কে এই খাসোগি কেন এই জিঘাংসা

৭ মিনিটেই খাসোগিকে শেষ করে দেয় ঘাতকেরা

৭ মিনিটেই খাসোগিকে শেষ করে দেয় ঘাতকেরা
সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের সাত মিনিটের মধ্যে ঘাতকরা সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই পত্রিকা।
খাসোগির জীবনের শেষ মুহূর্তের অডিও রেকর্ডিং পুরোটা শুনেছেন এমন একজন তুর্কি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে একথা জানায় পত্রিকাটি। খবরে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয় খাসোগিকে হত্যার জন্যই ইস্তাম্বুলে গিয়েছিল সৌদি ঘাতকেরা। খাসোগিকে সৌদি এজেন্টরা জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলক্রমে তিনি নিহত হন, সৌদি আরব এমন রিপোর্ট তৈরি করছে বলে খবর প্রকাশ হওয়ার পর মিডল ইস্ট আই হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ প্রকাশ করল।
বীভৎস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় তুরস্কের সূত্রটি জানায়, খাসোগিকে কনসাল জেনারেলের অফিস থেকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি কক্ষের টেবিলের ওপর নিয়ে ফেলা হয়। এসময় নিচের তলায় উপস্থিত একজন ব্যক্তিও ভয়ঙ্কর চিৎকারের শব্দ শুনতে পান বলে জানায় সূত্রটি। ‘স্বয়ং কনসালকেও তার কক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। ঘাতকরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিল,’ মিডল ইস্ট আইকে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। একসময় খাসোগিকে কোনো ধরনের চেতনানাশক দিয়ে তার চিৎকার বন্ধ করা হয়। গত ২ অক্টোবর খাসোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওইদিন খাসোগি তার আগের বিয়ের তালাকের কাগজপত্র আনতে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন।
এর আগের দিন একটি ব্যক্তিগত বিমানে ১৫ জন ঘাতকের একটি দল সৌদি থেকে ইস্তাম্বুলে গিয়ে পৌঁছান। এদের মধ্যে সৌদি নিরাপত্তা বিভাগে ফরেনসিক প্রধান সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবাইগিও ছিলেন। খাসোগি জীবিত থাকতেই তাকে টেবিলের ওপর টুকরো টুকরো করতে শুরু করে তুবাইগি, জানায় তুরস্কের সূত্রটি। হত্যাকাণ্ড শেষ করতে সাত মিনিট সময় লাগে, যোগ করে সূত্রটি। খাসোগির দেহ কাটার সময় তুবাইগি কানে ইয়ারফোন দিয়ে গান শুরু করে এবং দলের অন্যান্যদেরও একই কাজ করতে বলে। ‘আমি কাজ করার সময় গান শুনি। তোমাদেরও একই কাজ করা উচিৎ,’ অডিও রেকর্ডিং-এ তুবাইগিকে বলতে শোনা যায়।
মিডল ইস্ট আই জানায়, অডিও রেকর্ডিং-এর তিন মিনিট অংশ তুরস্কের সাবাহ পত্রিকাকে দেয়া হয়েছে তবে তারা সেটি এখনও প্রকাশ করেনি। তুরস্কের একটি সূত্র মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানায়, তুবাইগি সৌদি ফেলোশিপ অফ ফরেনসিক প্যাথলজির প্রেসিডেন্ট। ২০১৪ সালে লন্ডনভিত্তিক সৌদি পত্রিকা আশারাক আল-আসওয়াত তুবাইগির একটি সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানে সে একটি মোবাইল ক্লিনিকে কিভাবে সাত মিনিটের মধ্যে মৃত হজ যাত্রীদের অটোপসি করার বিষয়ে কথা বলে। এই মোবাইল ক্লিনিক ক্রাইম সিনেও ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানায় সে। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি তার আগের আগের তালাকের কাগজপত্র আনতে যান। এসময় কনস্যুলেটের বাইরে তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিজের কাছে তিনি তার ফোনটি রেখে যান। তিনি ফিরে না এলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা ফোন করার নির্দেশও হাতিসকে দিয়ে যান খাসোগি। ওই দিন মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর হাতিস তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। খাসোগি সৌদি যুবরাজ তথা রাজপরিবারের সমালোচনা করায় সৌদি পত্রিকায় তার কলাম বন্ধ করে সতর্ক করে দেয়া হয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখালেখি করছিলেন। খাসোগির পরিচিত একজন গণমাধ্যমকে জানান, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেছিল সৌদি সরকার। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন খাসোগিকে কনস্যুলেটের ভিতর হত্যা করা হয়েছে তার অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। কিন্তু, সৌদি কর্তৃপক্ষ খাসোগি নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।
বিশ্বব্যাপী এ মুহূর্তে তুমুল আলোচিত নাম সাংবাদিক জামাল খাসোগি। এমকি তাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতিও। সৌদি আরবের স্বেচ্ছানির্বাসিত ভিন্নমতালম্বী এ সাংবাদিক গত ২ অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকে লাপাত্তা। তবে ইতোমধ্যে প্রায় নিশ্চিত, খাসোগি খুন হয়েছেন।
তুরস্ক শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ভিসা সংক্রান্ত কাজে সৌদি কনস্যুলেট কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর আর বের হননি খাসোগি। অন্যদিকে প্রথমে সৌদি দাবি করেছিল, মূলদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেও খাসোগি বের হয়ে গেছেন পেছনের গেট দিয়ে। কিন্তু তুরস্ক পাল্টা দাবি করেছে, সিসিটিভি রেকর্ডে তা নেই। এরপরই বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, খাসোগি খুন হয়েছেন। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, অবশেষে জামাল খাসোগির মৃত্যুর কথা স্বীকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদির রাজপরিবারের প্রতিনিধিদের তদন্তের সময় মারা গেছেন খাসোগি-তাদের বিবৃতিতে এমনটা থাকতে পারে।
তুর্কি পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যা মিশনে অংশ নেয় রিয়াদ থেকে ইস্তাম্বুলে আসা ১৫ সদস্যের সৌদি স্কোয়াড। এ সদস্যের একজন সৌদি ফরেনসিক বিভাগের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবায়গি। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান খাসোগিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অপহরণের অনুমোদন দেন। তবে সৌদি সরকার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। খাসোগির মৃত্যু নিয়ে তুরস্কসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিন্ন দাবির পেছনে আছে সিসিটিভি ফুটেজ। এ ছাড়াও বলা হচ্ছে, সাংবাদিক জামাল খাসোগি বন্দি, নির্যাতন ও ‘হত্যা’র ঘটনা নিজেই রেকর্ড করেছিলেন। সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার আগে তিনি নিজের অ্যাপল ওয়াচে রেকর্ডিং চালু করেন। পরে কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও সবশেষে ‘হত্যা’র ঘটনা সবই ওই অ্যাপল ওয়াচে রেকর্ড হয়। পরে সেগুলো তার ব্যবহৃত আইফোন ও তথ্য সংরক্ষণের অনলাইন স্টোরেজ ‘আইক্লাউডে’ জমা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাদশা সালমানের সঙ্গে খাসোগির বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া তুরস্কসহ এ নিয়ে সরব পশ্চিমা বিশ্ব। সব মিলিয়ে জামাল খাসোগি ইস্যুতে ক্রমাগত চাপ বাড়ছে সৌদি আরবের ওপর। প্রশ্ন উঠেছে, কে এই খাসোগি। কেনই বা তার ওপর সৌদি আরবের এত ক্ষোভ। এক কথার উত্তর-সৌদি যুবরাজের মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক ছিলেন খাসোগি। ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কলাম লিখতেন তিনি। সঙ্গত কারণেই রাজপরিবারের রোষে পড়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে এক বছর আগে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। যুবরাজ সালমানের শাসনে সৌদি আরবের পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে খাসোগি একবার লিখেছিলেন, ‘যখন আমি ভয়, হুমকি, মনের কথা অকপটে বলার মতো দুঃসাহসী বুদ্ধিজীবী ও ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও প্রকাশ্যে অপমান করার বিষয়ে কথা বলি এবং ওই সময়ে যদি আমি আপনাকে জানাই যে আমি সৌদি আরবের মানুষ, তখন কি আপনি বিস্মিত হবেন?’ এই একটি বাক্যেই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, সৌদিতে ভিন্নমত পোষণকারীদের প্রতি কতটা দমন-নিপীড়ন চলে। আল-জাজিরার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও আরব বিশ্বে নিজের প্রজন্মের সবচেয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একজন ছিলেন খাসোগি। প্রায় ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত তিনি। ১৯৫৮ সালে সৌদি আরবের মদিনায় জন্ম। একসময় তিনি সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতাবৃত্তের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু যখন থেকে সৌদি আরবের অনেক নীতিমালার সমালোচনা করতে শুরু করলেন তখন থেকেই তিনি রাজপরিবারের টার্গেট। বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তার জীবন আরও সংশয়ের মুখে পড়ে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর লেখা তার কলামের শিরোনাম ছিল, ‘সৌদি আরব সব সময় এমন দমনকারী ছিল না, এখন সেটা অসহনীয়’। এতে তিনি লেখেন, ‘তরুণ ক্রাউন প্রিন্স (পরবর্তী শাসক) মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আমাদের দেশটিকে আরও উদার, সহিষ্ণু করে গড়ে তুলবেন। কিন্তু এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, সেখানে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার ভালো বন্ধু। আমার দেশের নেতৃত্বের ব্যাপারে যারা দ্বিমত প্রকাশের দুঃসাহস দেখিয়েছেন, সেই বুদ্ধিজীবী ও ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে।’

