Home প্রবাস মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য

পরকীয়ার জেরে প্রেমিকের কাছে নৃশংসভাবে খুন হলো কলেজছাত্রী প্রবাসীর স্ত্রী

পরকীয়ার জেরে প্রেমিকের কাছে নৃশংসভাবে খুন হলো কলেজছাত্রী প্রবাসীর স্ত্রী image শরীয়তপুর পৌর এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে এলাকার ধানুকার বিল থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় নিহতের শরীরের সঙ্গে ইটের বস্তা বাঁধা ছিল। নিহত সামছুন্নাহার (২২) সদর উপজেলার মধ্য চরসুন্দি গ্রামের হাফিজ উদ্দিন পাটোয়ারীর মেয়ে ও পৌর এলাকার দক্ষিণ বালুচরা গ্রামের প্রবাসী ইসহাক মোল্লার স্ত্রী। সামছুন্নাহার সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) কোর্সের প্রথম বর্ষে পড়তেন। গত রোববার তিনি নিখোঁজ হন। পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করলে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়। সামছুন্নাহারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সামছুন্নাহার ও ইসহাক মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ইসহাক মোল্লা সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। এর পর থেকে সামছুন্নাহারের সঙ্গে মধ্য চরসুন্দি গ্রামের বিবাহিত রেজাউল করিমের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসার পথে সামছুন্নাহার নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর ভাসুর কাশেম মোল্লা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ জানায়, জিডির পর সামছুন্নাহারের মুঠোফোনের কথোপকথনের তালিকা জোগাড় করে পুলিশ। দেখতে পায়, নিখোঁজের পর থেকে তিনি রেজাউল করিম নামের এক যুবকের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই সূত্র ধরে পুলিশ রেজাউল করিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার আটক করে। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল পেদা (১৮) ও দুলাল মিয়াকে (১৮) আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের কাছে তাঁরা সামছুন্নাহারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে পৌর এলাকার ধানুকার বিল থেকে শরীরের সঙ্গে ইটের বস্তা বাঁধা অবস্থায় পানির নিচ থেকে সামছুন্নাহারের লাশ উদ্ধার করে। রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল করিমের সঙ্গে সামছুন্নাহারের পরকীয়া চলছিল। মেয়েটি রেজাউলকে বিয়ে করতে চাপ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেজাউল গত রোববার কৌশলে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে এনে অপহরণ করেন। রাতে ধানুক গ্রামের একটি বাগানে সামছুন্নাহারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার জন্য পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করা হয়। এরপর শরীরের একাধিক স্থানে ফুটো করে তার সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে ধানুকার বিলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সামছুন্নাহারের চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রেজাউল করিম এভাবে আমাদের মেয়েকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করবে কল্পনাও করতে পারিনি। আমরাহত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের আটকের পর তাদের কাছ থেকে হত্যার বর্ণনা শুনে শিউরে উঠি। এত অল্প বয়সে এভাবে প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, তা সাধারণত পেশাদার খুনিরাই করতে পারে।’

