‘জামাল খাসোগজিকে খুন করে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে’: ওয়াশিংটন পোস্ট

তুরস্ক সরকার মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছে যে তাদের হাতে অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ রয়েছে যে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের ভেতর খুন করা হয়েছে।
মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, এসব রেকর্ডিং-এ দেখা যাচ্ছে সৌদি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কনসুলেটের ভেতরে জামাল খাসোগজিকে আটক করেছে, তারপর তাকে হত্যা করেছে এবং তার দেহকে খণ্ড-বিখন্ড করেছে। বিশেষভাবে অডিও রেকর্ডিং থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সৌদি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগসাজশের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা বলছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা, যিনি এই অডিও এবং ভিডিও সম্পর্কে জানেন, তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, "জামাল খাসোগজি কনসুলেটের ভেতরে ঢোকার পর সেখানে কী ঘটেছিল তার একটা ধারণা ঐ অডিও রেকর্ড থেকে জানা যাচ্ছে।" "আপনি শুনতে পাবেন লোকজন আরবিতে কথা বলছে," নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, "আপনি শুনতে পাবেন তাকে (জামাল খাসোগজিকে) জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরে খুন করা হচ্ছে।" তুর্কী কর্তৃপক্ষ অন্য যে মার্কিন কর্মকর্তাকে এই প্রমাণ দেখিয়েছে, তিনি বলছেন এসব রেকর্ডিং থেকে জামাল খাসোগজিকে মারধরের প্রমাণ মিলেছে। জামাল খাসোগজি এক সময় সৌদি রাজপরিবারের খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সৌদি সরকার এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি সংবাদপত্রে লেখা ছাপিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ঐ খবরে বলা হয়েছে, মি. খাসোগজি নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথেই তুরস্ক কেন সৌদি আরবকে দোষারোপ করেছে এসব প্রমাণ থেকে তার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, কিন্তু তুর্কী সরকার এসব অডিও এবং ভিডিও প্রকাশ করতে নারাজ কারণ এতে প্রমাণ হয়ে যাবে যে তুরস্ক একটি বিদেশি দূতাবাসের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। মি. খাসোগজির অন্তর্ধানের ঘটনা যৌথভাবে তদন্ত করার জন্য তারা তুরস্কের প্রতি প্রস্তাব দিয়েছে এবং আঙ্কারা সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট খবর দিয়েছে।

কেন সৌদি কনস্যুলেটে এসেছিলেন জামাল খাসোগজি?

মি. খাসোগজির কনস্যুলেটে আসার উদ্দেশ্য ছিল, তার পূর্বতন স্ত্রীকে যে তিনি ডিভোর্স (তালাক) দিয়েছেন - এ মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র নেয়া, যাতে তিনি তুর্কী বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে পারেন।মি. খাসোগজি তার মোবাইল ফোনটি মিস চেঙ্গিসের হাতে দিয়ে ভবনের ভেতরে ঢোকেন। মিজ চেঙ্গিস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মি. খাসোগজি এ সময় বিমর্ষ এবং মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন - কারণ তাকে ওই ভবনে ঢুকতে হচ্ছে। হাতিস আরো বলেন, মি. খাসোগজি তাকে বলেছিলেন যদি তিনি কনস্যুলেট থেকে বের না হন - তাহলে তিনি যেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ানের একজন উপদেষ্টাকে ফোন করেন। তিনি জানান, তিনি কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষা করেন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর একটা থেকে মধ্যরাতের পর পর্যন্ত। কিন্তু তিনি জামাল খাসোগজিকে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেন নি। বুধবার সকালবেলা কনস্যুলেট খোলার সময় তিনি আবার সেখানে উপস্থিত হন। তখন পর্যন্ত মি. খাসোগজির কোন খোঁজ মেলেনি। তার পর থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কমল দে https://youtu.be/TC3OIKu-j1E মিয়ানমার থেকে জোরপূবক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। বিশেষ করে মৌলবাদী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণহীন রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের আশংকা রয়েছে। এ অবস্থায় টেকনাফ-উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর কথা বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে দেশ ত্যাগের এক বছর পালন করতে গিয়ে শনিবার দিনভর উত্তাল ছিলো উখিয়ার বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। ১৬টি পয়েন্টে বড় ধরনের সমাবেশের পাশাপাশি মিছিলের মাধ্যমে ব্যাপক শোডাউনও করে তারা। এবারই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কোনো সরকার কিংবা সংস্থার প্রধান শিবির পরিদর্শনে আসলেই রোহিঙ্গারা এ শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। নিয়ন্ত্রণহীন এসব রোহিঙ্গাদের আচরণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন স্থানীয়রা রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আদিল চৌধুরী বলেন, ‘এরা বারবার যে নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে, সেটা থেকে কীভাবে যে বেরিয়ে আসছে, এটা আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না। এরা কিন্তু লোকালি আসছে। রাতে যে এরা বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করছে- সব দিক থেকে আমরা স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।’ রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির আরেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে লক্ষাধিক মানুষ যখন আমাদের দেশে থাকবে, তাদেরকে অন্য কোনো পক্ষ যে কোনো সময় উসকানি দিয়েই হোক, বা তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েই হোক- এটা আমাদের নিরাপত্তার জন্য খুব বড় হুমকির সৃষ্টি করবে।’ রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীঘস্থায়ী হলে স্থানীয়ের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা'ও হুমকির মুখে পড়বে বলে আশংকা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। প্রশাসনের শীর্ষ কমকতারাও হুমকির বিষয়টি স্বীকার করছেন। বিভাগীয় কমিশনার মেজর আবদুল মান্নান বলেন, ‘সন্তাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িয়ে যেতে পারে। তারা এধরণের পেশাতে একসময় ছিলোও হয়তোবা। আমরা আশঙ্কা করছি না- এরকম না। সেটা আমাদের জন্য তো অবশ্যই হুমকি।’ এ অবস্থায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমাদের নজরদারী আছে যে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যাতে তারা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ছড়াতে না পারে। সেকারনে আমাদের পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো এদেরকে কড়া নজরদারীতে রেখেছে।’ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এবং উখিয়া উপজেলায় নতুন পুরাতন মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে।

ঢাকায় ঘণ্টায় এক তালাক | স্বামী-স্ত্রীর ‘বনিবনা’ না হওয়ার বড় কারণ...

ঢাকায় ঘণ্টায় এক তালাক | রাজশাহীতে স্বামী-স্ত্রীর ‘বনিবনা’ না হওয়ার বড় কারণ মাদক

