Home সামাজিক মাধ্যম

সামাজিক মাধ্যম

বাংলাদেশিদের ফার্মেসি ব্যবসার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

রিফিল’ নিয়ে কারসাজি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিসহ নানা অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:

শাহাব উদ্দিন সাগর: নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ফার্মেসি ব্যবসার যত ব্যাপ্তি ঘটছে তত তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছে। অনেক ফার্মেসির প্রাপ্য লাখ লাখ ডলার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আটকে দিয়েছে। এ সব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, রোগিদের নামে বরাদ্দ ওষুধের ‘রিফিল’ তুলে নেয়া ও মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়া ওষুধ কমদামে এনে তা বিক্রি করা। আবার কোন কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ফার্মেসির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত করে সেগুলোকে সিলগালা করে দিয়েছে বলেও জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সময় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো এসব ফার্মেসির এ ধরনের কর্মকান্ডকে ‘প্রকাশ্য ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফার্মেসির এই অনিয়মে রীতিমত বিস্মিত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ফার্মেসিগুলোর অর্থ ইন্স্যুরেন্স আটকে দেয়া এবং অনেক ফার্মেসি সিলগালা করে দেয়ার পর তারা আবার নতুন জায়গায় নতুন নামে ফার্মেসি খুলে বসছেন। এদেশের মানুষের ওষুধের ব্যবস্থা করে থাকে ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো। মেডিকেড বা মেডিকেয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা রোগির নামে প্রেসক্রিপশন সরাসরি পাঠিয়ে দেন ফার্মেসিতে। এসময় সাধারণত সেই ওষুধের দুই বা তিনটি ‘রিফিল’ তারা দিয়ে থাকেন। ডাক্তারের কাছে বার বার না এসে রোগি যাতে সহজইে ফার্মেসী থেকে সরাসরি ওষুধ তুলে নিতে পারেন তার জন্য কোন কোন ডাক্তার একই ওষুধের আরো বেশি ‘রিফিল’ দিয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক রোগীই এসব ‘রিফিল’-এর ওষুধ ফার্মেসিগুলো থেকে তোলেন না। হয়ত তাদের রোগের উপশম হয়ে গেলে এই ওষুধের আর প্রয়োজন পড়ে না। আবার ডাক্তাররাও অনেক সময় ওষুধ বদল করে অন্য ওষুধ দেন। ফলে আগের ওষুধগুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং রিফিলগুলিও অব্যবহৃত থেকে যায়। কিন্তু রোগিরা রিফিলগুলো ব্যবহার না করলেও অধিকাংশ ফার্মেসি তাদের নামের এই ‘রিফিল’-এর ওষুধ সুকৌশলে তুলে নিয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর কাছে অর্থ দাবী করে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাংলাদেশি মালিকানাধীন অধিকাংশ ফার্মেসি হরহামেশাই এ ধরনের কাজ করছে। এমনকি যে রোগি মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন তাদের নামেও ‘রিফিল’ নেয়া হয়। যা গর্হিত অপরাধ। আর এটি আমাদের তদন্তে ধরা পড়ার পর আমরা হাজার হাজার ডলার জরিমানা করি। তিনি বলেন, তদন্তকালে রিফিল-এর ওষুধ নেয়ার সময় ফার্মেসিগুলোর রশিদে করা রোগির সাক্ষরেও মিল পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে ফার্মেসিগুলোর যুক্তি হচ্ছে রোগিরা নিজেরা নন, তাদের স্বজনরা এই ওষুধ নিয়ে গেছেন। চলতি বছরের শুরুতে জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকার কয়েকটি ফার্মেসিতে এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রায় সব ফার্মেসিতে সংশ্লিষ্টরা অভিযান পরিচালনা করেন। ‘রিফিল’ তুলে নেয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসে। তারা কয়েকটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও পান যা প্রায় অবিশ্বাস্য। অভিযান পরিচালনাকারী দলের এক সদস্য সাপ্তাহিক আজকালকে জানান, এমনও কিছু ফার্মেসি পাওয়া গেছে যারা মেয়াদ প্রায় উত্তীর্ণ হয়ে আসা ওষুধ কম দামে এনে তা রোগিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সম্প্রতি সিল-গালা করে দেয়া জ্যামাইকা ও জ্যাকসন হাইটসের দুটি বাংলাদেশি ফার্মেসীর নাম উল্লেখ করে তারা জানান এদের বড় অংকের অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের বাংলাদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি ফার্মেসির বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এসব এলাকায় কোন কোন ফার্মেসি সিলগালা করা না হলেও তাদের একাউন্ট স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের অর্থ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। জ্যামাইকার অধিবাসী আশিকুর রহমান বলেন, আমি গত বছর তিন মাসের ছুটিতে দেশে গিয়েছিলাম। জ্যামাইকার একটি ফার্মেসিতে আমার ওষুধের রিফিল ছিল। কিন্তু আমি এসে দেখি আমার সব রিফিল শেষ। পরে বিষয়টি ফার্মেসির মালিককে জানালে তিনি আমার কাছে ভুল স্বীকার করেন এবং বলেন ‘এটি কম্পিউটারের ত্রুটি’। পরে অবশ্য আমাকে রিফিলগুলোর ওষুধ দেয়া হয়। জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ডাক্তার প্রায় সময় আমার নামে রিফিল পাঠান। আমি অনেক সময় তা নিই না। কিন্তু মেট্রোপ্লাস থেকে পাঠানো বিলে দেখতে পাই আমার সব ওষুধ তুলে নেয়া হয়েছে। এ এক ধরনের ডাকাতি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লস এঞ্জেলেসের অদূরে সান্তা ক্লারিতা ভ্যালীতেও এই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।   

http://www.hometownstation.com/santa-clarita-news/politics/santa-clarita-elections/update-santa-clarita-city-council-candidate-faces-complaint-over-pharmacy-40961 Google Search link with 'Moazzem chowdhury pharmacy fraud' https://www.google.com/search?q=moazzem+chowdhury+pharmacy+fraud&oq=Moazzem+&aqs=chrome.1.69i57j35i39j0l2.4986j0j4&client=ms-android-huawei&sourceid=chrome-mobile&ie=UTF-8  

দুদকের গণশুনানি উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম: তাকসিম নামা!

দুদকের গণশুনানি

উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম

এক ফোঁটা পানিও থাকে না ট্যাপে; কখন আসে, কখন যায়, তাও টের পাওয়া যায় না। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাত জেগে বসে থাকেন তারা। অনেক প্রতীক্ষার পর যদিও বা সেই পানির দেখা মেলে, তার নোংরা দুর্গন্ধে ইচ্ছে করে দৌড়ে পালাতে। ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা, উদাসীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে পানি সরবরাহে এ নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। রাজধানীর মিরপুরে ওয়াসার মডস জোন-৪ ও জোন-১০ এলাকার ভুক্তভোগী নাগরিকরা এভাবেই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন গতকাল বুধবার। ঢাকার মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ওই দুটি জোনে ওয়াসার কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এসব কথা বলেন তারা। ভুক্তভোগীরা জোন দুটির দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনেই তাদের 'অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি' নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান এবং ডিএমডি (অর্থ) উত্তম কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন। গণশুনানি প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াসার কার্যক্রম একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই সাধারণ জনগণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর এ জন্যই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মডস-৪ ও ১০ এলাকার স্থানীয় নাগরিকরাও গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গণশুনানির মঞ্চে উপস্থিত মডস জোন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. মজিদ ও কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এবং জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হাবিব চৌধুরী ও কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন অনেক অভিযোগই এড়িয়ে যান। তবে কোনো কোনো অভিযোগ সমাধানের পাশাপাশি ঘুষ চাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা। দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ ভুক্তভোগী নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতারণা বা সেবার নামে ওয়াসার কোনো কর্মকর্তা ঘুষ চাইলে তারা যেন গোপনে দুদকের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফাঁদ পেতে ওইসব অসৎ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে তা সরবরাহ করতেও বলেন তিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা কোনোভাবেই যেন সেবাগ্রহীতা জনগণের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করেন। আগামী ২ মে বিআইবিএম মিলনায়তনে গতকালের গণশুনানির ফলোআপ গণশুনানি করা হবে বলে তিনি জানান। ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বিলে যাতে মানুষের হাত দিতে না হয় সেই পদ্ধতিও চালু করা হবে। এর ফলে কোনো গ্রাহককে অফিসে যেতে হবে না, বিল অনলাইনেই পরিশোধ করা যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে ওয়াসার হটলাইনে ফোন করে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে গণশুনানিতে একাধিক অভিযোগকারীই জানান, হটলাইনে ফোন করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তাকসিন এ খান আরও বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া (ডিএমএ) পদ্ধতিতে পানি সরবরাহসহ নানা ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মিরপুরের বাউনিয়া থেকে আসা মো. মোশাররফ বলেন, ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক তাকে বলেছেন, ঘুষ দিলে বিলের টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ওয়াসা কর্মকর্তা বলেন, বিল কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগকারীকে অফিসে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে রাজস্ব পরিদর্শকের সামনে এ নিয়ে কথা হবে। বড়বাগের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি খুব কমই পান তারা। যাওবা পান তা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। বড়বাগের পপুলার হাউজিংয়ের মারুফ মিল্লাত বলেন, কখনও রাত ২টার পর, আবার কখনও রাত ৩টার পর খানিকটা পানি পাওয়া যায়, যা দিয়ে জীবন চলে না। বড়বাগের অন্য একটি স্থানের নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় পানি নেই। স্থানটিকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্য এক অভিযোগকারী গণশুনানি কক্ষের সামনে থেকে এসে বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণেই ওই এলাকায় পানি নেই। যাদের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর 'খাতিরের লোক' বলে জানান তিনি। মিরপুর-১০ থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, দিনের বেলায় পানি থাকে না। পানি পাওয়া যায় রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। বড়বাগের আবদুল মতিন বলেন, মিটারের ত্রুটির কারণে বিল ১৬ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করত। অথচ মিটার পরিবর্তনের পর বিল আসছে সাত হাজার টাকা। হান্নান আকন্দ বলেন, নিম্নমানের মিটার দেওয়া হয়- অল্প সময়ের মধ্যেই এসব নষ্ট হয়ে যায়। শাহআলী এলাকার ঝিটন মিয়া বলেন, কর্মকর্তারা বলেন, সকালে পানি পাবেন, বিকেলে পানি পাবেন। আসলে পানি পাওয়া যায় না। বড়বাগের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাম্পের চাবি খুলে অন্য এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়, তারা পানি পান না। একটু পানির জন্য কত যে হাহাকার- তা বলে শেষ করা যাবে না।   গণশুনানিতে উত্তর ইব্রাহিমপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ থাকলে পানি পাই, চাপ না থাকলে পাই না। তৌহিদুর রহমান বলেন, মিটার রিডার রিডিং না করেই তাদের বিল দেন। তাতে বিলের পরিমাণ বেশি উল্লেখ করা হয়। বারোটিকার রহিমা নাসির বলেন, সারাদিন, সারারাতে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক পানি পাওয়া যায়। ফাতেমা আক্তার বলেন, পানি কখন আসে, কখন যায়- তারা জানেন না। তারা খাবার পানি পান না; অথচ পাশেই নির্মাণ কাজে প্রচুর পানি দিয়ে ইট ভেজানোসহ অন্যান্য কাজ করা হয়।

আইন ভেঙে পঞ্চমবারের মতো ওয়াসার এমডি হচ্ছেন তাকসিম

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
ঢাকা ওয়াসায় পঞ্চমবারের মতো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করা হচ্ছে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে। এ নিয়োগ পেলে প্রকৌশলী তাকসিম ১২ বছর পূর্ণ করবেন। তাকসিম এ খানকে স্বপদে বহাল রাখতে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াসা বোর্ডকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওয়াসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে থাকে। এবারই প্রথম বোর্ডের সেই ক্ষমতা খর্ব করে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নতুন করে নিয়োগের সুপারিশসহ প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর তাকসিম এ খান নিয়োগ পেয়ে পর পর চারবার নিয়োগ পান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকসিম এ খানকে নতুন করে নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের (পাস-২ শাখা) উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(১), (২) ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক আগামী ১৩ অক্টোবর তাঁর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হবে। এমতাবস্থায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব বোর্ডের সুপারিশসহ প্রেরণের জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা আইন মেনে এমডি নিয়োগ দিতে ওয়াসা বোর্ডকে পত্র দিয়েছি। সেখানে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করি না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আর একই আইনের ১০(গ) ধারায় বলা আছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের নিয়োগ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বোর্ড। মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে গতকাল শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে বোর্ডসভা হয়। বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রকৌশলী তাকসিমকে পুনরায় নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বোর্ডসভায় উপস্থিত একজন সদস্য গতকাল রাতে কালের কণ্ঠর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড মূলত এমডি নিয়োগের সব বিষয় চূড়ান্ত করে। সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, নানা যোগ্যতা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর মেধা তালিকা করে চূড়ান্ত নিয়োগের একটি সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করে। এখন মন্ত্রণালয় যদি এমডির নাম লিখে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার চিঠি দেয় সেখানে তো বোর্ড থেকে আর লাভ নেই। আরেকজন বোর্ড সদস্য গতকাল বলেন, আজকের (গতকাল) বোর্ডসভায় মূল এজেন্ডা ছিল এমডি নিয়োগ। সেখানে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। নিজের নিয়োগের ব্যাপারে উপস্থিত হয়ে নিজেই তা চূড়ান্ত করেন। একজন প্রার্থীকে বোর্ডে বসিয়ে কিভাবে নিরপেক্ষ কথা আর আইনের কথা বলি? এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়ে আমাদের সুপারিশ দিতে বলেছে। এখন আর কী। এটি আইনসম্মতভাবে হচ্ছে কি নাএ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করে চতুর্থ মেয়াদে এমডি হয়েছিলেন তাকসিম এ খান। সে সময় বোর্ডকে পাস কাটিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলতি দায়িত্বে ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান) সঙ্গে নিয়ে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন তিনি। সেখানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ জায়েজ করা হয়। সেখানে এমডি পদে প্রার্থীর বসয়সীমা আইন অনুযায়ী ৫৯ বছরের স্থলে ৬০ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ তাকসিম এ খানের বয়স সেই সময় ৫৯ অতিক্রম করেছিল। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে তৃতীয়বারের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় ওয়াসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ডসভায় চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হন তাকসিম। ২১০তম বোর্ডসভা চলমান থাকলেও প্রায় এক বছরের আগের ১৯৮তম বোর্ডসভার নিষ্পন্ন হওয়া তামাদি সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমডি পদে বহাল হয়েছিলেন; যা ছিল ওয়াসার আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে রেকর্ড করেছেন তাকসিম এ খান। পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয়ের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়োগ পেলে তাকসিম এ খান ওয়াসায় প্রায় ১২ বছর পূর্ণ করবেন। অথচ তাকসিম এ খানকে প্রথম মেয়াদে নিয়োগের সময়ই অনিয়ম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরবর্তী নিয়োগে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা সাহানা বারী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে পরীক্ষা ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আপনি কি কৃপণ?

