বিল ও মেলিন্ডা গেটস ইনস্টিটিউটের টপ ১২০ আন্ডার ৪০ এ্যাওয়ার্ডে বাংলাদেশের...

[caption id="attachment_20869" align="alignnone" width="975"] বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের এক প্রোগ্রামে টপ ১২০ এর মাঝে বাংলাদেশের তরুণী ইশরাত নাহের ইরিনা।[/caption] [contact-form][contact-field label="Name" type="name" required="true" /][contact-field label="Email" type="email" required="true" /][contact-field label="Website" type="url" /][contact-field label="Message" type="textarea" /][/contact-form] বাংলাদেশের তরুণী ইশরাত নাহের ইরিনা দেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মানজনক এক অর্জন! বিল ও মেলিন্ডা গেটস ইনস্টিটিউট সম্প্রতি “120 Under 40: The New Generation of Family Planning Leaders” পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণী। বাংলাদেশের তরুণী ইশরাত নাহের ইরিনা দেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মানজনক এক অর্জন! বিল ও মেলিন্ডা গেটস ইনস্টিটিউট সম্প্রতি “120 Under 40: The New Generation of Family Planning Leaders” পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণী।
Describe your contributions to and achievements in family planning.
The aim of ‘Prescription’ is to work on Sex Education to deal with social taboos with a view to make 20,000 young minds educated, self-aware and promote sensible behaviors in reproductive health development issues. As part of it, It has started a pilot project on reproductive health and family planning in rural areas to develop 300 community. and to give knowledge on contraception method such as pill, Minipill , Injections, Male condom,Implants, IUD, Female sterilization ,Vasectomy, Breastfeeding method, Standard Days Method, Withdrawal, Emergency contraceptive pills etc with related consequences associated with it. It mainly focuses on benefit areas of family planning with 5 projects to enhance the efficiency of contraception and to help people lead healthy and productive lives.
What sparked your passion for family planning?
The fact that Mothers and babies become healthier when risky pregnancies are avoided, smaller families secure more money and food for each child, parents have more time to work and to be with family and delaying first or second pregnancy lets young people stay in school sparked my passion for working on family planning because It may ensure to promote Integrate family planning, maternal and child health care to save lives, money and time that directly contributes to the National economy.
Give one or two examples of how you display leadership in your family planning work.:
While taking session, I give effective teaching to increase the knowledge, skills, and attitudes of the group and its participants focusing on learning, not teaching. I ensure that for teaching to be effective, their learning must take place and that’s why I let them conduct the campaign in their own community trying to make a bridge between scientific knowledge and village people for ensuring reproductive and mental health saving strategies.
If you are named a winner of 120 under 40, how will you use this new platform and the $1000 grant to advance your work? :
For the advancement of work, the steps I have designed given below: 0. 10 Signature campaign on 8 villages 1. 8 Online campaign at social media 2. 15 Community-based offline campaign 3. Introduction of Left-side Classroom in schools and colleges 4. 5 Community Solution Programs/street’s campaign( Arranging question-answering session, Identifying and Addressing specific problems & Carrying out pilot projects ) 5. 1 Publication 6. 2000 leaflets distribution https://youtu.be/StuxPAFdE5s
Ishrat Naher Erina -2017 Winner
Position: Founder
Organization: Prescription
Current Location: Dhaka, Bangladesh
Bachelor of Pharmacy( Class of 2016)
Additional Degrees and Certifications:
1. High Distinction, Bachelor of Pharmacy -class 2016 2.Contributor writer at Bangladesh Today 3.Content writer at Dhaka Insider 4. Contributor writer at financial Express 5. Content writer at LilyGal 6.Peer mentor at First Year Advising Team (FYAT) of BRAC University 7. Works at South Asian Youth Society 8.Fellow at Toru-The Idea Tree 9.Trainee and fellow at Social Innovation design week- 2017 (working on reproductive health of Ready-Made-Garments workers ) 10. An executive at BRAC University Pharma Society. 11.Nominated trainee at Democracywatch 12.Active citizen at Active Citizens youth leadership training 13. Executive, BRAC University Film Club. 14.Intern at Beximco Pharmaceuticals limited 15. Residential trainee at TARC, BRAC CDM 16. Coordinator at co-curricular Bangladesh 17.Participants at SAYS 100 Hours Fellowship Challenge (September 2015-June,2016) 18. International speaker at World Youth Conference 2016, New Delhi (India) 19. Freelance Researcher at IREX
Awards Received:
  • Award:
    High Distinction
    Awarding Organization:
    BRAC University
    Date Awarded:
    December 5, 2016
  • Award:
    Research Fellow
    Awarding Organization:
    IREX
    Date Awarded:
    May 9, 2017
  • Award:
    Active Citizen
    Awarding Organization:
    British Council
    Date Awarded:
    December 10, 2016