মানসুরা হোসাইন
সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বনিবনা না হলে বিবাহিত নারী-পুরুষেরা আলাদা থাকছেন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানেরা। ঢাকা শহরে তালাকের আবেদন বাড়ছে। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। গত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তালাকের আবেদন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়-প্রায় ৭৫ শতাংশ। দক্ষিণ সিটিতে বেড়েছে ১৬ শতাংশ। দুই সিটিতে আপস হচ্ছে গড়ে ৫ শতাংশের কম। গত ছয় বছরে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অর্ধলাখের বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে। এ হিসাবে মাসে গড়ে ৭৩৬ টি, দিনে ২৪ টির বেশি এবং ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। তালাকের সবচেয়ে বড় কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘বনিবনা না হওয়া’। স্ত্রীর করা আবেদনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বামীর সন্দেহবাতিক মনোভাব, পরনারীর সঙ্গে সম্পর্ক, যৌতুক, দেশের বাইরে গিয়ে আর ফিরে না আসা, মাদকাসক্তি, ফেসবুকে আসক্তি, পুরুষত্বহীনতা, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, নৈতিকতাসহ বিভিন্ন কারণ। আর স্বামীর অবাধ্য হওয়া, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী না চলা, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, সন্তান না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছেন স্বামী। তালাকের প্রবণতা সারা দেশের হিসাবেও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত সাত বছরে তালাকের প্রবণতা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তালাক বেশি হচ্ছে। গত জুন মাসে প্রকাশিত বিবিএসের দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসের ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, গত বছর ১৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি এক হাজার নারী-পুরুষের মধ্যে গড়ে ১ দশমিক ৪টি তালাকের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে যা ছিল ১ দশমিক ৫। বর্তমানে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি তালাক হয় (২ দশমিক ৭)। আর সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে (দশমিক ৬)। এই বিষয়ে বিবিএসের ওই জরিপ প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি নেতিবাচকভাবে না দেখে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। বিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বনিবনা না হলে তাঁরা আলাদা থাকছেন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে তালাকের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানেরা। প্রায় তিন বছর আগে নির্যাতনের শিকার এক নারী স্বামীকে তালাক দেন। রাজধানীতে বসবাসকারী ওই নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, স্বামীর প্রচুর টাকা ছিল কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ দিতেন না। নেশা করতেন। হত্যা মামলার আসামি। শারীরিক নির্যাতন করতেন। স্বামীকে কয়েকবার তালাক দিতে চান, কিন্তু গুন্ডাপান্ডা দিয়ে মা-বাবা, ভাইদের মেরে ফেলার হুমকিতে তিনি থেমে যান। অবস্থা বেশি খারাপ হলে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন। তারপর স্বামীকে তালাক দেন। বর্তমানে এই নারী রাজধানীতে টিউশনি করেন। তিনি বলেন, তালাকের পরও তিনি নানা ধরনের হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন। স্বজনসহ তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন আগের স্বামী। দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন বাড়ছে। উত্তর ও দক্ষিণে তালাকের আবেদনের প্রায় ৭০ শতাংশই স্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে। অন্য নারীর সঙ্গে স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধনমুক্ত থাকার প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণে উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান ও বনানীর অভিজাত পরিবারের শিক্ষিত ও বিত্তবান নারীরা বেশি তালাকের আবেদন করছেন। আবার দক্ষিণ সিটিতে মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার এলাকায় পেশাজীবী নারীরা বেশি তালাক দেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে একজন নারী চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসক স্বামীকে তালাক দিয়েছেন বিয়ের এক বছরের মাথায়। বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার কথা জানতে পারলেও প্রথম দিকে তা সবার কাছে গোপন করেন। কিন্তু এ সমস্যার পাশাপাশি স্ত্রীকে আর উচ্চশিক্ষার সুযোগ না দেওয়া, ঘরের সব কাজ করতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন নির্যাতন চলতে থাকে। পরে মা-বাবার উদ্যোগে ওই নারী স্বামীকে তালাক দেন। দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগে মেয়ে তালাকপ্রাপ্ত হলে পরিবারে আশ্রয় পেতেন না। এখন সচেতনতা বাড়ায় মেয়েকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য পরিবারগুলোই এগিয়ে আসছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উপসচিব অজিয়র রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তালাক নিয়ে সেভাবে গবেষণা নেই। তবে তালাক আবেদনের আগেই দুই পক্ষ মোটামুটি তালাক কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। ফলে আপসের জন্য আসা দম্পতির সংখ্যা খুব কম। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভাগ করা হয়। বর্তমানে দুই করপোরেশনে প্রথমে মেয়রের কার্যালয়ে তালাকের আবেদন নথিভুক্ত হয়। তারপর সেখান থেকে তালাকের আবেদন মূলত স্ত্রী কোন অঞ্চলে বসবাস করছেন, সেই অনুযায়ী ওই অঞ্চলের কার্যালয়ে দেওয়া হয়। দুই পক্ষের মধ্যে তালাক আপস না হলে সিটি করপোরেশনের আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক আবেদনের ৯০ দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ আপসের বা তালাক প্রত্যাহারের আবেদন না করলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রবণতা হলো নারীরা সহজে তালাকের সিদ্ধান্ত নেন না। বাংলাদেশে নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন কেন বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের মতামত ছাড়া কম বয়সেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে বেশি বয়সী লোকের সঙ্গেও অভিভাবকেরা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। একটা পর্যায়ে গিয়ে এ ধরনের বিয়েগুলো টিকছে না। বর্তমানে অনেক নারী বাইরে কাজ করছেন। কিন্তু পিতৃতান্ত্রিক পরিবেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাইরে কাজের পাশাপাশি ঘরের সব দায়িত্বও নারীকে সামলাতে হচ্ছে। দ্বৈত ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একপর্যায়ে নারীরা হাঁপিয়ে পড়ছেন। আর নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে তালাকের মতো সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হচ্ছে। যে কারণেই তালাকের সংখ্যা বাড়ুক তা পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে তালাক হলে সন্তানেরা অস্থিরতার মধ্যে বড় হয়, যার প্রভাব বইতে হয় সারাজীবন।

স্বামী-স্ত্রীর ‘বনিবনা’ না হওয়ার বড় কারণ মাদকঃ

দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর ‘বনিবনা’ না হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী। এই বিভাগে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের হার প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৮। রাজশাহীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বরিশাল বিভাগ। সেখানে বিচ্ছেদের হার হাজারে ১ দশমিক ৯। এটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য। গত জুন মাসে এই গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে ২০১৭ সালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে বিবিএসের জরিপে ২০১৬ সালের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তখন তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে ছিল রাজশাহী। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া পাঁচজন নারীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা সবাই স্বামীর মাদকাসক্তির কথা বলেছেন। এর মধ্যে এক নারী নোটিশে লিখেছেন, ‘...বিগত এক বছর যাবৎ সে (স্বামী) মাদকাসক্ত এবং ভরণপোষণ দেয় না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘বিবাহের পর হইতে সে (স্বামী) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায় আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করিয়া আসিতেছে।’ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর এলাকায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২৪টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ৪৬টি, জানুয়ারিতে ৭৬, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯, মার্চে ৬১ ও এপ্রিলে ৭২টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। বছরে গড়ে প্রায় ৭৫০টি বিবাহবিচ্ছেদের। ঘটনা ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে আবেদন করা নোটিশে বেশির ভাগ নারী-পুরুষ লিখেছেন, ‘সাংসারিক বনিবনা না হওয়া’। তালাক প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন কয়েক মাস আগে একটি সভায় দুঃখ করে বলেছেন, প্রতিদিন সকালে উন্নয়নকাজের ফাইলে হাত দেওয়ার আগেই তাঁকে আট-দশটি তালাকের নোটিশে সই করতে হয়। রাজশাহী শহরের মেহেরচণ্ডী এলাকার একটি সেলুনের কর্মচারীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে মাদকাসক্তির কারণে। হাদিরমোড় এলাকার এক অটোরিকশাচালকের বিবাহবিচ্ছেদের কারণও একই। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি আবদুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, বিচ্ছেদের প্রধান কারণ মাদক। এ ছাড়া ফেসবুক ও মুঠোফোনে অন্য কারও সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রীর প্রেমে জড়িয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে সংসারে। এতে ঘরে অশান্তি ও তিক্ততার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সংসার ভাঙছে। তিনি বলেন, যৌতুক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে। কাজি আবদুল হাকিম বলেন, রাজশাহীতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। বেকারত্বের হার বেশি। যে কারণে বিয়ের সময় প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া হয়। যৌতুকের টাকা নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়, শেষ পর্যন্ত তা বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে চলে যায়। বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে যেসব পুরুষ সিটি করপোরেশনে আবেদন করেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই লিখেছেন, ‘স্ত্রী কথা শোনে না। অবাধ্য। চরিত্র খারাপ’। মাদকাসক্তি, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহ রোধ করা না গেলে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা এড়ানো যাবে না বলে মনে করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী দিল সেতারা।

পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি

পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি: ড. বদরুল হাসান কচি image অনেকে হয়ত জানে না পণ্য কিনে ঠকলে বা কোনো প্রতারণার সম্মুখীন হলে তা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তার রয়েছে। ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দণ্ডের বিধান রেখে ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ প্রণীত হয়েছে।  যেসব অপরাধে জরিমানা করা হয় সেগুলোর মধ্য রয়েছে মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের খুচরা বিক্রিমূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ইত্যাদি লেখা না থাকা, পণ্য ও সেবামূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্য দাবি করা। এছাড়া ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত পণ্য বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাসাধারণকে প্রতারিত করা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করা। বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে, পরিমাপে, দৈর্ঘ্য পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা, জরিমানা পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কাজ, অবহেলা করে সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য ইত্যাদির ব্যাঘাত ঘটানো। অপরাধের শাস্তি: উপরোক্ত অপরাধগুলোর জন্য আইনে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে অনূর্ধ্ব তিন বছর পর্যন্ত কারাদ- এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। বিচার পদ্ধতি: এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার করা হবে। কোনো ব্যক্তি কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করবেন এবং অভিযোগ দায়েরের ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল না হলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করবেন না। ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের আদালতে আপিল করা যাবে। উল্লেখ্য, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য। মামলা করার সীমাবদ্ধতা: এই আইনের অধীনে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কাজের অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো মামলা সরাসরি দায়ের করা যায় না। মামলা দায়েরের এখতিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রয়েছে মাত্র। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ না করলে তা গ্রহণও করা হবে না। জরিমানার টাকায় অভিযোগকারীর অংশ: অভিযোগের সত্যতা মিললে জরিমানার ২৫ শতাংশ নগদ টাকা অভিযোগকারীকে দেওয়া, গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে সরাসরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগসহ নানা বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বেড়েছে ভোক্তাদের অধিকারের আওতা। এছাড়া গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে গণশুনানি। প্রতি সোমবার কারওয়ানবাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যেকোনো ভোক্তা অংশগ্রহণ করে সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ জানাতে পারেন। এছাড়া আইন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলেও তা করার সুযোগ রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জরিমানার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ করার পর তার সত্যতা মিলতে হবে। তাহলেই জরিমানা করা হয়। অভিযোগ পাঠানোর নিয়ম ও ঠিকানা অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস করে বা ফ্যাক্স, ই-মেইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে : মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১, কারওয়ানবাজার (টিসিবি ভবন ৮ম তলা), ঢাকা এবং উপ-পরিচালক জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র। এছাড়াও সকল জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ করা যাবে। ই-মেইল: dncrp@yahoo.com এছাড়া অধিদপ্তরের www.dncrp.gov.bd   ওয়েবসাইটেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_pdf_part.php?id=1014 লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক, ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

