Home খবর রাজনীতি

রাজনীতি

‘অধিকার’ এর নিবন্ধন বাতিল

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত সংগঠন 'অধিকার' এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সোমবার সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। অধিকার নির্বাচন কমিশনে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন করলেও এটি মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন না থাকা, রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। মঙ্গলবার বিষয়টি জানিয়ে সংস্থার সভাপতিতে চিঠি দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো সংস্থাটিকে সংবিধিবদ্ধ কোনও প্রতিষ্ঠান অথবা এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত হতে হবে। অধিকার (নিবন্ধন নং-১৪)-এর এনজিও বিষয়ক বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ এর ৬-এর-২ উপধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো। তবে মাত্র ৪ মাস আগে সংস্থাটি ইসির শর্ত মেনে কাগজপত্র জমা দিয়ে পর্যবেক্ষকের নিবন্ধন নবায়ন করেছে। সাধারণত, কোনো সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করতে হলে বাতিলের আগে ইসি থেকে অভিযোগের বিষয়ে নোটিশ দেয়ার কথা। নোটিশ প্রাপ্তির ৫ দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে শুনানির জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর ইসির সিদ্ধান্ত ৭ দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে অবহিত করা হয়। কিন্তু অধিকারের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে ইসি কোনও ধরনের শুনানির সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, অধিকার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত নয়। এছাড়া তাদের কাগজপত্রে অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাই তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসে জেল হত্যা দিবস পালিতঃ

সৈয়দ আশরাফের জন্য দোয়া

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার ঘনিষ্ঠ চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণীয়া, ক্যালিফোর্ণীয়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘জেল হত্যা দিবস’-এ লস এঞ্জেলেসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রবিবার ৪ঠা নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লস এঞ্জেলেসের হলিউডে স্থানীয় এক অডিটোরিয়ামে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নীয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা। যুগ্ন সঞ্চালনায় ছিলেন জামিউল ইসলাম বেলাল। বক্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে জেল হত্যা দিবস পরিচিত। যে কয়টি ঘটনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বরের এই দিনটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতিকে পুরোপুরি নেতৃত্বশূন্য করতে ৪৩ বছর আগে মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরীণ থাকা জাতির চার মহান সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইস এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সভাপতি তৌফিক সোলায়মান খান তুহিন বলেন, ৭১, ৭৫ ও ২১ আগস্টের খুনি চক্ররা সবাই এক। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা। তাদের মূল উদ্দেশ্য বাঙালি জাতিকে পিঁছিয়ে দেয়া, আবারো পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়া, এই খুনি চক্রটি ও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে নিজেদের মাঝে সকল দ্বন্ধকে জলাঞ্জলী দিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। https://youtu.be/Fqq-W3rmLAM অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তব্য দেন ঢাকার আদাবর থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। সভায় বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন আহমেদ পান্না, ঢালী মোফাজ্জল হোসেন মফু, মিয়া আবদুর রব, তাপস কুমার নন্দী, শাহ আলম চৌধুরী, ফয়জু সোবহান, সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, মোঃ আলমগীর হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, আমির হোসেন সরকার, এলিজা হোসেন, হাবিবুর রহমান ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ। মৌলভী রাজ্জাক টি ওয়েসকোরনি দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন। এক মিনিট নীরবতার মাধ্যমে স্মরনসভা শুরু হয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ক্যালিফোর্ণীয়া ষ্টেট যুবলীগের প্রেসিডেন্ট তাপস কুমার নন্দী তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সকলকে প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান। চার নেতার মাঝে অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর তার সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনের পর এক দশক আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফ।
Jail Killing Day observed in Los Angeles 2018 Los Angeles observed Jail Killing Day on Sunday commemorating the... Posted by Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া on Sunday, November 4, 2018

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি

জাতীয় নির্বাচন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা

নাশকতাপ্রবণ ২৫ জেলায় বিশেষ নজর

সৈয়দ আতিক

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতাপ্রবণ ২৫টি জেলায় বিশেষ দৃষ্টি রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব জেলায় গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন।

সামনের নির্বাচনে এ জেলাগুলোতে আবার নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই বিশেষ এই দৃষ্টি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরে অুনষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে যান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিরা। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিরাপত্তা কৌশলসংক্রান্ত বেশকিছু নির্দেশনা দেন। পুরনো মামলার পলাতক আসামি কিংবা জামিনে বের হওয়ার পর আত্মগোপনে আছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ সদর ৫ দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘœ হয়। অপরাধীদের ভেতরে ভয় প্রবেশ করে। এ ব্যাপারে পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব ছড়িয়ে যাতে কোনোপক্ষ সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে। ডিআইজি মর্যাদার এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সব এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হলেও পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব জেলায় নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটেছিল সেসব জেলায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের লোকজন বেশকিছু জেলায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ধরনের অন্তত ২৫টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলোতে আগে দায়ের করা নাশকতার মামলার আসামিদের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। তারা কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলো হল- দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মেহেরপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনী। জানা গেছে, এসব জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং প্রার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করতে পারে সে জন্যই অভিযান চলবে। এছাড়া দলীয় নেতাদের আধিপত্য বিস্তাররোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান জোরদার করা হবে। জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সবকিছু বিবেচনায় রেখে জাতীয় নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন হয় সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যেসব জেলায় বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন সেখানে সেরকমই নজর রয়েছে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুর্লিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নাশকতাপ্রবণ জেলাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এসব জেলায় যারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, আগের নির্বাচনের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ এলাকার পাশাপাশি নাশকতাপ্রবণ এলাকায় সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ তুলে ধরছেন, লিঙ্ক এবং পেপার কাটিং শেয়ারের মাধ্যমে।

ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, ডাক, তার ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও নিয়মিত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্কার্স পার্টি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, রাশেদ খান মেনন নামেই ফেসবুক পেজ রয়েছে মেননের। ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবিতে নিজের ছবি এবং কাভার পেজে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে পরাস্ত করুন, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আরও এগিয়ে যেতে এবং ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ১৪ দলের প্রার্থীদের জয়ী করুন—বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি’ শীর্ষক স্লোগান। এই পেজে তিনি মন্ত্রণালয় ও দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও ছবি শেয়ার দেন। বর্তমানে তার পেজের ফলোয়ার রয়েছে আড়াই লাখ। জানা গেছে, মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন তার ছেলে আনীক রাশেদ খান। তবে বাবার অনুমতি ও নির্দেশনায় তিনি পেজটিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এ ক্ষেত্রে ছেলের ওপর শতভাগ কনফিডেন্ট রয়েছে রাশেদ খান মেননের। মেননের ফেসবুক পেজ-জুড়ে রয়েছে— মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও সংবাদ।এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক মন্তব্যের জবাবও দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় পেজটি আমার ছেলে পরিচালনা করছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।’ তার ছেলে আনীকই এই পেজটি খোলার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিক সচেতনতামূলক বিশেষ করে মাদকবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য ও সংবাদ পোস্ট করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে খোলা এই পেজটি মন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। একইভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিজের ফেসবুক পেজে নিজের এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ পোস্ট করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও নিজের সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও সংবাদ পোস্ট করেন। বঙ্গবন্ধু ও নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুক্ত ছবি রয়েছে তার কাভার পেজে। সম্প্রতি তিনি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময়সূচি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তারানা হালিমও ফেসবুক প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুকে এই তিন প্রতিমন্ত্রী খুব বেশি সক্রিয়। শাহরিয়ার আলম ও জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেরাই ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের সুরই বিএনপি-র অন্যতম শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের কণ্ঠে।

