Home সামাজিক মাধ্যম

সামাজিক মাধ্যম

করোনা নিয়ে ‘ঘৃণার ভাইরাস’ ছড়ানো বন্ধ করুন: গুতেরেস

করোনা নিয়ে ‘ঘৃণার ভাইরাস’ ছড়ানো বন্ধ করুন: গুতেরেস

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জাতিবিদ্বেষ, ঘৃণা এবং মুসলিমবিরোধী প্রপাগান্ডা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। এতে গুতেরেস বলেন, এ মহামারী জাতিবিদ্বেষ, আতঙ্ক ও ঘৃণার ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ এই ঘৃণার ভাইরাস। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশিবিরোধী মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, রাস্তায় রাস্তায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে এবং মুসলিমবিদ্বেষী হামলা বাড়ছে। গুতেরেস বলেন, অভিবাসী ও শরণার্থীদের 'ভাইরাসের উৎস' বলে চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। তাছাড়া সংবাদিক, তথ্য ফাঁসকারী, স্বাস্থ্যকর্মী, ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এসব বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অবসানে সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। Let’s defeat hate speech – and COVID-19 - together.
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার উচিৎ সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়া।

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

করোনাকালেও দূষিত বাতাসের নগরীতে শীর্ষে ঢাকা

টিবিএস ডেস্ক
09 May, 2020,
শনিবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৭৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে জনবহুল এ রাজধানী।

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোরতিনি কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ না হওয়া অবধি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকছেন বলে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সালমান খান ইয়াসিন জানিয়েছেন।  আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, উগ্রবাদী কিছু সংগঠন আর ফেসবুক ইউজার কারও কারও নেগেটিভ কমেন্টে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমাদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া কাজের এত চাপও তিনি সামলাতে পারছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে কাজ করবেন। তারপর তিনি হঠাৎ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও আমরা তার রিজাইন লেটার অ্যাকসেপ্ট করি নাই। কভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তিনি চেয়ারম্যানের পদে বহাল থাকছেন। সালমান আরো বলেন, কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলে যোগ্য কাউকে না পেলে পদটি শূন্য থাকবে। সূত্রঃ কালের কন্ঠ [caption id="attachment_23977" align="aligncenter" width="414"] বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশের স্ট্যাটাস[/caption]

“আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন”

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ছাড়লেন কেন? কিশোর কুমারের উত্তর, ‘আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে প্রিয় কি- আমি বলবো বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। কিন্তু কখনো কখনো মানুষের স্বার্থে, ভালোবাসার স্বার্থে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। আমিও তাই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাচ্ছি। তবে আমি বিদ্যানন্দে আছি। থাকবো।’ গতকাল মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন কিশোর কুমার দাস। বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল তার সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরেই কিশোর কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট্ট দেশ পেরুতে বাস করছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে গতকাল দুপরে এই সাক্ষাতকার দেন। সেই আলাপে উঠে আসে এই সংগঠনের শুরু থেকে নানা উদ্যোগের কথা। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার কারণও বলেন। [caption id="attachment_23984" align="alignnone" width="300"] কিশোর কুমার দাস[/caption] চট্টগ্রামের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক শেষ করা কিশোর বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ পদে চাকুরী করতেন। যেটি থার্ড পার্টি হিসেবে গুগলের কাজ করতো। তবে ওই চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে তিনি উদ্যোক্তা। বিদেশে থেকেই সংগঠনটির কাজে যুক্ত আছেন। কিশোরের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা দিতে ২০১৩ সালে গড়ে তুলেছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এখন সারাদেশে বিদ্যানন্দের ১২টি শাখার মাধ্যমে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি পথশিশু মৌলিক শিক্ষা ও খাবার পায়। এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক, শিক্ষা উপকরণ, মাসিক বৃত্তি প্রদান করে থাকে এবং সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে। বিদ্যানন্দের এক টাকায় আহার, এক টাকায় চিকিৎসা, এক টাকায় আইন সেবা কার্যক্রমগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। গরীব ও অসহায় কিন্তু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা আছে। আছে বাংলাদেশের রামু ও রাজবাড়ীতে নিজস্ব জমিতে দুইটি আলাদা এতিমখানা। বিদ্যানন্দ অনাথালয়ে এতিমদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শাখায় বিনামূল্যে গ্রন্থাগার সুবিধা রয়েছে। এসব গ্রন্থাগারে আট হাজারের অধিক বইয়ের সংগ্রহ আছে। এই গ্রন্থাগার গুলো সকাল-সন্ধ্যা খোলা থাকে এবং যে কেউ সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে বই পড়তে পারেন। ৭১ টাকায় নারীদের জন্য আবাসিক হোটেলও করেছে বিদ্যানন্দ। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ঢাকার অলিগলিতে ছেয়ে যাওয়া পোস্টারগুলোকে সংগ্রহ করে শিক্ষা উপাদান বানানোর অভিনব কৌশল নেয় বিদ্যানন্দ। এতো কাজ করেও হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন কেন? কিশোর কুমার বললেন, ‘আমি কখনোই সংগঠনে নিজের পদটা আঁকড়ে ধরে রাখেতে চাইনি। আমি চেয়েছি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আমি বলেছিলাম বয়স ৪০ হয়ে গেলে আমি আর সংগঠনের চেয়ারম্যান থাকবো না। যদিও আমার এখনো ৪০ বছর বয়স হয়নি কিন্তু তরুণ নেতৃত্ব আসুক সেটাই চাইছি। তারা নতুন মেধা দিয়ে সংগঠন এগিয়ে নিক।’ শুধুই তরুণ নেতৃত্ব নাকি আর কোনো কারণ আছে? কিশোর কুমার বললেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত মানুষ একটি কারণে নেয় না। অনেকগুলো কারণ থাকে। আমারও আরও বেশ কিছু কারণ আছে।’ অভিযোগ উঠেছে, কিশোর কুমারের ধর্মীয় পরিচয় তুলে প্রায়শই বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজে তাকে গালিগালাজ করা হতো। বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজের ঘোষণায় বলা হয়, প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম। সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।’ এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানুষ পরিচয়ে বড় হয়ে উঠতে চেয়েছি। বিদ্যানন্দ নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই ভাবে কারো নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামটি এসেছে। এজন্য আমরা নাম পরিবর্তন করতে চাইলেও স্বেচ্ছাসেবকরা রাজি হননি। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে নানাভাবে আমাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে গালিগালাজ করা হয়েছে। এর কোনো শেষ নেই। করোনা সংকট মোকাবিলায় আমরা যখন মার্চে কাজ শুরু করলাম, তখন এর মাত্রা আরও বাড়লো। কোনো কারণ ছাড়া কিছু মানুষ পেজে ধর্ম তুলে গালি দিচ্ছে, এটা আমাকে আহত করতো। এর ফলে মূল কাজটাও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, কিছু মানুষ দান করার সময়ও হিন্দু পরিচয়টাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করতো। এসব দেখে মনে হলো, আচ্ছা তাহলে আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাই। মানুষের গালিগালাজ বন্ধ হোক। সংগঠনটা এগিয়ে যাক। তবে একটা কথা বলতে চাই। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এতদূর আসা। কিছু মন্দ মানুষ অপপ্রচার করে, সেটা খুবই নগণ্য।’ বাবার সরকারি চাকরিসূত্রে কিশোর বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কিশোর তৃতীয়। নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম বলে অবহেলা, বঞ্চনা আর দারিদ্র্যের সংগ্রামে নিজেদের টিকিয়ে রাখাটাই তাদের কাছে দুঃসাধ্য ছিল। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে কিশোর বলেন, ‘২০১৩ সালে ছোট পরিসরে গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আমাদের বিদ্যানন্দের প্রথম কর্মসূচি ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা। নারায়ণগঞ্জের এক রেলস্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে বিদ্যানন্দের সব আর্থিক জোগান পেরু থেকে আমিই দিতাম। আর সব কার্যক্রম স্বেচ্ছাসেবকরা পরিচালনা করত। পরে সবার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজারসহ আরও ১২টি এলাকায় যাই।’ ২০১৬ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও ষাটোর্ধ কর্মহীন মানুষদের জন্য ‘এক টাকায় আহার’ নামে প্রকল্প চালু করে বিদ্যানন্দ। কিশোর জানালেন, এর আওতায় গত চার বছরে ৪২ লাখ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। এক টাকায় খাবার বিক্রি করার কারণ হিসেবে বললেন, ‘যারা এই খাবার গ্রহণ করছেন তারা যেন খাবারটিকে দান ভেবে নিজেদের ছোট মনে না করেন, সেজন্যই এক টাকা।’ একই ভাবে ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ নামে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে এ সংগঠন। কোভিড-১৯ যখন সারাদেশে আতঙ্ক নিয়ে এলো তখন যেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠে বিদ্যানন্দ। গনপ‌রিবহ‌ন জীবাণুমুক্ত করল, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের জন্য আহার, চল‌তি প‌থে প‌থি‌কের ক্ষুধা নিবারণ, শহ‌রের রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটা‌নো কিংবা রাস্তার অসহায় প্রাণীকে খাও‌য়ানো থেকে শুরু করে নানা কাজে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবকরা। করোনা সংকট মোকাবিলায় এত বিপুল কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাথায় কীভাবে এলো? কিশোর কুমার বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকায় করোনায় কি হতে পারে সেটা বুঝতে পারছিলাম। তাই মার্চেই প্রস্তুতি নেই। শুরুতে বিদ্যানন্দের বাসন্তী গার্মেন্টসে বানানো মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে জীবাণুনাশক ছিটানো শুরু করি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় নয় হাজার লিটার জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছি। এটি বাংলাদেশে জীবাণুনাশক ছিটানোর সবচেয়ে বড় কার্যক্রমগুলোর একটি। এরপর দেখলাম দরিদ্র মানুষের খাবার কষ্ট। আমরা এক লাখ ৮৬ হাজার পরিবারকে এখন পর্যন্ত সাত থেকে দশ দিনের খাবার দিয়েছি। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্নস্থানে ২০ হাজার মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। আরও অনেক কাজ আছে। আমরা চেষ্টা করেছি যেকোনো ভাবে মানুষের পাশে থাকতে। আমরা মনে করেছি করোনা সংকট মোকাবিলা করা শুধু সরকারের একার কাজ নয়। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিকে মিলেই কাজটি করতে হবে।’ স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা কি আপনার এই পদত্যাগ মেনে নেবে? কিশোর বলেন, ‘আমি জানি না স্বেচ্ছাসেবকরা কেনো আমাকে এতো ভালোবাসে। বিদ্যানন্দকে আজ এই জায়গায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব পুরোটাই তাদের। আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকরাই কোনো না কোনো পেশায় নিয়োজিত; কেউ চাকরিজীবী কিংবা কেউ শিক্ষার্থী। সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন। আমাদের কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়েছে। যেটা দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ সম্মিলিতভাবে বহন করছেন। মানুষ আমাদের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। আর বারবার বলতে চাই, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই আমাদের শক্তি। তবে আমি কিন্তু মার্চ মাসেই তাদের বলেছি, আমি চেয়ারম্যান থাকবো না। তবে আমি তো আছি। সবার সঙ্গেই আছি।’ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব কীভাবে রাখা হয় জানতে চাইলে কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের সব টাকার স্বচ্ছ হিসাব রাখা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে এমন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়েও আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়।’ সবাই অনুরোধ করলে চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তটা পুনর্বিবেচনা করবেন কি না জানতে চাইলে কিশোর কুমার বলেন, ‘পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টো পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচয়ে কখনোই গড়ে তুলতে চাইনি। অনেকেই আমার গল্প নানাভাবে তুলে ধরে। বিষয়গুলো আমি এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। আর পদে কি যায় আসে? আগে চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন নিচের দিকের পদে থাকবো। সাংগঠনিক সম্পাদক। কারণ আমি আসলে গোছানোর কাজটা করতে পারি। কাজেই সবাইকে নিয়ে সেই কাজটা করবো। আর পদে কিছু যায় আসে না। চেয়ারম্যান না থাকলেও কিছু যায় আসে না। সমালোচকরা বলবে, বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু আমি আসলেই মন থেকে বিশ্বাস করে কথাগুলো বলছি। বিদ্যানন্দ কারো একার নয়, এটা আমাদের সবার। এটা ধর্ম-বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের। এই সংগঠনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ করতে রাজি আছি। আবারও বলছি আমি বিদ্যানন্দ ছাড়ছি না, পরিচালনা পর্ষদেই থাকছি। শুধু দায়িত্ব পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি।’ সূত্রঃ দি ডেইলি ষ্টার কিশোর কুমার দাশ চুয়েট থেকে ২০০১ ব্যাচে পাস করা কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি বাংলাদেশে প্রথম গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর ব্যবস্থা করেন।  তিনিই প্রথম এক টাকায় আহার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশু ও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে। এক টাকা চিকিৎসা প্রজেক্টের আওতা এই পর্যন্ত ২৫,০০০ এর বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রেস্ক্রিপশনের পাশাপাশি তিন দিনের ওষুধ পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের। এক গ্লাস দুধ প্রজেক্টের আওতায় বস্তির গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনাথালয় গুলোর যাত্রা শুরু। প্রায় তিন শতাধিক এতিম এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে চারটি অনাথালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরো দুটো অনাথালয়ের কাজ চলছে। আনন্দের সাথে শিক্ষালাভের মন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বর্তমানে স্কুল আছে ৬ টি। বাসন্তী নামে একটি গার্মেন্টসে তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। এছাড়া এক বছরে অনাথালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে বানানো হয়েছে নতুন কাপড়। পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড চালু করা হয়েছে বস্তির দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশু কিশোরীদের জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ২৬ হাজার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। এই খাবার স্বেচ্ছাসেবিদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যা মানুষের কাছে পৌছে দেন। সবকিছু সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্ত কিশোর কুমার দাসের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই। সততা ও স্বচ্ছতা রেখে এ সব কাজ করার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’কে। ২০১৩ সালের আগস্টে বিদ্যানন্দ নিয়ে বোন শিপ্রা দাশের সঙ্গে কথা হয়। এরপর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে বোন শিপ্রা দাশ এই ভাবনায় গতি আনেন। আর ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যানন্দের নারায়ণগঞ্জ শাখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিদ্যানন্দের চট্টগ্রাম শাখা কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের মার্চ। সবশেষে ২০১৪ সালের জুলাইতে বিদ্যানন্দের মিরপুর শাখা খোলা হয়। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার আর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক শিপ্রা দুই ভাইবোন ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঢেলে দেন এই স্কুলের জন্য। https://www.bidyanondo.org/

একনজরে বিদ্যানন্দঃ

পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’

হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী কর্মসূচি। বাজারভিত্তিক অর্থনীতির রূঢ় থাবায় মানবিক বন্ধন যখন শুকিয়ে যায়, এই অন্তর্গত চেতনা তখন মানুষকে ভালোবাসায় আপ্লুত করে। এরই মধ্যে এই কর্মসূচি দেশের সীমানা পেরিয়ে পেরোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই মানবপ্রেমের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কালের কন্ঠ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
পিছিয়ে পড়াদের আনন্দ ‘বিদ্যানন্দ’
দারিদ্র্যজয়ী কিশোর দরিদ্রদের পাশে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা কিশোর কুমার দাস একটা সময় নিজেই ছিলেন মন্দিরের সামনে ক্ষুধার্তের লাইনে। চুয়েট থেকে পাস করে প্রথমে বিডিকম ও পরে এয়ারটেলে। এর পর ২০১১ সালে পেরুতে। প্রথমে ওএলও এবং পরে গুগলে। সর্বশেষ পেরুস্থ জিগজাগ হোস্টেলের উদ্যোক্তা। বেঁচে থাকার আত্মিক আনন্দের উৎস হিসেবে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ২২ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু করেন বিদ্যানন্দ। সেখানে শিশুদের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও জানা গেল, ক্ষুধার কারণে তারা ঠিকমতো পড়তে আসে না। ফলে ১৫ মে ২০১৬ থেকে শুরু হয় ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এর পর শুধু এগিয়ে যাওয়া। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজবাড়ী, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে বিদ্যানন্দের নানামুখী কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যানন্দের আদলে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতেও গড়ে তুলেছেন ‘এটুজেড’ নামের প্রতিষ্ঠান। খাবার হাতে পথশিশুদের উল্লাস এক টাকায় আহার কর্মসূচিগ্রহীতাদের ভেতর ‘ভিক্ষা’ ও বণ্টনকারীদের মধ্যে ‘দান’ শব্দটি মুছে ফেলার চিন্তা থেকেই ‘এক টাকায় আহার’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পেয়ে থাকে ১২ বছরের নিচের সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের হতদরিদ্র বৃদ্ধ। রুটিনমাফিক ঢাকাসহ আটটি জেলায় খাবার বিতরণ করা হয়। খাবারের মেন্যুতে অধিকাংশ সময় ডিম-ভাত বা সবজি-ভাত থাকলেও মাঝেমধ্যে মাংস-পোলাওয়ের মতো ভালো খাবারও জোটে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভাগ্যে। গত রমজানে এক লাখ ৩০ হাজার দুঃস্থজনের মধ্যে সাহরি ও ইফতারের আয়োজন করেছিল বিদ্যানন্দ। শুরুর পর কখনোই বন্ধ হয়নি এই কর্মসূচি। অনন্য শিক্ষা কার্যক্রম ‘পড়ব, খেলব, শিখব’ এই স্লোগানে সুবিধাবঞ্চিতদের পড়ানো হয় এখানে। শুধু সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য নয়, সর্বস্তরের পাঠকের জন্য রয়েছে পাঠাগার, যা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় সদস্য না হয়েও। বিনা মূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ। মাসে একদিন বড় পর্দায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হয়। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। এরই মধ্যে এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যানন্দ ‘এক টাকায় চিকিৎসা’ কার্যক্রম চালু করেছে। এর আওতায় বেদেপল্লী, হরিজনপল্লী, বিহারিপল্লীসহ বেশ কিছু সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনা মূল্যে কিছু ওষুধও দেওয়া হয়। এতিম শিশুর রাজ্য সম্প্রীতি অনাথালয় কক্সবাজার জেলার রামুতে আদিবাসী অনাথদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্প্রীতি অনাথালয়। এক স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের দান করা ১৫০ শতক জমির ওপর এটি গড়ে উঠেছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। নিজের রুটি নিজেকেই বানাতে হয়, নিজেদের সবজি চাষ করতে হয়, এমনকি চুলও কাটতে হয় একে অপরের। এভাবেই এখানকার শিশুদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অনাথালয় না বলে একে আবাসন বললেই বোধ করি অধিকতর যৌক্তিক হবে। শুকনো খাবার হাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনাথ শিশু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন আট হাজার মানুষকে শুকনো খাবার ও তিন হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক শিশুকে দেওয়া হচ্ছে তরল দুধ এবং শতাধিক মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা। স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ এসেছেন কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে, আবার কেউ পড়াশোনার অবসরে। কেউ রাত জেগে সবজি কাটেন, কেউ রাঁধেন, আবার কেউ সহকারী। কিশোরের মুখোমুখি ‘এক টাকায় আহার’ মূলত একটি অনুপ্রেরণার নাম। অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোর এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আবার কিশোরের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো বড় পরিসরে হয়তো শুরু করবেন অন্য কোনো মহত্প্রাণ। কিশোরের ভাষায়, ‘বিদ্যানন্দ’ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি লাইফস্টাইল। সমাজের ভেতর বসবাসকারী সন্ন্যাসীদের জীবনকেই বলে ‘বিদ্যানন্দ’। একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন কিশোর। যেখানে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্য থেকে তুলনামূলক মেধাবীদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অনুদানের উৎস ও স্বেচ্ছাসেবকদের কথা কিশোরের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও বর্তমানে অনুদান আসে বিদ্যানন্দের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে। কেউ নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন বাজেটের টাকা দেন। কেউ হয়তো ঈদ বোনাসের টাকা। কেউ টিউশনির জমানো টাকা নিয়ে অভুক্ত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়ান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোলট্রি ফার্মের মালিক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিদ্যানন্দের আহার কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় ডিমের সংস্থান করছেন। শুধু ব্যক্তিগত অর্থায়নেই নয়, স্বনামধন্য বহু প্রতিষ্ঠান অনুদান দিয়েছে, দিচ্ছে। পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন শিপ্রা দাস, নাফিজ চৌধুরী ও ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া রয়েছে ৭৫ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবক। বাজার করা থেকে শুরু করে রান্না, বিতরণ, তদারকি সবই ধৈর্য সহকারে তাঁরা দেখভাল করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ শুধু হৃদয়াবেগ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ডগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলনীতি অনুসরণ করতে শুরু করেছে। বহুজাতিক কম্পানিতে কর্মরত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে হিসাবায়নের কাজ, যা সুখ্যাত অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত হচ্ছে। আইনি সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্বনামধন্য ল ফার্ম। স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে খাবার প্রস্তুত করা হয় এবং তাঁদের নিজেদের খাবার উপযোগী করেই মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। বিদ্যানন্দের কর্মকাণ্ড বিদ্যানন্দের লড়াইয়ের গল্প অফুরান। রয়েছে বৃত্তি প্রদান, কখনো বা গোবিন্দগঞ্জের অসহায় সাঁওতালদের পাশে, রাঙামাটিতে পাহাড়ধস বিপর্যয়ে, ফ্রেমে বাঁধা শৈশব কর্মসূচিতে, হাওরাঞ্চলে ঈদ উৎসব আয়োজনে, আবার কখনো বা ছিন্নমূল শিশুদের জন্মদিন পালনে। নিয়মিত ভিত্তিতে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এক টাকায় আইনি সহায়তা, এক টাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ছাড়া রয়েছে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর কার্যক্রম, বিনা মূল্যে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন সহায়িকা বিতরণ ও পথশিশুদের গোসল করানো। যেখানেই মনে হয় ভালোবাসা দেওয়া দরকার, সেখানেই বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীরা ছুটে যান আহার, শিক্ষা ও আনন্দ নিয়ে। এই ভালোবাসা শতধারায় প্রবাহিত হোক সেটাই কিশোরের ইচ্ছা।

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির সময়ে গর্ভাবস্থার পরিচর্যা

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির সময়ে গর্ভাবস্থার পরিচর্যা:

কীভাবে নিজেকে এবং আপনার শিশুকে সর্বোত্তম উপায়ে সুরক্ষিত রাখতে পারেন সে বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ধাত্রীর পরামর্শ:

ইউনিসেফ 26 এপ্রিল 2020 গর্ভাবস্থা উত্তেজনা ও প্রত্যাশায় পূর্ণ একটি বিশেষ সময়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে এই অভিজ্ঞতাটি সুখকর হয়ে থাকে, তবে করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করা সন্তান প্রত্যাশী মায়েদের জন্য এই সময়টি ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরে উঠেছে। নারীরা কীভাবে নিজেদের এবং তাদের ছোট্ট শিশুটিকে সুরক্ষিত রাখতে পারে সে বিষয়ে আরও জানতে আমরা ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভসের সভাপতি ফ্রাঙ্কা ক্যাদির সঙ্গে কথা বলি। কোভিড-১৯ একটি নতুন ভাইরাস এবং এটি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা এই নিবন্ধ হালনাগাদ করবো। প্রসবপূর্ব চেকআপ চালিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ? সন্তান প্রত্যাশী মায়েদের অনেকে যখন ঘরে এবং বাইরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেই মুহূর্তে চেকআপের জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। ক্যাদি বলেন, "আপনি বিশ্বে এই মুহূর্তে অনেকগুলো অভিযোজনের ঘটনা ঘটতে দেখছেন, যেখানে ধাত্রী কিংবা মিডওয়াইফরা ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন বা সুনির্দিষ্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট করছেন, যাতে শিশুর অবস্থা ও বৃদ্ধি পর্যালোচনা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্ষিপ্ত করা যায়। আমি আশা করবো, নিজেদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিত হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে গর্ভবতী নারীরা তাদের স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কম দেখা করবেন। খুব প্রয়োজন হলেই তারা সরাসরি দেখা করবেন।" তবে গর্ভবতী মায়ের নিম্ন ও উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা যেতে পারে। মায়েদের প্রতি ক্যাদির পরামর্শ হচ্ছে- 'স্বাস্থ্যকর্মী এবং নিজ কমিউনিটিতে তাদের জন্য কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে তা খুঁজে দেখা। যেমন যে ব্যক্তি যত্ন নিচ্ছেন তিনি পুরোপুরি আপনার প্রয়োজনগুলোর জন্য প্রস্তুত কিনা। সাধারণত ধাত্রীরা বিষয়টি ভালো বোঝেন।' সন্তানের জন্মের পর নিয়মিত টিকাসহ পেশাগত সহায়তা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য এসব বিষয়ে সহায়তা গ্রহণের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন। যদি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হই, তাহলে কি এটি আমার কাছ থেকে আমার সন্তানের শরীরে যাবে? গর্ভাবস্থায় মায়ের থেকে তার শিশুর মাঝে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয় কিনা তা আমরা এখনও জানি না। ক্যাদি বলেন, "ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড, গর্ভনালী বা মায়ের বুকের দুধে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, যদিও এবিষয়ে এখনও অনেক তথ্য আসছে।" এছাড়া এখন পর্যন্ত অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা গর্ভফুলেও কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপনি সর্বোত্তম যা করতে পারেন তা হচ্ছে- প্রয়োজনীয় পূর্ব সতর্কতামূলক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে, আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন বা সবে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন এবং অসুস্থ বোধ করেন, তাহলে আপনার অবিলম্বে চিকিৎসা সেবা নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী যেসব পরামর্শ দেবেন সেগুলো ঠিকঠাক অনুসরণ করতে হবে। আমি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। এটি কি এখনও সঠিক সিদ্ধান্ত? ক্যাদির পরামর্শ হচ্ছে, "গর্ভবতী মায়েদের উচিত তাদের জন্য ধাত্রী [বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদাকারী] কোন স্থানকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেন এবং এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় কী ধরনের পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা। এটি ওই নির্দিষ্ট গর্ভবতী নারী, তার অবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।" ক্যাদি বলেন, "আপনি হয়তো ভাবছেন, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেই অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। যেমন, কোভিড-১৯ এ আক্রান্তরা যে প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকেন অন্যরা সে প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকেন না। তবে সব দেশে এটি পুরোপুরি মেনে চলা সম্ভব নয়। কিছু উচ্চ-আয়ের দেশ, যেমন নেদারল্যান্ডস, যেখান থেকে আমি এসেছি, সেখানে আমাদের একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যে ব্যবস্থার মধ্যে বাড়িতে সন্তান জন্মদানের ব্যবস্থাটিও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সার্বিক ব্যবস্থার ভেতরে ঘরে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রাখা অনেক নিরাপদ। আপনি দেখবেন এক্ষেত্রে অনেক নারী বাসাতেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে [তবে বেশির ভাগ দেশের পরিস্থিতি এমন নয়]। এমনকি নেদারল্যান্ডসে মিডওয়াইফরা নির্দিষ্ট কিছু হোটেল ব্যবহার করেন, যাতে এসব হোটেলে নারীরা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পারেন। ফলে তাদের আর হাসপাতালে যেতে হয়না।" আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পন্থাটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলা যিনি আপনার পুরো গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালে সহায়তা করেন। আমি যখন সন্তানের জন্ম দেব তখন কি স্বামী বা পরিবারের সদস্যরা আমার কাছাকাছি থাকতে পারবে? এক্ষেত্রে নিয়মকানুন একেক দেশে একেক রকম হলেও ক্যাদি বিশ্বাস করেন, মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার মতো পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করে সন্তান প্রসবের সময় নারীকে সাহস যোগাতে ঘনিষ্টদের তার পাশে থাকা উচিত। "আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নির্দিষ্ট কিছু দেশে লোকজনকে সন্তান প্রসবের সময় নারীদের পাশে থাকতে দেওয়া হয় না এবং এটি আমাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। আমি এটা বুঝি যে, ভীড় এড়ানোর জন্য আপনি সন্তান প্রসবের সময় একজন নারীর পাশে থাকা লোকজন কমাতে চান। এটি খুবই যৌক্তিক। তবে আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে, সন্তান জন্মদানের সময় একজন নারীর পাশে কেউ থাকুক, অন্তত একজন – তার স্বামী, তার বোন, তার মা, [বা তার পছন্দের ঘনিষ্টজন]। আর অনুগ্রহ করে শিশুকে তার মায়ের সঙ্গে রাখুন।" "আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতি, তা যেমনই হোক, আমাদের বুঝতে হবে যে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে তাদের সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করে এবং একে অপরের কথা শোনার মাধ্যমে তাদের পক্ষে সম্ভব সর্বোচ্চটুকুই করার চেষ্টা করেন। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা একটি সম্প্রদায় হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করি।" সন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার কী করা উচিত? সন্তান জন্মদান নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকলে পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হবে। এটি আপনার উদ্বেগ কমানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাও বুঝতে হবে যে, আপনার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সবকিছু একেবারে পরিকল্পনামাফিক নাও হতে পারে। ক্যাদির পরামর্শ হচ্ছে, "এর মধ্যে থাকতে পারে প্রসববেদনা শুরু হলে কাকে ফোন করতে হবে, কে প্রসবকালীন সেবা প্রদান করবে এবং কোথায় সেবা মিলবে। হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সহায়ক লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের জন্য যে ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে তাও মেনে চলতে হবে।" তার আরও পরামর্শ হচ্ছে -- বিশ্রামের জন্য ঘরে সহজ কিছু কাজ করা, যেমন [স্ট্রেচিং] ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা এবং প্রয়োজন মনে করলে ধাত্রীকে ফোন করা।" যতটা সম্ভব নিজের যত্ন নেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। "ভালোভাবে খান, ভালোভাবে পান করুন, আপনার পেটে হাত রাখুন এবং গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি উপভোগ করুন।" স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে আমার কোন বিষয়টি জানতে চাওয়া উচিত? ক্যাদি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে গর্ভবতী মায়ের একটি আস্থার সম্পর্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। "আপনার স্বাস্থ্যজনিত যেকোনো প্রশ্ন খোলাখুলিভাবে করা উচিত। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে, আপনার ধাত্রীর সঙ্গে, আপনার প্রসূতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যদি খোলামেলা সম্পর্ক থাকে, তাহলে তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং আপনার প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেবেন। এগুলো জানা আপনার অধিকার। কারণ পেটের শিশুটি আপনারই।" ক্যাদি উল্লেখ করেন, "চিকিৎসক ও নার্সদের মতো ধাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলা করতে হচ্ছে এবং এ কারণে প্রয়োজনে সাড়া দিতে তাদের কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।" এক্ষেত্রে ক্যাদির পরামর্শ হচ্ছে, কীভাবে এবং কখন আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তার একটি ব্যবস্থা আগেই করে রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং জরুরি সেবার জন্য কীভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সে বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করুন। এছাড়া সেবা প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রসবপূর্বকালীন সেবাপ্রাপ্তি তথ্যাবলীর একটি অনুলিপি নিজের কাছে রাখার জন্য আগে থেকেই সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলুন, এটাও সহায়ক হতে পারে।"

সন্তান জন্মদানের জন্য যখন আপনার পরিকল্পনার বিষয়টি আসবে তখন যত ধরনের প্রশ্ন করা প্রয়োজন সেটা করা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:

আমি কি এই স্থানে করোনাভাইরাস রোগে (কোভিড -১৯) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছি? এখানে থাকা অন্য কেউ কি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত? কোভিড-১৯ ভাইরাসে যারা আক্রান্ত নন তাদের কাছ থেকে আক্রান্তদের আপনি কীভাবে আলাদা করবেন? স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য যথেষ্ট ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক পোশাক রয়েছে কি? আমি কি কাউকে সঙ্গে রাখতে পারি? যদি না হয়, কেন না? আমি কি আমার শিশুকে আমার সঙ্গে রাখতে পারি? যদি না হয়, কেন না? আমি কি আমার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারি? যদি না হয়, কেন না? আমাকে কি স্বাভাবিকভাবে যোনির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে দেওয়া হবে, নাকি শিগগিরই অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ব্যবস্থা করতে হবে? যদি হয়, তবে কেন?
করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে নারীদের হাসপাতালে যাওয়ার সময় কী কী সাথে নেওয়া উচিত? ক্যাদির পরামর্শ হচ্ছে - "নারীদের বাড়তি কিছু নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে তাদের সাবধানতা অবলম্বনের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।" তিনি আশা করেন, নারীরা যদি সন্তান জন্মদানের পর সুস্থ থাকে, তাহলে কিছু হাসপাতাল স্বাভাবিকের চেয়ে তাড়াতাড়ি তাদের বাড়িতে চলে যেতে বলতে পারে। তিনি বলেন, "এটি অঞ্চল, গর্ভবতীর অবস্থা ও হাসপাতালভেদে ভিন্নও হতে পারে।" সন্তান প্রত্যাশী মায়েদের প্রতি তার পরামর্শ হচ্ছে, ধাত্রী বা প্রসূতি বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ চাওয়া, যা শুধু তাদের জন্যই প্রযোজ্য। আমি সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আমার নবজাতককে কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে কী করতে পারি? সবচেয়ে ভালো যে কাজটি আপনি করতে পারেন তা হচ্ছে, সহজ থাকার চেষ্টা করা। শুধু আপনার পরিবারের সঙ্গে থাকুন এবং দর্শনার্থীদের আসতে নিষেধ করুন। ক্যাদি বলেন, "একই সঙ্গে নিশ্চিত করুন যাতে আপনার অন্য সন্তানরা (যদি থাকে) অন্য শিশুদের সঙ্গে না মেশে। আপনার পরিবারের সদস্যদের বলুন, যাতে তারা নিয়মিত হাত ধোয় এবং নিজেদের যত্ন নেয়।" যদিও এটি একটি কঠিন সময়, ক্যাদি পরামর্শ হচ্ছে, এই সময়ে পারিবারিক বন্ধন জোরালো করার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভাবতে হবে। অনেক সময় নতুন মা ও বাবাকে দর্শনার্থী সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। কিন্তু না; এই মুহূর্তে আপনার পরিবারের সঙ্গে একান্তে থাকার বিষয়টি উপভোগ করুন। আপনার শিশুর সঙ্গে একাকী বন্ধন গড়ে তোলা হবে দারুণ কিছু। নতুন মানুষটিকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং তা উপভোগ করুন।" আমি একজন সন্তান প্রত্যাশী মা। কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আমার কী করা উচিত? এখন পর্যন্ত গবেষণায় যতদূর দেখা গেছে, অন্য যেকোনো শ্রেণির মানুষের তুলনায় গর্ভবতী নারীরা কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে নেই। বলা হচ্ছে যে, তাদের দেহ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসার কারণে গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মাসগুলোতে অত্যন্ত বাজেভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। আর তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ক্যাদি বলেন, "আমি জানি যে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অনেক কঠিন হতে পারে – অবশ্যই তারা নিজেদের এবং তাদের শিশুর যত্ন নিচ্ছেন এবং অনেকের হয়তো আরও সন্তান রয়েছে – তবে এখন পর্যন্ত আমরা যতদূর জানি, অন্য মানুষের যতটা ঝুঁকিতে থাকে, গর্ভবতী নারীরা তার চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নেই। এই কারণে অন্য সবাই যা করে তাদেরও সেটাই করা উচিত। তিনি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন:
কারোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) লক্ষণ রয়েছে এমন কারো সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে বাড়িতে থেকে কাজ করুন। পাবলিক প্লেস বা লোকালয়, বিশেষ করে বন্ধ বা দেয়ালঘেরা স্থানগুলোতে ছোট-বড় সব ধরনের জমায়েত পরিহার করুন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ পরিহার করুন। আপনার ধাত্রী, প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবাদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য টেলিফোন, মেসেজ বা অনলাইন সেবা ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে - সাবান ও পানি দিয়ে বার বার হাত ধোয়া, ঘরে বার বার স্পর্শ করা হয় এমন স্থান/জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা, কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো লক্ষণ নিজের মাঝে দেখা যাচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা এবং থাকলে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সেবা গ্রহণ করা। আমি কি নিরাপদে আমার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারি? ক্যাদি বলেন, "আমরা যতদূর জানি, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখা পুরোপুরি নিরাপদ। এখন পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে তার সবগুলোতে দেখা গেছে, কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়ায় না, তাই একজন মা তার সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করতে পারেন তা হচ্ছে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো।" যদি আপনার সন্দেহ হয় যে, আপনি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর নির্দেশাবলী অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে মায়েদের যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত – সম্ভব হলে মাস্ক পরা, শিশুকে ধরার আগে ও পরে হাত ধোওয়া এবং ঘরের মেঝে বা অন্যান্য স্থান পরিষ্কা/জীবাণুমুক্ত করা। যদি আপনি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো সুস্থ না থাকেন, তাহলে স্তন চেপে দুধ বের করে একটি পরিষ্কার কাপ বা চামচের সাহায্যে আপনার শিশুকে তা খাওয়ান – এক্ষেত্রেও যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমি যদি জনবহুল স্থানে থাকি, তাহলে আমার কী করা উচিত? বিশ্বজুড়ে অনেক নারী অন্যান্য অনেক লোকের কাছাকাছি অবস্থান করেন, যা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। ক্যাদি বলেন, এ ধরনের স্থানগুলোতে আমি পুরো কমিউনিটিকে বলবো তাদের কমিউনিটিতে থাকা গর্ভবতী নারীদের যত্ন নিতে। এক্ষেত্রে তার সুপারিশ হচ্ছে, লোকজন গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে যতোটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করবেন। আর কমিউনিটিতে সবার হাত ধোওয়ার গুরুত্ব ভুলে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, "এমনি এমনি হাত ধোওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। কোভিড-১৯ ও সাবান একে অপরকে পছন্দ করে না। এটি খুব সহজ একটি ব্যবস্থা যা অনেক ভালো কিছু দিতে পারে।" আমি সত্যিই আশা করবো যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন পুরো কমিউনিটি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যেখানে গর্ভবতী নারীরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে, কেননা তারা সর্বোপরি একটা ভবিষ্যতের জন্ম দিচ্ছে। এটাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন!" সূত্রঃ ইউনিসেফ

কোভিড ১৯: ঝুঁকিতে থাকা সংবাদকর্মীর সুরক্ষা ও বার্তাকক্ষের দায়িত্ব

কোভিড ১৯:  ঝুঁকিতে থাকা সংবাদকর্মীর সুরক্ষা ও বার্তাকক্ষের দায়িত্ব

[caption id="attachment_23873" align="aligncenter" width="1170"] ছবি: পিক্সাবে Courtesy:medical-concept-poster-pixabay[/caption] নতুন করোনোভাইরাস যাদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সেই তালিকায় ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের নাম নিঃসন্দেহে সবার ওপরে। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকারের এই তালিকা দেখলে বোঝা যাবে, সবচেয়ে বিপদে থাকাদের দলে সাংবাদিকরাও আছেন। এখন খবরের খোঁজে প্রতিনিয়তই রিপোর্টাররা চষে বেড়াচ্ছেন সংক্রমণের শিকার হওয়া অঞ্চল; ঘুরছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে; কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক থেকে শুরু করে নানা ধরণের মানুষের সাথে। এতে মাঠের সেই রিপোর্টার শুধু নয় – তাদের পরিবারের সদস্য, বার্তাকক্ষে থাকা সহকর্মী এবং রিপোর্টের প্রয়োজনে যাদের কাছে যাচ্ছেন – সবাই কমবেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন পালসের সম্পাদক জেইমি কাফাশ একে তুলনা করেছেন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সাথে। তিনি বলেছেন, “যুদ্ধের ময়দানে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে যে ধরণের নীতিমালা মানতে হয়, এখানেও ঠিক তেমনটাই প্রযোজ্য।” গত কয়েকদিনে কোভিড-১৯ নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশ করেছে জিআইজেএন: দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার টিপসঅনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য প্রশ্নচীনা সাংবাদিকদের পরামর্শ, ইত্যাদি। গোটা বিশ্বে বিভিন্ন ভাষার হাজার হাজার সাংবাদিক লেখাগুলো পড়েছেন। এই গাইডটি ঝুঁকি নিয়ে যারা মাঠে কাজ করছেন, সেই সব রিপোর্টারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি। এখানে রিপোর্টার বা ক্যামেরাপার্সনের নিজস্ব সতর্কতার বিষয় যেমন আছে, তেমনি উঠে এসেছে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্তাদের দায়িত্ব।

হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টিন জোনে কী করবেন?      

কোভিড-১৯ কাভার করা সাংবাদিকদের জন্য একটি অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। এখানে অ্যাসইনমেন্টে যাওয়ার আগে, খবর সংগ্রহের সময় এবং ফিরে আসার পরে – কী করতে হবে তার বিশদ বিবরণ রয়েছে। তারা হাসপাতাল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সংক্রমণ এড়ানোর জন্য যত পরামর্শ দিচ্ছে, এখানে তার-ই সারাংশ। প্রবেশের আগে: যাতায়াতের ক্ষেত্রে গণ-পরিবহণ (যেমন বাস বা ট্রেন) পরিহার করুন, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে। অন্য সময়ে যদি চড়তে বাধ্য হন, তাহলে নামার পর হাত অ্যালকোহল-সমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত করে নিন। হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টিন জোনে প্রবেশের আগে জেনে নিন সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সংক্রমণরোধী ব্যবস্থা কেমন। দুর্বল হলে প্রবেশ না করাই ভালো। [caption id="attachment_23875" align="aligncenter" width="1170"] হাসপাতালে সার্জিক্যাল মাস্কের বদলে এন৯৫ রেসপিরেটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সিপিজে। ছবি: গার্ডিয়ানের ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিনশট[/caption] যখন ঘটনাস্থলে: হাসপাতালে যেন হাতে অবশ্যই গ্লাভস এবং পরনে পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট থাকে। সাথে ডিজপোজেবল জুতো অথবা পানিনিরোধী ওভারশু পরে নিন; সেখান থেকে বের হওয়ার পর ফেলে দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সংক্রমিত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের মাস্ক পরার দরকার নেই। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের তারা মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছে। হাসপাতাল বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় সাংবাদিকদেরও এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সিপিজে। এর দাম বেশি এবং এখন বেশ দুষ্প্রাপ্য। বেরুনোর পরে: সংক্রমণ আছে এমন জায়গায় যাওয়ার আগে, সেখানে গিয়ে এবং ফেরার পরে যতবার সম্ভব গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। ধোয়ার আগে মুখে, নাকে বা চোখে হাত লাগাবেন না। এলাকা থেকে বেরুনোর পর আপনার প্রতিটি সরঞ্জাম (যেমন, ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন) অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ওয়াইপ দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। অফিসে জমা দেয়ার আগে আরেকবার জীবানুমুক্ত করুন। অনেক রিপোর্টার বলেছেন, তারা সংক্রমণ আছে এমন জায়গা থেকে ফিরে নিজেদের পোশাক গরম পানিতে ধুয়ে নিয়েছেন এবং ভালোমত গোসল করেছেন। ফেরার পরে যদি সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখেন, তাহলে অফিসকে জানান এবং সঙ্গে সঙ্গে সেল্ফ-কোয়ারেন্টিনে চলে যান। অন্যদের প্রতি দায়িত্ব: যখন কোনো বয়স্ক ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন, তখন বাড়তি সতর্ক হোন। তাদের কাছ থেকে সচেতনভাবেই দূরে থাকুন। কারণ, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কোভিড-১৯ রোগে প্রবীণদেরই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। আপনার শরীরে, কাপড়-চোপড়ে অথবা যন্ত্রপাতিতে থাকা ভাইরাস থাকলে যেন তাদের শরীরে না ছড়াতে পারে, সেটি নিশ্চিত করুন। শুধু প্রবীন নয়, যে কারো ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসির মতে, এই রোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে দুই ধরণের মানুষ; যাদের বয়স বেশি, এবং যাদের আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যসমস্যা আছে। তাই এমন কোনো রিপোর্টারকে হাসপাতাল, কোয়ান্টিন জোন অথবা সংক্রমণ আছে এমন জায়গায় পাঠাবেন না। অন্তসত্বা রিপোর্টারদেরও এমন অ্যাসাইনমেন্টে পাঠানো থেকে বিরত থাকুন। কোনো রিপোর্টারকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পাঠানোর আগে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। রোগের হটস্পট, অর্থ্যাৎ যেখানে বিস্তার বেশি – ঐসব জায়গায় কাউকে অ্যাসাইনমেন্ট দেবেন না। বাইরে অনেক গণমাধ্যমই এই নীতি মেনে চলছে। যদি দিতেই হয়, তাহলে দলের সদস্যদের বডিস্যুট, রেসপিরেটর এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠান। [caption id="attachment_23876" align="aligncenter" width="1050"] ছবি: আনস্প্ল্যাশ[/caption]

সাক্ষাৎকার কিভাবে নেবেন?

ভারতে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রথম যে বৃদ্ধ মারা যান, তার বাড়ী কর্নাটকে। সেই বৃদ্ধের ছেলের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন চার সাংবাদিক। সেখান থেকে ফিরে, এখন চার জনই কোয়ারেন্টিনে আছেন। সাংবাদিকদের করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে এই সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়। মার্কিন বিজ্ঞান সাংবাদিক লিসা এম ক্রিগার সম্প্রতি ২০২০ ক্যালিফোর্নিয়া ফেলোশিপ-জয়ী সাংবাদিকদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছেন, “আমাদের কাজ সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলা নয়। যা দরকার, তা যদি ফোনে পাওয়া যায়, সেভাবেই নিয়ে নিন।” পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো করোনাভাইরাসের এই সময়ে এসে বেশিরভাগ সাক্ষাৎকারই নিচ্ছে ফোন, স্কাইপ বা অন্য যে কোনো অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে। একই কথা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিভি সাংবাদিক, সম্পাদক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীসহ ব্রডকাস্ট জগতের ১লাখ ৬০ হাজার পেশাজীবির প্রতিনিধিত্ব করা সংগঠন স্যাগ-আফট্রা। করোনাভাইরাসের এই সময়ে সদস্যদের জন্য তারা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে:
  • রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের মতামত সংগ্রহের মত যেসব সাক্ষাৎকার, তা বাদ দিন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সাক্ষাৎকার নেয়ার ইকুইপমেন্ট থাকলে বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
  • যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত, অথবা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের সামনাসামনি সাক্ষাৎকার নেবেন না। তাদের বক্তব্য ফোন, ভিডিও চ্যাট, ইত্যাদির মাধ্যমে নিন।
  • রোগী বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি বাদে বাকি সবার সাক্ষাৎকার নেয়ার আগেও সামাজিক দূরত্ব (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং) বজায় রাখুন। সিডিসির পরামর্শ মেনে, অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বক্তব্য ধারণের চেষ্টা করুন।
  • যদি দূরত্ব বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে ফোন বা ভিডিও চ্যাটের সহায়তা নিন। কিভাবে রিমোট রেকর্ডিং করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ পাবেন এই টিপশীটে। এটি তৈরি করেছে রেডিও ও মাল্টিমিডিয়া প্রযোজকদের সংগঠন এয়ার
  • যদি কোনো সংবাদ সম্মেলনে আপনার অ্যাসাইনমেন্ট থাকে, তাহলে সেখানে গিয়েও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মত ব্যবস্থা আগেই করে নিন। যদি না পারেন, তাহলে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। (যেমন, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ)
  • সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মাইক্রোফোনের ওপর ডিজপোজেবল কাভার লাগিয়ে নিন। ব্যবহারের পর ফেলে দিন। তারপর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত করুন। লিপ মাইক্রোফোন কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
  • আপনার প্রতিটি ইক্যুইপমেন্ট সাক্ষাৎকার শেষে অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে জীবানুমুক্ত করুন। আপনার সেলফোনটিও নিয়মিত ওয়াইপ দিয়ে মুছে নিন।
মনে রাখবেন, শুধু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা নয়, আপনি যে কোন অ্যাসাইনমেন্টেই আক্রান্ত হতে পারেন। তাই সব সময় ছয় ফুট দূরত্বে থাকার বিষয়টি মাথায় রাখুন।

সরঞ্জাম কি ভাইরাসমুক্ত?

মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় রুডি গোবার্ট একটি সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে নেহাত কৌতুক বশে সাংবাদিকদের রাখা মাইক্রোফোনে হাত দিয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনি সংক্রমিত। এবং তার মাধ্যমে ইউটাহ জাজ দলের আরো কয়েকজন খেলোয়াড় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এভাবে সাংবাদিকরাও তাদের ইক্যুইপমেন্ট থেকে আক্রান্ত হতে পারেন যে কোনো সময়। নতুন করোনাভাইরাস প্লাস্টিক বা ধাতব যে কোনো বস্তুর ওপরে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম পরিস্কার রাখুন। আপনার মাইক্রোফোন কিভাবে পরিস্কার করবেন, তার একটি বিস্তারিত নির্দেশনা পাবেন ট্রানসমের এই লেখা থেকে। তাদের মূল পরামর্শ: জীবানুনাশক স্প্রে না করে বরং মাইক পরিষ্কারের ফোম ব্যবহার করুন, এবং পরিস্কার কাপড় দিয়ে তা মুছে ফেলুন। আর পেটাপিক্সেলের এই লেখায় বলা হচ্ছে, আপনি কিভাবে আপনার স্মার্ট ফোন, ক্যামেরা এবং গিয়ার পরিস্কার করবেন। তারাও মূলত অ্যালকোহলভিত্তিক ওয়াইপস দিয়ে লেন্স মুছে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে। টিভি হোক, অনলাইন বা প্রিন্ট – যে কোনো মাধ্যমের সাংবাদিকদের জন্য এখন সংবাদ সংগ্রহের বড় উপায় হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। আপনি যেখানেই যাচ্ছেন, এটি আপনার হাতে থাকছে। তা দিয়ে আপনি কথা রেকর্ড করছেন, ভিডিও বা ছবি তুলছেন, টেবিলে বা সারফেসে রেখে কাজ সারছেন। সেটি কি জীবানুমুক্ত? করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময়ে, আপনাকে এই দিকেও নজর দিতে হবে। এখানে বিবিসি ক্লিকের একটি ভিডিও, জেনে নিন ফোন কিভাবে নিরাপদে রাখবেন। https://youtu.be/wkmFKpAqJbM

টিভি চ্যানেলের ভেতরেও কি নিরাপদ?

টিভি চ্যানেলের ভেতরে যারা কাজ করছেন, দয়া করে নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ ভাববেন না। আপনার স্টুডিওতে প্রতিদিন যত অতিথি আসছেন বা যাচ্ছেন, তারা সবাই কি সংক্রমণমুক্ত? আপনি যদি নিশ্চিত হতে না পারেন, তাহলে স্টুডিওটিকেও নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করুন। একটি উদাহরণ দিলে আরো পরিস্কার হবে। গেল ৯ মার্চ, অস্ট্রেলিয়ার নাইন নেটওয়ার্ক টিভির স্টুডিওতে গিয়েছিলেন অভিনেতা টম হ্যাংকসের স্ত্রী রিটা উইলসন। তখনো কারো জানা ছিল না এই দম্পতি করোনাভাইরাস আক্রান্ত। তারা কিছুদিন পরই সেই ঘোষণা দেন। রিটা উইলসনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সাংবাদিক রিচার্ড উইলকিন্স। কয়েকদিন পর তিনি নিজেও সংক্রমিত হন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্যাগ-আফট্রার পরামর্শ হলো:
  • টিভি চ্যানেলের কমন জায়গা, যেখানে সবাই আসেন বা বসেন, তা নিয়মিত জীবানুমুক্ত করা;
  • প্রতিটি শো শেষে স্টুডিও অ্যালকোহলভিত্তিক জীবানুনাশক দিয়ে মুছে ভালো মত পরিস্কার করে নেয়া;
  • স্টুডিওতে যে মাইক্রোফোনগুলো ব্যবহার হচ্ছে তা প্রত্যেক শো শেষে জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করে নেয়া;
  • স্টুডিওতে ব্যক্তিগত মেক-আপ কিট, ব্রাশ ও ফোম নিয়ে আসা এবং শুধু সেগুলো ব্যবহার করা;
  • প্রয়োজনে ঘরকেই স্টুডিও বানিয়ে নেয়া বা ভিডিও চ্যাটে অতিথিদের সংযুক্ত করা;
  • ওয়াইপস সাথে রাখা এবং দরজার হাতল থেকে শুরু করে স্পর্শ করতে হবে এমন;জিনিস মুছে নেয়া:
  • এবং টিভি শোতেও সামাজিক দূরত্ব অর্থ্যাৎ ৬ ফুট দূরে থাকার নীতি মেনে চলা।

নিউজরুমগুলো কী করছে?

বাংলাদেশের কথা দিয়েই শুরু করা যাক। গণমাধ্যম সাময়িকী মুক্তবাকের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু গণমাধ্যম তাদের কর্মীদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। কেউ পুরোপুরি, কেউ আংশিকভাবে বাড়ি থেকে কাজের নীতি গ্রহণ করেছেন। অফিসে প্রবেশের আগে জ্বর মাপা, মাস্কের যোগান, জীবানুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, কর্মীদের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে পিক এবং ড্রপের ব্যবস্থা, পালা করে কাজ করা – এমন অনেক উদ্যোগই নেয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে কাজ গণমাধ্যমের জন্য বলতে গেলে নতুন বিষয়। করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বেই বার্তাকক্ষগুলোকে এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছে। অন্যান্য দেশের নিউজরুমগুলো কোভিড-১৯ এর সাথে যেভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যাবে ওয়ান-ইফরা ব্লগের এই লেখা থেকে। নিচে কয়েকটি উদাহরণ। স্ট্রেইটস টাইমস, সিঙ্গাপুর: তারা বার্তাকক্ষের সম্পাদকীয় বিভাগকে ২৫ জনের দুটি দলে ভাগ করে নিয়েছেন। প্রতিটিতে বিভিন্ন পদ মর্যাদার কর্মী আছেন। একদল ঘরে বসে কাজ করেন, আরেকদল অফিসে। দুই সপ্তা পর, তারা স্থান বদল করেন। এর উদ্দেশ্য হলো: একটি দলের কেউ আক্রান্ত হলে, তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে, বাকিদের নিয়ে কাজ চালানো। সম্পাদকীয় এই দল ছাড়া তাদের বাকি সব কর্মী ঘর থেকেই কাজ করছেন। অ্যাসাইনমেন্ট থাকলে সেটি সেরে, বাড়ি থেকেই তা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন গুগল হ্যাংআউটে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, হংকং: জনপ্রিয় এই পত্রিকাটি অর্ধেক কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে। যারা অফিসে কাজ করেন, তাদেরকে প্রতিটি ফ্লোরে বিভক্ত রাখা হয়েছে, যেন এক তলার কর্মী থেকে অন্য তলায় সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। তারাও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন গুগল হ্যাংআউটে। নিজেদের বদ্ধ সম্মেলনকক্ষে বড় মিটিং বা সভা নিষিদ্ধ করেছে এসসিএমপি। বার্তাকক্ষের কর্মীরা ছোট ছোট দলে মিটিং সেরে নেন। দ্য টাইমস, যুক্তরাজ্য: টাইমসের একজন কর্মী করোনাভাইরাসে আকান্ত হওয়ার পর থেকে লন্ডনে তাদের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিটি লিফট, টয়লেট এবং বসার জায়গা ৩০ মিনিট পর পর জীবানুমুক্ত করা হচ্ছে। হার্স্ট, মেরিডিথ কর্প কর্পোরেশন, পেনস্ক মিডিয়া কর্পোরেশন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, বাজফিড, বিজনেস ইনসাইডার, রিফাইনারি ২৯, নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন, পলিটিকো, এক্সিয়োস, এবং ওয়ার্নার মিডিয়াসহ অনেকেই কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহি°÷ত করছে। রিপোর্টারদের যাতে বাইরে যেতে না হয়, সেজন্য কোয়ার্টজ এক্সপ্লেইনার ধাঁচের ভিডিও বানানোতে মন দিয়েছে। নাওদিস বলছে, তারা ভিডিওর জন্য প্রতিটি সাক্ষাৎকারই অনলাইনে নিচ্ছে, এবং দর্শকদেরও জানাচ্ছে, কেন এমন করতে হচ্ছে। https://youtu.be/8zKoQKeGbyY ওয়াশিংটন পোস্টের এই ভিডিও আপনাকে জানাবে বাড়ি থেকে কাজ করা সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা।

বার্তাকক্ষের কর্তাদের জন্যে…

কোভিড-১৯ রোগের গতিপ্রকৃতি প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে, যার ভভিষ্যৎও অজানা। বাড়ি থেকে বা অফিসে বসে, কাজ যেখান থেকেই হোক – এই অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে কতদিন যেতে হবে, তা কেউ বলতে পারে না। এই সময়টা যেমন কর্মস্থলকে নিরাপদ রাখার, তেমনি নিজেদের একে অপরের দিকে খেয়াল রাখারও বটে। আর এখানে বড় দায় আছে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপকদের, অর্থ্যাৎ যারা বার্তাকক্ষকে নেতৃত্ব দেন। কঠিন এই সময়ে তাদের মূল দায়িত্ব দু’টি – প্রথমত, সহকর্মীদের ঝুঁকিতে না ফেলা; এবং দ্বিতীয়ত, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা। কিভাবে সেটি করবেন? নিচে কয়েকটি পরামর্শ:
  • এই সময়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করুন, এবং তা কিভাবে মেনে চলতে হবে বার বার সহকর্মীদের বুঝিয়ে বলুন। বার্তাকক্ষের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে এই নীতিমালার মুখপত্র হতে হবে। বাস্তবায়নের জন্য জবাবদিহিও করতে হবে, তাকেই।
  • রিপোর্টার অ্যাসাইনমেন্টের কাজে ভ্রমণ করবেন কি করবেন না, তিনি অফিস নাকি বাড়ি থেকে কাজ করবেন – সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিন। তার সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখুন, কোনো ব্যাখ্যা চাইবেন না।
  • কর্মক্ষেত্রে এমন জায়গা রাখুন যেখানে সাংবাদিকরা একে অপরের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন। দলগত সভা দরকার তো বটেই, এসময় ওয়ান-টু-ওয়ান সাক্ষাতও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • একজন রিপোর্টার কত রিপোর্ট দেবে, তা নিয়ে আপনার প্রত্যাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সময়টি কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ রিপোর্টারকেও অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার প্রভাব পড়ে তাদের উৎপাদনশীলতায়।
প্রতিটি পরামর্শ নেয়া হয়েছে “নিউজরুম গাইড টু কোভিড-১৯” নামের একটি সহায়িকা থেকে। এটি তৈরি তৈরি করেছেন ১১ জন  সাংবাদিক, তাদের মত অন্য সাংবাদিকদের জন্যে। হাতে যদি সময় থাকে পুরো গাইডটি পড়ে দেখুন
[caption id="attachment_23877" align="alignleft" width="140"] মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, জিআইজেএন-এর বাংলা সম্পাদক। এর পাশাপাশি তিনি জিআইজেএন-এর সদস্য সংগঠন, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা, এমআরডিআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্ হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতায় তাঁর রয়েছে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা, যার বড় অংশই টেলিভিশনে।[/caption]

সেলফোনে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের বিবেচনায় ১০টি দেশের মধ্যে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ

বিভিন্ন সেবায় দেশে ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে। আর্থিক লেনদেনের মতো কার্যক্রমেরও বড় অংশ হচ্ছে এই প্লাটফর্মে। ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা ভঙ্গুরতাও। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা যেমন দায়ী, একইভাবে দায়ী ব্যবহারকারীর অসচেতনতাও।

ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা ভঙ্গুরতা বাড়ছে

সুমন আফসার

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় অংশ হচ্ছে স্মার্টফোনে। স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পারিটেকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সেলফোনে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের বিবেচনায় ১০টি দেশের মধ্যে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ। দেশের মোট সেলফোনের ৩৫ দশমিক ৯১ শতাংশ ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত। ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয় ব্যক্তিগত কম্পিউটারও (পিসি)। ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত দেশের ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটার। কম্পারিটেকের তালিকায় থাকা বিশ্বের ৬০টি দেশের মধ্যে দুর্বল সাইবার নিরাপত্তার বিবেচনায়ও বাংলাদেশের অবস্থা বেশ নাজুক। ডিজিটাল নিরাপত্তা দুর্বলতায় ৬০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা যে একটা বড় ইস্যু, তা বুঝতে বেশ সময় নিয়েছি আমরা। আমাদের ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্যও বলছে, আর্থিক খাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানও এ ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মূলত সচেতনতার অভাবের কারণেই। আমি এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আধাসরকারি চিঠি দিয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের নিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাতেও। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মধ্য দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আসে। সুইফট সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় অপরাধীরা। আর্থিক খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) বিভিন্ন সময়ের গবেষণায়। ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে বিআইবিএম দেখিয়েছে, এর মধ্যে এটিএম কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা বেশি। প্রায় ৪৩ শতাংশ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। ২৫ শতাংশের মতো জালিয়াতি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটেছে। সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকি থাকলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই অনেক ব্যাংকের। বিআইবিএমের গবেষণা বলছে, বড় ধরনের সাইবার হামলা মোকাবেলায় কোনো প্রস্তুতি নেই ২৮ শতাংশ ব্যাংকের। আংশিক প্রস্তুতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ ব্যাংকের। এছাড়া সিংহভাগ ব্যাংকেই আইটি গভর্ন্যান্স নেই। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবার দিক থেকে দেশে সামনের সারিতে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সর্বাধিক এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি। সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাসেম মো. শিরিন বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বব্যাপীই আর্থিক খাত এখন প্রযুক্তিনির্ভর। এতে আর্থিক সেবাগুলো সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। সারা বিশ্বেই ব্যাংকগুলো এখন সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোকেও একই পথে হাঁটতে হবে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আর্থিক লেনদেনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সেলফোন, বিশেষ করে স্মার্টফোন। দেশে সেলফোন হ্যান্ডসেটের ৪০ শতাংশ স্মার্টফোন, যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে ব্যবহারকারীর অসচেতনতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মাধ্যমটি সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ সহজেই সাইবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারা আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। একইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বণিক বার্তাকে বলেন, ম্যালওয়্যার এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমিত থাকলেও সেলফোনে আর্থিক লেনদেন খাতেও এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণেও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম। সঠিক উপায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার না করার কারণে অপরাধীরা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য অনলাইনে প্রকাশ কিংবা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইলের ব্যবহার রোধে নীতিমালা করেছে সরকার। নীতিমালায় দাপ্তরিক কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে গভডটবিডি ঠিকানাযুক্ত ই-মেইল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। যদিও এ বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করছেন না বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও। আবার কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় সব কর্মকর্তাই সরকারি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যক্তিগত ই-মেইল উল্লেখ করেছেন। সরকারি ডোমেইনে ই-মেইলের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে, এমন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। সচেতনতার অভাব রয়েছে ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। না জেনেই অনেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংকে প্রবেশ করছে। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনিতেই দেশে বিনামূল্যের বা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ প্রবণতা রয়েছে। সিংহভাগই অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কাযনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সেই সঙ্গে আগের ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও আছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলা ডটনেটের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এবং দেশ টেলিভিশনের সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক আছেন কাযনির্বাহী কমিটিতে। সংবাদ প্রকাশনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের মাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতাদের নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের পরিচয় দিতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেদিন বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশনা শিল্পে যারা সম্পাদকীয় নেতৃত্ব দেন তাদের সংগঠন এটি। কাজেই এ সংগঠনের মূল কাজ হবে একটা কোড অব এথিকস অর্থাৎ নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা, যেটি এখন একেবারেই অনুপস্থিত। সেই ‘কোড অব এথিকস’ ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র তৈরি; নতুন সদস্য নেওয়া এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য শুক্রবারের সভায় তিনটি কমিটি করেছে এডিটরস গিল্ড। স্বদেশ রায়ের নেতৃত্বে মেম্বারশিপ কমিটিতে রয়েছেন সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা। মোজাম্মেল বাবুর নেতত্বে অপারেশন্স কমিটিতে আছেন মঞ্জুরুল ইসলাম, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন এবং দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি। আর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে এথিকস কমিটিতে রয়েছেন আবেদ খান ও স্বদেশ রায়। এই কমিটি গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া তৈরি করবে। তিনটি কমিটি করার পাশাপাশি এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের লোগো এই সভায় অনুমোদন করা হয়। এই লোগোর প্রতীকী উপস্থাপনায় সংবাদের ‘যথার্থতায়’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশক ও পরিবেশক হিসেবে যে তথ্য আমরা পাঠককে দিচ্ছি, তার যথার্থতার ওপরই আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে।’ আর বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট ‘সবসময়ই ছিল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবেদ খান সভায় বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে এথিকসটাকে মূল্য দিতে পারছি না। এখানে সাংবাদিকরা কর্মচারী হয়ে গেছেন, সম্পাদকরা সিইও হয়ে গেছেন। অর্থাৎ এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন বলতে যা বোঝায় সেটা শেষ হয়ে গেছে। এই ইনস্টিটিউশনটা যদি আমরা না বাঁচাতে পারি, তাহলে কিন্তু হবে না। আমরা দেখেছি যে, আস্তে আস্তে এটা করপোরেটদের হাতের মুঠোর মধ্যে চলে যাচ্ছে।’ এই গিল্ড শক্তিশালী হয়ে সম্পাদকদের নৈতিক অবস্থানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ বলছে, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন তারা। প্রতিটি কমিটির সঙ্গে নির্বাহী সচিব হিসেবে কাজ করবেন সাংবাদিক রিয়াজুল বাশার।