প্রধান বিচারপতির অভিযোগের পরদিনই বন্দি মেয়েকে যৌন নির্যাতন

29 May, 2015
বন্দি মেয়েরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অভিযোগের পরদিনই গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই কেন্দ্রে একজন কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কাওসার ভূঁইয়া নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গত মঙ্গলবার ২৬ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বন্দি মেয়েদের উপর যৌন নিপীড়নের স্পষ্ট অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন ঢাকা ও সিলেট কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘গাজীপুরে অনেক যুবতী মেয়েকে ৫৪ ধারায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করা হয় না। জেলা জজকে এ বিষয়টি তদন্ত করে তালিকাসহ রিপোর্ট দিতে বলেছি। জেলা জজ জানিয়েছেন, মেয়েদের আদালতে উপস্থাপন করা হয় না। কারণ তাদের যৌন কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে (ড. মিজানুর রহমান) সুপ্রিম কোর্টে আমার কার্যালয়ে ডেকে এনে লিস্টসহ ওইসব নারীর তালিকা দিয়েছিলাম। অনেক দিন হয়ে গেছে, দেখার মতো কিছুই হয়নি।’ পরদিনই গত বুধবার এক কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী কাওসার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রমাণ পেয়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা তালুকদারের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিত কাওছার ভুঁইয়া (৩০) কিশোরগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকার হারিস ভূইয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে ওই কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে চাকরিরত ছিলেন। এদিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) এস এ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য শুনে তিনি নিজে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে থাকা কিশোরীদের কাছে জানতে চেয়েছেন তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। তখন পাঁচ ছয়জন মেয়ে অভিযোগ করে তারা নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোস্তফা কামাল জানান, এক মেয়ের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কাওসার ভূঁইয়া নামের এক নিরাপত্তা রক্ষীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র ছাড়াও গাজীপুরের কারাগার এবং মহিলা উন্নয়ন কেন্দ্রের বন্দীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উৎসঃ   অনলাইন বাংলা

মানহানি অপরাধের বিচার

মানহানি অপরাধের বিচার

আসিফ নজরুল ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারীবিদ্বেষী। আমরা সারা পৃথিবীর কাছে এটা দেখাব যে কী ধরনের ডাহা জোচ্চর আর মিথ্যাবাদী আপনি।’ ওপরের কথাগুলো বলা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেছেন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের আইনজীবী। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মানহানি মামলা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরি ওবামার ওপর ক্ষিপ্ত মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য ওবামার নামে বের করা হয়েছিল টয়লেট টিস্যু। এ জন্যও কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। বাংলাদেশে আমরা এমন পরিস্থিতির কথা কল্পনাও করতে পারি না। বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বরং মানহানি মামলা হয় শক্তিমানদের পক্ষে, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে। অথচ এটি মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। আমেরিকা বা ইউরোপের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানহানির মামলা সাধারণত হয় বরং প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অসাধারণদের সম্পর্কে কিছু বলার জন্য মানহানি মামলা হয়েছে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা সেখানে। সাধারণ মানুষেরা মানহানি মামলা করলেও যে সেসব দেশের আদালত খুব উৎসাহিত হয়ে ওঠে তা–ও নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এই অভিযোগ খারিজ করে দেয় বাক্স্বাধীনতার স্বার্থে। ১৯৬৪ সালে আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট নিউইয়র্ক টাইমস বনাম সুলিভান মামলায় রায় দিয়েছিল যে কিছু মানহানিকর বক্তব্য বাক্স্বাধীনতা দ্বারা সংরক্ষিত। মানহানিকর বক্তব্যেরÿ ক্ষেত্রে এটিই আমেরিকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি। উন্নত বিশ্বে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে মানহানি লঘু একটি অপরাধ। মানহানি সেখানে দেওয়ানি অপরাধ, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হয় তাই শুধু অর্থদণ্ডে। মানহানি অপরাধের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা জামিন না দিয়ে আটক করে রাখা অকল্পনীয় বিষয় সেখানে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (পরে কাউন্সিল) তার বহু পর্যবেক্ষণে মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ ধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কমিশনের মতে, মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের বিধান থাকলে তা অপব্যবহারের বহু সুযোগ থাকে এবং সেটি হলে মানুষ স্বাধীনভাবে ন্যায্য কথা বলতেও ভয় পায়। মানহানিকে ডিক্রিমিনালাইজেশন (ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অব্যাহতিকরণ) করছে বহু দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাও রয়েছে এর মধ্যে। ২. মানহানি সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন ভিন্ন, আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভিন্ন। বাংলাদেশের আইনে মানহানি দেওয়ানি এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ। তবে ফৌজদারি হলেও এটি বাংলাদেশের আইনেও লঘু একটি অপরাধ। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। ফৌজদারি কার্যবিধির ২ নম্বর তফসিল অনুসারে এটি জামিনযোগ্য, আমল–অযোগ্য এবং আপসযোগ্য অপরাধ। আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে এ ধরনের লঘু একটি অপরাধকেই বাংলাদেশে ভিন্নমত দমনের বড় অস্ত্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক কালে মানহানি মামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিক, সমাজের বরেণ্য ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলাগুলো করা হয়েছে সরকারের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বলার অভিযোগে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৮ ধারা অনুসারে মানহানির মামলা করার অধিকার রয়েছে শুধু সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির। অথচ গত কয়েক বছরে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী এমনকি দলের সঙ্গে কোনোরকম সংস্রবহীন ব্যক্তি মানহানি মামলা করেছেন অন্যের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগ তুলে। মানহানি মামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে একই অভিযোগে একাধিক মামলা গ্রহণ। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ঘ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই বিষয়ে থানায় এবং আদালতে দুটো ভিন্ন মামলা হলে আদালতের মামলাটি স্থগিত থাকে। এই বিধানের পেছনে যে চিন্তাগুলো কাজ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একই ঘটনায় কোনো মানুষকে বারবার ভোগান্তিতে না ফেলা এবং ভিন্ন সিদ্ধান্তের অবকাশ না রাখা। ‘নো পারসন শুড বি ভেক্সেড টোয়াইস’ নামে যে ন্যায়বিচারের সূত্র রয়েছে, তাতেও একটি ঘটনায় একাধিক মামলার কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশে খুনের মতো জঘন্য অপরাধেরও আমরা সাধারণত একাধিক মামলা দায়ের করতে দিতে দেখি না। তাহলে মানহানির মতো লঘু অপরাধে কীভাবে একই অভিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মামলা গ্রহণ করে আদালতগুলো? ৩. মানহানি মামলায় তবু এত দিন আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না দিয়ে সমন দিত, আসামিকে জামিন দিতেও কোনো কার্পণ্য করত না। আইনে তা–ই করার কথা বলা আছে। কিন্তু সম্প্রতি আইনজীবী মইনুল হোসেনের ক্ষেত্রে এসব আইনও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি একজন সাংবাদিককে টিভি টক শোতে ‘চরিত্রহীন’ বলার মতো অত্যন্ত আপত্তিকর একটি মন্তব্য করেছেন। এ জন্য অবশ্যই বিচার চাওয়ার অধিকার আছে আক্রান্ত সাংবাদিকের, এই বিচার হওয়াই উচিত। কিন্তু এ বিচারপ্রক্রিয়ায় এমন কিছু অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। ক. আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি অভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয় না। বিশেষ করে বাদী নিজে সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করার পরে আইনজীবী মইনুলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে অন্যদের মামলা দায়েরের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। পরবর্তী মামলাগুলো আমলে নেওয়ার আগে আদালতগুলো অন্তত তদন্তের আদেশ দিতে পারত সিআরপিসি সেকশন ২০২ অনুসারে। খ. ২০১১ সালের ১ নম্বর আইনে ফৌজদারি কার্যবিধির ২ নম্বর তফসিলের ৪ নম্বর কলামে যে পরিবর্তন আনা হয় তাতে মানহানির অভিযোগের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টের পরিবর্তে সমন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। এই পরিবর্তনের পর মানহানির অভিযোগে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার সমন না দিয়ে প্রথমেই গ্রেপ্তারের পরোয়ানা দেওয়া অযৌক্তিক ও নজিরবিহীন। গ. দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন দায়েরকৃত মানহানি মামলা একটি জামিনযোগ্য অপরাধ। জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া আসামির অধিকার। এমন একটি অপরাধে মইনুল হোসেনের জামিন মঞ্জুর না হওয়া শুধু অযৌক্তিক নয়, অস্বাভাবিকও। যে অপরাধ আমল–অযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়াই আপসযোগ্য, সেখানে জামিনের আরজি বাতিল হয় কীভাবে? মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে এই প্রশ্নসাপেক্ষ সিদ্ধান্তগুলো হয়েছে দণ্ডবিধির অধীনে দায়েরকৃত মামলায়। এখন তাঁর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হয়েছে অতি বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও। এই আইনে মানহানির মতো লঘু অপরাধকে অজামিনযোগ্য, আমলযোগ্য এবং তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়ার মতো বড় অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন: যে অপরাধকে এমনকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে না দেখানোর দায়দায়িত্ব রয়েছে ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তিটিতে, যে অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা বাদ দিচ্ছে একের পর এক রাষ্ট্র, সেখানে আমরা এই অপরাধকে আরও অনেক বেশি গুরুতর ও ভয়ংকর ফৌজদারি অপরাধ দেখিয়ে কীভাবে আইন করি? লঘু আইনই কী কঠোর আর অস্বাভাবিকভাবে প্রয়োগ হতে পারে ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে, তা আমরা মইনুল হোসেনের উদাহরণে দেখছি। এর সঙ্গে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ভয়ংকর বিধান যোগ হলে সমাজে এমনকি ন্যায্য কথা বলার ঝুঁকিও কেউ আর নেবে না। ৪. মইনুল হোসেনের মানহানি মামলার পর উচ্চ আদালতের কাছে কিছু বিষয় পরিষ্কারভাবে আমাদের তুলে ধরা উচিত। একই অভিযোগে একাধিক মামলা হতে পারে কি না? মানহানি মামলায় সংক্ষুব্ধ বলতে আসলে কাদের বোঝাবে? সমন দেওয়ার এবং জামিন দেওয়ার আইন থাকলে নিম্ন আদালত তার ব্যত্যয় ঘটাতে পারে কি না? মইনুল হোসেনের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু তা করতে হবে তাঁর আইনগত অধিকার রক্ষা করে। এসবের ব্যত্যয় বিনা প্রশ্নে মেনে নিলে মানুষের অধিকার রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে আরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ পাবে সরকার। আসিফ নজরুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক

ইয়াবা ঘটিত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ইয়াবা (অ্যামফিটামিন) পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে। অবশ্য ইয়াবার পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশি দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তি পেতে হবে। এমন বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর সাজা রেখে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত কয়েক মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নিহত হয়েছেন পুলিশ ও র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’। এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনটি ১৯৯০ সালের। হেরোইন ও কোকেন উদ্ভূত মাদকদ্রব্যের জন্যও ইয়াবার মতোই কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এই আইনে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হেরোইন, কোকেন, কোকো মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘শ্রমিকবান্ধব’ করে কিছুদিন আগেই আইনটির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। সেটিই এখন আইনি যাচাই-বাছাই (ভেটিং) করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুগোপযোগী করে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিটল বাংলাদেশে গ্যাং আতংক

কমিউনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবানে লিটিল বাংলাদেশে সভা

কিছুদিন ধরে একদল বখে যাওয়া বাংলাদেশী তরুণ কিছু ভিন দেশী গ্যাং মেম্বারসহ হাতুড়ি, বেইস বল ব্যাট, গলফ ক্লাব সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েকটি গাড়িতে করে এসে অতর্কিতে লিটিল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বদেশী তরুণদের উপর হামলা, খোঁজা-খুঁজি ও ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। অবস্থার পরিপেক্ষিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার পূর্বে লিটিল বাংলাদেশের উৎকণ্ঠিত তরুণদের উদ্যোগে গত ১ লা নভেম্বর লিটিল বাংলাদেশে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা জনাব মাসুদ রব চৌধুরী ও পরিচালনা করেন সাইদুল হক সেন্টু। কমুনিটির শান্তি-শৃঙ্ঘলা বজায় রাখার আহবান ও আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে দোষী বখে যাওয়া যুবকদের আইনের হাতে তুলে দেবার আহবান জানান লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ কমুনিটির নেতৃবৃন্দের প্রতিনিধি ড: জয়নুল আবেদীন, শামসুল ইসলাম, সোহেল রহমান বাদল, খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম প্রমুখ। সভায় গত ২৩শে অক্টোবর স্থানীয় বাংলাবাজারের সামনে গ্যাং হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা হাতুড়ি সহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই অতর্কিত হামলায় অংশ নেয়। তারা উপস্থিত কয়েকজনকে মারাত্মক আহত করে এবং অনেকের মাথার খুব কাছে বিপজ্জনকভাবে হাতুড়ি ঘুড়িয়ে আঘাতের চেষ্টা চালায়। অনেকে প্রাণভয়ে রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার এরা সদলবলে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিনদেশি গ্যাং মেম্বার নিয়ে স্থানীয় কস্তুরী রেস্টুরেন্টে অতর্কিতে আবির্ভাব হয়ে কয়েকজনের নাম উচ্চারণ করে খুঁজে বেড়ায় ও ভীতির সঞ্চার করে। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে এইরূপ নিয়মিত হামলার ঘটনায় লিটিল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে শান্তিপূর্ণ লিটিল বাংলাদেশে বড় ধরণের কিছু ঘটার আশংকায় রাতে এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন। অনেকেই কমুনিটির মান ইজ্জত রক্ষায়, শান্তি-সৌহার্দ বজায় রেখে বাংলাদেশী গ্যাং মেম্বারদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। আবার অনেকেই নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অনেক সময় আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে এইসব মারাত্মক অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে এদের সমুচিত শাস্তি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলে এরা ভবিষ্যতে আর গ্যাং এর দলে ভিড়তে দশবার চিন্তা করবে। অনেকে বলেন, গেল বছর অর্থমন্ত্রীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এরাই শ্লোগান দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করলে অনুষ্ঠানের ভলান্টিয়ার ও নিরাপত্তা রক্ষীরা এদেরকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এমনকি এদের আশ্রয়-প্রশয় দাতা একজন নেতাকে মন্ত্রীর সামনেই স্টেজ থেকে চ্যাং দোলা করে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওপর এক বক্তা বলেন, কয়েক মাস পূর্বে লস এঞ্জেলেস ভ্রমণরত আরেকজন মন্ত্রীর সামনে হোটেল লবিতে বেয়াদবির চেষ্টাকালে এদের নেতাকে কষে চপেটাঘাত করলে এরা কিছুদিন চুপচাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাবেক সভাপতি ও কমুনিটির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা সোহেল রহমান বাদল বলেন, গেল একুশে ফেব্রুয়ারীতে লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কন্সুলেটে এই গ্যাং তার উপর হামলা করে মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দেয়। সেইসব গুন্ডামির ভিডিও গুলো পুলিশের হাতে তুলে দেবার উদ্যোগ নেন সভায় উপস্থিত কয়েকজন। মুনির শরীফ বলেন, জেলের ভিতরে গেলে এরা নিজেরাই তাদের বসদের নাম বলে দিবে নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে। আর সকলে যখন একই ব্যক্তির নাম বলবে তখন এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইন্ধন দাতারা আইনের শাস্তি থেকে পার পাবে না। ইলিয়াস টাইগার শিকদার বলেন, আমেরিকার আইনে হাতুড়ি একটি মারণাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি তার দোকানে হাতুড়ি দিয়ে ঘটে যাওয়া এক ব্যক্তির আহতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আক্রমণকারী ওই ব্যক্তি এখন দশ বছরের সাজা কাটছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সুষ্ঠুভাবে আইনি সহযোগিতা দিতে পারলে, অন্তত হাতুড়ি ওয়ালাকেও দশ বছরের জন্য জেলে পাঠানো সম্ভব হবে। এ পর্যায়ে সোহেল রহমান বাদল সকলকে সতর্ক করে বলেন, আগে যেভাবে কেউ জেলে গেলে খুব সহজেই বেইল বন্ডে ছাড়িয়ে আনা যেত, নুতন গভর্নর ক্যালিফোর্নিয়ায় সেই প্রথা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে সকলকে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। হুমায়ুন কবির, তৌফিক সোলেমান তুহিন, শাহ আলম, সিদ্দিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, অপু সাজ্জাদ, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, হাবিবুর রহমান ইমরান, রফিকুজ্জামান, শওকত হোসেন আনজিন, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, আলমগীর হোসেন, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম সহ উপস্থিত সকলের বক্তব্যে ফুটে উঠে লিটিল বাংলাদেশের সৌহার্দ-ঐতিহ্য ধরে রেখে কমিউনিটিতে যে কোন অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের আকাঙ্খার দীপ্ত অঙ্গীকার। এদিকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ, আইনি পদক্ষেপ, নেইবারহুড ওয়াচ, একশন কমিটি প্রভৃতি বিভিন্ন দ্বায়িত্ব দিয়ে কয়েকটি কমিটি করা হয় সভায় উপস্থিত তরুণদের নিয়ে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটির উদ্যোগে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে কমিউনিটি থেকে সন্ত্রাস দমনের সর্বশেষ আপডেট উপস্থাপন ও কমুনিটির সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হবে। লিটিল বাংলাদেশ নেইবারহুড ওয়াচ কমিটিতে রয়েছেন খোকন আলম, আবুল ইব্রাহিম, শামসুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, অপু সাজ্জাদ, ইলিয়াস টাইগার শিকদার, জহির উদ্দিন পান্না, হাবিবুর রহমান ইমরান, শওকত হোসেন আনজিন, শাহ আলম, রফিকুল ইসলাম, রফিকুজ্জামান, আসিফ, আলমগীর হোসেন, প্রমুখ। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মাসুদ রব চৌধুরী, ডঃ জয়নুল আবেদীন, সোহেল রহমান বাদল, তৌফিক সোলায়মান তুহিন, সিদ্দিকুর রহমান, নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী, লিঙ্কন খান, মোর্শেদ খন্দকার, সাইয়েদুল হক সেন্টু, তাপস নন্দী, জামাল হোসেন, নূর আলম লাবু, জামিউল বেলাল, ইমাম হোসেন, ফয়সাল কোরেশী, ইকবাল হোসেন, হরে কৃষ্ণ, হাসানাত ভূইঁয়া, হাবিবুল ইসলাম প্রমুখ। আগামী ২৩ শে নভেম্বরের সভায় উপস্থিত উৎসাহী তরুণদের থেকে এই কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একশন কমিটিতে এ পর্যন্ত রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন। ড: জয়নুল আবেদীন বলেন, একশন কমিটি সন্ত্রাস প্রতিরোধের বিবিধ উপায় নিয়ে ভাববেন এবং আমাদের দিক নির্দেশনা দিবেন। সবশেষে সভার সভাপতি বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মাসুদ রব চৌধুরী এই সংক্ষিপ্ত নোটিশের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের মধ্য দিয়েই এই সন্ত্রাস প্রতিরোধের পথ খোঁজার নির্দেশনা দেন। নতুন কয়েকজন নব্য তথ্য-সন্ত্রাসীর থাবা থেকে কমিউনিটিকে রক্ষাকল্পে সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও সিদ্দ্বান্ত নেওয়া হয়। রিপোর্টঃঃ

