Home সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সপ্তাহব্যাপী এনআরবি সম্মেলন শুরু সিলেটে:

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ২৬টি দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সপ্তাহব্যাপী এনআরবি সম্মেলন শুরু সিলেটে: অনাবাসী বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) নিয়ে সিলেটে প্রথমবারের মতো ‘এনআরবি গ্লোবাল বিজনেস কনভেনশন ২০১৭’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী এক সম্মেলন গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। এতে ২৬টি দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা অংশ নিয়েছেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই) নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও বিভাগীয় কমিশনার নাজমানারা খানুম। অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দরজা খোলা রেখেছেন। বিনিয়োগে উৎসাহী প্রবাসীদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। দেশে এসে যেন কোনো প্রবাসী অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। প্রবাসীদের প্রাধান্য ও পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এই সরকার শুরু থেকেই দিয়ে আসছে। সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বিবিসিসিআইয়ের সভাপতি এনাম আলী, বাংলাদেশ পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, ব্যাংক এশিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান চৌধুরী, সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এ কে আবদুল মোমেন, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম প্রমুখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের উপস্থিতিতে সম্মেলনস্থল মুখর হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী পর্বে আয়োজকেরা জানান, সম্মেলন চলাকালে বিনিয়োগ, পর্যটন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি থাকবে ‘অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনবিআর) অবদান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। সেই সঙ্গে সিলেটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনের নানা পর্বে বিশ্বের ২৬টি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যোগ দেবেন। যেসব দেশ থেকে প্রবাসীরা আসবেন তার মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, সুইডেন, কানাডা, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ডেনমার্ক, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড উল্লেখযোগ্য। (সূত্র: প্রথম আলো)

বন্যাদুর্গত এলাকায় লস এঞ্জেলেসের আনন্দ মেলা কমিটির ত্রাণ তৎপরতা

বন্যাদুর্গত এলাকায় লস এঞ্জেলেসের আনন্দ মেলা কমিটির ত্রাণ তৎপরতা:
সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় দেশের বিস্তীর্ন অঞ্চলের অজস্র মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়ে।  সেই সব বিপন্ন মানুষের পাশে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তি পর্যায়ের নানা রকম সাহায্য অব্যাহত থাকে। সেইসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লস এঞ্জেলসের বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান আনন্দ মেলার আয়োজকবৃন্দও স্বতঃস্ফুর্তভাবে বন্যাদুর্গত সেইসব বিপন্ন মানুষের কল্যাণে হাত বাড়িয়ে দেয়। 
গত ১ সেপ্টেম্বর নাটোরের প্রত্যন্ত অঞ্চল সিংড়ায়
"আনন্দ মেলা” লস এঞ্জেলেসের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সংগঠন বুনো পায়রা ও বাংলাদেশ কমেডী ক্লাবের সহযোগিতায় মিরাক্কেল চ্যাম্পিয়ন আবু হেনা রনির একান্ত প্রচেষ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসিদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও ঈদ উপকরণ সহ শিশুদের নতুন পোষাক এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
কমেডিয়ান আবু হেনা রনি বন্যাদুর্গতদের মাঝে নিজ হাতে ত্রাণ বিতরণ করেন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছিলেন জাকির হোসেন সহ নাটোর কমেডি ক্লাব এর সকল সদস্য।  আবু হেনা রনি বলেন,  মানুষের মুখে হাসি ফুটাতেই তার এই সামান্য প্রচেষ্টা । ঈদের মুখে এই ত্রাণ তৎপরতা বিধায় শিশুদের নতুন পোশাকসহ কিছু ঈদ উপকরণও ছিল ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে। প্রায় দেড়শ টি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, সেমাই, চিনি, গুড়া দুধ ও স্যালাইনের সমন্বয়ে তৈরী প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। গুরুত্বনুযায়ী কিছু পরিবারের মাঝে নগদ অর্থও বিতরণ করা হয়।
 
এছাড়াও আনন্দমেলা কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে গঠিত তহবিলে অনুদান দিয়ে দেশের বন্যার্তদের বহুমুখী সেবা করেছে বলে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী খান মোহাম্মদ আলী জানান। পাশাপাশি এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড একইসাথে চলবে বলেই তিনি জানান। আনন্দমেলা কর্তৃপক্ষের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশি কম্যুনিটিতে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। 
উল্লেখ্য কমেডিয়ান আবু হেনা রনি কিছুদিন পূর্বে লস এঞ্জেলেসের আনন্দমেলায় অনবদ্য পরিবেশনা করে লস এঞ্জেলেসবাসীদের মাতিয়ে যান।

বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর ওপর করপোরেট কর হার তুলনামূলক অনেক বেশি

করপোরেট কর তুলনামূলক বেশি বাংলাদেশে  বাংলাদেশে করপোরেট কর হার তুলনামূলক বেশি। করপোরেট কর হার বেশি হলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হয়। উদ্যোক্তাদের আয়ের বিপুল অংশ কর হিসেবে দিতে হয়। তাই উদ্যোক্তারা করপোরেট কর হার কম হলেই বেশি খুশি হন। বাংলাদেশেও করপোরেট কর কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাজেট পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং করপোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে তুলনা করার ক্ষেত্রে সাধারণত ওই সব দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট হারের সঙ্গেই সাধারণত তুলনা করা হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের করপোরেট কর হার ২৫ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ দেশের কোম্পানিগুলোর খুব বেশি নেই। মাত্র ২৯৬টি কোম্পানি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত আছে।

অন্যদিকে এই পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি কোম্পানি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়ে নিবন্ধিত হয়েছে বলে জানা গেছে। কোম্পানি আইনে গঠিত যেকোনো কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ২৬ হাজার কোম্পানি বার্ষিক রিটার্ন জমা দিয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছাড়া ওই সব কোম্পানিকে ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। তবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর দিতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা অনেক বেশি পড়ে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে কর হার ৩৫ শতাংশ। এর মানে বেশির ভাগ কোম্পানির করপোরেট কর হার বেশি। আবার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানি, সিগারেট কোম্পানির করপোরেট কর হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর ওপর করপোরেট কর হার তুলনামূলক অনেক বেশি। এসব কোম্পানির প্রায় শতভাগই বেসরকারি উদ্যোক্তারা তৈরি করেছেন। যেকোনো দেশে ব্যক্তি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের আগে ওই দেশের করপোরেট কর হার বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগ চিন্তা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর কমানোর দাবি করছি। সে ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ও অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ করপোরেট করার কথা বলছি। এ দেশে করপোরেট কর তুলনামূলক বেশি। করপোরেট কর বেশি হলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যায়।

বহুজাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে করপোরেট কর সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে। আগামী ১ জুলাই থেকে ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৩৫ শতাংশ এবং ছোট কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

ভারতে করপোরেট কর হার ৩০ শতাংশ। এই হার ভারতীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে বছরে ১ কোটি রুপির বেশি আয় হলে ভারতীয় কোম্পানিকে বাড়তি ৭ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। ১০ কোটি রুপির বেশি আয় হলে তাদের ১২ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। অন্যদিকে ভারতে ব্যবসা করে এমন বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর কিছুটা বেশি; ৪০ শতাংশ। আর বিদেশি কোম্পানির বছরে ১ কোটি রুপির বেশি আয় হলে ২ শতাংশ এবং ১০ কোটি রুপির বেশি আয় হলে ৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়।

শ্রীলঙ্কায় করপোরেট কর হার ২৮ শতাংশ। তবে সিগারেট ও মদ আমদানি ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিকে নিজেদের দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি ১০ শতাংশ রেমিট্যান্স কর দিতে হয়।

আফগানিস্তানের করপোরেট কর হার বাংলাদেশের চেয়ে কম; ২০ শতাংশ। কেপিএমজির ওই গবেষণা প্রতিবেদনে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের করপোরেট কর হারের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

কেপিএমজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ করপোরেট কর সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এরপরের স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৪০ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোতে করপোরেট তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সুশাসনের নিশ্চয়তা থাকায় এবং ব্যবসায় করার সুবিধা বেশি; ওই সব দেশে বিনিয়োগ বেশি যায়।

বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনামের কোম্পানি পর্যায়ে কর হার ২০ শতাংশ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ করপোরেট করে ছাড় দেয়। তবে তেল, গ্যাস খাতে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩২ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।

এ ছাড়া মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ায় ২৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১৭ শতাংশ করপোরেট কর বিদ্যমান আছে।

দুর্নীতির মামলায় এমপি বদির ৩ বছরের কারাদণ্ড

 দুর্নীতির মামলায় এমপি বদির ৩ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতির মামলায় এমপি বদির ৩ বছরের কারাদণ্ডঅবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে ৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিনমাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায়ে বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এ সাজা দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালত।
আদালতে হাজির ছিলেন বদি। রায়ের পর পরই সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
২০১৪ সালের ২১ আগস্ট এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক আবদুস সোবহান।
২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে,  নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আব্দুর রহমান বদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে এ মামলা হয়।
অভিযুক্তের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বিমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব বের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
 

দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১০ লাখ

দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য দেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিবছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করে বাংলাদেশ। এবার পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২১ জুলাই বাংলাদেশে জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জনসংখ্যা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'কিশোরীদের জন্য বিনিয়োগ, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা।'

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমাতে কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬১ মিলিয়ন (১৬ কোটি ১০ লাখ)। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও ২ দশমিক ৩। এ হার ২- এ নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দেশে সাড়ে চার কোটি কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী রয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখন কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। আমরা মনে করি, যদি তাদের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেয়া যায়, তাহলে দেশের জনসংখ্যা আর বাড়বে না।'

তিনি বলেন, 'সরকার মেয়েদের সব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, সমাজে শিক্ষিত মা তৈরি হলে একদিকে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমে আসবে, অন্যদিকে জনসংখ্যাও বাড়বে না।'

কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে দেশের ১০০টি সেবাকেন্দ্রে কিশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান জাহিদ মালেক।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একই জায়গায় থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৩ থেকে ২- এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনার সেবা দেয়া বন্ধ করা হয়নি। আগের চেয়ে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো হওয়ায় লোকজন নিজেরাই সেবাকেন্দ্রে চলে আসেন। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার ততটা প্রয়োজন হয় না। এরপরও প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি যাওয়া আরও বাড়ানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ওয়াহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

চুলের জন্য তেল কতটা জরুরি?

চুলের জন্য তেল কতটা জরুরি?

