তাঁতের শাড়িতে অনন্য

তাঁতের শাড়িতে অনন্য

মডেল : রিবা ও যুদি রোজারিও শাড়ি : ময়ূরী মেকআপ : রেড বিউটি স্যালন আলোকচিত্রী : রূপক

আপনি যদি ফ্যাশন সচেতন এবং শাড়িপ্রেমী হন, তবে আপনার পছন্দের পোশাকের প্রথমদিকেই তাঁতের শাড়ির নাম থাকার কথা। তবে তাঁত বলতে আবার সব তাঁতের শাড়ি নয়, বিশেষ করে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির কথাই বলছি। ঐতিহ্যবাহী এ শাড়ি যুগ যুগ ধরে বাঙালি নারীর ফ্যাশনের প্রতীক হয়ে আছে। এ শাড়িতেই যেন ফুটে ওঠে বাঙালি নারীর চিরায়ত রূপ। একটা সময় টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বাসাবাড়ি বা সাধারণভাবে ব্যবহারের চল থাকলেও বর্তমানে অফিস থেকে পার্টি সব জায়গাতেই টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি সমান জনপ্রিয়। নিজেকে আরেকটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন এ শাড়ি।

এতে আপনার স্বচ্ছ রুচিবোধের পরিচয় তো মিলবেই, সেইসঙ্গে নান্দনিকতার প্রতীক দেশি শাড়ি অঙ্গে জড়ানোর স্বস্তিটাও ছুঁয়ে যাবে আপনাকে।

তাঁতের শাড়িতে অনন্য বাঙালি নারীর সঙ্গে তাঁতের শাড়ির সম্পর্ক অনেক দিনের। লালপাড়ে তাঁত আর আড়াআড়ি ডুরে শাড়িতে ফুটে উঠত এক সময়কার বাঙালি নারীর চিরায়ত রূপ। ষাটের দশকের বাংলা সিনেমায় নায়িকাদের পরনের তাঁতের শাড়ির জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। তারপর বস্নক, বাটিক, প্রিন্টের ভিড়ে হারাতে বসেছিল এ শাড়ির ঐতিহ্য। তবে আবার ফিরে এসেছে এ শাড়ির ফ্যাশন। এভাবেই বললেন ফ্যাশন হাউস রঙের ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। একটা সময় ছিল যখন বস্নক, স্প্রে প্রিন্টের শাড়ি পছন্দ করতেন নারীরা। কিন্তু এখন এ ধরনের কাজের চেয়ে বড় পাড় অথবা রঙিন স্ট্রাইপ দেয়া শাড়ি পছন্দ করছেন সবাই। চিকন পাড়ের তাঁতের শাড়ির খোঁজে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের দেশীদশে ঘুরছিলেন মালিবাগের বাসিন্দা সীমা আফরোজ। সব সময় ব্যবহারের জন্য এমন তাঁতের শাড়িই সবচেয়ে আরামদায়ক বলে জানালেন তিনি। উৎসবে-পার্বণে নিজেকে ভিন্নমাত্রায় উপস্থাপন করতে বেছে নিতে পারেন এ শাড়িও। সকালের শুভ্রতার সঙ্গে মিলিয়ে তাঁতে বোনা শাড়িটি হবে ছিমছাম ও সাধারণ। সঙ্গের সাজটাও হতে হবে মানানসই। এক্ষেত্রে মোটা পাড়ের একরঙা শাড়ি বেছে নিতে পারেন। হালকা গোলাপি, উজ্জ্বল আকাশি, গেরুয়া, হলুদ, হালকা সবুজ ও নীল রঙগুলোই মানানসই।

দেশীয় শাড়ির প্রতিষ্ঠান ময়ূরীর কর্ণধার ফরহাদুজ্জামান বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তাঁতের শাড়ির চেয়ে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির বুনন, রঙ ও নকশা ভালো। এজন্য এখনও ফ্যাশন সচেতন নারীরা তাঁতের শাড়ি বলতে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িকেই খুঁজে নেয় সবার আগে।

তাঁতের শাড়িতে অনন্য

 কেমন হবে ব্লাউজ : ডিজাইনের দিক থেকে খানিকটা অভিনবত্ব নিয়ে আসতে পারেন বস্নাউজে। বিবিয়ানার ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, শাড়ির পাড়ে নিখুঁত কাজ থাকলে ভেতরে বেশি কাজের প্রয়োজন নেই। বস্নাউজটা বরং হতে পারে বৈচিত্র্যপূর্ণ। সে জন্য বেছে নিতে পারেন প্রিন্টের সুতি বস্নাউজ। এছাড়া কন্ট্রাস্ট রঙের বস্নাউজও বানিয়ে নিতে পারেন সুতি কাপড় কিনে। থ্রি-কোয়ার্টার বা হাফহাতা বস্নাউজ মানিয়ে যাবে। চন্দ্রি কিংবা খদ্দরের বস্নাউজও পরতে পারেন। গোল গলার বস্নাউজে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে লাগিয়ে নেয়া যায় সুতির লেইস। আবার ঘটি হাতার বস্নাউজও ভালো দেখাবে তাঁতের শাড়ির সঙ্গে। এসব বস্নাউজ চাইলে আলাদা কাপড় কিনেও তৈরি করতে পারেন, আবার টাঙ্গাইলের প্রায় সব তাঁতের শাড়ির সঙ্গে বস্নাউজ তৈরির কাপড়ও দেয়া থাকে। সেই কাপড় দিয়েও তৈরি করতে পারেন।

মানানসই সাজ

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির সঙ্গে নিজেকে সাজিয়ে নিন একটু ভিন্নভাবে। কারণ এ শাড়ির সঙ্গে সাজটা যে একেবারেই চিরায়ত হতে হবে, এমনটি ভাবার অবকাশও এখন আর নেই। বিউটি এঙ্পার্ট আফরোজা পারভীন বলেন, শাড়ি-গয়নার সঙ্গে প্রসাধনও হওয়া চাই নিখুঁত। প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় গলা ও কানের দিকেও নজর দিন। তারপর গালের ঠিক উপরিভাগে হালকাভাবে বুলিয়ে দিন বস্নার। আলতো হাতে করে নিতে পারেন হাতখোঁপা। চোখে বাদামি-সোনালি সাজ আর ন্যাচারাল টোনের লিপস্টিক। অথবা গাঢ় বাদামি চোখের সাজের সঙ্গে চুলটা পনিটেইল করে ছোট একটা টিপ দিয়ে নিতে পারেন। কাজের সুবিধার জন্য চুলটা পাঞ্চ ক্লিপে আটকে চোখটা করে নিতে পারেন কাজল কালো। অথবা একেবারেই ন্যাচারাল লুকে চোখের কোণে লাগিয়ে নিতে পারেন কাজল। কানে থাকতে পারে লম্বা দুল। তবে গলায় লম্বা মালা হলে দুলটা যেন ছোট হয়। কানে বড় রিং পরা যেতে পারে। হাতে পরতে পারেন পছন্দমতো মোটা বালা বা একগোছা চুড়ি।

কোথায় পাবেন : টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, ময়ূরী, দেশীদশ, নবরূপা, নিত্যউপহারসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি কিনতে পাওয়া যাবে। এছাড়া বেইলি রোড, নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, ইস্টার্ন মলি্লকা, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিংমলসহ বিভিন্ন মার্কেটে পাওয়া যাবে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। সর্বনিম্ন ৩৫০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকায় কেনা যাবে এসব শাড়ি।

সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