দুই বাংলাদেশির সততার স্বীকৃতি

দুই বাংলাদেশির সততার স্বীকৃতি

কামরুল হাসান জনি, দুবাই থেকে : প্রবাসের মাটিতে ছোটখাটো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য প্রায় সময় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। একই সময় নিজেকে সত্ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আত্মসম্মানের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন কেউ কেউ। যেমন করেছেন প্রবাসী দুই বাংলাদেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘটে যাওয়া কাল্পনিক গল্পের মতো দুটি ঘটনায় বাংলাদেশকে যেন অন্য চোখেই দেখেছে বিশ্ব। নিজেদের সততার জন্য সবার হূদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই দুই প্রবাসী। এদের একজন টাঙ্গাইলের নূরে আলম। অন্যজন কুমিল্লার আবদুল হালিম। এ বছরের জুন মাসে আবদুল হালিমের সততার খবর প্রচার হয়। চলতি মাসে প্রকাশ হলো নূরে আলমের সততার খবর। নূরে আলম নূরে আলম পেশায় ট্যাক্সিচালক। পাঁচ বছর ধরে দুবাইতে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন তিনি। যাত্রীদের ফেলে যাওয়া মোবাইল থেকে শুরু করে ব্যাগসহ কত কিছুই না ফেরত দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক বিকালে ঘটে যাওয়া ঘটনা অবাক করেছে সবাইকে। একজন মানুষ যে চারিত্রিক দিক দিয়ে কতটা সত্ হতে পারে তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নূরে আলম। সেদিন বিকালে সরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত এক যাত্রী আবুধাবির সোফিটেল হোটেল থেকে খলিফা স্ট্রিটের মিলেনিয়াম হোটেলে যাওয়ার জন্য নূরে আলমের ট্যাক্সিতে ওঠেন। যাতায়াত ভাড়া ৪.৫০ দিরহাম হলেও যাত্রীটি পাঁচ দিরহাম দেন চালক আলমকে। এরপর যাত্রীটি তাড়াহুড়া করে হোটেলে চলে যান। ঠিক এক ঘণ্টা পরে নূরে আলম যাত্রীসিটের নিচে একটি সাদা খাম লক্ষ্য করেন। সেই খামের ভিতর আরও দুটি খাম ছিল। একটি খাম ৫০০ দিরহামের নোট দিয়ে ভরা। অপর খামটি ১০০০ দিরহামের নোটে ভরা ছিল। দুটি খামে মোট ৮৮ হাজার ৫০০ দিরহাম, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। নূরে আলম তাত্ক্ষণিক আল শারিয়া পুলিশ স্টেশনকে বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর পুলিশ নূরে আলমের কাছ থেকে ওই অর্থ পৌঁছে দেন ওই যাত্রীর কাছে। নূরে আলম টাঙ্গাইলের ছেলে। তার সততায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ভূয়সী প্রশংসা করেছে। অবশ্য নূরে আলম এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আমার যা পাওয়া তাই পাব, কেন আমি অন্যেরটা গ্রহণ করব? আমার বাবা একজন সত্ মানুষ, আমিও তার মতোই থাকতে চাই।’ আবদুল হালিম একই ধরনের আর একটি ঘটনা ঘটেছিল চলতি বছরের ১২ জুন। দুবাইয়ের ক্যাবচালক আবদুল হালিম। সেদিন দুবাই শহরের আল-মাস টাওয়ার থেকে মিসরীয় এক ব্যবসায়ীসহ দুই যাত্রী তার ট্যাক্সিতে উঠেছিল। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে হালিম গাড়ি পরিষ্কার করতে গেলে চোখে পড়ে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ। খুলে দেখেন তাতে ৫০০ দিরহামের নোটের বান্ডিল। সঙ্গে কিছু সোনার গহনা। লোভ না করে সেসব তিনি ফেরত দিয়েছিলেন দুবাই পুলিশের কাছে। হালিমের এই সততায় মুগ্ধ হন মিসরীয় সেই ব্যবসায়ী আর দুবাই পুলিশ। হালিমকে দেয়া হয় সততার সনদ ও আর্থিক পুরস্কার। হালিমের ভাষায়, ‘সত্ হোন, তাহলে জীবনের সবকিছুই ভালো হবে। আমার দিকে দেখুন, আমি ব্যাগটি ফেরত দিয়েছি। এ জন্য আমি যা পেয়েছি তা ওই ব্যাগের সম্পদের চেয়েও মূল্যবান। সততার স্বীকৃতি।’ এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ প্রশংসা ও সম্মাননা প্রদান করেন। তাদের সম্মানিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসসহ আরব আমিরাতের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল

ঢাকা: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে চলেছে ইসরায়েল। গৃহহীন মানুষগুলোর জীবন হুমকির মুখে পড়বে বলে, জাতিসংঘ উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছিল। তা উপেক্ষা করে ইসরায়েল এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়।
রামাল্লা ও জেরিকোর নিকটবর্তী অঞ্চলে, ক্রিসমাসের বিকেলে, বুলডোজার দিয়ে সেখানকার প্রায় ৭০ জন অধিবাসীর ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েল। এদের মধ্যে ৩২ জন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকান্ডে স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে দারুণ শীতের মাঝে গৃহহীন করে দিয়েছে।
জানা গেছে, জাতিসংঘ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলসমূহে আরও অধিক সংখ্যক অবৈধ বসতি স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ঐ এলাকা ইসরায়েল কর্তৃক দখলকৃত হবার কারণে স্থানটি জেনেভা কনভেশনের আওতাভুক্ত হয়ে গেছে। যে কারণে সেখানে আইনত তারা কোন বসতি স্থাপন করতে পারবে না।
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্বাঞ্চল আল-কুদসে ১৯৬৭ সাল থেকে এ যাবত ১২০ টি অবৈধ বসতিতে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলী বসবাস করে আসছে।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলো বাংলাদেশ

