Home প্রবাস

প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ

২৩৩ বাংলাদেশীসহ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণ হারালেন এক লাখ মানুষ। ২৬ মে মঙ্গলবার রাত ১১টায় প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে নিউইয়র্ক স্টেটে ২৩ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতেই মারা গেছে ১৬ হাজার ৪১০ জন। অর্থাৎ বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটি হচ্ছে করোনাভাইরাসেরও প্রধান টার্গেট।[caption id="attachment_24271" align="aligncenter" width="1024"]Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND Photo credit: New York National Guard on Visualhunt / CC BY-ND[/caption] এ প্রসঙ্গে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞসহ নিউইয়র্কের স্টেট গভর্নর এ্যান্ড্রু ক্যুমো বহুবার অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ফেব্রুয়ারিতেই যদি ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে আসা ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হতো তাহলে এমন মহামারির কবলে হয়তো নিউইয়র্ক অঞ্চলের মানুষদের পড়তো হতো না। স্টেট গভর্নর যুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, চীন থেকে এই ভাইরাস ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সব দেশের লোকজন জেএফকে এবং নিউয়ার্ক এয়ারপের্ট হয়ে এ অঞ্চলে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, মার্চের শেষ সপ্তাহে এ দুটি এয়ারপোর্ট বন্ধ করা হয়। আরো উল্লেখ্য, ২১ মার্চ থেকে নিউইয়র্ক অঞ্চলে ‘ঘরে থাকার নির্দেশ’ জারি করা হয় যা এখনও বহাল রয়েছে। এদিকে, ২৬ মে সোমবারও নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে করোনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। হাসপাতাল এবং স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, নিহতরা হলেন হবিগঞ্জের সন্তান এবং ব্রঙ্কসের বাসিন্দা শামসুল ইসলাম জীবন (৫০) এবং মোহাম্মদ আলম (৪৮)। এর একদিন আগে অর্থাৎ ঈদের দিনও দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ৫ চিকিৎসকও রয়েছেন। এদিকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পুনরায় শংকা প্রকাশ করেছেন যে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ একেবারেই থমকে দাঁড়ায়নি, তেমন স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্টভাবে অভিমত পোষণ করেছেন যে, লকডাউন শিথিলের মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তবে এসব আহবানে ন্যুনতম পাত্তা না দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত হবার জন্যে। এমনকি, সোমবার ‘মেমরিয়্যাল ডে’ উইকেন্ডেও চার্চ, আগেরদিন রবিবার মসজিদে ঈদ জামাত করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিছু কিছু মানুষ এতে সাড়া দিলেও অধিকাংশই তা বর্জন করেছে। আর যারা মসজিদে ঈদ জামাত করেছেন তারাও স্বাস্থ্যনীতি মেনেই তা করেছেন। এমনকি প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্টেটসমূহের লকডাউন শিথিল করার সাংবিধানিক এখতিয়ার হচ্ছে স্টেট গভর্নরদের। একারণে বাস্তবতার আলোকে স্টেট গভর্নররা পদক্ষেপ নিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। নিউইয়র্ক সিটি ছাড়া প্রায় পুরো স্টেটে লকডাউন শিথিলের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। সিটিতেও মৃত্যুর হার এবং হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির হার কমছে গত দেড় সপ্তাহ থেকে। এটি অব্যাহত থাকলে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে লকডাউন শিথিলের পথ সুগম হবে বলে ২৬ মে প্রেস ব্রিফিংকালে আশা পোষণ করেছেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো। অপরদিকে, মিশিগানে মামলা-মোকদ্দমা সত্বেও লকডাউনের মেয়াদ জুনের ১২ তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্টেট গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার। নিউইয়র্কে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ মে বৃহস্পতিবার। জনজীবন এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করার অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে করোনা টেস্টকে বলা হচ্ছে। অথচ এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিসাধিত হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র এক কোটি ৪৬ লাখ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার (৩৩০ মিলিয়ন) শতকরা  ৪.৪ ভাগের টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জোন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে। সোমবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, লকডাউন দ্রুত শিথিলের যে প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যেই অনেক স্টেটে শিথিল করাও হয়েছে, এর ফলে পুনরায় এই ভাইরাস মহামারি আকারে বিস্তৃত হতে পারে। এই সংস্থার হেল্থ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড. মাইক রায়ান ভার্চুয়াল ব্রিফিংকালে আরো বলেছেন, আমরা যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রমণের শংকা প্রকাশ করছি, সে সময়ে চলমান সংক্রমণেরই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তার বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে এই রোগ যে কোন সময় ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। সংক্রমণের হার কমছে বলে এটি মনে করার কোনই কারণ যে, তা দুর্বল হয়ে চলে যাচ্ছে।[caption id="attachment_24273" align="aligncenter" width="1024"] Army Chaplain (Major) Ivan Arreguin leads the procession as military and civilian personnel working at the Javits New York Medical Station, erected at the Jacob Javits Convention Center in New York City, form a cordon to render military honors to a veteran who died of COVID19 while a patient at the medical station on April 19, 2020. Members of the Active military and the New York National Guard Military and civilians with prior service members of the military took part in the recognition.( U.S. Air National Guard photo by Major Patrick Cordova)[/caption] এমন পরিস্থিতিতে সকলকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অর্থাৎ বাসার বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে, ৬ ফুট অন্তর অবস্থান করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই মাস্ক পরতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি, ২৫ মে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যো বাইডেন জনসমক্ষে এলে তাকে মাস্ক পরিহিত দেখে টিটকারি দিয়েছেন ট্রাম্প। উপহাস করেছেন রীতিমত। এর জবাবে বাইডেন বলেছেন যে, নাগরিকেরা সাধারণত: প্রেসিডেন্ট অথবা জাতীয় নেতাকে অনুসরণ করেন। অথচ আমেরিকার দুর্ভাগ্য তাদের প্রেসিডেন্ট তারই প্রশাসনের রীতি অনুসরণ করেন না। করোনা টেস্টিং কিটের সংকট ছিল। তা কেটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেও এখন পর্যন্ত টেস্টিং পরিক্রমা একেবারেই হতাশার পর্যায়ে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা-সরঞ্জাম তথা পিপিইর সংকট লাঘবেও যথাযথ পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত গৃহিত হয়নি। এভাবে ঘরে থাকার নির্দেশ ক্রমান্বয়ে উঠিয়ে নিলে বা শিথিল করা হলে লাখো আমেরিকানের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে বলে আশংকা চিকিৎসা-বিজ্ঞানী এবং সচেতন জনগোষ্ঠির। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
© cc visual hunt