যুক্তরা‌জ্যে বাংলা‌দেশি বিজ্ঞানীর ব্যাক‌টে‌রিয়া নির্ণায়ক আবিস্কার

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. প্রদীপ সরকারসহ ৬ জনের একটি গবেষণা দল এক ধরণের এক‌টিভ প‌লিমার হাই‌ড্রে‌জেল তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে অল্প খরচে সঠিকভাবে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন পরীক্ষা করা সম্ভব। ফলে চিকিৎসকরা দ্রুততম সময়ে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে পারবেন। তাদের এই আবিস্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রফেসর ষ্টিভ রিমারের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ বছরের বেশী সময় ধরে নিরলস প্রচেষ্টায় এই আবিস্কার সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি ১০ হাজার পাউন্ড অনুদান দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রযুক্তি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা হবে। পরে এটি ক্লিনিক্যাল টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. প্রদীপ সরকার এই গবেষক দলের লিড সাইন্টিটিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত ৫টিরও বেশী জার্নালে তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। ড. প্রদীপ সরকার বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার বারইহুদা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ড. প্রদীপ সরকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভের পর পরমাণু শক্তি কমিশনে বিজ্ঞানী হিসাবে তার প্রথম কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের সেফিলড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭ বছর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে ড. প্রদীপ সরকার যুক্তরাজ্যে একটি বা‌য়ো‌টেক কোম্পানীর সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সাংবা‌দিক‌দের সা‌থে আলাপকা‌লে প্রদীপ সরকার ব‌লে‌ছেন, ‘সু‌যোগ পে‌লে তি‌নি বাংলা‌দে‌শের জন্য কাজ কর‌তে চান। দে‌শের জন্য কা‌জে লাগা‌তে চান তার গ‌বেষনালব্ধ অর্জন’।

ফেক নিউজ ধরার কারিগর

ফেক নিউজ ধরার কারিগর

শেখ শাহরিয়ার জামান

গত আগস্টে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়লে গোটা সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর সবদেশে এই ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক সময়ে ভীতি এবং সমস্যার সৃষ্টি করছে। তবে এসব ফেক নিউজ শনাক্ত করে প্রমাণসহ জনসমক্ষে প্রকাশের কাজ করে যাচ্ছে ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘূর্ণিঝড়ের পরে টেক্সাস এবং হিউষ্টন শহরের পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় হাঙ্গর সাঁতার কাটছে এমন একটি একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। তিন লাখ শেয়ার হওয়ার পর দেখা গেল এটি ২০১৪ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি ছবি। আরেকটি একটি ভাইরাল ছবিতে দেখানো হয়েছিল জার্মানিতে মুসলিমরা দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হয় কট্টর দক্ষিনপন্থিরা এই ছবিটি ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ছবিটি ছিল একটি ফুটবল ম্যাচের দাঙ্গার ছবি।

এধরণের ফেক নিউজকে জনসমক্ষে মিথ্যা প্রমাণ করার কাজ করে যাচ্ছে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব।সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সফররত একদল সাংবাদিককে ওই ল্যাবের সহকারি পরিচালক নিকোলাস ইয়াপ বলেন, যেকোনো জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি মিথ্যা সংবাদকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং এটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারবে। আমাদের কাজ হচ্ছে যেকোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা ফেক নিউজকে বিশ্লেষণ করে সেটিকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং বিশ্বব্যাপি ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ইয়াপ বলেন, আমরা যখন কোনো তথ্যকে মিথ্যা বলি, আমরা সেটিকে ব্যাখ্যা করে প্রমাণাদিসহ জনসমক্ষে প্রকাশ করি।

২০১৬ সালে চারজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫ জন কর্মরত আছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কারো একটি বিশেষ পোষ্ট সন্দেহজনক মনে হয় তবে বিশেষ টেকনিক দিয়ে সেটি যাচাই বাছাই করা সম্ভব এবং সেটি সত্যি না মিথ্যা সেটি বোঝা সম্ভব।’ তিনি জানান, আমরা সারা বিশ্বে বিভিন্ন ফেক নিউজ এবং ক্যাম্পেইন পর্যবেক্ষণ করে সেটিকে মিথ্যা প্রমাণিত করি। শুধু তাইনা আমরা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি এবং বিশেষ টেকনিকগুলি শিখিয়ে দেই যাতে করে তারা কোনটি সত্যি এবং কোনটি মিথ্যা নিজেরাই বুঝতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে ফেক নিউজ চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি আমরা যা করি সেটি করতে সক্ষম।’ ইয়াপ বলেন, বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্য ভান্ডার যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইন্টাগ্রাম বা এধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কয়েকটি টুল যেমন গুগল আর্থ বা গুগল ইমেজসহ আরও কয়েকটি সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেই তথ্যটি সঠিক কিনা।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাঙ্গর বা জার্মানির দাঙ্গার ক্ষেত্রে গুগল ইমেজের মাধ্যমে সহজে জানা সম্ভব ওই ছবিগুলি প্রথম কবে প্রকাশিত হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত ডিজিটাল ল্যাব ইউক্রেনে রাশিয়ার সৈন্য উপস্থিতি এবং সিরিয়াতে আসাদ সরকার নিরীহ জনগণের উপর আক্রমণ করেছিল এই বিষয়গুলি প্রমানসহ উপস্থাপন করেছেন।

