প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশির প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা

নিউইয়র্ক প্রবাসী কয়েকজন  বাংলাদেশির প্রতারণায় রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অন্তত ১৫টি গার্মেন্টের মালিক পথে বসেছেন। চাকরি হারিয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। প্রতারকরা এসব গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কমপক্ষে দুই মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়ে নিউইয়র্কে আয়েশি জীবনযাপন করছেন। এসব প্রতারকের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্র প্রতি বছর বাংলাদেশের অন্তত একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি টার্গেট করত। এ প্রক্রিয়ায় নিউইয়র্ক পোর্ট থেকে মাল খালাসের পর লাপাত্তা দিত তারা।  এমন প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজি করে গত ১০ বছরে তারা কমপক্ষে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ  কয়েকটি অঞ্চলের ১৫টি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিককে পথে বসিয়েছে। বেতন-ভাতা দিতে না পেরে এর মধ্যে বেশকটিতে তালা ঝুলিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। বেতন না পেয়ে হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক প্রবাসী মো. নূর ইসলাম (গাজী নুরু) এবং বাংলাদেশের দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট এবং বাংলাদেশের কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে। টার্গেট করে গার্মেন্ট আমদানির পর মূল্য পরিশোধ না করার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পরিশ্রমী গার্মেন্ট শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে নিপতিত হওয়ার সংবাদে আমেরিকান শ্রমিক সংগঠনের আইনজীবীরাও গভীর উদ্বেগ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী প্রবাসীদের এমন ঠকবাজির ফাঁদ ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি’র প্রধান নির্বাহী কল্পনা আকতারের সঙ্গে এ নিয়ে টেলিফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’ ভিকটিম ফ্যাক্টরির কয়েকটির নাম উচ্চারণ করলে কল্পনা আকতার বললেন, ‘নাম শুনে মনে হচ্ছে এগুলো পরিচিত কোনো ফ্যাক্টরি নয়।’ অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে, কল্পনা আকতার মাঝে-মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে এসে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার-বঞ্চিত হওয়ার কাহিনী গণমাধ্যমসহ মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে উপস্থাপন করেন। শ্রমিকদের নাজুক অবস্থার জন্য সরকারকেও দায়ী করেন এ নেত্রী।  অথচ হাজার শ্রমিকের মজুরি অনিশ্চিতের জন্য দায়ীদের ব্যাপারে তার কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না’-এ মন্তব্য করেন নিউদকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে শ্রমিক-সংগঠকরা মন্তব্য করেছেন। অভিযোগে প্রকাশ, নিউইয়র্কের উপরোক্ত গাজী নুরুর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ২০১৫ সালের ২৯ মে ঢাকার বিশ্বাস ফ্যাশনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা হয়েছে। ইনডেক্স নম্বর-৬৯৭৫। এই মামলার নোটিস পাবার পর একই বছরের ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মেডিটেরিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি, ইউএসএ) জবাব দিয়েছে যে, এটি তাদের বিরুদ্ধে করা উচিত হয়নি। কারণ, এটি তাদের জানা নেই। এমএসসি হয়তো এজন্য দায়ী। উল্লেখ্য, একই মামলার মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ নূর ইসলাম তথা গাজী নূর নোটিসের কোনো জবাব দেননি এখন পর্যন্ত। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে আরো রয়েছে ইউনাইটেড গ্লোবাল লজিস্টিক ইনক, মারকেন্টাইল ক্রেডিট ইনক। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ থেকে  ট্যুরিস্ট কিংবা ভিজিট অথবা ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় সদ্য আগতদের টার্গেট করেন নিউইয়র্কের চিহ্নিত একটি চক্র। সেই ব্যক্তিকে নগদ কমিশনের টোপ দিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কাছে এলসি পাঠানো হয় লোভনীয় দামে টি শার্ট এবং অন্য পোশাকের বিপরীতে। অভিযুক্তরা শুধু কাগজপত্র (?) তৈরি করেন। সব যোগাযোগের বাহন করা হয় নবাগত ওই ব্যক্তিকে। এভাবে মালভর্তি কন্টেইনার নিউইয়র্কে  আসার পর প্রেরণকারী চট্টগ্রামের সিএনএফ-এর লোকজনের যোগসাজশে ভুয়া বিএল সংগ্রহ করা হয়। নিউইয়র্ক পোর্ট থেকে মাল খালাস করে নেওয়া হয়। ম্যানহাটানের কথিত শো রুমে উঠিয়ে তা বিক্রি করার পরও বাংলাদেশের সেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক জানতে পারেন না প্রকৃত তথ্য। অধিকন্তু নিউইয়র্ক থেকে জানানো হয় যে, মাল আসতে বিলম্ব হয়েছে, যে স্যাম্পল দেখানো হয়েছিল, সে অনুযায়ী মাল পাঠানো হয়নি বলে ক্রেতারা নিতে চাচ্ছেন না। এজন্য পোর্টেই পড়ে রয়েছে কন্টেইনার। অর্থাৎ পোর্ট থেকে কন্টেইনার খালাস না করলে দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া গুনতে হবে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী কোনো কুল-কিনারা না দেখে প্রস্তাব দেন যে, লোকসান দিয়ে হলেও যেন কন্টেইনার খালাস করা হয়। এমন দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হয় পুরোদমে। সে সময়ে এক লাখ ডলারের কাপড়ের দাম ৪০ হাজারে নেমে আসে এবং বিক্রির পর সেই অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার করা হয়(প্রকৃত অর্থে ওই কাপড় আগেই বিক্রি হয়ে গেছে সিএনএফ’র সহায়তায় জাল বিএল’র মাধ্যমে)। এমন কথাতেও হাফ ছেড়ে বাঁচেন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়, মাসের পর বছর অতিবাহিত হলেও ওই ৪০ হাজার ডলারও পরিশোধ করা হয় না। এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিও এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। কারণ, বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি মালিকের সঙ্গে প্রতারকরা কখনোই তেমনভাবে যোগাযোগ করে না। পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তিরা দেনদরবার করেও কূল-কিনারা পান না। বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি মালিকেরাও এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়ে নিকটস্থ থানা-পুলিশ করেন। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের নিউ রেসুলি গার্মেন্টস, বিশ্বাস ফ্যাশন লিমিটেড, হালিমা গার্মেন্টস, সাফারি গার্মেন্টস, এইচ এ্যান্ড ডব্লিউ এপারেলসহ ১৫টি ফ্যাক্টরি বিভিন্ন থানায় নিউইয়র্কের এই চক্রের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। গাজী নূরের ভাই দেলোয়ারকে কয়েক দফা থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সম্প্রতি এই দেলোয়ার নিউইয়র্কে এসেছিলেন। কিন্তু পাওনাদারদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার চেষ্টা করেননি। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ ‘এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম টেলিফোনে এ সংবাদদাতাকে জানান, ডজনখানে ফ্যাক্টরি নিউইয়র্কের গাজী নূরের প্রতারণার শিকার হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও চেষ্টা করেছি ওই অর্থ উদ্ধারের জন্য। নিউইয়র্কে বৈঠকের চেষ্টাও করেছি।  কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাইনি এখন পর্যন্ত। আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকালে নিজ দেশের ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের পেটে লাথি দেওয়ার এমন কাণ্ড প্রতিরোধে সব প্রবাসীর সহায়তা চাই।’ জানা গেছে, কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতারকদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদনও করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাড়া পাননি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অবশেষে তারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার মার্কিন মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবীগণের শরণাপন্ন হয়েছেন। ‘সিটিজেনশিপ গ্রহণকারী ওই ব্যক্তিরা কোনোভাবেই আইনের উর্দ্ধে নন, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পেলে সংশ্লিষ্টদের বিচারে সোপর্দ করা হবে’-মন্তব্য শ্রমিক নেতাদের। অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে কয়েক দফা ফোন করা হয় গাজী নূরকে। মেসেজও রাখা হয়েছে সেলফোনে। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কলব্যাক করেননি।