Rohingya crisis one year after

As many of you know, I’ve been following the Rohingya crisis for a while now for PBS NewsHour. Yesterday, I gave my thoughts from the ground on how things have changed one year after the mass exodus. By Tania Rashid You can see the full segment here: https://www.pbs.org/newshour/show/amid-mounting-evidence-of-atrocities-un-calls-for-investigation-into-rohingya-crackdown Special thanks to my brilliant team Kysar Hamid Salman   https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10108555415400776&id=2511445

খেমাররুজ দুঃশাসনের দিনলিপি

খেমাররুজ দুঃশাসনের দিনলিপি অনলাইন ডেস্ক | ১২ আগস্ট, ২০১৪ [caption id="" align="aligncenter" width="2000" caption="Pic: AP/PRI.org"]image[/caption] ‘আমাকে এখানে কেন বিড়াল বা কুকুরের মতো মরতে হবে...কোনো কারণ ছাড়া, কোনো অর্থ ছাড়া?’ স্পাইরালে বাঁধানো নোট বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এই প্রশ্ন তুলেছেন কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ শাসনামলে নিপীড়নের শিকার হয়ে মারা যাওয়া স্কুল পরিদর্শক পোচ ইউনলি। তাঁর তোলা এই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে বেড়ায় কম্বোডিয়ায় মানুষ। মার্ক্সবাদী নেতা পল পটের নেতৃত্বে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়াকে শাসন করেছিল খেমাররুজ। এই সময়ে শহরের লাখ লাখ মানুষকে গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে কৃষিকাজ করতে বাধ্য করে শাসকগোষ্ঠী। গণহত্যা, নির্যাতন, অনাহার, রোগ-জ্বরা ও অতি শ্রমের কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। চার বছরে সংগঠনটির বর্বর শাসনের জীবন্ত চিত্র উঠেছে এসেছে ইউনলির দিনলিপিতে। এটি গত বছর প্রথম জনসম্মুখে আনা হয়। খেমাররুজ দুঃশাসনের শিকার কোনো প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগীর লেখা এই দিনলিপিটিকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বামীর নির্দেশনায় প্রায় দুই দশক ধরে দিনলিপিটি সযত্নে সংরক্ষণ করেন ইউনলির স্ত্রী সোম সেং আথ। পরে তিনি সেটি তাঁর এক মেয়ের কাছে তা দেন। দিনলিপিটি কম্বোডিয়ার দলিল সংরক্ষণ কেন্দ্রে দেওয়ার পরামর্শ দেন মেয়ের স্বামী। দিনলিপিটি সম্পর্কে দলিল সংরক্ষণ কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ইয়োক চ্যাঙ বলেন, ‘আমরা যাঁরা বেঁচে আছি, এটা সবার গল্প।’ খেমাররুজ শাসনামলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দিনলিপি লিখেছেন ইউনলি। ১০০ পৃষ্ঠার দিনলিপিটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ইউনলির পারিবারিক ইতিহাস লেখা। আর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে সন্তানদের উদ্দেশে লেখা চিঠি। ওই চিঠিতেই খেমাররুজ শাসনামলের জীবনচিত্র উঠে এসেছে। ইউনলি দম্পতি তাঁদের আট সন্তান নিয়ে একটি শহরে বাস করতেন। খেমাররুজরা এসে অন্যদের মতো এই দম্পতিকেও গ্রামাঞ্চলে যেতে বাধ্য করে। সন্তানদের থেকে বাবা-মাকে আলাদা করা হয়। লাগিয়ে দেওয়া হয় কঠোর শ্রমে। ইউনলি লিখেছেন, ‘আমরা দৈনিক ১০-১৩ ঘণ্টা কাজ করতাম।’ একপর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত কাজে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইউনলি। তিনি কাজ করতে পারতেন না। তবে গোপনে দিনলিপি লিখে যাচ্ছিলেন। আরও কয়েক মাস পরে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর দিন ফুরিয়ে আসছে। ইউনলি লিখেছেন, ‘এখন আমার শরীর দেখতে মরদেহের মতো। পাতলা শরীরে কেবল হাড্ডি ও চামড়া আছে। আমার কোনো উদ্যম নেই। আমার হাত ও পা কাঁপে। শক্তি নেই, সামর্থ্য নেই। আমি বেশি দূর হাঁটতে পারি বা কোনো ভারি কাজ করতে পারি না। সবাই পশুর মতো, যন্ত্রের মতো কাজ করে। কোনো মূল্য ছাড়া, ভবিষ্যতে কোনো আশা ছাড়া।’ সন্তানদের দেখতে না পেরে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন ইউনলি। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে মরতে দাও। ভাগ্য আমাকে ইচ্ছা যেখানে সেখানে নিয়ে যাক। আমার বাচ্চারা, আমি তোমাদের অনুভব করি। আমি তোমাদের ভালোবাসি।’ নোটবুকের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখেছেন ইউনলি। ১৯৭৬ সালের ১ আগস্ট পরিশিষ্টে দিনলিপিটি যত্নে রাখার জন্য পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে কাজের জন্য নিয়ে যায় শাসকেরা। কয়েক সপ্তাহ পরে কারাগারে মারা যান তিনি। খেমাররুজ শাসনামলের গণহত্যার দায়ে গত সপ্তাহে দুই শীর্ষ খেমাররুজ নেতা নুয়ান চিয়া (৮৮) ও খিউ সাম্ফানকে (৮৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জাতিসংঘ সমর্থিত সে দেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ষাটের দশকে কম্বোডিয়ায় খেমাররুজের উত্থান। শুরুতে এটা ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব কম্পুচিয়ার (কম্বোডিয়ার কমিউনিস্টদের ব্যবহার করা নাম) সশস্ত্র শাখা। ১৯৭০ সালে ডানপন্থীদের সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপ্রধান প্রিন্স নরোদম সিহানুক উত্খাত হওয়ার পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। খেমাররুজ তখন সিহানুকের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করে। পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলাকালে খেমাররুজ প্রথমে ধীরে ধীরে দেশের গ্রামাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করে। চূড়ান্তভাবে ১৯৭৫ সালে রাজধানী নমপেন তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। খেমাররুজ নেতা পল পট ক্ষমতায় আসার পর কম্বোডিয়াকে কৃষিনিভর ‘ইউটোপিয়া’ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার মিশন শুরু করেন। তিনি ঘোষণা দেন, দেশ ‘শূন্য বছর’ থেকে ফের যাত্রা শুরু করবে। তিনি দেশের জনগণকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে শহরগুলো খালি করার উদ্যোগ নেন। তিনি মুদ্রার ব্যবহার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং ধর্মপালন নিষিদ্ধ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ যৌথ খামার। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির লাখ লাখ লোককে বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত কেন্দ্রটির নাম ছিল এস-২১ কারাগার, যার অবস্থান ছিল নমপেনে। খেমাররুজের চূড়ান্তভাবে পতন হয় ১৯৭৯ সালে। ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্তে একের পর এক সংঘাতের পর ওই বছর ভিয়েতনামের সেনারা কম্বোডিয়া আক্রমণ করলে খেমাররুজের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা-ঢাকা দেন। ধীরে ধীরে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম আলো।

‘আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব’

'আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব'
'আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগে পরিবর্তন অসম্ভব'
আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ আমিনুল হক ভবনে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালের আগে পুরাতন জিআর, ননজিআর, প্রিয়াংশন প্রসেডিং মামলাগুলো যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, এ জন্য আমি বিচারকদের নির্দেশ দিয়ে যাবো। পাশাপাশি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনজীবীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় জেলাগুলোর আদালতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ডিজিটালাইজেশন চালু করা হবে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমি কোর্টে ডিজিটালাইজেশন চালু করে দিয়েছি। আমার জেলা সিলেটে ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঈদের পর পরই সেখানে ডিজিটালাইজেশন হবে।" তিনি বলেন, আদালতে যে স্বাক্ষী দেবে সেটি আর বিচারকদের রেকর্ড করতে হবে না। জেরা করবেন, মনিটরে ভেসে উঠবে। ঢাকা ও সিলেটে ত্রুটিহীনভাবে ডিজিটালাইজেশন চালু হয়ে গেলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় জেলাগুলোতে চালু করা হবে। প্রধান বিচারপতি প্রত্যেক বিচারককে নিজ হাতে কম্পিউটার দিচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, রায় হবার সঙ্গে সঙ্গে যেন  ডুপ্লিকেট সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়, সেজন্য আমি জুডিশিয়াল কনফারেন্সে নির্দেশনা দিয়ে যাবো। ময়মনসিংহের বিচারালয়ে যেসব সমস্যা আছে তা দেশের অন্যান্য বিচারালয়ের তুলনায় কম এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি নিজে বেশ কিছু আদালতে গিয়ে কিছু পুরাতন মামলা দেখেছি। এ মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিস্পত্তি হয়ে যায়, তার নির্দেশনা দিয়ে যাবো, যাতে করে জনগণের কষ্ট না হয়। প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, বেল পিটিশন, ইনজাংশন পিটিশনগুলো আগে সকালে শুনানি করা হতো। বিকেলে আর এ বেল পিটিশনগুলোর শুনানি করতেন না। আমি নিজে কোর্ট থেকে নামার পর বিভিন্ন স্টেশনে সেশনস জজদের আড়াইটার সময় ফোন করেছি। কেউ বাসায় চলে গেছেন, কেউ কোর্টে ওঠেন না। তাদেরকে বাধ্য করার জন্য বিকেলে বেল পিটিশন করতে বলেছি। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য এ.এফ.এম.নজমুল হুদা, সাবেক সংসদ সদস্য এম. জুবেদ আলী, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, কবির উদ্দিন ভূইয়া, জিপি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। ফোকাস বাংলা।