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত কিং আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ প্রতিযোগিতার বি ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নাজম আবদুল কালাম আজাদ। এছাড়া এ ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন নাইজেরিয়ার এক প্রতিযোগী। মক্কায় অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় ৬১টি দেশের দেড় শ’ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এতে আরব দেশগুলো থেকেও অনেক প্রতিযোগী অংশ নেয়। কিন্তু এদেরকে হটিয়ে বি ক্যাটাগরিতে সেরা স্থান দখল করেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নাজম আবদুল কালাম আজাদ। তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২শ ৩২ টাকা। প্রতিযোগিতার এ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকারী নাইজেরিয়ার কাবিরু আবুবকর মুসা পেয়েছেন ১ লাখ সৌদি রিয়াল। বাংলাদেশের আর এক প্রতিযোগী হাবিবুল্লাহ সিরাজুল ইসলাম তৃতীয় হয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার সৌদি রিয়েল। সৌদি সরকারের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী সালেহ আল-আশেইখ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। কোরআন প্রতিযোগিতায় আরব দেশগুলোকে হটিয়ে দু’জন অনারবের সেরা স্থান দখল করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জেদ্দাভিত্তিক কোরআন মেমোরাইজেশন অর্গানাইজেশনের মহাসচিব আবদুল্লাহ বাসফার। তিনি এ সম্পর্কে বলেন, এটি অন্যান্য মুসলিম দেশে এ ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজনে উৎসাহ যোগাবে। সূত্রঃ সাপ্তাহিক আজকাল

সৌদি আরবে অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যেসব বিদেশী শ্রমিক সৌদি আরবে ধরা পড়বেন তাদেরকে স্ব স্ব দেশে ফেরত পাঠাবে সৌদি আরব। কিন্তু ভবিষ্যতে তারা আর সৌদি আরবে যেতে পারবেন না। কারণ, সৌদি আরব ছাড়ার আগে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ রাখা হবে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। এতে বলা হয়েছে, কাগজপত্র নেই এমন কেউ ধরা পড়লে তাদেরকে তার দেশের দূতাবাসে নেয়া হবে। তারা যদি তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলে তাকে দেশে পাঠানো হবে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন, সৌদি আরবে শ্রমবিষয়ক উপমন্ত্রী মুফ্রেজ বিন সাদ আল হাকবানি। বেশ কিছু দূতাবাসের অনুরোধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওইসব দূতাবাস বলেছে, অনেক নাগরিক এখনও সৌদি আরবে আছে যাদের কাছে মূল কাগজপত্র নেই। তা প্রমাণ করার মতো কাগজও তাদের কাছে নেই। এরই প্রেক্ষিতে শ্রম মন্ত্রণালয় এতটুকু ছাড় দিয়েছে। আল হাকবানি বলেন, বিদেশীরা সৌদি আরবের আইন মেনে বৈধভাবে এখানে থাকুন আমরা তা-ই চাই। এ জন্য ইন্সপেক্টররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাবেন। তারা শ্রমিকের কাগজপত্র চেক করে দেখবেন। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা যাবেন তার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনাবিষয়ক অফিস, খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, ক্যাটারিং কোম্পানি, ক্যাফে ও বিদেশীরা যে এলাকায় বেশি থাকেন সে সব এলাকা। যারা পবিত্র হজ, ওমরাহ করতে গিয়েছেন অথবা যারা চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে গিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সেখানে অবস্থান করছেন তারা তদন্তের মুখোমুখি হবেন। অবৈধ শ্রমিক বা আইন অমান্যকারীদের গ্রেপ্তারের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈধ শ্রমিক রাখতে বলা হয়েছে। তবে এ সুযোগে অনেক অসাধু চক্র ভুয়া ইন্সপেক্টর সেজে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে জেদ্দার পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বিদেশীদের হুঁশিয়ার করেছে। জেদ্দা পুলিশের মুখপাত্র নাওয়াফআল বুক বলেছেন, সরকার যেসব ইন্সপেক্টরকে নিয়োগ দিয়েছে তাদের পরনে থাকবে নির্ধারিত সরকারি পোশাক, থাকবে পদ উল্লেখ করা পরিচয়পত্র। তাদেরকে কোন বাসাবাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়নি।

