দুদক দেশে নীরব বিদেশে সরব

দুদক দেশে নীরব বিদেশে সরব

এম. জাকির হোসেন খান

dis 4‘সবাই মিলে শপথ করি, দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি। রুখবো দুর্নীতি, গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ’, এরকম একটি ক্ষুদেবার্তা দুদক গত ২৩ নভেম্বর তারিখে সকল মোবাইল গ্রাহককে পাঠিয়েছে। প্রশ্ন হলো, দুদকের এ বার্তা কাদের উদ্দেশ্যে? এদেশের সাধারণ জনগন কি দুর্নীতির সাথে জড়িত বা তারা দুর্নীতিবাজদের বিচার চায় না? সাধারণ নাগরিকরা কি বিদেশে অর্থ পাঁচারের সাথে জড়িত? এ পর্যন্ত যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার অবৈধভাবে বিদেশে পাঁচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে বিদেশি সরকারগুলোর সহায়তা চেয়ে দুদক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং ও থাইল্যান্ড সহ মোট ১৪টি দেশের সরকারের কাছে Mutual Legal Assistance Request (MLAR)-এর ৩৪টি চিঠি পাঠিয়েছে তারা কি এ নীতিকথা সম্পর্কে অবহিত নয়? তারা কি সাধারণ নাগরিক, না ক্ষমতাবান ব্যক্তি যারা সবসময় আইনের ধরা- ছোয়ার বাইরেই থেকে যান? বিদেশে পাচারকৃত তহবিল ফিরিয়ে আনার নামে দুদকের এ উদ্যোগ যে ফাঁকা আওয়াজ বা এক ধরনের তেলেসমাতি তা অনায়াসেই বলা যায়। আর এ ধরনের প্রচারমুখী কার্যক্রম বা বিরোধী দলের সমালোচনার বিপরীতে পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যেতে পারে। দেশের ভেতরে বড় বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ থেকে মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের গণহারে অব্যাহতি দেয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে দুদককে ইতিমধ্যে‘দায়মুক্তি কমিশন’ হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে।

দুদকের হঠাৎ এ বিদেশমুখী যাত্রার আসল উদ্দেশ্য কতখানি সৎ সে সম্পর্কে সচেতন মহলের সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৪টি দেশ থেকে দুদককে সহযোগিতা করার আশ্বাস পাওয়া গেলেও প্রকৃতপক্ষে অর্থ ফেরত আনা কতখানি সম্ভব হবে তা প্রশ্নের সম্মুখীন। এটা যে এক ধরনের আই-ওয়াশ ইতিমধ্যে দুদক চেয়ারম্যান তা স্পষ্ট করেছেন, ‘তবে এই অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি মূলত নির্ভর করবে আদালতে অর্থ পাচার মামলায় দুদকের সাফল্যের ওপর’। এমনকি আদালতে দুদকের করা মামলার রায় পক্ষে গেলেও এসব দেশ সম্মত না হলে বিদেশে থাকা অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো অসম্ভব। আর এ পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ও উৎস সম্পর্কে দুদক কোনো তথ্য জনগণকে জানায়নি।

বৃক্ষের নাম যেমন ফলে পরিচয় তেমনি দুদকের বর্তমান ও বিগত সময়ের অবস্থান প্রমাণ করে দুদকের এ বিদেশযাত্রা ‘দুর্নীতিবাজদের রক্ষার একটি অপচেষ্টা’ হতে পারে। আসলে দেশের ভেতরে সংসদ সদস্য বদি বা এনামুল হক সহ অন্যান্য ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে চুপিসারে অব্যাহতি দিতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এমপি এনামুল হকের প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন কর্তৃক নিয়ম না মেনে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও ছাড় করার প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে জনতা ব্যাংককে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও এ পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। ব্যক্তি সংসদ সদস্য এনামুল হকের ২১৪ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেলেও দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেনা। উল্টো কোম্পানি ও ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদা করে নতুনভাবে অনুসন্ধানের কথা বলে অনুসন্ধানী কর্মকর্তার প্রতিবেদনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আয়কর ফাঁকির অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সংবাদ মাধ্যম আগেই খবর দিয়েছে, ‘এনামুল হক এমপিকে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিতে সংস্থাটির একজন ‘প্রভাবশালী’ কমিশনার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সুপারিশ অগ্রাহ্য করে কোনো প্রকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া যায়নি মর্মে তা নথিভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’ এ হলো দুদকের দুর্নীতি রুখবার প্রকৃত স্বরুপ।

এখানেই শেষ নয়, গত ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের প্রায় একশ’র বেশি এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামায় অস্বাভাবিক সম্পদ দেখালেও অনুসন্ধানে দুদক এখন কারো দুর্নীতি খুঁজে পাচ্ছেনা (?), একের পর এক দায়মুক্তি সনদ দিচ্ছে দুদক। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী তিনজন মন্ত্রী-এমপি দায়মুক্তি পেয়েছেন। ২০১৪ এর জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক বনমন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, সাবেক এমপি এইচবিএম ইকবাল, ফিলিপাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুননেসা,পেট্রোবাংলার জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) আইয়ুুব খান চৌধুরী, সিআইডি’র সাবেক পুলিশ সুপার এম রফিকুল ইসলাম, রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক এম আবু তাহের, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার এমদাদুল হক প্রমুখ। এর আগে ২০১৩ সালে দুদক অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী এটিএম গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল কাদের খান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব এম আবদুল মতিন ও চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ইফতেখার আহমেদকে।

তাছাড়া, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি প্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান শুরু হলেও এসব তদন্তের বাস্তব কোন ফলাফল জনগণ দেখতে পায়নি। প্লট বরাদ্দে অনিয়ম সহ শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে করা ৩টি মামলা থেকেই অব্যাহতির সুপারিশ করে দুদকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে আগেই রেহাই দেওয়া হয়েছে পুলিশের সাবেক আইজি এবং বর্তমান যুব ও ক্রীড়া সচিব নূর মোহাম্মদকে। দীর্ঘ এ ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়। হলমার্ক সহ হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ সত্ত্বেও আড়াই বছরেও শেষ হয়নি সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাত আরা হেনরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান। এমনকি সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও প্রদীপ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি নথিভুক্ত করে দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই দিয়েছে দুদক। এসব খবরা-খবরও সংবাদ মাধ্যমে সবই প্রকাশিত।

শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ জালিয়াতির ঘটনার অনুসন্ধানে জালিয়াতির সব ধরনের নথি পাওয়া গেলেও অভিযোগের অনুসন্ধান এখন হিমাগারে। সোনালী ব্যাংকের আগারগাঁও ও গুলশান শাখা থেকে গ্রিণ প্রিন্টার্স ও মেসার্স রোজবার্গ ইন্ডাস্ট্রিজের ২০৩ কোটি ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদক দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালালেও অদ্যাবধি অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা হয়নি। এমনকি রেলের নিয়োগ দুর্নীতিতে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি পর্দার অন্তরাল থেকে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রধান সহযোগী রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে দুদকের করা পাঁচটি মামলা থেকে অব্যাহতি পান। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ৩০৬ মডেল স্কুল প্রকল্প বাস্তÍবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো তৈরি হয়নি। পেট্রোবাংলায় নিয়োগসহ অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পেশ করার পরও দুদক অভিযোগটি পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়ে বাস্তবে অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বীরদর্পে দুদকের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সরকারি দলভুক্ত প্রায় ১৬০০ রাজনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ এর আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৯০৪টি দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে কোন মামলাই দায়ের হয়নি এবং ৩০৭টি মামলায় ৭১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার নামে তাদেরকে দায়মুক্তি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় দুদক, যার মধ্যে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ‘দেশপ্রেমিক’ সৈয়দ আবুল হোসেনসহ ১০ জনকে দায়মুক্তি দেয় দুদক। দুদক সচিব দাবি করেন, ‘গত ১০ মাসে দুদকে আট হাজার ৬৩৭টি অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনে। কমিশনের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় সাত হাজার ৬২১টি অভিযোগ বাদ পড়ে এবং যাচাই বাছাই শেষে ৮৩৫টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৩৮টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক এবং একই সঙ্গে ৪২৩টি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও ৪১৩টি চার্জশিটও অনুমোদন করে। গত ১০ মাসে ১৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও প্রায় ৬০ শতাংশ মামলায় (১১৫টি) অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যায়।’ এ থেকেই অনুমিত হতে পারে দায়েরকৃত অন্যান্য মামলাগুলোর ফলাফল কি হতে পারে। এ প্রেক্ষিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এর মতে, ‘এ কমিশনকে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার আগে বিশ্বাস করার মতো তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অনুসন্ধান শুরুর এক পর্যায়ে যদি বলা হয়, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, তাহলে তথ্য সংগ্রহে গাফিলতি ছিল। এতে জনগণের আস্থা কমে যায়।’ এভাবেই দুদকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনুপ্রেরণায় সরকারি-বেসরকারি খাতে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, আত্মসাৎ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ লাগামহীন দুর্নীতি বাধাহীনভাবে চলছে। দুর্নীতির বিস্তার এখন সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে রাষ্ট্রকে গ্রাস করেছে। আর তথাকথিত বিশিষ্ট নাগরিকদের একাংশ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এ দুর্নীতির সুবিধাভোগী হিসাবে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে সহায়তা করছে।

সর্বোপরি সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকলে দুর্নীতি রোধ করা দূরে থাক দুর্নীতিতে হাবুডুবু খাবে এটাই স্বাভাবিক। দুদকের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এর পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে বাড়তি মেয়াদে চাকরি করে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। আর দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বৈধতা দিতে ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী ঘুষ গ্রহণকে সমর্থন করে বলেন, ‘যেটা কোনো কাজের গতি আনে, আমি মনে করি সেটা অবৈধ নয়। উন্নত দেশগুলোতে এটাকে বৈধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে ভিন্ন নামে, স্পিড মানি নামে। অর্থাৎ যে টাকা কোনো কাজে গতি সঞ্চার করে’। প্রশ্ন হলো, কোন দেশে এটা বৈধ, মন্ত্রী নিজে সেটা বলেননি। আর এ মন্তব্যে মধ্যদিয়ে দুর্নীতিকেই উৎসাহ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এ রকম একটি বক্তব্যের পরেও দুদকের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য এ সরকারের সময়ই শেয়ার বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সময় চার হাজার কোটি টাকা লোপাট হলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন - ‘চার হাজার কোটি টাকা কোন টাকা নয়’ বলে।

সংবিধানের মৌলিক ধারা বিরোধী (২৬ক, আইন সবার জন্য সমান) দুদক বিল ২০১৩ পাশ করিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ গ্রহণ নিরাপদ করে দেয়ার উদ্যোগ এ সরকারের আমলেই হয়েছিল। এভাবেই সরকার এবং দুদক এখন দুর্নীতির পক্ষে একই সমান্তরালে অবস্থান করে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নামে জনগণের সাথে এক ধরনের প্রহসনে লিপ্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত দুদক আদৌ জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে, না দলদাস হিসাবে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে স্থান নিবে তা সময়েই প্রমাণ পাবে। ইতোমধ্যে এর আলামত দেখা যাচ্ছে।। প্রকাশক: আমাদের বুধবার, তারিখ:

এতোদিন পরেও কেন এসব কথা বলতে হবে?

