Home খবর করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস

অটোমোবাইল খাতের খুচড়া যন্ত্রাংশের আমদানি একবছর শুল্কমুক্ত করার দাবী বামা নেতাদের

চলতি অর্থবছরে অটোমোবাইল খাতের সব ধরনের খুচড়া যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন-বামার নেতারা। মঙ্গলবার (২৩ জুন)অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বামার সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ডলারের সংকট তৈরী হবে এবং এ কারণে নতুন গাড়ি আমদানিতে বিঘ্ন হবে। তাই বাংলাদেশের চলমান গাড়িগুলোই যাতে আগামী দুই, তিন বছর চলতে পারে সেজন্যে খুঁচড়া যস্ত্রাংশ আমদানি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার দাবি করেন। মাতলুব আহমাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০২০ সালকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বছর ঘোষণা করেছেন তখন চীন ও ভারত থেকে আসা লাইট ট্রাকগুলোকে পিক আপ বলে ভুল রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। অবিলম্বে দেশের স্বার্থে এটা বন্ধ করার দাবী জানান তিনি এবং একই সাথে বিআরটিএ কর্তৃক পিক আপের সঠিক সংজ্ঞায়নের দাবি করেন তিনি। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তিনমাসে অটোমোবাইল খাতে আনুমানিক ছয় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বামার সাবেক সভাপতি ও রানার গ্রপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। গ্রামীণ জনপদের পরিবহনের ক্ষেত্রে থ্রি হুইলারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এগুলোর রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করার কথা বলেন। এতে সরকার প্রতি বছর শুল্ক, কর ও ভ্যাট বাবদ ২ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুল মাতলুব আহমাদ, বাংলাদেশে শিগগিরই ইলেকট্রিক কার তৈরী করতে পরবে বলে আশা করেন । এ ব্যাপারে বিডা এখন আগের চেয়ে অনেক ইতিবাচক বলেও জানান, বামার সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

Meet the Press- Role of Automobile Sector in Bangladesh (ইউটিউব ভিডিও)

https://www.youtube.com/watch?v=yJpBhF-id7A

নাগরিক টিভির কাভারেজঃ

[video width="400" height="224" mp4="http://ekush.info/wp-content/uploads/2020/06/104715106_266367977787086_7305550295390588092_n.mp4"][/video]      

সুস্থ হওয়ার ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বিলীন...

সুস্থ হওয়ার ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বিলীন হয়ে যেতে পারে

প্রায় ৪০ শতাংশ উপসর্গহীন প্রাক্তন করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে উপস্থিত অ্যান্টিবডির পরিমাণ খুবই নিচু স্তরে নেমে আসে। এর পরিমাণ এতটাই কম যে পরীক্ষায় তা শনাক্ত করাও সহজসাধ্য হয়নি।  অন্যদিকে উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের মাত্র ১৩ শতাংশের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি বিলীন হওয়ার এই প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

ভাইরাস জনিত রোগ থেকে সেরে ওঠার পর অধিকাংশ মানুষের দেহে ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। আমাদের রক্তের প্রোটিনই হচ্ছে এই লড়াইয়ের মূল নায়ক বা অ্যান্টিবডি।

চলমান করোনাভাইরাসের মহামারিতেও সেরে ওঠাদের অনেকের দেহে 'অ্যান্টিবডি' তৈরি হয়েছে। কিন্তু উপসর্গযুক্ত এবং উপসর্গহীন করোনায় আক্তান্তের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এই অ্যান্টিবডি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে নাই হয়ে যেতে পারে। এতে পুনরায় আক্তান্ত হওয়া এবং করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা আবিষ্কারের যে সব বৈশ্বিক গবেষণা চলছে, তা এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রশ্ন তৈরি হতে পারে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে।

আর একবার আক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় আক্রান্ত না হওয়ার যে ছাড়পত্রের কথা ধরে নেওয়া হচ্ছিল, এই গবেষণা তা ভুল প্রমাণ করে দিচ্ছে।