মিথ্যা অভিযোগের জন্য ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ

নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ

কাল্পনিক অভিযোগ প্রত্যাহার না হলে ১০ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির বিরুদ্ধে যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করা হয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার সাবেক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জিয়াউল হক নোটিশটি পাঠান। এতে মিথ্যা অভিযোগের জন্য তাকে (নাজমুল হুদা) ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলা করা হবে।
নোটিশে নাজমুল হুদাকে উদ্দেশ করে জিয়াউল হক বলেন, আপনি একজন আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা ও এক সময়ে সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন। আমার মক্কেল সালমা ইসলামও একজন আইনজীবী। শুধু আইনজীবীই নন, তিনি একজন সংসদ সদস্যও। আপনি বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেভাবে শত্র“তা দেখিয়েছেন, সংকীর্ণ মানসিকতার বশবর্তী হয়ে যে মিথ্যা, কুৎসামূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আপনি এলাকায় আর সেই অবস্থানে নেই। কিন্তু আমার মক্কেল নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এলাকায় অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মানুষের সেবামূলক কাজ করেছেন। এলাকায় তিনি অনেক জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনের কথা ভেবে আপনি এবং আপনার চাচা (যিনি ‘জাতীয় দরবেশ’ হিসেবে পরিচিত) ভীত হয়ে পড়েছেন। তাই আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে অসঙ্গত, অপ্রাসঙ্গিক, বিশ্বাসঘাতী ও হাস্যকার অভিযোগ এনেছেন। আপনার চাচা ও তার স্বার্থান্বেষী মহলকে খুশি করার জন্য এজাহারে আপনি স্পর্শকাতর বিষয়কে বেছে নিয়েছেন। বিষয়টির সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের মর্যাদা জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক এ প্রধান বিচারপতির লেখা বই প্রকাশ হওয়ার পর সরকারের সামনে আসা খারাপ সময়টিকে আপনি কাজে লাগিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়, চলতি বছর ৩০ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উলে­খ করে আপনি স্বীকার করেছেন যে, আপনার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়ের কপি পেয়েছেন, সেটি পেতে দেরিও হয়নি। সুতরাং অভিযোগের যে গল্প আপনি তৈরি করেছেন, তা অস্পষ্ট ও স্ববিরোধিতাপূর্র্ণ (২০ জুলাই ২০১৭ ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য, নিশ্চয়ই এসকে সিনহা তা মোকাবেলা করবেন)। কাজেই ওই রায় ও ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে (সালমা ইসলাম) জড়ানো দুর্ভাগ্যজনক। জিয়াউল হক বলেন, আপনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু আপনারও জানার কথা আমার মক্কেলও একজন সংসদ সদস্য। তিনি একজন বড় শিল্পপতি ও সমাজকর্মী। দাতব্য ও সমাজসেবামূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন। এতকিছু আপনি কখনোই করেননি। সুতরাং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে হিংসা, আক্রোশ ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে আপনি সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে যা করেছেন, তা একেবারেই অনৈতিক। জিয়াউল হক আরও বলেন, আপনি জানেন না, অনেক মামলার রায়ে এসকে সিনহা আমার মক্কেল সালমা ইসলাম ও তার কোম্পানির (যমুনা গ্র“প) প্রতি অবিচার করেছেন; যার কারণে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ আমার মক্কেল কখনই বিচারপতি সিনহার গুড বুকে ছিলেন না। তারপরও আপনি (নাজমুল হুদা) সেই ব্যক্তির (এসকে সিনহা) সঙ্গে আমার মক্কেলকে মেলাতে চেয়েছেন, যিনি (এসকে সিনহা) দেশে-বিদেশে বিতর্কিত। আশা করি এটা জানার পর আপনার শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত শিশুসুলভ অভিযোগ এজাহার থেকে প্রত্যাহার করে নেবেন। নোটিশে আইনজীবী উলে­খ করেন, ‘একজন সম্মানিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ সব সময় অন্যের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করে, তিনি প্রতিপক্ষ হলেও। একজন রাজা সর্বদাই অন্য রাজাকে সম্মান করেন। একজন রানী অন্য রানীকে সম্মান করেন। তবে একজন চোর সর্বদা অন্যদের চোর ভাবে। ঘুষখোর সর্বদাই অন্য ঘুষখোরের গুড বুকে থাকে। সুতরাং আপনাকে (নাজমুল হুদা) আবার চিন্তা করে দেখতে হবে সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে কী সাংঘাতিক ভুল আপনি করেছেন। যথাযথ ফোরামে চ্যালেঞ্জ করা হলে আপনি কি আপনার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবেন? নিশ্চিত করে বলা যায়-পারবেন না। ব্যর্থ হবেন। সুতরাং আপনার মতো একজন বিজ্ঞ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের ফাঁদে পা দিয়েছেন।’

রপ্তানি বন্ধ হচ্ছে তিন শতাধিক গার্মেন্টসের

কারখানা সংস্কারে ব্যর্থতা

রপ্তানি বন্ধ হচ্ছে তিন শতাধিক গার্মেন্টসের
বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কারখানা সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিন শতাধিক গার্মেন্টস কারখানার রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কারখানার বন্ড সুবিধা সংক্রান্ত সেবা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি পাঠাচ্ছে।
ডিআইএফই সূত্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার এ চিঠি পাঠানো হতে পারে। কোনো কারখানা সাব কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে পোশাক তৈরি করে থাকলেও ওই সুবিধাও (বন্ড ট্রান্সফার) বাতিল করার অনুরোধ জানানো হবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত কারখানা রয়েছে ২১৫টি। এর আগে একই কারণে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকেও আলাদা দুটি চিঠিতে সদস্যভুক্ত কারখানাকে দেওয়া ইউডি (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন সংক্রান্ত সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হবে। অবশ্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর করেনি বলে জানা গেছে।
ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, কারখানাগুলোকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কারখানার ভবনের কাঠামো, অগ্নি কিংবা বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বহুবার তাদের সঙ্গে সভা করেছি। এরপর তাদের সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। এখন কারখানার শ্রমিকের নিরাপত্তা তথা দেশের ভাবমূর্তির স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

২শ’ কোটি টাকার অলঙ্কার পরে জেলে গেলেন নাজিব রাজ্জাকের স্ত্রী

২শ’ কোটি টাকার অলঙ্কার পরে জেলে গেলেন নাজিব রাজ্জাকের স্ত্রী
তাঁর পিংক ডায়মন্ডের নুপুর ও নেকলেসের দাম ২শ ১৬ কোটি টাকা। কেবল বয়স কমাতেই ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। তবে এত ব্যয়ের যে সৌন্দর্য, তা নিয়ে থাকতে হবে জেলে! মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের স্ত্রীর পরিণতি হয়েছে এমনই।নিউইয়র্ক টাইমস।
বুধবার মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের স্ত্রী রোশমাহ মনসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে দেশটির দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা তাকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হবে।
এর আগে রেশমার বিলাসী জীবন নিয়ে আলোচিত হয় সারা বিশ্বজুড়ে। তার অর্থের যোগান আসতো দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক প্রতিবেদনেও তার অলঙ্কারের দাম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রোশমাহ’র আইনজীবী কে. কুমারেনড্রান এ কথা জানান। রোশমাহ’র স্বামী নাজিব রাজ্জাকের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর মতো রেশমার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি তারেক সাঈদের দেহরক্ষী শরীফ গ্রেপ্তার

সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি তারেক সাঈদের দেহরক্ষী শরীফ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা সদস্য আল-আমিন শরীফকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল-আমিন বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী এলাকার খালেক শরীফের ছেলে।
সাত খুনের আগে আল-আমিনকে সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে বদলি করা হয়। নারায়ণগঞ্জ র্যাব থেকে চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদের দেহরক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আল-আমিন।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুদুজ্জামান জানান, সাত খুন মামলায় আল-আমিন শরীফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা ও অপরটি অপহরণ মামলা। হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অপহরণ মামলায় ৩৪ বছরের সাজা হয় তার। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাকেরগঞ্জ থানায় আসে। ওই পরোয়ানা বলে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুন মামলার রায় দেয়। এতদিন পলাতক ছিলেন আল-আমিন শরীফ।

‘সড়কে মৃত্যু ভাগ্য’ বদলায়নি রাজধানীবাসীরঃ প্রতি ৫ টির মধ্যে একটি মটরসইকেলই...

