আজগুবি মামলায় ভুতুড়ে আসাঃ মৃত ব্যক্তিরাও বাদ যাচ্ছেনা

আজগুবি মামলায় ভুতুড়ে আসামি

রাজধানীতে তিন থানায় তরিকুল, আব্বাস, গয়েশ্বর, খন্দকার মাহবুবসহ আসামি ৩৫১ জন

* বিভিন্ন স্থানেও মামলা, আসামি অসংখ্য

* নজিরবিহীন মামলায় বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা
সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ মামলা দেয়া হচ্ছে আজগুবি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশকে মারধর করার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি অথচ মামলার এজাহারে এসব কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তি, ৮৬ বছরের প্যারালাইসড রোগী, এমনকি হজ ও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থেকেও মামলার হাত থেকে রেহাই পাননি অনেকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা মহানগর বিএনপি, অঙ্গসংগঠনের কমিটিসহ মহানগর, জেলা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ধরে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। গত কয়েকদিনে পল্টন, খিলগাঁও, মতিঝিল থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়া, ককটেল বিস্ফারণসহ নাশকতার কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, রেজাক খান, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মীর নাম ধরে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিও আছে অনেক। পল্টন থানায় করা মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমন মামলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আসামি করার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতা ও বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলকে চাপে রাখতেই এ ধরনের আজগুবি মামলায় ভুতুড়ে আসামি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। তবে তড়িঘড়ি কারণ ছাড়া মামলা দায়েরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে তারা মনে করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট ঘটনায় মামলা হচ্ছে এবং কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা কাউকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করি না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গ্রেফতার নিয়ে বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা। বিএনপির যেসব ব্যক্তি গ্রেফতার হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিডিওচিত্র আছে। তিনি বলেন, তারা যদি কোনো গ্রেফতার নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে আমরা পরিষ্কার করে বলতে পারব, কী অভিযোগে ধরা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। বুধবার খিলগাঁও থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার এজাহারে খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী আল-রাজি হাসপাতালের সামনে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ৫টি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ উদ্ধার দেখানো হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন খিলগাঁও থানার এসআই আমিনুল ইসলাম। ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় ২টি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৭২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং নাশকতার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ওইদিন বায়তুল মোকাররম এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে জানা গেছে। এ মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াসহ নাম উল্লেখ করে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামির সংখ্যাও অনেক। পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মতিঝিল থানায় এ বিষয়ে মোট সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় তিনশ’ নেতাকর্মীকে। দীর্ঘদিন থেকে গুরুতর অসুস্থ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নামেও পুলিশ নাশকতার মামলা দিয়েছে। অথচ তিনি শয্যাশায়ী। অন্যের সাহায্য ছাড়া তার পক্ষে চলাচল করা সম্ভব নয়। রাজধানীর পল্টন থানায় তরিকুল ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে মামলা হয়েছে বলে জানান দলটির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। টিপুকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কোথাও কোনো ঘটনা না ঘটলেও আমাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। কারণ, সরকার একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। সব মামলাই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মামলাগুলো ভুয়া। কারণ ১১ ও ১২ তারিখের ঘটনা দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। ১২ তারিখ আমি খালেদা জিয়ার চ্যারিটেবল মামলায় জেলখানার আদালতে ছিলাম। ওখানে সব মিডিয়ার লোকেরা আমাকে দেখেছেন। সেখান থেকে কিভাবে ককটেল মারলাম কিছু বুঝলাম না। এ ধরনের মামলা ও গ্রেফতার প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, বিগত উপজেলা নির্বাচনে আমরা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন দেখেছি। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখেছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিন্তু একজন অপরাধ না করেও আজগুবি ঘটনায় মামলার আসামি হবেন এটা ভাবা যায় না। এটা বৈধ ক্ষমতা অবৈধভাবে ব্যবহারে সরকারের একটা প্রবণতা। এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করার বিষয়ও স্পষ্ট হচ্ছে। এমন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যাবে। তিনি বলেন, এ কারণেই আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। নিরপেক্ষ সরকার হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। এসব অভিযানের আগেই নেতাকর্মীদের নামে থানায় মামলা করে রাখা হয়েছে। আবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও সেখানে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশকে মারধরের কারণ দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে মামলা। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায় ৫ সেপ্টেম্বর করা ১৩ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই রাতে কামরাঙ্গীরচরে রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোটা দিয়ে মেরে পুলিশকে আহত করেছে। এ ঘটনায় নুরুল ইসলামকে ৩১ নাম্বার আসামি করা হয়েছে। অথচ তিনি ৩১ আগস্ট মারা গেছেন। স্বজনরা তাকে ওই দিনই আজিমপুরের পুরনো কবরস্থানে দাফন করেছেন। চকবাজার থানার প্রয়াত নেতা আজিজুল্লাহকেও ৫ সেপ্টেম্বর এক মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তিনি মারা গেছেন ২০১৬ সালের মে মাসে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, কারণ ছাড়াই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এ গায়েবি মামলার সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে নামে-বেনামে প্রায় তিন লাখ নেতাকর্মী। গ্রেফতার করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সরকারি দলের নাগালের মধ্যে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে দমন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এজন্য আজগুবি মামলায় ভুতুড়ে আসামি করা হচ্ছে। মৃত, ব্যক্তি, হজ পালনরত ব্যক্তিরা মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আরও জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন থানা ছাড়াও কুমিল্লার মুরাদনগর, ফেনীর ছাগলনাইয়া, বগুড়া, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় আজগুবি ঘটনায় ভুতুড়ে আসামির সন্ধান মিলেছে। বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের আহাদ খলিফা থাকেন বাহরাইনে। গত বছরের অক্টোবরে তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনে ফিরে যান তিনি। তবে ৮ সেপ্টেম্বর মুরাদনগর থানায় ধ্বংসাÍক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৩৩ আসামির মধ্যে তিনিও একজন। ১ সেপ্টেম্বর ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন। তিনি হজ পালনের জন্য ১৮ জুলাই সৌদি আরব যান। ফিরেছেন ৪ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তাজমেরী এসএ ইসলাম বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উত্তরায় থানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান ও প্রকৌশলী আ ন হ আকতার হোসেনের বিরুদ্ধেও একই থানায় মামলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান হজ পালন করে যেদিন দেশে ফেরেন, সেদিনই তার ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা করা হয়। গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা কাজী সাইয়েদুল আলম ছেলের চিকিৎসার জন্য সোমবার সকাল ৮টায় সিঙ্গাপুর যান। ওইদিন বেলা ১১টায় শহরে বিএনপির মানববন্ধনে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যানবাহন ভাঙচুর করে নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এ মামলায় আসামি করা হয় সাইয়েদুল আলমকে। ৭ সেপ্টেম্বর বগুড়ার ধুনট থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে নাশকতার মামলা করে পুলিশ। এতে আবদুল খালেক সরকার (৮৬) নামের প্যারালাইসড রোগীকে আসামি করা হয়। তার বয়স দেখানো হয় ৩৮। আবদুল খালেক সরকার উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের নান্দিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত মোবারক আলী সরকারের ছেলে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ এনে ১০ দিনের মধ্যে চার মামলায় ১৯২ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করে পুলিশ। যে ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তখন আসামিদের কেউ ওই এলাকায় ছিলেন না। এতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু, মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, জেলা ছাত্রদল নেতা আমিরুল ইসলাম ইমনকে আসামি করা হয়। এই চার মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজশাহীর তানোর থানায় ৩ সেপ্টেম্বর ৩০ জনকে আসামি করে একটি নাশকতার মামলা দায়ের করে পুলিশ। এ মামলায় জামালউদ্দিন নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হজ পালনে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। খুলনা জেলা যুবদল নেতা ফয়সাল গাজী ভারতে চিকিৎসাধীন। ২৯ আগস্ট তিনি ভারত যান। এর তিন দিন পর ২ সেপ্টেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলায় করা হয়। এ মামলায় ফয়সালও আসামি।

‘ইউ মে কুইট টু দিস কেস’

'ইউ মে কুইট টু দিস কেস'

তুরিনকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক

জামালপুরের ৮ রাজাকারের মামলা থেকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে সরে দাঁড়াতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্টাডি করার জন্যও পরামর্শ দেন আদালত। এ সময় ট্রাইব্যুানালের অপর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বলকেও একই পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট বিচারপতি। বুধবার সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এ বিষয়ে গ্রুপ স্টাডি করা হয়না বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী তুরিনকে এ পরামর্শ দেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৬ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য আদেশের দিন ঠিক করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আসামীপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তির বিরোধীতা করে তার নিজস্ব যুক্তি উপস্থাপনের চেস্টা করেন। এসময় সদস্য বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী তুরিন আফরোজের কাছে যুক্তিতে আনা নথির পক্ষে ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে(আদালতে)জমা দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু প্রসিকিউটরের যুক্তিমত নথি ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করতে না পারায় তুরিন আফরোজকে উদ্দেশ্য করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘(ইউ মে কুইট টু দিস কেস) মামলা থেকে সরে যেতে পারেন।’ পাশাপাশি মামলার দ্বায়িত্বরত প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল প্রয়োজনীয় নথি বিচারকদের কাছে দাখিল না করায় এবং আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করায় ‘প্র্যাকটিস করেননি, ঘুম থেকে উঠে এসে মামলা পরিচালনা করছেন বলেও মন্তব্য করেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার কোনো বিষয় বস্তু না বুঝলে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বলকে অন্যের (অন্যান্ন বিজ্ঞ প্রসিকিউটর) সাহায্য নিতে পরামর্শ দেন সদস্য বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। /আমার দেশ পাবলিকেশন্স লিঃ

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা ॥ বিশ্বে...