পিপাসায় ৩৫ জনের মৃত্যু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঢাকা, ২৯ অক্টোবর : পানির পিপাসায় ৩৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপে যাওয়ার সময় নাইজারের সাহারা মরুভুমিতে প্রচণ্ড পানির পিপাসা লাগলে তাদের মৃত্যু হয়। নাইজারের উত্তরাঞ্চলের প্রধান শহর আগাদেজের মেয়র রিসা ফেলতৌ জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তারা আলজেরিয়া যাওয়ার পথে ৬০ জনের একটি অভিবাসী দলের ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের প্রধান রুটগুলোর একটি হচ্ছে আগাদেজ। চলতি মাসে ভূমধ্যসাগর অতিক্রমের সময় নৌকা ডুবে শত শত অভিবাসী হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফেলতৌ বলেছেন, এ মাসের প্রথম দিকে আগাদেজের উত্তরের শহর আরলিত থেকে দুটি গাড়ি যাত্রা শুরু করে। গাড়ি দুটিতে ‘কমপক্ষে ৬০ জন অভিবাসী’ ছিলেন। তিনি জানান, যারা সাহারার কেন্দ্রে আলজেরিয়ার তামানরাসেট শহরের দিকে যাচ্ছিল। একটি গাড়ি ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া গাড়িটির যাত্রীদের রেখে অন্য গাড়িটির যাত্রীরা মরুদ্যান খুঁজতে থাকেন। তিনি জানান, যারা জীবিত আছেন তারা কয়েকদিন পর আরলিতের একটি ইউরেনিয়াম খনি কেন্দ্রে আসেন এবং ঘটনা সেনাবাহিনীকে জানান। কিন্তু সেনাবাহিনী অনেক দেড়িতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া, চাঁদ, মিশর, ইরিত্রিয়া, লিবিয়া, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, নাইজার, সুদান, তিউনিসিয়া ও ওয়েস্টার্ন সাহারায় বিস্তৃত সাহারা মরুভূমি। সাহারা বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত ও তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি। আয়তনে চীন বা যুক্তরাষ্টের চেয়েও বড়। লোহিত সাগর থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত মরুভূমিটি ভূমধ্যসাগরও ছুঁয়েছে।