এখনো থামেনি রাজধানীর সড়কের মৃত্যুর মিছিল। গত দুই মাসে কেবল মামলা আর জরিমানা আদায় হলেও শৃঙ্খলা আনতে কোনো উদ্যোগই যেন কাজে আসেনি। উল্টো রাজধানীতে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন আর আহত প্রায় দেড় শতাধিক। ডিএমপি বলছে, এতো সহজেই মিলবে না সুফল। আর বিশেষজ্ঞদের পরমর্শ, ঢেলে সাজাতে হবে রাজধানীর পুরো পরিবহন ব্যবস্থা। ভাগ্য বদলায়নি রাজধানীবাসীর। বলতে গেলে এখনো প্রতিনিয়তই বেপরোয়া বাসের চাকায় পিষ্ঠ হচ্ছেন রাজপথে চলাচলকারীরা। গত দুই মাসে রাজধানীতে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ১৪ জনই মারা গেছে বাস ও পিকাপের ধাক্কায়। যার সাতজন ছিলো পথচারী আর ছয়জন মটরসাইকেল আরোহী। ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিলেও এখনো রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিউম্যান হলার বা লেগুনা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে গঠিত কমিটি ৩০ টি বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুপারিশ মতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা বন্ধের কথা থাকলেও তা মানছেনা কেউ। চলতিপথে বাসের দরজা বন্ধ রাখার কথা থাকলেও তেমনটা চোখে পড়েনি কোথাও। রাজধানীর গণপরিবহনগুলো চুক্তিভিত্তিক চলাচল বাতিলের নির্দেশনা থাকেও তারও হয়নি শতভাগ বাস্তবায়ন। জেব্রাক্রসিং কিংবা ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহারেও দেখা গেছে অনীহা। অন্যদিকে অ্যাপভিত্তিক সটরসাইকেল যেন দিন দিন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিচ্ছে রাজধানীতে। বিআরটিএ তথ্যমতে রাজধানী নিবন্ধীত মোটরসাইকেল ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫৮ টি। গত দুইমাসে আইন অমান্য করায় মামলা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৭৪ টি মটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৫ টির মধ্যে একটি মটরসইকেলই মানছেনা আইন। তবু অ্যাপভিত্তিক এই পরিবহন নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। গতদুই মাসে ডিএমপির উদ্যোগ যেন সীমাবদ্ধ ছিল মামলা আর জরিমানা আদায়ে। পরিবর্তন বলতে যেটুকু তা হলো মোটর সাইকেল আরোহীর হেলমেট আর ব্যক্তিগত গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহারে। কর্তৃপক্ষ বলছেন শৃঙ্খলা ফিরতে সময় লাগবে। দু'একটি ইতিবাচক দিক চোখে পড়লেও এখনো রাজধানীর সড়কে থামেনি মৃত্যুর মিছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছে যতক্ষণ না রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা না যাবে ততক্ষণ অধরাই থেকে যাবে নিরাপদ সড়ক। সুফল পেতে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কোটা কোনও শুদ্ধ সমাধান নয়

ইস্যুভিত্তিক এই আন্দোলনগুলো কখনোই সরকারবিরোধী নয়, সরকার পতনের জন্য নয়। তাহলে ভয়টা কীসের? কোটা কোনও শুদ্ধ সমাধান নয়ঃ

শাকিল রিয়াজ
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা নিয়ে আমার কিছু সুইডিশ বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা হলো। ঘটনাগুলো বাংলাদেশে ঘটলেও পরিধি ও শক্তির তীব্রতার কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও এদুটো সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। সুইডিশ গণমাধ্যমেও এসেছে ব্যাপকভাবে। বলাবাহুল্য, আলোচনায় আমরা কথা বলেছিলাম কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক নিয়ে। আমার সঙ্গে কথা বলতে বন্ধুরা পড়াশোনা করেই বসেছিল। বুঝলাম এরা আদ্যোপান্ত জানে। তারা আমাকেই বাংলাদেশ সরকার মনে করে নানান ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে চললো। তোমরা কেন এটা করলা, ওটা করলা, এসব সামাজিক দাবির জন্য মাঠে নামা ছাত্রদের উপর বল প্রয়োগ বা রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়া ঠিক হয়েছে কী না, এসব। চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলন সফল না বিফল হয়েছে এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। সরকার এবং সরকারী দল থেকে একেক সময় একেক কথা আসে। দাবী মানা হয়েছে বলা হয়, কিন্তু দাবী আদায়ে সফলতার জন্য আন্দোলনকারী কেউই নায়ক হয়নি। উল্টো খলনায়কের খাতায় নাম লিখিয়েছে। জেল-জুলুম-মামলার শিকার হয়েছে, হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিদার শিক্ষার্থীদের বেলায়ও একই কাহিনী। ওদের দাবিগুলো মেনে নেয়ার কথা বলা হলেও আন্দোলনকারী শিশু-কিশোররা বিষ্ময়করভাবে ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হলো। এ দুটি আন্দোলন, এর তীব্রতা ও পরিণতি বিবেচনায় আনলে তিনটি মেসেজ পাই। এক, সরকার ভীতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। যে কোনো আন্দোলন, তা যতো অরাজনৈতিকই হোক, দমনে সরকার ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সেটা কোটা হোক, নিরাপদ সড়ক হোক, নারী নির্যাতনবিরোধী হোক, বিদ্যুত-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, চাকুরির বয়সসীমা বৃদ্ধি বা সুন্দরবন বাঁচানোর জন্য হোক। সরকার যেমন হেফাজতের আন্দোলন দমন করেছিল তেমনি দমিয়ে রেখেছে শাহবাগকেও। গণতন্ত্র সুষ্ঠু পথে হাঁটলে এ ধরনের আন্দোলন দমনের জন্য সরকারকে মরিয়া হতে হতো না। ইস্যুভিত্তিক এই আন্দোলনগুলো কখনোই সরকারবিরোধী নয়, সরকার পতনের জন্য নয়। তাহলে ভয়টা কীসের? দুই, সমাজের নানান অসঙ্গতি, অব্যবস্হাপনা আর অন্যায় দেখেও যখন বড়রা ভয়ে, অসামর্থ্যে বা সুবিধা হারানোর আতংকে চুপ করে থাকছে তখন নতুন প্রজন্ম বারবার মাঠে নেমে আসছে। নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলন শুধু সরকারের কাছ থেকে কিছু দাবী আদায়ের জন্যই নয়, এই আন্দোলন জরাগ্রস্ত মানুষের বিরুদ্ধে যারা মূক, বধির, অন্ধ। এই আন্দোলন আইনী ব্যবস্হা ও বাহিনীর বিরুদ্ধে, নিষ্কাম সংসদের বিরুদ্ধে, ভঙ্গুর বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে, সুশীলশ্রেণীর বিরুদ্ধে। দলমত নির্বিশেষে তরুণ শক্তির এই মাঠে নেমে আসা আমাদের অসার সমাজের গায়ে প্রচণ্ড এক আঘাত। এখন না হোক, কোনও একদিন এই ঘা খেয়েই বেঁচে উঠবে আধমরা সমাজ। তৃতীয় মেসেজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ — সময় হয়েছে নবীনদের দিকে তাকানোর। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে মূল্য দেবার, তাদের দাবীকে গ্রাহ্য করার। নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিশুকিশোরদের রাস্তায় নেমে আসা এবং তাদের কঠোর হাতে দমনকে আমার সুইডিশ বন্ধুরা এক ব্যর্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্রিয়াকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছে যেখানে রাষ্ট্র তার ব্যর্থতা ঢাকতে একের পর এক কন্সপিরেশন থিয়োরি বাজারে নিয়ে আসে। অন্যদিকে অবদমিত, নিঃস্ব বিরোধী শক্তি যেকোনও নড়াচড়ার মধ্যেই সরকার পতনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। চাকুরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এই সংস্কার সময়ের দাবী। বর্তমান পদ্ধতিতে বহাল থাকা কিংবা বাতিল করা — কোনটাই ভাল সমাধান নয়। বর্তমান কোটা পদ্ধতি বহাল থাকলে বঞ্চিত হবে মেধাবীরা। যোগ্যরা তাদের জায়গায় পৌঁছুতে পারবে না। বিশাল একদল বিমর্ষ, হতাশ, ভাগ্যহীন নাগরিক পাবে দেশ যারা দেশের জন্য কিছু করতে উৎসাহী হবেনা। অন্যদিকে কম মেধার বা মেধাহীন একদল নাগরিক দেশের কর্ণধার হবে। ফলাফল সহজেই অনুমেয়। শিক্ষার্থীদের দাবী ছিল সংস্কার। এই সংস্কার শব্দটি নিয়ে পলিটিশিয়ানরা পানি ঘোলা করে জিতে যেতে চেয়েছে। পলিটিশিয়ানরা জিতে গেলে হেরে যাবে বাংলাদেশ। কোটা একটি অবমাননাকর শব্দ। বৈষম্য না কমিয়ে বরং বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়। সমাজকে ভাগ করে দেয়, ভেদাভেদ উস্কে দেয়। যোগ্যতরদের প্রতিযোগীমুখী হতে নিরুৎসাহ করে। কোটার সুবিধা দিয়ে কিছু বিশেষ গ্রুপকে কি অমেধাবী, অযোগ্য ও প্রতিযোগিতায় ডিসকোয়ালিফায়েড বলে আগেই ট্যাগ দিয়ে দেয়া হলো না? তাছাড়া কোটা পদ্ধতি কি আমাদের চেতনা, মূলনীতি ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়? সংবিধানে সবার জন্য সাম্য ও সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই সাম্য ও সমানাধিকার ইন্ডিভিজুয়াল ব্যক্তির জন্য। কোনও গ্রুপ বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। যেটা দরকার, শুরু থেকেই সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া গ্রুপকে যোগ্যতর করে গড়ে তোলা। তারপর যখন প্রতিযোগিতার সময় হবে, যোগ্যতা দিয়েই তারা পদ জিতে যাবে। সংস্কার শুরু করতে হবে গোড়াতেই। এই মুহূর্তে যেটা করা যেতে পারে, গ্রুপগুলোর প্রকৃত সংখ্যার হিসেবে শতাংশ নির্ধারণ করা এবং চাকুরিতে সেই গ্রুপগুলোর মোট যোগ্য আবেদনকারীর সেই নির্ধারিত শতাংশকে চাকুরিতে নেয়া। অর্থাৎ কোটা নির্ধারিত হতে হবে যোগ্য আবেদকের সংখ্যার উপর, গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়। একটি সফল রাষ্ট্র তো সেটাই যেখানে মেধার ভিত্তিতে কিংবা যোগ্যতার আলোকে নির্ধারিত হবে যার যার স্হান। যেখানে সাম্য ও সমানাধিকার হাত ধরে এগুবে। যেখানে কেউ বঞ্চনার শিকার হবেনা। যেখানে কল্যাণ ও ন্যায় নিশ্চিত হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে।

সিনহাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে আদালতের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইন গণ সহায়তা প্রদান সংস্থার সফটওয়্যার ও অ্যাপস উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (এস কে সিনহা) ইচ্ছাগুলো, উনার ব্রোকেন ড্রিমস উনি চরিতার্থ করতে পারেননি বলেই উনি আহাজারি করছেন। সেসব বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। উনার যে এই দেশের প্রতি কোনো আনুগণ্যবোধ নেই, সেটাই বোঝা যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে, যেসব কথা উনি বলছেন, সেসব কথা উনি আগেও দেশে থেকেও বলতে পারতেন। কিন্তু সেগুলো যেহেতু সর্বৈব মিথ্যা, সে জন্য তিনি সেসব কথা দেশের বাইরে গিয়ে বলছেন। এতে এটা পরিষ্কার হলো, তিনি এসব কথা বলছেন বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য।’

এস কে সিনহা প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে আনিসুল হক আরো বলেন, হয়তো তাঁর মাঝে এই ভয় আছে যে দেশে ফিরলে মামলাগুলোর সম্মুখীন হতে হবে। আইনের মোকাবিলা করতে হবে এমন আশঙ্কা থেকে এস কে সিনহা দেশে না এসে বিদেশে বসে মিথ্যাচার করছেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে যেসব বক্তব্য এসেছে, তা আগামী সোমবার অথবা পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে তুলে ধরা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনীর বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আরপিও সংশোধনীর জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তা আমরা পেয়েছি। এগুলো দেখা হচ্ছে।’ রাষ্ট্রপতি ১২টি বিলে স্বাক্ষর করেছেন, কিন্তু সেখানে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ছিল না। তাহলে আইনটি কি সংশোধন করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে আমরা যে বৈঠক করেছি, সেখানে বলেছি এবং আজও বলছি, আগামী মন্ত্রিপরিষদ সভায় এডিটর্স কাউন্সিল থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা উপস্থাপন করা হবে।’ এর আগে দরিদ্র ও নির্যাতিত অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানে সফটওয়্যার ও অ্যাপসের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী। জাতীয় আইনগণ সহায়তা প্রদান সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও টোল ফ্রি কলসেন্টার সার্ভিসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা প্রদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘরে বসে আইন সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি এক সময় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্নের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। এর ফলে ঘরে বসেই মানুষ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ লাভ করছেন। জাতীয় আইনগণ সহায়তা প্রদান সংস্থার উপপরিচালক আবিদা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, জাতীয় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সাবেক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, জাতীয় আইনগণ সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. জাফরোল হাছান, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক প্রমুখ।

বার্নিকাট : বাকস্বাধীনতা দমাতে পারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা দমাতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট। আজ রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বার্নিকাট বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতাকে দমাতে বা অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যবহার হতে পারে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর। বিবৃতিতে বার্নিকাট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইনটি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বৈঠকের আহ্বানের প্রশংসা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের সংগতি এবং মানুষ, সমাজ ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বজার রাখার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা

যৌন হেনস্তা: মার্কিন কমেডিয়ান বিল কসবির কারাদণ্ড

যৌন হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মার্কিন কমেডি অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে ‘সহিংস যৌন শিকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিচারক। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের নরিস্টনের মোন্টগোমারি জেলার আদালত মঙ্গলবার ৮১ বছর বয়সী কসবিকে এ সাজা দেয়। বিবিসি বলছে, এই সাজার ফলে পুলিশের খাতায় কসবির নাম যৌন অপরাধী হিসেবে অন্তভুক্ত হবে এবং আজীবন তাকে বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং করতে হবে। আদালতের বিচারক স্টিভেন ও’নেইল একে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করেছে।বিল কসবি ও অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুন মাসে টেম্পল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড অভিযোগ করেন যে, ২০০৪ সালে কসবি তাকে মাদক সেবন করিয়ে যৌন হেনস্তা করেন। অথচ তিনি তাকে (কসবি) পরামর্শক হিসেবে মানতেন। গত এপ্রিলে মামলার পুনঃবিচারে কসবির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এদিকে, মঙ্গলবার আদালতে কসবির পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আর রায়ের ব্যাপারে কসবির কিছু বলার আছে কি না- তা জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
তবে তার মুখপাত্র অ্যান্ড্রিউ ওয়াট এই বিচার প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বর্ণবাদী ও যৌনবাদী। তিনি (কসবি) ‘যৌন যুদ্ধের’ শিকার বলেও উল্লেখ করেন ওয়াট।লিলি বার্নার্ড ও জেনিস ডিকেসন
প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালের দিকে কসবি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন যে, তাকে ‘আমেরিকার বাবা’ (আমেরিকা’স ড্যাড) বলে ডাকা হতো। উল্লেখ্য, অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড ছাড়াও অন্তত আরো ৬০ জন নারী কসবির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের মধ্যে সাবেক মডেল লিলি বার্নার্ডও রয়েছেন। মঙ্গলবারের রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মডেল জেনিস ডিকেসন এবং হাততালি দিয়ে রায়কে স্বাগত জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপেক্ষায় এস কে সিনহাঃ বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে...