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে রক্তে ভাইরাসটি প্রতিরোধী ক্ষমতা কতদিন থাকে তা জানা খুবই প্রয়োজন টিকা গবেষকদের। পাশাপাশি অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সেরে ওঠার পর তা শরীরে তৈরি হয় কিনা, তাও জানতে চেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই এ প্রশ্নের উত্তর পেতে সম্প্রতি চীনের ওয়াংজু অঞ্চলে বিজ্ঞানীরা করোনা থেকে সেরে ওঠা উপসর্গযুক্ত এবং কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিন 'জার্নাল ন্যাচার মেডিসিনে।'

গবেষণার আওতায় বিজ্ঞানীরা উপসর্গহীন ৩৭ জন করোনা থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরের অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করেছেন। এসব প্রাক্তন রোগীর অধিকাংশের দেহে করোনার প্রতিরোধ ব্যবস্থা মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ উপসর্গহীন প্রাক্তন করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে উপস্থিত অ্যান্টিবডির পরিমাণ খুবই নিচু স্তরে নেমে আসে। এর পরিমাণ এতটাই কম যে পরীক্ষায় তা শনাক্ত করাও সহজসাধ্য হয়নি।

অন্যদিকে উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের মাত্র ১৩ শতাংশের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি বিলীন হওয়ার এই প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণার ভিত্তিতে চীনা বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, উপসর্গহীন ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক দুর্বল। সেই তুলনায় উপসর্গ নিয়ে যারা করোনা থেকে সুস্থ হচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে এটা অনেকদিন ধরে কাজ করে।

ইতোপূর্বের এক গবেষণায় জানা গিয়েছিল যে উপসর্গযুক্ত রোগীরা সুস্থ হলে তাদের দেহে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তবে উপসর্গহীন করোনামুক্তদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে সাম্প্রতিক গবেষণাটি উল্লেখযোগ্য এক পদক্ষেপ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের দেহে জন্মালেও তার স্থায়িত্ব খুবই কম।

এত কম মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আদৌ সমর্থ হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। অবশ্য রোগ প্রতিরোধ নিয়ে এখনও অনেক অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে, বলে তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে কিছু কিছু গবেষণা বলছে, অতি কম মাত্রার অ্যান্টিবডিও দ্বিতীয়বার ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

ওয়াংজুতে করা গবেষণার প্রধান দুটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে; গবেষণার আওতায় খুব বেশি সংখ্যক রোগীকে আনা সম্ভব হয়নি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ব্যক্তিভেদে অ্যান্টিবডির পরিমাণে তারতম্য দেখা দিতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: 

ওয়াংজুর গবেষকরা দুই ধরনের অ্যান্টিবডি শনাক্তের চেষ্টা করেছেন। এগুলো হলো; ইমোগ্লোবিন জি (আইজিজি) এবং ইমোগ্লোবিন এম।

সাধারণত, কোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়া মাত্রই আমাদের শরীর প্রথমে ইমোগ্লোবিন এম তৈরির চেষ্টা করে। অন্যদিকে ইমোগ্লোবিন জি তৈরি হয় দীর্ঘ সময় ধরে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধের জন্য আইজিজি'ই সবচেয়ে শক্তিশালী সহায়ক শক্তি।

নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্টিবডি টেস্টিং বিভাগের পরিচালক আনিয়া ওয়াজেনবার্গ বলেন, এই রোগের অনেক রূপরহস্য আমরা এখনও জানিনা। তবে এটা প্রমাণিত যে আইজিজি মানেই স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা। রক্তে এর উপস্থিতি থাকলে তা খুব সহজেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভবনাই থাকে বেশি।

আরএসএফ শ্রদ্ধা জানাল কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ৩০ জনকে