এতোদিন পরেও কেন এসব কথা বলতে হবে?

আনু মুহাম্মদ

last 1গতবছর ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজার ভয়াবহ ধ্বস ও হত্যাকান্ডের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ছিলো তাজরীনের ক্ষত। পুড়ে মৃত অর্ধমৃত মানুষেরা অমানবিক জগতের চিহ্ন হিসেবে তখন তাড়া করছিলো সবাইকে। দায়ী মালিকসহ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ক্ষতিপূরণ সবার হাতে পৌঁছায়নি, জখম অনেকের আর্তচিৎকার তখনও শুনতে হয়। এই অবস্থার মধ্যেই রানা প্লাজা ধ্বসে আমাদের সবাইকে ধ্বসিয়ে দিলো। বিশ্বরেকর্ড করলো বাংলাদেশ! কারণ শিল্প-কারখানার কয়েকশো বছরের ইতিহাসে কোন কারখানা ধ্বসে এতো মানুষের জীবনহানি কোথাও ঘটেনি। এখন পর্যন্ত জানামতে এই জীবন্ত কবরস্থ মানুষদের সংখ্যা ১১৩৫। এটা তো শুধু সংখ্যা নয়, শুধু এই মানুষেরাও নয়। তারা এতোগুলো পরিবারের মানুষ। যে পরিবারগুলোর হাহাকার এখনও চলছেই। আরও আছে নিখোঁজ ও জখম মানুষ। কারখানাগুলোতে যে হাজার পাঁচেক শ্রমিক কাজ করতেন, তাদের মধ্যে বেঁচে থাকা সবাই কাজ হারিয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনও বেকার। বিজিএমইএ সবার কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, তা তারা যথারীতি এখনও বাস্তবায়ন করেনি। এবিষয়ে তাদের আর কোন কথাও এখন শোনা যায় না।

তাজরীনের পর তো নয়ই, রানা প্লাজার যে বিপর্যয় সারাবিশ্বকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে, তা কি আমাদের দেশের সরকার ও মালিকপক্ষের কোন বোধোদয় ঘটাতে পেরেছে? তা কি তাদের চিন্তা ও কাজের ধরনে কোন পরিবর্তন এনেছে? গত প্রায় দুইবছরের ঘটনাবলী তা বলে না।

সরকার ও বিজিএমই-এর বাইরে তাজরীন ও রানাপ্লাজার ঘটনা এবং আহত নিহত শ্রমিকদের নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। নিহত, নিখোঁজ,জীবিতদের তালিকা করতে, তাদের অবস্থা তদারক করতে অনেক ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও গবেষণা সংগঠন নিজ উদ্যোগে কাজ করেছেন। সরকারের বা বিজিএমইএর কোন সংগঠিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। ‘এক্টিভিস্ট এনথ্রপলজিস্ট’ নামে নৃজ্ঞিানীদের ছোট একটি দল, দুটো ছোট গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের সহায়তা নিয়ে, তাজরীন ও রানা প্লাজার জীবিত শ্রমিক ও স্বজনদের পাশে থেকে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। আহতদের পাশে থেকেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাজরীনের মালিককে গেফতার করতে সরকারকে বাধ্য করেছেন তারা। ঘটনার একবছর পর্যন্ত সরকার নিজে থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ‘২৪ এপ্রিল’ নামে একটি গ্রুপ রানাপ্লাজার সকল তথ্য জনগণের অবগতির জন্য প্রস্তুত করেছে। ‘গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি’ নিখোঁজ শ্রমিকদের অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে কিছুদিন আগে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল রানা প্লাজায় উদ্ধার কাজের পাশাপাশি নিহত ও আহতদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন, যা এখনও অনেক হিসাবনিকাশে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ছোট ছোট গোষ্ঠীর আন্তরিক ও পরিশ্রমী কাজ দেখে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অর্থবল বা জনবল জরুরি নয়। অর্থবল আর জনবল যাদের আছে সেই সরকার বা বিজিএমইএ এইকাজগুলো করেনি।

এখনও রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে হাড়গোড় খুলি পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই। ঘেরাও করা ধ্বংসস্তুপের সামনে এখনও নীরবে অনেক স্বজন দাঁড়িয়ে থাকেন। এটাই তাঁদের কাছে প্রিয়জনের শেষ ঠিকানা। অদৃশ্য হয়ে এখন সেই প্রিয়জন সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। নিখোঁজ শ্রমিকদের সনাক্তকরণ একবছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করেও অনেকের স্বজনের মীমাংসা হয়নি। ডিএনএ টেস্ট নিয়ে একটা প্রশ্নের উত্তর আমি এখনও পাইনি। সাগর রুনির হত্যার পর তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ টেস্ট করতে নমুনা পাঠানো হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রে। তখন যুক্তি দেয়া হয়েছিলো যে, বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট নির্ভরযোগ্য নয়। এখন হাজার হাজার শ্রমিকদের খোঁজে এখানেই টেস্ট করা হচ্ছে। তাহলে কোনটি সত্যি?

২০১৩ সালের মে মাসে প্রধানত ইউরোপীয় ব্রান্ড কোম্পানিগুলো, শ্রমিক সংগঠন ও সংস্থা মিলে একর্ড নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এর কিছুদিন পর উত্তর আমেরিকা কেন্দ্রিক এলায়েন্স নামে আরেকটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা তাদের পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণের কথা বলছে। বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত করছে, সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে। তাদের দেয়া শর্তপূরণ করতে গিয়ে সরকার ফ্যাক্টরী ইন্সপেক্টরদের নিয়োগের কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। মালিকেরা ভবনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এসব কাজ তো তাদের অনেক আগেই করবার কথা। প্রশ্ন হলো,আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া কেন সরকার বা মালিকদের ঘুম ভাঙে না? কেন রানা প্লাজার ঘটনার দুমাস পরে ঘোষিত বাজেটে কারখানা পরিদর্শকদের নিয়োগ এবং উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেট দেয়া হয়নি? ক্ষতিপূরণের কোন নীতিমালা কেন এখনও ঘোষিত হয়নি? কেন রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে? কেন আহত শ্রমিকসহ বেকার শ্রমিকদের কাজ দেবার প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি?

শ্রমিকদের নামে দেশ বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে সরকার ও বিজিএমইএর কাছে, তারও কোন স্বচ্ছ হিসাব নেই। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেশ ও বিদেশ থেকে যে অর্থ জমেছে, সংসদে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তার পরিমাণ প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে শুধু এই অর্থ ভাগ করে দিলেও মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া সম্ভব। এর সাথে ব্র্যান্ড, মালিক ও বিজিএমইএর অর্থ যোগ হলে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। অথচ এখনও ক্ষতিপূরণের নীতিমালা বা এসংক্রান্ত কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। এই প্রশ্ন তো তাই খুব সঙ্গত যে, সীমাহীন লোভ আর অবহেলার শিকার হয়ে যে শ্রমিকদের জীবন নাশ হলো অকালে, তাদের নামে তোলা টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে?

তদারকি ও অন্যান্য যেসব গাফিলতির জন্য এই ভবনধ্বস ঘটেছে তারও সুরাহা করা হয়নি। কারখানা যদি ভুল স্থান ও ভুল ভবনে স্থাপিত হয়, যদি সেখানে মুনাফার সীমাহীন লোভে ব্যক্তি মালিক শ্রমিক নিরাপত্তার ন্যুনতম ব্যবস্থা না রাখে তাহলে সেইবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার দায়িত্ব সরকারেরই। এই কাজ না করলে শিল্প মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয় আছে কেনো? দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার ব্রিগেডকে শক্তিশালী করবার বড় পরিকল্পনা খুবই স্বাভাবিক ছিলো, চলতি বাজেটে তারও প্রতিফলন নেই। সেখানেও অর্থের অভাবের যুক্তিই দেয়া হয়। অথচ গার্মেন্টস মালিকদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে কোন বিলম্ব কিংবা কার্পণ্য করেনি সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী কদিন আগে মালিকদের জন্য অনেকগুলো ‘ইনসেনটিভ প্যাকেজ’ঘোষণা করেছেন। শুধুমাত্র উৎসে কর বাবদ যে সুবিধা দেয়া হয়েছে, তাতেই জাতীয় রাজস্ব আয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কম হবে।

সকলের কাজ নিশ্চিত করবার প্রতিশ্রুতি বিজিএমইএ ভঙ্গ করবার ফলে যারা বেঁচে আছেন তাদের জীবন এখনও সুস্থির হতে পারেনি। জীবিত শ্রমিকদের মধ্যে একশন এইড পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, শ্রমিকদের শতকরা প্রায় ৭৪ জন এখনও কাজ পাননি। শতকরা ৭৬ জনকে এখনও ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। শতকরা ৬৬ জনের এখনও দিন চলার অবস্থা নেই। (ডেইলি স্টার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪) এতো শোরগোল ও অর্থের ছড়াছড়ির মধ্যে রানাপ্লাজা ধ্বসে আহত শ্রমিকের ক্ষুধা দারিদ্রের শিকার হয়ে মারা যাবার ঘটনাও ঘটেছে। এরই মধ্যে গত নভেম্বরে মজুরির দাবি আর ছাঁটাই নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় শিল্প পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন দুজন শ্রমিক। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, জখম হয়েছেন আরও অনেকে। রাতের গভীরে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা কি কখনো শুনেছি নির্যাতন, অবৈধ ছাঁটাই আর মজুরি বকেয়া রাখায় কোন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এই তথাকথিত শিল্প পুলিশ? আর এখানেও মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। নাম দেয়া হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আর তাদের ব্যবহার করা হয়েছে শ্রমিক দমনে।

টিআইবির রিপোর্টে অনেকগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তালিকা দেখলে দেখা যাবে বাস্তবায়িত বিষয়গুলোর প্রায় সবগুলো নীতি ও পরিকল্পনা (প্রথম আলো, ২২ এপ্রিল, ২০১৪)। শ্রম আইন সংশোধনকে শ্রম অধিকারের অগ্রগতি বলা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থের দিক থেকে দেখলে বরং এর উল্টোটাই সত্য। ক্ষতিপূরণ, কর্মসংস্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোন অগ্রগতি হয়নি।

আমরা তো একই বিশ্বের মানুষ! এই বছরের প্রথম দিকে লাটভিয়ায় শপিং মল ধ্বসে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই দেশের প্রেসিডেন্ট এই ঘটনাকে বলেছেন হত্যাকান্ড আর প্রধানমন্ত্রী এর দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন! আর আমাদের দেশে রানা প্লাজায় ভবন ধ্বসে ১১৩৫ জন মানুষ নিহত হলেন, এখনও তাঁরা ‘ক্ষতিপূরণ’ কী পাবেন তারই নিষ্পত্তি হলো না। দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কোন লক্ষণ নেই। তাজরীন হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী মালিক দেলোয়ার ও তার সঙ্গীরাও এখনো মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদেশে এতো তুচ্ছ মানুষের জীবন! এতো উচ্চ লাটসাহেবদের খাই!!

