পুলিশের ইনভেস্টিগেশন মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ : প্রধান বিচারপতি

পুলিশের ইনভেস্টিগেশন মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের ইনভেস্টিগেশন মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন ‘আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে প্রাক্তন ও বর্তমান আইজিপিকে ডেকে বলেছিলাম, আপনাদের ইনভেস্টিগেশন মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। আপনাদের ট্রেনিং দরকার। আপনারা যেসব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন, এ ট্রেনিং থিওরেটিক্যাল। প্র্যাকটিকাল ট্রেনিং হয় না।’ রোববার সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁয়ে মানব পাচার সমস্যা উত্তরণ বিষয়ক এক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত। সেনসেশনাল মামলাগুলোর ক্ষেত্রে দেখি ত্রুটি থাকে। বিভিন্ন কোর্ট ঘুরে মামলা আমাদের কাছে আসলে আমরা সাজা দেওয়ার মতো কিছু পাই না। কারণ আমরা সাংবিধানিক কোর্ট। এখানে শুধু ইনভেস্টিগেশন অফিসারদের ত্রুটি আছে, সেটা বলব না। প্রসিকিউশনেরও ত্রুটি আছে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে জনপ্রতিনিধিরা আছেন। আপনাদের জেলায় পাবলিক প্রসিকিউটররা দলীয় লোক। এরা সিআরপিসির (ফৌজদারি কার্যবিধি) সি-ও জানে না। আমাদের ম্যাক্সিমাম আইনজীবী টাকার দিকে ঝুঁকে যাওয়া। টাকার মোহ প্রত্যেকের আছে। আইনের দিকে খেয়াল রাখে না। যার ফলে তদন্ত প্রসিকিউশন হচ্ছে ফাউন্ডেশন। এটা যদি ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়, তাহলে কোনো মতে মামলা টেকানো যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পিপি এপিপি সাহেবরা সেনসেশনাল মামলারগুলোর ক্ষেত্রে কেবল পত্রিকায় টেলিভিশনে নাম প্রচার করে। কিন্তু যা সাক্ষ্য প্রমাণ দেয় তা অখাদ্য।’ আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থাকে উদ্দেশ্যে করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অপরাধ উদঘাটনের আগে মিডিয়ায় প্রকাশ যেন না করা হয়। যেমন মানব পাচার। এ ক্ষেত্রে যারা পেছনে থাকে, তাদের আগে ধরে তারপর মিডিয়ায় প্রকাশ করা যেতে পারে। না হলে পেছনের লোকেরা তদবির করে ছাড়া পেয়ে যায়।’ মানব পাচারে আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে বলা হয়েছে, খুব ভালো একটা আইন হয়েছে। আমি আপনাদের সবাইকে বলব, খুবই খারাপ আইন হয়েছে। এখানে এ আইন কেন, এক হাজারটা আইন করেন। কোনোটাই হবে না। আমাদের পেনাল কোডের কিডন্যাপিং বা অ্যাবডাকশন আইন আছে। সেটাকে ঘষে-মেজে এ আইনটা করা হয়েছে। প্রশ্নটা হলো ইমপ্লিমেন্ট করা।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনগুলো চিন্তা চেতনা না করে করা হয়। আইনগুলোর উদ্দেশ্য, মোটিভ পাওয়া যায় না। আইনে ফাঁক থেকে যায়। যার ফলে আইন করার এক মাস/দুই মাসের মধ্যে সংশোধন করতে হয়। আমরা যেন হুজুগে আইন না করি।’ মামলার স্থগিতাদেশের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনগুলো সচেতনভাবে করা দরকার। তদন্ত ভালো করে করা দরকার। তাহলে মামলা স্থগিত হলেও সেগুলোর স্থগিতাদেশ তুলে দেব।’ ‘সাম্প্রতিক মানবপাচার পরিস্থিতি এবং সমস্যা উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে এইচআইভি/এইডস, মানবপাচার, জনসংখ্যা ও অভিবাসন সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ এবং মানবাধিকার সর্ম্পকিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ। ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাছান মাহমুদ আলী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপাক ড. মিজানুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, স্বরাষ্ট্র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, মেহজাবিন মোরশেদ এমপি, ইসরাফিল আলম এমপি, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এমপি প্রমুখ। রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ জুলাই ২০১৫/মেহেদী/সাইফুল
 