লকডাউনের সময় বাড়িতে ড্রিংকিং বেড়েছে

বিয়ার, ওয়াইন ও স্পিরিট অ্যালকোহল

বোজ বুম: লকডাউনের সময় বাড়িতে ড্রিংকিং বেড়েছে

মঙ্গলবার, মে 26, 2020
  • মহামারী চলাকালীন বিয়ার ও ওয়াইনের বিক্রি অনেক বেড়েছে, তবে নীলসেনের তথ্য অনুসারে স্পিরিট অ্যালকোহল  বিক্রি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
  • নীলসেনের তথ্য অনুযায়ী, জিনের খুচরা বিক্রয় গত ২২ মে অবধি নয়-সপ্তাহে 42.5% বেড়েছে।
  • অ্যালকোহল উত্পাদনকারীরা লকডাউনের সময় কাজ করতে অক্ষম বারটেন্ডারদের সহায়তা করার প্রচেষ্টায় অনুদান দিচ্ছেন।
© cc visual huntকরোনা ভাইরাস মহামারীর সময়ে পশ্চিমা  দেশের প্রায় সব বারগুলি বন্ধ করতে হয়েছিল। যদিও বা কেউ কেউ টেকআউটের জন্য ককটেল মিশ্রিত করছে , কিন্তু খুচরা আউটলেটগুলি থেকে এই বছর স্পিরিট অ্যালকোহলের বিক্রি অনেক বেশি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ার এবং ওয়াইন বিক্রয় গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে লকডাউনের সময় মার্কিনীরা ক্রমশ: স্পিরিট অ্যালকোহলের দিকে বেশী ঝুকেছে।

নীলসনের তথ্য অনুসারে, মে মাসে শেষ হওয়া নয়-সপ্তাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহলের অফ-প্রোমিজ বিক্রয় গত বছরের তুলনায় 34.1% বেড়েছে, একই সময়ে ওয়াইনের বিক্রি 30.1% বেড়েছে। বিয়ার বিক্রয় বেড়েছে 12.6%।

© cc visual huntব্যাকার্ডির মালিকানাধীন জিন ব্র্যান্ড বোম্বাই সাফায়ারের ব্র্যান্ড ডিরেক্টর টম স্পেনের মতে লোকেরা ঘরে তৈরি ককটেলগুলির দিকে ঝুঁকছে। তিনি সিএনবিসিকে বলেন, "সহজভাবে  সাধারণ দুই থেকে তিনটি উপাদান দিয়ে ককটেল প্রিমিয়াম মিক্সারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।" ভার্চুয়াল ককটেল আওয়ার হোস্ট করে অনেকেই এখন  তাদের প্রিয় ককটেল রেসিপিগুলি পুনরায় তৈরি করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অ্যালকোহল পান করা কোভিড -১৯ বন্ধ করার উপায় নয় এবং ঘন ঘন বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
CC Visual Hunt ©

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!

যে কোনো সময় শুরু হবে করোনার ‘দ্বিতীয় ঝড়’!CC Visual Hunt ©

গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ১২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে মারা গেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনায় দিন দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই।

এদিকে যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে, সেসব দেশে শিগগিরই দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

ডাব্লিউএইচও'র জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, সারাবিশ্বজুড়ে প্রথমবার সংক্রমণের মধ্যবর্তী অবস্থায় আছি আমরা। আমরা এমন এক অবস্থায় আছি, যখন এটি যে কোনো সময় ফিরে আসতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এ বছরের শেষের দিকেই আবারো করোনার প্রকোপ দ্বিতীয়বার শুরু হতে পারে। এমনকি যে সব দেশে করোনার প্রকোপ কমে গেছে, সেসব দেশেও দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে যে কোনো সময়।

সে কারণে তিনি বলেছেন, যে কোনো সময় এই ভাইরাসের হানা বেড়ে যেতে পারে। প্রকোপ কমে যাচ্ছে দেখে ভাবলে চলবে না যে, এটি এখন কমেই যাবে। দ্বিতীয়ঝড়ের জন্য বেশ কয়েকমাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সম্ভবত আমরা দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরুর খুব কাছাকাছি রয়েছি।

বিডি-প্রতিদিন  নিউজ লিংক

অজানা এক ভাইরাসে ৫০০ ঘোড়ার মৃত্যু, মানবদেহে ছড়ানোর শঙ্কা

অজানা এক ভাইরাসে ৫০০ ঘোড়ার মৃত্যু, মানবদেহে ছড়ানোর শঙ্কা

অজানা এক ভাইরাসে ভাইরাসে ৫০০ ঘোড়ার মৃত্যু, মানবদেহে ছড়ানোর শঙ্কা

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অজানা এক ভাইরাসে থাইল্যান্ডে ৫০০ ঘোড়ার মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসটি বাদুড় থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের একটি ঘোড়ার খামারে কয়েক দিনের মধ্যে একে একে ১৮টি ঘোড়ার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, ঘোড়াগুলো করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। কিন্তু ঘোড়ার রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষার পর দেখা গেছে করোনা নয়, অন্য এক অজানা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার (২৩ মে) এ খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, অজানা ভাইরাসটি মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ১০০ মাইল দূরের ওই খামারটিতে ৯ দিনে ১৮টি ঘোড়া মারা যায়। খামারটির মালিক নোপাদল সারোপালা জানান, কীভাবে ঘোড়াগুলো মারা যাচ্ছিল কোনো কারণই ধরতে পারেননি তারা। এদিকে ফেব্রুয়ারি থেকে সংক্রমিত হতে থাকা ভাইরাসটিতে যুক্তরাজ্যে ৫০০ এরও বেশি ঘোড়া মারা গেছে। সেগুলোর রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আফ্রিকার ঘোড়ার অসুখের সঙ্গে মিল আছে তাদের উপসর্গের।

চীন ছাড়ছে সনি–টয়োটারা, ডাকছে বাংলাদেশ

চীন ছাড়ছে সনি–টয়োটারা, ডাকছে বাংলাদেশ

রাজীব আহমেদ, ঢাকা

জাপানের সনি করপোরেশনকে কে না চেনে। ক্যামেরা, টেলিভিশন, মুঠোফোনসহ বহু ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি করে সনি বিশ্বজুড়ে ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছে।

সনি এখন তাদের ক্যামেরা, প্রজেক্টর ও ভিডিও গেম খেলার প্লে স্টেশন তৈরির কারখানা চীন থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে নিতে চায়। শুধু সনি নয়, চীন থেকে তল্পিতল্পা গোটাতে আগ্রহী জাপানের গাড়ি উৎপাদনকারী টয়োটার যন্ত্রাংশ তৈরির কোম্পানি টয়োটা বশোকু করপোরেশন, ইলেকট্রনিক জায়ান্ট শার্প ও প্যানাসনিক, ঘড়ি উৎপাদনকারী সিকো ও ক্যাসিওর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। জাপান চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিতে ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা) একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব জাপানি কোম্পানি চীন ছাড়বে, তাদের সহায়তা দেওয়া হবে এই তহবিল থেকে। ৩৪টি জাপানি কোম্পানি ইতিমধ্যে কারখানা সরিয়ে চীন থেকে অন্য দেশে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে খবর এসেছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে।