পূজার আগে ত্বককে করুন চকচকে

পূজার আগে ত্বককে করুন চকচকে

ছবি-সংগৃহীত
আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যে যেমনই দেখতে হই না কেন, উৎসবে একটু সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে সবারই মন চায়। তবে সব সৌন্দর্য চর্চার জন্য মেকআপ কিট না ব্যবহার করলেও চলবে। প্রাচীনকাল থেকে সৌন্দর্য চর্চার জন্য এমন কিছু সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আজও সমানতালে জনপ্রিয়।চলুন জেনে নেয়া যাক প্রাচীনকালের রূপচর্চার সেই সামগ্রীগুলো যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। চিনি হাত-পায়ের লোম অপসারণের জন্য চিনি একটি কার্যকরী উপাদান। প্রাচীনকালের নারীরা, লোম তুলতে চিনি ব্যবহার করতো। লোম অপসারণের এই চিকিৎসা প্রাচীন মিশর থেকে শুরু। এটি ওয়াক্সিং-এর মতো। তবে ওয়াক্সিং-এর মতো এটিতে ব্যথা নেই। এটিকে সুগারিং বলা হয়। রেজার ব্যবহার ক্ষতিকর জেনেও নানা ব্যস্ততারভারে আজ আমরা এটিকেই বেশি ব্যবহার করি। উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও গ্রীসে লোমতোলার পদ্ধতি হিসেবে সুগারিং ব্যবহার আজও জনপ্রিয়। কারণ এর জন্য, চিনি, লবণ, পানি এবং কাঠের লাঠি ব্যবহার করা হয়। মশুর ডাল সৌর্ন্দয্যর্চচার জন্য হাতের নাগালে পাওয়া এই উপাদানটি আপনাকে সুন্দর ও মসৃণ ত্বকের অধিকারী করতে পারে। মসুর ডালের প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে অতি সহজেই আপনার মুখের কালো ছাপ দূর হয়ে যাবে। এতে প্রোটিন এবং ভিটামিন রয়েছে। ফেস মাস্ক হিসেবে এর ব্যবহার বেশ কার্যকরী। গোলাপজল পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের সুরক্ষায় এটি কার্যকরী। অতীতে নারীরা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এটি ব্যবহার করতো। এমনকি আজও এই প্রবণতা অব্যাহত। পুদিনা পাতা পুদিনার ব্যবহারের ও দীর্ঘ ইতিহাস আছে। প্রাচীনকালে, চীনা নারীরা সৌন্দর্যের জন্য পুদিনা ব্যবহার করতো। এর জন্য পুদিনার রস চামড়ার উপর আলতো করে ঘষতে হয়। আজও পুদিনার ব্যবহার একইভাবেই করা হয়। পুদিনা চেহারাকে সতেজ করে তোলে। মধু সৌন্দর্যের জন্য আগেকার দিনে মানুষেরা মধু ব্যবহার করতেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানটি সহজপ্রাপ্য ছিল। ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য মধুতে পাওয়া যায়। মুখের জন্য মধু ফেস মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। মধুতে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ত্বকের লালচেভাব ও জ্বালাপোড়া কমিয়ে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। সামুদ্রিক লবণ মৃত চামড়া অপসারণ করার জন্য নারীরা সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করতেন। আজকের নারীরাও এটির ব্যবহার করে। সামুদ্রিক লবণে আছে উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালশিয়ামসহ অনেক উপাদান, যা ত্বককে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে। নারকেল তেল এশিয়া অঞ্চলে চামড়া ও চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকে নারকেল তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। যা আজও চলমান। নারকেল তেল শুষ্ক প্রাণহীন ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। জেড রোলার জেড একটি পাথর। জেড রোলার স্বচ্ছ এবং সবুজ রঙের পাথর। এটি শরীরের মধ্যে ঘোরানো হয়, যা ভালো ম্যাসাজ করে। প্রাচীন চীনে রক্ত সঞ্চালনকে সংশোধন করা এবং টক্সিন অপসারণ করতে এটা ব্যবহার করা হয়। শক্ত চামড়া এবং বলিরেখা অপসারণের জন্য এর ব্যবহার বেশ কার্যকরী। লেবু প্রাচীন মিশর ও গ্রিসের রাজকুমারীদের কাছে লেবুর সমাদর ছিল। এটি ছিল তাদের রূপচর্চার বিশেষ উপাদান। একসময় চিন দেশে লেবুকে মেয়েদের রূপচর্চার জন্য বিশেষ উপকারি হিসেবে অভিহিত করা হতো। কাঁচা হলুদ প্রাচীনকাল থেকে রূপচর্চার উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর ব্যবহারে ব্রণ, চেহারার ভাজ, মুখে দাগ, তৈলাক্ত ভাব অপসারণ হয়। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়ী করে তোলে। নিম পাতা এখনকার মতো এত গ্লামারাস রূপচর্চা সামগ্রী প্রাচীন কালে ছিল না। সেসময় অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে নিম পাতার ব্যবহার ছিল প্রচুর। শরীর ও ত্বককে মসৃণ ও জীবাণুমুক্ত করতে এর পেস্ট ব্যবহার করা যায়। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে প্রাচীনকালের এই উপকরণটি আজও ব্যবহার করা হচ্ছে।

লস্এঞ্জেলেস এ সার্বজনীন দূর্গোৎসব-২০১৮ঃ ৪টি পুজামন্ডপে অনুষ্ঠান, অরেঞ্জে ১টি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের ন্যায় লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করতে ব্যাপক আয়োজন করা হচ্ছে। অসুর বধ বা অপশক্তির দমনের প্রত্যয়ে লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে অনুষ্ঠানের বর্ণিলতায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শারদীয় দূর্গা উৎসব ধূমধামে পালন করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে প্রায় শেষ হবার পথে। দূর্গা পূজা উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এই বছরে ৪টি ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে ১টি পুজামন্ডপ স্থাপন করা হচ্ছে। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজাকে আনন্দঘন করতে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে কমিউনিটির সকলকে আয়োজকরা আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

লস এঞ্জেলেসে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ -১

১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র, শনি ও রবিবার, 4211 Oakwood Ave, Los Angeles, CA 90004

প্রতিবছরের মত এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটি আয়োজন করতে চলছে শারদীয় দূর্গোৎসব। লস আন্জেলসের প্রাণ কেন্দ্র আলেকজান্ড্রিয়ার এলিমেন্টরী স্কুলে এবারের উৎসবে গান পরিবেশন করবেন কলকাতার বিখ্যাত শিল্পী রাম তহশিলদার এবং ভাবনা চাওলা। আরও থাকবে স্থানীয় শিল্পী স্নিগ্ধা পোদ্দার এবং তার দল।থাকবে মনোমুগ্ধকর নিহাল বনিকের একক নৃত্য এবং তার গ্রুপের দলীয় নৃত্য। আপনারা সবাই সার্বজনিন এই দূর্গাৎসবে সপরিবারে আমন্ত্রিত এবং নিমন্ত্রিত। আপনাদের উপস্থিতি এবং সহযোগীতা একান্তভাবে কামনা করছি।