মুকুলের সাজা প্রাপ্য, তন্বীর পাশে আছি

পারিবারিক সহিংসতা

মুকুলের সাজা প্রাপ্য, তন্বীর পাশে আছি

২৮ জুন ২০১৫, ১৭:১৬ |
[caption id="" align="alignleft" width="650"] নাজিয়া আফরিন[/caption] নাজিয়া আফরিন
একে অপরকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন তাঁরা।দুজনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতেই ঘর আলো করে আসে এক মায়াবতী কন্যা। মেয়েকে নিয়ে কত স্বপ্ন তাদের। একটু একটু করে চোখের সামনে বড় হতে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় ঐশ্বর্য। কিন্তু চাইলেই কি মানুষ পারে তার স্বপ্নের পূর্ণতা দিতে? বাস্তবতার এই কঠোরতার সাথে মানুষ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই মুখোমুখি হয়। তাই মা-বাবার সব ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে মায়াবতী কন্যা পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে। সন্তান হারানোর এই তীব্র কষ্ট মেনে নিতে না পেরে মা লাফিয়ে পড়েন পাঁচতলা বিল্ডিং থেকে। মরতে মরতেও বেঁচে যান মা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চারপাশের মানুষের ভালোবাসাতেই হয়তো অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন দুঃখিনী মা। তারপর? স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে যে ধারণাটা আসে তা হলো সন্তান হারানো মৃত্যুপথযাত্রী স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে স্বামী নিশ্চয়ই পরম মমতায় আবারও নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবেন। ধারণাটা অমূলক নয়। স্বামী প্রাণীটি ঠিকই স্বপ্ন দেখেছেন তবে তত দিনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেছে। তিনি স্বপ্ন দেখছেন একেবারেই নতুন করে, নতুন মানুষকে নিয়ে। এ পর্যন্ত পড়ে অনেকেই নিশ্চয়ই ভাবছেন এ আর নতুন কি? আমাদের চারপাশেই এ ধরনের ঘটনা কতই তো ঘটছে। অন্যায় জানলেও মেয়েদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতার সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সমাজ। কিন্তু যে দম্পতির কথা বলছি তারা খুব সাধারণ কেউ নন। তারা দুজনেই স্বনামধন্য সাংবাদিক- নাজনীন আক্তার তন্বী ও রকিবুল ইসলাম মুকুল। এ কারণেই বললাম তাঁরা সাধারণের চেয়ে কিছুটা হলেও আলাদা কারণ সমাজের অন্ধকার দিকগুলোতে আলো ফেলা কিংবা কোনটা ন্যায়, কোনটা অনৈতিক সে বিষয়ে খুব ভালো ধারণা নিয়েই তাঁরা কাজ করেন। কিন্তু তন্বীর সাথে মুকুল যে অমানবিক আচরণগুলো করেছে তা লেখাপড়া না জানা নৈতিকতা শব্দের মানে না জানা কোনো মানুষও করতে পারে না। সহকর্মী হিসেবে মুকুলের আচরণ নিজেকে খুব ছোট করে দিয়েছে আমাদের। যদি ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলি, তন্বী আপা আর মুকুল ভাইয়ের কলিগ ছিলাম। তাই তন্বী আপার মেয়ে চন্দ্রমুখী (মুকুল ভাইকে এই সম্পর্কের ভিতরে টানতে খুব ঘৃণা হচ্ছে, তাই শুধু তন্বী আপার মেয়ে বললাম) যখন মারা গেল, বইমেলাতে কিংবা এসাইনমেন্টে যখনই ওদের সাথে দেখা হতো খুব কষ্ট হতো। তন্বী আপার সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে অনেক সময় লেগেছে, সে সময় বইমেলাতে চন্দ্রমুখীকে নিয়ে লেখা মুকুল ভাইয়ের বই বেরিয়েছে। কিন্তু তখনো জানা ছিল না চেনাজানা এই মানুষ নিজের মধ্যে কি বিশাল বৈপরীত্য নিয়ে ভালো মানুষের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শে তন্বী আবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তী সময়ে মুকুলের সেই অনাগত সন্তানের প্রতি যে আচরণ সে দেখিয়েছে তা কোনো বর্বর মানুষ ছাড়া করতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুকুল নিজে স্ট্যাটাস দিয়েছে, এই সন্তান তার কাঙ্ক্ষিত সন্তান নয়। আর তন্বী তার কাগজের বউ। এমনকি সন্তানসম্ভবা তন্বীর গায়ে হাত তুলতেও পিছপা হয়নি এই ভদ্রলোক! কারণ? তন্বী যখন বাঁচা-মরার লড়াই করছে, মুকুল তখন ব্যস্ত নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে। এমনকি বেহায়ার মতো ফেসবুকে অন্য নারীর সাথে ঘনিষ্ট ছবি দিতেও এতটুকু দ্বিধা হয়নি তার। এখানেই শেষ নয়, তন্বীর পূর্বাচলের প্লট বিক্রি করে সেই টাকাও হাতিয়ে নিতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেনি সমাজের এই বিশিষ্ট সাংবাদিক! তন্বীর ওপর নির্যাতন করেছেন প্রকাশ্যেই অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাসায় থেকেছেন, তন্বীর টাকা আত্মসাত করে আবার তাকে কিছু করা যাবে না বলেও আস্ফালন করেছেন মুকুল। শুধু কি তাই? নিজের সন্তানের কোনো খোজঁখবর নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি! দিনের পর দিন শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করে অবশেষে আইনের সহায়তা চাইলেন তন্বী। শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মুকুলকে। এই ঘটনা শোনার পর অনেকের মতোই আমারও মনে হয়েছিল তন্বী তো কোনো সাধারণ মেয়ে নন, তবে কেন এত দিন ধরে এই মুখোশধারী নামকাওয়াস্তে স্বামীর ঘর করছিলেন? কেন আরো আগেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেননি? আমার এই প্রশ্নের জবাব সংবাদমাধ্যমেই জানিয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাজনীন আক্তার তন্বী- ‘সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এত দিন অপেক্ষা করেছি।’ তন্বীর এই কথাতে আমি ধাক্কা খেয়েছি। তন্বীর মতো স্বাবলম্বী, অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, মানুষের বিপদে পাশে অনেক ভরসা নিয়ে দাঁড়ায় যে মেয়েটি, তার বিপদের দিনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মুকুল, তিনি তন্বীর সন্তানের কোনো দায়-দায়িত্ব নেননি, সামাজিকভাবেতাঁকে হেয় করেছেন, অসুস্থ মানুষটিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন, মানসিকভাবে যখন তার পাশে থাকার কথা, তখন অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে, তাকে অপমানিত করেছেন, তন্বীর মতো মেয়ে কি না দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছে তার স্বামী হয়তো একদিন তার ভুল বুঝবে? তা ঠিক। তন্বীর ভাবনাকে আমরা ভুল ভাবতে পারি না। কারণ, নীতি-নৈতিকতার নিক্তিতে প্রতিদিন যাদের দিনযাপন সেই পর্যায় থেকে একজন মানুষ এতটা নিচে নামতে পারে তা ভাবার জন্য মানসিকতা তৈরি হওয়ারও তো সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু আমার ভয় এখন অন্যখানে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তন্বী মামলা করেছেন মুকুলের বিরুদ্ধে। তাকে যেন রিমান্ডে না নেওয়া হয়, তার তোড়জোড়ও করা হয়েছিল। এমন অনেকেই আছেন যারা মুকুল দোষী জেনেও তার পাশে দাঁড়াবে। তাকে সাহায্য করতে যতটা নিচে নামা যায় তাঁরা সেটা নামবেন। হয়তো তন্বীর বিরুদ্ধেও নানান কুৎসা রটাতেও এঁরা পিছপা হবেন না। আমার এসব আশঙ্কার কথা শুনে হয়তো আমাকে হতাশাবাদী মানুষ বলবেন। কিন্তু আমি আবেগতাড়িত হয়ে এসব কথা বলছি না। আমার এই আশঙ্কার পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম উদাহরণটা আমি আগেই দিয়েছি। মুকুলের যেন রিমান্ড না হয় তার চেষ্টা হয়েছিল, যদিও এটা হওয়াটা কাম্য ছিল না। আরেকটি প্রমাণ হলো ফেসবুক। মুকুল অ্যারেস্ট হওয়ার পর ফেসবুকে সংবাদটি অনেকেই শেয়ার করেছেন। তাতে কমেন্টগুলো খেয়াল করলেই দেখা যায়, অনেকেই বলছেন দুই পক্ষেরই কথা শোনা উচিত। সেই নীতিবানদের প্রতি বলছি, আপনারা যখন দিনের পর দিন মুকুলের পোস্টে অন্য নারীর সাথে তার ঘনিষ্ঠ ছবি দেখেছেন, তখন দুই পক্ষের কথা শুনতে চাননি কেন? কেন আপনারা দাবি করলেন না তন্বী কেন চুপ করে আছে? তন্বীর কেন অন্য কারো সাথে এমন ঘনিষ্ঠ ছবি নেই? আমি নিশ্চিত, এই আপনারাই গোপনে গোপনে ছবিগুলো দেখেছেন, ফিসফিসিয়ে সমমনাদের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে রসালো গল্প করেছেন। আমি জানি, এই কথাগুলো শুনে অনেকেই আমাকে গালি দেবেন, বলবেন নারীবাদী কথা বলছি। না, আমি মোটেও নারীবাদী নই। আমি নিজেকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখেছি। এই আপনারাই কিছুদিন পরে- তন্বী বেশি বাড়াবাড়ি করেছে, মামলা তুলে ফেলে দুজনে মিলেমিশে সংসার যেন করতে পারে- সেটার জন্য সালিশ করবেন। তন্বীকে বোঝাবেন, তুমি তো মেয়ে। তোমাকেই ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে মাফ করে দাও। তোমার টাকা নিয়েছে সে তো তোমার স্বামীই, তোমার ওপর তার অধিকার আছে। আরেকটা মজার বিষয় আমি খেয়াল করেছি, সংবাদটি অনেক অনলাইনেই এসেছে, পত্রিকাতেও এসেছে কিন্তু মুকুলের ছবি ছাপায়নি। কেন? লজ্জা লাগে? তার মানে যাঁরা ছবি ছাপাননি. তারা গোপনে গোপনে মনে ঠিকই সমর্থন করেন মুকুলকে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, যদি মুকুলের ভূমিকায় থাকতেন তন্বী, তাহলে নিশ্চয়ই ফলাও করে ছবি আসতো তার, নিউজটা ‘সসি’ করতে হবে না! দিনশেষে আসলে মেয়েরা মেয়েই। তন্বী যত বড়ই সাংবাদিক হোক না কেন, দেশের আর ১০ জন সাধারণ মেয়ের মতোই সে। তন্বীর ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এ দেশের মেয়েরা কেমন আছে। কত তন্বী গোপনে সব অত্যাচার সহ্য করে চোখের জল মুছে, প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই করছে। মুকুলকে মনের গহীনে যারা সমর্থন করছেন, সে যে পেশার পুরুষ মানুষই হোন না কেন, তিনি কিন্তু ভাবছেন নারী তাদের কাছে ভোগ্যপণ্যই। অনেকেই মুকুলের মতো ভালো মানুষের মতো মুখোশধারী হয়ে বসে আছেন। এদের কোনো স্ত্রী নেই, এদের কোনো মায়াবতী চন্দ্রমুখী নেই( কীভাবে মুকুল ভুলে গেল তার মেয়ের কথা, ছোট্ট যে চন্দ্রমুখী তার ঘর আলো করে এসেছে তার মাঝে খুজেঁ নিল না চন্দ্রমুখীকে)!!! তন্বীর পাশে আমরা আছি। আজ তন্বীর হেরে যাওয়া মানে আমাদের পরাজয়, একজন মায়ের পরাজয়, একজন মেয়ের পরাজয়। আশা করব মুকুল তার কৃতকর্মের জন্য যথাযোগ্য সাজা পাবে। লেখক : সাংবাদিক