 

মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রসঙ্গে

মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রসঙ্গে

১০ অক্টোবর ২০১৪ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে - লিভিং উইথ সিজোফ্রেনিয়া। সমাজে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে অন্তভুক্তির দাবীকে জনপ্রিয় করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে নানা আয়োজনের মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মোতাবেক বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার। আর মধ্য ও নিম্ম আায়ের দেশসমুহে এ হার প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি। সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজে সবচাইতে অবহেলার শিকার হচ্ছে। সকল ধরনের মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে এবং তাদের পরিবারকে অভিশপ্ত বলে চিহ্নিত করা হয়। ফলে মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তি ও তার পরিবার সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে এই পরিবারগুলির আর্থিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হয়ে যায়। আবার প্রচলিত ‘লুনাসি এ্যাক্ট’ অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিকে সম্পদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তাহীন করে তার জীবনকে আরো এক ধাপ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। অমানবিক এই আইন অবিলম্বে বাতিল করা জরুরী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার সুরক্ষা আইন - ২০১৩ এর আওতায় মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গকে প্রতিবন্ধী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনের ধারা-৬ এ উল্লেখ করা হয়েছে “মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা-সিজোেিফ্রনিয়া বা অনুরুপ ধরনের মনস্তাত্বিক সমস্যা, যেমন ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, পোষ্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ফোবিয়াজনিত কোন মানসিক সমস্যা, যাহার কারনে কোন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্থ হয়, তিনি মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।” কিন্তু প্রতিবন্ধিতা জরিপ কার্যক্রমের মাঠ কর্মীদের এই আইনের বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দিক নির্দেশনা প্রদানের অভাবে তারা তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। পরিবার-সমাজ এর অসচেতনতা, তাদেরকে যথাসময়ে বাড়ীতে না পাওয়া, ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধনের কপি ঠিকমত না পাওয়া সর্বোপরি বর্তমান আইন অনুযায়ী তারা যে প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে এ বিষয়ে সমাজে যথেষ্ট সচেতনতা না থাকায় তারা প্রতিবন্ধিতা জরিপ কার্যক্রমের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। নাগরিক অধিকারবিহীন রাস্তা-ঘাটে ঘুড়ে বেড়ায় মনোসামাজিক সামাজিক সমস্যাগ্রস্থ এমন মানুষদেরকেও আইন অনুযায়ী মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা। শারিরীক স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে রাাষ্ট্রের নীতি নির্ধারনী মহলে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। কিছু পেশাজীবি মানুষ তাদের দায়বদ্ধতা থেকে সুশীল সমাজ ও সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের সাথে নিয়ে সামাজিক প্রতিকুলতাকে ডিঙিয়ে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের জীবনকালের প্রতিটি পর্যায়ে অর্থাৎ শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বৃদ্ধ বয়সে ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু আমাদের সমাজে এ বিষয়টি সম্পুর্নভাবে উপেক্ষিত থাকায় জীবনের কোন সময়কালেই এ জাতীয় সেবা না পেয়ে মানসিকভাবে সুষ্ঠু বিকাশলাভ করতে পারছিনা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ‘ডিয়াকোনিয়া’ এর আর্থিক সহায়তায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পেরেশনের আওতায় ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডে ৬ টি স্কুলে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ২ টি কৈশোর মঞ্চ গঠন করে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা প্রদান করছে। সেবা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিবর্গকে ০১৭৯১-৭৯১১৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পুজিবাদের বিকাশের প্রক্রিয়ায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠার প্রেক্ষাপটে নগরায়ন এর ফলে মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনে, মূল্যবোধে পরিবর্তন এসেছে। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, হতাশা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রোগাক্রান্ত হওয়া, ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক নানা সমস্যার কারনে মানুষ মানসিক চাপে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকা, ক্লান্তি-অবসাদগ্রস্থতা, অস্বস্থিভাব, নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যাথা, অতেুক আতঙ্কিত হওয়া, দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ ও বদমেজাজী হয়ে পড়া, কর্মদক্ষতা কমে যাওয়া, সুষ্ঠু ও দক্ষতার সাথে দৈনন্দিন কাজ-কর্ম সম্পন্ন করতে না পারা ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থেকে বিষন্নতাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে আত্মহত্যা করে অনেক মানুষ মারা যায়। আগে থেকেই সচেতনভাবে বিষয়টি শনাক্ত করে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনতে পারলে তাদের এই অপমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সিলর এর পরামর্শ গ্রহন করে আমরা জীবনের নানা জটিল পরিস্থিতিকে দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারব। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা কথা বলতে সংকোচ বোধ করি। মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কথা বললে বা আলোচনা করলে তাকে আমরা পাগল আখ্যা দিয়ে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইট্ থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাক্শন্ (উৎস/টঞঝঅ) এর উদ্যোগে ২০১২ সালে দৃশ্যমান চরম মাত্রায় মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ‘মনলোক’ স্ব-সহায়ক সংগঠন গড়ে তুলে তাদের সমস্যাবলী চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় তাদেরকে মেডিকেল কলেজ সমুহের মানসিক বিভাগে নিয়ে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ১. চিকিৎসার আওতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই একজন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ২. একজন সদস্য কিছুটা সুস্থ হয়ে পুনরায় চাকুরীতে যোগদান করতে সক্ষম হন। কিন্তু চাকুরীতে শিফটিং পদ্ধতি থাকায় রাত্রিকালীন ডিউটি করার কারনে সমস্যাটি আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অসচেতনতার কারনে তার সুস্থ জীবনের বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। ৩. একজন সদস্যকে সংগঠনের সহায়তায় ব্যয়বহুল সেবা দিয়ে মোটামোটি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে এসে পবিারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এই চিকিৎসা সেবাটি স্বল্প মূল্যের ও সহজলভ্য না হওয়ায় দূরের জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে তারা ব্যর্থ হয়। ফলে পুনরায় তার সমস্যাটি চরম মাত্রায় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ৪. একজন সদস্যের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় অনিয়মিত চিকিৎসায় কোন ফল হচ্ছেনা। ৫. একজন সদস্যের চিকিৎসা স্থানীয় জনগনের আর্থিক সহায়তায় চালানোর উদ্যোগ নেয়া হলে নিকটাত্মীয়দের কাউকে তার সেবা-শশ্রুষা প্রদানের জন্য না পাওয়ায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়ে যায়। ৬. একজন সদস্য চিকিৎসার আওতায় না আসার কারনে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন। ৭. একই পরিবারের দুইজন সদস্য তাবিজ-কবজ, ঝার-ফুঁক, প্রতারক কবিরাজের দ্বারা অপচিকিৎসা চালিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। ৮. পরিবার ও সমাজের সচেতনতার অভাবে মাঝারী মাত্রার সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তিরা শনাক্তকরণের (এসেসমেন্ট) মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ না থাকার কারনে শেষ পর্যন্ত মানবেতর পর্যায়ে জীবন যাপন করছেন। ‘মনলোক’ এর এই কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজের সচেতনতা ছাড়া কার্যক্রম সফলতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারী-বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে পরিকল্পনামাফিক কাজ করলে দেশে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। সরকারি হাসপাতালে সহজলভ্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের প্রস্তাবনা: ১. মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের জন্য এডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা। ২. অধিকার আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য উপজেলাভিত্তিক স্ব-সহায়ক সংগঠন গড়ে তোলা। ৩. সমাজে এ বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তোলার লক্ষ্যে পোষ্টার, লিফলেট, বুকলেট প্রকাশ করা। ৪. সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনাসভা, সেমিনার, উঠান বৈঠক এর আয়োজন করা। ৫. সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসমুহের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান, সুচিকিৎসার জন্য ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সিলর এর নিকট রেফার করা, দিবস উদযাপন করা। আমাদের সমাজে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের কোন রকমের অধিকার নেই। প্রকৃতপক্ষে দেশের কোন আইন তাদেরকে সুরক্ষা দেয় না। তাদের কোন ভোটাধিকার নেই। সম্পদ-সম্পত্তির অকিার থেকে তারা বঞ্চিত। মানবাধিকার বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে আমরা চলতি কথায় পাগল বলে আখ্যা দিয়ে থাকি। এই জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ণ করার উদ্যোগ নেয়া জরুরী। আসুন এ দাবীর পক্ষে সোচ্চার হই। তবেই এই দিবস পালন সার্থক হবে। প্রতিবেদক : আবুল হাসেম খান, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, উৎস, চট্টগ্রাম।

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা image ১৯ বছর বয়সী শ্বেতা কাত্তি। ছোটবেলায় বেড়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রেড-লাইট বা নিষিদ্ধ পল্লী কামাতিপুরায়। কিন্তু এই সামাজিক কলঙ্কের সঙ্গে যুদ্ধ করে সে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এর আগে অর্জন করেছে একটি মার্কিন কলেজের বৃত্তি। এবারে ২০১৪ সালের জাতিসংঘ ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। শিক্ষা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি দল এ বছর তরুণ প্রজন্মের ৬ জনকে পুরস্কৃত করার জন্য মনোনীত করেছে। ব্যক্তিগত পদক্ষেপ দ্বারা সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করে যারা নারী শিক্ষা ও মর্যাদায় পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাদেরকে বেছে নিয়েছে বিশেষ ওই প্রতিনিধি দল। মনোনীতদের একজন শ্বেতা। খবর জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত শ্বেতা তার ফেসবুক পাতায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। নিজ মায়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে কয়েক বছর যারা তাকে সমর্থন দিয়েছে, আস্থা রেখেছে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে। শ্বেতা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বার্ড কলেজে মনোবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছে। মুম্বইয়ের নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী ক্ষমতায়নে সক্রিয় এনজিও ‘ক্রান্তি’র পৃষ্ঠপোষকতায় উত্থান শ্বেতার। নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়েদের জন্য নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়াও মেয়েদের বৈরী পরিবেশের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে থাকে। ‘ক্রান্তি’র প্রতিষ্ঠাতা রবিন চৌরাসিয়া জানান, শ্বেতা যখন ক্রান্তিতে যোগ দেয় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। এত কম বয়সেও উদ্যমী, মেধাবী ও বুদ্ধিমতী শ্বেতা সহজেই বাইরের জগতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিজের জন্য ও আশপাশের মানুষের জন্যও পরিবর্তন আনার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল তার মধ্যে। শ্বেতা ২০১৭ সালে তার মনোবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে কামাতিপুরায় একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।

