সন্দেহবাদিতা

সন্দেহবাদিতা

মো. রফিকুল ইসলাম
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কতা: লেখাটি নিতান্তই রম্যকথন। সিরিয়াসলি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। গল্প ও জোকসগুলো সংগৃহীত) আমার প্রবাসী বন্ধুটি আবারও অনুরোধ করেছে সন্দেহ বা সন্দেহবাদিতা বা সাসপিশন নিয়ে কিছু লিখতে। আগেরবার মনে করেছিলাম বন্ধু হয়ত জ্ঞানের বহর বাড়াতে আমাকে দিয়ে ঘাটাঘাটি করিয়ে কিছু লিখিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এবারে একটু সন্দেহ হল। ঘটনা কি? এতো জ্ঞানার্জন নয়। নিশ্চয় অন্য কোন বিষয় আছে। বন্ধুকে হালকা চেপে ধরতেই স্বীকার করতে বাধ্য হলো সে সন্দেহের আওতায় আছে। কার সন্দেহের আওতায় আছে তা নিশ্চয় আপনাদের বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। তিনি ধর্মপত্নীর সন্দেহের ঘেরাটোপে আবদ্ধ আছেন। কিছুতেই এ জাল ছিন্ন করতে পারছেন না। তাই সন্দেহের আদি অন্ত নাড়াচাড়া করে যদি মনে একটু শান্তি আসে তাই এ অনুরোধ। শুধু আমার বন্ধু কেন শতকরা নব্বই ভাগ বিবাহিত পুরুষই নিজ নিজ পত্নীর সন্দেহের তালিকায় থাকেন। পরিসংখ্যান নিয়ে আপনাদের সন্দেহ হচ্ছে? আপনার সন্দেহ যুক্তিসংগত। ঠিক ধরেছেন, এটা কোন জরিপের ফলাফল নয় নিতান্তই আমার অনুমান মাত্র। এ ধরনের কোন জরিপ আছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। জানার দরকারও নেই। আপনি কি বিবাহিত। তাহলে বুক হাত দিয়ে ভাবুন তো একবার, না, বলার দরকার নেই। আপনি কি সন্দেহের বাইরে? যদি হন তাহলে আপনি ভাগ্যবান। না হলে ঐ নব্বই জনের একজন আপনি। দাঁড়ান দাঁড়ান কিসের সন্দেহের আওতায় আছেন তা কিন্তু এখনও বলিনি। উল্টাপাল্টা কিছু ভেবে বসবেন না যেন। একটু ধৈর্য ধরুন সব খোলাসা হবে। বাংলা ভাষায় সন্দেহকে সংশয়, অবিশ্বাস, অনিশ্চয়তা, দ্বিধা, অপ্রতীতি, খটকা বা অভিশংকা ইত্যাদি নানাভাবে বর্ণনা করা যায়। সন্দেহের ইংরেজি পরিভাষা সাসপিশন শব্দটি ল্যাটিন Suspere শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ To suspect। ইংরেজি ভাষায় সাসপিশন শব্দটি চতুর্দশ শতাব্দীতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে ভাষায় এর যেদিনই ব্যবহার শুরু হোক না কেন সন্দেহ অবিশ্বাস যে আদি মানব সন্তানের সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে কিন্তু কোন সন্দেহ নেই। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, সন্দেহ হচ্ছে তাহলে আদি পিতার বেহেশতের সেই নিষিদ্ধ ফল খাবার ঘটনাটি নতুন করে মনে করুন তাহলেই আপনার সন্দেহভঞ্জন হবে। আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের সন্দেহের আওতায় পড়ছি। আবার আমরাও মাঝে মধ্যে অন্যকে সন্দেহের আওতায় আনছি। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য আছে যারা অন্যকে সহজে সন্দেহ করতে চায় না। এজন্য অবশ্য তাদের বিপদে পড়ার সম্ভবনাও থাকে। যাক সে বিষয় পরে বলা যাবে আগের বিষয় আগে। দু'টো শ্রেনির সন্দেহের আওতায় আসলে আমরা সব থেকে বেশি নাস্তানাবুদ হই। এক নিজ স্ত্রী আর দ্বিতীয় পুলিশ। একটিতে আপনি বেইজ্জত হতে পারেন পরিবারের মধ্যে আর দ্বিতীয়টিতে জনসম্মুখে। প্রথমটি নিয়ে হয়ত অনেকের সংশয় বা সন্দেহ হচ্ছে। উদাহরন দিচ্ছি মিলিয়ে নিন। প্রত্যেক স্ত্রীই তার স্বামী সম্পর্কে অতিশয় উচ্চ ধারনা পোষন করে। যেমন স্বামী বেচারা হয়ত সরকারী বা বেসরকারী নির্ধারিত বেতনে চাকুরী করে বা ছোট খাট ব্যবসা করে সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। স্ত্রী নিজেও হয়ত চাকুরী করে। সেও জানে তার স্বামীর আয় কত। তবুও সে সব সময় সন্দেহ করবে নিশ্চয় তার স্বামী গোপনে আত্মীয় স্বজনকে টাকা পাচার করে দিচ্ছে। ভাববে স্বামী তার ভাইকে জমি বা বাড়ি কিনে দিচ্ছে বা ভাগ্নে বা ভাস্তেকে পড়ার খরচ দিচ্ছে নিজ সংসারের দিকে না তাকিয়ে। সব স্ত্রীরই ধারনা তার স্বামীর নিশ্চয়ই এক্সট্রা ইনকাম আছে অথবা আছে অফুরান্ত অর্থের ভান্ডার। সে স্ত্রী সন্তানকে বঞ্চিত করে শুধু বাবা মার সংসারে বা আত্মীয়দের অকাতরে অর্থ ঢেলে যাচ্ছে। এতো গেল টাকা পয়সা নিয়ে। অন্য বিষয়! বেচারা স্বামীর হয়ত কোন কারনে বাসায় ফিরতে দেরি হচ্ছে। তো শুরু হয়ে গেল মুহূর্মুহু টেলিফোন। যদি কোন কারনে মোবাইল অফ থাকে বা ব্যাটারী শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে স্বামী বেচারার কপালে দুঃখ আছে। প্রায় প্রত্যেক স্ত্রীই ভাবে তার স্বামীর প্রেমে তাবত সুন্দরীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। তাই দেরি হলে তাদের ধারনা স্বামী প্রবর এতক্ষন নিশ্চয় স্ফূর্তি করে আসলেন। ওই যে বলছিলাম স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের সামর্থ্য সম্পর্কে অতি উচ্চাশা পোষন করে। তবে কোন কোন বুদ্ধিমান জ্ঞানী ব্যক্তি স্বামী নামের এ আসামীদের এ অবস্থা থেকে উদ্ধারে কিছু কিছু পথ বাৎলে দিয়েছেন। তার দু'একটা টিপস আপনাদের দেই। কাজে লাগাতে পারেন। এতে কাজও হতে পারে। কাজে না লাগলে আমাকে দোষ দেবেন না যেন। এগুলো আমার আবিষ্কারও নয় বা আমার দ্বারা পরীক্ষিতও নয়। যেমন ধরুন, আপনি হয়ত ট্যুরে আছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে টেলিফোন করবেন কোথায় কি করছেন তার রানিং কমেন্ট্রি দিয়ে। একে বলা যায় হাজিরা কল। আপনি হয়ত সন্ধ্যার পর বন্ধু বা বান্ধবীদের নিয়ে আসলেই স্ফুর্তি করছেন। এ সময় স্ত্রীর কল। কি করবেন? ঘাবড়াবেন না। খুব পরিশ্রান্তের সুরে জবাব দিন সারাদিন একঘেয়ে মিটিং করে এই মাত্র হোটেলে ফিরলেন। কাজে লাগতে পারে এমনকি সহানুভূতিও পেতে পারেন। অথবা ধরুন, আপনার স্ত্রীও হয়ত জানে আপনি স্ফূর্তির জায়গায় আছেন। তখন প্রেমঘন স্বরে বলুন আই মিস ইউ। তুমি থাকলে ভাল লাগতো। দেখবেন আপনার সাত খুন মাপ হতেও পারে। তবে অতিশয় বুদ্ধিমান স্বামীরা কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে দিব্যি স্ত্রীর নাকের ডগায় স্ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে। একটা গল্প বলি শুনুন। একদিন কুদরত সাহেব ভুলে মোবাইল বাসায় ফেলে অফিসে গেছেন। অফিস থেকে ফোন করে স্ত্রীকে দুপুরে লাঞ্চের সাথে ড্রাইভারের কাছে ফোন পাঠিয়ে দিতে বললেন। স্ত্রী এ সুযোগে স্বামীর ফোনটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন। ফোনবুকে ঢুকে দেখলেন সন্দেহজনক তিনটি নম্বর গর্জিয়াস ওম্যান, প্রেটি লেডি ও মাই লাভ নামে সেভ করা। স্ত্রীর তো মাথায় খারাপ হবার যোগাড়। কুদরত সাহেবকে নিতান্তই গোবেচারা মনে হয় যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। অথচ তলে তলে এত। ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছে। আজকেই ধরতে হবে। একেবারে জন্মের শিক্ষা দিতে হবে। ছোক ছোকানির সাধ মিটিয়ে দিতে হবে। আসুক আজ বাড়িতে। তবে তার আগে ধরতে হবে এ তিন শাঁকচুন্নি কারা। কুদরত সাহেবের ফোন থেকে ফোন করলে নিশ্চয় ধরবে। তখনই বুঝা যাবে তারা কারা। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমেই গর্জিয়াস ওম্যানকে ফোন করলেন। ওপাশের ফোন কল রিসিভ করলো। হ্যালো বাবাজী, কেমন আছ? আমার মেয়ে কেমন আছে। অসময়ে ফোন করলে? কোন অসুবিধা? মা আমি তোমার মেয়ে বলছি। তোমার জামাই ভুলে ফোন রেখে গেছে। সে ফাঁকে তোমাকে ফোন করলাম। আরও দু'চার কথা বলে ফোন রেখে দিলেন। স্ত্রী ধাক্কা খেলেন। আজকাল মানুষ নিজের মাকেই পাত্তা দেয় না আর সে কিনা শাশুড়ির নাম সেভ করেছে। আসলেই লোকটা নরম মনের মানুষ। তা বলে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তিনি এবারে ফোন করলেন প্রেটি লেডির নম্বরে। হ্যালো দুলাভাই। আচ্ছালামু আলাইকুম। এতদিনে আপনার একমাত্র শালীর কথা মনে পড়লো। ঋতু, আমি তোর আপা বলছি রে। তোর দুলাভাই ভুলে ফোন বাসায় রেখে গেছে। তুই কেমন আছিস। আরও অল্পকিছু কথা বলে ফোন রেখে দিল। না! তার স্বামীটা তো আসলেই ভাল মানুষ। নিজের বোন নেই তাই শালীকে বোনের মত দেখে। কিন্তু মাই লাভটা কে? খটকা এখনও দূর হয়নি। এবারে রিং দিল মাই লাভের নম্বরে। রিং হচ্ছে। ওমা তার নিজের নম্বরও বাজছে। নিজের ফোন হাতে নিয়ে দেখে তার স্বামীর নম্বর। সে পুরো থ হয়ে গেল। তার ভীষণ কান্না পেল। ফেরেস্তার মত স্বামীকে সে সন্দেহ করলো। তার খুব অনুশোচনা হল। সে সারাদিন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদলো। বিকেলে কুদরত সাহেব ফিরলে পুরো ঘটনা তাকে খুলে বললো। মাফ চাইলো। আর কুদরত সাহেবের হাতে তুলে দিল দশ হাজার টাকা ইচ্ছেমত খরচ করতে। এ টাকাটা সে অনেক কষ্টে জমিয়েছিল। অথচ একদিন আগে হলে জান থাকতে সে এ টাকা কাউকে দিত না। কিন্তু সে আজ এতটাই অনুতপ্ত আর তার পতিভক্তি ও পতিপ্রেম এতটাই উথলে উঠেছে যে এ টাকা তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। কুদরত সাহেব টাকাটা নিলেন। এ টাকায় একটি সুন্দর শাড়ি কিনে গিফট দিলেন বান্ধবী সিনথিয়াকে। ভাবছেন, কুদরত সাহেবের স্ত্রী ফোনে সিনথিয়ার নম্বর পেল না কেন? পাবে কি করে ওটা তো সেভ ছিল গফুর চাচা মোটর মেকানিক নামে।