জনগণ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটা হতে পারে না :...

জনগণ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটা হতে পারে না : প্রধান বিচারপতি
জনগণ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটা হতে পারে না : প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমরা পতাকা উড়িয়ে ঘুরে বেড়াবো, জনগণের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করবো, বেতন নিবো আর সেই জনগণ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটা হতে পারে না। বিচারকদের সময় মতো অফিসে যেতে হবে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিতে হবে বিচারকদের। তিনি সোমবার রাত ৯টায় ফরিদপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা জজশিপের জুডিসিয়াল কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলার বিচার বিভাগ, সিভিল প্রশাসন ও আইনজীবীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মেডিক্যাল রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রিপোর্ট সঠিক না হলে বা ভুল হলে প্রকৃত আসামি ছাড়া পেয়ে যায়, এক্ষেত্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রভাবিত হওয়া যাবে না । রিপোর্ট সঠিক এবং ষ্পষ্টভাবে দাখিল করতে হবে। প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে আরো বলেন, নিরাপত্তার কারনে বিচারকদের ভাড়া বাসায় থাকা উচিত নয়। বিচারকদের ভাড়া বাসায় থাকা ন্যায় বিচারের জন্য সহায়ক নয়। তাই বিচারকার্য যারা পরিচালনা করেন তাদের স্বত্ন্ত্র আবাসন ব্যবস্থা থাকা দরকার। আসন্ন পবিত্র রমজানে খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজাল রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে মোবাইল কোটের মাধ্যমে কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী, পুলিশ সুপার জামিল হাসান, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুনা নাহিদ আক্তার, পাবলিক প্রসিকিউটর খসরুজ্জামান দুলু, গভর্মেন্ট প্লিডার অসিত কুমার , সিভিল সার্জন ডা. অসিত রঞ্জন দাস, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো, ফরিদপুর আইজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম প্রমুখ । মানবকণ্ঠ/
 