কৃপনতা

মোঃ রফিকুল ইসলাম কৃপণতা হল প্রয়োজনের তুলনায় সর্বনিম্ন পরিমান সম্পদ খরচ করে তা জমিয়ে রাখার স্বভাব। আর যে ব্যক্তি এ কর্মটি সম্পাদন করে সে হলো কৃপণ। আদর্শ কৃপণেরা সাধারণত বাড়িতেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা লুকিয়ে রাখে। ব্যাংককে তারা তেমন বিশ্বাস করে না। কারন কখন আবার কোন ব্যাংক লাল বাত্তি জ্বালিয়ে তার কষ্টের টাকা মেরে দেয়। তবে বর্তমানে অবস্থার বোধহয় উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের কৃপণেরা ব্যাংকেও টাকা জমায়। কৃপণরা তার বা তার পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণে অনীহ থাকে। তার সর্বদা চিন্তা থাকে কিভাবে খরচ কমিয়ে পয়সা বাঁচিয়ে তা জমিয়ে রাখা যায়। অর্থাৎ মিতব্যয়িতার সর্বোৎকৃষ্ট অবস্থার শেষসীমা থেকে কৃপণতার শুরু হয়। কৃপণ সর্বদা সকল উপকরণের চরম উপযোগিতা আদায় করে ছাড়ে। তা হোক সে পোষাক কিংবা অন্যকোন বস্তু বা বিষয়ের। কোন যুক্তিসংগত কারনে হলেও তারা কাজে ফাঁকি দেওয়া বা অনুপস্থিত থাকা একদম পছন্দ করে না। আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরন দিচ্ছি তখন নিশ্চয় বিশ্বাস হবে। এক কৃপণ ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যু শয্যায় শায়িত। যেকোন সময় প্রাণবায়ু বের হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায়ও তিনি খুবই ক্ষীন কন্ঠ স্ত্রীকে ডাকলেন," প্রিয়তমা তুমি আছো?" স্ত্রী উত্তর দিল," আমি আছি তোমার পাশে।" "আমার প্রিয় মা মনি আছে?" মেয়ে জবাব দিল, " হ্যাঁ বাবা। আমি আছি ।" একইভাবে তিনি বড় ছেলে ও ছোট ছেলের খবর নিলেন তারা কাছাকাছি আছে কিনা। ছেলেরাও জানালো তারা বাবার পাশেই আছে। সবাই উদগ্রীব হয়ত তিনি শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা বা নির্দেশ দিবেন। শুনে কৃপণ লোকটি তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে প্রায় ধমকে উঠলেন, " হচ্ছে কি এসব। সবাই যদি এখানে তাহলে দোকানে আছে কে? " বুঝুন ঠেলা। যদিও কৃপণতা দেশ, কাল, পাত্র, গোত্র, বর্ণের উপর নির্ভর করে না তবুও কিছু কিছু জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলের মানুষের গায়ে নানা কারনে কৃপণতার তকমা এঁটে গেছে। যেমন জাতিগতভাবে ইহুদিদেরকে সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে ভাবা হয়। আবার আঞ্চলিকভাবে স্কটিশদেরকেও কৃপণ জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়। আর আমাদের ধারে কাছের প্রতিবেশী দেশের দাদাবাবুরাও কালক্রমে এ অভিধায় ভূষিত হয়েছেন। এসব লোকজনদের কৃপণতা নিয়ে রয়েছে নানা মজার মজার গল্প কথা। এবারে এদের নিয়েই কিছু কথা বলা যাক। আমাদের প্রতিবেশী দাদাদের কৃপণতা নিয়ে আমাদের এ অঞ্চলে এত চর্চা হয়েছে যে তা প্রায় প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। যেজন্য বলা হয় দাদাদের বাসায় কেউ বেড়াতে গেলে নাকি জিজ্ঞেস করা হয় খেয়ে এসেছেন নাকি গিয়ে খাবেন। কিংবা খাবার জন্য আমন্ত্রণ আপ্যায়ণ না করেই বলা হয় এবার তো খেলেন না পরের বার কিন্তু না খেয়ে যেতে পারবেন না। বরং এদের একটা গল্পই বলি। এক লোক তার দিদির বাসায় গেছে। দরজায় নক করলো। প্রথমবার কেউ দরজা খুললো না। আবারও নক...কোন সাড়া শব্দ নেই। তারপরও সে আবার নক করলো। কিন্তু এবারেও দরজা খোলার কোন নাম নেই। শেষমেষ সে না পেরে বললো, " দিদি আমি খেয়ে এয়েচি তো।" দিদি দরজা খুলে বললো, "ওরে, দুষ্টু আগে বলবিনে।" কিছু কিছু গল্প আছে তা হয়তো অতিশোয়ক্তি কিন্তু তা কালক্রমে হয়ে গেছে কৃপণতার ধ্রুপদী উদাহরণ। যেমন অফিস থেকে ফিরে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন, "হ্যাগো বল্টুর মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না?" কিছুক্ষণ পর বৌদি রাগে গজগজ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন, " মাগো কি কিপটের কিপটে? একটুখানি টাইগারবাম, তাও দিলে না?" এ কথা শুনে দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "কি আর করবে বল্টুর মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগারবামটাই বের করে আনো।" এসব কাহিনীর সত্যতা থাক না থাক জনপ্রিয়তা কিন্তু আছে। স্কটিশদের নিয়ে আছে নানা কিপটেমি বা পয়সার বাঁচানো কিংবা পয়সার প্রতি দূর্দমনীয় লোভের নানা গল্প। যেমন কোন দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন স্কটিশ কখন প্রথম হবে জানেন? যদি দৌড়ের শেষ রেখায় কয়েক পেনি খুচরো পয়সা ফেলে রাখা হয়। এবারে স্কটিশ নিয়ে একটা গল্প বলি। তিন আইরিশ ও তিন স্কটিশ একসাথে এক কনফারেন্সে ট্রেনযোগে যাচ্ছিলো। স্টেশনে এসে তিন আইরিশ তিনটি টিকিট কাটলো। কিন্তু তিন স্কটিশ মিলে কিনলো একটি টিকিট। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো এক টিকিটে তোমরা সবাই কিভাবে যাবে। স্কটিশদের একজন বললো, তোমরা দেখতে পাবে। যথারীতি ট্রেনে উঠে তিন আইরিশ নিজ নিজ সীটে গিয়ে বসলো। আর তিন স্কটিশ টেসে ঠুসে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর টিটিই এসে বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে টিকিট চাইলো। বাথরুমের দরজা সামান্য ফাঁক করে টিকিট সমেত একটি হাত বের হয়ে এসে টিকিট এগিয়ে দিল। টিটিই টিকিট নিয়ে চলে গেল। আইরিশরা দেখলো টাকা বাঁচানোর চালাকিটা মন্দ নয়।তারা এটাকে বেশ পছন্দ করলো। তাই ফেরার পথে তারা তিনজনে একটা টিকিট কিনলো। কিন্তু অতীব আশ্চর্যের সাথে তারা লক্ষ্য করলো স্কটিশরা কোন টিকিটই কিনলো না। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো, " তোমরা বিনা টিকিটে কিভাবে ভ্রমণ করবে?" এক স্কটিশ উত্তর দিল, " খেয়াল রেখ, তোমরা দেখতে পাবে।" যখন তারা ট্রেনে উঠলো তখন তিন আইরিশ গাদাগাদি করে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। স্কটিশ তিনজনও কাছাকাছি একটা বাথরুমে ঢুকে পড়লো। ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পরপরই স্কটিশ একজন বাথরুম থেকে বের হয়ে আইরিশদের লুকিয়ে থাকা বাথরুমে দরজায় টোকা দিয়ে বললো, "টিকিট প্লিজ।" বাথরুম থেকে টিকিট সমেত একটা হাত বের হয়ে আসলো। পরে কি হয়েছিল তার গল্প নিশ্চয় আর আপনাদের বলতে হবে না। এবারে ইহুদীদের কিপটেমির একটা উদাহারন দেওয়া যাক। স্থানীয় পত্রিকার শোকবার্তা বিভাগে টেলিফোন করে কৃপন ইহুদি জেফ জানতে চাইলো, "একটা শোকবার্তা প্রকাশ করতে কত টাকা লাগবে?" জবাবে সেখানকার কেরানী বিনীতভাবে জানালো, "প্রতিশব্দ পঞ্চাশ সেন্ট করে।" "ঠিক আছে, তাহলে লিখুন।" কয়েক মুহূর্ত ভেবে সে বললো, "ব্যারি মৃত।" শুনে কেরানী জিজ্ঞেস করলো, "এই! শেষ! "হ্যাঁ এই শেষ।" জেফের জবাব। হতভম্ব কেরানী জানালো, দুঃখিত, আপনাকে আমার জানানো হয়নি যে শোকবার্তায় কমপক্ষে পাঁচটি শব্দ থাকতে হবে। শুনে সে বললো, "আপনার জানানো উচিত ছিল। ঠিক আছে আমাকে এক মিনিট ভাবতে দিন.....আচ্ছা তাহলে লিখুনঃ মৃত ব্যারি । বিক্রি হবে মারুতি।" এবারে এক চ্যাম্পিয়ান কৃপণের গল্প আপনাদের শোনাতে চাই। আমার বিশ্বাস কৃপণতার উপর নোবেল বা কোন পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে এ গল্পের নায়কের নির্ঘাত তা প্রাপ্য ছিল। ভবেশবাবুর বাবা ছিলেন ত্রিভুবন খ্যাত কৃপণ I তিনি যখন মৃত্যু শয্যায় তখন ভবেশবাবুকে বলে গিয়েছেন-- যদি কখনো কোন বিষয়ে বিশেষ করে অপচয় কমানোর কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার এক কৃপণ বন্ধু আছে, তার নাম হর কুমার, তার কাছ থেকে পরামর্শ নিবে I বাবার মৃত্যুর পর জায়গা-জমি নিয়ে খরচ সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে ভবেশবাবু পরামর্শ নিতে সন্ধ্যার পর পিতৃ-বন্ধু হর কুমারের কাছে গেলেন I হরকুমার বাবু ভবেশবাবুকে সাদরে ঘরে নিয়ে বসলেন I হরকুমার কাকা বললেন-- কথা বলতে তো আর আলোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাতিটি নিভিয়ে দেই --বলে তিনি বৈদ্যুতিক বাতিটি নিভিয়ে দিলেন I কথা-বার্তা শেষে ভবেশবাবু যখন উঠতে যাবেন, তখন হর কুমারবাবু বললেন-- "দাড়াও বাতিটা জ্বালিয়ে দেই, নইলে তুমি বেরুবার রাস্তা দেখতে পাবে না I" ভবেশবাবু তখন বললেন-- "একটু দাড়ান কাকা, আমি লুঙ্গিটা পরে নিই।" হরকুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন-- "মানে ? তুমি কি এতক্ষণ লুঙ্গি না পরেই আমার সাথে কথা বলছিলে ?" ভবেশবাবু বললেন-- "আজ্ঞে হ্যাঁ, অন্ধকার ঘরে লুঙ্গি পরে সেটার অপচয় করে কি লাভ, তাতে বরং লুঙ্গিটার পরমায়ু অন্তত কয়েক ঘন্টা তো বাড়বে I" হরকুমারবাবু হতাশ হয়ে বললেন-- "তুমি কেন অযথা আমার কাছে পরামর্শ নিতে এসে সময়ের অপচয় করলে ? তুমি তো ইতিমধ্যেই আমাকে ছাড়িয়ে গেছো। " কৃপণ বা কৃপণতা নিয়ে অনেক তো জল ঘোলা হল। তাই আপনাদের অকৃপণ ধৈর্যের চ্যূতি না ঘটিয়ে ইতি টানতে চাই। তবে শেষ বেলায় কৃপনতার শেষ গল্পটি না বললে আখ্যানটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এতক্ষন আমরা যে সব কৃপণ চরিত্রগুলোর আলোচনা করলাম সেগুলো হয়ত প্রচলিত গল্প উপাখ্যানে আছে কিন্তু বাস্তবের এদের উপস্থিতি হয়ত কোনকালেই ছিল না। তাই এবারে বাস্তবের এক কৃপণের কথা জানাতে চাই। তাঁর নাম হেনরিয়েটা হাউল্যান্ড গ্রীন ওরফে হেটি গ্রীন ( ১৮৩৪-১৯১৬)। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে ধনী মহিলা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী। তাঁকে ওয়াল স্ট্রিটের ডাইনী বলা হোত। তিনি যেমন তাঁর সম্পদের পরিমানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তেমনি সুপরিচিত ছিলেন তাঁর কৃপণতার জন্যও। তাঁর সে সময়ে যে সম্পদ ছিল তার পরিমান ছিল ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি ডলার যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২৫ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মহিলার স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে তাঁর কৃপণতাও তাঁকে জগৎজোড়া পরিচিতি দিয়েছিল। তিনি সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে দাীর্ঘদিন গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। তাঁকে নিয়েতো অনেক কথা হল এবারে তাঁর কিংবদন্তিতূল্য কৃপণতার কিছু বিবরণ শুনুন। তিনি কখনও গরম পানি বা বাসা গরম করতে রুম হিটার ব্যবহার করতেন না। তিনি কালো পুরনো পোষাক পরিধান করতেন একেবার ছিঁড়ে না পর্যন্ত। চড়তেন পুরনো বাহনে। তিনি মাত্র ১৫ সেন্ট মূল্যের পাই নামের সস্তা খাবার খেতেন। কথিত আছে যে একবার তাঁর গাড়িতে মাত্র ২ সেন্টের হারিয়ে যাওয়া একটা স্ট্যাম্প খুঁজতে তিন অর্ধ রাত্রি ব্যয় করেছিলেন। আরও কথিত আছে যে তিনি কম সাবান ব্যবহারের জন্য তাঁর ধোপানীকে শুধু কাপড়ের ময়লা স্থান ধুতে বলতেন। তিনি অফিস খরচ বাঁচাতে সীবোর্ড ন্যাশনাল ব্যাংকে তাঁরই কাগজপত্রে ঠাসা ট্রাঙ্ক ও স্যূটকেসের মাঝে বসে কাজ করতেন। এমনও গুজব ছিল যে তিনি শুধু ওটমিল খেতেন যা তিনি অফিসের রেডিয়েটরে গরম করতেন। এমনকি তাঁর কৃপণতা তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিয়েও ছিল। একবার তাঁর ছেলে আহত হলে তিনি তাকে ভাল কোন হাসপাতালে ভর্তি না করে গরীব মানুষের বিনামূল্যের হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর ছেলের পা ঠিক হতে অনেকদিন লেগেছিল যদিও পরবর্তীতে তার পা কেটে ফেলতেও হয়েছিল। এসব কারনেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ ব্যবসায়ীরা ডাইনী উপাধি দিয়েছিল। অবশ্য তাঁর সম্পদ তাঁর সন্তানেরা মানব কল্যাণে অনেক জায়গায় দান করে দিয়েছিলেন। সম্পদ নাকি তিন প্রজন্মের বেশি থাকে না। তাই অযথা কৃপণতা না করে মিতব্যয়িতার সাথে প্রয়োজন মিটান ও জীবনকে উপভোগ করুন। নিজে কষ্ট করে জমিয়ে রেখে কি লাভ? কারন তিন প্রজন্মের পর আবারতো নতুন করে সম্পদ অর্জনের সংগ্রামে নামতেই হচ্ছে।