সৌদির নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েও তা প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিলো। বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার ঐ সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সবার আগে প্রয়োজন জাতিসংঘের সংস্কার। সিরিয়া ও ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে সৌদি আরব জানায়, এর জন্য বিশ্বসভার সর্বোচ্চ এ পরিষদের অসম নীতি দায়ী। তবে রিয়াদের এমন সমালোচনা নতুন না হলেও নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানে জাতিসংঘের কূটনীতিকরা রীতিমতো হতবম্ভ ও বিস্মিত। সাধারণত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দশটি অস্থায়ী সদস্য পদের জন্য বড় ধরনের নির্বাচন যুদ্ধে নামতে হয় সদস্যদের। জাতিসংঘের শীর্ষ পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের পাশে থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দু'বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার এটা একটা বিরাট সুযোগ। প্রতিবছরই সাধারণ অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাঁচটি দেশকে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্বসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে সৌদি আরব, চাঁদ, চিলি, লিথুনিয়া ও নাইজেরিয়াকে নির্বাচিত করা হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যপদ পাবার একদিন পরই তা প্রত্যাখ্যান করলো সৌদি আরব। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি কূটনীতিক গেরার্ড আরাউদ তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, 'আমরা জানি, সৌদি আরব নিরাপত্তা পরিষদে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু আমরা ঐ দেশের হতাশার যন্ত্রণাটাও বুঝি। বাস্তবতা হলো, নিরাপত্তা পরিষদ এমন অকার্যকর গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে'। রাশিয়া বলেছে, সৌদি আরব তাদের হতবাক করে দিয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়া ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনায় তারা বিস্মিত। তবে সৌদি আরবের এমন হতাশা নতুন বা আকস্মিক নয়। বরং বহু বছর ধরে পুঞ্জিভূত হতাশার দ্বিতীয় বহি:প্রকাশ। এর আগে একই ধরনের হতাশা ব্যক্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে অস্বীকৃতি জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল। সৌদি আরবের এই হতাশা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দেশ ইরান ও সিরিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মোটেই পছন্দ নয় রিয়াদের রাজ প্রশাসনের। ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই হয়তো কথা ছিলো ইরানকে যেভাবেই হোক কোণঠাসা করে রাখার। ইরান ও ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে সৌদি আরবের তাই অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্র মুক্ত করার ক্ষেত্রেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সাথে বিগত ৬৫ বছর ধরে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক বার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর এ বিষয় এখনও বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি। রিয়াদের অভিযোগ, এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতিসংঘ। মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সৌদি আরব দায়ী করছে 'ইন্টারন্যাশনাল ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস' বা 'আন্তর্জাতিক বৈষম্য নীতি'কে। ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে ইসরাইল সেখানে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেও অবহেলিত থেকে গেছে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈষম্য নীতির কারণে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এ ইস্যুতে সীমাহীন দীর্ঘ শান্তি আলোচনা। জাতিসংঘের এমন ব্যর্থতায় ক্ষোভ যেন শেষ সীমায় পৌঁছেছে সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বের। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিয়াদের অভিযোগ মূলত: যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে। কারণ বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের জন্য তাদের মায়াকান্না দেখা গেলেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পক্ষে তাদের প্রতিশ্রুতির কোন বাস্তবায়ন নেই। ফিলিস্তিন সমস্যার সাথে জড়িয়ে আছে ইরান ও সিরিয়া ইস্যু। ঐ অঞ্চলে ইরানের উত্থান স্বাভাবিকভাবেই সৌদি আরবের মাথাব্যথার কারণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ইরান গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের যে বিষয়টি বুঝিয়েছে, সেটা হলো এর জন্য দায়ী সুন্নী রাষ্ট্র সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের গানে ঠোঁট মেলানো ছাড়া তার কোন উপায় নেই। তাই ইরানই ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে মূল প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। একদিকে, লেবাবনের শিয়া গেরিলা গোষ্ঠী হিজবুল্লার সাথে ইরানের সখ্যতা, অন্যদিকে সিরিয়ার শিয়া একনায়ক বাশার আল আসাদের সাথে দহরম মহরমে দারুণ অস্বস্তিতে সৌদি আরব। পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে শায়েস্তা না করে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় যাওয়ার পদ্ধতিটা সম্ভবত রিয়াদের পছন্দ হয়নি বলেও মনে করছেন অনেকে। রিয়াদ সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসলেও শেষ মুহূর্তে যেন দামেস্ক ও তেহরানকে কোণঠাসা করার সে উপায়টাও যেন হাতছাড়া হয়ে গেলো। লক্ষাধিক মানুষ হত্যা করলেও আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ। বরং রাসায়নিক অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব দিয়ে সব কিছুই যেন ভণ্ডুল হয়ে গেলো। রাতারাতি খলনায়ক থেকে নায়কে পরিণত হলেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। এ সব কারণে সৌদি সরকার মনে করছে, সবার আগে দরকার নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার। মূলত জাতিসংঘের এই সংস্কার চায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ছাড়া অনেকেই। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীনের আশঙ্কা, বহু আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার হলে বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন খেলোয়াড়ের আমদানি ঘটবে। আর এর ফলে খোদ জাতিসংঘই তার বৈধতা ও নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে। ঘটনার পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ানোই সৌদি আরবের রাজনৈতিক ঐতিহ্য। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এভাবেই নিজের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিল করে থাকে দেশটি। বিশেষ করে জি-টুয়েন্টির সদস্য হিসেবে গত কয়েক বছরে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরো জোরদার করতে সক্ষম হয় ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র রিয়াদ। এছাড়াও সৌদি আরবের একজন নাগরিক ইসলামি সম্মেলন সংস্থা-ওআইসি'র প্রধান হচ্ছেন, এ বিষয়টিও একরকম নিশ্চিত। তা সত্ত্ব্বেও সৌদি আরবের এমন ক্ষুব্ধ অবস্থান বা কৌশলে নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সংস্কার হবে, এমনটা ভাবাটা হয়তো অতিরঞ্জিতই হবে।