চুল নিয়ে ভুল ধারণা অনেকের। যেহেতু সৌন্দর্য রক্ষায় কিংবা বর্ধনে চুল বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, ফলে চুলের প্রতি অনেকেই খুব যত্নশীল। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, চুলের এই বাড়তি যত্নের মধ্যে অধিকাংশই সত্যিকার অর্থে চুলের কোনো কাজে আসে না। যেমন অনেকেরই ধারণা, তেল চুলের পুষ্টি যোগায় ও চুল পড়া বন্ধ করে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক মতামত হচ্ছে যদিও চুলের যত্নে তেলের ব্যবহার অতি প্রাচীন কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, চুলে তেল ব্যবহারে কোনো লাভ হয় না। তেল চুলের কোনো পুষ্টির কাজে আসে না। চুলের পুষ্টি চুল শিকড়ের মাধ্যমে শরীর থেকেই গ্রহণ করে। চুলের তৈলাক্ততা বৃদ্ধি বা রক্ষার করার জন্য মাথার ত্বকে অবস্থিত সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই তৈলাক্ত পদার্থের মাধ্যমে চুল নিজেই নিজের সৌন্দর্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়। কাজেই চুলের সৌন্দর্য রক্ষায় তেলের দরকার নেই। অনেকে মনে করেন, তেল চুল পড়া বন্ধ করে-এ ধারণাটিও ভুল। চুল পড়ার অনেক কারণ আছে। এ সব কারণের কিছু কারণ চিকিৎসাযোগ্য আর কিছু রয়েছে অচিকিৎসাযোগ্য। তেল চুল পড়ার চিকিৎসায় কার্যকরী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে কখনো বিবেচিত হয়নি। চুলে তেল ব্যবহারে পুষ্টিগত কোনো লাভ নেই। কিন্তু তেল ব্যবহারে কখনো কখনো চুলের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তেলের পিএইচ কম হলে অর্থাৎ তেলের এসিড মাত্রা বেশি থাকলে সে ক্ষেত্রে চুল লালচে হয়ে যায়। আর এটি ধরা পড়ে চুলে যখন তেল দেয়া বন্ধ করা হয় তখনই। হালকা রঙের কাপড় ভেজা অবস্থায় যেমন গাঢ় রঙের দেখায়, শুকালেই ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে, চুলের লালচে ভাবের ক্ষেত্রেও এই ভ্রান্তি ঘটে। কাজেই তেল চুল কালো করে বলে য়ে ধারণা করা হয় সেটিও মিথ্যা। চুলে ভিটামিন যুক্ত তেল কিংবা পুষ্টিকর ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার(যেমন-ডিম) মাখলে চুল সুন্দর হয়- এমন ধারণা অনেকের। এ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক সত্য হলো, চুল পুষ্টি সংগ্রহ করে শেকড়ের মাধ্যমে। শেকড় জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত থেকে এই পুষ্টি গ্রহণ করে। চুলের যাবতীয় পুষ্টি আসে রক্ত থেকে। তাই চুলে পুষ্টি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য খাবারে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খনিজ পদার্থ গ্রহণ করতে হবে। আমরা যে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করি তা সরাসরি শরীরের কাজে লাগে না, খাদ্যদ্রব্য মুখ থেকে পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র পর্যন্ত হজমের জটিল প্রক্রিযার পর তা শরীরের কাজে আসে। কাজেই সরাসরি কোনো খাদ্যদ্রব্য চুলে মেখে লাভ হবে না। তাছাড়া চুল বাইরে থেকে কোনো ধরণের পুষ্টি উপাদান বা ভিটামিন গ্রহন করার ক্ষমতা রাখে না। যে কারণে চুলের গায়ে দুনিয়ার যাবতীয় পুষ্টি ও ভিটামিনের ভাণ্ডার ঢেলে দিলেও কোনো লাভ হবে না। সুতরাং তেলে ভিটামিন থাকলেই কী আর না থাকলেই কী! কাজেই পুষ্টিকর খাবার মাথায় না ঢেলে পেটে চালান করলে অনেক লাভ হবে। আর তেলের বিজ্ঞাপনে যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয় সেগুলো অধিকাংশই মিথ্যা- বিজ্ঞাপনের ফাঁদ।

ওজন কমাতে ডায়েট নয়, ব্যায়ামই সেরা

ওজন কমাতে ডায়েট নয়, ব্যায়ামই সেরা

বিশ্বব্যাপী স্থূলতা এবং কার্ডিওভ্যাসকুলার রোগের মহামারী ঠেকাতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম এসব রোগ প্রতিরোধে ‘ম্যাজিক বুলেট’ হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি একটি জার্নালে মার্কিন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের দেয়া তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের পরিসংখ্যান হতাশাজনক। মাত্র ২০ শতাংশ আমেরিকান(২৩ শতাংশ পুরুষ এবং ১৮ শতাংশ নারী) পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম করেন এবং ৬৪ শতাংশ নাগরিক কখনোই শারীরিক ব্যায়াম করেননি। ইউরোপের অবস্থাও নৈরাশ্যজনক। মাত্র ৩৩ শতাংশ ইউরোপিয়ান নাগরিক পর্যাপ্ত ব্যায়াম করেন। আর ৪২ শতাংশ নাগরিক কখনোই শারীরিক ব্যায়ামে অংশগ্রহণ করেনি। কার্ডিওলজি জার্নালের সম্পাদকীয়তে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চার্লস ই. শ্মিট কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপকরা যাবতীয় তথ্য প্রমাণ মূল্যায়ন করেন। সহ-লেখক অধ্যাপক চার্লস হেনিকেন্স বলেন, যদি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের বিষয়টি একটি পিল বা বড়ি হত তাহলে সম্ভবত সবাই গ্রহণ করত। মধ্য বয়সে শরীরের ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতা কার্ডিওভ্যাসকুলার রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অস্টিওআর্থাটিস, অন্ত্রের ক্যানসারসহ অন্যান্য সাধারণ এবং মারাত্মক ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমানো ছাড়াও রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হার্ট অ্যাটাক, ট্রাইগ্লিসারাইড, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, প্রোটেস্ট ক্যানসার, বাত, মেজাজ, শক্তি, ঘুম এবং যৌন জীবনে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে বলে লেখক চিহ্নিত করেছেন। এত উপকার সত্ত্বেও লোকজন নিয়মিত ব্যায়ামে আগ্রহী নয় কেন? এই সম্পর্কে অধ্যাপক চার্লস হেনিকেন বলেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের জন্য চেষ্টা এবং সময় দরকার। ব্যায়ামের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা সম্পর্কে সীমিত সঠিক জ্ঞান বসে থাকার লাইফস্টাইলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপের ৪২ শতাংশ নাগরিক স্বীকার করেছেন, ব্যায়াম না করা পিছনে তাদের বসে থাকা লাইফস্টাইল দায়ী। এফএইউ কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও সহ-লেখক ডা: স্টিভেন লুইস বলেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের ভূমিকা নিয়ে প্রচুর ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ব্যায়ামের সময় ক্যালোরি গ্রহণ এবং ক্যালোরি ঝরানো। ফলে, ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের পরিবর্তে ক্যালোরি নিষিদ্ধ ডায়েট গ্রহণ করতে বলা হয়। এটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। সূত্র: ডেইলি মেইল।  

জজ মিয়ার পুনরুত্থান

জজ মিয়ার পুনরুত্থান

আমীর খসরু

Coverওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন প্রেরিত একটি প্রতিবাদ ছাপা হয়েছে প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ ৯ অক্টোবর। গত ৫ ও ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের চলতি পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন,যেখানে মৌলবাদ-জঙ্গীবাদের প্রসঙ্গ ছিল, তার প্রতিবাদ জানাতেই রাষ্ট্রদূত ওই প্রতিবাদ পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবাদপত্রে জিয়াউদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জঙ্গীবাদ উত্থান দমনে। সাথে সাথে তিনি একটি তথ্যও দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে,বাংলাদেশে ২০১৩ সালে জঙ্গীবাদ সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪শ ৪জন,যা বর্তমান বছরে এসে দাড়িয়েছে ৩৭ জনে।

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক বিষয়াবলী দেখভাল করা সামান্য দু’একজন ব্যক্তির একজন। এ্যম্বাসেডর অ্যাট লার্জ পদ নিয়েই ব্যাপক ক্ষমতাশালী ছিলেন। এখনো আছেন। পররাষ্ট্র বিষয়ক নীতি-নির্ধারকদের তিনি এখনো একজন। কাজেই জিয়াউদ্দিন যা বললেন, তাতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিই আরও বেশি এবং ব্যাপকতর মাত্রায় প্রতিফলিত হবে- তাই স্বাভাবিক। জিয়াউদ্দিন তার যে তথ্য দিয়েছেন তাতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালে একদলীয় ও ভোটারবিহীন নজির সৃষ্টিকারী নির্বাচন প্রতিহত করা অর্থাৎ এ কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষমতাসীনদের হাতে যে সব রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, তাদের সবাইকেই তিনি জঙ্গীবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দোষর বলে অভিহিত করেছেন। একটি একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচন যে সরকার করছে বা করে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে জঙ্গীবাদকে বর্তমান সরকার সমার্থক ও একাকার করে ফেলেছে। আর এই বছরের যে ৩৭ জনের হিসাব দেয়া হয়েছে তাদেরও ওই একই অবস্থা। এই তথ্য সম্বলিত জিয়াউদ্দিনের বক্তব্যে একটি বিষয় আরও একবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের পক্ষে না থাকায় যাদের জীবন কেড়ে নেয়া হয় তারাই জঙ্গী। আর কথা বলাটাই হচ্ছে জঙ্গীবাদ এবং জঙ্গীবাদে উস্কানি। তাহলে এই প্রশ্নও উত্থাপন জরুরি যে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, অপহরণ, গুমসহ যেসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটছে তাও কি ওই একই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত হবে?

এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ইটালীয় নাগরিক সেজার তেভেলা ও জাপানি নাগরিক কোনিও হোশি’র হত্যাকান্ডের তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে বলে দিয়েছিলেন, এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। দেশে এসে তিনি তার সন্দেহের তীরটি আরও তীক্ষ্ণ এবং সুনির্দিষ্ট করে বললেন, এটা বিএনপি নেত্রীই ঘটিয়েছেন। ১০ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশে অস্থিতিশীলতা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিদেশীদের হত্যা করছেন এবং এটা তার নতুন কৌশল’। এর আগেও কোনো না কোনো ঘটনা ঘটলেই সরকারের পক্ষ থেকে এমনটা বলা হয়েছে এবং সমাবেশ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে, যার আদ্যপান্ত দেশবাসীর জানা আছে।

২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে গ্রেনেড হামলায় বিএনপি ‘জজ মিয়া’কে আবিষ্কার করেছিল। কিন্তু এবার অতো খোজাখুজির প্রয়োজন পড়েনি। এবার খালেদা জিয়া স্বয়ং ‘জজ মিয়া’ হয়েছেন ।

প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান নির্বাহী। তার যেকোনো বক্তব্যে স্বাভাবিক কারণেই সত্য এবং প্রমাণাদিসমৃদ্ধ হবে বলেই সবার ধরে নেয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে যে শুধু তার দলের বা ক্ষমতাসীনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তা নয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছোট বড় কর্তাদের মুখ থেকেও একই ধারার বক্তৃতা এবং মন্তব্য শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপি বা অন্য যে কেউ জড়িত হোক না কেন তার বিচারে বাধা কোথায়? যদি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কাছে প্রমাণাদি থাকে তাহলে অতিঅবশ্যই তাকে বা তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। কারণ এতো বড় ঘটনার জন্য তারা দায়ী হলে বিচার করে পুরো বিষয়টির সুরাহা হওয়া দরকার। কারণ তা না হলে এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটতে থাকবেই। আর যদি তা করা না হয় তাহলে জজ মিয়া বানানোর মাধ্যমে দেশের ক্ষতি করার কোনো নৈতিক যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না।

কিন্তু দু’জন নাগরিক হত্যাকান্ডের তদন্ত কাজের অগ্রগতি কতোটুকু? ২৮ সেপ্টেম্বর নিহত হন ইটালীয় নাগরিক সেজার তাভেলা এবং ৩ অক্টোবর জাপানি নাগরিক কোনিও হোশি। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দৌড়ঝাপ, তদন্ত কমিটি গঠন,জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানাজনকে আটক, আবার ছেড়ে দেয়াসহ অনেক কিছুই দৃশ্যমাণ হচ্ছে। কিন্তু অগ্রগতি হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো আশাবাদের খবর নেই, নেই কোনো সুসংবাদ।

এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে না যে, এতোদিন জঙ্গীবাদের বিষয়টি কমবেশি দেশী জঙ্গীগোষ্ঠীকেন্দ্রীক সীমাবদ্ধ ছিল। এ বছরে ৪ জন ব্লগার হত্যার পরে আল-কায়েদার ভারতীয় শাখার নাম এসেছে। ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর পরোক্ষ যোগসাজশের কথাও শোনা গেছে। দুই বিদেশী হত্যাকান্ডের পরে এবার সরাসরি আইএস-এর দায় স্বীকার ও সম্পৃক্ততার খবরটি চলে এসেছে। কাজেই জঙ্গীবাদের বিপদটি যে ‘বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে’ বলে এখন আর সেই রাখার বালকের গল্পে সীমাবদ্ধ নেই তা বোধকরি স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে। শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থাগুলোও এখন নিদারুনভাবে উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন কূটনৈতিক মহলও।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার যখন ২৫ সেপ্টেম্বর সতর্কবার্তা জারি করে তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই সতর্কবার্তা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক বক্তব্য দিয়েছিল আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা। এর পরে দুর্ভাগ্যজনক ও অনাকাংখিত প্রথম ঘটনাটি ঘটার পরে এবং আইএস-এর দায় স্বীকারের পরে শুরু হলো ভিন্ন পন্থা গ্রহণ। তদন্তের আগেই একযোগে বলা হতে থাকলো আইএস নেই বাংলাদেশে। যে সংস্থাটি ওয়েবসাইটে এই বার্তাটি প্রচার করলো তাদের সম্পর্কেও নানাবিধ নেতিবাচক মন্তব্য করা শুরু হলো। জাপানি নাগরিক হত্যার পরেও যখন আইএস দ্বায় স্বীকার করলো তখন আরও জোরালেভাবে বলা হতে থাকলো, আইএস নেই বলে একই কথা। আর এ সবই করা হলো কোনো প্রকার সুষ্ঠু তদন্তের আগেই। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট জোর দিয়েই বললেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশকে তদন্ত কাজ করতে হবে। অর্থাৎ এর মধ্যদিয়ে স্পষ্ট যে, এক, আইএস কি সরাসরি বাংলাদেশে সক্রিয় অথবা যদি সরাসরি সক্রিয় না থাকে তাহলে তারা কি স্থানীয় কোনো বা একাধিক জঙ্গী সংগঠনকে মদদ দিচ্ছে? দুই, আইএস-এর সাথে ব্যক্তি পর্যায়েও কি কোনো যোগাযোগ কারো সাথে রয়েছে? তিন, যদি এটা নাই হয়ে থাকে তাহলে স্থানীয় জঙ্গীরা এ কাজ করেছে কিনা? চার, যদি প্রথম তিনটির একটিরও হদিস না মেলে তাহলে দেখতে হবে অভ্যন্তরীণভাবে কেউ জড়িত কিনা?

এসব কোনো কিছুই না করে সরাসরি সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া হলো বাংলাদেশে আইএস নেই। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে - এটা কি স্থানীয় পর্যায়ের জঙ্গীদের কর্মকান্ড? এরও কোনো জবাব দেয়া হলো না। ঢাকায় পশ্চিমা কূটনীতিকরা তাদের নিজ নিজ উদ্যোগে খবরাখবর নেয়ার কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আইএস আছে কি নেই তার খোজ-খবর তারা নিচ্ছেন। এর পরের দিনই রাষ্ট্রদূত বললেন, আইএস মোকাবেলায় তার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সাথে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, আইএস নেই। তিনি ইঙ্গিত করলেন, তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এমন বক্তব্যের পরে আর তদন্তের প্রয়োজন পরে কি না সে প্রশ্নটি অনেকেই উত্থাপন করেছেন। তাহলে প্রশ্ন উত্থাপন জরুরি যে, দেশে অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের অস্তিত্বও এখন আর আছে কিনা? এ বিষয়টিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে সহি মনে সত্যিকার অর্থেই আমি সেই বিশ্বাসীদের দলে থাকতে চাই, যারা বিশ্বাস করে দেশে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গী সংগঠন নেই। কিন্তু বিশ্বাস স্থাপন করাটা কষ্টকর হচ্ছে এই কারণে যে, তাহলে আইএস-এর সদস্য সংগ্রহকারী বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যাকে গ্রেফতার করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তিনি এবং তার অন্যান্য সাঙ্গপাঙ্গরা কারা? ওই ব্যক্তিসহ আইএস-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৫ বা ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে কেন? এদের গ্রেফতারের পরে সংবাদ সম্মেলন করে আইএস-এর সাথে সম্পৃক্ততার কথা বার বার বলা হয়েছে। এই প্রশ্নটিও উত্থাপন করতে হবে যে, কেন আইএস সমন্বয়কারী হিসাবে গ্রেফতারকৃত সাখাওয়াতুল কবীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গ্রহণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা শুরু করবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএস বা আল কায়েদা যে সব সময় নিজেরা সরাসরি এসে তাদের তৎপরতা চালায় তা নয়। তারা স্থানীয় পর্যায়ের জঙ্গী সংগঠনগুলোর সাথেও সম্পৃক্ততা গড়ে তোলে। জাপানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ গত ৬ অক্টোবর খবর দিয়েছে যে, আইএস-এর বাংলাদেশ শাখা জাপানি নাগরিক হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বলে আইএস পরিচালিত এক অনলাইন রেডিওতে দাবি করা হয়েছে। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ বা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ২৫ থেকে ৩০ জন আইএস-এ যোগদানের জন্য সিরিয়াসহ ওইসব দেশে পৌছেছে।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই পশ্চিমী দুনিয়ার দেশ এবং জাপানসহ ঢাকাস্থ বহু দূতাবাস যে সতর্কবার্তা জারি করেছে তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য কোনোক্রমেই সুখকর নয়। সবশেষ ৯ অক্টোবর রাতে বৃটেন যে সতর্কবার্তাটি জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের হুমকি রয়েছে বাংলাদেশে। ‘পশ্চিমাদের উপর নতুন করে নির্বিচারে হামলা’ হতে পারে বলেও ওই সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্যদের চলমান সতর্কবার্তাগুলোও সতর্কতামূলক বাণীতে পূর্ণ।

এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ৫ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই তারা তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে আগে-ভাগেই সতর্কতামূলক তথ্য ও খবরাখবর দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ অক্টোবর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারকে বিদেশী কেউই এমন সতর্কতামূলক আগাম তথ্য দেয়নি।

জঙ্গীবাদের এই সব ঢামাঢোলে ইতোমধ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টসহ অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থা চললে আগামীদিনগুলোতে কি পরিস্থিতি দাড়াবে বলা মুশকিল।

কিন্তু সরকার এসব বিষয়গুলো কোনো ধরনের বিবেচনায় না নিয়ে, দেশ এবং জনগণের ভবিষ্যত চিন্তা না করে, জঙ্গীবাদের ভিন্ন তত্ত্ব হাজির করেছে। আর সে বিপজ্জনক তত্ত্বটি হচ্ছে - সরকারের বিপক্ষে হলেই তারা জঙ্গী। তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বখ্যাত প্রখ্যাত পন্ডিত-দার্শনিক নোয়াম চমস্কি তার সাক্ষাতকার ভিত্তিক বই Perilous Power বই-এ (পৃষ্ঠা-১৩)বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদকে ব্যবহার করে দুনিয়ার অর্ধেক নিপীড়নকারী সরকারি প্রশাসন উপকৃত হয়েছে। কারণ একে ব্যবহার করে নির্যাতন, নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের সুযোগ পাওয়া যায়।।