[caption id="attachment_1674" align="alignleft" width="280"]হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -একুশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -একুশ[/caption]নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন দাখিল করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রসিকিউশনপক্ষ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ দাখিল করে। পৃথিবীতে এটাই প্রথম এইচআরডব্লিউয়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ।
০ গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে মামলা ০ প্রসিকিউটরদের দাবি নাৎসি পলিসি সাপোর্ট করে এমন ব্যক্তি হিউম্যান রাইটস ওয়াচে আছে
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতির পর আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছিলেন, সকল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার কাজ চালানোর পরও এইচআরডব্লিউ যে বিবৃতি দিয়েছে তা একটি স্বাধীন দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ শামিল। এর মাধ্যমে তারা (এইচআরডব্লিউ) বিচারাধীন বিষয় প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থাটির বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে আদালত চাইলে ‘অবমাননার’ অভিযোগ আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। ওই বিবৃতির চার দিন পর প্রসিকিউশনপক্ষ আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশনপক্ষের অন্যতম প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের মামলার রায় এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট বিতর্কিত বিবৃতি প্রচারের প্রেক্ষিতে এ আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে এই প্রথম এইচআরডব্লিউয়ের বিরুদ্ধে এমন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এমন একটি মানবাধিকার সংগঠন, যারা মানবাধিকার রক্ষার নামে এমন সব কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাদের কোন পর্যবেক্ষক নেই। তাদের তদন্তকারী যারা তাদের মধ্যে নাৎসিদের পলিসি সাপোর্ট করে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। এমনকি তাদের অর্থের উৎস কী সেটিও তারা প্রকাশ করে না। গোলাম আযমের মামলা তো নয়ই, তারা ট্রাইব্যুনালের কোন একটি মামলাও পর্যবেক্ষণ করতে আসেনি। এ সংস্থার কোন জবাবদিহিতা নেই। তাদের অর্থায়ন যারা করে তাদের পরিচয়ও সংস্থাটি গোপন রাখে। তুরিন আফরোজ বলেন, এ সংস্থার পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের পর্যাপ্ত প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তা ছাড়া হিউম্যান রাইটসের প্রত্যেকটি প্রতিবেদনই দাতাভিত্তিক। এ ক্ষেত্রে তারা দাতাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। ১৬ আগস্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে পাঁচটি যুক্তি দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামস ওই বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে আইনে বিচার চলছে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে চাইলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। যে রায় সরকার চেয়েছিল তা তারা পেয়েছে। কিন্তু সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়ায় পাঁচটি বিষয়কে ‘ত্রুটি’ হিসেবে তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতেরও অভিযোগ আনা হয়েছে বিবৃতিতে। ‘বাংলাদেশ : আযম কনভিকশন বেজড অন ফ্রড প্রোসিডিংস’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোলাম আযমের রায় দেয়ার আগে ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত চালানোর যে কথা জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল তা পারে না। স্কাইপেসহ ইন্টারনেটে প্রকাশিত কথোপকথন নিয়ে পক্ষপাতের যে অভিযোগ উঠেছে তার কোন ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনাল দেয়নি। আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষা দিতে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে এবং বিচারক প্যানেলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর গোলাম আযমের রায়ে তাঁকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণের অভাব ছিল বলেও এইচআরডব্লিউ মনে করে। অভিযোগগুলো কী ॥ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গোলাম আযমের রায়ের ক্ষেত্রে বিচারকরা প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত করেছে, যা সমীচীন হয়নি। দ্বিতীয় অভিযোগে এইচআরডব্লিউ বিচারকদের সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগসাজশ ও পক্ষপাতিত্বের কথা বলেছে। তৃতীয় অভিযোগে সংস্থাটি বলেছে, আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে। এইচআরডব্লিউর চতুর্থ অভিযোগ বিচার প্যানেলে পরিবর্তন নিয়ে। পঞ্চম অভিযোগে গোলাম আযমের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের জন্য প্রমাণের অভাবের কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউশনপক্ষ থেকে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ পাল্টা বিবৃতি প্রদান করেন। তুরিন আফরোজ বলেছিলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কে? এটিও কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? আন্তর্জাতিক আইনের সব ধারা লঙ্ঘন করে যখন আইখম্যান বা সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়েছিল, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কী করেছে? তখন কি তারা তাদের কথিত আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষায় কোন কথা বলেছে? মঙ্গলবার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, তাদের পাঁচটি যুক্তির মধ্যে দুটি যুক্তি আদালতের জন্য অবমাননাজনক বলে মনে হওয়ায় প্রসিকিউশনপক্ষ অভিযোগ এনেছে। যুক্তি দুটির মধ্যে রয়েছেÑ গোলাম আযমের রায় ট্রাইব্যুনাল নিজে থেকে তদন্ত করেছে। অপরটি হলো প্রসিকিউশনপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গোলাম আযমের রায় সুপ্রীমকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। কাজেই তাদের ওই বিবৃতি আদালত অবমাননাজনক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) অর্থের উৎস এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রসিকউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, তাপস বলসহ প্রসিকিউশন টিম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ দাখিল করেন। দাখিলের পর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয় এবং গোলাম আযমের মামলার রায়ের সমালোচনা করে পাঁচটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তার একটিতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণের অপর্যাপ্ততার কথা বলা হয়েছে। আর বিষয়টি যেহেতু আপীল বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে, তাই এ বিষয়ে আমরা চ্যালেঞ্জ করিনি। তা ছাড়া আসামিপক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ পরিবর্তন বিষয়ে সংস্থাটির সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রসিকউশনের কিছু বলার আছে বলে মনে করেন না তিনি। তাই আদালত অবমাননার অভিযোগে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. তুরিন আফরোজ। তিনি আরও বলেন, গোলাম আযমের মামলার বিচারিক বিষয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে যে মন্তব্য করা হয়েছে তাতে সংস্থাটি ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তিকেই শুধু আঘাত করেনি, আঘাত করা হয়েছে পুরো বিচার প্রক্রিয়াকেই। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধের বিচার হচ্ছে, সব কটি অপরাধই আন্তর্জাতিক অপরাধ। এ অপরাধ কোন ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়নি, হয়েছে গোটা মানবজাতির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে নিজস্ব আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে। বিশ্বের খুব কম রাষ্ট্রই তা করতে পেরেছে। তাই এ বিচার করে আমরা বিশ্বের বুকে একটি নজির সৃষ্টি করেছি। এর পর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল বলেন, আমরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে সংস্থাটির প্রতিনিধিদের হাজির করে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশনা চেয়েছি। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ের ৯০ বছরের কারাদ- দেয়। বয়স বিবেচনায় ফাঁসির পরিবর্তে তাঁকে কারাদ- দেয়া হয়। আর এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার এক বিবৃতি প্রচার করে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রায়ে কী ছিল ॥ ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের নাটের গুরু জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করে। একটি সাজা শেষ হওয়ার পর আরেকটি সাজা এভাবে পর্যায়ক্রমে দ-াদেশ কার্যকর হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সহযোগিতা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেয়াÑ পাঁচ ধরনের অপরাধের প্রতিটিতেই গোলাম আযম সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁকে কারাদ- দেয়া হয়েছে বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায়। বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ- মিলিয়ে তাঁকে টানা ৯০ বছর সাজা অথবা ‘আমৃত্যু’ জেল খাটতে হবে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জামায়াত ক্রিমিনাল সংগঠন। সরকারী-বেসরকারী পদে যেন স্বাধীনতাবিরোধীদের চাকরি না দেয়া হয়। সর্বক্ষেত্রে তাদের বয়কট করার ওপর মতামত ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের নতুন প্রজন্মদের যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়ারও জন্য মতামত দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৪২ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টার মাইন্ড গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এই দ- প্রদান করা হলো। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন। অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের দায়দায়িত্ব হিসেবে আনা হয়েছে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধতন নেতৃত্বের দায়)। রায়ে ট্রাইব্যুনাল, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচ ধরনের অভিযোগের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে ১০ বছর করে, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর করে ও পঞ্চম অভিযোগে ৩০ বছর কারাদ- দিয়েছে। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত ছয়টি, সহযোগিতা-সংক্রান্ত তিনটি, উস্কানির ২৮টি, সম্পৃক্ততার ২৩টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা-নির্যাতনের ১টিসহ মোট ৬১টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, গোলাম আযম যে অপরাধ করেছেন তা মৃত্যুদণ্ড তুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স ৯১। এ বিবেচনায় তাঁকে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হলো।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি

আইনমন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না : দুদক চেয়ারম্যান

[caption id="attachment_22544" align="alignleft" width="496"]সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ছবি : এনটিভি[/caption]

