বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?

বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?https://www.facebook.com/696941622/posts/10155826988741623/

আওয়ামী লীগ চাইছিলো আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হোক। নির্বাচন কমিশনও একরকম অনড় ছিলো কিছু অাসনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে। তবে কমিশনের সবাই যে এই বিষয়ে একমত নন, তাতো আমাদের জানাই ছিলো। বিএনপি আর তার মিত্ররা শুরু থেকেই ইভিএম এর বিপক্ষে। বিএনপিকে পছন্দ করেননা এমন অনেকেরও আপত্তি আছে ইভিএম ব্যবহারে। তবে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী যখন যৌক্তিকভাবেই বললেন ইভিএম নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই, কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে দেখা যেতে পারে - কার্যকর না হলে বাদ দেয়া যেতে পারে; তখনই নির্বাচন কমিশনের সুর নরম হয়ে এলো। এখন তারা বলছেন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছার ওপরই সব নির্ভর করবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এও বলেছেন তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে আমাদের নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলছেন, কিন্তু সাধারন মানুষ কি ভাবছেন? সেটি বোঝার জন্যই গত শুক্রবার বিকেল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত, পুরো এক সপ্তাহ অর্থাৎ ১৬৮ ঘন্টা ফেসবুকে আমার অ্যাকাউন্ট এবং পেইজ থেকে একটি জরিপ চালাই। জানতে চেয়েছিলাম, আপনি কি আগামী নির্বাচনে ইভিএম চান? জরিপে অংশ নিয়ে ভোট দিয়েছেন মোট ৫২১৪ জন। জনগন ইভিএম -এর বিপক্ষে এটা স্পষ্ট। ৪৩৭৮ জন বলেছেন তাঁরা ইভিএম চাননা, অর্থাৎ জরিপে অংশগ্রহনকারীদের ৮৩.৯৭% ইভিএম এর বিপক্ষে। তবে পক্ষেও মানুষ আছেন। শতকরা হিসেবে তাঁদের সংখ্যা ১৬.০৩ ভাগ। ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮৩৬ জন। শুধু পক্ষে বিপক্ষে ভোট দিয়েই সবাই ক্ষান্ত হননি, অনেকেই নানা মন্তব্য আর পরামর্শও রেখেছেন ওই ষ্ট্যাটাসগুলোতে। আপনি দেখতে চাইলে আমার টাইমলাইন বা ফেসবুক পেইজ ঘুরে আসতে পারেন। যারা গত সাতদিন লাইক দিয়ে আর শেয়ার করে এই জরিপকে জীবন্ত রেখেছেন তাদের ধন্যবাদ। তবে সব কথার শেষ কথা, বাংলাদেশের জনগন কি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা রাখে?

Rohingya crisis one year after

As many of you know, I’ve been following the Rohingya crisis for a while now for PBS NewsHour. Yesterday, I gave my thoughts from the ground on how things have changed one year after the mass exodus. By Tania Rashid You can see the full segment here: https://www.pbs.org/newshour/show/amid-mounting-evidence-of-atrocities-un-calls-for-investigation-into-rohingya-crackdown Special thanks to my brilliant team Kysar Hamid Salman   https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10108555415400776&id=2511445