প্রকাশক: আমাদের বুধবার

কম্পিউটারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ৪ মিনিটের ব্যায়াম

কম্পিউটারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ৪ মিনিটের ব্যায়াম

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০১৫
Computer_Excercise_sm_22221দিনে দিনে আরও কম্পিউটার পৌঁছে যাচ্ছে টেবিলে টেবিলে। এরই মধ্যে কম্পিউটার নির্ভরও হয়ে পড়েছে অনেক কাজ, অনেকের কাজ। ফলে দিনের কর্মঘণ্টার অনেকটা সময়ই কেটে যাচ্ছে কম্পিউটারে। আর কাজ শেষেও আছে ফেসবুক। অনলাইনে খবর পাঠ বাড়ছে। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে কম্পিউটারে সময় কাটানোর সময়। উন্নয়নের ইন্ডিকেটর হতেই পারে এই এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন কম্পিউটারে সময় কাটানো যত বাড়ছে, সমান কিংবা তারও চেয়ে গতিতে বাড়ছে এই কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি। আপাত বা তাৎক্ষণিক সমস্যা না হওয়ায় অনেকেই হয়তো এতে গা করছেন না। কিন্তু স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বার উচ্চারণ করছেন সচেতনতার কথা। এ নিয়ে তারা নানাবিধ সচেতনতামূলক পরামর্শও দিচ্ছেন। কাজের ব্যস্ততা ভেবে সে পরামর্শ মোতাবেক কাজটি করতে যাতে সময় বেশি না লেগে যায় সেদিকটা ভেবেও দিচ্ছেন ব্যবস্থাপত্র। তেমনই একটি ব্যবস্থা দিচ্ছে বাংলাহেলথ টিপস নামের একটি সংগঠন। তাতে মাত্র চার মিনিটের ব্যায়াম দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কম্পিউটার ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতেই এই ব্যায়াম। তাহলে দেখা যাক ব্যায়ামগুলো কি। ছবিতে দেখুন: খুব সহজ ও স্বাভাবিক। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করছেন? তাহলে এইবার একটু থামুন। ১ নং ব্যায়ামটি দেখুন। পেছনের চেয়ারে হেলান দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল আটকে নিন হাতের তালুর দিকটি বাইরে রেখে। এবার দুই হাত সোজা করে টান টান হয়ে থাকুন ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড। ব্যায়াম-২: হাত দুটো ওভাবেই আটকে রেখে সোজা মাথার উপরে তুলে দিন। আর চেয়ার ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। পীঠ টান টান রেখে এভাবে কাটিয়ে দিন ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড। ব্যায়াম-৩: এবার আঙ্গুল খুলে হাত দুটো একটার সঙ্গে অন্যটি আড়াআড়ি রেখে ঘাড়ের পেছনে নিয়ে যান। পা’দুটো একটুকু ফাঁকা করে বাম দিকে সামান্য ধনুকের মতো বাঁকা করে ফেলুন কোমড় থেকে মাথা পর্যন্ত। এভাবে থাকুন ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড। ব্যায়াম-৪: ফের দুই হাতের আঙুল বেঁধে মাথার উপরে দুই হাত তুলে দিন। এভাবে রাখুন ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড। ব্যায়াম-৫: এবার রিল্যাক্সড। তবে বসে পড়বেন না যেনো। দাঁড়িয়েই দুই হাত ছেড়ে দিন দুই দিকে একটু রিল্যাক্সড ভঙ্গিতে কাঁধ দুটিকে সামান্য উঁচিয়ে রাখুন। কাটান ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড। কী সস্তি লাগছে একটু। বেশতো। ব্যায়াম-৬: এবার আরও রিল্যাক্সড হয়ে হাত দুটো পেছনে নিয়ে কব্জির কাছে একটি দিয়ে অন্যটি ধরে রাখুন। অতি সাধারণ গাছাড়া ভঙ্গিমা। তবে এটাও ব্যায়াম। ঘাড় থেকে মাথাটিকে ডান দিকে ইষৎ কাত করে রাখুন। আর থাকুন ১০ থেকে ১২ সেকেন্ড। ব্যায়াম-৭: এবার কিন্তু পাক্কা ১০ সেকেন্ডের কাজ। কিন্তু অতি সহজ। দুই হাত সামনে এনে তালুর সঙ্গে তালু মিলিয়ে পেট আর বুকের ঠিক মাঝামাঝিতে আঙুলগুলো উর্ধ্বমুখী করে সোজা করে রাখুন। ব্যায়াম-৮: এবারও একই ভঙিমায় তালুর সঙ্গে তালু চেপে রাখা। তবে আঙুলগুলো এবার নিচের দিকে। এবারও পাক্কা ১০ সেকেন্ড। কী অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে থেকে ক্লান্ত! ক্ষতি নেই বসে পড়ুন। ব্যায়াম-৯: চেয়ারে বসেই পীঠ টান টান করে এক হাত সোজা নিচে রেখে অন্যহাত উপরের দিকে তুলে দিন। উপরের হাতটি ইষৎ বাঁকা করে রাখুন। এভাবে ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড। ব্যায়াম-১০: এবার বাম পা তুলে দিন ডান পায়ের ওপর। পা দুটোকে যে দিকে রাখলেন ঠিক তার উল্টোদিকে ঘাড়টিকে ঘুরিয়ে দিন। একটি হাত দিয়ে পায়ের হাঁটুর কাছে একটু চাপ দিয়ে রাখুন। অন্য হাত কোমরে চেপে ধরুন। এভাবে থাকুন ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড। এবার ঘাড়টা ঘুরিয়ে দিন অন্য দিকে। স্বভাবতই পা দুটো ছড়িয়ে যাবে তার উল্টো দিকে। আর অন্য হাতটি ব্যবহার করতে হবে হাঁটুর কাছে চাপ দেওয়ার জন্য। এভাবেও ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড পার করে দিন। ব্যায়াম ১১: পীঠটাকে চেয়ার হেলান থেকে তুলে আনুন। সোজা বসে হাত দুটোকে কোমরের দুই দিকে চেপে ধরুন। পীঠটাকে সটান সোজা করে দিন। আর ঘাড়টাকেও সোজা রেখে মুখটা উঁচিয়ে রাখুন। কাটিয়ে দিন ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড। ব্যায়াম-১২: এবার আসলে ব্যায়াম শেষ। সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই দিকে হাত ছড়িয়ে হালকা আরাম করে দাঁড়ান। ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড থাকুন। কী কাজের অনেক চাপ। এখুনি বসে পড়তে হবে। আরও দুই-তিন ঘণ্টা টানা কাজ করতে হবে। করুন না। কে আটকায়। তবে ঘণ্টা দুয়েক পর আবার একটু ব্যায়ামটা করে নিন। মোটেইতো চার মিনিট। সামান্য সচেতন থাকলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি মিলবে, সে তো আপনারই!
 

স্বর্ণালী সতেরোয় চ্যানেল আই

স্বর্ণালী সতেরোয় চ্যানেল আই image পথচলার ষোল বছর পার করে ১৭ বছরে পা রেখেছে বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’। ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এখনও চ্যানেলটি সমানভাবে ধরে রেখেছে তাদের জনপ্রিয়তা। যা বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিকাশের ইতিহাসে উজ্জল এক দৃষ্টান্ত। তাইতো ১৭ বছরে চ্যানেল আই পরিবার তাদের জন্মদিনের এই ক্ষণটির নাম দিয়েছে ‘স্বর্ণালী সতের’। চ্যানেল আইয়ের ১৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া দেশের সব জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাত বারটা এক মিনিটে নিজস্ব ভবনে কেক কেটে উদযাপন করা হয় চ্যানেল আইয়ের ১৭তম জন্মদিনের প্রথম প্রহর। সকালে চ্যানেল আই কার্যালয় থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের কার্যক্রম। চ্যানেল আই কার্যালয়ে দিনব্যাপি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন দেশের খ্যাতিমান তারকারা। ওই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাটা হবে বর্ষপূর্তির কেক। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সরকারি, বিরোধীদলের নেতৃবৃদ্ধ ও বুদ্ধিজীবীগণ। ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ চেতনা নিয়ে পথচলার সতের বছরে সৃজনশীলতা ও গৌরবের প্রশ্নে অনন্য পরিচয় নিয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যানেল আই। দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও  সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রশ্নে গণমাধ্যমের ভূমিকার জায়গাতে তৎপর তারা। তাই পথচলার প্রথম উচ্চারণ ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সবকটি মহাদেশে থাকা বাঙালিদের মাঝে। যে দায়বদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখান থেকে এক চুলও সরেননি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ ও এর নিষ্ঠাবান কর্মীরা। পথচলার এই শুভলগ্নে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে চ্যানেল আই পরিবারের প্রতি রইলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা। /এসএম/

মুজিব বাহিনী :: মুক্তিযুদ্ধের রহস্যময় এক অকথিত অধ্যায়

মুজিব বাহিনী :: মুক্তিযুদ্ধের রহস্যময় এক অকথিত অধ্যায়

 শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Bishes Nibondhoএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ), যা মুজিব বাহিনী নামে সমধিক পরিচিত-আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রহস্যময় এক অকথিত অধ্যায়। ইতিহাসের একটি বিশেষ সময়ে কেন, কি প্রেক্ষাপটে এই ‘গোপন’ বাহিনী গড়ে উঠেছিল, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কি আকারে প্রভাব বিস্তার করেছিল, প্রায় অর্ধশত বছর পরে এখনও অনেকটাই রহস্যময় এবং প্যান্ডোরার বাক্সে তালাচাবি দেয়া। মাঝে-মধ্যে গণমাধ্যম, জাতীয় সংসদসহ নানা টুকরো-টাকরা আলোচনায় এ নিয়ে বিতর্ক-উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এই বাহিনীর ভূমিকা জনগনের কাছে এখনও রহস্যাবৃত। অতি সম্প্রতি কিছু লেখা-জোখায় প্রসঙ্গটি উঠে আসতে শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতীয় প্রশ্রয়ে এ বাহিনী এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিল যে, মুজিবনগর সরকারকে তারা প্রকাশ্যে অবজ্ঞা ও অগ্রাহ্য করতে পেরেছিল।

ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা মুজিব বাহিনীর ওপর সে সময়ে অস্থায়ী সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন তো ছিলই না,বরং বিভিন্ন সময়ে এ বাহিনী সরকারের বিরুদ্ধে বৈরী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর প্রধান চার নেতা এবং সংগঠক ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। ভারতীয়রা এই নেতাদের আদর-স্নেহের সম্বোধন করতেন ‘অবিচ্ছেদ্য চার’ বলে। মুক্তিযুদ্ধের চার বছরের মাথায় শেখ মনি ১৫ আগষ্ট ট্রাজেডির শিকার হয়ে নিহত হন। রাজ্জাক মারা যান ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর। জীবিত দু’জনের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নীতি নির্ধারক। অপরজন বাংলাদেশের রাজনীতির কথিত ‘রহস্য পুরুষ’ সিরাজুল আলম খান এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

জীবিত বা মৃত এই চার নেতার কেউই মুজিব বাহিনীর জন্ম ও কার্যক্রম নিয়ে ক্ষৃদ্রায়তন সাক্ষাতকার ছাড়া কোথাও কিছু বলেনওনি, লেখেনওনি। তবে সিরাজুল আলম খানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.serajulalamkhan.00.uk/person.htm)তাকে মুজিব বাহিনীর পূর্বতন কাঠামো স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও ‘বাংলাদেশের স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেনা কমান্ডোর আদলে গড়ে ওঠা র‌্যাডিক্যাল এই বাহিনীর সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন একজন গেরিলা যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ শিখ সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এস উবান সিং। কার্যত: তিনি ছিলেন এ বাহিনীর প্রশিক্ষক ও সর্বাধিনায়ক। তার লেখা ফ্যানটম অব চিটাগাং: ফিফথ আর্মি ইন বাংলাদেশ গ্রন্থে মুজিব বাহিনীর গড়ে ওঠা এবং এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। কেন বইয়ের শিরোনামে তিনি মুজিব বাহিনীকে ফিফথ আর্মি নামে উল্লেখ করেছেন, সেটি গভীর রহস্য ও বিষ্ময়ের বিষয়। কারন যুদ্ধের ইতিহাস বা ব্যবহারিক পরিমন্ডলে ফিফথ আর্মি শব্দদ্বয় দিয়ে সাধারন সেই ধারার ট্রেইটরদের বোঝানো হয় যারা নিজ রাষ্ট্রের বিপক্ষে বা রাষ্ট্রের শত্রুদের স্বার্থানুকূলে ভূমিকা রাখে।

