর সুফল কিভাবে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ ভোগ করবেন তা এখনো  স্পস্ট নয়। সাংবাদিকদের জন্য তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তা যেন আরো বেশি জটিল থেকে কঠিনতর হয়ে না ওঠে।  তথ্য অধিকার ও জনগণের ক্ষমতা সম্পর্কে  আমাদের সংবিধানে স্পট করেই উল্লেখ আছে।  জনগণই যদি সকল ক্ষমতার উৎস হয় তবে সহজে তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জনগণের কথা অব্যশ্যই চিন্তা করতে হবে। ১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশে পত্রিকা প্রকাশের সংখ্যা বেড়েছে। সারাদেশে নতুন নতুন পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের সবকটি জেলা হতে  দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হচ্ছে। আর এসব পত্রিকায় সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ৯,৫০০ জন। এরমধ্যে ৬,৫০০ জন সার্বক্ষণিক পেশাজীবী সাংবাদিক বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত আছেন বলে বিভিন্ন সংগঠন সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে ঢাকায়  সাংবাদিকদের ২৫/২৬ টি সংগঠন রয়েছে। এই সব সংগঠনের  মাধ্যমে মাত্র ৫ হাজার সাংবাদিক সংগঠিত। বাকী অসংগঠিত ৫৫০০ জন সাংবাদিক স্থানীয়ভাবে প্রেসক্লাব বা অন্যান্য সংগঠনের সাথে জড়িত থাকলেও তারা সংগঠিত নয়। ফলে সাংবাদিকরা আজ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতিত হচ্ছেন। বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের পর থেকে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। সংবাদপত্র শিল্পে বিরাজ করতে শুরু করে এক ধরনের নৈরাজ্যকর অবস্থা। সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, সাধারণ কর্মচারী ও প্রেস শ্রমিকদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল তা ভেঙ্গে গেছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ মালিকদের স্বাধীনতায় পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি ও ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা বাসস, বেতার, টিভিকে মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। সাংবাদিক সমাজের অতীতের গৌরবোজ্জ¦ল ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সকলকে একতায় সংহত হতে হবে। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম জগতে সুবিধাবাদী চক্রের অনেক বেশি আবির্ভাব ঘটেছে অনেক বেশি। বিশেষ মহল  সাংবাদিক সমাজকে রাজনৈতিক মেরুকরণ করে সুভিধাভোগ করছে। আর সাধারণ সাংবাদিকরা মাসের পর মাস বেতন-ভাতা পাচ্ছে না-সাংবাদিক নিহত হলে বিচার হয় না। মামলা-মোকদ্দমা হলেও নানা কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। সাংবাদিক সমাজের মধ্যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সারাদেশে যেভাবে প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হচ্ছে তাতে পেশাগত মর্যাদা মোটেও রক্ষা হবে না। তাই সবার আগে প্রয়োজন সাংবাদিকদের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ  হওয়া। ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সুবাতাস বইছে কোন কালো থাবায় তা যেন কলুষিত না হয়। [লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম (বিজেধারএফ) ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ, বিএফইউজে]

ক্রিসেন্ট গ্রুপের ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার : জনতা ব্যাংক...

ক্রিসেন্ট গ্রুপের ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার : জনতা ব্যাংক ও ক্রিসেন্টের ১৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদক

জেসমিন মলি |

রফতানি বিলের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে ক্রিসেন্ট গ্রুপ কর্তৃক ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির ১১ কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধান সূত্র জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করে শিগগিরই একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে জনতা ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে তারা হলেন নোট প্রস্তুতকারী এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসও) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, পরীক্ষণকারী সিনিয়র অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, সুপারিশকারী সিনিয়র অফিসার মো. সাইদুজ্জামান, প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমীন, সিনিয়র অফিসার মো. মাগরেব আলী, সিনিয়র অফিসার মো. খায়রুল আমিন, এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার, অনুমোদনকারী ডিজিএম (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি) মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম ও শাখাপ্রধান মুহাম্মদ ইকবাল, ডিজিএম ও শাখাপ্রধান একেএম আসুদুজ্জামান এবং ডিজিএম ও এফটিডি কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে গ্রাহকদের মধ্যে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টের চেয়ারম্যান এমএ কাদের, একই প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক সুলতানা বেগম ও রেজিয়া বেগম, লেসকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান মো. আবদুল আজিজ, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুন জাহান মীরা।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ক্রিসেন্ট গ্রুপ কর্তৃক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জনতা ব্যাংকের টাকা পাচার এবং আত্মসাতের ঘটনায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাই এখানে দুদকের আওতাভুক্ত সম্পৃক্ত ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এখানে সম্পৃক্ত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই দুদক ছাড়া অন্য সংস্থার এ বিষয়ে মামলা করার আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে। দুদক দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৭১, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২), (৩) ধারায় শিগগিরই মামলা দায়ের করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা দুদকের যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ব্যাংকের পক্ষ থেকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তও চলমান। ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য এরই মধ্যে দুই দফায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে ব্যাংকের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নতুন ৫৭০টি রফতানি বিল কেনার নামে ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যানের সহায়তায় ৯৯৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন স্মারকে অনুসন্ধান করার জন্য সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ারকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধানে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৬৫৩টি রফতানি বিলের মাধ্যমে পণ্য বিদেশে সরবরাহ করে সে অর্থ বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন না করে ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে দুদকের পরিচালক ও তদারককারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, অভিযোগটির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। তবে দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তা হচ্ছে রফতানি এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক প্রথম শ্রেণী/আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং আর্থিক সংগতি বিশ্লেষণে গ্রহণযোগ্য কিনা তা ব্যাংকার্স অ্যালামনাক বা অন্য কোনোভাবে শাখা কর্তৃক যাচাই করা হয়নি।

বৈদেশিক ক্রেতার সন্তোষজনক ক্রেডিট রিপোর্ট গ্রহণপূর্বক ক্রেতার স্ট্যাটাস বিশ্লেষণ, মূল্য পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে বৈদেশিক ক্রেতার ব্যাংকের মতামত সংগ্রহপূর্বক তা যাচাই না করে ব্যাংকগুলোর রফতানি নেগোসিয়েশন/বিল ক্রয় করা হয়েছে। ফরেন ডকুমেন্টারি বিল পারচেজ (এফডিবিপি) ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের আবেদনপত্রে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর যাচাই করেনি ব্যাংক শাখা। শাখায় রক্ষিত শিপিং ডকুমেন্ট প্রেরণের কুরিয়ার রিসিপ্টে ডকুমেন্ট গ্রহণকারীর স্বাক্ষর নেই। বৈদেশিক ব্যাংকে ডকুমেন্ট প্রেরণের প্রুফ অব ডেলিভারি নথিভুক্ত নেই, ফলে ডকুমেন্টগুলো সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। ক্রয়াদেশ প্রদানকারী/আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন দেশে (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত) অবস্থিত হলেও পণ্য রফতানি হচ্ছে হংকং ও চীনের মতো দেশে। এক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ প্রদানকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা/চুক্তি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে শাখা। চুক্তিপত্রের বিপরীতে প্রধান কার্যালয়ের এফডিবিপি লিমিট মঞ্জুরিপত্রে হংকং ও চীনের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ওয়েল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও ম্যাক্রোভাইল লিমিটেডের গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিল নেগোসিয়েশনের অনুমতি দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ওই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান কিনা এবং চুক্তিপত্রগুলো যথাযথ কিনা তা যাচাই না করেই বিলগুলো ক্রয় করা হয়েছে।

দুদকের গণশুনানি উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম: তাকসিম নামা!