আইনমন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না : দুদক চেয়ারম্যান

আইনমন্ত্রীর কথায় বা তাঁর কথার প্রভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান বা মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আজ সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চাওয়া হলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী বলতেই পারেন। দ্যাট ডাস নট অ্যা ফেক্ট আস। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় তো আর মামলা হবে না। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় অনুসন্ধান হবে না। মাননীয় মন্ত্রীর কথার কোনো প্রভাব দুদকে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি। এভিডেন্স ছাড়া, আমরা কনভিন্স না হলে কারো বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধানও হবে না, কোনো তদন্তও হবে না।’ এ সময় বেসিক ব্যাংকের দুই ব্যক্তিকে চার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান। গতকাল রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সমিতির অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দুর্নীতিবাজ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। দুর্নীতির প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলা করলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে না।’

রাঘববোয়ালরা অধরাঃ ঋণখেলাপির তালিকায় শুভংকরের ফাঁকি

রাঘববোয়ালরা অধরা

ঋণখেলাপির তালিকায় শুভংকরের ফাঁকি

ব্যাংকের যোগসাজশে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক প্রভাবশালী
* দায় এড়াতে পারেন না অর্থমন্ত্রী, বিশেষ করে সরকারের শক্তিশালী অংশের হস্তক্ষেপ ছাড়া এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়েনি। ফলে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া এ অবস্থার উন্নতিও হবে না -খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ * লুটপাটের অবসান চাই, বিচারহীনতার কারণে ব্যাংকে এ অরাজকতা -ড. বদিউল আলম মজুমদার
সমাজের সব ক্ষেত্রে এখন রাঘববোয়ালরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কোনোভাবেই কেউ তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারছে না। বুধবার সংসদে উত্থাপন করা ঋণখেলাপিদের তালিকায়ও এর প্রমাণ মিলেছে। যারা সমাজে বড় বড় ঋণ খেলাপি ও ব্যাংক জালিয়াত হিসেবে পরিচিত তাদের নাম তালিকায় নেই। রাজনৈতিক ক্ষমতার বদৌলতে আইনের ফাঁক গলিয়ে তারা পার পেয়ে গেছেন। এমনটি মনে করেন ব্যাংক সেক্টরের বিশ্লেষকদের অনেকে। যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানেও দেখা গেছে, খেলাপি হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাংক কৌশলে প্রভাবশালীদের খেলাপির বাইরে রেখেছে। সঙ্গত কারণে জাতীয় সংসদে প্রকাশিত ১০০ শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকা এখন বিতর্কিত। এভাবে বড় জালিয়াতদের আড়াল করার ফলে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করার মতো সরকারের ভালো উদ্যোগটিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু তালিকায় কোন প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কত টাকা, তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে খেলাপি ঋণের পরিমাণসহ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকায়ও যারা বড় বড় খেলাপি তাদের নাম আসেনি। যে কারণে তখনও এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়। এদিকে এবারও যেসব ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ব্যাংকিং খাতের চিহ্নিত রাঘববোয়ালরা নেই। তাদেরকে বাদ রেখেই ওই তালিকা করা হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, আইনের ফাঁক গলিয়ে, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপিসহ সব ধরনের অপকর্মের দায় অর্থমন্ত্রীকে নিতে হবে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকের অনিয়মের দায় তিনি কিছুইতে এড়াতে পারেন না। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্যরা ঋণখেলাপি হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঋণের নামে ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা সংসদে আইন প্রণয়ন করেন, তারাই যদি আইন লঙ্ঘন করেন তাহলে কার জন্য এ আইন? কে মানবে এসব আইন। তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে পুরো গ্রুপ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নীরব। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তাদের এটি খতিয়ে দেখতে হবে। তার মতে, একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে এসব অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা উচিত। কিভাবে বড় বড় খেলাপিরা বা জালিয়াতরা খেলাপির তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে সেটিও দেখা উচিত। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যমুনা টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘খেলাপি ঋণের সময় অর্থমন্ত্রী কী করেছেন। তিনি তো কিছু করতে পারেননি। তার মানে খেলাপিরা তার চেয়ে শক্তিশালী। এ ছাড়া সরকারি ব্যাংকের মালিক তো সরকার। তাই এর দায় কোনোভাবে সরকার তথা অর্থমন্ত্রী এড়াতে পারবেন না।’ অপর দিকে বেসরকারি ব্যাংকের মালিকদের একটি অংশ শিক্ষিত এবং আগে থেকে সম্পদশালী। আরেকটি অংশের স্বাধীনতার পর সেভাবে অর্থসম্পদ ছিল না। তারা চুরি বাটপারি করে ব্যাংকের মালিক হয়েছেন। তিনি বলেন, লক্ষ্য করে দেখুন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কারা থাকেন। একেবারে মালিকপক্ষের লোক। তাহলে কী হবে। মালিকরা যেভাবে চাইবেন সেভাবে হবে। সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও তাই। সেজন্য বলতে পারি, সরকারের শক্তিশালী অংশের হস্তক্ষেপ ছাড়া এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়েনি। ফলে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া এ অবস্থার উন্নতিও হবে না। ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, মালিকদের কথা ব্যাংকারদের শুনতে হয়। না শুনলে চাকরি চলে যায়। তাই চাকরি হারানোর ভয়ে তারা মালিকদের ছাফাই গায়। অবশ্য মালিকরা এক কোটি খেলে, ব্যাংক কর্মকর্তারা সেখানে দুই লাখ ভাগ পায়। তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হল জনগণের আমানতের টাকা হেফাজত করা। অথচ তা না করে তারা নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত। কেননা, আইনের অনেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা অভিযুক্ত ব্যাংক মালিকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যেসব বড় খেলাপির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তা যত না আইনি জটিলতা, তার থেকে রাজনৈতিক সমস্যা বেশি। তবুও যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, এটা প্রাথমিক উদ্যোগ। এখন যারা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত তাদের যেন আর নতুন ঋণ দেয়া না হয়। এ ছাড়া এসব খেলাপিকে সব ধরনের নীতিসহায়তা থেকে বঞ্চিত করতে হবে। তা না হলে শুধু নাম প্রকাশ করে কোনো কাজ হবে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শুধু নাম প্রকাশই যথেষ্ট নয়; তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপিসহ বিভিন্ন কু-কর্মে যারা জড়িত, তাদের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, বরং কখনও কখনও উল্টো সুরক্ষা দিয়েছে। অথচ তাদের অপকর্মের বোঝা টানছে সাধারণ মানুষ। অর্থাৎ সরকারি ব্যাংকগুলোকে করের টাকা থেকে বারবার পুঁজিসহায়তা করা হয়েছে। এর দায় সরকার কিছুতে এড়াতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। তাদের কাছে অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ এক লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের সংখ্যা ৮৮টি। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে ১৮ হাজার ৬৬২ কোটি, জনতা ব্যাংকে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ হাজার ২৮৪ কোটি, রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৯০১ কোটি, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি, কৃষি ব্যাংকে ২ হাজার ১৭৮ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ২ হাজার ৩৩২ কোটি, পূবালী ব্যাংকে ২ হাজার ১১৬ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫ হাজার ৭৬ কোটি, ইসলামী ব্যাংকে ৩ হাজার ৫২০ কোটি আর প্রাইম ব্যাংকে ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে। সূত্র জানায়, এর বাইরে আরও অনেক খেলাপি ঋণ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা অনেক ঋণখেলাপি হলেও সেগুলোকে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে খেলাপি হিসেবে দেখান না। নিজেদের দুর্নাম এড়াতে তারা খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখান। এতে বিশেষ করে প্রভাবশালী ঋণ গ্রহীতারা খেলাপি তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এরকম অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণকে খেলাপি করা হয়। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। এর বাইরে আরও অনেক ঋণ থেকে যায়, যেগুলো খেলাপি হওয়ার যোগ্য, অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক শনাক্ত করতে পারছে না। কিন্তু একটি পর্যায়ে এগুলো খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জনতা ব্যাংক প্রথমে খেলাপি করেনি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে খেলাপি করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় তাদের সব প্রতিষ্ঠানের নাম আসেনি। এসেছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এগুলো হচ্ছে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যার। অ্যানন টেক্স গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু জনতা ব্যাংক এখনও তা খেলাপি করেনি। হলমার্ক গ্রুপ এখন সবচেয়ে বড় খেলাপি। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গ্রুপের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান খেলাপির তালিকায় এসেছে। এটি হচ্ছে হলমার্ক ফ্যাশনস। বাকিগুলো আসেনি। বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। এগুলো গেছে ছোট ছোট অংকে। বিসমিল্লাহ গ্রুপ ৫টি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে। অথচ তাদের দুটি প্রতিষ্ঠান শীর্ষ তালিকায় এসেছে। এগুলো হচ্ছে সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলস। একটি সরকারি ব্যাংকের রমনা শাখা থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে একসঙ্গে আসেনি। এর মধ্যে ফেয়ার ফ্যাশনের নামে-বেনামে রয়েছে ৭শ’ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। সোহেল গ্রুপ একটি বেসরকারি ব্যাংক ও সরকারি জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের নাম তালিকায় আসেনি। অলটেক্স গ্রুপের একটি ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ আছে। তালিকায় এসেছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের নাম। চট্টগ্রামের ইমাম গ্রুপের খেলাপি ঋণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। তাদের নাম তালিকায় আসেনি। এ রকম অনেক বড় বড় গ্রুপের নাম তালিকায় আসেনি। এছাড়া অনেক গ্রুপ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে খেলাপি ঋণকে নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখাতে ব্যাংককে বাধ্য করে। ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের তালিকা করছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। গ্রুপভিত্তিক তালিকা করছে না। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপির নাম আসছে না। আসছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। এসব কারণে বড় খেলাপিরা তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বড় খেলাপিদের নাম শীর্ষ খেলাপির তালিকায় আসছে না। কারণ তাদের অনেকে ব্যাংকের মালিক। ফলে ব্যাংকাররা তাদের নাম খেলাপির তালিকায় তুলছেন না। তারা নানা কৌশলে তা লুকিয়ে রেখেছেন।
সুশীল সমাজ, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, শুধু চুনোপুঁটিদের নাম প্রকাশ করেই অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের লুটপাটকারীদের দায় এড়াতে পারেন না। এছাড়া তিনি কোনো শাস্তির ঘোষণাও দেননি। সুতরাং ব্যাংকিং খাতের খেলাপিসহ সব অপকর্মের দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা মেরে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের মধ্যে ধনী হওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। মূলত বিচারহীনতার কারণে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। আমরা এ খাতে লুটপাটের অবসান চাই। তিনি আরও বলেন, বাস্তব কারণে কেউ খেলাপি হলে সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে। তা না হলে এ অরাজকতা আরও বেড়ে যাবে। অর্থমন্ত্রীর দেয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের ইলিয়াস ব্রাদার্স। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পুরো ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। চট্টগ্রামের নূরজাহান গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তাদের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম খেলাপির তালিকায় এসেছে। এর খেলাপি ঋণ ৩০০ কোটি টাকা। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারা কিছু ঋণ নিয়মিত রাখার সুযোগ পেয়েছে। সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর মালিকানাধীন মুন্নু ফেব্রিক্সের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৩০ কোটি টাকা। তাদের গ্রুপের আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঋণ খেলাপি, যেগুলোর নাম আসেনি। সাবেক মন্ত্রী মোর্শেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমান সংসদে থাকা আওয়ামী লীগের এমপি আসলামুল হকের নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি ও রাজশাহীর এমডি এনামুল হকের নর্দান পাওয়ার সল্যুশনের খেলাপির তালিকায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু আসলামুল হকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকেই ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। যার বড় অংশই খেলাপি। নারায়ণগঞ্জের ফজলুর রহমানের মালিকানাধীন রহমান গ্রুপের একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান রহমান স্পিনিং মিলসের নাম এসেছে খেলাপির তালিকায়। তাদের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও খেলাপি। কিন্তু তাদের ঋণের পরিমাণ কম তালিকায় আসেনি। মেজর (অব.) আবদুল মান্নান পরিচালক থাকার সময়ে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে ৫১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ শোধ করতে পারছে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন খেলাপি। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে একটি আলোচিত গ্রুপের গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ডায়িং কোম্পানিকে খেলাপির তালিকায় দেখানো হয়েছে। আরও একটি শিল্প গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্সকে খেলাপির তালিকায় রয়েছে। তালিকায় থাকা জাপান-বিডি সেক প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারসের রূপালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা।