প্রয়াত জাসদ নেতা ও মুজিব বাহিনীর সংগঠকদের একজন কাজী আরেফ আহমেদ লিখেছিলেন, পুর্ব বাংলাকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬২ সাল থেকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগে গোপন একটি নিউক্লিয়াস কাজ করত।এই নিউক্লিয়াসের অপর সদস্যদ্বয় ছিলেন আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ নিজে। পরে অনেকে অন্তর্ভূক্ত হন। ঐ গোপন রাজনৈতিক নিউক্লিয়াসের পরিবর্ধিত সংস্করণ হচ্ছে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী, ১৯৬৫ সাল থেকে আবদুর রাজ্জাক যোগাযোগ রাখতেন শেখ মুজিবের সাথে (জনকন্ঠ ২৮ ও ২৯ মার্চ ১৯৯৫)। মুজিব বাহিনী বা বিএলএফ গঠিত হয়েছে ২৫ মার্চের আগে। কাজী আরেফের লেখায় স্পষ্ট না থাকলেও নানা উৎস ও সূত্রের দাবি, “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ” সশস্ত্র শাখা গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)। প্রতি রাতে হল সংলগ্ন মাঠে ডামি রাইফেল দিয়ে প্রশিক্ষণ হতো। এর অর্থ দাঁড়ায়, একাত্তরের অনেক আগেই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ ছাত্রদের মাঝে সশস্ত্র কার্যক্রমের সূচনা ঘটিয়েছিল। দেশের অনেক জেলা ও মহকুমা সদরে ২৫ মার্র্চের আগেই এরকম প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রাগার লুন্ঠনের ঘটনা জানা যায়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির ইতিহাসে আকরতূল্য গ্রন্থ হিসেবে যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মইদুল হাসানের ‘মূলধারা ৭১’ খুবই উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছেন, একাত্তরের ১৮ এপ্রিল নবগঠিত অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভা দেশের ভেতর থেকে ছাত্র-যুব কর্মী সংগ্রহের দায়িত্ব দেয় শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদের ওপর। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অজ্ঞাত কারণে চার যুবনেতাকে আরো ক্ষমতা প্রদান করেণ। রিক্রুটিং ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী গঠন ও পরিচালনার অধিকার দেয়া হয় তাদের। অতিরিক্ত এই ক্ষমতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের অসম্মতি ও সর্বাধিনায়ক ওসমানীর সংশয় পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম তাঁর লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে গ্রন্থে লিখেছেন, “জুন মাস থেকে দেখা গেল বিভিন্ন শিবির থেকে প্রশিক্ষণের জন্য অপেক্ষারত তরুণরা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। এই যুবকদের গোপনে অন্য ধরণের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা এতই সুপরিকল্পিত ও বিস্তৃত ছিল যে, বিশেষ বিমানে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মাধ্যমে সেটা হত। ফলে ভাবতে বাধ্য হলাম, আমদের বিশ্বাস করা হচ্ছে না। সেক্টর কমান্ডাররা সবাই এতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেণ। জানিয়ে দেয়া হল এ ব্যাপারে নাক গলাবেন না। পরে জানতে পেরেছিলাম ‘র’ ছিল এর মূল উদ্যোক্তা। …. রাজনৈতিক দিক থেকে এটা ছিল এক সর্বনাশা সিদ্ধান্ত। এ ধরণের গোপন পরিকল্পনার কারণে যুদ্ধের সময়ই মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আমরা জানতে পেরেছিলাম, সুদুরপ্রসারী রাজনৈতিক বিবেচনায় এই পরিকল্পনাটি গ্রহন করা হয়েছিল। এ ধরণের কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সরকারের কোন অনুমোদন ছিল না। তাদের যেসব মিশনে পাঠান হত তার কিছুই আমরা জানতাম না। এই বিশেষ বাহিনী সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধে কোন বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। এরা ভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রথম থেকেই। ‘র’ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অদৃশ্য ও কাল্পনিক কোন এক শক্তির বিরুদ্ধে নতুন এক ফ্রন্ট খোলে…”। রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম যাকে অদৃশ্য ও কাল্পনিক কোন এক শক্তি বলছেন তা আসলেই অদৃশ্য বা কল্পনাপ্রসূত ছিল না। এই নতুন ফ্রন্ট খোলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অচিরেই পরিস্কার হয়ে উঠবে।

মইদুল হাসান আরো লিখেছেন, ‘মুজিব বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম ব্যাচটির আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এ বাহিনী পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে সর্বাধিনায়ক কর্নেল ওসমানী তথা বাংলাদেশ সরকারের কোন এখতিয়ার নেই। কেবল প্রশিক্ষণ নয়, যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র ও রসদের যোগান আসত ভারতীয় গেয়েন্দা সংস্থা’র-এর বিশেষ উপসংস্থা স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স থেকে এবং এর প্রধান জেনারেল উবান ছিলেন মুজিব বাহিনী গড়ে তোলার দায়িত্বে। মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে‘মূলধারা ৭১’ গ্রন্থে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যে অভিযোগ এনেছেন, পরবর্তীকালে তার কোন অনুসন্ধান বা তদন্ত দুরে থাক,এমনকি আমলেও নেয়া হয়নি। মইদুল অভিযোগগুলি জানাচ্ছেনঃ

এক. মুজিব বাহিনী স্বাধীন সংগ্রামকে বিভক্ত করেছিল;

দুই. বামপন্থীদের বিরুদ্ধাচরণ করা; (বামপন্থী কর্মী নিধন, কোথাও কোথাও সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া; উদাহরণ: ডিসেম্বরের শেষে পানিঘাট এলাকায় ভৈরব নদীতে ভারতীয় সেনা বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর সাথে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটির গেরিলাদের সংঘটিত যুদ্ধ। -লেখক)

তিন. সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র কেড়ে নেয়া;

চার. মুক্তিবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে অবতীর্ণ হওযা:

পাঁচ. মুজিবনগর সরকারের প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ; এবং

ছয়. যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা ও তাঁর প্রাণনাশের অভিযোগ।

মইদুল হাসান লিখেছেন, মুজিব বাহিনীকে স¦তন্ত্র কমান্ডে রাখার বিষয়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল খুবই জোরাল। তাজউদ্দিনের তরফে মুজিব বাহিনী সৃষ্ট বিড়ম্বনা বন্ধে খোদ ইন্দিরা গান্ধীকে ভূমিকা রাখার অনুরোধও উপেক্ষিত হয়েছিল।

মুজিব বাহিনীর বিষয়ে মইদুল হাসানের এই লেখনীর সমর্থন পাওয়া যাবে এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার, এম আর আকতার মুকুল, ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলাম, কাজী জাফর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, মনি সিং প্রমুখের লেখনীতে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এদের লেখনী সম্পুর্ণরূপে প্রাণিধানযোগ্য। যদিও ভিন্ন আদর্শতাড়িত হওয়ায় এসব বর্ণনা ব্যক্তিগত আবেগ ও এবং রাজনীতির উর্ধ্বে নয়। এটি ধরে নিলেও জেনারেল উবানের গ্রন্থ ও অন্যান্যদের লেখনী, বক্তব্য এবং আলোচনার ভিত্তিতে সাধারণ ধারণাটি মূর্ত হয়ে ওঠে যে, মুজিব বাহিনীর গঠন ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। ভারতের সংস্থা ‘র’-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে গঠিত ও বিকশিত এবং যুদ্ধকালীন বৈরীতা ও আনুগত্যহীনতার বিষয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় রহস্যময় ও প্রায় এক অনালোচিত অধ্যায়।

এই স্বল্প পরিসরের লেখায় মুজিব বাহিনীর সৃষ্টি ও বিকাশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি উপক্রমনিকা মাত্র। যে কোন যুদ্ধেই চেইন অব কমান্ড অপরিহার্য। মুক্তিযুদ্ধকালে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রবাসী সরকারই ছিল বৈধ ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র। কিন্তু এই সরকারের প্রতি মুজিব বাহিনীর আনুগত্যহীনতা ছিল প্রকাশ্য। জেনারেল উবান তার গ্রন্থে লিখেছেন, ‘তাজউদ্দিনের প্রতি চার যুবনেতার কোন আনুগত্য ছিল না এবং যুদ্ধের পরেও তা অব্যাহত থাকে’। এই বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় প্রখ্যাত সাংবাদিক এনায়েতুল্লাহ খান ইংরেজী সাপ্তাহিক হলিডেতে এই বাহিনীকে বর্ণনা করেছিলেন Super Autonomous হিসেবে। তাঁর মতে মুজিব বাহিনী সৃষ্টির কারন ছিল; “স্বাধীনতা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেক্ষেত্রে লিবারেশন আর্মির ধাঁচে কিছু গড়ে উঠলে মোকাবেলার জন্য, বিশেষত: ঐ রূপ যুদ্ধে র‌্যাডিক্যাল সামাজিক শক্তির বিপরীতে ভারসাম্য রাখতে মুজিব বাহিনীর সৃষ্টি করা হয়। এর অন্য লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানে আটকাবস্থা থেকে শেখ মুজিব ফিরে না এলে এমন একটি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য তৈরী রাখা, যারা সরাসরি মুজিবের উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে। এই অন্য লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই মূলত: প্রবাসী সরকারের সাথে চার যুবনেতার সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ও বিরোধ, যা আর কখনই মীমাংসিত হয়নি’’।

জেনারেল উবান ও সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গ্রন্থের বিবরনে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিষ্ট বিরোধী এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জাতিগোষ্ঠির মুক্তিসংগ্রাম বিরোধী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আন্ত:দেশীয় ঘটনাবলীর সাথে মুজিব বাহিনীর উত্থান পর্ব জড়িয়ে গিয়েছিল। এই নিবন্ধে সেটি আলোচনার বিষয় নয়। মূলত: মুক্তিযুদ্ধকালে কোলকাতায় এই বাহিনীর কার্যক্রম এবং এর ফলে প্রবাসী সরকারে সৃষ্ট ঘাত-অভিঘাত ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অচিরেই দেখা যাবে, বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আওয়ামী নেতৃত্ব যুদ্ধকালে উপদলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সরকার ঝুঁকিতে ছিলেন সর্বদা। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের জীবননাশের আশংকা তৈরী করেছিল এই কোন্দল।