লস এঞ্জেলেসে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ -২

১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র, শনি ও রবিবার, 330 N Harvard Blvd, Los Angeles, CA 90004

এবারের তিন দিনের দূর্গা পূজায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা মধ্যে পূজা অর্চনাসহ শনিবারে সন্ধ্যায় ‪অতিথি ‬শিল্পি "‪- ‬Chandrika Bhattacharya (SA,RE, GA,MA,PA) এর মনমাতানো সেরা গান, - রবি বারে স্হানীয় ‪শিল্পীদের - গান-নাচ, কবিতা, আরতি, সিঁদুর খেলা, সম্মিলিত নৃত্যসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ‬ অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার এবং কমিউনিটির মেধাবী ছাএ ছাএীর মধ্যে - Educational Achievement Certificate (Durga puja Award-2018) & Raffle Draw এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতারন করা হবে । উক্ত পূজায় আপনাদেরকে সাদর আমন্ত্রন। এবং পূজাপ্রাঙ্গণ উৎসব মুখরিত হয়ে উঠুক আপনাদের উপস্থিতিতে।

লস এঞ্জেলেসে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ -৩

১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র, শনি ও রবিবার, 668 South Catalina Street, Los Angeles, California 90005

বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটি আগামী ১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র , শনি ও রবিবার নিম্নোক্ত ঠিকানায় সার্বজনীন দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সকলে আমন্ত্রিত। 668 South Catalina Street, Los Angeles, California 90005
Durga Puja 2018. Arranged by Bengali American Hindu Society. Date: October 19th Friday, 20th Saturday & 21st Sunday.... Posted by Sukhendra Paul on Tuesday, September 11, 2018

লস এঞ্জেলেসে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ -৪

১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র, শনি ও রবিবার, Monrovia High School, 845 W Colorado Blvd, Monrovia, CA 91016

Bengali Association of Southern California (BASC) আয়োজিত কোলকাতায়ে মা দুর্গা সপরিবারে দাপিয়ে বেড়ালেও she is yet to arrive in Southern California where the real Durga Puja happens this coming weekend Oct. 19-21 at the Monrovia High School. সক্কলে যে আসছেন একথা এখন আর বলাই বাহুল্য। কিন্তু যদি কেউ দোটানায়ে ভোগেন - here is the menu that will definitely sway your mind. The menu really proves সঙ্গে থাকলে বি।এ।এস।সি/মনে হবে না আপনি প্রবাসী।

অরেঞ্জ কাউন্টিতে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ -৫

১৯ ,২০ ও ২১ শে অক্টোবর রোজ শুক্র, শনি ও রবিবার, Bharat Sevashram Sangha West 5600 Carbon Canyon Road, Brea, CA 92823 Monrovia High School, 845 W Colorado Blvd, Monrovia, CA 91016

লস এঞ্জেলেসে জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের শুভ সূচনাঃ

লস এঞ্জেলেসে জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের শুভ সূচনাঃ

ভিডিও রিপোর্ট

  Posted by Kheiruz Zaman on Friday, October 12, 2018
On the inauguration event of ‘Jasmin Khan Foundation’ on 10-12-2018 in its office at Clover Road, Pacoima, CA. Posted by Majib Siddiquee on Friday, October 12, 2018

লস এঞ্জেলেসে বাংলার বিজয় বহর অনুষ্ঠিত হবে ১৬ই ডিসেম্বর রবিবার

মেজর (অব) সাইফ কুতুবী চেয়ারম্যান এবং মিকাইল খান রাসেল বিজয় বহর ২০১৮ কনভেনর নির্বাচিত

গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিজয় বহরের চেয়ারম্যান মুজিব সিদ্দিকীর লস এঞ্জেলেসের অফিসে এক সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাংলার বিজয় বহরের চ্যান্সেলর ভাষা সৈনিক ডাঃ সিরাজুল্লাহ এবং যৌথভাবে পরিচালনা করেন মুজিব সিদ্দিকী ও ইসমাইল হোসেন। সভায় চ্যান্সেলর, চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট তিনটি পদেই নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ডাঃ সিরাজুল্লাহ এবং শামসুদ্দিন মানিক অনুরোধের মুখে স্বপদে থাকতে সম্মত হলে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে সর্বসম্মতিক্রমে মেজর (অব) সাইফ কুতুবীকে নির্বাচিত করা হয়। তিনি বাংলার বিজয় বহরের শুরু থেকেই প্যারেড মার্শালের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সময় লস এঞ্জেলেস প্রবাসী প্রয়াত লেখিকা জেসমিন খানের পুত্র এ প্রজন্মের তরুণ মিকাইল খান রাসেলকে বিজয় বহর ২০১৮ কনভেনর নির্বাচিত করা হয়। তিনি সকলের সহযোগিতায় একটি আকর্ষণীয় বাংলার বিজয় বহর ২০১৮ উপহার দেবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বছর লস এঞ্জেলেসে বাংলার বিজয় বহর অনুষ্ঠিত হবে ১৬ই ডিসেম্বর রবিবার। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কনসুলেটের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর জনাব আল মামুন। বিগত দিনে বিজয় বহরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত লস এঞ্জেলেস প্রবাসী মোসলেম খান, শফি আহমেদ, মাসুদ হাসান, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান, আবু হানিফা, এলেন ইলিয়াস খান, ডাঃ সুরজিত বড়ুয়া, রূপম অধিকারী, মিঠুন চৌধুরী, ডাঃ মিসেস বড়ুয়া, নিয়াজ মুহাইমেন, মিলি হালদার, শাহীন রহমান, মোহাম্মদ আব্দুল বাসিত প্রমুখ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মেজর (অব) সাইফ কুতুবী চেয়ারম্যান এবং মিকাইল খান রাসেল বিজয় বহর ২০১৮ কনভেনর নির্বাচিত গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিজয়... Posted by Majib Siddiquee on Thursday, October 11, 2018

লস এন্জেলেস শহরের বিশিস্ট সমাজকর্মী সোহেল রহমান বাদল অসুস্থ্য

লস এন্জেলেস শহরের বিশিস্ট সমাজকর্মী সোহেল রহমান বাদল অসুস্থ্য

আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলার সংগী ৮০-র দশক থেকে লস এন্জেলেস শহরের একজন বিশিস্ট সমাজকর্মী, জনসেবা ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সোহেল রহমান বাদল অসুস্হ হয়ে বর্তমানে লংবীচের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দক্ষিন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, জনসেবামূলক ও সমাজসেবায় তিনি সবসময় সরব ও সক্রিয়।
হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভুত হলে , তিনি ৯১১ ফোন করেন । প্যারামেডিক্সের একটি দল সংগে সংগে লংবিচের নিকটস্সহ একটি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তাঁকে ভর্তি করেন । কিছুক্ষন আগে টেলিফোনে কথা বলে জানতে পেরেছি, দুপুরের দিকে তিনি তাঁর একজন বন্ধুর অফিসে কয়েকজন মিলে আলাপ করছিলেন এবং হঠাৎ তিনি বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভূত করেন। তিনি বিশ্রামের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বাসায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বুকের ব্যথা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে সাথে সাথে ৯১১-র শরনাপন্ন হন। হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তাররা স্হানীয় একটি হাসপাতালে এখন সম্পূর্ন চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন । সোহেল রহমান বাদল সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী -এ মূহুর্তে কোন দর্শনার্থী এসে দেখা না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। দোয়া করি, তিনি যেনো দ্রুত সুস্হ হয়ে আমাদের সকলের মাঝে ফিরে আসেন। প্রতিবেদক: সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু
লস এন্জেলেস শহরের বিশিস্ট সমাজকর্মী সোহেল রহমান বাদল অসুস্হ ..... প্রতিবেদক: সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু... Posted by Saifur Osmani on Thursday, October 11, 2018