তৈল মর্দন

তৈল মর্দন

মোঃ রফিকুল ইসলাম
তৈল বা তেল একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ যা সাধারন অবস্থায় পানির সংগে অমিশ্রণীয় কিন্তু অন্য তেলের সংগে সহজে মিশ্রণীয়। তেল সাধারনত প্রানিজ, ভেষজ ও খনিজ জাতীয় হতে পারে। একে খাওয়া যায়, রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয়, ধর্মীয় আচারে এর প্রয়োজন হয়, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়, পিচ্ছিলকারক হিসেবে গাড়ি বা কলকব্জায় এবং চিত্রকলাসহ নানা কাজে এর ব্যবহার হয়। তবে আমাদের আলোচনা এ রাসায়নিক তেল নিয়ে নয় বরং অন্য আরেক ধরনের তেল নিয়ে। এ তেল বায়বীয়। বাস্তবে এ তেলের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও এর ব্যবহারে অর্থাৎ এ তৈল মর্দনে বাস্তবিক ফল লাভ করা সম্ভব। এ তৈল মর্দনও বাস্তবে করতে হয় না বরং ক্ষমতাশালীদের কথা বা কখনও কখনও কাজ দিয়ে সন্তুষ্ট করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে হয়। তেল বা তৈল মর্দনের কোন আলোচনা করতে গেলে সবার আগে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের কথা বলতেই হয়। কারন তিনি অনেক আগেই তৈল মর্দনের অভাবনীয় সাফল্যের বর্ণনা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দিয়ে গেছেন। তাঁর বর্ণনায় তৈল মর্দনের স্তুতিগাথা কেমন ছিল? ঊদ্ধৃতি দিচ্ছি, "বাস্তবিক তৈল সর্বশক্তিমান, যাহা বলের অসাধ্য, যাহা বিদ্যায় অসাধ্য, যাহা ধনের অসাধ্য, যাহা কৌশলের অসাধ্য— তাহা কেবল তৈল দ্বারা সিদ্ধ হইতে পারে।" তিনি আরও বলেন— "যে তৈল দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও প্রফেসর হইতে পারে। আহাম্মক হইলেও ম্যাজিস্ট্রেট হইতে পারে, সাহস না থাকলেও সেনাপতি হইতে পারে এবং দুর্লভ রাম হইয়াও উড়িষ্যার গভর্নর হইতে পারে।" তৈল মর্দনের প্রতিশব্দ হিসেবে তোষামোদ, খোশামোদ, মোসাহেবি, চাটুকারিতা ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যারা এ কর্মটি করে ব্যূৎপত্তি অর্জন করতে পারে তাদেরকে বোধহয় ধামাধরা বা মোসাহেব বলা হয়। তৈল মর্দন বা চাটুকারিতা বা তোষামুদি শুধু আজকের বিষয় নয়। অনেক আগে থেকেই অনেক জ্ঞানী গুনী কবি সাহিত্যিক, ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ নিজেরা যেমন চাটুকারিতা পছন্দ করতেন আবার অনেকে চাটুকারিতা করে সাহিত্য রচনা করেছেন বা অন্যের চাটুকারিতা করে সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন। যেমনটি ইংরেজ কবি স্পেনসার তার ‘দ্য ফেয়ারি কুইন’ কাব্য রচনা করেছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথকে তোষামুদি করে। তেমনি আবার ইংরেজ নাট্যকার শেক্সপীয়ার জুলিয়াস সীজার নাটক রচনা করেছিলেন রাজা প্রথম জেমসকে উদ্দেশ্য করে। এতো গেলো বিদেশের গল্প। এবারে দেশীয় ঘটনা কিছু বলা যাক। আমাদের এক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর মা মারা গেলে কোনও কোনও মন্ত্রী নাকি প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি কান্না-কাঁটি করেছিলেন । কে একজন নাকি একেবারে গড়াগড়ি করে কেঁদেছিলেন। তাঁর এক মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলে রাজপথ ঝাড়ু পর্যন্ত দেওয়ার ঘোষনা প্রকাশ্য সভায় দিয়েছিলেন। এছাড়া অনেক কবি সাহিত্যিকও নাকি নানা সময়ে কবি প্রেসিডেন্টকে তোষামুদি করে নানা সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছিলেন বলে প্রচার ছিল। সত্য মিথ্যা আল্লাহ মালুম। তেলবাজ বা মোসাহেব হতে হলে কিছু গুনাবলী থাকতে হবে। যে কেউ তেলবাজ হতে পারবে না। সবচেয়ে যে জিনিসটা তেলবাজের থাকা চলবে না সেটা হল আত্ম সম্মানবোধ। কারন তাকে বসের সামনে প্রয়োজনে নিজেকে হেয় করে বসকে মহান করে তুলতে হবে। তার একেবারেই থাকা যাবে না চক্ষু লজ্জা। কারন আর সবাই খালি চোখে যা দেখবে সেটা বলা যাবে না। বরং বস যা দেখতে চায় বা বস যা শুনলে খুশী হবে তাকে সেটাই দেখতে হবে বা বলতে হবে। কেমন? ধরুন বস হয়ত কোথাও বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি হয়ত জানতে চাইলেন বক্তৃতা কেমন হল অথবা জানতে না চাইলেও তাকে বত্তৃতার বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে । বক্তৃতা জঘন্য অখাদ্য হলেও তেলবাজকে বলতে হবে মারভেলাস বক্তৃতা হয়েছে স্যার। বা ভাল ভাল বিশেষন প্রয়োগ করে বক্তৃতার প্রসংশা করতে হবে। অবশ্য তাকে কিছুটা পরিমিতি বোধেরও পরিচয় দিতে হবে মাঝে মধ্যে। যেমন ওই বক্তৃতার প্রসংগে যদি তেলবাজ বা মোসাহেব বলে বসে স্যার আপনার বক্তৃতা এমন হয়েছে যে গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস ফেল। তবে সবচেয়ে বলদ বসও তেল ধরে ফেলতে পারে। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তৈল মর্দনের আরও একটি ধ্রুপদী উদাহরন দেওয়া যায়। হয়ত কোন রাজনৈতিক নেতা সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। নেতা হয়ত জানতে চাইলেন সমাবেশে কত লোক হয়েছিল। সংগীয় মোসাহেবকে বাস্তবে পাঁচ হজার লোক হলেও কয়কগুন বাড়িয়ে বলতে হবে। আবার তার বিরোধী পক্ষের সমাবেশ হলে বাস্তবে বিশ হাজার লোক হলে পাঁচ হাজারে নামিয়ে আনতে হবে। সত্য কথা বললে মোসাহবের চাকুরী নট হয়ে পড়তে পারে। অথবা অন্যপক্ষের দালাল প্রতিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তৈল মর্দন পছন্দ করেন না এমন লোক পাওয়া বিরল। কোন বস হয়ত তৈল মর্দন পছন্দ করেন না। তাকেও তেলবাজরা তেল মেরে তৈলাক্ত করে ফেলতে পারে। ভাবছেন কিভাবে? এ প্রসংগে বরং একটা গল্প বলি। ফরাসী সম্রাট নাকি তৈল মর্দন পছন্দ করতেন না। তাই তিনি একবার সে কথা তার সহকারীদের জানিয়ে বললেন যে তাঁকে কেউ তেল মারতে পারবে না। শুনে এক সহকারী বললেন যে মশিঁয়ে সম্রাটকে তৈল মর্দন করা যাবে কিনা আগামীকাল জানাবেন। পরদিন তিনি সম্রাটকে জানালেন, "আমি সারা রাত ধরে চিন্তা করে দেখলাম মশিঁয়ে প্রেসিডেন্ট । আসলেই আপনাকে তেলমারা সম্ভব নয়।" শেষেমেষ নাকি সম্রাট স্বীকার করেছিলেন যে তিনি এ কথায় সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি তেলে সিক্ত হয়েছিলেন। আমাদের দেশে এরকম হলে কি হতে পারে তার একটা কাল্পনিক চিত্র আঁকা যাক। তেলবাজরা হয়ত এমনভাবে বসকে বলবে, "আমরা জানি স্যার আপনি তেলমারা একদমই পছন্দ করেন না।" তারপর হয়ত বিভাগের কোন নামকরা অফিসারের নাম করে বলবে, "তিনিও স্যার আপনার মত তেলমারা পছন্দ করেন না। অথচ তিনি সৎ, দক্ষ ও জনপ্রিয় কর্মকর্তা। আপনিও স্যার তার মত বা কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি।" আসলে হয়ত তিনি সততা দক্ষতার ধারে কাছেও নেই। বস মুখে যতই না না করুন না কেন নামজাদা কারও সাথে তুলনীয় হলে মনে মনে পুলকিত হবেন