বিচারকরা ট্রেড ইউনিয়নের মতো দাবি দাওয়া নিয়ে হাজির হব না

বিচারকরা ট্রেড ইউনিয়নের মতো দাবি দাওয়া নিয়ে হাজির হব না: সিনহা image ৩০ মে: বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমি ইচ্ছা করে কাউকে আঘাত দিতে চাইনি। আমি যা বলি তা হলো, বিচার বিভাগ একটা রাষ্ট্রের একটা অঙ্গ। আমরা চাই তাদের (নির্বাহী বিভাগ)'র সঙ্গে কো-অপারেট করে হারমোনিয়াসলি চলতে। আজ (শনিবার) দুপুরে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মহিলা জজদের নানা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি এটাও বিশ্বাস করি, আমরা বিচারকরা ট্রেড ইউনিয়নের মতো দাবি-দাওয়া নিয়ে হাজির হবো না, আমরা বিচারক। বিচারকের মতো কাজ করবো। আমি ইচ্ছে করে কাউকে আঘাত দিতে চাইনি। আমি যা বলি সেটা হলো, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটা অঙ্গ। আমরা চাই তাদের সঙ্গে কো-অপারেট করে হারমোনিয়াসলি চলতে। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি জানেন যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মান-মর্যাদা রক্ষার্থে কিছু ন্যায্য দাবি রয়েছে বিচারকদের। আমি এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করার জন্য কিছু বলিনি। আমি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার জন্য বলি। সরকারের আর দু’টো অঙ্গের বিষয়ে আমরা কোনোভাবে অস্বীকার করছি না। এ দুই প্রতিষ্ঠান যাই করুক না কেন, বিচার বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া প্রশাসনিক বা নির্বাহী বিভাগের কোনো কাজ কার্যকর করা যাবে না। এ সময়, বিচার বিভাগের আরো আধুনিকায়ন, শূন্যপদে বিচারক নিয়োগ ও জেলা পর্যায়ে বিচারকদের ভবন নির্মাণ হলে মামলা জট কমানো সম্ভব বলে জানান, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আর দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিচার বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা করবে আইন মন্ত্রণালয়, এমনটাই আশ্বাস দিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জানান, জনবল ও অর্থ সহায়তা না পেলে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্ভব নয়। বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রধান বিচারপতির নেয়া পদক্ষেপেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী।#   রেডিও তেহরান/এসএম/জিএআর/৩০  

জিডি কি? এবং তা করার সহজ উপায়

জিডি কি? এবং তা করার সহজ উপায়

নারী-শিশু নির্যাতনে সাজার হার ১ শতাংশের কম:

নারী-শিশু নির্যাতনে সাজার হার ১ শতাংশের কম: image ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দেশে প্রতিবছর শত শত মামলা হলেও মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা পাওয়ার হার এক শতাংশেরও কম। দেশের তিনটি জেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৭৩টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও এতে সাজা পেয়েছেন মাত্র ১৮৬ জন—যা শতকরা হিসাবে দশমিক ৯৪ শতাংশ মাত্র। ঢাকা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের মামলা পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক তানজিনা শারমিন ও আতিয়া নাজনীন। এই গবেষণায় সহযোগিতা করেছে ইউকেএইড ও ইউএনডিপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলায় মোট মামলা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯১৫টি। আর ছয় বছরে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২২ হাজার ৭৩টি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ২ হাজার ৬০৮টি, ২০১০ সালে ২ হাজার ৬৪২টি, ২০১১ সালে ৩ হাজার ৩২টি, ২০১২ সালে ৪ হাজার ২৭৯টি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৯৭০টি এবং ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৫৪২টি। নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় সাজা পেয়েছেন মাত্র ১৮৬ জন। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৫৪ জন, ২০১০ সালে ৪৮ জন, ২০১১ সালে ২৩ জন, ২০১২ সালে ২৭ জন, ২০১৩ সালে ১৫ এবং ২০১৪ সালে ১৯ জন। সে হিসাবে ২০০৯ সালে সাজা পাওয়ার হার ১ দশমিক ৯২ শতাংশ থাকলেও ২০১৪ সালে তা দশমিক ৪০ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ছয় বছরে মামলা থেকে খালাস পান মোট ১২ হাজার ৫৪ জন। ২০০৯ সালে মামলা থেকে খালাস পাওয়ার হার ছিল ৯৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশে। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, এই প্রতিবেদন থেকেই বোঝা যায়, বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে সিংহভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের আশংকা >> সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিতে পারে ধর্ষণ

বিশেষজ্ঞদের আশংকা >> সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিতে পারে ধর্ষণ

প্রধান বিচারপতির অভিযোগের পরদিনই বন্দি মেয়েকে যৌন নির্যাতন

29 May, 2015
বন্দি মেয়েরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অভিযোগের পরদিনই গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই কেন্দ্রে একজন কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কাওসার ভূঁইয়া নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গত মঙ্গলবার ২৬ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বন্দি মেয়েদের উপর যৌন নিপীড়নের স্পষ্ট অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন ঢাকা ও সিলেট কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘গাজীপুরে অনেক যুবতী মেয়েকে ৫৪ ধারায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করা হয় না। জেলা জজকে এ বিষয়টি তদন্ত করে তালিকাসহ রিপোর্ট দিতে বলেছি। জেলা জজ জানিয়েছেন, মেয়েদের আদালতে উপস্থাপন করা হয় না। কারণ তাদের যৌন কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে (ড. মিজানুর রহমান) সুপ্রিম কোর্টে আমার কার্যালয়ে ডেকে এনে লিস্টসহ ওইসব নারীর তালিকা দিয়েছিলাম। অনেক দিন হয়ে গেছে, দেখার মতো কিছুই হয়নি।’ পরদিনই গত বুধবার এক কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী কাওসার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রমাণ পেয়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা তালুকদারের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিত কাওছার ভুঁইয়া (৩০) কিশোরগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকার হারিস ভূইয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে ওই কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে চাকরিরত ছিলেন। এদিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) এস এ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য শুনে তিনি নিজে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে থাকা কিশোরীদের কাছে জানতে চেয়েছেন তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। তখন পাঁচ ছয়জন মেয়ে অভিযোগ করে তারা নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোস্তফা কামাল জানান, এক মেয়ের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কাওসার ভূঁইয়া নামের এক নিরাপত্তা রক্ষীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র ছাড়াও গাজীপুরের কারাগার এবং মহিলা উন্নয়ন কেন্দ্রের বন্দীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উৎসঃ   অনলাইন বাংলা

