অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান : ওবামার পরিকল্পনায় প্রতিনিধি পরিষদের সমর্থন

ওবামার পরিকল্পনায় প্রতিনিধি পরিষদের সমর্থন
অস্ট্রেলিয়া,ইসলামিক স্টেট, আইএস, বারাক ওবামা, যুক্তরাষ্ট্র, রিপাবলিকান , ডেমোক্র্যা্‌ট, একুশ নিউজ মিডিয়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের রুখতে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপন্থী বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তা সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ। বুধবার ওই বিষয়ে এক ভোটাভুটিতে ওবামার পরিকল্পনার পক্ষে ২৭৩ ভোট ও বিপক্ষে ১৫৬ ভোট পড়ে। বিবিসি, আলজাজিরা।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএস যোদ্ধাদের দমনে সিরিয়ার সরকারবিরোধীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত যে বিলটি এনেছেন তাতে শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দিল প্রতিনিধি পরিষদ। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে সিনেটেও তা অনুমোদন দেওয়া হবে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান পরিচালনা করবে না-বিষয়টি স্পষ্ট করার পরই প্রতিনিধি পরিষদ ওবামার পরিকল্পনায় সম্মতি দিল। গত আগস্ট থেকে ইরাকে আইএস জঙ্গিদের লক্ষ করে এ পর্যন্ত ১৭৪ বার বিমান হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ বুধবার ইরাকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরবিলে ও বাগদাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনিটগুলোতে জঙ্গিদের বহরে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইরাক ও সিরিয়ার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল দখল করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় আইএস।

তবে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের পরাজিত করতে সিরিয়ার মধ্যপন্থী বিদ্রোহীরা যে ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র চেয়েছে তা দেওয়া হবে কি না পরিকল্পনায় সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। ফলে এ বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন রয়েই গেছে। বিরোধী দল রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদে পরিকল্পনাটি পাস হলেও এর বিরুদ্ধে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্যরাই ভোট দেন। বুধবার বিকল্প বিল হিসেবে উত্থাপিত ওই পরিকল্পনার পক্ষে ১৫৯ রিপাবলিকান ও ১১৪ ডেমোক্র্যাট ভোট দেন। অপরদিকে ৭১ রিপাবলিকান ও ৮৫ ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য বিপক্ষে ভোট দেন। সিনেটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ওবামা এতে সই করলেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হবে। গতকালের মধ্যে বিলটি সিনেটে পাস হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হয়। বিলটি পাস করায় ওবামা প্রতিনিধি পরিষদের উভয় দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। ডেমোক্র্যাটদলীয় কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য অবশ্য বলেন, ওবামার পরিকল্পনা পাস হওয়ায় ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণমাত্রায় হস্তক্ষেপের সুযোগ এনে দিল। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জন বোয়েনার ভোটাভুটির প্রশংসা করে বলেন, আইএসকে প্রতিরোধ করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক পদক্ষেপ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর বিষয়ে ওবামার প্রতি মার্কিনিদের সমর্থন থাকলেও তারা গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান : আইএসের এক জ্যেষ্ঠ জঙ্গির ফোনকলের সূত্র ধরে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন ও সিডনিতে বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় দেশটির পুলিশ। ওই জঙ্গি ‘হত্যাকাণ্ড প্রদর্শনের’ নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলে গতকাল জানান অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট। ওই অভিযানে ব্যাপক অস্ত্রে সজ্জিত অন্ততপক্ষে ৮০০ পুলিশ অংশ নেয়। অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এদের একজনের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ’ আনা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। অভিযানটিকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ইসলামি জঙ্গিদের হামলার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। চরমপন্থীরা এলোপাতাড়িভাবে সাধারণ মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছে এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে সিডনি ও ব্রিসবেনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৮০০ পুলিশ সদস্য অভিযানে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বলছে, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গিবিরোধী অভিযান।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একজন বড় নেতা হত্যাকাণ্ডের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার মধ্যে ছিল সিডনির কোনো মানুষকে ধরে নিয়ে আইএসের পতাকা দিয়ে জড়িয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করা হবে। এ ছাড়া ক্যামেরা দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ছবি তুলে প্রচার করা হবে।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওমরজান আজারি (২২) নামের একজনকে গতকালই সিডনির একটি আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যাবট হামলার নির্দেশদাতা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের নাম প্রকাশ না করলেও স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তাঁর নাম মোহাম্মদ আলী বেরেলেই।

অস্ট্রেলিয়ায় গত সপ্তাহে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় মাঝারি সতর্ক অবস্থা থেকে চূড়ান্ত সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যাবট কয়েক দিন আগে আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন লড়াইয়ে ৬০০ সেনা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।