Home বিনোদন

বিনোদন

মাত্র ৫৬ বছরে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু

চলে গেলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু

  জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্না ... রাজিউন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সকালে নিজের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। আইয়ুব বাচ্চুর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জানান, হাসপাতালে নেয়ার পথে গাড়িতে এক পর্যায়ে তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা শূন্যের কোটায় নেমে আসে। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল বিভাগের পরিচালক ডা. মীর্জা নাজিমুদ্দীন জানান, সকাল সাড়ে আটটায় বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক তার গাড়িতে করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো তার হার্টে রিং পরানো হয়। তবে সম্প্রতি তিনি ঘনঘন হৃদরোগে ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ আগেও তিনি শরীর চেকআপ করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন। ডা. নাজিমুদ্দীন বলেন, সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কার্ডিওমায়োপ্যাথি। হাসপাতালে আনার সময় কার্যকারিতা শূন্যের ঘরে চলে আসে। আর এতেই তার মৃত্যু হয়। আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সঙ্গীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংসের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী তাঁর শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি নামেও পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।   https://youtu.be/83NXg6qfTQc

ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে

ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে
একাদশ সংসদ নির্বাচন সমাগত। রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যশোরের তিনটি সংসদীয় আসনে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হয়েছে।
খবরে বলা হচ্ছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক, যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় পার্টির ব্যানারে চিত্রনায়িকা শাবনূর মনোয়ন প্রত্যাশী। যশোরে তারকাদের প্রার্থী হওয়ার খবরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য তারকা প্রার্থীদের মনোনয়নের খবরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তৃণমূলের নেতারা। যশোরের বাস্তবতায় যোগ্য প্রার্থীর সংকট নেই। ফলে তারকাদের দলীয় মনোনয়নের খবর ভূয়া হিসেবেই দাবি করছেন অনেকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘের অধিবেশনে সফরসঙ্গী হন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তার এই সফরকে ঘিরে নানা ডালপালা গজিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়েছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন নায়ক ফেরদৌস। কুমিল্লার তিতাশ উপজেলার সন্তান ফেরদৌস। তার শ্বশুর প্রয়াত আলী রেজা রাজু ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। যদিও এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ও সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোর মতো শক্তিশালী প্রাথী রয়েছেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে ফেরদৌসকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিবে, এটা নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যেখানে যার প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দিবেন। তবে তৃণমূলের বাস্তবতায় যশোর-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থীর কোনো সংকট নেই। বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোর মতো প্রার্থীরা থাকতে ফেরদৌসের মতো তারকাকে প্রার্থী করতে হবে এমন বাস্তবতা নেই। তিনি আরো বলেন, ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার পর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই খবরের কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। এক শ্রেণির মানুষ ফেরদৌসকে আলোচনায় আনছে। ফেরদৌসের প্রার্থী হওয়া খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভেঙে পড়েনি। আবার আনন্দিতও নয়। যশোর-১ (শার্শা) আসনে জাতীয় পার্টির ব্যানারে প্রার্থী হবেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তবে শাবনূরের প্রার্থীতার বিষয়টি জানেন না জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান। জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শাবনূর প্রার্থী হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভূয়া। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বছরের নয় মাস সেখানে থাকেন। তিন মাস বাংলাদেশে। আমরা খোঁজ নিয়েছি, তার প্রার্থী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিছু লোক অপপ্রচার করছে। এদিকে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক। তার প্রার্থীতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে কয়েক বছর ধরে। ২০১৭ সালে শাবানা ও তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক কেশবপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে প্রার্থী হওয়া বিষয়টি আরও খোলসা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন ওয়াহিদ সাদিক। যদিও এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে থেকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে বিশ্বাস করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক। এবার দলের বাইরের লোককে মনোনয়ন দিলে কেশবপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। মনোনয়নের ব্যাপারে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। শাবানা ও তার স্বামীর প্রার্থীতার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন। তবে তিনি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমাদের সবার আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবির প্রতি মূল্যায়ন করবেন। দলের ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।

সন্দেহবাদিতা

সন্দেহবাদিতা

মো. রফিকুল ইসলাম
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কতা: লেখাটি নিতান্তই রম্যকথন। সিরিয়াসলি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। গল্প ও জোকসগুলো সংগৃহীত) আমার প্রবাসী বন্ধুটি আবারও অনুরোধ করেছে সন্দেহ বা সন্দেহবাদিতা বা সাসপিশন নিয়ে কিছু লিখতে। আগেরবার মনে করেছিলাম বন্ধু হয়ত জ্ঞানের বহর বাড়াতে আমাকে দিয়ে ঘাটাঘাটি করিয়ে কিছু লিখিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এবারে একটু সন্দেহ হল। ঘটনা কি? এতো জ্ঞানার্জন নয়। নিশ্চয় অন্য কোন বিষয় আছে। বন্ধুকে হালকা চেপে ধরতেই স্বীকার করতে বাধ্য হলো সে সন্দেহের আওতায় আছে। কার সন্দেহের আওতায় আছে তা নিশ্চয় আপনাদের বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। তিনি ধর্মপত্নীর সন্দেহের ঘেরাটোপে আবদ্ধ আছেন। কিছুতেই এ জাল ছিন্ন করতে পারছেন না। তাই সন্দেহের আদি অন্ত নাড়াচাড়া করে যদি মনে একটু শান্তি আসে তাই এ অনুরোধ। শুধু আমার বন্ধু কেন শতকরা নব্বই ভাগ বিবাহিত পুরুষই নিজ নিজ পত্নীর সন্দেহের তালিকায় থাকেন। পরিসংখ্যান নিয়ে আপনাদের সন্দেহ হচ্ছে? আপনার সন্দেহ যুক্তিসংগত। ঠিক ধরেছেন, এটা কোন জরিপের ফলাফল নয় নিতান্তই আমার অনুমান মাত্র। এ ধরনের কোন জরিপ আছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। জানার দরকারও নেই। আপনি কি বিবাহিত। তাহলে বুক হাত দিয়ে ভাবুন তো একবার, না, বলার দরকার নেই। আপনি কি সন্দেহের বাইরে? যদি হন তাহলে আপনি ভাগ্যবান। না হলে ঐ নব্বই জনের একজন আপনি। দাঁড়ান দাঁড়ান কিসের সন্দেহের আওতায় আছেন তা কিন্তু এখনও বলিনি। উল্টাপাল্টা কিছু ভেবে বসবেন না যেন। একটু ধৈর্য ধরুন সব খোলাসা হবে। বাংলা ভাষায় সন্দেহকে সংশয়, অবিশ্বাস, অনিশ্চয়তা, দ্বিধা, অপ্রতীতি, খটকা বা অভিশংকা ইত্যাদি নানাভাবে বর্ণনা করা যায়। সন্দেহের ইংরেজি পরিভাষা সাসপিশন শব্দটি ল্যাটিন Suspere শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ To suspect। ইংরেজি ভাষায় সাসপিশন শব্দটি চতুর্দশ শতাব্দীতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে ভাষায় এর যেদিনই ব্যবহার শুরু হোক না কেন সন্দেহ অবিশ্বাস যে আদি মানব সন্তানের সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে কিন্তু কোন সন্দেহ নেই। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, সন্দেহ হচ্ছে তাহলে আদি পিতার বেহেশতের সেই নিষিদ্ধ ফল খাবার ঘটনাটি নতুন করে মনে করুন তাহলেই আপনার সন্দেহভঞ্জন হবে। আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের সন্দেহের আওতায় পড়ছি। আবার আমরাও মাঝে মধ্যে অন্যকে সন্দেহের আওতায় আনছি। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য আছে যারা অন্যকে সহজে সন্দেহ করতে চায় না। এজন্য অবশ্য তাদের বিপদে পড়ার সম্ভবনাও থাকে। যাক সে বিষয় পরে বলা যাবে আগের বিষয় আগে। দু'টো শ্রেনির সন্দেহের আওতায় আসলে আমরা সব থেকে বেশি নাস্তানাবুদ হই। এক নিজ স্ত্রী আর দ্বিতীয় পুলিশ। একটিতে আপনি বেইজ্জত হতে পারেন পরিবারের মধ্যে আর দ্বিতীয়টিতে জনসম্মুখে। প্রথমটি নিয়ে হয়ত অনেকের সংশয় বা সন্দেহ হচ্ছে। উদাহরন দিচ্ছি মিলিয়ে নিন। প্রত্যেক স্ত্রীই তার স্বামী সম্পর্কে অতিশয় উচ্চ ধারনা পোষন করে। যেমন স্বামী বেচারা হয়ত সরকারী বা বেসরকারী নির্ধারিত বেতনে চাকুরী করে বা ছোট খাট ব্যবসা করে সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। স্ত্রী নিজেও হয়ত চাকুরী করে। সেও জানে তার স্বামীর আয় কত। তবুও সে সব সময় সন্দেহ করবে নিশ্চয় তার স্বামী গোপনে আত্মীয় স্বজনকে টাকা পাচার করে দিচ্ছে। ভাববে স্বামী তার ভাইকে জমি বা বাড়ি কিনে দিচ্ছে বা ভাগ্নে বা ভাস্তেকে পড়ার খরচ দিচ্ছে নিজ সংসারের দিকে না তাকিয়ে। সব স্ত্রীরই ধারনা তার স্বামীর নিশ্চয়ই এক্সট্রা ইনকাম আছে অথবা আছে অফুরান্ত অর্থের ভান্ডার। সে স্ত্রী সন্তানকে বঞ্চিত করে শুধু বাবা মার সংসারে বা আত্মীয়দের অকাতরে অর্থ ঢেলে যাচ্ছে। এতো গেল টাকা পয়সা নিয়ে। অন্য বিষয়! বেচারা স্বামীর হয়ত কোন কারনে বাসায় ফিরতে দেরি হচ্ছে। তো শুরু হয়ে গেল মুহূর্মুহু টেলিফোন। যদি কোন কারনে মোবাইল অফ থাকে বা ব্যাটারী শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে স্বামী বেচারার কপালে দুঃখ আছে। প্রায় প্রত্যেক স্ত্রীই ভাবে তার স্বামীর প্রেমে তাবত সুন্দরীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। তাই দেরি হলে তাদের ধারনা স্বামী প্রবর এতক্ষন নিশ্চয় স্ফূর্তি করে আসলেন। ওই যে বলছিলাম স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের সামর্থ্য সম্পর্কে অতি উচ্চাশা পোষন করে। তবে কোন কোন বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তি স্বামী নামের এ আসামীদের এ অবস্থা থেকে উদ্ধারে কিছু কিছু পথ বাৎলে দিয়েছেন। তার দু'একটা টিপস আপনাদের দেই। কাজে লাগাতে পারেন। এতে কাজও হতে পারে। কাজে না লাগলে আমাকে দোষ দেবেন না যেন। এগুলো আমার আবিষ্কারও নয় বা আমার দ্বারা পরীক্ষিতও নয়। যেমন ধরুন, আপনি হয়ত ট্যুরে আছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে টেলিফোন করবেন কোথায় কি করছেন তার রানিং কমেন্ট্রি দিয়ে। একে বলা যায় হাজিরা কল। আপনি হয়ত সন্ধ্যার পর বন্ধু বা বান্ধবীদের নিয়ে আসলেই স্ফুর্তি করছেন। এ সময় স্ত্রীর কল। কি করবেন? ঘাবড়াবেন না। খুব পরিশ্রান্তের সুরে জবাব দিন সারাদিন একঘেয়ে মিটিং করে এই মাত্র হোটেলে ফিরলেন। কাজে লাগতে পারে এমনকি সহানুভূতিও পেতে পারেন। অথবা ধরুন, আপনার স্ত্রীও হয়ত জানে আপনি স্ফূর্তির জায়গায় আছেন। তখন প্রেমঘন স্বরে বলুন আই মিস ইউ। তুমি থাকলে ভাল লাগতো। দেখবেন আপনার সাত খুন মাপ হতেও পারে। তবে অতিশয় বুদ্ধিমান স্বামীরা কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে দিব্যি স্ত্রীর নাকের ডগায় স্ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে। একটা গল্প বলি শুনুন। একদিন কুদরত সাহেব ভুলে মোবাইল বাসায় ফেলে অফিসে গেছেন। অফিস থেকে ফোন করে স্ত্রীকে দুপুরে লাঞ্চের সাথে ড্রাইভারের কাছে ফোন পাঠিয়ে দিতে বললেন। স্ত্রী এ সুযোগে স্বামীর ফোনটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন। ফোনবুকে ঢুকে দেখলেন সন্দেহজনক তিনটি নম্বর গর্জিয়াস ওম্যান, প্রেটি লেডি ও মাই লাভ নামে সেভ করা। স্ত্রীর তো মাথায় খারাপ হবার যোগাড়। কুদরত সাহেবকে নিতান্তই গোবেচারা মনে হয় যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। অথচ তলে তলে এত। ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছে। আজকেই ধরতে হবে। একেবারে জন্মের শিক্ষা দিতে হবে। ছোক ছোকানির সাধ মিটিয়ে দিতে হবে। আসুক আজ বাড়িতে। তবে তার আগে ধরতে হবে এ তিন শাঁকচুন্নি কারা। কুদরত সাহেবের ফোন থেকে ফোন করলে নিশ্চয় ধরবে। তখনই বুঝা যাবে তারা কারা। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমেই গর্জিয়াস ওম্যানকে ফোন করলেন। ওপাশের ফোন কল রিসিভ করলো। হ্যালো বাবাজী, কেমন আছ? আমার মেয়ে কেমন আছে। অসময়ে ফোন করলে? কোন অসুবিধা? মা আমি তোমার মেয়ে বলছি। তোমার জামাই ভুলে ফোন রেখে গেছে। সে ফাঁকে তোমাকে ফোন করলাম। আরও দু'চার কথা বলে ফোন রেখে দিলেন। স্ত্রী ধাক্কা খেলেন। আজকাল মানুষ নিজের মাকেই পাত্তা দেয় না আর সে কিনা শাশুড়ির নাম সেভ করেছে। আসলেই লোকটা নরম মনের মানুষ। তা বলে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তিনি এবারে ফোন করলেন প্রেটি লেডির নম্বরে। হ্যালো দুলাভাই। আচ্ছালামু আলাইকুম। এতদিনে আপনার একমাত্র শালীর কথা মনে পড়লো। ঋতু, আমি তোর আপা বলছি রে। তোর দুলাভাই ভুলে ফোন বাসায় রেখে গেছে। তুই কেমন আছিস। আরও অল্পকিছু কথা বলে ফোন রেখে দিল। না! তার স্বামীটা তো আসলেই ভাল মানুষ। নিজের বোন নেই তাই শালীকে বোনের মত দেখে। কিন্তু মাই লাভটা কে? খটকা এখনও দূর হয়নি। এবারে রিং দিল মাই লাভের নম্বরে। রিং হচ্ছে। ওমা তার নিজের নম্বরও বাজছে। নিজের ফোন হাতে নিয়ে দেখে তার স্বামীর নম্বর। সে পুরো থ হয়ে গেল। তার ভীষণ কান্না পেল। ফেরেস্তার মত স্বামীকে সে সন্দেহ করলো। তার খুব অনুশোচনা হল। সে সারাদিন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদলো। বিকেলে কুদরত সাহেব ফিরলে পুরো ঘটনা তাকে খুলে বললো। মাফ চাইলো। আর কুদরত সাহেবের হাতে তুলে দিল দশ হাজার টাকা ইচ্ছেমত খরচ করতে। এ টাকাটা সে অনেক কষ্টে জমিয়েছিল। অথচ একদিন আগে হলে জান থাকতে সে এ টাকা কাউকে দিত না। কিন্তু সে আজ এতটাই অনুতপ্ত আর তার পতিভক্তি ও পতিপ্রেম এতটাই উথলে উঠেছে যে এ টাকা তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। কুদরত সাহেব টাকাটা নিলেন। এ টাকায় একটি সুন্দর শাড়ি কিনে গিফট দিলেন বান্ধবী সিনথিয়াকে। ভাবছেন, কুদরত সাহেবের স্ত্রী ফোনে সিনথিয়ার নম্বর পেল না কেন? পাবে কি করে ওটা তো সেভ ছিল গফুর চাচা মোটর মেকানিক নামে।