সন্দেহবাদিতা ২

স্ত্রীর সন্দেহের আসামী হলে কি কি হতে পারে তার ধারনা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। এবারে তাদের সন্দেহ যে কখনও কখনও উপকারী হতে পারে তার একটা উদাহরন দেই। ধরুন, আপনি সকালের ঘুমটা খুব পছন্দ করেন তাই সকালে দেরি করে উঠেন। কিন্ত আপনার স্ত্রী চান আপনি সকালে উঠে হাটতে যাবেন যাতে আপনি স্লীম থাকেন। কি আর করা, আপনার কষ্ট হলেও স্ত্রী আজ্ঞা পালনে নিতান্ত অনিচ্ছায় হাটতে বের হন। কিন্তু আপনি সকালের ঘুমটা খুব মিস করেন। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে শুধু স্ত্রীর মনে একটু সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবেন। কিভাবে? দিন কয়েক পর হেঁটে বাসায় ফিরে উৎফুল্লভাব দেখান বা চাইলে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে জনপ্রিয় কোন গানের কলিও ভাজতে পারেন। ভাব দেখান আপনার হেঁটে খুব ভাল লাগছে। নিশ্চিত আপনার স্ত্রী আপনার উৎফুল্লতার কারন জানতে চাইবে। বলবেন, " আর বলো না হেঁটে খুব মজা পাচ্ছি। সকালবেলা আমরা যে রাস্তায় হাঁটি সে রাস্তার পাশে বাচ্চাদের স্কুলে সুন্দর সুন্দর মায়েরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসে। বাচ্চাদের স্কুলে ঢুকিয়ে তারা রাস্তার ধারে আড্ডা দেয়।" ব্যস আর কিছু বলার দরকার নেই। আপনার কথা শুনে স্ত্রীর কথা বন্ধ হয়ে যাবে, মুখ ভার হবে। আপনি সারাদিন চুপটি থাকুন। শুধু ঘুমুতে যাওয়ার আগে সকালে হাঁটতে যাওয়ার কোন প্রসংগ তুলতে পারেন বা নাও তুলতে পারেন। কিন্তু নির্দেশ পাবেন, "কাল থেকে আর তোমাকে হাঁটতে যেতে হবে না।" আঃ! কি শান্তি! নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ুন। পুলিশের সন্দেহের আসামী হলে কি সমস্যা হতে পারে তার একটু ধারনা দেওয়া যাক এবার। আপনি কপালদোষে পুলিশের সন্দেহের আওতায় যদি এসেই পড়েন তাহলে পুলিশের সন্দেহভঞ্জনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ৫৪ ধারায় আপনি লাল দালানে ঢুকে যেতে পারেন। কপাল ভাল হলে উকিল মোক্তার ধরে বাড়ি ফিরে বাড়ির ভাত খেতে পারবেন। আর যদি কপাল খারাপ হয় তাহলে লাল দালানে ভাত খেতে হতে পারে। কতদিন? তা জানতে জনপ্রিয় জোকটি শুনুন। এক বনের ধারে এক শেয়াল দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ সে দেখলো একটা মহিষ ব্যস্ত সমস্ত হয়ে দৌড়ে গভীর বনের মধ্যে ঢুকছে। শিয়াল তাকে জিজ্ঞেস করলো, "এই মহিষ, তুমি এত ব্যস্ত হয়ে কই যাও।" উত্তরে মহিষ বললো, "ও, তুমি জানো না বুঝি। হাতি ধরতে বনে পুলিশ এসেছে।" "আরে বোকা মহিষ তাতে তোমার কি তুমি তো আর হাতি না?" শিয়াল মহিষকে টিটকারি মারলো। মহিষ হেসে জানালো, "এটা এমন দেশ ২০ বছর জেলে থেকেও আমি প্রমান করতে পারবো না আমি হাতি না, মহিষ।" শুনে শেয়াল নিজেও আর দাঁড়ালো না, দৌড় লাগালো। পুলিশ উকিল মোক্তার কোর্ট কাচারীর কথা যখন এসেই গেল তখন সেখানকার কাজ কারবার সম্পর্কে একটু বিদ্যার্জন করা যাক। আদালতে বাদী পক্ষের সব সময় চেষ্টা থাকে মামলার ঘটনা কিভাবে বিচারক বা জুরিবোর্ডকে বিশ্বাস করানো যায়। অন্যদিকে আসামি পক্ষের কাজ কারবার সন্দেহ নিয়ে। অর্থাৎ বিচারক বা জুরিবোর্ডের মনে ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া। যে যত ভালভাবে এ কাজ করতে পারবে সে তত ভাল উকিল। কখনও কখনও সন্দেহ সংশয়ের জয় হয় কখনওবা নির্ঘাত পরাজয়। এ নিয়ে একটি গল্প হয়ে যাক। এক উকিল এক হত্যা মামলার আসামীর পক্ষে আইনি লড়াই করছে। এক পর্যায়ে সে বুঝতে পারলো যদিও ভিকটিকের লাশ পাওয়া যায়নি কিন্তু আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ এমন যে তার মক্কেলের শাস্তি এড়ানো খুবই কঠিন হবে। তখন সে মামলার জুরি বোর্ডকে বললো, "সম্মানিত জুরিবোর্ড আপনারা আজ যার হত্যাকান্ডের জন্য আমার মক্কেলকে আসামীর কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সে কিছুক্ষনের মধ্যেই হেটে আমাদের এখানে চলে আসবে।" বলেই সে কোর্টরুমের দরজার দিকে তাঁকালো। জুরিবোর্ডও দরজার দিকে তাঁকালো। কিন্তু কিছুই ঘটলো না। কেউ এলো না। তখন উকিল বললো, "এই মাত্র যে কথাটি বলেছিলাম তা ছিল একটা বিবৃতি মাত্র। কিন্তু আপনারা সবাই আমার কথায় দরজার দিকে তাঁকিয়ে ভিকটিমের কোর্টরুমে ঢোকার অপেক্ষা করছিলেন। এর একটাই অর্থ আপনারা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সন্দিহান। সুতরাং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়েও আপনাদের সন্দেহ আছে। অতএব আমার মক্কেল হত্যার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।" এরপর দ্রুত জুরিবোর্ড সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন ও রায় দিয়ে দিলেন। কি আশা করছেন আপনারা, জুরিবোর্ড আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়ে দিলেন। যদি বলি আপনারা ঠিক ধরতে পেরেছেন। কোন সন্দেহ হচ্ছে আপনাদের? সন্দেহ হলে কোন কথা নেই। না হলে একটি কথা আছে। এবারে কিন্তু সন্দেহবাতিকগন জিতে গেছেন। উকিলের যথার্থ সন্দেহ উদ্রেক সত্ত্বেও আসামিকে জুরিবোর্ড সাজা দিয়ে দিয়েছিলেন। কারন জুরিবোর্ড উকিল সাহেবের সন্দেহ উদ্রেকের বিবৃতির উপরই সন্দেহ করেছিলেন। কেন? উকিলের বিবৃতি শুনে বেচারা আসামি যে দরজার দিকে ভ্রক্ষেপই করেনি। কারন তার হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে নিজের কোনই সন্দেহ ছিল না। জন উইলসন বলেছেন, যে যাকে সন্দেহ করে সে তার ভাল কাজকেও স্বীকৃতি দিতে পারে না। তার মানে সন্দেহবাতিকেরা ভালকাজকেও সন্দেহের চোখে দেখে।আমাদের ধর্মপত্নীগণ ও পুলিশের কাজই হল সন্দেহ করা। সুতরাং এরা ছাড়া জন উইলসন সাহেবের কথামত সাধারন মানুষের সব কাজে সন্দেহ করা মানায় না। তাহলে সে সন্দেহবাতিক নামের ব্যাধিক্রান্ত হতে পারে। আবার একেবারে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির হয়ে সকল কথায় সকলকে বিশ্বাস করলেও অনেক সময় কপাল চাপড়াতে হয়। তাই মাঝে মাঝে কিন্তু সন্দেহবাতিক হওয়ারও প্রয়োজন আছে। এসব পরিস্থিতিতে সন্দেহ না করলে বরং আপনি ঠকে যেতে পারেন । একটা গল্প শুনুন তাহলে বুঝতে পারবেন সন্দেহ না করলে কি বিপদ হতে পারে। নগেন ও যতীন দু'বন্ধু। একদিন যতীন নগেনকে বললো, "জানিস দোস্ত আমাদের পুরোহিতের বৌটা না হেব্বি দেখতে।" নগেন বললো, "বলিস কিরে যতীন?" নগেন : "হা রে! আজ রাতে আমি পুরোহিতের বাড়ি যাব। তুই পুরোহিতকে পাহারা দিবি।" যতীন: "কিভাবে?" যতীন নগেনকে বললো, "আরে পুরোহিত যখন মন্দিরে থাকবে তুই পুরোহিতের সংগে কথা বলে তাঁকে মন্দিরে দু'ঘন্টা আটকে রাখবি।" নগেন আর পুরোহিত মন্দিরে কথা বলছে। নগেন: "পুরোহিত মশাই, আপনি গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন ও ভাল পুরোহিত। আপনি অনেকদিন ধরে এ মন্দিরে পুজা করে আসছেন।" এরকম নানা কথা বলতে বলতে দু'ঘন্টা কেটে গেল। পুরোহিতের নগেনের এ গাল গল্পে সন্দেহ হল। সে বললো, " আচ্ছা নগেন, আজ তুমি হঠাৎ আমার সাথে এত কথা বলছো কেন? আগে তো কখনই বলোনি।" নগেন আমতা আমতা করে বললো, "না মানে এমনি পুরোহিত মশাই?" পুরোহিত : "মানে মানে না করে আসল কথা বলো তো।" নগেন তখন জানালো যে যতীন তাঁকে দু'ঘন্টা মন্দিরে আটকে রাখতে বলেছিল। কারন তাঁর বউ নাকি হেব্বি সুন্দরী। যতীন আজ তাঁর বাড়িতে যাবে। পুরোহিত নগেনকে জিজ্ঞেস করলো, "নগেন, তুমি বিয়ে করেছো। নগেন: "হ্যাঁ। পুরোহিত মশাই।" পুরোহিত: "আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। আমার বউ পাঁচ বছর আগে মারা গেছে।" এবার আপনি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন কখন কাকে সন্দেহ করবেন বা কখন কাকে ক্লিন চিট দিবেন। অথবা কিভাবে নিজ পত্নীর সন্দেহ সংশয়কে সামাল দেবেন। পুলিশের সন্দেহ দূর করার চেষ্টা না করাই ভাল। বেশি চেষ্টা করলে পুলিশের সন্দেহকে বরং আরও উসকে দিবেন। (সমাপ্ত)

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনঃ ৯৩ শতাংশ জনগন এই আইনের বিপক্ষে

স্বাধীনতার আবেগ বাংলাদেশ নামের ভুখন্ডের অধিবাসীদের হয়তো সব সময়ই ছিলো, এখনো যে নেই তা বলা যাবে না। তবে সম্ভবত একবারই এই স্বাধ আর আনন্দ মানুষ ভোগ করেছে, তা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। গত ৪৭ বছর ভালো মন্দ কি হয়েছে সেই আলোচনায় আজনাইবা গেলাম। সম্প্রতি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করেছে। অনেকেরই এতে আপত্তি! বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। গনতন্ত্র নিয়ে যারা পৃথিবী জুড়ে সোচ্চার তারাও এর নিন্দা করছেন। এরা বলছেন এই আইন বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরন করবে। কেউ কেউ আইনটিকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। কিন্তু সাধারন মানুষ এই আইনকে কিভাবে নিয়েছে জানতে ফেসবুকে আমার টাইমলাইন আর পেইজ থেকে একটি নির্দোষ জরিপ চালিয়েছিলাম। গতকাল দুপুর থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ১,৫৭১ জন। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ১,৪৬৭ জন অর্থাৎ শতকরা হিসেবে ৯৩.৩৮ জন এই আইনকে পছন্দ করছেন না। তবে ১০৪ জনের সমর্থন রয়েছে আইনটির প্রতি, শতকরা হিসেবে যাদের সংখ্যা ৬.৬২ জন। জরিপে অংশ নিয়ে অনেকে আইনটি সম্পর্কে নানা রকম মন্তব্যও করেছেন। সেগুলো পড়তে চাইলে আমার টাইমলাইন বা পেইজ ঘুরে আসতে পারেন। যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন, শেয়ার করেছেন; লাইক আর কমেন্ট করে পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রানবন্ত ও বিশ্বাসযাগ্য করে তুলেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10155871586076623&id=696941622

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর  জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে বিলটি পাস হয়। এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার–সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯–এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে। আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেন। তবে সেসব আপত্তি টেকেনি। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। তবে এর মধ্যে তিনজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো এ আইনেও চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য

বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি

বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিচার করা যাবে

ফখরুল ইমাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এটি আইনে পরিণত হলে তা সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি কল্যাণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি তাতে বাধা সৃষ্টি করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিকের সমস্ত ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারকে সহযোগিতা প্রদান এবং বাধাহীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। বিরোধী দলের সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার যে কথা বলা হয়েছে, এই আইন হবে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধরার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও আইনে তা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইন গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করবে। নির্বাচনের আগে সমাজের এ রকম একটি বিশাল প্রগতিশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করা ঠিক হবে না। নুরুল ইসলাম মিলন, নুর ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবিন মোর্শেদ, রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারি, মোহাম্মদ নোমান বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বলেন, সময়োপযোগী বিলটি আরও আগে আসা উচিত ছিল। প্রচুর যাচাই বাছাই হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে আইনটি পাস করা হোক। সাংসদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট দেখলে দেখা যাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কী পরিমাণ আলোচনা করেছি। আইনমন্ত্রী যে কতবার তাদের সঙ্গে বসেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। যেটা সংসদে উত্থাপিত বিল ও সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হবে। তারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছেন তাসহ যেসব জায়গায় যে ধরনের সংশোধন করা দরকার আমরা করেছি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ নেতৃবৃন্দ সংসদীয় কমিটি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথাগুলো বলেছেন, তা সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন। না হলে এই বিল সম্পর্কে তাদের সমালোচনার অবস্থান বিরাজ করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়টি এই আইন খুলে দেবে।’ মোস্তফা জব্বার বলেন, সাংবাদিকেরা ৩২ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেখানে তারা গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলেছিলেন-সংসদীয় কমিটি সেটাকে সংশোধন করে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা বলেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগের নজির নেই। মোস্তফা জব্বার দাবি করেন, তাঁরা সাংবাদিকদের সামনে সব উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের কথা অনুসারে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার তার সবই করেছেন। সংবাদপত্র দমন বা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন নয়। এই আইন কেবল ডিজিটাল অপরাধ দমন করার জন্য। ভবিষ্যতে ডিজিটাল যুদ্ধ হবে উল্লেখ করে মোস্তফা জব্বার বলেন, এই যুদ্ধে যদি রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, রাষ্ট্র যদি বিপন্ন হয় তাহলে অপরাধটা আমাদেরই হবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন। আমরা একটি ঐতিহাসিক কাজের সাক্ষী হয়ে সংসদে থাকছি।’ পরে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। তবে ফখরুল ইমামের দেওয়া একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এই আইন কার্যকর হলে তথ্যও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল হবে। তবে এসব ধারায় বিচারাধীন মামলা এসব ধারাতেই চলবে। গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।   আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন 

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সেমিনারে বক্তারা

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

নিউইয়র্ক: নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করানো হয়েছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি দল এমন আইন পাশ করেছে। এই আইন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়, তারা মুক্ত গণমাধ্যম চায় না। অথচ মুক্ত গণ মাধ্যম থাকলে গুজব তৈরি হয়না। দেশের বিশিষ্ট টক-শো আলোচক, কলাম লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল এ কথা বলেছেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত-মুক্ত সাংবাদিকতা শীর্ষক রাউণ্ড টেবিল বৈঠকে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি হলে এই রাউণ্ড টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচন বিতর্কিত হলেও সাংবাদিকরা ৫৭ ধারার ভয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। বর্তমান সরকার এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এমন ধারা রেখেছে-একজন পুলিশ অফিসার যে কোন সময়, যে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। গ্রেপ্তারও করতে পারবে। অপরাধ করুক বা না করুক, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তা করতে পারবে পুলিশ। আর মামলায় সাজা হলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড। এই আইন থাকলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন না। দুর্নীতির সংবাদও লিখতে পারবেন না। যে কারো বিরুদ্ধে আইনটির প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে পুলিশ। এমন আইন কেন পাশ হলো-সেটাই বিস্ময়ের। এই বৈঠকে একই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টক শো-আলোচক ও কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায় বলেছেন, সাংবাদিকদের সব সময় লড়াই করেই চলতে হয়। উন্নত সমাজ ব্যবস্থায়ও সাংবাদিকরা লড়াই করেন। তিনি বলেন-বর্তমান সরকারের আমলে মিডিয়া জগতের উত্তরণ ঘটেছে এবং মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে তথ্য। তিনি আরো বলেন-কোন আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গেলে তা প্রতিরোধ করতে হলে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ-বিদেশে সাংবাদিকরা বিবাদে লিপ্ত। রাউণ্ড টেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর এবং সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর। অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয়ে আরো বক্তব্য রাখেন আজকাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সম্পাদক মনজুর আহমদ, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন নাসের, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অফিসের ব্যুরো প্রধান ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, লেখক আহমদ মাজহার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, দেশকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও কলামিষ্ট আবু জাফর মাহমুদ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, মানবাধিকার কর্মী কাজী ফৌজিয়া প্রমুখ। বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় চেতনা হচ্ছে গনতন্ত্র, বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সম্পদ কুক্ষিগত না করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা। আমরা যদি এসবের কথা বলি-তাহলে মামলা-হামলার শিকার হতে পারি। তিনি বলেন, আজ যারা আইন করছেন, কাল ঐ আইনে তারাও ফেঁসে যেতে পারেন। অতীতে দেখেছি-বিশেষ ক্ষমতা আইনে সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বিএনপি র্যা ব বানিয়েছিল-এর সুবিধা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমন উদাহরণ আরো আছে। আসিফ নজরুল বলেন, যে আইন অস্পস্ট, যে আইন একটি বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে এবং আইনটি প্রয়োগে জবাবদিহিতা নেই-এমন আইন কখনই জনগনের পক্ষে যায় না। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির উদ্দোগে লস এঞ্জেলেস ফেডারেল...

