জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা

জাতিসংঘ পুরস্কার পাচ্ছে পতিতালয়ে বেড়ে ওঠা শ্বেতা

image

১৯ বছর বয়সী শ্বেতা কাত্তি। ছোটবেলায় বেড়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রেড-লাইট বা নিষিদ্ধ পল্লী কামাতিপুরায়। কিন্তু এই সামাজিক কলঙ্কের সঙ্গে যুদ্ধ করে সে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এর আগে অর্জন করেছে একটি মার্কিন কলেজের বৃত্তি। এবারে ২০১৪ সালের জাতিসংঘ ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। শিক্ষা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি দল এ বছর তরুণ প্রজন্মের ৬ জনকে পুরস্কৃত করার জন্য মনোনীত করেছে। ব্যক্তিগত পদক্ষেপ দ্বারা সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করে যারা নারী শিক্ষা ও মর্যাদায় পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাদেরকে বেছে নিয়েছে বিশেষ ওই প্রতিনিধি দল। মনোনীতদের একজন শ্বেতা। খবর জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত শ্বেতা তার ফেসবুক পাতায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। নিজ মায়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে কয়েক বছর যারা তাকে সমর্থন দিয়েছে, আস্থা রেখেছে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে। শ্বেতা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বার্ড কলেজে মনোবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছে। মুম্বইয়ের নিষিদ্ধ পল্লীতে নারী ক্ষমতায়নে সক্রিয় এনজিও ‘ক্রান্তি’র পৃষ্ঠপোষকতায় উত্থান শ্বেতার। নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়েদের জন্য নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়াও মেয়েদের বৈরী পরিবেশের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে থাকে। ‘ক্রান্তি’র প্রতিষ্ঠাতা রবিন চৌরাসিয়া জানান, শ্বেতা যখন ক্রান্তিতে যোগ দেয় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। এত কম বয়সেও উদ্যমী, মেধাবী ও বুদ্ধিমতী শ্বেতা সহজেই বাইরের জগতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিজের জন্য ও আশপাশের মানুষের জন্যও পরিবর্তন আনার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল তার মধ্যে। শ্বেতা ২০১৭ সালে তার মনোবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে কামাতিপুরায় একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।