মরুভূমির বন্দীশালায় কাঁদছে জুলেখারা

আরব আমিরাত, ২০ অক্টোবর:  বাংলাদেশের মতো বিদেশের মাটিতেও আমাদের নারী শ্রমিকেরা পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সচল রাখছেন সংসারের চাকা, আর দেশকে করছেন সমৃদ্ধ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে। কিন্তু এসব নারী শ্রমিকের অনেক ঘটনা রয়ে যায় দৃশ্যপটের আড়ালেই, যা স্থান পায় না খবরের পাতায়। সংসদে সরকারি দল নিজেদের গুণগান ও বিরোধী দলের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত। কেউ খবর রাখে না সেসব নারী শ্রমিকের, যাঁরা বৃদ্ধা মা, অসহায় সন্তান কিংবা পরিজনদের মুখে হাসি ফোঁটাতে হয়ে যান পরদেশে পরবাসী। নেমে পড়েন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। অমানুষিক পরিশ্রমের পর মাসের শেষে বেতন না পেয়ে যাঁদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নারী শ্রমিকদের আমিরাতে আসতে খরচ নেই বললেই চলে। অপর দিকে, তাঁদের অবস্থানও ভালো। কিন্তু আমাদের কিছু অসাধু দালালের প্রতারণা ও দূতাবাসের উদাসীনতায় বাংলাদেশী নারীদের জীবনে নেমে আসে নারকীয় দুর্ভোগ। আরব আমিরাতে আছেন, এমন কয়েকজন বাঙালি নারী শ্রমিকের দুঃখের কাহিনী নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। কেস স্টাডি-১. থেমে গেল জীবনযাত্রা: মেয়েটির নাম উম্মে কুলছুম (ছদ্ম)। সেই ছোটকালেই মারা গেছেন বাবা। বাবার দেওয়া নাম ফুলবানু। মেয়েটি অনেক সুন্দরী। তাই বাবা আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘ফুলবানু’। বিধবা মায়ের সংসারে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে পারেননি মেয়েটি। কিন্তু মানিকগঞ্জের নিজের এলাকায় অষ্টম শ্রেণীতে সেরা মেধাবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বড় একটি বোন ও এক মা। এই নিয়ে তাঁদের সংসার। সংসারে লেগেই আছে অভাব-অনটন। হঠাৎ একদিন স্থানীয় দালাল এসে ফুলবানুর মাকে যুক্তি দেয়, তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিলে হাসপাতালে চাকরি পাবে। পরিষ্কার করার কাজ। বেতন থাকবে মাসে বাংলাদেশি টাকায় ১৮ হাজার। আর সঙ্গে থাকা-খাওয়া ফ্রি। অভাবের সংসারে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন মা। দালালের চাহিদা মতো এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও দিলেন সুদ করে এবং স্বামীর রেখে যাওয়া নিজের ভিটের কিছু অংশ বিক্রি করে। ফুলবানু এলেন দুবাইতে। এখানে খাপ মেরে বসে ছিল দুবাইয়ের স্থানীয় দালাল। এয়াপোর্ট থেকে বের হতেই সে ফুলবানুকে রিসিভ করল। নিয়ে গেল নির্জন একটি ফ্ল্যাটে। ফুলবানু জিজ্ঞেস করলো, ‘আমরা হাসপাতালে কখন যাব।’ দালালের পরিকল্পিত উত্তর, ‘কাল যাব। আজ এখানে বিশ্রাম করো।’ ফুলবানুর আকাশটা কেমন যেন কালো হতে লাগল। তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগলেন। সেদিনই ফুলবানুর জীবনে ঘটে যায় বড় অঘটন। হারিয়ে যায় তার বেঁচে থাকার অবলম্বন সতীত্ব। এ রকম অনেক দিন চলে তাঁর উপর অত্যাচার। চাইলেও তিনি বাড়িতে ফোন করতে পারেন না। অপর দিকে মায়ের সুদের টাকার কথা মনে হলে নিজেকে বড়ই অপরাধী লাগে। এমনটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায় ফুলবানু। দেড় মাস এ রকম অত্যাচার চলে তাঁর ওপর। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বিপথগামীদের হাতে। নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফুলবানু গলাটিপে হত্যা করে নিজের সাধ-আহ্লাদকে। তিনিও হয়ে যান তাদেরই একজন... কেস স্টাডি-২. কত দিন ধরে ‘মা’ ডাক শোনা হয়নি জুলেখার : ‘ভাইরে, লেখি আর কী অইব? যা অইবার তো অই গেছে। হেয়ার হরেও লেখেন, যাতে অইন্য কেউ এ রুকম ন আইয়ে। আই আর মতো এ রুকম কষ্ট না করে।’ এমন সিদা-সাপটা উত্তর মধ্যবয়সী নারী শ্রমিক জুলেখার। পঙ্গু স্বামীর সংসারে সন্তানদের মানুষ করতে দুই বছর আগে এসেছেন আমিরাতের আবুধাবিতে। কাজ করছেন একটি বাসায়। বিদেশ আসতে তাঁকে দিতে হয়েছে এক লাখ টাকা। দালাল ভিসাটি ফ্রি পেয়েছে। কিন্তু জুলেখার কাছ থেকে নিয়েছে ক্যাশ টাকা। তা-ও আবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দেনা ও গ্রামীণ ব্যাংকের সুদ দিয়ে। সেই ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাঁকে। আসার সময় দালাল বলেছিল, একটি বাচ্চাকে দেখাশোনার কাজ করতে হবে। কিন্তু এখানে এসে ঘটেছে এর ব্যতিক্রম। হাড়ভাঙা খাটুনির পরও মাসের শেষে নিজের ভাগ্যে জোটেনি বেতন। দালাল বলেছিল, মাসে ৭০০ দেরহাম বেতন পাবে। সঙ্গে ঈদে থাকবে বকশিশ। আসার প্রথম বছরে ৩৫০ দেরহাম করে বেতন পেলেও তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে সন্তানদের মুখ থেকে ‘মা’ ডাক শোনা হয়নি দুই মাস ধরে। আরবি ঘরে থাকে বিধায় আশপাশে কোথাও ফোনের সুবিধা নেই। কবে যে তাঁর দেনা শোধ হবে, আর দেশে ফিরে সন্তানদের মুখ দেখবে-এই চিন্তায় কাটে জুলেখার দিনরাত। কেস স্টাডি-৩. পরিবার গর্বিত,মেয়ে তার অফিসে কাজ করে বলে : ঢাকা শহরের মেয়ে স্বপ্না (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া স্বপ্নার শখ ছিল শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু ভাইহীন সংসারে পরিবারের চাকা সচল করার আশায় পাড়ি জমান আমিরাতের শারজাতে। তিনি জানেন, তাঁর ভিসা একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের। ভিসায়ও লেখা তা-ই। কিন্তু এখানে এসেই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াই করে নাচ করতে হয় তাঁকে। অন্যের মন ভুলিয়ে নিজের পরিবারের চাকা সচল রাখতে হচ্ছে তাঁকে। পরিবারের সবাই গর্বিত তাঁর মেয়ে অফিসে কাজ করে বলে। মেয়েও মাসে মাসে টাকা পাঠান, যা দিয়ে চলে যায় সংসার। কিন্তু এর চেয়ে দ্বিগুণ টাকা চলে যায় মধ্যসত্বভোগী দালালের পকেটে। নিজের ভবিষ্যৎ ও দালালের প্রতারণায় বিষন্নতায় আছে স্বপ্নারা। না পারছেন মুখ ফুটে কিছু বলতে, আবার না পারছেন এ পথ থেকে ফিরে আসতে। স্বপ্নারা জানেন না, তাঁদের ভাগ্যে কী আছে? এ তো মাত্র তিনটি দৃশ্য উপস্থাপন করা হলো ভিন্ন চিত্রে। এ রকম আরও হাজারো দৃশ্যের রূপায়ণ ঘটছে আরব আমিরাতের এই মরুর বুকে। ফুলবানু, জুলেখা বা স্বপ্নারা এক অজানা পথে আছেন। তাঁরা নিজেই জানেন না, কখন শেষ হবে তাঁদের জীবনের এই বেদনাদায়ক অধ্যায়। আরবি বাসায় কাজ, হাসপাতালের ক্লিনার কিংবা অন্যান্য সাংসারিক সহযোগিতামূলক কাজে নারী শ্রমিকদের কাজ করতে হয় নিজের বিবেকের বিরুদ্ধে। কেউ বা আবার অমানুষিক কাজ করেও বেতনটা না পাওয়ায় আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছেন।   লুৎফুর রহমান, আরব আমিরাত।