না এমন বস দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। তেলবাজের গুনাবলী তো গেলো। এবারে দেখা যাক কোন শ্রেণির লোক তেলবাজ হয়ে। ১. ফাঁকিবাজ কর্মচারী বা কর্মী ২. অযোগ্য বা কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি। কম যোগ্যতা পুষিয়ে দেয় তার তেল মর্দন। ৩. লোভী ব্যক্তি। তেলবাজের কিভাবে লাভবান হওয়া যায় সেটাই মুখ্য চিন্তা থাকে। নীতি আদর্শের কোন বালাই তাতে নেই। কিছু মানুষ বোধহয় তেলমারার স্বভাব জন্মগতভাবে অর্জন করে। তাই তারা সুযোগ পেলেই তেলমারার চেষ্টায় রত থাকে। এবারে এরকমই একজনের গল্প বলা যাক। কয়েকজন শিক্ষানবীশ অফিসার শিক্ষাসফরে গেছেন। এক পর্যায়ে তাঁদের অন্য বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ সূচী নির্ধারিত হয়েছে। সে কর্মকর্তা তাঁদের একই পদ মর্যাদার তবে সামান্য সিনিয়র। তাই সবাই পরামর্শ করেছে তাঁরা সাক্ষাৎকালে কর্মকর্তার সাথে নাম পুরুষে কথা বলবেন, স্যার ডাকবে না। সেভাবেই তাঁরা সাক্ষাৎকালে গল্প করছিলেন। সাক্ষাৎ পর্ব প্রায় সমাপ্ত হয়ে এসেছে। চা সার্ভ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ চায়ের কাপে পছন্দ মত দুধ চিনি মিশিয়ে নাড়ছেন। এর মধ্যে একজন শিক্ষানবীশ অফিসার সৌজন্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে হোস্ট অফিসারের জন্য চা বানাচ্ছেন। চায়ে দুধ মিশিয়ে চিনি মিশাতে গিয়ে হঠাৎ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "স্যার, চায়ে চিনি ক'চামচ দিব?" সবাই বাকরুদ্ধ। একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করলেন। অফিসার কি বুঝলেন কে জানে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কোন সমস্যা?" সবাই একযোগে না না করে উঠলেন। তাঁরা দ্রুত চা-পর্ব শেষ করে বেরিয়ে এলেন। বাইরে এসেই সবাই সে তেলবাজ শিক্ষানবীশ অফিসারের উপর হামলে পড়লেন। তাঁর এ তেলমারা স্বভাবের জন্য সবাই তাঁকে পই পই করে কথা বলতে বারন করেছিলেন। কিন্তু তিনি বহু কষ্টে অনেকক্ষন চেপে থাকলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। তেল মারতে হাত মুখ নিসপিস করছিল। তাই সুযোগ আসতেই মনের অজান্তেই একটু তৈল মর্দন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ যার তেলমারা স্বভাব হাজার চেষ্টা করুন তবুও তাকে তৈল মর্দন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। কিছু মানুষ যেমন তেল মারা পছন্দ করেন বা তেল মারা তার জন্মগত স্বভাব আবার তেমনি কিছু মানুষ আছে যারা তেল মারা একেবারে পছন্দ করেন না বা তেল মারা তার ধাতে সয় না। না হলে কি কেউ নির্বাচনী পোস্টারে এমন কথা লেখে। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? খোলাশা করছি। ময়মনসিংহ জেলার ৮ নং আকুয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী তার নির্বাচনী পোস্টারে লিখেছে, " আমি মোঃ তৈয়ব আলী প্রাইমারী পাশ সকলের দোয়া ও ভোট চাই। ভোট দিলে দিবাইন না দিলে তেল মারার পাইতাম না।" তার যে নির্বাচিত হতে পারার বিন্দুমাত্র সম্ভবনা ছিল না তা বোধহয় বিস্তারিত খোঁজ খবর না নিয়েই বলা যায়। আবার ইচ্ছা থাকলেও মোসাহেবি কিন্তু সবাই করতে পারে না। এজন্য আলাদা বিদ্যা অর্জন করতে হয়। একালে যেমন আমরা অফিস আদালতে কিংবা রাজনীতির মাঠে বা বাংলা সিনেমায় চেয়ারম্যানের ছাতিধরা মোসাহেব দেখি তেমনি আগের যুগেও কিন্তু মোসাহেবদের কদর নেহায়তে কম ছিল না। কোন কোন রাজা বা জমিদার রীতিমত মোসাহেব নিয়োগ দিতেন তার মোসাহেবি করতে। রবি ঠাকুরের দুই বিঘা কবিতায় মোসাহেবির সুন্দর একটা উদাহরন আছে। যেমন "রাজা যত বলে পারিষদ বলে তার শতগুন। " এ রকমই মোসাহেব নিয়ে এক গল্প বলি। একবার কৃষ্ণনগরের এক জমিদারের খুব শখ হল মোসাহেব পুষবেন বলে। অনেকেই দরখাস্ত করলো জমিদারের মোসাহেব হতে। কিন্তু জমিদার বাবু মোসাহেব নির্বাচন করবেন কিভাবে। বড় ফাঁপরে পড়ে গেলেন। শেষমেষ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজদরবারের সভাসদ গোপালভাঁড়ের শরানাপন্ন হলেন। ও হ্যাঁ গোপাল কিন্তু রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ভাঁড় ছিলেন। নানা হাস্যরস বা ক্যারিক্যাচার করে রাজাকে আনন্দ দিতেন। মোসাহেব ছিলেন না। বরং রাজাকে উচিৎ কথা বলতে ছাড়তেন না। কখনও রাজাকে নিয়ে রসিকতাও করতেন। যা মোসাহবি আচরনের বিপরীত। সেই গোপাল ভাঁড় ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। গোপাল প্রার্থীদের সবাইকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। প্রথম প্রশ্ন : "আপনি কি মোসাহেবি করতে পারবেন ?" উত্তর: "কেন পারবো না? পারবো?" দ্বিতীয় প্রশ্ন: "না। আমার মনে হয় না, আপনি পারবেন?" উত্তর : "কি বলেন ভাঁড় মশাই, অবশ্যই পারবো।" প্রায় সবাই একই উত্তর দিলেন। গোপাল ভাঁড় তাদের আর কোন প্রশ্ন করলেন না। শুধু একজন প্রাথীকে তিনি তিনটি প্রশ্ন করলেন। তার প্রশ্নোত্তর ছিল এ রকম। প্রশ্ন : আপনি কি পারবেন? উত্তর: "ঠিকই বলেছেন। আমারও সন্দেহ হচ্ছে আসলেই কি আমি পারবো?" প্রশ্ন : "আপনি মনে হয় না পারবেন।" উত্তর : "আমারও তাই মনে হচ্ছে আমি বোধহয় পারবো না।" প্রশ্ন : "পারবেন না কেন? পারবেন।" উত্তর : "তাইতো পারবো না কেন, অবশ্যই পারবো।" কোন্ প্রার্থীকে এবং কেন নির্বাচন করেছিলেন তা নিশ্চয়ই আপনাদেরকে বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ। ঠিক ধরেছেন শেষোক্ত প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছিলেন। কারন তিনি প্রশ্ন কর্তার সাথে কখনও দ্বিমত করেননি। সুতরাং তার চেয়ে ভাল মোসাহেব আর কেউ হতে পারতো? হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের আমলে শুধু কথার তেলেই অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ সম্ভব ছিল। তবে আজকাল শুধু কথার তেলের ধার বোধহয় একটু কমে গেছে। এজন্য সাথে কড়ি ও কামিনীরূপ তেলও দিতে হয়। কেউ কেউ কড়ি তেলেই সন্তুষ্ট থাকেন। কেউ আবার নিজেকে সৎ ভাবেন তাই কড়ি নেন না। তাকে হয়ত কামিনীতে সন্তুষ্ট করতে হয়।আবার কেউ কেউ আছেন সর্বভুক। কড়ি কামিনী সবই ভালবাসেন। তৈল মর্দন করতে যারা অভ্যস্ত তারা নির্বিঘ্নে কাজে লেগে থাকুন আখেরে লাভ হবে। যারা নবীশ আছেন তারা ফরমুলা মেনে চেষ্টা চালিয়ে যান সফলতা আসবেই। তবে অবশ্য সীমার মধ্যে থাকুন নাহলে কিন্তু আম ছালা দু'ই যাবে। তৈল মর্দনে জাগতিক অনেক কিছু লাভ করা সম্ভব। যেটা শাস্ত্রী মহাশয় বলে গেছেন। তবে জনান্তিকে বলে রাখি দুর্জনেরা কিন্তু বলেন শাস্ত্রী মহাশয়ও নাকি তৈল মর্দনের কারনেই এত সুন্দর তৈল বিষয়ক রচনা লিখতে পেরেছিলেন। তাই বলে আপনারা আবার মনে করবেন না আমিও কারও তৈল মর্দনে এটা লিখার চেষ্টা চালিয়েছি। আমার মত অভাজনকে আর কে তৈল মর্দন করবে বলুন?