মাদকদ্রব্যের চেয়ে ভয়ংকর নেশা

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৮ লাখ। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। আজকাল এটি তরুণদের কাছে নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা জড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেট নামক ভয়ংকর এই নেশায়। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, ওয়াটঅ্যাপ এই নেশার এক একটি অভিন্ন নামমাত্র। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জিং এই পৃথিবীতে বাস্তববাদী জীবন থেকে পরাবাস্তব জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই নেশা। তরুণদের মন ও মগজে সারা দিন ঘুরপাক খাচ্ছে ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়া। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতায় ১ম হওয়ার চেয়ে ফেসবুক সেলিব্রেটি হওয়া এখন তাদের কাছে বেশি আনন্দের। জীবনের রঙিন স্বপ্ন বিলীন করে দিচ্ছে আবর্জনার স্তূপে। এখন এটি হয়ে পড়ছে মাদকদ্রব্যের চেয়ে বেশি ভয়ানক, আণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী। পড়ার টেবিল, ক্লাস ও কোচিংয়ে শিক্ষকের নজর ফাঁকি দিয়ে, ঘরের কোণে দরজা বন্ধ করে, রাস্তায় হাঁটার ছলে, গল্পের আসরে বারবার ঢু মারছে ইন্টারনেটের রঙিন জগতে। সেই রঙিন জগৎ তাকে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। সেখানকার হাজারও অন্ধকার তাকে নিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ অপরাধ জগতে। এর করুণ পরিণতিতে আমরা দেখি কীভাবে নীরবে নিভৃতে পাড়ার ভালো ছেলেটিও হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করে একজন ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে। কেউ বুঝে উঠার আগেই ততদিনে সে অপরাধ জগতের ডন হয়ে যায়। তারপর আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে ডেটিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পরকীয়া, অশ্লীলতা ও নষ্টামির ছড়াছড়ি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ বড় বড় অপরাধের সব ফিরিস্তি। ফলে নীতি-নৈতিকতাহীন ও জ্ঞানের আলো বর্জিত এক মুমূর্ষু জাতি গড়ে উঠছে যাদের সুন্দর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। দুচোখে কোনো স্বপ্ন নেই, পৃথিবী গড়ার মন্ত্র নেই। আছে কেবল অন্ধকার আর হতাশার কালো ছায়া। সেই কালো নিভিয়ে দেয় জাতির সমগ্র আলো। জাতির ভেতরে ও বাইরে হয়ে ওঠে বিষাদময়। তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেট জগতের এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা গেলে রক্ষা পাবে ভবিষ্যৎ, রক্ষা পাবে জাতি। মানবতার ধর্ম ইসলাম তরুণদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি আদর্শবাদী ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনে তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার আলোকে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি একটি মূলনীতি ঘোষণা করেছেন, ‘লা দারারা ওলা দিরারা- কারও ক্ষতি কর না, নিজেকে ক্ষতির মধ্যে ফেল না।’ (তিরমিজি)। মহাগ্রন্থ কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি সময়ের। নিশ্চয়ই মানবজাতি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির ভেতরে রয়েছে। এ ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ভালো কাজ করে যেতে হবে। সঠিক পথের দিকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। নির্দেশনা দিয়ে যেতে হবে বাধা পেরিয়ে পথ চলার’ ( সূরা আল আসর)। সূরা আসরের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়ের অপচয় থেকে তরুণদের রক্ষা করে মানবতার কল্যাণে তাদের মেধা, শ্রম ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে রাষ্ট্রকে। তাদের সময়ের সব নোংরামি ও ক্ষতিকর কাজ থেকে দূরে সরিয়ে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। ফেসবুকে সময় নষ্ট করা আজকের প্রজন্মকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নিয়ে আসা খুবই জরুরি। লেখক : শিক্ষক, আল আবরার মডেল মাদ্রাসা

লস এঞ্জেলেসে ফোবানা ২০১৯’র গনসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত 

২০১৯ সালের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে লস এঞ্জেলেসে FOBANA এর গনসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে গতকাল FOBANA এর কর্মকর্তারা লস এঞ্জেলেসে এসে FOBANA সম্পর্কে তাঁদের অনেক সাফল্যগাথা শুনালেন। গন সংযোগের অংশ হিসাবে তারা লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন সামাজিক ও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে যুক্ত সংগঠন ও ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে বক্তারা অতীতের সমস্যাকে পিছনে ফেলে কিভাবে আগামীদিনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য অধিকতর ভালো কাজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে আরো সুন্দরভাবে সমন্বয় করা যায় সে সব বিষয়ে FOBANA এর বর্তমান সভাপতি জনাব মীর চৌধুরী, আগামী ২০১৯ এর মেলা কমিটির আহ্বায়ক জনাবা নার্গিস আহমেদ, সাধারন সম্পাদক জনাব আবির আলমগীর অনেক আশার কথা শোনালেন। জানা গেলো আসছে মেলার ভেনুটি হবে New York – এর বিখ্যাত Nassau Veterans Memorial Coliseum, যেখানে শ্রোতা-দ্রর্শকের ধারন ক্ষমতা রয়েছে প্রায় সতের হাজার মানুষ। তিন দিন তিন রাতের এই মিলন মেলাটি হবে FOBANA এর ইতিহাসে একটি মাইল ফলক। ২০১৯ –এর এই অনুষ্ঠানের স্বপ্নের কান্ডারী জনাব আবীর আলমগীর প্রায় দুই দশক ধরে ফোবানার কর্ম যজ্ঞের সাথে জড়িত থেকে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তারই আলোকে অতীতের সকল সাফল্য-ব্যর্থতা অতিক্রম করে যেতে চান।

এই আয়োজনের আরো যে প্রধান শক্তি তাঁর সাথে আছেন, তিনি হচ্ছেন New York তথা উত্তর আমেরিকার এক জনপ্রিয় মুখ, জনাবা নার্গিস আহমেদ। যিনি New York – এ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গণে নিজেকে অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। উল্লেখ্য যে তিনি New York “ড্রামা সার্কেল” এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি যে সংগঠনটি এ পর্যন্ত সেখানে ৩৩ টি নাটকের মঞ্চায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

গতকালের সভায় FOBANA –র  সভায় উপস্থিত ছিলেন মধ্যে মাহবুব রেজা রহিম, ডঃ জয়নুল আবেদিন, জনাব মাসুদ রব, ডাঃ সিরাজউল্লাহ, আবুল ইব্রাহীম, নজরুল আলম, ড্যানী তৈয়ব সহ আরো অনেকে।

লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবর্গ এবং সুধীজনের উপস্থিতিতে এবং সাজিয়া হক মিমির উপস্থাপনায় এবং জনাব মাসুদ রব চৌধুরীর আয়োজনে গত সন্ধ্যার অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সফল হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাফলা, বালা, “ক্রান্তিঃ Center for Bangladesh Dialogue, USA" সহ অনেক স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

FOBANA হচ্ছে Federation of Bangladeshi Associations in North America সংগঠনটির সংক্ষিপ্ত নাম। এই সংগঠনটি আমেরিকা এবং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায়, প্রবাসী বাঙালিদের জীবন মানের উন্নয়নে, প্রবাসে বাঙালিদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সেই ১৯৯৭ সাল থেকে। অনেক ভেদ-বিভেদের বাঁধা অতিক্রম করে FOBANA আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এক বিশাল প্রতিষ্ঠান হিসাবে। এটা শুধু গান-বাজনা-আনন্দ-বিনোদনের মিলন মেলা নয়। সময়ের পরিক্রমায় FOBANA-র কর্ম পরিসর এবং কলেবরও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকগুন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য দুই একটি হলো উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি স্কলারদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করা, শিক্ষা বিস্তারে স্কলারশিপ দেয়া, বিবাহ যোগ্য পাত্র-পাত্রীদের জন্য জীবন সঙ্গী খুঁজতে সহায়তা করা, ইত্যাদি।