অস্কারে সৌদি চলচ্চিত্র

সৌদি আরবে চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ। তবেওয়াদ্জ্দা ছবি নিয়ে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো অস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে আগামী বছর। নারীবাদী এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে অতিরক্ষণশীল দেশটিতে এক তরুণীর নিজস্ব একটি বাইসাইকেল অর্জনের উচ্চাভিলাষ পূরণের কাহিনি। ওয়াদ্জ্দা ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রথম সৌদি নারী চিত্রপরিচালক হাইফা আল-মানসুর। সৌদি আরবের শিল্প-সংস্কৃতিবিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারাবিয়ান সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড আর্টসের প্রধান সুলতান আল-বাজি গত রোববার বলেন, অস্কার প্রতিযোগিতার সেরা বিদেশি ভাষার ছবি শাখায় সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবে ওয়াদ্জ্দা। কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে সাফল্য অর্জন করেছে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র। ওয়াদ্জ্দা ছবিটি প্রথমে মুক্তি পায় ফ্রান্সে। এটি দুবাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গত বছর সেরা আরবি ছবির পুরস্কার পায়। গত মার্চে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও একটি পুরস্কার অর্জন করে। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে জার্মানির রাজর ফিল্ম ও সৌদি আরবের রোতানা স্টুডিও। রোতানার সঙ্গে রাজপরিবারের এক সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সৌদিতে কেবল ডিভিডিতে ও টেলিভিশনের পর্দায় ছবিটি দেখার সুযোগ রয়েছে। এএফপি।

পাসপোর্টের লাইনে সিরিয়রা

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা করার সিদ্ধান্ত আপাতত বিলম্বিত হলেও, স্বদেশে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না দেশটির জনগণ। যুদ্ধের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির আশঙ্কায় উল্লেখযোগ্য সংখক সিরীয় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন পাসপোর্ট আবেদনকারীরা ভিড় জমাচ্ছে দামেস্কের পাসপোর্ট সংক্রান্ত কার্যালয়ে। মঙ্গলবার, কয়েক ডজন লোককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষমাণ দেখা যায়। এর মধ্যে অনেকেরই এটা দ্বিতীয়বারের মতো পাসপোর্ট কার্যালয়ে আগমন। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে উদ্ভূত সঙ্কটময় পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে, সিরীয় ভূখণ্ডে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে তেমনটাই আশঙ্কা দেশবাসীর। দীর্ঘসময় ধরে চলমান সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে, বলাই বাহুল্য। গত আড়াই বছরের গৃহযুদ্ধে কমপক্ষে ১ লাখ লোক মারা গেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এ সময়ের ব্যবধানে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ সিরীয় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছে। দামেস্কে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করার দায় বাশার আল আসাদের বাহিনীর বলে ওয়াশিংটনের বিশ্বাস। সঙ্কটময় পরিস্থিতি নিরশনে রাশিয়ার দেয়া প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছে সিরিয়া। দেশটির যাবতীয় রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র আকাশ পথে সামরিক হামলা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। অবশেষে সিরিয়া পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নির্ণয় করা দুরূহ। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর পরিবার স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংঘাতমুক্ত দেশে পাড়ি দেয়া ব্যতীত আর কি বা করণীয় আছে সিরিয়াবাসীর। প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া এমনই একজন রাঘাদ। তিন সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননে যাবেন তিনি। লেবানন আশ্রয় নেয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়াবানীর জন্য সব থেকে সুবিধাজনক ছিল। কেননা, সহিংস পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় নেয়া সিরিয়দের ভীন দেশে ভ্রমণে বৈধতার কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করার সুযোগ ছিল। কিন্তু অন্তত পাসপোর্ট না থাকলে লেবানন থেকে অন্য কোন দেশে যেতে চাইলেও কোন সুযোগ নেই। রাঘাব বললেন, লেবাননে আশ্রয় নেয়ার পর যদি সিরিয়াতে কখনও ফেরত আসার পরিস্থিতি না থাকে সেক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের অন্য কোন দেশে পাড়ি দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সেজন্য পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। রাঘাবের মতো একই রকম চিন্তা করছেন আরও অনেকেই। এদিকে পাসপোর্ট কার্যালয়ে, ইতিমধ্যে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে হচ্ছে কর্মকর্তারা। বাচ্চাদের কান্না আর চঞ্চল শিশুদের চেঁচামেচির সঙ্গে এক রকম প্রতিযোগিতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের। এদের কোন পক্ষকেই দোষ দেয়ার সুযোগ নেই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সৃষ্ট কাগজপত্র অনুমোদনে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শিকার তারা সবাই।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.