আমাদের নাম অবক্ষয়

আমাদের নাম অবক্ষয়/দর্পণ কবীর

(উৎসর্গ: খুন হওয়া সাংবাদিক সুবর্ণ নদীকে) সুবর্ণ, আপনি যেখানে লাশ হয়ে পড়ে আছেন, রাষ্ট্রও ঠিক এখানে এক গলিত লাশ! যে কথাগুলো গণতন্ত্রের সুরভী মেখে স্বাধীনতার ফুল হয়ে আপনার লেখনীতে ফুটে উঠতে চেয়েছিল, সেই কথাগুলো আপনার রক্তস্রোতের ধারা হয়ে আমাদের অবনত করে গেল নিদারুন লজ্জা আর গ্লানিতে। সুবর্ণ, আমাদের মাথার ওপর লটকে থাকা আকাশ এতোটা নিচে নেমে এসেছে, আমরা কোনো প্রিয়মুখ দেখতে পাচ্ছি না, আর কী আশ্চায, মুখোশ পড়া খুনীরা কণ্ঠ মেলাচ্ছে কোরাসে। অন্ধকারও মেকী আলো হয়ে আমাদের দাঁড় করিয়েছে বিভ্রান্ত-বৃত্তে! সুবর্ণ, আপনি নদী বলেই তের শ’ নদীর জল স্থির হয়েছিল মৃত্যুকে আলিঙ্গনের সময়। আপনার নেই কোনো পরাজয়, শুধু আমাদের নাম হয়েছে ‘অবক্ষয়!’ ২৯ আগষ্ট, ১৮। নিউইয়র্ক।

বাংলাদেশিদের ফার্মেসি ব্যবসার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

রিফিল’ নিয়ে কারসাজি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিসহ নানা অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:

শাহাব উদ্দিন সাগর: নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ফার্মেসি ব্যবসার যত ব্যাপ্তি ঘটছে তত তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছে। অনেক ফার্মেসির প্রাপ্য লাখ লাখ ডলার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আটকে দিয়েছে। এ সব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, রোগিদের নামে বরাদ্দ ওষুধের ‘রিফিল’ তুলে নেয়া ও মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়া ওষুধ কমদামে এনে তা বিক্রি করা। আবার কোন কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ফার্মেসির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত করে সেগুলোকে সিলগালা করে দিয়েছে বলেও জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সময় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো এসব ফার্মেসির এ ধরনের কর্মকান্ডকে ‘প্রকাশ্য ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফার্মেসির এই অনিয়মে রীতিমত বিস্মিত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ফার্মেসিগুলোর অর্থ ইন্স্যুরেন্স আটকে দেয়া এবং অনেক ফার্মেসি সিলগালা করে দেয়ার পর তারা আবার নতুন জায়গায় নতুন নামে ফার্মেসি খুলে বসছেন। এদেশের মানুষের ওষুধের ব্যবস্থা করে থাকে ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো। মেডিকেড বা মেডিকেয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা রোগির নামে প্রেসক্রিপশন সরাসরি পাঠিয়ে দেন ফার্মেসিতে। এসময় সাধারণত সেই ওষুধের দুই বা তিনটি ‘রিফিল’ তারা দিয়ে থাকেন। ডাক্তারের কাছে বার বার না এসে রোগি যাতে সহজইে ফার্মেসী থেকে সরাসরি ওষুধ তুলে নিতে পারেন তার জন্য কোন কোন ডাক্তার একই ওষুধের আরো বেশি ‘রিফিল’ দিয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক রোগীই এসব ‘রিফিল’-এর ওষুধ ফার্মেসিগুলো থেকে তোলেন না। হয়ত তাদের রোগের উপশম হয়ে গেলে এই ওষুধের আর প্রয়োজন পড়ে না। আবার ডাক্তাররাও অনেক সময় ওষুধ বদল করে অন্য ওষুধ দেন। ফলে আগের ওষুধগুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং রিফিলগুলিও অব্যবহৃত থেকে যায়। কিন্তু রোগিরা রিফিলগুলো ব্যবহার না করলেও অধিকাংশ ফার্মেসি তাদের নামের এই ‘রিফিল’-এর ওষুধ সুকৌশলে তুলে নিয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর কাছে অর্থ দাবী করে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাংলাদেশি মালিকানাধীন অধিকাংশ ফার্মেসি হরহামেশাই এ ধরনের কাজ করছে। এমনকি যে রোগি মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন তাদের নামেও ‘রিফিল’ নেয়া হয়। যা গর্হিত অপরাধ। আর এটি আমাদের তদন্তে ধরা পড়ার পর আমরা হাজার হাজার ডলার জরিমানা করি। তিনি বলেন, তদন্তকালে রিফিল-এর ওষুধ নেয়ার সময় ফার্মেসিগুলোর রশিদে করা রোগির সাক্ষরেও মিল পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে ফার্মেসিগুলোর যুক্তি হচ্ছে রোগিরা নিজেরা নন, তাদের স্বজনরা এই ওষুধ নিয়ে গেছেন। চলতি বছরের শুরুতে জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকার কয়েকটি ফার্মেসিতে এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রায় সব ফার্মেসিতে সংশ্লিষ্টরা অভিযান পরিচালনা করেন। ‘রিফিল’ তুলে নেয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসে। তারা কয়েকটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও পান যা প্রায় অবিশ্বাস্য। অভিযান পরিচালনাকারী দলের এক সদস্য সাপ্তাহিক আজকালকে জানান, এমনও কিছু ফার্মেসি পাওয়া গেছে যারা মেয়াদ প্রায় উত্তীর্ণ হয়ে আসা ওষুধ কম দামে এনে তা রোগিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সম্প্রতি সিল-গালা করে দেয়া জ্যামাইকা ও জ্যাকসন হাইটসের দুটি বাংলাদেশি ফার্মেসীর নাম উল্লেখ করে তারা জানান এদের বড় অংকের অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের বাংলাদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি ফার্মেসির বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এসব এলাকায় কোন কোন ফার্মেসি সিলগালা করা না হলেও তাদের একাউন্ট স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের অর্থ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। জ্যামাইকার অধিবাসী আশিকুর রহমান বলেন, আমি গত বছর তিন মাসের ছুটিতে দেশে গিয়েছিলাম। জ্যামাইকার একটি ফার্মেসিতে আমার ওষুধের রিফিল ছিল। কিন্তু আমি এসে দেখি আমার সব রিফিল শেষ। পরে বিষয়টি ফার্মেসির মালিককে জানালে তিনি আমার কাছে ভুল স্বীকার করেন এবং বলেন ‘এটি কম্পিউটারের ত্রুটি’। পরে অবশ্য আমাকে রিফিলগুলোর ওষুধ দেয়া হয়। জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ডাক্তার প্রায় সময় আমার নামে রিফিল পাঠান। আমি অনেক সময় তা নিই না। কিন্তু মেট্রোপ্লাস থেকে পাঠানো বিলে দেখতে পাই আমার সব ওষুধ তুলে নেয়া হয়েছে। এ এক ধরনের ডাকাতি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লস এঞ্জেলেসের অদূরে সান্তা ক্লারিতা ভ্যালীতেও এই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।   

http://www.hometownstation.com/santa-clarita-news/politics/santa-clarita-elections/update-santa-clarita-city-council-candidate-faces-complaint-over-pharmacy-40961 Google Search link with 'Moazzem chowdhury pharmacy fraud' https://www.google.com/search?q=moazzem+chowdhury+pharmacy+fraud&oq=Moazzem+&aqs=chrome.1.69i57j35i39j0l2.4986j0j4&client=ms-android-huawei&sourceid=chrome-mobile&ie=UTF-8  