সন্দেহবাদিতা ২

স্ত্রীর সন্দেহের আসামী হলে কি কি হতে পারে তার ধারনা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। এবারে তাদের সন্দেহ যে কখনও কখনও উপকারী হতে পারে তার একটা উদাহরন দেই। ধরুন, আপনি সকালের ঘুমটা খুব পছন্দ করেন তাই সকালে দেরি করে উঠেন। কিন্ত আপনার স্ত্রী চান আপনি সকালে উঠে হাটতে যাবেন যাতে আপনি স্লীম থাকেন। কি আর করা, আপনার কষ্ট হলেও স্ত্রী আজ্ঞা পালনে নিতান্ত অনিচ্ছায় হাটতে বের হন। কিন্তু আপনি সকালের ঘুমটা খুব মিস করেন। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে শুধু স্ত্রীর মনে একটু সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবেন। কিভাবে? দিন কয়েক পর হেঁটে বাসায় ফিরে উৎফুল্লভাব দেখান বা চাইলে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জনপ্রিয় কোন গানের কলিও ভাজতে পারেন। ভাব দেখান আপনার হেঁটে খুব ভাল লাগছে। নিশ্চিত আপনার স্ত্রী আপনার উৎফুল্লতার কারন জানতে চাইবে। বলবেন, " আর বলো না হেঁটে খুব মজা পাচ্ছি। সকালবেলা আমরা যে রাস্তায় হাঁটি সে রাস্তার পাশে বাচ্চাদের স্কুলে সুন্দর সুন্দর মায়েরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসে। বাচ্চাদের স্কুলে ঢুকিয়ে তারা রাস্তার ধারে আড্ডা দেয়।" ব্যস আর কিছু বলার দরকার নেই। আপনার কথা শুনে স্ত্রীর কথা বন্ধ হয়ে যাবে, মুখ ভার হবে। আপনি সারাদিন চুপটি থাকুন। শুধু ঘুমুতে যাওয়ার আগে সকালে হাঁটতে যাওয়ার কোন প্রসংগ তুলতে পারেন বা নাও তুলতে পারেন। কিন্তু নির্দেশ পাবেন, "কাল থেকে আর তোমাকে হাঁটতে যেতে হবে না।" আঃ! কি শান্তি! নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ুন। পুলিশের সন্দেহের আসামী হলে কি সমস্যা হতে পারে তার একটু ধারনা দেওয়া যাক এবার। আপনি কপালদোষে পুলিশের সন্দেহের আওতায় যদি এসেই পড়েন তাহলে পুলিশের সন্দেহভঞ্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ৫৪ ধারায় আপনি লাল দালানে ঢুকে যেতে পারেন। কপাল ভাল হলে উকিল মোক্তার ধরে বাড়ি ফিরে বাড়ির ভাত খেতে পারবেন। আর যদি কপাল খারাপ হয় তাহলে লাল দালানে ভাত খেতে হতে পারে। কতদিন? তা জানতে জনপ্রিয় জোকটি শুনুন। এক বনের ধারে এক শেয়াল দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ সে দেখলো একটা মহিষ ব্যস্ত সমস্ত হয়ে দৌড়ে গভীর বনের মধ্যে ঢুকছে। শিয়াল তাকে জিজ্ঞেস করলো, "এই মহিষ, তুমি এত ব্যস্ত হয়ে কই যাও।" উত্তরে মহিষ বললো, "ও, তুমি জানো না বুঝি। হাতি ধরতে বনে পুলিশ এসেছে।" "আরে বোকা মহিষ তাতে তোমার কি তুমি তো আর হাতি না?" শিয়াল মহিষকে টিটকারি মারলো। মহিষ হেসে জানালো, "এটা এমন দেশ ২০ বছর জেলে থেকেও আমি প্রমান করতে পারবো না আমি হাতি না, মহিষ।" শুনে শেয়াল নিজেও আর দাঁড়ালো না, দৌড় লাগালো। পুলিশ উকিল মোক্তার কোর্ট কাচারীর কথা যখন এসেই গেল তখন সেখানকার কাজ কারবার সম্পর্কে একটু বিদ্যার্জন করা যাক। আদালতে বাদী পক্ষের সব সময় চেষ্টা থাকে মামলার ঘটনা কিভাবে বিচারক বা জুরিবোর্ডকে বিশ্বাস করানো যায়। অন্যদিকে আসামি পক্ষের কাজ কারবার সন্দেহ নিয়ে। অর্থাৎ বিচারক বা জুরিবোর্ডের মনে ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া। যে যত ভালভাবে এ কাজ করতে পারবে সে তত ভাল উকিল। কখনও কখনও সন্দেহ সংশয়ের জয় হয় কখনওবা নির্ঘাত পরাজয়। এ নিয়ে একটি গল্প হয়ে যাক। এক উকিল এক হত্যা মামলার আসামীর পক্ষে আইনি লড়াই করছে। এক পর্যায়ে সে বুঝতে পারলো যদিও ভিকটিকের লাশ পাওয়া যায়নি কিন্তু আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ এমন যে তার মক্কেলের শাস্তি এড়ানো খুবই কঠিন হবে। তখন সে মামলার জুরি বোর্ডকে বললো, "সম্মানিত জুরিবোর্ড আপনারা আজ যার হত্যাকান্ডের জন্য আমার মক্কেলকে আসামীর কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সে কিছুক্ষনের মধ্যেই হেটে আমাদের এখানে চলে আসবে।" বলেই সে কোর্টরুমের দরজার দিকে তাঁকালো। জুরিবোর্ডও দরজার দিকে তাঁকালো। কিন্তু কিছুই ঘটলো না। কেউ এলো না। তখন উকিল বললো, "এই মাত্র যে কথাটি বলেছিলাম তা ছিল একটা বিবৃতি মাত্র। কিন্তু আপনারা সবাই আমার কথায় দরজার দিকে তাঁকিয়ে ভিকটিমের কোর্টরুমে ঢোকার অপেক্ষা করছিলেন। এর একটাই অর্থ আপনারা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সন্দিহান। সুতরাং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়েও আপনাদের সন্দেহ আছে। অতএব আমার মক্কেল হত্যার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।" এরপর দ্রুত জুরিবোর্ড সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন ও রায় দিয়ে দিলেন। কি আশা করছেন আপনারা, জুরিবোর্ড আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়ে দিলেন। যদি বলি আপনারা ঠিক ধরতে পেরেছেন। কোন সন্দেহ হচ্ছে আপনাদের? সন্দেহ হলে কোন কথা নেই। না হলে একটি কথা আছে। এবারে কিন্তু সন্দেহবাতিকগন জিতে গেছেন। উকিলের যথার্থ সন্দেহ উদ্রেক সত্ত্বেও আসামিকে জুরিবোর্ড সাজা দিয়ে দিয়েছিলেন। কারন জুরিবোর্ড উকিল সাহেবের সন্দেহ উদ্রেকের বিবৃতির উপরই সন্দেহ করেছিলেন। কেন? উকিলের বিবৃতি শুনে বেচারা আসামি যে দরজার দিকে ভ্রক্ষেপই করেনি। কারন তার হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে নিজের কোনই সন্দেহ ছিল না। জন উইলসন বলেছেন, যে যাকে সন্দেহ করে সে তার ভাল কাজকেও স্বীকৃতি দিতে পারে না। তার মানে সন্দেহবাতিকেরা ভালকাজকেও সন্দেহের চোখে দেখে।আমাদের ধর্মপত্নীগণ ও পুলিশের কাজই হল সন্দেহ করা। সুতরাং এরা ছাড়া জন উইলসন সাহেবের কথামত সাধারন মানুষের সব কাজে সন্দেহ করা মানায় না। তাহলে সে সন্দেহবাতিক নামের ব্যাধিক্রান্ত হতে পারে। আবার একেবারে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির হয়ে সকল কথায় সকলকে বিশ্বাস করলেও অনেক সময় কপাল চাপড়াতে হয়। তাই মাঝে মাঝে কিন্তু সন্দেহবাতিক হওয়ারও প্রয়োজন আছে। এসব পরিস্থিতিতে সন্দেহ না করলে বরং আপনি ঠকে যেতে পারেন । একটা গল্প শুনুন তাহলে বুঝতে পারবেন সন্দেহ না করলে কি বিপদ হতে পারে। নগেন ও যতীন দু'বন্ধু। একদিন যতীন নগেনকে বললো, "জানিস দোস্ত আমাদের পুরোহিতের বৌটা না হেব্বি দেখতে।" নগেন বললো, "বলিস কিরে যতীন?" নগেন : "হা রে! আজ রাতে আমি পুরোহিতের বাড়ি যাব। তুই পুরোহিতকে পাহারা দিবি।" যতীন: "কিভাবে?" যতীন নগেনকে বললো, "আরে পুরোহিত যখন মন্দিরে থাকবে তুই পুরোহিতের সংগে কথা বলে তাঁকে মন্দিরে দু'ঘন্টা আটকে রাখবি।" নগেন আর পুরোহিত মন্দিরে কথা বলছে। নগেন: "পুরোহিত মশাই, আপনি গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন ও ভাল পুরোহিত। আপনি অনেকদিন ধরে এ মন্দিরে পুজা করে আসছেন।" এরকম নানা কথা বলতে বলতে দু'ঘন্টা কেটে গেল। পুরোহিতের নগেনের এ গাল গল্পে সন্দেহ হল। সে বললো, " আচ্ছা নগেন, আজ তুমি হঠাৎ আমার সাথে এত কথা বলছো কেন? আগে তো কখনই বলোনি।" নগেন আমতা আমতা করে বললো, "না মানে এমনি পুরোহিত মশাই?" পুরোহিত : "মানে মানে না করে আসল কথা বলো তো।" নগেন তখন জানালো যে যতীন তাঁকে দু'ঘন্টা মন্দিরে আটকে রাখতে বলেছিল। কারন তাঁর বউ নাকি হেব্বি সুন্দরী। যতীন আজ তাঁর বাড়িতে যাবে। পুরোহিত নগেনকে জিজ্ঞেস করলো, "নগেন, তুমি বিয়ে করেছো। নগেন: "হ্যাঁ। পুরোহিত মশাই।" পুরোহিত: "আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। আমার বউ পাঁচ বছর আগে মারা গেছে।" এবার আপনি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন কখন কাকে সন্দেহ করবেন বা কখন কাকে ক্লিন চিট দিবেন। অথবা কিভাবে নিজ পত্নীর সন্দেহ সংশয়কে সামাল দেবেন। পুলিশের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা না করাই ভাল। বেশি চেষ্টা করলে পুলিশের সন্দেহকে বরং আরও উসকে দিবেন। (সমাপ্ত)

অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা

যৌন হেনস্তা: মার্কিন কমেডিয়ান বিল কসবির কারাদণ্ড

যৌন হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মার্কিন কমেডি অভিনেতা বিল কসবির ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে ‘সহিংস যৌন শিকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিচারক। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের নরিস্টনের মোন্টগোমারি জেলার আদালত মঙ্গলবার ৮১ বছর বয়সী কসবিকে এ সাজা দেয়। বিবিসি বলছে, এই সাজার ফলে পুলিশের খাতায় কসবির নাম যৌন অপরাধী হিসেবে অন্তভুক্ত হবে এবং আজীবন তাকে বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং করতে হবে। আদালতের বিচারক স্টিভেন ও’নেইল একে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করেছে।বিল কসবি ও অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুন মাসে টেম্পল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড অভিযোগ করেন যে, ২০০৪ সালে কসবি তাকে মাদক সেবন করিয়ে যৌন হেনস্তা করেন। অথচ তিনি তাকে (কসবি) পরামর্শক হিসেবে মানতেন। গত এপ্রিলে মামলার পুনঃবিচারে কসবির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এদিকে, মঙ্গলবার আদালতে কসবির পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আর রায়ের ব্যাপারে কসবির কিছু বলার আছে কি না- তা জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
তবে তার মুখপাত্র অ্যান্ড্রিউ ওয়াট এই বিচার প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বর্ণবাদী ও যৌনবাদী। তিনি (কসবি) ‘যৌন যুদ্ধের’ শিকার বলেও উল্লেখ করেন ওয়াট।লিলি বার্নার্ড ও জেনিস ডিকেসন
প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালের দিকে কসবি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন যে, তাকে ‘আমেরিকার বাবা’ (আমেরিকা’স ড্যাড) বলে ডাকা হতো। উল্লেখ্য, অ্যান্ডেরা কন্সট্যান্ড ছাড়াও অন্তত আরো ৬০ জন নারী কসবির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের মধ্যে সাবেক মডেল লিলি বার্নার্ডও রয়েছেন। মঙ্গলবারের রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মডেল জেনিস ডিকেসন এবং হাততালি দিয়ে রায়কে স্বাগত জানান।

শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক এমএ আজিজের নামঃ অস্বীকার আজিজের

জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আজিজের সম্পত্তি নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক

[caption id="attachment_22716" align="alignleft" width="620"] জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার এমএ আজিজ[/caption] খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় অবশেষে আলোচিত রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সেই আব্দুল আজিজের সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জনতা ব্যাংক বলছে, এই আব্দুল আজিজই হচ্ছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। তবে ব্যাংকের এই দাবি অস্বীকার করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। এরআগেও তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অস্বীকার করে বলেছিলেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ঋণের অর্থ আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি। ভুয়া রফতানি নথি তৈরি করে জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড। এর আগে ৩১ জুলাই জনতা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ আজিজের নামে একটি চিঠি ইস্যু করে। জনতা ব্যাংক বলছে, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান মিয়া। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ ১ হাজার ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৯ টাকা। জনতা ব্যাংক বলছে, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কেউ কিনতে চাইলে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অথবা দিলকুশা লোকাল অফিসে দরপত্র জমা দিতে হবে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে যে ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন, সেখানে শীর্ষ দশের নাম রয়েছে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান রিমেক্স ফুটওয়্যার ও ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস লিমিটেড। এর কর্ণধার দুই ভাই এমএ আজিজ ও এমএ কাদের। ঋণের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে তারা বের করে নিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এ দুই ভাই এখন জনতা ব্যাংকেরও শীর্ষ ঋণখেলাপি। বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নাম জাজ মাল্টিমিডিয়া। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও বিনিয়োগ করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল সিনেমাও হয়েছে। সংসদে প্রকাশ করা শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় এমএ আজিজের রিমেক্স ফুটওয়্যার রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস লিমিটেড রয়েছে দশম স্থানে। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এমএ আজিজের বড় ভাই এমএ কাদের। এ প্রসঙ্গে আবুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের আমার ভাই। তবে তিনি জনতা ব্যাংক থেকে কোনও টাকা নেননি। রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদ বলছেন, ‘রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজকে আমরা এম এ কাদেরের ভাই বলেই জানি। যিনি সিনেমা তৈরি করেন।’ জানা গেছে, চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায় দুই ভাইকে উদার হাতে ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ২০১৩ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছরেই জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এমএ কাদের ও এমএ আজিজ। এরমধ্যে পণ্য রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা তহবিল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। দুই ভাইকে দেওয়া জনতা ব্যাংকের এ ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই ভাই-ই নাম লিখিয়েছেন শীর্ষ ১০ ঋণখেলাপির তালিকায়। বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় গত জুন শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ২২ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রযোজকরা: টিভি চ্যানেলের কাছে ১০০ কোটি টাকা আটকা