খালেদা জিয়ার প্রাক্তন সহকারী ও বিগত বিএনপি-জামাতে ইসলামি জোট সরকারের এই মন্ত্রী মনে করেন, বাংলাদেশে স্বচ্ছ নির্বাচন করতেই হবে শেখ হাসিনার সরকারকে এবং সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতায় ক্ষমতা দখল করবে বিরোধীরা।

বেআইনি আনুপ্রবেশের অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে সালাউদ্দিনকে শুক্রবার দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছে শিলংয়ের একটি আদালত। এর পরে আনন্দবাজারকে তিনি জানান, রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলেই ঢাকায় ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার অনেকটাই তাঁর হাতে নেই। কিন্তু অবিলম্বে তিনি দেশে ফিরতে চান। বলেন, ‘‘ফিরলে গ্রেফতার হতে পারি। কিন্তু সে ঝুঁকি নিতে আমি তৈরি। কারণ সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই শুরু করেছেন। শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসবে এই জোট।’’ সালাউদ্দিন এখনও বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য। বাংলাদেশে তাঁর দল ২০১৪-র ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ বার নির্বাচনের মুখে কয়েকটি নাম-সর্বস্ব বিরোধী দলকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ তৈরি করলেও নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায়। কারণ, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ না-ছাড়লে নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকদের একটা বড় অংশ মনে করেন— ভোটে জিতে সরকার গড়ার পরিস্থিতি যখন নেই, তখন ভোটে না-লড়াই ভাল। কারণ, বিএনপি ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে তা বানচালের কর্মসূচি নিলে ১০% ভোটও পড়বে না। তখন পরের সরকারকেও ‘অবৈধ সরকার’ বলা যাবে। বলা যাবে সিংহ ভাগ মানুষ তাঁদের ভোট বয়কটের ডাক সমর্থন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বছর তিনেক ভারতে আটকে থাকা সালাউদ্দিন চৌধুরীর গলায় নির্বাচনের সুর কি দলের কৌশলের বিপরীতে যাচ্ছে না? মানতে নারাজ কক্সবাজারের এই প্রাক্তন সাংসদ। বলেন, ‘‘দল তো বলেছে ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ হলে তারা অংশ নেবে। ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনে যে চাপ তৈরি হবে, তাতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে, অন্য শর্ত পূরণ করে অবাধ ভোটের ব্যবস্থা করতেই হবে। তখন তো নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। আর ঢাকায় স্বৈরাচারের পতন সময়ের অপেক্ষা।’’ সালাউদ্দিনের মুক্তির জন্য দিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি বলেছেন, ‘‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ।’’ সালাউদ্দিনের মুক্তিকে রিজভি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জয় বলে বর্ণনা করলেও, দলের নেতাদের একাংশ কিন্তু সন্দিগ্ধ। তাঁরা মনে করছেন, ভোটের মুখে সালাউদ্দিনের মুক্তি বিএনপিকে দুর্বল করার নতুন চালও হতে পারে। তিন বছর আগে ঢাকায় উত্তরার একটি বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে কিছু লোক সালাউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মাস দুয়েক পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মেঘালয়ের শিলংয়ে পাওয়া যায়। পাসপোর্ট-ভিসা না মেলায় বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু কী ভাবে তিনি শিলংয়ে এসে পৌঁছলেন? আপাতত সে প্রসঙ্গে একটি কথাও না-বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সালাউদ্দিন।

রেজিস্ট্রেশন বাতিল, রাজনৈতিক অধিকার হারাল জামাতে ইসলামি

রেজিস্ট্রেশন বাতিল, রাজনৈতিক অধিকার হারাল জামাতে ইসলামি

জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি জারি করল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি।
খবরটি জানার পরই আনন্দবাজারের তরফ থেকে ফোন করতেই ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠলেন অমর একুশের গান-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারির’ সুরকার মুক্তিযুদ্ধের শহিদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। একই ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা গাজি গোলাম দস্তগীর-বীর প্রতীক বললেন, “আজ প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার জন্য এক প্রশান্তি এনে দিয়েছে আমাদের নির্বাচন কমিশন।” বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এ এম আমিন উদ্দিনের মন্তব্য, “জামাতের এই রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ফলে রাজনৈতিক দল হিসাবে তাদের পরিসমাপ্তি ঘটল।” বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামাতে ইসলামিকে রেজিস্ট্রেশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ১৪। ২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা ৬৩০ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে আদালত জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০এইচ ধারা অনুযায়ী জামাতে ইসলামির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হল। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ। হেলালুদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনও কপি না থাকায় তারা এত দিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারছিলেন না, হাইকোর্টের রায়ের ওপর আপিল বিভাগের কোনও স্থগিতাদেশ না থাকায় রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া...