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’

কল সেন্টারে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১১:৩৩

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কল সেন্টারের উদ্বোধন করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছেন, এখন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশে ফোন করে তাঁদের সুখ-দুঃখসহ যেকোনো সমস্যার কথা বলতে পারবেন। তাঁদের কথা শুনে সরকার সমাধানের পথ খুঁজতে পারবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই কল সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার বলেন, সরকারের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কল সেন্টার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে সুখবর আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

কবে নাগাদ এই সুখবর আসবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সুখবর আশা করছেন তিনি।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’

. প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেকোনো সমস্যায় এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে সরাসরি ফোন করতে পারবেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকার ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’ চালু করতে যাচ্ছে। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরও ঠিক করা হয়েছে। সেটি হলো ০৯৬৫৪৩৩৩৩৩৩।


প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও জর্ডানে বসবাসরত কমপক্ষে ২৫ লাখ প্রবাসী এই সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে সব দেশের জন্য এটি চালু হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতায় ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড এই কল সেন্টার করছে।
কল সেন্টারের মাধ্যমে প্রবাসে থাকা কর্মীরা সরাসরি তাঁদের যেকোনো অভিযোগ, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা, মৃতদেহ পরিবহন ও দাফনসংক্রান্ত বিষয়, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি, আইনগত তথ্য ও সেবা, অসুস্থ কর্মীদের আর্থিক সহায়তা, প্রবাসে আটক কর্মীদের মুক্ত করাসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। তবে আপাতত শুধু সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কল সেন্টারে ফোন করা যাবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আপাতত তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এটি করব। তিন মাসের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তবে ভবিষ্যতে সব দেশের জন্যই এটি করার পরিকল্পনা আছে।’

কল সেন্টারের নম্বর ছাড়াও ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, হোয়াটস-অ্যাপে। +8801678668813 ০১৬৭৮৬৬৮৮১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন প্রবাসীরা। ফেসবুকে যোগাযোগ করা যাবে www.facebook.con/probashbondhucallcenter এই ঠিকানায়। ই-মেইল করা যাবে probashbondhu.wewb@gmail.com এই ঠিকানায়।

সূত্র : প্রথম আলো

চীনের হুমকি ঠেকাতে প্রস্তুত ৫০০০০ ভারতীয় সেনা

চীন-ভারত সীমান্তে সৈন্য বৃদ্ধিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রায় ৬৫,০০০ কোটি রুপি ব্যয়ে অতিরিক্ত ৫০০০০ সৈন্য প্রেরণ করবে ভারত সেনাবাহিনী। প্রাথমিক ভাবে দলটি ঝাড়খণ্ডের রাঞ্চিতে অবস্থিত ঘাঁটিতে অবস্থান নেবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে তাদেরকে পশ্চিমবাংলার পানগড়ে সরিয়ে নেয়া হবে। আক্রমণের সামরিক সরঞ্জাম সহ বর্ডারলাইনে প্রেরিত এটাই প্রথম সেনাদল। সীমান্তে প্রেরণের উদ্দেশ্যে নতুন সেনাদলের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ সংবলিত সরকারি অনুমোদনপত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীকে দেয়া হয়েছে।

এক সন্তান নীতি শিথিল করছে চীন

ঢাকা: চীনে দীর্ঘদিনের পুরনো এ‘ক সন্তান নীতি’ শিথিল করা হচ্ছে। সেখানকার দম্পতিরা শর্ত সাপেক্ষে দুটি সন্তান নিতে পারবেন বলে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভবিষ্যতে চীনা দম্পতিরা শর্ত সাপেক্ষে দুটি সন্তান নিতে পারবেন।শর্তটি হচ্ছে  দুটি সন্তান নিতে  ইচ্ছুক দম্পতির যে কোনো একজনকে হতে হবে তাদের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
সম্প্রতি শেষ হওয়া চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন থেকে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে ‘এক সন্তান নীতি’ পরিবর্তন হচ্ছে অন্যতম।
সত্তর দশকের শেষ নাগাদ দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে চীনে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু হয়।তবে সরকারের এ নীতিটি চীনা জনগণের পছন্দ ছিল না। এছাড়া নেতাদের আশঙ্কা এ নীতির কারণে দেশে কর্মশক্তি হ্রাস পাবে এবং বয়ষ্কদের দেখভালে সরকারের খরচ বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের মোট লোকসংখ্যার এক চতুর্থাংশের বয়স ৬৫ পেরিয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