ইমিগ্রেশনে অন্তহীন হয়রানি

ইমিগ্রেশনে অন্তহীন হয়রানি * ঘুষ-দুর্নীতির দৌরাত্দ্য থামছেই না * যাত্রীদের প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য চলছেই: -সাঈদুর রহমান রিমন image দেশের নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে যাত্রী হয়রানি চরমে পৌঁছেছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড, যাত্রীদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, যে কোনো ছুতায় হয়রানির প্রবণতায় বিদেশগামী ও দেশে ফেরত মানুষ দুঃসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ইমিগ্রেশনের একশ্রেণির কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না তুলেই যাত্রীদের পাসপোর্ট আটক করে পাঠিয়ে দেন এসবির প্রধান কার্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীর পাসপোর্ট বা ভিসায় কী ধরনের গলদ রয়েছে সে কথাটিও উল্লেখ করা হচ্ছে না নোটিসের ফরমটিতে। এ জন্য কোনো রকম কৈফিয়ত ও জবাবদিহিতা ছাড়াই যে কারও পাসপোর্ট আটক করে তার বিদেশযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন তারা। অন্যদিকে কোনোভাবে বিরোধী কোনো দলের যাত্রীর নাম আছে জানতে পারলে তার যেন আর রেহাই নেই। রীতিমতো অফিসারের কক্ষে ডেকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের হয়রানি চালাতেও দ্বিধা করছে না।এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিভিন্ন এয়ালাইনস এজেন্টের সমন্বয়ে অভিনব প্রতারণা শুরু হয়েছে। সেখানে এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিরা টিকিটধারী যাত্রীকেও বোর্ডিং পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে নানারকম টালবাহানা করেন। তারা নিজেদের বিক্রি করা এয়ারলাইনস টিকিট নিয়েও অযৌক্তিক সন্দেহ পোষণ করাসহ পাসপোর্ট, ভিসা ও যাত্রীদের ফেরত আসা না আসা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বোর্ডিং পাস আটকে রাখে। এ সময় বিদেশগামী যাত্রীরা বিমানযাত্রা বাতিলের আশঙ্কায় চাহিদা-মাফিক টাকা পরিশোধের মাধ্যমে বোর্ডিং পাস সংগ্রহে বাধ্য হন। কিন্তু যেসব যাত্রী উৎকোচের দাবি পূরণ করেন না, তাদের ওইদিন আর বিমানে ওঠা ভাগ্যে জোটে না। এয়ারলাইনস কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও অযৌক্তিকভাবে বোর্ডিং পাস আটকে রাখার কারণে যাত্রা বাতিল হওয়া যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরতও দেওয়া হয় না। এমনকি পুনরায় টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো নজির নেই। দুর্ভোগক্লান্ত যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের বাইরের তুলনায় ভিতরের ঘাটে ঘাটে হয়রানি ও ভোগান্তির মাত্রা কয়েকগুণ বেশি। যাত্রী সেবায় নিয়োজিত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর পুলিশ, কাস্টমস, কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরতদের একটা বড় অংশই নিয়মিত যাত্রী হয়রানি করছে। বিমানবন্দর অভ্যন্তরের অন্তত ১০টি ধাপে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতানোর ধান্ধায় নানারকম হয়রানি চালানো হয়। যাত্রীরা বিদেশ গমনের সময় বহিরাগমন লাউঞ্জের প্রবেশমুখে কর্তব্যরত একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর খপ্পরে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। টার্গেটকৃত যাত্রীদের পাসপোর্ট, টিকিট ইত্যাদি চেক করার সময় জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে। তাই তিনি দেশ ছেড়ে যেতে পারবেন না। বিমানে ওঠার চূড়ান্ত মুহূর্তে এমন অভিযোগের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। দিশাহারা যাত্রী আকুতি-মিনতি করতে থাকেন। এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার নামে যাত্রীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে ঘুষ বাণিজ্য আর লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের পেট্রাপোল চেকপোস্টে ‘মে আই হেল্প ইউ’ অফিস বসিয়ে, অন্যদিকে বেনাপোল চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনে যাত্রী সেবার দোহাই দিয়ে ঘুষবাণিজ্য ও হয়রানির উৎসবে মেতে উঠেছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ঘুষ দিতে না পারলে যাত্রীদের মারধর করার মতো গুরুতর অসদাচরণ করতেও দ্বিধা করছে না ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও থানা পুলিশের সদস্যরা। তাদের মধ্যে অঘোষিত দুর্নীতির সমঝোতায় যাত্রীদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে। কিছুদিন আগে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ১৭টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এরপর থেকে যেন যাত্রী হয়রানি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় যাবতীয় কর্মকাণ্ড। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হলেও যথেষ্ট দক্ষ নন। সেখানে আইটি অদক্ষতাতেই সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধীরলয়ে কোনোমতে কাজকর্ম চালিয়ে নেন শুধু। এতে যাত্রীদের প্রতীক্ষার প্রহর হয় দীর্ঘ। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সময় লাগে প্রচুর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের করাচি ও মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে একেকজন যাত্রীর সমুদয় কাগজপত্রাদি পরীক্ষা করতে জনপ্রতি ৫/৭ মিনিট সময় লাগে। অথচ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে একেকজন যাত্রীকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ২০/২৫ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অদক্ষ কর্মী দিয়ে কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থাপনা চালাতে গিয়ে ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র শেষ করতে বেশির ভাগ সময়ই ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। ইমিগ্রেশনের পুরনো সার্ভারটির কর্মক্ষমতা হারানোর উপক্রম। বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামাতেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে সার্ভার। এ অবস্থায় একই সঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করলে বিমানবন্দরের গোটা ব্যবস্থাপনাই যেন ভেঙে পড়তে চায়। তখন যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এ ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির এটিএস অ্যান্ড অ্যারোডম বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মক্ষম ৪০টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার রয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে ১৪টি কাউন্টার বরাবরই বন্ধ থাকে। তাই অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড় সামাল দিতে প্রায়ই ইমিগ্রেশন বিভাগকে হিমশিম খেতে হয়। এই বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশিরা। তারা দেশে ফেরা ও কর্মস্থলের উদ্দেশে দেশত্যাগ- উভয় ক্ষেত্রেই চরম হয়রানির শিকার হন।ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসব প্রবাসী কর্মজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকেন।হাজারো অভিযোগ, একের পর এক বৈঠক, মন্ত্রী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সিভিল এভিয়েশনের কড়া তদারকি, প্রশাসনিক নজরদারিসহ গোয়েন্দা বিভাগগুলোর নানামুখী তৎপরতায়ও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। যারা যাত্রীদের হয়রানিমুক্ত করার দায়িত্বে নিয়োজিত তারাই উল্টো যাত্রী হয়রানির কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছেন। কনকর্স হল, মূল ভবন, ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস পোস্টসহ ঘাটে ঘাটে চলে হয়রানির মচ্ছব। তুই তুকারি থেকে শুরু করে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ আর হুমকি-ধমকিতে যাত্রীদের অস্থির-উদ্বিগ্ন করে তোলা হচ্ছে।