রিপোর্ট, ছবিঃ ফেসবুক

ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশ পঞ্চম, শীর্ষ চীন

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ।

এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন চীনের নাগরিকেরা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৮০ হাজার ৩৮৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে এ খবর দিয়েছে ডাটালিডস। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০০০ সালে ১৩ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ১ লাখ। অর্থাৎ ১৭ বছরে ৩ কোটি মানুষ বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৮ কোটিরও বেশি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চীনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৭৭ কোটি ২০ লাখ। এর পরেই রয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের অবস্থান। তারপরই আছে বাংলাদেশ। ডাটা লিডসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সময় চীনে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখে। চীনের ইন্টারনেটের সহজপ্রাপ্যতা শতকরা ৫৫ দশমিক ৮ ভাগ।বিশ্ব এখন আছে ডিজিটাল যুগে। সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এ কারণে, বিশ্বের প্রায় সব অংশ সম্পৃক্ত হয়েছে ইন্টারনেটে। আর তাই বেড়ে চলেছে ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এ ক্ষেত্রে গত ১০ বছরে অস্বাভাবিক হারে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে এশিয়ায়। ভারতে গত এক দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫০ লাখ থেকে বেড়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২০ লাখে। এ বছরের শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। গত দশকে ইন্দোনেশিয়াতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ লাখ থেকে বেড়ে ১৪ কোটি ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। আর জাপানে তা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখে। ফিলিপাইনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ভিয়েতনামে ৬ কোটি ৪০ লাখ। থাইল্যান্ডে গত ১০ বছরে ইন্টারনেট সুবিধা পেয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। ২০০০ সালে এ ক্ষেত্রে জাপান ছিল ১ নম্বরে। আর দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ২ নম্বরে। বর্তমানে সেখানে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছেছে ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে। এক দশক আগে পাকিস্তানে ইন্টারনেট সুবিধা পেতেন এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ। গত বছর শেষ নাগাদ সেখানে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে ইন্টারনেট।ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই আছে নাইজেরিয়ার অবস্থান। দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার ৪৯ হাজার ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৩১ হাজার ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের ওয়েবসাইটে জানায় বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৫ লাখ। বিটিআরসি আগস্ট মাস পর্যন্ত হালনাগাদ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ৮ কোটি ৪৭ লাখ মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী এবং বাকি ৮৩ হাজার ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারকারী। জুলাই মাসের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৮৯ লাখ।