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রযোজকরা

বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে প্রযোজকদের ১০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া জমেছে বলে দাবি করেছে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বকেয়া আদায়ের দাবিতে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রযোজকদের সংগঠন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)। এখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ইরেশ যাকেরসহ পাওনাদার প্রযোজকরা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই চ্যানেলগুলোকে প্রযোজকদের বকেয়া পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এর আগেও চ্যানেলের কাছে বহু টাকা আটকা পড়েছিল। আমরা সেই টাকা অনেক কষ্ট করে আদায় করেছি। এবারও প্রযোজকদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো আটকে আছে। অনেক চেষ্টা করেও সেই টাকা আমরা উদ্ধার করতে পারছি না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চাইছি। তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। তিনি যেনো বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। তাহলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।’ চ্যানেলগুলোতে গেল কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক, খণ্ড নাটক এবং টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছে। কিন্তু সেই সবের জন্য বেশিরভাগ টাকা পাননি সংশ্লিষ্ট প্রযোজকরা। অনেক নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে নানারকম তিক্ত ঘটনারও জন্ম দিয়েছে বেশ কিছু টিভি চ্যানেল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি ও মিটিং করেও কোনো সুরাহা পাননি অনেক প্রযোজক। অনেকেই বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ধারাবাহিক নাটক ও অনুষ্ঠানের প্রচার। আবার কিছু কিছু ধারাবাহিকের পুনঃপ্রচারও চলছে। অথচ সেই নাটকে লগ্নিকৃত টাকাই পরিশোধ করেনি টিভি চ্যানেল।
‘ডুব’ ছবির একটি দৃশ্যে ইরফান ও তিশা। ছবি : সংগৃহীত

অস্কারে যাচ্ছে ফারুকীর ‘ডুব’

[caption id="attachment_22537" align="alignleft" width="492"]‘ডুব’ ছবির একটি দৃশ্যে ইরফান ও তিশা। ছবি : সংগৃহীত ‘ডুব’ ছবির একটি দৃশ্যে ইরফান ও তিশা। ছবি : সংগৃহীত[/caption]

অস্কারে যাচ্ছে ফারুকীর ‘ডুব’

‘বিদেশি ভাষার ছবি’ হিসেবে অস্কারের ৯১তম আসরে যাচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ছবি ‘ডুব’। বাংলাদেশ থেকে আলোচিত এই ছবি ‘বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ’ অস্কারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বলে জানান ছবিটির প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। এ বিষয়ে এনটিভি অনলাইনকে আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত। ভীষণ ভালো লাগছে এই ভেবে যে প্রথমবারের মতো আমাদের প্রযোজিত কোনো ছবি অস্কারে যাচ্ছে। ছবিটির জন্য আমরা ক্যাম্পেইন কীভাবে করব সেই পরিকল্পনা গতকাল থেকে করা শুরু করেছি।’ আবদুল আজিজ তাঁর প্রযোজিত অন্যান্য ছবি নিয়েও আশাবাদী। বলেন , “সামনে জাজ থেকে আরো কিছু ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ‘পোড়ামন ২’,‘সেটারডে আফটারনুন’, ‘দহন’ এই ছবিগুলো নিয়ে আমি আশাবাদী। অস্কারের জন্য এই ছবিগুলোও বিবেচিত হতে পারে।” এর আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ও ‘টেলিভিশন’ছবি দুটি অস্কারে পাঠানোর জন্য ‘বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ’ নির্বাচন করেছিল। তৃতীয়বারের মতো অস্কারে নিজের অভিনীত ছবি যাচ্ছে, তাই বেশ উচ্ছ্বসিত তিশা। বললেন, “ভবিষ্যতের কথা বলতে পারব না। তবে ‘ডুব’ ছবি অস্কারে যাচ্ছে এই সংবাদ শোনার পর থেকে আমার ভালো লাগছে।” অন্যদিকে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘যখন ছবিটি যাত্রা শুরু করি তখন অনেকেই আমাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। এই ছবিটি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে এবং আপনাদেরও। যাঁরা শুরু থেকে পাশে ছিলেন তাঁদের ভালোবাসা ও ধন্যবাদ।” মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আরো জানান, ডুব ছবির মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। তারকাবহুল ‘ডুব’ ছবির বিভ্ন্নি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের ইরফান খান, বাংলাদেশের নুসরাত ইমরোজ তিশা, রোকেয়া প্রাচী, টলিউডের পার্নো মিত্র প্রমুখ। ছবিটি বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যৌথভাবে প্রযোজনা করছে ভারতের এস কে মুভিজ। এ ছাড়া ছবির সহপ্রযোজক হিসেবে ছিলেন ইরফান খান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউডের ডলবি থিয়াটারে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে অস্কারের ৯১তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান।

পরকীয়া!!

পরকীয়া

মোঃ রফিকুল ইসলাম

সাধারনভাবে বিবাহিত কোন পুরুষ বা মহিলা নিজ স্ত্রী বা স্বামী ব্যতীত অন্যকোন মহিলা বা পুরুষের সংগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত হলে তাকে পরকীয়া বলা হয়। তবে আইনের ভাষায় অবশ্য শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয় শারিরীক সম্পর্ক হতে হবে। পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার অনেক কারন সমাজ বিজ্ঞানীগণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি কারনকে অগ্রগণ্য বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. একাকীত্ব: জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে।

২. স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: মানসিক দূরত্ব বা ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা।

৩. প্রেম ভালবাসার ঘাটতি: নানা কারনে প্রেম ভালবাসার ঘাটতি দেখা দিলে।

৪. যৌন সম্পর্কে বিরক্তি: কোন এক পক্ষের বিরক্তি বা অক্ষমতা দেখা দিলে।

৫.অন্তরঙ্গতার ঘাটতি নানাবিধ কারনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অন্তরঙ্গতার অভাব হলে।