জমি কেনার আগে করনীয়, এড়িয়ে চলুন ঝামেলা

নতুন জমি কিংবা ফ্ল্যাট কিনছেন? লক্ষ্য রাখুন বিশেষ কিছু ব্যাপারে

(প্রিয়.কম) নিজের একটি আবাস্থলের স্বপ্ন সকলেই দেখে থাকেন। একারনেই নতুন করে বাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা জমি কেনার কথা ভেবে থাকেন অনেকেই। আজকাল জমি কেনা অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। কারণ সুযোগ সুবিধাসহ সঠিক স্থানে জমি পাওয়া অনেক কঠিন। সে কারণে অনেকেই ফ্ল্যাটের ওপরেই ভরসা করে থাকেন। জমি বা ফ্ল্যাট কেনা অনেক অর্থের ব্যাপার। তাই এই সম্পর্কে অনেক সতর্কতার প্রয়োজন। নতুন জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় কিছু ব্যাপারে অবশ্যই লক্ষ্য করা উচিৎ।

খুব বিশ্বস্ত না হলে দালালদের মাধ্যমে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা থেকে বিরত থাকুন

জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় অনেকেই দালালদের ওপর ভরসা রেখেই কিনে থাকেন। কিন্তু জমিতে আইনগত কোনো সমস্যা আগে কি না তা আপনাকেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শুধুমাত্র সময় এবং কষ্ট বাঁচানোর চিন্তা করে দালালের ওপর ভরসা করে এতো বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজে এই কাজটি করার চেষ্টা করুন। ভালো কোনো ডেভেলপার কোম্পানির শরণাপন্ন হোন।

জমি বা ফ্ল্যাটের সকল কাগজপত্র সঠিক কিনা দেখুন

অনেক সময় একই ফ্ল্যাট বা জমির অনেক দাবীদার খুঁজে পাওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে ধোঁকা দিয়ে অনেকের কাছে একই জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রয়। তাই কাগজপত্র ও আইনি সকল দিক ভালো করে পরীক্ষা না করে এই বিষয়ে এগুবেন না।

বাজারদর সম্পর্কে খোঁজ রাখুন

প্রতিটি জমির স্থান পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য আলাদা। গুলশানে ১ কাঠা জমির মূল্যের সাথে গাজীপুরে ১ কাঠা জমির মূল্যের পার্থক্য অনেক। একই ব্যাপার ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও ঘটে। তাই জমি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে বাজারদর সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান রাখবেন।

চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ে দেখুন

একবারে টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বা জমি কেনা এবং কিস্তিতে টাকা পরিশোধের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। এবং এগুলোর চুক্তিও আলাদা হয়ে থাকে। চুক্তিপত্রে সই করার আগে প্রতিটি পয়েন্ট ভালো করে পরে নেবেন। নতুবা পরে আইনি সমস্যায় আপনাকেই পড়তে হতে পারে।
জমি কেনার আগে করনীয়, এড়িয়ে চলুন ঝামেলা
ড. বদরুল হাসান কচি ক্রয়ের আগে অবশ্যই জমি সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র খুব সতর্কতার সাথে যাচাই বাছাই করা উচিত। কারন সামান্যতম অসতর্কতার ফলে আপনি জালিয়াতির শিকার হতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে আপনি আপনার কষ্টার্জিত টাকা ও মূল্যবান সময় দুটোই হারাবেন। তাই জমিজমা ক্রয়ে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।  
  • যে ব্যাক্তি জমিটি বিক্রয় করবে ঐ জমিতে বিক্রয়কারীর মালিকানা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। তাই প্রস্তাবিত জমিটির সর্বশেষ রেকর্ডে বিক্রয়কারীর নাম আছে কিনা দেখতে হবে। সিএস, আরএস ও অন্যান্য খতিয়ানের ক্রম মিলেয়ে দেখতে হবে। যিনি আপনার কাছে জমিটি বিক্রি করছে তিনি যদি অন্য কোনো ব্যাক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তাকে জমিটির ভায়া দলিল রেজিস্ট্রিশানের সময় উপস্থাপন করতে হবে।
  • যেকোনো উপায়ে জমির মালিকানা হলেও জমিটির নামজারি ঠিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।  যদি বিক্রেতা ওয়ারিশসূত্রে জমিটির মালিক হয় তবে বিক্রেতার ফরায়েজ সার্টিফিকেট, বাটোয়ারা দলিল, পূর্বপুরুষদের মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করে নিতে হবে। এই ধরনের জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রিয়েমশন বা অগ্রক্রয় একটি গুরত্তপূর্ণ বিষয়, তাই আইনানুযায়ী সকল অংশীদারকে নোটিশ প্রদান করতে হবে। কেউ আপত্তি জানালে সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি ক্রয় করা উচিত নয়। এজমালি জমি ক্রয়ে সকল অংশীদারগণকে সাফ কবলা দলিলে সাক্ষী রাখা অতীব জরুরী তাহলে পরবর্তীতে কোন আপত্তি তোলার সুযোগ থাকবে না। সবচেয়ে গুরত্তপূর্ণ বিষয় হল বিক্রেতা জমির যতটুকু অংশ বিক্রয় করতে সক্ষম তার বেশী ক্রয় করা একদমই উচিত নয়।
  • বিক্রেতা যদি অন্য কোন সূত্রে জমিটির মালিক হয় যেমন-দান, নিলাম, ডিক্রিমূলে ইত্যাদি তবে জমি প্রাপ্তির সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করা উচিত।
  • জমিটির হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা আছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। ভূমি কর না দেয়ায় অনেক সময় সার্টিফিকেট মামলা করা হয়। এছাড়াও ভূমিতিতে অন্য কোন মামলা আছে কিনা তা দেখতে হবে।
  • জমিতে বিক্রেতার শান্তিপূর্ণ দখল কার্যকর আছে কিনা তা ভালো করে যাচাই করে দেখতে হবে। কারন কোন সম্পত্তির বা জমির প্রকৃত মালিকানা বলতে দলিল ও দখল দুই-ই বুঝায়। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ।
  • জমিটির পাশে সরকারের খাস জমি আছে কিনা অথবা জমিটিতে সরকারের কোন স্বার্থ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। জমিটি অর্পিত কিংবা পরিতিক্ত সম্পত্তির তালিকায় আছে কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও দেখতে হবে জমিটি আগে কখন অধিগ্রহণ হয়েছিল কিনা বা প্রক্রিয়াধীন আছে কিনা অথবা ওয়াকফ, দেবোত্তর বা কোর্ট অব ওয়ার্ডসের জমি কিনা।
  • জমিটি কখনো খাজনা অনাদায়ে বা অন্য কোন কারনে নিলাম হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে।
  • ঋণের কারনে জমিটি ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে।
  • জমিটির প্রকৃত মালিক জমিটিতে কোনো অ্যাটর্নি বা আমমোক্তার নিয়োগ করেছে কিনা জেনে নিতে হবে। বিক্রেতা যদি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়ে থাকে, তাহলে  যাচাই করে দেখতে হবে আসলে তিনি জমিটি বিক্রি করার পাওয়ার পেয়েছেন কিনা। আমমোক্তারনামাটি যথাযথ হয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্যে প্রকৃত মালিকের সাথে যোগাযোগ করে দেখতে হবে।
  • জমিটি এর আগেও অন্য কোন ব্যাক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল কিনা তা দেখে নিতে পারেন।
  • যদি আপনি কোনো আদিবাসীর জমি কিনতে চান তাহলে রেজিস্ট্রি করার সময় রেভিনিউ কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি নিতে হবে। তবে এক আদিবাসী অন্য আদিবাসীর কাছে জমি বিক্রি করতে এই নিয়মটি মানতে হবেনা।
অতএব, জমি ক্রয়ের সময় উপরোক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জমি ক্রয় করলে কোনরূপ জালিয়াতির শিকার হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।   লেখক: ড. বদরুল হাসান কচি, আইনজীবী ও সম্পাদক; 'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি

পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি: ড. বদরুল হাসান কচি image অনেকে হয়ত জানে না পণ্য কিনে ঠকলে বা কোনো প্রতারণার সম্মুখীন হলে তা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তার রয়েছে। ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দণ্ডের বিধান রেখে ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ প্রণীত হয়েছে।  যেসব অপরাধে জরিমানা করা হয় সেগুলোর মধ্য রয়েছে মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের খুচরা বিক্রিমূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ইত্যাদি লেখা না থাকা, পণ্য ও সেবামূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্য দাবি করা। এছাড়া ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত পণ্য বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাসাধারণকে প্রতারিত করা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করা। বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে, পরিমাপে, দৈর্ঘ্য পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা, জরিমানা পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কাজ, অবহেলা করে সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য ইত্যাদির ব্যাঘাত ঘটানো। অপরাধের শাস্তি: উপরোক্ত অপরাধগুলোর জন্য আইনে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে অনূর্ধ্ব তিন বছর পর্যন্ত কারাদ- এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। বিচার পদ্ধতি: এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার করা হবে। কোনো ব্যক্তি কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করবেন এবং অভিযোগ দায়েরের ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল না হলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করবেন না। ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের আদালতে আপিল করা যাবে। উল্লেখ্য, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য। মামলা করার সীমাবদ্ধতা: এই আইনের অধীনে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কাজের অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো মামলা সরাসরি দায়ের করা যায় না। মামলা দায়েরের এখতিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রয়েছে মাত্র। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ না করলে তা গ্রহণও করা হবে না। জরিমানার টাকায় অভিযোগকারীর অংশ: অভিযোগের সত্যতা মিললে জরিমানার ২৫ শতাংশ নগদ টাকা অভিযোগকারীকে দেওয়া, গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে সরাসরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগসহ নানা বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বেড়েছে ভোক্তাদের অধিকারের আওতা। এছাড়া গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে গণশুনানি। প্রতি সোমবার কারওয়ানবাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যেকোনো ভোক্তা অংশগ্রহণ করে সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ জানাতে পারেন। এছাড়া আইন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলেও তা করার সুযোগ রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জরিমানার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ করার পর তার সত্যতা মিলতে হবে। তাহলেই জরিমানা করা হয়। অভিযোগ পাঠানোর নিয়ম ও ঠিকানা অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস করে বা ফ্যাক্স, ই-মেইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে : মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১, কারওয়ানবাজার (টিসিবি ভবন ৮ম তলা), ঢাকা এবং উপ-পরিচালক জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র। এছাড়াও সকল জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ করা যাবে। ই-মেইল: dncrp@yahoo.com এছাড়া অধিদপ্তরের www.dncrp.gov.bd   ওয়েবসাইটেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_pdf_part.php?id=1014 লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক, ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

ভাইকে বোনের ধর্ষক সাজানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ:

ভাইকে বোনের ধর্ষক সাজানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ: image চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ ও ধর্ষক শাহ আলমসহ জড়িতদেরকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ১৫ জুন একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৫ মে) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা না নেয়া কেন বে-আইনী ঘোষণা করা হবে না, ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জনতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি), চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওই মামলার আইওসহ দশজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। রিট আবেদনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলামেইল২৪.কম ও ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়। গতকাল রোববার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এদিকে এঘটনায় অভিযুক্ত ৬২ বছর বয়সী সমজাপতি শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করতে যাচ্ছেন ভিকটিমের মা নুর নাহার বেগম। আজ সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তিনি। পাশাপাশি জঘন্য এ কাজের মূল হোতাসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকাররে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নুর নাহার বেগম। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নে ১৩ বছর বয়সী দরিদ্র পিতার এক শিশুর ধর্ষণকারীকে বাঁচাতে ধর্ষিতার ১৫ বছর বয়সী আপন ভাইকেই ধর্ষক সাজিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। একাজে রাঙ্গুনীয়া থানা পুলিশের তিন কর্মকর্তা ও সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী একজন জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ মদদ দেয়া ও ভিকটিমের পরিবারসহ প্রশাসনকে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