বর্ণবাদ

বর্ণবাদ

মোঃ রফিকুল ইসলাম
বর্ণবাদ হচ্ছে এমন একটি বিশ্বাস যাতে এক বর্ণের লোকজন নিজেদেরকে অন্য বর্ণের লোকজনদের থেকে উচ্চতর বা অভিজাত মনে করে। ফলে তারা অন্য বর্ণের লোকজনদের উপর বৈষম্য বা শত্রুতামূলক আচরণ করে। তবে জাতিসংঘ বর্ণবাদ শব্দটির পরিবর্তে বর্ণ বৈষম্যকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হিসেবে সজ্ঞায়িত করেছে। জাতিসংঘের বর্ণ বৈষ্যমেরে সংজ্ঞার মোদ্দা কথা হচ্ছে বর্ণ, গোত্র, জাতি, ভাষা বা ধর্মের কারনে এক জনগোষ্ঠী কর্তৃক অন্য জনগোষ্ঠীর উপর বৈষম্য বা নিপীড়নমূলক আচরন করা। আফ্রিকার কালোদের প্রতি আমেরিকা বা ইউরোপের বৈষম্য বা কালোদের দাস হিসেবে ব্যবহার ও ব্যবসা, জার্মানীর হিটলার কর্তৃক ইহুদি নিধন যা হলোকাস্ট নামে পরিচিত, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ যা এ্যাপার্থেড নামে অভিহিত বা হালের রোহিঙ্গা নিধন ইত্যাদি অসংখ্য বর্ণ বৈষম্যের ঘটনার কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। বর্ণবাদের আরও গোটা কয়েক হালফিল উদাহরণ দেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সেদিন পর্যন্ত কালোদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরন করা হত। ১৯৬৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ বিরোধী নাগরিক অধিকার আন্দোলন নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ারকে সেন্ট অগাস্টিন, ফ্লোরিডার সাদাদের জন্য নির্ধারিত এক রেস্তোরাঁয় খাবার চেষ্টার জন্য আটক করা হয় এবং তাঁকে এজন্য এক রাত জেলবাসও করতে হয়। ১৯৬৩ সালেই প্রথম ইউনিভার্সিটি অব এ্যালাবামায় কৃষ্ণাঙ্গদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। ভিভিয়ান ম্যালোনি ছিলেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কালো গ্রাজুয়েট। অর্থাৎ তখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে কালোদের জন্য আলাদা রেস্তোরাঁ, উপাসনালয় ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ্যাপার্থেইড নামের রাষ্ট্রীয় বর্ণবাদ এইতো সেদিন ১৯৯৩ পর্যন্তও বলবত ছিল। আর আমাদের দেশে বৃটিশ আমলের বর্ণবাদী আচরণের একটা উদাহরণ দিলেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে। সে সময়ে বৃটিশদের ক্লাবের তোরণে নাকি লেখা থাকতো "ডগস এ্যান্ড নেটিভস আর নট এ্যালাউড।" অর্থাৎ দেশীয়রা কুকুরের সমগোত্রীয়।
বর্ণবাদ নির্মূল করতে সারা দুনিয়ার বড় বড় নেতারা আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু আজতক পৃথিবী থেকে বর্ণবাদ নির্মূল হয়নি। তাই আজও দেখি ফুটবল খেলায় কালো খেলোয়াড়দেরকে ব্যঙ্গ করে কলা দেখানো হয় বানরের উত্তর পুরুষ হিসেবে। সাদা বাবারা তাদের সন্তানদের উপদেশ দেয়, "বর্ণবাদী হইও না, বর্ণবাদ একটি অপরাধ এবং অপরাধ শুধু কালোদের জন্য।" অর্থাৎ সাদারা সব ধোয়া তুলসীপাতা। কখনও কখনও বর্ণবাদকে উসকে দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত বর্ণবাদী নেতারা। এসব বর্ণবাদী নেতাদের জন তুষ্টিমূলক কথা-বার্তা ও কার্যকলাপের জন্য অনুপ্রাণিত হয় সাধারণ মানুষ। তাই তো ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিমা দুনিয়ায় দেশে দেশে মুসলিম নারী পুরুষ নানারকম নাজেহালের শিকার হয়। মেক্সিকানদের যুৃক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ট্রাম্প সরকার সীমান্তে দেওয়াল তুলে দিচ্ছে। তাতেও ক্ষান্ত নয় ট্রাম্প সরকার। তারা দেওয়ালের খরচও মেক্সিকান সরকারের নিকট থেকে আদায় করতে বদ্ধপরিকর। মেক্সিকানদের উপর মার্কিনীদের ক্ষোভের মাত্রা বুঝাতে এবারে একটা গল্প বলা যাক। এক কালো আফ্রিকান, এক সাদা আমেরিকান ও এক মেক্সিকান বেলুনে আকাশে ভ্রমণ করছে। হঠাৎ করে ফুটো হয়ে যাওয়াতে বেলুনটি দ্রুত নীচে নেমে আসতে লাগলো। সবাই বুঝতে পারলো বেলুনের ওজন কমাতে না পারলে দূর্ঘটনা অনিবার্য। তাই তারা তাদের জিনিসপত্র নীচে ফেলতে লাগলো। কালো আফ্রিকান তার পায়ের জুতা ফেলে দিয়ে বললো, "আমার দেশে এরকম জুতা অনেক আছে।" মেক্সিকান তার ল্যাপটপটি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললো, "এ আমার দেশে অনেক আছে।" আমেরিকান তার জিনিসপত্র সরিয়ে রেখে মেক্সিকানকে দু'হাতে ধরে বেলুন থেকে ছুঁড়ে নীচে ফেলে দিয়ে বললো, "আমাদের দেশে এ জিনিস অনেক আছে।"বলে হাত ঝেড়ে শান্ত হয়ে বসলো। বর্ণবাদের বিষবাষ্পে নিপীড়িত নিষ্পেষিত নির্যাতিত কালো মানুষেরা কতটুকু ক্ষুব্ধ তার একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। আমেরিকার নিউিইয়র্ক শহরের এক উঁচু দালানে এক ভারতীয়, এক সাদা আমেরিকান, এক কালো আফ্রিকান ও এক মেক্সিকান আলাপ করছে। আলোচনার বিষয় কে তার স্বজাতির জন্য কতটুকু আত্মত্যাগ করতে পারে তা করে দেখাতে হবে। ভারতীয় দালানের কানায় গিয়ে আমার জনগনের জন্য বলেই সে দালান থেকে লাফিয়ে পড়লো। পরবর্তীতে মেক্সিকান আমার স্বজাতির উদ্দেশ্য বলে দালান থেকে লাফিয়ে পড়লো। এবারে কালো আফ্রিকানের পালা। সেও দালানের কানায় গেল। এটা আমার প্রিয় জনগনের জন্য বলেই সে সাদা আমেরিকানকে ছাদ থেকে ফেলে দিল। কালো ও ইহুদিদের উপর বর্ণবাদী আচরণ করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সাদারা কালদের অপরাধী ও ইহুদিদের কৃপণ তকমা এটে দিয়েছে। তাইতো কালো ইহুদি শিশু আত্মপরিচয়ের দ্বিধায় পড়ে। যেমনটা পরের ঘটনায় দেখা যায়। এক কালো ইহুদী ছেলে একদিন স্কুল থেকে এসে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করছে, "বাবা, আমার পরিচয় কালো হিসেব গুরুত্বপূর্ণ নাকি ইহুদী হিসেবে।" বাবা জানতে চাইলেন, "কেন বাছা। তুমি কেন এসব জানতে চাইছো।" ছেলে বললো, "আমাদের স্কুলে একটা ছেলে একটা সাইকেল ৫০ ডলারে বিক্রি করতে চাচ্ছে। এখন আমি ৪০ ডলারে কিনতে তার সাথে দরাদরি করবো নাকি চুরি করবো।" একটা সময় ইহুদিরা বর্ণবাদের শিকার হত। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বর্ণবাদী হিটলারের জার্মান বাহিনীর নির্দয় ইহুদি নির্মূল ও ব্রিটিশ ও মার্কিনীদের ইহুদি তোষণের ফলে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের অবস্থা কেমন ছিল তার একটা আভাস পাওয়া যাবে পরের ঘটনায়। ১৯২৬ সালের শীতকাল। শিকাগোর থেলমা গোল্ডস্টেইন আনন্দ ভ্রমণে ফ্লোরিডা গেছেন। এলাকা সম্পর্কে ধারনা না থাকায় তিনি উত্তর মায়ামির একটি সংরক্ষিত হোটেলে ঢুকে পড়লেন। সে ম্যানেজারকে বললো, "আমার নাম মিস গোল্ডস্টেইন এবং আমার দু'সপ্তাহের জন্য ছোট্ট একটা রুম প্রয়োজন।" "আমি অত্যন্ত দূঃখিত।" ম্যানেজার জবাব দিল, "আমাদের কোন রুমই খালি নেই।" ম্যানেজার কথা বলতে বলতেই একজন লোক নেমে এসে চেক আউট করলো। "কি সৌভাগ্য", মিস গোল্ডস্টেইন বললেন, "যাক এখন রুম ফাঁকা হল।" "মিস এখনই এত খুশী হবেন না। আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে, এটা একটা সংরক্ষিত হোটেল। ইহুদীরা এখানে থাকার অনুমতিপ্রাপ্ত নয়।" 'ইহুদী? কে ইহুদী? আমি একজন ক্যাথোলিক।" মিস গোল্ডস্টেইন জানালেন। "আমার এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। বলুন তো খোদার পুত্র কে?" "যীশু, মাতা মেরীর ছেলে।" "তিনি কোথায় জন্মেছিলেন।" "একটা আস্তাবলে।" "কেন তিনি আস্তাবলে জন্মেছিলেন?" "আপনার মত একজন মাথা মোটা বলদ একজন ইহুদীকে তার হোটেলে রুম ভাড়া দেয়নি।" ইহুদিরা যেমন এক সময় বর্ণবাদের শিকার হত তেমনি নিজেরাও কিন্তু কম বর্ণবাদী নয়। আজ তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে ফিলিস্তিনি ভাইয়েরা। না, আপনাদেরকে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যায় টেনে নিচ্ছি না। তারচেয়ে চলুন আমেরিকার এক বারে। না আপনাকে সেখানে পান করতে হবে না। বরঞ্চ দেখি ইহুদি সেখানে কি কান্ড ঘটায়। এক ইহুদি বারে গিয়ে কয়েক পেগ মদ গিললো। সে লক্ষ্য করলো একজন চাইনিজ এক কোনায় বসে চুপচাপ মদ খাচ্ছে। সে সেখানে গিয়ে হঠাৎ চাইনিজের মুখে এক ঘুষি মেরে বসলো। হতভম্ব চাইনিজ জিজ্ঞেস করলো কেন সে তাকে ঘুষি মারলো? ইহুদি উত্তর দিলো, "পার্ল হারবার ধ্বংসের জন্য।" চাইনিজ উত্তর দিলো, "কিন্তু আমি তো চাইনিজ।" "চাইনিজ জাপানিজ কোন পার্থক্য আছে?" বলে ইহুদি তার সীটে ফিরে গেল। কিন্তু চাইনিজেরতো আর মার্কিনীদের মত ইহুদি তোষণ করতে হয় না। সে কেন চুপচাপ ঘুষি হজম করবে। তাই কয়েক মিনিট পর চাইনিজ উঠে গিয়ে ইহুদির মুখে মারলো এক রাম ঘুষি। হতবাক ইহুদি জানতে চাইলো কেন তাকে ঘুষি মারা হল। চাইনিজ বললো, "এটা টাইটানিকের জন্য।" "কিন্তু টাইটানিক তো ডুবেছে আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লেগে।" জানায় ইহুদি। চায়নাম্যান বললো, "আইসবার্গ, স্পিলবার্গ, গোল্ডবার্গ জাকারবার্গ কোঁই ফারাক নেহি।" বলে সে গট গট করে বেরিয়ে গেল। সকল বার্গেরা যে ইহুদি তা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান পাঠক বুঝতে পেরেছেন। বর্ণবাদ কি আদৌ কোনদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে? দেখা যাক কি বলেন বাঘা বাঘা বর্ণবাদ বিরোধী নেতারা। বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামী নেতা, জিম্বাবুয়ের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বর্ণবাদ নিয়ে জটিল এক বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ততদিন পর্যন্ত বর্ণবাদ পৃথিবী থেকে বিদায় হবে না যতদিন সাদা গাড়ি কালো টায়ার ব্যবহার করবে, যতদিন লোক মন্দভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কালো রং এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং ব্যবহার করবে। বর্ণবাদ শেষ হবে না ততদিন যতদিন বিয়েতে সাদা গাউন পরা হবে এবং শবযাত্রায় কালো পোষাক পরা হবে। ততদিন বর্ণবাদ শেষ হবে না যতদিন বিল শোধ না করায় সাদা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না করে কালো তালিকাভূক্ত করা হবে। এমনকি স্নুকার খেলায় জিততে সাদা বল টেবিলে রেখে কালো বলকে গর্তে ফেলা হবে। অবশেষ তিনি শান্তনা খুজেছেন এভাবে, "আমি এসব থোড়াই কেয়ার করি। ততদিন পর্যন্ত আমি সুখী যতদিন আমার কালো নিতম্ব সাদা টিস্যু পেপার দিয়ে পরিস্কার করবো।" রবার্ট মুগাবে যত শান্তনাই খুজুন পৃথিবী থেকে কোনদিনই হয়ত বর্ণবাদ নির্মূল হবে না। বর্ণবাদের দেখা মিলবে হয়তোবা ভিন্ন নামে ভিন্নরূপে।