কোনও প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো: ড. কামাল

‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো। আইনমন্ত্রী, তুমি যার চাকরি করছো, তাকে বোঝাও, এভাবে কথা বলা যায় না। তাকে বোঝানোর ক্ষমতা না থাকলে আমরা সাহায্য করবো। বই খুলে চোখে আঙুল দিয়ে তোমাকে দেখাবো।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী-বন্ধু আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে, তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?’ ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে আমি নিন্দা জানাই। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এখান (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমি অবাক হয়েছি, তাকে সন্ধ্যায় নেওয়া (গ্রেফতার) হয়েছে, পরে তাকে অন্তরীণ করা হয়েছে। ঢাকায় এসে দেখি তার এখনও মুক্তি হয়নি। এটা কী শুরু করেছে? একটা সভ্য দেশকে সুন্দরবন বানাতে চাচ্ছে নাকি? না, সুন্দরবনকেও অপমান করা হয়। এটা জঙ্গল বানানো হচ্ছে। সরকার যা করছে, তা তো জানোয়াররাও করে না। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে এদের।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সংবিধানে আছে, দেশ শাসন করার সময় যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করাতে হয়। আমি বলি, বোর্ড গঠন করে সাইকিয়াট্রিক দিয়ে এদের পরীক্ষা করা হোক।’ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রাতে গ্রেফতারের কঠোর সমালোচনা করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মানহানির মামলায় রাতে গ্রেফতার করতে হবে, এমন কোনও নিয়ম আছে? জামিনযোগ্য মামলা। আইনমন্ত্রী অন্য কিছু না জানলেও তুমি তোমার বাবার সঙ্গে ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস তো করেছো? জামিনযোগ্য অপরাধ কী, তা তুমি জানো। তুমি যার চাকরি করো, তাকে বোঝাও যে জামিনযোগ্য অপরাধ এটা। আইনমন্ত্রী চোখ খোলো। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করো। অন্ধকারে থাকা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! মইনুল হোসেন আইনজীবী। এই সরকার খুব ভালোভাবে তাকে চেনে। গতকাল রাতে সিলেটে শুনে আমি অবাক। তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। এখানে এসে দেখি তিনি এখনও জেলে। তিনি কেন জেলে? কেন, কেন, কেন? এর উত্তর চাই।’ গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘এ সরকারের নাকি তথাকথিত একজন আইনমন্ত্রী আছেন। তোমার কাছে আমি উত্তর চাই। তুমি আমাদের একজন জুনিয়র ল’ইয়ার। তোমার বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক বাচ্চু ভাই, তিনি আইনজীবী ছিলেন। তুমি কী হয়ে গেছো? তুমি আইন সব ভুলে গেছো? আসো, তোমার সঙ্গে আমরা আইনের বই দেখবো। কোন গ্রাউন্ডে মইনুল হোসেনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে? কৈফিয়ত চাই। গণতন্ত্র যখন দাবি করে, তখন জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। দায়িত্ব আছে তোমার। বলতে হবে তোমাকে।’ তিনি বলেন, ‘মইনুলকে গ্রেফতারের ঘটনা চরম স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছে সরকার। এটা গণতন্ত্র নয়। তুমি বোঝাও, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানে এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। মইনুলকে অপমান করে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? কী অপরাধ করেছেন তিনি? এটা মানহানির মামলা। মানহানির মামলায় তো তিনি জামিন নিয়েছেন। আর কত মামলা করবে? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তুমি মনে হয় সব ভুলে বসেছো। তুমি সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার শপথ নিয়েছো। তুমি যার চাকরি করছো, তিনিও শপথ নিয়েছেন। তোমাদের শপথের প্রত্যেকটা শব্দের ব্যাখ্যা আমাকে বোঝাও। আইনমন্ত্রী আমাকে তুমি বোঝাও। আমি তোমার কাছে সময় চাই। আমাকে বোঝাও, দেশে হচ্ছেটা কী? পার্লামেন্ট নাকি আছে। তথাকথিত একটা পার্লামেন্ট নাকি আছে। আরও দুইদিন পার্লামেন্ট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তোমরা কৈফিয়ত দাও। পার্লামেন্টের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সেখানে বলো, যেন মানুষ জানতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা সংবিধানের কোথায় আছে? আমি সিলেটে যা দেখেছি, অবাক কাণ্ড। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে আটটা/দশটা করে ছেলে ধরে নিয়ে গেছে। কেন নিয়ে গেছে? কী শুরু হয়েছে, এটা বাংলাদেশ?’ জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এস এম কামালউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তাফা খান প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গোলাম রহমান ভুইয়া, গোলাম মোস্তাফা, গাজী কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, কাজী জয়নাল, মির্জা আল মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সগীর হোসেন লিয়ন, শরীফ ইউ আহমেদ, শেখ তাহসীন আলী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বার্নিকাট ও শ্রিংলার সাক্ষাৎ

অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৃহস্পতিবার পৃথক সাক্ষাতের পর এমন মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট। সেতু ভবনে সকালে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রিংলা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারত আশা করে আগামী একাদশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে কোনো নাশকতার আশঙ্কা দেখছে না ভারত। আমরা আশা করি, সবার অংশগ্রহণে সুন্দর একটি নির্বাচন হবে। তবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, সংলাপের উপলক্ষ কিংবা পরিবেশ দেখছেন না তিনি। খালেদা জিয়া বন্দি থাকলেও, নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তার দাবি। অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে তার (শ্রিংলা) সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। ভারত একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ। স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক। শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন তারা প্রত্যাশা করে। আমাদের নির্বাচনে ভারত পক্ষপাতমূলক নাক গলানোর মতো কোনো ভূমিকা পালন করতে চায় না। নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে, এটাই গণতান্ত্রিক একটি দেশ হিসেবে তারা প্রত্যাশা করে।

ওয়াশিংটনের ‘বার্তা’ কাদেরকে জানালেন বার্নিকাট

বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্তা’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর বার্নিকাট বলেন, অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হতে পারে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালনের সময়কে সুখকর উল্লেখ করে তিনি এ দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং মানবাধিকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক সংলাপ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী সেতু ভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মার্শিয়া ব্লুম বলেন, আমরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচব নিয়ে কথা বলেছি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাকে জানিয়েছি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তার প্রার্থীর সঙ্গে যারা ভোটার তাদের নিরাপত্তা, ভোটারের ভোটাধিকার এবং জনসাধারণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে। যুক্তরাষ্ট্র জানে নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। এটা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। মার্কিন এই কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে গণতান্ত্রিক চর্চা দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি নাগরিকের যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয় সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমি বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি দেশের জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলে জানান বার্নিকাট। তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষকে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে সচেতন হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশের জন্য শুধু সরকার ও রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভর করলেই চলবে না। এ জন্য তাদের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সোচ্চার থাকতে হবে। এমনকি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের প্রত্যেক নাগরিক এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। ‘দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন’ তখন যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু নির্বাচন কতটুকু প্রত্যাশা করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরিসর অনেক বড়। ৩০০ সিটে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অনেক প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যারা যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে। প্রার্থীরা তাদের দলের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট বিশ্বাস করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রত্যাশিত স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে সমস্যা হবে না। নির্দিষ্ট কারও জন্য এ প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না।

