গুম করতে এলে আটকে রাখবেন

0
6

20140501-151120.jpg

মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন খালেদা জিয়া। ছবি: ফোকাস বাংলা
শ্রমিক দলের গণজমায়েতে খালেদা জিয়া
গুম করতে এলে আটকে রাখবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মে, ২০১৪

সারা দেশে ‘সাংগঠনিক রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘যারা গুম করতে আসবে, ঘেরাও করে আটকে রাখবেন, র‌্যাব হোক, পুলিশ হোক, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মে দিবসের সমাবেশে খালেদা জিয়া এই সাংগঠনিক সতর্কাবস্থা জারির ঘোষণা দেন। শ্রমিক দল মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক গণজমায়েতের আয়োজন করে।

সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা, খুন-গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি রাজপথে নামবেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে সাংগঠনিক রেড অ্যালার্ট জারি করলাম। সময়মতো ডাক পড়লে হাজির হবেন।’

নারায়ণগঞ্জে সাতজন গুম ও পরে খুনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর দায় চাপিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনাকে এর জবাব দিতে হবে। কারণ হাসিনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে দায় নিতে হবে।’

সবখানে শুধু লাশ আর লাশ

খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিদিন মানুষ গুম হচ্ছে। লাশ ভেসে উঠছে। নদীতে লাশ, বনে-জঙ্গলে লাশ। সবখানে শুধু লাশ আর লাশ। ড্রাকুলা সরকার রক্ত চুষে চুষে শেষ করে দেবে।

সাদা পোশাকে এরা কারা?

সাম্প্রতিক সময়ের গুম-খুনের সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এখন দেশের যে অবস্থা, স্বাধীনতার পরপর একই অবস্থা ছিল। রক্ষীবাহিনী, লাল-নীল বাহিনী করে হত্যা-গুম করা হয়েছিল। খালেদা জিয়া প্রশ্ন রাখেন, এখন সাদা পোশাকে কারা এরা? বাড়ি থেকে যুবকদের ধরে নিয়ে যায়।

রাস্তাও পাহারা দিতে পারে না

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তাঁরা বেডরুম পাহারা দিতে পারেন না। তাঁর ওই বক্তব্য সামনে এনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনা বলেছিল বেডরুম পাহারা দিতে পারবেন না। এখন তো রাস্তায়ও পাহারা দিতে পারেন না। রাস্তা থেকে মানুষ গুম হচ্ছে।’ বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম গুমের ঘটনা এ সময় তিনি তুলে ধরেন।

‘পথে নামব’

খুন-গুমের জন্য সরকারকে দায়ী করে খালেদা জিয়া বলেন, এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এসবের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তার জন্য আমি পথে নামব।’ তিনি সমবেত নেতা-কর্মীদের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা নামবেন?’ এ সময় কর্মীরা তুমুল স্লোগানে তাঁর কথায় সায় দেন। তখন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি নামতে গেলে আওয়ামী লীগ আমার বাড়ির সামনে পুলিশ, ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়। তার পরও মানুষের জন্য, এ খুনিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নামব ইনশাআল্লাহ।’

জঙ্গিদের সঙ্গে আ.লীগের সম্পর্ক

যুবলীগের নেতার নির্দেশে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সংবাদ উদ্ধৃত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবদুর রহমান কার দুলাভাই ছিল? মির্জা আজমের। মির্জা আজম কি বিএনপি করে? আওয়ামী লীগ করে। তাহলে কাদের সঙ্গে জঙ্গি?’

রানা প্লাজায় সাহায্য পায়নি

রানা প্লাজায় হতাহতরা যথাযথ সহায়তা পাননি, এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, রানা প্লাজায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ অনেক টাকা উঠিয়েছিল। বিদেশ থেকেও অনেক সাহায্য এসেছে। কিন্তু শ্রমিকেরা এখনো যথাযথ সাহায্য পায়নি।

জিন-ভূতের ভোটে ক্ষমতায়

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি, দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, জিন-ভূতের ভোটে এই সরকার এখন ক্ষমতায়।

সমাবেশের একেবারে শেষ পর্যায়ে সমাবেশস্থলে দুপক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় খালেদা জিয়া বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তাত্ক্ষণিক তিনি বলেন, ‘সমাবেশে বেইমান ঢুকেছে, গন্ডগোল করার চেষ্টা করছে। দালালরা আসবে, তাদের ধরে চ্যাপ্টা করে ফেলবেন।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।