‘দ্য লাস্ট গার্ল’ এর নোবেল বিজয়

নাদিয়া মুরাদ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী।এখন ওর ২৫ বছর বয়স। ২০১৪ সালে নাদিয়া তখন ২১ বছরের একজন উচ্ছল মুসলিম তরুণী। ইরাকের একটি পাহাড়ি এলাকা নাম তার সিনজার। এই পাহাড়ি অঞ্চল সিনজারে একটি গ্রাম ইয়াজিদি। সেই গ্রামে নাদিয়ার জন্ম থেকে বেড়ে উঠা। ২০১৪ সালের ইয়াজিদি গ্রামে আকস্মিক হামলা চালায় আইএস জঙ্গিরা,যারা নিজেদের পরিচয় দেয় মুসলিম হিসেবে। মুসলিম নামধারী এই আইএস জঙ্গিরা নির্বিচারে শুরু করে গনহত্যা। গ্রামের প্রায় সব পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের হত্যা করা হয়। যাদের মধ্যে নাদিয়ার ছয় ভাই এবং তার মাও ছিলেন। জঙ্গিরা গ্রামের অন্য ইয়াজিদি নারীদের সঙ্গে নাদিয়াকেও ধরে নিয়ে যায় এবং যৌনদাসী হিসেবে বন্টন করে দেয়। নানা হাত ঘুরে একসময় মসুল পৌঁছে যান নাদিয়া। এই সময়ে তাকে আইএস জঙ্গিরা অসংখ্যবার ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করে। এক পর্যায়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন নাদিয়া, ফল ধরা পড়া। বাড়ে নির্যাতনের মাত্রা। কিছুদিন পর তাকে আবারও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। একদিন সুযোগ বুঝে আইএস বন্দিদশা থেকে পালিয়ে এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে আশ্রয় নেন নাদিয়া। ওই পরিবার তাকে মসুল থেকে পালিয়ে আসতে সব রকম সহায়তা করে।নাসির নামে এক সুন্নি মুসলমান নাদিয়াকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আইএসের কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকা মসুল সীমান্ত পার করে দেন। জীবনের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে জানাতে ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে একটি বই লেখেন নাদিয়া, যা ২০১৭ সালে প্রকাশ পায়। ওই বইতে তিনি লেখেন,“কখনও কখনও ধর্ষিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই সেখানে ঘটত না। একসময় এটা প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।" আইএস জঙ্গিরা ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীর পাঁচ হাজারের বেশী পুরুষ কে হত্যা করে। ধরে নিয়ে যায় তিন হাজারের বেশী যুবতী নারীকে। তাদের উপর চালায় যৌন নির্যাতন। প্রতিদিন এই নারীরা শিকার হত ধর্ষণের। ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আইএসের হাতে নিপীড়নের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন নাদিয়া। তিনি মানবাধিকার এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কাজ শুরু করেন। নিজের আত্মজীবনী "‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে লেখা একটি বইয়ে সেই কাহিনি তুলে ধরেন তিনি। যৌন সহিংসতা ও হয়রানিকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে লড়াই করে এই বছর ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জঙ্গিদের হাতে ধর্ষণের শিকার ইয়াজিদি নারী নাদিয়া। দাড়িয়ে স্যালুট তোমাকে হে নারী। তোমার জন্য থাকছে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।।

ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া: যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা...

ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া

ফারজানা মনি | আমার ইউরোপ প্রবাসী নারী বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে বলছিল বাংলাদেশকে ভীষণ মিস করে। তাকে বললাম, চলে এসো দেশে। সে হ্যাঁ বা না কিছুই বলল না। কিন্তু যা বলল, তার মর্ম কথা হলো— বাংলাদেশের রাস্তায় নারী দেখলেই পুরুষরা যেভাবে তার দিকে ভিন গ্রহের প্রাণীর মতো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, এটা ভাবলেই দেশে আসতে ইচ্ছে করে না। সে ওখানেই একটি ক্যাফেতে কাজ করে। কখনো ঘরে ফিরতে দেরিও হয়, কিন্তু তাতে বাড়িফেরা নিয়ে সে আতঙ্কিত হয় না।
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু যা কমেছে তা হলো, নারীর নিরাপত্তা। আমরা পত্রিকা খুললে একটি ধর্ষণের খবর পাব না, তা বুঝি হবার নয়। কিন্তু ধর্ষণের রায় হয়েছে, শাস্তি পেয়েছে— এমনটি খুব একটা দেখা যায় না। অপরাধীর শাস্তি না পাবার কারণে অপরাধপ্রবণতা খুব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। অনেকেই আইনের আশ্রয় না নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবেলা করতে চান। কেউ কেউ তো মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাও করেন না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আদালত বিমুখতা আছে। কেন আইন আদালত থেকে দূরে থাকার প্রবণতা, সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। কিন্তু আদালত থেকে এই দূরে থাকার জন্যই অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ধর্ষণের মতন অপরাধ হলে লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিম বা তার পরিবার আইনের আশ্রয় নেয় না বা নিলেও কিছু ভুলের জন্য তারা ন্যায়বিচার পেতে ব্যর্থ হন। যেসব আইনে ধর্ষণজনিত বিধিবিধান রয়েছে সেগুলো হলো— ১. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ( সংশোধনী ২০০৩) ২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ৩. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ৪. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৬০ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী পাঁচটি অবস্থায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলা যায়, সেগুলো হলো— ১. নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ২. নারীর সম্মতি ছাড়া ৩. মৃত্যু বা জখমের ভয় দেখিয়ে ৪. নারীর সম্মতি নিয়েই, কিন্তু পুরুষটি জানে যে সে ওই নারীর স্বামী নয় এবং পুরুষটি তাও জানে, নারীটি তাকে এমন একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে যে পুরুষটির সঙ্গে তার আইনসঙ্গতভাবে বিয়ে হয়েছে বা বিবাহিত বলে সে বিশ্বাস করে। ৫. নারীর সম্মতিসহ কিংবা সম্মতি ছাড়া যদি সে নারীর বয়স ১৬ বছরের কম হয়। অর্থাত্ ১৬ বছরের চেয়ে কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। ন্যায়বিচারের সংগ্রাম: আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা যত ঘটে, তার বেশির ভাগই আইনের আওতায় আসে না। থানায় যাওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা, আদালতে এসে সাক্ষী দেয়া এবং ধর্ষিতার প্রতি সবার বিরূপ মনোভাব এগুলোও নারীর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার মানসিক শক্তি সবার থাকে না। প্রথমত. ধর্ষণের পর নিকটস্থ কাউকে এ বিষয়ে জানানো। এবং যত দ্রুত সম্ভব থানায় এজাহার দায়ের করা। দ্বিতীয়ত. ধর্ষণের প্রধান আলামত নারীর শরীর। তাই মেডিকেল পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কিছুতেই গোসল করা যাবে না। শুধু মেডিকেল পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে ধর্ষণের শাস্তি দেয়া যায়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় যে পোশাক পরা ছিল তা ধোয়া যাবে না। এটিও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহূত হতে পারে। তৃতীয়ত. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থানায় এজাহার দায়ের করতে হবে। এবং মেডিকেল পরীক্ষাও খুব দ্রুত করতে হবে। কারণ ঘটনা ঘটার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না করালে অনেক আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভিকটিম ও প্রধান সাক্ষী: ধর্ষণের মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চাক্ষুষ সাক্ষী থাকে মাত্র একজন এবং সে ধর্ষণের শিকার নারী নিজেই। শুধু এই সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করেই অভিযুক্তকে আদালত অপরাধী হিসেবে শাস্তি দিতে পারেন। ফলে নারীর সাক্ষ্য নিয়ে যদি আদালতের কাছে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। যদি আদালতে দেয়া সাক্ষ্যের সঙ্গে জবানবন্দি বা এজাহারের কোনো পরস্পর বিরোধিতা থাকে তাহলে তা নারীর বিপক্ষে যাবে। আদালতে ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করা অত্যন্ত বেদনার, কিন্তু অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য এই কঠিন কাজটি করতে হবে। ধর্ষণের শাস্তি: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে— ধারা ৯(১): কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও তাকে দেয়া যেতে পারে। ধারা ৯(২): ধর্ষণের ফলে বা ধর্ষণের পড়ে অন্য কোন কাজের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে ধর্ষণকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এছাড়াও তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ধারা ৯(৩): একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে এবং ধর্ষণের কারণে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে তাহলে ধর্ষকরা প্রত্যেকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও তাদেরকে অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ধারা ৯(৪): যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে (ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। (খ) যদি ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। ধারা ৯(৫): পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোন নারী ধর্ষিত হলে, যাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্ত ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরি দায়ী হবেন। এবং তাদের প্রত্যেকে অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য সরকার প্রত্যেক জেলা সদরে একটি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামক বিশেষ আদালত গঠন করেছে। ধর্ষণের বিচারও এই ট্রাইব্যুনালে হবে। আমরা সবসময় যা দেখি, মামলা শেষ হতে অনেক দিন সময় নেয়। কিন্তু এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’ [নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ২০(৩)] সাক্ষ্যপ্রমাণ: ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন অনুসারে ধর্ষণ-সংক্রান্ত মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ নেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এ আইনের কয়েকটি ধারা নারীর বিপক্ষে যায়। যেমন এখানে বলা হয়েছে, ‘ধর্ষিত নারীর চারিত্রিক সমস্যা আছে।’ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ১৫৫(৪)। আইনটি ভারতেও একসময় প্রচলিত ছিল। কিন্তু তারা তা অনেক আগেই বাতিল করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা এখনো প্রচলিত। তাই অতিদ্রুত তা বাতিল করা দরকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) অত্যন্ত কঠোর একটি আইন। ফলে এ আইনকে ব্যবহার করে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের যেমন হচ্ছে, তেমনি এ আইনের অধীন শাস্তি পাওয়ার হারও খুবই কম। ধর্ষণ প্রকৃতপক্ষে নারীর শরীর ও মনের ওপর আক্রমণ। অথচ ধর্ষণের এই সহিংস চেহারাটা স্বীকার না করে বরং নারীর ওপরই দোষ বেশি আসে। যেমন— সে কেমন পোশাক পরেছিল, তার আচরণের কারণে পুরুষ আকৃষ্ট হয়ে ধর্ষণ করেছে ইত্যাদি। কিন্তু ধর্ষণের সঙ্গে নারীর পোশাক বা আচার আচরণের কোনো সম্পর্ক নেই। বোরকা পরিহিত নারীও ধর্ষণের শিকার হন। আইনের যথাযথ প্রয়োগই সমাজ থেকে ধর্ষণ নির্মূল করতে পারে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া  ফারজানা মনি লেখক: আইনজীবী সূত্রঃ বনিক বার্তা

যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক | ২০১৪-০৯-০৮ ইং

যৌন নির্যাতনের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট গাইডলাইন বা নির্দেশমালা মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস কর্মসূচির প্রকল্প সমন্বয়ক রেহানা সুলতানা এ কথা জানান। দাতা সংস্থা ইউএসএইডের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত মানবাধিকার রক্ষাবিষয়ক কর্মসূচির আওতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধে রেহানা সুলতানা বলেন, যৌন নির্যাতনের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট গাইডলাইন বা নির্দেশমালা দেন। আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নির্দেশনাই আইন হিসেবে কাজ করবে। তবে এই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। নজরদারিরও ব্যবস্থা নেই। রেহানা সুলতানা বলেন, বিএনডব্লিউএলএ ২০০৮ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশনা দেন।  সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য এ নীতিমালা প্রযোজ্য। নীতিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট অভিযোগ কমিটি গঠন করার কথা। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের কমিটি গঠন করা হয়নি। আবার কমিটি গঠন করা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা কার্যকর নয়। এ ছাড়া জনস্বার্থ মামলায় প্রতিপক্ষদের রায় প্রয়োগের কার্যকারিতা–সম্পর্কিত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়ার আদেশ থাকলেও তা প্রতিপক্ষরা মানছে না। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও হাইকোর্টের নির্দেশনা বা যৌন নির্যাতনের বিষয়ে সচেতন নন। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো খারাপ। তিনি বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সবার মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক রাশেদা আখতার বলেন, অনেকেরই ধারণা, এ ধরনের কমিটিতে মেয়েরা অভিযোগ করলে শুধু ছেলেদেরই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কমিটির কাছে মিথ্যা অভিযোগ করলে সেই ছাত্রীকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা বলেন, গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যৌন নির্যাতনের শিকার। তবে চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা তা প্রকাশ করেন না। বেশির ভাগ গণমাধ্যমই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করেনি। বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, আইন কমিশনের সদস্য শাহ আলমসহ সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

টিআইবির গবেষণা: ৫০টির মধ্যে আগের রাতে ৩৩টিতে সিল, বিচার বিভাগীয় তদন্ত...

ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি। ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে করা গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। নির্বাচনের দিন ৪৭ আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে টিআইবি। অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট; ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা; ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল; ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা; ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট; ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা; ২০টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা; ২২টিতে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া; ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ

সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলা গেলেও ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ বলা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন—সব দলের সভা-সমাবেশ করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিরোধীদের দমনে সরকারের বিতর্কিত ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান নেওয়া, সব দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে সরকারি দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের উপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণ ইত্যাদি। এর ফলে কার্যত নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ছাড়া নির্বাচনের সময়ে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ যেমন—পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা; মোবাইলের জন্য ফোর-জি ও থ্রি-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ; জরুরি ছাড়া মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। টিআইবির গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের কোনো কোনো কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। যেমন- সংসদ না ভেঙে নির্বাচন করায় সরকারের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক ও অন্যান্য প্রণোদনা এবং নির্বাচনমুখী প্রকল্প অনুমোদনসহ নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রচারণা; বিরোধী পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া; সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও নির্বাচনের সময় পর্যন্ত ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখা এবং সরকারবিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়াসহ প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব কটি আসনেই নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে এককভাবে সক্রিয় ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। কোনো কোনো আসনে ক্ষমতাসীন দল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সরাসরি প্রচারের জন্য সুবিধা আদায়সহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক প্রার্থীর প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রচারণার দৃশ্যও দেখা যায়। অন্যদিকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৩৬টি আসনে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেওয়াসহ ৪৪টি আসনে সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশ বা প্রশাসন কর্তৃক হুমকি ও হয়রানি, প্রার্থী ও নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও কর্মী কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানোর তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৯ আসনে সহিংসতাসহ প্রার্থীদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি, সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা, পুড়িয়ে দেওয়ার চিত্র দেখা যায়।

প্রচারে বেশি ব্যয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের, কম স্বতন্ত্ররা

প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সার্বিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রার্থীদের গড় ব্যয় ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ টাকা, যা নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্ধারিত ব্যয়সীমার (আসনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা) তিন গুণেরও বেশি। প্রচারে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা (গড়ে পাঁচ গুণের বেশি) এবং সবচেয়ে কম ব্যয় করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের একাংশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে, যেটি আইনের লঙ্ঘন এবং নীতিবিবর্জিত। সর্বোপরি আংশিকভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। কারণ একদিকে সব রাজনৈতিক দল প্রার্থিতার মাপকাঠিতে নির্বাচনে ছিল, কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়তার বিবেচনায় বৈষম্য প্রকট ছিল। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা অবাধে ভোট দিতে পারেননি। আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অবশ্যই ব্যাপকভাবে লজ্জাজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকাও ছিল বিতর্কিত। আর এসব কারণেই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ এবং বলা যায়, অভূতপূর্ব একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; যার ফলাফলও অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের নৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এবং সরকারের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘যেভাবে এবারের নির্বাচনটা পরিচালিত হয়েছে তাতে প্রচুর ত্রুটি ছিল। তাই আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিগুলো দেখে, এই ত্রুটিগুলোর সত্যাসত্য বিচার করে পরবর্তী যে নির্বাচনগুলো হবে সেগুলোতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয় সে চেষ্টাই করবেন। কারণ আমরা দেখতে চাই, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পছন্দের মানুষেরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এই উদাহরণ রেখে যায় যে, যদি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকে তাহলে নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, বিতর্কিত হয়ে যায়। আর তখন একটা সংশয় থেকেই যায় যে, যাঁরা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে গেলেন, তাঁরা আমাদের কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করবেন, জনগণের স্বার্থ কতখানি দেখবেন।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে ৬ দফা সুপারিশ:

নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে টিআইবির পক্ষ থেকে ৬ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: নির্বাচনে বহুমুখী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে তাদের ব্যর্থতা নিরূপণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে; নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন করার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য, সাহসী ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে; দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ অন্যান্য অংশীজনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে; নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের জন্য অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল/জোট ও প্রার্থী, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজন নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটুকু আইনানুগভাবে অনুসরণ করেছেন, তা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ প্রাক্কলন করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রধান অংশীজনদের ভূমিকা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার জন্য নভেম্বর ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। তবে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে শুরু করে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান প্রাথমিক প্রতিবেদনটি প্রণীত হয়েছে। পরবর্তী সময় নির্বাচন-পরবর্তী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গবেষণার জন্য প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, দলীয় নেতা-কর্মী, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও ভোটারদের সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরোক্ষ তথ্যের জন্য নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণ সব রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ ও সংগঠন, ভোটার এবং সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। তবে, এ গবেষণা নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভূমিকা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, তাসলিমা আক্তার, বিশ্বজিৎ কুমার দাস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

