প্রাণ পেতে তৃণমূলে চড়াও বিএনপি

0
8

20140218-094317.jpg

প্রাণ পেতে তৃণমূলে চড়াও বিএনপি
এম রফিক রাফি

ঢাকা: হারানো মনোবল ফিরে পেতে পাঁচ সিটি করপোরেশনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় চায় বিএনপি। এজন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে দলটি। জয়ের পথ সুগম করতে প্রত্যেক উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। তৃণমূলের কোনো কোন্দল সহ্য করা হচ্ছে না। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

গত রোববার ও সোমবার কেন্দ্র থেকে বিভিন্নস্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী ১০ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের পরপরই সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করবে বিএনপি। এজন্য এ নির্বাচনের জয়কে কাজে লাগতে চায় দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেকেই কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে এখনো অনেক উপজেলায় বিএনপির একাধিক এবং জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন। ফলে সেসব উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বিএনপিকে। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও বহিষ্কারের ফলে প্রায় নব্বইভাগ উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করা গেছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন মনিটরিং কমিটির দায়িত্বে থাকা এক যুগ্মমহাসচিব বাংলামেইলকে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে প্রতিটি উপজেলায় যোগ্য একক প্রার্থী নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিবৃত্ত করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা নির্দেশ মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো পদেক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’ তবে বহিষ্কারের পর নির্দেশ মেনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের আন্দোলন তার লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারা এবং বিরোধীদল বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে এ হতাশা থাকবে না। উপজেলা নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তা খুব শিগগিরই শক্তিতে পরিণত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি উপজেলা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে পাঁচ সিটি নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনগুলোতেও ১৯ দল সমর্থীত প্রার্থীরা বিজয়ী হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা মনিটরিং কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান বাংলামেইলকে জানান, জয় সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় যোগ্য একক প্রার্থী নির্বাচনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। যেসব উপজেলায় দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে তারা অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। যারা করেননি তারা কেন্দ্র নির্দেশিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। আর যারা নির্দেশ মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তাই দল বা কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেয়ার আসলে কিছুই নেই। তবে উপজেলা নির্বাচনকে পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি হিসেবে গ্রহণ করেছে বিএনপি। এই নির্বাচনে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এই নির্বাচন সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। নির্বাচন যদি মোটামুটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে প্রথম পর্বের ৯৭টি উপজেলার মধ্যে কমপক্ষে ৭৫টিতে বিএনপি ও ১৯ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।’

প্রথম পর্বের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকলেও দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে একাধিক বা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা দলের যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রায় সব এলাকায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।’

এ বিষয়ে দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমান একদলীয় সরকারের পতন সূচিত হবে। উপজেলা নির্বাচনের জয়কে কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

বাংলামেইল২৪