নিউইয়র্ক সফর শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় আওয়ামী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিউইয়র্ক সফর শেষে ক্যালিফোর্নিয়ায় আওয়ামী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের মিডটাউনের হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনায় যোগ দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের ফাঁকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ষ্টেট ও কানাডা থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে মিলিত হন। প্রতিবছরের মত এই বছরও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আওয়ামী নেতাকর্মীদের দুইটি বিশাল দল অংশ নেয়। তারা সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকদের সাথে মিলিত হন। তারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সেল আয়োজিত নীতিনির্ধারণী সভায় অংশ নেন। এই সভায় বক্তৃতা দেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির খান। বাংলাদেশ সহ নিউইয়র্কের অনেক মিডিয়াতে ক্যালিফোর্নিয়ার সফরকারী দলের ব্যাপক প্রচারণা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি তৌফিক ছোলেমান খান তুহিন গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী পরিবারের এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেন তৌফিক ছোলেমান খান তুহিন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রীর হাতকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দিক নির্দেশনা ও বিভিন্ন মহাদেশের আওয়ামী লীগারদের সাথে নেটওয়ার্কিং করার জন্যই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১০ জনের এই নিউইয়র্ক সফর। প্রবাসে নেত্রীর বিশাল জনপ্রিয়তা ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের শহরে পরিনত হয় নিউইয়র্ক। অসংখ্য নেতা-কর্মীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবী। আমিও গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করি। নেত্রী ও ডেলিগেটদের সাথে দেখা করার জন্য প্রচুর জনসমাগমের কারনে নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রেখে হোটেল লবীতে প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা হয়। সেই হোটেলে অন্যান্য দেশের ডেলিগেটরাও অবস্থান করেন। আমাদের দেশের মত এত নেতাকর্মীদের ভীড় কোন দেশেরই প্রধানদের মোকাবেলা করতে দেখা যায়না। সাতদিন হোটেল লবীতে নেত্রীর জন্য অপেক্ষা করার ফাকে তাদের সাথে শত ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করে নেত্রী দেখা করেন। তবে দুরত্ব বিবেচনা করে নেত্রী ক্যালিফোর্ণিয়া ও কানাডার ডেলিগেটদের প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করেন। এই প্রসংগে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কারো মাধ্যমে বা কারো সিংগেচার নিয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করার মন্তব্য সত্যিই দুঃখজনক। দলের ক্রান্তিকালে যাদের দেখা যায় নাই বা যারা পরিক্ষিত আওয়ামী সৈনিক নয় তাদেরকে ব্যক্তি স্বার্থে দলকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবেনা। এই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তৌফিক ছোলেমান খান তুহিন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির খানের নামে মিথ্যা অপপ্রচারে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি আগামী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সংযুক্ত করার ঘোষনা দেন যাতে কোন মহলের মিথ্যাচার ও সফরের নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। এই ব্যাপারে একুশ নিউজ মিডিয়ার প্রধান জাহান হাসানের পরামর্শকে তিনি স্বাগত জানান। নেত্রীর সাথে ছবি তোলা নিয়ে যে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার প্রচন্ড নিন্দা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। তিনি বলেন নেত্রী নিউইয়র্ক এ পৌছবার আগেই আমরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সকল প্রস্তুতি সভায় অংশ নিয়ে নেত্রীর সফর যাতে সার্থক ও নিরাপদ হয় তার ব্যবস্থাপনায় অংশ নেই। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখাকে লীডারশিপ রোলে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তথাকথিত মূলধারার ষ্টেট আওয়ামী লীগ ও অগনতান্ত্রিক ভাবে ষ্টেট যুবলীগের নাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সুবিধাবাদী কর্মীদের ছবি তুলে এনে তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও তা নিয়ে অপপ্রচার করে যারা আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠনগুলির ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী স্টেট যুবলীগের নির্বাচিত সভাপতি তাপস নন্দী। নির্বাচনের বছরে বিএনপি জামাত যখন নেত্রীর নিউইয়র্ক সফরে শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখনই ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্নিয়ার সদস্যরা সক্রিয়ভাবে নিউজার্সি ও নিউইয়র্কের মাঠে নামে। অন্যান্য ষ্টেট থেকে আসা নেতাকর্মীদের সাথে তখন তথাকথিত মূলধারার ক্যালিফোর্ণিয়া আওয়ামীলীগ ও তাদের পকেট অংগ সংগঠনের কিছু নামধারী ব্যক্তিরা সাংগঠনিকভাবে কোন কার্যকলাপে অংশ না নিয়ে ছবি তোলার মওকা খুজে বেড়াচ্ছিলেন। দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে এই ধরনের কর্মকান্ডে সত্যিকারের আওয়ামীলীগার হিসাবে একসাথে কাজ করার আহবান জানান সুবর্ণ নন্দী তাপস।
  ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন - অক্টোবর ২০১৮ Posted by Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া on Saturday, October 13, 2018
সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালক ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক জহির উদ্দীন আহমেদ পান্না। দেশ বা প্রবাস থেকে যারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন বা সহযোগীতা করতে ইচ্ছুক তাদেরকে অতিসত্বর লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিকের সাথে যোগাযোগের আহবান জানান। বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দ্বন্ধ নিয়ে যাতে ক্যালিফোর্নীয়ার আওয়ামী পরিবারের মর্যাদা ক্ষুন্ন না হয় তার প্রতি দৃষ্টি রাখার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জামিউল ইসলাম বেলাল। আরো বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী স্টেট যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল মজুমদার, লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুব লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি এলিজা হোসেন, সাধারন সম্পাদক আমির হোসেন সর্দার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসিনা বানু। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান বাচ্চু।
Posted by Ekush NewsMedia একুশ নিউজ মিডিয়া on Friday, October 12, 2018

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে লস এঞ্জেলেসে প্রবাসী নির্বাচনী সাপোর্ট সেল

লস এঞ্জেলেসে মিডিয়া সেন্টার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয় হচ্ছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সমনে রেখে লস এঞ্জেলেসে নির্বাচনী সাপোর্ট সেল তৈরীর প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগ। নিউইয়র্কে সফর শেষে লস এঞ্জেলেসে ফিরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম এ ঘোষনা দেন।
প্রবাসের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যারা দেশে গিয়ে নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচনী সেলে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানান ডাঃ রবি আলম। তিনি আমেরিকান নির্বাচনের মডেল অনুযায়ী বাংলাদেশে নৌকার বিজয়ের নির্বাচনী প্রচার ও সাহায্য সহযোগীতার জন্য লস এঞ্জেলেসে আওয়ামীলীগের সকল সদস্যদের সমন্বিত উদ্যোগ নেবার জন্য আহ্বান জানান।
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, প্রায় এক কোটির ও বেশী প্রবাসীরা যদি তাদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের পরিবার পরিজনদের বিরাট একটি অংশকে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে তাহলে আবারো দেশ পাবে সঠিক নেতৃত্ব। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ বা কোন অংগদলের পূর্নগঠন বা পরিবর্তন হবেনা। বাংলাদেশের জাতীয়  নির্বাচনের পরে সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে নতুন কমিটি পুর্নবিন্যাস করা হবে, সেই পর্যন্ত দলের সবাইকে এক সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রধানমন্ত্রীকে সময় দেবার জন্য ক্যালিফোর্নিয়াবাসীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে নেতা-কর্মীদের সব সময় সর্তক থাকা ও একই সঙ্গে সব জায়গায় দল ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরার জন্য নেত্রীর নির্দেশকে পালন করার জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মুস্তাইন দারা বিল্লাহ। সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট যুবলীগের সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে নিউইয়র্কে সফরের প্রধানকে শুভেচ্ছা জানায়। সভায় নতুন সদস্যপদ গ্রহন করেন লস এঞ্জেলেসের প্রিয়মুখ বাইকার মেহেদী হাসান। https://youtu.be/y7KDYAXf7eE https://www.facebook.com/EkushNewsMedia/videos/1731879440272432/

ইভিএম মেশিন হ্যাক করা কত সহজ দেখালেন বিজ্ঞানীরা

ইভিএম মেশিন হ্যাক করা কত সহজ দেখালেন বিজ্ঞানীরা
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কত সহজে ইভিএম হ্যাক করা যেতে পারে তাই হাতেনাতে দেখিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী।
মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী এলেক্স হাল্ডারম্যান দেখিয়েছেন কত সহজে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। এভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হলে কারা ও কিভাবে তা করেছে বা আদৌ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে কিনা তা ধরার কোনো উপায়ও থাকে না তাও দেখিয়ে দিয়েছেন হাল্ডারম্যান। বার্তা সংস্থা এএফপি রোববার জানায় গত মাসে বোস্টনের এক প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি বিষয়টি সবার সামনে স্পষ্ট করেন। হাল্ডারম্যান একটি ছদ্ম নির্বাচনের আয়োজন করেন যেখানে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী তিন জন জর্জ ওয়াশিংটনের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু হ্যাকিংয়ের শিকার মেমোরি কার্ডে ফলাফল আসে জর্জ ওয়াশিংটন পেয়েছেন ১ ভোট আর বেনেডিক্ট আরনল্ড পেয়েছেন ২ ভোট। সামরিক কর্মকর্তা বেনেডিক্ট রেভোল্যুশনারি ওয়ারের সময় গোপন তথ্য বিক্রি করেন। হাল্ডারম্যান যে ভোটিং মেশিনকে সহজেই হ্যাকিং করা যায় বলে দেখালেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে ব্যবহৃত হয়। এই মেশিনের কোনো ব্যালট পেপার নেই। আর তাই ভোটের ফলাফল পাল্টে দিলে তা ধরার বা চ্যালেঞ্জ করার কোনো উপায় থাকে না। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, ভোটিং মেশিন ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুগুলো হ্যাকিং হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দুই বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রুশ এজেন্টরা যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে অন্তত ২০টি রাজ্যে ভোটার রেজিস্ট্রেশন নেটওয়ার্কে হ্যাকিংয়ের চেষ্ট করেছে এবং অন্তত একটিতে তারা সফল হয়েছে। এলেক্স বলেন, রুশদের ভোটিং রেকর্ড নষ্ট বা পরিবর্তন করার সক্ষমতা রয়েছে, যা নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এমনকি সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটির তদন্তেও ‘তারা রুশদের ওই সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেননি।’ সম্মেলনে অন্যান্য গবেষকরা দেখিয়েছেন, ভোটিং মেশিং অথবা নেটওয়ার্কে হ্যাকিং সম্ভব। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটার ভোটিং মেশিনের সাহায্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সম্মেলনে গবেষকরা যেসব নির্বাচনী ব্যবস্থায় পেপার ব্যাকআপ নেই, সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করতে বলেছেন।

ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে

ফেরদৌস-শাবনূরে আগ্রহ নেই তৃণমূলে
একাদশ সংসদ নির্বাচন সমাগত। রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যশোরের তিনটি সংসদীয় আসনে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হয়েছে।
খবরে বলা হচ্ছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক, যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় পার্টির ব্যানারে চিত্রনায়িকা শাবনূর মনোয়ন প্রত্যাশী। যশোরে তারকাদের প্রার্থী হওয়ার খবরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য তারকা প্রার্থীদের মনোনয়নের খবরকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তৃণমূলের নেতারা। যশোরের বাস্তবতায় যোগ্য প্রার্থীর সংকট নেই। ফলে তারকাদের দলীয় মনোনয়নের খবর ভূয়া হিসেবেই দাবি করছেন অনেকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘের অধিবেশনে সফরসঙ্গী হন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তার এই সফরকে ঘিরে নানা ডালপালা গজিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়েছে যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন নায়ক ফেরদৌস। কুমিল্লার তিতাশ উপজেলার সন্তান ফেরদৌস। তার শ্বশুর প্রয়াত আলী রেজা রাজু ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। যদিও এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ও সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোর মতো শক্তিশালী প্রাথী রয়েছেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে ফেরদৌসকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিবে, এটা নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যেখানে যার প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দিবেন। তবে তৃণমূলের বাস্তবতায় যশোর-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থীর কোনো সংকট নেই। বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও সাবেক সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোর মতো প্রার্থীরা থাকতে ফেরদৌসের মতো তারকাকে প্রার্থী করতে হবে এমন বাস্তবতা নেই। তিনি আরো বলেন, ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার পর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই খবরের কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। এক শ্রেণির মানুষ ফেরদৌসকে আলোচনায় আনছে। ফেরদৌসের প্রার্থী হওয়া খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভেঙে পড়েনি। আবার আনন্দিতও নয়। যশোর-১ (শার্শা) আসনে জাতীয় পার্টির ব্যানারে প্রার্থী হবেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তবে শাবনূরের প্রার্থীতার বিষয়টি জানেন না জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান। জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শাবনূর প্রার্থী হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভূয়া। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বছরের নয় মাস সেখানে থাকেন। তিন মাস বাংলাদেশে। আমরা খোঁজ নিয়েছি, তার প্রার্থী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিছু লোক অপপ্রচার করছে। এদিকে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক। তার প্রার্থীতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে কয়েক বছর ধরে। ২০১৭ সালে শাবানা ও তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক কেশবপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে প্রার্থী হওয়া বিষয়টি আরও খোলসা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন ওয়াহিদ সাদিক। যদিও এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে থেকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে বিশ্বাস করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক। এবার দলের বাইরের লোককে মনোনয়ন দিলে কেশবপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। মনোনয়নের ব্যাপারে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। শাবানা ও তার স্বামীর প্রার্থীতার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন। তবে তিনি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমাদের সবার আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবির প্রতি মূল্যায়ন করবেন। দলের ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।

যদি কেউ কারো বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা...

‘সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন বুঝলাম, আমাদেরটা কে দেখবে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করবে না তাদের চিন্তার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। https://youtu.be/V3Y7nGMgQwM জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে ব্রিফ করতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ নিয়ে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলবো, যে সাংবাদিকরা মনে করে যে তারা কোনো অন্যায় কাজ করবে না, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই।’ সিআরপিসিতে যা আছে তার বাইরে কিছু এই আইনে নাই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করতে হয়েছে তাদেরকে ট্রাক করার জন্য। আমরা যখন ট্রাক করলাম যে, একটা জঙ্গি এখানে এরকম কাজ করছে বা এই ধরনের বোমা ফাটাবে বা কিছু করবে। ট্রাক করার সাথে সাথে যদি আমরা তাকে গ্রেপ্তার না করি, এখন যদি বসে থাকি ওকে ট্রাক করেছি এখন আমাকে ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে; ও কি ওখানে বসে থাকবে?... আমাকে তো সাথে সাথে অ্যাড্রেস করতে হবে, সাথে সাথে ধরতে হবে। ধরার পরেই তো মামলা হবে। সারা বিশ্বে তো এটাই করে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে উদ্বিগ্ন তারাই বেশি হবে যারা তৈরি হয়ে বসে আছে, নির্বাচন কাছাকাছি, আমাদেরকে ভালো করে ঘায়েল করার জন্য যারা খুব বেশি ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে, অলরেডি ছাড়ছে কোনো পত্রিকা। আমি দেখি, হেডলাইনও পাই। এতটুকু কী দোষ আছে সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা ভাবছে এরকম একটা মিথ্যা নিউজ করবো, এটা তো মাঠে মারা যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিৎ। সেটা হল- যদি কেউ কারো বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, সাংবাদিক যে লিখবে, যে পত্রিকা, মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক হোক বা ডিজিটাল ডিভাইস হোক, ব্যবহার করবে বা যে এটা প্রকাশ করবে তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। এবং যার জন্য লিখবে তার যে ক্ষতি হবে তার জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাকে ফাইন করা হবে। যেটা ইংল্যান্ডে আছে।’ ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা বন্দী থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এবং এখনো অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছবি দিয়ে নিউজ দিয়ে দিল। তারপরে তদন্ত করে দেখা গেল এটা মিথ্যা। তারপরে কী হয়, যার বিরুদ্ধে করে তার জীবনটা তো শেষ। কিন্তু যে পত্রিকাটা করলো সে কী শাস্তি পেল? তার তো কোন সাজা হল না। সে তো বহাল তবিয়তে বুক উঁচু করে চলছে সমাজে।... কিন্তু যাকে ড্যামেজটা করা হল সে তো সমাজের কাছে, নিজের পরিবার, ছেলে-মেয়ের কাছে হেয় হল। তার যে ক্ষতি হল সেটা পূরণ হবে কিভাবে?’ পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন আমি বুঝলাম, আমাদের উদ্বেগটা কে দেখবে? বা যারা এরকম ভিক্টিমাইজ হচ্ছে তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে?’ কারো অপরাধী মন না থাকলে বা ভবিষ্যতে কোন অপরাধ করবে এমনটা মনে না থাকে তাহলে এই আইনে তার উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘নির্বাচনের বিষয়ে পরামর্শ নয়, উৎসাহ পেয়েছি’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে ব্রিফ করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাইনি। তবে উৎসাহ পেয়েছি।’ https://youtu.be/V3Y7nGMgQwM রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর এবং তিন হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেখানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার বিষয়ে কথা হয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওআইসির নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে থাকার জন্য তাদের আমি বলেছি। তারা রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’