গত রবিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর দুপুর ২ ঘটিকা থেকে ৩ ঘটিকা পর্যন্ত বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির উদ্দোগে লস এঞ্জেলেস ফেডারেল বিল্ডিং এর সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।উক্ত সমাবেশে সভাপতি শামসুজ্জোহা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাইমেন, সাইফুল আনসারী চপল, আহসান হাফিজ রুমি সহ দলের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।বিক্ষোভ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সভাপতি শামসুজ্জোহা বাবলু বলেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, দেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, ৭৩ বছর বয়স্কা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গত ৮ই ফেব্রুয়ারী থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে নির্জন পরিবেশে একমাত্র কারাবন্দি হিসেবে আটকে রেখেছে। তিনি এরই মাঝে স্ট্রোক করে বা হাত ও পায়ে দুর্বলতাসহ নানাবিধ জটিল রোগে ভুগছেন।এই অনির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভা নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে জেলে মেরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গুম-খুন, জেল-জুলুমের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার গত কয়েক দিনে হাজার হাজার মিথ্যা কল্পিত মামলায় বি এন পি এর সারাদেশের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীকে আসামি করে জেলে পুড়েছে। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার গুম-খুন, মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে আবার বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরশর্ত মুক্তি দিয়ে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেন। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=286755948843013&id=100025258304962 https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/posts/100025258304962/ https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/photos/100025258304962/?type=3 https://www.facebook.com/syed.hossain.779642/photos/100025258304962/?type=3

কেমন আছে রেমিট্যান্স মেশিনেরা?

কেমন আছে রেমিট্যান্স মেশিনেরা?

লীনা পারভীন
ফিরছিলাম ব্যাঙ্গালোর থেকে। একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে ফেরার পথে আমার কানেক্টিং ফ্লাইট ছিল দিল্লিতে। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে জেট এয়ারওয়েজের বিমানে চড়ার লাইনে দেখলাম বিশাল এ বিমানের ৮০ শতাংশ যাত্রী বাংলাদেশি। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি বিষয়টা কী? বিমানের উঠার লাইনে আমার সামনেই ছিল দুজন বোরকা পরা নারী। দেখে বুঝা যাচ্ছিল তারা ওখানে কী কাজ করেন। উৎসুক হয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী বাংলাদেশি? উত্তর দিলো হ্যাঁ। কেন? জানতে চাইলাম, কোত্থেকে আসতেছেন? ছুটিতে আসছেন না একবারেই ফিরে আসতেছেন? সামান্য সন্দেহের চোখে আমাকে উত্তর দিলো সৌদি থাইকা কিন্তু আপনে এত কথা জানতে চাইতেছেন কেন? হাসি দিয়ে জানালাম যেহেতু আপনি আমাদের দেশি আর পত্রিকায় পড়েছি বিদেশে আমাদের দেশের লোকগুলো অনেক অত্যাচারে থাকে। তাই আর কি। অনেক কষ্টের হাসি দিয়ে জানালো, আর কষ্ট। দালালের মাইদ্যমে গেছিলামগো মা, পয়সা উসুল করার আশায় এত দিন আছিলাম। কিন্তু গায়ে আর সয় না তাই এইবার একবারেই আইসা পড়ছি। আর যামু না। ক্ষোভ ও কষ্টের এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি দেখলাম। লাইন ধরে বিমানে চড়ে বসলাম। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বিমান ছাড়ছিল না। বিমানের ক্যাবিন ক্রু’র কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন এখনো ৪০ জন যাত্রী আসা বাকি। এবং জানলাম এরা সবাই বাংলাদেশি। বিমানের ভেতরে এদের সামলাতে বিমান বালাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল কারণ ভাষাগত একটা জটিলতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে। এরা হিন্দি বা ইংরেজি কোনো ভাষাতেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছিল না। সব ঝামেলা শেষ করে বিমান চলা শুরু করল প্রায় ৩০ মিনিট দেরি করে। আমার পাশের দুই সিটে বসেছিলেন দুই বাংলাদেশি। আশপাশের সব সিটেই বাংলাদেশিরাই ছিল। শুরু হলো নিজেদের মধ্যে আলাপ। এরা এই সিট থেকে সেই সিটে একে অন্যকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করা থেকে শুরু কে কোন দেশ থেকে ফিরছে, কেন ফিরছে? মালিক কেমন, কাজের কী অবস্থা ইত্যাদি সংবাদ জানছিল। তাদের এসব আলাপে আমি ফিল করিনি যে আমরা কোন ইন্টারন্যশনাল ফ্লাইটে বসে আছি। একদমই দেশি লোকাল বাসের একটা ফিল পাচ্ছিলাম। পাশের সিটে বসা ছিল ফরিদপুরের জামাল মিয়া। জীর্ণশীর্ণ শরীরে ময়লা জামা কাপড় পরা কিন্তু মুখে প্রাণখোলা হাসি। আলাপের প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তিনি ওমানে থাকতেন কিন্তু গত চার মাস ধরে মালিক কাজ করিয়েছে বেতন দেয়নি। না খেয়ে না দেয়ে কোনো রকমে চেষ্টা করে যাচ্ছিল যদি বেতনের টাকাটা ফিরত পাওয়া যায়। এর মধ্যে মামলা মোকদ্দমার ঝামেলাও হয়েছে এবং তারা পালিয়ে কোনো রকম বেঁচে ছিল। পরে ব্যবস্থা করে চার মাসের বেতনের টাকা না পেয়েই দেশে ফিরত চলে এসেছে। প্রায় ৭ বছর পর তিনি ফেরত আসছেন দেশে। মোট ১০ বছর ছিলেন বিদেশে। যাই কাজ করতেন চলে যেত কোনো রকম কিন্তু এখন ওখানে বাংলাদেশিদের বাজার খুব খারাপ। কাজও পাওয়া যায় না তেমন। জানতে চাইলাম আর যাবেন কোন দেশে? উত্তর দিলো না গো বইন, দ্যাশে কামলা খাইট্টা খায়াম তাও আর বিদেশে যামু না। এত অপমান, লাঞ্ছনা আর সওয়া যায় না। এমন কাহিনী শুনলাম সৌদি, বাহরাইন, ওমান থেকে আসা যাত্রীদের মুখেও। সবাই ওখানকার মালিকদের গালাগাল করছিল অকথ্য ভাষায়। বিমান থেকে নামার আগে একেকজনের মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখেছি তার মূল্য কোনো অর্থ দিয়ে আদায় করা যাবে না। একেকজন প্রবাসী মানেই একেকটা জীবনের গল্প। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটা অভিজ্ঞতা না বলে পারছি না। মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম মে মাসে। বিখ্যাত শপিংমল বুকিত বিনতাং এ হোটেলে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমি আর আমার এক বন্ধু। হঠাৎ শুনলাম মোবাইলে কেউ একজন বাংলায় কথা বলছেন। আবারও উৎসাহ আবারও প্রশ্ন। জানতে চাইলাম ভাই এখানে কত বছর? কী কাজ করেন? জানালেন তিনি শপিংমলে প্লাম্বারের কাজ করতে এসেছেন। কোনো স্থায়ী কাজ পাচ্ছেন না তাই এমন খেপের কাজ করেই জীবন চালাচ্ছেন। দেশে ফোনে কথা বলছিলেন। দেখলাম আবেগের সঙ্গে তিনি তার পরিবারকে জানাচ্ছেন আমাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথাও। টাকা পয়সা খরচ করে এসেছেন তাই দেশেও ফিরত যেতে পারছেন না দেনা শোধ করতে হবে। জেট এয়ারওয়েজের যে বিমানের কথা এখানে বলেছি তার ৮০ ভাগ বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে ৬০ ভাগ একেবারে দেশে ফিরত চলে আসছেন কাজের অভাবে, কষ্ট সইতে না পেরে। বলেছিলাম নারীর কথাও। গতকালই জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভয়াবহ রিপোর্টটি আবারও প্রকাশ করল আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের করুণ কাহিনী অথচ এদের পাঠানো অর্থই বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। কতটা নির্দয় পরিবেশে তারা জীবনের বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছেন কেবল একটু ভালো থাকার আশায়। কিন্তু সেই ভালো কী তারা থাকছেন না তাদের পরিবার থাকছে? যেসব নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি বা অন্য দেশে যাচ্ছে তারা এখন দলে দলে ফিরছে শরীরে ও মনে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে। জমি জিরাত বিক্রি করে সহায় সম্বলহীন হয়ে তারা ভিন দেশে পাড়ি দিচ্ছে পরিবারকে ভালো রাখার কামনা নিয়ে। ভেবেছিল দেশের মাটিতে টাকা কামাই অনেক কষ্ট তার চেয়ে বিদেশের মাটিতে কষ্ট করলে অনেক টাকা কামাই করা যায়। সিনেমার পর্দায় দেখা বিদেশ আর বাস্তবের বিদেশ যে এক নয় এসব অসহায় মানুষেরা কী আর বুঝতে পারে? তাদের বুঝানোরও কেউ নাই পাশে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এখন অন্য দেশের জন্য রোল মডেল। আল্ট্রা ধনীর তালিকায় বাংলাদেশ এখন ওপরের সারিতে অথচ এ একই দেশের কিছু মানুষ এখনো জীবিকার সন্ধানে জীবন মরণ হাতে নিয়ে কী অসহায় দিন কাটাচ্ছেন পরদেশে যেখানে অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই, মরে গেলেও খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। আপনজনের মুখ দেখতে চাইলে কেবল চোখের পানি সম্বল। একজন মহিউদ্দীন দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফিরছেন অথচ তার সন্তানের বয়স তিন বছর। অর্থাৎ, জন্মের পর থেকে তিনি তার সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। যখন ফিরছেন তখন হাতে নেই কিছুই। সন্তানের জন্য একটি খেলনা কিনে আনবেন সেই সামর্থ্যটুকুও নিয়ে ফিরেননি কারণ তিনি চাকরি খুইয়ে বিনা বেতনে দেশে ফিরছেন। এ কষ্টের শেষ কোথায়? আমাদের দেশের যারা পুঁজিপতি শ্রেণি আছেন যারা বিদেশের মাটিতে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন তারা চাইলেই কিন্তু সেই অর্থে দেশেই গড়ে তুলতে পারেন আরেকটি সৌদি বা ওমান যেখানে আমাদের সেসব হতভাগা বাইবোনেরা কাজ করে নিরাপদ জীবন পেতে পারে। যেসব প্রবাসী নারী বা পুরুষরা নির্যাতিত হয়ে ফিরছেন, তাদের মানসিক অবস্থার দায় কে নেবে? জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের কাছে রিপোর্ট জমা হয়েছে কিন্তু বরাবরের মতোই প্রশ্ন থেকে যায় মন্ত্রণালয় কী নেবে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা? এসব অসহায় মানুষগুলোর এক টুকরো স্বপ্নকে এভাবে মেরে ফেলার দায় কী কারও আছে? লীনা পারভীন : কলাম লেখক ও সাবেক ছাত্রনেতা।

৩২ ধারা বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ – খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিঠি

৩২ সংখ্যাটিকে কলুষিত করবেন না

সৈকত হাবিব
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বড় বেদনা নিয়ে এই চিঠি লিখতে বাধ্য হচ্ছি। এ নিয়ে আপনার কাছে লিখতে হবে কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি! বহুদিন ধরেই কথাটি কানে আসছিল যে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮)’ নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে, যার অনেক ধারা কেবল গণঅধিকারবিরোধীই নয়, কিছু কিছু রীতিমতো কালাকানুনের পর্যায়ে পড়ে। এর মধ্যে ৩২ নম্বর ধারাটি নিয়ে অনেককেই রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেখেছি। বিষয়টি তলিয়ে দেখার পর এই আতঙ্ক আমাকেও প্রবলভাবে পেয়ে বসেছে। যেহেতু দল-প্রশাসন-ক্ষমতাসম্পর্কের বাইরে সাধারণ এক নাগরিক আমি, তাই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের চৌকাঠ মাড়ানো আমার সাধ্যের বাইরে। সে জন্যই দল ও আপনার সঙ্গে দূর-সম্পর্কিত বিভিন্নজনকে বলার চেষ্টা করেছি, এটা কী করে সম্ভব যে বঙ্গবন্ধুকন্যা আপনি, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জীবনের সবচে সোনালি দিনগুলো কাটানো আর জাতির জীবনের সবচে বড় অর্জন আর ট্র্যাজেডিস্থল ৩২ নম্বর সংখ্যাটিকে এভাবে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন! তারা নিজেরাও অনেকেই বিস্মিত হয়ে বলেছেন, আরে তাই তো, এভাবে তো জিনিসটি মাথায় আসেনি! কেউ কেউ বলেছেন, সম্ভব হলে বিষয়টি আপনার কানে পৌঁছাবেন। সম্ভবত তারা আপনার কাছে পৌঁছুতে পারেননি। সেদিন সংসদে যখন এ বিষয়ে কথা হচ্ছিল, আপনিও উপস্থিত ছিলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-মহোদয়রা ও আপনি সবাই উজ্জ্বল ও সহাস্য, টেলিভিশনে দেখেছি। আর ভেতরে ভেতরে গুমড়ে উঠেছি। নিশ্চয়ই ৩২ সংখ্যাটিকে আপনার চেয়ে ভালো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণিতবিদও অনুভব করার যোগ্যতা রাখেন না; ৩২ নম্বরের অস্তিত্ব আপনার চেয়ে বেশি কেউ রক্তে ধারণ করেন না; ৩২ নম্বরের গৌরব ও বেদনা আপনার কণাভাগও অনুভব করার সাধ্য আমাদের নেই। তবু ৩২ নম্বরের অধিকার কেবল কি আপনার, পুরো জাতির নয়? ১৯৭১-এর ৭ মার্চের দুপুরের খাবার সেরে যখন বঙ্গবন্ধু কোটি জনতার সামনে কী বলবেন বলে দ্বিধাগ্রস্ত, যখন আপনার মা বেগম মুজিব বলছেন, ‘তুমি তোমার অন্তরে যা অনুভব করবা তা-ই মানুষকে বলবা; তারা তোমার মুখের দিকে অনেক আশা নিয়ে চেয়ে আছে’ আর তিনি রেসকোর্স ময়দানে এসে নিজের অন্তর থেকে শোনালেন একটি জাতির সবচে কাক্সিক্ষত কবিতা, তারপর থেকে কি ৩২ নম্বর পুরো জাতির ঠিকানা হয়ে উঠেনি! বাঙালির স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে ভরসাস্থল হয়ে উঠেনি! অথচ এই সংখ্যাটির সবচে বড় অপমান ঘটতে চলেছে তারই রক্তে-ঘামে-জীবনে অর্জিত দল আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে! আর আপনার প্রধানমন্ত্রিত্বকালেই যদি এ দেশের লেখক-সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মী-মুক্তমতের মানুষদের (যাদের অনেকেই আবার আপনারও অনুরাগী) আইনি-আতঙ্কে থাকতে হয়, এটা কি খুব হতাশার ঘটনা নয়! দেশটার ভেতর আসলে কী ঘটছে, কারা ঘটাচ্ছে! যদিও তুচ্ছ-সামান্য কলমজীবী আমি, তবু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অগণন জনগণের রক্তে প্রতিষ্ঠিত এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এ প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার নিশ্চয়ই আছে। গরিষ্ঠতা কি আমাদের স্বেচ্ছাচারী করে তুলছে? জ্ঞানের মধ্যে পাপ ঢুকে পড়েছে! ক্ষমতা কি বিবেককে অন্ধ করে দিয়েছে আর প্রাচুর্য আমাদের আত্মাকে নরকে নিয়ে চলেছে? কিন্তু একথাটিও বলে রাখি, যদি সংখ্যাটির পরিবর্তন করে ধারাটি অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা হয়, সেটিও হবে ৩২ নম্বরের চেতনাবিরোধী। অন্যদিকে, যদিও আপনার দল অনেকাংশে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-স্লোগানের সাফল্যে সরকার গঠন করেছে এবং অনেক সাফল্য অর্জন করছে, কিন্তু আমার ঘোরতর সন্দেহ দল ও সরকারে বহু ক্ষতিকর ‘অ্যানালগ পদ্ধতি’ এখনো বিরাজ করছে। কারণ জনগণ ও নতুন প্রজন্ম যেভাবে জিজিটালি বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠছে, তাদের ভাষা বোঝার যোগ্য লোকের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি কী এক চালাকি ও অপজ্ঞান দিয়ে তারা বরং জনগণের পায়ে শেকল পরিয়ে রাখতে চাইছে, যার প্রমাণ এই হাস্যকর ডিজিটালি এনালগ আইন! একুশ শতকের বিশ্বে এই মধ্যযুগীয় চিন্তা দিয়ে আমরা আসলে কোথায় পৌঁছুতে চাই? পৃথিবীর কত সাম্রাজ্য, কত সম্রাট, কত শাসক, কত সরকার কত না কায়দা ও কানুন করেছে নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার কিন্তু যথাসময়ে তারা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে-কোনো ক্ষমতা, শক্তি, আইন বা রাজনীতি তাদের রক্ষা করতে পারেনি! তাই কেন এত টম অ্যান্ড জেরির গেম? তাতে হয়তো গুটিকয় মানুষ, গোটা কয়েক দিনের জন্য কিছুটা সুবিধা লাভ করতে পারবেন, কিন্তু স্থায়ী লাভ বা শেষ রক্ষা হবে কি? তাহলে কেন এত কিছু! বরং ক্ষমতার জোরে আইন দিয়ে চোখ না ঠেরে তাদের নিজেদের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনই কি বেশি প্রয়োজনীয় নয়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনেক রক্ত ও আগুনের নদী পেরিয়ে এসেছেন আপনি, স্বয়ং মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেও দেশকে নতুন নতুন জীবন দিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশ আপনার নেতৃত্বের গুণেই বিশ্বে নিজের শক্তি ঘোষণা করতে পারছে। আপনি আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবেই নন কেবল, নিজের ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা, সাহস আর শ্রমশীলতার কারণেও বিশ্বের অন্যতম শক্তিমান রাষ্ট্রনেতা। তাই আপনার প্রতি আমাদের দাবি ও অধিকারও অনেক বেশি, কারণ আপনি প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। আপনার সরকারের হাতে যদি গণ ও গণতন্ত্রবিরোধী কোনো কানুন তৈরি হয়, সেটি হবে আত্মঘাতী, যার মাসুল দলমত-নির্বিশেষ নিরীহ জনগণকেও দিতে হতে পারে, যা আপনিও নিশ্চয়ই চান না! আর আমরা তো দেখেছি, নানা সময়ে এসব আইন কীভাবে দুষ্টের পালনে আর শিষ্টের দমনেও ব্যবহৃত হয়! যে দেশে আইনের ফাঁক গলে খুনি-ডাকাতরাও পার পেয়ে যায় আর সামান্য চোরের অসামান্য শাস্তি হয়ে যায়, সে দেশে আইন রচনাতেও আরও সতর্কতা কি দরকার নয়? কারণ এই আইনগুলো কারা-কেন-কীভাবে প্রয়োগ করবে/করতে পারে বা অপপ্রয়োগ কতটা মারাত্মক হতে পারে, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আপনি তা ভালোভাবেই জানেন। অন্যদিকে, ইতোপূর্বে যেসব সরকার নিজেদের ‘নিরাপত্তা’র স্বার্থে সংবিধান ও মানবাধিকারবিরোধী আইন/বাহিনী তৈরি করেছিল, প্রত্যেকটিই কি বুমেরাং হয়নি! আপনাকে এসব কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতা করছি বলে ক্ষমা করবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কথিত ‘চাটার দল’ আর নব্যলীগার সরকারি-বেসরকারি চাটুকারদের বাড়-বাড়ন্ত দেখে এসব কথা কলম-ফসকে বেরিয়ে এলো! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কেবল সরকারপ্রধান নন, একই সঙ্গে আমাদের ভগিনী ও জননী। আমাদের বাবা-মায়েরা যেমন বঙ্গবন্ধুকে তাদের সব আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল মনে করতেন, আমাদের কাছেও আপনি তাই। আমার নিজের বিশ্বাস, যত দিন আপনি আছেন, তত দিনই বাংলাদেশের ভরসা আছে! মন্দের মধ্যেও সবচে ভালোটুকুর প্রত্যাশা আছে। খুব অন্তর থেকে বলছি, আপনার অবর্তমানে এই দেশ ও দলের কথা ভাবলে রীতিমতো ভয় হয়; সর্বমান্য অভিভাবকের খুব অভাব বোধ হয়। এই আজব-গজব জাতির জন্যই আপনাকে বড় প্রয়োজন। তাই সবসময় আপনার সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য প্রার্থনা করি। আপনার সুবিবেচনার ওপর সবচে বেশি ভরসা করি। আপনার জয় হোক। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবিকতার জয় হোক। ঢাকা : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সৈকত হাবিব : কবি ও সাংবাদিক

“৩২ ধারা বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮”

ভাবতেছি, সাংবাদিকতার মত মহান পেশা বাদ দিয়ে ঐ ক্যামেরা দিয়ে কোন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিয়ে বাড়িতে ফটো ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে যাবো। নয় ত, বিদেশ থেকে তেল আমদানি করে সরকারি, আধা- সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে বাহবাহ দিয়ে তৈল মর্দন করে ফেমাস হয়ে যাবো । কেননা, এর উল্টো কিছু করতে যাবো তো ফেঁসে যাবো। সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হচ্ছে, আছৌলা বাঁশ ৩২ ধারা বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮। নতুন আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরণের তথ্য-উপাত্ত, যেকোনও ধরণের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে।’ আইনটিতে এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। # প্রসঙ্গ: একজন সংবাদকর্মীর প্রধান কাজ হচ্ছে সমাজের অসঙ্গতি, দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মসাৎ ও অসহায় মানুষের পক্ষ হয়ে জনসম্মুখে তা প্রকাশ করা। আর এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রমাণাদি। যা সংগ্রহ করতে একজন সাংবাদিককে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু নতুন এই আইন প্রণোয়নে জাতির কাছে আমার প্রশ্ন (?) ” একজন সাংবাদিক কি তার সঠিক কাজটি করতে পারবে…???” লেখক: ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ সাংবাদিক ও কলামিস্ট, পত্নীতলা, নওগাঁ।

ইনস্টাগ্রামের দুই প্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগ

ইনস্টাগ্রামের দুই প্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগ

অনলাইনের জনপ্রিয় ছবি শেয়ারিং এপস ইনস্টাগ্রামের দুই প্রতিষ্ঠাতা কেভিন সিস্ট্রম ও মাইক ক্রিগর সোমবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ৬ বছর আগে ফেসবুকের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার বিষয়টি দুই প্রতিষ্ঠাতার বিদায়ে আরো প্রকট হয়ে উঠলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক বিবৃতিতে সিস্ট্রম বলেন, ‘গত ৮ বছর ইনস্টাগ্রামের সাথে ও ৬ বছর ফেসবুকের সাথে থাকতে পেরে মাইক ও আমি কৃতজ্ঞ। নতুন কোনো বিষয়ে আগ্রহ ও সৃজনশীলতা দেখানোর জন্য আমরা কিছুদিন অবসর কাটানোর পরিকল্পনা করেছি। এ মুহূর্তে পৃথিবীতে কি প্রয়োজন যা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে তা চিন্তা-ভাবনার জন্যই আমাদের সাময়িক অবসরে যাওয়া।’ সিস্ট্রম নতুন কিছুর পরিকল্পনায় সাময়িক অবসরের কথা বললেও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে দুজনের মতানৈক্যের ঘটনাকে প্রচার করছে। ফেসবুক ২০১২ সালে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ইনস্টাগ্রাম কিনে নেয়। ২০১০ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে সিস্ট্রম ও ক্রিগর ইনস্টাগ্রাম তৈরী করেন। পদত্যাগের আগপর্যন্ত তারা চিফ টেকনিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। এএফপি

পরকীয়া!!

পরকীয়া

মোঃ রফিকুল ইসলাম

সাধারনভাবে বিবাহিত কোন পুরুষ বা মহিলা নিজ স্ত্রী বা স্বামী ব্যতীত অন্যকোন মহিলা বা পুরুষের সংগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত হলে তাকে পরকীয়া বলা হয়। তবে আইনের ভাষায় অবশ্য শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয় শারিরীক সম্পর্ক হতে হবে। পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার অনেক কারন সমাজ বিজ্ঞানীগণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি কারনকে অগ্রগণ্য বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. একাকীত্ব: জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে।

২. স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: মানসিক দূরত্ব বা ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা।

৩. প্রেম ভালবাসার ঘাটতি: নানা কারনে প্রেম ভালবাসার ঘাটতি দেখা দিলে।

৪. যৌন সম্পর্কে বিরক্তি: কোন এক পক্ষের বিরক্তি বা অক্ষমতা দেখা দিলে।

৫.অন্তরঙ্গতার ঘাটতি নানাবিধ কারনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অন্তরঙ্গতার অভাব হলে।