২০০৮ সালের পর থেকেই বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো চীনের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য কেনার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল। নানা কারণে উৎস বৈচিত্র্যকরণ খুব একটা হয়নি। কিন্তু মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ যখন শুরু হলো, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়ে চীন ছাড়ার তোড়জোড় বাড়ে। এবার করোনাভাইরাস দুর্যোগে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণেই চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে জাপানিরা। আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন তো অনেকটা চাপ প্রয়োগ করছে।

জাপানিরা কেন চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের পামির কনসাল্টিং এলএলসি নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্সি এ কুয়োর একটি লেখায়। ৫ মে ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এ লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, অনেক জাপানি কোম্পানিকে বিশ্বব্যাপী ও জাপানে জরুরি ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহে পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভর করতে হয়। করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কী সংকট তৈরি করতে পারে। মার্সি এ কুয়ো বলেন, ‘জাপানকে সেসব পণ্যের উৎস দেশে বৈচিত্র্য আনতেই হবে, যা তার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এটি চীনের জন্য উদ্বেগের। কারণ, জাপানের উদ্যোগ অন্য বিনিয়োগকারীদের বিচলিত করে তুলবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানিগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে মরিয়া। মার্কিন প্রশাসনও এ ক্ষেত্রে সক্রিয়। যেমন ১৬ মে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সির এক খবরে বলা হয়, ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। এরপরই ইন্দোনেশিয়া জাভায় চার হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করা শুরু করেছে। চীনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ উৎপাদকদের বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়ায় কারখানা সরিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, করোনাভাইরাস–পরবর্তীকালে চীন আর বিশ্বের কারখানা থাকছে না। বড়রা উৎপাদন সক্ষমতার একটা অংশ চীনে রেখে বাকিটা অন্য দেশে সরিয়ে নেবে। করোনার প্রাদুর্ভাব যখন চীনের মধ্যে ছিল, তখন (১ মার্চ) বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’ এক প্রতিবেদনে বলেছিল, চীনের জন্য করোনাভাইরাস একটি ‘সোয়ান সং’। সোয়ান সং মানে হলো, একজন শিল্পীর পেশাজীবনের শেষ পরিবেশনা। ‘ফোর্বস’-এর প্রতিবেদকের মতে, চীন আর সস্তা থাকছে না। ট্রাম্প যদি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে, সেটা ভাবতে বাধ্য হবে কোম্পানিগুলো। ওই প্রতিবেদনে বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রিটন উডস রিসার্চের প্রধান ভ্লাদিমির সিগনোরেল্লির একটি মন্তব্য ছাপা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার মডেলটি এ সপ্তাহেই মারা গেছে।’ জাপানের নিক্কি এশিয়ান রিভিউ গত ১৬ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে জানায়, জাপানের নেতৃত্বে চীন থেকে বিনিয়োগকারীদের যে ‘এক্সোডাস’ (সম্মিলিত প্রস্থান) শুরু হয়েছে, তাতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের জন্য আগ্রহের বিষয় হলো এই কারখানাগুলোর গন্তব্য কোথায়। কিছু কিছু কি বাংলাদেশে আনা যাবে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম আশা করছেন, কারখানা স্থানান্তরের সুফল বাংলাদেশ পাবে। ১২ মে এফবিসিসিআই জেট্রোর ঢাকা কার্যালয়কে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাপান বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার যে কৌশল নিয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ খুবই আগ্রহী। এফবিসিসিআই চায়, জাপান কারখানা সরিয়ে বাংলাদেশে আনুক। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা আগ্রহী। সংগঠনটি একই ধরনের চিঠি দিয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (সিএসিসিআই)। জানতে চাইলে শেখ ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ কম। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, পানির মতো পরিষেবার মূল্য কম। আর এসব বিষয় মিলিয়ে বাংলাদেশ অবশ্যই বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় জায়গা। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, সর ধরনের সহযোগিতা করব। তাদের কী দরকার, সেটা আমাদের জানাক।’ কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব জাপানি কোম্পানি চীন থেকে সম্মিলিত প্রস্থানে শামিল হয়েছে, তাদের বড় অংশ টিকিট কেটেছে হ্যানয়ে (ভিয়েতনামের রাজধানী)। জাপানের বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নমুরা হোল্ডিংসের এক জরিপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে ফক্স নিউজ জানায়, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৭৯টি কোম্পানি চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি ভিয়েতনামে, ১১টি তাইওয়ানে, ৮টি থাইল্যান্ডে, ৬টি মেক্সিকোতে ও ৩টি ভারতে গেছে। বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে করোনা-পরবর্তী সময়ে ১৬টি জাপানি কোম্পানির চীন ছাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এসব কারখানার একটির গন্তব্যও বাংলাদেশ নয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী মাজদা মোটরস যেতে চায় মেক্সিকোতে। হোন্ডার সরবরাহকারী কাসাই কোগিও যেতে চায় উত্তর আমেরিকা অথবা ইউরোপে। প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ার যন্ত্র উৎপাদনকারী রিকো করপোরেশন যেতে চায় থাইল্যান্ডে। শার্প যেতে চায় ভিয়েতনাম অথবা তাইওয়ানে। সিকো ও ক্যাসিও থাইল্যান্ডে যেতে চায়, অথবা জাপানেই ফিরতে চায়। টয়োটা তাদের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা জাপান অথবা থাইল্যান্ডে নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ জাপানিদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, যার ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এটি উন্নয়ন করছে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন। এটি ২০২১ সালে কারখানা করার উপযোগী হবে বলে জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আরও ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুততর করা হচ্ছে। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ২ হাজার একর জমি তৈরি রাখা হচ্ছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সহায়তায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এক দরজায় সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করেছে বেজা। যদিও তাতে বেশ কিছু সেবা যুক্ত করা এখনো বাকি। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী মনে করেন, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে আসবে। এ জন্য করোনা-পরবর্তী বিদেশি বিনিয়োগ ও স্থানান্তরিত কারখানাকে বাংলাদেশে আনতে তাঁরা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে বড় বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম নীতির ধারাবাহিকতা ও ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ দরকার।’ বাংলাদেশে এখন জাপানি কোম্পানির সংখ্যা ২৭০-এর মতো। বিগত কয়েক বছরে হোন্ডা মোটর করপোরেশন, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল, নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটাল, মিতসুবিশি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই জাপানি কোম্পানিগুলোর সমস্যা সমাধান হতে দেরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার নীতির হঠাৎ পরিবর্তনও জাপানিদের বিপাকে ফেলে। জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) মহাসচিব তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মরত জাপানি কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখে রয়েছে, সেগুলো সমাধান করলে তারাই বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করবে।’ তিনি আরও তিনটি পরামর্শ দেন। প্রথমত, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ দ্রুত শেষ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। তৃতীয়ত, ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি। বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসাসূচক বা ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ৭০, থাইল্যান্ড ২১ ও ইন্দোনেশিয়া ৭৩তম। ঢাকায় বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘হতে পারে ১৫ বছরে যে বিনিয়োগ পাওয়ার কথা, সেটা আমরা ৪ বছরে পাব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।’

