বিশ্ব সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার পেলেন সেলিমা আহমদ

বিশ্ব সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার পেলেন সেলিমা আহমদ

image

আবদুর রহিম হারমাছি, অসলো থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিভিন্ন দেশের অন্য পাঁচ জনের সঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা অসলো বিজনেস শান্তি পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমদ।

নরওয়ের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় অসলো সিটি হলে অসলোর গভর্নিং মেয়র স্টিন বারগার রোসলেন্ড অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

এই সিটি হলেই নোবেলবিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল জয়ের পর এই হলেই পদক নিয়েছিলেন।

নরওয়েভিত্তিক বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ আয়োজনে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অসলো সিটি হল থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মাননা নিলেন সেলিমা আহমদ।

২০১২ সালে বাংলাদেশের আরেক ব্যবসায়ী ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানও ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে নোবেল’ হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

সেলিমা আহমদের সঙ্গে তিউনেশিয়ার ওইদেদ বুচামও, যুক্তরাজ্যের স্যার রিচার্ড ব্রনসন, নেপালের কেশাকুমারি দামিনি, লেবাননের আদনান কাসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেরিলন কার্লসন নেলসন এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের অসলো বিজনেস শান্তি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের শিরিন এবাদি জাকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বলেন, “মুনাফাই যেন ব্যবসার শেষ কথা না হয়। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবসায়-উদ্যোক্তাদের দূত হিসেবে কাজ করতে হবে।

“মনে রাখতে হবে ব্যবসায়ীদেরও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সে দায়বদ্ধতা থেকেই নীতি-নৈতিকতা মেনে সমাজে শান্তি আনতে হবে।”

ইরানের শিরিন এবাদির পাশাপাশি ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী লাইবেরিয়ার লেইমাহ জিবোয়িও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ছোট্ট সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মূল মঞ্চে একে একে বিজনেস ফর পিস পদক জেতা ছয় উদ্যোক্তা। মুর্হুমুহু করতালি আর উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে হলভর্তি অতিথিরা শুভেচ্ছা জানান ‘আলো ছড়ানো’ সফল ব্যবসায়ীদের।

দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশনে কাজ করা বিশিষ্ট সাংবাদিক নিক গাওয়িংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানান পদকপ্রাপ্তরা।

প্রথমেই মঞ্চে ডাকা হয় বাংলাদেশের সেলিমা আহমদকে। ভিন্ন আঙ্গিকের এ অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেয়ার আগে সঞ্চালক পাঁচ মিনিট ধরে সেলিমা আহমদকে প্রশ্ন করেন।

সেলিমা আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ উদ্যোমী-সাহসী। একটু সুযোগ পেলেই তারা সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে উন্নয়নে অবদান রাখেন।

“বাংলাদেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য আছে। এরমধ্যেও আমি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে এখন নারী উদ্যোক্তা কম সুদে-বিনা জামানতে ঋণ পাচ্ছে। বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।”

সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা আহমদ বলেন, “এই অসলো সিটি হলে আমি বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ব্যবসার জন্য পুরস্কার পেলাম।

“এই হলে আমি আবার আসতে চাই। আর সেটা নোবেল পুরস্কার নিতে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমি কাজ করে যাব।”

সেলিমা আহমদের পর একে একে আরো পাঁচ বিজয়ী মঞ্চে এসে সঞ্চালকের মুখোমুখি হয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দেন।

এরপর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানা অনুষ্ঠানে একঘেয়েমি কাটাতে আয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৩১জন উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করেছে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশন।

পুরস্কার পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেলিমা আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সকল নারী উদ্যোক্তাদের কথা মনে পড়ছে, যাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়েই আমি এই সম্মান পেয়েছি।

“আমার এ সম্মান বাংলাদেশের সব নারী উদ্যোক্তাদের সম্মান। খুবই ভালো লাগছে বাংলাদেশের জন্য আমি এই সম্মান নিয়ে আসতে পেরেছি।

“একইসঙ্গে আমি এটাও মনে করছি, আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। বাংলাদেশের অসহায় নারীদের ভাগ্যের উন্নয়নে আমি আমার কাজ অব্যাহত রাখবো।”