ভারতের মঙ্গল গ্রহ অভিযান শুরু আজ

মঙ্গল গ্রহে রোবট নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক একটি নভোযান পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। আজই স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে শ্রীহরিকোটা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করবে দ্য মার্স অরবিটার মিশন (এমওএম) নামের মহাকাশযানটি। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি রকেটের মাধ্যমে নভোযানটি উৎক্ষেপন করা হবে। উৎক্ষেপন সফলভাবে সম্পন্ন হলে, নভোযানটি ৩০০ দিনের মহাকাশের পথ পরিক্রমায় আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গিয়ে মঙ্গলে অবতরণ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির জন্য এটাই হবে প্রথম মঙ্গল অভিযান। রক্তিম এ গ্রহে অভিযানের মাধ্যমে ভারত মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। গত রোববার থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণে ৫৬ ঘণ্টার কাউন্টডাউন শুরু করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ভারতের কোটি কোটি মানুষ মঙ্গল অভিযানের উত্তেজনা অনুভব করছেন। তারা মুখিয়ে রয়েছেন মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য।

নতুন পাকিস্তানি তালেবান প্রধান খান সাঈদ

খান সাঈদকে পাকিস্তানি তালেবানের নতুন প্রধান নিয়োগ করা হয়েছে। তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর তাকে গতকাল নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে মেহসুদ হত্যার বদলা দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানি তালেবান। হাকিমুল্লাহ মেহসুদকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেহসুদের দুই দেহরক্ষীও রয়েছেন। উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মেহসুদকে বহনকারী গাড়ি ওই হামলা চালানো হয়। ওই অঞ্চলের মূল শহরতলি মিরানশাহ থেকে ৩ মাইল দূরে অবস্থিত দান্দে দার্পাখেল এলাকায় শুক্রবার মেহসুদকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে এ ড্রোন অভিযানটি পরিচালিত হয়। গতকালই মিরানশাহতে মেহসুদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মেহসুদের নিহত হওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকবার দাবি করা হলেও, পরে সেগুলো অসত্য প্রমাণিত হয়েছিল। মার্কিন এক সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেহসুদের নিহত হওয়ার খবরটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। মেহসুদের মৃত্যুর কারণে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিপিপি) এর শুরা কাউন্সিলে গতকাল খান সাঈদকে সংগঠনের প্রধান নিয়োগ করা হয়। তিনি সাজনা নামেও পরিচিত। এর আগে তিনি দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে টিটিপি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তার সম্পর্কে বেশি তথ্য না জানা গেলেও তিনি মেহসুদের অত্যন্ত বিশ্বাসী সহযোগী ছিলেন। মেহসুদের মৃত্যুর পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরস্তানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এদিকে মেহসুদ হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি পাকিস্তানের তালেবান এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরস্তানের তালেবান কমান্ডার আবু ওমর বলেছেন, আমাদের এ প্রতিশোধ হামলা হবে একেবারেই অভাবনীয়। তিনি বলেছেন, এ হামলার জন্য পাকিস্তান সরকারও সমভাবে দায়ী। ওমর বলেন, আমরা আমাদের শত্রুকে খুব ভালভাবেই চিনি। সব মিলিয়ে পাকিস্তান পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওদিকে পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছে, ড্রোন হামলায় তালেবান প্রধান নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে তালেবানদের সঙ্গে যে শান্তি চুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছিল তা বিঘ্নিত হবে।