রাজনীতি মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হওয়ায় অপরাধ বাড়ছে

রাজনীতি মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হওয়ায় অপরাধ বাড়ছে
ড. ইফতেখারুজ্জামান
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

image ইউরোপ থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিচারকদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে একটি মামলা হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান সুজন নামে ঢাকার নিম্ন আদালতের একজন আইনজীবী বৃহস্পতিবার সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন বলে বাদীর আইনজীবী কামরান খান জানিয়েছেন।    বিচারক একে শামসুল আলম আগামী রোববার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন রেখেছেন। মামলায় শিব্বির আহমেদ নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে, যিনি সুইডেন প্রবাসী বলে আরজিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, “গত ৮ সেপ্টেম্বর বাদি ‘নরডিক বার্তা’ নামের পত্রিকাটিতে দেখতে পান, তার নেত্রী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি খবরে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগী’; ‘একগুঁয়ে’ এবং বাংলাদেশের বিচারকরা হাসিনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বিচারিক ব্যবস্থা হত্যায় নিয়োজিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।” এ ধরনের কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানান বাদীর আইনজীবী। লিনক: http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/detail/9889/shipusw/52461

ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া: যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা...

ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া

ফারজানা মনি | আমার ইউরোপ প্রবাসী নারী বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে বলছিল বাংলাদেশকে ভীষণ মিস করে। তাকে বললাম, চলে এসো দেশে। সে হ্যাঁ বা না কিছুই বলল না। কিন্তু যা বলল, তার মর্ম কথা হলো— বাংলাদেশের রাস্তায় নারী দেখলেই পুরুষরা যেভাবে তার দিকে ভিন গ্রহের প্রাণীর মতো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, এটা ভাবলেই দেশে আসতে ইচ্ছে করে না। সে ওখানেই একটি ক্যাফেতে কাজ করে। কখনো ঘরে ফিরতে দেরিও হয়, কিন্তু তাতে বাড়িফেরা নিয়ে সে আতঙ্কিত হয় না।
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু যা কমেছে তা হলো, নারীর নিরাপত্তা। আমরা পত্রিকা খুললে একটি ধর্ষণের খবর পাব না, তা বুঝি হবার নয়। কিন্তু ধর্ষণের রায় হয়েছে, শাস্তি পেয়েছে— এমনটি খুব একটা দেখা যায় না। অপরাধীর শাস্তি না পাবার কারণে অপরাধপ্রবণতা খুব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। অনেকেই আইনের আশ্রয় না নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবেলা করতে চান। কেউ কেউ তো মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাও করেন না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আদালত বিমুখতা আছে। কেন আইন আদালত থেকে দূরে থাকার প্রবণতা, সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। কিন্তু আদালত থেকে এই দূরে থাকার জন্যই অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ধর্ষণের মতন অপরাধ হলে লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিম বা তার পরিবার আইনের আশ্রয় নেয় না বা নিলেও কিছু ভুলের জন্য তারা ন্যায়বিচার পেতে ব্যর্থ হন। যেসব আইনে ধর্ষণজনিত বিধিবিধান রয়েছে সেগুলো হলো— ১. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ( সংশোধনী ২০০৩) ২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ৩. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ৪. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৬০ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী পাঁচটি অবস্থায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলা যায়, সেগুলো হলো— ১. নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ২. নারীর সম্মতি ছাড়া ৩. মৃত্যু বা জখমের ভয় দেখিয়ে ৪. নারীর সম্মতি নিয়েই, কিন্তু পুরুষটি জানে যে সে ওই নারীর স্বামী নয় এবং পুরুষটি তাও জানে, নারীটি তাকে এমন একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে যে পুরুষটির সঙ্গে তার আইনসঙ্গতভাবে বিয়ে হয়েছে বা বিবাহিত বলে সে বিশ্বাস করে। ৫. নারীর সম্মতিসহ কিংবা সম্মতি ছাড়া যদি সে নারীর বয়স ১৬ বছরের কম হয়। অর্থাত্ ১৬ বছরের চেয়ে কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। ন্যায়বিচারের সংগ্রাম: আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা যত ঘটে, তার বেশির ভাগই আইনের আওতায় আসে না। থানায় যাওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা, আদালতে এসে সাক্ষী দেয়া এবং ধর্ষিতার প্রতি সবার বিরূপ মনোভাব এগুলোও নারীর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার মানসিক শক্তি সবার থাকে না। প্রথমত. ধর্ষণের পর নিকটস্থ কাউকে এ বিষয়ে জানানো। এবং যত দ্রুত সম্ভব থানায় এজাহার দায়ের করা। দ্বিতীয়ত. ধর্ষণের প্রধান আলামত নারীর শরীর। তাই মেডিকেল পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কিছুতেই গোসল করা যাবে না। শুধু মেডিকেল পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে ধর্ষণের শাস্তি দেয়া যায়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় যে পোশাক পরা ছিল তা ধোয়া যাবে না। এটিও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহূত হতে পারে। তৃতীয়ত. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থানায় এজাহার দায়ের করতে হবে। এবং মেডিকেল পরীক্ষাও খুব দ্রুত করতে হবে। কারণ ঘটনা ঘটার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না করালে অনেক আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভিকটিম ও প্রধান সাক্ষী: ধর্ষণের মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চাক্ষুষ সাক্ষী থাকে মাত্র একজন এবং সে ধর্ষণের শিকার নারী নিজেই। শুধু এই সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করেই অভিযুক্তকে আদালত অপরাধী হিসেবে শাস্তি দিতে পারেন। ফলে নারীর সাক্ষ্য নিয়ে যদি আদালতের কাছে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। যদি আদালতে দেয়া সাক্ষ্যের সঙ্গে জবানবন্দি বা এজাহারের কোনো পরস্পর বিরোধিতা থাকে তাহলে তা নারীর বিপক্ষে যাবে। আদালতে ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করা অত্যন্ত বেদনার, কিন্তু অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য এই কঠিন কাজটি করতে হবে। ধর্ষণের শাস্তি: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে— ধারা ৯(১): কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও তাকে দেয়া যেতে পারে। ধারা ৯(২): ধর্ষণের ফলে বা ধর্ষণের পড়ে অন্য কোন কাজের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে ধর্ষণকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবেন। এছাড়াও তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ধারা ৯(৩): একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করলে এবং ধর্ষণের কারণে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে তাহলে ধর্ষকরা প্রত্যেকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও তাদেরকে অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ধারা ৯(৪): যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে (ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। (খ) যদি ধর্ষণের চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। ধারা ৯(৫): পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোন নারী ধর্ষিত হলে, যাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্ত ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরি দায়ী হবেন। এবং তাদের প্রত্যেকে অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য সরকার প্রত্যেক জেলা সদরে একটি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামক বিশেষ আদালত গঠন করেছে। ধর্ষণের বিচারও এই ট্রাইব্যুনালে হবে। আমরা সবসময় যা দেখি, মামলা শেষ হতে অনেক দিন সময় নেয়। কিন্তু এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’ [নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ২০(৩)] সাক্ষ্যপ্রমাণ: ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন অনুসারে ধর্ষণ-সংক্রান্ত মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ নেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এ আইনের কয়েকটি ধারা নারীর বিপক্ষে যায়। যেমন এখানে বলা হয়েছে, ‘ধর্ষিত নারীর চারিত্রিক সমস্যা আছে।’ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধারা ১৫৫(৪)। আইনটি ভারতেও একসময় প্রচলিত ছিল। কিন্তু তারা তা অনেক আগেই বাতিল করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা এখনো প্রচলিত। তাই অতিদ্রুত তা বাতিল করা দরকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) অত্যন্ত কঠোর একটি আইন। ফলে এ আইনকে ব্যবহার করে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের যেমন হচ্ছে, তেমনি এ আইনের অধীন শাস্তি পাওয়ার হারও খুবই কম। ধর্ষণ প্রকৃতপক্ষে নারীর শরীর ও মনের ওপর আক্রমণ। অথচ ধর্ষণের এই সহিংস চেহারাটা স্বীকার না করে বরং নারীর ওপরই দোষ বেশি আসে। যেমন— সে কেমন পোশাক পরেছিল, তার আচরণের কারণে পুরুষ আকৃষ্ট হয়ে ধর্ষণ করেছে ইত্যাদি। কিন্তু ধর্ষণের সঙ্গে নারীর পোশাক বা আচার আচরণের কোনো সম্পর্ক নেই। বোরকা পরিহিত নারীও ধর্ষণের শিকার হন। আইনের যথাযথ প্রয়োগই সমাজ থেকে ধর্ষণ নির্মূল করতে পারে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া  ফারজানা মনি লেখক: আইনজীবী সূত্রঃ বনিক বার্তা

যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক | ২০১৪-০৯-০৮ ইং

যৌন নির্যাতনের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট গাইডলাইন বা নির্দেশমালা মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস কর্মসূচির প্রকল্প সমন্বয়ক রেহানা সুলতানা এ কথা জানান। দাতা সংস্থা ইউএসএইডের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত মানবাধিকার রক্ষাবিষয়ক কর্মসূচির আওতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধে রেহানা সুলতানা বলেন, যৌন নির্যাতনের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট গাইডলাইন বা নির্দেশমালা দেন। আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নির্দেশনাই আইন হিসেবে কাজ করবে। তবে এই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। নজরদারিরও ব্যবস্থা নেই। রেহানা সুলতানা বলেন, বিএনডব্লিউএলএ ২০০৮ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশনা দেন।  সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য এ নীতিমালা প্রযোজ্য। নীতিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট অভিযোগ কমিটি গঠন করার কথা। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের কমিটি গঠন করা হয়নি। আবার কমিটি গঠন করা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা কার্যকর নয়। এ ছাড়া জনস্বার্থ মামলায় প্রতিপক্ষদের রায় প্রয়োগের কার্যকারিতা–সম্পর্কিত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়ার আদেশ থাকলেও তা প্রতিপক্ষরা মানছে না। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও হাইকোর্টের নির্দেশনা বা যৌন নির্যাতনের বিষয়ে সচেতন নন। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো খারাপ। তিনি বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সবার মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক রাশেদা আখতার বলেন, অনেকেরই ধারণা, এ ধরনের কমিটিতে মেয়েরা অভিযোগ করলে শুধু ছেলেদেরই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কমিটির কাছে মিথ্যা অভিযোগ করলে সেই ছাত্রীকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা বলেন, গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যৌন নির্যাতনের শিকার। তবে চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা তা প্রকাশ করেন না। বেশির ভাগ গণমাধ্যমই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করেনি। বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, আইন কমিশনের সদস্য শাহ আলমসহ সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

একমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দাপট

একমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দাপট

আবীর হাসান

dis 1সরকার যে ‘একমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার’ দিকে এগোচ্ছে তা এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিষয়টা তাত্ত্বিকভাবে অথরেটারিয়ান বা একনায়কতান্ত্রিক শাসন। বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, ক্ষমতা গণতান্ত্রিক বৈচিত্র হারিয়ে প্রথমে একদল কেন্দ্রিক হয়ে দাড়ায় পরবর্তীকালে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। এই ব্যাপারটা যখন ঘটে তখনই প্রয়োজন পড়ে একমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার। বিশ্বের গণতন্ত্রের ইতিহাস বলছে, বহুমতের, বাকস্বাধীন তার আর আইনি ব্যবস্থার স্বাধীনতাকে খর্ব করেই এই ব্যবস্থাটা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বাংলাদেশে এটা এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সরকার বহু মতকে আর পাত্তা দিচ্ছে না, গণমাধ্যমের মাধ্যমে যে সরকারের নীতিগত অবস্থানের সমালোচনা হয় তা সহ্য করছে না, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যাগুলো যথা - গুম, খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের মতো খবরগুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া জনগণের অন্যান্য দুর্ভোগ-প্রকৃতির কারণে যা ঘটে তাকেও পাত্তা না দেয়ার পন্থা বেছে নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, বন্যা, নদী ভাঙন, খাদ্যাভাবজনিত সমস্যাগুলো মোকাবেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, যতোটুকু যা হয়েছে তা স্থানীয়ভাবেই হয়েছে কিংবা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়, কিছুই হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তেজদীপ্ত আস্ফালন চালানোকেই সরকার পরিচালনার পরাকাষ্ঠা করে তোলা হয়েছে। সর্বশেষ কোন যুক্তির কথা না শুনে ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে ষোড়শ সংশোধনী বিল তোলা ও পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৭২ সালের মতো। পেছন দিকে ফেরার এই প্রবণতাটা কেবল এই একটি ব্যাপারেই যে হচ্ছে তা নয়, নিয়ন্ত্রণমূলক যে সব ব্যবস্থা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছিল সংবিধানের নানা সংশোধনীর মাধ্যমে, সে সব বিষয়গুলোকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে অথবা প্রক্রিয়াটা চলমান রাখা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, ওই সময়কালেও (১৯৭২-৭৫) এই ব্যবস্থাগুলো করা হয়েছিল ওই এক ব্যক্তির ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্যই এবং সেটাও ছিল ‘একমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই।’

প্রশ্ন উঠতে পারে, ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ? পরিণতির কথা বিবেচনা করলে হয়তো এমন বিষয়ের জন্য একটা ‘লক্ষণ রেখা’ টানতো তারা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেদিকে নজর নেই বা উপেক্ষা করেই আবার গণতন্ত্রের সীমারেখা লঙ্ঘন করেই এগোচ্ছে তারা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার যে এ্যটিচ্যুট নিয়ে প্রতিদিন বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - আছে দাপটের বহিঃপ্রকাশ এবং কর্মপদ্ধতিগত বিষয়ের ইঙ্গিত। অর্থাৎ এ পর্যন্ত তারা যা করেছেন তাই শেষ নয়, আরও অনেক কিছু করা তাদের বাকি আছে। অনেক শান দেয়ার প্রয়োজন হবে তাদের। এর একটা মডেল এখনই দেখা যাচ্ছে, ‘ছাত্রলীগের অপ্রতিরোধ্যতা’ নিয়ে ইতোমধ্যে আবার সরগরম রাজনৈতিক পরিমন্ডল। কিন্তু সরকার বা আওয়ামী লীগের মধ্যে তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আগে অর্থাৎ বছর খানেক আগেও দেখা যেতো দলের মধ্যে থেকে সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু এখন হচ্ছে না। ঠিক এমনটিই হতো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল সময়কালে। তখন কেবল ছাত্রলীগ নয়, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল যুবলীগ এবং শ্রমিক লীগও। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস পুর্নগঠন তাই এখন খুবই জরুরি।

কারণ সে সময় বড় কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল না, বঞ্চিত, নিগৃহিত জনসাধারণই হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ। ১৯৭৪ সালের কথা ধরুন, একদিকে যখন বন্যায় দেশ ভাসছে, খাদ্যাভাব চারিদিকে, তখনো গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছিল তৎকালীন সরকার। আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিক লীগ চালিয়ে যাচ্ছিল অসহনীয় তান্ডব। শহর, গ্রাম সর্বত্রই ছিল মানুষের নিরাপত্তাহীনতার হাহাকার। মানুষ নিতে পারতো না আইনের আশ্রয়।

আবার ঠিক সেই রকম বা তার চেয়ে ঘোরতর একটা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে। এখন দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, মানুষের কর্মপরিধি বিস্তৃত করা প্রয়োজন। কিন্তু এসবের প্রতি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নজর কই? নজর তারা এ জন্যই দিচ্ছেন না - তাদের প্রয়োজন একচ্ছত্র এবং সার্বভৌম ধরনের ক্ষমতা যেখানে জনসাধারণের কথা বলার বা অনাস্থা জ্ঞাপনের কোনো সুযোগ নেই। খাদ্যাভাব হলে বলতে পারবেন না, নিরাপত্তার অভাব হলেও বলতে পারবেন না। এখন অনেক গণমাধ্যম, কিন্তু গণমাধ্যমের হাত-মুখ বাধা হয়েছে। আইনের শাসনের চোখ অন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যুক্তিসঙ্গত উপলব্ধি এবং নৈতিকভাবে অবদমন করার সব আয়োজন শেষ করে আনা হচ্ছে।

জনসাধারণের প্রয়োজন আর সরকারের প্রয়োজনের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিস্তর ফারাক। ফলে জনসাধারণকে স্বস্তি দেয়ার তাগিদ বোধ করছে না সরকার। তার এখন প্রয়োজন দাপট দেখিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। সে জন্য দ্রুততম সময়ে সমস্ত বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করার কর্মযজ্ঞের মধ্যে তাকে ঢুকতে হয়েছে এবং অবশ্যই এটা মহাব্যস্ততার বিষয়।। প্রকাশক: আমাদের বুধবার

খেমাররুজ দুঃশাসনের দিনলিপি

খেমাররুজ দুঃশাসনের দিনলিপি অনলাইন ডেস্ক | ১২ আগস্ট, ২০১৪ [caption id="" align="aligncenter" width="2000" caption="Pic: AP/PRI.org"]image[/caption] ‘আমাকে এখানে কেন বিড়াল বা কুকুরের মতো মরতে হবে...কোনো কারণ ছাড়া, কোনো অর্থ ছাড়া?’ স্পাইরালে বাঁধানো নোট বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এই প্রশ্ন তুলেছেন কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ শাসনামলে নিপীড়নের শিকার হয়ে মারা যাওয়া স্কুল পরিদর্শক পোচ ইউনলি। তাঁর তোলা এই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে বেড়ায় কম্বোডিয়ায় মানুষ। মার্ক্সবাদী নেতা পল পটের নেতৃত্বে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়াকে শাসন করেছিল খেমাররুজ। এই সময়ে শহরের লাখ লাখ মানুষকে গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে কৃষিকাজ করতে বাধ্য করে শাসকগোষ্ঠী। গণহত্যা, নির্যাতন, অনাহার, রোগ-জ্বরা ও অতি শ্রমের কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। চার বছরে সংগঠনটির বর্বর শাসনের জীবন্ত চিত্র উঠেছে এসেছে ইউনলির দিনলিপিতে। এটি গত বছর প্রথম জনসম্মুখে আনা হয়। খেমাররুজ দুঃশাসনের শিকার কোনো প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগীর লেখা এই দিনলিপিটিকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বামীর নির্দেশনায় প্রায় দুই দশক ধরে দিনলিপিটি সযত্নে সংরক্ষণ করেন ইউনলির স্ত্রী সোম সেং আথ। পরে তিনি সেটি তাঁর এক মেয়ের কাছে তা দেন। দিনলিপিটি কম্বোডিয়ার দলিল সংরক্ষণ কেন্দ্রে দেওয়ার পরামর্শ দেন মেয়ের স্বামী। দিনলিপিটি সম্পর্কে দলিল সংরক্ষণ কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ইয়োক চ্যাঙ বলেন, ‘আমরা যাঁরা বেঁচে আছি, এটা সবার গল্প।’ খেমাররুজ শাসনামলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দিনলিপি লিখেছেন ইউনলি। ১০০ পৃষ্ঠার দিনলিপিটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ইউনলির পারিবারিক ইতিহাস লেখা। আর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে সন্তানদের উদ্দেশে লেখা চিঠি। ওই চিঠিতেই খেমাররুজ শাসনামলের জীবনচিত্র উঠে এসেছে। ইউনলি দম্পতি তাঁদের আট সন্তান নিয়ে একটি শহরে বাস করতেন। খেমাররুজরা এসে অন্যদের মতো এই দম্পতিকেও গ্রামাঞ্চলে যেতে বাধ্য করে। সন্তানদের থেকে বাবা-মাকে আলাদা করা হয়। লাগিয়ে দেওয়া হয় কঠোর শ্রমে। ইউনলি লিখেছেন, ‘আমরা দৈনিক ১০-১৩ ঘণ্টা কাজ করতাম।’ একপর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত কাজে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইউনলি। তিনি কাজ করতে পারতেন না। তবে গোপনে দিনলিপি লিখে যাচ্ছিলেন। আরও কয়েক মাস পরে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর দিন ফুরিয়ে আসছে। ইউনলি লিখেছেন, ‘এখন আমার শরীর দেখতে মরদেহের মতো। পাতলা শরীরে কেবল হাড্ডি ও চামড়া আছে। আমার কোনো উদ্যম নেই। আমার হাত ও পা কাঁপে। শক্তি নেই, সামর্থ্য নেই। আমি বেশি দূর হাঁটতে পারি বা কোনো ভারি কাজ করতে পারি না। সবাই পশুর মতো, যন্ত্রের মতো কাজ করে। কোনো মূল্য ছাড়া, ভবিষ্যতে কোনো আশা ছাড়া।’ সন্তানদের দেখতে না পেরে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন ইউনলি। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে মরতে দাও। ভাগ্য আমাকে ইচ্ছা যেখানে সেখানে নিয়ে যাক। আমার বাচ্চারা, আমি তোমাদের অনুভব করি। আমি তোমাদের ভালোবাসি।’ নোটবুকের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখেছেন ইউনলি। ১৯৭৬ সালের ১ আগস্ট পরিশিষ্টে দিনলিপিটি যত্নে রাখার জন্য পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে কাজের জন্য নিয়ে যায় শাসকেরা। কয়েক সপ্তাহ পরে কারাগারে মারা যান তিনি। খেমাররুজ শাসনামলের গণহত্যার দায়ে গত সপ্তাহে দুই শীর্ষ খেমাররুজ নেতা নুয়ান চিয়া (৮৮) ও খিউ সাম্ফানকে (৮৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জাতিসংঘ সমর্থিত সে দেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ষাটের দশকে কম্বোডিয়ায় খেমাররুজের উত্থান। শুরুতে এটা ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব কম্পুচিয়ার (কম্বোডিয়ার কমিউনিস্টদের ব্যবহার করা নাম) সশস্ত্র শাখা। ১৯৭০ সালে ডানপন্থীদের সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপ্রধান প্রিন্স নরোদম সিহানুক উত্খাত হওয়ার পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। খেমাররুজ তখন সিহানুকের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করে। পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলাকালে খেমাররুজ প্রথমে ধীরে ধীরে দেশের গ্রামাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করে। চূড়ান্তভাবে ১৯৭৫ সালে রাজধানী নমপেন তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। খেমাররুজ নেতা পল পট ক্ষমতায় আসার পর কম্বোডিয়াকে কৃষিনিভর ‘ইউটোপিয়া’ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার মিশন শুরু করেন। তিনি ঘোষণা দেন, দেশ ‘শূন্য বছর’ থেকে ফের যাত্রা শুরু করবে। তিনি দেশের জনগণকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে শহরগুলো খালি করার উদ্যোগ নেন। তিনি মুদ্রার ব্যবহার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং ধর্মপালন নিষিদ্ধ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ যৌথ খামার। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির লাখ লাখ লোককে বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত কেন্দ্রটির নাম ছিল এস-২১ কারাগার, যার অবস্থান ছিল নমপেনে। খেমাররুজের চূড়ান্তভাবে পতন হয় ১৯৭৯ সালে। ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্তে একের পর এক সংঘাতের পর ওই বছর ভিয়েতনামের সেনারা কম্বোডিয়া আক্রমণ করলে খেমাররুজের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা-ঢাকা দেন। ধীরে ধীরে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম আলো।