যুদ্ধকালে সরকার প্রধান এবং সামরিক প্রধানের প্রতি উপেক্ষা ও আনুগত্যহীনতা চরম বিরোধিতাতুল্য হলেও মুজিব বাহিনী সংগঠকদের এজন্য কখনই জবাবদিহি করতে হয়নি। তারা প্রকাশ্যেই বলছিলেন, শেখ মুজিবের নির্দেশ ছিল, তাঁর অনুপস্থিতিতে চার যুবনেতা সামরিক কাঠামোর নেতৃত্ব দেবেন এবং তাজউদ্দিন রাজনৈতিক কাঠামোর নেতৃত্ব দেবেন। ২৫ মার্চ কালরাতে শেখ মুজিবের গ্রেফতারের পরে তাজউদ্দিন আহমেদ গঠিত প্রবাসী সরকারের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কাঠামো মুক্তিবাহিনী গঠনে উদ্যোগী হলে চার যুবনেতা, বিশেষভাবে শেখ ফজলুল হক মনি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি সরকার গঠন ও তাজউদ্দিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়াকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে চার যুবনেতার রাজনৈতিক উচ্চাশা অস্পষ্ট ছিল না। শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে তাঁরা আশা করছিলেন যে,সামগ্রিক নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে। বিশেষ করে শেখ মুজিবের ভাগ্নে হিসেবে শেখ ফজলুল হক মনি নেতৃত্বের উত্তরাধিকার দাবি করেন। শেখ মনি দাবি করতে থাকেন, তিনিই উত্তরাধিকারী এবং তার অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একচ্ছত্র ক্ষমতা শেখ মুজিব তাকে দিয়ে গেছেন। জেনারেল উবান জানাচ্ছেন, “তাজউদ্দিনের প্রতি এই যুবনেতারা প্রচারনা চালাতেন যে,তিনি জবরদখলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন”। স্বাধীনতার পরেও এই মনোভাব অব্যাহত থাকে। এমনকি ১৯৮৯ সালের জুনে সাংবাদিক মাসুদুল হককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, “তাজউদ্দিন নিজেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আমরা বুঝলাম এটা ষড়যন্ত্র। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদেশ পালন করলেন না। আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারলাম না”।

স্বাধীনতার ১৮ বছর পরে দেয়া এ সাক্ষাতকার থেকে পরিস্কার হয়ে ওঠে যুদ্ধকালে চার যুবনেতার তীব্র ক্ষোভের ব্যপ্ততা। মূলধারা ৭১ গ্রন্থে যেমনটি দাবি করেছেন মঈদুল হাসান, মুজিব বাহিনীর প্রধান চার নেতার অন্তত: দু’জন সে সময়ে তাজউদ্দিন আহমেদকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ফারুক আজিজ খানের লেখায় মঈদুলের দাবির সমর্থন মেলে । ফারুক তার গ্রন্থে লিখেছেন, In October, he (D.P. Dhar) cautioned the Prime Minister (Tazuddin Ahmed) about the strong opposition that developed within the AL against him. When the meeting was going on (between the two) in BSF office a telephone came and I was informed that an young man was detained by the BSF guardes with a hand grenade and some explosive in his possession inside the 8 theatre road office compound…

সরকারের অভ্যন্তরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সত্বেও রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করতে সক্ষম হলেও মুজিব বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রন স্থাপন তো দুরের বিষয়, স্বতন্ত্রভাবে মুক্তিবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাও প্রবাসী সরকারের পক্ষে কষ্টকর হয়ে ওঠে। আগষ্টে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ মুজিব বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রন প্রচেষ্টায় ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এরপরেও অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। বরং মাঠ পর্যায়ে এই বাহিনীকে আরও সুবিধে করে দিতে ভারতে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড নির্দেশ জারি করে, “সীমান্তের ২০ মাইলের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর কার্যক্রম সীমিত থাকবে এবং অভ্যন্তরে যুদ্ধের দায়িত্ব মুজিব বাহিনীর”। এসময়ে এই বাহিনীকে ওয়ারলেস চ্যানেল ও কোড অব কমিউনিকেশনের সুবিধেও প্রদান করা হয়। আপাত: দৃষ্টিতে এই ব্যবস্থাকে একটি আপোষরফা মনে হলেও কার্যত: তা ছিল মুজিব বাহিনীর প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং সরাসরি যুক্ত হওয়ার অনেক আগেই ভারতীয়রা কৌশলগত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু যে কোন পাঠকের কাছে বিষ্ময়কর হবে যে, অভ্যন্তরে কোন টেকসই রণনৈতিক প্রস্তুতি আমাদের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব গ্রহন করেছিলেন কিনা? তবে ১৯৬২ থেকে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সাথে বিবিধ যোগাযোগের একটি পটভূমি গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। ফলে মুক্তিযুদ্ধ ভারতের নিজস্ব ইস্যুতে পরিনত করার প্রচেষ্টায় তারা সফল হয়েছিল। দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাগল মানুষের দুর্বার গণআন্দোলন যা পরিনত হয়েছিল বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের নিয়তি নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর এই জন্যই ইতিহাসের নির্মোহ অবলোকন, আন্দোলনের প্রধান নেতা নিজ বাড়িতে গ্রেফতার বরণ করেন আস্থাভাজন চার যুবনেতাকে দিক নির্দেশনা প্রদান করে। সমকালীন ইতিহাস সম্ভবত:জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এরকম দৃষ্টান্ত আর দেখাতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে লিখেছেন ইতিহাসবিদ ড. আহমেদ কামাল ‘কালের কল্লোল’ গ্রন্থে। “একাত্তরের ২৫ মার্চ পূর্ববর্তী দুই সপ্তাহে পাক সেনাবাহিনীর আক্রমন প্রস্তুতি সম্পর্কে মুজিব নানা সূত্র থেকে খবর পাচ্ছিলেন। এরকম পরিস্থিতিতে করণীয় হিসেবে তিনটি বিকল্প ছিল তার জন্য; এক. জনযুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহন, দুই. ভারতে আশ্রয় নেয়া, তিন. পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার বরণ। প্রথম বিকল্প বেছে নেননি কারন আওয়ামী লীগের শ্রেনী অবস্থান সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। সে কারনেই ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মত ভূমিকা এড়িয়ে গেছেন। দ্বিতীয় বিকল্প গ্রহন না করার মধ্য দিয়ে একদিকে পাক শাসক এলিটদের সাথে সমঝোতার ক্ষীণতম সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিলেন এবং উপরন্তু, ভারতের শাসক এলিটদের সেই বাসনাকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছিল যার বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের মর্যাদা হতো অঙ্গরাজ্যতুল্য”।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ঘিরে ভারত যে রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল ২৫ মার্চ শেখ মুজিবের গ্রেফতার সেটিকে অনিশ্চয়তায় নিক্ষেপ করে। এ প্রসঙ্গে ড. আহমেদ কামাল জানাচ্ছেন (প্রাগুক্ত), “শেখ মুজিবের পাক সেনানায়কদের হাতে ধরা পড়ার বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিরাট ব্যর্থতা। তার মত জনপ্রিয় নেতা, যিনি তখন জাতির কন্ঠস্বরে পরিনত, ভারতের আয়ত্তে না থাকাতে তাদের স্বার্থে বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক মীমাংসার পথে একটি অনিশ্চয়তা বিরাজ করতে থাকে। …শেখ মুজিবের অনুপস্থিতি ও পাক শাসকের হাতে তার অবস্থান ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নিয়ে … ভারতের স্বপ্নের জন্য সেটি ছিল বিরাট অনিশ্চয়তা”। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এরকম ‘অনিশ্চয়তা’ সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল তাজউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন সরকার ও মুক্তিবাহিনীর ওপর। ভারতীয় নিয়ন্ত্রনে গঠিত হয়েছিল বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী।

তাজউদ্দিন আহমেদের সাথে ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম সাক্ষাতকারেই অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। লিখেছেন মঈদুল হাসান মূলধারা ৭১ গ্রন্থে; “একাত্তরের ৩ এপ্রিল রাতে তাজউদ্দিন আহমেদকে ১ সফদর জং রোডের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যখন পৌছান, মিসেস গান্ধী তখন দীর্ঘ বারান্দায় হাঁটছিলেন। তাঁকে দেখতে পাওয়ার সাথে সাথে ইন্দিরার প্রশ্ন ছিল, শেখ মুজিব কোথায়? উত্তরের অপেক্ষা না করে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, তিনি গ্রেফতার হলেন কেন? তাজউদ্দিন তাঁকে বলেন, শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, সরকার গঠন করেছেন, তারপর একটা বিভ্রাটে পড়ে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর এই কথায় ইন্দিরা গান্ধীর সংশয় কাটেনি’’।

এই ‘সংশয়’ ও ‘অনিশ্চয়তা’ মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছিল, আজ অবধি তার মীমাংসা হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেবার জন্য ভিন্ন আলোচনা হতে পারে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে জাতিগত ঐক্য গড়ে উঠছিল তা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল ভারতীয় বেসামরিক-সামরিক আমলাতন্ত্রের প্রতিযোগিতার কবলে। বলি হয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিএসএফ ও ‘র’-এর পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায়। গত সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশে রক্তাক্ত বৈরীতা ও হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির শেকড় নিহত রয়েছে এর মাঝে। মুক্তিবাহিনীর বাইরে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী গঠন ও নিয়ন্ত্রনের মূল কারনও ছিল সেটি। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ৭নং সেক্টর কমান্ডার কাজী নুরুজ্জামান আত্মজৈবনিক গ্রন্থে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এভাবে:

“The Indian authorities took sole responsibility to train the certain of the crop. They (Mujib Bahini) were trained as political commandos; in some forest area near Dehra Dun… While the libaration war was going on, in India the leftist Naxalite movement was making its influence felt under the leadership of Charu Mojumder. The influence reached and strengthend a faction of the late movement in what was then East Pakistan. College student were attracted of this fraction. The Indian authorities realized that many college students with lefties ideas would joined the libaration forces and possibly help to build a leftist ideology in Bangladesh. The political commandos (Mujib Bahini) were established to neutralize such possibility’’.