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা যাই বলুক বা ব্যাখ্যা দিক না কেন মানুষ স্বভাবগতভাবে নিজেরটা নিয়ে কমই সন্তুষ্ট থাকে। হোক সেটা নিজের স্ত্রী বা স্বামী বা খাবার দাবার বা অন্যকোন জিনিস। রবি ঠাকুরের নরেশ পরেশ দু'চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের গল্পে যেমন আছে। নরেশ নিজের পছন্দের পাত্রী ছেড়ে পরেশের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করার পর যখন নরেশের ছেড়ে দেয়া পাত্রীকে পরেশ বিয়ে করে তখন নরেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যায় এই ভাল কি সেই ভাল নিয়ে এবং নিজের স্ত্রীর খুত আবিষ্কার করে। তেমনি খাবার দাবার নিয়েও গ্রামে একটা শ্লোক প্রচলিত আছে, নিজের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে তিতা, "পরের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে মিঠা।" খাবার নিয়ে বরং একটা গল্পই বলি। বিপত্নীক সরকার সাহেবের অনেক বয়স হয়েছে। মুখের স্বাদ কমে গেছে। প্রতিদিনই খাবার নিয়ে জ্বালাতন করেন। নিজের বৌমার রান্না ভাল লাগে না। শুধু পাশের বাড়ির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে ডাল বা তরকারী আনতে বলেন। একদিন সন্ধ্যায় খেতে বসেছেন। ডাল ভাল লাগছে না। পাশের বাড়ি থেকে ডাল আনতে বললেন। কাঁহাতক আর মানুষকে বিরক্ত করা যায়। তাই বৌমা চালাকি করে নিজেদের ডাল কাজের মেয়েকে দিয়ে শাড়ির আঁচলের তলায় বাইরে পাঠিয়ে আবার কয়েক মিনিট পর নিয়ে এসে বলে এই যে আপনার ঘটুর বৌয়ের ডাল। সরকার সাহেব এবার ডাল খেয়ে সন্তুষ্ট হন। আর বলেন, "দেখ তো আমার ঘটুর বৌয়ের ডাল। তোরা কি রান্না করিস মুখেই দেওয়া যায় না।" অথচ কয়েক মিনিট আগে এ ডালই তার ভাল লাগছিল না। মানুষ নিজের স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকাটা বোধহয় একটা চিরন্তন বিষয়। এজন্য অনেকেই সুযোগ খুঁজে কিভাবে তার সঙ্গীকে পরিবর্তন করা যায়। কি কথাটা আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে আমি একটা ঘটনা বলি। এরপর আপনারাই না হয় বিচার করুন। বইয়ের নামে শুধুমাত্র একটি বর্ণের ভুলের কারনে একটি বইয়ের বিক্রি মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বেড়ে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হয়েছিল। নিশ্চয়ই আপনাদের জানতে ইচ্ছে হচ্ছে বইটির কি নাম ছিল। বইটির নাম ছিল How to change your life. কিন্তু ভুলক্রমে l এর পরিবর্তে w হওয়াতে এ বিপত্তি ঘটেছিল। এতে বইয়ের নাম হয়েছিল How to change your wife. তাহলে বুঝুন ওয়াইফ পরিবর্তনের কলাকৌশল জানতে স্বামীরা কেমন উদগ্রীব ছিলো। পুরুষ লোকদের স্ত্রীদের সংগে কথা বললে নাকি বড় বড় রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। তবে সেটা নিজ স্ত্রী নাকি পরস্ত্রী সেটা একটা প্রশ্ন। আসুন দেখি সমীক্ষা কি বলে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্ত্রীর সংগে কথা বলা পুরুষের জন্য খুবই চিত্তবিনোদন ও জীবনী শক্তি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। এটা পুরুষের শতকরা ৯০ ভাগ উদ্বেগ ও ৮০ ভাগ হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এটা শতকরা একশ ভাগ চিত্তবিনোদনকারী। তবে এ গবেষনা সবচেয়ে বড় দূর্বলতা হল এটা কার স্ত্রীর সাথে কথা বলার কথা বলা হয়েছে সেটা বলতেই ভুলে গেছে। তার মানে এ সমীক্ষা পরকীয়ার মাহাত্ম্যকে তুলে ধরছে। পরকীয়ার মাহাত্ম্য যেমন আছে তার ঝক্কিও কিন্তু কম নয়। পরকীয়া করে ধরা পড়লে বা ধরা পড়ার আশঙ্কা হলে স্বামী বা স্ত্রীর হাতে নাস্তানাবুদ বা কখনও জীবনের উপরও আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। একটা গল্প বলি তাহলে হয়ত বিষয়টা একটু পরিষ্কার হতে পারে। দুই ভূতের আলাপ পরিচয় হয়েছ। তারা কে কিভাবে মারা গিয়ে ভূত হয়েছে তাই নিয়ে কথা বলছে। ১ম ভূত: ভাই, আপনি কিভাবে মারা গেলেন? ২য় ভূত: আমি ঠান্ডায় মারা গেছি। ১ম ভূত: তা ঠান্ডায় মারা যাবার সময় আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল। ২য় ভূত: আসলে আমি দূর্ঘটনাক্রমে একটা রিফ্রেজারেটরে আটকা পরেছিলাম। প্রথমে আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। পরে আমার শরীর জমে যায়। চারদিকে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে এবং এক পর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যাই। ১ম ভূত: আহা! কি করুন মৃত্যূ। ২য় ভূত: আপনি কিভাবে মারা গেলেন? ১ম ভূত: আমার হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল। ২য় ভূতঃ ও তাই, তা কিজন্য আপনার হার্ট এ্যাটাক হল। ১ম ভূত: আসলে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার স্ত্রীর অন্য এক পুরুষের সাথে সম্পর্ক আছে। একদিন যখন কাজ থেকে ফিরছিলাম তখন একজোড়া জুতা আমার বাসার দরজার বাইরে দেখতে পেলাম। তখন বুঝলাম যে ব্যাটা আমার স্ত্রীর সাথে আছে। কিন্তু শোবার ঘরে গিয়ে দেখি স্ত্রী একা। তখন আমার জেদ শয়তানটা কোথায় পালিয়ে আছে তা খুঁজে বের করা। আমি টয়লেট, নীচতলার ঘর, স্টোর রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও শয়তানটাকে পেলাম না। আমি দৌড়ে উপরের তলায় গেলাম। ওয়ারডোর্ব খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। কিন্তু এই দৌড়াদৌড়ি ও উত্তেজনা সহ্য করতে পারলাম না। হার্ট এ্যাটাক হয়ে গেল। ২য় ভূত: ইস্! আপনি কেন শয়তানটাকে খুঁজতে ফ্রিজটা খুঁজলেন না। শয়তানটা সেখানেই লুকিয়ে ছিলো। সেখানে খুঁজলে আজ আমরা দু'জনই বেঁচে থাকতাম। কখনও কখনও বুদ্ধিমান ও চালাক লোকেরা নির্বিঘ্নে পরকীয়া চালিয়ে যান তার স্ত্রী বা স্বামীর নাকের ডগায়। আবার কেউ কেউ ধরা খেয়ে নাজেহালও হন। আবার কেউ কেউ কখনও কখনও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে সন্তানের বাবা মা হয়ে সমাজের চোখেও নাজেহাল হন। এগুলোর দু'একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা খোলাসা হবে। প্রথমেই বুদ্ধিমান লোকেরা কিভাবে কি করে দেখা যাক। এক বিবাহিত লোকের তার অফিস সেক্রেটারির সংগে সম্পর্ক ছিল। একদিন সে অফিস শেষে তার সেক্রেটারির বাসায় গেল এবং সারা বিকেল তার সাথে প্রেম করল। এক পর্যায় সে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ জেগে উঠে পোষাক পড়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হল। বের হবার আগে সে তার প্রেমিকাকে তার জুতোজোড়া বাইরে নিয়ে ঘাস ও কাদা ময়লার সাথে ঘষতে বললো। এবারে ঘাস ময়লা লাগা জুতো পায়ে সে বাসায় ফিরে গেলো। "তুমি সারা বিকেল কোথায় ছিলে?" স্ত্রী জানতে চাইলো। "আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলবো না। আমার সেক্রেটারির সাথে প্রেম করছিলাম।" "আমার কাছে মিথ্যা বলো হারামীলোক। তুমি গলফ খেলছিলে।" এবারে একটু কম বুদ্ধিমান লোকেরা এ কাজ করতে গিয়ে কিভাবে ধরা পড়ে আসুন দেখি। এক মহিলার স্বামী সকালবেলা যখন চা পান করছিল তখন সে তার স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো। "আমি তোমার প্যান্টের পকেটে এক টুকরো কাগজ পেয়েছি তাতে মেরিলো নাম লেখা, "ক্ষিপ্ত স্ত্রী জানতে চাইলো, "নিশ্চয়ই তোমার কাছে এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আছে।" "জান। তুমি শান্ত হও।" লোকটি জবাব দিল, "মনে করতে পার গত সপ্তাহে আমি ঘৌড়দৌড় মাঠে গিয়েছিলাম। এটা ছিল আমি যে ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছিলাম তার নাম।" স্ত্রী কিছু বললো না। পরদিন সকালে গোপনে স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো এবং স্বামীর মাথায় সজোড়ে চাটি মারলো। স্বামী ক্ষেপে গিয়ে জানতে চাইলো কেন তাকে চাটি মারা হল। স্ত্রী জানালো, "তোমার ঘোড়া কাল রাতে ফোন করেছিল।" পরকীয়ার ফলে জন্ম নেয়া বাচ্চার পিতৃত্ব নিয়ে ঝামেলার গল্প বলি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন এমন ঝামেলায় অনেকেই জড়িয়েছে। হাতের কাছের উদাহরন ইতালীতে খেলার সময়ে ম্যারাডোনার ছেলের বাবা হওয়া। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ম্যারাডোনা জুনিয়ারকে সে মেনে নিয়েছে। এবারে গল্পে আসি। এক লোক রাস্তার ধারে বসে চা খাচ্ছেন। হঠাৎ একটা বাচ্চা দৌড়ে এসে বললো, "প্লিজ সাহায্য করুন। আমার বাবা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে।" ভদ্রলোক বাচ্চার পিছে পিছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন দু'জন লোক মারামারি করছে। তিনি বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কে তোমার বাবা?" সে জবাব দিল, "আমি জানি না, কে আমার বাবা তা নিয়েই তো তারা মারামারি করছে।" এবারে পরকীয়ার ভয়াবহতা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। ২০১৬ সালে স্ট্যাটিক ব্রেইন রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরকীয়ার উপর এক গবেষনা পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে আধূনিক কালের মানুষের তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ততার এক করুন চিত্র। তার কিছু আপনাদের জন্যে তুলে ধরছি। যথা-- এক তৃতীয়াংশ বিয়ের স্বামী বা স্ত্রী বা উভয়ই শারিরীক বা মানসিকভাবে তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত থাকে। শতকরা ২২ ভাগ পুরুষ এবং শতকরা ১৪ ভাগ নারী স্বীকার করেছে যে তারা তাদের সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত ছিল। শতকরা ৩৬ ভাগ নারী পুরুষ তাদের সহকর্মীদের সংগে সম্পর্কিত ছিল। শতকরা ১৭ ভাগ নারী বা পুরুষ তাদের দেবর বা শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। যারা একবার পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তাদের পরবর্তীতে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩৫০ ভাগ। ভুল নয় ঠিক পড়ছেন ৩৫০ ভাগ। বিযের দু'বছরের মধ্যেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শতকরা ৩৫ ভাগ নারী পুরুষ সফরকালে পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। শতকরা ১০ ভাগ পরকীয়া হয় অনলাইনে। অন লাইনের সম্পর্কের শতকরা ৪০ ভাগ বাস্তব জীবনের সম্পর্কে রূপ নেয়। এসব কারনে বুদ্ধিমান কেউ কেউ আগে থেকেই উত্তর পুরুষদের পরিবারের পরকীয়া ঠেকানোর জন্য অন্যরকম কিছু পদ্ধতিও ভেবে রাখেন। এবারে এমনই এক গল্প বলি। এক ইটালীয় মাফিয়া ডন মৃত্যু শয্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় তার নাতিকে ডাকলো, "শোন। আমি চাই তুমি আমার ক্রমিয়ামের আস্তর দেওয়া . ৩৮ ওয়ালথার পিপিকে রিভলবারটি নাও যাতে মৃত্যুর পরও তুমি আমাকে মনে রাখো।" নাতি বললো, "কিন্তু দাদু, আমি তো এসব পিস্তল রিভলবার পছন্দ করি না। তারচেয়ে আমাকে তোমার রোলেক্স ঘড়িটা দিতে পার না?" "শোন সনি, ঘড়ি আমি দিতে পারি। কিন্তু তুমি জান, একদিন তোমাকে আমার এ ব্যবসায় চালাতে হবে। তোমার অনেক টাকা হবে। বিশাল বাড়ি হবে, সুন্দরী স্ত্রী হবে। হয়ত বাচ্চা কাচ্চাও হবে। একদিন হয়ত তুমি অসময়ে বাসায় ফিরবে। হয়ত বিছানায় তোমার স্ত্রীর সংগে অন্য কোন পুরুষকে পাবে। তখন তুমি করবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলবে, টাইমস আপ, সময় শেষ?" সবশেষে যারা পরকীয়ায় অভ্যস্থ তাদের জন্য একটা হুশিয়ারী গল্প বলে এ আখ্যান শেষ করতে চাই। ব্যবসায়ী জামশেদ সাহেব পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত আছেন। প্রায়ই তিনি ব্যবসায়ের কাজে বিদেশে যান। তো একবার তিনি ব্যবসায়ের কাজে নেপাল যাবার কথা বলে স্ফূর্তি করতে বান্ধবীর বাসায় উঠেছেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে বিমান দূর্ঘটনায় বিমানের সবাই মারা গেছে। ফলে তিনি আর বাসায় ফিরতে পারছেন না। সুতরাং যারা বিদেশে যাবার কথা বলে এরকম স্ফূর্তি টূর্তি করেন বা করবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের একটু সমঝে চলাই বোধহয় ভাল। নাহলে কখন কি হয়ে যায় আল্লাহ মালুম।