আজ ২০তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস: ‘আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্টায় মুক্তিকামী জনতার সেতুবন্ধন’

image ৯ আগস্টঃ ২০তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ, চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি আজ ৯ই আগষ্ট'১৪ ইং ২০তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এবারের আদিবাসী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্টায় মুক্তিকামী জনতার সেতুবন্ধন’। আদিবাসী, নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু এবং উপজাতি বলতে সাধারণত এমন সামাজিক গোষ্ঠীকে বোঝায়, যাদের নিজেদের মধ্যে কিছু চরিত্রগত মিল থাকে। তারা সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী থেকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপ-কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় আদিবাসী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেয়। আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব আদিবাসী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। জাতিসঙ্ঘ ১৯৯৩ সালকে আদিবাসী বর্ষ, ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস ও ১৯৯৫-২০০৪ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দশক হিসেবে ঘোষণা করে।জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি ১৯৯৩ সাল থেকে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।  বাংলাদেশে ৪৫টির মতো আদিবাসী আছে। এদের বেশির ভাগ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে থাকে। এই ৪৫টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৩০ লাখ লোক, যারা নিজ নিজ ৪০টি ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা বলে। তাদের সামাজিক রীতিনীতি, বিয়ে, জন্ম-মৃত্যু, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি সামাজিকতায় দেশের অন্যান্য অংশের জনগণ থেকে ভিন্ন ধরনের। আদিবাসীরা তাদের নৃ-তাত্ত্বিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ভূমি ও সম্পদের ব্যবস্থাপনাসহ সর্বক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট।উপজাতি বা আদিবাসীদের বৈশিষ্ট্য যে, এরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। জীবন, জীবিকা, আচার-আচরণ ও বিশ্বাসে এরা প্রকৃতিনির্ভর। বাংলাদেশের আদিবাসীেদের ২৪ ভাগ হিন্দু, ৪৪ ভাগ বৌদ্ধ, ১৩ ভাগ খ্রিষ্টান এবং ১৯ ভাগ অন্য ধর্মাবলম্বী। আদিবাসীদের চেহারার মধ্যে চীনাদের মতো মঙ্গোলিয়ান বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এ বছর সারাবিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটিরও অধিক আদিবাসী জনগণের মধ্যে বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ সারা দেশের ৩০ লাখ আদিবাসী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করবে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আদিবাসীদের জীবনধারা, তাদের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার, আদিবাসী জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতি তথা আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে সদস্যরাষ্ট্রজাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আদিবাসী জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করে তোলা এবং আদিবাসী মানুষের অধিকারের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করা।  জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারসংক্রান্ত সংস্থাগুলো, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক আইন আদিবাসী শনাক্ত করার জন্য নিম্নোক্ত চারটি বৈশিষ্ট্য ঠিক করেছে। যথাঃ ১। আদিবাসীরা সাধারণত তাদের পূর্বপুরুষদের বাসভূমি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বংশানুক্রমে বসবাস করে।  ২। তারা তাদের এলাকাগুলোতে সুস্পষ্টভাবে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ধারণ করে ও মেনে চলে।  ৩। তাদের একটি বিশেষ চরিত্র হলো, তারা নিজেদের ভৌগোলিক ও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কৃতিক রক্ষা করে চলে এবং বিদ্যমান বৃহত্তর সমাজগোষ্ঠীর সাথে মিশে যেতে চায় না। এবং ৪। তারা নিজেদের আদিবাসী অথবা উপজাতি হিসেবে পরিচয় দেয়। এছাড়াও আইএলও কনভেনশনের ১০৭ ধারার ১১ অনুচ্ছেদে আদিবাসীদের ভূমির ওপর ব্যক্তিগত ও যৌথ মালিকানা স্বীকার করা হয়েছে। জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্র ২০০৭ এর ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আদিবাসীদের জোর করে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ এ কনভেনশন ও ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও একের পর এক আদিবাসীদের ভূমি দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে আদিবাসী ভূমি দখল চলছে।আদিবাসীদের না জানিয়ে তাদের ভূমিতে উদ্যান, ইকোপার্ক, অবকাশকেন্দ্র নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন, বিমান বাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, আদিবাসী ভূমিকে খাস জমি ঘোষণা, হয়রানি, সরকারি ভূমি অফিসের দুর্নীতির মাধ্যমে আদিবাসীদের ভূমি দখল হচ্ছে।  আদিবাসী সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশে একটি জটিল আকার ধারণ করেছে। সরকার বলছে আদিবাসী নেই।বাংলাদেশ সরকার তার রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থার কারণে আদিবাসী নেই বলে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাংবিধানিকভাবে আদিবাসীদের উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। একথা অনস্বীকার্য আর্ন্তজাতিকভাবে আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক একটি সনদ আছে সেটা সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। আদিবাসী দিবস আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতি ও ঘোষিত দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো প্রতিবছর আর্ন্তজাতিক ঘোষিত দিবস হিসেবে বাংলাদেশেও আদিবাসী দিবস পালন করা হচ্ছে। তা হলে আর্ন্তজাতিক আইন যদি সরকার মানেন তা হলে জাতিসংঘের ঘোষিত আর্ন্তজাতিক আইনও সরকারকে মানতে হবে। কারণ আদিবাসী দিবস আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দিবস। সুতরাং সরকার যে আদিবাসী নেই বলছে তা ঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশ সরকারও জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত রাষ্ট্র। তাই আদিবাসী ও জাতীয়তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পাহাড়ীর জনগোষ্ঠির দাবীগুলো বিবেচনা করে পুরো বাংলাদেশে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান আবশ্যক। ©somewhere in net ltd.

হতাশার স্থিতিশীলতা

আবীর হাসান

dis 2নাথিং বা অবস্তুর মধ্যে থাকার একটা হতাশা আছে। আর সেই হতাশাই এখন বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে পেয়ে বসেছে। সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি থেকে একেবারে ক্ষমতাহীন পথের কাঙালিটি পর্যন্ত হতাশায় আক্রান্ত। যন্ত্রের মতো চলে ফিরে বেড়ানো মানুষগুলো মিলে এমন একটা অবসাদগ্রস্ত-বিপর্যস্ত ও অধিকারহীন আবহ তৈরি করেছে যে, উৎপাদনী শক্তি বলে কিছুরই আর অস্তিত্ব নেই। অবশিষ্ট বললে তাও কিছুর একটা অস্তিত্বের শেষাংশের ধারণা মাথায় আসে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় ও রকম কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যদি উল্টো দিক দিয়ে দেখি তাহলে নাথিং-এর বিপরীতে আছে এমন বাস্তবতা যা কিছু গুণাবলী প্রকাশ করে। অর্থাৎ মানুষ দেখে-শুনে বুঝে নেয় যা সে প্রত্যক্ষ করছে তার বাস্তব গুণাবলী সম্পন্ন। কিন্তু এমন কিছু যদি সে প্রত্যক্ষ করে যা বাস্তবতা রহিত হয়ে গিয়ে গুণাবলী ধ্বংস হয়েছে এবং এমন একটা বাস্তবতা তৈরি করা হয়েছে যা দেখা যায় না এবং যাকে নিয়ে চিন্তা করার মতো কোনো সারবত্তা নেই, তাহলে তাই নাথিং-এ পরিণত হয়, সরল বাংলায় ওটাই অবস্তু।