কিছু জোকস...

কোলকাতার_দাদারা_বলে_কথা...!! ১। ক্রেতাঃ দাদা মুরগির ওই ঠ্যাঙ এর পাস থেকে দুসো গ্রাম দিন তো বিক্রেতাঃ সেকি দাদা বাড়িতে আজ উতসব নাকি...পুরো দুসো গ্রাম মুরগি !! ক্রেতাঃ সেইরকম ই দাদা, দুই জামাই আসবে আজগে...ওদের দুজনের জন্য একসো গ্রাম আর আমাদের বাকি চারজনের জন্য পুরো একসো গ্রাম..... ২। ১ম বন্ধুঃ কিরে আজগে বড় দাদার জন্নে মেয়ে দেগতে গেচিলি ! তা কি খাওয়ালো ওকানে ? ২য় বন্ধুঃ মাইরি খেয়েচি সেরাম আজগে ! ১ম বন্ধুঃ বলনা কি খেলি ? ২য় বন্ধুঃ প্রায় মুরগীই খেয়েচি দাদা, মাইরি যা টেস্ট না ! ১ম বন্ধুঃ প্রায় মুরগী ! সে আবার কি গো !২য় বন্ধুঃ অ্যাঁরে বুঝলি না !! ডিম খেতে দিয়েচিলো । গোটা আদ্দেক ! ৩। এক লোক গেছে তার বোনের বাসায়। গিয়ে দরজায় নক করল। প্রথমবার কেউ খুলল না। আবার নক..... ....কোন সাড়া-শব্দ নেই। তারপরেও সে আবার নক করল। কিন্তু না, এবারও দরজা খোলার নাম নেই। শেষমেশ আর না পেরে বলল..... "দিদি, আমি খেয়ে এসেচি তো।" দিদিঃ ওরে দুষ্টু, তা আগে বলবি নে? ৪। এক ব্যক্তি কোলকাতায় গিয়ে হোটেলে মালপত্র রেখে বন্ধুর সাথে তার মামার বাড়ী গেছে দেখা করতে,মনে ইচ্ছা ছিলো ঐ বাড়ীতে ওঠার । তো মামা বলে উঠলেন ”এইবারতো হোটেলে উঠলে পরেরবার আমাদের এখানে উঠো কিন্তু” ৫। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যাথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন -- হ্যা গো ট্যাঁপার মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না । খানিকপর বৌদি রাগে গজগগ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন -- মা গো , কি কিপটের কিপটে ? এক্টুখানি টাইগার বাম, তাও দিল না ?? একথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাদা বললেন -- কি আর করবে ট্যাঁপার মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগার বামটাই বের করে আন। ৬। বেশ আগের কথা। দাদার বাড়িতে কোন এক কারনে একজন মেহমান এসেছেন এবং কিভাবে জানি না এক রাত দাদার বাড়িতে থেকেওছেন। পরদিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে মেহমান দাঁত মাজার জন্য নিজের ব্যাগ থেকে একটা টুথপেস্ট বের করেছেন । এই না দেখে দাদা সেখানে হাজির। বেশ কতক্ষন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে দাদা জিজ্ঞেস করলেন -- আজ্ঞে দাদা, বলছিলুম কি ... আপনার হাতে ওটা কি, টুথ পেস্ট নাকি ? মেহমান ততক্ষনে যা বোঝার বুঝে গেছেন , তবু ভদ্রতার খাতিরে বললেন -- হ্যা দাদা , আপনাকে দেব একটু ? এই শুনে কলকাতার দাদা হাঁক ছাড়লেন -- ওরে রমেশ , সুরেশ , ট্যাপা , মহেশ ... কে কোথায় আছিস ? যার যার আঙ্গুল নিয়ে এদিকে আয় , আজকে পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজবি। -- Just for fun..(collected)  

কেমন আছে রেমিট্যান্স মেশিনেরা?

কেমন আছে রেমিট্যান্স মেশিনেরা?

লীনা পারভীন
ফিরছিলাম ব্যাঙ্গালোর থেকে। একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে ফেরার পথে আমার কানেক্টিং ফ্লাইট ছিল দিল্লিতে। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে জেট এয়ারওয়েজের বিমানে চড়ার লাইনে দেখলাম বিশাল এ বিমানের ৮০ শতাংশ যাত্রী বাংলাদেশি। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি বিষয়টা কী? বিমানের উঠার লাইনে আমার সামনেই ছিল দুজন বোরকা পরা নারী। দেখে বুঝা যাচ্ছিল তারা ওখানে কী কাজ করেন। উৎসুক হয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী বাংলাদেশি? উত্তর দিলো হ্যাঁ। কেন? জানতে চাইলাম, কোত্থেকে আসতেছেন? ছুটিতে আসছেন না একবারেই ফিরে আসতেছেন? সামান্য সন্দেহের চোখে আমাকে উত্তর দিলো সৌদি থাইকা কিন্তু আপনে এত কথা জানতে চাইতেছেন কেন? হাসি দিয়ে জানালাম যেহেতু আপনি আমাদের দেশি আর পত্রিকায় পড়েছি বিদেশে আমাদের দেশের লোকগুলো অনেক অত্যাচারে থাকে। তাই আর কি। অনেক কষ্টের হাসি দিয়ে জানালো, আর কষ্ট। দালালের মাইদ্যমে গেছিলামগো মা, পয়সা উসুল করার আশায় এত দিন আছিলাম। কিন্তু গায়ে আর সয় না তাই এইবার একবারেই আইসা পড়ছি। আর যামু না। ক্ষোভ ও কষ্টের এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি দেখলাম। লাইন ধরে বিমানে চড়ে বসলাম। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বিমান ছাড়ছিল না। বিমানের ক্যাবিন ক্রু’র কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন এখনো ৪০ জন যাত্রী আসা বাকি। এবং জানলাম এরা সবাই বাংলাদেশি। বিমানের ভেতরে এদের সামলাতে বিমান বালাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল কারণ ভাষাগত একটা জটিলতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে। এরা হিন্দি বা ইংরেজি কোনো ভাষাতেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছিল না। সব ঝামেলা শেষ করে বিমান চলা শুরু করল প্রায় ৩০ মিনিট দেরি করে। আমার পাশের দুই সিটে বসেছিলেন দুই বাংলাদেশি। আশপাশের সব সিটেই বাংলাদেশিরাই ছিল। শুরু হলো নিজেদের মধ্যে আলাপ। এরা এই সিট থেকে সেই সিটে একে অন্যকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করা থেকে শুরু কে কোন দেশ থেকে ফিরছে, কেন ফিরছে? মালিক কেমন, কাজের কী অবস্থা ইত্যাদি সংবাদ জানছিল। তাদের এসব আলাপে আমি ফিল করিনি যে আমরা কোন ইন্টারন্যশনাল ফ্লাইটে বসে আছি। একদমই দেশি লোকাল বাসের একটা ফিল পাচ্ছিলাম। পাশের সিটে বসা ছিল ফরিদপুরের জামাল মিয়া। জীর্ণশীর্ণ শরীরে ময়লা জামা কাপড় পরা কিন্তু মুখে প্রাণখোলা হাসি। আলাপের প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তিনি ওমানে থাকতেন কিন্তু গত চার মাস ধরে মালিক কাজ করিয়েছে বেতন দেয়নি। না খেয়ে না দেয়ে কোনো রকমে চেষ্টা করে যাচ্ছিল যদি বেতনের টাকাটা ফিরত পাওয়া যায়। এর মধ্যে মামলা মোকদ্দমার ঝামেলাও হয়েছে এবং তারা পালিয়ে কোনো রকম বেঁচে ছিল। পরে ব্যবস্থা করে চার মাসের বেতনের টাকা না পেয়েই দেশে ফিরত চলে এসেছে। প্রায় ৭ বছর পর তিনি ফেরত আসছেন দেশে। মোট ১০ বছর ছিলেন বিদেশে। যাই কাজ করতেন চলে যেত কোনো রকম কিন্তু এখন ওখানে বাংলাদেশিদের বাজার খুব খারাপ। কাজও পাওয়া যায় না তেমন। জানতে চাইলাম আর যাবেন কোন দেশে? উত্তর দিলো না গো বইন, দ্যাশে কামলা খাইট্টা খায়াম তাও আর বিদেশে যামু না। এত অপমান, লাঞ্ছনা আর সওয়া যায় না। এমন কাহিনী শুনলাম সৌদি, বাহরাইন, ওমান থেকে আসা যাত্রীদের মুখেও। সবাই ওখানকার মালিকদের গালাগাল করছিল অকথ্য ভাষায়। বিমান থেকে নামার আগে একেকজনের মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখেছি তার মূল্য কোনো অর্থ দিয়ে আদায় করা যাবে না। একেকজন প্রবাসী মানেই একেকটা জীবনের গল্প। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটা অভিজ্ঞতা না বলে পারছি না। মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম মে মাসে। বিখ্যাত শপিংমল বুকিত বিনতাং এ হোটেলে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমি আর আমার এক বন্ধু। হঠাৎ শুনলাম মোবাইলে কেউ একজন বাংলায় কথা বলছেন। আবারও উৎসাহ আবারও প্রশ্ন। জানতে চাইলাম ভাই এখানে কত বছর? কী কাজ করেন? জানালেন তিনি শপিংমলে প্লাম্বারের কাজ করতে এসেছেন। কোনো স্থায়ী কাজ পাচ্ছেন না তাই এমন খেপের কাজ করেই জীবন চালাচ্ছেন। দেশে ফোনে কথা বলছিলেন। দেখলাম আবেগের সঙ্গে তিনি তার পরিবারকে জানাচ্ছেন আমাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথাও। টাকা পয়সা খরচ করে এসেছেন তাই দেশেও ফিরত যেতে পারছেন না দেনা শোধ করতে হবে। জেট এয়ারওয়েজের যে বিমানের কথা এখানে বলেছি তার ৮০ ভাগ বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে ৬০ ভাগ একেবারে দেশে ফিরত চলে আসছেন কাজের অভাবে, কষ্ট সইতে না পেরে। বলেছিলাম নারীর কথাও। গতকালই জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভয়াবহ রিপোর্টটি আবারও প্রকাশ করল আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের করুণ কাহিনী অথচ এদের পাঠানো অর্থই বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। কতটা নির্দয় পরিবেশে তারা জীবনের বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছেন কেবল একটু ভালো থাকার আশায়। কিন্তু সেই ভালো কী তারা থাকছেন না তাদের পরিবার থাকছে? যেসব নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি বা অন্য দেশে যাচ্ছে তারা এখন দলে দলে ফিরছে শরীরে ও মনে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে। জমি জিরাত বিক্রি করে সহায় সম্বলহীন হয়ে তারা ভিন দেশে পাড়ি দিচ্ছে পরিবারকে ভালো রাখার কামনা নিয়ে। ভেবেছিল দেশের মাটিতে টাকা কামাই অনেক কষ্ট তার চেয়ে বিদেশের মাটিতে কষ্ট করলে অনেক টাকা কামাই করা যায়। সিনেমার পর্দায় দেখা বিদেশ আর বাস্তবের বিদেশ যে এক নয় এসব অসহায় মানুষেরা কী আর বুঝতে পারে? তাদের বুঝানোরও কেউ নাই পাশে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এখন অন্য দেশের জন্য রোল মডেল। আল্ট্রা ধনীর তালিকায় বাংলাদেশ এখন ওপরের সারিতে অথচ এ একই দেশের কিছু মানুষ এখনো জীবিকার সন্ধানে জীবন মরণ হাতে নিয়ে কী অসহায় দিন কাটাচ্ছেন পরদেশে যেখানে অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই, মরে গেলেও খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। আপনজনের মুখ দেখতে চাইলে কেবল চোখের পানি সম্বল। একজন মহিউদ্দীন দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফিরছেন অথচ তার সন্তানের বয়স তিন বছর। অর্থাৎ, জন্মের পর থেকে তিনি তার সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। যখন ফিরছেন তখন হাতে নেই কিছুই। সন্তানের জন্য একটি খেলনা কিনে আনবেন সেই সামর্থ্যটুকুও নিয়ে ফিরেননি কারণ তিনি চাকরি খুইয়ে বিনা বেতনে দেশে ফিরছেন। এ কষ্টের শেষ কোথায়? আমাদের দেশের যারা পুঁজিপতি শ্রেণি আছেন যারা বিদেশের মাটিতে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন তারা চাইলেই কিন্তু সেই অর্থে দেশেই গড়ে তুলতে পারেন আরেকটি সৌদি বা ওমান যেখানে আমাদের সেসব হতভাগা বাইবোনেরা কাজ করে নিরাপদ জীবন পেতে পারে। যেসব প্রবাসী নারী বা পুরুষরা নির্যাতিত হয়ে ফিরছেন, তাদের মানসিক অবস্থার দায় কে নেবে? জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের কাছে রিপোর্ট জমা হয়েছে কিন্তু বরাবরের মতোই প্রশ্ন থেকে যায় মন্ত্রণালয় কী নেবে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা? এসব অসহায় মানুষগুলোর এক টুকরো স্বপ্নকে এভাবে মেরে ফেলার দায় কী কারও আছে? লীনা পারভীন : কলাম লেখক ও সাবেক ছাত্রনেতা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ ৯৩ শতাংশ জনগন এই আইনের বিপক্ষে