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা যাই বলুক বা ব্যাখ্যা দিক না কেন মানুষ স্বভাবগতভাবে নিজেরটা নিয়ে কমই সন্তুষ্ট থাকে। হোক সেটা নিজের স্ত্রী বা স্বামী বা খাবার দাবার বা অন্যকোন জিনিস। রবি ঠাকুরের নরেশ পরেশ দু'চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের গল্পে যেমন আছে। নরেশ নিজের পছন্দের পাত্রী ছেড়ে পরেশের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করার পর যখন নরেশের ছেড়ে দেয়া পাত্রীকে পরেশ বিয়ে করে তখন নরেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যায় এই ভাল কি সেই ভাল নিয়ে এবং নিজের স্ত্রীর খুত আবিষ্কার করে। তেমনি খাবার দাবার নিয়েও গ্রামে একটা শ্লোক প্রচলিত আছে, নিজের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে তিতা, "পরের বাড়ির পিঠা খাইতে লাগে মিঠা।" খাবার নিয়ে বরং একটা গল্পই বলি। বিপত্নীক সরকার সাহেবের অনেক বয়স হয়েছে। মুখের স্বাদ কমে গেছে। প্রতিদিনই খাবার নিয়ে জ্বালাতন করেন। নিজের বৌমার রান্না ভাল লাগে না। শুধু পাশের বাড়ির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে ডাল বা তরকারী আনতে বলেন। একদিন সন্ধ্যায় খেতে বসেছেন। ডাল ভাল লাগছে না। পাশের বাড়ি থেকে ডাল আনতে বললেন। কাঁহাতক আর মানুষকে বিরক্ত করা যায়। তাই বৌমা চালাকি করে নিজেদের ডাল কাজের মেয়েকে দিয়ে শাড়ির আঁচলের তলায় বাইরে পাঠিয়ে আবার কয়েক মিনিট পর নিয়ে এসে বলে এই যে আপনার ঘটুর বৌয়ের ডাল। সরকার সাহেব এবার ডাল খেয়ে সন্তুষ্ট হন। আর বলেন, "দেখ তো আমার ঘটুর বৌয়ের ডাল। তোরা কি রান্না করিস মুখেই দেওয়া যায় না।" অথচ কয়েক মিনিট আগে এ ডালই তার ভাল লাগছিল না। মানুষ নিজের স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকাটা বোধহয় একটা চিরন্তন বিষয়। এজন্য অনেকেই সুযোগ খুঁজে কিভাবে তার সঙ্গীকে পরিবর্তন করা যায়। কি কথাটা আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে আমি একটা ঘটনা বলি। এরপর আপনারাই না হয় বিচার করুন। বইয়ের নামে শুধুমাত্র একটি বর্ণের ভুলের কারনে একটি বইয়ের বিক্রি মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বেড়ে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হয়েছিল। নিশ্চয়ই আপনাদের জানতে ইচ্ছে হচ্ছে বইটির কি নাম ছিল। বইটির নাম ছিল How to change your life. কিন্তু ভুলক্রমে l এর পরিবর্তে w হওয়াতে এ বিপত্তি ঘটেছিল। এতে বইয়ের নাম হয়েছিল How to change your wife. তাহলে বুঝুন ওয়াইফ পরিবর্তনের কলাকৌশল জানতে স্বামীরা কেমন উদগ্রীব ছিলো। পুরুষ লোকদের স্ত্রীদের সংগে কথা বললে নাকি বড় বড় রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। তবে সেটা নিজ স্ত্রী নাকি পরস্ত্রী সেটা একটা প্রশ্ন। আসুন দেখি সমীক্ষা কি বলে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্ত্রীর সংগে কথা বলা পুরুষের জন্য খুবই চিত্তবিনোদন ও জীবনী শক্তি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। এটা পুরুষের শতকরা ৯০ ভাগ উদ্বেগ ও ৮০ ভাগ হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এটা শতকরা একশ ভাগ চিত্তবিনোদনকারী। তবে এ গবেষনা সবচেয়ে বড় দূর্বলতা হল এটা কার স্ত্রীর সাথে কথা বলার কথা বলা হয়েছে সেটা বলতেই ভুলে গেছে। তার মানে এ সমীক্ষা পরকীয়ার মাহাত্ম্যকে তুলে ধরছে। পরকীয়ার মাহাত্ম্য যেমন আছে তার ঝক্কিও কিন্তু কম নয়। পরকীয়া করে ধরা পড়লে বা ধরা পড়ার আশঙ্কা হলে স্বামী বা স্ত্রীর হাতে নাস্তানাবুদ বা কখনও জীবনের উপরও আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। একটা গল্প বলি তাহলে হয়ত বিষয়টা একটু পরিষ্কার হতে পারে। দুই ভূতের আলাপ পরিচয় হয়েছ। তারা কে কিভাবে মারা গিয়ে ভূত হয়েছে তাই নিয়ে কথা বলছে। ১ম ভূত: ভাই, আপনি কিভাবে মারা গেলেন? ২য় ভূত: আমি ঠান্ডায় মারা গেছি। ১ম ভূত: তা ঠান্ডায় মারা যাবার সময় আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল। ২য় ভূত: আসলে আমি দূর্ঘটনাক্রমে একটা রিফ্রেজারেটরে আটকা পরেছিলাম। প্রথমে আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। পরে আমার শরীর জমে যায়। চারদিকে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে এবং এক পর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যাই। ১ম ভূত: আহা! কি করুন মৃত্যূ। ২য় ভূত: আপনি কিভাবে মারা গেলেন? ১ম ভূত: আমার হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল। ২য় ভূতঃ ও তাই, তা কিজন্য আপনার হার্ট এ্যাটাক হল। ১ম ভূত: আসলে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার স্ত্রীর অন্য এক পুরুষের সাথে সম্পর্ক আছে। একদিন যখন কাজ থেকে ফিরছিলাম তখন একজোড়া জুতা আমার বাসার দরজার বাইরে দেখতে পেলাম। তখন বুঝলাম যে ব্যাটা আমার স্ত্রীর সাথে আছে। কিন্তু শোবার ঘরে গিয়ে দেখি স্ত্রী একা। তখন আমার জেদ শয়তানটা কোথায় পালিয়ে আছে তা খুঁজে বের করা। আমি টয়লেট, নীচতলার ঘর, স্টোর রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও শয়তানটাকে পেলাম না। আমি দৌড়ে উপরের তলায় গেলাম। ওয়ারডোর্ব খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। কিন্তু এই দৌড়াদৌড়ি ও উত্তেজনা সহ্য করতে পারলাম না। হার্ট এ্যাটাক হয়ে গেল। ২য় ভূত: ইস্! আপনি কেন শয়তানটাকে খুঁজতে ফ্রিজটা খুঁজলেন না। শয়তানটা সেখানেই লুকিয়ে ছিলো। সেখানে খুঁজলে আজ আমরা দু'জনই বেঁচে থাকতাম। কখনও কখনও বুদ্ধিমান ও চালাক লোকেরা নির্বিঘ্নে পরকীয়া চালিয়ে যান তার স্ত্রী বা স্বামীর নাকের ডগায়। আবার কেউ কেউ ধরা খেয়ে নাজেহালও হন। আবার কেউ কেউ কখনও কখনও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে সন্তানের বাবা মা হয়ে সমাজের চোখেও নাজেহাল হন। এগুলোর দু'একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা খোলাসা হবে। প্রথমেই বুদ্ধিমান লোকেরা কিভাবে কি করে দেখা যাক। এক বিবাহিত লোকের তার অফিস সেক্রেটারির সংগে সম্পর্ক ছিল। একদিন সে অফিস শেষে তার সেক্রেটারির বাসায় গেল এবং সারা বিকেল তার সাথে প্রেম করল। এক পর্যায় সে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ জেগে উঠে পোষাক পড়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হল। বের হবার আগে সে তার প্রেমিকাকে তার জুতোজোড়া বাইরে নিয়ে ঘাস ও কাদা ময়লার সাথে ঘষতে বললো। এবারে ঘাস ময়লা লাগা জুতো পায়ে সে বাসায় ফিরে গেলো। "তুমি সারা বিকেল কোথায় ছিলে?" স্ত্রী জানতে চাইলো। "আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলবো না। আমার সেক্রেটারির সাথে প্রেম করছিলাম।" "আমার কাছে মিথ্যা বলো হারামীলোক। তুমি গলফ খেলছিলে।" এবারে একটু কম বুদ্ধিমান লোকেরা এ কাজ করতে গিয়ে কিভাবে ধরা পড়ে আসুন দেখি। এক মহিলার স্বামী সকালবেলা যখন চা পান করছিল তখন সে তার স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো। "আমি তোমার প্যান্টের পকেটে এক টুকরো কাগজ পেয়েছি তাতে মেরিলো নাম লেখা, "ক্ষিপ্ত স্ত্রী জানতে চাইলো, "নিশ্চয়ই তোমার কাছে এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আছে।" "জান। তুমি শান্ত হও।" লোকটি জবাব দিল, "মনে করতে পার গত সপ্তাহে আমি ঘৌড়দৌড় মাঠে গিয়েছিলাম। এটা ছিল আমি যে ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছিলাম তার নাম।" স্ত্রী কিছু বললো না। পরদিন সকালে গোপনে স্বামীর পিছনে এসে দাঁড়ালো এবং স্বামীর মাথায় সজোড়ে চাটি মারলো। স্বামী ক্ষেপে গিয়ে জানতে চাইলো কেন তাকে চাটি মারা হল। স্ত্রী জানালো, "তোমার ঘোড়া কাল রাতে ফোন করেছিল।" পরকীয়ার ফলে জন্ম নেয়া বাচ্চার পিতৃত্ব নিয়ে ঝামেলার গল্প বলি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন এমন ঝামেলায় অনেকেই জড়িয়েছে। হাতের কাছের উদাহরন ইতালীতে খেলার সময়ে ম্যারাডোনার ছেলের বাবা হওয়া। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ম্যারাডোনা জুনিয়ারকে সে মেনে নিয়েছে। এবারে গল্পে আসি। এক লোক রাস্তার ধারে বসে চা খাচ্ছেন। হঠাৎ একটা বাচ্চা দৌড়ে এসে বললো, "প্লিজ সাহায্য করুন। আমার বাবা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে।" ভদ্রলোক বাচ্চার পিছে পিছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন দু'জন লোক মারামারি করছে। তিনি বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কে তোমার বাবা?" সে জবাব দিল, "আমি জানি না, কে আমার বাবা তা নিয়েই তো তারা মারামারি করছে।" এবারে পরকীয়ার ভয়াবহতা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। ২০১৬ সালে স্ট্যাটিক ব্রেইন রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরকীয়ার উপর এক গবেষনা পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে আধূনিক কালের মানুষের তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ততার এক করুন চিত্র। তার কিছু আপনাদের জন্যে তুলে ধরছি। যথা-- এক তৃতীয়াংশ বিয়ের স্বামী বা স্ত্রী বা উভয়ই শারিরীক বা মানসিকভাবে তার সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত থাকে। শতকরা ২২ ভাগ পুরুষ এবং শতকরা ১৪ ভাগ নারী স্বীকার করেছে যে তারা তাদের সংগীর সাথে অবিশ্বস্ত ছিল। শতকরা ৩৬ ভাগ নারী পুরুষ তাদের সহকর্মীদের সংগে সম্পর্কিত ছিল। শতকরা ১৭ ভাগ নারী বা পুরুষ তাদের দেবর বা শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। যারা একবার পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তাদের পরবর্তীতে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩৫০ ভাগ। ভুল নয় ঠিক পড়ছেন ৩৫০ ভাগ। বিযের দু'বছরের মধ্যেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শতকরা ৩৫ ভাগ নারী পুরুষ সফরকালে পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। শতকরা ১০ ভাগ পরকীয়া হয় অনলাইনে। অন লাইনের সম্পর্কের শতকরা ৪০ ভাগ বাস্তব জীবনের সম্পর্কে রূপ নেয়। এসব কারনে বুদ্ধিমান কেউ কেউ আগে থেকেই উত্তর পুরুষদের পরিবারের পরকীয়া ঠেকানোর জন্য অন্যরকম কিছু পদ্ধতিও ভেবে রাখেন। এবারে এমনই এক গল্প বলি। এক ইটালীয় মাফিয়া ডন মৃত্যু শয্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় তার নাতিকে ডাকলো, "শোন। আমি চাই তুমি আমার ক্রমিয়ামের আস্তর দেওয়া . ৩৮ ওয়ালথার পিপিকে রিভলবারটি নাও যাতে মৃত্যুর পরও তুমি আমাকে মনে রাখো।" নাতি বললো, "কিন্তু দাদু, আমি তো এসব পিস্তল রিভলবার পছন্দ করি না। তারচেয়ে আমাকে তোমার রোলেক্স ঘড়িটা দিতে পার না?" "শোন সনি, ঘড়ি আমি দিতে পারি। কিন্তু তুমি জান, একদিন তোমাকে আমার এ ব্যবসায় চালাতে হবে। তোমার অনেক টাকা হবে। বিশাল বাড়ি হবে, সুন্দরী স্ত্রী হবে। হয়ত বাচ্চা কাচ্চাও হবে। একদিন হয়ত তুমি অসময়ে বাসায় ফিরবে। হয়ত বিছানায় তোমার স্ত্রীর সংগে অন্য কোন পুরুষকে পাবে। তখন তুমি করবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলবে, টাইমস আপ, সময় শেষ?" সবশেষে যারা পরকীয়ায় অভ্যস্থ তাদের জন্য একটা হুশিয়ারী গল্প বলে এ আখ্যান শেষ করতে চাই। ব্যবসায়ী জামশেদ সাহেব পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত আছেন। প্রায়ই তিনি ব্যবসায়ের কাজে বিদেশে যান। তো একবার তিনি ব্যবসায়ের কাজে নেপাল যাবার কথা বলে স্ফূর্তি করতে বান্ধবীর বাসায় উঠেছেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে বিমান দূর্ঘটনায় বিমানের সবাই মারা গেছে। ফলে তিনি আর বাসায় ফিরতে পারছেন না। সুতরাং যারা বিদেশে যাবার কথা বলে এরকম স্ফূর্তি টূর্তি করেন বা করবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের একটু সমঝে চলাই বোধহয় ভাল। নাহলে কখন কি হয়ে যায় আল্লাহ মালুম।

দুদকের গণশুনানি উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম: তাকসিম নামা!

দুদকের গণশুনানি

উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম

এক ফোঁটা পানিও থাকে না ট্যাপে; কখন আসে, কখন যায়, তাও টের পাওয়া যায় না। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাত জেগে বসে থাকেন তারা। অনেক প্রতীক্ষার পর যদিও বা সেই পানির দেখা মেলে, তার নোংরা দুর্গন্ধে ইচ্ছে করে দৌড়ে পালাতে। ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা, উদাসীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে পানি সরবরাহে এ নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। রাজধানীর মিরপুরে ওয়াসার মডস জোন-৪ ও জোন-১০ এলাকার ভুক্তভোগী নাগরিকরা এভাবেই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন গতকাল বুধবার। ঢাকার মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ওই দুটি জোনে ওয়াসার কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এসব কথা বলেন তারা। ভুক্তভোগীরা জোন দুটির দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনেই তাদের 'অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি' নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান এবং ডিএমডি (অর্থ) উত্তম কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন। গণশুনানি প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াসার কার্যক্রম একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই সাধারণ জনগণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর এ জন্যই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মডস-৪ ও ১০ এলাকার স্থানীয় নাগরিকরাও গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গণশুনানির মঞ্চে উপস্থিত মডস জোন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. মজিদ ও কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এবং জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হাবিব চৌধুরী ও কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন অনেক অভিযোগই এড়িয়ে যান। তবে কোনো কোনো অভিযোগ সমাধানের পাশাপাশি ঘুষ চাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা। দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ ভুক্তভোগী নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতারণা বা সেবার নামে ওয়াসার কোনো কর্মকর্তা ঘুষ চাইলে তারা যেন গোপনে দুদকের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফাঁদ পেতে ওইসব অসৎ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে তা সরবরাহ করতেও বলেন তিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা কোনোভাবেই যেন সেবাগ্রহীতা জনগণের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করেন। আগামী ২ মে বিআইবিএম মিলনায়তনে গতকালের গণশুনানির ফলোআপ গণশুনানি করা হবে বলে তিনি জানান। ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বিলে যাতে মানুষের হাত দিতে না হয় সেই পদ্ধতিও চালু করা হবে। এর ফলে কোনো গ্রাহককে অফিসে যেতে হবে না, বিল অনলাইনেই পরিশোধ করা যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে ওয়াসার হটলাইনে ফোন করে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে গণশুনানিতে একাধিক অভিযোগকারীই জানান, হটলাইনে ফোন করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তাকসিন এ খান আরও বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া (ডিএমএ) পদ্ধতিতে পানি সরবরাহসহ নানা ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মিরপুরের বাউনিয়া থেকে আসা মো. মোশাররফ বলেন, ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক তাকে বলেছেন, ঘুষ দিলে বিলের টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ওয়াসা কর্মকর্তা বলেন, বিল কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগকারীকে অফিসে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে রাজস্ব পরিদর্শকের সামনে এ নিয়ে কথা হবে। বড়বাগের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি খুব কমই পান তারা। যাওবা পান তা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। বড়বাগের পপুলার হাউজিংয়ের মারুফ মিল্লাত বলেন, কখনও রাত ২টার পর, আবার কখনও রাত ৩টার পর খানিকটা পানি পাওয়া যায়, যা দিয়ে জীবন চলে না। বড়বাগের অন্য একটি স্থানের নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় পানি নেই। স্থানটিকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্য এক অভিযোগকারী গণশুনানি কক্ষের সামনে থেকে এসে বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণেই ওই এলাকায় পানি নেই। যাদের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর 'খাতিরের লোক' বলে জানান তিনি। মিরপুর-১০ থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, দিনের বেলায় পানি থাকে না। পানি পাওয়া যায় রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। বড়বাগের আবদুল মতিন বলেন, মিটারের ত্রুটির কারণে বিল ১৬ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করত। অথচ মিটার পরিবর্তনের পর বিল আসছে সাত হাজার টাকা। হান্নান আকন্দ বলেন, নিম্নমানের মিটার দেওয়া হয়- অল্প সময়ের মধ্যেই এসব নষ্ট হয়ে যায়। শাহআলী এলাকার ঝিটন মিয়া বলেন, কর্মকর্তারা বলেন, সকালে পানি পাবেন, বিকেলে পানি পাবেন। আসলে পানি পাওয়া যায় না। বড়বাগের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাম্পের চাবি খুলে অন্য এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়, তারা পানি পান না। একটু পানির জন্য কত যে হাহাকার- তা বলে শেষ করা যাবে না।   গণশুনানিতে উত্তর ইব্রাহিমপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ থাকলে পানি পাই, চাপ না থাকলে পাই না। তৌহিদুর রহমান বলেন, মিটার রিডার রিডিং না করেই তাদের বিল দেন। তাতে বিলের পরিমাণ বেশি উল্লেখ করা হয়। বারোটিকার রহিমা নাসির বলেন, সারাদিন, সারারাতে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক পানি পাওয়া যায়। ফাতেমা আক্তার বলেন, পানি কখন আসে, কখন যায়- তারা জানেন না। তারা খাবার পানি পান না; অথচ পাশেই নির্মাণ কাজে প্রচুর পানি দিয়ে ইট ভেজানোসহ অন্যান্য কাজ করা হয়।