বাংলাদেশে এ অবস্থাটার শুরু এ বছরের প্রথম থেকেই। এক লহমায় ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রহীন হয়ে গেল দেশ - জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকার বলে পরবর্তীতে কিছু তার থাকলো না। সরকারের নামে এখন যা আছে তা নাথিং। কেউ বেতনে বুঝছে, কেউ অবচেতনে বুঝছে। আর হতাশ হচ্ছে এই ভেবে যে, তাহলে আছি কিসের মধ্যে! যিনি নিজে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন তিনি কি এই অভিমান করছেন না যে - কেন দেশে-বিদেশে তাকে মানা হচ্ছে না? অসুবিধা কোথায়? অসুবিধা যে কোথায় তা তিনিও যেমন বুঝছেন, তেমনি তার সঙ্গী-পারিষদরাও বুঝছেন। জাতিসংঘ থেকে আবার তাগিদ এসেছে সংসদের বাইরের দলগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য। গত ১৯ জুন নিউইয়র্কে বান কি মুনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বৈঠকের পর তা বিবৃতি এসেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ মহাসচিবকে যা বলে এসেছিলেন তাও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘এ সরকারের মেয়াদ শেষ হলে সংলাপ হতে পারে।’ জাতিসংঘ যে ওই বক্তব্য মানেনি এবং বর্তমান সরকার ৬ মাস বয়সী হলেও একে যে প্রকারান্তরে নাথিং বলেই মূল্যায়ন করেছে তা বলাই বাহুল্য। কারণ সাত-আট মাস আগেও খুব একটা তোয়াক্কা তারা করেননি জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। তখন বলা হয়েছিল, নিয়ম রক্ষার জন্য নির্বাচন হচ্ছে - দ্রুতই নতুন সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন দেয়া হবে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই বক্তব্যটা ছিল কিন্তু মার্চ-এর শেষ দিকে এসে ভোল পাল্টালেন ক্ষমতাসীনরা। বললেন, ২০১৯ অর্থাৎ মেয়াদের আগে ক্ষমতা ত্যাগ নয়। জাতিসংঘে গিয়েও রাষ্ট্রপতি ওটাই জানিয়ে এসেছেন এবং এটাও সত্যি যে ক্ষমতাসীনরা তাকে বাহবা দিচ্ছেন এটা না ভেবেই যে, এর একটা ফলাফল আছে। কারণটা অবশ্যই প্রকাশ্য : দেশে কোনো ‘রাজনৈতিক চাপ নেই’। মানুষের হতাশা-কর্মদ্যোগহীনতা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেহাল অবস্থা থাকলেও তাকে আমলে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। বরং দেখা যাচ্ছে, সাত খুন, একরাম হত্যার মতো ঘটনা ঘটলে ক্ষমতাসীনরা খুশি হন। কারণ রাজনৈতিক বিষয়ের বাইরে তখন অন্য কিছু বলা যায়। শীর্ষ ব্যক্তিত্বও তাই করেন - যেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংলাপ ও নতুন নির্বাচন নিয়ে কথা ওঠে তখনই জঙ্গীবাদ উত্থানের জুজুর ভয় দেখান, নয়তো পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখান। এই ভয় আর স্বপ্ন দুটোই আসলে তিনি নিজেই দেখেন নাথিং-এর বিকল্প হিসেবে। কারণ তিনি জানেন, ক্ষমতাটাকে প্রত্যক্ষ করানো যাচ্ছে না। ট্রেজারি বেঞ্চ নিষ্ক্রিয় ততোধিক হীন-অর্কমণ্য অপজিশন বেঞ্চ না হলে কি তারা দালালির কম্পিটিশনে নামে। পদ্মা সেতুর নাম বেগম ফজিলাতুন্নেসার নামে রাখার প্রস্তাব এলো তথাকথিত অপজিশন বেঞ্চ থেকেই। এরাও নাথিং এই নিজেদেরকে প্রত্যক্ষ করানোর জন্য যাচ্ছে-তাই অবস্থার চরম উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে।

মূলত অবস্তুকে বিকৃত বাস্তব দিয়ে প্রত্যক্ষ করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন দিন ফুরানো রাজনীতিবিদরা। কিন্তু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তো এই সব খায়েশের তোয়াক্কা করে না। বিনিয়োগ না হলে স্থিতিশীলতা থাকবে না এটা জানা কথা। কিন্তু ওটার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে না। নতুন যে সব চুক্তি হচ্ছে সেগুলো আশাপ্রদ কিছু নয়, বেশ দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। উপস্থিত তাই কিছু নেই - হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। গত ২১ জুন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেছেন, নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ইনকোমিস্ট ফোরামের অর্থনীতি বিষয়ক সম্মেলনে অধ্যাপক সোবহান আরও বলেন, রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের চলমান সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এই প্রস্তাবই আসলে প্রত্যক্ষ বাস্তবতার গুণাবলী তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে - যা এখন অনুপস্থিত। অর্থাৎ ক্ষমতায় কেউ একজন থাকলেও যা আছে তা সমস্যায় পরিপূর্ণ। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষমতা অবস্তু এবং বন্ধ্যা হয়েই থাকবে না গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ফল বয়ে আনবে - না অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হাসিল করবে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাহীন সমৃদ্ধির স্বপ্ন অনেক দেশেই অনেকেই দেখাতে চেয়েছেন, তাতে কোনো ফায়দা হাসিল হয়নি। বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীনরা একবিংশ শতাব্দীতে তা করে দেখাবেন - এটা মানা অসম্ভব। কারণ হাইরাইজ ফ্লাইওভার ব্রিজ কিংবা টানেল কোন অধিকার বা সঠিক সমাধান দেয় না মানুষকে। হিটলারের সময়েই জার্মানিতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি খনিজ উত্তোলন শিল্পোৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু তাতে সমৃদ্ধি বা স্থিতিশীলতা কোনটাই আসেনি। বরং ফলাফল স্বরূপ দেশটা দুই টুকরো হয়ে গিয়েছিল। কাজেই সমঝোতাহীন গণতন্ত্র একটা নাথিং বা অবস্তু - যা নিজেকেই দ্রুত খেয়ে শেষ করতে চায় একটা বস্তুতে উত্তরণের জন্য। ক্ষমতাসীনরা এই ভেবে বগল বাজাতে পারেন না যে, প্রতিপক্ষ নিস্ক্রিয় তাই আমরা ক্ষমতা ভোগ করবো। আর অনন্তকাল থেকে যাবে এই স্থিতাবস্থা। কিন্তু তা যে হওয়ার নয় - কাজেও, অন্তত বান কি মুন - রেহমান সোবহানদের কথায় এখন কান দিন।।

কর-খাজনা দিলেও সুযোগ সুবিধার কিছুই পাচ্ছেনা পতিতাপল্লীর শত শত যৌনকর্মী

কর-খাজনা দিলেও সুযোগ সুবিধার কিছুই পাচ্ছেনা পতিতাপল্লীর শত শত যৌনকর্মী একুশেঃ নিউজ ডেস্ক বিভাগPotita Polli Prositute in Bangladesh Ekush.Info সরকারের সব নিয়ম মেনে কর-খাজনা দিলেও সুযোগ সুবিধার কিছুই পাচ্ছেন না টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর শত শত যৌনকর্মী। দালাল টাউটের নির্যাতন আর স্থানীয় প্রশাসনের চরম অবহেলায় তাদের জীবন কাটছে নিদারুণ কষ্টে। কাজী রিপনকে সঙ্গে নিয়ে মনিরুল ইসলামের ক্যামেরায় আরও জানাচ্ছেন অখিল পোদ্দার। সাময়িক এই আনন্দের বাইরের পুরো জীবনটাই যেন কষ্ট দুঃখ আর অতলান্তিক বেদনার। টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর ভেতরের চেহারা তাই এক একটি যৌনকর্মীর হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা ক্ষতের মতোই দগদগে। চিহ্নিত দালাল, টাউট, সর্দার আর কথিত বাড়িওয়ালাদের নিষ্পেষণের প্রতিবাদ করতে পারেন না বলেই জীবনভর থাকতে হচ্ছে নোংরা আবর্জনাময় ঘিঞ্জি পরিবেশে। স্থানীয় প্রশাসন তাদেরকে নিচুতলার মানুষ হিসেবে গণ্য করায় পুরো কান্দাপাড়াই যেন পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে।যৌনকর্মীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করায় স্থানীয় প্রশাসনকে অপরাধী গণ্য করে মানবাধিকার কমিশন। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারের সব নিয়মকানুন মানার পরও কোন ধরণের সেবা তারা পাচ্ছেন না। দু’পর্বের ধারাবাহিক প্রথম পর্বঃ http://www.youtube.com/watch?v=RXq91dJdmKE দ্বিতীয় পর্বঃ http://www.youtube.com/watch?v=dR1lECCJdCo

ফিরে দেখা ২০১৩: বিশ্বে ৭১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন

 ২০১৩ সালে বিশ্বে ৭১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন
Bangladeshবিশ্বে চলতি বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৭১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরডব্লিউবি) গত বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। আরডব্লিউবি জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সাংবাদিক হত্যার ঘটনা কমেছে। গত বছর বিশ্বে ৮৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন। তবে গত বছরের তুলনায় সাংবাদিক অপহরণের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত বছর ৩৮ জন সাংবাদিক অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি সাংবাদিক অপহূত হন সহিংসতাকবলিত দেশ সিরিয়ায়। বর্তমানে দেশটিতে ১৮ জন বিদেশী ও ২২ জন স্থানীয় সাংবাদিক অপহৃত বা নিখোঁজ রয়েছেন। আরডব্লিউবি আরো জানায়, সিরিয়া ছাড়াও সোমালিয়া ও পাকিস্তান সাংবাদিকতার জন্য অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এর বাইরে ভারত, ফিলিপাইন, ব্রাজিল ও মেক্সিকোকে গণমাধ্যমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরডব্লিউবির গত বছরের তালিকায়ও গণমাধ্যমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে ছিল উল্লিখিত পাঁচটি দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৭৮ জন সাংবাদিক কারাবন্দী আছেন বলে জানিয়েছে আরডব্লিউবি।

Deadliest Countries in 2013

  1. Syria: 28
  2. Iraq: 10
  3. Egypt: 6
  4. Pakistan: 5
  5. Somalia: 4
  1. India: 3
  2. Brazil: 3
  3. Philippines: 3
  4. Russia: 2
  5. Mali: 2
  1. Turkey: 1
  2. Bangladesh: 1
  3. Colombia: 1
  4. Libya: 1