গত সাড়ে চার দশকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে সকল রচনা, ইতিহাস ও আলোচনা হয়েছে তাতে আবেগ ও উচছাসের আধিক্যই লক্ষ্য করা গেছে বেশি। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে ষাটের দশক জুড়ে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের প্রসঙ্গটি প্রায় অনুল্লেখ্য এবং বিষ্ময়কর উপেক্ষার শিকার হয়েছে। পঞ্চাশ দশক থেকে ষাটের মাঝামাঝি সময় মস্কো-পিকিং, দুই ধারার কমিউনিষ্টদের সদস্য সংখ্যা পূর্ববাংলায় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর পূর্ববাংলায় অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র কয়েক’শতে। সেখানে মস্কো-পিকিং ইস্যুতে ভাঙ্গনের আগে সংখ্যাটি ছিল অনধিক তিন হাজার। ইতিহাসের এই কালপর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কমিউনিষ্ট উত্থান ঘটছিল। বাংলাদেশে শেষাবধি জাতীয়তাবাদী তীব্র আবেগ প্রভাব বিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও এর নির্ধারক ভূমিকা কমিউনিষ্টরা বিশ্লেষণ ও উপলব্দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

তরুন প্রকৌশলী ও সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) নেতা সিরাজুল হক শিকদারের নেতৃত্বাধীন মাওবাদী কেন্দ্র এবং কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি (জাফর-মেনন-রনো) এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে উল্লেখিত নিউক্লিয়াসও এই ব্যতিক্রমেরই অংশ। নিউক্লিয়াস অন্তর্ভূক্তরা কিছুটা স্বীকৃতি পেলেও কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি ও সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বধীন মাওবাদী গবেষণা কেন্দ্রের অনুসারীদের ক্ষেত্রে সমকালীন ইতিহাস অনেকটাই বৈরী, নীরব-নিথর। যদিও রাজনীতির এই ধারাটি ভারতীয় সাহায্য ছাড়াই প্রবাসী সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য রণনৈতিক নৈপূন্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

ভারতের নকশালবাড়ি আন্দোলন প্রভাবিত তরুন ছাত্রনেতা সিরাজ শিকদার ১৯৬৬ সালেই গড়ে তোলেন মাও-সে-তুং চিন্তধারা গবেষণা কেন্দ্র এবং পরের বছর গঠন করেন পূর্ববাংলার শ্রমিক আন্দোলন। একাত্তরের মার্চের অনেক আগেই পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের উপনিবেশ আখ্যায়িত করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার ডাক দেন। গেরিলা যুদ্ধে আপন শক্তিতে একাধিক মুক্তাঞ্চাল গড়ে তোলেন। একাত্তরের ৩ জুন এরকম একটি মুক্তাঞ্চল বরিশালের আটঘর-কুড়িয়ানার বিখ্যাত পেয়ারা বাগানে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন পরিবর্তিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় সিরাজ শিকদারের তাত্ত্বিক ও রণনৈতিক দিকগুলো ঢাকা পড়ে আছে নিঝুম নীরবতায়। সেই সাথে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটিসহ অন্যান্যদের প্রতিরোধ যুদ্ধের বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে। উল্লেখ করা দরকার, নরসিংদীর বেলাবো-শিবপুর,বাগেরহাটের চিরুলিয়া-বিষ্ণুপুর, কিশোরগেঞ্জর বাজিতপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া-লক্ষীপুর এবং যশোরের নড়াইল-শালিখা-মোহাম্মদপুর-কালিগঞ্জ ইত্যাদি স্থানে গড়ে ওঠা সশস্ত্র যুদ্ধগুলোর আলোচনা হয়েছে খুবই কম।।

প্রকাশক: আমাদের বুধবার

আমেরিকা ও কানাডার ৫৫ সংগঠনের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে ৩দিনের ফোবানা সম্মেলন...

image আমেরিকা  ও কানাডার ৫৫ সংগঠনের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে ৩দিনের ফোবানা সম্মেলন শুক্রবার থেকে: খবর.কম নিউইয়র্ক: দেশ ও প্রবাসের ১৩৫ শিল্পীর অংশগ্রহণে ‘ফিরে চল মাটির টানে’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে ফোবানার  (ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা) ৩দিনের বাংলাদেশ সম্মেলন শুরু হবে ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায়। বিষয়ভিত্তিক ১৫টি সেমিনার ছাড়াও এতে থাকবে দেশ ও প্রবাসের গুণিজন এবং উত্তর আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে সেরার চেয়েও সেরাদের এওয়ার্ড প্রদান। খবর এনআরবি। সুদূর এই পরবাসে বড় হওয়া বাংলাদেশী প্রজন্মের মধ্যে নেটওয়ার্কিংয়ের চমৎকার ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি পর্বও রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই অভিভাবকদেরও দৃষ্টি কেড়েছে। ৩১ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় ফোবানার ২৯তম বাংলাদেশ সম্মেলনের সর্বশেষ প্রস্তুতির আলোকে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’ এবং আয়োজক কমিটির কনভেনর হচ্ছেন বেদারুল ইসলাম বাবলা। তারই সভাপতিত্বে ‘মিট দ্য প্রেস’-এ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব জাকারিয়া চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে আরো উপবেশন করেন হোস্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়কারি আব্দুল চৌধুরী শাহীন, সিনিয়র নির্বাহী কো-কনভেনর এন আমিন, নির্বাহী কো-কনভেনর আব্দুল হাই জিয়া, কো-কনভেনর আব্দুল কাদের মিয়া, স্পন্সর আনোয়ার হোসেন, মিডিয়া সম্পর্কিত চেয়ারপার্সন আকবর হায়দার কিরণ, কালচারাল কমিটির চেয়ারপার্সন শারমিন রেজা ইভা এবং উৎসব ডটকমের মার্কেটিং বিষয়ক ম্যানেজার কামাল হোসেন মিঠু। এ সময় আরো জানানো হয় যে. এবারের সম্মেলনের প্রধান অতিথি হচ্ছেন সিলেটের সন্তান এবং দীর্ঘদিন যাবত লসএঞ্জেলেসে বসবাসকারি প্রখ্যাত সমাজসেবক ডা. কালিপদ রায়। সম্মানীত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স সম্পর্কিত উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ, মার্কিন কংগ্রেসে ফরেন এফেয়ার্স কমিটির প্রভাবশালী সদস্যা কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান আব্দুল হান্নান খান, এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ। সেমিনারের জন্যে নির্দ্ধারিত মিলনায়তনের নাম হচ্ছে দোলনচাঁপা এবং মাধবিলতা। এবারের সম্মেলনের শ্লোগান হচ্ছে ‘হৃদয়ে আকাশ-প্রকাশে বাঙালি।’ এ উপলক্ষে প্রকাশিতব্য স্মরণিকার নাম হচ্ছে ‘চিরকালের বাংলা।’ বাংলাদেশ, বাঙালি এবং প্রবাসের প্রজন্মকে প্রাধান্য দেয়ার এ সম্মেলনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সেমিনারের পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশীদের অবস্থান নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরো জানানো হয়, আড়াই লাখ ডলার বাজেটের এ সম্মেলনে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টি সংগঠন আসবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে ১৭টি সংগঠন। অতিথি শিল্পীর মধ্যে রয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রখ্যাত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, এ প্রজন্মের হাবিব ওয়াহিদ এবং তার বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ, শুভ্রদেব, রবী চৌধুরী, ইমরান, ভারতের শিল্পী মিতালি মুখার্জি, প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী তাজুল ইমাম, শিখা রৌফ, চিত্রনায়ক  আরিফিন শুভ এবং তার দল। সেমিনারসমূহে স্ব স্ব বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরাই অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন। অর্থাৎ প্রবাসের মেধাবিরা এবারের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখবেন। কম্যুনিটি বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত-তা নিয়েও অনুষ্ঠিত হবে মুক্ত আলোচনা। এ সময় জানানো হয় যে, মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান দেখতে টিকিট লাগলেও বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং কেনাকাটার স্টলে প্রবেশ করতে কোন টিকিট লাগবে না। এমনকি খাবার-দাবারের স্টলও থাকবে মুক্ত এলাকায়। খাদ্য ও পণ্যের বেশ কটি স্টল থাকবে বলে জানানো হয়। আয়োজকরা জোর দিয়ে জানান যে, এবারের সম্মেলনে সবকিছুই হবে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপিত হবে বাংলা ও ইংরেজীতে। ২৯ বছরের ফোবানার ইতিহাসে এটি হবে নতুন এবং নতুন প্রজন্মকে আরো বেশী সম্পৃক্ত করার অভিপ্রায়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন টিভির সাংবাদিকরা উপস্থাপনা ছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন।

‘সব সময় টেনশনে থাকি’

‘সব সময় টেনশনে থাকি’

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis 3ক্ষমতাসীন দল ও এর অঙ্গসংগঠনের মধ্যেকার অর্ন্তদ্বন্দ্ব এবং অন্যান্য কারণে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়া, ঘরের ভেতরে ঢুকে ব্লগার হত্যাসহ এ বছরেই চার জন ব্লগার হত্যা, বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোরকে পাশবিক নির্যাতনে নিহত করা, অনেক নারী ধর্ষণ ও যৌন সন্ত্রাসের ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ড, সহিংসতার বিস্তার সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ বিপন্ন এবং শঙ্কিত। তারা আরও ভীত হয়ে পড়েছেন এই কারণে যে, প্রত্যাশিত আইনের শাসনের অনুপস্থিতি,বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজমান থাকায় দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি সমাজে সৃষ্টি হয়েছে -যা মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। এ ব্যাপারে সমাজের বিভিন্নস্তরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় অনেকেই এড়িয়ে গেছেন সঙ্গত কারণেই। তারপরেও কয়েকজন তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা এবং অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলছে এবং এটা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিককালে যা দেখা যাচ্ছে, সংঘর্ষের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সহিংসতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের উপরে জনগণের আস্থা কমে যাবার ফলে কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এই অবস্থায় যার দরকার তাহলো - আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার মতো প্রশাসন, আইন, বাজেট বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাতে তারা ‘ভীতির মধ্যেই আছেন’ এমনটাই জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফররুখ মাহমুদ বলেন, আমার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি ভীতিকর ও নৈরাজ্যমূলক বলেই মনে হচ্ছে। কারণ একের পর এক ব্লগার হত্যা, পাশাপাশি শিশু হত্যা ও নির্যাতন হচ্ছে এবং একই সাথে সরকারি দলের অর্ন্তদ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট ঘটনাবলী - সব মিলিয়েই এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রুখে দাড়ানোর চেষ্টা থাকতো, এখন আর তেমনটি নেই। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাতে আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

গ্রিনরোড এলাকায় বসবাস করেন আরজু, একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি জানালেন, সন্ধ্যার পরে ঘর থেকে বের হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না। কারণ যেসব ঘটনা ঘটছে তার কোনোটিরই তো কোনো বিচার হয়নি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে,শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে আর বিচার না হওয়ায় যে আতঙ্ক ও ভয় তৈরি হয়েছে। সে কারণে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে বের হওয়ার কোনো সাহসই আমরা পাই না।

খুলনা থেকে শাহাদত হোসেন জানান, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতিটি গড়ে উঠেছে এবং আইনের শাসন না থাকায় প্রতিদিনই ঘটনা ঘটছে। দুর্বল শ্রেণী অর্থাৎ নারী এবং শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার সংস্কৃতি না থাকলে জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে এবং তারা নিত্যনতুন ঘটনা ঘটাতে থাকে। আর এই অবস্থাই এখন বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকির আহমেদ সোয়েব বলেন, বর্তমান সময়ে যে হত্যা, খুন, নির্যাতনের ঘটনাবলী ঘটছে তাতে আমি মারাত্মক পর্যায়ে ভীতি-সন্ত্রস্ত্র। সমাজের একজন তরুণ সদস্য হিসেবে আমি মনে করি, এ অবস্থা আমাদের তরুণ সমাজের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে দেবে। সুতরাং অতিসত্ত্বর আমাদেরকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হোক।

ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা মাহবুব বলেন, মহা আতঙ্কের মধ্যে, টেনশনের মধ্যে থাকি। আমি একটি চাকুরি করি। আর এ কারণে যখন ঘরের বাইরে বের হই তখন আল্লাহর নাম জপতে জপতে বের হই এই আশংকায় যে, আমি আবার ফিরে আসতে পারবো কি না। অফিস থেকে যখন বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই তখন আল্লাহর নাম করতে করতে বের হই। যখন বাসায় থাকি না তখন একটাই টেনশন কাজ করে- আমার চার মেয়ে ঠিকঠাক মতো আছে কিনা। আমার চিন্তাও আছে আবার মেয়েদের নিয়েও আমি চিন্তিত। সব সময় টেনশনে থাকি, আমার মেয়েরা যেন কোনো ঝামেলার মধ্যে না পড়ে।। প্রকাশক: আমাদের বুধবার

বজরঙ্গি ভাইজান কীভাবে শান্তি আনল

বজরঙ্গি ভাইজান কীভাবে শান্তি আনল:
ইপ্সিতা চক্রবর্তী
বজরঙ্গি ভাইজান সিনেমাটা দেখার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না। কেন? এ সিনেমার নায়ক মাতাল অবস্থায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা চারজনের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই দায় নেয়ার জন্য নিজের গাড়িচালককে টাকাও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তার ১৩ বছরের সাজা হলে অর্ধেক বলিউড তাকে সমবেদনা জানিয়েছে। কারণ এ ট্রাজেডির ভুক্তভোগী হলেন বলিউড তারকা সালমান খান, ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি নন। কিন্তু সিনেমাটা আমি দেখেছি, কী করে সালমান খান একাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বিবাদ শেষ করে দিয়েছেন, সেটা জানার আগ্রহ থেকে। সাধারণ কিন্তু মিষ্টি স্বভাবের মানুষ পবন। তাকে বজরঙ্গি নামেও ডাকা হয়। এ বজরঙ্গি এক পাকিস্তানি মূক বালিকাকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে যান। এ যাত্রায় তিনি বিনা ভিসায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেন, পাকিস্তানি সেনাদের মুগ্ধ করেন এবং লাইন অব কন্ট্রোল নিয়ে সবাইকে একটি বা দুইটি বিষয় শেখান। সিনেমায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সমন্বয়ের সব চেষ্টাই হয়েছে। কিন্তু বজরঙ্গি ভাইজান সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হচ্ছে এর আন্তঃসীমান্তবিষয়ক শান্তির বার্তার জন্য। এটা ভালো সংবাদ। কারণ বলিউডের সিনেমায় সাধারণত আন্তঃসীমান্তবিষয়ক শান্তির বার্তা দেখা যায় না। বলিউড এবং সীমান্ত যুদ্ধ সীমান্ত নিয়ে বলিউডের সিনেমাগুলোতে নায়কদের সত্য ও মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। এসব সিনেমায় সানি দেওলের অভিনয়ের ধরন বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবশেষ তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে একাই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করেছিলেন। (গদর : এক প্রেম কথা, ২০০১)। এছাড়া জেপি দত্ত ব্র্যান্ডের সিনেমাও আছে, যেমন- বর্ডার (১৯৯৭) এবং এলওসি কারগিল (২০০৩)। এসব সিনেমায় ভারতীয় সেনাকেন্দ্রিক সীমান্ত যুদ্ধের রঙিন বিবরণ দেখা যায়। কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহ, কারগিল যুদ্ধ এবং পার্লামেন্ট ভবনে সন্ত্রাসী হামলার কারণে ১৯৯০-এর দশক এবং বর্তমান সহস্রাব্দের প্রথম দশকে উগ্র দেশপ্রেমমূলক বলিউডি সিনেমার আধিক্য দেখা গেছে। এসব সিনেমায় অবশ্যই পাকিস্তানকে শত্রু হিসেবে দেখানো হয়েছে, পাকিস্তানিদের তুলনায় ভারতীয়দের নৈতিক ও শারীরিক দিক থেকে শ্রেষ্ঠ দেখানো হয়েছে। বজরঙ্গি ভাইজানের প্রশস্ত কাঁধ এ সিনেমায় আছে আপস-মধ্যস্থতার নানা উপাদান। বিরোধপূর্ণ এ আঞ্চলিক সমস্যায় সরলতা নিয়ে এগিয়েছে বজরঙ্গি ভাইজান। সমঝোতা এঙ্প্রেস চেকপোস্ট পার হচ্ছে, সবাই হয়তো অপেক্ষা করছিলেন কখন ট্রেনটি বোমায় উড়ে যাবে। কিন্তু এরকম কিছুই হয়নি এ সিনেমায়। বজরঙ্গি ভাইজান বলিউডের এলাকা শ্রীনগর ছেড়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রবেশ করেছেন। সিনেমায় এটা নীরবে মেনে নেয়া হয়েছে যে, এ অংশ পাকিস্তানের প্রতি অনুগত। এখানকার মানুষ পশু চরায়, টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখেন। কোনো সশস্ত্র দল এ দৃশ্যে বিঘ্ন ঘটায় না। গুলি কিংবা শেলিংয়ের শব্দ নীরবতাকে ভঙ্গ করেনি। যে চেকপয়েন্টে সিনেমার সমাপ্তি হয়েছে সে ধরনের সীমান্ত বাস্তবে দেখা যায় না। যখন-তখন অস্ত্রবিরতি ভাঙার খবর আসে। সংবাদপত্রে আমরা দেখি কাঁটাতারের বেড়া পাহারা দিচ্ছে সেনারা। বজরঙ্গি ভাইজান সিনেমার শেষ দৃশ্যে এ সংঘাতের দৃশ্য মুছে দিয়ে সেখানে সমস্যা মিটমাটের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। শেষ দৃশ্যে সবাই যখন বজরঙ্গি ভাইজানের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে তখন ক্যামেরা চলে আসে তার ওপর, তখন তিনি সেই পাকিস্তানি মেয়েটিকে হাওয়ায় তুলে ধরছেন। এ শান্তির দৃশ্যটি গণতান্ত্রিক হওয়া উচিত ছিল যেখানে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। কিন্তু এখন আপনি বুঝতে পারছেন যে, এ সিনেমা আসলে শুধু নায়ককে কেন্দ্র করে নির্মিত। এমনকি সীমান্তে জড়ো হওয়া পাকিস্তানিরাও এটা মেনে নিয়েছেন। বজরঙ্গি ভাইজান পুরনো সিনেমার প্রতিহিংসাপরায়ণ সানি দেওল নন। কিন্তু পূর্বসূরিদের থেকে এ সিনেমা অনেকটা দূরত্ব তৈরি করতে পেরেছে এমনটাও নয়। পুরনো সিনেমার উগ্র দেশপ্রেম আর নেই; কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব আর সীমান্তে শান্তির দায়িত্ব এখনও ভালো মানুষ ভারতীয় নায়কের প্রশস্ত কাঁধেই। স্ক্রল ইন থেকে ভাবানুবাদ : শানজিদ অর্ণব
 

স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে : টিআইবি

স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে : টিআইবি

সংসদ প্রতিবেদক: সংসদীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থ কাজ করে। আর সরকার ও সংসদের মতো ‘এককেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ’ থাকায় সংসদীয় কমিটিগুলোও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গতকাল ধানমণ্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর সমস্যা ও সমাধানের উপায়’ নিয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে বলা হয়, সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকর নয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো কার্যকরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। কমিটির কার্যক্রমও রাষ্ট্র-সংসদের সব কার্যক্রমের মতো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেকে বলেছে, সংসদ নেতার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি (সংসদীয় কমিটি)। তার ইচ্ছা ও নির্দেশে সব সিদ্ধান্ত হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান এজন্য বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রচর্চার দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রার পর থেকে এককেন্দ্রিক ক্ষমতারবলয় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেই সব ক্ষমতা। এখন ইলেকটেড ডিক্টেটরশিপ চলছে। দেশে একটা সময় নির্বাচনের গণতন্ত্র ছিল, এখন তাও শেষ হয়ে গেছে। নানা সমালোচনা করলেও দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সবগুলো সংসদীয় কমিটি গঠন করাকে ইতিবাচক বলেছে টিআইবি। তবে কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য এটিই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্যও এসেছে তাদের কাছ থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নবম সংসদে ৫১টি কমিটির ছয়টিতে এবং দশম সংসদে ৫০টি কমিটির মধ্যে পাঁচটিতে এক বা একাধিক সদস্যের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। টিআইবি গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১টি কমিটির ৩৮ জন সদস্যের মধ্যে ৯টিতে ১৯ জন সদস্যের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। সংসদীয় কমিটিগুলোকে কার্যকরে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোরও পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ওই দেশ দুটিতে আইন সভায় প্রতিনিধিত্বের সমানুপাতিক হারে কমিটিতে সদস্য ও সভাপতি করা হয় এবং মন্ত্রী কমিটির সভাপতি বা সদস্য হন না। আর্থিক কমিটিগুলোর সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচন করা হয়। টিআইবির গবেষণায় সময়কাল ছিল নবম সংসদের ২০০৯ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ এবং দশম সংসদের জানুয়ারি ২০১৪ থেকে এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবম সংসদে ১১ শতাংশ ও দশম সংসদে ১৭ শতাংশ বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল এবং সভাপতি হিসেবে যথাক্রমে তা ছিল ৪ শতাংশ ও ২ শতাংশ। নবম সংসদে ১১টি কমিটি মোট ৩১ বার এবং দশম সংসদে তিনটি কমিটি মোট তিনবার পুনর্গঠিত হলেও কমিটি পুনর্গঠনের কোনো কারণ প্রকাশিত হয়নি। টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংসদীয় কমিটিতে দুর্নীতি সম্পর্কিত বিষয়ে মাত্র ৪ শতাংশ আলোচনা হয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়েও কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটিগুলোকে কার্যকর করতে ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে সংবিধানের ৭৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইন প্রণয়ন করে কমিটির বৈঠকে সাক্ষী হাজিরা, সাক্ষ্য প্রদান ও দলিলপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধন করে সভাপতি ও সদস্যদের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পৃক্ততার তথ্য প্রতিবছর হালনাগাদ করে তা জনসম্মুখে প্রকাশের বিধান করা এবং আর্থিক কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচন করা অন্যতম।

MOST POPULAR

HOT NEWS

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.