নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কুটনীতিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর মামলা

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কুটনীতিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর মামলা

মনিরুল ইসলাম <মনিরুল ইসলাম

২২ মার্চ : প্রতিশ্রুত মজুরি না দেয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগে নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত এক বাংলাদেশি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার গৃহকর্মী।

শুক্রবার ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল অফিসের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা ইসলাম প্রভার বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ রানা।

মামলা অভিযোগে মাসুদ পারভেজ বলেন, চাকরির নাম করে দেশ থেকে আনার পর তাঁকে রীতিমতো গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। ম্যানহাটনের ৫৭ স্ট্রিটের কনসাল জেনারেলের সরকারি বাসায় তাঁকে দিয়ে ভোর ছয়টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করানো হয়। মাসে তিন হাজার ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও গত ১৮ মাসে তাঁকে কোনো মজুরি দেয়া হয়নি। ঘরের রান্নাবান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, কাপড় ধোয়াসহ সব কাজ তাঁকে দিয়ে করানো হতো। এমনকি বাংলাদেশ থেকে যাবার পর তার কাছ থেকে পাসপোর্টও নিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওই গৃহকর্মীর। এছাড়া, ঘরের বাইরে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে বলে ভয় দেখানো হয় মামলার অভিযোগে বলা হয়।

আদালতে করা অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৮ মাসে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় মাসুদ পারভেজকে দাসের মতো ব্যবহার করেছেন মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী। এ সময় তাঁকে অন্তত দুই দফায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তাঁকে কখনো ছুটি বা বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তবে, কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, গৃহকর্মীর আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে মাসুদ পারভে। তাঁর কোনা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।

কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি মরোক্কোয় রাষ্ট্রদূত পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। শিগগিরই তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজের পক্ষে মামলাটি করেন আইনজীবী ডানা সাসম্যান। এই আইনজীবী কিছুদিন আগে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা গৃহকর্মীর মামলাটিও পরিচালনা করেন। সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবসে দায়ের করা মামলায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘন, গৃহকর্মী নির্যাতন ও অসাধু উপায়ে শ্রম ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশি কূটনীতিক ও তাঁর স্ত্রীর নামে যেকোনো সময় পুলিশি তত্পরতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনীতিক হিসেবে এই মামলায় মনিরুল ইসলামের দায়মুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। #

রেডিও তেহরান