নেটফ্লিক্সে আবার ‘সেক্রেড গেমস’

[caption id="attachment_22468" align="alignleft" width="320"]‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজে সাইফ আলী খান ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজে সাইফ আলী খান[/caption]

নেটফ্লিক্সে আবার ‘সেক্রেড গেমস’

https://youtu.be/54blqSvniEs প্রথম সিজনের প্রথম পর্ব থেকেই দারুণ জনপ্রিয় হয় ‘সেক্রেড গেমস’। কিন্তু জনপ্রিয় হলেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে নেটফ্লিক্সকে। বোফোর্স মামলা, শাহ বানু মামলা এবং বাবরি মসজিদের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে এই ওয়েব সিরিজে বিকৃত করে দেখানো হয়েছে—এই অভিযোগে গত জুলাই মাসে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন আইনজীবী নিখিল ভল্ল। তিনি কংগ্রেসের লিগ্যাল সেলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সম্পর্কে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, এমনকি ওয়েব সিরিজে অপমান করা হয়েছে রাজীব গান্ধীকে—তাই ওই বিতর্কিত দৃশ্যগুলো বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি৷ https://youtu.be/8F2FgO4qiDs নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, সাইফ আলী খান ও রাধিকা আপ্তে অভিনীত এই ওয়েব সিরিজ নিয়ে প্রথম দিন থেকেই বিতর্ক চরমে৷ রাজীব গান্ধীকে অপমান করার অভিযোগে কলকাতার গিরিশ পার্ক থানায় নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক কংগ্রেস নেতা৷ শুধু নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিই নয়, ওয়েব সিরিজের প্রযোজক এবং পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি৷ [caption id="attachment_22471" align="alignleft" width="320"]‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্য ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্য[/caption] এরপর গত ১৬ জুলাই দিল্লির হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের আর কোনো নতুন পর্বের প্রচার করা যাবে না। তখন পর্যন্ত ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের প্রথম সিজনের আটটি পর্ব প্রচারিত হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আদালত জানান, যে পর্বগুলো প্রচারিত হয়েছে, তা নিয়ে বলার কিছু নেই। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে পরবর্তী পর্বগুলো প্রচারিত না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ওয়েব সিরিজে যাঁরা অভিনয় করেছেন, মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এ মামলায় কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। কারণ, সংলাপ বলা তাঁদের পেশা। সুতরাং তাঁরা তাঁদের কাজ করছেন। এ নিয়ে তাঁদের অভিযুক্ত করা যাবে না। তবে গতকাল শুক্রবার নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজন আসছে শিগগিরই। আইনি জটিলতার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে নেটফ্লিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক বারম্যাক বলেছেন, ‘সেক্রেড গেমসের প্রথম সিজনের সাড়া দেখে আমার অভিভূত। বিশেষ করে ভারতে। এটা আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রোডাকশন। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, শিগগিরই “সেক্রেড গেমস” সিরিজের দ্বিতীয় সিজন শুরু করতে যাচ্ছি।’ [caption id="attachment_22470" align="alignleft" width="320"]‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্য ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্য[/caption] ‘পারলে শহরকে বাঁচাও।’—রেডিওতে একটি হুমকি। আর এখানে শেষ হয় নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’-এর প্রথম সিজন। জানা গেছে, দ্বিতীয় সিজনে দেখা যাবে, মুম্বাই শহরকে রক্ষা করার জন্য সরতাজ সিং (সাইফ আলী খান) মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণেশ গাইতোন্ডের বলে যাওয়া রাস্তাই তাঁকে মুম্বাইয়ের ডনের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। প্রথম সিজনে দর্শক গণেশ গাইতোন্ডের (নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি) দুই বাবার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। কিন্তু তার তৃতীয় বাবার (পঙ্কজ ত্রিপাঠি) ব্যাপারে সেভাবে জানা যায়নি। ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি। দ্বিতীয় সিজনের শুটিং হয়েছে ভারতে এবং ভারতের বাইরে। এবার ‘সেক্রেড গেমস’ সিরিজে নতুন কিছু চরিত্র যুক্ত হবে। [caption id="attachment_22469" align="alignleft" width="320"]‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে সাইফ আলী খান ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে সাইফ আলী খান[/caption] বিক্রম চন্দ্রের থ্রিলার উপন্যাস ‘সেক্রেড গেমস’ প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। এই উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ওয়েব সিরিজটি। উপন্যাসের নামেই এই ওয়েব সিরিজের নাম ‘সেক্রেড গেমস’। প্রথম পর্বটি প্রচারিত হয় গত ৬ জুলাই। পরিচালনা করেন অনুরাগ কাশ্যপ ও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। এখানে অভিনয় করেছেন সাইফ আলী খান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ও রাধিকা আপ্তে। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গল্প। মুম্বাইয়ে জঙ্গি হামলার হুমকি দেয় এক অপরাধী। এরপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে সেই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন, তা নিয়ে ‘সেক্রেড গেমস’। [caption id="attachment_22466" align="alignleft" width="320"]‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ‘সেক্রেড গেমস’ ওয়েব সিরিজের দৃশ্যে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি[/caption] এই ওয়েব সিরিজের গল্পে কংগ্রেসের শাসন আমলে মুম্বাইয়ের অপরাধ জগৎকে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারি। রয়েছে বোফোর্স কেলেঙ্কারি আর ১৯৮৫ সালের আলোচিত শাহ বানু মামলা৷ এসব ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কীভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন, রয়েছে তা৷ আরও আছে লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, মুম্বাইয়ে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা। https://youtu.be/LpG2D0A6dRA