পরিবর্তিত সমাজে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য

পরিবর্তিত সমাজে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য: নাঈমা জান্নাত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে সংস্কৃতি। পরিবর্তিত হচ্ছে আমাদের পুরোনো জীবনাচরণ। ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন আসছে আমাদের মানসিকতায়। এক সময়কার ফেরিওয়ালা আজ রূপ নিচ্ছে ডিজিটাল অনলাইনের ব্যবসায়ীতে। ঘরে বসে আয় ও ব্যয়ের হিসাব কষতে কষতে কখন যে আমরা সাইবার হিউম্যানে পরিণত হচ্ছি, হয়তো অনেকেরই তা অজানা। তবুও স্বস্তি, আমরা তো এগুচ্ছি।
মানসিকতার পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাড়ছে সচেতনতাও; কমে যাচ্ছে মানসিক রোগ নিয়ে বিভিন্ন স্টিগমা। আজ আমরা মহাকাশেও বিচরণ করছি। হাঁটিহাঁটি পা পা করে আধুনিক বিশ্বের মহাসমুদ্রে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সাঁতার রপ্ত করেছি? সমাজ এগুলেও এখনও অনেক ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে কুসংস্কার, অজ্ঞতা; মানসিক চিকিৎসার নিয়ে অপধারণা। যেমন- অনেকেই মনে করেন, সন্তানের সমস্যা হলে তারা নিজেরাই কাউন্সেলিং করতে পারেন। এটা এক ধরনের মিথ। কিন্তু, কাউন্সেলিং এক ধরনের পেশাগত দক্ষতা, এর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের দরকার হয়। আবার ধরুন, সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক সমস্যা থাকলেও অনেকে মনে করেন, এটা একটু আধটু টেনশনের কারণে হচ্ছে, তেমন কিছু নয়। হ্যাঁ, আমরা বলতে পারি, যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা নিলে কোন রোগই তেমন কিছু নয়। আবার অনেকের ধারণা, শিশুরা কোমলমতি ও নিষ্পাপ, মানসিক রোগ হওয়ার কথা নয়। বলাই বাহুল্য, আমাদের দেশে ১৮ শতাংশের বেশি শিশু (১৮ বছরের নিচে) কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছে। এ রকম আরও কত পরিসংখ্যান আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এবার আসি, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কেমন আছে, সেই প্রসঙ্গে। এখানে আমরা জগৎ অনুযায়ী মনুষ্যজীবকে কয়টি ভাগ করতে পারি। যেমন- সামাজিক জীব, পারিবারিক জীব ও ভার্চুয়াল জীব। সহজে বোঝার স্বার্থে একটু ব্যাখ্যা করি। সামাজিক জীব বলতে আমরা বুঝি, যারা সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান বোঝেন এবং মেনে চলেন। পারিবারিক জীব হচ্ছে, যিনি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে অফিস আর বাসা, এই গণ্ডির বাইরে আর কিছুই তিনি ভাবেন না। আর নারীদের ক্ষেত্রে রান্না ঘর আর স্বামী-সন্তানের বাইরে তিনি আর কাউকে চিনতে চান না, বুঝতেও চান না। আর ভার্চুয়াল জীব হলো যারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের রং-তামাশার বাইরে বাস্তব বা বৈষয়িক জগত, সমাজ, সংস্কার সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা কম রাখেন। ওই ব্যক্তির আনন্দ, বেদনাসহ আবেগের সব উৎস এই ভার্চুয়াল জগত। দল গঠন থেকে শুরু করে গাছ রোপন, সব ধরনের কাজই তারা ভার্চুয়ালি করে থাকেন। এই কাজ করতে গিয়ে তারা বাস্তবের সাথে সম্পর্ক রাখার সময় পান না, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এক্ষেত্রে সমাজ বা রাষ্ট্রের বিদ্যমান অর্জন ধরে রাখার বা সমাজ ও রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নেয়ার কর্ণধার খুঁজে পাওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হবে। বর্তমান তরুণ সমাজ এই ভার্চুয়াল জগতের ক্ষতির শিকার। যদিও এর ব্যতিক্রমও আছে। তবে তরুণ প্রজন্মকে দোষারোপ করে অভিভাবকের দায়িত্বহীনতাকে আড়াল করা যাবে না। তারা কিন্তু আমাদের আচরণই নিজেদের মতো করে রপ্ত করে থাকে। বিয়ে বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে যেতে যতটা তোড়জোর আমরা করি, আত্মীয় বা প্রতিবেশীর শেষ বিদায়ে আমরা কি তা করি? অথচ, কেউ মারা গেলে তার স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে জরুরি এবং তা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী আচার। পরিণতিতে দেখতে পাই, বাবা-মায়ের মরদেহ আঞ্জুমানে মফিদুলকে দেয়া, এমনকি বাবা-মাকে হত্যা করার মতো ঘটনা। দ্বিতীয় যে বিষয়টাতে আমরা দৃষ্টি দিতে পারি, তা হলো সমালোচনায় অন্যকে ছোট করার অভ্যাস বা জনসম্মুখে কাউকে অপমান, অপদস্থ করে আনন্দ পাওয়া বা নেতৃত্ব জাহির করা। তরুণ প্রজন্মের সম্মুখেই আমরা এটা করে থাকি। এতে করে তারা আমাদের চোখের সামনেই বেড়ে উঠছে ক্ষুদ্র মানসিকতায়। পরিবর্তিত সমাজ বা জগতের সাথে তরুণ মানসিকতার যে পরিবর্তন ঘটছে, তা পরাধীনতার শেকলে আবদ্ধ হওয়ার শামিল। মননশীলতায় সে যদি স্বাধীন না হয়, সমাজ ও পৃথিবীর সর্বোপরি নিজের জন্যও যদি কল্যাণকর না হয়, তবে সেই তরুণের কাছ থেকে অভিভাবক হিসেবে কী-ই বা আশা রাখতে পারি? সমাজের কোন কিছুর সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল জগতে বসবাসকারী তরুণদের দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কমছে যোগাযোগের দক্ষতাও। দেখা যাচ্ছে, তারা সমস্যা মোকাবেলার বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বনের চেয়ে নেতিবাচক কৌশল গ্রহণ করছে। বাড়ছে আত্মহত্যা প্রবণতা, মাদকের অপব্যবহার, সহিংসতা ও নির্যাতন। নিজেদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতন হওয়ার পর্যাপ্ত তথ্য তরুণ সমাজকে কি নিয়মিত দেয়া হচ্ছে? যদি তা না দেওয়া হয়, তবে এটাই হতে পারে তরুণদের অপরাধ প্রবণতার পূর্ববর্তী কারণ। তরুণ প্রজন্মের সুস্থ, সুখী ও প্রাণোচ্ছল জীবন যাপনে তাদের প্রয়োজনগুলোর প্রতি মনোযোগ দিন। এ লক্ষ্যে তরুণদের সাথে অভিভাবকদের নিয়মিত আলাপচারিতা জরুরি। মনে রাখতে হবে, কেবল সুস্থ তরুণরাই পরিবর্তনের বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনতে সক্ষম। লেখক: ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট।

আগামী ডিসেম্বর থেকেই ই-পাসপোর্ট

https://www.facebook.com/MaasrangaTelevision/videos/2688497941374369/ আগামী ডিসেম্বর থেকেই ই-পাসপোর্ট চালু করতে চায় সরকার। এর জন্য জার্মান প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর সাথে ১৯ জুলাই চুক্তি করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি বলছে বাংলাদেশকে দেয়া পাসপোর্টগুলো হবে চতুর্থ প্রজন্মের। ১০ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা... -প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় ১৯.০৭.২০১৮ তারিখের Business Report অনুষ্ঠানে।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কমিটির অভিষেক

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিতঃ

২৬শে আগষ্ট ২০১৮ রোববার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি নর্থরীজ এর হলরুমে এক জাকজমক পূর্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ফুলারটনের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব ডঃ শামীম চৌধুরী, এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট লস এন্জেলেস এর সম্মানীত কনসাল জেনারেল জনাব প্রিয়তোষ সাহা ও লস এন্জেলেস এর বিশিষ্ট সমাজসেবী জনাব ডঃ মোয়াজ্জেম চৌধুরী এবং বিশিষ্ট মোটিভেশনাল স্পিকার জনাব রজার ওয়াজেদ সালাম। অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার নব নির্বাচিত সভাপতি জনাব আসাদুজ্জামান বাচ্চু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম মাসুদ। অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তামিন আহমেদ, সানী জামান এবং মারিহা জামান। নতুন কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুরাদ আহমেদ, জহির উদ্দিন ও লায়েক আহমেদ। উপদেষ্টা কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আব্দুল হামিদ খোকন ও আব্দুল হান্নান। আরও বক্তব্য রাখেন আলী আহমেদ ফারিস এবং বাফলা প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম। [caption id="attachment_22026" align="alignleft" width="768"] বক্তব্য রাখছেন লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা।[/caption] অনুষ্ঠানে বিপুল সংখক প্রবাসী জালালাবাদ বাসীর উপস্হিতি ছিল উল্লেখ করার মত। অনুষ্ঠানে অন্যান্য কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নি এবং স্হানীয় শিল্পীবৃন্দ। অভিষেক উপলক্ষে জালালাবাদ ম্যাগাজিন 'দি সুরমা' প্রকাশ করা হয়। বিগত কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সামাদের সম্পাদনায় এবং সৈয়দ নাসির জেবুলের সার্বিক সহযোগিতায় ম্যাগাজিনটি প্রকাশিত হয়। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হুসেন রানার স্বাগত বক্তব্যের পর বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির উদ্দিন জেবুল দুই বৎসরের কার্যক্রমের প্রতিবেদন পেশ করেন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শিপার চৌধুরী নির্বাচন কমিশনার জসীম আশরাফী ও বদরুল আলম চৌধুরী শিপলুর সহযোগিতায় নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে শপথ পাঠ করান। নতুন নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ হচ্ছেনঃ প্রেসিডেন্ট- আসাদুজ জামান বাচ্চু, ভাইস প্রেসিডেন্ট (১)- নাসির সৈয়দ জেবুল, ভাইস প্রেসিডেন্ট (২)- লায়েক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক: বদরুল আলম মাসুদ, [caption id="attachment_22041" align="alignleft" width="960"] বক্তব্য রাখছেন নবনির্বাচিত সভাপতি আসাদুজ্জামান বাচ্চু এবং পিছনে সাধারন সম্পাদক বদরুল আলম মাসুদ। ছবি গোলাম কিবরিয়া[/caption] যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- জহির উদ্দিন,অর্থ সম্পাদক- মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক: সিদ্দিকুর রহমান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক- মুরাদ আহমদ, যুব বিষয় সম্পাদক- মো. মইনুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- সুমন আহমদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক- আমিনুল ইসলাম পাপ্পু, নির্বাহী সদস্যরা হচ্ছেন : মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ নজরুল আলম, মাহতাব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, হাফিজ সুবহান ও মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম।

আপনি কি কৃপণ?