অ্যাকশনএইডের গবেষণা দেশে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৬৬% নারী

দেশে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৬৬ শতাংশ নারী, অর্থাৎ প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন এ সহিংতার শিকার। গণমাধ্যমে বাড়ির বাইরের সহিংসতা ও যৌন সহিংসতাকে বেশি তুলে ধরা হলেও প্রকৃতপক্ষে নারীরা ঘরেই বেশি অনিরাপদ। এছাড়া শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়ে অনেকেই জানে না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইডের পৃথক দুটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হলরুমে গবেষণা প্রবন্ধ দুটি উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ওপর দৃষ্টিপাত:

প্রবণতা এবং সমাধান শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন অ্যাকশনএইডের কনসালট্যান্ট আহমেদ ইব্রাহিম। দেশের ২০টি জেলায় সংঘটিত সহিংসতার তথ্য, পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগ, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম, জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের (জেএনএনপিএফ) তথ্য এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ে মিডিয়া প্রতিবেদন থেকে নেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, প্রচলিত ধারণা এবং পিতৃতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রহণযোগ্য বিশ্বাস হচ্ছে, ‘নারীরা ঘরেই বেশি নিরাপদ’। কিন্তু প্রকৃত সত্য নারীদের প্রতি বেশির ভাগ সহিংসতা বাড়িতে সংঘটিত হয়। গবেষণায় বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত মামলাগুলোর প্রতি পাঁচটির মধ্যে চারটিই আদালতে উত্থাপিত হতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তারপর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পায়, ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ আদালতে শুনানির পর্যায়ে যায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়। আদালতের মামলা খারিজ করে দেয়া বা আসামিকে খালাস দেয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। শুধু ১০ দশমিক ৭ শতাংশ মামলা থাকে পারিবারিক বিরোধ-সংক্রান্ত। যদিও বেশির ভাগ অভিযোগ পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭৫ শতাংশ প্রতিবেদনে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ সম্পর্কিত। একই অনুষ্ঠানে ‘কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ২০০৯-এর বাস্তবায়ন’ শীর্ষক পৃথক আরেকটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০০৯ সালের গাইডলাইনের প্রয়োগ একবারেই নেই বললে চলে। যেখানে আছে, সেখানে সীমিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গাইডলাইন প্রয়োগের জন্য কমিটি দেখা গেলেও সেখানে শিক্ষার্থীর তুলনায় অভিযোগের সংখ্যা একেবারেই কম। গবেষণায় বলা হয়েছে, কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি তাত্পর্যপূর্ণ রায় বা নির্দেশনা ঘোষণা করেন। তবে এ নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ নয় বছর পরও কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা বা কৌশল হাতে নিতে দেখা যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত কোনো কমিটির কথা জানে না। ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে জানে না। মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার কথা নামমাত্র শুনেছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের নির্দেশনার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২০ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ কিছুই জানে না। অন্যদিকে ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা নির্দেশনা সম্পর্কে জানলেও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। অ্যাকশনএইডের বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর ফারিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল করিম, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিয়া হক, ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের উপকমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সুবর্ণচরের ধর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে সুবর্ণচরের ঘটনায় যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, গণমাধ্যমে তা সঠিকভাবে আসেনি। সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী যে-ই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে— এ কথাটি আমরা মিডিয়ার কাছে বলেছিলাম। সবার বোঝার স্বার্থে আমরা পুরো প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সুবর্ণচরের তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে অন্যভাবে এসেছে। মেসেজটাকে যেভাবে নেয়া হয়েছে, সেটা কিন্তু আমাদের মেসেজ ছিল না। তিনি আরো বলেন, একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা, এটাই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল। আমরা এটাই তদন্ত করি। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো পাঠিয়ে দিতে বলেছি। আমরা তো সেখানে হাত দিতে পারব না। নির্বাচন-সংক্রান্ত ব্যাপারে কে কাকে ভোট দিয়েছে, কে কোন দলের লোক, সেটা তারা দেখবে। সেটা তো আমাদের তদন্ত রিপোর্টে আসতে পারে না এবং আমরা এ ধরনের কোনো কথাও বলিনি। আমরা বলেছিলাম, ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তাকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করা হয়েছে। সুতরাং তার সঙ্গে যারাই এ রকম করেছে, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