‘একজন মমিনুল হক বাচ্চু’ – লেখা নিয়ে বিতর্ক

সাপ্তাহিক ঠিকানা ১৯ অক্টোবর ২০১৮ সংখ্যায় ৩১ নং পৃষ্ঠায় লস এঞ্জেলেসের মমিনুল হক বাচ্চু ভাইকে নিয়ে 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' নামে ঠিকানার নিজস্ব প্রতিবেদকের নামে একটি ফীচার প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্ট দুই সপ্তাহ পরে নিউইয়র্কের তথা সারা আমেরিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ঠিকানার ওয়েব পোর্টালের http://www.thikana.us/?p=18009 এই লিংকে তা পাবলিশ হয়। লস এঞ্জেলেসে জনপ্রিয় বাচ্চু ভাইকে নিয়ে ঠিকানার ফীচার যাতে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পড়তে পারেন তার জন্য সেই ফীচারটি একুশ পোর্টালে সাপ্তাহিক ঠিকানা থেকে রি-পোষ্ট করা হয়েছে। এখানে লেখার ক্রেডিট সাপ্তাহিক ঠিকানাকেই দেয়া হয়েছে। একুশ ডট ইনফো লস এঞ্জেলেসের একটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল। একুশ পোর্টালে নিজস্ব সংবাদ ছাড়াও বিভিন্ন সোর্স থেকে স্থানীয় ও হ্যান্ড পিকড নির্বাচিত খবর ছাপা হয়। একুশ পোর্টালে প্রচারিত প্রত্যেকটি নিউজ তাদের সোর্সের নাম ও তাদের সরাসরি লিংকসহ পাবলিশ করা হয়। নিউজ সোর্সের নাম ও তাদের সরাসরি লিংকসহ প্রতিবেদন লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় কোন পোর্টালে তো দেয়াই হয় না - জাতীয় অনেক নামকরা পোর্টালেও সেই সূত্র দেখা যায়না। [caption id="attachment_23378" align="alignleft" width="960"] লস এঞ্জেলেসে আনন্দমেলার পক্ষ হতে আজীবন সম্মাননা গ্রহন করছেন মমিনুল হক বাচ্চু।[/caption] ঠিকানার সেই নিজস্ব ফীচার পড়ে কারোই বুঝার উপায় নেই যে কে সেই প্রতিবেদন তৈরী করেছে। সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসের কমিউনিটিতে অজানা এক লেখক ঠিকানার সেই ফীচারকে তার লেখা বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে সে কমিউনিটিতে সুপরিচিত একুশ পোর্টালের এডিটরের নামে অজানা ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কমিউনিটিতে তার সুনাম বিনষ্ট করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়ে ফেসবুকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ঠিকানার নিজস্ব লেখায় তার রেফারেন্স না টানাতে সে স্থানীয়ভাবে প্রচারিত নিউজ পোর্টালের উপর ক্ষেপেছেন। ঠিকানা পত্রিকায় স্থানীয় লেখকের নাম থাকলে একুশ তা অবশ্যই প্রচার করতো। স্থানীয়ভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঠিকানার প্রধান সাধুবাদ জানিয়ে নিউজলিংকে মন্তব্যও করেছেন। কমিউনিটির অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। এতে কমিউনিটিতে সুস্থ্য ডায়ালগ শুরু হয়েছে।  সামাজিক সম্প্রীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাপ্তাহিক ঠিকানা জনপ্রিয় কোন সমাজকর্মীকে তাদের নিজস্ব প্রতিবেদক দিয়ে রিপোর্ট করাতেই পারেন।  ঠিকানার ফীচার আর সেই ব্যক্তির লেখা বিডি প্রতিদিনের ফীচারের সাথে হুবহু কোন মিল নেই। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের  নিয়ে লেখার মাঝে তার জন্মের কথা বা সামাজিক কার্যক্রমের বর্ননায় মিল থাকবেই। তাই অন্যকে আক্রমণ করার আগে লেখকের শিক্ষা ও তার সামাজিক অবস্থান বিচার করা জরুরী। জনপ্রিয় সমাজকর্মীকে নিয়ে অনেক পত্রিকায়ই প্রতিবেদন যেতে পারে - এতে তাকে নিয়ে বিডি প্রতিদিনের লেখা যে তার নিজস্ব তা প্রমানের অপেক্ষা রাখে। একজন এক ব্যক্তিকে নিয়ে লিখলেই সে তার সম্পত্তি বা কপিরাইটেড ব্যক্তিত্ব হয়ে যায়না। লেখকের দৈন্যতা আর প্রফেশন সম্পর্কে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশই ঘটলো স্থানীয় এক অপেশাদার লেখকের ফেসবুকের ম্যাসেজে। এইখানে তার প্রফেশনাল অজ্ঞতাকে নিয়েই কথা হচ্ছে - তার ব্যক্তিগত জীবন-যাত্রা নিয়ে নয়। আর এইখানেই মানুষের শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের পরিচয়। যদি তার লেখা ঠিকানা ছাপাতো ও তাকে লেখক হিসাবে ক্রেডিট দিতো একুশ অবশ্যই তার নাম পাবলিশ করতো। কারন ঠিকানায় ফীচারটা লস এঞ্জেলেসের সেই লেখকের ছিলোনা। তিনি বিডি প্রতিদিনে মিজানুল কবীর নামে লিখে ভেবেছেন যে লস এঞ্জলেসের বাচ্চু ভাইকে নিয়ে কেউ কিছু লিখলে তা তার সম্পদ। যা এখন বুমেরাং হয়ে হাস্যকর অপরিপক্ক সেই ফরমাইসী লেখকের কাছে ফিরে আসছে। এই সকল লেখিয়েদের কথা কমিউনিটির সবাই জানেন। তাদেরকে যে কমিউনিটি কিভাবে দেখেন তা যদি তারা জানতেন তাহলে লজ্জা থাকলে লিখালিখি বন্ধ করে দিতেন।  কমিউনিটিকে বিভ্রান্ত করে তার এই অশুভ উদ্যোগকে অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছেন। প্রতিবেদন দুটি দেখে নিজেরাই যাচাই করুন। 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' আর 'একজন পরোপকারী বাচ্চুর কথা' ফীচারের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে।   [caption id="attachment_23382" align="alignleft" width="2304"] সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপূজার মন্ডপে সবার সাথে কমিউনিটিতে জনপ্রিয় মমিনুল হক বাচ্চু। বাংলাদেশ থেকে ইউএস ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট-এ আমন্ত্রিত সিনিয়র সাংবাদিক দ্যা ডেইলি ষ্টারের স্পেশাল করসপন্ডেন্ট রেজাউল করিম লোটাস ও দৈনিক ইত্তেফাকের ডিপ্লোম্যাটিক করসপন্ডেন্ট মাইনুল আলম ও লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের পূজা টীমের সাথে যোগ দেন।[/caption] মনিনুল হক বাচ্চুকে নিয়ে দুই ধরনের প্রতিবেদন করা হয়েছে। যার শিরোনামও ভিন্ন। স্থানীয় একজন লেখক এই ফীচারকে তার নামে চালিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন এবং বাচ্চু ভাইকে তার নিজের সম্পত্তি হিসাবে নিয়ে নিয়েছেন। এই কারনে একুশ এর নামে মিথ্যা, অসত্য বানোয়াট পোষ্ট দিয়েই যাচ্ছেন। ব্যক্তির অর্জন নিয়ে  এই ধরনের প্রতিবেদনে লেখকের চেয়ে ব্যক্তির কর্ম ও অবদানকেই বড়ো করে দেখা হয়। যেহেতু প্রবাসে লেখকরা সাধারনত সম্মানী পান না - সেখানে নিজের নামের বিনিময়ে তারা লিখে থাকেন যা বিষয়-বস্তুর বিচারে তাদের নাম পাবলিশ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় এডিটর ও পাবলিশারদের নজর এড়িয়ে যায়। কেউ যদি নাম নিয়ে নাজুক হন তার উচিৎ ছিলো সেই পোর্টালে যোগাযোগ করা। সেখানে তার নাম যদি যুক্ত না করা হতো এবং তিনি যদি প্রমান করতে পারতেন যে তার লেখা কপি করা হয়েছে তাহলে তার সংক্ষুদ্ধতা নিয়ে কমিউনিটি সন্দিহান হতোনা।  কিন্তু হীনমানসিকতা নিয়ে অন্যের নামে বানোয়াট বিষোদগার করা যার উদ্দেশ্য সে সেই পথে যাবে কেন? ঠিকানাকে আক্রমন না করে একুশ নিয়ে বাজে কথার  বলার উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত আক্রমন আর তাদের দৃষ্টিতে উইকেষ্ট বা দূর্বল লিংক হলো একুশ। তাকে ধরো - কারন ব্যক্তিগত আক্রোশ আছে। একুশের প্রতিবেদনে কোন প্রতিবেদকের নাম উল্লেখ করা হয় নাই। তার সোর্স ও লিংক ফীচারের নীচে ক্রেডিট হিসাবে দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ঠিকানার ফীচারে দেখুন কার নাম দেয়া হয়েছে। মিজানুল কবীর নামে এই লেখক ১৯ শে অক্টোবরে ছাপা সাপ্তাহিকে তার লেখাকে কপি পেষ্ট ও তার নাম ব্যবহার নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেন নাই। কারন লেখাটা সম্পূর্নভাবেই ঠিকানা পত্রিকার। স্থানীয়ভাবে রি-পোষ্ট করার পর তার ফেইক ক্লেইম নিয়ে একুশে প্রচারিত হবার পর তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগের চেষ্টা না করেই ঘেউঘেউ করে যাচ্ছেন। এতে তার পোষ্টে তার নিজস্ব সহচর ১-২ জন ছাড়া কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। যেহেতু বাচ্চু ভাইকে নিয়ে তারা বলছেন আরো লেখা আসুক তার সম্পর্কে কিন্তু বাচ্চু ভাইকে নিয়ে কেউ প্রতিবেদন করলে তাদের নাম নিতে হবে, এই রকম আভাসই তারা দিচ্ছেন। বসন্তের কোকিলের মতো উদয় হওয়া কিছু লেখকের অজ্ঞতা থেকে কমিউনিটি আর বেশী কি আশা করতে পারে? তাই আপনার ফেসবুক পেজে এই ধরনের অসার প্রচারণা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সময় এসেছে। ফেইক প্রচারণা আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে বেমানান।        এই ফীচারের কেন্দ্রবিন্দু ও মানসিকতা ছিলো একজন লস এঞ্জেলেসবাসী কে বিশ্বে তুলে ধরা - কে সেই প্রতিবেদন লিখে তাকে উদ্ধার করলো তাকে গ্লোরিফাইড করলো তা নয়। গত আগষ্টে বিডি প্রতিদিন নিউইয়র্কে এই তথাকথিত লেখকের ফীচার ছাপা হয়। https://www.bd-pratidin.com/northamerica/home/page/2018-08-17 । সাপ্তাহিক ঠিকানায় ১৯ অক্টোবর ২০১৮ সংখ্যায় ৩১ নং পৃষ্ঠায় মমিনুল হক বাচ্চুকে নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন ছাপা হয় যা মিজানুল কবীর তার লেখা হিসাবে দাবী করেছেন নিকৃষ্ট পন্থায়। এতে ফীচার লেখক হিসাবে তার দাবীর যৌক্তিকতা কোনভাবেই প্রমান হয়না। একুশ যখন কোন নিউজ করে তার প্রপার ক্রেডিট সব সময়ই দিয়ে থাকে। এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান জিতু বলেন, 'একুশ প্ত্রিকা আমার নাম দিয়েই সব নিউজ বা সামাজিক আপডেট করে থাকে - এতে একুশ পোর্টালের কোনদিনই কোন অসুবিধা ছিলোনা। স্থানীয় পোর্টাল হিসাবে সবাই এখানে লিখেন বা লিখতে পারেন কমিউনিটির সেবায় - তবে এই প্রতিবেদনে প্রতিবেদক হিসাবে জাহান হাসানের নাম কোথাও ব্যবহৃত হয় নাই - ঠিকানার নাম ও লিঙ্ক দেওয়া আছে। লস এঞ্জেলেসে সামাজিক সম্প্রীতি ও বস্তুনিষ্ঠতার অপর নাম একুশ।' লস এঞ্জেলেসে নিজের লেখা নিয়ে মাঝে মাঝে দেখা যায় প্রবল মাতামাতি। কে সাংবাদিক - কে লেখক - কে ফরমাইশী ফেসবুক লেখক বা কে কোন জনমে কোন পত্রিকায় দুইকলম লিখেছে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা। লেখা নিয়ে যতোটা কথা হয় তার চেয়ে ব্যস্ত থাকে গুছিয়ে সমাজকে বিভ্রান্ত করে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের অপচেষ্টায়। প্রতিপক্ষকে 'বিলো দ্যা বেল্ট' আঘাত করাই তাদের শয়তানী পৈশাচিক বিকৃত মনোবৃত্তি। এখানে নিজেকে প্রচারের জন্য পরিচিত পত্রিকায় কিছু ফরমাইশি লিখে ছাপায় যাতে নিজেদেরকে লেখক মনে হয়। তাদের কাছে সাংবাদিকতার সূত্র হলো হলুদ রঙ। কমিউনিটির উপকারে কিছু করার চেয়ে তারা নিজেদের প্রচারেই ব্যস্ত থাকে। লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি পেজে যদি এই লেখা আগে পাবলিশ হতো তখন সেটা আর একুশ পোর্টালে হয়তো পাবলিশ হতোনা। একুশ পোর্টালের যে নিরপেক্ষতা ও জনপ্রিয়তা আছে তা দেখে তারা মনে করেছে একুশ পত্রিকা  নিজে এই নিউজ করেছে। যে কমিউনিটির জন্য লেখা - সেই কমিউনিটিতেই প্রচার নেই নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত কর্পোরেট মালিকানাধীন নতুন কিছু সাপ্তাহিকদের। আর লেখক যদি স্থানীয়দের নিয়ে লিখালিখি করতেন তাহলে এই ফীচার লস এঞ্জেলেসে আলোড়ন তুলতো। তাই অন্যের ফেইসবুক পোষ্টে যারা নিজেদের প্রয়োজনে লিখে, সেইসব খবর বা প্রতিবাদ পাবলিশ করার আগে লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্টের পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করার আগে যাচাই -বাছাই করা উচিৎ ছিলো যাতে কমিউনিটি বিভ্রান্ত না হয়। এখানে যারা লোকালী কিছু করার চেষ্টা করেন তাদেরকে ছোট করা হয়েছে। এইখানেই লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ভূমিকা থাকার দরকার যাতে কেউ কারো বিরূদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদ্গার করার সুযোগ না পায়।  এখানে কেউই প্রফেশনাল সাংবাদিক নন - তারা নিজেদেরভাবে কমিউনিটির নিউজ তুলে ধরেন বিভিন্ন মাধ্যমে। এই লেখকের ক্ষেত্রে তার ক্রিডেনশিয়াল নিয়ে প্রশ্ন উঠাতে লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব তাকে মেম্বারশীপ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলো। তারই সূত্র ধরে এই ধরনের হীনমন্যতা ও আক্রমন। ঠিকানায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে একুশের জানার কোন উপায়ই ছিলোনা যে এই প্রতিবেদন কে করেছে। একুশ স্থানীয় প্রতিবেদনের গুরত্ব দিয়ে তার রি-পোষ্ট করেছে। ঠিকানার প্রতিবেদনে কোন নাম উল্লেখ করা হয় নাই। যদি লেখক ঠিকানার প্রতিবেদনকে নিজের বলে দাবী করতেন তাহলে তিনি প্রথমেই ঠিকানাকে অনুরোধ করতে পারতেন তাদের পোর্টালে তার নাম সংযুক্ত করার জন্য। কারন ঠিকানা পত্রিকা প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পরে পত্রিকার ম্যাটেরিয়াল তাদের পোর্টালে আপডেট করে। আর এখানে একুশ-এর সাথে যোগাযোগ করলেই তার নামটা ফীচারে বসতে পারতো। এখানে কমিউনিটির লোকদের প্রচার কেউ চায় না - চায় শুধু নিজের। বিভেদ ও হেইট প্রচার করে অন্যের অবস্থানকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় - সেই পৈশাচিকতাই অনেক অসুখী আত্মার হ্যালোইন উইস। লস এঞ্জেলেসবাসী সেই সকল লেখকদের তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও অন্যকে ছোট করার মানসিকতাকে ধিক্কার জানায়। তাদেরকে সংবাদকর্মী ভাবতে ঘৃনা হয়। ফেসবুকে লেখা কমেন্টকে বিনীতভাবে মডিফাই করার অনুরোধ জানাচ্ছে একুশ। আর ইউ এস কপিরাইট আইনে কি লিখা আছে দেখুনঃ “No copyright is claimed in [content copied] and to the extent that material may appear to be infringed, I assert that such alleged infringement is permissible under fair use principles in U.S. copyright laws. If you believe material has been used in an unauthorized manner, please contact the poster.” 'একজন মমিনুল হক বাচ্চু' লিংকঃ http://ekush.info/?p=23312

মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ তুলে ধরছেন, লিঙ্ক এবং পেপার কাটিং শেয়ারের মাধ্যমে।

ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, ডাক, তার ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও নিয়মিত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্কার্স পার্টি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, রাশেদ খান মেনন নামেই ফেসবুক পেজ রয়েছে মেননের। ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবিতে নিজের ছবি এবং কাভার পেজে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে পরাস্ত করুন, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আরও এগিয়ে যেতে এবং ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ১৪ দলের প্রার্থীদের জয়ী করুন—বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি’ শীর্ষক স্লোগান। এই পেজে তিনি মন্ত্রণালয় ও দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও ছবি শেয়ার দেন। বর্তমানে তার পেজের ফলোয়ার রয়েছে আড়াই লাখ। জানা গেছে, মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন তার ছেলে আনীক রাশেদ খান। তবে বাবার অনুমতি ও নির্দেশনায় তিনি পেজটিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এ ক্ষেত্রে ছেলের ওপর শতভাগ কনফিডেন্ট রয়েছে রাশেদ খান মেননের। মেননের ফেসবুক পেজ-জুড়ে রয়েছে— মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও সংবাদ।এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক মন্তব্যের জবাবও দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় পেজটি আমার ছেলে পরিচালনা করছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।’ তার ছেলে আনীকই এই পেজটি খোলার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিক সচেতনতামূলক বিশেষ করে মাদকবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য ও সংবাদ পোস্ট করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে খোলা এই পেজটি মন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। একইভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিজের ফেসবুক পেজে নিজের এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ পোস্ট করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও নিজের সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও সংবাদ পোস্ট করেন। বঙ্গবন্ধু ও নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুক্ত ছবি রয়েছে তার কাভার পেজে। সম্প্রতি তিনি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময়সূচি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তারানা হালিমও ফেসবুক প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুকে এই তিন প্রতিমন্ত্রী খুব বেশি সক্রিয়। শাহরিয়ার আলম ও জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেরাই ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি বলে জানা গেছে।

স্ট্রোকের উপসর্গ বুঝতে ‘ফাস্ট’ শব্দটি মনে রাখুন

চার অক্ষরে স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন

চার অক্ষরে স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বয়স্ক নারী–পুরুষকে শয্যাশায়ী করে ফেলে। শুধু বয়স্ক নয়, কখনো কখনো অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ব্যক্তিরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং কর্মক্ষমতা হারান। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে বা কখনো রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে মস্তিষ্কের কোনো অংশের কোষে যে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, সেটাই স্ট্রোক। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির আধিক্য, ধূমপান ইত্যাদি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো স্ট্রোকের লক্ষণগুলো বুঝতে পারলে ও দ্রুত চিকিৎসা নিলে ক্ষতিকর দিকগুলো অনেকটাই এড়ানো যায়। স্ট্রোকের উপসর্গ বুঝতে ‘ফাস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি বর্ণমালার চার অক্ষরের ফাস্ট মানে হলো: এফ-(ফেস): মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া। এ (আর্ম): কোনো হাত ঝুলে পড়া বা হাত নাড়াতে না পারা বা হাতের শক্তি কম মনে হওয়া। এস (স্পিচ): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অপারগতা। টি (টাইম): ওপরের উপসর্গগুলো টের পেলে দেরি না করে সময়মতো চিকিৎসকের সাহায্য নিন। ফাস্ট–এর বাইরে আরও কিছু উপসর্গ স্ট্রোক বুঝতে সাহায্য করে। যেমন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথা হালকা বোধ হওয়া, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীন মনে হওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, ভুল কথা বলা বা চেতনা লুপ্ত হওয়া। কখনো বমিও হতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। স্ট্রোকের পর অনেকের খাবার গ্রহণে সমস্যা হয়, খাবার গিলতে গিয়ে গলায় আটকে যায় বা বিষম খান। খাবার বা পানি মুখের কাছ থেকে গড়িয়ে পড়তে পারে। স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে মধ্যবয়স থেকেই সচেতনতা দরকার। নিয়মিত নিজের রক্তচাপ মাপুন। রক্তচাপ বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন। রক্তের শর্করা ও চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান বর্জন করুন। বেশি করে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খান। ওজন ঠিক রাখুন। খাবার লবণ কমিয়ে দিন। স্ট্রোক আপনার কর্মমুখর জীবনকে হঠাৎ করেই স্থবির করে দিতে পারে। তাই এখনই সচেতন হোন। ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা

একজন মমিনুল হক বাচ্চু

বাচ্চু। পুরো নাম মমিনুল হক বাচ্চু। প্রায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত এক অতি পরিচিত প্রবাস বন্ধুর নাম মমিনুল হক বাচ্চু।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পথ পরিক্রমায় তিনি নিজেকে কমিউনিটির সকল স্তরের মানুষের কাছে সমভাবে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে পেরেছেন। খুব সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে জানেন তিনি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তার পৈত্রিক নিবাস। পিতার চাকরি সূত্রে লেখাপড়া করেন করাচীতে। ঢাকার মণিপুর পরবর্তীতে মগ বাজারে বড় হওয়া বাচ্চু দেশ ছাড়েন ১৯৭৭ সালে। প্রথমে জামার্নিতে কয়েক বছর থেকে ১৯৮২ সালে চলে যান নিউ ইয়র্কে। এক পর্যায়ে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে চলে আসেন লস এঞ্জেলেসে। শুরু করেন ট্রাভেল ব্যবসা। সময়ের পরিক্রমায় মমিনুল হক বাচ্চুর মধ্যে পরোপকারের যে অতুলনীয় গুনটি দেখা যায় তা কমিউনিটির সকলকে মুগ্ধ করে। এত নিরলস এবং নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করার মানসিকতার মানুষ সমাজে সচরাচর দেখা যায়না। আমাদের দেখা মতে কমিউনিটির কোন সমস্যায় কেউ খবর দিলে, হউক দিনের ৩টা বা রাতের ৩টা, কাল বিলম্ব না করে তিনি পৌঁছে যান সমস্যা পিড়িত মানুষটির পাশে। বিপদে আপনি তাঁকে পাশে পাবেন একথা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়। পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খী থেকে দূরে থাকা প্রবাস জীবনে যে জিনিসটি মানুষের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তা হলো বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া। সে কাজটি তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে করে থাকেন। কারো অসুস্থতার খবর শুনলে বা কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি সবার আগে ছুটে যান একেবারে ঘনিষ্ঠজনদের মত। কমিউনিটির কেউ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সাহস জোগান এই মানুষটি। সবচেয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত যে কাজটি তিনি করেন তা হলো মৃতদেহ দাফন প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। পুরা প্রক্রিয়টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে করে থাকেন। মৃত ব্যাক্তির পরিবারের কাছে এই সহযোগিতাটি সত্যিই অভাবনীয় যা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই অনুধাবন করতে পারেন। আরো গুরুত্বপুর্ণ যে কাজটি তিনি করেন তাহলো মৃতদেহ দেশে প্রেরণ। এই মানবিক কাজটির জন্য তিনি একক কৃতিত্বের অধিকারী। মৃতদেহ হিমাগরে রাখা, ফ্লাইট বুকিং দেয়া থেকে শুরু করে দেশে মৃত বক্তির স্বজনদের সাথে যোগাযোগ এ সবই তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে করে আসছেন। এই প্রবাস জীবনে আপনি চাইলে অন্যের কাছে সাহায্যের হাত না বাড়িয়েও অনেক কিছু করতে পারবেন, যেমন- টাকা পয়সার প্রয়োজনে ক্রেডিটকার্ডের সহযোগিতা নিতে পারেন, অসুস্থ হলে ৯১১ কল দিয়ে হাসপাতালে যেতে পারেন কিন্তু একজন মানুষের মৃত্যুর পর দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাজগুলো অন্যকেই করতে হয় যা এই মানুষটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কমিউনিটি তথা বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় যে কাজটি বাচ্চুর নেতৃত্বে হয়েছে তা হলো লস এঞ্জেলস সিটির বেশ কিছু অংশ নিয়ে তৈরী হওয়া ‘লিটল বাংলাদেশ’ যা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গত বছরের মার্চ মাসে লস এঞ্জেলেস সিটির লস ফিলেজের উপর একটি গ্যাস স্টেশনে কৃষ্ণাঙ্গের গুলিতে মিজান নামের একজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। তখন ভোর পাঁচটা। নিহত মিজানের সহকর্মী ঘটনা জানার পর হতবিহবল হয়ে প্রথমেই যার কথা মনে হয়েছিল তার নাম মমিনুল হক বাচ্চু। তাঁকে ফোন করার দশ মিনিটের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে হাজির হন। পুলিশের সাথে কথা বলা থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা এবং দেশে মৃতের বাবা-মার সাথে যোগাযোগ পরবর্তীতে মৃতদেহ দেশে প্রেরণ সবই তিনি নিজ উদ্যোগে করেছেন। তাঁর জীবনে এধরনের অসংখ্য ঘটনা আছে। কথা প্রসঙ্গে মমিনুল হক বাচ্চু বলছিলেন, প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ভাষা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে তাঁর উদ্যোগে এবং শংকু আইচ ও আবেদ – এর সহযোগিতায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত শ্যাটা রিক্রেয়েশন সেন্টারের পাদদেশে একটি শহিদ মিনার নির্মাণের লক্ষ্যে সিটি কাউন্সিলে আবেদন, বেশ কয়েকটি মিটিং করা সহ যাবতীয় কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নকশা নিয়ে জটিলতার কারনে তখন সিটি থেকে তা অনুমোদন পায়নি। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে ২০১১ সালে আবার আবেদন করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সিটি থেকে এটি নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যাবে। জনাব বাচ্চু বলেন, ধর্মীয় উৎসবগুলিতে স্কুল ছুটির বিষয়ে অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির সাথে একত্রিত হয়ে দুই ঈদে দুইদিন স্কুলগুলোতে ছুটি ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা অনেক দুর এগিয়ে গেছে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সিটি কাউন্সিল থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে। এছাড়াও তার উদ্যোগে ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি-র ড্রাইভিং ব্রসিউর বাংলায় অনুবাদের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলা ভাষাভাষীরা অচিরেই বাংলায় অনুদিত ড্রাইভিং ব্রসিউর দেখতে পাবেন। এছাড়াও তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়তই সিটি মেয়র ও অন্যান্য পদস্থ কর্তাব্যক্তিদের সাথে মত বিনিময় করে থাকেন। কমিউনিটির বিনোদনের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন- বৈশাখী মেলা, আনন্দ মেলা, চাঁদরাত উদ্যাপন, পিঠামেলা ইত্যাদি সকল আয়োজনেই তার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। বাচ্চু বলছিলেন ২০১৭ সলের জুন মাসের দিকের কথা, বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে বর্ডার পার হয়ে আসা ৭/৮ জন বাংলাদেশি যুবক যারা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ছাড়া পেয়ে বাচ্চুর খোঁজ করতে বাঙ্গালি অধ্যুষিত এলাকায় আসে। তাদেরকে ইমিগ্রেশন অফিসারই নাকি বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করতে বলে দিয়েছে। পরবর্তীতে বাচ্চু তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং নিজের আইডি দিয়ে মোটেলে রুম নিয়ে দেন। এছাড়াও নতুন কেউ এদেশে আসলে তাদের থাকা ও চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এমন সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৯৭ সালে কমিউনিটির প্রত্যক্ষ ভোটে বাচ্চু কমিউনিটির নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি প্রবাসি সকল বাংলাদেশির প্রতি আহবান জানিয়েছেন যে, সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা যেন সবাই মিলেমিশে থাকি, আমাদের কোনো কর্মকান্ডে দেশের যেন বদনাম না হয় সেদিকে যেন আমরা খেয়াল রাখি। বাচ্চু বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা আমাকে অনেক অনেক ভালোবাসে। আমিও তাদেরকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। তিনি বলেন, আমি ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নই। আমার ভুল ধরিয়ে দিলে খুশি হবো এবং সাথে সাথে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করবো এবং ক্ষমা চেয়ে নিব। বাচ্চু প্রবাসে বসবাসরত বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সফলতায় নিজের গর্বের কথা জানিয়েছেন। তারা বাবা-মা র পাশাপাশি দেশেরও মুখ উজ্জ্বল করছে। কৃতজ্ঞতা তাদের জন্য। বাচ্চুর সহধর্মিনী শারমিন লস এঞ্জেলেসে একটি স্কুলে ক্যাফেটরিয়াতে কাজ করেন। একমাত্র কন্যা ফরহানা হক ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারডেলে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একমাত্র পুত্র ওয়াকি হক দশম শ্রেণির ছাত্র। সন্তানেরাও মা-বাবার মতো বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছেন। স্বাধীনতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাচ্চু বলেন, স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, আমাদের গর্ব। তারাই আমার কাছে সবচেয়ে সম্মানীত মানুষ। তাদের প্রতি কোনো ধরনের অবহেলা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। বাচ্চু বলেন, সাধারণ মানুষ হিসাবে বাস করছি। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই যেন শেষ সময় পর্যন্ত থাকতে পারি এটিই আমার কাম্য। তার মতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পদ-পদবির দরকার হয় না। তবে এক্ষত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের সমর্থন। আমি আনন্দের সাথে বলতে পারি যে আমার কোনো কাজেই আমার পরিবারের কেউ বাধা দেয় না। এ জন্য যখনই করো কোনো প্রয়োজন হয় আমি ছুটে যেতে পারি রাত ৩টা বা ভোর ৫টা কোনো ব্যাপারই না। যারা সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কাজ করেন তারাই আমার প্রকৃত বন্ধু। এক্ষেত্রে সব সময় নিজেকে দল মতের উর্দ্ধে রাখি। মমিনুল হক বাচ্চু সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য সিটি অব লস এঞ্জেলেস থেকে লোটাস এওয়ার্ড, বাফলা এওয়ার্ড, বালা এওয়ার্ড, লস এঞ্জেলেস সিটি মেয়র এরিখ গার্সিটি থেকে এওয়ার্ডসহ অসংখ্য এওয়ার্ড পেয়েছেন। সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল এই অসাধারণ গুনের অধিকারি মানুষটির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা কারেন আন্তরিকভাবে কম্যুনিটির সকলেই।

লস এঞ্জেলেস থেকে এখন সারা বাংলা মাতাচ্ছেন আরজীন

আরজীনের গান 'ফিরে আয়'

সঙ্গীতশিল্পী আরজীন নিয়ে এলেন নতুন চমক। সুরকে হৃদয়ের মাঝে অনুভব করে গান লিখলেন, সুর করলেন, সঙ্গীত পরিচালনা করলেন - মুঠোফোনে চিত্রায়ন করে নিজে সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দিলেন ইউটিউব বিশ্বে। মিডিয়ার প্রচারে মূহুর্তের মাঝেই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়ে গেলো লস এঞ্জেলেস প্রবাসী সঙ্গীতশিল্পী আরজীন কামালের নতুন গান 'ফিরে আয় - Come back'

https://youtu.be/G4l3sxdccR0 ফুলব্রাইট স্কলারশিপে নর্দার্ন এ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটিতে কালচারাল ও ভিসুয়াল নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করা এই শিল্পী লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন অনেক দিন থেকেই। 'পিংক টারভান' নামে মিউজিক লেবেলে দেশী মিউজিকের ফিউশন সহ অনেক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন আরজীন। এর মাঝে সম্পূর্ণ সলো এই ক্রিয়েটিভ কাজ করে সবাইকে চমক লাগিয়ে দিলেন। "পিঙ্ক টারবান" আমেরিকার লস এঞ্জেলেস শহরের একটি রেকর্ড লেবেল যার সাথে আরজীন সম্প্রতি চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন। এখান থেকেই তার পরবর্তী গান "প্রেম দে" মুক্তি পাবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আরজীন কামাল সোশ্যাল মিডিয়াতে বলেন, "সবাই আমার গান শুনলেও কেন জানি বার বার মনে হয় জাহাঙ্গীরনগরের সবাই শুনছে তো আমার ” ফিরে আয় Come Back গানটা! কি সেই টান 🎶❤️🎵 জাবির কেউ মন্তব্য দিলে খুশি ডবল হয়ে যায়। হঠাৎ ঘুমোতে যাওয়ার আগে Smriti Roy Akter Jahan Sheuly Jitu Nahid Dipa Faisal Ahamed এর পর পর কমেন্ট এ মন খুশ হয়ে গেল।" তার কথায়ঃ "একটু পক্ষপাত করছি কেউ অন্যভাবে নিয়েন না। ৭ বছর ছিলাম সেখানে । আমার দ্বিতীয় জন্মের আঁতুড় ঘর হল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। নিজে গান লিখে যে সুর করে মানুষ কে শোনানো যায়, তা কিন্তু ওখানকার ভাইবোন দের দেখে শিখেছি। একটা ঘটনা বলি, জাহাঙ্গীর নগর থিয়েটার করি তখন, নকশী কাঁথার মাঠের স্ক্রিপ্ট রিডিং চলছে মহড়া কক্ষে। ব্রেক এ হঠাৎ Ashequl Islam Probal ভাই ডেকে গানের কথা ধরিয়ে বলল , "আরজীন দেখত ভাই কিছু করা যায় কিনা, আমার সুর আসছে না। “ আমি তো অবাক, মনে মনে ভাবলাম ভাই জানল কি করে আমি সুর করতে জানি। কারণ আমি তো কাউকে আমার সুর শোনাতাম না। জসীম উদ্দিনের লেখা পরপর চারটা গানে সুর করে ফেললাম। সেটাই ছিল আমার প্রথম সুরের কাজ যা মুক্ত মঞ্চে নাটকে গাওয়া হয়।" মুসাফির, অস্তিত্ব এবং অপারেশন অগ্নিপথ ছবির জন্যও গান লিখেছেন আরজীন। লস এঞ্জেলেসে গড়ে উঠা রেকর্ডিং লেবেল পিঙ্ক টারবান একি সাথে বিভিন্ন শিল্পীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্লাটফর্ম যেখানে তারা দলগত ভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আরজীন এখানে প্রধান ভোকাল হিশেবে গাইছেন যেখানে তিনি দেশি সঙ্গীতের সাথে পাশ্চাত্য মিউজিক এর সংমিশ্রণে ফিউশন করছেন। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা আরজীনের সংগীতের হাতেখড়ি মূলত পরিবার থেকে। পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতন এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে নজরুল সংগীতের ওপর তালিম নেন। বর্তমানে তিনি লস এঞ্জেলেস এ পণ্ডিত গিরীশ চট্টোপাধ্যায়ের নিকট হিন্দুস্তানি ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের ওপর তালিম নিচ্ছেন। আরজীন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে বসবাসকারী একজন বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী। সেখানে বিভিন্ন স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রধান সংগঠন বাফলা ( বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস) এর ১২তম "বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০১৮" তে আরজীন ও পিঙ্ক টারবান ক্রু সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আরজীনের এই গানটি Firey Aye । Come back টাইটেলে এখন itunes, Apple Music, google Play, spotify, Amazon সহ অন্যান্য অনলাইন ষ্টোর-এ পাওয়া যাচ্ছে।

আইয়ূব বাচ্চু, আপনি আসবেন ফিরে গানে গানে, রুপালি গিটার হাতে…

আইয়ূব বাচ্চু, আপনি আসবেন ফিরে গানে গানে, রুপালি গিটার হাতে...

লস এঞ্জেলেসে অনেক কনসার্টের এক কনসার্টে আট বছর আগেঃ

https://youtu.be/6N6TKCxjwNg https://youtu.be/9BE7UU98Fjg https://youtu.be/usjL2nREro8

আইয়ূব বাচ্চু, আপনি আসবেন ফিরে গানে গানে, রুপালি গিটার হাতে...