আইন ভেঙে পঞ্চমবারের মতো ওয়াসার এমডি হচ্ছেন তাকসিম

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
ঢাকা ওয়াসায় পঞ্চমবারের মতো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করা হচ্ছে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে। এ নিয়োগ পেলে প্রকৌশলী তাকসিম ১২ বছর পূর্ণ করবেন। তাকসিম এ খানকে স্বপদে বহাল রাখতে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াসা বোর্ডকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওয়াসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে থাকে। এবারই প্রথম বোর্ডের সেই ক্ষমতা খর্ব করে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নতুন করে নিয়োগের সুপারিশসহ প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর তাকসিম এ খান নিয়োগ পেয়ে পর পর চারবার নিয়োগ পান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকসিম এ খানকে নতুন করে নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের (পাস-২ শাখা) উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(১), (২) ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক আগামী ১৩ অক্টোবর তাঁর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হবে। এমতাবস্থায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব বোর্ডের সুপারিশসহ প্রেরণের জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা আইন মেনে এমডি নিয়োগ দিতে ওয়াসা বোর্ডকে পত্র দিয়েছি। সেখানে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করি না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আর একই আইনের ১০(গ) ধারায় বলা আছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের নিয়োগ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বোর্ড। মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে গতকাল শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে বোর্ডসভা হয়। বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রকৌশলী তাকসিমকে পুনরায় নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বোর্ডসভায় উপস্থিত একজন সদস্য গতকাল রাতে কালের কণ্ঠর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড মূলত এমডি নিয়োগের সব বিষয় চূড়ান্ত করে। সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, নানা যোগ্যতা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর মেধা তালিকা করে চূড়ান্ত নিয়োগের একটি সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করে। এখন মন্ত্রণালয় যদি এমডির নাম লিখে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার চিঠি দেয় সেখানে তো বোর্ড থেকে আর লাভ নেই। আরেকজন বোর্ড সদস্য গতকাল বলেন, আজকের (গতকাল) বোর্ডসভায় মূল এজেন্ডা ছিল এমডি নিয়োগ। সেখানে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। নিজের নিয়োগের ব্যাপারে উপস্থিত হয়ে নিজেই তা চূড়ান্ত করেন। একজন প্রার্থীকে বোর্ডে বসিয়ে কিভাবে নিরপেক্ষ কথা আর আইনের কথা বলি? এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়ে আমাদের সুপারিশ দিতে বলেছে। এখন আর কী। এটি আইনসম্মতভাবে হচ্ছে কি নাএ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করে চতুর্থ মেয়াদে এমডি হয়েছিলেন তাকসিম এ খান। সে সময় বোর্ডকে পাস কাটিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলতি দায়িত্বে ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান) সঙ্গে নিয়ে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন তিনি। সেখানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ জায়েজ করা হয়। সেখানে এমডি পদে প্রার্থীর বসয়সীমা আইন অনুযায়ী ৫৯ বছরের স্থলে ৬০ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ তাকসিম এ খানের বয়স সেই সময় ৫৯ অতিক্রম করেছিল। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে তৃতীয়বারের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় ওয়াসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ডসভায় চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হন তাকসিম। ২১০তম বোর্ডসভা চলমান থাকলেও প্রায় এক বছরের আগের ১৯৮তম বোর্ডসভার নিষ্পন্ন হওয়া তামাদি সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমডি পদে বহাল হয়েছিলেন; যা ছিল ওয়াসার আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে রেকর্ড করেছেন তাকসিম এ খান। পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয়ের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়োগ পেলে তাকসিম এ খান ওয়াসায় প্রায় ১২ বছর পূর্ণ করবেন। অথচ তাকসিম এ খানকে প্রথম মেয়াদে নিয়োগের সময়ই অনিয়ম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরবর্তী নিয়োগে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা সাহানা বারী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে পরীক্ষা ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো।

নামে-বেনামে’ ফেইসবুক আইডি খুলুন: এইচ টি ইমাম

সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের জবাব দিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

তিনি বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বৃদ্ধিতে আপনাদের নাতি-নাতনিদের নামে-বেনামে একটার জায়গায় ১০টা কেন, প্রয়োজনে একশটা ফেইসবুক আইডি খুলতে বলুন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পৃক্ত করুন।” নির্বাচনের আগে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চলতে পারে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশঙ্কা প্রকাশের মধ্যে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি’র এক আলোচনা সভায় একথা বলেন ইমাম। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার বড় অংশই বিএনপি-জামায়াতের দখলে রয়েছে। তারা সেটার মাধ্যমে দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে আমাদেরকে নজর দিতে হবে। “এই নির্বাচনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। যদি স্বাধীনতা বিপক্ষের শক্তি বিজয় অর্জন করে তাহলে দেশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।” তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষকে এত দুর্বল ভাবলে হবে না। তাদেরকে চিনতে হবে, তারা কোথায় আছে, কী করে সেদিকে আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর আগামী লড়াইয়ে শুধু প্রতিহত নয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ধ্বংস করতে হবে।” নির্বাচন প্রসঙ্গে ইমাম বলেন, “ডিসেম্বরে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরে প্রশাসন সহায়ক সরকারের অধীনে চলে যাবে। কিন্তু বর্তমান আমরা সরকারে আছি তাই এখন থেকে আমাদেরকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং গ্রামাঞ্চল, পাড়া-মহল্লায় সব জায়গায় নির্বাচনের খবর পৌঁছে দিতে হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়া কি মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

সোশ্যাল মিডিয়া কি মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

ফেসবুকে বিভিন্ন খবর নিয়ে অনেক বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়, আলোচনা-সমালোচনা চলে। বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লাইকের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় এই মাধ্যমে যারা বিবিসি বাংলাকে অনুসরণ করেন, তাদের সংখ্যা এখন এক কোটিরও বেশী। সারা বিশ্বেই এখন সোশ্যাল মিডিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে নানা দেশে এমনকি প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও এটি বড় প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া কি মূলধারার গণমাধ্যমের সমান্তরাল কিংবা বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামীম রেজা বলছিলেন "সোশ্যাল মিডিয়া বিকল্প ধারা হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এটা বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হচ্ছে নাকি গণমাধ্যমের সমান্তরাল হচ্ছে -এটা বলার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। তবে এর কাঠামো বিকল্প ধারার"। মি: রেজার মতে "সোশ্যাল মিডিয়া ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তার যে প্রভাব তৈরির ক্ষমতা সেটা গুরুত্বপূর্ণ"। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন উত্থানে বাংলাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যম যেমন সংবাদপত্র, টেলিভিশন , রেডিও ক্ষতিগ্রস্ত হবার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না মি: রেজা। "কারণ এই মাধ্যমের সঙ্গে প্রযুক্তি জড়িত। ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মনে হবার কারণ হলো এখানে আপনি হয়তো প্ল্যাটফর্ম পাল্টাচ্ছেন, হয়তো ফরম্যাট পাল্টাতে হচ্ছে। কিন্তু সংবাদতো আর পাল্টাচ্ছে না। "সংবাদ পরিবেশনের যে রীতি, ভালো সাংবাদিকতার যে চাহিদা তা বাংলাদেশে রয়েই যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমাজে-রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতিতে চাহিদাগুলো থেকে যাচ্ছে।" "আর পুরনো গণমাধ্যমগুলোও এই সুযোগ গ্রহণ করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, অনলাইনভিত্তিক মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে। ভবিষ্যত যেহেতু ওদিকে যাচ্ছে এবং চাহিদা যেহেতু ওইদিকে বাড়ছে, ব্যবহারকারী যারা তারা যখন ক্রমশ সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে এবং ওই মাধ্যমেই তারা খবর পড়তে চাইছেন- সুতরাং ক্ষতিগ্রস্ত হবার কোনও কারণ দেখি না"- বলছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা। তিনি মনে করেন এই মাধ্যমে শেয়ারিং বা বিনিময়ের যে বিষয় রয়েছে সেটা অন্য মাধ্যমে সম্ভব নয়। "এর একটা শিথিল সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এক কথায় এই মাধ্যম অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক। অ্যাক্টিভিজমের জন্য অনেক বেশি সহজ এবং ওই অর্থে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক"। "একটি রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মত বিনিময়ের একটা অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। মানুষ নিজের মতামত জানাতে পারছে। ব্যবহারকারী বা জনগণের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।" "যে মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো বেশি পাওয়া যাবে সেটারই বেশি ভবিষ্যত থাকবে" বলে মনে করছেন অধ্যাপক শামীম রেজা।

চরমপন্থী প্রচারণা তুলে নিতে হবে এক ঘন্টার মধ্যে

ফেসবুক, গুগল, টুইটারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হুঁশিয়ারী:

'চরমপন্থী প্রচারণা তুলে নিতে হবে এক ঘন্টার মধ্যে'
গুগল, ফেসবুক এবং টুইটারকে এখন হতে যে কোন চরমপন্থী পোস্ট এক ঘন্টার মধ্যে তুলে নিতে হবে, নইলে তাদের বিরাট অংকের জরিমানা করা হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নতুন এক প্রস্তাবে এই হুমকি দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ ইয়ংকার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেয়া তার ভাষণে বলেন, "এক ঘন্টার মধ্যেই এদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী করবে।" গত মার্চ মাসে বিশ্বের এই বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তিন মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল চরমপন্থীদের প্রচারণা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারপর এসব কোম্পানির পক্ষ থেকে খুব সামান্য ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, কোন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া কোন পোস্ট চরমপন্থার প্রচারণা চালাচ্ছে, তাহলে সেই পোস্ট এক ঘন্টার মধ্যে মুছে ফেলতে হবে। নইলে এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের বার্ষিক টার্নওভারের চার শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। 'দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিরাট অংকের জরিমানা': জ্যাঁ ক্লদ ইয়ংকারের হুঁশিয়ারি তবে ইউরোপীয় কমিশনের এই প্রস্তাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবগুলো দেশের অনুমোদন পেতে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও এই প্রস্তাব পাশ হতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনের এই প্রস্তাবের জবাবে ফেসবুক বলেছে, "সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান ফেসবুকে নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে লক্ষ্য ঠিক করেছে, তার সঙ্গে আছে ফেসবুক। একমাত্র সব কোম্পানি, সিভিল সোসাইটি এবং প্রতিষ্ঠান মিলে এর বিরুদ্ধে লড়াই করলেই এই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে মনে করে ফেসবুক।"

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্র

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্র

সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের ব্যক্তিক ও সামাজিক জীবনে সৃষ্টি করে চলছে নতুন এক বাস্তবতা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গ্রামের চায়ের দোকানে এসে পৌছানো পত্রিকা কিংবা বই-পত্র ঘেটে প্রয়োজনীয় তথ্যে খোঁজাখুঁজির দিন পেরিয়ে আমাদের এখন মাউস আর স্মার্টফোন নির্ভরতা। গণমাধ্যম তথ্য বিপননের সাবেকি পন্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রত্যেকে এখন ‘২৪/৭’। আর সবার আগে সর্বশেষ সংবাদ প্রচারের লড়াইয়ে ইন্টারনেট যেন রাজপথ। এই পথে পাঠক ও সংবাদের মধ্যকার সেতু হিসেবে নিজেকে প্রমান করে চলছে সোস্যাল মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে সংবাদপত্রের রিডারশিপ ও পাঠক মিথষ্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন চোখে পড়ছে, তেমনি সময়ের সাথে অনলাইন মিডিয়ার চলার গতি দেশের সংবাদপত্রগুলোকে অনলাইন সংস্করণে যেতে বাধ্য করছে।
চারপাশে, দেশ ও দেশের বাইরে কী ঘটছে, সেগুলো আমরা ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলপ্লাসসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেয়ে থাকি। আমাদের টাইমলাইন, নিউজফিড ভরে যায় দরকারি-অদরকারি অসংখ্য সংবাদ, ছবি ও ঘটনায়। দ্রুত সময়ে এক ক্লিকে পাঠকের কাছে সংবাদ পৌছে দেয়ার জন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও যার যার ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব একাউন্টে সরব উপস্থিতি যেমন জানান দিচ্ছে, তেমনি এসব কাজ করার জন্য আলাদা লোকবলও নিয়োগ করছে।
সারাবিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭০ ভাগ মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্তি আছে, যাদের প্রায় ৪৭ ভাগ মানুষই ব্যক্তিগত সোস্যাল মিডিয়ায় ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য, সংবাদ, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে থাকেন। তরুণদের মধ্যে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের হার আরো বেশি, প্রায় ৯০শতাংশ।১ বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করেন, তাদের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের ফেসবুক একাউন্ট আছে।২ এই ৮০ ভাগ মানুষের সাথে যুক্ত আছে দেশের বাইরে থাকা অসংখ্যা বাংলাভাষাভাষী মানুষ, যাদের কারনে প্রথম আলো সদর্পে ঘোষণা দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে বাংলা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জন্য সংবাদ প্রচার, প্রসার ও ব্রান্ড উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠছে। সম্প্রতি SearchMetrics এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। টুইটারে সর্বাধিক জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদপত্র হলো দ্য ওয়াশিংটন পোষ্ট, যার প্রকাশিত সংবাদগুলো সপ্তাহে ১,৭৫, ০০০ বার টুইট হয়। তালিকায় দ্বিতীয় সারিতে আছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, যার সাপ্তাহিক টুইট সংখ্যা ২, ৬০, ০০০।৩ সাধারনত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের নাম বলতে গেলে ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপি, ইউটিউব, ভাইবার, ইমো, ইনস্টাগ্রামসহ অনেক নাম চলে আসে। এসবের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমটি হলো ফেসবুক, পিউ রিসার্চ সেন্টারের ভাষায় ‘ফেসবুক ইজ দ্য লিডার অব সোশ্যাল মিডিয়া’। ফেসবুকের কারনে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, সার্কুলেশন ও বিপনন বিভাগেও আসছে পরিবর্তন। জনপরিসরে পত্রিকার ব্রান্ডিং, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য সংবাদপত্রগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ভাবতে হচ্ছে নতুন করে। আমাদের দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন সমূহের বেশিরভাগেরই ফেসবুক পেইজ রয়েছে। অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সেগুলো সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ফেসবুক পেইজে তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পেইজের সাথে সংযুক্ত পাঠককেদর নিউজফিডে সংবাদটি চলে যায়। মহুর্তেই অসংখ্য পাঠকের কাছে সংবাদ পৌছে দেয়ার এই সুবিধা দেশের গোটা সাংবাদিকতা সংস্কৃতি বদলে দিচ্ছে। প্রতিটি জাতীয় দৈনিকই সারাদিন অনলাইন সংস্করণের মাধ্যমে পাঠক চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি দিনশেষে ছাপা অক্ষরে কাগজের পত্রিকা পৌছে দেন দেশের অলিগলিতে।
একটা সময় পর্যন্ত যেখানে টেলিভিশিন, রেডিও, সংবাদপত্র সংবাদ উৎস হিসেবে পাঠকের কাছে দাপুটে ভুমিকায় ছিলো, সেখানে বর্তমানে ইন্টারনেট ক্রমশই নিজের অবস্থানকে সুদৃড় করে চলছে। ২০০১ সালে যেখানে সংবাদ উৎস হিসেবে ইন্টারনেটের অবস্থান আর সব মিডিয়ার নীচে ছিলো, সেখানে মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে গোটা চিত্র পাল্টে গেছে। ২০০১ সালে মাত্র ১৩ ভাগ মানুষ সংবাদ উৎস হিসেবে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করতো, সেখানে বর্তমানে ৫০ ভাগ মানুষ ইন্টারনেটকে মূল সংবাদ উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে।
সংবাদ উৎস হিসেবে মানুষের এই ইন্টারনেট নির্ভরতার ক্ষেত্রে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া। যারা সংবাদপত্র কিনে ঘরে বসে আয়েস করে পড়ছেন, কিংবা টেলিভিশন রিমোট হাতে এই চ্যানেল ওই চ্যানেল করছেন, তারা তো আছেনই। কিন্তু এদের বাইরে একটা বড় অংশের পাঠক আছে, যারা ফেসবুক, টুইটার, গুগলপ্লাসের মাধ্যমে অনেকগুলো সংবাদের মাঝে পছন্দের সংবাদটি খুঁজে নেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে সংবাদসূত্র হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সংবাদকর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতার অধ্যাপক লরা উইলনাট ও ডেভিড ওয়েভার এক হাজার মার্কিন সাংবাদিকের উপর একটি গবেষণা করেন। তার The American Journalist in the Digital Age শীর্ষক এই গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৪০ভাগ সংবাদকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সংবাদসূত্র হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে অবহিত করেন। এক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা টুইটারকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেন, যেখানে খুব সহজে চলমান ঘটনাসমূহের ব্যপারে তথ্য পাওয়া যায়। গণমাধ্যম গবেষক রুথ এ. হারপার তার “The Social Media Revolution: Exploring the Impact on Journalism and News Media Organiæations.” শীর্ষক প্রবন্ধে দেখান, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সাংবাদিক নিজ নিজ গণমাধ্যমে দ্রুত সব ধরনের সংবাদ প্রকাশ ও পাঠকের চাহিদা পুরণের জন্য সর্বদা দেশি ও বিদেশী গণমাধ্যমসমূহ পর্যবেক্ষনের আওতায় রাখেন। কখন কোন সংবাদপত্র কি প্রকাশ করছে, সে ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখেন। টুইটারের টাইমলাইন কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড, সবসময়ই অসংখ্য সংবাদ, সংবাদের বিশ্লেষণ ও নানা রকম ঘটনার ছবি ও তথ্যে ভরাট থাকে। অনেক সময়ই সাংবাদিকরা এসব লিংক বা নিউজ ফিড থেকে নতুন নতুন প্রতিবেদন ও ফিচার লেখার রসদ পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার গ্রহণ, কোন বিশেষ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত জানার জন্য সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেন।
কেবল সাংবাদিকরাই নন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে সংবাদ পাঠকের পাঠাভ্যাস ও পাঠ পরবর্তি প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী পাঠকের অর্ধেক অংশ নিজস্ব অর্ন্তজালে সংবাদ, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে। এছাড়া প্রায় ৪৬ ভাগ পাঠক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ছবি ও ভিডিওতে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সংবাদ ও পাঠকের এই মিথষ্ক্রিয়া যেমন যে কোন ইস্যূতে ব্যাক্তির মতামত, ভালোলাগা-মন্দলাগা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি পাঠক ও প্রতিষ্ঠান, পাঠক ও সংবাদকর্মীর মধ্যকার মিথষ্ক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে। এই মিথষ্ক্রিয়া গণমাধ্যমের সচ্ছ¡তা, জবাবদিহীতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভ‚মিকা পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত একই সংবাদ কে কিভাবে প্রকাশ করছে, খুব সহজে সেটা বোঝার সুযোগ করে দিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমের এই একসাথে প্রসারিত হওয়ার গল্প আমাদের সাংবাদিকতাকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে? নাইট ফাউন্ডেশন ও নাইট ডিজিটাল সেন্টারের সংবাদকর্মী ও কনসালটেন্ট মিচেল ম্যাকলিলেনের মতে, মোটাদাগে এখনকার সাংবাদিকতা যেন পাহাড়ের উপর থেকে বসে বলে দিচ্ছে পাহাড়ের নিচের লোকজন কিভাবে কি করবে, তাদের কি জানা দরকার, কি দরকার না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশের কারনে সে সুযোগটা কমে আসবে দিন দিন। বরং সাংবাদিকতায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈচিত্রতা ও ভিন্নমতের সম্মিলন ঘটবে বেশি মাত্রায়।৭ বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন নিজেদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নিজেদের বক্তব্য আরও সরবভাবে জানান দেবে, যেটা সাংবাদিকতা ও স্বয়ং সংবাদকর্মীকে প্রভাবিত করবে। ম্যাকলেলিনের মতে, সাংবাদিককে শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও সেটা প্রকাশ প্রকাশ করলেই চলবে না, বিভিন্ন কমিউনিটিতে যেসব ইস্যূ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয় সেগুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে, ‘কমিউনিটি ম্যানেজার’ হিসেবে ভ‚মিকা পালন করতে হবে। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ‘মিডিয়া কালচার’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সি.ডব্লিউ এ্যান্ডারসনের মতে, অন্য অনেক বিটের মতে সামনে সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিট বিট কাজের ক্ষেত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। ইংল্যান্ডে চ্যানেল এস এর আন্তর্জাতিক সম্পাদক লিন্ডসে হিলসাম জানান, গণমাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সাংবাদিকতা শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে। এর মাধ্যমে খুব প্রান্তিক জায়গার সংবাদও আমরা জানতে পারবো। সংবাদ সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি নিজের কথা নিজের মতো করে ছড়িয়ে দিতে পারবে। ৮ গণমাধ্যমের একটি গণতান্ত্রিক চরিত্র তৈরি হবে, যেখানে সাংবাদিক, পাঠক, দর্শক, শ্রোতারা মিথষ্ক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। গণমাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের ব্যপারে অনেক তাত্তি¡ক জাত গেলো, জাত গেলো বলে চিৎকার করেন। জনপ্রিয়তা ও অনলাইনে ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশেরও অভিযোগ পাওয়া যায়। অনলাইনে বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজন পক্ষমাতমূলক তথ্যও সরবরাহ করে থাকে, যা সংবাদকর্মীকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিতে পারে। আর এসব নানাবিধ সমস্যাকে মোকাবিলা করেই ভবিষ্যতের গণামাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াকে হাত ধরাধরি করেএগিয়ে যেতে হবে। যার যার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশে যেসব তরুণ-তরুণী সাংবাদিকতা বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের পাঠ্যসূচীতেও এ বিষয়ে দরকারি পঠনপাঠন এখন সময়ের দাবি।