নামাজ যেভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নামাজে সিজদার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় আমাদের দেহের ফুসফুস।

নামাজের মাধ্যমে মুসলমানরা দিনের মধ্যে পাঁচবার আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন। নিজের কৃত পাপ কাজের জন্যে ক্ষমা চান, জগতের সব সৃষ্টির কৃত পাপের জন্যে ক্ষমা চান। সহজ সরল সঠিক পথে পরিচালনার জন্যে প্রতি রাকাতে, প্রতি সিজদায় আল্লাহর সাহায্য চান, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

একাগ্রচিত্তে নামাজ যেমন মন মননকে পরিশুদ্ধ করে তেমনি দেহকেও করে পবিত্র, শুদ্ধ, কর্মচঞ্চল। দিনের পাঁচটি সময়ের প্রত্যেকটি নামাজ প্রধানত ফরজ, সুন্নত ও নফলে বিভক্ত। ফরজ নামাজ দুই রাকাত তিন রাকাত বা চার রাকাতের সমন্বয়ে আদায় করে নেওয়া হয়। ফরজ নামাজ যা অবশ্যই আপনাকে আদায় করতে হবে। সবচেয়ে কম রাকাত সম্পন্ন ফর‍য নামাজ হলো ফজরের, যা মাত্র দুই রাকাত।
দিনের মধ্যে পাঁচবার নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। আর সুন্নত সহ হলে তা প্রতিদিন ৪৮ রাকাত পালন করা হয়। নফল আদায় করলে আরো আরো বেশি রাকাতের মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে হয়।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেহে এবং কাপড়ে প্রত্যেক নামাজের আগে অজু করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। সে ওজুর পানিটিও হতে হয় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন পবিত্র। নাক, মুখ কান চুল হাত পা সবই ওজুর সময় পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হয়, মুছে নিতে হয়। দিনের মধ্যে এভাবে বারবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেহে, নিভৃতে একাগ্রচিত্তে সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ করা একমাত্র ইসলাম ধর্মেই আছে। নামাজের সময় প্রত্যেক রাকাতের সময় হাত বাঁধা ছাড়াও দাঁড়ানো, বসা, রুকুতে যাওয়া, সিজদায় যাওয়া, সালাম ফেরানো, ইত্যাদি মোট ৭ থেকে ৯ রকমের শারিরীক অঙ্গভঙ্গিতে প্রতিবার নির্দিষ্ট সময় নিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই অঙ্গবিন্যাসে অবস্থান সব সুস্থ মানুষের জন্যে একটা নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে একইভাবে। ধৈর্য সহকারে নিরবে নিভৃতে নামাজ আদায়ের সময় মানবদেহের প্রতিটি জোড়ার মাংসপেশির সুষম সংকোচন ও প্রসারণ হয়। এজন্যই বলা হয় নামাজ দেহের জন্যে প্রয়োজনীয় সর্বোত্তম শরীর চর্চা যোগ ব্যায়াম। একজন মানুষ যদি দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করে, তাহলে শরীরকে সুস্থ রাখতে তার আর আলাদাভাবে শরীর চর্চা করার দরকার হয় না। দেহকে সুস্থ সবল রাখতে, দেহের ইমিউনিটিকে সুদৃঢ় রাখতে শরীর চর্চা বাধ্যতামূলক। একজন মুসলমান প্রতিদিন একাগ্রচিত্তে দুই রাকাত নামাজের সময় মোট ১৪ বার বিভিন্ন শারীরিক বিন্যাসে থেকে নামাজ আদায় করতে হয়। সে হিসেবে তাঁকে একাগ্রচিত্তে প্রতিদিন ১১৯ বার, মাসে ৩৭৫০ বার এবং বছরে ৪২ হাজার ৮৪০ বার শরীরকে বিভিন্ন অঙ্গবিন্যাসে থেকে সালাত আদায় করে নিতে হয়। যা আমাদের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিকে বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। যদি একজন মুসলমান গড়ে ৫০ বছর বাঁচেন এবং তিনি যদি ১০ বছর বয়স থেকে শুধু বাধ্যতামূলক সালাত গুলো আদায় করা করেন তাহলে দেখা যায় তাকে সারাজীবনে মোট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬ শ'তবার শরীরটাকে নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গবিন্যাসে রেখে, নির্দিষ্ট কিছু সময় নিয়ে অবস্থান করতে হয় যা পৃথিবীর সেরা শরীর চর্চার অন্যতম হিসেবে পরিগনিত। নামাজে সিজদার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় আমাদের দেহের ফুসফুস। কারণ এ অবস্থানে ফুসফুস দেহের জন্যে প্রয়োজনীয় সবচেয়ে বেশী রক্ত সঙ্গে অক্সিজেনের সমন্বয় ঘটাতে পারে। রক্তে অক্সিজেন সেচুরেশন বৃদ্ধি পায়। এজন্য দেখা যায় আইসিইউ'তে কোমায় থাকা রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন অবনতি ঘটলে তার রক্তের অক্সিজেন বাড়াতে রোগীকে অনেকটা সিজদার মতো পজিশনে রাখা হয়। একে বলে প্রোনিং। একজন মুসলিমের প্রতিদিনের এই নামাজ আদায়ে একজন মানুষের ৮০ কিলো ক্যালরি শক্তি ব্যয় হয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শুরু থেকেই সারা বিশ্বের সব চিকিৎসা গবেষকরা একটা পরামর্শই বারবার দিয়ে আসছেন যা হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, বারবার হাত ধোয়া এবং ইমিউনিটি বাড়াতে নিয়মিত শরীর চর্চা ও শুদ্ধাচার অবলম্বন করা। রাব্বুল আ'লামীন বিশ্বের সবাইকে করোনাভাইরাস থেলে মুক্ত রাখুন। আমীন। লেখক: ডা. সাঈদ এনাম সহকারী অধ্যাপক, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ

ব্র্যাক জরিপ: বিদেশফেরত ৮৭% ব্যক্তির আয়ের উৎস নেই

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির সময়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। আর ৫২ শতাংশ বলছেন যে তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ‘বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ প্রবাসী কর্মীর সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ফিরেছেন মার্চে। জরিপর অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। ব্র্যাকের ২০ কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, করোনার কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫ শতাংশ বলছেন, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮ শতাংশ বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ফেরার সাথে করোনার কোনো সম্পর্ক নেই। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ১৪ শতাংশ বলেছন, তারা কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানতে পারেননি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ অভিবাসী বলেছেন, তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭ শতাংশ বলেছেন, এ ক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। জরিপে অংশ নেয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯ শতাংশ জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরও এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ১৪ শতাংশ প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের শতকরা ৮৪ ভাগ এখনও জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকিরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। বিদেশফেরত এ অভিবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পেয়ছেন কি না জানতে চাইলে ৯১ শতাংশ বলেছেন, তারা এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোনো জায়গা থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বাকি ৯ শতাংশ সরকারি বা বেসরকারি কোনো না কোনো জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন। এ বিষয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সংকট এবং করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এ জরিপ। ফেরত আসা ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২ শতাংশ বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান। ‘আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছেন। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এ প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন,’ যোগ করেন তিনি। শরিফুল হাসান আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছেন তারা। কজেই এ সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন এবং যারা ফিরে আসছেন। সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এগুলো হলো, ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সহজ শর্তে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা, গন্তব্য দেশের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া। [caption id="attachment_24413" align="aligncenter" width="1200"] ইউএনবি/ ফাইল ছবি[/caption]

পাঁচ লাখ টাকার রেমিট্যান্সে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনা

পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জরি করেছে।

প্রসঙ্গত, আগে ১৫০০ মার্কিন ডলার বা  দেড় লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া, প্রণোদনা পেতে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা ছিল।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠনো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ  পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্রাদি ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও  বলেছে, নগদ সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার অধিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে, কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

করোনা নিয়ে ‘ঘৃণার ভাইরাস’ ছড়ানো বন্ধ করুন: গুতেরেস

করোনা নিয়ে ‘ঘৃণার ভাইরাস’ ছড়ানো বন্ধ করুন: গুতেরেস

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জাতিবিদ্বেষ, ঘৃণা এবং মুসলিমবিরোধী প্রপাগান্ডা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। এতে গুতেরেস বলেন, এ মহামারী জাতিবিদ্বেষ, আতঙ্ক ও ঘৃণার ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ এই ঘৃণার ভাইরাস। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশিবিরোধী মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, রাস্তায় রাস্তায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে এবং মুসলিমবিদ্বেষী হামলা বাড়ছে। গুতেরেস বলেন, অভিবাসী ও শরণার্থীদের 'ভাইরাসের উৎস' বলে চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। তাছাড়া সংবাদিক, তথ্য ফাঁসকারী, স্বাস্থ্যকর্মী, ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এসব বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অবসানে সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। Let’s defeat hate speech – and COVID-19 - together.
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার উচিৎ সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়া।

দেশে করোনার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদনের অনুমতি পেল ৬ কোম্পানি

দেশে করোনার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদনের অনুমতি পেল ৬ কোম্পানীঃ

03 May, 2020

ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো, বীকন, এসকেএফ (এসকে-এফ), ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ারকে করোনাভাইরাসের এই সম্ভাব্য ওষুধটি উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ মাসেই উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছয়টি ওষুধ কোম্পানিকে দেশে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ওষুধ 'রেমডেসিভির' উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো, বীকন, এসকেএফ (এসকে-এফ), ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ার।

দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোম্পানিগুলোকে এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কাঁচামাল আমদানি করে এ মাসের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করবে এসকে-এফ ও বেক্সিমকো।

ওষুধগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বলে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় 'রেমডেসিভির' ব্যবহার করা হচ্ছে। সার্স ও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করার ইতিহাস রয়েছে ওষুধটির। সূত্রঃ টিবিএস রিপোর্ট

করোনার ধরন বদলানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি

করোনার ধরন বদলানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি
জাকিয়া আহমেদ | বাংলা ট্রিবিউন © 

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী কম শনাক্ত ও মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভাইরাসটির জেনারেশন বদলে যাওয়া, দেশের মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া নিয়ে। তবে দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে বলার মতো সময় এখনও আসেনি। নতুন এই ভাইরাসের বিষয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে। কিন্তু এই ভাইরাসের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য একই রয়েছে। আর এটা নতুন হওয়াতে মানব শরীর তাকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। অন্যান্য ভাইরাসের জেনারেশন যেমন বদল হয়, তেমন কিছু হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে তারা বলছেন, কোভিড-১৯-এর ভাইরাস সার্স-সিওভি-২ ধরন বদল করেছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

চীনের উহানে গত বছরের ডিসেম্বরে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বাংলাদেশে প্রথম কোভিড আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে করা হলেও এখন দেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। দেশে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৭৯০ জন। ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭৫ জন।

বর্তমান অবস্থায় যেসব দেশ ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার যুক্তি দিয়ে লকডাউন তুলছে তাদের সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আবার হার্ড ইমিউনিটি হয় তখনই যখন একটি দেশের ৭০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। আবার কেবল আক্রান্ত হলেই হবে না, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি গ্রো করতে হবে। আবার কেবল অ্যান্টিবডি গ্রো করলেই হবে না, সেই অ্যান্টিবডিকে প্রটেকশন দিতে হবে, যাতে আবার সে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে কোনও জীবাণু শরীরে ঢুকলে মানুষের শরীরে ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে এমন হওয়ার ভিত্তি এখনও পাওয়া যায়নি। কোনও গবেষণাতে এর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ( আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে এখনও সেভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না, সেজন্য নিশ্চিত করে কিছু বলাও যাচ্ছে না। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি হয়েছে এটাই প্রমাণিত না, হার্ড ইমিউনিটি তো পরের কথা।’

তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠা মানুষ নিজে সংক্রমিত হন না কিন্তু তার মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরাসরি বলেছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাজেই কেউ যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন যে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সুস্থ হওয়া একজন মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি কতদিন কার্যকর থাকবে সেটা বলার সময়ও এখনও আসেনি।’

মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আনস্টেবল অবস্থাতে রয়েছে। কাজেই একবার করোনা হয়ে গেলে তার আবার হবে না এটা একেবারেই মনে করা যাবে না। ভাইরাসটি নতুন করে ‘রিচার্জেজ’ হতে পারে, শরীরে আবার ‘রিইনফেকশন’ও হতে পারে। তাই হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে শতকরা ৭০ শতাংশ মানুষের যদি ইমিউনিটি গড়ে ওঠে তখন বাকিদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ইমিউনিটি হয়ে যায়।’