নগর রক্ষা বেড়িবাঁধে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের চাঁদাবাজির মহোৎসব !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা শহর রক্ষাবাঁধে শত শত মালবাহী যানবাহন থামিয়ে অবাধে চাদাঁবাজী চলছে। রক্ষকই এখানে ভক্ষক রূপে আর্বিভূত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে পুলিশও চাঁদাবাজির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। তল্লাশির নামে জায়গায় জায়গায় বাঁশ ফেলে তাৎক্ষণিক চেক পোষ্ট বানিয়ে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দৈনিক প্রায় ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা। মাসে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা উঠছে সমগ্র বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে। পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে অন্তত ১৬টি স্পটে ৮ থানার পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে মালামাল বহনকারী পরিবহন থামিয়ে অবাধে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই পেতে এখানে অনেকেই চাঁদাবাজদের হাতে জাল নোট গুঁজে দিয়েও সটকে পড়েন বলে তথ্য মিলেছে। এসব জাল নোট বিভিন্ন হাত ঘুরে জনসাধারনের হাতে গিয়ে পড়ায় তাদের নাজেহাল হবারও তথ্য মিলেছে। এদিকে দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে বেড়িবাঁধের রাস্তায় ল্যাম্পপোষ্টে বাতি না থাকায় ছিনতাইকারীদের অভ্যয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় বাধেঁর রাস্তা দখল করে শত শত দোকান-পাট বসানোর ফলে ভয়াবহ যানজটে নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। পন্যবাহী যানবাহন আর ফুটপাতের দোকান-পাটে চাদাঁবাজিতে পুলিশের মহা ব্যস্ততায় সেখানে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। রীতিমত বেড়িবাধঁ এলাকা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পরিবহন ব্যাবসায়ীদের কাছে রীতিমত এক আতংকজনক স্থানে পরিনত হয়েছে। ওপেন সিক্রেট এই চাঁদাবাজিতে হতবিহবল অসহায় মানুষের পাশে যেন দাঁড়াবার কেউ নেই! গত কয়েক দিন সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঢাকা নগর রক্ষা বেড়িবাঁধের গাবতলী থেকে মিডফোর্ড বাবু বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে শত শত মালবাহী যানবাহনে করে হাজার হাজার কোটি টাকার মাল নামে নগরীর পাইকারী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরনো ঢাকার কামালবাগ, সোয়ারীঘাট, চকবাজার, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, চম্পাতলী, বড় কাটারা, ছোটকাটারা, মিটফোর্ড, বাদামতলী, বাবুবাজার, ও ইসলামপুরসহ প্রায় ২০টি পাইকারী মার্কেটে। প্রতিদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিনাঞ্চল থেকে এক হাজারের ওপরে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ট্রাক, লরি, পিকআপ, জিপসহ নানা পরিবহনে করে মালবোঝাই হয়ে শহর রক্ষা বাধেঁর ওপর দিয়ে এসব পণ্য পাইকারী কেন্দ্রে পৌঁছে। বেড়িবাধেঁর প্রায় ১৬টি স্পটে পুলিশ চেকপোষ্টের নামে রাস্তার মাঝখানে বাঁশ ফেলে, বেড়িকেট দিয়ে তল্লাশীর নামে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীতে নেমে পড়ে। বিশেষ করে রাত ১০ টার পর থেকে ভোর অবদি চলে তাদের চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজিকালে পুলিশের ভূমিকা হয় কখনো ছিনতাইকারীর মত, কখনো বা হয় ভিক্ষুকের মত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দু’দফা থানার ডিউটি বদলের কারণে ডবল গ্রুপের চাঁদা আদায় চলে। ডিউটিকালীন দারাগো, কনস্টেবল ও সোর্স মিলে বেড়িবাঁধের নিদির্ষ্ট স্থানের রাস্তায় এভাবেই মালবাহী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এমনকি শাসকদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাঁতি নেতারাও এ থেকে পিছিয়ে নেই। এই চাদাঁবাজদের হাত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও রক্ষা পাচ্ছে না। বাধেঁর রাস্তা দিয়ে কেউ মালামাল নিয়ে গেলে পুলিশের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে কেউ এদের হাত থেকে রেহাই পায় না। সন্দেহের কোন কিছু না পেলেও পুলিশের হাতে একটি ছোট লাল নোট না দিলে এদের হয়রানির অন্ত নেই। পুলিশের গাড়িতে তুলে এদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ওই অর্থ চাই চাই। এমনকি এসব ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে পুলিশের গাড়িতে তুলে অথবা তাদের মালবাহী যানবাহন থামিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটককে রাখে। আবার পুলিশের গাড়িতে করে বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে থানার হাজতখানায় আটককে রাখারও অভিযোগ করেছে অনেক ভুক্তভোগী। এভাবেই পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে। চাদাঁর টাকা সিংহভাগ পুলিশের উর্ধতন মহল থেকে শুরু করে শাসকদলীয় ও বিরোধদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে পৌছেঁ যাচ্ছে বলে এ টাকা জায়েজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। এর ফলে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজীর পরও এদের টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারছে না। উল্টো এরা বীরদর্পে বেপোরোয়াভাবে চাদাঁ আদায় করছে। কেউ বাধাঁ দিলে এদের ওপর নেমে আসে মধ্যযুর্গীয় কায়দায় নির্যাতন। প্রতিবাদকারীদের লাখ লাখ টাকার মালামাল গায়েব করে দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পাইকারী ব্যবসীয়দের অভিযোগ। সূত্রগুলো জানায়, ৮ থানা পুলিশের চাঁদাবাজীর স্পট গুলো হচ্ছে, দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী, আদাবর থানাধীন ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মাদপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর, রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ, হাজারীবাগ থানাধীন শিকদার মেডিক্যাল, নবাবগঞ্জ সেকশন, কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হাক্কুল এবাদ বেইলী ব্রীজ ও রসুলপুর পাকা ব্রীজের উভয় পাশ, লালবাগ থানাধীন শহিদ নগর বৌ-বাজার, শ্মশান ঘাট, চকবাজার থানাধীন চাঁদনী ঘাট শরিফ হোটেল সংলগ্ন চৌরাস্তা, চক বাজার জাহাজ বিল্ডিংয়ের মোড়, ইসলামবাগের আলীর ঘাট, লবনের কারখানা,সোয়ারী ঘাট, কামাল বাগ, নলগোলা, চক বাজার ও কোতয়ালী থানার সীমান্ত অবস্থিত বাবু বাজার ও মিডফোর্ড সংলগ্ন দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর নীচে নদীর তীরের বেড়ীবাঁধ, কোতয়ালী থানার বাদামতলী ফলের আড়তের সামনে বাকল্যান্ড বাঁধ। জানা গেছে, ঢাকা নগর রক্ষা বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে চলাচলকারী চাল, ডাল, ফল, কাঁচামাল (সব্জী) সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, পিকাপ, ভ্যান গাড়ি, রিক্সাসহ শত শত যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করে পুলিশ ও তাদের মনোনীত চাদাঁর কালেকটাররা। চলাচলকারী ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের যানবাহনে গণহারে চাঁদাবাজী করছে ডিএমপির পুলিশ এবং তাদের মনোনীত চাঁদাবাজরা। এমনকি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসীরা একই উপায়ে চাদাঁবাজি করছে। প্রতি পন্যবাহী যানবাহন থেকে নিম্নে ১০০টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাদাঁ আদায় করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে মিডফোর্ড বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে, শিকদার মেডিকেল ও কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর ও লোহার ব্রীজের উভয় পাশে প্রকাশ্যে চলছে পুলিশের চাঁদাবাজী। বৈধ পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, রিক্সা , ভ্যান গাড়ী আটকে রেখে তল্লাশীর নামে হয়রাণী করা হচ্ছে। পুলিশ আটকের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আইনের দোহাই দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা এভাবেই চাদাবাঁজিতে মেতে উঠেছে। এমনকি ৮ থানা পুলিশ ও সন্ত্রাসী মিলে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকাজুড়ে শত শত ফুটপাত থেকে লাখ লাখ চাদাঁবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার সূত্রগুলো জানায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিডফোর্ড বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এবং কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর পাকা ব্রীজ ও ছাতা মসজিদ এলাকার লোহার ব্রীজের উভয় পাশে পুলিশ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে কামরাঙ্গীরচর ফাড়ির পুলিশ। মিডফোর্ড, বাবু বাজার, শিকদার মেডিকেল এলাকায় পুলিশ ও তাদের মনোনীত ব্যাক্তিরা একই উপায়ে চাঁদা আদায় করছে। পুলিশের চাঁদাবাজীর হাত থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছে না। বাবু-বাজার ব্রীজের নীচে সন্ধ্যার পর পুলিশের সামনে খদ্দরদের নিয়ে মহোৎসবে মেতে উঠে পতিতারা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কামরাঙ্গীর চর লোহার ব্রীজের ঢালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ ও কাঠের দোকানের সামনে কামরাঙ্গীর চর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যবাহী রিক্সা, ভ্যান, ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশীর নামে বৈধ পণ্যবাহী যান ও ব্যবসায়ীদের কাছ হতে গণ হারে চাঁদাবাজী করছে। পুলিশকে চাঁদা না দিলে মালামাল আটকে পুলিশ নানা মুখী হয়রাণী করছে। মধ্যাহ্নে ২ ঘন্টা বিরতিসহ পালাক্রমে দুই শিফটে ডিউটি পালন করে পুলিশ সদস্যরা। লালবাগ নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন বেড়িবাধেঁ শত শত যানবাহন থামিয়ে চাদাঁ আদায় করছে ফাড়িঁর পুলিশ।এখানে শত শত ফুটপাত দোকানঘর থেকে চাদাঁ তুলে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা বিপ্লব, জাকির, সেন্টু ও পাউবো সুইজ গেটের কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন। এরাই নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাধেঁর রাস্তা দখল করে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদীতে বালু ভরাট করে এই ট্রাকস্ট্যান্ড করার পর প্রতি ট্রাক আনলোড ১শ টাকা, লোড দেড়শত টাকা। প্রতিদিন কমপক্ষে এখানে শতাধিক ট্রাক লোড আনলোড করায় ভয়াবহ যানজটে এলাকাবাসির দূর্ভোগের সীমা নেই। এর ২শত গজ সামনে একই উপায়ে লালবাগ শহীদনগর আধাগলির সংলগ্ন বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে আরেকটি ট্রাক স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চাদাঁবাজি করে থানা পুলিশ। সূত্রঃক্রাইম নিউজ সার্ভিস

বিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়

বিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়
ইনজেকশনবিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় অ্যানেস্থেশিয়ার জন্য সোডিয়াম পেন্টোনাল, সম্পূর্ণ অক্ষম করার জন্য প্যানকিউরোনিয়াম ব্রোমাইড আর হৃদযন্ত্র থামিয়ে দেয়ার জন্য পটাশিয়াম ক্লোরাইড নামের তিনটি রাসায়নিক উপাদান ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ঢুকিয়ে অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভিয়েতনামে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়৷ গুলিবিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়
ইন্দোনেশিয়া, চীন, সৌদি আরব, তাইওয়ান, উত্তর কোরিয়া সহ কয়েকটি দেশে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে তাকে বসিয়ে বা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়৷ এরপর সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য একের পর এক গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন৷ বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়েবিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়
অভিযুক্তকে কাঠের চেয়ারে বসিয়ে তার মাথা ও পায়ের মাধ্যমে শরীরে ৫০০ থেকে ২,০০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়৷ প্রতিবার ৩০ সেকেন্ড করে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কয়েকবার এভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়৷ এই পদ্ধতিটা যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত৷ ফাঁসিবিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়
বাংলাদেশ সহ আফগানিস্তান, ভারত, ইরান, ইরাক, জাপান, মালয়েশিয়া ও কুয়েতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলন রয়েছে৷ শিরশ্ছেদবিভিন্ন দেশে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়
কয়েক হাজার বছর ধরেই শিরশ্ছেদ বিষয়টি রয়েছে৷ তবে বর্তমানে শুধু সৌদি আরবে এই পদ্ধতিটি চালু রয়েছে৷ সাধারণত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গনে শিরশ্ছেদ করা হয়৷ অন্যান্য উপায় পাথর ছুড়ে মারা, গ্যাস চেম্বারে ফেলে দেয়া, অনেক উঁচু থেকে অভিযুক্তকে নীচে ফেলে দেয়ার মাধ্যমেও কোথাও কোথাও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷সূত্র : ডয়েচভেলে
 

মুজিব হত্যা: ইন্দিরার সন্দেহে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ৩৮ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ব্রুস রিডেলের সাম্প্রতিক এক বইয়ে উঠে এসেছে এ তথ্য। ‘অ্যাভয়েডিং আর্মাগেডন: আমেরিকা, ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান টু দি ব্রিংক অ্যান্ড ব্যাক’ নামের বইটিতে তিনি লিখেছেন, “তিনি এক রকম নিশ্চিত ছিলেন, মুজিব হত্যার পেছনে তারাই (যুক্তরাষ্ট্র) ছিল; আর ১৯৭১ এর প্রতিশোধ নিতে এরপর তাকে (ইন্দিরা) হত্যা করতেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল সিআইএ।” ব্রুস রিডেলের এ বইটি প্রকাশ করেছে হার্পর কলিনস। সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দোস্তির ‘কোনো প্রয়োজন’ ইন্দিরার ছিল না। তবে তিনি মনে করতেন, রিচার্ড নিক্সন তার ‘শত্রুই’ ছিলেন। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক’ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে এক ‘রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে’ নিহত হওয়ার পর সিআইয়ের ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে সন্দেহ আরা পোক্ত হয় ইন্দিরার। তিনি মনে করতেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার জন্যই ‘ষড়যন্ত্রের নীল নকশা করেছিল’ সিআইএ। ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভারতে আসেন একাত্তরের ‘ভুল-ত্রুটি’ মেনে নিয়ে ‘সম্পর্ক মেরামতের’ জন্য। রিডেল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখেছেন, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনায় ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। কিন্তু একাত্তরের ঘটনা মনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই পাকিস্তানের সঙ্গ ছাড়তে পারেনি। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই চেষ্টা শুরু হয় প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে। তবে তার উত্তরসূরী আইজেনহাওয়ার থেকে ওবামা- সবাই শেষ পর্যন্ত আবিস্কার করেছেন, কাজটি মোটেও সহজ নয়। আর এর পেছন মূল কারণ হলো ভারত ও পাকিস্তানের বিপরীতমুখী আগ্রহ ও লক্ষ্য। জওহরলাল নেহেরুর ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তখনকার দুই পরাশক্তিশাসিত বিশ্বে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল। একইসঙ্গে স্বাধীন হলেও তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র আয়তন ও সামর্থ্যের পাকিস্তানের সেই আত্মবিশ্বাস ছিল না। এরই মধ্যে পাকিস্তানের তখনকার শাসকরা সেনাবাহিনীর জেনারেলদের মাধ্যমে উৎখাত হলেন এবং নতুন শাসকরা প্রতিবেশী ভারতের ওপর ভরসা রাখার বদলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বৃহত্তর কোনো শক্তির সহায়তা নিতে উদ্যোগী হলেন। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ‘পছন্দনীয়’ দেশ আর কোনটি হতে পারে? দূর কোনো দেশ থেকে কোনো পরাশক্তির এমন ‘দাদাগিরির’ সম্ভাবনা খুব স্বাভাবিকভাবেই ভাল চোখে দেখেনি ভারত। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল সেই সময়ই, ব্রুস রিডেলের ভাষায় যার ধরন ছিল ‘আন্তরিক, তবে ঘনিষ্ঠ নয়’। রিডেল লিখেছেন, নেহেরু ও ইন্দিরার ভারত ‘কূটনৈতিক পথে’ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্বাগত’ জানালেও ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে কখনো এগোয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানি জেনারেলরা অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ব্যক্তিগত অতিথির’ মতোও আপ্যায়িত হয়েছেন। অস্ত্র ও সহায়তার জন্য তাদের আবেদনগুলো সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। এই পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী যখন বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশ্বের সমর্থন আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন, প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওভাল অফিস যেন তার সামনে দেখা দিল ‘ইটের দেয়াল’ হয়ে। আমেরিকানরা যে তখন ইন্দিরা গান্ধীকে ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি, ইতিহাসে তা স্পষ্ট। এরপরই ভারতের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন ইন্দিরা। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে সিআইএ যে বিভিন্ন সময়ে ‘ভুয়া’ প্রতিবেদন তৈরি করতে ‘সিদ্ধহস্ত’ তা আবারো উঠে এসেছে রিডেলের এই বইয়ে। সেই সময়ে সিআইএর পরিচালকের দায়িত্বে থাকা রিচার্ড হেমস একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন, যাতে বলা হয়- ইন্দিরা গান্ধীর পরিকল্পনা কেবল ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নিয়ে নয়, যুদ্ধে পুরো পাকিস্তানকে ধ্বংসের ছক এঁকেছেন তিনি। সেই প্রতিবেদনের প্রশংসায় নিক্সন সে সময় বলেছিলেন, সিআইএর কাছ থেকে হাতে গোণা যে কটি ‘সময়োপযোগী’ গোয়েন্দা প্রতিবেদন তিনি পেয়েছেন, তার মধ্যে সেটি একটি। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে হেমস স্বীকার করতে বাধ্য হন যে ওই প্রতিবেদন ‘সঠিক ছিল না; কাজেই বিষয়টি ভুলে যাওয়াই সঙ্গত’।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলবে বিচারকাজ

ভার্চুয়াল কোর্ট স্থাপনে হাইকোর্টে রুলস সংশোধন কমিটি গঠন

ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি হাইকোর্ট রুলসে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে হাইকোর্ট রুলস সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জে বি এম হাসান, বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান। শনিবার (৯ মে) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট রুলস সংশোধন করতে প্রধান বিচারপতি ৫ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটি ইতিমধ্যে দুটি বৈঠক করেছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম হাইকোর্ট রুলসে অন্তর্ভুক্ত করতে এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।’
এখন আইন অনুসারে উক্ত কমিটি একটি রুলস তৈরি করবেন। পরে সংশোধিত রুলসটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম নিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হলেই হাইকোর্টে নতুন এই পদ্ধতিতে বিচর কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৬ মে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি করতে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলবে বিচারকাজ

আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় ভিডিও কনফারেন্সিং ও অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী ও সাক্ষীদের উপস্থিতির মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকার মামলা জট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সচিব বলেন, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তাই ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় আসামিকে জেলখানায় রেখে, আইনজীবীকে বাসায় রেখে ও সাক্ষীকে অন্য জায়গায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করে বিচারকার্য করা সম্ভব হবে। এটাই হলো এই অধ্যাদেশের মূল বক্তব্য। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, এখন সংসদ চালু না থাকায় আইন করা যাবে না বলে জরুরিভিত্তিতে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করে দেবে। পার্লামেন্ট বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে। সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনঃ 

" দেশের সবাইকে ঈদুল আজহার বিলম্বিত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাকে ঈদের আগের বিকেলে নিম্ন আদালত জামিন প্রদান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ তার মানবিকতার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি অভিভূত। আমার আইনজীবীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

আমার একমাত্র কন্যা প্রকৃতি’র সাথে ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের একজন পরীক্ষিত, প্রকৃত ও সুযোগ্য অভিভাবক, এই ভূমিকার বাইরেও তিনি যে একজন মমতাময়ী মা, তা আবারো আমি নিজে একজন মা হিসেবে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বুঝতে পারলাম। নিকট অতীতেও রোহিংগা ইস্যুতে তার মাতৃত্বসুলভ গুনাবলীর অনেক দ্রষ্টান্ত তিনি রেখেছেন।

পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট আর কাশিমপুর কারাগারে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এবং নার্সেরা – যারাই আমাকে অনেক প্রফেশন্যালিজম আর সহমর্মিতার সাথে প্রতিটি স্তরে হেফাজত করেছিলেন, তাদের প্রতিও আমার আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা।

অভিনয় শিল্পী সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী আর বাংলাদেশের সকল শিশুসহ আমার শুভাকাংক্ষীদের বলতে চাই – আপনারা যারা বিগত কয়েক সপ্তাহে আমার পরিবারের পাশে থেকেছেন, ক্রমাগত সাহস আর আশ্বাস দিয়েছেন, যার যার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য আমার অনেক ভালবাসা রইল। আপনাদের সবার নিঃস্বার্থ প্রার্থণাতেই আমার মেয়ে প্রকৃতি ঈদের সারাটা দিন তার মা’কে কাছে পেয়েছে।

পরিশেষে আমি আবারো একান্ত অনুরোধ করে বলতে চাই, যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরায়ত মাতৃত্বসুলভ মমতায় আমার আবেগতাড়িত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। "

- কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৮

রাজনীতি মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হওয়ায় অপরাধ বাড়ছে

রাজনীতি মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হওয়ায় অপরাধ বাড়ছে
ড. ইফতেখারুজ্জামান
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া...