তেলবাজ, চাটুকারদের কবলে সাংবাদিকতা

তেলবাজ, চাটুকারদের কবলে সাংবাদিকতা:

গোধূলী খান

নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে তার সভাসদরা বলতো, ‘কমরেড নেপোলিয়ন ইজ অলওয়েজ রাইট’। কিন্তু নেপোলিয়ন বলেছিলেন, আমি নিজে বলছি, আই অ্যাম নট অলওয়েজ রাইট। আমারও ভুল হতে পারে। ক্রটি হতে পারে। আমারও সমালোচনা থাকতে পারে। আমি মনে করি, সমালোচকরা আমার বড় বন্ধু। আর যারা আমার বন্দনা করে, যারা চাটুকারি-মোসাহেবি করে, তারা হচ্ছে বড় শত্রু। চাটুকার মোসাহেবদের চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ নেই।

[caption id="attachment_22212" align="alignnone" width="300"] গোধূলী খান[/caption] ঊনিশ শতকের দুর্দান্ত লেখক ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। বাংলা সাহিত্যে সে সময় আরো অনেক লেখক ছিলেন, কিন্তু শাস্ত্রী যুগে যুগে বেঁচে থাকবেন তাঁর রচিত ‘তৈল’র কারণে। “তৈল” নামের লেখায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী দৈনন্দিন জীবনে তেলের গুরুত্ব বা ভূমিকা তুলে ধরেছেন সাবলীলভাবে। জীবন বা জগতের ভারসাম্য রক্ষায় তৈলের গুরুত্ব বর্ণনার সাথে সাথে মানুষের তেল মর্দনের বিশদ বর্ণনাও দিয়েছেন। শাস্ত্রীর মতে, মানুষ সমাজে পারস্পরিক তৈল মর্দন কর্ম করে থাকে অতি উৎসাহে নিজ প্রয়োজনে ও স্বার্থে। সমাজের দর্পণও বলা হয় সাংবাদিকদের, সমাজের যেকোনো অন্যায় অত্যাচার বা শোষণের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের লেখা প্রতিবেদন মানুষকে কাঁদাতে পারে, এমনকি সামান্য পশুপাখির প্রতি সমবেদনা প্রকাশেও বাধ্য করে। সংবাদকর্মীদের রিপোর্টে অনেক বড় বড় রথি-মহারথিদের চাল উল্টে যায়, আবার অনেক ক্ষমতাবান শাসকের শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিতে ভূমিকা রাখে। সাধারণ জনগণ তাদের যাপিত জীবনে সংবাদ মাধ্যমকে অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখে এসেছে এবং এখনও দেখতে চাই। আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সে সময়ের সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের অবদান ছিল বলিষ্ঠ। তৎকালীন সময়ে সংবাদপত্রগুলি ছাত্র সমাজের মাঝে স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও সাংবাদিকেরা সঠিকভাবে জাতীর বিবেকের ভূমিকা পালন করেছিলো। বাংলাদেশ বিরোধীদের বা গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মিডিয়ার ভূমিকা থাকে সর্বাগ্রে।কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণ বিষাদগ্রস্থ হয়ে যাই, যখন দেখি প্রধানমন্ত্রীর এক একটা সংবাদ সম্মেলন চাটুকারিতায় ও তৈল প্রয়োগে ভেসে যায়। কিছু সিনিয়র-জুনিয়র সাংবাদিকদের চাটুকারিতায় সময়ক্ষেপণ হয়। সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের বাইরে অতিরিক্ত বন্দনা, সরকারি সিদ্ধান্তের গুণকীর্তন, গলা ডুবিয়ে সমর্থন জাতীয় টেলিভিশনে লাইভে প্রচারিত হয়, চাটুকার সাংবাদিকরা লজ্জা না পেলেও পেশাদার সংবাদিকরা লজ্জা পাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী কি এই তেলের খুশি হচ্ছেন! না, তৈলপ্রদানের সময়ে টেলিভিশনের পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখে বোঝা যায়, উনি কৌতুকবোধ করছেন বা কখনও বিব্রত হচ্ছেন। সারা দেশের মানুষ তাদের চাটুকারিতায় হাসছে। এই চাটুকার সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলনে চাটুকারিতায় পেশাদার সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সময়টাও নিয়ে নেয়। প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যস্ত একজন মানুষের কাছ থেকে দেশের মানুষ অনেক কিছু জানতে ও শুনতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জাতীয় সব ইস্যুতে মানুষের তথ্য ও সত্য জানার অধিকারের জায়গা। সাংবাদিকরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জেনে তা জনগণকে জানায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানার সময়টুকু তেলের বন্যায় ভেসে যায়। প্রধানমন্ত্রী তো আর অনিয়ন্ত্রিতকালের জন্য সংবাদ সম্মেলন করবেন না বা বসে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা একদল সাংবাদিকের চাটুকারিতা শুনে আবার প্রশ্ন-উত্তর পর্ব চালাবেন। পেশাকে ছোট করার পাশাপাশি এই সাংবাদিকদের জন্য আমরাও বঞ্চিত হচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত থেকে। পেশার বাইরে ব্যক্তিজীবনে প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে যে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থনের। এটা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। অনেক পেশাদার সাংবাদিকরা মনে করছেন, শাসক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তির করুণা, পদ-পদবী, সরকারি প্লট, রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরসঙ্গী হওয়া, টাকা সম্পদ প্রভৃতির লোভের। কেউ কেউ আবার টিভি,রেডিও ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছেন! এসব কারনে চক্ষু-লজ্জার মাথা খেয়ে ডিউটিকালীন সময়ে চাটুকারিতা করছেন তারা, সারাদেশের মানুষ তাদের এই নির্লজ্জ আচরণের সাক্ষী হচ্ছেন জেনেও তেলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন মূলত সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জাতীয় সকল ইস্যুতে মানুষের তথ্য ও সত্য জানার অধিকারের জায়গা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখানো সম্পূর্ণ আনইথিক্যাল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগা জাতি আমাদের এই দৃশ্য বারে বারে দেখতে হবে। তেলবাজদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওয়াকিবহাল, তিনি এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি সবাইকে চিনি। কে, কোন কথা, কেন বলেন, মুখ হা করলেই টের পাই। তিনি জানেন আজ ক্ষমতা আছে তো এই চাটুকাররা আছে, ক্ষমতা না থাকলে এই সুসময়ের মাছিদের দেখাও পাওয়া যাবে না। ১৮/১৯ বছরের সাংবাদিকতা পেশায় থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই জনের সংবাদ সম্মেলন কভার করার সুযোগ হয়েছে। খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতেন, পরে দেখাতাম দুই একজন প্রশ্ন করতো। প্রশ্ন না বলে তেল দিত বলা ভালো। বাকিদের প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের প্রধান থাকার সময়েও তাঁর সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি। এই তৈল মর্দন বিষয়টা ছিল না, ছিলো না এতো সাংবাদিকের ভীড়, বিশেষ করে সম্পাদকরা আসতেন না, বীটের সাংবাদিকরা ছাড়া। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনকে একদল সাংবাদিক বন্দনা সম্মেলনে পরিণত করেছে। কে কত তেল মারতে পারেন, কে কত গুছিয়ে তেল মারতে পারেন তার প্রতিযোগিতা চলে। কেউ কেউ তো নতুন নতুন উপমা দিয়ে তেল মেরে চলেছেন। আমরা জানি যে, বাঙ্গালিরা নিজ ভূমিতে কখনো স্বাধীন ছিল না। খৃষ্টপূর্ব থেকে যদি শুরু করি, তাহলে দেখা যায়, বাঙ্গালিদের তিব্বতীয়-বর্মীরা, তারপর ক্রমানুসারে আর্য, গুপ্ত, শশাংক, পাল, সেন, সুলতান, মোঘল শাসন চলে। তারপর ভারতীয়, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা আমাদের শাসন ও শোষণ করে। পরাধীন ছিলাম হাজার হাজার বছর, বাঙ্গালীরা নিজ ভূমে শাসন করতে পারেনি। বরং পরাধীন থাকার সময়ে একটু ভাল থাকার আশায় বা শাসকশ্রেণির করুণা লাভের আশায় চাটুকার, মোসাহেব ও গোলাম হিসেবে নিজদের প্রতিষ্ঠা করেছি। যুগ যুগ ধরে আমাদের পূর্বপুরুষের সেই রক্ত আমাদের ধমনীতে বয়ে চলেছে। যার কারণে একবিংশ শতকের দ্বারপ্রান্তে এসেও পারসোনালিটি ও সেলফরেস্পেক্ট নামক বিষয় দুইটিতে আমাদের বিস্তর পার্থক্য রয়ে গেছে। আর তাই আমরা ক্ষমতাবানদের পদ বেশি লেহন করি।

যুক্তফ্রন্ট এবং দ্বিকালের তুচ্ছতাচ্ছিল্য! 

যুক্তফ্রন্ট এবং দ্বিকালের তুচ্ছতাচ্ছিল্য!