স্বাধীনতার আবেগ বাংলাদেশ নামের ভুখন্ডের অধিবাসীদের হয়তো সব সময়ই ছিলো, এখনো যে নেই তা বলা যাবে না। তবে সম্ভবত একবারই এই স্বাধ আর আনন্দ মানুষ ভোগ করেছে, তা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। গত ৪৭ বছর ভালো মন্দ কি হয়েছে সেই আলোচনায় আজনাইবা গেলাম। সম্প্রতি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করেছে। অনেকেরই এতে আপত্তি! বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। গনতন্ত্র নিয়ে যারা পৃথিবী জুড়ে সোচ্চার তারাও এর নিন্দা করছেন। এরা বলছেন এই আইন বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরন করবে। কেউ কেউ আইনটিকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। কিন্তু সাধারন মানুষ এই আইনকে কিভাবে নিয়েছে জানতে ফেসবুকে আমার টাইমলাইন আর পেইজ থেকে একটি নির্দোষ জরিপ চালিয়েছিলাম। গতকাল দুপুর থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ১,৫৭১ জন। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ১,৪৬৭ জন অর্থাৎ শতকরা হিসেবে ৯৩.৩৮ জন এই আইনকে পছন্দ করছেন না। তবে ১০৪ জনের সমর্থন রয়েছে আইনটির প্রতি, শতকরা হিসেবে যাদের সংখ্যা ৬.৬২ জন। জরিপে অংশ নিয়ে অনেকে আইনটি সম্পর্কে নানা রকম মন্তব্যও করেছেন। সেগুলো পড়তে চাইলে আমার টাইমলাইন বা পেইজ ঘুরে আসতে পারেন। যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন, শেয়ার করেছেন; লাইক আর কমেন্ট করে পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রানবন্ত ও বিশ্বাসযাগ্য করে তুলেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10155871586076623&id=696941622

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর  জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে বিলটি পাস হয়। এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার–সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯–এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে। আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেন। তবে সেসব আপত্তি টেকেনি। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। তবে এর মধ্যে তিনজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো এ আইনেও চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

ফখরুল ইমাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এটি আইনে পরিণত হলে তা সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি কল্যাণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি তাতে বাধা সৃষ্টি করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিকের সমস্ত ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারকে সহযোগিতা প্রদান এবং বাধাহীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। বিরোধী দলের সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার যে কথা বলা হয়েছে, এই আইন হবে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধরার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও আইনে তা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইন গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করবে। নির্বাচনের আগে সমাজের এ রকম একটি বিশাল প্রগতিশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করা ঠিক হবে না। নুরুল ইসলাম মিলন, নুর ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবিন মোর্শেদ, রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারি, মোহাম্মদ নোমান বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বলেন, সময়োপযোগী বিলটি আরও আগে আসা উচিত ছিল। প্রচুর যাচাই বাছাই হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে আইনটি পাস করা হোক। সাংসদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট দেখলে দেখা যাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কী পরিমাণ আলোচনা করেছি। আইনমন্ত্রী যে কতবার তাদের সঙ্গে বসেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। যেটা সংসদে উত্থাপিত বিল ও সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হবে। তারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছেন তাসহ যেসব জায়গায় যে ধরনের সংশোধন করা দরকার আমরা করেছি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ নেতৃবৃন্দ সংসদীয় কমিটি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথাগুলো বলেছেন, তা সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন। না হলে এই বিল সম্পর্কে তাদের সমালোচনার অবস্থান বিরাজ করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়টি এই আইন খুলে দেবে।’ মোস্তফা জব্বার বলেন, সাংবাদিকেরা ৩২ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেখানে তারা গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলেছিলেন-সংসদীয় কমিটি সেটাকে সংশোধন করে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা বলেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগের নজির নেই। মোস্তফা জব্বার দাবি করেন, তাঁরা সাংবাদিকদের সামনে সব উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের কথা অনুসারে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার তার সবই করেছেন। সংবাদপত্র দমন বা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন নয়। এই আইন কেবল ডিজিটাল অপরাধ দমন করার জন্য। ভবিষ্যতে ডিজিটাল যুদ্ধ হবে উল্লেখ করে মোস্তফা জব্বার বলেন, এই যুদ্ধে যদি রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, রাষ্ট্র যদি বিপন্ন হয় তাহলে অপরাধটা আমাদেরই হবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন। আমরা একটি ঐতিহাসিক কাজের সাক্ষী হয়ে সংসদে থাকছি।’ পরে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। তবে ফখরুল ইমামের দেওয়া একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এই আইন কার্যকর হলে তথ্যও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল হবে। তবে এসব ধারায় বিচারাধীন মামলা এসব ধারাতেই চলবে। গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।   আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