[caption id="attachment_22706" align="alignleft" width="620"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা[/caption]

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা

ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়ে সিনহা বলেন, ‘এদেশে আমার কোনও স্ট্যাটাস নেই। আমি একজন শরনার্থী। আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি কিন্তু এখনও এর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ [caption id="attachment_22705" align="alignleft" width="300"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] সিনহা দাবি করেন, ‘তিনি লন্ডনের হাউজ অব কমনস, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারছেন না।’ অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এত ভীত থাকি যে, আমি ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে তার বাসা সব সময় মনিটর করে এবং যারা তার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়। বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়। শুধু তাই না, ২০১৪-এর নির্বাচনের পরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।’ [caption id="attachment_22704" align="alignleft" width="400"] ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে নিজের লেখা বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম[/caption] ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের লাভের জন্য সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে সিনহা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে কারণ আওয়ামী লীগ সেখানে ভারত বিরোধী সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে।’ তবে এধরনের সমর্থন ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের ‘দুটি পাকিস্তানের’ মুখোমুখি হতে হবে।” এ সময় তিনি দাবি করেন, বই প্রকাশের জন্য কারও কাছ থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা তিনি নেননি। ৮০০ পৃষ্ঠার বইয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে কেবল নিজের শেষ দিনগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

সিনহার বইয়ের পেছনে কারা খুঁজে বের করুন:

[caption id="attachment_22709" align="alignleft" width="350"] প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি-যুগান্তর[/caption] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রকাশের পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলব না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এই বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহা ওই বইয়ে তার পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেছেন। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন-ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এর প্রকাশনা উৎসবের কথা ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কি পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো বড় আইনজীবী এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা এর মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার ভাইয়ের নামে একটি বাড়ি কেনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ বাড়ি কিনতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, কে এবং কিভাবে এই বাড়ি কিনেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বইঃ  ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’

https://drive.google.com/file/d/1WknV34NNIjb8EdXkBt6DE78PCZNrLIlC

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিশাল ভূমিকম্প হয়ে গেছে’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, অনেক কিছু আইনে হয়ে যায়, আমরা খেয়াল করি না। বিশাল ভূমিকম্প হয়ে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও কিন্তু ভূমিকম্প হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা শেষ হয়ে যাবে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ : আশঙ্কায় মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শাহদীন মালিক বলেন, মিডিয়া শুধু ৩২ ধারায় সাংবাদিকতায় গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে গিয়ে আইনের ভয়াবহ দিকগুলো থেকে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে দিয়েছে। এই আইনের পরে হয়ত বাকস্বাধীনতা বলে আর কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা চিন্তা করি, আমেরিকার ১৭৯১ সাল থেকে আমরা কত পিছিয়ে আছি। আমেরিকার সোয়া দুই শ’ বছর আগের গণতন্ত্রে হয়ত আমি যেতে পারব না। কিন্তু দুই-একটা বিষয়ে কথা বলতে পারব, সে অধিকারটাও আমার থাকবে না। তিনি আরো বলেন, কম্পিউটার হ্যাকিং-সংক্রান্ত একটা আইনের দরকার ছিল এবং এ আইনে ওই সংক্রান্ত কিছু ধারা আছে, যেটার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এর সঙ্গে সব ধরনের কথা বলাটা কেমন করে চলে আসল? কম্পিউটারের বিষয়ে শাস্তির পাশাপাশি আমার মনে হয়, এর পেছনে বড় উদ্দেশ্য ছিল কথা বলা বন্ধ করা। ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, একজন ভিডিও লাইভে কী বলল, সে কারণে ৬০ দিন ধরে জেলে আটকে থাকবে। তাহলে তো যারা কোটি কোটি টাকা লোপাট করে নিচ্ছে, পাচার করে দিচ্ছে, তাদের চৌদ্দগোষ্ঠীকে পুরোটা সময় জেলে কাটানো উচিত। শাস্তি আসলে নির্ধারণ করছে কে? তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়টি এখনো পর্যন্ত যতটুকু আছে আমাদের মুখের মধ্যে। গণতন্ত্রের ছিটেফুটাও এ দেশে আর নেই। কিন্তু যে স্ট্রাকচারটা বলবৎ করতে চাই, যেটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বলি, সেই জিনিসগুলো এই আইনি কাঠামোর কারণে আর কোনোভাবেই থাকছে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলন, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের আইন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম সবথেকে বেশি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে শাস্তি অন্যদের তুলনায় ভয়াবহ। যেখানে ভারত বা পাকিস্তানে শাস্তি দুই বছর, একই অপরাধে বাংলাদেশ শাস্তি যাবজ্জীবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

কেন আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছিঃ সম্পাদক পরিষদ

সম্পাদক পরিষদ:

জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিচের মৌলিক ত্রুটিগুলো রয়েছে :

১. ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন প্রতিহত করা এবং ডিজিটাল অঙ্গনে নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন একটি আইন করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের কর্মকান্ডের ওপর নজরদারি, বিষয়বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের সংবিধানপ্রদত্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ২. এ আইন পুলিশকে বাসাবাড়িতে প্রবেশ, অফিসে তল্লাশি, লোকজনের দেহ তল্লাশি এবং কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সার্ভার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফরম-সংক্রান্ত সবকিছু জব্দ করার ক্ষেত্রে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। পুলিশ এ আইনে দেওয়া ক্ষমতাবলে পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহবশত যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৩. এ আইনে অস্পষ্টতা আছে এবং এতে এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এবং সহজেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন এক আতঙ্ক ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে সাংবাদিকতা, বিশেষত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। ৫. এ আইন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ছাড়াও কম্পিউটার ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি ব্যবহারকারী সব ব্যক্তির মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে। ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) প্রণীত হওয়ার সময় সরকার বলেছিল, সাংবাদিকদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কারণ, আইনটি করা হয়েছে সাইবার অপরাধ ঠেকানো ও সাইবার অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে। বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকসহ অন্য যাঁরা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করতে গেছেন, তাঁরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কারাভোগ করেছেন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখনো একইভাবে বলা হচ্ছে যে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ ঘটেনি, কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে যে এ আইনেও সাংবাদিকরা আবার একই ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হবেন। আইনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এ আইনের উদ্দেশ্য ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন, বিচার’ করা। তাই এ আইন নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তার সংজ্ঞায়িত পরিধি অনেক দূর ছাড়িয়ে গিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার পরিধির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। এ আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রকৃতির পরিপন্থী এবং তা অনুশীলনের প্রতিকূল, যে সাংবাদিকতা জনগণের জানার অধিকার সুরক্ষা করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি জনসমক্ষে উম্মোাচন করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কাজ ডিজিটাল প্রযুক্তির জগৎ নিয়ে, যে জগৎ অবিরাম বিকশিত হয়ে চলেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি জীবনের সর্বস্তরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা থেকে খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক লেনদেন পর্যন্ত সর্বত্রই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমও এর বাইরে নেই। অন্য ক্ষেত্রগুলোতে প্রয়োজন ‘নিয়ন্ত্রণ’, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজন ‘স্বাধীনতা’। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কেন্দ্রীয় বিষয় কেবলই ‘নিয়ন্ত্রণ’, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা এতে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্যতম মৌলিক ত্রুটি, এর ফলে এ আইন সংবাদমাধ্যমের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটা ভীতিকর দিক হলো, এতে পুলিশকে এমন অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার বলে একজন সাংবাদিক ভবিষ্যতে তথাকথিত কোনো অপরাধ করতে পারেন কেবল এই সন্দেহে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে। পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো জামিন-অযোগ্য। এর ফলে সাংবাদিকতা বাস্তবত পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়বে। উদ্বেগের আরও একটি বিষয় হলো, এ আইনের অপরাধ ও শাস্তিসংক্রান্ত প্রায় ২০টি ধারার মধ্যে ১৪টি জামিন-অযোগ্য, পাঁচটি জামিনযোগ্য এবং একটি সমঝোতাসাপেক্ষ। ন্যূনতম শাস্তির মেয়াদ করা হয়েছে এক বছর কারাদ-, সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ-। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ চার বছর থেকে সাত বছর কারাদ-। এর ফলে অনিবার্যভাবে একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যেখানে সাংবাদিকতার স্বাভাবিক অনুশীলন অসম্ভব না হলেও হয়ে উঠবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আইনটি শুধু তার উদ্দেশ্যের সীমানা অনেক দূর পর্যন্ত কেবল লঙ্ঘনই করেনি, এটি অস্পষ্টতায়ও পরিপূর্ণ। অস্পষ্টতার কারণে এ আইন অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব আইনের শব্দচয়ন সুস্পষ্ট, যেখানে অপরাধগুলো সুনির্দিষ্ট এবং অপরাধের সঙ্গে শাস্তির মাত্রা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেসবের মাধ্যমে ‘আইনের শাসন’ ভালোভাবে অর্জিত হয়। আইনের ভাষাগত অস্পষ্টতা থেকে অপরাধ সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা এবং আইনের অপব্যবহারের সুযোগ ঘটে। যখন আইনের অপব্যবহার ঘটে, তখন স্বাধীনতা খর্বিত হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আরেক ত্রুটি হলো ‘অপরাধীদের’ শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে একই সময়ে পাস করা সড়ক নিরাপত্তা আইনের কথা বলা যায়। এ আইনে দুর্ঘটনায় মানুষ মেরে ফেলার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদ-। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিধান করা হয়েছে, ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (১৯২৩) লঙ্ঘনের জন্য সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে। কোনো সাংবাদিক তার মোবাইল ফোনে অপ্রকাশিত কোনো সরকারি নথির ছবি তুললে অপরাধী বলে গণ্য হবেন, অথচ এটি আজকাল খুবই সাধারণ একটি চর্চা।