সোনার খাজানার খোঁজে

শোভন সরকারকে আমি কস্মিনকালেও চিনতাম না। আমার মতোই কোটি কোটি ভারতীয়ও তাঁকে চিনতেন না। এখনো যে চিনি তা নয়। তবে জেনে গেছি। যেমন জেনে গেছে কোটি কোটি ভারতীয়। না দেখে, না চিনে স্রেফ খানিকটা জেনে শোভন সরকারকে বহু দূর থেকে আমি একটা সেলাম ঠুকেছি। আমার ধারণা, আমারই মতো হয়তো আরও লাখো-কোটি ভারতবাসী শোভন সরকারকে সেলাম জানিয়েছেন। শোভন সরকার বাঙালি কি না ঠিক বলতে পারব না। কারণ, তাঁকে তো আমি চিনিই না। তা ছাড়া তিনি এখন প্রায় পলাতকই বলা যায়। সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিন দিন আগে পর্যন্তও তিনি ছিলেন আমার-আপনার মতোই একজন সাধারণ পাবলিক, আমাদের দেশের চলতি ভাষায় যাদের ‘আম আদমি’ বা ‘আমজনতা’ বলা হয়। নাম ‘শোভন’ ও পদবি ‘সরকার’ দুটোই হিন্দু বাঙালির কাছে খুবই ‘কমন’। তাই বঙ্গসমাজে বেজায় বিতর্ক উঠেছে তাঁর বাঙালিত্ব ঘিরে। অবশ্য শোভন সরকারের রাজ্য উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলা এবং তাঁর ডেরা ওই জেলার দণ্ডিয়া খেরা গ্রাম ঘুরে এসে কেউ কেউ বলছেন, উনি নাকি বাঙালি নন, উনি আদতে জাট। সে যা-ই হোক, জাতপাত নিয়ে আমার আদৌ কোনো মাথাব্যথা নেই। শোভন সরকার একজন সাধু। যাবতীয় জাগতিক সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে তাঁর উত্তরণ ঘটেছে আজ বহুদিন। দণ্ডিয়া খেরা গ্রামে উনিশ শতকের যে দুর্গের সন্নিহিত শিবমন্দির চত্বরে তাঁর আশ্রম ও বসবাস, সেখানকার মাটির তলায় এক হাজার টন সোনা মজুত আছে বলে সম্প্রতি তিনি স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছেন এবং তা রাষ্ট্রও হয়ে গেছে। এমনই তা জানাজানি হয়েছে যে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ও জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) টনক নড়ে গেছে। নড়েচড়ে বসেছে মহামান্য ভারত সরকারও। তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার নিট রেজাল্ট, দুর্গ চত্বরে এএসআই ঢাকঢোল পিটিয়ে খননকাজ শুরু করে দিয়েছে। আগ্রহ ও উত্তেজনা এতটাই যে শচীন টেন্ডুলকারের বিদায়বেলার দ্বিশততম টেস্ট ম্যাচের আকর্ষণও আপাতত ফিকে। শোভন সরকারকে সেলাম জানানোর কারণটা সম্ভবত বুদ্ধিমান পাঠক-পাঠিকা এবার কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন। শোভন সরকার শুধু নিজেই স্বপ্ন দেখেননি, তিনি এ দেশের ১২০ কোটি জনতাকেও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। স্বপ্ন এ-ক হা-জা-র টন সোনার! এ সেই স্বপ্ন, যা ‘ইলেকশন মোড’-এ চলে যাওয়া ভারতের যাবতীয় রাজনৈতিক কচকচানিকে অবলীলায় দূরে ঠেলে দিয়েছে। এই স্বপ্ন কংগ্রেস না বিজেপি, ইউপিএ না এনডিএ, নরেন্দ্র মোদি বনাম রাহুল গান্ধী, এসব বিতর্ককে ‘ঝিন্দের বন্দী’র রহমত আলীর হুংকারের মতো ‘তফাত যাও’ বলতে পেরেছে। এ সেই স্বপ্ন, যা আপাতত ভুলিয়ে দিয়েছে কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআইয়ের দাখিল করা এফআইআরে শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লার নাম থাকা ও প্রধানমন্ত্রীর নাম না-থাকা নিয়ে গড়ে ওঠা বিতর্ক, চাপা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানের ক্রমাগত গুলি চালানোর ফলে বেড়ে ওঠা ক্ষোভ ও ক্রোধ, ভুলিয়ে রেখেছে শীতকালীন সবজি ওঠা সত্ত্বেও অগ্নিমূল্য বাজারের ছেঁকা এবং আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের সম্ভাব্য ফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ। বহুচেনা জগতের বহুচর্চিত একঘেয়ে আলোচনার অভ্যাস ছেড়ে সবাই হঠাৎ কী অদ্ভুতভাবে তাল তাল সোনার আগাম আবির্ভাবের সুখস্বপ্নে বিভোর থাকতে ভালোবাসছে। ছোট-বড় মানুষের ছোট-বড় শখ-আহ্লাদ, ছোট-বড় সুখ-দুঃখ, আশা, ব্যথা, বেদনা, আনন্দ, হিংসা, শত্রুতা, ভেদাভেদ, হানাহানি সবকিছু ভুলে ভাবতে ভালোবাসছে, মাটির তলা থেকে উদ্ধার হওয়া টন টন সোনা কীভাবে এক লহমায় বদলে দেবে তাদের দৈনন্দিন জীবন। অযোধ্যায় চোখধাঁধানো প্রতিশ্রুত রাম মন্দির যা করতে পারেনি, শোভন সরকারের স্বপ্ন সার্থক হলে নিমেষের মধ্যে ভারতে সেই রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে! শোভন সরকার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে ভারতবাসীর মন আচমকাই ফুরফুরে করে দিয়েছেন। এ কি চাট্টিখানি কথা? সেলাম তাঁকে করতেই হবে! নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরোয়, এক হাজার টন সোনার মাহাত্ম্য তাদের বোঝার কথা নয়। তবু বিশালত্বটা যে কী, নানাজনে নানাভাবে তা বোঝাতে শুরু করেছে। সোনার যে মজুত ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকে রয়েছে, তার পরিমাণ কমবেশি ৫৫৮ টন। অর্থাৎ শোভন সরকারের স্বপ্ন সার্থক হলে ভারতের মজুত সোনা এক লাফে তিন গুণ বেড়ে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আম আদমি যাদের আমেরিকা বলে বোঝে, তাদের সবকিছুই খুব বেশি বেশি। সুতরাং, সোনার মজুতও যে তাদের আর সব দেশের চেয়ে বেশি হবে তা বলাই বাহুল্য। ভারতের তুলনায় তো বটেই, অন্যদের তুলনাতেও তারা অনেক কদম এগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মজুত সোনা আট হাজার টনেরও বেশি। ওদের বাদ দিলে পৃথিবীতে আর মাত্র সাতটি দেশ রয়েছে যাদের মজুত সোনার পরিমাণ এক হাজার টন বা তার বেশি। অর্থাৎ সোনা মজুতের ক্ষেত্রে ভারতের স্থান নবম। টপ টেনের মধ্যে এই থাকাটা মোটেই ফেলনা নয়। এবার এই এক হাজার টন এসে গেলে কে জানে আমরা চার-পাঁচ নম্বরেও চলে আসতে পারি। ঠিক এই সময়ে ১০ গ্রাম সোনার বাজারমূল্য ৩০ হাজার রুপি। এক হাজার টন সোনার দাম তাই অন্তত তিন লাখ কোটি রুপি! পরিমাণটা ঠিক কত? এই টাকা হাতে এলে দেশের ১২০ কোটি মানুষের প্রত্যেকের পকেটে আড়াই হাজার রুপি অনায়াসে গুঁজে দেওয়া যাবে। শুধু কি তাই? ভারতে দিনে ২ দশমিক ৩ টন সোনা আমদানি করা হয়। এই সোনা পাতালপুরি থেকে সরকারের পকেটে এলে ৪৩৪ দিন এক ভরি সোনাও ভারতকে আমদানি করতে হবে না। আর তেমনটা সত্যি হলে ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম দিব্যি কুম্ভকর্ণ হয়ে যেতে পারেন। টানা ছয় মাস ঘুমোনোর জন্য তাঁকে নাকে তেলও দিতে হবে না। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট ঠিকঠাক করতে তাঁকে যেভাবে লেজে-গোবরে হতে হচ্ছে, শোভন সরকারের স্বপ্ন সত্যি হলে তা এক তুড়িতে উবে যাবে। কিংবা সোনিয়া গান্ধী। খাদ্য সুরক্ষা আইন তো তাঁরই ‘ব্রেন চাইল্ড’। এই রাজসূয় যজ্ঞ সমাধা করতে তাঁর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে বছরে বাড়তি ৯০ হাজার কোটি রুপি জোগাড় করতে হবে। শোভন সরকার একাই টানা সাড়ে তিন বছরের জন্য দেশের গরিবদের মধুসূদন দাদা হয়ে যাবেন, সোনিয়ার কাছে মুশকিল আসান। দণ্ডিয়া খেরা গ্রামটি গঙ্গার তীরে। সেখানকার রাজা ছিলেন রাও বক্স সিং। উনবিংশ শতকে সেখানে দুর্গ স্থাপিত হয়েছিল। সেই দুর্গেই শিবমন্দির। শোভন সরকার তাঁরই পূজারি। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় রাজা রাও বক্স সিং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদ হন। তাঁদের পারিবারিক সম্পদকে ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষা করতে ওই দুর্গের জমিতেই তা পুঁতে দেওয়া হয়। সেই রাজাই নাকি শোভন সরকারের স্বপ্নে এসে তাঁকে এক হাজার টন সোনা থাকার কথা জানিয়ে দেন। লোকে বলছে, শোভন সরকার খবরটি দেন কেন্দ্রের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিমন্ত্রী চরণদাস মোহান্তকে। মোহান্ত আবার শোভন সরকারের ভক্ত কাম শিষ্য। অতঃপর দেশের পর্যটনের মানচিত্রে দণ্ডিয়া খেরা রীতিমতো একটা নাম। শুক্রবার থেকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের খননকাজ শুরু হয়েছে। তার আগে জিওলজিক্যাল সার্ভে একটা অনুসন্ধান চালিয়েছিল। তাদের মনে হয়েছে ওখানে মাটির তলায় কিছু একটা ধাতু নাকি রয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষজন যখন এই স্বপ্নাদেশ, এই খোঁড়াখুঁড়ি, এই আজগুবি সোনার খাজানা এবং তাতে এএসআইয়ের সাড়া দেওয়া নিয়ে হাসি-ঠাট্টা-তামাশা করছে, কেউ কেউ সরকারের কাণ্ডজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে, দণ্ডিয়া খেরার মানুষজন তখন সেসব থোড়াই কেয়ার করছে। ফি-দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত দুর্গ ও মন্দির ঘিরে মেলা মানুষের জটলা। যত মানুষ তত মজা। দেদার বিকোচ্ছে চা-পকোড়া। ডাল-ভাতের হোটেলও খোলা হচ্ছে। মানুষের আগ্রহ যত বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পুলিশের কাজ। দেশ-বিদেশের টিভি চ্যানেলের ওবি ভ্যান দিন-রাত দাঁড়িয়ে থাকছে। কেউ ময়দান ছাড়তে রাজি নয়। কে জানে, স্বপ্ন তো সত্যিও হয়! তা ছাড়া, কে না জানে, ‘ইন্ডিয়া ইজ অ্যা ল্যান্ড অব মিরাক্যাল!’ তিন বছর আগে ২০১০ সালে ‘পিপলি লাইভ’ নামে একটা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল। ঋণগ্রস্ত কৃষকদের আত্মহত্যার প্রবণতার ওপর সেটা ছিল একটা চমৎকার ব্যঙ্গাত্মক ছবি। গল্পের প্রধান চরিত্র আত্মহত্যা করলে ঋণমুক্ত হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা রটে গেলে আত্মহত্যার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সোনার খাজানার সন্ধানও সে রকম হতে চলেছে। তা ছাড়া হবে নাই-বা কেন? উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব নিজে তাঁর বিশ্বস্ত দূত পাঠিয়েছেন শোভন সরকারের কাছে। শুরু হয়ে গেছে জল্পনা, এক হাজার টন সোনা কার পাওনা হবে? রাজ্যের নাকি কেন্দ্রের? নাকি ভাগাভাগি হবে? রাজনীতি যে একেবারেই নেই, তা অবশ্য নয়। শোভন সরকারের মতো স্বপ্ন নরেন্দ্র মোদিও দেখছেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন। তিনি কংগ্রেসকে বলেছেন, সুইস ব্যাংকে রাখা টাকা ফেরত আনলে সোনার খাজানার দরকারই পড়বে না। এ নিয়েও রগড় কম হচ্ছে না। খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হতে অন্তত দিন ১৫। এই রকমই বলা হচ্ছে। শোভন সরকারের হাল তারপর কী হবে সে নিয়ে এখন গবেষণা করা অর্থহীন। আপাতত তাঁকে সেলাম এ রকম একটা স্বপ্ন দেখা ও দেখানোর জন্য, দৈনন্দিন জীবনকে একটু অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার জন্য। হোক না স্বপ্ন। স্বপ্নই তো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.