সন্দেহবাদিতা

সন্দেহবাদিতা

মো. রফিকুল ইসলাম
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কতা: লেখাটি নিতান্তই রম্যকথন। সিরিয়াসলি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। গল্প ও জোকসগুলো সংগৃহীত) আমার প্রবাসী বন্ধুটি আবারও অনুরোধ করেছে সন্দেহ বা সন্দেহবাদিতা বা সাসপিশন নিয়ে কিছু লিখতে। আগেরবার মনে করেছিলাম বন্ধু হয়ত জ্ঞানের বহর বাড়াতে আমাকে দিয়ে ঘাটাঘাটি করিয়ে কিছু লিখিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এবারে একটু সন্দেহ হল। ঘটনা কি? এতো জ্ঞানার্জন নয়। নিশ্চয় অন্য কোন বিষয় আছে। বন্ধুকে হালকা চেপে ধরতেই স্বীকার করতে বাধ্য হলো সে সন্দেহের আওতায় আছে। কার সন্দেহের আওতায় আছে তা নিশ্চয় আপনাদের বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। তিনি ধর্মপত্নীর সন্দেহের ঘেরাটোপে আবদ্ধ আছেন। কিছুতেই এ জাল ছিন্ন করতে পারছেন না। তাই সন্দেহের আদি অন্ত নাড়াচাড়া করে যদি মনে একটু শান্তি আসে তাই এ অনুরোধ। শুধু আমার বন্ধু কেন শতকরা নব্বই ভাগ বিবাহিত পুরুষই নিজ নিজ পত্নীর সন্দেহের তালিকায় থাকেন। পরিসংখ্যান নিয়ে আপনাদের সন্দেহ হচ্ছে? আপনার সন্দেহ যুক্তিসংগত। ঠিক ধরেছেন, এটা কোন জরিপের ফলাফল নয় নিতান্তই আমার অনুমান মাত্র। এ ধরনের কোন জরিপ আছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। জানার দরকারও নেই। আপনি কি বিবাহিত। তাহলে বুক হাত দিয়ে ভাবুন তো একবার, না, বলার দরকার নেই। আপনি কি সন্দেহের বাইরে? যদি হন তাহলে আপনি ভাগ্যবান। না হলে ঐ নব্বই জনের একজন আপনি। দাঁড়ান দাঁড়ান কিসের সন্দেহের আওতায় আছেন তা কিন্তু এখনও বলিনি। উল্টাপাল্টা কিছু ভেবে বসবেন না যেন। একটু ধৈর্য ধরুন সব খোলাসা হবে। বাংলা ভাষায় সন্দেহকে সংশয়, অবিশ্বাস, অনিশ্চয়তা, দ্বিধা, অপ্রতীতি, খটকা বা অভিশংকা ইত্যাদি নানাভাবে বর্ণনা করা যায়। সন্দেহের ইংরেজি পরিভাষা সাসপিশন শব্দটি ল্যাটিন Suspere শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ To suspect। ইংরেজি ভাষায় সাসপিশন শব্দটি চতুর্দশ শতাব্দীতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে ভাষায় এর যেদিনই ব্যবহার শুরু হোক না কেন সন্দেহ অবিশ্বাস যে আদি মানব সন্তানের সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে কিন্তু কোন সন্দেহ নেই। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, সন্দেহ হচ্ছে তাহলে আদি পিতার বেহেশতের সেই নিষিদ্ধ ফল খাবার ঘটনাটি নতুন করে মনে করুন তাহলেই আপনার সন্দেহভঞ্জন হবে। আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের সন্দেহের আওতায় পড়ছি। আবার আমরাও মাঝে মধ্যে অন্যকে সন্দেহের আওতায় আনছি। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য আছে যারা অন্যকে সহজে সন্দেহ করতে চায় না। এজন্য অবশ্য তাদের বিপদে পড়ার সম্ভবনাও থাকে। যাক সে বিষয় পরে বলা যাবে আগের বিষয় আগে। দু'টো শ্রেনির সন্দেহের আওতায় আসলে আমরা সব থেকে বেশি নাস্তানাবুদ হই। এক নিজ স্ত্রী আর দ্বিতীয় পুলিশ। একটিতে আপনি বেইজ্জত হতে পারেন পরিবারের মধ্যে আর দ্বিতীয়টিতে জনসম্মুখে। প্রথমটি নিয়ে হয়ত অনেকের সংশয় বা সন্দেহ হচ্ছে। উদাহরন দিচ্ছি মিলিয়ে নিন। প্রত্যেক স্ত্রীই তার স্বামী সম্পর্কে অতিশয় উচ্চ ধারনা পোষন করে। যেমন স্বামী বেচারা হয়ত সরকারী বা বেসরকারী নির্ধারিত বেতনে চাকুরী করে বা ছোট খাট ব্যবসা করে সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। স্ত্রী নিজেও হয়ত চাকুরী করে। সেও জানে তার স্বামীর আয় কত। তবুও সে সব সময় সন্দেহ করবে নিশ্চয় তার স্বামী গোপনে আত্মীয় স্বজনকে টাকা পাচার করে দিচ্ছে। ভাববে স্বামী তার ভাইকে জমি বা বাড়ি কিনে দিচ্ছে বা ভাগ্নে বা ভাস্তেকে পড়ার খরচ দিচ্ছে নিজ সংসারের দিকে না তাকিয়ে। সব স্ত্রীরই ধারনা তার স্বামীর নিশ্চয়ই এক্সট্রা ইনকাম আছে অথবা আছে অফুরান্ত অর্থের ভান্ডার। সে স্ত্রী সন্তানকে বঞ্চিত করে শুধু বাবা মার সংসারে বা আত্মীয়দের অকাতরে অর্থ ঢেলে যাচ্ছে। এতো গেল টাকা পয়সা নিয়ে। অন্য বিষয়! বেচারা স্বামীর হয়ত কোন কারনে বাসায় ফিরতে দেরি হচ্ছে। তো শুরু হয়ে গেল মুহূর্মুহু টেলিফোন। যদি কোন কারনে মোবাইল অফ থাকে বা ব্যাটারী শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে স্বামী বেচারার কপালে দুঃখ আছে। প্রায় প্রত্যেক স্ত্রীই ভাবে তার স্বামীর প্রেমে তাবত সুন্দরীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। তাই দেরি হলে তাদের ধারনা স্বামী প্রবর এতক্ষন নিশ্চয় স্ফূর্তি করে আসলেন। ওই যে বলছিলাম স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের সামর্থ্য সম্পর্কে অতি উচ্চাশা পোষন করে। তবে কোন কোন বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তি স্বামী নামের এ আসামীদের এ অবস্থা থেকে উদ্ধারে কিছু কিছু পথ বাৎলে দিয়েছেন। তার দু'একটা টিপস আপনাদের দেই। কাজে লাগাতে পারেন। এতে কাজও হতে পারে। কাজে না লাগলে আমাকে দোষ দেবেন না যেন। এগুলো আমার আবিষ্কারও নয় বা আমার দ্বারা পরীক্ষিতও নয়। যেমন ধরুন, আপনি হয়ত ট্যুরে আছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে টেলিফোন করবেন কোথায় কি করছেন তার রানিং কমেন্ট্রি দিয়ে। একে বলা যায় হাজিরা কল। আপনি হয়ত সন্ধ্যার পর বন্ধু বা বান্ধবীদের নিয়ে আসলেই স্ফুর্তি করছেন। এ সময় স্ত্রীর কল। কি করবেন? ঘাবড়াবেন না। খুব পরিশ্রান্তের সুরে জবাব দিন সারাদিন একঘেয়ে মিটিং করে এই মাত্র হোটেলে ফিরলেন। কাজে লাগতে পারে এমনকি সহানুভূতিও পেতে পারেন। অথবা ধরুন, আপনার স্ত্রীও হয়ত জানে আপনি স্ফূর্তির জায়গায় আছেন। তখন প্রেমঘন স্বরে বলুন আই মিস ইউ। তুমি থাকলে ভাল লাগতো। দেখবেন আপনার সাত খুন মাপ হতেও পারে। তবে অতিশয় বুদ্ধিমান স্বামীরা কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে দিব্যি স্ত্রীর নাকের ডগায় স্ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে। একটা গল্প বলি শুনুন। একদিন কুদরত সাহেব ভুলে মোবাইল বাসায় ফেলে অফিসে গেছেন। অফিস থেকে ফোন করে স্ত্রীকে দুপুরে লাঞ্চের সাথে ড্রাইভারের কাছে ফোন পাঠিয়ে দিতে বললেন। স্ত্রী এ সুযোগে স্বামীর ফোনটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন। ফোনবুকে ঢুকে দেখলেন সন্দেহজনক তিনটি নম্বর গর্জিয়াস ওম্যান, প্রেটি লেডি ও মাই লাভ নামে সেভ করা। স্ত্রীর তো মাথায় খারাপ হবার যোগাড়। কুদরত সাহেবকে নিতান্তই গোবেচারা মনে হয় যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। অথচ তলে তলে এত। ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছে। আজকেই ধরতে হবে। একেবারে জন্মের শিক্ষা দিতে হবে। ছোক ছোকানির সাধ মিটিয়ে দিতে হবে। আসুক আজ বাড়িতে। তবে তার আগে ধরতে হবে এ তিন শাঁকচুন্নি কারা। কুদরত সাহেবের ফোন থেকে ফোন করলে নিশ্চয় ধরবে। তখনই বুঝা যাবে তারা কারা। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমেই গর্জিয়াস ওম্যানকে ফোন করলেন। ওপাশের ফোন কল রিসিভ করলো। হ্যালো বাবাজী, কেমন আছ? আমার মেয়ে কেমন আছে। অসময়ে ফোন করলে? কোন অসুবিধা? মা আমি তোমার মেয়ে বলছি। তোমার জামাই ভুলে ফোন রেখে গেছে। সে ফাঁকে তোমাকে ফোন করলাম। আরও দু'চার কথা বলে ফোন রেখে দিলেন। স্ত্রী ধাক্কা খেলেন। আজকাল মানুষ নিজের মাকেই পাত্তা দেয় না আর সে কিনা শাশুড়ির নাম সেভ করেছে। আসলেই লোকটা নরম মনের মানুষ। তা বলে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তিনি এবারে ফোন করলেন প্রেটি লেডির নম্বরে। হ্যালো দুলাভাই। আচ্ছালামু আলাইকুম। এতদিনে আপনার একমাত্র শালীর কথা মনে পড়লো। ঋতু, আমি তোর আপা বলছি রে। তোর দুলাভাই ভুলে ফোন বাসায় রেখে গেছে। তুই কেমন আছিস। আরও অল্পকিছু কথা বলে ফোন রেখে দিল। না! তার স্বামীটা তো আসলেই ভাল মানুষ। নিজের বোন নেই তাই শালীকে বোনের মত দেখে। কিন্তু মাই লাভটা কে? খটকা এখনও দূর হয়নি। এবারে রিং দিল মাই লাভের নম্বরে। রিং হচ্ছে। ওমা তার নিজের নম্বরও বাজছে। নিজের ফোন হাতে নিয়ে দেখে তার স্বামীর নম্বর। সে পুরো থ হয়ে গেল। তার ভীষণ কান্না পেল। ফেরেস্তার মত স্বামীকে সে সন্দেহ করলো। তার খুব অনুশোচনা হল। সে সারাদিন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদলো। বিকেলে কুদরত সাহেব ফিরলে পুরো ঘটনা তাকে খুলে বললো। মাফ চাইলো। আর কুদরত সাহেবের হাতে তুলে দিল দশ হাজার টাকা ইচ্ছেমত খরচ করতে। এ টাকাটা সে অনেক কষ্টে জমিয়েছিল। অথচ একদিন আগে হলে জান থাকতে সে এ টাকা কাউকে দিত না। কিন্তু সে আজ এতটাই অনুতপ্ত আর তার পতিভক্তি ও পতিপ্রেম এতটাই উথলে উঠেছে যে এ টাকা তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। কুদরত সাহেব টাকাটা নিলেন। এ টাকায় একটি সুন্দর শাড়ি কিনে গিফট দিলেন বান্ধবী সিনথিয়াকে। ভাবছেন, কুদরত সাহেবের স্ত্রী ফোনে সিনথিয়ার নম্বর পেল না কেন? পাবে কি করে ওটা তো সেভ ছিল গফুর চাচা মোটর মেকানিক নামে।

সন্দেহবাদিতা ২

স্ত্রীর সন্দেহের আসামী হলে কি কি হতে পারে তার ধারনা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। এবারে তাদের সন্দেহ যে কখনও কখনও উপকারী হতে পারে তার একটা উদাহরন দেই। ধরুন, আপনি সকালের ঘুমটা খুব পছন্দ করেন তাই সকালে দেরি করে উঠেন। কিন্ত আপনার স্ত্রী চান আপনি সকালে উঠে হাটতে যাবেন যাতে আপনি স্লীম থাকেন। কি আর করা, আপনার কষ্ট হলেও স্ত্রী আজ্ঞা পালনে নিতান্ত অনিচ্ছায় হাটতে বের হন। কিন্তু আপনি সকালের ঘুমটা খুব মিস করেন। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে শুধু স্ত্রীর মনে একটু সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবেন। কিভাবে? দিন কয়েক পর হেঁটে বাসায় ফিরে উৎফুল্লভাব দেখান বা চাইলে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জনপ্রিয় কোন গানের কলিও ভাজতে পারেন। ভাব দেখান আপনার হেঁটে খুব ভাল লাগছে। নিশ্চিত আপনার স্ত্রী আপনার উৎফুল্লতার কারন জানতে চাইবে। বলবেন, " আর বলো না হেঁটে খুব মজা পাচ্ছি। সকালবেলা আমরা যে রাস্তায় হাঁটি সে রাস্তার পাশে বাচ্চাদের স্কুলে সুন্দর সুন্দর মায়েরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসে। বাচ্চাদের স্কুলে ঢুকিয়ে তারা রাস্তার ধারে আড্ডা দেয়।" ব্যস আর কিছু বলার দরকার নেই। আপনার কথা শুনে স্ত্রীর কথা বন্ধ হয়ে যাবে, মুখ ভার হবে। আপনি সারাদিন চুপটি থাকুন। শুধু ঘুমুতে যাওয়ার আগে সকালে হাঁটতে যাওয়ার কোন প্রসংগ তুলতে পারেন বা নাও তুলতে পারেন। কিন্তু নির্দেশ পাবেন, "কাল থেকে আর তোমাকে হাঁটতে যেতে হবে না।" আঃ! কি শান্তি! নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ুন। পুলিশের সন্দেহের আসামী হলে কি সমস্যা হতে পারে তার একটু ধারনা দেওয়া যাক এবার। আপনি কপালদোষে পুলিশের সন্দেহের আওতায় যদি এসেই পড়েন তাহলে পুলিশের সন্দেহভঞ্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ৫৪ ধারায় আপনি লাল দালানে ঢুকে যেতে পারেন। কপাল ভাল হলে উকিল মোক্তার ধরে বাড়ি ফিরে বাড়ির ভাত খেতে পারবেন। আর যদি কপাল খারাপ হয় তাহলে লাল দালানে ভাত খেতে হতে পারে। কতদিন? তা জানতে জনপ্রিয় জোকটি শুনুন। এক বনের ধারে এক শেয়াল দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ সে দেখলো একটা মহিষ ব্যস্ত সমস্ত হয়ে দৌড়ে গভীর বনের মধ্যে ঢুকছে। শিয়াল তাকে জিজ্ঞেস করলো, "এই মহিষ, তুমি এত ব্যস্ত হয়ে কই যাও।" উত্তরে মহিষ বললো, "ও, তুমি জানো না বুঝি। হাতি ধরতে বনে পুলিশ এসেছে।" "আরে বোকা মহিষ তাতে তোমার কি তুমি তো আর হাতি না?" শিয়াল মহিষকে টিটকারি মারলো। মহিষ হেসে জানালো, "এটা এমন দেশ ২০ বছর জেলে থেকেও আমি প্রমান করতে পারবো না আমি হাতি না, মহিষ।" শুনে শেয়াল নিজেও আর দাঁড়ালো না, দৌড় লাগালো। পুলিশ উকিল মোক্তার কোর্ট কাচারীর কথা যখন এসেই গেল তখন সেখানকার কাজ কারবার সম্পর্কে একটু বিদ্যার্জন করা যাক। আদালতে বাদী পক্ষের সব সময় চেষ্টা থাকে মামলার ঘটনা কিভাবে বিচারক বা জুরিবোর্ডকে বিশ্বাস করানো যায়। অন্যদিকে আসামি পক্ষের কাজ কারবার সন্দেহ নিয়ে। অর্থাৎ বিচারক বা জুরিবোর্ডের মনে ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া। যে যত ভালভাবে এ কাজ করতে পারবে সে তত ভাল উকিল। কখনও কখনও সন্দেহ সংশয়ের জয় হয় কখনওবা নির্ঘাত পরাজয়। এ নিয়ে একটি গল্প হয়ে যাক। এক উকিল এক হত্যা মামলার আসামীর পক্ষে আইনি লড়াই করছে। এক পর্যায়ে সে বুঝতে পারলো যদিও ভিকটিকের লাশ পাওয়া যায়নি কিন্তু আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ এমন যে তার মক্কেলের শাস্তি এড়ানো খুবই কঠিন হবে। তখন সে মামলার জুরি বোর্ডকে বললো, "সম্মানিত জুরিবোর্ড আপনারা আজ যার হত্যাকান্ডের জন্য আমার মক্কেলকে আসামীর কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সে কিছুক্ষনের মধ্যেই হেটে আমাদের এখানে চলে আসবে।" বলেই সে কোর্টরুমের দরজার দিকে তাঁকালো। জুরিবোর্ডও দরজার দিকে তাঁকালো। কিন্তু কিছুই ঘটলো না। কেউ এলো না। তখন উকিল বললো, "এই মাত্র যে কথাটি বলেছিলাম তা ছিল একটা বিবৃতি মাত্র। কিন্তু আপনারা সবাই আমার কথায় দরজার দিকে তাঁকিয়ে ভিকটিমের কোর্টরুমে ঢোকার অপেক্ষা করছিলেন। এর একটাই অর্থ আপনারা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সন্দিহান। সুতরাং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়েও আপনাদের সন্দেহ আছে। অতএব আমার মক্কেল হত্যার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।" এরপর দ্রুত জুরিবোর্ড সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন ও রায় দিয়ে দিলেন। কি আশা করছেন আপনারা, জুরিবোর্ড আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়ে দিলেন। যদি বলি আপনারা ঠিক ধরতে পেরেছেন। কোন সন্দেহ হচ্ছে আপনাদের? সন্দেহ হলে কোন কথা নেই। না হলে একটি কথা আছে। এবারে কিন্তু সন্দেহবাতিকগন জিতে গেছেন। উকিলের যথার্থ সন্দেহ উদ্রেক সত্ত্বেও আসামিকে জুরিবোর্ড সাজা দিয়ে দিয়েছিলেন। কারন জুরিবোর্ড উকিল সাহেবের সন্দেহ উদ্রেকের বিবৃতির উপরই সন্দেহ করেছিলেন। কেন? উকিলের বিবৃতি শুনে বেচারা আসামি যে দরজার দিকে ভ্রক্ষেপই করেনি। কারন তার হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে নিজের কোনই সন্দেহ ছিল না। জন উইলসন বলেছেন, যে যাকে সন্দেহ করে সে তার ভাল কাজকেও স্বীকৃতি দিতে পারে না। তার মানে সন্দেহবাতিকেরা ভালকাজকেও সন্দেহের চোখে দেখে।আমাদের ধর্মপত্নীগণ ও পুলিশের কাজই হল সন্দেহ করা। সুতরাং এরা ছাড়া জন উইলসন সাহেবের কথামত সাধারন মানুষের সব কাজে সন্দেহ করা মানায় না। তাহলে সে সন্দেহবাতিক নামের ব্যাধিক্রান্ত হতে পারে। আবার একেবারে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির হয়ে সকল কথায় সকলকে বিশ্বাস করলেও অনেক সময় কপাল চাপড়াতে হয়। তাই মাঝে মাঝে কিন্তু সন্দেহবাতিক হওয়ারও প্রয়োজন আছে। এসব পরিস্থিতিতে সন্দেহ না করলে বরং আপনি ঠকে যেতে পারেন । একটা গল্প শুনুন তাহলে বুঝতে পারবেন সন্দেহ না করলে কি বিপদ হতে পারে। নগেন ও যতীন দু'বন্ধু। একদিন যতীন নগেনকে বললো, "জানিস দোস্ত আমাদের পুরোহিতের বৌটা না হেব্বি দেখতে।" নগেন বললো, "বলিস কিরে যতীন?" নগেন : "হা রে! আজ রাতে আমি পুরোহিতের বাড়ি যাব। তুই পুরোহিতকে পাহারা দিবি।" যতীন: "কিভাবে?" যতীন নগেনকে বললো, "আরে পুরোহিত যখন মন্দিরে থাকবে তুই পুরোহিতের সংগে কথা বলে তাঁকে মন্দিরে দু'ঘন্টা আটকে রাখবি।" নগেন আর পুরোহিত মন্দিরে কথা বলছে। নগেন: "পুরোহিত মশাই, আপনি গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন ও ভাল পুরোহিত। আপনি অনেকদিন ধরে এ মন্দিরে পুজা করে আসছেন।" এরকম নানা কথা বলতে বলতে দু'ঘন্টা কেটে গেল। পুরোহিতের নগেনের এ গাল গল্পে সন্দেহ হল। সে বললো, " আচ্ছা নগেন, আজ তুমি হঠাৎ আমার সাথে এত কথা বলছো কেন? আগে তো কখনই বলোনি।" নগেন আমতা আমতা করে বললো, "না মানে এমনি পুরোহিত মশাই?" পুরোহিত : "মানে মানে না করে আসল কথা বলো তো।" নগেন তখন জানালো যে যতীন তাঁকে দু'ঘন্টা মন্দিরে আটকে রাখতে বলেছিল। কারন তাঁর বউ নাকি হেব্বি সুন্দরী। যতীন আজ তাঁর বাড়িতে যাবে। পুরোহিত নগেনকে জিজ্ঞেস করলো, "নগেন, তুমি বিয়ে করেছো। নগেন: "হ্যাঁ। পুরোহিত মশাই।" পুরোহিত: "আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। আমার বউ পাঁচ বছর আগে মারা গেছে।" এবার আপনি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন কখন কাকে সন্দেহ করবেন বা কখন কাকে ক্লিন চিট দিবেন। অথবা কিভাবে নিজ পত্নীর সন্দেহ সংশয়কে সামাল দেবেন। পুলিশের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা না করাই ভাল। বেশি চেষ্টা করলে পুলিশের সন্দেহকে বরং আরও উসকে দিবেন। (সমাপ্ত)

শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির উদ্দোগে লস এঞ্জেলেস ফেডারেল...

গত রবিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর দুপুর ২ ঘটিকা থেকে ৩ ঘটিকা পর্যন্ত বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির উদ্দোগে লস এঞ্জেলেস ফেডারেল বিল্ডিং এর সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।উক্ত সমাবেশে সভাপতি শামসুজ্জোহা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী চপল, আহসান হাফিজ রুমি সহ দলের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।বিক্ষোভ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সভাপতি শামসুজ্জোহা বাবলু বলেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, দেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, ৭৩ বছর বয়স্কা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গত ৮ই ফেব্রুয়ারী থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে নির্জন পরিবেশে একমাত্র কারাবন্দি হিসেবে আটকে রেখেছে। তিনি এরই মাঝে স্ট্রোক করে বা হাত ও পায়ে দুর্বলতাসহ নানাবিধ জটিল রোগে ভুগছেন।এই অনির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভা নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে জেলে মেরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গুম-খুন, জেল-জুলুমের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার গত কয়েক দিনে হাজার হাজার মিথ্যা কল্পিত মামলায় বি এন পি এর সারাদেশের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীকে আসামি করে জেলে পুড়েছে। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার গুম-খুন, মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে আবার বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরশর্ত মুক্তি দিয়ে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেন। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=286755948843013&id=100025258304962 https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/posts/100025258304962/ https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/photos/100025258304962/?type=3 https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/photos/100025258304962/?type=3

Rohingya crisis one year after

As many of you know, I’ve been following the Rohingya crisis for a while now for PBS NewsHour. Yesterday, I gave my thoughts from the ground on how things have changed one year after the mass exodus. By Tania Rashid You can see the full segment here: https://www.pbs.org/newshour/show/amid-mounting-evidence-of-atrocities-un-calls-for-investigation-into-rohingya-crackdown Special thanks to my brilliant team Kysar Hamid Salman   https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10108555415400776&id=2511445

আগামী ডিসেম্বর থেকেই ই-পাসপোর্ট

https://www.facebook.com/MaasrangaTelevision/videos/2688497941374369/ আগামী ডিসেম্বর থেকেই ই-পাসপোর্ট চালু করতে চায় সরকার। এর জন্য জার্মান প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর সাথে ১৯ জুলাই চুক্তি করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি বলছে বাংলাদেশকে দেয়া পাসপোর্টগুলো হবে চতুর্থ প্রজন্মের। ১০ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা... -প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় ১৯.০৭.২০১৮ তারিখের Business Report অনুষ্ঠানে।

ফেসবুকে নেই প্রধানমন্ত্রী, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

ফেসবুকে নেই প্রধানমন্ত্রী, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ও টুইটার অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক দেশের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা ফেসবুক-টুইটারে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই ধরা যাক। মন্ত্রীপরিষদে কাউকে বাতিল করলে উনি সবার প্রথমে তা টুইটারে জানান। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ফেসবুক টুইটার নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন তাঁরা ফেসবুকে একটিভ। তবে ঘটনা সত্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুক বা টুইটারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অথবা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা বা প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের কোন ব্যক্তিগত অথবা দলীয় আইডি নেই। তাদের নামে বিভিন্ন ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে সকলকে সতর্ক করলো আওয়ামীলীগ। গত ১৮ আগস্ট দলটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, (www.facebook.com/sajeeb.a.wazed) ও একটি ভেরিফাইড টুইটার আইডি (www.twitter.com/sajeebwazed) এছাড়াও আরো একজনের সোশ্যাল মিডিয়ায় আইডি রয়েছে। তিনি হলেন, বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। তার একটি ফেসবুক আইডি রয়েছে। (www.facebook.com/radwan.siddiq) চালু আছে। ফেসবুকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এরই মধ্যে সায়মা হোসেনের নামে একটি আইডি ভেরিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এখন ব্লক করে রেখেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা হোসেনের নামে যেসব আইডি বা পেজ আছে তাদের কোনো অনুমোদন নেই। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো সদস্য যদি কোনো আইডি বা পেজ খোলেন, তাহলে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নামে-বেনামে’ ফেইসবুক আইডি খুলুন: এইচ টি ইমাম

সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের জবাব দিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

তিনি বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বৃদ্ধিতে আপনাদের নাতি-নাতনিদের নামে-বেনামে একটার জায়গায় ১০টা কেন, প্রয়োজনে একশটা ফেইসবুক আইডি খুলতে বলুন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পৃক্ত করুন।” নির্বাচনের আগে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চলতে পারে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশঙ্কা প্রকাশের মধ্যে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি’র এক আলোচনা সভায় একথা বলেন ইমাম। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার বড় অংশই বিএনপি-জামায়াতের দখলে রয়েছে। তারা সেটার মাধ্যমে দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে আমাদেরকে নজর দিতে হবে। “এই নির্বাচনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। যদি স্বাধীনতা বিপক্ষের শক্তি বিজয় অর্জন করে তাহলে দেশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।” তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষকে এত দুর্বল ভাবলে হবে না। তাদেরকে চিনতে হবে, তারা কোথায় আছে, কী করে সেদিকে আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর আগামী লড়াইয়ে শুধু প্রতিহত নয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ধ্বংস করতে হবে।” নির্বাচন প্রসঙ্গে ইমাম বলেন, “ডিসেম্বরে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরে প্রশাসন সহায়ক সরকারের অধীনে চলে যাবে। কিন্তু বর্তমান আমরা সরকারে আছি তাই এখন থেকে আমাদেরকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং গ্রামাঞ্চল, পাড়া-মহল্লায় সব জায়গায় নির্বাচনের খবর পৌঁছে দিতে হবে।”