বিশদ ব্যাখ্যা

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থী, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধাত্মক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারাকে আমরা সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করছি, নিচে তা হুবহু তুলে ধরলাম। একই সঙ্গে সেসব নিয়ে আমাদের অবস্থানের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরলাম।

ধারা ৮

৮। কতিপয় তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার ক্ষমতা। (১) মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করিলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমত, ব্লক করিবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে, অতঃপর বিটিআরসি বলিয়া উল্লিখিত, অনুরোধ করিতে পারিবেন। (২) যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মাণ হয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের বা উহার কোনো অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ করে, বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহা হইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার জন্য মহাপরিচালকের মাধ্যমে, বিটিআরসিকে অনুরোধ করিতে পারিবেন। (৩) উপ-ধারা (১) ও (২)-এর অধীন কোনো অনুরোধপ্রাপ্ত হইলে বিটিআরসি, উক্ত বিষয়াদি সরকারকে অবহিতক্রমে, তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতো, ব্লক করিবে।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

এখানে দুটি উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। একটি মহাপরিচালকের (ডিজি) ক্ষমতা, অন্যটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ক্ষমতা। প্রকাশের বিষয়বস্তু ব্লক করার ক্ষমতা মুদ্রিত বা অনলাইন যে কোনো প্রকাশনার অন্তরাত্মাকে আঘাত করবে। কোনো সংবাদমাধ্যমের যে কোনো প্রতিবেদন ব্লক করা যাবে, যে কোনো আলোকচিত্র জব্দ করা যাবে এভাবে সংবাদমাধ্যমটির স্বাভাবিক কাজ বিঘ্নিত হবে। প্রকাশিত বিষয়বস্তু অপসারণ বা ব্ল­ক করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যুক্তি আইনটিতে এত অস্পষ্ট যে তা নানা ব্যক্তি নানাভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। এতে আইনটির অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, কোনো প্রকল্পে দুর্নীতির খবর প্রকাশ করার ফলে যদি সেটার অর্থায়নকারী বা কোনো বিনিয়োগকারী অর্থায়ন বন্ধ করে দেন, তাহলে এ আইনের অধীনে সংশ্লি­ষ্ট সাংবাদিক ‘অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি করা’র দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন এবং তা ওই খবর ব্ল­ক বা অপসারণ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ধারা ২১

২১। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার দন্ড। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালান বা উহাতে মদদ প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের প্রতি পরিপূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা উপলব্ধি করি যে এ বিষয়ে কিছু করা প্রয়োজন। তবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ খুবই অস্পষ্ট একটি শব্দবন্ধ। কী কী করলে তা এই ধারার অধীনে ‘অপরাধ’ বলে গণ্য হবে, তা সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট না করায় এবং ‘অপরাধগুলো’কে আরও সংজ্ঞায়িত না করায় এ আইনের গুরুতর অপব্যবহার ও সাংবাদিকদের হয়রানির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এর শাস্তি হিসেবে রাখা হয়েছে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদন্ড এবং/অথবা ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের বিধান। আমরা আবারও বলতে চাই, আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহান উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজম্মে র জন্য সংক্ষরণ করতে চাই। তবে আইন প্রণয়নের সময় আমাদের তা খুব স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখন যে অবস্থায় আছে, তা শুধু সাংবাদিকদের জন্যই ভোগান্তিমূলক হবে না, ইতিহাসবিদ, গবেষক, এমনকি কথাসাহিত্যিকদের মতো সৃজনশীল লেখকদেরও দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। এমনকি ভুল ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে অনেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বেশি লেখালেখিও করতে চাইবেন না।

ধারা ২৫

২৫। আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিযোগে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করিবার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

এই ধারা সংবাদমাধ্যমে সব ধরনের অনুসন্ধানী রিপোর্টিংকে সরাসরি বিরূপভাবে প্রভাবিত করবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মসংক্রান্ত ঘটনা নিয়েই এ ধরনের প্রতিবেদন করা হয়ে থাকে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সাংবাদিক ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানকে ভয় দেখাতে এ আইন ব্যবহার করতে পারেন। তারা এই অজুহাত দেখিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন যে ওই প্রতিবেদনে তাদের আক্রমণ করা বা হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সব প্রতিবেদনই উল্লিখিত এক বা একাধিক বিধানের আওতায় পড়ে বলে মন্তব্য করা হতে পারে এবং সংবাদমাধ্যমকে হয়রানির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি উম্মোাচন করে, এমন যে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বিরক্তিকর’, ‘বিব্রতকর’ বা ‘অপমানজনক’ হতে পারে। এ বিধান কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ অসম্ভব করে তুলবে। এটি সংবাদপত্রকে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানে পর্যবসিত করবে। এমনকি সাংবাদিকতার সাধারণ অনুসন্ধানও অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্বিতীয় ধারায় ‘বিভ্রান্তি ছড়ানো’র কথা বলা হয়েছে। ‘বিভ্রান্তি ছড়ানো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করা না হলে এই ধারা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের হয়রানি করার হাতিয়ারে পরিণত হবে। একজনের কাছে যা বিভ্রান্তিমূলক, আরেকজনের কাছে তা না-ও হতে পারে। সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই নতুন একটি পথ তৈরি করবে। রাষ্ট্রের ‘ভাবমূর্তি ও সুনাম’ ক্ষুণœ করা বলতে কী বোঝায়? সম্প্রতি আমরা ব্যাংক খাতে বিভিন্ন বিবেকহীন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দুর্নীতির খবর পরিবেশন করেছি। সেসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জনগণকে জানিয়েছি যে ব্যাংক খাত গুরুতর সংকটে পড়েছে। এতে কি ‘ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন হয়েছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দুর্নীতি নিয়ে আমরা সংবাদ পরিবেশন করেছি। আমরা ‘হেফাজতে মৃত্যু’, ‘গুম’ ও ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছি। কেউ যদি ব্যাখ্যা করেন যে এসব প্রতিবেদন রাষ্ট্রের ‘ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন করেছে, তাহলে এ আইন এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করায় সাংবাদিক ও সংবাদপত্রগুলোকে শাস্তি দেওয়ার বৈধতা দেয়। কারণ, প্রায় সব সংবাদপত্রেরই নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অনলাইন পোর্টাল রয়েছে।

ধারা ২৮

২৮। ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি। (১) যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উসকানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ একটি অস্পষ্ট পরিভাষা। একজন সাংবাদিক কীভাবে জানবেন কখন ও কীভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ আহত হয়েছে? এ পরিভাষা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং কোনো সাংবাদিকই এ ধরনের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে স্বস্তিবোধ করবেন না। এটি সমাজের বড় একটি অংশে সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিরীক্ষণ বাধাগ্রস্ত করবে। বহির্বিশ্বে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করা সম্ভব হতো না, যদি ওইসব দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘আঘাত’ করে, এমন সংবাদ প্রকাশ রুখতে আইন থাকত। বেআইনি ফতোয়া ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করাও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি ‘আঘাত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। এই ধারা সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের হয়রানি করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ধারা ২৯

২৯। মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার, ইত্যাদি। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে Penal Code (Act XLV of 1860)-Gi section 499--এ বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