দুদকের গণশুনানি

উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম

এক ফোঁটা পানিও থাকে না ট্যাপে; কখন আসে, কখন যায়, তাও টের পাওয়া যায় না। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাত জেগে বসে থাকেন তারা। অনেক প্রতীক্ষার পর যদিও বা সেই পানির দেখা মেলে, তার নোংরা দুর্গন্ধে ইচ্ছে করে দৌড়ে পালাতে। ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা, উদাসীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে পানি সরবরাহে এ নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। রাজধানীর মিরপুরে ওয়াসার মডস জোন-৪ ও জোন-১০ এলাকার ভুক্তভোগী নাগরিকরা এভাবেই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন গতকাল বুধবার। ঢাকার মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ওই দুটি জোনে ওয়াসার কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এসব কথা বলেন তারা। ভুক্তভোগীরা জোন দুটির দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনেই তাদের 'অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি' নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান এবং ডিএমডি (অর্থ) উত্তম কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন। গণশুনানি প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াসার কার্যক্রম একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই সাধারণ জনগণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর এ জন্যই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মডস-৪ ও ১০ এলাকার স্থানীয় নাগরিকরাও গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গণশুনানির মঞ্চে উপস্থিত মডস জোন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. মজিদ ও কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এবং জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হাবিব চৌধুরী ও কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন অনেক অভিযোগই এড়িয়ে যান। তবে কোনো কোনো অভিযোগ সমাধানের পাশাপাশি ঘুষ চাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা। দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ ভুক্তভোগী নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতারণা বা সেবার নামে ওয়াসার কোনো কর্মকর্তা ঘুষ চাইলে তারা যেন গোপনে দুদকের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফাঁদ পেতে ওইসব অসৎ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে তা সরবরাহ করতেও বলেন তিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা কোনোভাবেই যেন সেবাগ্রহীতা জনগণের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করেন। আগামী ২ মে বিআইবিএম মিলনায়তনে গতকালের গণশুনানির ফলোআপ গণশুনানি করা হবে বলে তিনি জানান। ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বিলে যাতে মানুষের হাত দিতে না হয় সেই পদ্ধতিও চালু করা হবে। এর ফলে কোনো গ্রাহককে অফিসে যেতে হবে না, বিল অনলাইনেই পরিশোধ করা যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে ওয়াসার হটলাইনে ফোন করে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে গণশুনানিতে একাধিক অভিযোগকারীই জানান, হটলাইনে ফোন করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তাকসিন এ খান আরও বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া (ডিএমএ) পদ্ধতিতে পানি সরবরাহসহ নানা ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মিরপুরের বাউনিয়া থেকে আসা মো. মোশাররফ বলেন, ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক তাকে বলেছেন, ঘুষ দিলে বিলের টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ওয়াসা কর্মকর্তা বলেন, বিল কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগকারীকে অফিসে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে রাজস্ব পরিদর্শকের সামনে এ নিয়ে কথা হবে। বড়বাগের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি খুব কমই পান তারা। যাওবা পান তা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। বড়বাগের পপুলার হাউজিংয়ের মারুফ মিল্লাত বলেন, কখনও রাত ২টার পর, আবার কখনও রাত ৩টার পর খানিকটা পানি পাওয়া যায়, যা দিয়ে জীবন চলে না। বড়বাগের অন্য একটি স্থানের নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় পানি নেই। স্থানটিকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্য এক অভিযোগকারী গণশুনানি কক্ষের সামনে থেকে এসে বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণেই ওই এলাকায় পানি নেই। যাদের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর 'খাতিরের লোক' বলে জানান তিনি। মিরপুর-১০ থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, দিনের বেলায় পানি থাকে না। পানি পাওয়া যায় রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। বড়বাগের আবদুল মতিন বলেন, মিটারের ত্রুটির কারণে বিল ১৬ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করত। অথচ মিটার পরিবর্তনের পর বিল আসছে সাত হাজার টাকা। হান্নান আকন্দ বলেন, নিম্নমানের মিটার দেওয়া হয়- অল্প সময়ের মধ্যেই এসব নষ্ট হয়ে যায়। শাহআলী এলাকার ঝিটন মিয়া বলেন, কর্মকর্তারা বলেন, সকালে পানি পাবেন, বিকেলে পানি পাবেন। আসলে পানি পাওয়া যায় না। বড়বাগের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাম্পের চাবি খুলে অন্য এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়, তারা পানি পান না। একটু পানির জন্য কত যে হাহাকার- তা বলে শেষ করা যাবে না।   গণশুনানিতে উত্তর ইব্রাহিমপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ থাকলে পানি পাই, চাপ না থাকলে পাই না। তৌহিদুর রহমান বলেন, মিটার রিডার রিডিং না করেই তাদের বিল দেন। তাতে বিলের পরিমাণ বেশি উল্লেখ করা হয়। বারোটিকার রহিমা নাসির বলেন, সারাদিন, সারারাতে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক পানি পাওয়া যায়। ফাতেমা আক্তার বলেন, পানি কখন আসে, কখন যায়- তারা জানেন না। তারা খাবার পানি পান না; অথচ পাশেই নির্মাণ কাজে প্রচুর পানি দিয়ে ইট ভেজানোসহ অন্যান্য কাজ করা হয়।