করোনাকালীন সাংবাদিকতা

আরএসএফ শ্রদ্ধা জানাল কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ৩০ জনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো
১৮ জুন ২০২০
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) কারাবন্দী কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরসহ ৩০ সংবাদকর্মী, সংবাদমাধ্যম ও হুইসেল ব্লোয়ার বা সতর্ককারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। আরএসএফ বলছে, এসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সাহস, ঐকান্তিকতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা মহামারিতে বিশ্বাসযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রসারে কাজ করেছেন। আর এ জন্য তাঁদের দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। প্যারিসভিত্তিক স্বাধীন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরএসএফ এই ত্রিশকে বলছে ‘ইনফরমেশন হিরোজ’। এ উপলক্ষে আরএসএফ ‘করোনাভাইরাস: ইনফরমেশন হিরোজ—জার্নালিজম দ্যাট সেভস লাইভস’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তারা বলেছে, মহামারির সময় মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের কেউ কেউ জেল খেটেছেন, কেউ কারারুদ্ধ হয়েছেন, কেউ আর কখনোই সাংবাদিকতা করতে পারবেন না, কেউ আবার এই করোনার কালেই দেশান্তরি হয়েছেন। বাংলাদেশের আহমেদ কবীর কিশোর সম্পর্কে আরএসএফ বলেছে, তিনি করোনাকালের রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে ফেসবুকে ‘লাইফ ইন দ্য টাইম অব করোনা’ নামে একটি কার্টুন জার্নাল প্রকাশ করছিলেন। গত ৫ মে থেকে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আছেন, তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ফেসবুকে গুজব ও মিথ্যে তথ্য ছড়িয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশি আরেক সাংবাদিক
তালিকায় স্থান পেয়েছেন সালিম আকাশ নামের আরেক বাংলাদেশি সাংবাদিক। জর্ডানে বসবাসকারী সালিম করোনাকালে বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন। তিনি দেখান কীভাবে অভিবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তাঁদের ভাগ্য যে এখন দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে, তারও উল্লেখ করেন সালিম। তাঁর এ প্রতিবেদনটি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়। ১৪ এপ্রিল সাদাপোশাকে জর্ডান পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নেওয়া হয়। এখন তিনি আছেন জর্ডানের আল সল্ট কারাগারে।জর্ডান কারাগারে আছেন বাংলাদেশি সাংবাদিক সালিম আকাশ। ছবি: আরএসএফের ওয়েবসাইটজর্ডান কারাগারে আছেন বাংলাদেশি সাংবাদিক সালিম আকাশ। ছবি: আরএসএফের ওয়েবসাইট জর্ডান থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিলে সেলিম আকাশকে আটকের পরপরই জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে দূতাবাস। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। সালিম আকাশ যেন বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সে জন্য দূতাবাস তাঁর জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া তিনি ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান, পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কমোরোজ, বাহরাইন, টোগো, আইভরি কোস্ট, এসোয়াতিনি (সোয়াজিল্যান্ড), ব্রাজিল, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, ইকুয়েডর, আলজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও বেলারুশের সাংবাদিক ও সতর্ককারী, রাশিয়ার ২৫ গণমাধ্যমের মঞ্চ সিন্ডিকেট-১০০, হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, রেডিও করোনা ইন্টারন্যাশনাল, ইকুয়েডরের প্রেস ফ্রিডম গ্রুপ ফান্ডামেন্ডিয়সকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আরএসএফ। আহমেদ কবীর কিশোরের এই ছবি ওয়েবসাইটে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ করেছে আরএসএফআহমেদ কবীর কিশোরের এই ছবি ওয়েবসাইটে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ করেছে আরএসএফ কিশোর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর আর্থিক খাতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির আক্রোশের শিকার বলে জানিয়েছেন তাঁর এক স্বজন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিশোরকে মন্ত্রী বা এমপিদের নিয়ে কার্টুন করার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কার্টুন কেন এঁকেছে, সে প্রশ্ন করা হয়েছে হাজারবার। কিশোর ছাড়াও ওই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। মিনহাজের সঙ্গে আর্থিক খাতের ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। কিশোরকে বারবার প্রশ্ন করা হয় ওই ব্যক্তির কার্টুন আঁকতে মিনহাজ তাঁকে কত টাকা দিয়েছেন।’ ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের বেশ কিছু কার্টুন প্রকাশিত হয়। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভার্চ্যুয়াল আদালত কিশোরের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের।

করোনা পরীক্ষার লম্বা সারি, উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পথে সরকার

করোনা পরীক্ষার লম্বা সারি, উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পথে সরকার