মানহানির অভিযোগ বিচার করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি আইন থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি নিয়ে আলাদা কোনো আইন নিষ্প্রয়োজন। উপরন্তু একই অপরাধে পত্রিকার চেয়ে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত শাস্তির যুক্তি থাকতে পারে না।

ধারা ৩১

৩১। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দন্ডে। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লি­ষ্ট শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

দলিত বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর কোনো শোষণ সম্পর্কে পরিবেশিত একটি সংবাদ-প্রতিবেদনের এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে যে সেটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের দুঃখকষ্ট তুলে ধরে লেখা প্রতিবেদন এভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে যে তাতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। একইভাবে সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষ, আসন্ন হরতাল বা বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে পরিবেশিত সংবাদ ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকারী’ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এ আইনের আওতায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমন খবর পরিবেশিত হতে পারে যে কোনো বিক্ষোভের সময় এক ব্যক্তি মারা গেছেন, পরে জানা যেতে পারে যে খবরটি সত্য নয়। তাহলে কি সংবাদমাধ্যম ‘গুজব ছড়ানো’র অপরাধ করবে? সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এ রকম ভুল হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে ভুলের সংশোধনীও প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, এমনকি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যায় হেরফের হয়। সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে সব সময়ই বেসরকারিভাবে সংগৃহীত তথ্যের অমিল থাকে। এ ধরনের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ‘গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। কখনো কখনো আমরা কিছু পূর্বাভাসমূলক খবরও পরিবেশন করতে পারি, যা পরে ঠিক সেভাবেই না-ও ঘটতে পারে। এ ধরনের প্রতিবেদনও ‘গুজব ছড়ানো’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এভাবে দেখতে পাচ্ছি, এই ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করবে।

ধারা ৩২

৩২। সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গের অপরাধ ও দন্ড। (১) যদি কোনো ব্যক্তি Official Secrets Act, 1923 (Act No. XIX of 1923)-এর আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদ-, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। (২) যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা অনধিক এক (এক) কোটি টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ঔপনিবেশিক আমলের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণমূলক আইন, যা ব্রিটিশ প্রশাসনকে সব ধরনের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। আমরা মর্মাহত হয়ে সেটিকে ডিজিটাল প্লø্যাটফরমে টেনে আনতে দেখলাম। সরকার যা প্রকাশ করে না, তা-ই ‘সরকারি গোপন তথ্য’ বলে বিবেচিত হতে পারে। একটি উদাহরণ দিই। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ব্যাংক খাতের অনিয়ম সম্পর্কে কয়েক ডজন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। বলা হতে পারে, এ ধরনের সব প্রতিবেদনই অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। প্রকাশ করা হয়নি, এমন সব সরকারি প্রতিবেদনই অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় পড়ে, এমনকি পরিবেশদূষণ বা শিশুপুষ্টি নিয়ে সরকারি প্রতিবেদন ইত্যাদিও। এ ধরনের কোনো তথ্য ছাড়া কি অর্থপূর্ণ সাংবাদিকতা সম্ভব? আর যেখানে তথ্য অধিকার আইনের বলে জনগণের ‘জানার অধিকার’ রয়েছে বিশেষত যখন এ ধরনের সব প্রতিবেদন তৈরি করা হয় জনগণের অর্থ ব্যয় করে সেখানে এসব প্রতিবেদন সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহার করা কেন ‘অপরাধ’ বলে গণ্য হবে? বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারি দফতরের অপ্রকাশিত প্রতিবেদন ছাড়া ফারমার্স বা বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে কি আমরা কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে পারতাম? আমাদের প্রতিবেদকের হামেশাই মোবাইল ফোনে এ ধরনের দলিলের ছবি তুলতে হয়। কাজেই তাদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া যেতে পারে, তাই তো? এ আইনের প্রবক্তাদের কাছে আমাদের উদাহরণগুলো ‘হাস্যকর’ ঠেকতে পারে। কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা প্রয়োগের বাস্তব নজির সাংবাদিকদের কোনো স্বস্তির কারণ জোগায়নি।

ধারা ৪৩

৪৩। পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্ল­াশি, জব্দ ও গ্রেফতার। (১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে কোনো স্থানে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে বা হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা সাক্ষ্য প্রমাণাদি হারানো, নষ্ট হওয়া, মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপায়ে দুষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে নিম্ন বর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন : (ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ; (গ) উক্ত স্থানে উপস্থাপিত যে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি; (ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার।

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিধান এটি। এতে পুলিশকে যে কোনো জায়গায় প্রবেশ, যে কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থায় তল্লাশি চালানো, যে কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও সার্ভার জব্দ করা, যে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি এবং শুধু সন্দেহবশত যে কাউকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতারের হুমকি স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধার সৃষ্টি করবে। পুলিশ যখন স্রেফ সন্দেহবশত ও পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা পাবে, তখন এ আইনের ছায়াতলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কবর রচিত হবে। আইনটির ২০টি শাস্তির বিধানের মধ্যে যখন ১৪টিই জামিন-অযোগ্য, তখন গ্রেফতারের ঝুঁকি প্রত্যেক সাংবাদিকের মাথার ওপর ডেমোক্লেসের খড়্্গের মতো সব সময় ঝুলতে থাকবে, মানসিক চাপ সৃষ্টি করে রাখবে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকতার সব পন্থা বাধাগ্রস্ত হবে। আমাদের সংবাদমাধ্যম নিছকই জনসংযোগ কর্মকা- ও প্রচারণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এমনকি সাংবাদিকদের ওপর এ আইনের প্রয়োগ না হলেও (আইন থাকলে প্রয়োগ হবেই না বা কেন?) ভীতির পরিবেশে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা অনুভব করবেন। গ্রেফতার-আতঙ্ক তাদের ‘মানসিক পরিবেশের’ এক প্রাত্যহিক অংশ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদন তৈরির কাজে তারা নিয়মিত যেসব সংগত ঝুঁকি নিয়ে থাকেন, এই ভীতির কারণে সেসব ঝুঁকি নিতে তারা আর সাহস পাবেন না। এই বিধানের ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে, তা খাটো করে দেখা ঠিক নয়। খুব সহজেই ধরে নেওয়া যায় যে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা এ আইনের অপব্যবহার করবেন। ধনী ও ক্ষমতাসীনেরা গোপন রাখতে চান, এমন বিষয়ে যে কোনো সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লি­ষ্ট সাংবাদিককে হুমকি দিতে, এমনকি গ্রেফতার করতে তারা আইন প্রয়োগকারীদের প্ররোচিত বা ‘হাত করতে’ পারেন। এ আইনের আরও বিপজ্জনক দিক হলো, সব সংবাদপত্র ও টেলিভিশন স্টেশনই এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় কাজ করে বলে কম্পিউটার ও সার্ভারসহ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক জব্দ করার ক্ষমতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত তাদের যে কোনো সংবাদপত্র, টিভি স্টেশন বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করলে তার কার্যক্রম থেমে যেতে পারে। এভাবে কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না করেই আইনের এ ধারায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে সংবাদপত্রের প্রকাশনা বা কোনো টিভি স্টেশনের কার্যক্রম রুদ্ধ করে দেওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ধারা ৫৩

৫৩। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা। এই আইনের :(ক) ধারা ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪-এ উল্লিখিত অপরাধসমুহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হইবে; এবং (খ) ধারা-১৮-এর উপধারা (১) এর দফা (খ) ২০, ২৫, ২৯ ও ৪৮-এর উপধারা (৩) এ উল্লিখিত অপরাধসমুহ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে;

সম্পাদক পরিষদের মন্তব্য

এ আইনের প্রায় ১৯টি ধারার ১৪টির ক্ষেত্রেই অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য। পুলিশকে নিছক সন্দেহের কারণে এবং পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়ায় এবং এতগুলো অপরাধের অভিযোগকে আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য করায় আইনটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি এক বাস্তব হুমকি।