‘দ্য লাস্ট গার্ল’ এর নোবেল বিজয়

নাদিয়া মুরাদ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী।এখন ওর ২৫ বছর বয়স। ২০১৪ সালে নাদিয়া তখন ২১ বছরের একজন উচ্ছল মুসলিম তরুণী। ইরাকের একটি পাহাড়ি এলাকা নাম তার সিনজার। এই পাহাড়ি অঞ্চল সিনজারে একটি গ্রাম ইয়াজিদি। সেই গ্রামে নাদিয়ার জন্ম থেকে বেড়ে উঠা। ২০১৪ সালের ইয়াজিদি গ্রামে আকস্মিক হামলা চালায় আইএস জঙ্গিরা,যারা নিজেদের পরিচয় দেয় মুসলিম হিসেবে। মুসলিম নামধারী এই আইএস জঙ্গিরা নির্বিচারে শুরু করে গনহত্যা। গ্রামের প্রায় সব পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের হত্যা করা হয়। যাদের মধ্যে নাদিয়ার ছয় ভাই এবং তার মাও ছিলেন। জঙ্গিরা গ্রামের অন্য ইয়াজিদি নারীদের সঙ্গে নাদিয়াকেও ধরে নিয়ে যায় এবং যৌনদাসী হিসেবে বন্টন করে দেয়। নানা হাত ঘুরে একসময় মসুল পৌঁছে যান নাদিয়া। এই সময়ে তাকে আইএস জঙ্গিরা অসংখ্যবার ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করে। এক পর্যায়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন নাদিয়া, ফল ধরা পড়া। বাড়ে নির্যাতনের মাত্রা। কিছুদিন পর তাকে আবারও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। একদিন সুযোগ বুঝে আইএস বন্দিদশা থেকে পালিয়ে এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে আশ্রয় নেন নাদিয়া। ওই পরিবার তাকে মসুল থেকে পালিয়ে আসতে সব রকম সহায়তা করে।নাসির নামে এক সুন্নি মুসলমান নাদিয়াকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আইএসের কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকা মসুল সীমান্ত পার করে দেন। জীবনের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে জানাতে ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে একটি বই লেখেন নাদিয়া, যা ২০১৭ সালে প্রকাশ পায়। ওই বইতে তিনি লেখেন,“কখনও কখনও ধর্ষিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই সেখানে ঘটত না। একসময় এটা প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।" আইএস জঙ্গিরা ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীর পাঁচ হাজারের বেশী পুরুষ কে হত্যা করে। ধরে নিয়ে যায় তিন হাজারের বেশী যুবতী নারীকে। তাদের উপর চালায় যৌন নির্যাতন। প্রতিদিন এই নারীরা শিকার হত ধর্ষণের। ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আইএসের হাতে নিপীড়নের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন নাদিয়া। তিনি মানবাধিকার এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কাজ শুরু করেন। নিজের আত্মজীবনী "‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে লেখা একটি বইয়ে সেই কাহিনি তুলে ধরেন তিনি। যৌন সহিংসতা ও হয়রানিকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে লড়াই করে এই বছর ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জঙ্গিদের হাতে ধর্ষণের শিকার ইয়াজিদি নারী নাদিয়া। দাড়িয়ে স্যালুট তোমাকে হে নারী। তোমার জন্য থাকছে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।।

সেলফি তুলতে গিয়ে ছয় বছরে ২৫৯ জনের মৃত্যু

সেলফি তোলার নেশাটা কমবেশি সবারই রয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে সেলফির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই তারা ক্যামেরায় নিজেকে অনন্য করে তুলতে রীতিমত ‘সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা’ শুরু করেছেন। নিজেকে আলাদা করতে গিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে কখনও চলন্ত ট্রেনের সামনে, পাহাড়ের চূড়ায়, উঁচু কোনো দালানের কার্নিশে উঠে বা মাথায় বন্দুক ধরে তুলছে সেলফি। আর এমনটা করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটছে অহরহ। অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঘটনা বা প্যারালাইজড হওয়ার ঘটনাও নেহাতই কম নয়। সম্প্রতি এক তথ্যে প্রকাশিত হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। তারা জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে সেলফি তুলতে গিয়ে নিহত হন। তবে অনেকেই বলছেন সেলফির কারণে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- সেলফি তুলতে গিয়ে নিহতদের অধিকাংশই ভারতের বাসিন্দা। এর পরের স্থানটি রয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের। নিহত অধিকাংশের বয়স ত্রিশের নিচে। ভারতে ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে সেলফি তুলতে গিয়ে ১৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এর গবেষণায়। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার-এ। সেলতি তুলতে গিয়ে কিভাবে এত মানুষ নিহত হলো? এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলছেন, তারা অনেকেই সেলফি তোলার সময় নৌকার কিনারে দাঁড়িয়েছিলেন। এতে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। কেউ বা উঁচু ভবনের কিনারে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় পড়ে গেছেন। এছাড়া রেল লাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় মৃত্যুর ঘটনাও দেখা গেছে। বিপজ্জনক প্রাণীদের সঙ্গে সেলফি তোলার চেষ্টাতেও মৃত্যু হয়েছে অনেকের।

‘এই আমার সমাবর্তন’

আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন। গতকাল বুধবার (০৩ অক্টোবর) এবং আজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণপত্র এবং সমাবর্তনের পোশাক সংগ্রহ করেছেন গ্রাজুয়েটরা। সমাবর্তনের পোশাক পরে জীবনের বিশেষ এ মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দী করে রাখছেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধু, সহপাঠী কিংবা শিক্ষকদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। এরমধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। নিজের মা এবং রিকশাচালক বাবাকে সমাবর্তনের পোশাক পরিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ওয়ালি উল্লাহ নামের গ্রাজুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সাবেক এ শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টটি এরিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। [FBW] বাবা-মাকে রিকশায় বসিয়ে চালকের আসনে বসে তোলা ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'মা' আমার জীবনের মুকুট, তাই সমাবর্তন হ্যাট টা মায়ের। 'আব্বা' সারাজীবনই আগলে রেখেছেন সব আঘাত থেকে, তাই গাউনটা আব্বার ঘামে ভেজা শরীরটাতেই বেশি মানায়। আর 'আমি' বাকি জীবনটা এভাবে যেন মধুর এ ভার নিতে পারি। 'ভাই'টাকে প্রচণ্ড মিস করছি। এই আমার সমাবর্তন।'

কোটা কোনও শুদ্ধ সমাধান নয়

ইস্যুভিত্তিক এই আন্দোলনগুলো কখনোই সরকারবিরোধী নয়, সরকার পতনের জন্য নয়। তাহলে ভয়টা কীসের? কোটা কোনও শুদ্ধ সমাধান নয়ঃ