পর্দার আড়ালে জাজ মাল্টিমিডিয়া

জনতা ব্যাংকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

পর্দার আড়ালে জাজ মাল্টিমিডিয়া

হাছান আদনান

ভুয়া রফতানি নথি তৈরি করে জনতা ব্যাংক থেকে গত পাঁচ বছরেই ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বের করে নিয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। এ কেলেঙ্কারির বড় অংশই হয়েছে রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের খেলাপি হয়ে পড়েছে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ। আর রিমেক্সের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আবদুল আজিজ, যিনি জাজ মাল্টিমিডিয়ারও কর্ণধার। জনতা ব্যাংক কেলেঙ্কারির পর্দার আড়ালের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাই জাজ মাল্টিমিডিয়াকে দেখছেন ব্যাংকাররা। দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবির্ভাব ২০১১ সালে। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে থাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। নবাব, শিকারি ও অগ্নি এর মধ্যে অন্যতম। এর বাইরে বস ২, পোড়ামন ২, বাদশা-দ্য ডনের মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছে তারা। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও বিনিয়োগ করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। মাহি, নুসরাত ফারিয়ার মতো নায়িকার উত্থান এ প্রতিষ্ঠানের হাতেই। শাকিব খানের ব্যবসাসফল অনেক চলচ্চিত্রও জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজের বড় ভাই এমএ কাদের। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত, পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রফতানিকারক একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে তার। এর মধ্যে রয়েছে— ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, ক্রিসেন্ট ফুটওয়্যার, রূপালী কম্পোজিট লেদার, লেক্সকো লিমিটেড ও গ্লোরী এগ্রো। সব প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলা হয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপের নামে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে রয়েছেন এমএ কাদের। আর রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এমএ আজিজ। মূলত চামড়াজাত পণ্যের এ ব্যবসা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন তারা। চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায় দুই ভাইকে উদার হাতে ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ২০১০ সালের পর ঋণপ্রবাহের লাগাম ছিঁড়ে যায়। ২০১৩ সাল-পরবর্তী পাঁচ বছরেই জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন এমএ কাদের ও এমএ আজিজ। এর মধ্যে পণ্য রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা তহবিল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বর্তমানে ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে জনতা ব্যাংকের। এর বাইরে পণ্য রফতানির ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকাও আটকে গেছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপ কেলেঙ্কারির বড় অংশই হয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার এমএ আজিজের মালিকানাধীন রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। জনতা ব্যাংক সূত্রমতে, ব্যাংকটি থেকে বের করে নেয়া এ ঋণই জাজ মাল্টিমিডিয়ার অর্থের মূল উৎস। রিমেক্স ফুটওয়্যার নামে একটি অখ্যাত চামড়াজাত পণ্যের কোম্পানির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে এ অর্থ বের করে নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে ব্যাংকটির পাওয়া দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকা। বৈদেশিক বাণিজ্যের ঋণ হিসেবে নেয়া এ অর্থের প্রায় পুরোটাই এখন খেলাপি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের ব্যবসায়িক পরিচিতি এমএ আজিজ নামে। জনতা ব্যাংকের নথিপত্রে রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে এমএ আজিজ নামটিই রয়েছে। যদিও ১৫ আগস্ট বণিক বার্তার কাছে রিমেক্স ফুটওয়্যারের মালিকানার কথা অস্বীকার করেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এমএ আজিজ তিনি নন। ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকেও তিনি চেনেন না। প্রতিবেদক এমএ আজিজ ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবদুল আজিজকে ভুলবশত এক করে ফেলছেন। গতকালও একই দাবি করেন তিনি। তবে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের জানান, আবদুল আজিজ তারই ভাই। তিনি জাজ মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আছেন। রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড আমাদের পৈতৃক ব্যবসা। এমএ আজিজ যে এমএ কাদেরের ভাই, সেটা জানিয়েছেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদও। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এমএ আজিজকে আমরা এমএ কাদেরের ভাই বলেই জানি। এমএ আজিজ সিনেমা তৈরি করেন বলে শুনেছি। ভুয়া রফতানি নথিপত্র তৈরি করেই মূলত জনতা ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নিয়েছেন তারা। ব্যাংকটির পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ শাখার কয়েক কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বৃহৎ এ ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধানে এরই মধ্যে জালিয়াতির বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইমামগঞ্জ শাখার এডি লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জনতা ব্যাংক ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। রফতানির আড়ালে ক্রিসেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বৃহৎ এ ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, পুরো ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ নিয়ে আমরা খারাপ সময় পার করছি। এরই মধ্যে দায়ী ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ব্যাংকের প্রতিটি পর্ষদ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রফতানি বিলসহ অন্য ঋণগুলো আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করছি। একটি যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এমএ আজিজের নামে একটি চিঠি ইস্যু করে জনতা ব্যাংক। চিঠিতে এমএ আজিজের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, হাউজ নং-৫৩৬, রোড নং-১১, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, আদাবর-১১, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের (এফটিডি) উপমহাব্যবস্থাপক মো. রূহুল আমীন খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে রিমেক্স ফুটওয়্যারের সব দায়-দেনা পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ থেকে লোকাল অফিসে স্থানান্তর করার বিষয়টি জানানো হয়। এমএ আজিজকে উদ্দেশ করে এতে লেখা হয়েছে, আপনি অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ২৪ শে জুন, ২০১৮ তারিখের পত্র (সূত্র নং-এফইপিডি(এফইএমপি/০৩/(এ)/২০১৮-৫৬৩৩) এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয়ের ফরেন ট্রেড ডিপার্টমেন্ট-এক্সপোর্ট-এর পত্র (সূত্র নং-এফটিডি/ইমামগঞ্জ/এডি লাইসেন্স/স্থগিত/১৮, তারিখ ২৫ জুন-২০১৮) মোতাবেক জনতা ব্যাংক লিমিটেড ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখায় পরিচালিত আপনার প্রতিষ্ঠানের দায়-দেনা জনতা ব্যাংক লিমিটেড লোকাল অফিস, ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। রিমেক্স ফুটওয়্যারের দায়-দেনার একটি হিসাবও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। তাতে দেখা যায়, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে রফতানি বিল ক্রয় (এফডিবিপি) বাবদ জনতা ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৫৩৫ কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৯০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি প্যাকিং ক্রেডিট (পিসি) বাবদ ১৬৬ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৫৭ টাকা ঋণ নিয়েছে। সাধারণত রফতানি পণ্য শিপমেন্টের জন্য এ ধরনের ঋণ দেয়া হয়। রিমেক্স ফুটওয়্যার রফতানির জন্য অগ্রিম ক্যাশ সাবসিডি হিসেবে নিয়েছে ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪২ টাকা। এছাড়া রফতানি বিল প্রত্যাবাসন না হওয়ায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ফোর্সড লোন সৃষ্টি হয়েছে। রিমেক্স ফুটওয়্যারের অন্য দায়গুলো হলো— সিসি হাইপো ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭০ টাকা, সিসি প্লেজ ১০৮ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকা, আইএফডিবিসি ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং এলসি বাবদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকা। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও জনতা ব্যাংকের কেনা রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের রফতানি বিলের অর্থ দেশে আসছে না। বিষয়টি উদ্ধৃত করে এমএ আজিজকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের দায়-দেনাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রত্যাবাসিত এফডিবিপি দায় ও এফডিবিসি রয়েছে, যা প্রত্যাবাসন করা অতীব জরুরি। এফডিবিপি ও এফডিবিসি সংশ্লিষ্ট বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিসত্বর এর মূল্য সংশ্লিষ্ট হিসাবে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুরোধ করা হলো। চিঠিতে বলা হয়েছে, পিসি ঋণ অগ্রিম ক্যাশ সাবসিডি, পিএডি ক্যাশ ও লোন জেনারেল (ফোর্সড)— এ ঋণ হিসাবগুলো দ্রুত সমন্বয় করা অপরিহার্য। তাছাড়া সীমাতিরিক্ত ইসিসি হাইপো, ইসিসি প্লেজ, সিসি হাইপো, সিসি প্লেজ দায় সমন্বয় করে ওই হিসাবগুলো নিয়মিত রাখা অত্যাবশ্যক। অন্যদিকে আমদানি বিল বাবদ অপরিশোধিত আইএফডিবিসি ও এলসি (যেসব ডকুমেন্ট ব্যাংকে জমা রয়েছে) দায়গুলো দ্রুত সমন্বয় করা আবশ্যক। এমএ আজিজকে দেয়া চিঠিতে ব্যাংকের সব দায় পরিশোধের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধও করা হয়েছে। জনতা ব্যাংক এমডি এ প্রসঙ্গে বলেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এমএ আজিজকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি ব্যাংকের পাওনা টাকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত দেবেন বলে প্রত্যাশা করছি। সূত্র বলছে, জনতা ব্যাংক থেকে অবাধে ঋণপ্রাপ্তির সময় থেকেই জাজ মাল্টিমিডিয়ার উত্থান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবদুল আজিজ নিজেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্প জাজ মাল্টিমিডিয়াই বাঁচিয়ে রেখেছে। জাজ না থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে না। তবে তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক ফারুক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্প শিশু নয়। এ শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত। তারাই এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জাজ না থাকলে চলচ্চিত্র থাকবে না, এটা অবান্তর।

নতুন নাটকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রঙ্গন

বিনোদন এখন কেবল বোকাবাক্সে বন্দি নয়! এখন বিশ্বজুড়ে চলছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জয়জয়কার। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন সংযোজন হলো- রঙ্গন ফিল্মস। আসছে ঈদুল আজহায় টিভি চ্যানেলগুলোর পাশাপাশি ইউটিউবেও আসছে নিত্যনতুন নাটক। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘রঙ্গন ফিল্মস’। ‘রঙ্গনে ঈদের রং’—এই ট্যাগলাইন নিয়ে ৬ মেধাবী নির্মাতার ৯টি নতুন নাটক মুক্তি পাচ্ছে ঈদ উৎসবে। এরমধ্যে মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ নির্মাণ করেছেন দুটি নাটক, ‘মানুষ হবো’ ও ‘বেড সিন’। কাজল আরেফিন অমির তিন নাটক- ‘জাস্ট চিল’, ‘পাসপোর্ট’ ও ‘ট্যাটু ৩’। আর বি প্রীতমের ‘আবার তোরা টুইং হ!’, রুবেল হোসেনের ‘বৃষ্টি হয়ে এলে তুমি’, তপু খানের ‘ইটস মাই লাইফ’ এবং পার্থ প্রতীম নাথের ‘হেড অর টেল’। এই কথাগুলো জানাতে ১৮ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর এক রোস্তোরাঁয় সাংবাদিক ডেকে নেন রঙ্গন ফিল্মসের কর্ণধার হাসিব হাসান চৌধুরী। সেখানে তিনি বললেন, ‘আমাদের ইচ্ছে টিভির পাশাপাশি অনলাইনেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। আশা করি আমাদের নাটকগুলো দর্শকদের ভালো লাগবে।’ রঙ্গনের প্রচার এজেন্সি মোশন রক এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার মাসুদ উল হাসান জানান, এই বছরের মধ্যেই তারা আরও ২০টি মৌলিক কন্টেন্ট উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘মানুষ হবো’ নাটকটিতে অভিনয় করেছেন শাওন, সাবিলা নূর, আইরিন আফরোজ প্রমুখ। এটি অনলাইনে উন্মুক্ত হচ্ছে ২১ অগাস্ট। ‘জাস্ট চিল’ নাটকে অভিনয় করেছেন আবির মির্জা, তাসনুভা এলভিন, পলাশ, সারিকা সাবাহ, আদনান ফারুক হিল্লোল প্রমুখ। এটি দেখা যাবে ২২ অগাস্ট থেকে। ‘মানুষ হবো’ নাটকের ট্রেলার: https://youtu.be/tm5aDAeVTQI ‘আবার তোরা টুইং হ!’ নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রিয়াজ, নোভা ফিরোজ, শাহতাজ মনিরা হাসেম প্রমুখ। এটি উন্মুক্ত হবে ২৩ অাগস্ট। ‘বৃষ্টি হয়ে এসেছিলে তুমি’তে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, তানজিন তিশা প্রমুখ। এটি মুক্তি পাচ্ছে ২৪ আগস্ট। অন্যদিকে‘ ইটস মাই লাইফ’-এ অভিনয় করেছেন তামিম মৃধা, তাসনুভা তিশা প্রমুখ। এটি দেখা যাবে ২৫ অগস্ট। এদিকে সাফা কবির, তৌসিফ মাহবুব, মুনিরা মিঠু অভিনীত ‘পাসপোর্ট’ দেখা যাবে ২৬ অাগস্ট থেকে। সবশেষ ২৭ আগস্ট রঙ্গন ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাচ্ছে নাটক ‘হেড অর টেইল’। এতে অভিনয় করেছেন তামিম মৃধা, শামীম হাসান সরকারসহ অনেকেই। নাটকগুলো মুক্তি পাবে ইউটিউবের এই ঠিকানায়: https://m.youtube.com/channel/UCDdqmNHp2khoZDE02iGcfoA/featured

ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর গান

ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর গানঃঃ নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে প্রকাশ হলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান ‘পিতার রক্তে’। ‘পিতার রক্তে রঞ্জিত এই বাংলাকে ভালোবাসি, তার রেখে যাওয়া এই বাংলার বুকে বারবার ফিরে আসি’ এমনই কথায় সুজন হাজংয়ের লেখা ও যাদু রিছিলের সুর করা গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। গানটি ১৪ আগস্ট একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে ফাহমিদা নবী বলেন,‘গানটিতে বঙ্গবন্ধুকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গানের কথা ও সুরের মধ্যে বৈচিত্রময় অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে। জাতির জনকের জন্য সম্মান, অহংকার, বিষাদ, দেশপ্রেম, হাহাকার, প্রার্থনা এবং বিজয় এই সবগুলো অনুভূতি প্রকাশ হয়েছে এই গানে। গানটিতে কণ্ঠ দিতে পেরে আমি নিজেও সম্মানিত বোধ করছি।’ গানটির সংগীত পরিচালক সুমন কল্যাণ বলেন,‘বিষয় ভিত্তিক গানের প্রতি আমার একটা আলাদা দুর্বলতা আছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান করেছি আগেও। এই গানটি আলাদা তৃপ্তি দিয়েছে মনে। ফাহমিদা আপা দারুন গেয়েছেন আশাকরি সবার মনে নাড়া দিবে এই গানটি।’ সূত্রঃ জাগো নিউজ

