সচিবের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ!

সচিবের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ!
ঢাকা: প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

দুদক সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নামে-বেনামে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. শওকত হোসেন। নিজ নামে প্লট-ফ্লাট, বাড়ি-গাড়ি, জমি-জমা, ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াও স্ত্রী, শ্যালক ও ভাইদের নামে ৩০টি ট্রাক, শেয়ার ক্রয়সহ নানাভাবে সম্পদ বানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ড. শওকত হোসেনের নামে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া প্লটের বাইরে গুলশান ১২ নম্বর রোডের ২২০ নম্বর বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ফ্লাট রয়েছে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

তার নামে সাভারের আশুলিয়ায় ৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ১২০ বিঘা জমি, গাজীপুরের ভালুকায় ১৬ কোটি টাকা মূল্যের ৪০ বিঘা জমি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ বিঘা জমি ও বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

এছাড়া, তার স্ত্রী ড. আয়েশা খানমের নামে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ছয় কাঠা জমিতে পাঁচ তলা ভবন এবং রয়েছে ৩০টি ট্রাক। স্ত্রী ও শ্যালকের নামে রয়েছে ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার। তার ভাইয়ের নামে মোহাম্মদপুরে সাত বিঘা এবং চট্টগ্রামের কক্সবাজারে তিন বিঘা জমি রয়েছে।

ড. শওকত হোসেন লন্ডন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে অন্তত ৮০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সুত্র জানায়, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান চালানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগের পর ড. শওকত হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ব্যাংক, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসসমূহে কাছে তথ্য চাইবে দুদক।

সার্বিকভাবে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে গড়মিল বা অসঙ্গতি থাকলে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলেও সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি প্লট নিজ নামে বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ড. খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল তিনটি মামলা করে দুদক।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ড. শওকত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে বিভিন্ন কৌশলে নিজ, স্ত্রী ও মায়ের নামে তিন থেকে সাত কাঠার তিনটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেইসব প্লটের আয়তন বাড়িয়ে তিন থেকে পাঁচ ও সাত থেকে ১২ কাঠায় উন্নীত করে নেন।

এরমধ্যে তিন থেকে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করা প্লটের দুই কাঠা বিক্রিও করেন। আবার পাঁচ কাঠার মালিকানা দেখিয়ে এক ডেভেলপার কোম্পানিকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দেন। যা দুদক আইনে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নতুন বার্তা