তানভীর সোহেল, ঢাকা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনা পরীক্ষার জন্য অনলাইনে সিরিয়াল নিতে হয়। প্রতিদিনের পরীক্ষার জন্য যে কোটা বরাদ্দ থাকে, তা অনলাইনে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পূরণ হয়ে যায়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলছিলেন, করোনার উপসর্গ থাকা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এত মানুষকে পরীক্ষা করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। একই অবস্থা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের। সেখানে প্রতিদিন লম্বা লাইন পড়ছে। কয়েক দিন ঘুরতেও হচ্ছে নমুনা দিতে। সিরিয়াল থেকে নমুনা দেওয়ার জন্য তিন দিন একই স্থানে অবস্থান করার চিত্র দেখা গেছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তাঁরা করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ যত বেশি শনাক্ত হবে, তত বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন, এখন তাঁরা উপসর্গ দেখেই চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের বলেছেন। আর করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল বাড়ানোরও কাজ করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘এখন দিনে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এটা যথেষ্ট নয়, তা আমরা বুঝি। উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করার লাইন দিন দিন বড় হচ্ছে। এটা আরও বাড়তে থাকবে। কিন্তু এটা যতটা বাড়ানো দরকার, সেই পরিমাণ বা তার কাছাকাছি যাওয়ার মতো সামর্থ্য এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’ প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ৫০ হাজার বা তার বেশি নমুনা পরীক্ষা করা গেলে ভালো হতো। কিন্তু আমাদের যে সামর্থ্য, তাতে ২০ হাজার নেওয়াটাই তো কঠিন। তবে চেষ্টা চলছে নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়িয়ে, লোকবল যুক্ত করে শিগগিরই তা দিনে ২৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা নিজেই বললেন, করোনার উপসর্গ আছে, এমন ব্যক্তিরা পরীক্ষার জন্য যেভাবে তদবির করেন, দালাল ধরেন; তাতে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, যাঁদের পরিচিত লোক নেই বা অর্থ খরচের উপায় নেই, তাঁদের কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই কর্মকর্তা জানালেন, এখন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী শনাক্তের পাশাপাশি উপসর্গ দেখে ব্যক্তিকে শুরু থেকে করোনার চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকদের বলা হয়েছে। কেননা উপসর্গ থাকা ব্যক্তি চাইলেই পরীক্ষা করাতে পারছেন না, ফল পেতেও দেরি হচ্ছে। এতে কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এ কারণে তাঁরা মৌখিকভাবে চিকিৎসকদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠা ৪০ হাজার ১৬৪ জনের প্রত্যেককে কমপক্ষে তিনবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করতে হয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসের উপসর্গ (মূলত জ্বর, গলাব্যথা) নিয়ে আসা একক ব্যক্তির (ইউনিক পারসন) নমুনা পরীক্ষা ধরলে, এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখের কিছু বেশি বলে মনে করছেন অধিদপ্তর ও বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন। বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ বা রোধে পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যত বেশি পরীক্ষা করে শনাক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশন করা যাবে, তত দ্রুত এই ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জ্যেষ্ঠ এই চিকিৎসক বলেন, বাংলাদেশে পরীক্ষা কম হচ্ছে। আরও বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা দরকার। বাংলাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের পরীক্ষা হচ্ছে না। সারা দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার পর যাঁরা সুস্থ হচ্ছেন, তাঁদের কিন্তু পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে রোগীর সংখ্যা যে শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি, এটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে আইসিডিডিআর,বির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, শুধু ঢাকাতেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ। তবে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, পরীক্ষা বাড়লে শনাক্ত বাড়বে, এটা তো ঠিক। তবে সেটা কত, তা বলা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ব রাজাবাজার লকডাউনের আগে সেখানে ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। লকডাউনের পর পরীক্ষার সুযোগ বাড়লে এই কয়েক দিনে আরও ২৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মানে সেখানে আরও আক্রান্ত আছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তিনটি হটলাইন নম্বরে উপসর্গের কথা বলে, রোগটি সম্পর্কে জানতে, পরীক্ষা করাতে চেয়ে ১ কোটি ১২ লাখ কল এসেছে। তবে আলাদাভাবে উপসর্গ আছে বা পরীক্ষা করানোর জন্য কত ফোন এসেছে, তা তাঁদের জানা নেই। কিন্তু এতসংখ্যক ফোন কল আসায় এটা বোঝা যায়, পরীক্ষা এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার চেয়ে চারগুণ বেশি হলে আরও বেশি মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যেত।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.