Ahmed Rajib Haider, Freelance

February 15, 2013, in Dhaka, Bangladesh http://www.cpj.org/killed/2013/

আদালতের পর্যবেক্ষণ অপারেশন ডালভাত ও বৈষম্য বিদ্রোহের বড় কারণ

ঢাকা: বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে অপারেশন ডালভাত একটি বড় কারণ বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেছেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘অপারেশন ডালভাত’ এর অর্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি । মঙ্গলবার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে আদালতের বিচারক এ পর্যবেক্ষণ দেন। হত্যা মামলার বিচারে গঠিত বিশেষ আদালতের কার্যক্রম মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর আদালতের কার্যক্রম শুরু করায় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান শুরুতেই দুঃখপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি তার পর্যবেক্ষণ দেয়া শুরু করেন। ঘটনার ব্যাপারে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অপারেশন ডালভাত কর্মসূচি একটি বড় কারণ। কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী যেমন: সেনাবাহিনী বা আধা সামরিক বাহিনী বা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে অপারেশন ডাল-ভাতের মতো কাজে যুক্ত রাখা উচিৎ নয়। পিলখানার ভেতরে স্কুলগুলোতে বিডিআর জওয়ানদের সন্তান-সন্ততিদের ভর্তি করতে পারার বিষয়ে আরও ছাড় দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে আরও স্কুল তৈরি করা যায় কি না তা কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিৎ। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো বিডিআর সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো যায় কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ভেবে দেখতে পারেন বলেও মত দেন আদালত। এছাড়া সেনা সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে বিডিআর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত আছেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো ২০ শতাংশ ভাতা তাদের পাওয়া উচিৎ। তাদের ঝুঁকিভাতা দেয়া কি না তাও দেখা উচিৎ। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের কারণ হিসেবে সামরিক নিরাপত্তা-সম্পর্কিত কারণ থাকতে পারে। যাতে আমাদের সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা যায়। কূটনৈতিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীকে উচ্ছৃঙ্খল দেখানো, যাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।’ অর্থনৈতিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশে গণ্ডগোল থাকলে বাহিনীর মধ্যে উচ্ছৃঙ্খলতা থাকবে। এতে বিনিয়োগ হবে না। অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করার জন্য হতে পারে।’ সামাজিক কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করার জন্য।’ আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘আমাকে রায় দিতে হবে। আমার বিবেচনায় যা মনে হয়েছে তা-ই দিয়েছি। আসামিরা উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।’ সকাল ১০টায় বিচারকার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও বিচারক ড. আকতারুজ্জামান আদালতে ১২টায় আসেন। এরপর সাড়ে ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন। রায়ে তৎকালীন বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন, ২৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ২৭১ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। উল্লেখ, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। পরে বিচারের মুখোমুখি হন ৮৫০ জন। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবজ্যোতি খীসা একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ মামলাটি তদন্ত করেন। তাকে সহযোগিতা করেন ২০০ কর্মকর্তা। ৫০০ দিন তদন্তের পর ২০১০ সালের ১২ জুলাই এ আদালতে হত্যা এবং অস্ত্র-বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। এতে ৮২৪ জনকে আসামি করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে বর্ধিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দিন পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ সব মিলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫০। বিচার চলাকালীন চার জন মারা গেছেন। এই মামলায় নথির সংখ্যা ৮৭ হাজার পৃষ্ঠা। আসামিদের মধ্যে বিডিআর জওয়ান আছেন ৭৮২, বেসামরিক সদস্য ২৩ জন। এর মধ্যে ২০ জন এখনো পলাতক, জামিনে আছেন ১৩ জন। জামিনে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ১০ জন মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন। বাকি তিন জন জোহরা খাতুন, আব্দুস সালাম ও লোনা আক্তার হাজির হতে পারেননি। ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার বিচার শুরু হয়। চার বছর আট মাসে মামলাটি ২৩২ কার্যদিবস অতিক্রম করে। মঙ্গলবার  রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ মামলার সব কার্যক্রম। বিচারক বলেছেন, ‘২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক মোটিভ ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মোটিভও থাকতে পারে।’ এই বিদ্রোহের তথ্য আগে জানতে না পারার ঘটনায় গোয়েন্দা দুর্বলতা ছিল বলেও মনে করছে আদালত। এ মামলার শুনানিতে বিজিবির সিকিউরিটি ইউনিটের মেজর আরএমএম আসাদ-উদ-দৌলা আদালতকে জানান, বিদ্রোহ শুরুর চারদিন আগে (২১ ফেব্রুয়ারী) বিভিন্ন দাবি দাওয়া ও ডালভাত কর্মসূচি নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ সম্বলিত একটি প্রচারপত্র পিলখানায় পাওয়া যায়। আসাদ তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দরবার শুরুর পর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ডালভাত কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময়  সৈনিক মইন মঞ্চে উঠলে হৈচৈ শুরু হয়। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। মঙ্গলবার ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বহু আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদও বিচারকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মারা যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ভেতরে আসতে পারেননি আসামিপক্ষের কোনো স্বজন। বাংলামেইল২৪ডটকম/ এফএইচ/ জেএ

ইলিয়াস আলীসহ দেড়শ’ গুমের মামলার তদন্ত থেমে আছে

আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবস : গুম ঘটনার একটিরও কূল-কিনারা হয়নি

gum-ghotonar-ektir-o

গুমের ঘটনার একটিরও কূল-কিনারা হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে চার বছরে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ দেশে দেড় শতাধিক ব্যক্তি গুম-গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত একটি মামলারও তদন্তে অগ্রগতি হয়নি। শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম গুপ্তহত্যারও কোনো সুরাহা হয়নি। আর গুম ও গুপ্তহত্যার বিচার না পাওয়ার মধ্য দিয়ে আজ ৩০ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম দিবস। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গুম ও গুপ্তহত্যা মামলার তদন্ত এখন একেবারেই থেমে আছে। এসব আলোচিত মামলার তদন্ত নিয়ে মাথাব্যথাও নেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। গুম ও গুপ্তহত্যার মামলাগুলোর তদন্তে শুরুতেই অনীহা ছিল পুলিশ, র্যাবসহ গোয়েন্দাদের। অভিযোগ আছে, আদালতে গিয়েও ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাননি। রিট করেও কাজ হয়নি। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে নিখোঁজ থাকা বা গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে পাত্তা পাচ্ছেন না। নানা অজুহাতে তারা এসব মামলার বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মামলার অগ্রগতি কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না প্রিয়জনরা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা দিনের পর দিন পথ চেয়ে থেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা কার কাছে যাবেন, এখন তাও জানেন না। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ গুম ও গুপ্তহত্যা নিয়ে তত্পর ছিল। এ বিষয়ে তারা প্রতিমাসেই অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করত। কিন্তু তাদের তত্পরতাও থামিয়ে দেয়া হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খানকে ডিবি পুলিশ হঠাত্ তুলে নিয়ে যায় বাসার সামনে থেকে। অনেকটা গুম হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। চারদিকে হৈচৈ পড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনই এক পরিস্থিতি চলছে এখন দেশে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আটক কিংবা নিখোঁজ হওয়া অধিকাংশ ঘটনার ধরন ও প্রকৃতি প্রায় অভিন্ন। সাদা পোশাকধারীদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর কয়েকজনের লাশ পাওয়া গেছে নদী, বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গল, ডোবা-নালা, বেড়িবাঁধ বা নির্জন স্থানে। অনেকে এখনো নিখোঁজ আছেন। তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। কে বা কারা হত্যাকারী, কেনইবা নিখোঁজ ব্যক্তির হদিস মিলছে না, এর কোনো তথ্যই জানাতে পারছেন না পুলিশ ও র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও গাড়িচালক আনসার আলী রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। গভীর রাতে বনানী ২ নম্বর রোডে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে আদালতে একটি রিট করা হয়। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস ও আদালতের নির্দেশের পরও ইলিয়াস আলীর খোঁজ মেলেনি। ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে সরকার এখন কোনো কথাই বলছে না। এই চাঞ্চল্যকর গুমের ঘটনা যেন ধামাচাপা পড়ে গেছে। রাজধানীর ইন্দিরা রোড থেকে ২০১০ সালের ২৫ জুন রাতে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম সাদা পোশাকধারীদের হাতে আটক হয়ে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। এ বিষয়ে আদালতে রিট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব পর্যায়ে লিখিত আবেদন করা হয়। চৌধুরী আলমের ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরীর হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়েরের প্রেক্ষিতে চৌধুরী আলমকে দ্রুত খুঁজে বের করতে পুলিশের আইজি ও র্যাবের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশের পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা চোখে পড়ছে না। এর আগে চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি। জানা গেছে, সিআইডির তদন্তে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে, অপহরণের পর গুপ্তহত্যার শিকার যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলামের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে না ডিবি পুলিশ। ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামটরে নিজ ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে বের হয়ে তিনি আর বাসায় ফিরে যাননি। পরে গাজীপুরে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত নাজমুলের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) স্থানান্তর হলেও অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরিশালের উজিরপুরের বিএনপি নেতা হুমায়ুন খান ঢাকার মালিবাগ থেকে সাদা পোশাকধারীদের হাতে আটকের পর আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ। ২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর সকালে হুমায়ুন তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকার সূত্রাপুরের ৪৫/ক, ঢালকানগর ফরিদাবাদের নিজ বাসা থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় মফিজুলের বাসায় যান। সেখান থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় হুমায়ুনের ছোট ভাই মঞ্জু খান বাদী হয়ে ১৩ ডিসেম্বর রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হুমায়ুনের ভাই মঞ্জু জানান, তদন্তের নামে পুলিশ গড়িমসি করছে। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় শ্রমিক নেতা আমিনুলকে নিজ শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিসিডব্লিউএস) সাভার অফিসের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার পুলিশ টাঙ্গাইলের ব্রাহ্মণ শাসন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের রাস্তা থেকে আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় আমিনুলের দেহের ডান হাঁটুর নিচে একটি কাপড় বাঁধা ছিল, যেখানে জমাটবাঁধা রক্ত ছিল এবং তার দুই পায়ের আঙ্গুল থেতলানো ছিল। মামলার তদন্ত করছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু এখনো এই মামলার কোনো ক্লু পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, শ্রমিক আন্দোলনসহ যুক্তরাষ্ট্রের তাগাদা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না প্রশাসন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাব পরিচয়ে আটক করে নেয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্র আল-মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহর খোঁজ এখনো মেলেনি। ঢাকায় ব্যক্তিগত কাজ শেষে হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন তারা। রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কল্যাণপুর বাস কাউন্টার থেকে ঝিনাইদহ-৩৭৫০ নম্বর গাড়ির সি-১ ও সি-২ সিটে বসে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মাঝামাঝি সময়ে সাভারের নবীনগর পৌঁছালে র্যাব-৪-এর সদস্য পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় র্যাবের পোশাক ও সাদা পোশাকধারী ৮/১০ জন বাসে উঠে আল-মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যায় বলে বাসে অবস্থানকারী যাত্রী ও সুপারভাইজার সুমন নিশ্চিত করেন। এরপর থেকে র্যাবের হাতে আটক দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনারকে র্যাব আটক করে গুম করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। গত বছরের ৬ এপ্রিল স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগের পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এ মামলার তদন্ত করছে না বলে অভিযোগ করেন দিনারের স্বজনরা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৫৬ জন গুম হয়েছে, যার মধ্যে ২৮ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সূত্র : আমার দেশ August 30, 2013

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.