যে কারণে ব্যর্থ বাণিজ্যিক মিশন

20140207-085052.jpg

06 Feb, 2014 রপ্তানী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলো। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যর্থতার তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৫ বাণিজ্যিক মিশন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও মিশন অফিসের কাছে সহযোগিতা চেয়ে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রপ্তানীকারকদের। আর এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনীতিসহ নানা কারন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সব সরকারের আমলেই মিশনগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়। আর এ নিয়োগ পান ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠজন কিংবা আত্মীয়স্বজনরা। একারণে রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরা উদ্যোগী হন না। এছাড়া তাদের দক্ষতারও অভাব রয়েছে।

শীর্ষ ব্যবসায়ীরা নেতারা জনান, মিশনগুলো কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক দক্ষতার বিষয়টি প্রাধান্য দেয় না। এ পদে ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগের সুারিশ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইকোনমিক কাউন্সিলর পদে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। ফলে এসব কর্মকর্তা বিদেশে বাংলাদেশের পণ্য তুলে ধরতে পারছেন না। আবার নতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ মিশনে জনশক্তিরও অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মিশনের কর্মকর্তারা জানেন না তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

রপ্তানীকারকদের দাবি, নতুন সাতটিসহ বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোট ৫১টি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে যে ২৫টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সেগুলোতে বিশেষ তদারকি টিম গঠনের দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। অভিজ্ঞদের নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত মিশনগুলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলেও মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, বাংলাদেশী পণ্যের বাজার ও ব্যবসা সম্প্রারণের জন্য নতুন কার্যকর ভূমিকা রাখা মিশনগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু মিশনগুলো আশানুরুপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। দেশের বেসরকারি খাত এসব মিশনের মাধ্যমে তেমন কোন উপকারও পাচ্ছে না।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, ইপিবি এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সম্বনিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন শাহজাহান খান।

ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিষ বসু জানান, সম্প্রতি ব্যর্থ মিশনগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বিশ্বমন্দার কারণে অনেক মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না বলে মনে করছেন তিনি।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এজন্য রপ্তানী বাড়াতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের কর্মপরিধি ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুয়ায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ মিশনের তালিকায় রয়েছে ক্যানবেরা, হংকং, দুবাই, মস্কো, রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, তেহরান, ইসলামাবাদ, জাকার্তা, ম্যানিলা, কাঠমান্ডু, রাবাত ও ব্রাজিল। এছাড়া ১৪টিতে গত ছয় মাসে রফতানি কমেছে। এগুলো হচ্ছে ভারত, দুবাই, মস্কো, রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ম্যানিলা, কাঠমান্ডু, রাবাত ও ব্রাজিল। প্রতিবেশী নেপালে রফতানি আয় কমেছে ৫২ শতাংশ। এর বাইরে দেশের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১২টি কমার্শিয়াল উইয়িং।উৎসঃ রাইজিংবিডি