পরকীয়ার জেরে প্রেমিকের কাছে নৃশংসভাবে খুন হলো কলেজছাত্রী প্রবাসীর স্ত্রী

পরকীয়ার জেরে প্রেমিকের কাছে নৃশংসভাবে খুন হলো কলেজছাত্রী প্রবাসীর স্ত্রী

image

শরীয়তপুর পৌর এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে এলাকার ধানুকার বিল থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় নিহতের শরীরের সঙ্গে ইটের বস্তা বাঁধা ছিল।
নিহত সামছুন্নাহার (২২) সদর উপজেলার মধ্য চরসুন্দি গ্রামের হাফিজ উদ্দিন পাটোয়ারীর মেয়ে ও পৌর এলাকার দক্ষিণ বালুচরা গ্রামের প্রবাসী ইসহাক মোল্লার স্ত্রী। সামছুন্নাহার সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) কোর্সের প্রথম বর্ষে পড়তেন। গত রোববার তিনি নিখোঁজ হন। পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করলে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়।
সামছুন্নাহারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সামছুন্নাহার ও ইসহাক মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ইসহাক মোল্লা সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। এর পর থেকে সামছুন্নাহারের সঙ্গে মধ্য চরসুন্দি গ্রামের বিবাহিত রেজাউল করিমের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসার পথে সামছুন্নাহার নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর ভাসুর কাশেম মোল্লা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ জানায়, জিডির পর সামছুন্নাহারের মুঠোফোনের কথোপকথনের তালিকা জোগাড় করে পুলিশ। দেখতে পায়, নিখোঁজের পর থেকে তিনি রেজাউল করিম নামের এক যুবকের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই সূত্র ধরে পুলিশ রেজাউল করিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার আটক করে। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল পেদা (১৮) ও দুলাল মিয়াকে (১৮) আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের কাছে তাঁরা সামছুন্নাহারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে পৌর এলাকার ধানুকার বিল থেকে শরীরের সঙ্গে ইটের বস্তা বাঁধা অবস্থায় পানির নিচ থেকে সামছুন্নাহারের লাশ উদ্ধার করে।
রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল করিমের সঙ্গে সামছুন্নাহারের পরকীয়া চলছিল। মেয়েটি রেজাউলকে বিয়ে করতে চাপ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেজাউল গত রোববার কৌশলে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে এনে অপহরণ করেন। রাতে ধানুক গ্রামের একটি বাগানে সামছুন্নাহারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার জন্য পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করা হয়। এরপর শরীরের একাধিক স্থানে ফুটো করে তার সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে ধানুকার বিলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

সামছুন্নাহারের চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রেজাউল করিম এভাবে আমাদের মেয়েকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করবে কল্পনাও করতে পারিনি। আমরাহত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের আটকের পর তাদের কাছ থেকে হত্যার বর্ণনা শুনে শিউরে উঠি। এত অল্প বয়সে এভাবে প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, তা সাধারণত পেশাদার খুনিরাই করতে পারে।’