আইন ভেঙে পঞ্চমবারের মতো ওয়াসার এমডি হচ্ছেন তাকসিম

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
ঢাকা ওয়াসায় পঞ্চমবারের মতো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করা হচ্ছে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে। এ নিয়োগ পেলে প্রকৌশলী তাকসিম ১২ বছর পূর্ণ করবেন। তাকসিম এ খানকে স্বপদে বহাল রাখতে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াসা বোর্ডকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওয়াসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে থাকে। এবারই প্রথম বোর্ডের সেই ক্ষমতা খর্ব করে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নতুন করে নিয়োগের সুপারিশসহ প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর তাকসিম এ খান নিয়োগ পেয়ে পর পর চারবার নিয়োগ পান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকসিম এ খানকে নতুন করে নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের (পাস-২ শাখা) উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(১), (২) ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক আগামী ১৩ অক্টোবর তাঁর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হবে। এমতাবস্থায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব বোর্ডের সুপারিশসহ প্রেরণের জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা আইন মেনে এমডি নিয়োগ দিতে ওয়াসা বোর্ডকে পত্র দিয়েছি। সেখানে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করি না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আর একই আইনের ১০(গ) ধারায় বলা আছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের নিয়োগ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বোর্ড। মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে গতকাল শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে বোর্ডসভা হয়। বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রকৌশলী তাকসিমকে পুনরায় নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বোর্ডসভায় উপস্থিত একজন সদস্য গতকাল রাতে কালের কণ্ঠর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড মূলত এমডি নিয়োগের সব বিষয় চূড়ান্ত করে। সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, নানা যোগ্যতা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর মেধা তালিকা করে চূড়ান্ত নিয়োগের একটি সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করে। এখন মন্ত্রণালয় যদি এমডির নাম লিখে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার চিঠি দেয় সেখানে তো বোর্ড থেকে আর লাভ নেই। আরেকজন বোর্ড সদস্য গতকাল বলেন, আজকের (গতকাল) বোর্ডসভায় মূল এজেন্ডা ছিল এমডি নিয়োগ। সেখানে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। নিজের নিয়োগের ব্যাপারে উপস্থিত হয়ে নিজেই তা চূড়ান্ত করেন। একজন প্রার্থীকে বোর্ডে বসিয়ে কিভাবে নিরপেক্ষ কথা আর আইনের কথা বলি? এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়ে আমাদের সুপারিশ দিতে বলেছে। এখন আর কী। এটি আইনসম্মতভাবে হচ্ছে কি নাএ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করে চতুর্থ মেয়াদে এমডি হয়েছিলেন তাকসিম এ খান। সে সময় বোর্ডকে পাস কাটিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলতি দায়িত্বে ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান) সঙ্গে নিয়ে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন তিনি। সেখানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ জায়েজ করা হয়। সেখানে এমডি পদে প্রার্থীর বসয়সীমা আইন অনুযায়ী ৫৯ বছরের স্থলে ৬০ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ তাকসিম এ খানের বয়স সেই সময় ৫৯ অতিক্রম করেছিল। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে তৃতীয়বারের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় ওয়াসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ডসভায় চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হন তাকসিম। ২১০তম বোর্ডসভা চলমান থাকলেও প্রায় এক বছরের আগের ১৯৮তম বোর্ডসভার নিষ্পন্ন হওয়া তামাদি সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমডি পদে বহাল হয়েছিলেন; যা ছিল ওয়াসার আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে রেকর্ড করেছেন তাকসিম এ খান। পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয়ের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়োগ পেলে তাকসিম এ খান ওয়াসায় প্রায় ১২ বছর পূর্ণ করবেন। অথচ তাকসিম এ খানকে প্রথম মেয়াদে নিয়োগের সময়ই অনিয়ম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরবর্তী নিয়োগে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা সাহানা বারী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে পরীক্ষা ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.