‘কারও যদি ইমিউন বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায় তাহলে তিনি নিজে আর আক্রান্ত হবেন না, এটা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না। আর ভাইরাসের লক্ষণ না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সময় সে ছড়াতে পারে, কিন্তু ইমিউন হওয়াটা নিশ্চিত হয় না। আবার যদি এর ভ্যাকসিন বের হয় তখন এটা হবে। যেমন– হাম, মাম্মস-সহ অন্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে হয়েছে। আবার অনেক ভাইরাস একই মানুষের শরীরে বারবার অসুস্থতা তৈরি করে’- বলেন মুশতাক হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি ইমিউনিটি সিস্টেম গড়ে না ওঠে তাহলে টিকা আবিষ্কারের কাজটিও কঠিন হয়ে যাবে।’

সার্স-সিওভি-২-এর বিধ্বংসী রূপ বদল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লোকে বলে বদল হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও কোথাও পাওয়া যায়নি।’ তবে এর আগে অনেক ভাইরাসের বেলাতেই এটা হয়েছে।

আবার বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা অন্যান্য দেশের মতো না হওয়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশে পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে রোগী শনাক্ত কম হচ্ছে। এটা যেমন সত্যি, তেমনি ইনফেকশন কম। এটার স্থানভেদে পার্থক্য রয়েছে। যদি এর ভয়াবহতা কমে যেত তাহলে ঢাকা শহরে এত রোগী হতো না’- ব্যাখ্যা দেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের পরীক্ষা করলেই কেবল এটা বোঝা যাবে।’ আবার যাদের লক্ষণ প্রকাশ হচ্ছে না তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা ভাইরাসটি বহন করছেন, তাই তাদের থেকেও অন্যরা সংক্রমিত হবেন। আর এটাই আমাদের জন্য শঙ্কার বিষয়।’

যদি কোনও দেশের জনসংখ্যার ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ইমিউন হয়, তখন সেখানে হার্ড ইমিউনিটি চলে আসে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তখন আর সেটি ছড়াবে না।’

যদি কোনও সমাজে শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষের কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি ডেভেলপ করে, তখন বাকি ১০ ভাগ মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই আর সংক্রমিত হবে না মন্তব্য করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কোনও ভাইরাস যত দ্রুত মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে সে ভাইরাস তত দ্রুত মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। একই সঙ্গে এই অ্যান্টিবডি আদৌ তাকে প্রটেকশন দেবে কিনা সে বিষয়েও এখন নিশ্চিত নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ, সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন এমন উদাহরণও রয়েছে।’

অবশেষে বিপর্যস্ত স্পেন ও ইতালিতে আশার আলোঃ আস্তে আস্তে খুলে...

অবশেষে ৪৯ দিন পর মুক্ত বাতাসে স্প্যানিশরা

মে ০২, ২০২০ |  ৪৫ বছরের মার ভিসার একটি ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের চাকরি হারিয়েছেন। বার্সেলোনার কাছের শহর কাস্তেলডিফেলসের রাস্তায় জগিং করছিলেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তের জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলাম। বাড়ির ভেতরে হাটাহাটি বা ইয়োগা করার চেয়ে অনেক ভালো।
মাদ্রিদে সাইকেলচালক ও স্কেটবোর্ডাররা শহরের রাস্তায় নেমেছেন। যদিও জনপ্রিয় এলাকায় জনসমাগম যাতে বেশি না হয় সেই চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশগুলোর একটি স্পেন। মার্চ মাস থেকেই জারি করা হয় কঠোর লকডাউন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেশিরভাগ জনগণ বন্দি হয়ে পড়েন ঘরের ভেতরেই। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে খেলা ও হেঁটে ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়। ব্রিটিশ সরকারের কনসালটেন্ট ৪১ বছরের শার্লট ফ্রাজার-প্রাইন অনুশীলনের স্বাধীনতার সুযোগ গ্রহণকারীদের একজন। ভোর ৬টায় তিনি শহরের রেটিরো পার্কে দৌড়ানোর জন্য বের হয়েছেন। পার্কটি বন্ধ থাকলেও ফুটপাত দিয়ে কয়েকশ মানুষ দৌড়াচ্ছেন। শার্লট বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে বলেছিলাম মাদ্রিদে প্রথম বাইরে আসা ব্যক্তি হব আমি। ছয় সপ্তাহ ধরে ইয়োগা ভিডিও দেখার পর বাইরে বের হতে পেরে আমি খুব খুশি। আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসায় এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় কমতে শুরু করায় সরকার দেশ পুনরায় সচল করা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিয়েছে। গত সপ্তাহে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ চার ধাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যে পরিকল্পনাকে তিনি নতুন স্বাভাবিকতায় ফেরা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জুনের শেষ দিকে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। বাইরে মানুষের ভিড় কমাতে সরকার শিফট ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিন্ন সময়ে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন। সোমবার থেকে সেলুন খুলবে। তবে বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে আরও এক সপ্তাহের জন্য। স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৪ জনের। লকডাউনের কারণে দেশটি অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমেছে। ২০২০ সালে দেশটির জিডিপি ৯.২ শতাংশ হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।

অবশেষে বিপর্যস্ত ইতালিতে আশার আলো

মে ০২, ২০২০ |
করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে রূপ নেওয়া ইতালিতে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে মানুষ। সেখানে দুর্বল হতে শুরু করেছে করোনার প্রভাব। কমছে মৃত আর আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছে রেকর্ড সংখ্যক রোগী। আগামী ৪ই মে থেকে শিথিল হবে লকডাউন। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করবে দেশ।
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি করোনার প্রকোপ বাড়তে শুরু করার পর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২৮,২৩৬ মানুষের।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৩৪৯ জন করোনা রোগী। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেন ৭৮ হাজার ২৪৯ জন। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, মহামারী করোনায় গত একদিনে  মৃতের সংখ্যা ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এই সময়ে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৫ জন। আগামী ৪ মে থেকে ইতালিকে শিথিল হতে যাচ্ছে লকডাউন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সীমিত আকারে উৎপাদন শিল্প, নির্মাণ খাত ও পাইকারি দোকান পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির  বিভিন্ন এলাকায় খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট।  খুলছে বই, স্টেশনারি, বাচ্চাদের জামা কাপড়ের দোকানও। এছাড়া কম্পিউটার ও কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আপনার ষ্টিমুলাস চেক কখন আসবে?

আপনি কবে আপনার করোনাভাইরাস ষ্টিমুলাস চেক পাবেন?

