যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মন্দ পেশা সাংবাদিকতাঃ সাংবাদিকতা থেকে ট্যাক্সি ড্রাইভার বেশী পছন্দের পেশা

প্রবাস রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার হিসেবে গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশা সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় পেশা। নতুন প্রজম্মের পেশা পছন্দের তালিকায় সাংবাদিকতা পেশা নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। সে হিসাবে এই পেশাটি সবচেয়ে মন্দ পেশার একটি। এমনকি সাংবাদিকতা থেকে ট্যাক্সি ড্রাইভার বেশী পছন্দের পেশা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে  সবচেয়ে অপছন্দের পেশাটি হচ্ছে কাঠমিস্ত্রির কাজকে। অন্যদিকে গণিতবিদের চাকরি এখন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আকর্ষনীয় পেশা।

‘ক্যারিয়ার কাস্ট’ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভালো ও মন্দ পেশার তালিকা নিয়ে তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি তারা চলতি বছরের তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এ বছর রিপোর্টার বা সংবাদদাতার কাজ হচ্ছে দ্বিতীয় খারাপ পেশা। গণিতবিদের চাকরিকে এতে সবচেয়ে ভালো পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় প্রথম খারাপ পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয় কাঠমিস্ত্রির কাজকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫ বছরে বিশ্বে সাংবাদিক হওয়ার আকাংক্ষা দ্রæত কমে এসেছে এবং ২০২২ সালের মধ্যে এ সংখ্যা আরও হ্রাস পাবে। নানা কারণে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অনেক মিডিয়া কোম্পানি তাদের সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেবে। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ভালো এবং মন্দ পেশার তালিকার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০ চাকরির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে- যার মধ্যে শারীরিক শ্রম, কাজের পরিবেশ, আয়, কর্মসংস্থানের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজের চাপ অনুযায়ী ৫টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবদিক বিবেচনা করে ১০টি খারাপ কাজের তালিকা তৈরি করা হয়েছে- যার মধ্যে রয়েছে কাঠমিস্ত্রি, সাংবাদিকতা, ট্যাক্সি ড্রাইভার, ঘোষক, চিফ কুক, বিমান বালা, পরিচ্ছন্ন কর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশোধনী অফিসার।

এদিকে আরেক জরীপে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রগুলোর আয় আরও কমেছে। তবে অনলাইনে রুপান্তরের ক্ষেত্রে মিশ্র সাফল্য লক্ষ্যণীয়। শিল্প সূচকগুলো থেকে এ তথ্য জানা যায়। ২০১৩ সালে সংবাদপত্র শিল্পে মোট আয় ছিল ৩৭.৫৯ বিলিয়ন ডলার। যা পূর্ববর্তী ২০১২ সালের তুলনায় ২.৬ শতাংশ কম। ২০১২ সালে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৮.৬০ বিলিয়ন। নিউজ পেপার অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে, এই সূচকের একটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে যে, ডিজিটাল সদস্য ও তাদের চাঁদার সহায়তায় সার্কুলেশন খাতে আয় ১০.৮৭ বিলিয়ন বেড়েছে। এতে বিজ্ঞাপন, সার্কুলেশন ও মাকেটিংসহ সব ডিজিটাল খাতে আয় ৫.৮ শতাংশ বেড়েছে। যা এই শিল্পের মোট আয়ের ১২ শতাংশ। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপন কমার গতি অব্যাহত রয়েছে। অথচ সংবাদপত্র শিল্পে দীর্ঘদিন থেকে এই খাতটি ছিল আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রচলিত মুদ্রিত দৈনিক ও রোববারের সাপ্তাহিক সংবাদপত্রগুলোর বিজ্ঞাপন ৮.৬ শতাংশ কমে ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর এক অংশবিশেষ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই অনলাইন বিজ্ঞাপনের হার ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রঃ সাপ্তাহিক প্রবাস