লিটন দাসকে কটূক্তির বিষয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

https://youtu.be/PqquPb_TNpE সম্প্রতি এশিয়া কাপে দারুণ পারফরম্যান্স করেন লিটন দাস। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি লড়াইয়ের পুঁজি দেয় বাংলাদেশকে। ফেসবুকে তার ধর্ম নিয়ে আক্রমণের বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কী সুন্দর খেলে এসেছে ছেলেটা। আমাদের পুরো দল ভালো খেলেছে। কিন্তু যারা এ ধরনের কাজ করে তারা কিভাবে এটা করে বুঝে আসে না। এরা বিকৃতমনা। এই উগ্রবাদ-মৌলবাদের বিরুদ্ধেই আমাদের সরকার কাজ করছে।' এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। লিটন দাস তার পোস্ট করা ছবিটি ফেসবুক থেকে মুছে দিতে বাধ্য হোন। পরবর্তীতে  তিনি কতটা দুঃখ পেয়েছেন ঘটনাটিতে তা উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লিখেন - আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশি, ধর্ম আমাদের পৃথক করতে পারবে না।

আ.লীগের মনোনয়নের আলোচনায় তরুণরা : 

আ.লীগের মনোনয়নের আলোচনায় তরুণরা : 

নিজ নিজ এলাকায় তুমূল গণসংযোগে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। শেখ হাসিনার নির্দেশ, তৃণমূলের মনজয় করতে হবে। তাই রাজধানীতে দু’একদিন থেকে পুরো সপ্তাহ নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সারাদেশের সংসদ সদস্যরা। তাদের সাথে সমান তালেই মাঠে আছেন নয়া প্রার্থীরা। তরুণ ও ক্লিন ইমেজ, এই দুটি কথা ভাসছে নির্বাচনী এলাকায়, কেন্দ্রেও। দেশের জেলা উপজেলার চিত্র এখন এমনই। ভোটের হাওয়ায় ভাসছে আওয়ামী পরিবারগুলো। তাদের সমর্থন পেতে অবিরাম মাঠঘাট, হাটবাজারে সময় দিচ্ছেন দলের টিকিট পেতে আগ্রহী নতুন মুখেরা। রাস্তার পাশে চা কিংবা মুদীর দোকানে বসেই বর্তমান সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। তাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এলাকায়। এ আসনের বর্তমান এমপি বর্ষীয়ান জননেতা কর্নেল (অব.) শওকত আলী। তিনি আগামী নির্বাচনে স্বাস্থ্যগত কারণে অংশ নিতে পারবেন না ধরে নিয়েই এনামুল হক শামীমের মতো একজন দক্ষ সংগঠককে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। ঝালকাঠির-১ (রাজাপুর- কাঠালিয়া) নেতা- কর্মীদের মাঝে ভরসার নাম এখন ফাতিনাজ ফিরোজ। তিনি নিয়মিত তাদের খোঁজ খবর রাখছেন। সুখে- দুঃখে তাদের পাশে দাড়িয়ে ভরসা দিচ্ছেন। এই জনপদের প্রয়াত প্রিয় নেতা ড. হান্নান ফিরোজের যায়গা তিনি ধরে রেখেন। ফাতিনাজ ফিরোজ বলেন, আমার জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই। মানুষের যে ভালবাসা পেয়েছি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাদের পাশে থাকব। ফেনী-১ আসনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের (কটিয়াদী-পাকুন্দীয়া) মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, নারায়নগঞ্জ-৩ আসনে হাসনাত কায়সার, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর) আসন থেকে মনোনয়ন চান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, চাঁদপুর-৩ আসনের (সদর ও হাইমচর) রেদওয়ান খান বোরহান, ঢাকা-৬ আসনে চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু। মাগুরা-১ আসনে গত সাড়ে নয় বছর ধরে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে সবার মুখে মুখে সাইফুজ্জামান শিখরের নাম। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে এলাকায় উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা জানান দিয়েছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ সহজ হবে বলেই এলাকায় আলোচনা আছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের উপ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাতকানিয়া-লোহাগড়ার মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে আছেন। এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় এই নেতা। গাজীপুর-৩ আসনের বর্তমান এমপি এডভোকেট রহমত আলী বয়সে রোগে ন্যূব্জ। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সেক্ষেত্রে পারিবারিক কারণে এগিয়ে রয়েছেন তার ছেলে জামিল হাসান দুর্জয়। পিতার পাশাপাশি তিনি এলাকার নেতা-কর্মী ও জনগণের সাথে কাজ করছেন। নেত্রকোনা-৫ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার তুহিন আহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় আছেন। বছরের পর বছর সময় দিয়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তিনি গ্রহণযোগ্য অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সব মিলিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগের জয় সহজ হবে বলে অনেকে মনে করেন। ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান দোলন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিয়মিত সামাজিক কর্মকাণ্ড করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন তিনি। পেশাজীবী দোলনই হতে পারেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং ভোটারদের ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার। তৃণমূলে এটিই এখন জোর আলোচনা। এ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আরো আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত সিকদার। তিনিও এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। এনামুল হক শামীম, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সাইফুজ্জামান শিখর, ইকবাল হোসেন সবুজ, আরিফুর রহমান দোলন ও লিয়াকত সিকদারই নন,আরও অর্ধশত তরুণ প্রার্থী এলাকায় জোর সম্ভাবনা জাগিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের ভোট টানতে তাদের অনেকেই এবার দলের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রার্থী হতে চাইছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। টাঙ্গাইল-৬ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা তারেক শামস হিমু। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য। নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান। এ আসনে এবার দলের তৃণমূলে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে মশিউজ্জামান খান রুমেল। তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:

ব্যাংকিং খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক

ব্যাংকিং খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক

ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকগুলো সিএসআর বাবদ ব্যয় করেছে ৬২৭ কোটি টাকা, যা এর আগের ছয় মাসে ছিল ৪১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ছয় মাসে ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২১০ কোটি টাকা।

৬ মাসে ৬০০ কোটি টাকার অধিক সিএসআরের নামে লুটপাট হয়েছে। নির্বাচনী বছর হওয়ায় যত্রতত্র ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় অস্বাভাবিক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্ধশতাধিক পরিচালক ও চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন। তাই প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কাজে খরচ করছেন তারা। 

হঠাৎ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচের খাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ টাকার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। সাধারণত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, সংস্কৃতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আয়বর্ধক কর্মসূচি ও অন্যান্য খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনী বছর হওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে।

এব্যাপারে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের অনেক চেয়ারম্যান এবং পরিচালক সিএসআরের অর্থ নির্বাচনী প্রচারে ব্যায় করছেন। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্ধশতাধিক পরিচালক ও চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন। তাই প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কাজে খরচ করছেন তারা।

এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সিএসআর খাতে ব্যয় বেশি হলে ক্ষতি নেই। তবে খতিয়ে দেখতে হবে এর কোনো অপব্যবহার হয় কি না। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে দেখতে পারে।