আপনার ষ্টিমুলাস চেক কখন আসবে? আপনার যা জানা দরকার তা এখানে।

ষ্টিমুলাস চেক

আমেরিকানদের জন্য, ষ্টিমুলাস চেক শীঘ্রই আসছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানুচিন বলেছেন, বেশিরভাগ আমেরিকান এপ্রিল ১৭ এর মধ্যে তাদের ষ্টিমুলাস চেক পাবেন। ইউএস ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক ল্যারি কুডলো বলেছেন যে চেক চলতি সপ্তাহে বা তার পরের দিকে পাঠানো শুরু হবে । আইআরএস থেকে সময়সূচী পর্যালোচনা করা ওয়াশিংটন পোস্টের মতে ষ্টিমুলাস চেকগুলি নিম্নোক্ত তারিখে আসার সম্ভাবনা আছে। (অবশ্যই এই তারিখগুলি পরিবর্তন সাপেক্ষে):

এপ্রিল 9, 2020

ষ্টিমুলাস চেক বৃহস্পতিবার, এপ্রিল 9 অবধি কিছু করদাতাকে প্রেরণ করা হবে আপনি যদি 2018 বা 2019 সালে আপনার আয়কর জমা দেন এবং আপনার সরাসরি জমা দেওয়ার তথ্য আইআরএসে সরবরাহ করেন তবে আপনার উদ্দীপনা চেক আজই পাঠানো যেতে পারে। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আনুমানিক 20 এপ্রিল বা তার আগে আসতে পারে।

24 এপ্রিল, 2020

আইআরএস কাগজ ষ্টিমুলাস চেক প্রেরণ শুরু করবে। পরিকল্পনাটি হ'ল প্রথমে সর্বনিম্ন সমন্বিত স্থূল আয় সহ করদাতাদের কাগজ ষ্টিমুলাস চেকগুলি প্রেরণ করা। সুতরাং, যে করদাতারা 10,000 ডলারেরও কম আয় করেছেন তারা প্রথমে একটি কাগজ চেক পাবেন।

মে 12, 2020

এই সপ্তাহে, আইআরএস করদাতাদের যারা কাগজ ষ্টিমুলাস চেক প্রেরণ করবে যারা $ 10,001 থেকে 20,000 ডলারের মধ্যে আয় করেছেন।

মে 8, 2020

এই সপ্তাহে, আইআরএস করদাতাদের যারা কাগজ উদ্দীপনা চেকগুলি প্রেরণ করবে যারা $ 20,0001 থেকে 30,000 ডলারের মধ্যে আয় করেছেন।

মে - সেপ্টেম্বর 2020

মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আইআরএস 2018 বা 2019 ট্যাক্স তথ্যের উপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন আয়ের থেকে সর্বোচ্চ আয়ের দিকে কাগজের চেকগুলি প্রেরণ করতে থাকবে।

সেপ্টেম্বর 4, 2020

আইআরএস বাকী যে কোনও চেক মেইল করবে, যেমন বিবাহিত দম্পতিরা making 198,000 তৈরি করে (সর্বাধিক যৌথ আয় যা একটি ষ্টিমুলাস চেক পাওয়ার যোগ্য)।

11 সেপ্টেম্বর, 2020

যারা আইআরএসকে যোগাযোগের তথ্য দেয়নি তাদের আইআরএস চেক প্রেরণ করবে। প্রত্যক্ষ ডিপোজিট বা আমানতের তথ্য: আপনি যদি আপনার 2018 বা 2019 আয়কর রিটার্নের উপর সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য দিয়ে থাকেন তবে আইআরএস এর কাছে আপনার সরাসরি আমানতের তথ্য রয়েছে। আপনি সরাসরি জমার তথ্য সরবরাহ করেছেন কিনা তা কীভাবে জানবেন? আপনি যদি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে ফেডারাল ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেন বা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি ফেডারেল ট্যাক্স রিফান্ড পেয়ে থাকেন তবে আপনি সম্ভবত সরাসরি আমানতের তথ্য সরবরাহ করেছেন। আপনি যদি 2018 বা 2019 আয়কর ফাইল না করেন তবে আপনি সেগুলি ফাইল করতে পারেন। আপনার ষ্টিমুলাস চেক দ্রুত করার জন্য সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। আপনি যদি ট্যাক্স ফাইল না করেন তবে আপনি সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধাগুলি গ্রহণ করেন, যোগ্যতার জন্য আপনাকে কোনও ট্যাক্স ফাইল করতে হবে না। আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ষ্টিমুলাস চেক পাবেন। নতুন আইআরএস পোর্টাল: এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের প্রথম দিকে, আইআরএস আশা করে একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করবে যা করদাতাদের তাদের সরাসরি ডিপোজিটের তথ্য আপডেট করতে এবং তাদের ষ্টিমুলাস চেকের স্থিতি পরীক্ষা করতে সক্ষম করবে। যারা ট্যাক্স ফাইল করেন না, তবে যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পান, অনলাইনে পোর্টালটি চালু হওয়ার পরে আপনি আপনার সরাসরি ডিপোজিটের তথ্যও আপডেট করতে পারেন। সূত্রঃ ফোর্বস | Apr 9, 2020

আমেরিকায় করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক কিভাবে পাবেন?

করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক বা Economic impact payments কিভাবে পাবেন এবং এটি কি গড় আমেরিকানদের জন্য যথেষ্ট হবে?

করোনাভাইরাস $ 1200 স্টিমুলাস চেক পেমেন্ট সম্পর্কে আপনার যা কিছু জানা দরকার ... [caption id="attachment_24091" align="aligncenter" width="1024"] Photo credit: frankieleon on VisualHunt / CC BY[/caption] আপনি সম্ভবত করোনভাইরাস স্টিমুলাস চেক সম্পর্কে অবগত আছেন, তবে অনেকেই এই চেক কিভাবে পাবেন তা নিয়ে অনিশ্চতায় আছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 2 ট্রিলিয়ন ডলার জরুরি অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসাবে করোনভাইরাস নগদ প্রদানের জন্য আমেরিকানদের কী করতে হবে তা নিয়ে আইআরএস (Internal Revenue Service) এক নতুন নির্দেশনায় এই সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারনা পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পরিবারের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চাকরি পুরোপুরি হ্রাস করার বাস্তবতায় অনেকেই ব্যক্তিগত লোন সার্ভিসের আউটলেটগুলি থেকে নিজেদের পে-চেকের বিপরীতে উচ্চ-সুদে ধার নিচ্ছেন। এই সময়ে, করোনাভাইরাস স্টিমুলাস চেক - যা ভুক্তভোগীদের জন্য মাসিক প্রায় $ 1,200 নির্ধারণ করার প্রস্তুতি চলছে যা সময়োচিত আর্থিক উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে একটি ভালো উদ্যোগ বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা। তবে পেমেন্টের যোগ্যতা কে পাবে ?; কতটা পাওয়ার আশা করতে পারে ?; এবং এটি কখন দেওয়া হবে? চূড়ান্ত শেষের তারিখ নেই এমন মহামারীর প্রভাবের বিরুদ্ধে পারিবারিক অর্থ সরবরাহের পক্ষে এই অর্থ প্রদান যথেষ্ট হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে যা ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের অর্থনীতি-শ্রমবাজার- শিল্পকারখানা-ব্যবসা বাণিজ্যে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে।

কে $1,200 এর ষ্টিমুলাস বা উদ্দীপনা পেমেন্টের জন্য যোগ্য?