কোনও প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো: ড. কামাল

‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো। আইনমন্ত্রী, তুমি যার চাকরি করছো, তাকে বোঝাও, এভাবে কথা বলা যায় না। তাকে বোঝানোর ক্ষমতা না থাকলে আমরা সাহায্য করবো। বই খুলে চোখে আঙুল দিয়ে তোমাকে দেখাবো।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী-বন্ধু আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে, তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?’ ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে আমি নিন্দা জানাই। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এখান (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমি অবাক হয়েছি, তাকে সন্ধ্যায় নেওয়া (গ্রেফতার) হয়েছে, পরে তাকে অন্তরীণ করা হয়েছে। ঢাকায় এসে দেখি তার এখনও মুক্তি হয়নি। এটা কী শুরু করেছে? একটা সভ্য দেশকে সুন্দরবন বানাতে চাচ্ছে নাকি? না, সুন্দরবনকেও অপমান করা হয়। এটা জঙ্গল বানানো হচ্ছে। সরকার যা করছে, তা তো জানোয়াররাও করে না। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে এদের।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সংবিধানে আছে, দেশ শাসন করার সময় যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করাতে হয়। আমি বলি, বোর্ড গঠন করে সাইকিয়াট্রিক দিয়ে এদের পরীক্ষা করা হোক।’ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রাতে গ্রেফতারের কঠোর সমালোচনা করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মানহানির মামলায় রাতে গ্রেফতার করতে হবে, এমন কোনও নিয়ম আছে? জামিনযোগ্য মামলা। আইনমন্ত্রী অন্য কিছু না জানলেও তুমি তোমার বাবার সঙ্গে ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস তো করেছো? জামিনযোগ্য অপরাধ কী, তা তুমি জানো। তুমি যার চাকরি করো, তাকে বোঝাও যে জামিনযোগ্য অপরাধ এটা। আইনমন্ত্রী চোখ খোলো। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করো। অন্ধকারে থাকা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! মইনুল হোসেন আইনজীবী। এই সরকার খুব ভালোভাবে তাকে চেনে। গতকাল রাতে সিলেটে শুনে আমি অবাক। তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। এখানে এসে দেখি তিনি এখনও জেলে। তিনি কেন জেলে? কেন, কেন, কেন? এর উত্তর চাই।’ গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘এ সরকারের নাকি তথাকথিত একজন আইনমন্ত্রী আছেন। তোমার কাছে আমি উত্তর চাই। তুমি আমাদের একজন জুনিয়র ল’ইয়ার। তোমার বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক বাচ্চু ভাই, তিনি আইনজীবী ছিলেন। তুমি কী হয়ে গেছো? তুমি আইন সব ভুলে গেছো? আসো, তোমার সঙ্গে আমরা আইনের বই দেখবো। কোন গ্রাউন্ডে মইনুল হোসেনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে? কৈফিয়ত চাই। গণতন্ত্র যখন দাবি করে, তখন জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। দায়িত্ব আছে তোমার। বলতে হবে তোমাকে।’ তিনি বলেন, ‘মইনুলকে গ্রেফতারের ঘটনা চরম স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছে সরকার। এটা গণতন্ত্র নয়। তুমি বোঝাও, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। মইনুলকে অপমান করে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? কী অপরাধ করেছেন তিনি? এটা মানহানির মামলা। মানহানির মামলায় তো তিনি জামিন নিয়েছেন। আর কত মামলা করবে? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তুমি মনে হয় সব ভুলে বসেছো। তুমি সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার শপথ নিয়েছো। তুমি যার চাকরি করছো, তিনিও শপথ নিয়েছেন। তোমাদের শপথের প্রত্যেকটা শব্দের ব্যাখ্যা আমাকে বোঝাও। আইনমন্ত্রী আমাকে তুমি বোঝাও। আমি তোমার কাছে সময় চাই। আমাকে বোঝাও, দেশে হচ্ছেটা কী? পার্লামেন্ট নাকি আছে। তথাকথিত একটা পার্লামেন্ট নাকি আছে। আরও দুইদিন পার্লামেন্ট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তোমরা কৈফিয়ত দাও। পার্লামেন্টের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সেখানে বলো, যেন মানুষ জানতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা সংবিধানের কোথায় আছে? আমি সিলেটে যা দেখেছি, অবাক কাণ্ড। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে আটটা/দশটা করে ছেলে ধরে নিয়ে গেছে। কেন নিয়ে গেছে? কী শুরু হয়েছে, এটা বাংলাদেশ?’ জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এস এম কামালউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তাফা খান প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গোলাম রহমান ভুইয়া, গোলাম মোস্তাফা, গাজী কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, কাজী জয়নাল, মির্জা আল মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সগীর হোসেন লিয়ন, শরীফ ইউ আহমেদ, শেখ তাহসীন আলী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

আটক করে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো!

আটক করে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো!

[caption id="attachment_22323" align="alignleft" width="540"] গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সন্দেহভাজনদের আদালতে আনা হলে স্বজনেরা ভিড় জমান। জজকোর্ট এলাকা, ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর। ছবি: সাজিদ হোসেন[/caption] আশ্রাব হোসেন রাজু পেশায় রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী। তিনি থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তাঁর ছেলে পড়ে ঢাকা কলেজে। গত মঙ্গলবার ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য ঢাকায় আসেন ব্যবসায়ী আশ্রাব। ছেলের সঙ্গে দেখা শেষে বুধবার কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে যাওয়ার পথে আরামবাগ নটর ডেম কলেজের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মতিঝিল থানা-পুলিশ। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আজ আশ্রাবসহ ৭২ জনকে হাজির করা হয়। এর মধ্যে ৪৯ জনকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বাকিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে পুলিশ দাবি করেছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মী। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার আসামিরা হামলা করেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনেরা দাবি করেছেন, রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ও মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আসামি আদালতের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক কর্মী নন। কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। পুলিশ রাস্তা থেকে তাঁদের ধরে এনে আসামি করেছে। এঁদের কয়েকজন আবার অসুস্থ। নাসির মাহমুদ নামের একজনকে শাহবাগ থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে পাঠায়। পুলিশ বলছে, নাসির মাহমুদ বিএনপির একজন কর্মী। নাসির মাহমুদের ভাই কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই একজন দরজি। মিরপুর থেকে পুরান ঢাকায় যাওয়ার পথে সেগুনবাগিচা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার আজাদ উদ্দিন, সজীব হোসেন, আবদুর রহমান ও রিপনের আইনজীবীরা আদালতে লিখিতভাবে জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী তাঁরা নন। তারপরও পুলিশ শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। তেজকুনি পাড়ায় থাকেন রিপন হোসেন। সেখানে তাঁর সেলুনের দোকান আছে। তাঁর বন্ধু লিটন মিঝি। তিনিও থাকেন তেজকুনি পাড়ায়। আর ১৯ বছর বয়সী লাল চান থাকেন নাখাল পাড়ায়। এই তিনজনের আইনজীবী জুয়েল আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই তিনজনকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। বুধবার তিনজনই পল্টন এলাকায় যান ঘুরতে। পুলিশ রাস্তা থেকে ধরে আদালত চালান দিয়ে বলছে, তিনজনই বিএনপির কর্মী। অথচ কোনো ঘটনার সঙ্গে এঁরা জড়িত নন। গ্রেপ্তার অন্তত ১০ জনের পরিবারের সদস্যরা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাঁদের পুলিশ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে দেখা যায়, স্বজনদের ভিড়। অপেক্ষমাণ স্বজনদের বেশির ভাগই আগের দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রমনা ও শাহবাগ থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, রমনা থানা-পুলিশ ২৬ জনকে এবং শাহবাগ থানা-পুলিশ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। রাজনৈতিক কর্মী না হয়েও কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে রমনা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই রাজনৈতিক কর্মী। তদন্ত চলছে, যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগ পাওয়া না গেলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়ার আবেদন করা হবে। সখিনা বেগমের ছেলের নাম রিপন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে নিউমার্কেটের পাশে ফুটপাতের এক দোকানে চাকরি করেন। দোকানের জিনিসপত্র কেনার জন্য বের হয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। কামাল সরকার দাবি করেন, তাঁর ভাই মাহবুব আলম এলাকায় পাইপের ব্যবসা করেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। অথচ দৈনিক বাংলা থেকে পুলিশ তাঁর ভাইকে ধরে নিয়ে রাজনৈতিক মামলা দিয়েছে। ঢাকার আদালত, পুলিশ ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১২ দিনে ঢাকা মহানগরের ৩২টি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে ৮৬টি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করেছে ১৬৯ জনকে। এর মধ্যে গত সোমবারই গ্রেপ্তার করা হয় ৭১ জনকে। বেশির ভাগ মামলা করা হয়েছে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কারণে দণ্ডবিধিতে, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে, যা অজামিনযোগ্য। এসব মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আসামি করা হচ্ছে ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের নাম উল্লেখ করে।

