চার বছরের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা সর্বনিম্ন

চার বছরের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা সর্বনিম্ন
তারিখ: ১৭-০৮-২০১৩
জুয়েলারি, কয়েন ও বারের চাহিদা বাড়া সত্ত্বেও এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের সার্বিক চাহিদা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায় পৌঁছেছে। মূলত বিনিয়াগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ থেকে সরে আসার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়ায় এ চাহিদা কমেছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। খবর রয়টার্সের।
গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউজিসি জানায়, এপ্রিলে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দুই দিনের মধ্যে প্রতি আউন্সে ২০০ ডলার কমে যায়, যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে পরবর্তী মাসে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় বার ও কয়েনের চাহিদা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এ সময় গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণে জুয়েলারি বিক্রি হয়। এক বছর আগের তুলনায় জুন শেষে গত তিন মাসে ভোক্তা চাহিদা অর্ধেকেরও বেশি বেড়ে ১ হাজার ৮৩ টনে দাঁড়ায়।
কিন্তু একই সময়ে স্বর্ণনির্ভর এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডগুলো (ইটিএফ) থেকে ৪০২ দশমিক ২ টন স্বর্ণ কম কেনা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ কমেছে ৯৩ দশমিক ৪ টন। ফলে সার্বিকভাবে স্বর্ণের চাহিদা ১২ শতাংশ কমে নেট ৮৫৬ দশমিক ৩ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটাই সর্বনিম্ন।
গত বৃহস্পতিবার ডব্লিউজিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারকাস গ্রাব বলেন, ‘এ ধারার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছর স্বর্ণের চাহিদা কয়েক টন কম থাকবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ইটিএফ কীভাবে বিনিয়োগের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে কিনা। কেননা জুয়েলারি চাহিদার মতো অন্য খাতগুলো প্রসারিত হচ্ছে মজবুতভাবে।’
ডব্লিউজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) তার কোয়ানটেটিভ ইজিং কার্যক্রম বাতিল করে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। এ আশঙ্কায় এই খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের এক নথিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হেজ ফান্ড পলসন অ্যান্ড কোম্পানি বিশ্বের সর্ববৃহত্ ইটিএফ এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট থেকে তাদের শেয়ারের পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে।

এদিকে চলতি বছর স্বর্ণের দাম কমেছে এক-পঞ্চমাংশ। জুনে প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১৮০ দশমিক ৭১ ডলারে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে স্বর্ণ লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ ডলারে, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় প্রায় ৬০০ ডলার কম। তখন প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৯২০ ডলার ৩০ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।
ডব্লিউজিসি এক পূর্বাভাসে জানায়, ‘২০১২ সালের ৫৪৪ দশমিক ৪ টনের বিপরীতে চলতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩০০-৩৫০ টন স্বর্ণ কিনবে।’ মূলত স্বর্ণের দামে অস্থিরতা বিরাজ করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার সময়ে কিছুটা ওলট-পালট দেখা যাচ্ছে বলে জানান গ্রাব।

গত বৃহস্পতিবার গ্লোবাল গোল্ড ফোরামে গ্রাব বলেন, ‘দাম কমে যাওয়ার কারণে স্বর্ণ বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করেছিলাম আমরা। কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর ওপর আস্থা ছিল নেতিবাচক। অনেকেই ধারণা করেছিলেন স্বর্ণের দাম আরো কমবে। আর এ কারণেই স্বর্ণ কেনার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে বলে আমার মনে হয়।’
স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের চাহিদা বাড়লেও এর তুলনায় ইটিএফ তারলীকরণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা এখনো অনেক বেশি। বিশ্বের সর্ববৃহত্ স্বর্ণ ভোক্তা দেশ ভারত ও চীনে জুয়েলারি, কয়েন এবং বারের চাহিদা ৭১ শতাংশ বেড়ে ৩১০ টন ও ৮৭ শতাংশ বেড়ে ২৭৫ দশমিক ৭ টনে দাঁড়িয়েছে। গোল্ড বার এবং কয়েন ক্ষেত্রে চীন হলো সর্ববৃহত্ বাজার। তবে উভয় দেশেই এগুলোর চাহিদা বাড়ছে। আর জুয়েলারির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত।

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বেড়ে ৫৭৫ দশমিক ৫ টনে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জুয়েলারির চাহিদা বেড়েছে এক-তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে দেশটিতে কয়েন ও বারের চাহিদা কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। তুরস্কে ভোক্তা চাহিদা ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ টনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জুয়েলারির চাহিদা ২ শতাংশ বেড়ে ২০ দশমিক ৩ টনে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে দুই প্রান্তিক ধরে দেশটিতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এর আগে ২০০৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছিল দেশটিতে।
সূত্রঃ বণিক বার্তা