একটি ব্যাংকের সাবেক এক এমডি জানান, সিএসআরের নামে লুটপাট হয়েছে। আমার দীর্ঘ এমডি জীবনে ৬ মাসে ৬০০ কোটি টাকার অধিক সিএসআর ব্যয় দেখিনি। নির্বাচনী বছর হওয়ায় যত্রতত্র ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় অস্বাভাবিক। প্রতিটি ব্যয় নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক অস্বাভাবিকভাবে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করেছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় করেছে ২৭৫ কোটি টাকা। এর আগের ছয় মাসে এ ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল মাত্র ৪৭ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২২৮ কোটি টাকা। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকেও হঠাৎ সিএসআরের ব্যয় বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে ব্যাংকটি ১ কোটি ১১ লাখ টাকা সিএসআর বাবদ ব্যয় করেছে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংক এভাবে ব্যয় করেনি। এমন কি জনতা ব্যাংকেও এর আগের ছয় মাসে সিএসআরে ব্যয় ছিল মাত্র ৫ লাখ টাকা। ব্যাংকটির সিএসআরের টাকা নির্বাচনী প্রচারণায় খরচের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, অস্বাভাবিকভাবে সিএসআর ব্যয়ের তালিকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬ কোটি ২৯ লাখ থেকে বেড়ে ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, নতুন একটি ব্যাংকে ২ কোটি ২৪ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১১ কোটি ৪০ লাখ থেকে বেড়ে ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এবি ব্যাংকে ৯ কোটি ৫ লাখ থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংকে ৮ কোটি ৯১ লাখ থেকে বেড়ে ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ২ কোটি ৬৫ লাখ থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬৭ লাখ থেকে বেড়ে ১০ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং এক্সিম ব্যাংকে সিএসআর ব্যয় ২৫ কোটি ২৭ লাখ থেকে বেড়ে ৩৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হয়েছে। এছাড়া দুটি ইসলামী ব্যাংকে যথাক্রমে ৩ কোটি ৮৯ লাখ থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ১২ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা সিএসআর ব্যয় হয়েছে। এর বাইরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ৪২ কোটি ২৭ লাখ থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং এনসিসি ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ৮ কোটি ৮৭ লাখ থেকে বেড়ে ৯ কোটি ৬ লাখ টাকা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা ও ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এবার অধিকাংশ ব্যাংক তা মানেনি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে নিয়ম মেনে শিক্ষায় ব্যয় করেছে মাত্র ৮ ব্যাংক। আর স্বাস্থ্য খাতে খরচের নিয়মের মধ্যে রয়েছে ৫ ব্যাংক। যদিও ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় এবার সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় করেছে।

কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা কোম্পানীর সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা  হচ্ছে নৈতিক এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের অংশ যা রাষ্ট্রের উন্নয়ন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে সমাজে বৃহত্তর মঙ্গল সাধন করে। 

ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা

চাই সমন্বিত নীতিমালা

জামাল উদ্দীন

যে সমাজে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করে মুনাফা করে—সে সমাজের প্রতি তথা ভোক্তা/ক্রেতার প্রতি ঐ কোম্পানিরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যদিও ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ মুনাফা করা। কিন্তু যে শ্রেণিকে পণ্য কিংবা সেবা দিয়ে মুনাফা করছে—সেই বিশাল জনগোষ্ঠী যদি সামর্থ্যহীন হয়ে পড়ে—তবে ভবিষ্যত্ মুনাফা এমনকি ব্যবসাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। মানে ক্রেতা/ভোক্তাদের কিছু সুবিধা দিতে হবে। সেটা হতে পারে তার স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য, শিক্ষার জন্য, কিংবা কোনো অবকাঠামো উন্নয়নেও কোম্পানি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তাতে কোম্পানির ব্যাপক প্রচারের সুযোগ হয়। ক্রেতা ভোক্তাদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়। একটি সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। আধুনিক সিইওরা এটাকে দেখছেন ব্যবসা প্রসারের হাতিয়ার হিসেবে। যেহেতু তার লক্ষ্যই হচ্ছে মুনাফা করা। অ্যাডাম স্মিথ যেমন বলেছিলেন, ভোক্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যতীত ব্যবসায়ীরা একত্রিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র বলতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে বুঝিয়েছেন তিনি। বর্তমানে কোম্পানিগুলো সিএসআরকে (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) দেখছে তাদের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে। এখাতে বিনিয়োগের চেয়ে বরং রিটার্নই বেশি। আরেকটি ধারণা রয়েছে যে, কোনো কোম্পানি আস্থা অর্জন করতে পারছে না। আস্থা এমন এক বিষয় যা অর্জিত না হলে যত ভাল পণ্য বা সেবা বাজারে ছাড়ুক না কেন, ক্রেতারা নেবে না। ক্রেতাদের এই আস্থা অর্জনের জন্যও উন্নত বিশ্বে কর্পোরেট হাউজগুলো কিছু ভাল কাজে অর্থ ব্যয় করে। এতে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তার ইমেজ বৃদ্ধি করে। নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যাদের জন্য পণ্য/সেবা দেয়া হচ্ছে, সেই জনগোষ্ঠী যদি সুস্থ না থাকে, কিংবা তাদের উত্পাদনশীলতা কমে যায়, তাহলে তাদের আয় কমে যাবে। তখন প্রত্যাশিত হারে পণ্য বা সেবা গ্রহণ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে কোম্পানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং ক্রেতাগোষ্ঠীর জন্য মুনাফার কিয়দংশ ব্যয় করে ভালবাসার যোগ্য হয়ে উঠার সুযোগ তৈরির কৌশল গ্রহণ করা যায়। ক্রেতা তখন সহজে ঐ পণ্যে বিমুখ হয় না। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি মঙ্গলজনক হয়েছে। যেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শৈথিল্য, কিংবা সমাজের অনেক প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অর্থায়ন সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না—সেখানে সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। সামাজিক অংশীদারিত্বের এই মডেল ভারসাম্য পরিবেশ গড়তেও সহায়ক হয়। ‘এটি এমন এক ব্যবসায়িক পন্থা যা সকল স্টেকহোল্ডারের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুবিধাদি প্রদান করে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখে’। সিএসআরের সঙ্গে হাল-আমলে নতুন ধারণার জন্ম হয়েছে। তা হচ্ছে সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ইনভেস্টিং বা সামাজিক দায়বদ্ধতা বিনিয়োগ। সেটা বাংলাদেশ পর্যন্ত আসতে সময় লাগতে পারে। সিএসআরের এই আলোচনা মূলত ব্যবসাকে টেকসই করার জন্যই। এখানেও সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। মূল পার্থক্যটা হচ্ছে- সিএসআর একটি কোম্পানি সামাজিক অগ্রগতিতে কী অবদান রেখেছে তা যাচাই করা। অন্যদিকে, সাসটেইনেবিলিটি, সামনের নতুন নতুন বাজার তৈরি এবং ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যত্ নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই এর মূল বিষয়। যে কারণে উন্নত বিশ্বে আগে থেকেই সিএসআর প্রথা চালু রয়েছে। আমাদের এখানে অনেকেই ফিলানথ্রপি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, সিএসআর বাংলাদেশে কোনো নতুন ধারণা নয়। ব্যবসা ও ব্যবসায়ীরা সবসময়ই সমাজে অনুদান, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার মাধ্যমে তাদের সুনাম সৃষ্টি করতে চায়। যদিও এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে করা হয় না। সে কারণে এই ধারণার বিপক্ষ মতও রয়েছে। এই শ্রেণি আবার ফিলানথ্রপিকে সিএসআরের মধ্যে গণ্য করেন না। তবে বাংলাদেশে সিএসআর কার্যক্রম দেরিতে হলেও হচ্ছে। কোম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুরোপুরি সমাজভিত্তিক না করে তারা কোম্পানির দায়বদ্ধতা মেনে সংশ্লিষ্টদের শুধু সেবা দিতে চায়। অন্যদিকে, আইনি চাপে কোম্পানিগুলো সিএসআরে অর্থ খরচ করে থাকে। দেশে সিএসআরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান দেখা যায় তৈরি পোশাক শিল্পে, যা মূলত ক্রেতাদের চাপে হয়ে থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নিয়ম-নীতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করে। একথা সত্য যে বাংলাদেশে এখন কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে। এই অংশগ্রহণ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। এটারও একটা ব্যয় আছে। আবার না করারও ব্যয় আছে। এখন প্রশ্ন হলো কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা করা। তাহলে সিএসআর করলে কী পরিমাণ ব্যয় করবে, তাদের মুনাফার কত অংশ হতে পারে, সেটা স্পষ্ট নয়। আগেই বলেছি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে মুনাফার জন্য। তারা সিএসআর করবে কেন? আবার অনেকেই বলছেন এটা ব্যবসার অংশ। আবার ইথিকেল বা নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে আসে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনৈতিক কাজ করবে সেটাও বাঞ্ছনীয় নয়। সেজন্য আজকের ম্যানেজাররা এ বিষয়ে সচেতন। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যারা প্রতিযোগিতায় আছেন, তারাই সিএসআর কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এটা যদি পার্ট অব বিজনেস হয় তবে সবার করা উচিত। আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে রেগুলেটরি চাপে সিএসআরে ব্যয় হচ্ছে। তবে এই ব্যয়র স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় গাইডলাইন জারি করেছে। কিন্তু যারা সরাসরি কোনো সংস্থার অধীনস্থ নয়, তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জেনারেলি, অনেক ক্ষেত্রে লিগ্যাল কমপ্লায়েন্স নেই, কমিউনিটির চাপও নেই। ২০১৫ সালে ব্যাংকগুলো ৫২৮ কোটি টাকা সিএসআরের নামে ব্যয় করেছে। ২০১৬ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫১০ কোটি টাকা। আগেই বলেছি, সিএসআরের অর্থ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সবাই জানেন, জনতা ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম নিয়ে অর্থমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে তত্কালীন চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রীর নানা মন্তব্য আমরা পেয়েছি। যদিও জনতা ব্যাংক একটি বই আকারে তার প্রদেয় অর্থের হিসাব প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন ছিল—একজনকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিলাম— সেটা কি সিএসআর হবে? ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৩ জুন ২০১৫ সালে এক সার্কুলারে শুদ্ধাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক প্রচার কার্যক্রমে ব্যয়কে সিএসআরের ব্যয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সিএসআরের ব্যয় নিয়ে প্রতি ছয় মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে রিপোর্ট করতে হয়। একটি বিভাগও এখানে খোলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আপডেট করা সিএসআর গাইডলাইনে যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হলো— স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সবুজায়ন উদ্যোগে অর্থ ব্যয়, জরুরি দুর্যোগকালীন ত্রাণ, পরিবেশগত খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ ও সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য শৈল্পিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, খেলাধূলা ও বিনোদন সুবিধাও সিএসআরের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এখন মনিটরিংয়ে জোর দেওয়া দরকার। এছাড়া, সিএসআরের জন্য কর রেয়াত সুবিধাও রয়েছে। সেখানে সত্যিকারের সিএসআর করে কর রেয়াত নেওয়া হচ্ছে, নাকি সিএসআরের ব্যয় দেখিয়ে কর রেয়াত সুবিধা নেওয়া হচ্ছে— সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। সিএসআরের জন্য সমাজের অন্য পেশার লোকদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। যেমন শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এখানে ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন। নৈতিকতা, মুনাফা ও আইনের সামঞ্জস্য রক্ষার আলোচনা তিনি শ্রেণিকক্ষে করতে পারেন। এখান থেকেই ভবিষ্যতের সিইওরা কর্মক্ষেত্রে তা প্রতিপালন করতে পারবেন। ক্লাসরুম থেকেই একটি জেনারেশন গড়ে তোলা সম্ভব— যারা কর্মজীবনে এর চর্চা করবে। অন্যদিকে, মানুষেরা যখন ভাবে, ব্যবসায়ীরা শুধু মুনাফায় ব্যস্ত, তখন এধরনের নেতিবাচক মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ী নেতাদেরও করণীয় রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে এ সত্যিটা অনুধাবন করতে হবে। ব্যবসায়ীরা মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় গুরুত্ব দিতে পারেন, নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন করতে পারেন, কমপ্লায়েন্স মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করতে পারেন ও কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারেন ইত্যাদি। মিডিয়ার ভূমিকা বরাবরই এখানে উল্লেখযোগ্য। মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে। সিএসআরের অর্থ খরচে অনিয়মের যে বিষয়টি আসছে, মিডিয়া সেখানে অনুসন্ধান করতে পারে। রেগুলেটরি বডির ওপর এক ধরনের চাপ প্রয়োগ কিংবা নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকায় মিডিয়া অবতীর্ণ হতে পারে। আবার যেসব করপোরেশন ভালো করছে, তাদের নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা যেতে পারে। তাতে অন্যরা উত্সাহিত হবে। আর যারা সিএসআর কার্যক্রম এখনো চালু করছে না, তাদের সমস্যাদিও সামনে আনতে পারে মিডিয়া। একদিকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে ব্যবসার মুনাফার কিছু অংশ ব্যয় করে সমাজের উন্নয়ন ঘটানোই যখন সিএসআরের উদ্দেশ্য, তখন এর ব্যয় কাঠামোর স্বচ্ছতার জন্য নীতিমালাও জরুরি। আরো কিছু খাত চিহ্নিত করে ব্যয়ের আওতা বাড়াতে হবে। যা টেকসই উন্নয়নের জন্যও সহায়ক হয়। বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এমডিজি অর্জনে যেমন সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ, তেমনি এসডিজি অর্জনেও সফল হতে পারবে যদি সিএসআর খাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থব্যয় করা হয়। এবং সেটি হতে হবে কার্যকর ব্যয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা থাকলে উন্নয়ন কাঠামোয় সিএসআরের অর্থ ব্যয় সার্থক হবে। পরিশেষে বলতে হয়—যেহেতু ব্যবসা সমাজের জন্য, তাই সমাজকে বাদ দিয়ে কোম্পানি টিকে থাকতে পারবে না। তাই কোম্পানিগুলোকে এই বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। আইনী কাঠামো জোরালো করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবসা পরিচালনায় ম্যানেজারদের নৈতিক হতে হবে। শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের সুবিধা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের টিকে থাকার জন্যও সিএসআর খাতের অর্থায়ন দরকার। সর্বোপরি, শুধু অর্থ খরচ করলেই হবে না, যে খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা হবে তার রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা ধারাবাহিকতা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। আরো গুরুত্ব দিতে হবে সিএসআর রিপোর্টিংকে। যদি আইনী কাঠামো করা যায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে আনা যায়— তবে ঐ সংস্থার কাছে ত্রৈমাসিক কিংবা ষান্মাসিক হারে রিপোর্টিং করার ব্যবস্থা করতে হবে। যা এখন শুধু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কিংবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক আয়োজিত সিএসআর বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে পঠিত মূল প্রবন্ধের সার-সংক্ষেপ)। n লেখক :সাংবাদিক

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.