গোলাম মাওলা রনি

আজকের নিবন্ধের বিষয়বস্তু হিসেবে আমি মূলত তিনটি প্রসঙ্গ আলোচনা করব। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ২০১৮ সালের যুক্তফ্রন্ট এবং যুক্তফ্রন্টকে ঘিরে তৎকালীন এবং সমকালীন ক্ষমতাসীনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য নিয়ে আলোচনার শুরুতে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না যে, কোনটি সবার আগে তুলে ধরব। আমার মনে হচ্ছে মানুষের ভুলো মন এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দু-চারটি কথা বলে মূল প্রসঙ্গের আলোচনা শুরু করলে বিষয়টি পাঠকদের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজবোধ্য হবে। আমরা সবাই জানি, ভুলো মন বা স্মৃতিবিভ্রাট বলতে আসলে কিছু নেই। কখনো সখনো মানুষের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে এবং মস্তিষ্কের নিউরনের সুনির্দিষ্ট অংশে পচন ধরলে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়। অন্যথায় মানুষ সাধারণত ভোলে না। তারা ভুলে থাকার ভান করে অথবা ভুলে থাকার ভং ধরে বিশেষ সং শুরু করে। মানুষ যখন মনে করে যে, বিষয়টি তার মনে রাখার দরকার নেই— অথবা তার পদমর্যাদা এবং অবস্থানের কারণে বিষয়টি হয়তো কেউ তাকে মনে করিয়ে দেবে তখনই সে ঘটনাটিকে মনের অভ্যন্তরে ছাইচাপা দিয়ে রাখে। আবার ঘটনার সঙ্গে যদি তার ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান, স্বার্থ, লোভ-লালসা কিংবা প্রাপ্তির যোগ না থাকে, তাহলেও মনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঘটনার ছাই বা সলিল সমাধি রচিত হয়। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রথম যুক্তফ্রন্টের ঘটনাও আমরা একই কারণে ছাইচাপা দিয়ে রেখেছি। এবার তুচ্ছতাচ্ছিল্য নিয়ে কিছু বলি। এটি অত্যন্ত নীতিগর্হিত কাজ এবং সব ধর্মেই এটাকে কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কালামে রব্বানির সূরা লুকমানের ১৮ নম্বর আয়াতে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কারণ ও পরিণতি উল্লেখ করে তা না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্যমতে, মানুষ সবসময় অহংকারের বশবর্তী হয়ে অবজ্ঞা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থাকে এবং একই কারণে জমিনে দম্ভ করে বেড়ায়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমরা এবার সরাসরি শিরোনাম প্রসঙ্গে চলে যাই। ১৯৫৪ সালে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যখন যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলো তখন সেই রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারি দলের লোকেরা পথে-ঘাটে হাসি-তামাশা, ঠাট্টা-মস্করার পাশাপাশি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নানামুখী কথাবার্তা আরম্ভ করে দিল। তৎকালীন যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বয়স, গণবিচ্ছিন্নতা, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অবিশ্বাস এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মুসলিম লীগ নেতারা যা মুখে আসে তাই বলা শুরু করলেন। যাকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলো সেই শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের বয়স ছিল তখন ৮১ বছর। ভারত বিভাগের পর তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে অপাঙেক্তয় হয়ে পড়েন। তাকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে এমনভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়, যার কারণে তিনি অলিখিতভাবে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। অন্যদিকে তার কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টির কার্যক্রম, সাংগঠনিক ভিত্তি ও ক্ষমতা সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠার অবিসংবাদিত জনপ্রিয় নেতা। তার অতীত ইতিহাস, সফলতা এবং জনপ্রিয়তার জন্য ক্ষমতাসীনরা তাকে ভিতরে ভিতরে যমের মতো ভয় পেতেন। যুক্তফ্রন্টের দ্বিতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে অপাঙেক্তয়। পাকিস্তান গঠনের পর দীর্ঘদিন তাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে দেশে ফেরার অনুমতি মিললেও তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পেরে পূর্ব বাংলায় এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি যখন আওয়ামী লীগে ভিড়লেন তখন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ-কালকার গণফোরাম, এলডিপি বা বিকল্প ধারার চেয়ে কতটুকু বড় বা ছোট ছিল তা যেমন স্পষ্ট করে বলা যাবে না, তদ্রূপ তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক কলহ-বিবাদ যে বর্তমান সরকারের শরিক দল জাসদের ইনু বনাম বাদলের চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল, তা নির্দ্বিধায় বলা চলে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও তার চীনা নীতি এবং দলের অভ্যন্তরে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কোণঠাসা হয়ে তিনিও অনেকটা আশাহত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। ফলে যুক্তফ্রন্ট নিয়ে যখন একপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন তখন অন্যপক্ষ সমানতালে প্রাণখুলে হাসি-তামাশা করেই যাচ্ছিলেন। প্রথম যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর ৬৪ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং ১৯৭১-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতন, নাটকীয় ঘটনা প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র, প্রহসন ইত্যাদি ঘটে গেছে। কিন্তু সব কিছুর ইতিহাস ছাপিয়ে যুক্তফ্রন্টের গঠন ও বিজয়ের কাহিনী আজও রাজনীতির মাঠে ধ্রুবতারা এবং মাইলস্টোন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকবৃন্দ যুক্তফ্রন্টের গঠন ও বিজয়ের নেপথ্য কারণসমূহ বর্ণনা করে যে সারমর্ম তৈরি করেছেন তা মহাকালের রাজনীতির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুখপাঠ্য মর্মবাণী হয়ে রয়েছে। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে মূলত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও ঘৃণা যেমন কাজ করছিল তেমনি পুরো জাতির কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃবৃন্দ যখন ফ্রন্টের দায়িত্ব নিলেন তখন মানুষ তাদের ওপর আস্থা স্থাপনের সুযোগ পেল। ব্যক্তি হিসেবে শেরেবাংলা এবং সোহরাওয়ার্দী সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এমন একটি স্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন যাদের যোগ্যতা, সফলতা, গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা করা যেত এমন একজন লোকও মুসলিম লীগে ছিল না। অবস্থার চাপে তারা হয়তো কোণঠাসা ছিলেন— অথবা বয়সের ভারে ন্যুব্জ ছিলেন; কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধিতে তারা ছিলেন অতুলনীয়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তাদের অতীত সফলতা, নানা অঘটন ঘটনে অপরিসীম দক্ষতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার যে সক্ষমতা তাদের ছিল তার কথা ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ নেতারা বেমালুম ভুলে গিয়ে নিজেদের পতন ডেকে এনেছিলেন। ১৯৫৪ সালের ঠিক ৬৪ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশে পুনরায় যুক্তফ্রন্ট নাম দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি মিলে একটি রাজনৈতিক জোট করেছেন। এ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঠিক অতীতকালের মতোই আলাপ-আলোচনা, ঠাট্টা-মশকরা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য মূলক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। অতীতকালের সঙ্গে নব্য ডিজিটাল সংস্কৃতির সংযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ের মন-মানসিকতা, চরিত্র, আচার-আচরণ ইত্যাদির সমন্বয়ে সমালোচনার যে ভাষা ব্যবহূত হচ্ছে, তা যদি ১৯৫৪ সালের মুসলিম লীগ নেতারা দেখতেন অথবা শুনতেন তবে শরমে-মরমে মাটির সঙ্গে মিশে যেতেন। সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা যদিও সংযত মন্তব্য করেছেন কিন্তু ক্ষমতার মধু-মেওয়াধারীরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন। তারা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে ইচ্ছামতো বিষোদগার করার আগে একবারও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখেননি যে, নয়া যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের অঘটন ঘটানোর সক্ষমতা বা অক্ষমতার পরিধি কতটুকু। আজকের আলোচনায় যুক্তফ্রন্টের ভূত-ভবিষ্যৎ কিংবা সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আমি নিজে কিছুই বলব না। আমি কেবল যুক্তফ্রন্টের বিপক্ষের এবং পক্ষের লোকজনের কিছু যুক্তি-তর্ক, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি তুলে ধরব। যার ফলে সম্মানিত পাঠক খুব সহজেই নিবন্ধের সারমর্ম অনুধাবন করতে পারবেন। যুক্তফ্রন্টের বিপক্ষের লোকেরা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রথমেই শুরু করেছেন ফ্রন্টের নেতাদের নানাবিধ-অপমানজনক উপাধিতে ভূষিত করার জন্য। মুরগি মিলন, বাস্টার্ড সেলিম, চাকু মহিউদ্দিন, কুত্তা কানু, চাপাতি যদু, দৌড় সালাউদ্দিন ইত্যাদি অতীত উপাধির মতো করে সম্মানিত লোকদের অসম্মানিত করার জন্য আজগুবি সব উপাধিতে সামাজিক মাধ্যম গিজ গিজ করছে। নেতাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন, শারীরিক গঠন, বিয়ে-শাদি, দাম্পত্য ও পুত্র-কন্যা পরিজনদের নিয়েও মুখরোচক কটাক্ষ শুরু হয়ে গেছে। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া, দেশীয় রাজনীতিতে তাদের মর্যাদা পরগাছার মতো এবং ব্যক্তিগতভাবে এমপি তো দূরের কথা তারা ভোটাভুটিতে অনেকে যে চেয়ারম্যানও হতে পারবেন না, এমন কটুবাক্য দ্বারা সব আড্ডার প্লাটফর্ম গরম করা হচ্ছে। তারা সবাই দলত্যাগী, রাজনৈতিকভাবে বহুগামী এবং যখন যে পাত্রে অন্ন গ্রহণ করেন সেই পাত্র ছিদ্র করে তারা উপকারী অন্নদাতাকে সমুচিত শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তারা ভীরু, সুযোগ সন্ধানী এবং দেশি-বিদেশি মন্দ চক্রের মিত্র হিসেবে দেশবিরোধী এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। দীর্ঘদিন একত্র থেকে সংগঠন করা, জনগণের জন্য আত্মত্যাগ, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে রাজনীতি করা ইত্যাদি বিষয়সমূহ তাদের ডিকশনারিতে নেই। উপরোক্ত সমালোচনার বিপরীতে যুক্তফ্রন্টের পক্ষের লোকেরা নানান রকমের ইতিবাচক কথা বলে তাদের শক্তিমত্তা এবং আগামী দিনে সফলতা সম্পর্কে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েই চলেছেন। তাদের মতে, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শীর্ষ নেতৃবৃন্দের রয়েছে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, তারা কেউ কোনো দিন পকেট ভারী করা, ক্ষমতার লোভ, পদ-পদবির লোভ, স্বার্থসিদ্ধির ধান্ধা ইত্যাদির কারণে রাজনীতি করেননি। জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং নীতি ও আদর্শের জন্য তারা সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। গত ৫০ বছরে এ দেশের যাবতীয় লড়াই-সংগ্রামে তারা সর্বদা মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন। তারা যখন যে পক্ষে ছিলেন সেই পক্ষই বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তারা যাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন তাদেরই পতন হয়েছে। তারা বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সময় ছিলেন বটে, তবে নিজেদের স্বার্থে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য সেখানে যাননি। দলের প্রয়োজনে অথবা সময়ের প্রয়োজনে তারা সেখানে ছিলেন। কিন্তু নীতি ও আদর্শের সঙ্গে অমিল হওয়ার কারণে তারা দলের মধ্যে গণতন্ত্র চালুর চেষ্টায় প্রতিবাদী হয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তারা দলে থাকা অবস্থায় অথবা দল থেকে বের হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত করেননি। বরং দলের বিপদে-আপদে অতীতের তিক্ততা ভুলে পাশে দাঁড়িয়েছেন বহুবার। কিন্তু দল তার সুসময়ে সেই স্মৃতি মনে না রেখে তাদের একের পর এক আঘাত ও অপমান দ্বারা জর্জরিত করেছে। তারা আরও বলেন, তাদের কারও বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয়, চরিত্রহীনতা, দেশবিরোধী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ, ক্ষমতাসীনদের পদলেহন করা, অন্যায়ের কাছে মাথানত করার ইতিহাস নেই। তারা যখন যা করেছেন তা প্রকাশ্য দিবালোকে করেছেন— যা বলেছেন তা স্পষ্টভাবেই বলেছেন এবং যখন যে পক্ষে গেছেন বা যার বিরুদ্ধে গেছেন তা ঘোষণা দিয়ে বীরের বেশেই করেছেন। ভোটের রাজনীতিতে ব্যর্থতা, নির্বাচনী এলাকা না থাকা এবং গণমানুষের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংযোগ না থাকা প্রসঙ্গে তারা বলেন, তারা কোনো দিন স্থানীয় রাজনীতি মাথায় রেখে কোনো কিছু করেননি। তারা সর্বদা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়েছেন। দেশের ট্রিপিক্যাল রাজনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হুন্ডা-গুণ্ডার পেছনে অর্থ ব্যয়, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁবেদারি, দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য লবিং ইত্যাদির পেছনে সময় ব্যয় না করে তারা তাদের বিবেক, বিদ্যা-বুদ্ধি ও সামর্থ্য জাতির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় করেছেন। যুক্তফ্রন্টের পক্ষের লোকেরা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সুসময়ে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সামনে দাঁড়িয়ে তার কিছু সহযোগীর বিরুদ্ধে কথা বলা এবং প্রতিকার না পেয়ে জাসদ গঠন কোনো সাধারণ কর্ম ছিল না। তেমনি স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানোর জন্য যে সাহস, শক্তি ও দেশপ্রেম দরকার তা যুক্তফ্রন্টের বিরোধীদের কারও মধ্যে ছিল না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশ্যে রুখে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্রশক্তি কর্তৃক একনাগাড়ে ১০ বছর স্বাধীন বাংলাদেশে জেলখাটা লোক কী ভীরু না কাপুরুষ তা নিয়ে বিতর্ক করার সময় তাদের নেই। যুক্তফ্রন্ট নেতা আ স ম রব সম্পর্কে উল্লিখিত কথাগুলো বলার পর তারা তাদের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে বলেন, মান্না হলো বাংলাদেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে একমাত্র সব্যসাচী নেতা। মঞ্চ, গোলটেবিল, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা, লেখালেখি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, বুদ্ধিজীবী মহল, সংবাদপত্রসহ সব গণমাধ্যম এবং ছাত্র-রাজনীতির ময়দানে যুগপত্ভাবে মান্নার যে দক্ষতা তার সমপর্যায়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি বাংলাদেশে নেই। জাফর উল্লাহ চৌধুরী এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাজনীতি, পেশাগত সুনাম, সুখ্যাতি ও সফলতা, পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলমতের ঊর্ধ্বে দেশব্যাপী তাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার সঙ্গে তুলনীয় ব্যক্তিত্ব দ্বিতীয়জন এ দেশে নেই বলে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের গর্বের সীমা নেই। ফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে তারা বলেন, তিনি হলেন নেতাদের নেতা, শিক্ষকদের শিক্ষক এবং আইনজীবীদের আইনজীবী। জাতির ক্রান্তিলগ্নে নেতারা যখন কোনো সমাধান খুঁজে পান না, কিংবা আইন-আদালতের দ্বারস্থ হওয়া লোকজন যখন উপায় খুঁজে পান না, তখন সবাই তারই দ্বারস্থ হন। তিনি সবার আকর্ষণের কেন্দ্র। সবাই প্রয়োজনে তার কাছে যায়—কিন্তু নিজের কোনো প্রয়োজনে তাকে কোনো দিন কারও কাছে যেতে হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যখন তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন, তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ড. কামালের মতো চৌকস মেধাবী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বিতীয় ব্যক্তি যেমন ছিলেন না, তেমনি এখনো নেই। বঙ্গবন্ধু রত্ন চিনতে পারতেন এবং কোন রত্নের কী প্রয়োজন রয়েছে তা বুঝতেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার জন্য এবং দেশের সংবিধানের জন্য তিনি দেশের স্বার্থে ড. কামালকে আইনমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তখন সে পদে দাঁড়ানোর যোগ্যতা ও সাহস কতজনের ছিল! তিনি আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমন কিছু জানেন, যা বাংলাদেশের অন্য কেউ জানেন না। তাকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনার পরও তিনি আজ পর্যন্ত একটি উহ্ শব্দও উচ্চারণ করেননি। উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তারা সফল হবেন। কারণ তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে, করণীয় সম্পর্কে, গন্তব্য এবং সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন। অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, তারা যুক্তফ্রন্টকে গণনার মধ্যে ধরছেন না। যুক্তফ্রন্টের কৌশল ও কর্মপন্থা নিয়ে গবেষণা ও সেগুলোকে মোকাবিলার উপায় নিয়ে ভাবছেন না। তারা যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা, প্রভাব, সাহস, কৌশল এবং পরিস্থিতি কাজে লাগানোর দক্ষতার কথা না ভেবে কেবল নিজেদের শক্তিমত্তা, অর্থবিত্ত ও তথাকথিত বন্ধুদের আশ্বাসবাণীতে নির্ভর করে নিজেদের সময়ের স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছেন—যার গন্তব্য তারা নিজেরাও জানেন না। লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.