বিচারিক আদালতের প্রতি সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা

বিচারিক আদালতের প্রতি সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা: image মামলাজট কমাতে বিচারিক আদালতের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট। এতে কার্যদিবসের দ্বিতীয়ার্ধে কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে দেশের সব জেলা ও মহানগর দায়রা জজ বরাবর সম্প্রতি এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি অধিকাংশ জেলা আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার দ্বিতীয়ভাগে আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। সারাদেশের বিচারিক আদালতে প্রায় ২৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। সেক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার একান্ত জরুরি। সম্প্রতি এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এত মামলা অনিষ্পন্ন রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় না।’ এ পরিস্থিতিতে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি, বিচার লাভের সহজগম্যতা নিশ্চিত করা ও বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালতগুলোর মামলাজট হ্রাসের নিমিত্তে বিচারিক আদালতের বিচারকদের তিনটি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা আছে বিচারকরা আবশ্যিকভাবে বিচারিক কর্মঘণ্টার দ্বিতীয়ভাগে বিবিধ মামলাগুলো বিশেষ করে ফৌজদারি বিবিধ মামলার আবেদনপত্র সংক্রান্ত শুনানি গ্রহণ করবেন। এরপরও সময় অবশিষ্ট থাকলে আপিল, রিভিশন ইত্যাদি মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয়ত যেসব আদালতে বিবিধ মামলা বিচারাধীন নেই সেসব আদালতে কর্মঘণ্টার দুই ভাগেই মূল মামলা, আপিল মামলা, রিভিশন মামলার শুনানি গ্রহণ করে বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারিক আদালতগুলোর মামলাজট নিরসনে প্রত্যেক জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে ‘মামলা ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। /ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার আর্জি!

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার আর্জি! image প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করতে খুলনার আদালতে আর্জি দিয়েছেন আইনজীবী এম এম তৌহিদুজ্জামান। বিচারক ফারুক ইকবালের এজলাসে বুধবার সকালে আর্জি দাখিল করা হয়। আদালত এদিন বিকেল ৩টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু ওই সময় আদালত না বসায় আর্জির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাদী এবং তার পক্ষের একদল আইনজীবী বিকেলে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আদালতে অপেক্ষা করে ফিরে যান। মামলার আর্জিতে বাদী অভিযোগ করেন, ১৭ মে (রবিবার) কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামক একটি এনজিও কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে শত শত ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, সুধীজনসহ উক্ত সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান অতিথি হিসেবে মন্তব্য করেন যে, ‘শুধুমাত্র আইনজীবীর ক্রটির কারণে ৬০-৭০ ভাগ মামলায় বিচারপ্রার্থীরা হেরে যান।’ এ ছাড়াও প্রধান বিচারপতি দেশের সমগ্র আইনজীবীকে নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আর্জিতে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ‘গত ৮-১০ বছর ধরে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে হেয়প্রতিপন্ন ও ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান বিচারপতি সজ্ঞানে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে সেমিনারে বক্তব্য রেখে স্বার্থান্বেষী মহলের পারপাস সার্ভ করার জন্য আইনজীবী সম্প্রদায় ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে চরম নেতিবাচক মন্তব্য করে উক্ত স্বার্থান্বেষী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মন্তব্য করেছেন, যা দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যড়যন্ত্রের অংশবিশেষ। আইনজীবীদের কাজ বিচারকার্য পরিচালনা ও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বিজ্ঞ আদালতকে সহয়তা করা। আর বিচারকের কাজ হচ্ছে সঠিক সিদ্ধান্ত বা রায় প্রদান করা। সে জন্য তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়, ৭০ ভাগ মামলায় যে ভুল সিদ্ধান্ত হয় এর জন্য আইনজীবীরা কোনোভাবে দায়ী নহে। আইনজীবীগণ সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা, অনুদান বা বেতন ভাতা ছাড়াই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছেন।’ বাদী তার তিন পৃষ্ঠার আর্জির শেষ প্যারায় বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশের সংবিধানের পার্ট-৬ চ্যাপ্টর-১ আর্টিকেল ১১৬ [এ]-এ বলা হয়েছে, ‘বিচারকগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।’ কিন্তু সংবিধানের কোথাও বিচারকগণ ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করলে বিচার হবে না— এমন কিছু বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই। অতএব বাদীর এই নালিশি আবেদনটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে ৫০০ ধারায় সমন ইস্যু করতে মর্জি হয়।” আর্জিতে বাদীসহ আরও পাঁচজনকে সাক্ষী দেখানো হয়েছে। বিবাদীর ঠিকানায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, পিতা : ললিত মোহন সিনহা, স্থায়ী ঠিকানা : তিলকপুর, থানা : কমলগঞ্জ, জেলা : মৌলভীবাজার উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী এম এম তৌহিদুজ্জামান মিডিয়াকে বলেন, ‘আর্জি দিয়েছি। শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালত না বসায় শুনানি হয়নি। আমরা এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’ খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী শাহীন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আদালতে একজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আর্জি দিয়েছেন। যে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জি দাখিল করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।’ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী শামিম বলেন, ‘আর্জি দাখিলের কথা শুনেছি। আদালতের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’ খুলনা প্রতিনিধি/ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল এফবিআই

image বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও বাংলা একাডেমি এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সদস্যরা। শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে চার সদস্যের এফবিআই প্রতিনিধি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা টিএসসি ও বাংলা একাডেমি এলাকা পরিদর্শন করে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তারা ওই স্থান ত্যাগ করেন। এফবিআই সদস্যরা অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থলে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন, ঘটনাস্থলের ছবি তোলেন। image ডিবি পুলিশের উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, এফবিআই প্রতিনিধি দলটি অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের স্থান ও বাংলা একাডেমি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। তারা এ হত্যার ঘটনায় আমাদেরকে টেকিনিক্যাল সহযোগিতা করছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা তারা করবে। তিনি বলেন, ডিবি ও এফবিআই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ হত্যার তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তদন্ত উল্লেখযোগ্য সফলতা এলে আমরা গণমাধ্যমকে জানাবো। এর আগে, ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ বৈঠক হয়। এ সময় তারা আমাদের কাছে অভিজিৎ হত্যার প্রাথমিক ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা তাদের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অবহিত করেছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর দল ঢাকার আসার কারণ সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা অভিজিৎ হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে নয়, আমাদের তদন্তে সহায়তা করতে এসেছে।’ প্রতিনিধি দলটি তদন্তে সহায়তার জন্য কয়েক দিন ঢাকায় অবস্থান করবে বলেও জানান তিনি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লেখক দম্পতি অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ বন্যা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় অভিজিতের। গুরুতর আহত বন্যাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বন্যা। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার চাইলে তদন্তে সহযোগিতা করার কথাও জানায় দেশটি। এরপর ১ মার্চ হত্যাকাণ্ড তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। (দ্য রিপোর্ট/মার্চ ০৬, ২০১৫) -

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.