ঢাকার রাস্তায় ইরানি ছবির শুটিং

ঢাকার রাস্তায় ইরানি ছবির শুটিং
ছবির চিত্রনাট্যে লেখা ছিল, একটি লাল রঙের গাড়ি লাগবে। কিন্তু ঢাকায় এসে দেখা গেল, লাল গাড়ি জোগাড় করা যায়নি। তাই কী আর করা। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেলের পাশের খালি জায়গায় গিয়ে দেখা গেল, গাড়ি রং করতে করতে ঘেমে-নেয়ে একাকার কয়েকজন ইরানি। রাত তখন সাড়ে নয়টা। কিন্তু তাতেও ক্লান্তি নেই। কারণ, ভোর হলেই লাগবে লাল গাড়ি। সেই গাড়ি নিয়ে শুটিংয়ে বেরিয়ে পড়বে ইরানের শাবি কে ম’হ ক’মেল শোদ ছবির দল। গত শনিবার ইরান থেকে বাংলাদেশে আসে ২২ সদস্যের একটি শুটিং দল। দলটি এখন ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শাবি কে ম’হ ক’মেল শোদ নামের ছবিটির শুটিং করছে। ইরানের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার দলটি নিয়ে এসেছেন ঢাকায়। এই দলে আট মাসের শিশুশিল্পী থেকে শুরু করে ইরানের এ সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনয়শিল্পীরা পর্যন্ত আছেন। সবাই ঘুরে ঘুরে কাজ করছেন এই ছবির। কখনো যাচ্ছেন ধানমন্ডির লেকের পাড়ে, কখনো কারওয়ান বাজারের গলি-ঘুপচিতে। কখনো আবার তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে মাওয়া ঘাটে। লাল গাড়ি নিয়ে তাঁরা ছুটে চলছেন শহরের নানা প্রান্তে। তাঁদের এই ঢাকা অভিযানের প্রতি মুহূর্তের খবর শিল্পীরা ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করছেন। গতকাল শুক্রবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ছবির নায়ক হুতান শাকিবি ‘ইরানি বোরকা’ নামের একটি দোকানের ছবি পোস্ট করে নিজের অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছিলেন। আর অভিনেত্রী এলনাজ শাকেরদুস্ত তো ঢাকায় এসে আমড়ার প্রেমে পড়ে গেছেন! তাঁরা ইংরেজিতে আলাপ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই শুটিং দলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক মুমিত আল রশিদের মাধ্যমে কথা হয় ইরানি শিল্পী ও কুশলীদের সঙ্গে। তখনই ‘ইরানি বালিকা’ এলনাজ জানান, ঢাকার আমড়া তাঁর খুব ভালো লেগেছে। অন্যদিকে ছবির নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার বলেন, ‘এই কয়েক দিনে বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এই কদিনে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় আমি গিয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়িনি। শহরের প্রতিটি জায়গাতেই কাজ করার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছি।’ হুতান শাকিবি ও এলনাজ শাকেরদুস্তএলনাজ শাকেরদুস্ত ও হুতান শাকিবি ইরানের এ সময়ের বাণিজ্যিক ছবির জনপ্রিয় তারকা। অন্যদিকে ছবির নির্মাতা নার্গিস অবইয়ারও ইরানের বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির ব্যস্ত নির্মাতা। এর আগে তাঁর নির্মিত ট্র্যাক ১৪৩ ছবিটি ইরানের ঐতিহ্যবাহী ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হওয়ার মর্যাদা অর্জন করে। এ পর্যন্ত নার্গিস তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। ইরানে সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর রয়েছে বিশেষ সুনাম। লিখেছেন ৩১টি উপন্যাস। শাবি কে ম’হ ক’মেল শোদ, বাংলায় যার অর্থ যে রাতে চাঁদ পূর্ণতা পেয়েছিল ছবির ২০ ভাগ শুটিং হবে বাংলাদেশে। নির্মাতা জানান, ছবিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রেমের এই ছবিতে দেখা যাবে ছবির নায়ক-নায়িকাসহ বেশ কয়েকজন গল্পের স্বার্থে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে ইউরোপের কোনো দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় চলতে গিয়ে নানা বাধাবিপত্তি আসে তাঁদের জীবনে। নায়ক কাজ নেন ঢাকার নিউমার্কেটের একটি কসমেটিকসের দোকানে, নায়িকাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান ঢাকার কিছু দর্শনীয় স্থানে, নায়িকা বাংলাদেশি পোশাক পরেন-এমন অনেক কিছুই দেখা যাবে ছবিতে। গতকাল কারওয়ান বাজারে ছবির শুটিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, অভিনেতা অরমিন রাহিমির অংশের শুটিং শেষ হয়ে গেছে। তিনি ফিরে যাবেন ইরানে। তাঁর মাথায় এক গ্যালন পানি ঢেলে শুটিং দল শেষ করে গতকালের কাজ। এভাবে আরও এক সপ্তাহ বাংলাদেশে শুটিং করে যাবে দলটি। নির্মাতা নার্গিস বলে রাখলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের কর্তৃপক্ষ সুযোগ করে দিলে ছবিটি সবাইকে দেখাতে আবারও এ দেশে আসতে চাই। আর বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়েও সিনেমা বানাতে চাই।’ source: TrueBD24

List of highest paid actors in the world is out now

The top 10 paid actors this past year, according to Forbes magazine: [caption id="attachment_20768" align="alignleft" width="584"] Shahrukh & Mark[/caption] 1. Mark Wahlberg, $68 million 2. Dwayne Johnson, $65 million 3. Vin Diesel, $54.5 million 4. Adam Sandler, $50.5 million 5. Jackie Chan, $49 million 6. Robert Downey Jr., $48 million 7. Tom Cruise, $43 million 8. Shah Rukh Khan, $38 million 9. Salman Khan, $37 million 10. Akshay Kumar, $35.5 million The much awaited Forbes’ list of highest paid actors in the world is out now, and it’s a good news for Bollywood fans. While Mark Wahlberg has topped the list this year, three Indian actors find place in the top 10. While Shah Rukh Khan is at number 8, Salman Khan and Akshay Kumar follow at number 9 and 10 respectively. According to Forbes, while SRK earned $38 million (Rs 243.50 cr), Salman made $37 million (Rs 237 cr) and Akshay took home $35.5 million (Rs 227.5 cr).

ক্যালিফোর্ণিয়া মাতাচ্ছেন বাপ্পী লাহিড়ী

ক্যালিফোর্ণিয়া মাতিয়ে চলছেন বাপ্পী লাহিড়ীঃ বাপ্পি লাহিড়ী বাপ্পি লাহিড়ী হলিউডে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত জেমস গান পরিচালিত ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম টু’তে ব্যবহৃত ‘ঝুম ঝুম ঝুম বাবা’গানের সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ীর মনমাতানো ষ্টেজ শো অনুষ্ঠিত হয় গত ৭ই মে ২০১৭ তে ক্যালিফোর্ণিয়ার সান লুইস অবিসপোতে । উপচে পড়া দর্শক-স্রোতার সমাগমে সবাই উপভোগ করেন বাপ্পী লাহিড়ী শো।

অন্যদিকে গত ২৩ এপ্রিল ২০১৭তে অনুষ্ঠিত লস এঞ্জেলেসের আরাতানি জাপান আমেরিকা থিয়েটার গান গেয়ে মাতালেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। জীবন্ত কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ীর সঙ্গীত জীবনের ৪৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশী প্রমোটার সঙ্গীত শিল্পী মাহতাব আজমির আয়োজনের ইন্ডিয়ান আইডল ও স্থানীয় ডান্স গ্রুপের পরিবেশনা শেষে ‘চির দিনই তুমি যে আমার, যুগে যুগে আমি তোমারই’, ‘ও সোনা, ও সোনা’, ‘ও সুন্দরী কোথায় গেলে এদিকে একটু মনটা দিয়ে যাও’, ‘ও লা লা ও লা লা’, ‘আই এম এ ডিস্কো ড্যান্সার’ প্রভৃতি জননন্দিত গান গেয়ে লস এঞ্জেলেসবাসীদের মুগ্ধ করেন খ্যাতিমান এ শিল্পী। মঞ্চে উঠে জনপ্রিয় এ শিল্পী বলে ওঠেন, ‘আমার বাবার বাড়ি পাবনা সিরাজগঞ্জ, তাই আমি বাঙালি, আমি বাংলাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি এই দেশের মানুষকে, আমি গর্বিত, অবিভূত এই বাংলার জন্য’। তিনি বলেন, "বাংলা ও বাঙালি আমার ভালোবাসা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম আমার প্রেরণা"। সে সময় দর্শকদের আনন্দের মাত্রা দ্বিগুন হয়ে ওঠে। এরপরই শিল্পী সুমধুর কণ্ঠে একে একে গেয়ে শোনান নিজের জনপ্রিয় গানগুলো। সাজিয়া হক মিমির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী মাহতাব আজমি, বাপ্পী লাহিড়ীর ছেলে বাপ্পা লাহিড়ী ও স্থানীয় ব্যান্ডের আল আমিন বাবু , খাজা মইন উদ্দীন পপসি, লাকী ইসলাম এবং শাহীন রশীদ অংশগ্রহন করেন। স্থানীয় বাংলাদেশী ছাড়াও প্রচুর ভারতীয়রা এই জমজমাট অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আগামী শনিবার ১৩ই মে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালীর সান হোসে, ২০ শে মে আটলান্টা এবং ২১শে মে ম্যারিল্যান্ডে বাপ্পী লাহিড়ীর কনসার্ট অনুুুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাপ্পী লাহিড়ীর ছেলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ড্রামার বাপ্পা লাহিড়ী সাথে প্রবাসে বাংলাদেশী জনপ্রিয় রকার মাহতাব আজমী ও পারফর্ম করবেন।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.