`মন্ট্রিয়লে স্মরণীয় ফোবানা উপহার দেয়া হবে’

Fobana_Montirel_2013কানাডার মন্ট্রিয়লে স্মরণীয় ফোবানা সম্মেলন উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফোবানা’র মূল আর হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। আগামী লেবার ডে উইকেন্ডে অর্থাৎ ৩১ আগষ্ট ও ১ সেপ্টেম্বর মন্ট্রিয়েলের ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিক স্টেডিয়ামের পিয়ের সারবোনন সেন্টারে। দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ২৭তম ফোবানা সম্মেলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এই সম্মেলন সফল করতে সবধরনের প্রস্তৃতি নেয়া হয়েছে। চলছে বিভিন্ন উপ কমিটির প্রস্তুতি আর মতবিনিময় সভা। সম্মেলনে থাকবে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী প্রভৃতি। সম্মেলনটি ঘিরে উত্তর আমেরিকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সর্বত্রই। এবারের ফোবানা সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মন্ট্রিয়ল।

সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ ফুডকোর্ট রেষ্টুরেন্টে গত ২৭ জুলাই বিকেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফোবানা নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোবানা’র সাবেক মেম্বার সেক্রেটারী ও বর্তমান ফোবানা কমিটির অন্যতম সদস্য দারা আবু যুবায়ের। এরপর ফোবানা সম্মেলনের প্রস্তুতি তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মন্ট্রিয়ল ফোবানা সম্মেলন কমিটির কনভেনর এজাজ আকতার তৌফিক।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ মে মন্ট্রিয়লে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৭তম ফোবানা সম্মেলনের কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে। ঐদিন ৮০টি মোটর সাইকেলের অংশগ্রহণে ‘মন্ট্রিয়লে এক টুকরো বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে মুখে ও বুকে ধারণ করে কাউন্ট-ডাউনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির মেম্বার সেক্রেটারী ডা. মাসুদুর রহমানসহ হাসানুজ্জামান হাসান, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আযম প্রমুখ। এসময় ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক দেওয়ান শামসুল আরেফীন (নিউজার্সী), বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউজার্সী’র সভাপতি তাহসিন মেহমান (নিউজার্সী), ফোবানা’র স্টিয়ারিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান (টরন্টো), এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান হাবু (মন্ট্রিয়ল), কো-কনভেনর গোলাম মোহাম্মদ (মন্ট্রিয়ল), কো-কনভেনর মামুন আহমেদ (মন্ট্রিয়ল), খন্দকার ফরহাদ (নিউইয়র্ক), মাকসুদুল হক চৌধুরী (নিউইয়র্ক) প্রমুখ ফোবানা ও সম্মেলন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনটি পরিচালনা করেন ফোবানা’র স্টিয়ারিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলী ইমাম শিকদার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ফোবানা নেতৃবৃন্দ বলেন, মন্ট্রিয়েল ফোবানা সম্মেলনের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ডলার। এ পর্যন্ত নিউইয়র্ক ও কানাডার ২১টি সংগঠন ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিতে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে এবং রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফোবানা সম্মেলনে যোগদিতে ইচ্ছুক সংগঠনগুলোর সদস্য রেজিষ্ট্রেশন ২৩ আগষ্ট পর্যন্ত চলবে। সম্মেলন ভেন্যু মন্ট্রিয়েলের ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিক স্টেডিয়ামের পিয়ের সারবোনন সেন্টার ইতিমধ্যেই বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবছরের মন্ট্রিয়ল ফোবানা সম্মেলনের কনভেনর হচ্ছেন এজাজ আকতার তৌফিক এবং মেম্বার সেক্রেটারী লাবলু আকন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফোবানার বিভক্তি বন্ধ করে ঐক্যের ব্যাপারে আমরা সব সময়ই আগ্রহী এবং উদার। ১৯৯৪ সাথে প্রথমবারের মতো ফোবানায় বিভক্তি দেখা দেয় এবং ১৯৯৮ সাথে দ্বিতীয়বারের মতো ফোবানা বিভক্ত হয়। কারো কারো ব্যক্তিগত ইগো সমস্যা আর আন্তরিকতার অভাবের কারণেই ঐক্যবদ্ধ ফোবানা সম্মেলন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। আগামী বছর ঐক্যবদ্ধ ফোবানা সম্মেলনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলনের বিষয়ে যে ঐক্যের কথা বলা হয়েছে তা আসলে ঐক্য নয়। এটর্নী আলমগীর কোনদিন ফোবানা’র সদস্য ছিলেন না। ঐ ফোবানা কমিটি থেকে যারা বেরিয়ে গিয়েছিলেন তারাই আবার ফিরে এসেছেন। এটাকে ঐক্য বলা যায় না। প্রকৃত ঐক্য হতে হলে সবাইকেই এক পতাকা তলে আসতে হবে। এজন্য কৌশলও খোঁজা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, উত্তর আমেরিকায় আমরা কয়েক লাখ বাংলাদেশী বসবাস করলেও অনৈক্যের কারনে আমরা মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে পাছি না।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ফোবানা নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ২৬ বছর ধরে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলন নিয়ে বিভক্তি থাকলেও উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি হিসেবে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এই অগ্রগতির মূলে ফোবানা সম্মেলনের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ মূলধারায় আমরা আমাদের অবস্থান সৃষ্টি করতে পারছি। আমাদের জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে মূলধারার নেতৃবৃন্দ আসছেন এবং ভোটের জন্যও তারা আমাদের কাছে আসছেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ, হৃদয় খান ও ব্যান্ড দল মাইলস সহ দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। সম্মেলনটি সফল করতে ফোবানা নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে উত্তর আমেরিকার সকল প্রবাসী বাংলাদেশীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ইফতার গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে ফোবানা ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটি চেয়ারম্যান অসুস্থ মোহাম্মদ হোসেন খানের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এই দোয়া পরিচালনা করেন ফোবানার সাবেক কনভেনর গিয়াস আহমেদ।

উল্লেখ্য, ফোবানা সম্মেলনের ইতিহাসে ইতিপূর্বে কানাডায় পাঁচটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে কানাডার টরন্টোতে হয়েছে চারবার এবং মন্ট্রিয়লে হয়েছে একবার। এই বছর মন্ট্রিয়লে দ্বিতীয়বারের মতো ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সূত্রঃ এখন সময়