কৃপনতা

মোঃ রফিকুল ইসলাম কৃপণতা হল প্রয়োজনের তুলনায় সর্বনিম্ন পরিমান সম্পদ খরচ করে তা জমিয়ে রাখার স্বভাব। আর যে ব্যক্তি এ কর্মটি সম্পাদন করে সে হলো কৃপণ। আদর্শ কৃপণেরা সাধারণত বাড়িতেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা লুকিয়ে রাখে। ব্যাংককে তারা তেমন বিশ্বাস করে না। কারন কখন আবার কোন ব্যাংক লাল বাত্তি জ্বালিয়ে তার কষ্টের টাকা মেরে দেয়। তবে বর্তমানে অবস্থার বোধহয় উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের কৃপণেরা ব্যাংকেও টাকা জমায়। কৃপণরা তার বা তার পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণে অনীহ থাকে। তার সর্বদা চিন্তা থাকে কিভাবে খরচ কমিয়ে পয়সা বাঁচিয়ে তা জমিয়ে রাখা যায়। অর্থাৎ মিতব্যয়িতার সর্বোৎকৃষ্ট অবস্থার শেষসীমা থেকে কৃপণতার শুরু হয়। কৃপণ সর্বদা সকল উপকরণের চরম উপযোগিতা আদায় করে ছাড়ে। তা হোক সে পোষাক কিংবা অন্যকোন বস্তু বা বিষয়ের। কোন যুক্তিসংগত কারনে হলেও তারা কাজে ফাঁকি দেওয়া বা অনুপস্থিত থাকা একদম পছন্দ করে না। আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরন দিচ্ছি তখন নিশ্চয় বিশ্বাস হবে। এক কৃপণ ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যু শয্যায় শায়িত। যেকোন সময় প্রাণবায়ু বের হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায়ও তিনি খুবই ক্ষীন কন্ঠ স্ত্রীকে ডাকলেন," প্রিয়তমা তুমি আছো?" স্ত্রী উত্তর দিল," আমি আছি তোমার পাশে।" "আমার প্রিয় মা মনি আছে?" মেয়ে জবাব দিল, " হ্যাঁ বাবা। আমি আছি ।" একইভাবে তিনি বড় ছেলে ও ছোট ছেলের খবর নিলেন তারা কাছাকাছি আছে কিনা। ছেলেরাও জানালো তারা বাবার পাশেই আছে। সবাই উদগ্রীব হয়ত তিনি শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা বা নির্দেশ দিবেন। শুনে কৃপণ লোকটি তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে প্রায় ধমকে উঠলেন, " হচ্ছে কি এসব। সবাই যদি এখানে তাহলে দোকানে আছে কে? " বুঝুন ঠেলা। যদিও কৃপণতা দেশ, কাল, পাত্র, গোত্র, বর্ণের উপর নির্ভর করে না তবুও কিছু কিছু জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলের মানুষের গায়ে নানা কারনে কৃপণতার তকমা এঁটে গেছে। যেমন জাতিগতভাবে ইহুদিদেরকে সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে ভাবা হয়। আবার আঞ্চলিকভাবে স্কটিশদেরকেও কৃপণ জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়। আর আমাদের ধারে কাছের প্রতিবেশী দেশের দাদাবাবুরাও কালক্রমে এ অভিধায় ভূষিত হয়েছেন। এসব লোকজনদের কৃপণতা নিয়ে রয়েছে নানা মজার মজার গল্প কথা। এবারে এদের নিয়েই কিছু কথা বলা যাক। আমাদের প্রতিবেশী দাদাদের কৃপণতা নিয়ে আমাদের এ অঞ্চলে এত চর্চা হয়েছে যে তা প্রায় প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। যেজন্য বলা হয় দাদাদের বাসায় কেউ বেড়াতে গেলে নাকি জিজ্ঞেস করা হয় খেয়ে এসেছেন নাকি গিয়ে খাবেন। কিংবা খাবার জন্য আমন্ত্রণ আপ্যায়ণ না করেই বলা হয় এবার তো খেলেন না পরের বার কিন্তু না খেয়ে যেতে পারবেন না। বরং এদের একটা গল্পই বলি। এক লোক তার দিদির বাসায় গেছে। দরজায় নক করলো। প্রথমবার কেউ দরজা খুললো না। আবারও নক...কোন সাড়া শব্দ নেই। তারপরও সে আবার নক করলো। কিন্তু এবারেও দরজা খোলার কোন নাম নেই। শেষমেষ সে না পেরে বললো, " দিদি আমি খেয়ে এয়েচি তো।" দিদি দরজা খুলে বললো, "ওরে, দুষ্টু আগে বলবিনে।" কিছু কিছু গল্প আছে তা হয়তো অতিশোয়ক্তি কিন্তু তা কালক্রমে হয়ে গেছে কৃপণতার ধ্রুপদী উদাহরণ। যেমন অফিস থেকে ফিরে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন, "হ্যাগো বল্টুর মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না?" কিছুক্ষণ পর বৌদি রাগে গজগজ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন, " মাগো কি কিপটের কিপটে? একটুখানি টাইগারবাম, তাও দিলে না?" এ কথা শুনে দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "কি আর করবে বল্টুর মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগারবামটাই বের করে আনো।" এসব কাহিনীর সত্যতা থাক না থাক জনপ্রিয়তা কিন্তু আছে। স্কটিশদের নিয়ে আছে নানা কিপটেমি বা পয়সার বাঁচানো কিংবা পয়সার প্রতি দূর্দমনীয় লোভের নানা গল্প। যেমন কোন দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন স্কটিশ কখন প্রথম হবে জানেন? যদি দৌড়ের শেষ রেখায় কয়েক পেনি খুচরো পয়সা ফেলে রাখা হয়। এবারে স্কটিশ নিয়ে একটা গল্প বলি। তিন আইরিশ ও তিন স্কটিশ একসাথে এক কনফারেন্সে ট্রেনযোগে যাচ্ছিলো। স্টেশনে এসে তিন আইরিশ তিনটি টিকিট কাটলো। কিন্তু তিন স্কটিশ মিলে কিনলো একটি টিকিট। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো এক টিকিটে তোমরা সবাই কিভাবে যাবে। স্কটিশদের একজন বললো, তোমরা দেখতে পাবে। যথারীতি ট্রেনে উঠে তিন আইরিশ নিজ নিজ সীটে গিয়ে বসলো। আর তিন স্কটিশ টেসে ঠুসে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর টিটিই এসে বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে টিকিট চাইলো। বাথরুমের দরজা সামান্য ফাঁক করে টিকিট সমেত একটি হাত বের হয়ে এসে টিকিট এগিয়ে দিল। টিটিই টিকিট নিয়ে চলে গেল। আইরিশরা দেখলো টাকা বাঁচানোর চালাকিটা মন্দ নয়।তারা এটাকে বেশ পছন্দ করলো। তাই ফেরার পথে তারা তিনজনে একটা টিকিট কিনলো। কিন্তু অতীব আশ্চর্যের সাথে তারা লক্ষ্য করলো স্কটিশরা কোন টিকিটই কিনলো না। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো, " তোমরা বিনা টিকিটে কিভাবে ভ্রমণ করবে?" এক স্কটিশ উত্তর দিল, " খেয়াল রেখ, তোমরা দেখতে পাবে।" যখন তারা ট্রেনে উঠলো তখন তিন আইরিশ গাদাগাদি করে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। স্কটিশ তিনজনও কাছাকাছি একটা বাথরুমে ঢুকে পড়লো। ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পরপরই স্কটিশ একজন বাথরুম থেকে বের হয়ে আইরিশদের লুকিয়ে থাকা বাথরুমে দরজায় টোকা দিয়ে বললো, "টিকিট প্লিজ।" বাথরুম থেকে টিকিট সমেত একটা হাত বের হয়ে আসলো। পরে কি হয়েছিল তার গল্প নিশ্চয় আর আপনাদের বলতে হবে না। এবারে ইহুদীদের কিপটেমির একটা উদাহারন দেওয়া যাক। স্থানীয় পত্রিকার শোকবার্তা বিভাগে টেলিফোন করে কৃপন ইহুদি জেফ জানতে চাইলো, "একটা শোকবার্তা প্রকাশ করতে কত টাকা লাগবে?" জবাবে সেখানকার কেরানী বিনীতভাবে জানালো, "প্রতিশব্দ পঞ্চাশ সেন্ট করে।" "ঠিক আছে, তাহলে লিখুন।" কয়েক মুহূর্ত ভেবে সে বললো, "ব্যারি মৃত।" শুনে কেরানী জিজ্ঞেস করলো, "এই! শেষ! "হ্যাঁ এই শেষ।" জেফের জবাব। হতভম্ব কেরানী জানালো, দুঃখিত, আপনাকে আমার জানানো হয়নি যে শোকবার্তায় কমপক্ষে পাঁচটি শব্দ থাকতে হবে। শুনে সে বললো, "আপনার জানানো উচিত ছিল। ঠিক আছে আমাকে এক মিনিট ভাবতে দিন.....আচ্ছা তাহলে লিখুনঃ মৃত ব্যারি । বিক্রি হবে মারুতি।" এবারে এক চ্যাম্পিয়ান কৃপণের গল্প আপনাদের শোনাতে চাই। আমার বিশ্বাস কৃপণতার উপর নোবেল বা কোন পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে এ গল্পের নায়কের নির্ঘাত তা প্রাপ্য ছিল। ভবেশবাবুর বাবা ছিলেন ত্রিভুবন খ্যাত কৃপণ I তিনি যখন মৃত্যু শয্যায় তখন ভবেশবাবুকে বলে গিয়েছেন-- যদি কখনো কোন বিষয়ে বিশেষ করে অপচয় কমানোর কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার এক কৃপণ বন্ধু আছে, তার নাম হর কুমার, তার কাছ থেকে পরামর্শ নিবে I বাবার মৃত্যুর পর জায়গা-জমি নিয়ে খরচ সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে ভবেশবাবু পরামর্শ নিতে সন্ধ্যার পর পিতৃ-বন্ধু হর কুমারের কাছে গেলেন I হরকুমার বাবু ভবেশবাবুকে সাদরে ঘরে নিয়ে বসলেন I হরকুমার কাকা বললেন-- কথা বলতে তো আর আলোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাতিটি নিভিয়ে দেই --বলে তিনি বৈদ্যুতিক বাতিটি নিভিয়ে দিলেন I কথা-বার্তা শেষে ভবেশবাবু যখন উঠতে যাবেন, তখন হর কুমারবাবু বললেন-- "দাড়াও বাতিটা জ্বালিয়ে দেই, নইলে তুমি বেরুবার রাস্তা দেখতে পাবে না I" ভবেশবাবু তখন বললেন-- "একটু দাড়ান কাকা, আমি লুঙ্গিটা পরে নিই।" হরকুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন-- "মানে ? তুমি কি এতক্ষণ লুঙ্গি না পরেই আমার সাথে কথা বলছিলে ?" ভবেশবাবু বললেন-- "আজ্ঞে হ্যাঁ, অন্ধকার ঘরে লুঙ্গি পরে সেটার অপচয় করে কি লাভ, তাতে বরং লুঙ্গিটার পরমায়ু অন্তত কয়েক ঘন্টা তো বাড়বে I" হরকুমারবাবু হতাশ হয়ে বললেন-- "তুমি কেন অযথা আমার কাছে পরামর্শ নিতে এসে সময়ের অপচয় করলে ? তুমি তো ইতিমধ্যেই আমাকে ছাড়িয়ে গেছো। " কৃপণ বা কৃপণতা নিয়ে অনেক তো জল ঘোলা হল। তাই আপনাদের অকৃপণ ধৈর্যের চ্যূতি না ঘটিয়ে ইতি টানতে চাই। তবে শেষ বেলায় কৃপনতার শেষ গল্পটি না বললে আখ্যানটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এতক্ষন আমরা যে সব কৃপণ চরিত্রগুলোর আলোচনা করলাম সেগুলো হয়ত প্রচলিত গল্প উপাখ্যানে আছে কিন্তু বাস্তবের এদের উপস্থিতি হয়ত কোনকালেই ছিল না। তাই এবারে বাস্তবের এক কৃপণের কথা জানাতে চাই। তাঁর নাম হেনরিয়েটা হাউল্যান্ড গ্রীন ওরফে হেটি গ্রীন ( ১৮৩৪-১৯১৬)। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে ধনী মহিলা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী। তাঁকে ওয়াল স্ট্রিটের ডাইনী বলা হোত। তিনি যেমন তাঁর সম্পদের পরিমানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তেমনি সুপরিচিত ছিলেন তাঁর কৃপণতার জন্যও। তাঁর সে সময়ে যে সম্পদ ছিল তার পরিমান ছিল ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি ডলার যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২৫ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মহিলার স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে তাঁর কৃপণতাও তাঁকে জগৎজোড়া পরিচিতি দিয়েছিল। তিনি সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে দাীর্ঘদিন গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। তাঁকে নিয়েতো অনেক কথা হল এবারে তাঁর কিংবদন্তিতূল্য কৃপণতার কিছু বিবরণ শুনুন। তিনি কখনও গরম পানি বা বাসা গরম করতে রুম হিটার ব্যবহার করতেন না। তিনি কালো পুরনো পোষাক পরিধান করতেন একেবার ছিঁড়ে না পর্যন্ত। চড়তেন পুরনো বাহনে। তিনি মাত্র ১৫ সেন্ট মূল্যের পাই নামের সস্তা খাবার খেতেন। কথিত আছে যে একবার তাঁর গাড়িতে মাত্র ২ সেন্টের হারিয়ে যাওয়া একটা স্ট্যাম্প খুঁজতে তিন অর্ধ রাত্রি ব্যয় করেছিলেন। আরও কথিত আছে যে তিনি কম সাবান ব্যবহারের জন্য তাঁর ধোপানীকে শুধু কাপড়ের ময়লা স্থান ধুতে বলতেন। তিনি অফিস খরচ বাঁচাতে সীবোর্ড ন্যাশনাল ব্যাংকে তাঁরই কাগজপত্রে ঠাসা ট্রাঙ্ক ও স্যূটকেসের মাঝে বসে কাজ করতেন। এমনও গুজব ছিল যে তিনি শুধু ওটমিল খেতেন যা তিনি অফিসের রেডিয়েটরে গরম করতেন। এমনকি তাঁর কৃপণতা তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিয়েও ছিল। একবার তাঁর ছেলে আহত হলে তিনি তাকে ভাল কোন হাসপাতালে ভর্তি না করে গরীব মানুষের বিনামূল্যের হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর ছেলের পা ঠিক হতে অনেকদিন লেগেছিল যদিও পরবর্তীতে তার পা কেটে ফেলতেও হয়েছিল। এসব কারনেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ ব্যবসায়ীরা ডাইনী উপাধি দিয়েছিল। অবশ্য তাঁর সম্পদ তাঁর সন্তানেরা মানব কল্যাণে অনেক জায়গায় দান করে দিয়েছিলেন। সম্পদ নাকি তিন প্রজন্মের বেশি থাকে না। তাই অযথা কৃপণতা না করে মিতব্যয়িতার সাথে প্রয়োজন মিটান ও জীবনকে উপভোগ করুন। নিজে কষ্ট করে জমিয়ে রেখে কি লাভ? কারন তিন প্রজন্মের পর আবারতো নতুন করে সম্পদ অর্জনের সংগ্রামে নামতেই হচ্ছে।

কিছু জোকস...