নগর রক্ষা বেড়িবাঁধে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের চাঁদাবাজির মহোৎসব !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা শহর রক্ষাবাঁধে শত শত মালবাহী যানবাহন থামিয়ে অবাধে চাদাঁবাজী চলছে। রক্ষকই এখানে ভক্ষক রূপে আর্বিভূত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে পুলিশও চাঁদাবাজির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। তল্লাশির নামে জায়গায় জায়গায় বাঁশ ফেলে তাৎক্ষণিক চেক পোষ্ট বানিয়ে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দৈনিক প্রায় ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা। মাসে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা উঠছে সমগ্র বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে। পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে অন্তত ১৬টি স্পটে ৮ থানার পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে মালামাল বহনকারী পরিবহন থামিয়ে অবাধে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই পেতে এখানে অনেকেই চাঁদাবাজদের হাতে জাল নোট গুঁজে দিয়েও সটকে পড়েন বলে তথ্য মিলেছে। এসব জাল নোট বিভিন্ন হাত ঘুরে জনসাধারনের হাতে গিয়ে পড়ায় তাদের নাজেহাল হবারও তথ্য মিলেছে। এদিকে দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে বেড়িবাঁধের রাস্তায় ল্যাম্পপোষ্টে বাতি না থাকায় ছিনতাইকারীদের অভ্যয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় বাধেঁর রাস্তা দখল করে শত শত দোকান-পাট বসানোর ফলে ভয়াবহ যানজটে নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। পন্যবাহী যানবাহন আর ফুটপাতের দোকান-পাটে চাদাঁবাজিতে পুলিশের মহা ব্যস্ততায় সেখানে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। রীতিমত বেড়িবাধঁ এলাকা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পরিবহন ব্যাবসায়ীদের কাছে রীতিমত এক আতংকজনক স্থানে পরিনত হয়েছে। ওপেন সিক্রেট এই চাঁদাবাজিতে হতবিহবল অসহায় মানুষের পাশে যেন দাঁড়াবার কেউ নেই! গত কয়েক দিন সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঢাকা নগর রক্ষা বেড়িবাঁধের গাবতলী থেকে মিডফোর্ড বাবু বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে শত শত মালবাহী যানবাহনে করে হাজার হাজার কোটি টাকার মাল নামে নগরীর পাইকারী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরনো ঢাকার কামালবাগ, সোয়ারীঘাট, চকবাজার, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, চম্পাতলী, বড় কাটারা, ছোটকাটারা, মিটফোর্ড, বাদামতলী, বাবুবাজার, ও ইসলামপুরসহ প্রায় ২০টি পাইকারী মার্কেটে। প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিনাঞ্চল থেকে এক হাজারের ওপরে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ট্রাক, লরি, পিকআপ, জিপসহ নানা পরিবহনে করে মালবোঝাই হয়ে শহর রক্ষা বাধেঁর ওপর দিয়ে এসব পণ্য পাইকারী কেন্দ্রে পৌঁছে। বেড়িবাধেঁর প্রায় ১৬টি স্পটে পুলিশ চেকপোষ্টের নামে রাস্তার মাঝখানে বাঁশ ফেলে, বেড়িকেট দিয়ে তল্লাশীর নামে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীতে নেমে পড়ে। বিশেষ করে রাত ১০ টার পর থেকে ভোর অবদি চলে তাদের চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজিকালে পুলিশের ভূমিকা হয় কখনো ছিনতাইকারীর মত, কখনো বা হয় ভিক্ষুকের মত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দু’দফা থানার ডিউটি বদলের কারণে ডবল গ্রুপের চাঁদা আদায় চলে। ডিউটিকালীন দারাগো, কনস্টেবল ও সোর্স মিলে বেড়িবাঁধের নিদির্ষ্ট স্থানের রাস্তায় এভাবেই মালবাহী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এমনকি শাসকদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাঁতি নেতারাও এ থেকে পিছিয়ে নেই। এই চাদাঁবাজদের হাত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও রক্ষা পাচ্ছে না। বাধেঁর রাস্তা দিয়ে কেউ মালামাল নিয়ে গেলে পুলিশের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে কেউ এদের হাত থেকে রেহাই পায় না। সন্দেহের কোন কিছু না পেলেও পুলিশের হাতে একটি ছোট লাল নোট না দিলে এদের হয়রানির অন্ত নেই। পুলিশের গাড়িতে তুলে এদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ওই অর্থ চাই চাই। এমনকি এসব ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে পুলিশের গাড়িতে তুলে অথবা তাদের মালবাহী যানবাহন থামিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটককে রাখে। আবার পুলিশের গাড়িতে করে বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে থানার হাজতখানায় আটককে রাখারও অভিযোগ করেছে অনেক ভুক্তভোগী। এভাবেই পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে। চাদাঁর টাকা সিংহভাগ পুলিশের উর্ধতন মহল থেকে শুরু করে শাসকদলীয় ও বিরোধদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে পৌছেঁ যাচ্ছে বলে এ টাকা জায়েজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। এর ফলে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীর পরও এদের টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারছে না। উল্টো এরা বীরদর্পে বেপোরোয়াভাবে চাদাঁ আদায় করছে। কেউ বাধাঁ দিলে এদের ওপর নেমে আসে মধ্যযুর্গীয় কায়দায় নির্যাতন। প্রতিবাদকারীদের লাখ লাখ টাকার মালামাল গায়েব করে দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পাইকারী ব্যবসীয়দের অভিযোগ। সূত্রগুলো জানায়, ৮ থানা পুলিশের চাঁদাবাজীর স্পট গুলো হচ্ছে, দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী, আদাবর থানাধীন ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মাদপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর, রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ, হাজারীবাগ থানাধীন শিকদার মেডিক্যাল, নবাবগঞ্জ সেকশন, কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হাক্কুল এবাদ বেইলী ব্রীজ ও রসুলপুর পাকা ব্রীজের উভয় পাশ, লালবাগ থানাধীন শহিদ নগর বৌ-বাজার, শ্মশান ঘাট, চকবাজার থানাধীন চাঁদনী ঘাট শরিফ হোটেল সংলগ্ন চৌরাস্তা, চক বাজার জাহাজ বিল্ডিংয়ের মোড়, ইসলামবাগের আলীর ঘাট, লবনের কারখানা,সোয়ারী ঘাট, কামাল বাগ, নলগোলা, চক বাজার ও কোতয়ালী থানার সীমান্ত অবস্থিত বাবু বাজার ও মিডফোর্ড সংলগ্ন দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নীচে নদীর তীরের বেড়ীবাঁধ, কোতয়ালী থানার বাদামতলী ফলের আড়তের সামনে বাকল্যান্ড বাঁধ। জানা গেছে, ঢাকা নগর রক্ষা বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে চলাচলকারী চাল, ডাল, ফল, কাঁচামাল (সব্জী) সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, পিকাপ, ভ্যান গাড়ি, রিক্সাসহ শত শত যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করে পুলিশ ও তাদের মনোনীত চাদাঁর কালেকটাররা। চলাচলকারী ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের যানবাহনে গণহারে চাঁদাবাজী করছে ডিএমপির পুলিশ এবং তাদের মনোনীত চাঁদাবাজরা। এমনকি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসীরা একই উপায়ে চাদাঁবাজি করছে। প্রতি পন্যবাহী যানবাহন থেকে নিম্নে ১০০টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাদাঁ আদায় করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে মিডফোর্ড বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে, শিকদার মেডিকেল ও কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর ও লোহার ব্রীজের উভয় পাশে প্রকাশ্যে চলছে পুলিশের চাঁদাবাজী। বৈধ পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, রিক্সা , ভ্যান গাড়ী আটকে রেখে তল্লাশীর নামে হয়রাণী করা হচ্ছে। পুলিশ আটকের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আইনের দোহাই দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা এভাবেই চাদাবাঁজিতে মেতে উঠেছে। এমনকি ৮ থানা পুলিশ ও সন্ত্রাসী মিলে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে শত শত ফুটপাত থেকে লাখ লাখ চাদাঁবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার সূত্রগুলো জানায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিডফোর্ড বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এবং কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর পাকা ব্রীজ ও ছাতা মসজিদ এলাকার লোহার ব্রীজের উভয় পাশে পুলিশ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে কামরাঙ্গীরচর ফাড়ির পুলিশ। মিডফোর্ড, বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এলাকায় পুলিশ ও তাদের মনোনীত ব্যাক্তিরা একই উপায়ে চাঁদা আদায় করছে। পুলিশের চাঁদাবাজীর হাত থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছে না। বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে সন্ধ্যার পর পুলিশের সামনে খদ্দরদের নিয়ে মহোৎসবে মেতে উঠে পতিতারা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কামরাঙ্গীর চর লোহার ব্রীজের ঢালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ ও কাঠের দোকানের সামনে কামরাঙ্গীর চর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যবাহী রিক্সা, ভ্যান, ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশীর নামে বৈধ পণ্যবাহী যান ও ব্যবসায়ীদের কাছ হতে গণ হারে চাঁদাবাজী করছে। পুলিশকে চাঁদা না দিলে মালামাল আটকে পুলিশ নানা মুখী হয়রাণী করছে। মধ্যাহ্নে ২ ঘন্টা বিরতিসহ পালাক্রমে দুই শিফটে ডিউটি পালন করে পুলিশ সদস্যরা। লালবাগ নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন বেড়িবাধেঁ শত শত যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে ফাড়িঁর পুলিশ।এখানে শত শত ফুটপাত দোকানঘর থেকে চাদাঁ তুলে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা বিপ্লব, জাকির, সেন্টু ও পাউবো সুইজ গেটের কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন। এরাই নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাধেঁর রাস্তা দখল করে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদীতে বালু ভরাট করে এই ট্রাকস্ট্যান্ড করার পর প্রতি ট্রাক আনলোড ১শ টাকা, লোড দেড়শত টাকা। প্রতিদিন কমপক্ষে এখানে শতাধিক ট্রাক লোড আনলোড করায় ভয়াবহ যানজটে এলাকাবাসির দূর্ভোগের সীমা নেই। এর ২শত গজ সামনে একই উপায়ে লালবাগ শহীদনগর আধাগলির সংলগ্ন বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে আরেকটি ট্রাক স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চাদাঁবাজি করে থানা পুলিশ। সূত্রঃক্রাইম নিউজ সার্ভিস

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.