পরিবর্তিত সমাজে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য

পরিবর্তিত সমাজে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য: নাঈমা জান্নাত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে সংস্কৃতি। পরিবর্তিত হচ্ছে আমাদের পুরোনো জীবনাচরণ। ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন আসছে আমাদের মানসিকতায়। এক সময়কার ফেরিওয়ালা আজ রূপ নিচ্ছে ডিজিটাল অনলাইনের ব্যবসায়ীতে। ঘরে বসে আয় ও ব্যয়ের হিসাব কষতে কষতে কখন যে আমরা সাইবার হিউম্যানে পরিণত হচ্ছি, হয়তো অনেকেরই তা অজানা। তবুও স্বস্তি, আমরা তো এগুচ্ছি।
মানসিকতার পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাড়ছে সচেতনতাও; কমে যাচ্ছে মানসিক রোগ নিয়ে বিভিন্ন স্টিগমা। আজ আমরা মহাকাশেও বিচরণ করছি। হাঁটিহাঁটি পা পা করে আধুনিক বিশ্বের মহাসমুদ্রে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সাঁতার রপ্ত করেছি? সমাজ এগুলেও এখনও অনেক ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে কুসংস্কার, অজ্ঞতা; মানসিক চিকিৎসার নিয়ে অপধারণা। যেমন- অনেকেই মনে করেন, সন্তানের সমস্যা হলে তারা নিজেরাই কাউন্সেলিং করতে পারেন। এটা এক ধরনের মিথ। কিন্তু, কাউন্সেলিং এক ধরনের পেশাগত দক্ষতা, এর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের দরকার হয়। আবার ধরুন, সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক সমস্যা থাকলেও অনেকে মনে করেন, এটা একটু আধটু টেনশনের কারণে হচ্ছে, তেমন কিছু নয়। হ্যাঁ, আমরা বলতে পারি, যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা নিলে কোন রোগই তেমন কিছু নয়। আবার অনেকের ধারণা, শিশুরা কোমলমতি ও নিষ্পাপ, মানসিক রোগ হওয়ার কথা নয়। বলাই বাহুল্য, আমাদের দেশে ১৮ শতাংশের বেশি শিশু (১৮ বছরের নিচে) কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছে। এ রকম আরও কত পরিসংখ্যান আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এবার আসি, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কেমন আছে, সেই প্রসঙ্গে। এখানে আমরা জগৎ অনুযায়ী মনুষ্যজীবকে কয়টি ভাগ করতে পারি। যেমন- সামাজিক জীব, পারিবারিক জীব ও ভার্চুয়াল জীব। সহজে বোঝার স্বার্থে একটু ব্যাখ্যা করি। সামাজিক জীব বলতে আমরা বুঝি, যারা সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান বোঝেন এবং মেনে চলেন। পারিবারিক জীব হচ্ছে, যিনি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে অফিস আর বাসা, এই গণ্ডির বাইরে আর কিছুই তিনি ভাবেন না। আর নারীদের ক্ষেত্রে রান্না ঘর আর স্বামী-সন্তানের বাইরে তিনি আর কাউকে চিনতে চান না, বুঝতেও চান না। আর ভার্চুয়াল জীব হলো যারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের রং-তামাশার বাইরে বাস্তব বা বৈষয়িক জগত, সমাজ, সংস্কার সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা কম রাখেন। ওই ব্যক্তির আনন্দ, বেদনাসহ আবেগের সব উৎস এই ভার্চুয়াল জগত। দল গঠন থেকে শুরু করে গাছ রোপন, সব ধরনের কাজই তারা ভার্চুয়ালি করে থাকেন। এই কাজ করতে গিয়ে তারা বাস্তবের সাথে সম্পর্ক রাখার সময় পান না, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এক্ষেত্রে সমাজ বা রাষ্ট্রের বিদ্যমান অর্জন ধরে রাখার বা সমাজ ও রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নেয়ার কর্ণধার খুঁজে পাওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হবে। বর্তমান তরুণ সমাজ এই ভার্চুয়াল জগতের ক্ষতির শিকার। যদিও এর ব্যতিক্রমও আছে। তবে তরুণ প্রজন্মকে দোষারোপ করে অভিভাবকের দায়িত্বহীনতাকে আড়াল করা যাবে না। তারা কিন্তু আমাদের আচরণই নিজেদের মতো করে রপ্ত করে থাকে। বিয়ে বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে যেতে যতটা তোড়জোর আমরা করি, আত্মীয় বা প্রতিবেশীর শেষ বিদায়ে আমরা কি তা করি? অথচ, কেউ মারা গেলে তার স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে জরুরি এবং তা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী আচার। পরিণতিতে দেখতে পাই, বাবা-মায়ের মরদেহ আঞ্জুমানে মফিদুলকে দেয়া, এমনকি বাবা-মাকে হত্যা করার মতো ঘটনা। দ্বিতীয় যে বিষয়টাতে আমরা দৃষ্টি দিতে পারি, তা হলো সমালোচনায় অন্যকে ছোট করার অভ্যাস বা জনসম্মুখে কাউকে অপমান, অপদস্থ করে আনন্দ পাওয়া বা নেতৃত্ব জাহির করা। তরুণ প্রজন্মের সম্মুখেই আমরা এটা করে থাকি। এতে করে তারা আমাদের চোখের সামনেই বেড়ে উঠছে ক্ষুদ্র মানসিকতায়। পরিবর্তিত সমাজ বা জগতের সাথে তরুণ মানসিকতার যে পরিবর্তন ঘটছে, তা পরাধীনতার শেকলে আবদ্ধ হওয়ার শামিল। মননশীলতায় সে যদি স্বাধীন না হয়, সমাজ ও পৃথিবীর সর্বোপরি নিজের জন্যও যদি কল্যাণকর না হয়, তবে সেই তরুণের কাছ থেকে অভিভাবক হিসেবে কী-ই বা আশা রাখতে পারি? সমাজের কোন কিছুর সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল জগতে বসবাসকারী তরুণদের দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কমছে যোগাযোগের দক্ষতাও। দেখা যাচ্ছে, তারা সমস্যা মোকাবেলার বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বনের চেয়ে নেতিবাচক কৌশল গ্রহণ করছে। বাড়ছে আত্মহত্যা প্রবণতা, মাদকের অপব্যবহার, সহিংসতা ও নির্যাতন। নিজেদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতন হওয়ার পর্যাপ্ত তথ্য তরুণ সমাজকে কি নিয়মিত দেয়া হচ্ছে? যদি তা না দেওয়া হয়, তবে এটাই হতে পারে তরুণদের অপরাধ প্রবণতার পূর্ববর্তী কারণ। তরুণ প্রজন্মের সুস্থ, সুখী ও প্রাণোচ্ছল জীবন যাপনে তাদের প্রয়োজনগুলোর প্রতি মনোযোগ দিন। এ লক্ষ্যে তরুণদের সাথে অভিভাবকদের নিয়মিত আলাপচারিতা জরুরি। মনে রাখতে হবে, কেবল সুস্থ তরুণরাই পরিবর্তনের বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনতে সক্ষম। লেখক: ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট।

যুক্তফ্রন্ট এবং দ্বিকালের তুচ্ছতাচ্ছিল্য! 

যুক্তফ্রন্ট এবং দ্বিকালের তুচ্ছতাচ্ছিল্য!

