ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছেন আমেরিকানরা

ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছেন আমেরিকানরা

মোহাম্মদ তুহিন: সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকানদের মধ্যে ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে প্রায় ৮২ ভাগ আমেরিকান ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৪ ভাগে। যারা এতদিন তাদের নাস্তিক্যবাদের কথা স্বীকার করেননি, বর্তমানে বিভিন্ন স্টেটে সমকামী বিয়ে কিংবা গাঁজার মতো মাদককে আইনগত স্বীকৃতির দেওয়ার জন্য এখন জোর গলায় তাদের ধর্মহীনতার কথা স্বীকার করছেন। এটাই কি কারণ? নাকি আসলেই ধর্মের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দিন দিন কমে যাচ্ছে? প্রতি পাঁচ জন আমেরিকানের মধ্যে একজন মনে করে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ধর্ম কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি অর্গানাইজেশন তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদেশের সমাজব্যবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতা দিন দিন প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক সবকিছুতেই ধর্মনিরপেক্ষতা একতরফাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে যারা কোনো একটি ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারী, তারা রাষ্ট্রীয় কর্মব্যবস্থা, পাবলিক শিক্ষা ব্যবস্থা এমনকি মিডিয়াগুলো থেকে প্রতিনিয়ত ঘাত-প্রতিঘাতের স্বীকার হচ্ছেন। প্রথমেই ধরা যাক, এই দেশের পাবলিক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা। শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে এদেশের ভবিষ্যত অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা। স্কুলগুলোতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও সবকিছুর মূলে ছিল বিশ্বাস। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্ম বিশ্বাসের কোনো মূল নেই এবং যারা ধর্মে বিশ্বাস করে তাদেরও কোনো স্থান নেই।

ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক অর্গানাইজেশনটি তাদের গবেষণায় আরো উল্লেখ করেছে, খৃষ্টানধর্মে বিশ্বাসী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শিক্ষক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে উপহাসের পাত্র হচ্ছে। সম্প্রতি, নিউজার্সীর এক পরিবার তাদের সন্তানের স্কুলে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ নেয়ার কারণে উক্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাছাড়া মার্কিন ডলারে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস লেখাটি নিয়েও বর্তমানে অনেক তর্ক-বিতর্ক চলছে। তবে শুধু খৃষ্টান ধর্মই নয় এদেশে মুসলিম, ইহুদি ধর্মাবলম্বী অনেক কম বয়সী ছেলে-মেয়েই তাদের ধর্মের প্রতি আস্থা হারিয়ে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঝুঁকছে। পারিবারিক এবং সামাজিক অনুশাসনের অভাবই তাদের এই পথে ধাবিত করছে বলে গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

ধর্মহীনতার দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে এই জাতির ভিত আজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ৭৭ ভাগ আমেরিকান মনে করেন, এদেশের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রভাব এখন আর চোখে পড়ে না। অন্যদিকে, ৭৬ ভাগ মনে করেন ধর্মীয় প্রভাব থাকলে আমেরিকানরা আরও ভাল থাকতে পারতেন। একথা ঠিক যে, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য, সহিংসতা, সামাজিক সাহায্য সংস্থাগুলোর উপর নির্ভরতা যে পরিমাণে বাড়ছে, তাতে ধর্ম এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা একান্তই প্রয়োজন। কারণ ধর্মই পারে এই ধরনের সামাজিক সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমাতে। ধর্মের প্রতি বিশ্বাস থেকেই মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশাসন যারা মেনে চলেন তারা নিজেদের এবং অপরকে সহিংসতা, কুপ্রবৃত্তি প্রভৃতি থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করেন।