উপসংহার

১. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিকদের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, যা যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে আমাদের সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে;
২. এ আইন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং যেসব মহান আদর্শ ও মুক্তির জন্য আমাদের শহীদেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেসব লঙ্ঘন করে;
৩. গণতন্ত্রের মূলনীতি, গণতান্ত্রিক শাসন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও ১৯৭১ সালের পরবর্তী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যেসব গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আমাদের জনগণ বার বার লড়াই করেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেসবের পরিপন্থী;
৪. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সব মূল্যবোধের পরিপন্থী;
৫. এ আইন তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেন আমাদের সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী, তা আমরা ওপরে বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বিশদভাবে বিশ্লে­ষণ ও ব্যাখ্যা করেছি। এসব কারণে সম্পাদক পরিষদ এ আইন প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়েছে। এ আইন আমাদের সংবিধানের ৩৯(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং ৩৯(২) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ‘যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে’ (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার, এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা খর্ব করে। পরিশেষে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু কথা উদ্ধৃত করতে চাই। ১৯৫৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে সংবিধান প্রণয়নসম্পর্কিত এক বিতর্কে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেছিলেন: ‘আপনারা বলে থাকেন যে বাক-স্বাধীনতা মানেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।’ ‘আপনি কি জানেন যে পূর্ববঙ্গে সম্পাদকদের ডেকে বলা হয়, আপনারা এটা ছাপাতে পারবেন না, আপনারা ওটা ছাপাতে পারবেন না। স্যার, তারা সত্য কথা পর্যন্ত লিখে ছাপাতে পারেন না এবং আমি সেটা প্রমাণ করে দিতে পারি।... নির্দেশটা যায় সচিবালয় থেকে...। সরকারের তরফ থেকে একজন ইন্সপেক্টর গিয়ে নির্দেশনা দেন যে, আপনি একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে লিখতে পারবেন না।... ‘এটা পরিষ্কারভাবে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে, তারা তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন এবং জনমত গড়ে তুলতে পারবেন।’  

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ ৯৩ শতাংশ জনগন এই আইনের বিপক্ষে

স্বাধীনতার আবেগ বাংলাদেশ নামের ভুখন্ডের অধিবাসীদের হয়তো সব সময়ই ছিলো, এখনো যে নেই তা বলা যাবে না। তবে সম্ভবত একবারই এই স্বাধ আর আনন্দ মানুষ ভোগ করেছে, তা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। গত ৪৭ বছর ভালো মন্দ কি হয়েছে সেই আলোচনায় আজনাইবা গেলাম। সম্প্রতি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করেছে। অনেকেরই এতে আপত্তি! বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। গনতন্ত্র নিয়ে যারা পৃথিবী জুড়ে সোচ্চার তারাও এর নিন্দা করছেন। এরা বলছেন এই আইন বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরন করবে। কেউ কেউ আইনটিকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। কিন্তু সাধারন মানুষ এই আইনকে কিভাবে নিয়েছে জানতে ফেসবুকে আমার টাইমলাইন আর পেইজ থেকে একটি নির্দোষ জরিপ চালিয়েছিলাম। গতকাল দুপুর থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ১,৫৭১ জন। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ১,৪৬৭ জন অর্থাৎ শতকরা হিসেবে ৯৩.৩৮ জন এই আইনকে পছন্দ করছেন না। তবে ১০৪ জনের সমর্থন রয়েছে আইনটির প্রতি, শতকরা হিসেবে যাদের সংখ্যা ৬.৬২ জন। জরিপে অংশ নিয়ে অনেকে আইনটি সম্পর্কে নানা রকম মন্তব্যও করেছেন। সেগুলো পড়তে চাইলে আমার টাইমলাইন বা পেইজ ঘুরে আসতে পারেন। যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন, শেয়ার করেছেন; লাইক আর কমেন্ট করে পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রানবন্ত ও বিশ্বাসযাগ্য করে তুলেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10155871586076623&id=696941622

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর  জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে বিলটি পাস হয়। এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার–সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯–এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে। আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেন। তবে সেসব আপত্তি টেকেনি। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। তবে এর মধ্যে তিনজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো এ আইনেও চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

ফখরুল ইমাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এটি আইনে পরিণত হলে তা সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি কল্যাণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি তাতে বাধা সৃষ্টি করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিকের সমস্ত ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারকে সহযোগিতা প্রদান এবং বাধাহীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। বিরোধী দলের সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার যে কথা বলা হয়েছে, এই আইন হবে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধরার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও আইনে তা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইন গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করবে। নির্বাচনের আগে সমাজের এ রকম একটি বিশাল প্রগতিশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করা ঠিক হবে না। নুরুল ইসলাম মিলন, নুর ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবিন মোর্শেদ, রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারি, মোহাম্মদ নোমান বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বলেন, সময়োপযোগী বিলটি আরও আগে আসা উচিত ছিল। প্রচুর যাচাই বাছাই হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে আইনটি পাস করা হোক। সাংসদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট দেখলে দেখা যাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কী পরিমাণ আলোচনা করেছি। আইনমন্ত্রী যে কতবার তাদের সঙ্গে বসেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। যেটা সংসদে উত্থাপিত বিল ও সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হবে। তারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছেন তাসহ যেসব জায়গায় যে ধরনের সংশোধন করা দরকার আমরা করেছি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ নেতৃবৃন্দ সংসদীয় কমিটি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথাগুলো বলেছেন, তা সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন। না হলে এই বিল সম্পর্কে তাদের সমালোচনার অবস্থান বিরাজ করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়টি এই আইন খুলে দেবে।’ মোস্তফা জব্বার বলেন, সাংবাদিকেরা ৩২ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেখানে তারা গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলেছিলেন-সংসদীয় কমিটি সেটাকে সংশোধন করে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা বলেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগের নজির নেই। মোস্তফা জব্বার দাবি করেন, তাঁরা সাংবাদিকদের সামনে সব উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের কথা অনুসারে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার তার সবই করেছেন। সংবাদপত্র দমন বা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন নয়। এই আইন কেবল ডিজিটাল অপরাধ দমন করার জন্য। ভবিষ্যতে ডিজিটাল যুদ্ধ হবে উল্লেখ করে মোস্তফা জব্বার বলেন, এই যুদ্ধে যদি রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, রাষ্ট্র যদি বিপন্ন হয় তাহলে অপরাধটা আমাদেরই হবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন। আমরা একটি ঐতিহাসিক কাজের সাক্ষী হয়ে সংসদে থাকছি।’ পরে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। তবে ফখরুল ইমামের দেওয়া একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এই আইন কার্যকর হলে তথ্যও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল হবে। তবে এসব ধারায় বিচারাধীন মামলা এসব ধারাতেই চলবে। গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।   আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ

প্রধানমন্ত্রীর দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করা হয়েছে।
বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা প্রদান করে। খবর: বাসস শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষ ৮’এ অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্বর্ধনায় ডাইরেক্টর জেনারেল অব ইন্টারন্যাশাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর উইলিয়াম লুসি সুইং’র কাছ থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এতে কো-অডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মার্ক লোকক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক কানাডার মন্ত্রী মারী-ক্লাউড বিবেউ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন, আইপিএস ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক ফারহানা হক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে তার অসাধারণ নেতৃত্বে জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ডিনারে সংস্থাটির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকেভা ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণকারী অপর ৩ বিশ্ব নেতা হলেন— নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহমাদু ইসুফি, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট রেজী কেইড এসেবসি ও গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এলেক্স সিপ্রাস। পদক গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের আশ্রয়ে হৃদয় ও ঘরবাড়ি উন্মুক্তকারী আমার দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি। এই মহতী অনুষ্ঠানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি বিশ্বের নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন সকল দায়িত্বশীল জাতির দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। এছাড়া আবাসন গড়ে তোলা ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই সংকটের উৎস ভূমি হচ্ছে মিয়ানমার। এ জন্য এর সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ, মর্যাদপূর্ণ ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও পুনঃএকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুস্পষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে যে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারেই এই সমস্যার সমাধান করা এবং আরো বিতাড়ন বন্ধে দেশটির সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করা। এছাড়া এক্ষেত্রে জবাবদিহিতার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমারে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সে সময় আমি এবং আমার পরিবার ঢাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলাম। ওই বন্দীদশার মধ্যে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, তিন ভাই এবং এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ভাবী ও চাচার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আমাকে ৬ বছর দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার অঙ্গনে অনেক অবদানের জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সম্মানিত করার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ও এর অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমি যে কারণে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি তা কখনো আশা করিনি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্মম নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের প্রতি তাদের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী অন্যান্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.