তেলবাজ, চাটুকারদের কবলে সাংবাদিকতা

তেলবাজ, চাটুকারদের কবলে সাংবাদিকতা:

গোধূলী খান

নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে তার সভাসদরা বলতো, ‘কমরেড নেপোলিয়ন ইজ অলওয়েজ রাইট’। কিন্তু নেপোলিয়ন বলেছিলেন, আমি নিজে বলছি, আই অ্যাম নট অলওয়েজ রাইট। আমারও ভুল হতে পারে। ক্রটি হতে পারে। আমারও সমালোচনা থাকতে পারে। আমি মনে করি, সমালোচকরা আমার বড় বন্ধু। আর যারা আমার বন্দনা করে, যারা চাটুকারি-মোসাহেবি করে, তারা হচ্ছে বড় শত্রু। চাটুকার মোসাহেবদের চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ নেই।

[caption id="attachment_22212" align="alignnone" width="300"] গোধূলী খান[/caption] ঊনিশ শতকের দুর্দান্ত লেখক ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। বাংলা সাহিত্যে সে সময় আরো অনেক লেখক ছিলেন, কিন্তু শাস্ত্রী যুগে যুগে বেঁচে থাকবেন তাঁর রচিত ‘তৈল’র কারণে। “তৈল” নামের লেখায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী দৈনন্দিন জীবনে তেলের গুরুত্ব বা ভূমিকা তুলে ধরেছেন সাবলীলভাবে। জীবন বা জগতের ভারসাম্য রক্ষায় তৈলের গুরুত্ব বর্ণনার সাথে সাথে মানুষের তেল মর্দনের বিশদ বর্ণনাও দিয়েছেন। শাস্ত্রীর মতে, মানুষ সমাজে পারস্পরিক তৈল মর্দন কর্ম করে থাকে অতি উৎসাহে নিজ প্রয়োজনে ও স্বার্থে। সমাজের দর্পণও বলা হয় সাংবাদিকদের, সমাজের যেকোনো অন্যায় অত্যাচার বা শোষণের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের লেখা প্রতিবেদন মানুষকে কাঁদাতে পারে, এমনকি সামান্য পশুপাখির প্রতি সমবেদনা প্রকাশেও বাধ্য করে। সংবাদকর্মীদের রিপোর্টে অনেক বড় বড় রথি-মহারথিদের চাল উল্টে যায়, আবার অনেক ক্ষমতাবান শাসকের শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিতে ভূমিকা রাখে। সাধারণ জনগণ তাদের যাপিত জীবনে সংবাদ মাধ্যমকে অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখে এসেছে এবং এখনও দেখতে চাই। আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সে সময়ের সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের অবদান ছিল বলিষ্ঠ। তৎকালীন সময়ে সংবাদপত্রগুলি ছাত্র সমাজের মাঝে স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও সাংবাদিকেরা সঠিকভাবে জাতীর বিবেকের ভূমিকা পালন করেছিলো। বাংলাদেশ বিরোধীদের বা গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মিডিয়ার ভূমিকা থাকে সর্বাগ্রে।কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণ বিষাদগ্রস্থ হয়ে যাই, যখন দেখি প্রধানমন্ত্রীর এক একটা সংবাদ সম্মেলন চাটুকারিতায় ও তৈল প্রয়োগে ভেসে যায়। কিছু সিনিয়র-জুনিয়র সাংবাদিকদের চাটুকারিতায় সময়ক্ষেপণ হয়। সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের বাইরে অতিরিক্ত বন্দনা, সরকারি সিদ্ধান্তের গুণকীর্তন, গলা ডুবিয়ে সমর্থন জাতীয় টেলিভিশনে লাইভে প্রচারিত হয়, চাটুকার সাংবাদিকরা লজ্জা না পেলেও পেশাদার সংবাদিকরা লজ্জা পাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী কি এই তেলের খুশি হচ্ছেন! না, তৈলপ্রদানের সময়ে টেলিভিশনের পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখে বোঝা যায়, উনি কৌতুকবোধ করছেন বা কখনও বিব্রত হচ্ছেন। সারা দেশের মানুষ তাদের চাটুকারিতায় হাসছে। এই চাটুকার সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলনে চাটুকারিতায় পেশাদার সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সময়টাও নিয়ে নেয়। প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যস্ত একজন মানুষের কাছ থেকে দেশের মানুষ অনেক কিছু জানতে ও শুনতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জাতীয় সব ইস্যুতে মানুষের তথ্য ও সত্য জানার অধিকারের জায়গা। সাংবাদিকরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জেনে তা জনগণকে জানায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানার সময়টুকু তেলের বন্যায় ভেসে যায়। প্রধানমন্ত্রী তো আর অনিয়ন্ত্রিতকালের জন্য সংবাদ সম্মেলন করবেন না বা বসে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা একদল সাংবাদিকের চাটুকারিতা শুনে আবার প্রশ্ন-উত্তর পর্ব চালাবেন। পেশাকে ছোট করার পাশাপাশি এই সাংবাদিকদের জন্য আমরাও বঞ্চিত হচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত থেকে। পেশার বাইরে ব্যক্তিজীবনে প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে যে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থনের। এটা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। অনেক পেশাদার সাংবাদিকরা মনে করছেন, শাসক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তির করুণা, পদ-পদবী, সরকারি প্লট, রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরসঙ্গী হওয়া, টাকা সম্পদ প্রভৃতির লোভের। কেউ কেউ আবার টিভি,রেডিও ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছেন! এসব কারনে চক্ষু-লজ্জার মাথা খেয়ে ডিউটিকালীন সময়ে চাটুকারিতা করছেন তারা, সারাদেশের মানুষ তাদের এই নির্লজ্জ আচরণের সাক্ষী হচ্ছেন জেনেও তেলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন মূলত সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জাতীয় সকল ইস্যুতে মানুষের তথ্য ও সত্য জানার অধিকারের জায়গা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখানো সম্পূর্ণ আনইথিক্যাল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগা জাতি আমাদের এই দৃশ্য বারে বারে দেখতে হবে। তেলবাজদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওয়াকিবহাল, তিনি এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি সবাইকে চিনি। কে, কোন কথা, কেন বলেন, মুখ হা করলেই টের পাই। তিনি জানেন আজ ক্ষমতা আছে তো এই চাটুকাররা আছে, ক্ষমতা না থাকলে এই সুসময়ের মাছিদের দেখাও পাওয়া যাবে না। ১৮/১৯ বছরের সাংবাদিকতা পেশায় থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই জনের সংবাদ সম্মেলন কভার করার সুযোগ হয়েছে। খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতেন, পরে দেখাতাম দুই একজন প্রশ্ন করতো। প্রশ্ন না বলে তেল দিত বলা ভালো। বাকিদের প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের প্রধান থাকার সময়েও তাঁর সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি। এই তৈল মর্দন বিষয়টা ছিল না, ছিলো না এতো সাংবাদিকের ভীড়, বিশেষ করে সম্পাদকরা আসতেন না, বীটের সাংবাদিকরা ছাড়া। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনকে একদল সাংবাদিক বন্দনা সম্মেলনে পরিণত করেছে। কে কত তেল মারতে পারেন, কে কত গুছিয়ে তেল মারতে পারেন তার প্রতিযোগিতা চলে। কেউ কেউ তো নতুন নতুন উপমা দিয়ে তেল মেরে চলেছেন। আমরা জানি যে, বাঙ্গালিরা নিজ ভূমিতে কখনো স্বাধীন ছিল না। খৃষ্টপূর্ব থেকে যদি শুরু করি, তাহলে দেখা যায়, বাঙ্গালিদের তিব্বতীয়-বর্মীরা, তারপর ক্রমানুসারে আর্য, গুপ্ত, শশাংক, পাল, সেন, সুলতান, মোঘল শাসন চলে। তারপর ভারতীয়, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা আমাদের শাসন ও শোষণ করে। পরাধীন ছিলাম হাজার হাজার বছর, বাঙ্গালীরা নিজ ভূমে শাসন করতে পারেনি। বরং পরাধীন থাকার সময়ে একটু ভাল থাকার আশায় বা শাসকশ্রেণির করুণা লাভের আশায় চাটুকার, মোসাহেব ও গোলাম হিসেবে নিজদের প্রতিষ্ঠা করেছি। যুগ যুগ ধরে আমাদের পূর্বপুরুষের সেই রক্ত আমাদের ধমনীতে বয়ে চলেছে। যার কারণে একবিংশ শতকের দ্বারপ্রান্তে এসেও পারসোনালিটি ও সেলফরেস্পেক্ট নামক বিষয় দুইটিতে আমাদের বিস্তর পার্থক্য রয়ে গেছে। আর তাই আমরা ক্ষমতাবানদের পদ বেশি লেহন করি।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.