কোলকাতার_দাদারা_বলে_কথা...!! ১। ক্রেতাঃ দাদা মুরগির ওই ঠ্যাঙ এর পাস থেকে দুসো গ্রাম দিন তো বিক্রেতাঃ সেকি দাদা বাড়িতে আজ উতসব নাকি...পুরো দুসো গ্রাম মুরগি !! ক্রেতাঃ সেইরকম ই দাদা, দুই জামাই আসবে আজগে...ওদের দুজনের জন্য একসো গ্রাম আর আমাদের বাকি চারজনের জন্য পুরো একসো গ্রাম..... ২। ১ম বন্ধুঃ কিরে আজগে বড় দাদার জন্নে মেয়ে দেগতে গেচিলি ! তা কি খাওয়ালো ওকানে ? ২য় বন্ধুঃ মাইরি খেয়েচি সেরাম আজগে ! ১ম বন্ধুঃ বলনা কি খেলি ? ২য় বন্ধুঃ প্রায় মুরগীই খেয়েচি দাদা, মাইরি যা টেস্ট না ! ১ম বন্ধুঃ প্রায় মুরগী ! সে আবার কি গো !২য় বন্ধুঃ অ্যাঁরে বুঝলি না !! ডিম খেতে দিয়েচিলো । গোটা আদ্দেক ! ৩। এক লোক গেছে তার বোনের বাসায়। গিয়ে দরজায় নক করল। প্রথমবার কেউ খুলল না। আবার নক..... ....কোন সাড়া-শব্দ নেই। তারপরেও সে আবার নক করল। কিন্তু না, এবারও দরজা খোলার নাম নেই। শেষমেশ আর না পেরে বলল..... "দিদি, আমি খেয়ে এসেচি তো।" দিদিঃ ওরে দুষ্টু, তা আগে বলবি নে? ৪। এক ব্যক্তি কোলকাতায় গিয়ে হোটেলে মালপত্র রেখে বন্ধুর সাথে তার মামার বাড়ী গেছে দেখা করতে,মনে ইচ্ছা ছিলো ঐ বাড়ীতে ওঠার । তো মামা বলে উঠলেন ”এইবারতো হোটেলে উঠলে পরেরবার আমাদের এখানে উঠো কিন্তু” ৫। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যাথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন -- হ্যা গো ট্যাঁপার মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না । খানিকপর বৌদি রাগে গজগগ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন -- মা গো , কি কিপটের কিপটে ? এক্টুখানি টাইগার বাম, তাও দিল না ?? একথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাদা বললেন -- কি আর করবে ট্যাঁপার মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগার বামটাই বের করে আন। ৬। বেশ আগের কথা। দাদার বাড়িতে কোন এক কারনে একজন মেহমান এসেছেন এবং কিভাবে জানি না এক রাত দাদার বাড়িতে থেকেওছেন। পরদিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে মেহমান দাঁত মাজার জন্য নিজের ব্যাগ থেকে একটা টুথপেস্ট বের করেছেন । এই না দেখে দাদা সেখানে হাজির। বেশ কতক্ষন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে দাদা জিজ্ঞেস করলেন -- আজ্ঞে দাদা, বলছিলুম কি ... আপনার হাতে ওটা কি, টুথ পেস্ট নাকি ? মেহমান ততক্ষনে যা বোঝার বুঝে গেছেন , তবু ভদ্রতার খাতিরে বললেন -- হ্যা দাদা , আপনাকে দেব একটু ? এই শুনে কলকাতার দাদা হাঁক ছাড়লেন -- ওরে রমেশ , সুরেশ , ট্যাপা , মহেশ ... কে কোথায় আছিস ? যার যার আঙ্গুল নিয়ে এদিকে আয় , আজকে পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজবি। -- Just for fun..(collected)  

ফেসবুকে নেই প্রধানমন্ত্রী, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

ফেসবুকে নেই প্রধানমন্ত্রী, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ও টুইটার অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক দেশের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা ফেসবুক-টুইটারে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাই ধরা যাক। মন্ত্রীপরিষদে কাউকে বাতিল করলে উনি সবার প্রথমে তা টুইটারে জানান। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ফেসবুক টুইটার নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন তাঁরা ফেসবুকে একটিভ। তবে ঘটনা সত্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুক বা টুইটারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অথবা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা বা প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের কোন ব্যক্তিগত অথবা দলীয় আইডি নেই। তাদের নামে বিভিন্ন ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে সকলকে সতর্ক করলো আওয়ামীলীগ। গত ১৮ আগস্ট দলটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, (www.facebook.com/sajeeb.a.wazed) ও একটি ভেরিফাইড টুইটার আইডি (www.twitter.com/sajeebwazed) এছাড়াও আরো একজনের সোশ্যাল মিডিয়ায় আইডি রয়েছে। তিনি হলেন, বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। তার একটি ফেসবুক আইডি রয়েছে। (www.facebook.com/radwan.siddiq) চালু আছে। ফেসবুকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এরই মধ্যে সায়মা হোসেনের নামে একটি আইডি ভেরিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এখন ব্লক করে রেখেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা হোসেনের নামে যেসব আইডি বা পেজ আছে তাদের কোনো অনুমোদন নেই। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো সদস্য যদি কোনো আইডি বা পেজ খোলেন, তাহলে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন

নওশাবা’র ঈদ শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনঃ 

" দেশের সবাইকে ঈদুল আজহার বিলম্বিত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাকে ঈদের আগের বিকেলে নিম্ন আদালত জামিন প্রদান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ তার মানবিকতার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি অভিভূত। আমার আইনজীবীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

আমার একমাত্র কন্যা প্রকৃতি’র সাথে ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের একজন পরীক্ষিত, প্রকৃত ও সুযোগ্য অভিভাবক, এই ভূমিকার বাইরেও তিনি যে একজন মমতাময়ী মা, তা আবারো আমি নিজে একজন মা হিসেবে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বুঝতে পারলাম। নিকট অতীতেও রোহিংগা ইস্যুতে তার মাতৃত্বসুলভ গুনাবলীর অনেক দ্রষ্টান্ত তিনি রেখেছেন।

পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট আর কাশিমপুর কারাগারে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এবং নার্সেরা – যারাই আমাকে অনেক প্রফেশন্যালিজম আর সহমর্মিতার সাথে প্রতিটি স্তরে হেফাজত করেছিলেন, তাদের প্রতিও আমার আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা।

অভিনয় শিল্পী সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী আর বাংলাদেশের সকল শিশুসহ আমার শুভাকাংক্ষীদের বলতে চাই – আপনারা যারা বিগত কয়েক সপ্তাহে আমার পরিবারের পাশে থেকেছেন, ক্রমাগত সাহস আর আশ্বাস দিয়েছেন, যার যার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য আমার অনেক ভালবাসা রইল। আপনাদের সবার নিঃস্বার্থ প্রার্থণাতেই আমার মেয়ে প্রকৃতি ঈদের সারাটা দিন তার মা’কে কাছে পেয়েছে।

পরিশেষে আমি আবারো একান্ত অনুরোধ করে বলতে চাই, যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরায়ত মাতৃত্বসুলভ মমতায় আমার আবেগতাড়িত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। "

- কাজী নওশাবা আহমেদ

ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৮

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.