শাকিল রিয়াজ
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা নিয়ে আমার কিছু সুইডিশ বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা হলো। ঘটনাগুলো বাংলাদেশে ঘটলেও পরিধি ও শক্তির তীব্রতার কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও এদুটো সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। সুইডিশ গণমাধ্যমেও এসেছে ব্যাপকভাবে। বলাবাহুল্য, আলোচনায় আমরা কথা বলেছিলাম কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক নিয়ে। আমার সঙ্গে কথা বলতে বন্ধুরা পড়াশোনা করেই বসেছিল। বুঝলাম এরা আদ্যোপান্ত জানে। তারা আমাকেই বাংলাদেশ সরকার মনে করে নানান ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে চললো। তোমরা কেন এটা করলা, ওটা করলা, এসব সামাজিক দাবির জন্য মাঠে নামা ছাত্রদের উপর বল প্রয়োগ বা রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়া ঠিক হয়েছে কী না, এসব। চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলন সফল না বিফল হয়েছে এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। সরকার এবং সরকারী দল থেকে একেক সময় একেক কথা আসে। দাবী মানা হয়েছে বলা হয়, কিন্তু দাবী আদায়ে সফলতার জন্য আন্দোলনকারী কেউই নায়ক হয়নি। উল্টো খলনায়কের খাতায় নাম লিখিয়েছে। জেল-জুলুম-মামলার শিকার হয়েছে, হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিদার শিক্ষার্থীদের বেলায়ও একই কাহিনী। ওদের দাবিগুলো মেনে নেয়ার কথা বলা হলেও আন্দোলনকারী শিশু-কিশোররা বিষ্ময়করভাবে ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হলো। এ দুটি আন্দোলন, এর তীব্রতা ও পরিণতি বিবেচনায় আনলে তিনটি মেসেজ পাই। এক, সরকার ভীতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। যে কোনো আন্দোলন, তা যতো অরাজনৈতিকই হোক, দমনে সরকার ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সেটা কোটা হোক, নিরাপদ সড়ক হোক, নারী নির্যাতনবিরোধী হোক, বিদ্যুত-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, চাকুরির বয়সসীমা বৃদ্ধি বা সুন্দরবন বাঁচানোর জন্য হোক। সরকার যেমন হেফাজতের আন্দোলন দমন করেছিল তেমনি দমিয়ে রেখেছে শাহবাগকেও। গণতন্ত্র সুষ্ঠু পথে হাঁটলে এ ধরনের আন্দোলন দমনের জন্য সরকারকে মরিয়া হতে হতো না। ইস্যুভিত্তিক এই আন্দোলনগুলো কখনোই সরকারবিরোধী নয়, সরকার পতনের জন্য নয়। তাহলে ভয়টা কীসের? দুই, সমাজের নানান অসঙ্গতি, অব্যবস্হাপনা আর অন্যায় দেখেও যখন বড়রা ভয়ে, অসামর্থ্যে বা সুবিধা হারানোর আতংকে চুপ করে থাকছে তখন নতুন প্রজন্ম বারবার মাঠে নেমে আসছে। নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলন শুধু সরকারের কাছ থেকে কিছু দাবী আদায়ের জন্যই নয়, এই আন্দোলন জরাগ্রস্ত মানুষের বিরুদ্ধে যারা মূক, বধির, অন্ধ। এই আন্দোলন আইনী ব্যবস্হা ও বাহিনীর বিরুদ্ধে, নিষ্কাম সংসদের বিরুদ্ধে, ভঙ্গুর বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে, সুশীলশ্রেণীর বিরুদ্ধে। দলমত নির্বিশেষে তরুণ শক্তির এই মাঠে নেমে আসা আমাদের অসার সমাজের গায়ে প্রচণ্ড এক আঘাত। এখন না হোক, কোনও একদিন এই ঘা খেয়েই বেঁচে উঠবে আধমরা সমাজ। তৃতীয় মেসেজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ — সময় হয়েছে নবীনদের দিকে তাকানোর। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে মূল্য দেবার, তাদের দাবীকে গ্রাহ্য করার। নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিশুকিশোরদের রাস্তায় নেমে আসা এবং তাদের কঠোর হাতে দমনকে আমার সুইডিশ বন্ধুরা এক ব্যর্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্রিয়াকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছে যেখানে রাষ্ট্র তার ব্যর্থতা ঢাকতে একের পর এক কন্সপিরেশন থিয়োরি বাজারে নিয়ে আসে। অন্যদিকে অবদমিত, নিঃস্ব বিরোধী শক্তি যেকোনও নড়াচড়ার মধ্যেই সরকার পতনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। চাকুরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এই সংস্কার সময়ের দাবী। বর্তমান পদ্ধতিতে বহাল থাকা কিংবা বাতিল করা — কোনটাই ভাল সমাধান নয়। বর্তমান কোটা পদ্ধতি বহাল থাকলে বঞ্চিত হবে মেধাবীরা। যোগ্যরা তাদের জায়গায় পৌঁছুতে পারবে না। বিশাল একদল বিমর্ষ, হতাশ, ভাগ্যহীন নাগরিক পাবে দেশ যারা দেশের জন্য কিছু করতে উৎসাহী হবেনা। অন্যদিকে কম মেধার বা মেধাহীন একদল নাগরিক দেশের কর্ণধার হবে। ফলাফল সহজেই অনুমেয়। শিক্ষার্থীদের দাবী ছিল সংস্কার। এই সংস্কার শব্দটি নিয়ে পলিটিশিয়ানরা পানি ঘোলা করে জিতে যেতে চেয়েছে। পলিটিশিয়ানরা জিতে গেলে হেরে যাবে বাংলাদেশ। কোটা একটি অবমাননাকর শব্দ। বৈষম্য না কমিয়ে বরং বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়। সমাজকে ভাগ করে দেয়, ভেদাভেদ উস্কে দেয়। যোগ্যতরদের প্রতিযোগীমুখী হতে নিরুৎসাহ করে। কোটার সুবিধা দিয়ে কিছু বিশেষ গ্রুপকে কি অমেধাবী, অযোগ্য ও প্রতিযোগিতায় ডিসকোয়ালিফায়েড বলে আগেই ট্যাগ দিয়ে দেয়া হলো না? তাছাড়া কোটা পদ্ধতি কি আমাদের চেতনা, মূলনীতি ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়? সংবিধানে সবার জন্য সাম্য ও সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই সাম্য ও সমানাধিকার ইন্ডিভিজুয়াল ব্যক্তির জন্য। কোনও গ্রুপ বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। যেটা দরকার, শুরু থেকেই সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা, পিছিয়ে পড়া গ্রুপকে যোগ্যতর করে গড়ে তোলা। তারপর যখন প্রতিযোগিতার সময় হবে, যোগ্যতা দিয়েই তারা পদ জিতে যাবে। সংস্কার শুরু করতে হবে গোড়াতেই। এই মুহূর্তে যেটা করা যেতে পারে, গ্রুপগুলোর প্রকৃত সংখ্যার হিসেবে শতাংশ নির্ধারণ করা এবং চাকুরিতে সেই গ্রুপগুলোর মোট যোগ্য আবেদনকারীর সেই নির্ধারিত শতাংশকে চাকুরিতে নেয়া। অর্থাৎ কোটা নির্ধারিত হতে হবে যোগ্য আবেদকের সংখ্যার উপর, গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়। একটি সফল রাষ্ট্র তো সেটাই যেখানে মেধার ভিত্তিতে কিংবা যোগ্যতার আলোকে নির্ধারিত হবে যার যার স্হান। যেখানে সাম্য ও সমানাধিকার হাত ধরে এগুবে। যেখানে কেউ বঞ্চনার শিকার হবেনা। যেখানে কল্যাণ ও ন্যায় নিশ্চিত হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে।

নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের যোগাযোগের আহ্বান ও ধন্যবাদজ্ঞাপন

তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারন পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। সফরকালীন সময়ে যাদের সহযোগিতা এবং সমর্থন আমরা পেয়েছি তাদের সবাইকে আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ। আমরা বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি তাদেরকে যে সমস্ত সহযোগী এবং অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্টেট থেকে কস্টকরে নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে নিউইয়র্কে এসেছেন। আপনাদের উপস্হিতি আমাদের নেত্রীর হাতকে করেছে আরো শক্তিশালী এবং উনি অত্যন্ত খুশী হয়েছেন। এবারের নেতাকর্মীদের ব্যপক এবং স্বত:স্ফূর্ত উপস্হিতি অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে যেটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ভীষণ প্রয়োজন ছিল। অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচীর জন্য নেতাকর্মীদের সাথে সে ভাবে দেখা সাক্ষাত না হওয়াতে মাননীয় নেত্রী অত্যন্ত দু:খ প্রকাশ করেছেন। নেত্রী বলেছেন করুনাময়ের ইচ্ছায় যদি আগামী বছর আবার জাতিসংঘের অধিবেশনে আসেন তখন অবশ্যই সকল নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাত করবেন যেখানে উনি অবস্হান করবেন। উনি উনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যখন জানতে পেরেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ নেতাকর্মীদের যথেষ্ট হয়রানী করেছে।  গত ২৩শে সেপ্টেম্বর গনসংবর্ধনায় নেত্রীর সংগে আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে উনার ইচ্ছে অনুযায়ী আমরা তালিকা তৈরী করছি যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্বদেশে গিয়ে এবং এখান থেকে নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করতে ইচ্ছুক। যারা বাংলাদেশে গিয়ে নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশ নিতে চান তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা আপনাদের নাম এবং সম্ভাব্য যাওয়ার তারিখ ৩১শে অক্টোবরের পূর্বে আমাদেরকে অবহিত করুন।  তালিকাটি মাননীয় নেত্রীর কাছে প্রদান করা হবে উনার অবগতির জন্য। আপনাদের সকলের সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং সমর্থন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সব সময় কামনা করে।  জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। ড.সিদ্দিকুর রহমান | সভাপতি আব্দুস সামাদ আজাদ | ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক | যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ ।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.