-হাসান মাহবুব (১) ১৯৯০ এর দিকে আমাদের ব্যান্ড এ্যালবামগুলোর একটা ফরমেট ছিলো। বেশিরভাগ থাকবে বিরহের গান, একটি সন্ত্রাস অথবা মাদকবিরোধী গান, একটি ফোক গান। সেই সময়ে আমাদের ব্যান্ডগুলির মূল শক্তি ছিলো মেলোডি। লিরিক? সে একরকম বসিয়ে দিলেই হবে আর কী! সেই সময় একজন নেপথ্যে থাকা মিউজিসিয়ান এক অদ্ভুত কাজ করে ফেললেন! তিনি ছিলেন সোলসের গিটারিস্ট। এল আর বি নামে একটি ব্যান্ড গড়ে একসাথে দুটি এ্যালবাম বের করে ফেললেন! বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল এ্যালবাম। তখন তার সাথে ছিলেন কি-বোর্ডে টুটুল, বেইজে স্বপন আর ড্রামসে জয়। ঐ এ্যালবামের গানগুলি বেশ অদ্ভুত। একেকটা গানে একেকরকম গল্প। ডাবল এ্যালবামের প্রথম পিঠের গানগুলি ছিল- ১। ঘুম ভাঙা শহর ২। প্রভু ৩। ঢাকার সন্ধ্যা ৪। শেষ চিঠি ৫। তুমি ছিলে দ্বিতীয় পিঠে ছিলো ১। মাধবী (নষ্ট নারী) ২। সবাই চলে যায় ৩। ধীরে ধীরে ৪। ফেরারী এই মনটা আমার ৫। কেন তুমি দ্বিতীয় এ্যালবামের গানগুলি ছিলো এ পিঠে ১। হকার ২। হ্যাপি ৩। আড্ডা ৪। তোমার চিঠি ৫। রিটায়ার্ড ফাদার ৬। পেনশন ও পিঠে ১। স্মৃতি নিয়ে ২। এমনটি হলে কেমন হয় ৩। শেষ রাতে ডাক্তার ৪। মা ৫। জীবনের মানে ৬। এক কাপ চা ২২টি গানের মধ্যে মাত্র ৫টি গান প্রেমের। বাকিগুলোকে গানও বলতে পারেন, গল্পও বলতে পারেন। প্রেমের গানের মধ্যেই আবার গল্প আছে। “তোমার চিঠি” https://youtu.be/l7i5gv3V010 গানটির কথা বলি। একজন প্রেমিক তার প্রেমিকার চিঠি পেয়েছে। আকস্মিক একটি চিঠি। এত তাড়াতাড়ি এ চিঠি আসার কথা ছিলো না। তার মধ্যে নানারকম অমঙ্গল আশঙ্কা কাজ করছে। সে খুলতে সাহস পাচ্ছে না। সে মোটামুটি নিশ্চিত, এটি একটি প্রত্যাখ্যানপত্র। পুরো সময়টা একটা সাইকোলজিকাল ক্রাইসিসের মধ্যে থাকে শ্রোতা। চিঠি খুললে কী হবে? সেই ৯২ সালে এমন অভিনব উপায়ে শ্রোতার সাথে সংযুক্ত থাকার উপায় বের করেছিলেন তিনি। এর পরে কজন এরকম করতে পেরেছেন? এই গানটির কথা কজন মনে রেখেছেন? সেই এ্যালবামে ছিলো একজন ভাগ্যাহত বৃদ্ধের গল্প, রিটায়ার করার পর যিনি প্রবল বিরুদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছেন, ছিলো বস্তিবাসী একটি মেয়ের জীবন সংগ্রামের গল্প, ছিলো একজন পতিতার গল্প, একজন হকারের গল্প, বখাটে ছেলেদের হতাশা আর বিনোদনের গল্প, ছিলো সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনাসঙ্গীত! আমি একজনকে চিনি, যিনি সেইসময় ‘প্রভু’ গানটি নামাজ শেষে মোনাজাত হিসেবে পড়তেন। “প্রভু আমাকে শক্তি দাও, শক্তি দাও, শক্তি দাও প্রভু আমাকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও, মুক্তি দাও, এই অতি পুরোনো জীবনধারাকে তুমি বদলে দাও...” (২) দ্বিতীয় এ্যালবাম ‘সুখ’। এই এ্যালবামেও ব্যান্ডের অপরিবর্তিত লাইনআপ। সালটা ১৯৯৩। ১৯৯২ সালের ডাবল এ্যালবামটা অতি মাত্রায় নিরীক্ষামূলক ছিলো, সময়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। আইয়ূব বাচ্চু এবং এলআরবিকে তখনও আন্ডারগ্রাউন্ডের মানুষ বলা যায়। সুখ এ্যালবামের মাধ্যমে তিনি ইতিহাস গড়লেন। “সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে...” এই একটি গান, এই একটি গান সম্পর্কে পাতার পর পাতা লেখা যায়। আমার এখনও মনে পড়ে ১৯৯৩ সালের বৃষ্টিস্নাত এক দুপুরের কথা। স্থান ক্যান্টপাবলিক স্কুল। টিফিনটাইমে আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু কবীরের সাথে গাইছিলাম গানটি। গাইতে গাইতে কেঁদে ফেলেছিলাম আবেগে। ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন। আমাদের শহর সৈয়দপুরে নতুন এ্যালবাম অনেক দেরিতে আসতো। গানটা প্রথম শুনি এক টিভি প্রোগ্রামে। ক্যাসেটে রেকর্ড করে রেখেছিলাম। প্রতিদিন কতবার শুনতাম তার হিসেব নেই। সেই সময়ে একটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছিলো। ডিভোর্স হয়ে যাওয়া দুই নর-নারী এই গানটি শুনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাদের মনে হয়, জীবনকে আরেকটি সুযোগ দেয়া যায়! তারা একে অপরকে বলেন “চলো বদলে যাই”। তারা আবার একসাথে থাকা শুরু করেন। গান দিয়ে দুইটি জীবন আক্ষরিক অর্থেই বদলে দেয়া, পৃথিবীতে এমন ঘটনা খুব বেশি আছে কি? সুখ এ্যালবাম আইয়ূব বাচ্চু একটি অদ্ভুত কাজ করেছিলেন। একেকটি গান গেয়েছিলেন একেকরকম কণ্ঠে। “ক্ষণিকের সুখ” গানটিতে হাই পিচে অতি তীক্ষ্ণ গলায়, “আমি যে কার” এ ভূপেন হাজারিকার মত করে, “কী আশাতে”, “ব্যাপারটা”, “মানুষ বনাম অমানুষ” একেকটা একেকরকম! সুখ গানটির দৈর্ঘ্য ছিলো ১২ মিনিট। অনিকেত প্রান্তরের আগ পর্যন্ত এটিই ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গান! (৩) ১৯৯৪ সালে বের করলেন ‘তবুও’। এই এ্যালবামেও তিনি এক অদ্ভুত কাজ করেন! তখন প্রতিটি এ্যালবামের এ পিঠ আর ও পিঠের গানের তালিকা যেভাবে দেয়া থাকতো, সে নিয়ম ভেঙে তিনি অন্যভাবে লেখেন গানগুলির নাম। পুরো একটি বাক্যে ছিলো সবগুলো গানের নাম। মনে করার চেষ্টা করে দেখি... “একজন জারজ সন্তানের বহুদুরে হারিয়ে যাওয়া মাকে বলিস, তার ক্ষণিকের সুখ নষ্ট করেছে আমাদের মূল্যবোধ। উনিশ কিংবা কুড়ির উর্মিলা চৌধুরিকে আমি চাই আবারো এলোমেলো একটি রাত জাগা পাখির জ্ঞানের আঁচলে। ও দুখিনী আমার বাংলাদেশ, এই নিখাঁদ কৃষ্ণ রাতের নগরে অনেকটা অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিপাতের মত তোমাকে চেয়েছি তবুও...” একটা মজার ধাঁধার মত! এখান থেকে গানের নামগুলি বের করতে পারবেন? আচ্ছা, আমি বলে দিচ্ছি। এ পিঠের গান- ১। একজন জারজ সন্তান ২। নষ্ট করেছে আমাদের ৩। আবার এলোমেলো ৪। বহুদূরে ৫। তোমাকে চেয়েছি ৬। আমি চাই ও পিঠের গান ১। মাকে বলিস ২। দুখিনী ৩। অন্ধ মেয়ে ৪। উনিশ কিংবা কুড়ি ৫। জ্ঞানের আঁচল ৬। রাত জাগা পাখি ৭। আমার বাংলাদেশ এই এ্যালবামে ড্রামসে জয় ছিলেন না, মাইলস থেকে আসেন মিল্টন আকবর। তিনিও এই কিছুদিন আগে চলে গেছেন বহুদূরে... তবুও এ্যালবামটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড এ্যালবাম। এই এ্যালবামের আমার বাংলাদেশ গানটি ছাড়া আর কোনোটিই তেমন প্রচার পায় নি। এলআরবির লিরিক এ্যাডভেঞ্চারের সবচেয়ে সাহসী প্রয়োগ ঘটেছিলো এই এ্যালবামে। “পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের ঝড় এলোমেলো হয় যখন রক্তমাখা উৎস খুঁজতে হয়রান একজন সচেতনতার এই সমাজে ভালোবাসার মূল্য দিতে নষ্ট বীর্য যার জঠরে জন্ম দিয়েছে কারো...” জ্বী, সেই ১৯৯৪ সালে তিনি আমাদের নষ্ট বীর্য আর নষ্ট কামনা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। বলেছিলেন, “বলি সেসব বাবা আর মাকে, ঠিকানা মেলে নি যাদের ক্ষণিকের সুখ আর নষ্টামীতে, সাবধানতা আনেন...” লিরিকটা সম্ভবত লতিফুল ইসলাম শিবলী অথবা যায়েদ আমিনের ছিলো। প্রতি এ্যালবামে টুটুল একটি করে গান গাইতেন। সাধারণত হালকা ধাঁচের রোমান্টিক বা বিরহের গান হতো সেগুলি। কিন্তু এবার গাইলেন থ্রাশ মেটাল গান “তোমাকে চেয়েছি” https://youtu.be/_rw9_QaWnj4 হ্যাঁ, ব্যাচেলর সিনেমার “কেউ প্রেম করে, কেউ প্রেমে পড়ে, আমার হয়েছে কোনটা, জানে না এই মনটা”র সুকণ্ঠী গায়ককে থ্রাশ মেটাল গাইয়েছিলেন তার গুরু, মজার না ব্যাপারটা? (৪) ১৯৯৪ সালে আমার বন্ধু দ্বীপ সৈয়দপুর থেকে পাবনায় চলে যায় বাবার বদলির কারণে। চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হতো। একটা দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলো সে পাবনায় এডওয়ার্ড কলেজে এলআরবির কনসার্ট নিয়ে। কী কী গান গাওয়া হয়েছিলো, কোন গানের কী প্রতিক্রিয়া ছিলো দর্শকদের, তার বিস্তারিত বিবরণ। সে আইয়ূব বাচ্চুকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ পেয়ে জীবনটাকে সার্থক মনে করেছিলো। আমি চিঠিটা বারবার পড়তাম। আমার জীবনের সবচেয়ে বেশিবার পড়া চিঠি। ১৯৯৪ এর শেষের দিকে সৈয়দপুর থেকে ঢাকায় যাই, আমার বড়আব্বুর বাসায়। এক মাস থাকি। সেখানে আমার কাজিনদের সাথে গান নিয়েই বেশি কথা হতো। সেই সময়ে আনন্দ বিচিত্রা অথবা তারকালোক পত্রিকায় সেইসময়কার রকস্টারদের বাসার টেলিফোন নাম্বার দিয়ে দেয়া হয়েছিলো। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই কাজটা তারা করেছিলো। সেখানে ছিলো আইয়ূব বাচ্চু, পিলু খান, মাকসুদুল হক, আশিকুজ্জামান টুলু, ফান্টি এমন আরো কজনের ফোন নাম্বার। আমি সাহস করে বেশ কয়েকবার ফোন করেছি। কথা হয়েছে সবার সাথেই। আইয়ূব বাচ্চুর সাথেও কথা হয়েছিলো। তিনি খুব রিজার্ভ ছিলেন, তবে বেশি কথা বলতেন না, তবে প্রশ্নের উত্তর দিতেন আন্তরিকতার সাথেই। ১৯৯৫ এবং ১৯৯৬ হলো আইয়ুব বাচ্চু এবং এলআরবির অভাবনীয় উত্থানের বছর! এই সময় এলআরবির দুইটি এ্যালবাম, ঘুমন্ত শহরে, এবং স্বপ্ন বের হয়। আইয়ূব বাচ্চু তার একক এ্যালবাম কষ্ট দিয়ে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, ফিলিংসের সাথে দুটি ডাবল এ্যালবাম ক্যাপসুল ৫০০ এমজি, আর স্ক্রু ড্রাইভার্স নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের সবচেয়ে সুখী সময়! আইয়ূব বাচ্চু অবিশ্বাস্য গতিতে অসাধারণ সব কাজ করে যাচ্ছিলেন। প্রতিবছর একটি করে এ্যালবাম বের হতো এল আর বির। সেই সময় অন্যান্য জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলি দুই থেকে চার বছর সময় নিতো এ্যালবাম আনার। ৯৫-৯৬ থেকেই সবাই প্রতিবছর একটি করে এ্যালবাম বের করতে মনোযোগী হন। এই আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে আমি আইয়ূব বাচ্চুর এলআরবিকেই রাখতে চাই। ৯৬ এ আমি যখন ঢাকায় আসি, ক্লাস নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল খুবই বাজে হয়েছিলো। তখন আমার মধ্যে যেসব আশঙ্কা কাজ করেছিলো তার মধ্য একটি হলো, এত বাজে রেজাল্ট করলে তো আমাকে ক্যাসেট কেনার টাকাই দেয়া হবে না আর! প্রতিবছর এল আরবির নতুন এ্যালবাম বের হয়। আমি কীভাবে শুনবো তাহলে? ১৯৯৮ সালে এলআরবির শেষ ডাবল এ্যালবাম আমাদের! বিস্ময়! বের হয়। এলআরবির এ্যালবাম, তাও আবার একসাথে দুটো! দমবন্ধ আনন্দের অনুভূতি! ১৯৯৮ সালে আমি আমার জীবনের প্রথম লিরিক লেখি। সেটাও ছিলো আইয়ূব বাচ্চু এবং তার এলআরবিকে নিয়ে। তার কিছু গানের শিরোনাম নিয়ে ট্রিবিউট। লিরিকটির নাম ছিলো “অবাক শ্রোতা”। দেখুন তো কয়টি গান খুঁজে পান? “তোমার গান তোমার কথা তোমার সুরের আলোকছটা মানায় আমার কল্পনাকে হার এই শহরের ঘুম ভেঙ্গে যায় অন্ধ মেয়ে চোখ তুলে চায় তার চোখে তুমি স্বপ্নের রূপকার উনিশ কিংবা কুড়ির সেই উর্মিলা চৌধুরী অথবা জয়ন্ত নামের পরাজিত একজন নষ্ট নারীর বুকের কষ্ট আজ অগ্নিগিরি রিটায়ার্ড ফাদারের নীরব অশ্রূ সংবরণ... আমরা তো আজ জানি না কেই কে ছিলো সেই হকার কোথায় আছেন বীর সেনানী মেঘনাদ মজুমদার রঙচঙ মেখে রূপসী সাজে, কোথায় আছে ছন্দা? চাঁদমামা তো আগের মতই, নেই তার ভালোমন্দা জীবন নিয়ে এমন অনেক, অনেক রকম কথা শুনিয়ে দিয়ে যাও আমাদের, আমরা অবাক শ্রোতা” (৫) এলআরবি এবং আইয়ূব বাচ্চুকে নিয়ে সুখস্মৃতির এখানেই সমাপ্তি টানি? ১৯৯৮ পরবর্তী সময়ে অসংখ্য মিক্সড এ্যালবাম, সিনেমার গান, এই গান, সেই গান, এনার্জি ড্রিংকের এ্যাড, ইত্যাদি করতে করতে ধীরে ধীরে আইয়ূব বাচ্চু নতুন অডিয়েন্স তৈরি করতে থাকেন, এবং হারাতে থাকেন। এর পরে তাকে আর কখনই আমার আন্ডারগ্রাউন্ডের ডাকসাইটে মাফিয়া মনে হয় নি। এর পরেও তিনি অনেক হিট গান উপহার দিয়েছেন, আবার বেসুরো গলায় উদ্ভট লিরিকের গানও গেয়েছেন। তাকে নিয়ে ট্রোল হয়েছে, তার বিরুদ্ধপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। অদ্ভুত তাদের মানসিকতা, তাদের প্রিয় শিল্পীর সাথে আইয়ূব বাচ্চুর বিরোধ বলে আইয়ুব বাচ্চুর ভালো সব কাজই তারা অস্বীকার করা শুরু করলো, তাকে নিয়ে রঙ্গ রসিকতা শুরু করলো,ফাকিং লুজারস! আইউব বাচ্চু অবশ্য সেসব কখনও পাত্তা দেন নি, দেয়ার কারণও নেই। তার নিশ্চয়ই খুব হাসি পেতো এসব দেখে! আইয়ূব বাচ্চুকে আমি সামনাসামনি একবারই দেখেছি। ২০০২ -০৩ সালে। কুয়েটে, কনসার্টে। তিনি আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, "আপনাদের মত অডিয়েন্স আমি খুব কম পেয়েছি। আপনাদের জন্যে আমি একটি গান করবো, যা কনসার্টে গাই না। গানটি আমার খুব প্রিয়"। তিনি গেয়েছিলেন- "আমার একটা নির্ঘুম রাত, তোমার হাতে তুলে দিলেই বুঝতে তুমি, কষ্ট কাকে বলে!"। আইয়ূব বাচ্চু, আপনাকে কখনই সোশাল মিডিয়ায় সরব দেখি নি। আপনি এখনও আমার কাছে সেই ফিতার ক্যাসেটের মহানায়ক। কালো পোষাকের রেকলেস গ্যাংস্টার, অথবা দরদী কন্ঠের ফেরারী প্রেমিক। আপনার গান শুনতে শুনতে সাবালক হয়ে উঠেছি, ক্যাসেটগুলো এখন আর নেই, আমি এখন সোশাল মিডিয়া এ্যাডিক্টেড, ক্যারিয়ার র‍্যাটরেসে সচকিত, মিডলাইফ ক্রাইসিস ধাওয়া করে পেছন পেছন, আর তাই আপনার কাছেই ফিরে আসতে হয় ইউটিউবের প্লেলিস্টে, সাউন্ডক্লাউডের ইলেক্ট্রোমেঘে। আপনি নেই, আপনি আর আসবেন না কখনও এই তথাকথিত সত্য আমি অস্বীকার করি। কারণ আপনিই গেয়েছিলেন- আমি গানে গানে আসবো ফিরে কানে কানে দোলাব হৃদয় তোমার সময় অসময়ে ক্ষণেক্ষণে প্রতিক্ষণে বেলা অবেলার আলিঙ্গনে আমি থাকবো তোমার ঠিক সবখানে...

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.