আইআরএস নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন করদাতা ব্যক্তিদের জন্য $ 75,000 অবধি মোট আয় এবং যৌথ রিটার্ন দাখিলকারী বিবাহিত দম্পতির জন্য $150,000 অবধি মোট আয়ের ক্ষেত্রে $1,200 বা যুক্তভাবে $2,400 পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবে। পিতামাতারা 16 বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের সন্তানদের জন্য প্রত্যেকে $500 পাবেন। তবে, এই পরিমাণগুলির উর্ধ্বে যাদের আয় রয়েছে অর্থাৎ যাদের আয় 75,000 / $150,000 থ্রেশহোল্ডের উপরে তাদের এই সাহায্যের পরিমান প্রতি 100 ডলারে 5 ডলার হ্রাস পাবে।

আমার কি $ 1,200 এর উদ্দীপক পেমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে?

আইআরএস অনুসারে, বিশাল সংখ্যক লোকের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার নেই। যে সকল যোগ্য করদাতারা 2019 বা 2018 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ষ্টিমুলাস পেমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতিমধ্যে 2019 এর ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে, আইআরএস সেই তথ্য প্রাপ্য হিসাবে গণনা করতে ব্যবহার করবে। যারা 2019 সালে এখনও রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের 2018 এর ট্যাক্স ফাইলিংয়ের তথ্য ব্যবহার করা হবে। 2018 এবং 2019 এর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনও যারা করেননি, তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফাইল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ট্যাক্স রিটার্নের সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েছিলেন তাদের টাকা ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি চলে যাবে। না হলে বাসায় চিঠির মাধ্যমে চেক যাবে। আইআরএস ফরম এসএসএ -1099 এবং ফর্ম আরআরবি -1099 এ থাকা তথ্য ব্যবহার করবে।

আমি যদি সাধারণত ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল না করি তবে আমি কী এখনও উদ্দীপক অর্থ প্রদান পেতে পারি?

সহজ উত্তর - হ্যাঁ। স্বল্প আয়ের করদাতা, প্রবীণ নাগরিক, কিছু প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহ - যারা সাধারণত সাধারণত কোনও ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করেন না তাদের পেমেন্ট সুরক্ষার জন্য একটি সাধারণ ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিটস পাচ্ছেন তারাও $১২০০ ডলারের চেক পাবেন। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা ঘোষণা করেছে যে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাভোগীরা যারা ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সংক্ষিপ্তভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে অর্থ প্রদানগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। কীভাবে 2019 ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করবেন তা আইআরএসের করোনা ভাইরাস ওয়েব পৃষ্ঠায় শীঘ্রই আরও নির্দেশাবলী থাকবে। https://www.irs.gov/newsroom/economic-impact-payments-what-you-need-to-know

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কিভাবে করা হবে?

জমা দেওয়া সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্নে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া হবে।

ষ্টিমুলাস পেমেন্ট কবে পাচ্ছেন?

আইআরএস বলছে যে পেমেন্টগুলি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হবে।

Check IRS.gov for the latest information: No action needed by most people at this time

IR-2020-61, March 30, 2020 WASHINGTON — The Treasury Department and the Internal Revenue Service today announced that distribution of economic impact payments will begin in the next three weeks and will be distributed automatically, with no action required for most people. However, some taxpayers who typically do not file returns will need to submit a simple tax return to receive the economic impact payment.

Who is eligible for the economic impact payment?

Tax filers with adjusted gross income up to $75,000 for individuals and up to $150,000 for married couples filing joint returns will receive the full payment. For filers with income above those amounts, the payment amount is reduced by $5 for each $100 above the $75,000/$150,000 thresholds. Single filers with income exceeding $99,000 and $198,000 for joint filers with no children are not eligible. Social Security recipients and railroad retirees who are otherwise not required to file a tax return are also eligible and will not be required to file a return. Eligible taxpayers who filed tax returns for either 2019 or 2018 will automatically receive an economic impact payment of up to $1,200 for individuals or $2,400 for married couples and up to $500 for each qualifying child.

How will the IRS know where to send my payment?

The vast majority of people do not need to take any action. The IRS will calculate and automatically send the economic impact payment to those eligible. For people who have already filed their 2019 tax returns, the IRS will use this information to calculate the payment amount. For those who have not yet filed their return for 2019, the IRS will use information from their 2018 tax filing to calculate the payment. The economic impact payment will be deposited directly into the same banking account reflected on the return filed.

The IRS does not have my direct deposit information. What can I do?

In the coming weeks, Treasury plans to develop a web-based portal for individuals to provide their banking information to the IRS online, so that individuals can receive payments immediately as opposed to checks in the mail.

I am not typically required to file a tax return. Can I still receive my payment?

Yes. The IRS will use the information on the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 to generate Economic Impact Payments to recipients of benefits reflected in the Form SSA-1099 or Form RRB-1099 who are not required to file a tax return and did not file a return for 2018 or 2019. This includes senior citizens, Social Security recipients and railroad retirees who are not otherwise required to file a tax return. Since the IRS would not have information regarding any dependents for these people, each person would receive $1,200 per person, without the additional amount for any dependents at this time.

I have a tax filing obligation but have not filed my tax return for 2018 or 2019. Can I still receive an economic impact payment?

Yes. The IRS urges anyone with a tax filing obligation who has not yet filed a tax return for 2018 or 2019 to file as soon as they can to receive an economic impact payment. Taxpayers should include direct deposit banking information on the return.

I need to file a tax return. How long are the economic impact payments available?

For those concerned about visiting a tax professional or local community organization in person to get help with a tax return, these economic impact payments will be available throughout the rest of 2020.

Where can I get more information?

The IRS will post all key information on IRS.gov/coronavirus as soon as it becomes available. The IRS has a reduced staff in many of its offices but remains committed to helping eligible individuals receive their payments expeditiously. Check for updated information on IRS.gov/coronavirus rather than calling IRS assistors who are helping process 2019 returns. সূত্রঃ লাইভ সায়েন্স / আইআরএস

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.