গোলাম মাওলা রনি

আজকের নিবন্ধের বিষয়বস্তু হিসেবে আমি মূলত তিনটি প্রসঙ্গ আলোচনা করব। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ২০১৮ সালের যুক্তফ্রন্ট এবং যুক্তফ্রন্টকে ঘিরে তৎকালীন এবং সমকালীন ক্ষমতাসীনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য নিয়ে আলোচনার শুরুতে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না যে, কোনটি সবার আগে তুলে ধরব। আমার মনে হচ্ছে মানুষের ভুলো মন এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দু-চারটি কথা বলে মূল প্রসঙ্গের আলোচনা শুরু করলে বিষয়টি পাঠকদের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজবোধ্য হবে। আমরা সবাই জানি, ভুলো মন বা স্মৃতিবিভ্রাট বলতে আসলে কিছু নেই। কখনো সখনো মানুষের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে এবং মস্তিষ্কের নিউরনের সুনির্দিষ্ট অংশে পচন ধরলে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়। অন্যথায় মানুষ সাধারণত ভোলে না। তারা ভুলে থাকার ভান করে অথবা ভুলে থাকার ভং ধরে বিশেষ সং শুরু করে। মানুষ যখন মনে করে যে, বিষয়টি তার মনে রাখার দরকার নেই— অথবা তার পদমর্যাদা এবং অবস্থানের কারণে বিষয়টি হয়তো কেউ তাকে মনে করিয়ে দেবে তখনই সে ঘটনাটিকে মনের অভ্যন্তরে ছাইচাপা দিয়ে রাখে। আবার ঘটনার সঙ্গে যদি তার ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান, স্বার্থ, লোভ-লালসা কিংবা প্রাপ্তির যোগ না থাকে, তাহলেও মনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঘটনার ছাই বা সলিল সমাধি রচিত হয়। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রথম যুক্তফ্রন্টের ঘটনাও আমরা একই কারণে ছাইচাপা দিয়ে রেখেছি। এবার তুচ্ছতাচ্ছিল্য নিয়ে কিছু বলি। এটি অত্যন্ত নীতিগর্হিত কাজ এবং সব ধর্মেই এটাকে কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কালামে রব্বানির সূরা লুকমানের ১৮ নম্বর আয়াতে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কারণ ও পরিণতি উল্লেখ করে তা না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্যমতে, মানুষ সবসময় অহংকারের বশবর্তী হয়ে অবজ্ঞা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থাকে এবং একই কারণে জমিনে দম্ভ করে বেড়ায়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমরা এবার সরাসরি শিরোনাম প্রসঙ্গে চলে যাই। ১৯৫৪ সালে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যখন যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলো তখন সেই রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারি দলের লোকেরা পথে-ঘাটে হাসি-তামাশা, ঠাট্টা-মস্করার পাশাপাশি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নানামুখী কথাবার্তা আরম্ভ করে দিল। তৎকালীন যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বয়স, গণবিচ্ছিন্নতা, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অবিশ্বাস এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মুসলিম লীগ নেতারা যা মুখে আসে তাই বলা শুরু করলেন। যাকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলো সেই শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের বয়স ছিল তখন ৮১ বছর। ভারত বিভাগের পর তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে অপাঙেক্তয় হয়ে পড়েন। তাকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে এমনভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়, যার কারণে তিনি অলিখিতভাবে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। অন্যদিকে তার কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টির কার্যক্রম, সাংগঠনিক ভিত্তি ও ক্ষমতা সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠার অবিসংবাদিত জনপ্রিয় নেতা। তার অতীত ইতিহাস, সফলতা এবং জনপ্রিয়তার জন্য ক্ষমতাসীনরা তাকে ভিতরে ভিতরে যমের মতো ভয় পেতেন। যুক্তফ্রন্টের দ্বিতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে অপাঙেক্তয়। পাকিস্তান গঠনের পর দীর্ঘদিন তাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে দেশে ফেরার অনুমতি মিললেও তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পেরে পূর্ব বাংলায় এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি যখন আওয়ামী লীগে ভিড়লেন তখন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ-কালকার গণফোরাম, এলডিপি বা বিকল্প ধারার চেয়ে কতটুকু বড় বা ছোট ছিল তা যেমন স্পষ্ট করে বলা যাবে না, তদ্রূপ তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক কলহ-বিবাদ যে বর্তমান সরকারের শরিক দল জাসদের ইনু বনাম বাদলের চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল, তা নির্দ্বিধায় বলা চলে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও তার চীনা নীতি এবং দলের অভ্যন্তরে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কোণঠাসা হয়ে তিনিও অনেকটা আশাহত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। ফলে যুক্তফ্রন্ট নিয়ে যখন একপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন তখন অন্যপক্ষ সমানতালে প্রাণখুলে হাসি-তামাশা করেই যাচ্ছিলেন। প্রথম যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর ৬৪ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং ১৯৭১-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতন, নাটকীয় ঘটনা প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র, প্রহসন ইত্যাদি ঘটে গেছে। কিন্তু সব কিছুর ইতিহাস ছাপিয়ে যুক্তফ্রন্টের গঠন ও বিজয়ের কাহিনী আজও রাজনীতির মাঠে ধ্রুবতারা এবং মাইলস্টোন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকবৃন্দ যুক্তফ্রন্টের গঠন ও বিজয়ের নেপথ্য কারণসমূহ বর্ণনা করে যে সারমর্ম তৈরি করেছেন তা মহাকালের রাজনীতির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুখপাঠ্য মর্মবাণী হয়ে রয়েছে। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে মূলত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও ঘৃণা যেমন কাজ করছিল তেমনি পুরো জাতির কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃবৃন্দ যখন ফ্রন্টের দায়িত্ব নিলেন তখন মানুষ তাদের ওপর আস্থা স্থাপনের সুযোগ পেল। ব্যক্তি হিসেবে শেরেবাংলা এবং সোহরাওয়ার্দী সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এমন একটি স্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন যাদের যোগ্যতা, সফলতা, গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা করা যেত এমন একজন লোকও মুসলিম লীগে ছিল না। অবস্থার চাপে তারা হয়তো কোণঠাসা ছিলেন— অথবা বয়সের ভারে ন্যুব্জ ছিলেন; কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধিতে তারা ছিলেন অতুলনীয়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তাদের অতীত সফলতা, নানা অঘটন ঘটনে অপরিসীম দক্ষতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার যে সক্ষমতা তাদের ছিল তার কথা ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ নেতারা বেমালুম ভুলে গিয়ে নিজেদের পতন ডেকে এনেছিলেন। ১৯৫৪ সালের ঠিক ৬৪ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশে পুনরায় যুক্তফ্রন্ট নাম দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি মিলে একটি রাজনৈতিক জোট করেছেন। এ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঠিক অতীতকালের মতোই আলাপ-আলোচনা, ঠাট্টা-মশকরা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য মূলক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। অতীতকালের সঙ্গে নব্য ডিজিটাল সংস্কৃতির সংযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ের মন-মানসিকতা, চরিত্র, আচার-আচরণ ইত্যাদির সমন্বয়ে সমালোচনার যে ভাষা ব্যবহূত হচ্ছে, তা যদি ১৯৫৪ সালের মুসলিম লীগ নেতারা দেখতেন অথবা শুনতেন তবে শরমে-মরমে মাটির সঙ্গে মিশে যেতেন। সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা যদিও সংযত মন্তব্য করেছেন কিন্তু ক্ষমতার মধু-মেওয়াধারীরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন। তারা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে ইচ্ছামতো বিষোদগার করার আগে একবারও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখেননি যে, নয়া যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের অঘটন ঘটানোর সক্ষমতা বা অক্ষমতার পরিধি কতটুকু। আজকের আলোচনায় যুক্তফ্রন্টের ভূত-ভবিষ্যৎ কিংবা সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আমি নিজে কিছুই বলব না। আমি কেবল যুক্তফ্রন্টের বিপক্ষের এবং পক্ষের লোকজনের কিছু যুক্তি-তর্ক, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি তুলে ধরব। যার ফলে সম্মানিত পাঠক খুব সহজেই নিবন্ধের সারমর্ম অনুধাবন করতে পারবেন। যুক্তফ্রন্টের বিপক্ষের লোকেরা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রথমেই শুরু করেছেন ফ্রন্টের নেতাদের নানাবিধ-অপমানজনক উপাধিতে ভূষিত করার জন্য। মুরগি মিলন, বাস্টার্ড সেলিম, চাকু মহিউদ্দিন, কুত্তা কানু, চাপাতি যদু, দৌড় সালাউদ্দিন ইত্যাদি অতীত উপাধির মতো করে সম্মানিত লোকদের অসম্মানিত করার জন্য আজগুবি সব উপাধিতে সামাজিক মাধ্যম গিজ গিজ করছে। নেতাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন, শারীরিক গঠন, বিয়ে-শাদি, দাম্পত্য ও পুত্র-কন্যা পরিজনদের নিয়েও মুখরোচক কটাক্ষ শুরু হয়ে গেছে। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া, দেশীয় রাজনীতিতে তাদের মর্যাদা পরগাছার মতো এবং ব্যক্তিগতভাবে এমপি তো দূরের কথা তারা ভোটাভুটিতে অনেকে যে চেয়ারম্যানও হতে পারবেন না, এমন কটুবাক্য দ্বারা সব আড্ডার প্লাটফর্ম গরম করা হচ্ছে। তারা সবাই দলত্যাগী, রাজনৈতিকভাবে বহুগামী এবং যখন যে পাত্রে অন্ন গ্রহণ করেন সেই পাত্র ছিদ্র করে তারা উপকারী অন্নদাতাকে সমুচিত শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তারা ভীরু, সুযোগ সন্ধানী এবং দেশি-বিদেশি মন্দ চক্রের মিত্র হিসেবে দেশবিরোধী এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। দীর্ঘদিন একত্র থেকে সংগঠন করা, জনগণের জন্য আত্মত্যাগ, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে রাজনীতি করা ইত্যাদি বিষয়সমূহ তাদের ডিকশনারিতে নেই। উপরোক্ত সমালোচনার বিপরীতে যুক্তফ্রন্টের পক্ষের লোকেরা নানান রকমের ইতিবাচক কথা বলে তাদের শক্তিমত্তা এবং আগামী দিনে সফলতা সম্পর্কে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েই চলেছেন। তাদের মতে, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শীর্ষ নেতৃবৃন্দের রয়েছে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, তারা কেউ কোনো দিন পকেট ভারী করা, ক্ষমতার লোভ, পদ-পদবির লোভ, স্বার্থসিদ্ধির ধান্ধা ইত্যাদির কারণে রাজনীতি করেননি। জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং নীতি ও আদর্শের জন্য তারা সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। গত ৫০ বছরে এ দেশের যাবতীয় লড়াই-সংগ্রামে তারা সর্বদা মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন। তারা যখন যে পক্ষে ছিলেন সেই পক্ষই বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তারা যাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন তাদেরই পতন হয়েছে। তারা বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় ছিলেন বটে, তবে নিজেদের স্বার্থে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য সেখানে যাননি। দলের প্রয়োজনে অথবা সময়ের প্রয়োজনে তারা সেখানে ছিলেন। কিন্তু নীতি ও আদর্শের সঙ্গে অমিল হওয়ার কারণে তারা দলের মধ্যে গণতন্ত্র চালুর চেষ্টায় প্রতিবাদী হয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তারা দলে থাকা অবস্থায় অথবা দল থেকে বের হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত করেননি। বরং দলের বিপদে-আপদে অতীতের তিক্ততা ভুলে পাশে দাঁড়িয়েছেন বহুবার। কিন্তু দল তার সুসময়ে সেই স্মৃতি মনে না রেখে তাদের একের পর এক আঘাত ও অপমান দ্বারা জর্জরিত করেছে। তারা আরও বলেন, তাদের কারও বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয়, চরিত্রহীনতা, দেশবিরোধী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ, ক্ষমতাসীনদের পদলেহন করা, অন্যায়ের কাছে মাথানত করার ইতিহাস নেই। তারা যখন যা করেছেন তা প্রকাশ্য দিবালোকে করেছেন— যা বলেছেন তা স্পষ্টভাবেই বলেছেন এবং যখন যে পক্ষে গেছেন বা যার বিরুদ্ধে গেছেন তা ঘোষণা দিয়ে বীরের বেশেই করেছেন। ভোটের রাজনীতিতে ব্যর্থতা, নির্বাচনী এলাকা না থাকা এবং গণমানুষের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংযোগ না থাকা প্রসঙ্গে তারা বলেন, তারা কোনো দিন স্থানীয় রাজনীতি মাথায় রেখে কোনো কিছু করেননি। তারা সর্বদা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়েছেন। দেশের ট্রিপিক্যাল রাজনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হুন্ডা-গুণ্ডার পেছনে অর্থ ব্যয়, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁবেদারি, দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য লবিং ইত্যাদির পেছনে সময় ব্যয় না করে তারা তাদের বিবেক, বিদ্যা-বুদ্ধি ও সামর্থ্য জাতির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় করেছেন। যুক্তফ্রন্টের পক্ষের লোকেরা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সুসময়ে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সামনে দাঁড়িয়ে তার কিছু সহযোগীর বিরুদ্ধে কথা বলা এবং প্রতিকার না পেয়ে জাসদ গঠন কোনো সাধারণ কর্ম ছিল না। তেমনি স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানোর জন্য যে সাহস, শক্তি ও দেশপ্রেম দরকার তা যুক্তফ্রন্টের বিরোধীদের কারও মধ্যে ছিল না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশ্যে রুখে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্রশক্তি কর্তৃক একনাগাড়ে ১০ বছর স্বাধীন বাংলাদেশে জেলখাটা লোক কী ভীরু না কাপুরুষ তা নিয়ে বিতর্ক করার সময় তাদের নেই। যুক্তফ্রন্ট নেতা আ স ম রব সম্পর্কে উল্লিখিত কথাগুলো বলার পর তারা তাদের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে বলেন, মান্না হলো বাংলাদেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে একমাত্র সব্যসাচী নেতা। মঞ্চ, গোলটেবিল, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা, লেখালেখি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, বুদ্ধিজীবী মহল, সংবাদপত্রসহ সব গণমাধ্যম এবং ছাত্র-রাজনীতির ময়দানে যুগপত্ভাবে মান্নার যে দক্ষতা তার সমপর্যায়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি বাংলাদেশে নেই। জাফর উল্লাহ চৌধুরী এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাজনীতি, পেশাগত সুনাম, সুখ্যাতি ও সফলতা, পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলমতের ঊর্ধ্বে দেশব্যাপী তাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার সঙ্গে তুলনীয় ব্যক্তিত্ব দ্বিতীয়জন এ দেশে নেই বলে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের গর্বের সীমা নেই। ফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে তারা বলেন, তিনি হলেন নেতাদের নেতা, শিক্ষকদের শিক্ষক এবং আইনজীবীদের আইনজীবী। জাতির ক্রান্তিলগ্নে নেতারা যখন কোনো সমাধান খুঁজে পান না, কিংবা আইন-আদালতের দ্বারস্থ হওয়া লোকজন যখন উপায় খুঁজে পান না, তখন সবাই তারই দ্বারস্থ হন। তিনি সবার আকর্ষণের কেন্দ্র। সবাই প্রয়োজনে তার কাছে যায়—কিন্তু নিজের কোনো প্রয়োজনে তাকে কোনো দিন কারও কাছে যেতে হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যখন তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন, তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ড. কামালের মতো চৌকস মেধাবী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বিতীয় ব্যক্তি যেমন ছিলেন না, তেমনি এখনো নেই। বঙ্গবন্ধু রত্ন চিনতে পারতেন এবং কোন রত্নের কী প্রয়োজন রয়েছে তা বুঝতেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার জন্য এবং দেশের সংবিধানের জন্য তিনি দেশের স্বার্থে ড. কামালকে আইনমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তখন সে পদে দাঁড়ানোর যোগ্যতা ও সাহস কতজনের ছিল! তিনি আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমন কিছু জানেন, যা বাংলাদেশের অন্য কেউ জানেন না। তাকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনার পরও তিনি আজ পর্যন্ত একটি উহ্ শব্দও উচ্চারণ করেননি। উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তারা সফল হবেন। কারণ তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে, করণীয় সম্পর্কে, গন্তব্য এবং সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন। অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, তারা যুক্তফ্রন্টকে গণনার মধ্যে ধরছেন না। যুক্তফ্রন্টের কৌশল ও কর্মপন্থা নিয়ে গবেষণা ও সেগুলোকে মোকাবিলার উপায় নিয়ে ভাবছেন না। তারা যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা, প্রভাব, সাহস, কৌশল এবং পরিস্থিতি কাজে লাগানোর দক্ষতার কথা না ভেবে কেবল নিজেদের শক্তিমত্তা, অর্থবিত্ত ও তথাকথিত বন্ধুদের আশ্বাসবাণীতে নির্ভর করে নিজেদের সময়ের স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছেন—যার গন্তব্য তারা নিজেরাও জানেন না। লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট

বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?

বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?https://www.facebook.com/696941622/posts/10155826988741623/

আওয়ামী লীগ চাইছিলো আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হোক। নির্বাচন কমিশনও একরকম অনড় ছিলো কিছু অাসনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে। তবে কমিশনের সবাই যে এই বিষয়ে একমত নন, তাতো আমাদের জানাই ছিলো। বিএনপি আর তার মিত্ররা শুরু থেকেই ইভিএম এর বিপক্ষে। বিএনপিকে পছন্দ করেননা এমন অনেকেরও আপত্তি আছে ইভিএম ব্যবহারে। তবে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী যখন যৌক্তিকভাবেই বললেন ইভিএম নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই, কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে দেখা যেতে পারে - কার্যকর না হলে বাদ দেয়া যেতে পারে; তখনই নির্বাচন কমিশনের সুর নরম হয়ে এলো। এখন তারা বলছেন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছার ওপরই সব নির্ভর করবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এও বলেছেন তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে আমাদের নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলছেন, কিন্তু সাধারন মানুষ কি ভাবছেন? সেটি বোঝার জন্যই গত শুক্রবার বিকেল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত, পুরো এক সপ্তাহ অর্থাৎ ১৬৮ ঘন্টা ফেসবুকে আমার অ্যাকাউন্ট এবং পেইজ থেকে একটি জরিপ চালাই। জানতে চেয়েছিলাম, আপনি কি আগামী নির্বাচনে ইভিএম চান? জরিপে অংশ নিয়ে ভোট দিয়েছেন মোট ৫২১৪ জন। জনগন ইভিএম -এর বিপক্ষে এটা স্পষ্ট। ৪৩৭৮ জন বলেছেন তাঁরা ইভিএম চাননা, অর্থাৎ জরিপে অংশগ্রহনকারীদের ৮৩.৯৭% ইভিএম এর বিপক্ষে। তবে পক্ষেও মানুষ আছেন। শতকরা হিসেবে তাঁদের সংখ্যা ১৬.০৩ ভাগ। ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮৩৬ জন। শুধু পক্ষে বিপক্ষে ভোট দিয়েই সবাই ক্ষান্ত হননি, অনেকেই নানা মন্তব্য আর পরামর্শও রেখেছেন ওই ষ্ট্যাটাসগুলোতে। আপনি দেখতে চাইলে আমার টাইমলাইন বা ফেসবুক পেইজ ঘুরে আসতে পারেন। যারা গত সাতদিন লাইক দিয়ে আর শেয়ার করে এই জরিপকে জীবন্ত রেখেছেন তাদের ধন্যবাদ। তবে সব কথার শেষ কথা, বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনঃ 

" দেশের সবাইকে ঈদুল আজহার বিলম্বিত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাকে ঈদের আগের বিকেলে নিম্ন আদালত জামিন প্রদান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ তার মানবিকতার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি অভিভূত। আমার আইনজীবীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

আমার একমাত্র কন্যা প্রকৃতি’র সাথে ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের একজন পরীক্ষিত, প্রকৃত ও সুযোগ্য অভিভাবক, এই ভূমিকার বাইরেও তিনি যে একজন মমতাময়ী মা, তা আবারো আমি নিজে একজন মা হিসেবে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বুঝতে পারলাম। নিকট অতীতেও রোহিংগা ইস্যুতে তার মাতৃত্বসুলভ গুনাবলীর অনেক দ্রষ্টান্ত তিনি রেখেছেন।

পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট আর কাশিমপুর কারাগারে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এবং নার্সেরা – যারাই আমাকে অনেক প্রফেশন্যালিজম আর সহমর্মিতার সাথে প্রতিটি স্তরে হেফাজত করেছিলেন, তাদের প্রতিও আমার আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা।

অভিনয় শিল্পী সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী আর বাংলাদেশের সকল শিশুসহ আমার শুভাকাংক্ষীদের বলতে চাই – আপনারা যারা বিগত কয়েক সপ্তাহে আমার পরিবারের পাশে থেকেছেন, ক্রমাগত সাহস আর আশ্বাস দিয়েছেন, যার যার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য আমার অনেক ভালবাসা রইল। আপনাদের সবার নিঃস্বার্থ প্রার্থণাতেই আমার মেয়ে প্রকৃতি ঈদের সারাটা দিন তার মা’কে কাছে পেয়েছে।

পরিশেষে আমি আবারো একান্ত অনুরোধ করে বলতে চাই, যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরায়ত মাতৃত্বসুলভ মমতায় আমার আবেগতাড়িত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। "

- কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৮

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.