ইমিগ্রেশন ইস্যুতে নির্বাহী আদেশ মিডটার্মের আগে নয়

ইমিগ্রেশন ইস্যুতে নির্বাহী আদেশ মিডটার্মের আগে নয়
কথা ছিল, সেপ্টেম্বরেই প্রেসিডেন্ট ওবামা ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার নির্বাহী আদেশে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু এ ব্যপারে তিনি শেষ পর্যন্ত দ্বিধায় পড়েছেন, নভেম্বরের মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে তিনি এই আদেশ জারী নাও করতে পারেন, শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে ইমগ্রেশন বিষয়ে ওবামার সিদ্ধান্ত। কংগ্রসের কট্টরপন্থি আইন প্রণেতাদের প্রতিক্রিয়া নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে ভেবে, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন। হোয়াট হাউজের মুখপাত্ররাই এই খবর নিশ্চিত করেছেন যে, ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোনো এক্সিকিউটিভ ওর্ডার নভেম্বরের নির্বাচনের আগে নয়।

এর আগে তিনি এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, অন্তত ডিপোর্টেশন বন্ধ রাখবেন এবং কাগজ-বিহীন অভিবাসীদের অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে তাদের এক ধরণের বৈধতা দেবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা দ্বিধা-বিভক্ত কংগ্রেসের অসহযোগিতার মধ্যে নতুন করে কিছু একক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিলেন। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে ছিল, ডিপোর্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখা, অধ্যায়নরত ছাত্রদের ড্রিম কর্মসূচির মধ্যে নিয়ে আসা এবং কাগজ-পত্র বিহীন ইমিগ্র্যাণ্টদের অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট বা ওয়ার্ক অথরাইজেশনের ব্যবস্থা করা। প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিমধ্যে হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন এই সব পদক্ষেপের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আইনগত ভিত্তি খুজে দেখার জন্য। এতে ৫০ থেকে ৬০ লাখ আনডকুমেন্টেড অভিবাসী সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হয়েছে।

বিভিন্ন মিডিয়া জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, ওবামার এ ধরনের নির্বাহী আদেশে আসন্ন নির্বাচনে তার দলের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। বিশেষ করে সিনেট নির্বাচনে ৪/৫ টি আসনে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে ডেমোক্রেটরা। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত যে কোনো ছাড় দেয়া হলে প্রতিক্রিয়ার কারণে সে সব আসন হারাতে পারেন। অন্যদিকে, যে লেটিনো ভোটের উপর আশা করা হচ্ছিলো যে তারা এবার জোট বেধে ভোট দেবেন। মূলত দেখা যাচ্ছে সেই লেটিনোরাই এবার হতোদ্যম এবং দ্বিধা-বিভক্ত। এইসব কারণে, নির্বাচনের আগে ওবামা নতুন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরে কয়েকজন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সিনেটরের সহায়তায় একটি যৌথ ভাবে একটি বিল সিনেট পাশ করায়। কিন্তু হাউজে সেটি পাঠানো হলে, বিলটি আর উঠানো হয় নাই। এই ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিলে কিছু জরিমানা ও কয়েক বছরের ট্যাক্স প্রাদানের মাধ্যমে গ্রীন কার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে আমেরিকায় লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর বৈধতার পথ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরফলে, ল্যাটিনো তথা কয়েক মিলিয়ন আন-ডকুমেন্টেড ইমিগ্রেন্টের মধ্যে আশার আলো দেখা দেয়।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন।
সূত্রঃ সাপ্তাহিক আজকাল